Jumjournal Logo

‘ততোং’: ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই কীভাবে তৈরি হলো

Last updated Nov 3rd, 2026

1

হালকা পটভূমিতে সবুজ রেখার ওপর পাঁচটি বিন্দু: 1901–1927 গ্রিয়ারসনের ভাষা-জরিপ, 1982/1984 ম্রো বর্ণমালা, 1996 এবারসোলের খসড়া, 2009 রাশেলের প্রবন্ধ, আর লাল বিন্দুতে 17 ফেব্রুয়ারি 2022 'ততোং' উন্মোচন

2022 সালের 17 ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল। বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় এক লেখকের বাসায় কোনো মঞ্চ নেই, ব্যানার নেই; ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন ম্রো মানুষ একটি বইয়ের মোড়ক খুললেন। প্রথম আলো সেদিনই খবর ছাপল, শিরোনামে বইটির নাম: ‘ততোং’।

‘ততোং’ ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই — লিখেছেন বান্দরবানের ম্রো লেখক ইয়াংঙান ম্রো, আর তাঁর নিজের কথায়, বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে। ছাপা খবরগুলো বলছে, বইটি লেখার সময় ম্রো সমাজের বিশিষ্টজন ও ম্রো ভাষার শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়েছে, আর লক্ষ্য ছিল ম্রোরা যেন নিজেদের ভাষা শুদ্ধভাবে লিখতে ও পড়তে পারেন।

এই লেখা বইটিকে ঘিরে। মোড়ক উন্মোচনের খবর ছাপা হয়েছিল বাংলা ও ইংরেজি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে; সেগুলো পাশাপাশি রাখলে কোথায় মেলে আর কোথায় মেলে না, বই সম্পর্কে ঠিক কতটুকু প্রকাশ্যে জানা যায়, আর ‘প্রথম ব্যাকরণ’ কথাটির পাশে ভাষাবিজ্ঞানীদের আগের লেখাগুলো কোথায় দাঁড়ায় — সেটাই এখানে। লেখক নিজে কে, তাঁর অন্য বইগুলো কী, সে কথা আছে ইয়াংঙান ম্রো ও তাঁর বই নিয়ে আমাদের আলাদা লেখায়; যে লিপিতে ম্রো ভাষা লেখা হয়, তার ইতিহাস আছে ম্রো লিপি ও মেনলে ম্রোর বর্ণমালা নিয়ে লেখায়।

এই লেখায়
  1. ‘ততোং’ এক নজরে: কে লিখেছেন, কবে, কোথায়
  2. ততোং ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই কীভাবে তৈরি হলো
  3. ব্যাকরণ না থাকায় ম্রো লেখায় কী সমস্যা হচ্ছিল
  4. বইটি কী শেখায়: প্রকাশ্যে যতটুকু জানা যায়
  5. মোড়ক উন্মোচন: 17 ফেব্রুয়ারি 2022, উজানি পাড়া
  6. মোড়ক উন্মোচনের প্রতিবেদনগুলো পাশাপাশি: কে কী লিখেছে
  7. প্রতিবেদনগুলোর অমিল: তারিখ, পদবি, নাম আর বর্ণমালার সাল
  8. অনুষ্ঠানে বক্তারা বইটি নিয়ে কী বললেন
  9. প্রকাশের পর সাড়া: কে কী লিখেছে
  10. ‘প্রথম ব্যাকরণ’ মানে কী: ভাষাবিজ্ঞানীদের আগের লেখা
  11. ভাষাবিজ্ঞানীরা ম্রো ব্যাকরণের কী কী বৈশিষ্ট্য লিখেছেন
  12. ততোং কোথায় পাওয়া যায়
  13. সময়রেখা: ম্রো ব্যাকরণের লেখা, বছর ধরে
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

‘ততোং’ এক নজরে: কে লিখেছেন, কবে, কোথায়

‘ততোং’ ইয়াংঙান ম্রোর লেখা ম্রো ভাষার ব্যাকরণ বই। মোড়ক উন্মোচন হয় 17 ফেব্রুয়ারি 2022, বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় লেখকের বাসভবনে। উন্মোচন করেন ক্রামা ধর্মের লেংয়াং ম্রো। প্রকাশক, পৃষ্ঠাসংখ্যা, দাম বা ছাপার সংখ্যা কোনো প্রতিবেদনে নেই।

বিষয়যা জানা যায়উৎস
বইয়ের নাম‘ততোং’; ইংরেজি প্রতিবেদনে ‘Totong’ (ঢাকা ট্রিবিউন, গ্লোবাল ভয়েসেস) ও ‘Tatong’ (হিল ভয়েস)প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, হিল ভয়েস
লেখকইয়াংঙান ম্রো (বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিনে ‘ইয়াঙান’; ইংরেজিতে ‘Younguang’)প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন
ধরনম্রো ভাষার ব্যাকরণ; ‘ম্রো সম্প্রদায়ের নিজেদের ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ বই’বাংলা ট্রিবিউন
আদর্শবাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণেপ্রথম আলো, ইত্তেফাক
মোড়ক উন্মোচনবৃহস্পতিবার, 17 ফেব্রুয়ারি 2022, সকাল 10টা; লেখকের বাসভবন, উজানি পাড়া, বান্দরবান শহরপ্রথম আলো, চট্টগ্রাম প্রতিদিন
উন্মোচন করেনলেংয়াং ম্রো (প্রথম আলো: ক্রামাধর্মের প্রধান পুরোহিত)প্রথম আলো
লেখকের তখনকার বইয়ের সংখ্যা18টি (বাংলা ট্রিবিউন) বা 28টি (ইত্তেফাক, গ্লোবাল ভয়েসেস, হিল ভয়েস)বাংলা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক
প্রকাশক, পৃষ্ঠা, দাম, ISBNকোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি—

ততোং ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই কীভাবে তৈরি হলো

বই তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে যা আছে, তা মূলত লেখকের মোড়ক উন্মোচনের দিনের বক্তব্য: বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণকে আদর্শ ধরে লেখা, তবে ম্রোদের নিজস্ব নিয়মে; লেখার সময় বিভিন্ন সময়ে ম্রো সমাজের বিশিষ্টজন ও ম্রো ভাষার শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। কত বছর ধরে লেখা হয়েছে, তা কোনো উৎসে নেই।

প্রথম আলো ও ইত্তেফাক দুটিতেই লেখকের উদ্ধৃতি প্রায় একই: “বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে ম্রো ভাষার ‘ততোং’ লেখা হয়েছে।” ঢাকা ট্রিবিউনের ইংরেজি প্রতিবেদনেও একই কথা — বইটি লেখা হয়েছে “in the likeness of Bangla and English grammar”।

বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন দুটি বাড়তি তথ্য দেয়, দুটিই লেখকের বরাতে। এক, “বই‌টি লিখ‌তে বিভিন্ন সময় ম্রো সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজন ও ম্রো ভাষার শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়েছে।” দুই, “ব্যাকরণ বইটি ম্রোদের নিজস্ব নিয়মে লেখা হয়েছে।” কোন কোন বিশিষ্টজন বা শিক্ষক মতামত দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম প্রতিবেদনে নেই।

কেন লিখলেন, সে প্রশ্নে লেখক দুই ধরনের উত্তর দিয়েছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বর্ণমালা উদ্ভাবনের পর “এযাবৎ কোনো ব্যাকরণ রচনা করা হয়নি”, তাই তিনি ব্যাকরণ রচনায় সচেষ্ট হন। ইত্তেফাকেও একই কথা — বর্ণমালা প্রবর্তনের পর “এ ভাষার উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি”, সেই জায়গা থেকে এই ব্যাকরণ। দ্বিতীয় উত্তরটি ব্যক্তিগত: সুয়ালক ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক পরিদর্শক তাঁকে একটি ইংরেজি বাক্য জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি বুঝতে না পেরে উত্তর দিতে পারেননি। বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে, তখন থেকেই তিনি ম্রো ভাষায় ব্যাকরণ বইয়ের প্রয়োজন উপলব্ধি করেন; ইত্তেফাক ও হিল ভয়েস লিখেছে, পরিদর্শক এসেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে, আর সেদিনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন একদিন ব্যাকরণ বই লিখবেন। এই ঘটনার পুরো বিবরণ আছে লেখককে নিয়ে আমাদের লেখায়।

লেখক নিজে আগেভাগেই বইটির সীমা স্বীকার করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “প্রারম্ভিক উদ্যোগ হিসেবে ‘ততোং’-এ অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে।” বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিনে কথাটি আরেকটু বিস্তারে: প্রথম প্রকাশিত বলে ভুলত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে, তবে তা পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করা হবে। দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে কি না, সে খবর 2026 পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ব্যাকরণ না থাকায় ম্রো লেখায় কী সমস্যা হচ্ছিল

প্রতিবেদনগুলো একটি সমস্যার কথাই বারবার বলেছে: লিখিত ম্রো ভাষায় বানান, শব্দপ্রয়োগ ও ক্রিয়াপদের ব্যবহার একেকজন একেকভাবে করতেন, ফলে একজনের লেখা আরেকজনের পক্ষে বোঝা কঠিন হতো। আরেকটি কথা এসেছে শিক্ষকের মুখে — বর্ণমালা এতদিন হাতে লিখে লিখে শেখানো হতো।

প্রথম আলো প্রতিবেদনের ভেতরে আলাদা করে তুলে দিয়েছে সমস্যাটি: “এতদিন ম্রো ভাষার ব্যাকরণ না থাকায় বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বানান, শব্দ প্রয়োগ ও ক্রিয়াপদের ব্যবহার করে আসছিলেন।” একই কথা প্রায় হুবহু অনুষ্ঠানের আলোচক রিংয়ং ম্রোর মুখে; তিনি বলেন, বর্ণমালা উদ্ভাবনের পর থেকে লিখিত রূপের চর্চা শুরু হলেও ব্যাকরণ না থাকায় “একজনের লিখিত রূপ আরেকজনের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।” ঢাকা ট্রিবিউনের শিরোনামের নিচের লাইনটিও এই কথাই বলে — নির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম না থাকায় ম্রো ভাষার লিখিত রূপ মানুষভেদে আলাদা।

শিক্ষক ঙানসিং ম্রোর বক্তব্য অন্য দিক থেকে। বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও গ্লোবাল ভয়েসেসে তাঁর কথা: বর্ণমালা আবিষ্কারের পর “তাদের হাতে লিখে লিখে বর্ণমালা পড়ানো হতো। এখন নিজেদের ভাষায় বই আকারে ছাপা হলো।” গ্লোবাল ভয়েসেসের ইংরেজি অনুবাদে বাক্যটি একটু বড় হয়েছে — “Now the alphabets and the grammar are printed in a book form”; বাংলা মূল উদ্ধৃতিতে ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি আলাদা করে নেই।

ম্রো লিপি কবে থেকে, কোথায়, কীভাবে শেখানো হয় — পাড়ার কমিটি, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক, বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের কোর্স — সেই বিবরণ সূত্রসহ আছে ম্রো লিপির লেখার ‘কোথায় শেখানো হয়’ অংশে। সরকারের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যবই কর্মসূচিতে ম্রো ভাষা নেই, সেটিও সেখানে উৎসসহ বলা আছে; কর্মসূচির সামগ্রিক চিত্র পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে লেখায়।

বইটি কী শেখায়: প্রকাশ্যে যতটুকু জানা যায়

বইয়ের অধ্যায়, সূচি বা কোনো পাতার বিবরণ কোনো প্রতিবেদনে ছাপা হয়নি। যা জানা যায় তা লক্ষ্যের কথা: ম্রোরা যেন নিজেদের ভাষা শুদ্ধভাবে লিখতে ও পড়তে পারেন, আর ম্রো শিক্ষার্থীরা যেন বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বুঝতে পারে। বইটির প্রচ্ছদের ছবি গ্লোবাল ভয়েসেসে ছাপা হয়েছিল।

লেখকের উদ্ধৃতি, যা বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও গ্লোবাল ভয়েসেস তিনটিতেই আছে: “এ বইয়ের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন শুদ্ধভাবে তা‌দের ভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে। বিশেষ করে ম্রো শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বোঝার জন্য বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

দ্বিতীয় বাক্যটির ইংরেজি অনুবাদে গ্লোবাল ভয়েসেস একটি কারণ জুড়ে দিয়েছে — বইটি সাহায্য করবে “as they have similar structures”, অর্থাৎ কাঠামো একই রকম বলে। বাংলা মূল উদ্ধৃতিতে এবং গ্লোবাল ভয়েসেসের বাংলা সংস্করণে এই কারণটি নেই।

আলোচকেরা যে সমস্যার কথা বলেছেন তা বানান, শব্দপ্রয়োগ ও ক্রিয়াপদের। এই তিন বিষয়ে বইটি কী নিয়ম দিয়েছে, ক্রিয়ার কাল বা সর্বনাম কীভাবে সাজিয়েছে — কোনো প্রকাশিত প্রতিবেদন বা পর্যালোচনায় তা নেই।

প্রচ্ছদ নিয়ে: গ্লোবাল ভয়েসেসের ইংরেজি ও বাংলা দুই সংস্করণেই ‘ততোং’-এর প্রচ্ছদের ছবি আছে, সৌজন্য হিসেবে লেখা ইয়াংঙান ম্রো ও ‘আদিবাসী বার্তা’। ছবিটি মুক্ত লাইসেন্সে নয়, তাই এখানে দেওয়া হলো না; আগ্রহী পাঠক মূল প্রতিবেদনে দেখতে পারেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেব্রুয়ারি 2026-এর এক প্রতিবেদনেও একটি ছবির ক্যাপশন “ইয়াংঙান ম্রোর লেখায় ম্রো ভাষায় একটি ব্যাকরণের বই” — ক্যাপশনে বইয়ের নাম নেই।

মোড়ক উন্মোচন: 17 ফেব্রুয়ারি 2022, উজানি পাড়া

মোড়ক উন্মোচন হয় একুশে ফেব্রুয়ারির চার দিন আগে, লেখকের বাসায়, ঘরোয়া পরিবেশে। প্রথম আলোর হিসাবে অনুষ্ঠান শুরু সকাল 10টায়। প্রধান অতিথি ক্রামা ধর্মের লেংয়াং ম্রো; আলোচক ছিলেন ঙানসিং ম্রো, রেংয়ং ম্রো ও তনপাউ ম্রো। হিল ভয়েস লিখেছে, অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় “quite casually”।

প্রথম আলো অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপটে রেখেছে: “কয়েক দিন পরই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। দিবসটিকে সামনে রেখে” মোড়ক উন্মোচন। একই পত্রিকা ম্রোদের বান্দরবানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ‘দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রথম আলোর ছবির ক্যাপশনে সময় লেখা সকাল সাড়ে 10টার দিকে, প্রতিবেদনের ভেতরে সকাল 10টায় অনুষ্ঠানের আয়োজন।

বাংলা ট্রিবিউনের শিরোনামও মাসটিকে সামনে রেখেছে — “ভাষার মাসে ম্রো ভাষাভাষিদের হাতে উঠলো প্রথম ব্যাকরণ বই”। চট্টগ্রাম প্রতিদিন শিরোনামে জুড়েছে বর্ণমালার বয়স: “৩৮ বছর আগে আবিষ্কার হয় বর্ণমালা” ; প্রতিবেদনের ভেতরে বর্ণমালার সাল লেখা 1984।

গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে, সে বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাংলাদেশে ‘হাইলাইট’ ছিল এই বইয়ের প্রকাশ। একই সময়ে চলছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা; তবে ‘ততোং’ মেলায় প্রকাশিত হয়েছিল বা মেলায় পাওয়া যেত — এমন কথা কোনো প্রতিবেদনে নেই। মেলার প্রসঙ্গ এসেছে কেবল এক তরুণ লেখকের প্রতিক্রিয়ায় (নিচে ‘প্রকাশের পর সাড়া’ অংশ দেখুন)।

মোড়ক উন্মোচনের প্রতিবেদনগুলো পাশাপাশি: কে কী লিখেছে

নিচের ছকে 17 ফেব্রুয়ারি থেকে 5 মার্চ 2022-এর মধ্যে প্রকাশিত মোড়ক উন্মোচনের প্রতিবেদনগুলো। সব প্রতিবেদনই একমত যে বইটির নাম ‘ততোং’, লেখক ইয়াংঙান ম্রো, স্থান উজানি পাড়ায় লেখকের বাসা, আর উন্মোচনে ছিলেন লেংয়াং ম্রো। বাকি খুঁটিনাটি — উপস্থিতদের পরিচয়, নামের বানান — প্রতিবেদনভেদে আলাদা।

সংবাদমাধ্যমপ্রকাশঅনুষ্ঠানের দিনকে উন্মোচন করেনআর কারা ছিলেন
প্রথম আলো17 ফেব্রু. 202217 ফেব্রু. (বৃহস্পতিবার)লেংয়াং ম্রো — ক্রামাধর্মের প্রধান পুরোহিত, প্রধান অতিথিঙানসিং ম্রো (ম্রো গানের শিল্পী), রেংয়ং/রিংয়ং ম্রো (ম্রোভাষা বিশেষজ্ঞ), তনপাউ ম্রো (নারী অধিকারকর্মী)
বাংলা ট্রিবিউন18 ফেব্রু. 2022বৃহস্পতিবারলেংয়াং ম্রো — ক্রামা ধর্মের ‘প্রধান শিষ্য’ঙানসিং ম্রো (চিম্বুকের বাগান পাড়া, ম্রো ভাষার শিক্ষক), রিংয়ং ম্রো (চিম্বুকের রুহফু পাড়া)
ঢাকা ট্রিবিউন18 ফেব্রু. 2022বৃহস্পতিবারLengyang Mro — chief priest of KramadharmaNgansing Mro (singer), Renyang Mro (language expert), Tanpau Mro (women’s rights activist)
হিল ভয়েস18 ফেব্রু. 2022‘Thursday (February 18)’Lengyang Mro — ‘a leading disciple’ of the Kramadi religionYoungsing Mro (Mro language teacher), Ryong Mro (social organizer)
চট্টগ্রাম প্রতিদিন19 ফেব্রু. 2022বৃহস্পতিবার (17 ফেব্রুয়ারি)লেংয়াং ম্রো — ক্রামা ধর্মের ‘প্রধান শিষ্য’ঙানসিং ম্রো (ম্রো ভাষার শিক্ষক)
ইত্তেফাক23 ফেব্রু. 2022‘সম্প্রতি’লেংয়াং ম্রো (ক্রামাদি ধর্মের প্রধান পুরোহিত), ঙানসিং ম্রো (শিক্ষক) ও রিয়ং ম্রো (সামাজিক সংগঠক) — তিনজন মিলে—
গ্লোবাল ভয়েসেস5 মার্চ 2022February 17, 2022উল্লেখ নেইNgansing Mro (Mro teacher)

ছকের ‘প্রকাশ’ কলামে প্রতিটি পাতার নিজের প্রকাশের তারিখ। গ্লোবাল ভয়েসেসের লেখাটি তাদের ‘রাইজিং ভয়েসেস’ প্রকল্পের অংশ, লেখক পান্থ রহমান রেজা; বাংলা সংস্করণও একই দিনে প্রকাশিত।

প্রতিবেদনগুলোর অমিল: তারিখ, পদবি, নাম আর বর্ণমালার সাল

অমিল পাঁচ জায়গায়: অনুষ্ঠানের তারিখ (একটি প্রতিবেদনে 18 ফেব্রুয়ারি), লেংয়াং ম্রোর পদবি (প্রধান পুরোহিত না প্রধান শিষ্য), ঙানসিং ম্রোর পরিচয় (শিল্পী না শিক্ষক), এক আলোচকের নামের বানান, আর ম্রো বর্ণমালার সাল (1982 না 1984)। লেখকের তখনকার বইয়ের সংখ্যাও দুই রকম।

প্রশ্নএক উৎসআরেক উৎস
অনুষ্ঠানের তারিখ17 ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার — প্রথম আলো, চট্টগ্রাম প্রতিদিন, গ্লোবাল ভয়েসেস“Thursday (February 18)” — হিল ভয়েস
লেংয়াং ম্রোর পদবিক্রামাধর্মের প্রধান পুরোহিত — প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, ইত্তেফাকক্রামা ধর্মের প্রধান শিষ্য — বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন; ‘a leading disciple’ — হিল ভয়েস
ঙানসিং ম্রোর পরিচয়ম্রো গানের শিল্পী — প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউনম্রো ভাষার শিক্ষক — বাংলা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক, গ্লোবাল ভয়েসেস; বিডিনিউজ (2026): বাগান পাড়ার বাসিন্দা, ম্রো ভাষার প্রশিক্ষক, পেশায় বাগানচাষী
আলোচকের নামরেংয়ং ম্রো / রিংয়ং ম্রো (প্রথম আলো, একই প্রতিবেদনে দুই বানান); Renyang Mro (ঢাকা ট্রিবিউন)রিংয়ং ম্রো (বাংলা ট্রিবিউন); রিয়ং ম্রো (ইত্তেফাক); Ryong Mro (হিল ভয়েস)
ম্রো বর্ণমালার সাল (লেখকের উদ্ধৃতিতে)1982 — প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন; গ্লোবাল ভয়েসেসও 1982 লিখেছে1984 — ইত্তেফাক; বাংলা ট্রিবিউনে ঙানসিং ম্রোর উদ্ধৃতি ও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রতিবেদনও 1984
লেখকের প্রকাশিত বই (ততোং-এর আগে/তখন)18টি: ম্রো ভাষায় 8, বাংলায় 10 — বাংলা ট্রিবিউন; চট্টগ্রাম প্রতিদিনও 18 (ম্রো ভাষায় 8)28টি: ম্রো ভাষায় 18, বাংলায় 10 — ইত্তেফাক, গ্লোবাল ভয়েসেস, হিল ভয়েস

ইত্তেফাকের উদ্ধৃতিতে আরেকটি সূক্ষ্ম কথা আছে: লেখক বলেছেন, “১৯৮৪ সালের এই দিনে” ১৭ বছর বয়সী ক্রামাদি মেনলে বর্ণমালা প্রবর্তন করেন — অন্য কোনো প্রতিবেদনে বর্ণমালা প্রবর্তনের দিন-তারিখের উল্লেখ নেই। বর্ণমালার সাল নিয়ে উৎসগুলোর পুরো তালিকা আছে ম্রো লিপির লেখায়। মেনলে ম্রোর অন্তর্ধানের সালও প্রতিবেদনভেদে আলাদা: প্রথম আলো লিখেছে 1985, বিডিনিউজ (2026) লিখেছে 1984।

লেখকের বইয়ের সংখ্যা 2022-এর পরে আরও বেড়েছে; 2026 পর্যন্ত প্রতিবেদনভেদে হিসাব কেমন বদলেছে, তা লেখককে নিয়ে লেখায় ছকে দেওয়া আছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বইটি নিয়ে কী বললেন

চারজনের বক্তব্য ছাপা হয়েছে। লেংয়াং ম্রো বলেন, ভাষাচর্চার জন্য দরকার ব্যাকরণ, আর ‘ততোং’ ভাষা উন্নয়নের নতুন ইতিহাসের সূচনা। রিংয়ং ম্রো বলেন, বইটি বানান ও শব্দপ্রয়োগের জটিলতার কিছুটা সুরাহা করবে। ঙানসিং ম্রো বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন আরও শুদ্ধভাবে লিখতে-পড়তে পারবে।

লেংয়াং ম্রো (প্রধান অতিথি), প্রথম আলো অনুযায়ী: ম্রো ও অন্য যেকোনো জনগোষ্ঠী ভাষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে টিকে থাকে; ভাষাচর্চার জন্য দরকার ব্যাকরণ; সেই প্রেক্ষাপটে ‘ততোং’ ম্রো জনগোষ্ঠীর ভাষা উন্নয়নের নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে।

রেংয়ং/রিংয়ং ম্রো (প্রথম আলোয় ‘ম্রোভাষা বিশেষজ্ঞ’): ব্যাকরণ না থাকায় বানান, শব্দপ্রয়োগ ও ক্রিয়াপদের ব্যবহার একেকজনের একেক রকম; ‘ততোং’ “সেই জটিলতার কিছুটা হলেও সুরাহা করবে। ভাষার পরিশীলিত চর্চায় সাহায্য করবে।” ঢাকা ট্রিবিউনে: “Younguang’s ‘Totong’ will address at least some of that।” বাংলা ট্রিবিউনে রুহফু পাড়ার রিংয়ং ম্রোর আরেকটি কথা আছে: সামাজিক উন্নয়নের কাজের আগে মাতৃভাষা জানতে হবে, আর মাতৃভাষা রক্ষার মাধ্যমেই ম্রোদের সামাজিক রীতি ও সংস্কৃতি রক্ষা সম্ভব।

ঙানসিং ম্রো: বর্ণমালা হাতে লিখে পড়ানো হতো, এখন বই আকারে ছাপা হলো, ফলে “এখন থেকে বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ম্রো ভাষা আরও শুদ্ধভাবে লিখতে ও পড়তে পারবে।” চার বছর পরে, ফেব্রুয়ারি 2026-এ, বিডিনিউজ তাঁকে পেয়েছে বান্দরবান শহরের একটি ম্রো কম্পিউটারের দোকানে, হাতে ম্রো ভাষার একটি গণিতের বই; তিনি তখনো বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাচ্চাদের ম্রো বর্ণমালা শেখান।

তনপাউ ম্রো (নারী অধিকারকর্মী) আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউন জানায়; তাঁর বক্তব্য কোনো প্রতিবেদনে ছাপা হয়নি।

প্রকাশের পর সাড়া: কে কী লিখেছে

প্রকাশের পরপর সংবাদমাধ্যমের বাইরে প্রতিক্রিয়া এসেছে ফেসবুকে, যা গ্লোবাল ভয়েসেস তুলে ধরেছে। পরের বছরগুলোতে বইটির নাম এসেছে লেখককে নিয়ে প্রতিবেদনে — ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস একে বলেছে ‘first comprehensive grammar book’। বইটির কোনো বিস্তারিত পর্যালোচনা বা সমালোচনা প্রকাশিত হয়নি।

সময়কেকী বলেছে/লিখেছেউৎস
ফেব্রুয়ারি 2022সুহান রিজওয়ান (লেখক), ফেসবুকেগ্রন্থমেলার সব বইয়ের মাঝে “যে বইটা অমূল্য”গ্লোবাল ভয়েসেস
ফেব্রুয়ারি 2022তুফান চাকমা (শিল্পী), ফেসবুকেইয়াংঙান ম্রোর আবির্ভাব পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্ধকারে আলোর রেখার মতো; লেখকের একটি প্রতিকৃতিও আঁকেন, যা গ্লোবাল ভয়েসেস অনুমতি নিয়ে ছেপেছেগ্লোবাল ভয়েসেস
5 মার্চ 2022গ্লোবাল ভয়েসেস (রাইজিং ভয়েসেস)শিরোনাম: প্রথম ম্রো ব্যাকরণ বই আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য ‘a ray of hope’ইংরেজি, বাংলা
18 আগস্ট 2022দ্য ডেইলি স্টার বাংলালেখকের বইয়ের তালিকায় ম্রো ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান ‘অন্যতম’ডেইলি স্টার বাংলা
31 জানুয়ারি 2023দেশেবিদেশে (কালের কণ্ঠকে দেওয়া লেখকের বক্তব্যসহ)“গত বছর লিখেছেন ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই ‘ততোং’”দেশেবিদেশে
19 ফেব্রুয়ারি 2023ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (রাসিক আজিজ কবির)লেখক আলোচনায় আসেন “after writing the first comprehensive grammar book in his native language, Mro”ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
21 ফেব্রুয়ারি 2026বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমবাংলা সংস্করণে ছবির ক্যাপশন “ম্রো ভাষায় একটি ব্যাকরণের বই”; ইংরেজি সংস্করণে ম্রো ভাষার উপকরণের তালিকায় “grammar books”বাংলা, ইংরেজি

বিডিনিউজের ইংরেজি সংস্করণে শব্দটি বহুবচনে — ‘grammar books’। এর অর্থ ‘ততোং’-এর পরে আরও ব্যাকরণ বই বেরিয়েছে কি না, প্রতিবেদন তা খুলে বলেনি; বাংলা সংস্করণে একটি বইয়ের ছবিই আছে।

ফেসবুক পোস্ট দুটির উদ্ধৃতি গ্লোবাল ভয়েসেসের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।

‘প্রথম ব্যাকরণ’ মানে কী: ভাষাবিজ্ঞানীদের আগের লেখা

‘ততোং’-এর আগেও ম্রো ভাষার গঠন নিয়ে লেখা হয়েছে — ইংরেজিতে, ভাষাবিজ্ঞানীদের হাতে, গবেষণাপত্র বা অপ্রকাশিত খসড়া হিসেবে। প্রতিবেদনগুলো ‘ততোং’-কে বলেছে ম্রো সম্প্রদায়ের ‘নিজেদের ভাষায় লেখা’ প্রথম ব্যাকরণ বই। দুটি তথ্য নিচে পাশাপাশি দেওয়া হলো।

প্রতিবেদনগুলোর শব্দচয়ন — বাংলা ট্রিবিউন: “ম্রো ভাষায় বিভিন্ন লেখা ও বইপত্র থাকলেও এবারই ম্রো সম্প্রদায়ের নিজেদের ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ বই প্রকাশ হয়েছে।” চট্টগ্রাম প্রতিদিন: “ম্রো ভাষায় আগে থেকে কিছু বইপত্র থাকলেও এই ভাষার ব্যাকরণ কখনও ছিল না।” গ্লোবাল ভয়েসেস: “the first grammar book written in Mro”। ঢাকা ট্রিবিউনে লেখকের বরাতে: “no Mro grammar book had been written before this”।

ভাষাবিজ্ঞানের দিক থেকে যে লেখাগুলোর হদিস পাওয়া যায়:

সাললেখাকী ধরনেরযেখানে উল্লেখ
1901–1927জর্জ গ্রিয়ারসন, Linguistic Survey of Indiaঔপনিবেশিক ভাষা-জরিপ; ম্রোকে ‘Burman’ দলে রেখে ‘puzzling language’ বলা হয়েছেরাশেল 2009-এর উদ্ধৃতি
1966লোফলার (Loffler)শ্রেণিবিন্যাস: ম্রো কুকি-চিন নয়, বর্মি-লোলো দলের সঙ্গে দূর সম্পর্ক থাকতে পারেরাশেল 2009-এর উদ্ধৃতি
1996হ্যারল্ড এবারসোল, ‘The Mru Language: A preliminary grammatical sketch’অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি (Ms.)ইংরেজি উইকিপিডিয়া, Mru language
2005ডেভিড এ. পিটারসন, ‘Initial observations on Bangladesh Mru morphosyntax’সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ (ICSTLL 38, শিয়ামেন)CrossGram গ্রন্থপঞ্জি
2009ডেভিড এ. পিটারসন, ‘Where does Mru fit into Tibeto-Burman?’সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ (ICSTLL 42, চিয়াং মাই)ইংরেজি উইকিপিডিয়া
2009মো. মোস্তফা রাশেল, ‘Morphosyntactic Analysis of Mro Language’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল অব লিঙ্গুইস্টিকস, খণ্ড 2, সংখ্যা 3, পৃ. 141–160বাংলাজল
2022ইয়াংঙান ম্রো, ‘ততোং’ম্রো ভাষার ব্যাকরণ বই, ম্রো সম্প্রদায়ের নিজেদের ভাষায়বাংলা ট্রিবিউন

রাশেলের প্রবন্ধটি ইংরেজিতে লেখা; তিনি জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহ হয়েছে বান্দরবানে তিন মাসের মাঠকাজে, ম্রো সম্প্রদায়ের মূল তথ্যদাতাদের সঙ্গে আলোচনা ও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে, আর সময়ের সীমার কারণে ভাষাটির সব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা যায়নি। এবারসোলের খসড়াটি প্রকাশিত হয়নি; উইকিপিডিয়া এটিকে উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই লেখাগুলোর কোনোটি ‘ততোং’-এর উৎস ছিল কি না, লেখক কোথাও বলেননি।

বাংলাদেশের অন্য আদিবাসী ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ কবে, কার হাতে তৈরি হয়েছে — তুলনার জন্য দেখতে পারেন আদিবাসী ভাষার অভিধান নিয়ে আমাদের সংকলন, যেখানে কয়েকটি ব্যাকরণ-সহ অভিধানও তালিকাভুক্ত।

ভাষাবিজ্ঞানীরা ম্রো ব্যাকরণের কী কী বৈশিষ্ট্য লিখেছেন

রাশেলের 2009 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী ম্রো ভাষায় বাক্যে পদের ক্রম একাধিক রকম (SOV, SVO ও OSV); বর্তমান কালের আলাদা চিহ্ন নেই, তবে পুরাঘটিত বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের চিহ্ন আছে; ক্রিয়ার চিহ্ন পুরুষ ও বচনভেদে বদলায় না। এবারসোলের (1996) বর্ণনায় পদক্রম SVO।

এই অংশ ‘ততোং’-এর বিষয়বস্তু নয় — বইটির ভেতরের বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। এখানে কেবল দেখানো হচ্ছে, একটি ম্রো ব্যাকরণকে কোন কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, ভাষাবিজ্ঞানীরা যেভাবে লিখেছেন:

  1. পদক্রম। রাশেল লিখেছেন, ম্রো বাক্যের পদক্রম SOV, SVO ও OSV — তিন রকমই পাওয়া যায়; গ্রিয়ারসনকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এই ভাষায় সব ধরনের বাক্য গঠন সম্ভব। উইকিপিডিয়ায় এবারসোলের (1996) বরাতে লেখা, কুকি-চিন ভাষাগুলোর বিপরীতে ম্রোর পদক্রম SVO।
  2. কাল। রাশেলের বর্ণনায় বর্তমান কালের কোনো চিহ্ন নেই; পুরাঘটিত বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের আলাদা চিহ্ন আছে। প্রথম পুরুষ একবচনে বর্তমান কালের বাক্য কোনো চিহ্ন ছাড়াই গঠন করা যায়।
  3. ক্রিয়া ও না-বাচক। না-বাচক চিহ্ন বসে ক্রিয়ার পরে; ক্রিয়ার চিহ্ন পুরুষ ও বচনভেদে বদলায় না (রাশেল)।
  4. সর্বনাম। রাশেল লিখেছেন, ম্রো ভাষার সর্বনাম-ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য ভাষাগুলো থেকে আলাদা: উত্তম ও মধ্যম পুরুষের সঙ্গে একটি নির্ধারক বসে, প্রথম পুরুষ স্বাধীন; আর বয়স ও বহুবচনভেদে সর্বনাম বদলায়।
  5. তুলনা। তুলনা বোঝাতে দুটি চিহ্ন — একটি ‘চেয়ে’, একটি ‘সবচেয়ে’ অর্থে (রাশেল)।
  6. সংখ্যা ও বিশেষ্য। সংখ্যার পরে ও বিশেষ্যের আগে একটি সংযোজক বসে; তবে ‘ম্রো মানুষ’ গোনার সময় সংখ্যা বসে বিশেষ্যের পরে, সংযোজক ছাড়া (রাশেল)।
  7. কারক। রাশেল লিখেছেন, পাহাড়ের ভাষাগুলোর মতো ম্রো ভাষাতেও কারকচিহ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ; অধিকরণ, সম্বন্ধ ও অন্যান্য কারকের চিহ্নের উদাহরণ তিনি দিয়েছেন।

পদক্রম নিয়ে দুই উৎসের বর্ণনা আলাদা: এবারসোল (উইকিপিডিয়ার বরাতে) SVO, রাশেল SOV, SVO ও OSV।

ততোং কোথায় পাওয়া যায়

বইটি কোথায় কেনা যায় বা কোন প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে, কোনো প্রতিবেদনে তা বলা নেই। অনলাইন বইয়ের দোকান রকমারিতে ‘ততোং’ নামে কোনো বই তালিকাভুক্ত পাওয়া যায়নি (3 নভেম্বর 2026)। জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহেও বইটি নেই।

লেখকের ম্রো ভাষার বইগুলো সাধারণভাবে কোথায় পাওয়া যায়, তার কিছু সূত্র আছে। ফেব্রুয়ারি 2026-এ বিডিনিউজকে লেখক বলেছেন, মিয়ানমারের ম্রোরা বেড়াতে এলে তাঁদের বই বেশি নিয়ে যান — বিশেষ করে গান ও গল্পের বই, আর সামাজিক ও ক্রামা ধর্মীয় রীতিনীতির বই। একই প্রতিবেদন জানায়, বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় যোহন ম্রোর কম্পিউটারের দোকানে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ম্রো ভাষায় লেখা ছাপাতে আসেন। চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে রামরি পাড়ায় লেখকের পারিবারিক জুমঘরকে পাঠাগার বানানো হয়েছে; ডেইলি স্টার বাংলা (2022) জানায়, সেখানে রাখা হয়েছে ম্রো ভাষায় তাঁর লেখা পৌরাণিক গল্প, রূপকথা, জীবন-জীবিকার গল্প ও কবিতার বই।

ম্রো লিপি ফোন বা কম্পিউটারে লেখার উপায় — ইউবোর্ড, কেইমেন ফন্ট ও ইউনিকোড — নিয়ে আছে চাকমা, ম্রো ও মারমা লিপির ফন্ট ও কিবোর্ড নিয়ে লেখায়। ম্রো জাতি, ক্রামা ধর্ম ও চিম্বুকের প্রেক্ষাপট পড়তে পারেন ম্রো জাতি নিয়ে লেখায়; পার্বত্য চট্টগ্রামের সব লেখা একসঙ্গে আছে জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

সময়রেখা: ম্রো ব্যাকরণের লেখা, বছর ধরে

ম্রো ভাষার গঠন নিয়ে লেখার নথিভুক্ত সূচনা গ্রিয়ারসনের ভাষা-জরিপে; ম্রো লিপি আসে 1980-এর দশকে; আর ম্রো ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ ‘ততোং’ উন্মোচিত হয় 2022 সালে। নিচের ছকে কেবল সূত্রে পাওয়া তারিখ।

সাল/তারিখঘটনাউৎস
1901–1927গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-তে ম্রো ভাষারাশেল 2009
1966লোফলারের শ্রেণিবিন্যাসরাশেল 2009
1982 বা 1984মেনলে ম্রোর ম্রো বর্ণমালাপ্রথম আলো (1982); ইত্তেফাক (1984)
1996এবারসোলের অপ্রকাশিত ব্যাকরণ-খসড়াউইকিপিডিয়া
2005, 2009পিটারসনের দুটি সম্মেলন-প্রবন্ধCrossGram, উইকিপিডিয়া
ফেব্রুয়ারি 2009রাশেলের ‘Morphosyntactic Analysis of Mro Language’বাংলাজল
2012ইয়াংঙান ম্রোর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরবাংলা ট্রিবিউন
17 ফেব্রুয়ারি 2022‘ততোং’-এর মোড়ক উন্মোচন, উজানি পাড়া, বান্দরবানপ্রথম আলো
17 ফেব্রু.–5 মার্চ 2022মোড়ক উন্মোচনের প্রতিবেদন বাংলা ও ইংরেজি সংবাদমাধ্যমেউপরের ছক
জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি 2023দেশেবিদেশে ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে বইটির উল্লেখদেশেবিদেশে, FE
ফেব্রুয়ারি 2026বিডিনিউজে ম্রো ব্যাকরণ বইয়ের ছবি ও ‘grammar books’ উল্লেখবিডিনিউজ
হালকা পটভূমিতে সবুজ রেখার ওপর পাঁচটি বিন্দু: 1901–1927 গ্রিয়ারসনের ভাষা-জরিপ, 1982/1984 ম্রো বর্ণমালা, 1996 এবারসোলের খসড়া, 2009 রাশেলের প্রবন্ধ, আর লাল বিন্দুতে 17 ফেব্রুয়ারি 2022 ততোং উন্মোচন
ম্রো ভাষার গঠন নিয়ে লেখার সময়রেখা। জুমজার্নালের তৈরি ছক; সূত্র: রাশেল (2009), ইংরেজি উইকিপিডিয়া, প্রথম আলো, ইত্তেফাক।

প্রশ্নোত্তর

ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বইয়ের নাম কী?

ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বইয়ের নাম ‘ততোং’; ইংরেজি প্রতিবেদনে বানান ‘Totong’ বা ‘Tatong’। লিখেছেন বান্দরবানের ম্রো লেখক ইয়াংঙান ম্রো। 17 ফেব্রুয়ারি 2022 বান্দরবান শহরের উজানি পাড়ায় লেখকের বাসভবনে ঘরোয়া পরিবেশে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় (প্রথম আলো, গ্লোবাল ভয়েসেস)।

ততোং কার লেখা?

ইয়াংঙান ম্রোর লেখা। তিনি বান্দরবানের ম্রো লেখক ও গবেষক; বাংলা ট্রিবিউন জানায়, 2012 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরের পর থেকে তিনি ম্রো সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে লিখছেন। বাংলা সংবাদমাধ্যমে নামের বানান ‘ইয়াংঙান’ ও ‘ইয়াঙান’, ইংরেজিতে ‘Younguang’ ও ‘Yangan’।

ততোং কীভাবে লেখা হয়েছে?

লেখকের ভাষায়, বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে (প্রথম আলো, ইত্তেফাক)। বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন তাঁর বরাতে জানায়, লেখার সময় বিভিন্ন সময়ে ম্রো সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজন ও ম্রো ভাষার শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়েছে, আর ব্যাকরণটি ম্রোদের নিজস্ব নিয়মে লেখা। কত বছর ধরে লেখা, তা জানা যায়নি।

ম্রো ভাষার ব্যাকরণ কেন দরকার হয়েছিল?

প্রথম আলো জানায়, ব্যাকরণ না থাকায় ম্রো লেখায় একেকজন একেকভাবে বানান, শব্দপ্রয়োগ ও ক্রিয়াপদ ব্যবহার করতেন, ফলে একজনের লেখা আরেকজনের পক্ষে বোঝা কঠিন হতো। লেখক বলেছেন, বর্ণমালা উদ্ভাবনের পর কোনো ব্যাকরণ লেখা হয়নি। শিক্ষক ঙানসিং ম্রো জানান, বর্ণমালা এতদিন হাতে লিখে শেখানো হতো।

ততোং বইটি কী শেখায়?

লেখকের ঘোষিত লক্ষ্য দুটি: ম্রোরা যেন শুদ্ধভাবে নিজেদের ভাষায় লিখতে ও পড়তে পারেন, আর ম্রো শিক্ষার্থীরা যেন বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বুঝতে পারে (বাংলা ট্রিবিউন, গ্লোবাল ভয়েসেস)। বইয়ের অধ্যায় বা সূচি কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়নি, তাই ঠিক কোন কোন বিষয় আছে তা জানা যায়নি।

ততোং-এর মোড়ক উন্মোচন কে করেন?

লেংয়াং ম্রো। প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউন তাঁকে ক্রামাধর্মের প্রধান পুরোহিত বলেছে, বাংলা ট্রিবিউন ও চট্টগ্রাম প্রতিদিন বলেছে প্রধান শিষ্য। ইত্তেফাকের বর্ণনায় তিনি, শিক্ষক ঙানসিং ম্রো ও সামাজিক সংগঠক রিয়ং ম্রো মিলে উন্মোচন করেন। প্রথম আলো অনুযায়ী আলোচক ছিলেন ঙানসিং, রেংয়ং ও তনপাউ ম্রো।

ততোং-এর মোড়ক উন্মোচন কবে হয়েছিল — 17 না 18 ফেব্রুয়ারি?

প্রথম আলো, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে বৃহস্পতিবার, 17 ফেব্রুয়ারি 2022; প্রথম আলো সেদিনই খবর ছাপে। হিল ভয়েসের প্রতিবেদনে লেখা ‘Thursday (February 18)’। বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন দিনটিকে বৃহস্পতিবার বলেছে, তারিখ আলাদা করে লেখেনি।

ততোং কি সত্যিই ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ?

প্রতিবেদনগুলো একে ম্রো সম্প্রদায়ের নিজেদের ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ বই বলেছে। এর আগে ইংরেজিতে ভাষাবিজ্ঞানীদের লেখা আছে: এবারসোলের অপ্রকাশিত ‘preliminary grammatical sketch’ (1996), পিটারসনের সম্মেলন-প্রবন্ধ (2005, 2009) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল অব লিঙ্গুইস্টিকসে রাশেলের প্রবন্ধ (2009)। এগুলো ইংরেজিতে লেখা গবেষণাপত্র বা খসড়া।

ম্রো ভাষায় বাক্যের পদক্রম কেমন?

উৎসভেদে আলাদা। মো. মোস্তফা রাশেলের 2009 সালের প্রবন্ধ বলছে, ম্রো বাক্যে SOV, SVO ও OSV — তিন রকম পদক্রমই পাওয়া যায়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া হ্যারল্ড এবারসোলের 1996 সালের খসড়ার বরাতে লিখেছে, কুকি-চিন ভাষাগুলোর বিপরীতে ম্রোর পদক্রম SVO। ‘ততোং’ এ বিষয়ে কী লিখেছে, তা জানা যায়নি।

ততোং বইটি কোথায় পাওয়া যায়?

কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশক, দাম বা বিক্রির জায়গার কথা নেই, আর অনলাইন দোকান রকমারিতে বইটি তালিকাভুক্ত পাওয়া যায়নি। ডেইলি স্টার বাংলা (2022) জানায়, লেখকের জুমঘর-পাঠাগারে তাঁর ম্রো ভাষার বই রাখা আছে; সেখানে ‘ততোং’ আছে কি না, প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা নেই।

ততোং-এর দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে কি?

জানা যায়নি। মোড়ক উন্মোচনের দিন লেখক বলেছিলেন, প্রথম প্রকাশ বলে ভুলত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে, তা পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করা হবে (বাংলা ট্রিবিউন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন)। 2026 পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনে নতুন সংস্করণের খবর পাওয়া যায়নি।

ম্রো বর্ণমালা কবে তৈরি — 1982 না 1984?

দুটি সালই ছাপা হয়েছে, এমনকি লেখকের নিজের উদ্ধৃতিতেও। প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউনে তিনি বলেছেন 1982; ইত্তেফাকে 1984। বাংলা ট্রিবিউনে শিক্ষক ঙানসিং ম্রোর উদ্ধৃতি ও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও 1984। বিডিনিউজ (2026) লিখেছে 1982, মেনলে ম্রোর বয়স তখন 17।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বইয়ের প্রকাশক, পৃষ্ঠাসংখ্যা, দাম, ছাপার সংখ্যা ও ISBN — কোনো প্রতিবেদনে নেই।
  • বইয়ের অধ্যায় ও সূচি: কোন কোন ব্যাকরণিক বিষয় আছে, উদাহরণ কোন লিপিতে — প্রকাশিত হয়নি।
  • ‘ততোং’ শব্দের অর্থ কী, বইয়ের নাম কেন এটি — কোনো উৎসে ব্যাখ্যা নেই।
  • বইটি কত বছর ধরে লেখা, কোন কোন বিশিষ্টজন ও শিক্ষক মতামত দিয়েছিলেন — নাম প্রকাশিত হয়নি।
  • বইটি কোনো স্কুল, পাড়াভিত্তিক ক্লাস বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের কোর্সে পড়ানো হয় কি না — জানা যায়নি।
  • দ্বিতীয় সংস্করণ বা সংশোধিত রূপ বেরিয়েছে কি না — জানা যায়নি।
  • ভাষাবিজ্ঞানী বা ম্রো ভাষার শিক্ষকদের লেখা কোনো পর্যালোচনা — প্রকাশিত পাওয়া যায়নি।
  • বিডিনিউজের ইংরেজি প্রতিবেদনে ‘grammar books’ বহুবচনে কেন, আর 2026-এর ছবির ব্যাকরণ বইটি ‘ততোং’ কি না — প্রতিবেদন খুলে বলেনি।
  • লেংয়াং ম্রোর পদবি (প্রধান পুরোহিত না প্রধান শিষ্য) ও এক আলোচকের নামের সঠিক বানান — প্রতিবেদনভেদে আলাদা, ম্রো উৎস থেকে মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. প্রতিনিধি, বান্দরবান, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই ‘ততোং’-এর মোড়ক উন্মোচন”, প্রথম আলো, 17 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  2. বাংলা ট্রিবিউন, “ভাষার মাসে ম্রো ভাষাভাষিদের হাতে উঠলো প্রথম ব্যাকরণ বই”, বাংলা ট্রিবিউন, 18 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  3. Dhaka Tribune, “First Mro language grammar book ‘Totong’ unveiled”, Dhaka Tribune, 18 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  4. Special Correspondent, “‘Tatong’: first grammar book of Mro language published”, Hill Voice, 18 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  5. চট্টগ্রাম প্রতিদিন, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই বেরুলো বান্দরবানে, ৩৮ বছর আগে আবিষ্কার হয় বর্ণমালা”, চট্টগ্রাম প্রতিদিন, 19 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  6. ইত্তেফাক, “ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই লিখলেন ইয়াংঙান”, দৈনিক ইত্তেফাক, 23 ফেব্রুয়ারি 2022। লিংক
  7. Pantha Rahman Reza, “First Mro language grammar book brings a ray of hope for the indigenous community”, Global Voices (Rising Voices), 5 মার্চ 2022। লিংক
  8. পান্থ রহমান রেজা, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বেরুলো ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই”, গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা, 5 মার্চ 2022। লিংক
  9. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, “ম্রো শিশুদের গল্প শোনাতে জুমঘরে পাঠাগার”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 18 আগস্ট 2022। লিংক
  10. দেশেবিদেশে, “ম্রো তরুণের কলমে দেশে রেংমিটচ্য ভাষার প্রথম অভিধান”, DesheBideshe, 31 জানুয়ারি 2023। লিংক
  11. Rassiq Aziz Kabir, “Rengmitc: a dying language with only 6 native speakers”, The Financial Express, 19 ফেব্রুয়ারি 2023। লিংক
  12. bdnews24.com, “এক কিশোরের তৈরি ম্রো বর্ণমালা এখন গুগল প্লে স্টোরে”, bdnews24.com, 21 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক
  13. U She Thowai Marma, “Alphabet created by a teenage hill boy in 1980s takes Mro language to Google Play”, bdnews24.com, 21 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক
  14. Md Mostafa Rashel, “Morphosyntactic Analysis of Mro Language”, The Dhaka University Journal of Linguistics, Vol. 2 No. 3, pp. 141–160, ফেব্রুয়ারি 2009। লিংক
  15. Wikipedia contributors, “Mru language (Ebersole 1996, Peterson 2009 উল্লেখসহ)”, English Wikipedia, দেখা হয়েছে 3 নভেম্বর 2026। লিংক
  16. CrossGram, “Peterson, David A. 2005. Initial observations on Bangladesh Mru morphosyntax”, CrossGram (CLLD), দেখা হয়েছে 3 নভেম্বর 2026। লিংক

জুমজার্নালের সম্পর্কিত লেখা: ইয়াংঙান ম্রো ও তাঁর বই · ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা · চাকমা, ম্রো ও মারমা লিপির ফন্ট ও কিবোর্ড · ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুক · আদিবাসী ভাষার অভিধান · পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ম্রো, ম্রো বর্ণমালা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা