Last updated Oct 19th, 2026
0

জুম চাষ কি বন ধ্বংস করে? গবেষণাগুলো এক কথায় উত্তর দেয় না। মাঠের পরীক্ষায় দেখা গেছে, জুমের চাষের বছরে ঢাল থেকে মাটি ক্ষয় প্রায় ছয় গুণ বাড়ে, কিন্তু পরের বছরই পতিত জমিতে তা প্রায় স্বাভাবিকে ফেরে; সরকারি হিসাব পাহাড়ি বন উজাড়ের কারণ হিসেবে অবৈধ গাছ কাটা ও জ্বালানি কাঠের পাশে জুম, তামাক ও বাণিজ্যিক কৃষিকে একসঙ্গে রেখেছে; আর নীতি-ইতিহাসের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, জুমচক্র ছোট হয়েছে সংরক্ষিত বন, কাপ্তাই বাঁধ, বসতি স্থাপন ও বাগান-ইজারায় জমি কমে যাওয়ার পর।
এই লেখায় প্রতিটি দাবি রাখা হয়েছে তার গবেষণার সাল, এলাকা আর পদ্ধতিসহ, যাতে পাঠক নিজেই দেখতে পারেন কোন সংখ্যা কোথা থেকে এসেছে। যেখানে দুই গবেষণা দুই রকম বলেছে, দুটোই পাশাপাশি আছে। জুম আসলে কীভাবে হয়, মাসে মাসে কী কাজ, তা আমাদের জুম চাষের মাসভিত্তিক বিবরণ-এ আছে; সাঙ্গু ও মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের সীমানা-বিরোধ আছে সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের লেখায়। পাহাড়ের বনের আয়তন, পাহাড়ধস ও পাড়াবনের হিসাব নিয়ে আলাদা লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও পরিবেশ সংকট: বন কত, কার হাতে, আর কী হারাচ্ছে” প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। অঞ্চলটির অন্য সব লেখা পাওয়া যাবে জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভে।
এই লেখায়
সংক্ষিপ্ত উত্তর: কোনো গবেষণা জুমকে একমাত্র কারণ বলেনি, আবার কোনোটি জুমকে পুরো দায়মুক্তও করেনি। যেসব গবেষণা মাটি মেপেছে, তারা চাষের বছরে বড় ক্ষতি দেখেছে; যারা উপগ্রহচিত্র দেখেছে, তারা সময়কাল ও শ্রেণিভেদে বন কমা ও বাড়া দুই-ই পেয়েছে; আর যারা নীতি দেখেছে, তারা জুমের চাপ বাড়ার কারণ খুঁজেছে জমি হারানোয়।
নিচের ছকে প্রতিটি উৎসের এলাকা, সময়কাল আর পদ্ধতি পাশাপাশি রাখা হলো। পরের অংশগুলোতে প্রতিটির বিস্তারিত আছে।
| উৎস ও সাল | এলাকা ও সময় | পদ্ধতি | মূল ফল |
|---|---|---|---|
| Gafur ও সহলেখক, Journal of Hydrology, 2003 | পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি পাশাপাশি ছোট জলধারা-অববাহিকা, প্রতিটি প্রায় 1 হেক্টর; দুই বছর | জোড়া-অববাহিকা পরীক্ষা: এক বছরের জুম বনাম দীর্ঘ পতিত ও মিশ্র বহুবর্ষী গাছপালা | চাষের বছরে মাটিক্ষয় প্রায় 6 গুণ; পতিতের প্রথম বছরেই প্রায় স্বাভাবিক |
| Borggaard, Gafur ও Petersen, Ambio, 2003 | পার্বত্য চট্টগ্রাম; 1998 ও 1999 | আর্থসামাজিক জরিপ ও ভূমিক্ষয় পরিমাপ | 3–5 বছরের পতিত আর জমির অধিকারহীনতায় জুম টেকসই নয় |
| Rasul, IIED, 2005; Environmental Conservation, 2007 | পার্বত্য চট্টগ্রাম; প্রায় দুই শতাব্দী | নীতি ও আইনের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ | ক্ষয়ের শুরু ঔপনিবেশিক জাতীয়করণ ও বাণিজ্যিক কাঠ আহরণে; সংরক্ষিত বন, বাঁধ, বসতি ও রাবার-ইজারায় তা ত্বরান্বিত |
| Motaleb ও Irfanullah, Indian Journal of Traditional Knowledge, 2011 | থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন, বান্দরবান; 2009 | 50 তামাকচাষি পরিবারে প্রশ্নপত্র, দলগত আলোচনা | জুমের আয়তন পরিবারপ্রতি 1.5 থেকে 0.6 হেক্টর; তামাকে জ্বালানি কাঠের দাম বেড়েছে |
| Roy ও সহলেখক, IJSBAR, 2015 | তিন পার্বত্য জেলা, 13,295 বর্গকিমি; 1989–2014 | Landsat চিত্র, সাত শ্রেণি | পাহাড়ি বন 74.44% থেকে 51.2%; 3,062 বর্গকিমি কম |
| Ahammad ও সহলেখক, Science of the Total Environment, 2018 | পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম, মধ্যবর্তী ও সড়কসংলগ্ন তিন অঞ্চল; 1989–2014 | উপগ্রহচিত্র, পরিবার-সাক্ষাৎকার ও দলগত আলোচনা | দুর্গম অঞ্চলে প্রধান চালক জুম; সড়কের কাছে কাঠ ও জ্বালানি আহরণ |
| বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, FRL, 2019 (সংশোধিত সংস্করণ) | সারা দেশ, “পাহাড়ি অঞ্চল” আলাদা; 2000–2015 | 2000 ও 2015 সালের জাতীয় ভূমি-আচ্ছাদন মানচিত্র | পাহাড়ি অঞ্চলে বছরে 8,963 হেক্টর বন উজাড়; কারণের তালিকায় অবৈধ কাটা, জ্বালানি কাঠ, জুম, তামাকসহ বাণিজ্যিক কৃষি |
| Chakma ও সহলেখক, Land, 2023 | তিন পার্বত্য জেলা, 13,198 বর্গকিমি; 1998–2018 | Landsat চিত্র, চার শ্রেণি | “বন” শ্রেণি 2,708 বর্গকিমি বেড়েছে, প্রধানত তৃণভূমি থেকে |
| Mim ও সহলেখক, Clean Technologies, 2024 | লামা উপজেলা, বান্দরবান | 242 তামাকচাষির সাক্ষাৎকার | চাষির গড়ে 5,390 কেজি জ্বালানি কাঠ লাগে পাতা শুকাতে |
| Arman ও সহলেখক, Forestist, 2024 | পার্বত্য চট্টগ্রাম; একটি জুমজমি, 14 বছরের সেগুন ও 16 বছরের রাবার বাগান | মাটির নমুনা বিশ্লেষণ | বাগানের মাটিতে জৈব পদার্থ, ফসফরাস ও পটাশিয়াম জুমজমির চেয়ে বেশি |
| Rudra ও Alam, PLOS One, 2025 | সাঙ্গু-মাতামুহুরী উজান অববাহিকা, 3,10,317 হেক্টর; 1988–2019 | উপগ্রহচিত্র, পাঁচ শ্রেণি | বন 76% থেকে 54%; কৃষি 7% থেকে 25% |
| Mahmud ও সহলেখক, Journal of Forestry Research, 2018 | বাংলাদেশের সেগুন বাগান | মাটির ভৌত-রাসায়নিক বিশ্লেষণ | একক সেগুন বাগানে পাতা সরিয়ে নেওয়ায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম কম |
ছকটি পড়ার একটি সতর্কতা আছে: গবেষণাগুলো একই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। কেউ মেপেছে এক হেক্টরের মাটি, কেউ তেরো হাজার বর্গকিলোমিটারের ছবি, কেউ পঞ্চাশটি পরিবারের আয়। তাই “জুম বন ধ্বংস করে কি না” প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে প্রশ্নটা কোন মাপে করা হচ্ছে তার ওপর।
একই পাহাড়ে বন কমেছে না বেড়েছে, তা অনেকটাই নির্ভর করে “বন”-এর সংজ্ঞায়। সরকারি রেফারেন্স লেভেলে লাগানো বাগানও বন হিসেবে গোনা হয়েছে, আর জুমজমি ও ফলবাগান রাখা হয়েছে “ঝোপ ও ছড়ানো গাছ” শ্রেণিতে; একটি উপগ্রহ-গবেষণায় শ্রেণি মাত্র চারটি, যেখানে প্রাকৃতিক বন ও বাগানের আলাদা ঘর নেই।
বাংলাদেশের বন উজাড়ের রেফারেন্স লেভেল (Forest Reference Level বা FRL) নামের সরকারি নথিটি 2000 ও 2015 সালের জাতীয় ভূমি-আচ্ছাদন মানচিত্র মিলিয়ে বানানো। মানচিত্র দুটির শ্রেণি মেলাতে গিয়ে 2015-এর “পাহাড়ি বন”, “বাঁশবন” ও “বনবাগান” এক শ্রেণিতে জোড়া হয়েছে, নাম “বৃক্ষপ্রধান এলাকা”। আর “ঝোপ ও ছড়ানো গাছ”, “ফলবাগান ও অন্যান্য বাগান (ঝোপ)” এবং “জুম চাষ” জোড়া হয়েছে আরেক শ্রেণিতে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সেগুন বা অন্য বনবাগান বন, কিন্তু জুমের পতিত জমি বন নয়।
একই নথি আইনি “বনভূমি” আর গাছে ঢাকা “বন”-এর ফারাকও লিখেছে। বন অধিদপ্তরের হিসাবে রাষ্ট্রীয় বনভূমি মোট 25,79,387 হেক্টর, যার মধ্যে 6,95,226 হেক্টর হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা প্রশাসকের অধীন “অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন”। নথিতে এই শ্রেণির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে: নানা উপদ্রবে, বিশেষত জুম চাষে (নথির ভাষায় “tribal people”-এর জুম), ক্ষয়প্রাপ্ত ও ন্যাড়া রাষ্ট্রীয় বন। নথিটি নিজেই স্বীকার করেছে, আইনি বনভূমির সংজ্ঞা গাছের আচ্ছাদন দেখে না, তাই এতে গাছহীন জমিও পড়ে।
উপগ্রহ-গবেষণাগুলোর শ্রেণিও আলাদা। Chakma ও সহলেখকেরা (2023) জমিকে ভাগ করেছেন চার ভাগে: বন, তৃণভূমি, জলাশয় ও খালি জমি। Roy ও সহলেখকেরা (2015) ভাগ করেছেন সাত ভাগে, যার একটি “পাহাড়ি বন”, আরেকটি “ঝোপভূমি”। Rudra ও Alam (2025) ভাগ করেছেন পাঁচ ভাগে: বন, কৃষি, ঝোপভূমি, বসতি ও জলাশয়। ফলে এক গবেষণায় যে জমি “বন”, অন্যটিতে তা “ঝোপ” হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে বাগান আর বয়স্ক পতিত জুম।
দুটি গবেষণা একই অঞ্চলে প্রায় একই সময়ে উল্টো ফল পেয়েছে। Roy ও সহলেখকদের হিসাবে 1989 থেকে 2014 সালে তিন জেলায় পাহাড়ি বন 3,062 বর্গকিলোমিটার কমেছে; Chakma ও সহলেখকদের হিসাবে 1998 থেকে 2018 সালে “বন” শ্রেণি 2,708 বর্গকিলোমিটার বেড়েছে। দুটির সময়কাল, শ্রেণি আর বনের সংজ্ঞা আলাদা।
| বিষয় | Roy ও সহলেখক (2015) | Chakma ও সহলেখক (2023) | Rudra ও Alam (2025) |
|---|---|---|---|
| এলাকা | তিন পার্বত্য জেলা, 13,295 বর্গকিমি | তিন পার্বত্য জেলা, 13,198 বর্গকিমি | সাঙ্গু-মাতামুহুরী উজান অববাহিকা, 3,103 বর্গকিমি |
| ছবির সাল | 1989, 2000, 2014 | 1998, 2008, 2018 | 1988, 1999, 2009, 2019 |
| শ্রেণির সংখ্যা | 7 | 4 | 5 |
| শ্রেণিবিন্যাসের নির্ভুলতা | 90%-এর বেশি | 89.65%, 84.44%, 86.26% | 92%, 93%, 94%, 94% |
| বনের ফল | 74.44% থেকে 51.2%; 3,062 বর্গকিমি কম | 1998–2008-এ 528 বর্গকিমি কম, তারপর বৃদ্ধি; 20 বছরে নিট 2,708 বর্গকিমি বেশি | 2,34,634 হেক্টর (76%) থেকে 1,68,476 হেক্টর (54%) |
| অন্য শ্রেণির বদল | ঝোপভূমি 2,991 বর্গকিমি বেশি, চাষের জমি 259 বর্গকিমি বেশি | তৃণভূমি 2,721 বর্গকিমি কম | কৃষি 7% থেকে 25%, বসতি 2% থেকে 4% |
| লেখকদের ব্যাখ্যা | জুম, অবৈধ বাণিজ্যিক কাঠ কাটা, ঢালের মাটিক্ষয় | সামাজিক বনায়ন ও জাতীয় বন-কৌশল; রাষ্ট্রীয় বাগান কর্মসূচি | বন পুড়ে ঝোপ, ঝোপ থেকে জুম ও চাষের জমি |
Roy ও সহলেখকেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে কাজটি করেছেন। তাঁদের হিসাবে বন কমার বেশির ভাগ ঘটেছে দ্বিতীয় পর্বে: 1989 থেকে 2000 সালে কমেছে 832.8 বর্গকিলোমিটার, আর 2000 থেকে 2014 সালে 2,229 বর্গকিলোমিটার। একই সময়ে ঝোপভূমি 2,173 থেকে বেড়ে 5,164 বর্গকিলোমিটার হয়েছে, যা 2014 সালে অঞ্চলের 39.2 শতাংশ। লেখকেরা পরিবেশের অবনতির কারণ হিসেবে জুম, খাড়া ঢালে অবৈধ বাণিজ্যিক কাঠ কাটা ও উপরের মাটি ক্ষয়ের কথা বলেছেন।
Chakma ও সহলেখকদের গবেষণা বেইজিং ফরেস্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। প্রথম দশকে (1998–2008) তাঁরাও বন কমতে দেখেছেন, 528 বর্গকিলোমিটার। পরের দশকে তৃণভূমি ও খালি জমি বড় আকারে বন শ্রেণিতে গেছে। তাঁদের ব্যাখ্যার একটি অংশ সরাসরি এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িত: আলোচনায় তাঁরা লিখেছেন, অঞ্চলে বন বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় বাগান কর্মসূচি ও 1994 সালের জাতীয় বননীতি, যার কেন্দ্রে ছিল বাগান, আর সেই বাগান সম্ভব হয়েছে আদিবাসী মানুষদের সরিয়ে দিয়ে। চার শ্রেণির এই হিসাবে প্রাকৃতিক বন আর বাগান আলাদা করা যায় না।
Rudra ও Alam পুরো অঞ্চল নয়, কেবল সাঙ্গু-মাতামুহুরীর উজান অববাহিকা দেখেছেন, আর তাঁদের ফল Roy-এর দিকেই যায়। তাঁদের ছবি-মিলানোয় একটি ক্রম ধরা পড়েছে: বন আগে পুড়ে বা কাটা পড়ে ঝোপ হয়েছে, তারপর সেই ঝোপ আবার পরিষ্কার বা পুড়িয়ে জুম ও অন্য চাষ হয়েছে। 31 বছরে বনের 17.14 শতাংশ (53,210 হেক্টর) সরাসরি কৃষিতে গেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের সীমানা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপট সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের লেখায় আছে।
উপগ্রহের হিসাব আর মানুষের অভিজ্ঞতা যে মেলে না, তা দেখিয়েছেন Ahammad ও সহলেখকেরা। তাঁদের উপগ্রহচিত্রে 1989 থেকে 2003 সালে বন সামান্য বেড়েছে (মধ্যবর্তী অঞ্চলে 1.68%, সড়কসংলগ্ন অঞ্চলে 1.33%, দুর্গম অঞ্চলে 0.5%), তারপর 2003 থেকে 2014 সালে কমেছে। অথচ প্রায় 90 শতাংশ পরিবার বলেছে বন তীব্রভাবে কমেছে, আর 75 শতাংশ জানিয়েছে জ্বালানি কাঠ, ঘর বানানোর উপকরণ, বুনো খাবার ও মিঠা পানি কমে গেছে।
বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের জলবায়ু সনদের (UNFCCC) কাছে যে রেফারেন্স লেভেল জমা দিয়েছে, তার হিসাবে 2000 থেকে 2015 সালে পাহাড়ি অঞ্চলে বছরে গড়ে 8,963 হেক্টর বন উজাড় হয়েছে, যা জাতীয় মোট 10,127 হেক্টরের সিংহভাগ। একই অঞ্চলে বছরে 7,154 হেক্টরে নতুন বনায়নও হয়েছে। বন উজাড়জনিত নির্গমনের প্রায় 85 শতাংশ পাহাড়ি অঞ্চলের।
নথিটি তৈরি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; বন অধিদপ্তরের অনলাইন গ্রন্থাগারে রাখা সংশোধিত সংস্করণের তারিখ 17 জুলাই 2019। নিচের ছকে পাহাড়ি অঞ্চলের বার্ষিক হিসাব (হেক্টর/বছর):
| কার্যক্রম (2000–2015, বছরে গড়) | পাহাড়ি অঞ্চল | সারা দেশ |
|---|---|---|
| বন উজাড় | 8,963.15 | 10,127.44 |
| উচ্চমাত্রার অবক্ষয় | 2,203.43 | 3,314.39 |
| নিম্নমাত্রার অবক্ষয় | 7,543.92 | 8,263.67 |
| বনায়ন/পুনর্বনায়ন | 7,153.68 | 8,650.19 |
| উচ্চমাত্রার পুনরুদ্ধার | 998.22 | 5,215.64 |
| নিম্নমাত্রার পুনরুদ্ধার | 1,501.14 | 4,925.07 |
এই সংখ্যা ব্যবহারের আগে একটি সীমা মনে রাখা দরকার: নথির “পাহাড়ি অঞ্চল” কেবল তিন পার্বত্য জেলা নয়। এতে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে আছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, মোট আয়তন 17,16,157 হেক্টর। তাই সংখ্যাগুলো পুরোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়।
প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে 22 মার্চ 2022-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন লিখেছে, UNFCCC 2021 সালে সরকারকে যে জরিপ দিয়েছিল, তাতে 2000 থেকে 2015 সালে দেশের মোট বন উজাড়ের 90 শতাংশ তিন পার্বত্য জেলায় হয়েছে বলা আছে, আর প্রধান কারণ হিসেবে এসেছে অবৈধ গাছ কাটা ও পাচার এবং জুম; রেফারেন্স লেভেলের নিজের ছকে এই হিস্যা আট জেলার “পাহাড়ি অঞ্চলের”, তিন জেলার আলাদা হিসাব সেখানে নেই।
নথির ভাষায়, পাহাড়ি বনে অবৈধ ও অতিরিক্ত কাঠ ও জ্বালানি কাঠ আহরণের বাইরে বন উজাড়ের অন্য কারণ জুম এবং উদ্যান, তামাক ও কন্দ ফসলের মতো বাণিজ্যিক কৃষি; পাতা শুকানোর জ্বালানির চাহিদা নিয়ে তামাক পাহাড়ি বনে ছড়াচ্ছে। কৃষির জন্য লাগানো আগুন আর দখলও তালিকায় আছে। অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে অবৈধ কাটা ও জ্বালানি সংগ্রহের পাশে আছে জুম, গবাদি পশু চরানো ও পান চাষ।
কারণের এই তালিকা মাপা হিসাব নয়। নথি নিজেই জানিয়েছে, তালিকাটি বন অধিদপ্তরের 2018 সালের একটি খসড়া গবেষণা থেকে, যা তৈরি হয়েছিল সাহিত্য পর্যালোচনা আর বন বিভাগীয় কর্মশালার ভিত্তিতে। কোন কারণে কত হেক্টর গেছে, তার ভাগ নথিতে নেই। নির্গমনের অংশে নথিটি এক বাক্যে বলেছে, পাহাড়ি অঞ্চলে বন উজাড়ের মূল কারণ অবৈধ কাটা, জ্বালানি সংগ্রহ এবং “বাণিজ্যিক কৃষি ও জাতিগোষ্ঠীগুলোর” জুমসহ কৃষির বিস্তার। আবার একই নথি লিখেছে, পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু এলাকায় জুমের জমিতে প্রাকৃতিক পুনর্জন্মও বাড়ছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) 2015 সালের দেশ-প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, 2003 থেকে 2012 সালে বাংলাদেশে বছরে গড়ে 16,473 হেক্টর বন পুড়েছে। রেফারেন্স লেভেল এই সংখ্যা ব্যবহার করেনি। কারণ হিসেবে লিখেছে, পোড়ার এই হিসাব মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম এলাকার; জুম হয় এমন পাহাড়গুলো বেশির ভাগই ঘাস ও ছোট ঝোপে ঢাকা, আর জুমের আগুন বনের আগুন নয়, মাটির ওপরের আগুন। নথি স্বীকার করেছে, জুমে ক্ষতিগ্রস্ত বনের নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন। নথির আরেক অংশে FAO-র বরাতে আছে, 1990 থেকে 2015 সালে দেশে বছরে গড়ে 2,600 হেক্টর বন হারিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমের মাটিক্ষয় সরাসরি মাপা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, পতিত বা মিশ্র গাছপালার ঢাল থেকে বছরে প্রায় 3 টন (মেগাগ্রাম) মাটি সরে, আর জুম চাষের বছরে তা প্রায় 6 গুণ হয়। কিন্তু পতিতের প্রথম বছরেই পানিপ্রবাহ ও মাটিক্ষয় প্রায় স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরেছে।
পরীক্ষাটি করেছিলেন Abdul Gafur, Jens Raunsø Jensen, Ole Kragholm Borggaard ও Leif Petersen; প্রকাশ 2003 সালে Journal of Hydrology-তে। তাঁরা দুই বছর ধরে তিনটি পাশাপাশি, দেখতে প্রায় একই রকম ছোট জলধারা-অববাহিকা পর্যবেক্ষণ করেন, প্রতিটি প্রায় এক হেক্টর। একটিতে এক বছর জুম করা হয়, বাকিগুলো দীর্ঘ পতিত বা মিশ্র বহুবর্ষী গাছপালায় ঢাকা থাকে। এই নকশাকে বলে জোড়া-অববাহিকা পরীক্ষা: একই আবহাওয়ায় পাশের অববাহিকাটি তুলনার মানদণ্ড।
প্রবন্ধের সারাংশে যা আছে:
এই ফলের পাশে বাংলাপিডিয়ার “Jhum” ভুক্তি রাখলে দুটি আলাদা সংখ্যা দাঁড়ায়। মো. শহিদুল ইসলামের লেখা ওই ভুক্তি বলছে, প্রতি বছর প্রায় 20,000 হেক্টর জমিতে জুম হয়, আর তাতে হেক্টরপ্রতি 100 থেকে 250 মেট্রিক টন মাটি ক্ষয় হয়। Gafur ও সহলেখকদের মাপা উঁচু ঢালের ক্ষয় হেক্টরপ্রতি প্রায় 30 টন, আর অঞ্চলজুড়ে গড় 1.2 টন। বাংলাপিডিয়ার সংখ্যাটির উৎস বা মাপার পদ্ধতি ভুক্তিতে দেওয়া নেই। আমাদের জুম চাষের লেখাতেও বাংলাপিডিয়ার সংখ্যাটি উদ্ধৃত আছে।
একই গবেষক দলের আরেকটি প্রবন্ধ (Borggaard, Gafur ও Petersen, Ambio, 2003) 1998 ও 1999 সালের আর্থসামাজিক জরিপ ও ভূমিক্ষয়-পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তখনকার পরিস্থিতিতে, অর্থাৎ মাত্র 3–5 বছরের পতিত আর জমির অধিকারহীনতায়, জুম টেকসই নয়। তাঁদের হিসাবে হেক্টরপ্রতি বছরে শ্রমসহ আনুমানিক খরচ 380 মার্কিন ডলার, আর মোট উৎপাদন 360 ডলার; বর্ষায় যে মাটি ও পুষ্টি ধুয়ে যায়, তা রাসায়নিক সারে পূরণ করতে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে প্রায় 20 লাখ ডলার লাগত। তাঁদের সুপারিশ ছিল দুটি: জুমকে সহনীয় মাত্রায় আনা, আর কৃষককে জমির অধিকার ও দলিল দেওয়া।
দুটি প্রবন্ধ একসঙ্গে পড়লে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য চোখে পড়ে। প্রথমটি দেখিয়েছে এক চাষ-বছরের ক্ষতি দ্রুত সেরে ওঠে; দ্বিতীয়টি বলছে সেরে ওঠার সময়টাই আর দেওয়া হচ্ছে না, কারণ পতিত 3–5 বছরে নেমেছে। অর্থাৎ ক্ষতির মাপ ঠিক করছে চক্রের দৈর্ঘ্য।
জুমের পতিত সময় যে কমেছে, তাতে সব উৎস একমত; কতটা কমেছে, তাতে নয়। উৎসভেদে আগের চক্র 7 থেকে 15 বছর, এখনকার 2 থেকে 10 বছর। কারণ হিসেবে প্রায় সব উৎস জমি কমে যাওয়ার কথা বলে: সংরক্ষিত বন, কাপ্তাই বাঁধ, বসতি স্থাপন, বাগান-ইজারা ও জনসংখ্যার চাপ।
| উৎস | আগের পতিত | এখনকার পতিত | উৎস যে কারণ বলেছে |
|---|---|---|---|
| মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা, জুমজার্নাল আর্কাইভ | 10–15 বছর | 5–10 বছর | জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বন সংকোচন |
| মিশুক চাকমা, জুমজার্নাল আর্কাইভ | — | অন্তত 4–5 বছর | — |
| বাংলাপিডিয়া, “Jhum” | 10 বছর; অন্যত্র 7–8 বছর | 2–3 বছর; অন্যত্র 3–4 বছর | জনসংখ্যার চাপ, কাপ্তাই জলাধার, বড় আকারে অ-আদিবাসী বসতি |
| Borggaard ও সহলেখক, 2003 | — | 3–5 বছর | জমির অধিকারের অভাব |
| Rudra ও Alam, 2025 | 12–15 বছর | 2–3 বছর | জনসংখ্যা বৃদ্ধি |
| Rasul, 2005 | দীর্ঘ পতিত (উনিশ শতকের শুরু) | “short fallows” | সংরক্ষিত বন, বাঁধ, অভিবাসন, রাবার-ইজারা |
এই উৎসগুলোর কোনোটিই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ধরে চক্রের দৈর্ঘ্য মাপেনি। ম্রো, বম, চাকমা বা মারমা পাড়ায় চক্র আলাদা কি না, সে তথ্য এই গবেষণাগুলোতে পাওয়া যায়নি। চক্র কীভাবে চলে, পতিত জমিকে বিভিন্ন ভাষায় কী বলে, তার জন্য দেখুন জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে।
চক্র ছোট হলে কী হয়, তা Gafur-এর পরীক্ষা থেকে অনুমান করা যায়: প্রতিটি চাষ-বছরে যে ক্ষতি হয়, তা সেরে ওঠার আগেই আবার চাষ শুরু হয়। Rudra ও Alam-এর উপগ্রহচিত্রে এই ধাপটিই দেখা গেছে: বন পুড়ে ঝোপ, তারপর ঝোপ আবার পুড়িয়ে চাষ।
নীতি-ইতিহাস নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গবেষণা ICIMOD-এর গবেষক Golam Rasul-এর। তাঁর সিদ্ধান্ত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বন ক্ষয়ের শুরু ব্রিটিশ আমলে বন জাতীয়করণ ও বড় আকারের বাণিজ্যিক কাঠ আহরণ দিয়ে; সংরক্ষিত বন, কাপ্তাই বাঁধ, সমতল থেকে বসতি স্থাপন আর রাবার-বাগানের জন্য জমি ইজারা সেই ক্ষয় ত্বরান্বিত করেছে।
Rasul-এর দুটি লেখা আছে: IIED-এর Gatekeeper সিরিজের 119 নম্বর পুস্তিকা (2005) আর Environmental Conservation সাময়িকীতে প্রবন্ধ (2007, খণ্ড 34, পৃ. 153–163)। পুস্তিকায় তিনি বিপরীত মতটিও উদ্ধৃত করেছেন: Farid ও Hossain-এর 1988 সালের এক লেখার বরাতে, জুম ও তার আগুন পার্বত্য চট্টগ্রামের বনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে। ঠিক পরের বাক্যে তিনি লিখেছেন, বন উজাড়ের জন্য জুমচাষিরা একা দায়ী নন।
পুস্তিকা থেকে পর্বভিত্তিক কালানুক্রম:
Rasul-এর মূল যুক্তি: জমি কমেছে, অথচ পাহাড়ে গাছ লাগিয়ে লাভ পাওয়ার পথ আটকে আছে। 1973 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম বনজ দ্রব্য চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী নিজের জমির কাঠ কাটতে ও নিতে সরকারি লিখিত অনুমতি লাগে; সেই অনুমতি ঘুষ ছাড়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে Huq (2000)-এর বরাতে লিখেছেন তিনি। তাঁর নিজের 2003 সালের মাঠ-তথ্য থেকে নেওয়া দামের ছকে সেগুনের দাম খামারে প্রতি ঘনফুট 170–190 টাকা, বান্দরবান বাজারে 200–250, আর চট্টগ্রামে 750–800; কৃষক পান আঞ্চলিক দামের মাত্র 29 শতাংশ। জুমে আগাম বিনিয়োগ লাগে না, কয়েক মাসেই ফসল আসে; তাই গরিব কৃষকের কাছে সেটিই একমাত্র বিকল্প থেকে যায়।
আমাদের আর্কাইভে প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুনের “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে জুমচাষ ও জুমিয়া” লেখাটিও একই কালপর্বের কথা বলে: ব্রিটিশ প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল একদিকে লাঙলচাষে রাজস্ব বাড়ানো, অন্যদিকে বড় অংশজুড়ে সংরক্ষিত বন বানিয়ে কাঠ আহরণ ও সেগুন চাষ; আর কাপ্তাই বাঁধের পর জুমের উপযোগী পাহাড়ি জমিও অন্যভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। লেখাটিতে আছে, 1967 সালে চালু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পে হ্রদ-উপদ্রুত 59টি মৌজায় 10,825 একর পাহাড়ি জমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়া হয়।
তামাকের বড় প্রভাব জমি দখলে যতটা, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি কাঠে। লামার 242 জন তামাকচাষির ওপর 2024 সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ তামাক হয় সমতল জমিতে, কিন্তু পাতা শুকাতে চাষিপ্রতি গড়ে 5,390 কেজি জ্বালানি কাঠ লাগে। সরকারি রেফারেন্স লেভেলও লিখেছে, পাতা শুকানোর জ্বালানির চাহিদা নিয়ে তামাক পাহাড়ি বনে ছড়াচ্ছে।
গবেষণাটি Niamah Atya Mim, Shaikh Shamim Hasan, Muhammad Ziaul Hoque, Minhaz Ahmed ও Prabin Chakma-র, প্রকাশ মে 2024-এ Clean Technologies সাময়িকীতে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় দৈবচয়নে বাছা 242 জন চাষির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। চাষিদের গড় অভিজ্ঞতা প্রায় 10 বছর, তামাকের জমি গড়ে 0.97 একর, বছরে উৎপাদন প্রায় 2 মেট্রিক টন, আয় প্রায় 89,066 টাকা। 77 শতাংশ চাষি মনে করেন তামাক পরিবেশ ও চাষির স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণাটি চাষির নিজের জানানো তথ্যের ওপর দাঁড়ানো, মাপা বন উজাড় নয়।
তামাক কীভাবে জুমের জায়গা নেয়, তার প্রথম দিকের একটি মাঠ-গবেষণা IUCN বাংলাদেশের Mohammad Abdul Motaleb ও Haseeb Md Irfanullah-এর, প্রকাশ 2011 সালে Indian Journal of Traditional Knowledge-এ। গবেষণাটি হয়েছিল 2009 সালের প্রথমার্ধে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নে, যেখানে প্রায় 10,300 মানুষের বাস এবং মারমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দৈবচয়নে বাছা 50টি তামাকচাষি পরিবারের সঙ্গে প্রশ্নপত্র, আর হেডম্যান, কারবারি ও প্রবীণদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
লেখকদের হেক্টরপ্রতি হিসাবে তামাকের নিট লাভ (1,078 ডলার) জুমের (343 ডলার) চেয়ে বেশি, কিন্তু খরচের অনুপাতে লাভ জুমে বেশি (91 শতাংশ বনাম 69 শতাংশ), কারণ জুমে খরচ কম। এই গবেষণা একটি ইউনিয়নের, এক জনগোষ্ঠীর প্রাধান্যের এলাকার; অন্য উপজেলা বা জনগোষ্ঠীর বেলায় ফল একই হবে কি না, গবেষণাটি তা বলে না।
তামাক চুল্লিতে বছরে কত কাঠ পোড়ে, তার কোনো নিয়মিত সরকারি পরিমাপ পাওয়া যায়নি। যা আছে, তা বিভিন্ন বছরের অনুমান:
| উৎস ও তারিখ | এলাকা | চুল্লি | কাঠ | কার বক্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| দ্য ডেইলি স্টার, 20 মে 2009 | তিন পার্বত্য জেলা | 2,000 | বছরে 60–70 হাজার মেট্রিক টন | পরিবেশবাদীরা |
| ঢাকা ট্রিবিউন, 4 মার্চ 2017 | বান্দরবান জেলা | উল্লেখ নেই | বছরে প্রায় 1,00,000 টন | সংবাদের নিজস্ব হিসাব, উৎস অনুল্লিখিত |
| ঢাকা ট্রিবিউন, 30 সেপ্টেম্বর 2018 | তিন পার্বত্য জেলা | 2,978 | শিরোনামে 1,34,010 মণ, ভেতরে 4,46,700 মণ | পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন |
| Mim ও সহলেখক, 2024 | লামা উপজেলা | — | চাষিপ্রতি গড়ে 5,390 কেজি | 242 চাষির জানানো তথ্য |
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে একটি অনুপাতও আছে: 1 কেজি পাতা শুকাতে 3 কেজি জ্বালানি, আর প্রতিটি চুল্লিতে বছরে প্রায় 2,000 কেজি পাতা। এই দুই সংখ্যা গুণ করলে চুল্লিপ্রতি বছরে প্রায় 6,000 কেজি জ্বালানি দাঁড়ায়; লামার হিসাবটি চাষিপ্রতি, চুল্লিপ্রতি নয়, তাই দুটি সরাসরি তুলনীয় নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী কিছু চুল্লিতে পোশাক কারখানার ঝুট, ধৈঞ্চা ও কাঠকয়লাও পোড়ে, আর মাত্র 40 শতাংশ চুল্লি জ্বালানি-সাশ্রয়ী পদ্ধতির।
বান্দরবানে তামাকের জমি নিয়ে দুটি প্রায় একই সময়ের সংখ্যা মেলে না: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাতে 2007–08 সালে 1,437 হেক্টর (Motaleb ও Irfanullah), আর দ্য ডেইলি স্টারের 2009 সালের সংবাদে “গত বছর” 2,312 হেক্টর। একই সংবাদে তিন জেলায় মোট 2,626 হেক্টর, যার খাগড়াছড়িতে 209 ও রাঙামাটিতে 105 হেক্টর। সংবাদে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বান্দরবান ব্যবস্থাপকের বক্তব্যও আছে: তাঁদের 1,200 একর তামাকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি।
ঢাকা ট্রিবিউনের 2017 সালের প্রতিবেদন জানিয়েছে, 2010 সালে বান্দরবানের জেলা জজ জেলায় তামাক চাষের যে 1,000 হেক্টর সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা পার হয়ে গেছে; লামা ও আলীকদমে বিদ্যালয়ের মাঠ, সরকারি জমি, রক্ষিত বন আর মাতামুহুরীর চরেও তামাক হচ্ছে। লামার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তামাকে নিরুৎসাহিত করছে, কিন্তু কৃষকেরা বেশি লাভ চান।
মাঠপর্যায়ের সাম্প্রতিক বিবরণ এসেছে Nur Nishat Anjum-এর দুটি মতামত-লেখায় (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 3 জুলাই 2026; ঢাকা ট্রিবিউন, 6 জুলাই 2026), যা 2025 সালের শেষ দিকে আলীকদমের তিনটি গ্রামে তাঁর মাঠকর্মের ভিত্তিতে লেখা। তাঁর অনুমান, মৌসুমের চূড়ায় আলীকদমের আবাদযোগ্য জমির 85–90 শতাংশে তামাক থাকে; চুল্লির কাঠ আসে আশপাশের পাহাড় থেকে, আর তাঁর পর্যবেক্ষণে উপজেলায় বন থেকে কাঠ তোলার প্রধান চালক এখন তামাক শুকানো। এগুলো একজন গবেষকের পর্যবেক্ষণ; উপজেলাভিত্তিক কোনো পরিমাপ লেখা দুটিতে নেই।
উপগ্রহের হিসাবে বাগান প্রায়ই “বন” হিসেবে গোনা হয়, তাই বাগান বাড়লে কাগজে বন বাড়ে। কিন্তু Global Forest Watch-এর বরাতে প্রথম আলো 2022 সালে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বনায়নের বড় অংশ আসলে পাহাড়ি প্রাকৃতিক বনের জায়গায় ফলবাগান। নীতি-গবেষণা রাবার ও সেগুন বাগানকে জুমের জমি কমার একটি কারণ হিসেবেও দেখিয়েছে।
প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের 22 মার্চ 2022-এর প্রতিবেদনে Global Forest Watch ও World Resources Institute-এর হিসাব আছে: 2002 থেকে 2020 সালে বাংলাদেশের মোট প্রাকৃতিক বনের 3.7 শতাংশ ধ্বংস হয়েছে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে 9 শতাংশের বেশি; একই সময়ে দেশের মোট বনায়নের 78 শতাংশ হয়েছে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে, যার অনেকটাই প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনের জায়গায় বাগান। একই প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটি কার্যালয়ের বরাতে আছে, তিন জেলায় 12 বছরে ফলগাছ লাগানো পাঁচ গুণ বেড়েছে, আর 2020–21 অর্থবছরে প্রায় 8,000 একরে ফলগাছ লাগানো হয়েছে। বন অধিদপ্তরের 2021 সালের হিসাবে তিন জেলায় 5,000 দখলদার 16,644 হেক্টর বনভূমি দখলে রেখেছে।
প্রতিবেদনটি কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের সীতা পাহাড়ের বর্ণনা দিয়েছে: কাগজে সংরক্ষিত বন, ভেতরে ফলবাগান, বাড়িঘর, এমনকি হোটেল। এক অস্থায়ী মারমা বাসিন্দা জানিয়েছেন, শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জমি ইজারা নিয়ে বাগান করেছেন; একসময় রাবারগাছ বনের বেশির ভাগ জুড়ে ছিল, এখন কাঠের গাছ আর ফলবাগান; স্থানীয়রা জমির মালিকানা হারিয়ে নিজেদের জমিতে গড়া বাগানের শ্রমিক হয়েছেন এবং জুম থেকে সরে গেছেন।
Mahmud, Rahman ও Hossain-এর 2018 সালের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে সেগুন বাগানের শুরু 1871 সালে। আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন, উনিশ শতকের সত্তরের দশক থেকে সরকার বার্মা থেকে আনা সেগুনের একক বনবাগান গড়তে শুরু করে, আর তাতে উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য “দারুণভাবে” ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তাঁদের হিসাবে প্রজাতি-সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক বনের অবশিষ্ট এখন কেবল ভারত-সীমান্তের কাচালং আর মিয়ানমার-সীমান্তের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে (বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী)।
Rasul-এর হিসাবে 1992 সালে 4,000 হেক্টর রাবার বাগানের জন্য ইজারা দেওয়া হয়; 2007 সালের প্রবন্ধে তিনি রাবার, উদ্যান ও স্থায়ী কৃষির জন্য বনভূমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়াকে ক্ষয় ত্বরান্বিত করার কারণগুলোর মধ্যে রেখেছেন। আমাদের আর্কাইভের একই লেখা অনুযায়ী কেবল বান্দরবান জেলায় 40,077 একর জমির 1,605টি প্লট বাইরের মানুষকে ইজারা দেওয়া হয়েছে, আর এসব পাহাড় ছিল মূলত জুমভূমি ও মৌজা বন। লামায় একটি রাবার কোম্পানির ইজারা নিয়ে ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়ার বিরোধের নথিভিত্তিক বিবরণ আছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ও ম্রো ভূমি বিরোধের লেখায়।
Ahammad, Hossain ও সহলেখকেরা (Land Use Policy, 2022) পার্বত্য চট্টগ্রামে আগের বন-পুনরুদ্ধার কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছেন, সেগুলোতে অংশগ্রহণমূলক বৃক্ষরোপণ, উদ্যান আর রাবারভিত্তিক বনকৃষি ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু জোর ছিল কেবল গাছের আচ্ছাদন বাড়ানোয়; পুনরুদ্ধার করা বনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত কার্যকারিতা বা কার্বন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাঁদের হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের রাষ্ট্রীয় বনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি, যার বেশির ভাগই মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত।
Ahammad, Stacey ও Sunderland-এর আরেকটি গবেষণা (Land Degradation & Development, 2021) তিন অঞ্চলে 175–300টি পরিবার ও 30 জন খামার-মালিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখিয়েছে, গত 30 বছরে অর্ধেকের বেশি পরিবারের খাদ্য উৎপাদনের জমি কমেছে; ফসলের জমি, প্রধানত জুম, কমেছে আর লাগানো গাছের এলাকা বেড়েছে। দুর্গম অঞ্চলের মানুষ এখনো জুম, পতিত জমি, ফলবাগান ও প্রাকৃতিক বন থেকে নানা রকম খাবার পান; সড়কের কাছের অঞ্চলে খাবারের উৎসের বৈচিত্র্য কমেছে।
মাটির গুণ মেপে দুটি গবেষণা দেখিয়েছে, পাশাপাশি জুমজমির চেয়ে সেগুন ও রাবার বাগানের মাটিতে আর্দ্রতা ও জৈব পদার্থ বেশি; আরেকটি গবেষণা বলছে, একক সেগুন বাগানে পাতা সরিয়ে নেওয়ায় মাটির পুষ্টি কমে যায়। তিনটিই মাটি মেপেছে, বনের প্রজাতি-বৈচিত্র্য বা বন্যপ্রাণী নয়।
| গবেষণা | কোথায়, কী তুলনা | ফল | লেখকদের সুপারিশ |
|---|---|---|---|
| Miah, Haque, Sumi ও Hossain, Journal of Forestry Research, 2014 | খাগড়াছড়ির Aatmile (গবেষণার সারাংশে যে বানানে আছে); একটি জুমজমি আর পাশের 13 বছরের সেগুন বাগান, একই ঢাল ও মাটির ধরন | জুমজমির উপরের ও নিচের মাটিতে আর্দ্রতা, জৈব পদার্থ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কম | অণুজীবের পার্থক্যের কারণ আর্দ্রতা ও জৈব পদার্থের ঘাটতি |
| Arman, Khatun ও Masum, Forestist, 2024 | পার্বত্য চট্টগ্রাম; একটি জুমজমি, আগে জুম হতো এমন জমিতে 14 বছরের সেগুন ও 16 বছরের রাবার বাগান | জৈব পদার্থ সেগুনে 5.27%, রাবারে 5.26%, জুমে 4.51%; ফসফরাস ও পটাশিয়ামও বাগানে বেশি; নাইট্রোজেন ও pH-এ পার্থক্য নেই | মাটি সংরক্ষণের দিক থেকে জুমজমিকে সেগুন বা রাবারে রূপান্তর ভালো বিকল্প হতে পারে |
| Mahmud, Rahman ও Hossain, Journal of Forestry Research, 2018 | বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের সেগুন বাগান | বয়স্ক বাগানে জৈব কার্বন বেশি; কিন্তু বনতল থেকে অতিরিক্ত পাতা সরানোয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম কম; উপরের মাটি শুকনো | একক সেগুন নয়, অন্য প্রজাতির সঙ্গে মিশিয়ে লাগানো; বনতলে শিম-জাতীয় গুল্ম |
এই তুলনাগুলো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের জুমজমির সঙ্গে একটি পরিণত বাগানের। Gafur-এর পরীক্ষায় যে দেখা গেছে জুমজমি পতিতের প্রথম বছরেই অনেকটা সেরে ওঠে, সেই পতিত অবস্থার সঙ্গে বাগানের তুলনা এই তিন গবেষণায় নেই। আবার প্রাকৃতিক বনের মাটির সঙ্গেও বাগানের তুলনা এখানে নেই। তাই “বাগানের মাটি জুমের চেয়ে ভালো” সিদ্ধান্তটি কেবল জুমের চাষ-অবস্থার সঙ্গে তুলনায় খাটে।
Ahammad ও সহলেখকদের 2018 সালের গবেষণা অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বন বদলের প্রধান চালক এখনো জুম, কিন্তু সড়কের কাছের ও মধ্যবর্তী এলাকায় প্রধান চালক কাঠ ও জ্বালানি কাঠ আহরণ, যা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। অর্থাৎ একই অঞ্চলে কারণটা জায়গাভেদে আলাদা।
গবেষণাটি Science of the Total Environment সাময়িকীতে প্রকাশিত; লেখক Ronju Ahammad, Natasha Stacey, Ian Eddy, Stephanie Tomscha ও Trey Sunderland। তাঁরা তিনটি অঞ্চল বেছেছেন সড়ক থেকে দূরত্ব ধরে: দুর্গম, মধ্যবর্তী ও সড়কসংলগ্ন। সড়কের যত কাছে, বন তত কম আর কৃষির পরিবর্তন তত বেশি। 1989–2014 সালের উপগ্রহচিত্রের সঙ্গে তাঁরা পরিবার-সাক্ষাৎকার ও অংশগ্রহণমূলক দলগত আলোচনা মিলিয়েছেন।
Rasul-এর 2005 সালের পুস্তিকায় একটি উদাহরণ আছে, যা সড়কের অন্য দিকটা দেখায়। আশির দশকের শুরুতে বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের পাশে বসতি করা পরিবারগুলোকে সরকার দুই হেক্টর করে ঢালু জমি স্থায়ী দলিলসহ দেয়। কিছু গ্রামে মিশনারিদের উদ্যোগে উদ্যান-প্রশিক্ষণ, উপকরণ ও ঋণ দেওয়া হয়। জমির নিশ্চয়তা, সারা বছরের সড়ক আর জেলা সদরের কাছের বাজার মিলিয়ে সেখানে জুম “প্রায় নগণ্য” হয়ে গেছে, জায়গা নিয়েছে ফলগাছ, বনকৃষি ও মিশ্র ফসল। Rasul এই উদাহরণে কোন জনগোষ্ঠীর গ্রাম, তা বলেননি।
সড়কের প্রভাব নিয়ে আমাদের আর্কাইভের একটি পর্যবেক্ষণও আছে: জুয়ামলিয়ান আমলাই লিখেছেন, পাহাড় কেটে রাস্তা হওয়ার পর অসাধু ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রাকৃতিক বন আর বন বিভাগের বাগান দুটোই উজাড় করে পাচার হচ্ছে (বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম)।
যেসব গবেষণা মালিকানার প্রশ্ন তুলেছে, সবগুলো এক দিকে গেছে: যাঁদের জমির নিশ্চিত অধিকার আছে, তাঁরা গাছ লাগাতে, বন পুনরুদ্ধারে যোগ দিতে আর জুমের বাইরের চাষে যেতে বেশি আগ্রহী। Borggaard (2003), Rasul (2005, 2007) আর Ahammad ও সহলেখকদের দুটি 2022 সালের গবেষণা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
Chakma ও সহলেখকেরা (2023) একই দিকে আরেকটি কথা বলেছেন: সামাজিক বা সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আর নিশ্চিত মালিকানা ভালো বনের অবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে অন্য গবেষণার প্রমাণ আছে। পাহাড়ের মৌজা বন বা গ্রামীণ সাধারণ বন এর একটি স্থানীয় রূপ; অম্লান চাকমার লেখা গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনাঃ প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের আর্কাইভে আছে।
জুমজার্নাল আর্কাইভের যে লেখকেরা এ প্রশ্নে লিখেছেন, তাঁরা সবাই একটি কথা বলেছেন: শত শত বছরের জুমে পাহাড়ের বন শেষ হয়নি, বড় ক্ষয় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক কাঠ আহরণ আর রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে। তবে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা এটাও লিখেছেন যে জুমের বিরতি কমেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি (সম্মান)-এর মিশুক চাকমা তাঁর লেখায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব) বন ধ্বংসের পাঁচটি কারণ তালিকা করেছেন: বাণিজ্যিক কাঠ আহরণ, জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত গাছ কাটা, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাঠ ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি, আর তাঁর ভাষায় “অনুপ্রবেশকারীদের” জমি আবাদ ও সামরিক চলাচলের পথের দুই ধারে জঙ্গল কাটা। জুম প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি, জুম হয় প্রধানত অশ্রেণীভুক্ত বনের বাঁশবনে, আর একবার চাষের পর জমি অন্তত 4–5 বছর পতিত রাখা হয়।
মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা একটি পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন: বন বিভাগের মতে জুম পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, আদিবাসীদের মতে প্রথাগত জুম ক্ষতিকর নয়, কারণ জঙ্গল পরিষ্কার হলেও বড় গাছ কাটা হয় না। তাঁরা লিখেছেন, পতিত জমিতে (চাকমা ভাষায় “রান্যা”) সবজি ও ফসল জন্মায়, ধীরে ধীরে ঝোপ ও গাছ, আর খাবারের খোঁজে পশুপাখি আসে।
জুয়ামলিয়ান আমলাই তামাক নিয়ে লিখেছেন: একদিকে জুমভূমি নিয়ে বন-বাগান করা হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটায় হাজার হাজার টন গাছ পুড়ছে, আর তার সমপরিমাণ গাছ পুড়ছে তামাক চুলায়। এটি তাঁর পর্যবেক্ষণ; সংখ্যার উৎস লেখায় দেওয়া নেই।
এই লেখকদের যুক্তির সঙ্গে গবেষণার মিল-অমিল দুই-ই আছে। Rasul-এর নীতি-ইতিহাস আর Ahammad-এর সড়কসংলগ্ন অঞ্চলের ফল তাঁদের কথার পাশে দাঁড়ায়। আবার Rudra ও Alam-এর অববাহিকা-গবেষণা আর রেফারেন্স লেভেলের কারণ-তালিকা জুমকেও বন উজাড়ের একটি চালক হিসেবে রেখেছে, বিশেষত পতিত ছোট হয়ে আসার পর।
গবেষণা একক উত্তর দেয় না। Gafur ও সহলেখকদের 2003 সালের পরীক্ষায় জুমের চাষ-বছরে মাটিক্ষয় প্রায় 6 গুণ হয়েছে, কিন্তু পতিতের প্রথম বছরেই প্রায় স্বাভাবিকে ফিরেছে। সরকারি রেফারেন্স লেভেল (2019) জুমকে অবৈধ কাঠ কাটা, জ্বালানি কাঠ ও তামাকসহ বাণিজ্যিক কৃষির পাশে কারণ হিসেবে রেখেছে। Rasul (2005, 2007) দেখিয়েছেন, জুমের চাপ বেড়েছে জমি হারানোয়।
উপগ্রহ-গবেষণাগুলো একমত নয়। Roy ও সহলেখকদের (2015) হিসাবে 1989–2014 সালে তিন জেলায় পাহাড়ি বন 74.44% থেকে 51.2% হয়েছে। Chakma ও সহলেখকদের (2023) হিসাবে 1998–2018 সালে “বন” শ্রেণি 2,708 বর্গকিলোমিটার বেড়েছে। দ্বিতীয়টিতে শ্রেণি মাত্র চারটি, বাগান ও প্রাকৃতিক বন আলাদা নয়।
বাংলাদেশের বন উজাড়ের রেফারেন্স লেভেল (সংশোধিত, জুলাই 2019) অনুযায়ী 2000–2015 সালে পাহাড়ি অঞ্চলে বছরে গড়ে 8,963 হেক্টর বন উজাড় হয়েছে, আর 7,154 হেক্টরে বনায়ন। জাতীয় মোট বন উজাড় বছরে 10,127 হেক্টর। এই “পাহাড়ি অঞ্চলে” তিন পার্বত্য জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বৃহত্তর সিলেটের তিন জেলাও আছে।
Gafur ও সহলেখকদের (Journal of Hydrology, 2003) মাপে পতিত ঢালে বছরে হেক্টরপ্রতি প্রায় 3 টন, চাষের বছরে তার প্রায় 6 গুণ; উঁচু অংশে প্রায় 30 টন। অঞ্চলজুড়ে গড় পলি-নির্গমন তাঁদের হিসাবে 1.2 টন। বাংলাপিডিয়ার “Jhum” ভুক্তি বলছে হেক্টরপ্রতি 100 থেকে 250 মেট্রিক টন; ভুক্তিতে এর উৎস দেওয়া নেই।
উৎসভেদে সংখ্যা আলাদা। আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন 10–15 বছর থেকে এখন 5–10 বছর; বাংলাপিডিয়া বলছে 10 বছর থেকে 2–3 বছর, অন্যত্র 7–8 থেকে 3–4; Rudra ও Alam (2025) লিখেছেন 12–15 থেকে 2–3 বছর; Borggaard ও সহলেখকেরা 1998–99 সালে পেয়েছেন 3–5 বছর।
উৎসগুলো প্রধানত জমি কমে যাওয়ার কথা বলে। Rasul (2005) তালিকা দিয়েছেন: 1880-এর দশকে 1,345 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন, 1960-এর দশকে কাপ্তাই জলাধারে প্রায় 22,000 হেক্টর সেরা আবাদি জমি, 1971-এর পর 2,00,000-এর বেশি মানুষের বসতি, আর 1992 সালে 50,000 হেক্টর নতুন সংরক্ষিত বন ও 4,000 হেক্টর রাবার-ইজারা। বাংলাপিডিয়া জনসংখ্যার চাপ, কাপ্তাই ও বসতির কথা বলেছে।
প্রধান প্রভাব পাতা শুকানোর কাঠে। লামার 242 চাষির ওপর Mim ও সহলেখকদের (2024) গবেষণায় বেশির ভাগ তামাক সমতল জমিতে, কিন্তু চাষিপ্রতি গড়ে 5,390 কেজি জ্বালানি কাঠ লাগে। সরকারি রেফারেন্স লেভেল লিখেছে, জ্বালানির চাহিদা নিয়ে তামাক পাহাড়ি বনে ছড়াচ্ছে। বছরে মোট কত কাঠ পোড়ে, তার নিয়মিত সরকারি পরিমাপ পাওয়া যায়নি।
অনুমানগুলো আলাদা: দ্য ডেইলি স্টার (2009) পরিবেশবাদীদের বরাতে 2,000 চুল্লিতে 60–70 হাজার মেট্রিক টন; ঢাকা ট্রিবিউন (2017) বান্দরবানে প্রায় 1,00,000 টন; ঢাকা ট্রিবিউনে পরিবেশ অধিদপ্তরের 2018 সালের প্রতিবেদন 2,978 চুল্লিতে, শিরোনামে 1,34,010 মণ ও ভেতরে 4,46,700 মণ। ওই প্রতিবেদনে 1 কেজি পাতা শুকাতে 3 কেজি জ্বালানির অনুপাতও আছে।
নিয়মিত হালনাগাদ সংখ্যা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাতে Motaleb ও Irfanullah (2011) লিখেছেন, 1995–96 সালে 127 হেক্টর থেকে বারো বছরে 1,437 হেক্টর। দ্য ডেইলি স্টারের 2009 সালের সংবাদে আগের বছর বান্দরবানে 2,312 হেক্টর, তিন জেলায় 2,626 হেক্টর। 2010 সালে জেলা জজের বেঁধে দেওয়া 1,000 হেক্টরের সীমা 2017 সালে পার হয়ে গেছে বলে জানায় ঢাকা ট্রিবিউন।
সরকারি রেফারেন্স লেভেলে হয়: 2015 সালের মানচিত্রের “বনবাগান” শ্রেণি পাহাড়ি বন ও বাঁশবনের সঙ্গে এক “বৃক্ষপ্রধান এলাকা” শ্রেণিতে জোড়া হয়েছে, আর ফলবাগান ও জুম গেছে “ঝোপ ও ছড়ানো গাছ” শ্রেণিতে। Global Forest Watch-এর বরাতে প্রথম আলো (2022) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বনায়নের অনেকটাই প্রাকৃতিক বনের জায়গায় বাগান।
Miah ও সহলেখক (2014) খাগড়াছড়িতে আর Arman ও সহলেখক (2024) পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখেছেন, পাশের জুমজমির চেয়ে সেগুন ও রাবার বাগানের মাটিতে আর্দ্রতা ও জৈব পদার্থ বেশি। Mahmud ও সহলেখক (2018) বলছেন, একক সেগুন বাগানে পাতা সরানোয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম কমে। কোনোটিই প্রাকৃতিক বন বা পতিত জুমের সঙ্গে তুলনা করেনি।
Ahammad ও সহলেখকদের 2018 সালের গবেষণায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বন বদলের প্রধান চালক জুম, আর সড়কের কাছের ও মধ্যবর্তী এলাকায় কাঠ ও জ্বালানি কাঠ আহরণ। একই গবেষণায় প্রায় 90 শতাংশ পরিবার তীব্র বনক্ষয়ের কথা বলেছে, যদিও উপগ্রহচিত্রে 1989–2003 সালে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
জুমজার্নাল আর্কাইভ
গবেষণা প্রবন্ধ
সরকারি নথি ও বিশ্বকোষ
সংবাদ ও মতামত
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:জুমচাষ, বন ব্যবস্থাপনা, বনভূমি, বান্দরবান
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।