Last updated Oct 19th, 2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন কত বড়, তার কোনো সামগ্রিক সরকারি হিসাব পাওয়া যায় না; যা আছে তা টুকরো সংখ্যা: রাঙামাটিতে প্রায় 30,000 মানুষ এ খাতে নির্ভরশীল, বান্দরবানে 150-র বেশি হোটেল-রিসোর্ট, সাজেকে নিবন্ধিত রিসোর্ট চার বছরে 6 থেকে 83। আয়ের বড় অংশ কার হাতে যায়, সে প্রশ্নে সংখ্যা নেই, আছে গবেষণা ও পাহাড়ের মানুষের সাক্ষ্য। আর জমি ও সম্মতির প্রশ্নে সবচেয়ে ভারী নথি চিম্বুকের হোটেল নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের 2021 সালের বিবৃতি।
“সাজেকের স্থানীয়দের কেবলমাত্র সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে গ্রুম করে আসা হচ্ছে। পর্যটকদের কিছু বিনোদন দিলে কিছু অর্থ বা সুবিধা প্রাপ্তি হয়।” বাক্য দুটি 2020 সালে জুমজার্নালে প্রকাশিত একজন পাহাড়ি লেখকের, চিন্তাভাবনাঃ সাজেকের ট্যুরিজম লেখা থেকে। লেখক নিজেই বলেছেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। এই পাতার প্রশ্ন সেখান থেকেই শুরু: পর্যবেক্ষণটির পক্ষে-বিপক্ষে নথিতে কী আছে?
এখানে নথিভুক্ত তথ্য আর অভিযোগ আলাদা রাখা হয়েছে, প্রতিটি দাবির পাশে কে বলছেন তা লেখা আছে, আর যেখানে অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেছে সেটিও পাশে বসানো হয়েছে। কোন জায়গা কোথায়, কী দেখার আছে, সে তালিকা এ পাতায় নেই; তার জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ: কোন জায়গা কার, কী দেখবেন, কী জেনে যাবেন। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপট: পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।
সূচিপত্র
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন অর্থনীতি নিয়ে যত সংখ্যা ছাপা হয়েছে, তার প্রায় সবই কোনো সমিতি, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিবাদকারী পক্ষের দেওয়া; জরিপের সংখ্যা নেই। নিচের ছকে সংখ্যাগুলো, সঙ্গে কে বলেছেন। তিন জেলার মোট পর্যটক, মোট আয় বা কর্মসংস্থানের কোনো হিসাব কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
| বিষয় | সংখ্যা | কে বলছেন |
|---|---|---|
| রাঙামাটিতে পর্যটন-নির্ভর মানুষ | প্রায় 30,000 | রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ঢাকা ট্রিবিউন, অক্টোবর 2024) |
| সাজেকে সপ্তাহান্তের পর্যটক | প্রতি শুক্র-শনিবার 2,000 থেকে 2,500 | সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ঢাকা ট্রিবিউন) |
| সাজেকে নিবন্ধিত রিসোর্ট | 2016 সালে 6, 2020 সালে 83 | ইংরেজি উইকিপিডিয়া |
| বান্দরবানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ | 150-র বেশি; শহরকেন্দ্রে 74 | বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি (UNB, জুলাই 2025) |
| বান্দরবানে বিদেশি পর্যটক | এ পর্যন্ত 3,643 | জেলা প্রশাসনের অনুমতি-ব্যবস্থার নিজস্ব গণনা |
| রাঙামাটিতে নিষেধের সময় দৈনিক ক্ষতি | প্রায় 1 কোটি টাকা | রাঙামাটি চেম্বারের সহসভাপতি |
| চিম্বুকের হোটেলের জন্য ইজারা | প্রায় 20 একর (2015) | UNB, এপ্রিল 2021 |
| চিম্বুকে ঝুঁকিতে থাকা জুমভূমি | প্রায় 1,000 একর | ম্রো প্রতিবাদকারীরা |
| চিম্বুকে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে মানুষ | প্রায় 10,000 | জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা (ফেব্রুয়ারি 2021) |
| সাজেকের আগুনে পোড়া স্থাপনা | 94, অন্তত 95, অথবা 135 | উৎসভেদে; বিস্তারিত নিচে |
| জেলা পরিষদের প্রাপ্য লভ্যাংশ | পর্যটন করপোরেশনের লাভের 10 শতাংশ; পাওয়া গেছে শূন্য | রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (বাংলা ট্রিবিউন, 2020) |
কাগজে হ্যাঁ, কার্যত পুরোপুরি নয়। 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাজের তালিকায় “স্থানীয় পর্যটন” যুক্ত করে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2014 সালে বিষয়টি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়; কিন্তু রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যান বৃষ কেতু একে বলেছেন “নামেমাত্র” হস্তান্তর।
চুক্তিতে পর্যটন এসেছে দুই জায়গায়। (খ) খণ্ডের 34 দফায় জেলা পরিষদের কার্যাবলিতে যে বিষয়গুলো যুক্ত হয়, তার একটি “স্থানীয় পর্যটন”; একই তালিকায় আছে ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পুলিশ, পরিবেশ ও জুম চাষ। আর (ঘ) খণ্ডের 9 দফায় সরকার বলেছে, পরিবেশ বিবেচনায় রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহ দেবে।
ধারাগুলোর পূর্ণ পাঠ ও বাস্তবায়নের হিসাব এ পাতার কাজ নয়; তা আছে আমাদের দুটি লেখায়: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে এবং পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে।
বাংলা ট্রিবিউনের একই প্রতিবেদনে উল্টো দিকের অভিযোগও আছে: জেলা পরিষদ নিজেও পর্যটনের অবকাঠামোয় আগ্রহ দেখায়নি, প্রতি বছর বাজেটে বরাদ্দ রেখেও খরচ করেনি। রাঙামাটি সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অরুণ বিকাশ চাকমার মত, পর্যটন যেহেতু জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত, উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। চেয়ারম্যান জানান, রাঙামাটিকে পর্যটন নগরী করতে পরিষদ প্রায় 1,200 কোটি টাকার প্রকল্প পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল; মন্ত্রণালয় তা কেটে 300 কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিতে বলে।
ডেইলি স্টারের ওই কলাম অনুযায়ী চুক্তির কাঠামোয় পর্যটন বা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দুটি জিনিস লাগে: গ্রামের কার্বারি ও মৌজার হেডম্যানের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের অবহিত সম্মতি, এবং জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন। কলাম-লেখকের অভিযোগ, অনেক প্রকল্প এই ধাপ এড়িয়ে যায়। তিনি আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, জেলা পরিষদে শেষ নির্বাচন হয়েছে 1989 সালে; এর পর থেকে পরিষদ চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত ব্যক্তিরা।
কার্বারি ও হেডম্যান কারা, জমির বিষয়ে তাঁদের ভূমিকা কী: মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন। জেলা পরিষদের গঠন: পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগ হয় কীভাবে। জমির আইন: পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।
চুক্তি বাস্তবায়নের সরকারি হিসাবটি এ রকম: 3 ডিসেম্বর 2022-এ এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল নিয়ে The Business Standard-এর প্রতিবেদনে সরকারের মূল্যায়ন হিসেবে লেখা, 72টি ধারার 48টি বাস্তবায়িত, 15টি চলমান, 9টি হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগ চালায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা; জেলা পরিষদ চালায় অল্প কয়েকটি। তিন জেলা প্রশাসনের পোর্টালে প্রতিটি স্থানের বিবরণে পরিচালনাকারীর নাম আছে। সেগুলো এক জায়গায় আনলে ছবিটি এ রকম দাঁড়ায়:
| পরিচালনাকারী | কোন কেন্দ্র (পোর্টালের বিবরণ অনুযায়ী) |
|---|---|
| জেলা প্রশাসন | বান্দরবানের নীলাচল ও মেঘলা, চিম্বুকের রেস্ট হাউস; খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র (অনলাইন টিকিটসহ) ও মানিকছড়ির ডিসি পার্ক; রাঙামাটি পার্ক; সাজেকে একটি রিসোর্ট |
| সেনাবাহিনী | বান্দরবানের নীলগিরি; রাঙামাটির আরণ্যক; সাজেকের কটেজ (বিজিবির সঙ্গে) |
| নৌবাহিনী | কাপ্তাইয়ের পিকনিক স্পট |
| জেলা পুলিশ | রাঙামাটির পলওয়েল পার্ক (বাংলা ট্রিবিউনের বিবরণ অনুযায়ী) |
| বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন | রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু ও পর্যটন কমপ্লেক্স; খাগড়াছড়ির পর্যটন মোটেল |
| পার্বত্য জেলা পরিষদ | খাগড়াছড়ির হর্টিকালচার পার্ক; বগা লেক ও রুমার রেস্ট হাউস |
| উপজেলা পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসন | নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেক; লামার মিরিঞ্জার রেস্ট হাউস; বিলাইছড়ির নীলাদ্রি |
| বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা ব্যক্তি-মালিকানা | রাঙামাটির রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট (একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা); সাজেকের বেসরকারি কটেজ |
| স্থানীয় পরিবার | সাজেকের রুইলুইতে বাসায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা; রুমা বাজারে বগা লেকগামী পর্যটকদের খাবার ও আবাসন; শৈলপ্রপাতে বমদের পণ্যের দোকান |
ছকের উৎস রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পোর্টালের “পর্যটন স্পট” পাতা। পোর্টাল সব কেন্দ্রের পরিচালনাকারী লেখেনি, তাই তালিকাটি সম্পূর্ণ নয়। সেনাবাহিনী-পরিচালিত কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ তালিকা বা সেগুলোর জমির আইনি ভিত্তি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
নীলগিরি কীভাবে সেনাবাহিনীর হাতে এল, পোর্টাল তা নিজেই লিখেছে: সেনাবাহিনীর 17 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন চিম্বুক–থানচি সড়ক বানানোর সময় “ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত” কাপ্রু পাড়া এলাকায় এটি প্রথমে নিরাপত্তা চৌকি হিসেবে তৈরি হয়, পরে সেনা কর্মকর্তাদের পরিকল্পনায় পর্যটন কেন্দ্র হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের আকার মাপার মতো একটিও সামগ্রিক সংখ্যা নেই। যে কয়টি সংখ্যা ছাপা হয়েছে, তা জেলাভিত্তিক ও সমিতির দেওয়া: রাঙামাটিতে প্রায় 30,000 মানুষ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট খাতে নির্ভরশীল, বান্দরবানে 150-র বেশি আবাসন-প্রতিষ্ঠান, আর সাজেকে প্রতি সপ্তাহান্তে 2,000 থেকে 2,500 পর্যটক।
বৃদ্ধির গতি সবচেয়ে স্পষ্ট সাজেকে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী সেখানে পর্যটন শুরু হয় 2010-এর দশকের গোড়ায়, সেনাবাহিনী প্রায় দশ বছরে সড়ক বানানোর পর; নিবন্ধিত রিসোর্ট 2016 সালে ছিল 6টি, 2020 সালে 83টি। ফেব্রুয়ারি 2025-এর আগুনের পর সমিতির সভাপতির দেওয়া হিসাবে কেবল পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট ও কটেজই ছিল 72টি।
বিদেশি পর্যটকের একটি সরকারি গণনা আছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি-ব্যবস্থার পাতায় দেশভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী এ পর্যন্ত 3,643 জন বিদেশি সেখানে গেছেন; সবচেয়ে বেশি ভারতের 821, যুক্তরাষ্ট্রের 546, যুক্তরাজ্যের 216, জার্মানির 144 ও নেপালের 138 জন। গণনা কোন তারিখ থেকে শুরু, পাতায় লেখা নেই।
সরকারি বিনিয়োগের দিকে একটি সংখ্যা পাওয়া যায়: রাঙামাটি জেলা পরিষদের 1,200 কোটি টাকার প্রস্তাব, যা 2020 সাল পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। রাঙামাটির একটি বেসরকারি রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. ইমতিয়াজ আসাদ তখন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, “গত ১০ বছরে তেমন কোনও পরিবর্তন আসেনি পর্যটন খাতে।”
সাজেকের রিসোর্ট-মালিকদের জাতিগত বা আঞ্চলিক ভাগের কোনো সংখ্যা কোনো উৎসে নেই। যা আছে তা দুটি: একজন পাহাড়ি লেখকের পর্যবেক্ষণ, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গবেষকের 2025 সালের একটি গুণগত গবেষণা। দুটিই বলছে, বিনিয়োগ যাঁদের, লাভের বড় অংশ তাঁদের; স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগে পড়ে ছোট সেবার কাজ।
আমাদের আর্কাইভের ওই লেখায় মালিকদের একটি তালিকা আছে, লেখকের নিজের ভাষায়: “সাজেকে রিসোর্ট খুলনেওয়ালাদের মাঝে আছে বিভিন্ন ট্যুরিজম গ্রুপ- এতে শেয়াহোল্ডার র্যান্ডম বাঙালি, জায়গা ইজারা নিয়ে রিসোর্ট খোলা ব্যবসায়ী, পাহাড়ের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের বিপ্লবী ও অবিপ্লবী নেতা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাহাড়ি মানবাধিকার কর্মী প্রমুখ।” অর্থাৎ তাঁর চোখে মালিকদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি দুই-ই আছেন; ভাগটা পুঁজির।
আয়ের ভাগ নিয়ে তাঁর বক্তব্য: “অবকাঠামোর অর্থনৈতিক লাভের বড় অংশ বিনিয়োগকারীদের হাতে যায়।” আর যাঁদের পুঁজি বা প্রভাব নেই, তাঁদের জন্য থাকে “অল্প কিছু অর্থ যেগুলা আবার তাদেরকে ছোটখাটো সার্ভিস প্রদানপূর্বক নিতে হয়”। তিনি আরও লিখেছেন, সাজেকের অবকাঠামো অবকাশযাপনের জন্য; স্থানীয়দের শিক্ষা ও চিকিৎসার অবকাঠামো “অদৃশ্য”।
Saifuddin Ahmed, Md. Zarif Rahman ও Shamsuzzoha A. T. M.-এর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Journal of Event, Tourism and Hospitality Studies-এ (খণ্ড 5, জুলাই 2025, পৃষ্ঠা 73–93)। গবেষণাটি সাজেকের ত্রিপুরা ও লুসাই বাসিন্দাদের নিয়ে; তথ্য নেওয়া হয়েছে 20টি মূল-তথ্যদাতা সাক্ষাৎকার, 4টি নিবিড় সাক্ষাৎকার ও 2টি দলীয় আলোচনা থেকে। সারাংশ অনুযায়ী তিন ধরনের বর্জন পাওয়া গেছে:
গবেষণাটি গুণগত, তাই এতে কত পরিবার সরেছে বা কার আয় কত, এমন সংখ্যা নেই। এ পাতায় কেবল এর সারাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
2020 সালে বান্দরবানের চিম্বুক এলাকায়, নীলগিরির কাছে Chandra Pahar নামে পরিচিত পাহাড়ে, “ম্যারিয়ট হোটেল অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক” নামে একটি পাঁচতারা রিসোর্টের নির্মাণ শুরু হয়। ম্রো বাসিন্দারা একে তাঁদের জুমভূমি দখল বলে প্রতিবাদ করেন, দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা বিবৃতি দেন, আর ফেব্রুয়ারি 2021-এ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা নির্মাণ স্থগিতের আহ্বান জানান। প্রকল্পের 2021 সালের পরের অবস্থা জানা যায়নি।
ম্রো সমাজ ও চিম্বুকের পটভূমি আমাদের ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড় লেখায় আছে; এখানে কেবল হোটেল-প্রকল্পের নথি।
| দাবি | কে বলছেন | কোথায় ছাপা |
|---|---|---|
| প্রায় 1,000 একর জুমভূমি দখল হচ্ছে; সরাসরি 6টি ম্রো গ্রাম ও পরোক্ষে 70 থেকে 116টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে; প্রায় 10,000 জুমচাষি ভূমিহীন হবেন | ম্রো প্রতিবাদকারীরা | ডেইলি স্টারের কলাম, 13 নভেম্বর 2020 |
| আনুমানিক 11,000 জুমচাষি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে | ম্রো প্রতিবাদকারীরা | ঢাকা ট্রিবিউন, 9 নভেম্বর 2020 (আমাদের লেখার সূত্রে) |
| 800 থেকে 1,000 একর জমি শেষ পর্যন্ত নেওয়া হবে, 10,000-র বেশি মানুষ উচ্ছেদ হবেন | জেএসএস (এম) ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, UNB-র বিবরণে | UNB, 2 এপ্রিল 2021 |
| 2015 সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ রিসোর্টের জন্য প্রায় 20 একর জমি ইজারা দেয় | UNB (সূত্র উল্লেখ নেই) | UNB, 2 এপ্রিল 2021 |
| আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও R&R Holdings-এর মধ্যে 35 বছরের ইজারা ও মুনাফা ভাগের চুক্তি | ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন | ডেইলি স্টারের কলামে উদ্ধৃত |
| জমি বান্দরবান জেলা পরিষদের কাছ থেকে 8 শতাংশ অংশীদারিত্বে ইজারা নেওয়া; জমি দখলের অভিযোগ ঠিক নয় | সিকদার গ্রুপের চিফ কো-অর্ডিনেটর | ডেইলি স্টারের কলাম |
| জেলা পরিষদ এমন কোনো চুক্তি করেনি | বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য Mong Shwiching Chak | ডেইলি স্টারের কলাম |
| জমির আইনি মালিকানা জেলা পরিষদের নয়, তাই সম্মতি দেওয়ার আইনি ভিত্তিও তার নেই | আন্তর্জাতিক সিএইচটি কমিশন | ডেইলি স্টারের কলাম |
ছকের 20 একর আর 1,000 একর পরস্পরের খণ্ডন নয়: প্রথমটি ইজারার কাগজের কথা, দ্বিতীয়টি প্রতিবাদকারীদের আশঙ্কা যে প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কতটা জমি নেবে। ইজারার দলিল কোনো উৎসে ছাপা হয়নি।
প্রকল্পের পক্ষের সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য আছে UNB-র 2 এপ্রিল 2021-এর প্রতিবেদনে, যেখানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম (প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও) কথা বলেছেন। তাঁর দাবিগুলো:
একই প্রতিবেদনে লেখা, জেলা পরিষদ প্রতিটি ম্রো পরিবারকে মিশ্র ফলবাগানের জন্য প্রায় তিন একর করে জমি বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিবেদনটি বিরোধীদের বক্তব্যকে গুজব বলেছে, তবে বিরোধী পক্ষের কাউকে সরাসরি উদ্ধৃত করেনি। সেনাবাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। আমাদের ম্রো-বিষয়ক লেখায় আছে, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে সিকদার গ্রুপের চিফ কো-অর্ডিনেটর ব্যস্ততার কথা বলে মন্তব্য করেননি।
9 ফেব্রুয়ারি 2021-এ জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ কার্যপ্রণালির সাত বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশকে চিম্বুকের রিসোর্ট নির্মাণ স্থগিত করতে বলেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রকল্পটি আদিবাসী ম্রোদের ঐতিহ্যগত ভূমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি তৈরি করেছে এবং প্রায় 10,000 মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে। বিবৃতিটির পাঠ পাওয়া যায় এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (AIPP)-এর পুনঃপ্রকাশে।
বিবৃতিদাতারা হলেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার Francisco Cali Tzay, মানবাধিকার ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার David R. Boyd, এবং ব্যবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের পাঁচ সদস্য। বিবৃতির মূল কথাগুলো:
বিশেষজ্ঞরা ডিসেম্বর 2020-এ সরকার, R&R Holdings Limited ও Marriott International-কে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, চিঠি ও জবাবগুলো 20 ফেব্রুয়ারি 2021-এ প্রকাশ্য হবে। সেই জবাবগুলোর পাঠ এ পাতার জন্য পাওয়া যায়নি।
অবাধ, পূর্ব-অবহিত সম্মতি (ইংরেজিতে free, prior and informed consent, সংক্ষেপে FPIC) কথাটি চিম্বুকের বিতর্কে তিন জায়গায় এসেছে: জাতিসংঘের বিবৃতিতে, 62 নাগরিকের বিবৃতিতে এবং নাগরিক সমাজের চিঠিতে। তিন জায়গাতেই অর্থ এক: প্রকল্প শুরুর আগে, পুরো তথ্য জানিয়ে, কোনো চাপ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সম্মতি নেওয়া। নাগরিক সমাজের চিঠির অভিযোগ ছিল, স্থানীয়দের ভয় দেখানো হয়েছে এবং ম্রোরা রাজি হয়েছেন, এমন ভুয়া বিবৃতি ছড়ানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব কাঠামোয় এর কাছাকাছি ব্যবস্থাটি হলো কার্বারি ও হেডম্যানের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের সম্মতি, যার কথা ওপরে বলা হয়েছে। 62 নাগরিকের বিবৃতির যুক্তিও সেখানেই: সম্প্রদায় ও মৌজা হেডম্যানের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো কর্তৃপক্ষ জমির মালিকানা কাউকে হস্তান্তর করতে পারে না।
সাজেকে নিবন্ধিত রিসোর্ট 2016 সালের 6টি থেকে 2020 সালে 83টিতে পৌঁছায়। 24 ফেব্রুয়ারি 2025-এ সেখানে আগুনে উৎসভেদে 94 থেকে 135টি স্থাপনা পুড়ে যায়, যার মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের 36 বা 37টি বসতঘর। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, উপত্যকায় পানির মজুত না থাকায় ক্ষতি বেড়েছে।
The Business Standard-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আগুন লাগে দুপুর 1টা 15 মিনিটের দিকে একটি রিসোর্ট থেকে, নিয়ন্ত্রণে আসে বিকেল সাড়ে 4টার দিকে; প্রাথমিক ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। কেউ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের দল আসে দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি থেকে, আর পাহাড়ি পথে তাদের পৌঁছাতে সময় লাগে।
| কে বলছেন | হিসাব | মোট |
|---|---|---|
| সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি (TBS) | 35 রিসোর্ট, 37 কটেজ, 7 রেস্তোরাঁ, 19 দোকান, 37 স্থানীয় বসতঘর | 135 |
| জেলা প্রশাসন (TBS) | অন্তত 95টি স্থাপনা | 95+ |
| রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ইত্তেফাক ইংরেজি) | 90 থেকে 95-র বেশি রিসোর্ট, দোকান, কটেজ ও বসতঘর | 90–95+ |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া | 32 রিসোর্ট ও কটেজ, 36 বসতঘর, 6 রেস্তোরাঁ, 20 দোকান | 94 |
167 নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান (প্রতিবেদনে নাম Lal Thanga Lusai) জানান, তাঁর নিজের বাড়ি ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা পুরো পুড়ে গেছে। ইত্তেফাক ইংরেজির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশাসন তদন্ত কমিটি করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে; সেই প্রতিবেদনের ফল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
পানির কথা তিন উৎসে এসেছে। আগুনের সময় স্থানীয়রা বলেন উপত্যকায় পানির মজুত নেই (TBS)। সাজেকের গবেষণাটি বলছে পানির সংকটের ভার আদিবাসী বাসিন্দাদের ওপর বেশি। আর আমাদের আর্কাইভের লেখক 2020 সালেই লিখেছিলেন, “সাজেক এরিয়াতেই প্রতি বছর খাদ্যসঙ্কট হয়, সারা বছরই সুপেয় পানির অভাব থাকে। যা অদ্যাবধি চলমান।”
খাদ্যের কথা আছে ডেইলি স্টারের কলামেও: পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক সম্প্রদায় আবাদি জমির অভাবে চরম খাদ্য-অনিরাপত্তায় আছে, বিশেষ করে সাজেক এলাকায়। কলামে কোনো সংখ্যা নেই।
সাজেকে পর্যটনের জন্য বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে, এ দাবি দুটি উৎসে আছে, কোনোটিতেই সংখ্যা নেই। গোলটেবিলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Imtiaj Mahmud বলেন, সাজেকে পর্যটকদের জন্য যে গ্রাম গড়া হয়েছে তা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে (The Business Standard)। 2025 সালের গবেষণাটিও “জোরপূর্বক স্থানান্তর”-এর কথা বলেছে। আমাদের আর্কাইভের লেখক লিখেছেন, মানুষ জানে না “সাজেকে একসময় পাহাড়িদের গ্রাম পুড়েছিল” এবং “সাজেকের স্থানীয়রা বর্ডার পার হয়ে ভারত চলে যাচ্ছে”; এ দুটি কথার পক্ষে তারিখ বা সংখ্যাসহ কোনো নথি পাওয়া যায়নি, তাই কথা দুটি এখানে কেবল ওই লেখকের বক্তব্য হিসেবেই রইল। প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব দাবির কোনো জবাবও পাওয়া যায়নি।
নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবানের ম্রো অধ্যুষিত কাপ্রু পাড়া এলাকায়; এটুকু জেলা প্রশাসনের পোর্টালেই লেখা। ডেইলি স্টারের কলাম আরও বলেছে, নীলগিরি রিসোর্ট তৈরি হয়েছে 200 ম্রো ও মারমা পরিবারের দখল হওয়া বসতভিটায়। দ্বিতীয় দাবিটির উৎস ওই একটি কলাম; জমির দলিল বা সেনাবাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তাই দাবিটি এখানে কলামের বক্তব্য হিসেবেই রইল।
পর্যটনের নামে উচ্ছেদের যে দাবিগুলো জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে, নিচের ছকে সেগুলো, সঙ্গে অন্য পক্ষের বক্তব্য যেখানে পাওয়া গেছে:
| দাবি | কে বলছেন, মূল সূত্র কী | অন্য পক্ষের বক্তব্য |
|---|---|---|
| নীলগিরি রিসোর্ট 200 ম্রো ও মারমা পরিবারের দখল হওয়া বসতভিটায় (কলামের দাবি) | ডেইলি স্টারের কলাম (13 নভেম্বর 2020); মূল সূত্র উল্লেখ নেই | পাওয়া যায়নি |
| 1,700 একর জমি পর্যটন রিসোর্টের জন্য বরাদ্দ; 26 গ্রামের 700-র বেশি জুম্ম পরিবার উচ্ছেদ (কলামে উদ্ধৃত গবেষণার দাবি) | একই কলাম, “2015 সালে প্রকাশিত গবেষণা”-র বরাতে; লিংক University of Western Ontario-র সংগ্রহশালায় | পাওয়া যায়নি |
| বান্দরবান সদরের তিন গ্রামের 170 পরিবার একটি পাঁচতারা হোটেলের জন্য উচ্ছেদের মুখে; জমি 250 একরের বেশি | গ্রামবাসী ও গ্রামপ্রধানেরা; ডেইলি স্টার, 28 জুলাই 2019 (প্রতিবেদক Sanjoy Kumar Barua) | Sylvan Wye Resort and Spa Ltd.-এর চেয়ারম্যান: তিনি 60 একর জমি কিনেছেন, অনুমতি নিয়ে। জেলা পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যান: জেলা প্রশাসকের দপ্তরের ছাড়পত্রের পর পরিষদ অনুমোদন দেয়। তখনকার পার্বত্য মন্ত্রী: তিনি পর্যটন ব্যবসা করতে এসেছেন, জমি দখল করেননি। জেলা প্রশাসক: তদন্ত চলছে। |
| সাজেকে পর্যটন-গ্রাম গড়া হয়েছে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে | আইনজীবী Imtiaj Mahmud, গোলটেবিলে (3 ডিসেম্বর 2022) | পাওয়া যায়নি |
| চিম্বুকে প্রায় 10,000 মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে | জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা; ম্রো প্রতিবাদকারীরা | প্রকল্প ব্যবস্থাপক: কোনো গ্রাম বা জমি নেওয়া হবে না |
2019 সালের ঘটনাটিতে তিন গ্রামের নাম প্রতিবেদনে আছে Saingya Tripura Para, Laimi Para ও Hati Bhanga Para। গ্রামবাসীর অভিযোগ ছিল জুমভূমি দখল, একটি রাবার বাগানে আগুন, পানির উৎস নষ্ট করা ও মিথ্যা মামলা। হোটেল-উদ্যোক্তার একটি উক্তি প্রতিবেদনে ছাপা হয়, যার অর্থ: বান্দরবানে অনেক বহিরাগত এভাবেই জুমের জমি কিনছেন, তিনিও কিনেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে তদন্ত চেয়েছিল। ঘটনার পরের পরিণতি জানা যায়নি।
ডেইলি স্টারের কলামে ভূমি কমিশনের অবস্থাও আছে: 1999 সালে গঠিত কমিশনের কাছে অন্তত 22,090টি অভিযোগ ঝুলে আছে। ভূমি কমিশন কেন কাজ করতে পারেনি, তা আমাদের ভূমি-বিষয়ক লেখায়।
অক্টোবর 2024-এ তিন পার্বত্য জেলায় পর্যটকদের না যেতে বলা হলে রাঙামাটির ব্যবসায়ীদের দৈনিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় 1 কোটি টাকা, বলেছেন রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি। পুরো মাসের ক্ষতি তাঁর হিসাবে 45 থেকে 50 কোটি টাকা, আর ব্যবসায়ীদের হিসাবে 60 থেকে 65 কোটি। ঢাকা ট্রিবিউন-এর ওই প্রতিবেদনের শিরোনামে অবশ্য দৈনিক ক্ষতি 2 কোটি লেখা।
একই প্রতিবেদনে সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, রিসোর্টগুলো অলস পড়ে আছে এবং ওই মাসে কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। হাউসবোট মালিক সমিতির সভাপতির মত ছিল, নিরাপত্তার কারণে কেবল পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তখনকার উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিষেধ দরকার, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তুলে নেওয়া হবে।
বান্দরবানের হিসাব আসে 2023 সালের জুনে, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির নিষেধাজ্ঞার আট মাসের মাথায়। ডেইলি স্টার বাংলা-র প্রতিবেদনে (28 জুন 2023):
দুই বছর পর, জুলাই 2025-এ, সিরাজুল ইসলাম (তখন সমিতির সভাপতি) UNB-কে বলেন, কোভিড ও KNF-এর তৎপরতায় ক্ষতি গুরুতর হয়েছে এবং সেরে উঠতে বছর লাগবে। নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ কালপঞ্জি আছে ভ্রমণের পাতায়।
এই প্রতিবেদনগুলোর সব কণ্ঠ হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও নৌযান মালিকদের। পাহাড়ি গাইড, মাঝি, দোকানি বা বাসায় অতিথি রাখা পরিবারগুলোর ক্ষতির কোনো হিসাব কোনো প্রতিবেদনে নেই।
পর্যটন-স্থাপনার পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে পরিমাপভিত্তিক কোনো সমীক্ষা পাওয়া যায়নি; আছে তিনটি সতর্কবার্তা। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা চিম্বুকের ক্ষেত্রে ভবন, সড়ক ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কথা বলেছেন এবং প্রভাব সমীক্ষা চেয়েছেন। সাজেকের গবেষণা পানির সংকট ও বন উজাড়ের কথা বলেছে।
তৃতীয়টি আমাদের আর্কাইভের লেখকের বর্ণনা: “কটেজ বা বিল্ডিং তৈরির জন্য সবুজ সাফ হয়, পাহাড়ের উঁচু নিচু অংশ সমান করা হয়, নির্মাণ সামগ্রী আশেপাশে পড়ে থেকে পরিবেশটাকে নষ্ট করে।” তাঁর আশঙ্কা ছিল, প্রকৃতি নিঃশেষ হতে থাকলে প্রকৃতি দেখিয়ে সাজেকের ব্যবসা বেশি দিন চলবে না।
রাঙামাটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে 2020 সালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, “পর্যটনের উন্নয়ন করতে গিয়ে পাহাড় যেন কাটা না হয়। প্রকৃতিকে ঠিক রেখেই পর্যটন উন্নয়ন করার কথা ভাবা জরুরি।” চিম্বুকের প্রকল্প নিয়ে 62 নাগরিকের বিবৃতির অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি পাহাড় কাটা শুরু করেছে এবং কবরস্থান, পানির উৎস, পবিত্র পাথর ও গাছের কাছে যাওয়ার পথ বন্ধ করেছে।
একটি নথিভুক্ত উদাহরণ আছে: বান্দরবানের Munlai Para, একটি বম গ্রাম। ICIMOD-এর বিবরণ অনুযায়ী সেখানে 21 সেপ্টেম্বর 2017-এ একটি সম্প্রদায়-ভিত্তিক পর্যটন উদ্যোগ চালু হয়, যার লক্ষ্য গ্রামের 54টি পরিবারের সবাইকে পর্যটন থেকে আয়ের সুযোগ দেওয়া। উদ্যোগে নেতৃত্ব দেয় ICIMOD ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সঙ্গে ছিল বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (Base Camp) এবং গ্রামের নিজস্ব সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি।
ডেইলি স্টার-এর একটি ভ্রমণ-লেখা (2 অক্টোবর 2018) অনুযায়ী সেখানে অতিথিরা থাকেন গ্রামের মানুষের বাড়িতেই, সুবিধাগুলো গ্রামবাসী বানিয়েছেন আর্থিক সহায়তা নিয়ে মুনাফা ভাগের ভিত্তিতে, আর ব্যবস্থাটি এমন যে প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধা গ্রামের সব বম পরিবারের মধ্যে ভাগ হয়। ভাগের হার বা পরিবারপ্রতি আয়ের সংখ্যা কোনো উৎসে নেই, আর গ্রামবাসীর নিজের মূল্যায়নও পাওয়া যায়নি। জুন 2025-এ রুমায় যে দুটি গন্তব্য খোলা হয়, Munlai Para তার একটি।
পরিকল্পনা নিয়ে যাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন:
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন নিয়ে দুটি পাঠ পাশাপাশি চলে। একটি বলে পর্যটন কাজ ও বাজার আনে; অন্যটি বলে পর্যটন জমি নেয় আর স্থানীয়দের সিদ্ধান্তের বাইরে রাখে। দুই পাঠের পক্ষেই ছাপা বক্তব্য আছে। নিচের ছকে সেগুলো পাশাপাশি, কোনটি ঠিক সে বিচার ছাড়া।
| প্রশ্ন | সম্ভাবনার পক্ষে যা বলা হয়েছে | সমস্যার পক্ষে যা বলা হয়েছে |
|---|---|---|
| কাজ ও আয় | রাঙামাটিতে 30,000 মানুষের জীবিকা (চেম্বার); চিম্বুকের প্রকল্পে 550–700 স্থানীয়ের কাজ (প্রকল্প ব্যবস্থাপক) | লাভের বড় অংশ বিনিয়োগকারীর, স্থানীয়রা সেবাদাতা (আর্কাইভের লেখক); পরিকল্পনা থেকে আদিবাসীরা বাদ (2025-এর গবেষণা) |
| জমি | চিম্বুকে কোনো গ্রাম বা জমি নেওয়া হবে না; প্রতি ম্রো পরিবার তিন একর ফলবাগানের জমি পেয়েছে (প্রকল্প ব্যবস্থাপক; UNB) | প্রায় 1,000 একর জুমভূমি ও 10,000 মানুষ ঝুঁকিতে (ম্রো প্রতিবাদকারী; জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ) |
| চুক্তি | চুক্তি নিজেই পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহ দিতে বলেছে, পরিবেশ বিবেচনায় রেখে ((ঘ)9 দফা) | পর্যটন জেলা পরিষদের বিষয়, অথচ হস্তান্তর “নামেমাত্র” (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান); সম্মতির ধাপ এড়ানো হয় (ডেইলি স্টারের কলাম) |
| সংস্কৃতি | রিসোর্ট হলে দেশি-বিদেশি পর্যটক স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন (প্রকল্প ব্যবস্থাপক) | ক্যাবল কার, দখল হওয়া পূর্বপুরুষের জমি ও নষ্ট জুমখেত কোনো উন্নয়ন নয় (ম্রো প্রতিনিধি, ঢাকা ট্রিবিউন 2020) |
| নির্ভরশীলতা | নিষেধ উঠলে ব্যবসা ফেরে; পর্যটকদের ফিরে আসার আহ্বান (হোটেল মালিক সমিতি) | এক মাসের নিষেধেই বেতন বন্ধ (সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতি); সেরে উঠতে বছর লাগবে (বান্দরবান) |
ডিসেম্বর 2020-এ ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বেলা-র তখনকার প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য ছিল, দারিদ্র্যের সূচকে বান্দরবান একেবারে নিচে, সেখানে পাঁচতারা হোটেল সেখানকার মানুষের সঙ্গে উপহাস। একই প্রতিবেদনে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের কথাটি ইংরেজিতে ছাপা হয়: “People do not own lands, the land owns people.”
1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (খ)34 দফায় “স্থানীয় পর্যটন” জেলা পরিষদের কাজের তালিকায় যুক্ত হয়। বাংলা ট্রিবিউন ও ডেইলি স্টারের কলাম অনুযায়ী 2014 সালে বিষয়টি হস্তান্তর করা হয়। তবে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান 2020 সালে একে “নামেমাত্র” হস্তান্তর বলেন এবং জানান, পর্যটন করপোরেশনের লাভের প্রাপ্য 10 শতাংশ থেকে এক টাকাও পরিষদ পায়নি।
সাজেকে নিবন্ধিত রিসোর্ট 2016 সালে ছিল 6টি, 2020 সালে 83টি; সংখ্যা দুটি ইংরেজি উইকিপিডিয়ার। এর পরের বছরের কোনো নিবন্ধিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি। 24 ফেব্রুয়ারি 2025-এর আগুনে মালিক সমিতির সভাপতির হিসাবে 35টি রিসোর্ট ও 37টি কটেজ পুড়ে যায়। সমিতির হিসাবে প্রতি শুক্র-শনিবার সাজেকে 2,000 থেকে 2,500 পর্যটক যান।
মালিকানার জাতিগত বা আঞ্চলিক ভাগের কোনো সংখ্যা কোনো উৎসে নেই। জুমজার্নালে 2020 সালে প্রকাশিত একটি লেখা অনুযায়ী মালিকদের মধ্যে আছে ট্যুরিজম গ্রুপ, জায়গা ইজারা নেওয়া ব্যবসায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে, সেনাবাহিনী ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে কটেজ আছে, জেলা প্রশাসনের একটি রিসোর্ট আছে, আর বেসরকারি কটেজও আছে।
2020 সালে বান্দরবানের চিম্বুক এলাকায় একটি পাঁচতারা রিসোর্টের নির্মাণ শুরু হয়; বাস্তবায়নকারী ছিল সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিট, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সিকদার গ্রুপের R&R Holdings Limited। ম্রো বাসিন্দারা প্রায় 1,000 একর জুমভূমি হারানোর আশঙ্কায় প্রতিবাদ করেন। প্রকল্প ব্যবস্থাপকের দাবি ছিল ইজারা মাত্র 20 একরের এবং কোনো গ্রাম সরবে না। 2021 সালের পরের অবস্থা জানা যায়নি।
9 ফেব্রুয়ারি 2021-এ জাতিসংঘের সাত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশকে চিম্বুকের রিসোর্ট নির্মাণ স্থগিত করতে বলেন। তাঁদের বিবৃতি অনুযায়ী প্রায় 10,000 মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে ছিলেন। তাঁরা ম্রোদের অবাধ, পূর্ব-অবহিত সম্মতির জন্য আলোচনা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা চান। ডিসেম্বর 2020-এ তাঁরা সরকার, R&R Holdings ও Marriott International-কে চিঠিও দিয়েছিলেন।
অবাধ, পূর্ব-অবহিত সম্মতি বলতে বোঝায়, কোনো প্রকল্প শুরুর আগে, পুরো তথ্য জানিয়ে এবং কোনো চাপ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সম্মতি নেওয়া। চিম্বুকের হোটেল নিয়ে 2021 সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এবং 2020 সালে 62 জন বিশিষ্ট নাগরিক এই সম্মতির দাবি তোলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে এর কাছাকাছি ব্যবস্থা হলো কার্বারি ও মৌজা হেডম্যানের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের সম্মতি।
বান্দরবান জেলা পোর্টাল অনুযায়ী নীলগিরি ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কাপ্রু পাড়া এলাকায়; সড়ক নির্মাণের সময় সেনাবাহিনী সেখানে প্রথমে নিরাপত্তা চৌকি বসায়, পরে সেটি পর্যটন কেন্দ্র হয়। ডেইলি স্টারের 13 নভেম্বর 2020-এর একটি কলাম বলেছে, রিসোর্টটি 200 ম্রো ও মারমা পরিবারের দখল হওয়া বসতভিটায়। এ দাবির উৎস ওই একটিই; জমির দলিল বা সেনাবাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
24 ফেব্রুয়ারি 2025-এর আগুনে পোড়া স্থাপনার সংখ্যা উৎসভেদে আলাদা। জেলা প্রশাসন বলেছে অন্তত 95টি। মালিক সমিতির সভাপতির খাতওয়ারি হিসাব যোগ করলে 135টি: 35 রিসোর্ট, 37 কটেজ, 7 রেস্তোরাঁ, 19 দোকান ও 37 বসতঘর। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে 94টি। কেউ হতাহত হননি; প্রাথমিক ধারণা ছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট।
অক্টোবর 2024-এ তিন জেলায় ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার সময় রাঙামাটি চেম্বারের সহসভাপতি দৈনিক ক্ষতি বলেন প্রায় 1 কোটি টাকা, মাসে 45 থেকে 50 কোটি; ব্যবসায়ীদের হিসাবে মাসে 60 থেকে 65 কোটি। বান্দরবানে জুন 2023-এ দুটি হোটেল মাসিক লোকসান জানায় 5 লাখ ও 10 লাখ টাকা। তিন জেলার মোট ক্ষতির কোনো হিসাব নেই।
পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হিসাবে কেবল রাঙামাটিতেই প্রায় 30,000 মানুষ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট খাতে নির্ভরশীল। বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির হিসাবে জেলায় 150-র বেশি হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে, যার 74টি শহরকেন্দ্রে। খাগড়াছড়ির কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
আছে। বান্দরবানের Munlai Para নামের বম গ্রামে 21 সেপ্টেম্বর 2017-এ একটি সম্প্রদায়-ভিত্তিক পর্যটন উদ্যোগ চালু হয়, ICIMOD ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে। লক্ষ্য ছিল গ্রামের 54টি পরিবারের সবাইকে আয়ের সুযোগ দেওয়া। ডেইলি স্টারের বিবরণে অতিথিরা গ্রামবাসীর বাড়িতে থাকেন এবং আয় মুনাফা ভাগের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়; ভাগের হার জানা যায়নি।
জেলা পোর্টালগুলোর বিবরণ অনুযায়ী বান্দরবানের নীলাচল ও মেঘলা এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলা চালায় জেলা প্রশাসন; নীলগিরি ও রাঙামাটির আরণ্যক চালায় সেনাবাহিনী; রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের। পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে আছে খাগড়াছড়ির হর্টিকালচার পার্ক ও বান্দরবানের কয়েকটি রেস্ট হাউস। সাজেকে সেনাবাহিনী ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে কটেজ আছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটন
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।