Last updated Nov 3rd, 2026
0

কাপ্তাই বাঁধ কত সালে নির্মিত হয়, এই প্রশ্নের নথিভিত্তিক উত্তর একটি সাল নয়, একটি ধাপের তালিকা। বিশ্বব্যাংকের 1955 সালের একটি স্মারকে লেখা আছে, জায়গা বাছা হয় 1951 সালে আর পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিজস্ব বিভাগ কাজ শুরু করে 1952 সালের মাঝামাঝি। মার্কিন ঠিকাদার Utah Construction 1957 সালের এপ্রিলে কাজে নামে, আর বাঁধটির উদ্বোধন হয় 1962 সালের মার্চের শেষে। এর পানিতে কত জমি ডুবেছিল, সে প্রশ্নে 1959 সালের একটি রাজস্ব-নথির সংখ্যা 54,000 একর আবাদি জমি; পরের প্রায় সব হিসাবও এই সংখ্যার কাছাকাছি।
বাঁধের সাধারণ ইতিহাস, ডুবে যাওয়া গ্রাম, বড়পরং আর প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান আমাদের আর্কাইভের কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায় আছে। এই লেখার কাজ আলাদা: যে কাগজগুলোতে বাঁধটির জন্ম লেখা আছে, সেগুলো পাশাপাশি রাখা। বিশ্বব্যাংকের প্রকৌশল-স্মারক, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত দলিল (Foreign Relations of the United States), নির্মাণ-ঠিকাদারের বার্ষিক প্রতিবেদন ও কোম্পানির ইতিহাস, পুনর্বাসনের সময় মাঠে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার বই, আর 1960–61 সালে মাঠ-জরিপে করা একটি ভূগোল-গবেষণা। জমি, উচ্ছেদ আর ক্ষতিপূরণের প্রতিটি সংখ্যা তার উৎস ও সালসহ দেওয়া হয়েছে; সংখ্যাগুলো মেলে না, এবং এখানে কোনোটিকে বেছে নেওয়া হয়নি। অঞ্চলটির অন্য বিষয়ের জন্য দেখুন জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।
এই লেখায়
নথিগুলো একসঙ্গে পড়লে কাপ্তাই বাঁধের নির্মাণকাল দুই পর্বে ভাগ হয়। প্রথম পর্ব 1952 থেকে 1956: পূর্ব পাকিস্তান সরকারের বিভাগ নিজেরা কাজ চালায়, বিশ্বব্যাংক অর্থায়নে রাজি হয় না, আর মার্কিন পরামর্শক নকশা করে। দ্বিতীয় পর্ব 1957 থেকে 1962: মার্কিন অর্থসাহায্যে মার্কিন ঠিকাদার বাঁধ শেষ করে, আর 1962 সালের মার্চে উদ্বোধন হয়।
নিচের ছকে প্রতিটি তারিখের পাশে যে নথিতে সেটি আছে তার নাম দেওয়া হলো। দুটি উৎসে একই ঘটনার তারিখ আলাদা হলে দুটোই রাখা হয়েছে।
| সাল ও মাস | কী ঘটে | উৎস |
|---|---|---|
| 1951 | কাপ্তাইয়ে বাঁধের জায়গা বাছাই | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955); Bor Porong (1995) লিখেছে সেচ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খাজা আজিমুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে। বাংলাপিডিয়ায় বাছাইয়ের সময় “1952-এর শুরু” |
| 1952-এর মাঝামাঝি | পূর্ব পাকিস্তান সরকারের বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শুরু | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955) |
| মার্চ 1954 | সান ফ্রান্সিসকোর International Engineering Company বিদ্যুৎ-চাহিদা জরিপ ও প্রাথমিক নকশার জন্য নিযুক্ত | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955); বাংলাপিডিয়া ও Bor Porong প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নিয়োগ লিখেছে 1952 |
| আগস্ট 1954 | পরামর্শকের প্রথম প্রতিবেদন: 1,20,000 কিলোওয়াট, খরচ 92 মিলিয়ন ডলার | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955) |
| 7 সেপ্টেম্বর 1954 | বাঁধস্থলে ডাইভারশন চ্যানেল, কফারড্যাম ও ড্রেজারের ছবি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নথিতে তালিকাভুক্ত | CIA ফটো-তালিকা CIA-RDP83-00423R001600850001-0 |
| সেপ্টেম্বর 1954 | বিশ্বব্যাংক পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীকে জানায়, এখন এই প্রকল্পে অর্থায়ন বিবেচনা করবে না | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955) |
| ডিসেম্বর 1954 | সংশোধিত প্রতিবেদন: প্রথম ধাপে 80,000 কিলোওয়াট, খরচ 77 মিলিয়ন ডলার | বিশ্বব্যাংকের স্মারক (1955) |
| 17 জুলাই 1956 | Utah Construction-এর দরপত্র: 3 কোটি ডলার, ক্রেতা পাকিস্তান সরকার ও ICA | Utah Construction-এর কোম্পানি-ইতিহাস (Earl R. Lubbers) |
| 1956-এর শেষ | ঠিকাদার নির্বাচনের লেটার অব ইনটেন্ট; “কস্ট-প্লাস” চুক্তি | Utah Construction-এর 1956 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন |
| এপ্রিল 1957 | ঠিকাদার পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছায়; লক্ষ্য ছিল জুন 1961-এ শেষ | Sessions ও Sessions, Utah International: A Biography of a Business (2002), পৃ. 252–253 |
| অক্টোবর 1957 | নির্মাণকাজ শুরু | Bor Porong (1995) |
| মার্চ 1958 | জানা যায় বাঁধের পানিতে ভারতের কিছু এলাকা ডুববে; নতুন মার্কিন অর্থায়ন আটকে যায় | FRUS 1958–60, খণ্ড XV, দলিল 302 |
| 20 অক্টোবর 1958 | Development Loan Fund-এর বোর্ড 17.5 মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রস্তাবে এগোতে রাজি হয় | FRUS 1958–60, খণ্ড XV, দলিল 55-এর পাদটীকা |
| জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি 1962 | দুই নম্বর ইউনিট জানুয়ারিতে, এক নম্বর ইউনিট ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে | Bor Porong (1995) |
| 30 বা 31 মার্চ 1962 | প্রকল্পের উদ্বোধন | Bor Porong-এ 30 মার্চ, প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের হাতে; Utah-এর 1962 সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে 31 মার্চ |
| এপ্রিল 1962 | ঠিকাদারের হিসাবে কাজ শেষ, সংশোধিত সময়সীমা 30 জুন 1962-এর দুই মাস আগে | Sessions ও Sessions (2002), পৃ. 252 |
এই ছকের বাইরে আরও কয়েকটি সাল চালু আছে। বাংলাপিডিয়া লিখেছে নির্মাণ শেষ হয় 1961-এর শেষে, স্পিলওয়ে বন্ধ হয় 1962 সালে। Deepak K. Singh-এর 2010 সালের বই লিখেছে 1959 থেকে 1963, আর রিউকোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্রে Harun-or-Rashid লিখেছেন 1957 থেকে 1963। শরদিন্দু শেখর চাকমার আর্কাইভ-লেখায় নির্মাণ শেষের সাল 1961। ছকের নথিগুলোতে 1952 সালের সরকারি বিভাগের কাজ এবং 1957 সালের মার্কিন ঠিকাদারের কাজ, দুটোরই শুরুর তারিখ আছে।
কাপ্তাই বাঁধের প্রথম সাড়ে চার বছরের সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণ বিশ্বব্যাংকের কারিগরি বিভাগের Memorandum on Karnafuli Hydroelectric Project-এ। ব্যাংকের নথিভান্ডারে এর তারিখ ফেব্রুয়ারি 1955। স্মারকটি বলছে, তখন পর্যন্ত প্রায় 8.3 মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি সামান্য।
স্মারকের ভূমিকা অংশের বাক্য: “A site was selected in 1951 and construction has been under way since mid 1952.” খরচের হিসাবে আছে, ওই 8.3 মিলিয়নের মধ্যে প্রায় 3 মিলিয়ন ডলার গেছে যুক্তরাজ্য থেকে কেনা নির্মাণযন্ত্রে, বাকিটা স্থানীয় মুদ্রায়। এরপর স্মারকটি লিখেছে, এই বিনিয়োগের বড় অংশ নষ্ট হয়েছে অপর্যাপ্ত প্রকৌশল ও পরিকল্পনায় এবং বন্যার ক্ষতিতে।
কাজটি তখন কারা করছিল, স্মারকে তাও স্পষ্ট: “The work on this project is now being carried out departmentally by the Government of East Pakistan.” ব্যাংকের মত ছিল, প্রকল্প শেষ করতে হলে নকশা ও তদারকির জন্য একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এবং একটি অভিজ্ঞ প্রধান ঠিকাদার লাগবেই। কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে, বাঁধস্থলের ভিত্তির অবস্থা খারাপ (“Foundation conditions at the dam site chosen for this project are bad”)।
অর্থায়নের প্রশ্নে স্মারকের বিবরণ এ রকম। 1953 সালের গ্রীষ্মে পাকিস্তান সরকার বিদ্যুৎ-ঘাটতি নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে। 1954 সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংক পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীকে জানায় যে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন সে “এ সময়ে” বিবেচনা করতে প্রস্তুত নয়। মন্ত্রী তখন অনুরোধ করেন, ব্যাংক যেন পরামর্শকের প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে, আর প্রকল্প সম্ভাব্য মনে হলে মার্কিন ও কানাডীয় সরকারের কাছে অনুদান চাওয়ার আবেদনে সমর্থন দেয়। ব্যাংক রাজি হয়। স্মারকটি সেই পর্যালোচনারই ফল, এবং তাতে ব্যাংক নিজেই লিখেছে, “The Bank has not made a field investigation.”
এই সময়ের একটি স্বাধীন সাক্ষ্য আছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA-এর প্রকাশ-অনুমোদিত নথিতে। 7 সেপ্টেম্বর 1954 তারিখের একটি ফটো-তালিকায় 11টি ছবির বিবরণ আছে: বাঁধস্থলে ডাইভারশন চ্যানেল, উজানের কফারড্যাম, মূল বাঁধের ডান দিকের ভিত্তি, আর “Alexandria” নামের একটি ড্রেজার। একই তালিকায় চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিলের ছবি আর চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি পথে চলা 15টি লঞ্চের একটির ছবির কথাও আছে।
বাঁধের বিদ্যুৎ কার জন্য, সে প্রশ্নে স্মারকের উত্তর নির্দিষ্ট: প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎ যাবে কেবল ঢাকা, ত্রিপুরা (Tippera) ও চট্টগ্রাম জেলায়, কারণ পূর্ব পাকিস্তানের 16টি জেলার মধ্যে এই তিনটিতেই তখন 70 শতাংশ স্থাপিত বিদ্যুৎক্ষমতা আর শিল্পায়ন। স্মারকের চাহিদার তালিকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম নেই। 1954 সালের অক্টোবরের একটি CIA তথ্য-প্রতিবেদনও একই চাহিদার ছবি দেয়: আদমজীসহ সরকারি পাটকলগুলোতে তাঁতের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা, আর কর্ণফুলী পেপার মিলের নিজস্ব 13,500 কিলোওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুতের প্রসঙ্গ পরে সংসদে ওঠে। 3 জুলাই 1973 তারিখে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জাতীয় সংসদে বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন গ্রাম আজ পর্যন্ত বৈদ্যুতিকরণ করা হয় নাই।” প্রশ্নোত্তরের পূর্ণ পাঠ আছে আমাদের আর্কাইভে, কর্ণফুলীতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুতায়ন শিরোনামে।
নকশা ও প্রকৌশল-তদারকির দায়িত্বে ছিল সান ফ্রান্সিসকোর International Engineering Company। বিশ্বব্যাংকের স্মারক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি 1954 সালের মার্চে নিযুক্ত হয় এবং ছয় মাসের ব্যবধানে দুটি আলাদা প্রস্তাব দেয়: আগস্ট 1954-এ 1,20,000 কিলোওয়াট, ডিসেম্বর 1954-এ 80,000 কিলোওয়াট।
| প্রস্তাব | প্রাথমিক বিদ্যুৎক্ষমতা | আনুমানিক মোট খরচ | বৈদেশিক মুদ্রার অংশ |
|---|---|---|---|
| প্রথম প্রতিবেদন, আগস্ট 1954 | 1,20,000 কিলোওয়াট | 92 মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ | 49 মিলিয়ন ডলার |
| সংশোধিত প্রতিবেদন, ডিসেম্বর 1954 | 80,000 কিলোওয়াট | 77 মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ (খরচের ছকে 77.25) | 34 মিলিয়ন (খরচের ছকে 33.49) |
প্রস্তাব কমানোর কারণ স্মারকে লেখা আছে। ব্যাংকের কর্মীরা পরামর্শকের ধরা বিদ্যুৎ-চাহিদার পূর্বাভাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরকারের দেওয়া পূর্বাভাসে ইস্পাত কারখানা, সেচ ও নিষ্কাশন পাম্প, রেয়ন কারখানা আর চা শুকানোর বিদ্যুতের চাহিদা ধরা ছিল; সংশোধিত পূর্বাভাসে এগুলো বাদ যায়, আর সরবরাহ-এলাকা ছোট করে তিন জেলায় আনা হয়।
সংশোধিত নকশার বর্ণনা স্মারকে এভাবে: কর্ণফুলী নদীর ওপর মাটি-ভরাট বাঁধ (earth-fill dam), সঙ্গে স্পিলওয়ে, নৌযান চলাচলের লক (navigation locks), আর ইনটেকসহ বিদ্যুৎঘর। বিদ্যুৎঘরে শেষ পর্যন্ত 40,000 কিলোওয়াটের তিনটি ইউনিট বসানোর ব্যবস্থা থাকবে, শুরুতে বসবে দুটি। তৃতীয় ইউনিট লাগবে 1967 সাল নাগাদ। জায়গাটির স্থায়ী বিদ্যুৎ-সম্ভাবনা ধরা হয় 1,10,000 কিলোওয়াট। কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা পর্যন্ত 165 কিলোভোল্টের সঞ্চালন লাইন হবে, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় তিনটি সাবস্টেশন। নির্মাণকাল প্রস্তাব করা হয় সাড়ে তিন বছর।
নকশার আরেকটি বর্ণনা আছে 1995 সালে প্রকাশিত Bor Porong (The Great Exodus) বইয়ে, যা ঢাকার Centre for Sustainable Development প্রকাশ করে। সেখানে প্রকল্প-প্রস্তাবের পাঁচটি সুফলের কথা আছে: বিদ্যুৎ, সেচ ও নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীর নাব্যতা, আর বনজ সম্পদ আহরণ; হ্রদে মাছ চাষ পরে যোগ হয়। বইটি লিখেছে, প্রস্তাবে বিদ্যুৎ-সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল 1,20,000 কিলোওয়াট, 30,000 কিলোওয়াটের চারটি ইউনিটে। বিশ্বব্যাংকের স্মারকে ইউনিট 40,000 কিলোওয়াটের, আর ঠিকাদারের ইতিহাসে বসানো জেনারেটর দুটি, প্রতিটি 40,000 কিলোওয়াটের।
সেচের পরিকল্পনাটি বড় ছিল। Bor Porong অনুযায়ী প্রস্তাবে 24 অশ্বশক্তির 2,500টি বিদ্যুৎচালিত পাম্প বসানোর কথা ছিল, যা বর্ষায় 5,000 বর্গকিলোমিটার জমির পানি সরাবে আর শুষ্ক মৌসুমে দশ লাখ একর জমিতে দ্বিতীয় ফসল ফলাবে। বিশ্বব্যাংকের স্মারক অবশ্য লিখেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নৌচলাচল, পাম্প-সেচ, মৎস্য ও বনজ শিল্পের সুফলের মূল্য সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায় না, তাই পরামর্শকের বিশ্লেষণে প্রকল্পের পুরো খরচ বিদ্যুতের ঘাড়েই ধরা হয়েছে।
বাঁধটি নির্মাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের Utah Construction Company (পরে Utah Construction & Mining, তারপর Utah International), তার একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কোম্পানির নিজস্ব নথি অনুযায়ী দরপত্র জমা পড়ে 17 জুলাই 1956, অঙ্ক 3 কোটি ডলার; নির্বাচনের খবর আসে 1956 সালের শেষে, আর ঠিকাদার মাঠে নামে 1957 সালের এপ্রিলে।
এই নথিগুলো আছে যুক্তরাষ্ট্রের Weber State University-র Stewart Library-র বিশেষ সংগ্রহে, যেখানে Utah Construction-এর কাগজপত্র রাখা। তিন ধরনের দলিল সেখানে কাপ্তাই নিয়ে কথা বলে।
কোম্পানির বছরওয়ারি দরপত্র-খাতা। Earl R. Lubbers-এর সংকলিত পাঁচ খণ্ডের কোম্পানি-ইতিহাসে 1956 সালের পাতায় এন্ট্রিটি এ রকম: “July 17, 1956 — Government of Pakistan and International Cooperative Administration — Karnafuli Dam — Pakistan. a) Bid amount — $30,000,000″। 1959 অর্থবছরের পাতায় আরেকটি এন্ট্রি: “Government of East Pakistan — Extension to Karnafuli Hydroelectric Project”, যেখানে লেখা, সংশোধিত খরচের হিসাব 48,298,653 ডলার, মূল বরাদ্দের চেয়ে 17,786,022 ডলার বেশি।
শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক প্রতিবেদন। 1956 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, বছর শেষ হওয়ার সময় পাকিস্তান সরকার ও ICA একটি লেটার অব ইনটেন্ট দিয়ে জানায় যে কোম্পানি একটি “কস্ট-প্লাস” চুক্তির ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে; কাজ শেষ হবে মোটামুটি তিন বছরে। 1958 সালের প্রতিবেদনের একটি ছবির বর্ণনায় আছে, বাঁধ শেষ হবে 1960 সালে, দৈর্ঘ্য 3,000 ফুট, উচ্চতা 130 ফুট, আর মাঠে কাজ করছেন প্রায় 70 জন মার্কিন ও 2,500 জন পাকিস্তানি। 1960 সালের প্রতিবেদনে শেষ হওয়ার সাল সরে যায় 1962-এ। 1962 সালের প্রতিবেদন লিখেছে, 31 মার্চ 1962 তারিখে কোম্পানি পাঁচ বছরের নির্মাণকাজ শেষ করে, আর প্রকল্পে 4,200 জন পাকিস্তানিকে নির্মাণ-দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে।
কোম্পানির ইতিহাসগ্রন্থ। Gene A. Sessions ও Sterling D. Sessions-এর Utah International: A Biography of a Business (2002) বইয়ের 252 থেকে 254 পৃষ্ঠায় কাপ্তাইয়ের বিবরণ আছে। বইটি লিখেছে, 1952 সালের প্রথম চেষ্টা থেমে যাওয়ার পর পাকিস্তান মার্কিন International Cooperation Administration-এর কাছে বাড়তি অর্থসাহায্য চায়, আর ICA পাঠায় International Engineering Company ও Utah-কে। কোম্পানি পৌঁছানোর পরপরই অগ্রবর্তী দল দেখে, আগের বর্ষার বন্যায় ডাইভারশন চ্যানেল ও বাঁধের ভিত্তির বড় ক্ষতি হয়েছে। ভিত্তি ও স্পিলওয়ের নকশা বদলাতে হয়, খরচের অনুমান ওঠে 53 মিলিয়ন ডলারে, আর শেষ করার তারিখ পিছিয়ে যায় 30 জুন 1962-এ। বইয়ের দাবি, কাজ শেষ হয় 1962 সালের এপ্রিলে, নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগে।
একই বইয়ে নির্মাণের কয়েকটি মাপ আছে: বাঁধ ও স্যাডল-বাঁধে প্রায় 50 লাখ ঘনগজ মাটি ভরাট; বিদ্যুৎঘরে 40,000 কিলোওয়াটের দুটি জেনারেটর; মোট প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি শ্রমিক প্রায় 4,500 জন (বার্ষিক প্রতিবেদনে 4,200)। একসময়ে মাঠে মার্কিন কর্মী সর্বোচ্চ ছিলেন 83 জন, যাঁদের 9 জন কাজ শেষে থেকে যান জেনারেটর চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে। কোম্পানির ভাষ্যে, সরকারি শ্রমবাহিনীর সদস্যরা প্রকল্পটি তাঁদের হাত থেকে নিয়ে নেওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন, আর প্রশিক্ষণপর্ব শেষ হয় তিক্ততায়।
শ্রমিক কারা ছিলেন, সে বিষয়ে আর্কাইভে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আছে। 1957 ও 1958 সালে বাঁধে কাজ করা মহেন্দ্র চাকমা বলেছেন, শ্রমিকরা ছিলেন মূলত বাঙালি; তাঁর বয়ান আছে কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায়। শরদিন্দু শেখর চাকমা তাঁর বড়পরং নিয়ে লেখায় জানিয়েছেন, বাঁধ, জঙ্গল সাফ ও পুনর্বাসনের কাজে তখন হাজার হাজার শ্রমিক, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে আসেন।
কাপ্তাই বাঁধের টাকা আসে মার্কিন সরকারের দুটি সংস্থা থেকে: International Cooperation Administration (ICA) এবং Development Loan Fund (DLF)। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত দলিল অনুযায়ী, 1958 সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে মার্কিন সাহায্য গেছে 2 কোটি ডলার, আর 1958 সালের 20 অক্টোবর DLF-এর বোর্ড আরও 1.75 কোটি ডলার ঋণের প্রস্তাবে রাজি হয়।
দলিলগুলো আছে Foreign Relations of the United States, 1958–1960, খণ্ড XV-এ। 26 মার্চ 1958 তারিখে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক একটি স্মারকে লেখেন, কর্ণফুলী পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় বড় প্রকল্প, যাতে “$20 million of U.S. aid has been devoted already”। তারপরের বাক্য: “However, it was discovered that the dam, as planned, will flood some Indian territory.” সমস্যার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত নতুন অর্থায়ন আটকে থাকে। একই স্মারকে লেখা, কাজ বন্ধ থাকলেও মাসে 1,00,000 ডলার খরচ চলছে (দলিল 302)।
এরপর ছয় মাস ধরে বিষয়টি ভারত-পাকিস্তান আলোচনার অংশ হয়ে থাকে। 5 সেপ্টেম্বর 1958 তারিখের একটি টেলিগ্রামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dulles-এর স্বাক্ষরে দূতাবাসগুলোকে জানানো হয়, “Karnafuli dam flooding potential” নিয়ে দুই সরকারের অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র তার গভীর আগ্রহের কথা দুই দেশকেই জানিয়েছে (দলিল 53)। 17 সেপ্টেম্বরের একটি নথিতে পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, ভারত অন্তর্বর্তী চুক্তিতে দেরি করছে (দলিল 319)।
মীমাংসার পথ বের হয় 9 অক্টোবর 1958 তারিখে নয়াদিল্লিতে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি Dillon ভারতের কমনওয়েলথ দপ্তরের M. J. Desai-কে বলেন, বর্তমান নির্মাণ-চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে এবং বাঁধ শেষ করতে DLF-কে আরেকটি চূড়ান্ত চুক্তি করতে হবে। প্রস্তাব ছিল, DLF ও পাকিস্তানের চুক্তিতে পাকিস্তান মেনে নেবে যে ভারতের যে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হবে তা দেবে। Desai সালিশের উল্লেখে আপত্তি জানান; ঠিক হয়, চুক্তিতে কেবল লেখা থাকবে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ন্যায্য মীমাংসায় “best efforts” দেবে। Dillon-এর সুপারিশ ছিল, DLF যেন অবিলম্বে “full financing of Karnafuli project” চূড়ান্ত করে (দলিল 55)।
দলিল 55-এর পাদটীকা অনুযায়ী, 20 অক্টোবর 1958 তারিখে DLF-এর বোর্ডসভা কর্ণফুলী বাঁধ প্রকল্পে পাকিস্তানকে 17.5 মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবে এগোতে রাজি হয়, আর 24 অক্টোবর পররাষ্ট্র দপ্তর DLF-কে সর্বোচ্চ 17.5 মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আলোচনা শুরুর সুপারিশ করে। ঋণচুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হয়, প্রকাশিত দলিলে তা নেই।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এই দলিলগুলোতে বাঁধের পানিতে ভারতের কোন এলাকা ডুববে, তার নাম নেই; পার্বত্য চট্টগ্রামের যে গ্রামগুলো ডুববে, তার নামও নেই। বিশ্বব্যাংকের প্রকৌশল-স্মারকেও উচ্ছেদ হওয়া মানুষের সংখ্যা নেই; খরচের ছকে আছে কেবল একটি লাইন, যা নিচে ক্ষতিপূরণ অংশে দেওয়া হয়েছে।
অর্থায়নের এই কাঠামো অন্য উৎসের সঙ্গে মেলে। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, পাকিস্তান সরকার অর্থায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয় এবং প্রস্তাব গৃহীত হয়। 2021 সালে Mohammad Nur Nobi-র একটি খরচ-লাভ বিশ্লেষণ, পূর্ববর্তী গবেষণা ও বাংলাপিডিয়ার বরাতে, লিখেছে সরকারের সঙ্গে অর্থ জুগিয়েছে ICA ও DLF ঋণ। Deepak K. Singh-এর বই মার্কিন উৎস হিসেবে USAID-এর নাম করেছে।
কাপ্তাই বাঁধের খরচের কোনো একক চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া যায় তা হলো সময়ের সঙ্গে বদলানো অনুমান: 1955 সালে পরামর্শকের 77 মিলিয়ন ডলার, 1956 সালে ঠিকাদারের 3 কোটি ডলারের দরপত্র, আর ঠিকাদারের পরের প্রতিবেদনগুলোতে 48 থেকে 58 মিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রার হিসাব আলাদা।
| সাল | অঙ্ক | কিসের হিসাব | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1955 পর্যন্ত | প্রায় 8.3 মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ | সরকারি বিভাগের হাতে ইতিমধ্যে খরচ | বিশ্বব্যাংকের স্মারক |
| আগস্ট 1954 | 92 মিলিয়ন ডলার | 1,20,000 কিলোওয়াটের পূর্ণ প্রকল্প, অনুমান | বিশ্বব্যাংকের স্মারক |
| ডিসেম্বর 1954 | 77.25 মিলিয়ন ডলার (নির্মাণকালীন সুদসহ) | 80,000 কিলোওয়াটের প্রথম ধাপ, সঞ্চালন লাইনসহ | বিশ্বব্যাংকের স্মারক |
| জুলাই 1956 | 3 কোটি ডলার | ঠিকাদারের দরপত্র, বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনা | Lubbers, Utah-এর দরপত্র-খাতা; Utah বার্ষিক প্রতিবেদন 1956 |
| মার্চ 1958 | 2 কোটি ডলার | ততদিনে দেওয়া মার্কিন সাহায্য | FRUS, দলিল 302 |
| অক্টোবর 1958 | 1.75 কোটি ডলার | DLF ঋণ, বোর্ডের সম্মতি | FRUS, দলিল 55 |
| 1959 অর্থবছর | 48,298,653 ডলার | ঠিকাদারের সংশোধিত খরচ-হিসাব, মূল বরাদ্দের চেয়ে 17,786,022 ডলার বেশি | Lubbers, Utah-এর দরপত্র-খাতা |
| 1959 | 5 কোটি ডলার | বাঁধ, স্পিলওয়ে ও “1,20,000 কিলোওয়াট ক্ষমতার” বিদ্যুৎকেন্দ্র | Utah বার্ষিক প্রতিবেদন 1959 |
| 1960 | 5.5 কোটি ডলার | “সরকারি মালিকানার” বহুমুখী প্রকল্প | Utah বার্ষিক প্রতিবেদন 1960 |
| উল্লেখ নেই | 5.3 কোটি ডলার | নকশা বদলের পরের প্রাক্কলন | Sessions ও Sessions (2002) |
| 1963 | 5.8 কোটি ডলার | ছবির বর্ণনায় বাঁধের দাম | Utah-এর আলোকচিত্র সংগ্রহ, Weber State University |
| উল্লেখ নেই | 50.3 কোটি রুপি | ইউনিট 1, 2 ও ইউনিট 3-এর একাংশ; সম্প্রসারণে আরও 190 কোটি টাকা | Nobi (2021), পূর্ববর্তী গবেষণার বরাতে |
| 1959–1963 | 24 লাখ রুপি | নির্মাণ খরচ | Deepak K. Singh (2010) |
ডলারের অঙ্কগুলোর সবই এক জিনিসের হিসাব নয়। বিশ্বব্যাংকের অঙ্কে আছে সঞ্চালন লাইন, বিতরণব্যবস্থা, জমির ক্ষতিপূরণ আর নির্মাণকালীন সুদ; ঠিকাদারের দরপত্রের বর্ণনায় আছে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনা। Utah-এর 1956 সালের প্রতিবেদন চুক্তিটিকে “কস্ট-প্লাস” বলেছে, আর দরপত্র-খাতার 1959 সালের এন্ট্রিতে খরচের হিসাব মূল বরাদ্দের চেয়ে বেশি।
বাঁধের মাপ নিয়ে উৎসগুলো কাছাকাছি, কিন্তু জলস্তরের প্রশ্নে নয়। ঠিকাদারের 1958 সালের প্রতিবেদনে বাঁধ 3,000 ফুট লম্বা, 130 ফুট উঁচু; বাংলাপিডিয়ায় 670.6 মিটার লম্বা, 45.7 মিটার উঁচু। জলস্তরের হিসাবে একটি জরিপে 118 ফুট, অধিগ্রহণের হিসাবে 120 ফুট, আর বাস্তবে 110 ফুটের বেশি পানি ওঠেনি বলে একটি বিবরণ আছে।
| বিষয় | মাপ | উৎস |
|---|---|---|
| দৈর্ঘ্য | 3,000 ফুট | Utah বার্ষিক প্রতিবেদন 1958; Utah আলোকচিত্র সংগ্রহ |
| দৈর্ঘ্য | 670.6 মিটার | বাংলাপিডিয়া |
| দৈর্ঘ্য | প্রায় 666 মিটার | Bor Porong (1995) |
| উচ্চতা | 130 ফুট | Utah বার্ষিক প্রতিবেদন 1958 |
| উচ্চতা | 45.7 মিটার | বাংলাপিডিয়া |
| উচ্চতা | প্রায় 43 মিটার | Bor Porong (1995) |
| স্পিলওয়ে | 16টি গেট, প্রতিটি 12.2 × 11.3 মিটার; সর্বোচ্চ প্রবাহ 6,25,000 কিউসেক | বাংলাপিডিয়া |
| মাটি ভরাট | প্রায় 50 লাখ ঘনগজ (বাঁধ ও স্যাডল-বাঁধ) | Sessions ও Sessions (2002) |
| শুরুর বিদ্যুৎক্ষমতা | 2 × 40,000 কিলোওয়াট | বিশ্বব্যাংকের স্মারক; Sessions ও Sessions; বাংলাপিডিয়া (80 মেগাওয়াট) |
জলস্তরের হিসাবগুলো আলাদা আলাদা মাপকাঠিতে লেখা। 1963 সালে Geographical Review-এ প্রকাশিত David E. Sopher-এর গবেষণা “Population Dislocation in the Chittagong Hills” নিয়ে হিল ভয়েসে প্রধীর তালুকদারের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 118 ফুট উচ্চতায় পানি ধরলে হ্রদ 225 বর্গমাইল ডোবাবে বলে অনুমান ছিল। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, প্রকল্প-দলিলে হ্রদের সর্বোচ্চ স্তর ধরা হয়েছিল 33.22 মিটার।
শরদিন্দু শেখর চাকমা, যিনি 1964 সালে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাঙ্গামাটিতে বদলি হন, তাঁর বই পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বিপন্ন মানবতা-র 31 পৃষ্ঠায় লিখেছেন: “যখন কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হয় তখন ধরে নেয়া হয় যে লেকের পানির উচ্চতা ১২০ ফুট পর্যন্ত হবে। তদঅনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।” তার পরের বাক্য: “কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর দেখা যায় যে পানির উচ্চতা ১১০ ফুটের উর্ধ্বে যায়নি।”
জলস্তরের ওঠানামা নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন উঠেছিল। 3 জুলাই 1973 তারিখে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বলেন, বর্ষায় পানি একশ ফুটের ওপরে যায়, তারপর নেমে কখনো 90, কখনো 87, কখনো 85 ফুটে আসে; স্পিকার প্রশ্নটিকে “highly technical” বলে আলাদা বিজ্ঞপ্তি দিতে বলেন। জলস্তর নিয়ে একটি রাজনৈতিক দাবিও আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পাঁচ দফা দাবীনামা, যা আমাদের আর্কাইভের ঐতিহাসিক তিনটি দলিল লেখায় পুনর্মুদ্রিত, দাবি করে “কাপ্তাই বাঁধের জলসীমা সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) ফুট নির্ধারিত করা”। দলিলটির টীকা অনুযায়ী দাবীনামাটি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হয় 17 ডিসেম্বর 1987 তারিখে দুই পক্ষের দ্বিতীয় বৈঠকে।

আবাদি জমির হিসাবে প্রায় সব উৎস 54,000 একরের কাছে; এর প্রাচীনতম উৎস 1959 সালের রাজস্ব বিভাগের একটি নথি। হ্রদের মোট আয়তন নিয়ে অমিল অনেক বেশি: 225 বর্গমাইল থেকে এক হাজার বর্গমাইল পর্যন্ত সংখ্যা ছাপা হয়েছে। কয়েকটি উৎস শুকনো আর বর্ষার মাপ আলাদা করে দিয়েছে, বেশির ভাগ জলস্তর উল্লেখ করেনি।
| উৎস ও প্রকাশকাল | ডুবে যাওয়া আবাদি জমি | বাড়তি তথ্য |
|---|---|---|
| রাজস্ব বিভাগের সরকারি নথি, 1959 (Sopher 1963-এর বরাতে, হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে) | 54,000 একর | এর 5,000 একর অস্থায়ীভাবে চাষযোগ্য জমি; সম্ভাব্য হ্রদ-এলাকার একটি জরিপে 39,400 জন কৃষকের 32,000 একর উর্বর জমি |
| Bangladesh District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts, 1975 (Bor Porong 1995 ও Saleem Samad-এর লেখার বরাতে) | 54,000 একর | জেলার মোট আবাদি জমির প্রায় 40 শতাংশ |
| Bor Porong, 1995 | 54,000 একর | অঞ্চলের মোট আবাদি জমির প্রায় 40 শতাংশ; 125টি মৌজা |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, বই, পৃ. 28 | 54 হাজার একর | জেলার মোট কৃষিজমির প্রায় 40 শতাংশ; 369টি মৌজার 125টি ডোবে |
| জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, আর্কাইভ-লেখা | 54 হাজার একর (“সরকারী হিসাব মতে”) | তৎকালীন মোট কৃষিজমির 40 শতাংশ |
| বাংলাপিডিয়া (কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র) | 21,870 হেক্টর | ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি প্রায় 688.94 বর্গকিলোমিটার |
| IDMC, মার্চ 2006 | অন্তত 54,000 একর (22,000 হেক্টর) | বেশির ভাগ চাকমাদের চাষের জমি; অঞ্চলের আবাদি জমির 40 শতাংশ |
| Deepak K. Singh, 2010 | এক জায়গায় 54,000 একর, আরেক জায়গায় 52,000 একর | 52,000 একরের বাক্যে Arens 1997, Sopher 1963 ও Zaman 1982-এর বরাত |
| উৎস ও প্রকাশকাল | আয়তন |
|---|---|
| Sopher 1963 (হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে) | 225 বর্গমাইল, 118 ফুট জলস্তরে, আগাম অনুমান |
| Saleem Samad, জুমজার্নালের ইংরেজি লেখা | 253 বর্গমাইল, যার 10 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন |
| Bor Porong, 1995 | প্রায় 655 বর্গকিলোমিটার; বনের হিসাবে 75 বর্গকিলোমিটার সংরক্ষিত ও 600 বর্গকিলোমিটার অশ্রেণিভুক্ত বন |
| বাংলাপিডিয়া (জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র) | প্রকল্প-দলিলে প্রায় 665 বর্গকিলোমিটার; 33 মিটার জলস্তরে 777 বর্গকিলোমিটার |
| বাংলাপিডিয়া (কাপ্তাই হ্রদ) | 58,300 হেক্টর |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, বই, পৃ. 28 | প্রায় 350 বর্গমাইল; বর্ষায় প্রায় 400 বর্গমাইল |
| IDMC, 2006 | 400 বর্গমাইলের বেশি (1,000 বর্গকিলোমিটার) |
| স্নেহ কুমার চাকমার একটি দলিল (The Partition and the Chakmas-এ সংকলিত) | “one thousand sqr. miles of the best arable land” |
আয়তনের সংখ্যাগুলো কোন জলস্তরের, সব উৎস তা বলে না। বাংলাপিডিয়ার দুটি ভুক্তিই দুটি আলাদা মাপ দিয়েছে, আর শরদিন্দু শেখর চাকমা শুকনো ও বর্ষার আয়তন আলাদা করে লিখেছেন। ডোবা গ্রাম ও মৌজার নাম, পুরনো রাঙ্গামাটি শহর আর রাজবাড়ির কথা আছে কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায় ও পুরনো রাঙামাটি শহর নিয়ে লেখায়।
জমির হিসাবের পটভূমিতে একটি তথ্য Sopher-এর গবেষণা থেকে Deepak K. Singh সরাসরি উদ্ধৃত করেছেন (Sopher 1963, পৃ. 346): বাঁধ হওয়ার আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ জায়গার চাপে ছিলেন। 1961 সালে জেলার জনসংখ্যা 3,47,000; জনশূন্যপ্রায় সংরক্ষিত বন (জেলার এক-চতুর্থাংশ) আর কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনার অস্থায়ী শ্রমিক-বসতি বাদ দিলে বাকি জেলায় ঘনত্ব দাঁড়ায় বর্গমাইলে 91 জন। একই বছরের জনসংখ্যা Saleem Samad-এর লেখায় আদমশুমারির বরাতে 3,85,079, আর স্নেহ কুমার চাকমার একটি দলিলে 3,86,000।
উচ্ছেদের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। বাঁধ হওয়ার আগে কর্মকর্তাদের অনুমান ছিল প্রায় 80,000; ষাটের দশকের জনসংখ্যা-নিবন্ধনে 85,300; 1972 সালের একটি স্মারকলিপিতে 99,977; আর 1975 সালের জেলা গেজেটিয়ার থেকে প্রায় সব পরের উৎসে 18,000 পরিবার, প্রায় এক লাখ মানুষ। একজন রাজনীতিকের নিজস্ব অনুমান দেড় লাখ।
| উৎস ও সময় | সংখ্যা | কী বোঝায় |
|---|---|---|
| Sopher 1963 (হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে); 1950-এর দশকের হিসাব | 1,15,000 | সম্ভাব্য হ্রদ-এলাকার জনসংখ্যা, যাঁদের প্রায় 80,000 লাঙলচাষনির্ভর |
| একই উৎস; আগাম অনুমান | 80,000 | বাস্তুচ্যুত হবেন বলে অনুমান। Bor Porong-ও লিখেছে, কর্মকর্তারা প্রায় 80,000 জনের কথা বলেছিলেন |
| একই উৎস; জনসংখ্যা-নিবন্ধন | 85,300 | নিবন্ধিত ক্ষতিগ্রস্ত; এর 45,500 জন কেবল আবাদি জমির ওপর নির্ভরশীল, যাঁদের 90 শতাংশ পাহাড়ি ও 10 শতাংশ বাঙালি |
| খসড়া সংবিধান কমিটিকে দেওয়া স্মারকলিপি, 24 এপ্রিল 1972 | 99,977 | “১৯৬০ সালে গৃহ হারা জমি হারা” |
| জেলা গেজেটিয়ার 1975, অধ্যায় VI, পৃ. 126 (Saleem Samad-এর উদ্ধৃতিতে) | 18,000 পরিবার, প্রায় 1,00,000 | 70 শতাংশ চাকমা |
| Bor Porong, 1995 | 18,000 পরিবার, প্রায় 1,00,000 | অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় 25 শতাংশ |
| Charu Bikash Chakma, স্থানীয় রাজনীতিক, Bor Porong-এ উদ্ধৃত | 1,50,000 | তাঁর নিজের অনুমান; সরকারি দাবি এক লাখ বলে তিনি উল্লেখ করেন |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, বই, পৃ. 28–29 | 3 লাখের মধ্যে 1 লাখ; 18 হাজার পরিবার | 10 হাজার পরিবার কৃষিজমির মালিক, বাকিরা জুমচাষি |
| জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, আর্কাইভ-লেখা | 18 হাজার পরিবার, 1,00,000 | “সরকারী হিসাব মতে” |
| বাংলাপিডিয়া | 18,000 পরিবার | মানুষের সংখ্যা দেয়নি |
| IDMC, 2006 | প্রায় 1,00,000 | যাঁরা ঘর ও প্রধান কৃষিজমি হারান |
| Deepak K. Singh, 2010 | 1,00,000-এর বেশি | এক জায়গায় 90 শতাংশ চাকমা; সঙ্গে প্রায় 8,000 বাঙালি বসতিস্থাপনকারী ও প্রায় 1,000 “Mogh” |
অনুপাতের হিসাবও আলাদা। গেজেটিয়ারের উদ্ধৃতি ও IDMC-র প্রতিবেদনে উচ্ছেদ হওয়াদের 70 শতাংশ চাকমা, Deepak K. Singh-এর বইয়ে 90 শতাংশ। মোট জনসংখ্যার অংশ হিসেবে Bor Porong-এ 25 শতাংশ, শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়ে তিন ভাগের এক ভাগ, আর Singh-এর বইয়ে “almost one-sixth”।
চাকমা ছাড়া আর কারা ছিলেন, সে কথা Sopher-এর হিসাবে কিছুটা আছে। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী আবাদি-জমিনির্ভর ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের 90 শতাংশ চাকমা, বাকিরা চেঙ্গী ও কর্ণফুলীর মাঝের উপত্যকা এবং বিলাইছড়ির কাছে রেইংখ্যং এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা ও মারমা। তঞ্চঙ্গ্যা মৌজাগুলোর নাম ও তাঁদের নতুন বসতির কথা পূর্ণাঙ্গ লেখায় আছে। ভারতে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ও তাঁদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন আলাদা লেখার বিষয়: ভারতের চাকমা: কাপ্তাই বাঁধের উদ্বাস্তুরা কোথায় গেলেন।
ক্ষতিপূরণের বরাদ্দের তিনটি অঙ্ক পাওয়া যায়, তিনটি আলাদা সময়ের: 1955 সালে বিশ্বব্যাংকের খরচের ছকে জমির ক্ষতিপূরণ ও সড়ক স্থানান্তর মিলিয়ে 4.55 মিলিয়ন ডলার; বাংলাপিডিয়ায় 4 কোটি 15 লাখ টাকা; আর একটি সাময়িকীর বরাতে 5.1 কোটি ডলার বরাদ্দ, 26 লাখ ডলার খরচ। কত টাকা কত পরিবারের হাতে পৌঁছেছে, তার কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বব্যাংকের 1955 সালের স্মারকের খরচের ছকের দ্বিতীয় লাইন: “Land compensation and highway relocation — 4.55”, পুরোটা স্থানীয় মুদ্রায়, মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণে। 77.25 মিলিয়নের প্রকল্পে এই একটি লাইনই মানুষের জমির হিসাব; উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা বা পুনর্বাসনের আলাদা খরচ স্মারকে নেই।
বাংলাপিডিয়ার কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভুক্তি লিখেছে, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে 41.5 মিলিয়ন টাকা (4 কোটি 15 লাখ) বরাদ্দ করে, “However, not all of them received the cash compensation due.” একই ভুক্তির আগের বাক্যে একটি আইনি অবস্থান লেখা আছে: হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল এলাকার সব জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি করেছিল বলে বাসিন্দারা জমির মালিক ছিলেন না, তবু “মানবিক কারণে” সরকার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। ম্যানুয়েলের এই কাঠামো নিয়ে দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।
তৃতীয় অঙ্কটি শরদিন্দু শেখর চাকমার দুটি লেখায় আছে, কিন্তু সাময়িকীর সাল দুই জায়গায় দুই রকম। তাঁর বইয়ের 30 পৃষ্ঠায়: “১৯৮০ সালে Far Eastern Economic Review-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য আমেরিকান ডলার ৫১ মিলিয়ন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বরাদ্দ করা হলেও মাত্র ২.৬ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার খরচ করা হয়েছিল।” আমাদের আর্কাইভে থাকা তাঁর বড়পরং-বিষয়ক লেখায় একই অঙ্ক, কিন্তু সাল 1970 আর সাময়িকীর নাম “Far Eastern Review”। মূল প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি।
শরদিন্দু শেখর চাকমার বই ও আর্কাইভ-লেখা, দুই জায়গাতেই হারের তালিকা একই:
| যার জন্য | হার |
|---|---|
| প্রথম শ্রেণির জমি | একরপ্রতি 600 টাকা |
| দ্বিতীয় শ্রেণির জমি | একরপ্রতি 400 টাকা |
| তৃতীয় শ্রেণি ও Grove land | একরপ্রতি 200 টাকা |
| বসতবাড়ি | পরিবারপিছু গড়ে 500 টাকা |
| ফলবান গাছ | প্রতিটি 10 টাকা |
| অফলবান গাছ | প্রতিটি 5 টাকা |
| কলাগাছ | প্রতিটি 0.25 পয়সা (বইয়ে যেভাবে লেখা) |
| আনারস গাছ | প্রতিটি 0.6 পয়সা (বইয়ে যেভাবে লেখা) |
জমির এই তিন শ্রেণি পার্বত্য চট্টগ্রামের খাজনা-ব্যবস্থার শ্রেণি। একই বইয়ের 25 পৃষ্ঠা অনুযায়ী ধানচাষের উপযোগী জমি প্রথম শ্রেণি, রবিশস্যের উপযোগী দ্বিতীয়, বাকিটা তৃতীয়, আর কেবল ফলের বাগানের উপযোগী পাহাড়-টিলা Grove land। জুমের জমি এই তালিকায় নেই। আর্কাইভ-লেখায় শরদিন্দু শেখর চাকমা লিখেছেন, জুমিয়ারা প্রতি জুমে 6 টাকা খাজনা দিতেন কিন্তু জুমের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি; যাঁদের বসতভিটা বন্দোবস্তহীন খাস জমিতে ছিল, তাঁরা পেয়েছেন কেবল ঘরবাড়ি ও ফলবান গাছের দাম। 1964 সালে রাঙ্গামাটিতে বদলি হয়ে এসে তিনি দেখেন, তখনো অনেকে ক্ষতিপূরণ পাননি।
1995 সালের Bor Porong বইটি ক্ষতিগ্রস্তদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। বইয়ের ভূমিকায় লেখা, সব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নগদে, আর ঘরবাড়ি ও অন্য সম্পদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের বিবেচনা ছিল না। পানছড়ি থানার এক বাসিন্দা বলেছেন, তাঁদের হারানো সমতল জমির ক্ষতিপূরণ মিলেছে একরপ্রতি 200 থেকে 300 টাকা, আর নতুন জায়গায় সমতল জমি কিনতে হয়েছে একরপ্রতি 2,000 টাকায়। বান্দরবানের এক বাসিন্দার পরিবারের প্রায় 45 একর ধানিজমির ক্ষতিপূরণ মিলেছে একরপ্রতি মাত্র 200 টাকায়। স্মৃতিকথায় বলা আরও কয়েকটি হার, 900/600/300 ও 300/200/100 টাকা, আছে পূর্ণাঙ্গ লেখার ক্ষতিপূরণ অংশে।
পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কথাও লিখিত আছে। শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়ের 30–31 পৃষ্ঠা অনুযায়ী, ষাটের দশকের প্রথম দিকে কর্ণফুলী বাঁধ প্রকল্পের প্রথম পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছিলেন মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, যিনি পরে জেলার ডেপুটি কমিশনার এবং চাকরির শেষে মিশরে রাষ্ট্রদূত, প্রতিরক্ষা সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন। 1994 সালের মার্চে তিনি লেখককে জানান, পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে বারবার অর্থ চেয়ে লিখলে তাঁকে বলা হয়েছিল, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ বনজঙ্গলের লতাপাতা খেয়ে থাকতে পারে, কাজেই বেশি সাহায্যের দরকার নেই। কথাটি লেখকের কাছে বলা একজন কর্মকর্তার স্মৃতি; সরকারি চিঠিপত্রে এর হদিস পাওয়া যায়নি।
পুনর্বাসনের মূল জায়গা ছিল কাসালং সংরক্ষিত বন, যার একাংশ বনের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে চাষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কতটুকু জমি আর কত পরিবার, সে প্রশ্নে উৎসগুলোর হিসাব আলাদা: জমি 8,700 থেকে 23,000 একর, পরিবার 3,734 থেকে 7,676।
| উৎস | জমি | পরিবার ও অন্যান্য |
|---|---|---|
| Sopher 1963 (হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে) | কাসালংয়ে প্রথমে 13,000 একর পাওয়ার কথা, পরে 10,000 একরে নামানো; 1960 সালে কাগজে বন্দোবস্ত 8,700 একর | প্রতি পরিবারে 10 একর হিসাব; ক্ষতিগ্রস্ত মৌজা ধরে ব্লক |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, বই, পৃ. 29 | কাসালং সংরক্ষিত বনের 40 বর্গমাইল ডিরিজার্ভ করে 10 হাজার একর কৃষিযোগ্য জমি | 10 হাজার কৃষি-পরিবারের পুনর্বাসন সম্ভব হয়নি |
| শরদিন্দু শেখর চাকমা, আর্কাইভ-লেখা | কাসালংয়ে প্রায় 10 হাজার একর; রামগড় ও বান্দরবান মহকুমায় 11,322 একর খাস জমি | কাসালংয়ে 3,734 পরিবার; 8 হাজার জুমিয়া পরিবার ও কয়েক হাজার চাষি পরিবার পুনর্বাসনের বাইরে |
| জেলা গেজেটিয়ার 1975 (Bor Porong-এর উদ্ধৃতিতে) | বন কেটে 21,522 একর আবাদি জমি উদ্ধার; কাসালংয়ে 100 বর্গকিলোমিটার বন কেটে 10,000 একর | পরিবারের সংখ্যা উদ্ধৃতিতে নেই |
| জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, Bor Porong-এ উদ্ধৃত (1995) | মোট 21,000 একর আবাদি জমি বরাদ্দ, যেখানে হারিয়েছে 54,000 একর | — |
| জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, আর্কাইভ-লেখা | 20,231 একর কৃষিজমি; কাপ্তাই পুনর্বাসন প্রকল্পে (1956–66) 12,615 একর; অতিরিক্ত পুনর্বাসন প্রকল্পে (1966–75) 800 একর অসমতল পাহাড়ি জমি | কৃষিজমি 7,398 পরিবার; 1956–66 প্রকল্পে 7,676 পরিবার |
| IDMC 2006 (Shapan Adnan-এর বইয়ের পৃ. 44–46-এর বরাতে) | কাসালংয়ে 23,000 একর, চাষের সুযোগ সীমিত | প্রায় 5,600 পরিবার |
জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার চাষযোগ্য জমি নিয়ে লেখায় আরও একটি প্রকল্পের নাম আছে: 1968–69 সালে পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের “পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প”, যা কাপ্তাইয়ের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেওয়া হয় এবং যার আওতায় 1972–73 পর্যন্ত 10,061 একর বরাদ্দ হয়।
কাসালংয়ের বাইরে চেঙ্গী উপত্যকার হিসাবও Sopher-এর গবেষণায় আছে। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী পানছড়ি ও লোগাং এলাকায় 1,351টি বাস্তুচ্যুত পরিবারের জন্য 1,594 একর জমি ধরা হয়; কর্মকর্তাদের কাছে সহজে বন্দোবস্তযোগ্য 2,309 একর মালিকানাহীন জমি থাকলেও আগ্রহীদের তালিকায় নাম লেখায় মাত্র 54টি পরিবার। সীমান্তের কাছের এই এলাকায় যেতে অনিচ্ছার কারণ হিসেবে বাস্তুচ্যুতরা সীমান্ত পুলিশের হয়রানি, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, নারীদের হয়রানি আর ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলির আশঙ্কার কথা বলেন। Deepak K. Singh সরাসরি উদ্ধৃত করেছেন (Sopher, পৃ. 357), চাকমারা বাঙালি সীমান্ত পুলিশের বিরুদ্ধে বিনা পয়সায় খাবার ও শ্রম আদায় এবং পাহাড়ি নারীদের প্রতি অপমানজনক আচরণের অভিযোগ করেছিলেন।
কাসালংয়ে বসতি গড়ার পরের কয়েক বছরের কথা পুনর্বাসিতদের বয়ানে আছে। Bor Porong লিখেছে, পুনর্বাসনের মূল পরিকল্পনায় লংগদু, বরকল ও বাঘাইছড়ি থানার নিচু এলাকায় যে জমি দেওয়া হয়েছিল, হ্রদ বাড়তে থাকায় তা-ও ধীরে ধীরে ডোবে; হ্রদ পূর্ণ রূপ নিতে সময় লাগে প্রায় দুই বছর (1960–61), আর দ্বিতীয় বছরে এই এলাকার নতুন বসতিস্থাপনকারীরা ভারতে যেতে শুরু করেন। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপেও আছে, পুনর্বাসন এলাকার যে জমিগুলো বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল তার অনেকগুলো বর্ষায় হ্রদের পানিতে ডুবে যেত।
পুনর্বাসনের দুটি নিয়ম প্রায় সব উৎসে আছে। এক, পরিবারপিছু জমির সর্বোচ্চ সীমা 10 একর, যা আগে ছিল 25 একর। দুই, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি ফরমে নতুন গন্তব্য বেছে নিতে হতো, যার শেষ সময় ছিল 1960 সালের ফেব্রুয়ারি।
দশ একরের সীমা নিয়ে শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়ের 29 পৃষ্ঠার বাক্য: “সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল সংশোধন করা হয় এবং নতুন বিধিতে বলা হয় যে এখন হতে কোন পরিবারকে ১০ একরের বেশী কৃষি জমি বন্দোবস্ত দেয়া যাবে না।” এর পরের বাক্য: “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিধিটা আরো সংশোধন করে ১০ একরের পরিবর্তে ৫ একর করা হয়।” একই বইয়ের 20 পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, ম্যানুয়েলের মূল বিধানে কোনো পরিবারকে 25 একরের বেশি কৃষিজমি বন্দোবস্ত দেওয়া যেত না।
বাস্তবে সীমাটি কীভাবে প্রয়োগ হয়েছিল, Bor Porong-এর একজন সাক্ষাৎকারদাতা বলেছেন: পরিবারের প্রতি সদস্যের জন্য এক একর, আর দশজনের বেশি সদস্য হলেও মোট দশ একরের বেশি নয়। একই বইয়ের অন্য সাক্ষাৎকারদাতাদের বয়ানে, 14 একর সমতল জমির বদলে 2 একর পাহাড়ি জমি, 55 একর ধানিজমির বদলে 10 একর, যার বড় অংশ পাহাড়। Sopher-এর গবেষণা থেকে হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপও “জমির বদলে জমি” নীতিতে পরিবারপিছু 10 একরের হিসাবের কথা বলেছে।
অপশন ফরম নিয়ে Bor Porong-এর ভূমিকা লিখেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সামনে একটিই পথ ছিল, এলাকা ছেড়ে যাওয়া; বেশির ভাগ নিরক্ষর হওয়ায় তাঁরা কিছু না জেনেই ফরম পূরণ করেন, আর অনেকে হেডম্যান বা কার্বারির পরামর্শে চলেন, যাঁরা কোথাও কোথাও পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেন। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী Sopher চারটি বিকল্পের কথা লিখেছিলেন: নিজের মৌজায় উঁচু জায়গায় সরা, হ্রদ-এলাকার বাইরে দূরে যাওয়া, কাসালং পুনর্বাসন এলাকায় যাওয়া, অথবা জেলার অন্য কোথাও বা চেঙ্গী ও মাইনী উপত্যকায় দাবিহীন জমিতে বসা। ফরমে চাকমাদের পছন্দের হিসাব ছিল এ রকম: 52 শতাংশ হ্রদের কাছাকাছি, 29 শতাংশ কাসালং, 14 শতাংশ চেঙ্গী-মাইনী, 5 শতাংশ জেলার অন্যত্র। একই সারসংক্ষেপে আছে, পুনর্বাসনের বিকল্প চূড়ান্ত করতে তাঁদের ওপর চাপ ছিল 1960 সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
পুনর্বাসনের জমি কোথা থেকে এল, সে প্রশ্নে শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়ের 29 পৃষ্ঠায় আরেকটি তথ্য আছে: বাঁধ নির্মাণের সময় ভূমি বন্দোবস্ত নিষিদ্ধ করা হয় এবং সরকারি খাস জমি খোঁজার নামে সাধারণ চাষিদের জমি জরিপ হয়; কৃষকদের উদ্বৃত্ত জমি আর বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করা আবাদি জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ হয়। তাঁর ভাষায়, “এভাবে কাপ্তাই বাঁধে যারা সরাসরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তারাও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
Sopher-এর 1963 সালের গবেষণা অনুযায়ী বাস্তুচ্যুত বাঙালি চাষিদের জন্য প্রশাসন আলাদা ও বেশি মনোযোগী ব্যবস্থা নেয়; সবচেয়ে বড় দলটি, 570টি পরিবার, কাসালংয়ের মারিশ্যা বাজারের কাছে আগে থেকে সাফ করা 2,000 একর সমতল জমি পায়। Bor Porong লিখেছে, পুনর্বাসনে চাকমারা মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের চেয়ে সুবিধা পেয়েছিলেন, কারণ কাসালংয়ে কেবল চাকমাদের বসতে দেওয়া হয়।
Deepak K. Singh-এর বই Sopher-এর 351 পৃষ্ঠা থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছে: “the largest contingent of plainsmen, numbering 570 families, was settled within the Kasalong tract, comprising one-sixth of the households relocated in that area, to the dismay of many of the Chakmas. These Bengalis were settled on the best Kasalong land, 2000 acres of level, previously cleared land that was almost ready for plowing, near the bazaar and administrative headquarters of Marishya.” একই উদ্ধৃতি অনুযায়ী বাঙালি চাষিদের চট্টগ্রামের উপকূলঘেঁষা সিয়ালবুক্কা ও ফাইস্যাখালীর দিকেও বসতে উৎসাহ দেওয়া হয়। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে সংখ্যাটি 560 পরিবার।
শরদিন্দু শেখর চাকমার আর্কাইভ-লেখাও বলছে, কাসালংয়ের সর্বোৎকৃষ্ট জমি ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালি পরিবারগুলোকে দেওয়া হয়। তাঁর আরেকটি বক্তব্য, রামগড় ও বান্দরবানের যে 11,322 একরকে খাস জমি বলা হয়েছিল, সেগুলো ছিল চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের আবাদি কিন্তু বন্দোবস্তহীন জমি।
অন্যদিকে Bor Porong-এর ভূমিকার বাক্য: “During the process of rehabilitation, the Chakmas had an edge over the other minorities like the Maghs and Tangchangyas. Only Chakmas were allowed to resettle in the Kasalong tract while the needs of smaller groups were ignored.” একই অনুচ্ছেদে লেখা, দীর্ঘদিনের বাঙালি বাসিন্দারাও অনুকূল আচরণ পাননি। হিল ভয়েসের সারসংক্ষেপে Sopher-এর পর্যবেক্ষণ হিসেবে আছে, চাকমাদের স্থানান্তরে জোর দেওয়া হলেও তঞ্চঙ্গ্যা ও মারমাদের প্রতি উদাসীনতা ছিল, তাঁদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা কম হয়েছে এবং কাসালংয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি; মধ্য চেঙ্গীর দুই মৌজার মারমারা মং সার্কেলের মারমা বসতির দিকে যেতে চেয়েছিলেন।
উৎসগুলো তাই দুই দিকের কথা বলে, এবং দুটোই এখানে রাখা হলো: বাঙালি পরিবারের জন্য কাসালংয়ের সবচেয়ে প্রস্তুত জমি (Sopher, শরদিন্দু শেখর চাকমা), আর কাসালংয়ে চাকমা ছাড়া অন্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জায়গা না পাওয়া (Bor Porong, Sopher)।
শরদিন্দু শেখর চাকমার বিবরণ অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল 120 ফুট জলস্তর ধরে, কিন্তু পানি 110 ফুটের ওপরে ওঠেনি। এই দুই উচ্চতার মাঝের জমি স্থায়ীভাবে ডোবেনি, আর শুকনো মৌসুমে আরও নিচের জমি ভেসে ওঠে। এটিই “জলেভাসা জমি” বা fringe land; তাঁর হিসাবে আনুমানিক 15 হাজার একর।
বইয়ের 31 পৃষ্ঠার বিবরণে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ফলে এই জমি খাস হয়ে যায়। জমিগুলো দেখা যায় প্রধানত কোতোয়ালী, মহালছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, লংগদু ও নানিয়াচর থানায়। পুরনো মালিকরা এলাকা ছেড়ে যাননি, পাশের উঁচু জায়গায় ঘর তুলে চৈত্র-বৈশাখে পানি নামলে চাষ করেন; জমিগুলো এক বছরের জন্য পূর্বের মালিকের সঙ্গে বন্দোবস্ত দেওয়া হয় এবং প্রতি বছর লিজ নবায়ন হয়।
জলেভাসা জমির পরিমাণ নিয়েও উৎসগুলো আলাদা। শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়ে আনুমানিক 15 হাজার একর। Bor Porong (1995) রাঙ্গামাটির কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব দিয়েছে 36,000 একর, জলস্তর ধরে ভাগ করা: 27–30 মিটারে 2,000, 30–32 মিটারে 6,000, 32–35 মিটারে 22,000 আর 35–38 মিটারে 6,000 একর। বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই হ্রদ ভুক্তিতে প্রায় 6,075 হেক্টর জমিতে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে ইজারাভিত্তিক চাষ হয়। এই জমির আইন ও আজকের বিরোধের বিস্তারিত আছে কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি বন্দোবস্ত লেখায়।
এই লেখার প্রতিটি অংশে উৎসের অমিল সেই অংশেই লেখা হয়েছে। দ্রুত মিলিয়ে দেখার জন্য প্রধান অমিলগুলো নিচে এক জায়গায় দেওয়া হলো। কোনোটির পক্ষে রায় দেওয়া হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের 1955 সালের স্মারক অনুযায়ী জায়গা বাছা হয় 1951 সালে এবং পূর্ব পাকিস্তান সরকারের বিভাগীয় কাজ শুরু হয় 1952-এর মাঝামাঝি। মার্কিন ঠিকাদার Utah Construction কাজে নামে এপ্রিল 1957-এ, আর প্রকল্পের উদ্বোধন হয় 1962 সালের মার্চের শেষে (Bor Porong-এ 30 মার্চ, Utah-এর প্রতিবেদনে 31 মার্চ)। বাংলাপিডিয়া নির্মাণ শেষের সময় লিখেছে 1961-এর শেষ।
মালিক ছিল পাকিস্তান সরকার; বিশ্বব্যাংকের স্মারক অনুযায়ী 1952 থেকে কাজ করত পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিজস্ব বিভাগ। নকশা ও তদারকি করে সান ফ্রান্সিসকোর International Engineering Company, যারা 1954 সালের মার্চে নিযুক্ত হয়। মূল নির্মাণ করে Utah Construction Company-র একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কস্ট-প্লাস চুক্তিতে; কোম্পানির নথিতে মাঠে ছিলেন প্রায় 70 থেকে 83 জন মার্কিন ও 2,500 পাকিস্তানি কর্মী।
মার্কিন সরকারের International Cooperation Administration (ICA) ও Development Loan Fund (DLF) টাকা দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 26 মার্চ 1958 তারিখের স্মারক অনুযায়ী ততদিনে প্রকল্পে 2 কোটি ডলার মার্কিন সাহায্য গেছে। 20 অক্টোবর 1958 তারিখে DLF-এর বোর্ড আরও 1.75 কোটি ডলার ঋণের প্রস্তাবে রাজি হয়। 1954 সালে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নে রাজি হয়নি।
একক চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশিত নথিতে নেই। 1954 সালের ডিসেম্বরে পরামর্শকের অনুমান 77 মিলিয়ন ডলার। ঠিকাদারের দরপত্র ছিল 1956 সালে 3 কোটি ডলার; 1959 অর্থবছরে সংশোধিত হিসাব 48,298,653 ডলার; পরের প্রতিবেদনগুলোতে 5 কোটি, 5.5 কোটি ও 5.8 কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় একটি গবেষণায় 50.3 কোটি রুপি।
1959 সালের রাজস্ব বিভাগের একটি নথিতে 54,000 একর আবাদি জমি, যার 5,000 একর অস্থায়ীভাবে চাষযোগ্য (Sopher 1963-এর বরাতে)। 1975 সালের জেলা গেজেটিয়ার, Bor Porong ও শরদিন্দু শেখর চাকমার বইয়েও 54,000 একর, জেলার আবাদি জমির প্রায় 40 শতাংশ। বাংলাপিডিয়া লিখেছে 21,870 হেক্টর। 369টি মৌজার 125টি ডোবে।
উৎসভেদে আলাদা। আগাম অনুমান ছিল 118 ফুট জলস্তরে 225 বর্গমাইল (Sopher 1963)। Bor Porong লিখেছে প্রায় 655 বর্গকিলোমিটার; বাংলাপিডিয়া প্রকল্প-দলিলে 665 এবং 33 মিটার জলস্তরে 777 বর্গকিলোমিটার। শরদিন্দু শেখর চাকমার হিসাবে প্রায় 350 বর্গমাইল, বর্ষায় প্রায় 400 বর্গমাইল।
বাঁধের আগে কর্মকর্তাদের অনুমান ছিল প্রায় 80,000; জনসংখ্যা-নিবন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত 85,300 (Sopher 1963-এর বরাতে)। 24 এপ্রিল 1972 তারিখের স্মারকলিপিতে 99,977 জন। 1975 সালের জেলা গেজেটিয়ার ও পরের প্রায় সব উৎসে 18,000 পরিবার, প্রায় এক লাখ মানুষ, যাঁদের 70 শতাংশ চাকমা। Deepak K. Singh-এর বইয়ে চাকমাদের অংশ 90 শতাংশ।
শরদিন্দু শেখর চাকমার বই অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির জমি একরপ্রতি 600 টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি 400 টাকা, তৃতীয় শ্রেণি ও Grove land 200 টাকা; বসতবাড়ি পরিবারপিছু গড়ে 500 টাকা, ফলবান গাছ 10 টাকা। জুমের জমির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ ছিল না। Bor Porong-এর সাক্ষাৎকারে কয়েকজন একরপ্রতি 200 থেকে 300 টাকা পাওয়ার কথা বলেছেন।
বিশ্বব্যাংকের 1955 সালের খরচের ছকে জমির ক্ষতিপূরণ ও সড়ক স্থানান্তর মিলিয়ে 4.55 মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা ধরা ছিল। বাংলাপিডিয়া লিখেছে সরকার 4 কোটি 15 লাখ টাকা বরাদ্দ করে, তবে সবাই প্রাপ্য নগদ পাননি। শরদিন্দু শেখর চাকমা একটি সাময়িকীর বরাতে 5.1 কোটি ডলার বরাদ্দ ও 26 লাখ ডলার খরচের কথা লিখেছেন।
মূলত কাসালং সংরক্ষিত বনের একাংশ ডিরিজার্ভ করে, আজকের বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা এলাকায়; এ ছাড়া চেঙ্গী উপত্যকা, রামগড় ও বান্দরবানের খাস জমিতে। কাসালংয়ে জমির হিসাব 8,700 একর (Sopher) থেকে 23,000 একর (IDMC); পরিবার 3,734 (শরদিন্দু শেখর চাকমা) থেকে প্রায় 5,600 (IDMC)। পরিবারপিছু সর্বোচ্চ সীমা ছিল 10 একর।
শরদিন্দু শেখর চাকমার বই অনুযায়ী পুনর্বাসনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল সংশোধন করে পরিবারপিছু কৃষিজমি বন্দোবস্তের সর্বোচ্চ সীমা 25 একর থেকে 10 একর করা হয়; স্বাধীনতার পর তা আরও কমিয়ে 5 একর করা হয়। Bor Porong-এর এক সাক্ষাৎকারদাতার কথায় হিসাব ছিল পরিবারের প্রতি সদস্যে এক একর, সর্বোচ্চ দশ একর।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 26 মার্চ 1958 তারিখের স্মারকে লেখা, পরিকল্পিত বাঁধের পানিতে ভারতের কিছু এলাকা ডুববে বলে জানা যায় এবং সমস্যা মেটা পর্যন্ত নতুন অর্থায়ন আটকে থাকে। 9 অক্টোবর 1958 তারিখে নয়াদিল্লিতে ঠিক হয়, DLF-এর চুক্তিতে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ন্যায্য মীমাংসায় সর্বোচ্চ চেষ্টার অঙ্গীকার করবে, আর কাজ চলবে।
সরকারি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কোম্পানির নথি (প্রাথমিক উৎস)
জুমজার্নালের আর্কাইভ ও ই-বুক লাইব্রেরি
গবেষণা, প্রতিবেদন ও বিশ্বকোষ
একই বিষয়ে জুমজার্নালের অন্য লেখা
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:কাপ্তাই বাঁধ, কাপ্তাই লেক, কাপ্তাই হ্রদের ইতিহাস, ভূমি অধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।