Last updated Oct 23rd, 2026
0

চাক জনগোষ্ঠী বান্দরবানের সর্বদক্ষিণের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি ছোট আদিবাসী জনগোষ্ঠী — 2022 সালের জনশুমারিতে সারা দেশে মাত্র 3,077 জন, যাঁদের 2,329 জনই এই এক উপজেলায়। চাকদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী পরিবারের লুইশ (সাক) শাখার, ধর্ম প্রধানত থেরবাদ বৌদ্ধ। চাকমাদের সঙ্গে নামের মিল থাকলেও তাঁরা আলাদা জাতি, আলাদা ভাষা। গত পাঁচ দশকে রাবার বাগান, ইজারা ও বহিরাগত দখলে একের পর এক চাক পাড়া খালি হয়ে যাওয়ার ঘটনা সংবাদপত্র ও অধিকার সংগঠনের নথিতে আছে।
চাকদের জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু, উৎসব আর লোকসাহিত্যের পূর্ণ বিবরণ চাক লেখকদের হাতেই লেখা আছে আমাদের আর্কাইভে — চাক জাতির আদ্যোপান্ত (মংমং চাক ও চিংহ্লামং)। এই লেখা সেটির পুনরাবৃত্তি নয়। এখানে আছে যা ঐ লেখায় নেই বা পরে বদলেছে: 2022 শুমারির উপজেলা-ধরা সংখ্যা, কোন উৎস কোন পাড়ার নাম দেয়, ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের কাজ, আর 1970-এর দশক থেকে 2018 পর্যন্ত ভূমি হারানোর নথিভুক্ত ঘটনাগুলো এক ছকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য জনগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চাইলে দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব।
সূচিপত্র
না, চাক আর চাকমা দুটি আলাদা জনগোষ্ঠী। চাকমাদের ভাষা ইন্দো-আর্য শাখার, আর চাকদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী পরিবারের সাক বা লুইশ দলের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) 2022 সালের শুমারিতে দুটিকে আলাদা সারিতে গুনেছে: চাক 3,077 জন, চাকমা 4,83,365 জন। বসতি, ধর্মচর্চা ও সামাজিক কাঠামোও আলাদা।
নামের মিলের কারণে দুটিকে গুলিয়ে ফেলা এত সাধারণ যে আজকের পত্রিকা 2021 সালে একটি প্রতিবেদনের শিরোনামই দিয়েছিল “চাক’রা চাকমা নয়, এরা একটি জনগোষ্ঠী”। ভাষাগত দিক থেকে চাকরা বরং মিয়ানমারের কাদু জনগোষ্ঠীর কাছের — দুটিই লুইশ ভাষাদলের (উইকিপিডিয়া, Sak language)। চাকমা ও চাক দুটি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি সংখ্যা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী: কয়টি, কারা, কোথায়, কতজন লেখার ছকে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ছোট পাঁচ জনগোষ্ঠী — খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই — নিয়ে একটি তুলনামূলক লেখাও আছে: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী। সেখানে দেখানো হয়েছে, পাঁচটির মধ্যে চাকরাই একমাত্র যাঁদের ভাষা কুকি-চিন দলের নয় এবং যাঁরা প্রধানত বৌদ্ধ।
BBS-এর 2022 সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে চাক জনগোষ্ঠীর সদস্য 3,077 জন — পুরুষ 1,555, নারী 1,522। এর 2,968 জন চট্টগ্রাম বিভাগে, 2,662 জন বান্দরবান জেলায়, আর 2,329 জন একা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। ঢাকা বিভাগে 80 জন ও সিলেট বিভাগে 12 জনসহ বাকিরা দেশের নানা প্রান্তে ছড়ানো।
জাতীয় সংখ্যাটি এসেছে শুমারির জাতীয় প্রতিবেদনের (খণ্ড ১) Table P29 “Ethnic Population by Category, Sex and Division, 2022” থেকে (BBS, National Report Vol. I, নভেম্বর 2023)। বিভাগভিত্তিক ভাগটি এরকম:
| বিভাগ | চাক (মোট) | পুরুষ | নারী |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম | 2,968 | 1,501 | 1,467 |
| ঢাকা | 80 | 37 | 43 |
| সিলেট | 12 | 8 | 4 |
| খুলনা | 5 | 3 | 2 |
| রংপুর | 5 | 3 | 2 |
| বরিশাল | 3 | 1 | 2 |
| ময়মনসিংহ | 3 | 2 | 1 |
| রাজশাহী | 1 | 0 | 1 |
| সারা দেশ | 3,077 | 1,555 | 1,522 |
চট্টগ্রাম বিভাগের 2,968 জনের মধ্যে বান্দরবানে 2,662, রাঙামাটিতে 41 ও খাগড়াছড়িতে 22 জন (তিন জেলা-প্রতিবেদনের Table P17)। বিভাগের বাকি 243 জন তিন পার্বত্য জেলার বাইরের জেলাগুলোতে — এটি বিয়োগ করে পাওয়া নিজস্ব হিসাব, কোন জেলায় কতজন তা জেলা-প্রতিবেদন না দেখে বলা যায় না।
2022-এর আগে চাকদের কোনো একক, সর্বজনগ্রাহ্য সংখ্যা ছিল না। বিভিন্ন উৎস বিভিন্ন সময়ে যা লিখেছে:
| সময় | সংখ্যা | উৎস |
|---|---|---|
| 1991 শুমারি | প্রায় 2,000 (372 পরিবার) | বাংলাপিডিয়া; আর্কাইভের লেখাও 2,000 বলে |
| 2011 | প্রায় 3,000 | ফিলিপ গাইন, দ্য ডেইলি স্টার (Ambushed by Greed) |
| 2014 | প্রায় সাড়ে তিন হাজার | প্রথম আলো |
| 2021 | চাকদের নিজেদের সর্বশেষ হিসাবে আড়াই হাজার; তাঁদের ধারণায় 4–5 হাজার | আজকের পত্রিকা |
| তারিখহীন | প্রায় 5,000 | বাংলা উইকিপিডিয়া (উৎস দেওয়া নেই) |
| 2022 শুমারি | 3,077 | BBS, Table P29 |
2022-এর সরকারি সংখ্যা চাকদের নিজেদের অনুমানের (4–5 হাজার) চেয়ে কম, আবার 1991-এর 2,000-এর চেয়ে প্রায় দেড় গুণ। পার্থক্যের কারণ কোনো উৎস ব্যাখ্যা করে না, তাই দুটি সংখ্যাই পাশাপাশি রাখা হলো।
চাকদের মূল বসতি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমানা ঘেঁষে। 2022 শুমারিতে উপজেলায় 2,329 জন চাক গোনা হয়েছে, যা জেলার চাকদের 87 শতাংশের বেশি। আলীকদম উপজেলায় চাক পাওয়া গেছে মাত্র 17 জন; বান্দরবান সদরে 225 আর লামায় 83 জন।
বান্দরবান জেলা-প্রতিবেদনের Table P17 “Ethnic Population by Category, Sex and Upazila, 2022” (BBS, District Report: Bandarban, পৃ. 202–204) থেকে উপজেলাভিত্তিক ছক:
| উপজেলা | চাক (মোট) | পুরুষ | নারী |
|---|---|---|---|
| নাইক্ষ্যংছড়ি | 2,329 | 1,110 | 1,219 |
| বান্দরবান সদর | 225 | 112 | 113 |
| লামা | 83 | 64 | 19 |
| আলীকদম | 17 | 10 | 7 |
| রুমা | 4 | 1 | 3 |
| রোয়াংছড়ি | 3 | 2 | 1 |
| থানচি | 1 | 1 | 0 |
| বান্দরবান জেলা | 2,662 | 1,300 | 1,362 |
নাইক্ষ্যংছড়ির মোট জনসংখ্যা 2022 সালে 76,475 (একই প্রতিবেদন, Table 3.1.3), যার 12,636 জন কোনো না কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। উপজেলায় আদিবাসীদের মধ্যে চাকরা চতুর্থ: মারমা 4,708, তঞ্চঙ্গ্যা 2,881, ম্রো 2,356, চাক 2,329, ত্রিপুরা 202, চাকমা 135। অর্থাৎ নিজেদের একমাত্র উপজেলাতেও চাকরা মোট জনসংখ্যার প্রায় 3 শতাংশ (নিজস্ব হিসাব: 2,329 ÷ 76,475)।

BBS-এর মানচিত্রে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন: বাইশারী, দোছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, সোনাইছড়ি ও দক্ষিণের ঘুমধুম। চাক বসতি কোন ইউনিয়নে, তা নিয়ে উৎসগুলোর বিবরণ কাছাকাছি: প্রথম আলো (2014) নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি ও বাইশারীর কথা লেখে; আজকের পত্রিকা (2021) লেখে “তিনটি ইউনিয়নে 14টি পাড়া”; আর্কাইভের লেখা বলে “3টি ইউনিয়নের 5টি মৌজায়” 15টি বসতি। ফিলিপ গাইনের 2011 সালের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি 21টি গ্রাম, চারটি ইউনিয়নে।
পড়া কোনো উৎসে আলীকদম উপজেলায় কোনো চাক পাড়ার নাম পাওয়া যায়নি। 2022 শুমারিতে সেখানে 17 জন চাক গোনা হয়েছে — একটি পাড়ার জন্য সংখ্যাটি খুব ছোট। আলীকদম নামটি চাকদের প্রসঙ্গে দুইভাবে আসে। প্রথমত, 1980 ও 1990-এর দশকে রাবার ও উদ্যান-বাগানের জন্য যে প্রায় 45,000 একর ইজারা দেওয়া হয়েছিল, SEHD-এর 2011 সালের নাগরিক ঘোষণা সেটির এলাকা হিসেবে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির নাম একসঙ্গে দেয় (SEHD)। দ্বিতীয়ত, নাইক্ষ্যংছড়ির ভেতরেই একটি মৌজার নাম আলিখ্যং বা আলেখ্যং (গাইনের প্রতিবেদনে “Alikhyong Mouza, no. 280”), যার সঙ্গে আলীকদমের নামের মিল আছে। চাকদের উৎখাত হওয়া বাদুরঝিরি পাড়া এই আলিখ্যং মৌজাতেই ছিল।
চাক পাড়ার কোনো সরকারি তালিকা প্রকাশিত হয়নি। বাংলাপিডিয়া, বাংলা উইকিপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার ও আমাদের আর্কাইভ মিলিয়ে অন্তত 20টির বেশি গ্রাম ও পাড়ার নাম পাওয়া যায় — কিছু এখনো বসতি, কিছু খালি হয়ে যাওয়া পাড়া। একই গ্রামের বানান উৎসভেদে আলাদা; নিচে প্রতিটি উৎসের বানান হুবহু রাখা হলো।
| উৎস | যে গ্রাম বা পাড়ার নাম আছে |
|---|---|
| বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি) | উপজেলা সদর, Baishari, Kamichhara, Crokshong, Bakkhali, Alekhyong, Kroangjhiri, Duchhri |
| বাংলা উইকিপিডিয়া | বাইশারী, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলিখ্যং, কামিছড়া, কোয়াংঝিরি, বাকখালী, দোছড়ি, বাদুরঝিরি, ক্রোক্ষ্যং |
| দ্য ডেইলি স্টার, 20 ফেব্রুয়ারি 2018 (ইংরেজি বানান) | Kanai Thong Chak Para, Madhyam Chak Para, Pene Shong Ting Chak Para, Pi Chira Chak Para, Hatir Dath Jiri, Kami, Crokhong, Natun Chak Para; Chak Headman Para (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে) |
| প্রথম আলো, 2014 | মধ্যম চাকপাড়া (নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের 3 নম্বর ওয়ার্ড, সদর থেকে 6 কিলোমিটার দক্ষিণে; 64 পরিবার, 256 জন) |
| দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 2020 | শুই জাইং চাক পাড়া (উৎখাত), মধ্যম চাক পাড়া |
| ঢাকা টাইমস, 2024 | দৌছড়ি ইউনিয়নের ক্রোক্ষ্যং চাক পাড়া |
| আর্কাইভ: চাক জাতির আদ্যোপান্ত | বাইশারী চাক পাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি চাক পাড়া; খালি হয়ে যাওয়া: চাকঢালার তুনখ্যং, চাংম্রো ও আওয়াফ্রেং পাড়া, বাকখালীর চাক পাড়া ও পূর্ব বাকখালী পাড়া, লংগদুর চাক পাড়া, মংনামাক, বকঝিরি (চাক ভাষায় ব্যাংরাং) |
| ফিলিপ গাইন, 2011 ও 2018 | Badurjhiri (আলিখ্যং মৌজা), Longodujhiri (Khal) Chak Para, Amrajhiri, Baishari Chak Headmanpara |
ইংরেজি বানানে পাওয়া পাড়ার নামগুলো (যেমন Kanai Thong বা Pene Shong Ting) কোনো বাংলা উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই এখানে বাংলায় রূপান্তর করা হয়নি। কামিছড়া, ক্রোক্ষ্যং ও বাকখালীর মতো কয়েকটি নাম একাধিক উৎসে মেলে, ফলে এগুলোই সবচেয়ে নিশ্চিত চাক গ্রাম।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী চাক ভাষায় “চাক” একটি ক্রিয়াপদ, অর্থ “দাঁড়ানো”; চাকরা নিজেদের বলেন “আচাক”। আরাকানিরা তাঁদের ডাকে সাক বা মিসাক, বোমাং রাজবংশের অভিষেক-পুস্তিকায় তাঁরা “মিৎসাক”, আর মিয়ানমারে তাঁরা আজ “থেত” (Thet) নামে পরিচিত। ভাষাবিজ্ঞানে ভাষাটির নাম Sak বা Cak।
আর্কাইভের লেখাটি একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দেয়: আগে চাকদের নামের শেষে জাতিপরিচয় লেখা হতো না। 1966 সালে মংমং চাক কলেজে ভর্তির সময় প্রথম নামের শেষে “চাক” লেখেন, তারপর থেকে সবাই লেখেন। একই লেখা G. H. Luce-এর বার্মার দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকের জনগোষ্ঠী নিয়ে প্রবন্ধে “thek” নামের উল্লেখের কথাও বলে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Chak people” পাতা জানায়, মিয়ানমারে থেতরা রাখাইন জাতির একটি উপদল হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।
চাক ভাষা চীন-তিব্বতি পরিবারের তিব্বতি-বর্মী শাখার একটি ভাষা। বাংলাপিডিয়া একে “সাক বা লাই” দলের বলে; ভাষাবিজ্ঞানের আধুনিক শ্রেণিবিভাগে এটি জিংফো-লুইশ উপশাখার লুইশ দলে, যেখানে আছে মিয়ানমারের কাদু ও গানান এবং বিলুপ্ত চাকপা ভাষা। ISO 639-3 কোড ckh, Glottolog কোড sakk1239।
উইকিপিডিয়ার “Sak language” পাতা এথনোলগের (2007) বরাতে মোট প্রায় 4,000 মাতৃভাষী দেয় — বাংলাদেশে প্রায় 3,000 (বাইশারী, নাইক্ষ্যংছড়ি, দোছড়িসহ), মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং, রাথেডং ও ম্রাউক-উ টাউনশিপে প্রায় 1,000। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানী কেইসুকে হুজিওয়ারা (Keisuke Huziwara) এই ভাষা নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন; তাঁর গবেষণা অনুযায়ী বাইশারীর উপভাষাটি সবচেয়ে রক্ষণশীল, অর্থাৎ পুরনো রূপ সবচেয়ে বেশি ধরে রেখেছে।
হুজিওয়ারার 2019 সালের একটি গবেষণা-সারাংশ (GLOCAL, CALA 2019) জানায়, বাংলাদেশের চাক আর মিয়ানমারের সাক নিজস্ব শব্দভান্ডারে পারস্পরিক বোধগম্য, তবে চাকে বাংলা ধার-করা শব্দ আর সাকে আরাকানি-বর্মী ধার-করা শব্দ বোঝাপড়া কঠিন করে। আর্কাইভের লেখার হিসাবে চাক ভাষার প্রায় 60–65 শতাংশ শব্দ বর্মী ও আরাকানি মিশ্রিত, আর বাংলা ও বৃহত্তর মারমা জনগোষ্ঠীর ভাষার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। ফিলিপ গাইন 2011 সালে লেখেন, চাকরা বাংলা ও মারমা বলতে পারেন, কিন্তু মারমারা সাধারণত চাক বলতে পারেন না।
সংখ্যা গোনার ক্ষেত্রেও এই মিশ্রণ দেখা যায়: উইকিপিডিয়ার পাতাটি বলে, চাকভাষীরা দশমিক পদ্ধতিতে নিজস্ব সংখ্যাশব্দ ব্যবহার করেন, তবে দশের ওপরের সংখ্যায় প্রায়ই আরাকানি থেকে নেওয়া শব্দ বলেন। হুজিওয়ারার Cak-English-Bangla dictionary 2016 সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
সব উৎস একমত যে চাক বর্ণমালার উদ্ভাবক মংমং চাক, আর আগে চাক ভাষা বর্মী বা বাংলা হরফে লেখা হতো। কবে বর্ণমালাটি “চালু” হলো, সেই তারিখে উৎসগুলো আলাদা: কেউ 2011, কেউ 2013, কেউ 2015 বলে — কারণ তারা আলাদা ধাপের কথা বলছে (উদ্ভাবন শেষ, বই প্রকাশ, আনুষ্ঠানিক গ্রহণ)।
| উৎস | যা বলে |
|---|---|
| বাংলাপিডিয়া | বাংলাদেশে চাক ভাষার কোনো লিখিত রূপ পাওয়া যায়নি; তবে চাক কবি-গীতিকাররা বহু গান ও কবিতা রচনা করেছেন |
| আর্কাইভ: চাক জাতির আদ্যোপান্ত | নিজস্ব বর্ণমালা নেই; বৌদ্ধ বিহারে বর্মী হরফে লেখা শেখানো হতো; মংমং চাক 11টি স্বরবর্ণ ও 34টি ব্যঞ্জনবর্ণ এবং সংখ্যাচিহ্ন তৈরি করেছেন, কাজ চলছে |
| Endangered Alphabets Project | মংমং চাক 1970-এর দশকের শুরু থেকে 2011 পর্যন্ত প্রায় 40 বছর কাজ করেন; 2015 সালে বান্দরবানের নিউ গুলশানভিত্তিক চাক ল্যাঙ্গুয়েজ কাউন্সিল লিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে (endangeredalphabets.net) |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া | লিপিটি মংমং চাকের তৈরি, 2013 সালে প্রচারিত; ব্রাহ্মী-ধাঁচের আবুগিদা, 33টি ব্যঞ্জন ও 11টি স্বরবর্ণ |
| হুজিওয়ারা, CALA 2019 | একবিংশ শতকের শুরুতে লিপি তৈরি হয়; মূল পদ্ধতির ব্যাখ্যা Ong Khyaing Cak (2013) বইয়ে, বাংলা ও চাকে লেখা |
| ঢাকা টাইমস, 2024 | 2011 সালে মংমং চাক বর্ণমালা উদ্ভাবন করেন |
| প্রথম আলো, 2014 | নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে; দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই আছে, কিন্তু স্কুলে পড়ানো হয় না, বই ফটোকপি হয়ে ঘরেই থাকে |
ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যায় আর্কাইভ (34) আর উইকিপিডিয়া (33) এক নয়; আর্কাইভের লেখাটি কাজ চলাকালীন সময়ের, তাই পরে একটি বর্ণ বাদ পড়ে থাকতে পারে — তবে কোনো উৎস এ কথা নিশ্চিত করে না। হুজিওয়ারা লিপিটিকে “সামগ্রিকভাবে ভালো নকশার” বললেও পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন: /v/ ধ্বনির আলাদা বর্ণ নেই; ভাষায় নেই এমন মহাপ্রাণ ঘোষ ও মূর্ধন্য ধ্বনির জন্য অপ্রয়োজনীয় বর্ণ আছে; হ্রস্ব-দীর্ঘ স্বরচিহ্নের ব্যবহার এলোমেলো; রুদ্ধ অক্ষরে উচ্চস্বরের চিহ্ন প্রায়ই বাদ পড়ে; আর অক্ষরের শেষ ব্যঞ্জন একাধিক উপায়ে লেখা যায়।
শেখার সুযোগ এখনো সীমিত। Endangered Alphabets প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট দুই মাসের একটি চাক ভাষা কোর্স চালায়; অন্যদিকে মিয়ানমারে 17টি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সাক ভাষা শুধু চাক লিপিতে পড়ানো হয় — 35 জন শিক্ষক, 1,171 জন শিক্ষার্থী।
চাকদের আগমনের দুটি বিবরণ পাওয়া যায়। আর্কাইভের লেখা আরাকানি ইতিহাসবিদ উ অংসাউ ও থোয়াইং শৈখাইনের বরাতে বলে, 1333 খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজের হাতে চাক রাজ্যের পতনের পর চাকরা ছড়িয়ে পড়েন, আর ষোড়শ শতকের শেষ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি গড়েন। ইংরেজি উইকিপিডিয়া একটি বইয়ের বরাতে চৌদ্দ শতকের কথা বলে।
আর্কাইভের বিবরণে পথটিও আছে: একটি দল মদুক হয়ে বর্তমান লামা উপজেলার রংছায় পৌঁছায়, তারপর দক্ষিণে ত্রিশঢেবা হয়ে বাঁকখালী নদীর উজানে বাদুরঝিরি, বকঝিরি, বাইশারী, নাইক্ষ্যংছড়ি ও চাকবয়ঠায় স্থায়ী হয়। সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে ক্যউ বলী নামের একজনের নেতৃত্বে কয়েকটি পরিবার বাইশারীতে চাষাবাদ শুরু করেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার পাতায় সারদিন্দু শেখর চাকমার Ethnic Cleansing in Chittagong Hill Tracts (2006, পৃ. 38) উদ্ধৃত করে লেখা: আরাকানিদের হাতে রাজ্য দখল হওয়ার পর চৌদ্দ শতকে চাকরা পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করেন; একই পাতা চীনা ইতিহাসবিষয়ক একটি প্রবন্ধের বরাতে বলে, তেরো শতকের মাঝামাঝি সাকরা কাদুদের থেকে আলাদা হয়ে যান।
আর্কাইভ আরও দুটি ঘটনা লিখে রেখেছে: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে খাদ্যসংকটে বহু চাক শিশু মারা যায় এবং অনেকে আরাকানে চলে যান; আর 1971 সালের মে মাসে পালপাড়ার প্রায় 200টি হিন্দু পরিবার (কিছু মুসলিম পরিবারসহ) বাইশারীর চাক পাড়ায় আশ্রয় নিলে চাক জুমচাষিরা তাঁদের রাতের অন্ধকারে আরাকান সীমান্ত পার করে দেন। চাকদের নিজেদের মুখে অভিবাসনের কাহিনি আছে রূপকথার আকারেও — খেয়াং, চাক, খুমী, বম ও হালাম রূপকথা লেখায় চাক সংগ্রহের তিনটি গল্পের একটি এই অভিবাসনের গল্প, যেখানে জনসংখ্যা কম হওয়ার একটি ব্যাখ্যাও আছে।
চাক সমাজ দুটি প্রধান গোত্রে বিভক্ত — আন্দো ও ঙারেক — এবং প্রতিটির কয়েকটি উপগোত্র আছে। একই গোত্রে বিয়ে নিষিদ্ধ: আন্দো ছেলে ঙারেক মেয়েকে বিয়ে করবেন, আর উল্টোটা। সমাজ পিতৃসূত্রীয়; জমির উত্তরাধিকার পান কেবল ছেলেরা। এই তিন তথ্যে আর্কাইভ, বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো একমত।
আর্কাইভের লেখা উপগোত্রগুলোর নামও দেয়: আন্দোর অধীনে আর আন্দো, অনাং আন্দো, পেমুং ও তাবাংদেং; ঙারেকের অধীনে উপ্রা, উতলু, উচ্ছি, কেংকাজিক ও কেংকাবেং। বাংলাপিডিয়া যোগ করে, প্রতিটি গোত্রের একটি প্রতীক আছে — পাকানো সুতার রশি, যার নাম জালোয়া বা পইত্যা। মৃত্যুর পর সৎকারের দায়িত্ব বর্তায় মায়ের বংশের ওপর, অর্থাৎ মামার ওপর; চাক ভাষায় মামা-ভাগ্নের এই সম্পর্কের নাম “লিকশিক পাগিং” (আর্কাইভ)।
বিয়ের পূর্ণ রীতি — তিনবার কনের বাড়ি যাওয়া, মোরগ-মুরগির জিভের লক্ষণ দেখা, 100 থেকে 500টি সেদ্ধ ডিম, “মংনাঙ পো” অনুষ্ঠান — আলাদা লেখায় আছে: চাক জনগোষ্ঠীর বিবাহ (মংনাঙ)। নারীর সম্পত্তি, ভরণপোষণ ও বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার নিয়ে আছে প্রথাগত আইনে আদিবাসী চাক নারীর অবস্থান। সংক্ষেপে: মেয়েরা সাধারণত বাবার জমির ভাগ পান না, তবে প্রথম সন্তানের পর বাবার বাড়ি গিয়ে গরু, মহিষ, অলংকার বা নগদ টাকা হিসেবে নিজের অংশ চাইতে পারেন; মায়ের নামে জমি থাকলে মেয়েরা তা পান (আর্কাইভ)।
প্রশাসনিকভাবে চাকরা বোমাং সার্কেলের প্রজা। পাড়ার বিরোধ প্রথমে কার্বারি বা রোয়াজা মেটান, তারপর মৌজার হেডম্যান, শেষে বোমাং রাজা। আর্কাইভের হিসাবে চাক বসতির পাঁচটি মৌজার দুটির হেডম্যান চাক, তিনটির মারমা; প্রথম চাক হেডম্যান হন শৈথোয়াইপ্রু চাক, 1942 সালে। হেডম্যান নিয়োগের আইনি নিয়ম আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।
চাকরা প্রধানত থেরবাদ বৌদ্ধ; আর্কাইভের ভাষায় “হীনযান”। বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করেই পাড়ার সামাজিক জীবন চলে, আর প্রায় প্রতিটি পাড়ায় অন্তত একটি ছোট বিহার রাখার চেষ্টা থাকে। বাংলাপিডিয়া জানায়, বৌদ্ধ হলেও চাকরা লক্ষ্মী বা “ওয়াইগ্যা”-র মতো দেবদেবীরও পূজা করেন। কিছু চাক খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে আর্কাইভ ও বাংলা উইকিপিডিয়া উল্লেখ করে।
আর্কাইভের লেখা এই ধর্মান্তরের কারণ হিসেবে দারিদ্র্যের কথা লেখে এবং জানায়, সমাজের গণ্যমান্যরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ এত ছোট জনগোষ্ঠীতে বিভক্তি “অস্তিত্বের বিলুপ্তি” ডেকে আনতে পারে। বৌদ্ধ রীতির পাশাপাশি দুটি দেবপূজার নাম আর্কাইভে আছে: বছরের প্রথম ও শেষ বর্ষায় সমাজবদ্ধভাবে নদী বা ছড়া-রক্ষকের পূজা “ঠিং কানাইত্”, আর শিশু অসুস্থ হলে বা অকারণে কাঁদলে গৃহলক্ষ্মী “কিংরাছু”-র পূজা।
উৎসবের নাম দুটি উৎসে দুই রকম তালিকায় পাওয়া যায়; বানান হুবহু রাখা হলো:
| উৎসব | কখন / কী | উৎস |
|---|---|---|
| ওয়াছো (ওয়াছো লাব্রে) | আষাঢ়ী পূর্ণিমা; ঘরের বাইরে কাজ ও প্রাণীহত্যা বন্ধ | আর্কাইভ |
| ওয়াগ্যোই | প্রবারণা (আশ্বিনী) পূর্ণিমা; দুই দিন, রাতে ফানুস “ঙাংগাছামিক” | আর্কাইভ |
| কাথিং পোয়ে | কঠিন চীবর দান, প্রবারণার পর এক মাস; কল্পতরু “প্যাডেছা” | আর্কাইভ; ঢাকা টাইমস |
| সাংগ্রাইং | নববর্ষ, বর্মী পঞ্জিকা ধরে; তিন দিনের নাম পাইংছোয়েত, আক্যাই, আপ্যাইং | আর্কাইভ; ঢাকা টাইমস (“সাংগ্রাই”) |
| আংনাইবুক পো / পোয়ে | নবান্ন; জুমচাষিরা সাধারণত ভাদ্র মাসে | আর্কাইভ; ঢাকা টাইমস |
| তেংছংমং লাব্রে / লাব্রে | অগ্রহায়ণ পূর্ণিমা | আর্কাইভ; ঢাকা টাইমস |
| তেংছংবুক লাব্রে | কার্তিক পূর্ণিমা | ঢাকা টাইমস |
| কাছুং লাব্রে | বুদ্ধ পূর্ণিমা | আর্কাইভ |
| থিংকানাই / ঠিং কানাইত্ | নদী বা ছড়া-রক্ষকের পূজা, বছরে দুবার | আর্কাইভ; ঢাকা টাইমস |
| কাতাং য়িশু পোঃ | বিবরণ দেওয়া নেই | ঢাকা টাইমস; বাংলা উইকিপিডিয়া |
সাংগ্রাইংয়ের প্রথম দিন পাইংছোয়েত, অর্থাৎ ফুল তোলার দিন; চাক তরুণ-তরুণীরা দূরের জঙ্গলে গিয়ে হলেও নাগেশ্বর ফুল (“কাইনকো পাইন”) সংগ্রহ করেন। আর্কাইভ লিখেছে, আগে সাংগ্রাইংয়ের নাচ-গান-নাটক বেশির ভাগ বর্মী ও রাখাইন ভাষায় হতো, এখন চাকরা নিজের ভাষায় মঞ্চস্থ করেন। চাকদের রঙধনু গল্প আর “য়োছা” কাহিনির মতো লোকসাহিত্য আছে আমাদের আর্কাইভে: চাক রূপকথা: শরিমনবিক মননাং ও চাক রূপকথা: চাকদের “য়োছা” কাহিনী।
চাকদের প্রধান জীবিকা ছিল জুমচাষ, সঙ্গে হালচাষ। 2014 সালে প্রথম আলোকে একজন চাক হেডম্যান বলেন, আগে প্রায় 90 শতাংশ চাক পরিবার জুমের ওপর নির্ভর করত, এখন সেই হার 10 শতাংশ; জমি হারিয়ে অনেকে দিনমজুর বা বেকার। আর্কাইভের লেখা চাকদের প্রায় 85 শতাংশ পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বলে উল্লেখ করে।
জুম কমার কারণ হিসেবে আর্কাইভ সরাসরি জমির সংকোচনকে দেখায়: আগে একবার চাষের পর জুমভূমিকে 7 থেকে 10 বছর বিশ্রাম দেওয়া হতো, এখন 2–3 বছর পরপর একই জমিতে চাষ করতে হয়, ফলে ফলন কমে। আর্কাইভের হিসাবে 15টি বসতির 6টিতে প্রধানত লাঙল চাষ, বাকিগুলোতে জুম; লাঙলচাষিদের বেশির ভাগের নিজের নামে জমি নেই, তাঁরা বর্গাচাষি। 2011 সালে ফিলিপ গাইন লেখেন, বাইশারী ইউনিয়নের আটটি চাক গ্রাম তখনো জুমনির্ভর — চাকদের প্রায় 20 শতাংশ — আর জুমে বছরে মোটামুটি ছয় মাসের খাবার হয়।
জুমের জায়গায় এসেছে নগদ ফসল। গাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাদুরঝিরিতে তামাক আসে 2009 সালে; 2010 সালে সেখানে 12টি পরিবার তামাক চাষ করে, আর কোম্পানিটি ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। পাড়ার কার্বারি তাঁকে বলেন, নগদ টাকার জন্যই তামাকে যাওয়া। তামাক ও বাণিজ্যিক বাগান পাহাড়ের বনে কী প্রভাব ফেলে, তার গবেষণা-ভিত্তিক বিবরণ আছে পাহাড়ের বন কমেছে কীসে লেখায়। প্রথম আলো (2014) জানায়, জুম হারানো চাক নারীরা পরিত্যক্ত জমি ও বাড়ির আঙিনায় সবজি-ফল চাষ করে সামান্য আয় করেন।

চাকদের ভূমি সমস্যার মূল কথা: পাকিস্তান আমল থেকে অন্তত 2018 পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ির একাধিক চাক পাড়া রাবার বাগান, বহিরাগত বসতি, সরকারি প্রকল্প বা সশস্ত্র হুমকিতে খালি হয়েছে। চাক নেতা চিংহ্লা মং চাক 2021 সালে আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাকিস্তান আমলে দুটি ও পার্বত্য চুক্তির পর তিনটি গ্রাম উচ্ছেদ হয়েছে, আরও তিন-চারটি আশঙ্কায়।
প্রথাগত নিয়মে চাক জমির মালিকানা চলে ভোগদখলে: কেউ একবার কোনো জমি চাষ করলে তাঁর অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ সেখানে চাষ করেন না, আর বিস্তৃত জুমভূমি সমষ্টিগত সম্পদ (আর্কাইভ)। এই জমির বেশির ভাগই সরকারি খাতায় কারও নামে নিবন্ধিত নয় — ফলে ইজারা বা অধিগ্রহণের সময় চাকদের হাতে কাগজ থাকে না। প্রথাগত ভূমি অধিকার ও তার আইনি স্বীকৃতির প্রশ্ন বিস্তারিত আছে ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।
নিচের ছকে প্রতিটি ঘটনা যে উৎসে যেভাবে আছে সেভাবেই দেওয়া হলো। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন — এমন তথ্য কোনো উৎসে নেই, তাই তাঁদের নাম নয়, পদ বা ভূমিকা লেখা হয়েছে।
| সময় | পাড়া | কী ঘটেছিল (উৎস যা বলে) | উৎস |
|---|---|---|---|
| পাকিস্তান আমল | চাকঢালার তুনখ্যং ও চাংম্রো | চাক পরিবারগুলো উচ্ছেদ | আর্কাইভ |
| 1970-এর দশক | বাকখালীর চাক পাড়া | প্রায় 50 পরিবার রাবার বাগান প্রকল্পের নামে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ; বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা দেয় বলে অভিযোগ | আর্কাইভ |
| 1980-এর দশক | আওয়াফ্রেং পাড়া | প্রায় শ-খানেক পরিবারের পাড়া; মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা পরিবার ও কক্সবাজার থেকে আসা বাঙালিরা জমি দখল করে বলে আর্কাইভের অভিযোগ; এখন সেখানে চাক পরিবার নেই | আর্কাইভ |
| 2002–03, অথবা 2008 | লংগদু / Longodujhiri (Khal) চাক পাড়া | গাইন (2011): 2002–03 সালে প্রায় 20 পরিবার “R-holding” (শরণার্থী বরাদ্দ) পাওয়া বসতিস্থাপনকারীদের কাছে গ্রাম হারায়, 10 পরিবার মিয়ানমারে চলে যায় বলে শোনা যায়। আর্কাইভ: 2008 সালে 11 পরিবার, জুমে প্রতিবেশী বাঙালিদের বাধার কারণে | ডেইলি স্টার (গাইন); আর্কাইভ |
| মার্চ–এপ্রিল 2013 | বাদুরঝিরি (আলিখ্যং মৌজা) | গাইন: 19 মার্চ রাতে সশস্ত্র হামলায় মারধর, ছুরিকাঘাত, লুট; এপ্রিলে প্রায় সব পরিবার পাড়া ছাড়ে, 15 পরিবার বাইশারীর চারটি চাক গ্রামে আশ্রয় নেয়। ALRD: 15 মার্চ 21 পরিবার (প্রায় 100 জন) রাবার বাগানের নামে উচ্ছেদ, 582 একর জমি হারায় | ডেইলি স্টার (গাইন, 2018); ALRD |
| ফেব্রুয়ারি 2017 | শুই জাইং চাক পাড়া | 8–10 জনের সশস্ত্র দল মারধর ও লুট করে পাড়া ছাড়তে বলে; 15 পরিবারের অন্তত 81 জন মধ্যম চাক পাড়ায় আশ্রয় নেন; মৌজাপ্রধানের দাবি, পর্যটনের নামে প্রায় 1,000 একর জুমভূমি দখল | ডেইলি স্টার বাংলা ও সম্পাদকীয়, জানুয়ারি 2020 |
| 16 ফেব্রুয়ারি 2018 | Kanai Thong Chak Para | অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পরিবারপ্রতি 1 লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি, লুট ও মারধর করে; 7 পরিবার ঘর ছাড়ে, 4টি আশ্রয় নেয় 5 কিলোমিটার দূরের চাক হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে | ডেইলি স্টার, 20 ফেব্রুয়ারি 2018 |
বাদুরঝিরির ঘটনা সবচেয়ে ভালোভাবে নথিভুক্ত, কারণ গবেষক ফিলিপ গাইন উচ্ছেদের আগে ও পরে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর 2011 সালের বিবরণে বাদুরঝিরি প্রায় 30 বছরের পুরনো বনগ্রাম, বাইশারীর চাক হেডম্যানপাড়া থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটাপথ; সেখানে 15টি পরিবার (একই লেখায় এক জায়গায় 16) জুম করত, শূকর-মুরগি পালত, আর গ্রামে কোনো স্কুল ছিল না — 2010 সালে পাঁচটি শিশু বাইশারীতে থেকে পড়ত।
2008 সালে গাইন পাশের আমরাঝিরিতে নতুন রাবার বাগানের জন্য বন কাটা দেখেন; 2010-এর ডিসেম্বরে রাবারচাষিরা বাদুরঝিরির দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। তখন গ্রামের এক বাসিন্দা তাঁকে বলেছিলেন, রাবার গ্রামের কাছে এলে তাঁরা নিশ্চিত উচ্ছেদ হবেন (The Daily Star, “In Agony”, 7 জুন 2018)। 2013 সালের মার্চে সেই আশঙ্কা সত্য হয়। ALRD-এর তথ্যানুসন্ধানী দল 14–16 জুন 2013 এলাকা ঘুরে আসে; সংগঠনটি লেখে, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ভূমিদখলকারীরা প্রায় চার বছর ধরে অবৈধ ইজারার সূত্রে জমি দখল করছিল, আর তাদের ভাড়াটে সশস্ত্র লোকজন রাতে চাক বাড়িতে হানা দিয়ে গবাদিপশুসহ লুট করত (ALRD)।
ALRD-এর দল সুপারিশ করেছিল প্রতিটি উচ্ছেদ পরিবারকে অন্তত পাঁচ একর জমি দেওয়া, অবৈধ ইজারা বাতিল করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন 2001 সংশোধন করা। পরিবারের সংখ্যা (15 না 21) ও তারিখে (15 না 19 মার্চ) গাইন ও ALRD-এর বিবরণ মেলে না।
2020 সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, 2017 সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইক্ষ্যংছড়ির শুই জাইং চাক পাড়ার 15টি পরিবার হুমকির মুখে বাড়ি ও জুমের জমি ছেড়ে তিন বছর ধরে মধ্যম চাক পাড়ায় আছে (ডেইলি স্টার বাংলা, 22 জানুয়ারি 2020)। জমি দখলের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি, জারুলিয়াছড়ি ও সোনাইছড়ি মৌজার নাম এসেছে। ভুক্তভোগীরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতাকে দায়ী করেন — একজন তখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, অন্যজন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। উপজেলা পর্যায়ের নেতা উচ্ছেদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা সরকারি খাস জমিতে পর্যটন উন্নয়নের কাজ করছেন; অন্যজন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একই প্রতিবেদনে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, নাইক্ষ্যংছড়িতে পর্যটনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কোনো চিঠি তাঁর দপ্তর পায়নি, আর কেউ অভিযোগ না করায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ভুক্তভোগীরা বলেন, ভয়ে তাঁরা থানায় যাননি। 2019 সালের অক্টোবরে এলাকা ঘুরে যাওয়া একজন প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, পর্যটনের কারণে কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা হবে না। ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় এর জবাবে লেখে: “We do not want tourism on stolen lands.” (সম্পাদকীয়, 24 জানুয়ারি 2020)। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের জমি ও সম্মতির বৃহত্তর প্রশ্ন আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন: কার জমি, কার আয়, কার সম্মতি লেখায়।
2018 সালের ঘটনার প্রতিবেদন আরও কয়েকটি তথ্য দেয় যা পুরো এলাকার ছবি স্পষ্ট করে (The Daily Star, 20 ফেব্রুয়ারি 2018): পাশের তিনটি পাড়ার 109টি চাক পরিবার তখন প্রায় 200 একরের জুমখেতে যেতে ভয় পাচ্ছিল; পার্বত্য চুক্তির পর বাদুরঝিরি ও লংগদু থেকে অন্তত 35টি পরিবার চলে গেছে; আরও চারটি গ্রাম উচ্ছেদের আশঙ্কায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন পর্যন্ত তিনি কোনো অভিযোগ পাননি; থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান শাখার 2014 সালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে একই লেখা জানায়, চুক্তির পর বান্দরবানের ছয়টি মৌজায় 156টি আদিবাসী পরিবার পৈতৃক জমি ছেড়েছে।
পড়া উৎসগুলোর মধ্যে চাক পাড়া থেকে উচ্ছেদের সর্বশেষ নির্দিষ্ট প্রতিবেদন 2018 সালের। 2018-এর পর কোনো নতুন উচ্ছেদ হয়নি — এমনটা এর মানে নয়; শুধু এটুকু বলা যায় যে পরের কোনো ঘটনা এই উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি। কাছাকাছি লামায় ম্রো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একটি রাবার কোম্পানির বিরোধ কীভাবে মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত গিয়েছিল, তা আছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ম্রো ভূমি বিরোধ লেখায়।
নাইক্ষ্যংছড়িসহ বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় 1980 ও 1990-এর দশকে বাণিজ্যিক রাবার ও উদ্যান-বাগানের জন্য বিপুল পাহাড়ি জমি ইজারা দেওয়া হয়, বেশির ভাগ বান্দরবানের বাইরের লোকদের। মোট আয়তন নিয়ে দুই হিসাব আছে: ফিলিপ গাইন (2011) প্রায় 50,000 একর ও প্রায় 1,800 জন ইজারাদার লেখেন; SEHD-এর নাগরিক ঘোষণা (2011) প্রায় 45,000 একর লেখে।
| বিষয় | গাইন, ডেইলি স্টার (28 জানুয়ারি 2011) | SEHD নাগরিক ঘোষণা (23 জুন 2011) |
|---|---|---|
| ইজারা দেওয়া জমি | প্রায় 50,000 একর, প্রায় 1,800 জনকে; সাধারণত 25 একরের প্লট, কিছু 100 একর পর্যন্ত | প্রায় 45,000 একর, বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে |
| বাতিল ইজারা | 500টি (এক স্থানীয় সাংবাদিকের হিসাবে 593টি), প্লট ফেলে রাখার কারণে | প্রায় 569টি প্লট, চুক্তি ভঙ্গের কারণে |
| ফিরে পাওয়া | দুই মাসের মধ্যে 77টি প্লট ইজারাদাররা ফেরত পান | জেলা প্রশাসনের স্বীকারোক্তি: 35টি প্লট পুনর্বহাল; প্রায় 100টি রিট |
| পুনর্বাসন প্রকল্প | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় 2,000 একর, 500 পরিবারকে | উপরের দিকের পুনর্বাসন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়াদের আইনি অধিকার স্বীকারের দাবি |
SEHD-এর ঘোষণা পার্বত্য চুক্তির “ঘ” খণ্ডের 8 নম্বর ধারার কথা মনে করিয়ে দেয়: যেসব অ-উপজাতীয় ও অ-স্থানীয় ব্যক্তিকে রাবার বা অন্য বাগানের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা দশ বছরের মধ্যে প্রকল্প না করলে বা জমি ঠিকমতো ব্যবহার না করলে বরাদ্দ বাতিল হবে। ঘোষণার 11টি সুপারিশের মধ্যে আছে: লংগদুঝিরি থেকে উচ্ছেদ চাকদের নিরাপদ পুনর্বাসন, বাইশারী ও আলেখ্যং মৌজায় রাবারের জন্য অবৈধ বন উজাড় বন্ধ, ইজারাদার ও বাতিল-ইজারাদারদের নাম প্রকাশ, হেডম্যানের সম্মতি ছাড়া দেওয়া ইজারা বাতিল, আর তামাকের সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ (SEHD, 2011)।
গাইনের প্রতিবেদনে বাইশারীর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মংমং চাকের একটি দ্বিধাও ধরা আছে — তিনি নিজেকে “রাবারের পক্ষে ও বিপক্ষে” দুই-ই বলেন, এবং যুক্তি দেন যে 1997 সালের চুক্তির পর দেওয়া ইজারাগুলো অবৈধ। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গাইনকে জানায়, কোনো ইজারা দেওয়া বা বাতিলের অনুমোদন পরিষদ দেয়নি (Ambushed by Greed, 2011)।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন 1989-এর 2(খ) দফায় “উপজাতীয়” সংজ্ঞায় যে বারোটি জাতির নাম, তার একটি চাক; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998-এর 2(গ) দফাতেও চাক আছে। বান্দরবান জেলা পরিষদে চাকদের জন্য একটি আসন আছে, কিন্তু আঞ্চলিক পরিষদে চাকরা লুসাই, বম, পাংখোয়া, খুমি ও খিয়াংদের সঙ্গে মিলে একটিমাত্র আসন ভাগ করেন।
রাঙামাটির জেলা পরিষদ আইনের তালিকায় চাকদের নাম নেই — বম, ম্রো ও খুমির মতোই। তিন জেলার আইনে তালিকা কেন আলাদা, তা ধারা ধরে দেখানো আছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইন: উপজাতীয় সংজ্ঞা লেখায়; আঞ্চলিক পরিষদের আসন-বণ্টনের ধারা আছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী: কয়টি, কারা, কোথায় লেখায়।
আর্কাইভের লেখা জানায়, 1989 সালের বান্দরবান স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে চাক আসনে একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন; তারপর আর নির্বাচন না হওয়ায় অন্তর্বর্তী পরিষদে দীর্ঘদিন চাক প্রতিনিধি ছিলেন না। পরে 2014 সালের সংশোধনীতে গঠিত 15 সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদের বণ্টনে চাকদের জন্য একটি আসন দেখা যায় — পরিষদের নিজস্ব “এক নজরে” পাতার বরাতে এটি আছে ১৯৮৯ সালের পর পার্বত্য জেলা পরিষদে আর ভোট হয়নি লেখায়। 2021 সালে আজকের পত্রিকা জানায়, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ক্যনে ওয়ান চাক তখন জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি; ইউনিয়ন পরিষদে চাক ওয়ার্ড সদস্য চারজন, চেয়ারম্যান নেই।
আঞ্চলিক পরিষদের ভাগ-করা আসন নিয়ে চাকদের অসন্তোষও আর্কাইভে লেখা: ছয় জনগোষ্ঠীর একটি আসনে তখন একজন বম প্রতিনিধি ছিলেন, আর “প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর একটি করে সদস্যপদ” দেওয়া উচিত ছিল বলে এসব জনগোষ্ঠীর অনেকে মনে করেন।
চাকদের আধুনিক শিক্ষার শুরু বাইশারী চাক পাড়ার ফারীখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাইশারী বৌদ্ধ বিহার থেকে। আর্কাইভ অনুযায়ী 1950 সালে প্রথম চাক শিক্ষক নিয়োগ পান, 1966 সালে প্রথম তিনজন চাক এসএসসি পাস করেন, আর 1986 সালে প্রথম চাক মেয়ে এসএসসি পাস করেন। বাংলাপিডিয়া চাকদের শিক্ষাবিস্তারের সূচনা 1959 সাল ধরে।
1959 সাল থেকে 31 বছর বাইশারী জয় মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন উ গেঙা ওয়েসা; আর্কাইভ তাঁকে চাকদের শিক্ষা, বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার পরিবর্তনের কৃতিত্ব দেয়। আগে বিহারে ভিক্ষুরা বর্মী হরফে পড়াতেন; 1952 সালে বাইশারী বিহারে পাঁচ-ছয়জন চাক মেয়ে বর্মী অক্ষরজ্ঞান পান — চাক নারীদের মধ্যে প্রথম। বাংলায় পড়তে হলে আগে 10 থেকে 20 মাইল দূরের রামু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হতো।
আজকের অবস্থা নিয়ে দুটি হিসাব পাওয়া যায়, দুটিই চাকদের নিজেদের দেওয়া। আর্কাইভের লেখার ছকে: স্নাতকোত্তর পাস 7, স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত 4, এমবিবিএস 5, স্নাতক 15, ডিপ্লোমা 4। আজকের পত্রিকা (2021): স্নাতকোত্তর 10-এর বেশি, স্নাতক 50-এর বেশি, এমবিবিএস চিকিৎসক 6 জন (একজন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে), সরকারি চাকরিজীবী 100-এর বেশি বলে চাকদের দাবি। দুটি লেখাই বলে, দারিদ্র্য ও দূরত্বের কারণে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া বেশি, আর মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ না থাকাও একটি কারণ।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চাকদের স্বজাতি “থেত” (Thet) নামে পরিচিত। 2022 সালে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম DMG-এর প্রতিবেদন (BNI-তে পুনঃপ্রকাশিত) অনুযায়ী থেত নেতা ও সাবেক আইনপ্রণেতা উ হ্লা তুন কিয়োর হিসাবে রাখাইনে তাঁরা 3,000–4,000 জন, সারা মিয়ানমারে প্রায় 6,000; সবচেয়ে বেশি মংডু টাউনশিপে, 1,200-এর বেশি।
একই প্রতিবেদন জানায়, থেতরা ঐতিহ্যগতভাবে বৌদ্ধ, তাঁদের নিজস্ব ভাষা ও সাহিত্য আছে, আর রাখাইনের সাতটি “উপজাতির” মধ্যে তাঁরা সবচেয়ে ছোট। 2012 ও 2017 সালের সহিংসতার পর অনেক থেত মংডু ছেড়ে ইয়াঙ্গুন, আন, পোন্নাগিউনসহ অন্য জায়গায় চলে গেছেন; তরুণেরা কাজের খোঁজে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও চীনেও গেছেন। উ হ্লা তুন কিয়োর উদ্ধৃতি: “We are faced with many challenges and are almost extinct.” (BNI, 27 জুন 2022)।
মিয়ানমারে থেতদের সংখ্যা নিয়ে উৎসগুলো অনেক দূরে: এথনোলগ প্রায় 1,000 ভাষী (হুজিওয়ারার উদ্ধৃতিতে), BNI প্রায় 6,000, Endangered Alphabets প্রকল্প রাখাইনে প্রায় 10,000। আর্কাইভের লেখা মণিপুর, অরুণাচল, আরাকান, বার্মা ও লাওসে চাক, কদু-কানাং, মালিন, আন্দ্রো, চেক নামে পরিচিত সব আত্মীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে চাক-ভাষাভাষী আনুমানিক 60 হাজার লেখে — এই সংখ্যা কেবল থেতদের নয়, ঐ সব নামের জনগোষ্ঠী মিলিয়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর 2022 সালের জনশুমারিতে চাক জনগোষ্ঠীর মোট সদস্য 3,077 জন — পুরুষ 1,555, নারী 1,522 (জাতীয় প্রতিবেদন, Table P29)। এর মধ্যে বান্দরবান জেলায় 2,662 জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় 2,329 জন। 1991 সালের শুমারিতে সংখ্যাটি ছিল প্রায় 2,000, 372টি পরিবার (বাংলাপিডিয়া)। চাকরা নিজেরা 2021 সালে নিজেদের সংখ্যা 4 থেকে 5 হাজার অনুমান করেছিলেন।
না। চাক ও চাকমা আলাদা জনগোষ্ঠী। চাকমাদের ভাষা ইন্দো-আর্য শাখার, চাকদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী পরিবারের লুইশ বা সাক দলের, যার নিকটাত্মীয় মিয়ানমারের কাদু ভাষা। 2022 সালের শুমারিতেও দুটি আলাদা সারিতে গোনা হয়েছে: চাক 3,077 জন, চাকমা 4,83,365 জন। চাকদের বসতি প্রায় পুরোটাই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে, চাকমাদের মূলত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে।
চাকরা মূলত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়, মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তের কাছে বাস করেন — বিশেষ করে বাইশারী, দোছড়ি ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে। 2022 শুমারিতে এই উপজেলায় 2,329 জন চাক, বান্দরবান সদরে 225, লামায় 83 ও আলীকদমে 17 জন। পরিচিত গ্রামের মধ্যে আছে বাইশারী, কামিছড়া, ক্রোক্ষ্যং, বাকখালী ও মধ্যম চাকপাড়া।
পড়া কোনো উৎসে আলীকদম উপজেলায় চাক পাড়ার নাম পাওয়া যায়নি। 2022 সালের শুমারিতে আলীকদমে মাত্র 17 জন চাক গোনা হয়েছে, পুরুষ 10, নারী 7। চাকদের উৎখাত হওয়া বাদুরঝিরি পাড়া ছিল নাইক্ষ্যংছড়ির আলিখ্যং বা আলেখ্যং মৌজায়, যার নাম আলীকদমের কাছাকাছি শোনায়। রাবার ইজারার এলাকা হিসেবে অবশ্য আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির নাম একসঙ্গে আসে।
চাক ভাষা চীন-তিব্বতি পরিবারের তিব্বতি-বর্মী শাখার; বাংলাপিডিয়া একে “সাক বা লাই” দলের বলে, আর আধুনিক শ্রেণিবিভাগে এটি লুইশ দলের, যেখানে মিয়ানমারের কাদু ও গানান ভাষাও আছে। ISO 639-3 কোড ckh। এথনোলগের হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় 3,000 ও মিয়ানমারের রাখাইনে প্রায় 1,000 মাতৃভাষী। ভাষাবিজ্ঞানী কেইসুকে হুজিওয়ারার মতে বাইশারীর উপভাষা সবচেয়ে রক্ষণশীল।
হ্যাঁ, এখন আছে। চাক বর্ণমালা তৈরি করেন মংমং চাক, যিনি 1970-এর দশকের শুরু থেকে 2011 পর্যন্ত প্রায় 40 বছর এ নিয়ে কাজ করেন। লিপিটির পদ্ধতি Ong Khyaing Cak (2013) বইয়ে ব্যাখ্যা করা হয়, আর 2015 সালে বান্দরবানের চাক ল্যাঙ্গুয়েজ কাউন্সিল এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এতে 33টি ব্যঞ্জন ও 11টি স্বরবর্ণ। আগে চাক ভাষা বর্মী বা বাংলা হরফে লেখা হতো।
চাকরা প্রধানত থেরবাদ বৌদ্ধ এবং জন্মান্তরে বিশ্বাস করেন; প্রতিটি পাড়ায় অন্তত একটি বৌদ্ধ বিহার রাখার চেষ্টা থাকে। বাংলাপিডিয়া জানায়, তাঁরা লক্ষ্মী বা “ওয়াইগ্যা”-র মতো দেবদেবীরও পূজা করেন। আর্কাইভের লেখায় ছড়া-রক্ষকের পূজা “ঠিং কানাইত্” ও গৃহলক্ষ্মী “কিংরাছু”-র পূজার কথা আছে। কিছু চাক খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, যার কারণ হিসেবে আর্কাইভ দারিদ্র্যের কথা বলে।
চাকদের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইং বা নববর্ষ, যা বর্মী পঞ্জিকা ধরে তিন দিন পালিত হয় — পাইংছোয়েত, আক্যাই ও আপ্যাইং। ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে আছে ওয়াছো (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগ্যোই (প্রবারণা পূর্ণিমা), কাথিং পোয়ে (কঠিন চীবর দান) ও বিভিন্ন লাব্রে বা পূর্ণিমা উৎসব। নতুন ফসল ওঠার পর পালিত হয় নবান্ন উৎসব আংনাইবুক পো, জুমচাষিদের মধ্যে সাধারণত ভাদ্র মাসে।
চাক সমাজে প্রধান গোত্র দুটি: আন্দো ও ঙারেক। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী আন্দোর উপগোত্র আর আন্দো, অনাং আন্দো, পেমুং ও তাবাংদেং; ঙারেকের উপগোত্র উপ্রা, উতলু, উচ্ছি, কেংকাজিক ও কেংকাবেং। একই গোত্রের ভেতরে বিয়ে নিষিদ্ধ, তাই আন্দো ছেলে ঙারেক মেয়েকে বিয়ে করেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী প্রতিটি গোত্রের প্রতীক পাকানো সুতার রশি জালোয়া বা পইত্যা।
চাকদের অনেক পাড়া রাবার বাগান, বহিরাগত বসতি ও সশস্ত্র হুমকিতে খালি হয়েছে। আর্কাইভ অনুযায়ী 1970-এর দশকে বাকখালীর প্রায় 50 পরিবার রাবার প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ হয়। 2013 সালে বাদুরঝিরি থেকে 15 (ডেইলি স্টার) বা 21 (ALRD) পরিবার উৎখাত হয়, 2017 সালে শুই জাইং চাক পাড়া থেকে 15 পরিবার, আর 2018 সালে Kanai Thong Chak Para থেকে 7 পরিবার। প্রথাগত জমির কাগজ না থাকা সমস্যাটিকে গভীর করেছে।
শুধু নাইক্ষ্যংছড়ির আলাদা হিসাব পাওয়া যায়নি; বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলা মিলিয়ে দুটি হিসাব আছে। ফিলিপ গাইন (দ্য ডেইলি স্টার, 2011) লেখেন, প্রায় 50,000 একর জমি প্রায় 1,800 জনকে বাণিজ্যিক রাবার ও উদ্যানের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। SEHD-এর 2011 সালের ঘোষণা অনুযায়ী 1980 ও 1990-এর দশকে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় 45,000 একর ইজারা দেওয়া হয়।
আলাদা আসন নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998 অনুযায়ী লুসাই, বম, পাংখোয়া, খুমি, চাক ও খিয়াং — এই ছয় জনগোষ্ঠী মিলে একজন সদস্য নির্বাচিত হন। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে অবশ্য চাকদের জন্য একটি আসন আছে; 1989 সালের নির্বাচনে সেখানে একজন চাক নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী অনেকেই প্রতিটি ছোট জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা আসন চান।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, চাক, বান্দরবান, ভূমি অধিকার, ভূমি বিরোধ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।