Last updated Nov 3rd, 2026
1

ককবরক রোমান না বাংলা লিপিতে লেখা হবে — এই প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা নভেম্বর 2026 পর্যন্ত হয়নি, না ভারতে, না বাংলাদেশে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সরকারি পাঠ্যবই ও বোর্ডের প্রশ্নপত্র বাংলা হরফে ছাপা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা 2026 সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রোমান হরফের দাবি প্রকাশ্যে নাকচ করেছেন, আর তিপ্রা মোথা পার্টি ও ছাত্র সংগঠনগুলো রোমানের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। বাংলাদেশে ত্রিপুরা সংগঠনগুলো 2000 সাল থেকেই রোমান হরফ বেছে নিয়েছে, সরকারের 2012 সালের এক কমিটিও ত্রিপুরা শিশুদের বই রোমান বর্ণমালায় করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল — তবু 2022 সালে কুমিল্লায় বাংলা হরফে ককবরকের একটি বই বেরিয়েছে।
দুই দেশের ছবিটা এক নয়। ত্রিপুরায় এটি ভোটের রাজনীতির প্রশ্ন: শাসক জোটের দুই শরিক বিপরীত মেরুতে, স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে ইস্যুটি সামনে ছিল, আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে দেবনাগরীর কথা তুলেছেন। বাংলাদেশে প্রশ্নটি অনেক নিচু স্বরের — সংগঠনের কর্মশালা, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বই আর হাতেগোনা লেখকের পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই লেখায় দুই দেশের অবস্থা আলাদা করে রাখা হলো, প্রতিটি পক্ষের যুক্তি তাদের নিজেদের ভাষ্যে, তারিখ ও উৎসসহ। কোন হরফ “ঠিক”, সে বিচার এখানে করা হয়নি।
সূচিপত্র
ভারতের ত্রিপুরায় রাজ্য সরকারের স্কুলে ককবরকের বই ও প্রশ্নপত্র বাংলা হরফে, আর স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের স্কুলে নিচের শ্রেণিতে রোমান হরফে পড়ানো হয়। বাংলাদেশে ত্রিপুরা সংগঠনগুলো ও সরকারি কমিটি রোমান হরফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে বাংলা হরফে লেখাও চলছে। দুই দেশেই কোনো আইনি বা চূড়ান্ত সরকারি মীমাংসা হয়নি।
ককবরক ত্রিপুরা জাতির মাতৃভাষা। আমাদের আর্কাইভের ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল লেখায় মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ব্যাখ্যা করেছেন, সাধারণ অর্থে “কক” মানে ভাষা আর “বরক” মানে মানুষ, তবে “ককবরক” বলতে বরকদের ভাষাকেই বোঝানো হয়। একই ভাষা সীমান্তের দুই পাশে বলা হয়, কিন্তু হরফের প্রশ্নটা দুই রাষ্ট্রে দুই রকম পথে এগিয়েছে। নিচের ছকে উৎসে পাওয়া অবস্থাটি পাশাপাশি রাখা হলো।
| প্রশ্ন | ভারত (ত্রিপুরা রাজ্য) | বাংলাদেশ |
|---|---|---|
| সরকারি স্বীকৃতি | 1979 সাল থেকে রাজ্যের অন্যতম সরকারি ভাষা (একটি সূত্রে 19 জানুয়ারি 1978) | সরকারি ভাষা নয়; 2017 সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিকের মাতৃভাষা কর্মসূচির পাঁচ ভাষার একটি |
| সরকারি পাঠ্যবইয়ের হরফ | রাজ্য সরকারের বই বাংলা হরফে; জেলা পরিষদের স্কুলে নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি রোমানে | 3 ডিসেম্বর 2012-র কমিটির সিদ্ধান্ত: রোমান বর্ণমালা |
| সম্প্রদায়ের সংগঠনের অবস্থান | বিভক্ত; ছাত্র সংগঠন, তিপ্রা মোথা পার্টি ও ককবরক সাহিত্য সভা রোমানের পক্ষে | 2000 সালের কর্মশালা থেকে রোমান; 6 ডিসেম্বর 2010 লেখার নিয়ম চূড়ান্ত |
| সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান | মুখ্যমন্ত্রী রোমানের বিরুদ্ধে; দেশীয় লিপি বা দেবনাগরীর প্রস্তাব | লিপি নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি |
| বিতর্কের তীব্রতা | অবরোধ, মানববন্ধন, বিধানসভায় ওয়াকআউট | মূলত কর্মশালা ও লেখকদের মধ্যে |
ছকের প্রতিটি ঘরের উৎস নিচের অংশগুলোতে আলাদা করে দেওয়া আছে। একটি সতর্কতা: ত্রিপুরায় “ত্রিপুরা” শব্দ দিয়ে সব ককবরকভাষীকে বোঝানো হয় না। প্রশান্ত ত্রিপুরা আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত ভাষা, হরফ ও জাতীয়তা প্রবন্ধে লিখেছেন, সেখানে ককবরকভাষীরা দেববর্মা, নোয়াতিয়া, জমাতিয়া, রিয়াং প্রভৃতি পরিচয়ে বিভক্ত এবং সরকারিভাবে আলাদা আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত। বাংলাদেশে সবাই সাধারণত “ত্রিপুরা” নামে পরিচয় দেন।

ভাষাভাষীর সংখ্যা নিয়েও উৎসগুলো এক কথা বলে না। IANS-এর 27 জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন 2011 সালের আদমশুমারি উদ্ধৃত করে লিখেছে, ত্রিপুরায় 8,80,537 জন ককবরকে কথা বলেন, যা রাজ্যের জনসংখ্যার 23.97 শতাংশ। ANI-এর 14 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন লিখেছে, ককবরক রাজ্যের 19টি জনগোষ্ঠীর প্রায় 14 লাখ মানুষের ভাষা। বাংলাদেশের হিসাবে প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালে লিখেছিলেন, ককবরকভাষীর সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2022 সালে সরকারি তথ্যের বরাতে দেশে ত্রিপুরার সংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি বলে লিখেছে।
প্রচলিত ভাষ্য অনুযায়ী ককবরকের “কলমা” বা “কোলোমা” নামে একটি নিজস্ব লিপি ছিল, যাতে “রাজরত্নাকর” লেখা হয়েছিল বলে বলা হয়। কিন্তু সেই লিপির কোনো নমুনা বা পাণ্ডুলিপি আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলেন হরফটি হারিয়ে গেছে, আবার কোনো গবেষক বলেন এই ভাষার কোনোকালেই হরফ ছিল না।
এই অংশের পুরো ইতিহাস — রাজরত্নাকর, রাজমালা ও কোলোমা লিপির দাবি — জুমজার্নালে আলাদা লেখার বিষয়; এখানে কেবল সেটুকু, যা আজকের হরফ-বিতর্কে বারবার উঠে আসে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা লেখায় জানিয়েছেন, কলমা লিপিতে লেখা রাজাদের বংশলিপি ও রাজরত্নাকরের কথা নানা লেখায় পাওয়া যায়, কিন্তু “এই লিপির কোন নমূনা অদ্যাবধি আবিস্কৃত না হওয়ায় এ ব্যাপারে হলফ করে কিছু বলা সম্ভব নয়”। বাংলা উইকিপিডিয়ার ককবরক নিবন্ধ লিপিটির নাম লিখেছে “কোলোমা লিপি”, আর একই নিবন্ধের তথ্যছকে ককবরকের লিপি হিসেবে তিনটির নাম আছে — বাংলা-অসমীয়া, রোমান ও “কোকমারি”।
এই দাবির উল্টো ভাষ্যও আছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 18 অক্টোবর 2022-এর প্রতিবেদনে শিক্ষক ও লেখক ড. আজাদ বুলবুল বলেছেন, তাঁর গবেষণা অনুযায়ী এই ভাষার কোনো হরফ কোনোকালেই ছিল না। ত্রিপুরার রোমান-পক্ষের সংগঠন Roman Script for Kokborok Choba (RSKC)-র নেতা বিকাশরায় দেববর্মা EastMojo-কে 18 নভেম্বর 2022-এ বলেন, বহু বছরের খোঁজেও লিখিত ককবরকের কোনো প্রমাণ তাঁরা পাননি; রাজমালায় “ত্রিপুর ভাষা”য় লেখার একটিমাত্র উল্লেখ আছে, কিন্তু সেটা প্রমাণ করার মতো কোনো নথি নেই। তিনি আরও জানান, তিপ্রাসা সমাজের পুরোহিত বা “উচাই”রা আচার পালনের সময় কিছু অক্ষর আঁকেন, যা ব্রাহ্মী লিপির মতো দেখতে — কিন্তু পুরোহিতেরা নিজেরাই সেগুলোর অর্থ জানেন না।
লোকশ্রুতিও আছে। প্রশান্ত ত্রিপুরা লিখেছেন, ত্রিপুরাদের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী একদা তাদের হরফ ছিল শিমগাছের পাতায় লেখা, একটি ছাগল পাতাগুলো খেয়ে ফেলে। প্রবন্ধের পাদটীকায় তিনি জানান, রাঙামাটির সুধাংশু বিমল ত্রিপুরার শোনা ভাষ্যে পাতাটি ছিল কলাপাতা। ম্রোদের মধ্যেও প্রায় একই কাহিনি প্রচলিত, যেখানে পাতাগুলো খায় একটি গয়াল।
হারানো হরফের জায়গায় নতুন হরফ বানানোর চেষ্টা দুই দেশেই হয়েছে। প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালে লিখেছিলেন, বাংলাদেশেই অন্তত তিনজন ব্যক্তির কথা তিনি জানেন যারা “ত্রিপুরা বর্ণমালা” উদ্ভাবন করেছেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Script issues of Kokborok” নিবন্ধ অনুযায়ী ত্রিপুরায় সবচেয়ে পরিচিত চেষ্টাটি অলিন্দ্র ত্রিপুরার, তবে সেটি ব্যবহারে নেই। উইকিমিডিয়া কমন্সে এমন একাধিক উদ্ভাবিত লিপির ছক আছে; নিচের ছবিটি তার একটি।

এই প্রসঙ্গ আজ নতুন গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা 2026 সালে ককবরকভাষীদের নিজস্ব হরফ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন (বিস্তারিত নিচে “তৃতীয় প্রস্তাব” অংশে)। বাংলাদেশের ত্রিপুরা সংগঠনগুলো উল্টো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল: মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণ অনুযায়ী তাদের সভাগুলোতে বলা হয়, নতুন বর্ণ তৈরি করে প্রচলন করা সময়সাপেক্ষ এবং পৃথিবীর নানা দেশে থাকা ককবরকভাষীদের ঐকমত্যের ব্যাপার, তাই ব্যক্তিপর্যায়ে কেউ চর্চা করলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নতুন লিপি চালু করা হবে না।
ছাপা বইয়ে ককবরকের লিখিত রূপ শুরু হয় বাংলা হরফে — দৌলত আহম্মদের ব্যাকরণ ও ঠাকুর রাধামোহন দেববর্মনের “ককবরকমা” দিয়ে, উনিশ শতকের শেষে ও বিশ শতকের শুরুতে। কারণ হিসেবে উৎসগুলো ত্রিপুরার রাজদরবারে বাংলার প্রাধান্যের কথা বলে। রাজারা নিজেরা ককবরকে লেখার উদ্যোগ নেননি।
দৌলত আহম্মদের বইটির সাল নিয়ে একটি জট আছে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, নানা সূত্রে প্রথমে বইটির প্রকাশকাল দেওয়া হতো 1307 বঙ্গাব্দ, ফলে ধরে নেওয়া হতো এটি রাধামোহন ঠাকুরের 1900 সালের বইয়ের পরে বেরিয়েছে; কিন্তু বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের পুরোনো পুঁথির সংগ্রহ থেকে জানা যায়, বইটি 1307 ত্রিপুরাব্দে প্রকাশিত, যা খ্রিস্টীয় হিসাবে 1897। EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদনেও 1897 সালকে ককবরকের প্রথম ছাপা বইয়ের বছর বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে বইটির হরফ ছিল বাংলা। The Hindu-র বরাতে নাগাল্যান্ড পোস্টের 22 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন লিখেছে, ককবরক 1897 সাল থেকে বাংলা হরফে লেখা হচ্ছে। মাধ্যমম-এর 23 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অবশ্য লিখেছে, ককবরক “অন্তত চতুর্দশ শতক থেকে” বাংলা হরফে লেখা হচ্ছে।
রাজদরবারের ভাষা নিয়ে দুই আর্কাইভ-লেখকের ব্যাখ্যা পাশাপাশি রাখা যায়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, উনিশ শতকের শেষার্ধে মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য (1862–96) মাতৃভাষা ককবরকের বদলে বাংলাকে রাজকার্যের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রশান্ত ত্রিপুরা লিখেছেন, মাণিক্য রাজারা “টিপরা” জনগোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত হলেও ককবরককে লিখিত রূপ দেওয়ার কোনো চেষ্টা করেননি, আর রাজপরিবারসহ অনেক শহুরে দেববর্মা পরিবারে কথ্য ভাষা হিসেবেও বাংলা জায়গা করে নেয়। বিকাশরায় দেববর্মা EastMojo-কে বলেন, রাজাদের এলাকার বড় অংশ এখনকার বাংলাদেশে থাকায় বাংলা রাজদরবারের প্রশাসনিক ভাষা হয়ে ওঠে।
EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদন আরেকটি কারণও বলে: ককবরকভাষী তরুণদের প্রথম প্রজন্ম যে স্কুলে পড়েছে সেখানে বাংলাই ছিল প্রধান বিষয়, তাই ভাষাটিকে লিখিত রূপ দিতে গিয়ে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই বাংলা হরফ ব্যবহার করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব এবং অঘোর দেববর্মার মতো নেতারা, যাঁরা পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন, বাংলা হরফকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন।
ত্রিপুরায় রোমান হরফের দাবি অন্তত 1967 সাল থেকে চলছে বলে দাবিদারদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ আছে। 1979 সালে ককবরক রাজ্যের সরকারি ভাষা হয়; এরপর দুটি বা তিনটি ভাষা কমিশন, জেলা পরিষদের রোমান-নীতি, পরীক্ষার খাতা নিয়ে সংঘাত আর 2026 সালের নির্বাচনের আগে নতুন করে আন্দোলন — এভাবে বিতর্কটি এগিয়েছে।
| সময় | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1967 | রোমান হরফের দাবির শুরু বলে উল্লেখ; একই বছর ত্রিপুরা ককবরক উন্নয়ন পরিষদ ও ত্রিপুরা ককবরক সাহিত্য সভা প্রতিষ্ঠা | জানুয়ারি 2026-এর স্মারকলিপি (Arunachal Times); মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা |
| 1979 | ত্রিপুরা সরকারি ভাষা আইন, 1964-এর সংশোধনে ককবরক রাজ্যভাষা; বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে তারিখটি বলেছেন 19 জানুয়ারি 1978 | স্মারকলিপি 2026; বাংলা উইকিপিডিয়া; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর 2022 |
| 1988 | হরফ-বিতর্কে রাজ্যের ককবরক বিভাগের কাজ কার্যত থেমে যায়; সরকার বাংলা হরফেই চলে | India Together, 26 সেপ্টেম্বর 2007 |
| 1990-এর দশক | শ্যামা চরণ ত্রিপুরার নেতৃত্বে প্রথম ভাষা কমিশন; প্রতিবেদন রোমানের পক্ষে বলে একাধিক সূত্র | EastMojo 2022, 2024; ANI 2026 |
| 1992 ও 2000 | জেলা পরিষদ (TTAADC) তার এলাকার স্কুলে রোমান হরফ গ্রহণের প্রবিধান করে | ইংরেজি উইকিপিডিয়া (উৎস-উল্লেখ চাওয়া আছে) |
| 2000 | 1900 সালের বইগুলো ধরে ত্রিপুরায় ককবরকের লিখিত রূপের শতবর্ষ উৎসব | মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা |
| 2004 | মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের আমলে পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিশন; একই বছর “Movement for Kokborok” | EastMojo 2022; ইংরেজি উইকিপিডিয়া |
| 2018-র পর | বিজেপি সরকারের আমলে দেবনাগরীর প্রস্তাব; দুই বিজেপি বিধায়কের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আদিবাসী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ | EastMojo 2022; Indian Express 2023 |
| মার্চ 2023 | গোমতী জেলার এক স্কুলে TBSE-র ককবরক পরীক্ষায় রোমানে লিখতে না দেওয়ার খবর; বিধানসভায় তিপ্রা মোথার ওয়াকআউট | Indian Express, 31 মার্চ 2023 |
| মে–জুন 2023 | মুখ্যমন্ত্রী কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন; CBSE পরীক্ষায় রোমানের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ বিরোধী দলনেতার | Eastern Mirror, 19 মে 2023; EastMojo, 17 জুন 2023 |
| জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি 2024 | CBSE-কে চিঠি দেওয়ার আশ্বাস; TBSE সভাপতির বাংলা-হরফ নির্দেশ; সড়ক-রেল অবরোধ; 13 ফেব্রুয়ারি পরীক্ষায় রোমানের অনুমতির ঘোষণা | EastMojo, eNewsTime, Free Press Journal, ETV Bharat |
| এপ্রিল–মে 2025 | তিপ্রা মোথার বিবৃতি; ককবরক সাহিত্য সভা “পরিবর্তিত রোমান” হরফকে মান হিসেবে গ্রহণ করে (25 মে) | Northeast Now |
| ডিসেম্বর 2025 | মুখ্যমন্ত্রীর “ভারতীয় লিপি” মন্তব্যের পর 18 ডিসেম্বর মশাল মিছিল | News Arena, 17 ডিসেম্বর 2025; EastMojo, 29 ডিসেম্বর 2025 |
| জানুয়ারি 2026 | 15 জানুয়ারি 16 জন জনপ্রতিনিধির স্মারকলিপি; 27 জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী: রোমান “কখনো” নয়; 29 জানুয়ারি CBSE চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক | Arunachal Times; Assam Tribune; Northeast Live |
| ফেব্রুয়ারি 2026 | 14 ফেব্রুয়ারি 11 জায়গায় মানববন্ধন; একই দিন মুখ্যমন্ত্রীর “বিদেশি লিপি” মন্তব্য; 20 ফেব্রুয়ারি অমিত শাহের দেবনাগরী-প্রস্তাব | PTI, ANI, Nagaland Post, Madhyamam |
| 12 এপ্রিল 2026 | জেলা পরিষদ নির্বাচন: তিপ্রা মোথা 28টির মধ্যে 24টি আসন, বিজেপি 4টি | ইংরেজি উইকিপিডিয়া |
ককবরক যে বছর রাজ্যভাষার স্বীকৃতি পায়, সেটি নিয়ে উৎসে দুই রকম তারিখ পাওয়া যায়। বাংলা উইকিপিডিয়া, মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার আর্কাইভ-লেখা ও জনপ্রতিনিধিদের 2026 সালের স্মারকলিপি 1979 লেখে; একই মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে 2022 সালে তারিখটি বলেছেন 19 জানুয়ারি 1978।
ত্রিপুরা সরকার ককবরকের হরফ ঠিক করতে একাধিক কমিশন গঠন করেছিল — শ্যামা চরণ ত্রিপুরা ও পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে, আর কোনো সূত্রে Kumud Kundu Chowdhury-র নেতৃত্বে আরেকটি। প্রথমটি রোমানের পক্ষে ছিল, এ বিষয়ে সূত্রগুলো একমত। দ্বিতীয়টির সুপারিশ কী ছিল, প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল কি না — এ নিয়ে সূত্রগুলো পরস্পরবিরোধী।
কমিশনের সংখ্যা ও সাল নিয়েই অমিল আছে। ANI-এর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন লিখেছে, 1990 ও 2004 সালে দুটি কমিশন গঠিত হয়। IANS-এর প্রতিবেদন (Morung Express ও eNewsTime-এ ছাপা) লিখেছে, 1988 সাল থেকে দুটি কমিশন গঠিত হয়েছে। EastMojo লিখেছে, প্রথম কমিশনের প্রতিবেদন 1992 সালে ক্ষমতার পালাবদলে প্রাসঙ্গিকতা হারায়। Northeast Live-এর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে তিনটি কমিশন বা কমিটির কথা আছে, আর জনপ্রতিনিধিদের জানুয়ারি 2026-এর স্মারকলিপিও তিনটি কমিশনের নাম দেয়।
কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে চারটি ভাষ্য পাওয়া যায়, প্রতিটি নিজের উৎসে:
IANS-এর একটি প্রতিবেদনে (Morung Express) RSKC-র আহ্বায়ক Mintu Debbarma দাবি করেন, আগের কয়েকটি কমিশন রোমানের সুপারিশ করলেও সরকার চুপ থেকেছে। প্রতিবেদনগুলোর মূল পাঠ কোনো উৎসে উদ্ধৃত পাওয়া যায়নি; তাই কোন ভাষ্যটি মূল দলিলের সঙ্গে মেলে, সেটি এখানে যাচাই করা যায়নি।
রোমান হরফের পক্ষের মূল যুক্তিগুলো চার ধরনের: ককবরকের ধ্বনি ও সুর বাংলা হরফে ঠিকমতো ধরা যায় না; উত্তর-পূর্বের অন্য তিব্বতি-বর্মী ভাষা রোমানে লেখা হয়; শিক্ষার্থীরা ইংরেজির কারণে রোমানে অভ্যস্ত এবং পরীক্ষায় রোমানই বেছে নেয়; আর হরফ বেছে নেওয়ার অধিকার ভাষাভাষীদের।
EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী যে লেখক-গবেষকেরা বাংলা হরফে লেখা শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকে রোমানে চলে গেছেন; তাঁদের যুক্তি, বাংলা হরফ উচ্চারণের ওপর জোর দেয়, যা সুরপ্রধান (tonal) ককবরকের উপযোগী নয়। 31 মে 2023-এ EastMojo-তে প্রকাশিত Swapnarka Arnan-এর মতামত-নিবন্ধ যুক্তি দেয়, বাংলা হরফ তৈরি হয়েছে ইন্দো-আর্য বাংলার জন্য, আর ককবরক তিব্বতি-বর্মী পরিবারের; লেখক তুর্কি ও ভিয়েতনামি ভাষার উদাহরণ দেন, যেখানে রোমান হরফে কিছু পরিবর্তন এনে ভাষার উপযোগী করা হয়েছে, এবং উল্লেখ করেন মিজো ও আও ভাষা রোমানে লেখা হয়।
বাংলাদেশের দিক থেকে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার প্রোফাইল-লেখাটি দেখায়, রোমান হরফে সুরের পার্থক্য কীভাবে লেখা হয়: উচ্চ সুরের শব্দের শেষে একটি h বসে — cha (সঠিক) আর chah (খাওয়া), lai (সহজ) আর laih (অতিক্রম করা)। একই লেখায় আছে, বাংলা হরফে যারা ককবরক লেখেন তাঁরা “উ” ও “ও”-র মাঝামাঝি একটি স্বর বোঝাতে আলাদা একটি স্বরচিহ্ন (ৗ) ব্যবহার করেন, যা বাংলায় সাধারণত আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয় না; রোমানে এই স্বরের জন্য w ব্যবহার হয় — যেমন Rwng (শেখা), Twi (পানি)।
EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদনে কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং বলেছেন, তিনি বাংলা হরফে লেখা শুরু করলেও রোমানে চলে গেছেন, কারণ পাঠকেরা রোমানে পড়তে চান এবং রোমানের কারিগরি সুবিধা আছে। একই প্রতিবেদনে দুই কনটেন্ট নির্মাতা বলেছেন, রোমান হরফে লিখলে তাঁদের দর্শক সহজে যুক্ত হন এবং ভাষাটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেতে পারে। তিপ্রা মোথা পার্টি এপ্রিল 2025-এর বিবৃতিতে বলেছে, বেশির ভাগ ককবরক সাহিত্য রোমান হরফে রচিত, তাই নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই থেকে রোমানে লেখা সাহিত্য বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। জানুয়ারি 2024-এ Twipra Students Federation-এর এক নেতা EastMojo-কে বলেন, রাজ্যের SCERT-এর সব বই বাংলা হরফে ছাপা হয়, আর প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো প্রকাশিত হয় রোমানে।
রোমান-পক্ষ কয়েকটি সংখ্যা বারবার উদ্ধৃত করে। EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদনে একটি তথ্য-অধিকার (RTI) উত্তরের বরাতে বলা হয়, 2021 সাল পর্যন্ত রাজ্যের 22টি সরকারি ডিগ্রি কলেজে মোট 6,687 জন শিক্ষার্থী ককবরক ঐচ্ছিক বিষয় নিয়েছিলেন, যাঁদের মাত্র তিনজন বাংলা হরফে উত্তর লিখেছেন; আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ককবরকে স্নাতকোত্তর করা 356 জনের একটি খাতাও বাংলায় লেখা হয়নি। রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক Ananda Hari Jamatia একই প্রতিবেদনে বলেন, ককবরক পড়া শিক্ষার্থীদের 99 শতাংশের বেশি রোমানে লিখেছে। সিপিআই(এম)-এর জিতেন্দ্র চৌধুরী জানুয়ারি 2024-এ বিধানসভায় বলেন, সুযোগ পেলে 99 শতাংশ শিক্ষার্থী রোমান বেছে নেয়। অনিমেষ দেববর্মা জুন 2023-এ বলেছিলেন 95 শতাংশ শিক্ষার্থী রোমান চায়।
15 জানুয়ারি 2026-এ প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ও বন মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মাসহ 16 জন জনপ্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা স্মারকলিপিতে যুক্তি দেন, রোমান হরফ না দেওয়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ 29(1) লঙ্ঘন করে, যা নাগরিকদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার দেয়; আর রাজ্য সরকার নির্বাহী সিদ্ধান্তেই রোমান হরফকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তাঁদের চার দফা দাবি: রোমানকে ককবরকের সরকারি হরফ ঘোষণা, CBSE, ICSE ও TBSE-র ককবরক প্রশ্নপত্র রোমানে ছাপা, সব পাঠ্যবই রোমানে প্রকাশ, এবং ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা রোমানে নেওয়া।
তিপ্রা মোথা এপ্রিল 2025-এর বিবৃতিতে মেঘালয়, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের উদাহরণ দেয়, যেখানে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে না থাকা আদিবাসী ভাষা রোমানে লেখা হয় — তাদের মতে এটি প্রমাণ যে হরফ বেছে নেওয়া রাজ্যের এখতিয়ারে। অনিমেষ দেববর্মা ফেব্রুয়ারি 2026-এ Scroll-কে বলেছেন, ভাষা সরকারি আদেশে বা নিষেধে বাড়ে না, বাড়ে কবি, লেখক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের হাতে।
বাংলাদেশের ত্রিপুরা সংগঠনগুলো রোমান বেছে নেওয়ার পেছনে আলাদা একটি যুক্তি দিয়েছে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণ অনুযায়ী তাদের সভায় বলা হয়, বাংলাদেশের নানা জেলা ও ত্রিপুরা রাজ্য ছাড়াও আসাম, মিজোরাম, নেপাল ও মিয়ানমারে ককবরকভাষীরা থাকেন; সবার মধ্যে সামাজিক সংযোগ রাখতে এক হরফেই লেখা উচিত। একই সভায় বানানের জন্য ত্রিপুরা রাজ্যে প্রচলিত রোমান লেখার পদ্ধতির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলা হরফের পক্ষের প্রধান যুক্তি তিনটি: ককবরকভাষীদের বাংলার সঙ্গে দ্বিভাষিক বাস্তবতা ও দীর্ঘ সম্পর্ক; একশো বছরের বেশি সময় ধরে বাংলা হরফে লেখার প্রচলন; আর প্রশাসনিক সুবিধা — যেমন খাতা মূল্যায়নের মতো শিক্ষক পাওয়া। এই অবস্থান নিয়েছিলেন কয়েকজন বাঙালি ভাষাবিদ, ত্রিপুরার বামপন্থী নেতৃত্ব এবং রাজ্যের শিক্ষা পর্ষদ।
বাংলা হরফের পক্ষের ভাষাবিদদের মত সবচেয়ে বিস্তারিত পাওয়া যায় প্রশান্ত ত্রিপুরার 21 ফেব্রুয়ারি 2000-এ প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রবন্ধে, যা আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত। প্রবন্ধকার নিজে বাংলা-পক্ষের যুক্তিগুলোর সমালোচনা করেছেন, তবে সেগুলো উদ্ধৃতিসহ রেখেছেন। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী:
প্রশান্ত ত্রিপুরা এসব যুক্তির জবাবও দিয়েছেন — বাংলা শেখার প্রয়োজন এক জিনিস আর ককবরক লেখার জন্য বাংলা হরফ বেছে নেওয়া আরেক জিনিস; একই যুক্তিতে রোমান হরফ ইংরেজি শেখায় কাজে লাগবে। এটি তাঁর নিজের অবস্থান, এখানে কেবল নথিভুক্ত করা হলো।
ককবরকভাষীদের মধ্যেও বাংলা হরফের সমর্থক আছেন। প্রশান্ত ত্রিপুরা লিখেছেন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব, যিনি জন্মসূত্রে ককবরকভাষী, একটি পুস্তিকায় বাংলা হরফের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিলেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Script issues of Kokborok” নিবন্ধ অনুযায়ী দশরথ দেবের গণমুক্তি পরিষদের অবস্থান ছিল বাংলা হরফ, আর বামফ্রন্ট সরকার সেই নীতিই কার্যকর করে। EastMojo-র 2024 সালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সিপিআই(এম) নেতা বলেছেন, তাঁর দল চেয়েছিল ককবরক বাংলা হরফে পড়ানো হোক।
সিপিআই(এম)-এর বর্তমান অবস্থান অবশ্য উৎসে ভিন্নভাবে এসেছে। জানুয়ারি 2024-এ দলের বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী CBSE পরীক্ষায় বাংলা ও রোমান দুই হরফেরই সুযোগ চেয়েছেন (eNewsTime)। ফেব্রুয়ারি 2026-এ তিনি অমিত শাহের দেবনাগরী-প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, প্রতিটি ভাষার ভাষাভাষীদের নিজেদের হরফ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে (Nagaland Post)।
ফেব্রুয়ারি 2024-এ TBSE-র তৎকালীন সভাপতি বলেছিলেন, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের ককবরক পত্র বাংলা হরফেই লিখতে হবে, কারণ রোমানে লেখা খাতা মূল্যায়ন করা শিক্ষকদের পক্ষে কঠিন হবে (Free Press Journal, 5 ফেব্রুয়ারি 2024)। Northeast Now-এর 25 মে 2025-এর প্রতিবেদনে ককবরক সাহিত্য সভা সরকারি সংস্থাগুলোকে বাংলা ও রোমান — দুই হরফেই সব পাঠ্যবই ছাপার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশে বাংলা হরফের পক্ষে প্রকাশ্য, যুক্তিসহ কোনো লিখিত অবস্থান উৎসে পাওয়া যায়নি। তবে প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালে লিখেছিলেন, বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে অল্প কয়েকজন ককবরকে কবিতা-গল্প লেখেন তাঁরা তখন পর্যন্ত মূলত বাংলা হরফই ব্যবহার করে এসেছেন, যদিও কিছু প্রকাশনায় রোমানে লেখা নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল।
ত্রিপুরার বর্তমান বিজেপি সরকার রোমানের বিরোধিতা করছে, কিন্তু বাংলার পক্ষেও সরাসরি অবস্থান নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ককবরকভাষীদের নিজস্ব হরফ তৈরি করতে বলেছেন, না হলে দেবনাগরী নিতে বলেছেন; কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফেব্রুয়ারি 2026-এ আগরতলায় দেবনাগরীর পক্ষে কথা বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তিগুলো তাঁর নিজের কথায় এভাবে প্রতিবেদিত হয়েছে:
Scroll-এর 4 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী রোমানের দাবিকে “আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র” বলেছেন এবং বলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার দেবনাগরী বেছে নিতে বলেছে। ডিসেম্বর 2025-এ তিনি দাবিটিকে “একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ও পৃষ্ঠপোষকতায়” বলে উল্লেখ করেন (EastMojo)। প্রতিবেদনগুলোতে এগুলো তাঁর অভিযোগ হিসেবেই এসেছে। মাধ্যমম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অমিত শাহ 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এ আগরতলায় বলেন, ত্রিপুরায় ভাষা বা হরফ নিয়ে কোনো সংঘাত কখনো ছিল না, এবং পরিচয় রক্ষায় “বিদেশি হরফ” ব্যবহারের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ডিসেম্বর 2025-এ বলেন, ককবরকের হরফ ঠিক করবেন ককবরকভাষীরাই; অষ্টম তফসিলের যুক্তির জবাবে তিনি আসামের কার্বি ও ডিমাসা ভাষার উদাহরণ দেন, যা রোমানে লেখা হয় (EastMojo)। শরিক দল Indigenous People’s Front of Tripura (IPFT) মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে একজন অ-ভাষাভাষীর “অযাচিত পরামর্শ” বলেছে (মাধ্যমম)। কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং 2022-এ EastMojo-কে বলেছিলেন, দেবনাগরীতে ককবরক লেখা অসম্ভব — বাংলা হরফে যে কারিগরি সমস্যা, দেবনাগরীতে তা আরও বেশি হবে, আর রাজ্যে খুব কম মানুষ দেবনাগরী জানেন। জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক একই প্রতিবেদনে বলেন, দেবনাগরীর সমর্থক অংশটি নগণ্য।
RSKC-র নেতা বিকাশরায় দেববর্মা 2022 সালে Indian Express-কে বলেছিলেন, তাঁদের সংগঠন মনে করে বাংলা ও রোমান দুই হরফেই ককবরক লেখা যায়; সমস্যা হবে হিন্দি চাপিয়ে দিলে। একই প্রতিবেদনে চন্দ্রকান্ত মুড়াসিংয়ের উদ্ধৃতি: কিছু জোর করে চাপালে সবার ওপর তার প্রভাব পড়ে।
ত্রিপুরায় ককবরক পরীক্ষার খাতা কোন হরফে লেখা যায়, তা নিয়ে উৎসগুলো পরস্পরবিরোধী। কেউ বলছে রাজ্য পর্ষদ ও কলেজে দুই হরফেরই সুযোগ আছে, কেউ বলছে বোর্ড পরীক্ষা বাংলা হরফে হয়। CBSE জানিয়েছে রোমান প্রশ্নপত্র 2026 সালে সম্ভব নয়, সম্ভবত 2027 থেকে বিবেচনা হবে।
রাজ্য পর্ষদ (TBSE) নিয়ে উৎসগুলোর বক্তব্য, তারিখ অনুযায়ী:
CBSE-র ক্ষেত্রে ছবিটা একটু স্পষ্ট। জানুয়ারি 2024-এ CBSE দুই হরফে খাতা লেখার অনুমতি দেয়নি; অনিমেষ দেববর্মা বিধানসভায় জানান, প্রায় 5,000 শিক্ষার্থী 15 ফেব্রুয়ারি 2024-এর পরীক্ষায় ককবরক পত্র দেবে এবং সংস্কৃত ও লুসাইয়ের মতো বিষয়ে একাধিক হরফ চলে বলে উদাহরণ দেন; মুখ্যমন্ত্রী CBSE-কে চিঠি লেখার আশ্বাস দেন (EastMojo, 14 জানুয়ারি 2024)। Vidyajyoti প্রকল্পে রাজ্য সরকার 100টি স্কুল CBSE-কে দিয়েছে, যেগুলো ইংরেজি মাধ্যম; অনিমেষ দেববর্মার প্রশ্ন ছিল, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী রাতারাতি বাংলা হরফে ককবরক পরীক্ষা দেবে কীভাবে (Eastern Mirror, মে 2023)। 29 জানুয়ারি 2026-এ জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদল CBSE চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করলে জানানো হয়, এ বছরের প্রশ্নপত্র ছাপা হয়ে গেছে; প্রস্তাবটি পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে, সম্ভবত 2027 থেকে, বিবেচনা করা হবে (Northeast Live, 3 ফেব্রুয়ারি 2026)।
বাংলাদেশের ত্রিপুরা সংগঠনগুলো 20 ডিসেম্বর 2000-এ খাগড়াছড়ির এক কর্মশালায় সর্বসম্মতিক্রমে রোমান হরফ বেছে নেয়, আর 6 ডিসেম্বর 2010-এ খাগড়াপুরের কর্মশালায় রোমানে লেখার নির্দিষ্ট পদ্ধতি গৃহীত হয়। তবু বাস্তবে বাংলা ও রোমান দুই হরফেই লেখা চলছে, এবং কোনো সরকারি নীতিগত ঘোষণা উৎসে পাওয়া যায়নি।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, ত্রিপুরা রাজ্যে ককবরকের লিখিত রূপের শতবর্ষ উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ রেস্ট হাউস মিলনায়তনে 20 ডিসেম্বর 2000 তারিখে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ ও অন্যান্য ত্রিপুরা সংগঠনের উদ্যোগে একটি কর্মশালা হয়। লেখাটিতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক হিসাবও আছে — 50 বছরের বেশি বয়সী 8 জন, 35 থেকে 50 বছরের 9 জন, আর 35-এর নিচে 24 জন। কর্মশালার প্রধান সিদ্ধান্তগুলো ছিল:
কর্মশালার সাল ও স্থান নিয়ে একটি অমিল আছে। একই লেখকের প্রোফাইল-লেখায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ 2001 ও 2003 সালে আলাদা কর্মশালা করে, এবং সেখানেই রোমান হরফের সিদ্ধান্ত হয়। আর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে 2022 সালে তিনি বলেছেন, 2000 সালে ভারতে একটি ওয়ার্কশপে বাংলাদেশের ত্রিপুরাদের ডাকা হয়েছিল, এবং সেখানে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় — বাংলা বা রোমান যে হরফে ভালো লেখা যায় সেটিতে লেখা চলবে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখলে রোমান হরফেই লেখা হবে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার আর্কাইভ-লেখা অনুযায়ী 2002, 2008, 2009, 2010, 2011 ও 2012 সালে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের সভা-সেমিনারে সিদ্ধান্তটি বারবার পুনর্ব্যক্ত হয়; এসব সভায় পার্বত্য তিন জেলা ছাড়াও বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার ত্রিপুরা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রোফাইল-লেখা অনুযায়ী 2008 সালে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের বিশেষজ্ঞ কমিটি হিসেবে “ককবরক উন্নয়ন কমিটি” গঠিত হয়, যা পরে ককবরক রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামের সহযোগী সংগঠন হয়। 6 ডিসেম্বর 2010-এ খাগড়াপুরের জাবারাং রিসোর্স সেন্টারের কর্মশালায় ককবরক লেখার নির্দিষ্ট পদ্ধতি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পদ্ধতিটির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:
লেখাটি জেকুইসনের একটি মতও উদ্ধৃত করে: ভাষাতত্ত্বের দৃষ্টিতে হরফ খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ ভাষা বাঁচে মুখে মুখে — চাইলে বাংলা, রোমান বা অন্য যেকোনো হরফে ককবরক লেখা যায়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার নিজের মতও একই রকম: যেকোনো লিপিতেই ককবরক লেখা যেতে পারে, লেখকের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করে। একই লেখায় তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে ককবরক লেখার জন্য লিপি নির্বাচনের কোন বিতর্ক নেই।”
সংগঠনের সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশে দুই হরফের ব্যবহার উৎসে দেখা যায়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার নিজের প্রকাশনা-তালিকায় রোমান হরফে লেখা বই আছে — যেমন আগস্ট 2007-এ প্রকাশিত “Roman Suithaihbai Kokborok Sunai Raida” (রোমান হরফে ককবরক লেখার কৌশল) এবং আইসিডিপি-কারিতাস প্রকাশিত প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের বই “AMANI KOK” (2007); আবার একই তালিকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি থেকে জুন 2011-এ প্রকাশিত “ককবরক শব্দভান্ডার (ককবরক-ইংরেজী-বাংলা)”-ও আছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়ার এক ত্রিপুরা তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” প্রায় দুই বছর ধরে রোমান হরফে ককবরকে অনুবাদ করেছেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে।
বাংলাদেশে ককবরক সাহিত্যের ধারাবাহিকতা নিয়ে আরও জানতে আমাদের লেখা ত্রিপুরা ও মারমা মৌখিক সাহিত্য দেখতে পারেন; সেখানে বাংলা হরফে ককবরক শব্দের বানানে স্থির রীতি না থাকার উদাহরণও আছে। ককবরকসহ বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষার অভিধানগুলোর তালিকা আছে আদিবাসী ভাষার অভিধান লেখায়।
বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে ককবরকের হরফের সবচেয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তটি 3 ডিসেম্বর 2012-এর: মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে চাকমা ও মারমার নিজস্ব বর্ণমালা, গারো ও ত্রিপুরার রোমান বর্ণমালা, আর ওঁরাওদের বাংলা বর্ণমালা। এই কর্মসূচিতে 2017 সাল থেকে ত্রিপুরা শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বই দেওয়া শুরু হয়।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়? লেখায় ধাপগুলো দিয়েছেন: 31 অক্টোবর 2012-এ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা ও সাদরি ভাষায় কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং একটি কমিটি গঠিত হয়; সেই কমিটির প্রথম সভায় (3 ডিসেম্বর 2012) বর্ণমালার সিদ্ধান্তটি আসে, সাঁওতালদের বলা হয় নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে। সাঁওতালরা সিদ্ধান্ত জানাতে না পারায় 14 জুলাই 2013-এর জাতীয় কমিটির সভায় আপাতত পাঁচ ভাষায় উপকরণ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। পুরো কর্মসূচির ইতিহাস আছে আমাদের লেখা পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা-য়।
প্রথম আলো 11 জুলাই 2016-এ এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বরাতে লিখেছিল, 2017 শিক্ষাবর্ষ থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি) শিশুরা মাতৃভাষায় বই পাবে; চাকমা ও মারমার বই নিজস্ব লিপিতে, আর বাকি তিনটির বই “কোনোটি বাংলা লিপিতে, কোনোটি রোমান হরফে”। একই প্রতিবেদনে এনসিটিবির এক শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ বলেন, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরির নিজস্ব লিপি না থাকায় কোন লিপিতে বই হবে তা “একটা বড় সংকট” হয়ে দেখা দিয়েছিল। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার প্রকাশনা-তালিকায় এনসিটিবি প্রকাশিত ককবরকের প্রাক-প্রাথমিক বইগুলোর নাম রোমান হরফে লেখা — “ANI BIJAP”, “PHAIDI SUINI SWRWNGNO”, “MWSA BAI KERANG”, “SWICHA BAI TOKLA” — প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর 2016, যৌথ লেখক প্রার্থনা কুমার ত্রিপুরা, অলিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, সত্যহা পানজি ও জগদীশ রোয়াজা।
বই আসার পর হরফের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে শিক্ষক। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়িতে 2017 সাল থেকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু 2022-23 অর্থবছরে মাতৃভাষায় পড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মাত্র 90 জন শিক্ষক — 30 জন চাকমা, 30 জন ত্রিপুরা, 30 জন মারমা — এরপর আর প্রশিক্ষণ হয়নি। দীঘিনালার এক বাসিন্দা প্রতিবেদককে বলেছেন, মাতৃভাষার বই ঘরেই পড়ে থাকে, বর্ণমালা না চেনায় বাসায়ও পড়ানো যায় না। একই প্রতিবেদনে এক শিক্ষক জানিয়েছেন, মাতৃভাষায় পড়ালেও লিখিত বা মৌখিক কোনো মূল্যায়ন হয় না।
প্রথম আলোর 6 মার্চ 2024-এর একটি মতামত-নিবন্ধ পাঠ্যবইয়ের হরফকে আলাদা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে: কিছু ভাষার বর্ণমালা নেই, তাই বাংলা, রোমান নাকি নতুন তৈরি লিপিতে বই হবে, সে সিদ্ধান্তের প্রশ্ন রয়ে গেছে। দ্য ডেইলি স্টারের “Slow Reads” বিভাগে প্রকাশিত এস. দিশার একটি লেখায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেছেন, শিশুদের এখন স্কুলে ককবরক শেখানো হলেও ফল হতাশাজনক।
15 সেপ্টেম্বর 2022-এ কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইব্রেরিতে বাংলা বর্ণমালায় লেখা একটি ককবরক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আর বাংলাদেশ প্রতিদিন একে “দেশে বাংলায় প্রথম ককবরক ভাষার বই” বলেছে। বাংলা উইকিপিডিয়াও একই দাবি লিপিবদ্ধ করেছে। তবে আমাদের আর্কাইভের ত্রিপুরা লেখকেরা বাংলাদেশে বাংলা হরফে ককবরক লেখার দীর্ঘ চর্চার কথা লিখেছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের 16 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বইটির উদ্যোগ নিয়েছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার; সালমানপুর পাহাড়ি এলাকায় ত্রিপুরা শিশুদের ককবরকে পড়ানোর জন্য একই বছরের 27 মার্চ একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, দেশে ইংরেজি বর্ণমালায় ককবরকের বই থাকলেও বাংলা বর্ণমালায় এই প্রথম। জেলা প্রশাসক 27 জন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন। শিশুরা প্রথম যে বাক্যটি পড়ে: “আং বাংলাদেশ ন হামজাগু” (আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি)। কুমিল্লা ত্রিপুরা পল্লী সমবায় সমিতির সভাপতি বলেছেন, চর্চা না থাকায় তারা মাতৃভাষা ভুলতে বসেছিলেন।
“প্রথম” দাবির পাশে আর্কাইভের তথ্যগুলো রাখা যায়। প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালে লিখেছিলেন, বাংলাদেশে যাঁরা ককবরকে লেখেন তাঁরা “মূলত বাংলা লিপিই ব্যবহার করে এসেছে এ পর্যন্ত”। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার তালিকায় রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট থেকে 1984 সালে “ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষার প্রথম পাঠ” এবং 1989 সালে সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পাদনায় ককবরকের অভিধান ও ব্যাকরণ প্রকাশের উল্লেখ আছে; বই দুটির হরফ তালিকায় বলা নেই। দ্য ডেইলি স্টারের লেখায় একজন ত্রিপুরা বলেছেন, তাদের ভাষা মূলত মৌখিক, বাংলাদেশে এখনো একটি সঠিক লিখিত রূপ নেই; কেউ রোমান অক্ষর ব্যবহার করেন, এখন সরকার ও সম্প্রদায় মিলে একটি লিখিত রূপ তৈরির কাজ করছে।
নভেম্বর 2026 পর্যন্ত ত্রিপুরায় সর্বশেষ উৎসে পাওয়া অবস্থা: রাজ্য সরকার রোমানের বিরুদ্ধে, স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ঘোষণা; জেলা পরিষদ নিজের স্কুলে রোমান চালাচ্ছে; CBSE রোমান প্রশ্নপত্র 2027 থেকে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশে সংগঠনের রোমান-সিদ্ধান্ত বহাল, তবে নতুন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
12 এপ্রিল 2026-এর জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিপ্রা মোথা পার্টি 28টির মধ্যে 24টি আসন পায়, বিজেপি পায় 4টি (ইংরেজি উইকিপিডিয়া)। নির্বাচনের আগে প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ঘোষণা দিয়েছিলেন, জেলা পরিষদের 1,633টি স্কুলে নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ককবরক রোমানে পড়ানো হচ্ছে, 2026 থেকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতেও রোমান চালু হবে (EastMojo, 29 ডিসেম্বর 2025)। এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, কিংবা নির্বাচনের পর রাজ্য সরকার বা CBSE নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না — সে বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
শাসক জোটের ভেতরের বিভাজনও উৎসে নথিভুক্ত। তিপ্রা মোথা পার্টি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক এবং অনিমেষ দেববর্মা সেই সরকারের মন্ত্রী; হরফ প্রশ্নে দলটির অবস্থান মুখ্যমন্ত্রীর বিপরীত (ANI, Scroll)। ছাত্রদের United Movement Committee for Roman Script-এর আহ্বায়ক John Debbarma 16 ফেব্রুয়ারি 2026-এ বলেছেন, তাঁরা শিক্ষা ও প্রশাসনে অভিন্নতার জন্য একটি স্থায়ী নীতিগত সিদ্ধান্ত চান (India Today NE)।
বাংলাদেশে ককবরকের হরফ নিয়ে 2022 সালের কুমিল্লার বইয়ের পর কোনো প্রকাশ্য বিতর্ক, সরকারি ঘোষণা বা সংগঠনের নতুন সিদ্ধান্তের খবর উৎসে পাওয়া যায়নি। ত্রিপুরার আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালেই লিখেছিলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের রোমান-প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়ছে, আর শান্তিচুক্তির পর প্রাথমিক স্তরে পাহাড়ি ভাষা পড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অনেকে ভাবছেন কোন লিপি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সবচেয়ে ভালো হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য ভাষাগুলোর হরফের অবস্থা জানতে দেখুন চাকমা লিপি (অঝাপাত) নিয়ে আমাদের লেখা, আর পুরো অঞ্চলের লেখাগুলো একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়। ত্রিপুরাদের উৎসব ও সংস্কৃতি নিয়ে আছে গরিয়া নৃত্য ও বৈসু।
দুই হরফেই লেখা হয়, কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা নেই। ভারতের ত্রিপুরায় রাজ্য সরকারের পাঠ্যবই ও প্রশ্নপত্র বাংলা হরফে, আর স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের স্কুলে নিচের শ্রেণিতে রোমানে পড়ানো হয়। বাংলাদেশে ত্রিপুরা সংগঠনগুলো 2000 সালে রোমান বেছে নেয় এবং 3 ডিসেম্বর 2012-এর সরকারি কমিটিও ত্রিপুরা শিশুদের বই রোমান বর্ণমালায় করার সিদ্ধান্ত দেয়।
প্রচলিত ভাষ্যে “কলমা” বা “কোলোমা” নামে একটি লিপির কথা বলা হয়, যাতে রাজরত্নাকর লেখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা লিখেছেন, এই লিপির কোনো নমুনা আজও আবিষ্কৃত হয়নি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 2022 সালের প্রতিবেদনে গবেষক ড. আজাদ বুলবুল বলেছেন, তাঁর গবেষণা অনুযায়ী এই ভাষার কোনো হরফ কোনোকালেই ছিল না।
বাংলা হরফে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণ অনুযায়ী দৌলত আহম্মদের ব্যাকরণ “ককবরমা অং ত্রৈপুর ব্যাকরণ” 1307 ত্রিপুরাব্দে, অর্থাৎ 1897 সালে, আর ঠাকুর রাধামোহন দেববর্মনের “ককবরকমা” 1900 সালে প্রকাশিত হয়। EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদনও 1897 সালের বইটিকে প্রথম ছাপা ককবরক বই বলে এবং জানায় এর হরফ ছিল বাংলা।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা 27 জানুয়ারি 2026-এ বলেন, রোমান হরফ আদিবাসী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি এবং নতুন প্রজন্ম সংস্কৃতি ভুলে যাবে। ডিসেম্বর 2025-এ বলেন, ভারতীয় হরফ না নিলে ভাষাটি অষ্টম তফসিলে স্থান পাবে না। তিনি ককবরকভাষীদের নিজস্ব হরফ তৈরি করতে বা দেবনাগরী নিতে বলেছেন, আর দেশীয় হরফ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থার কথা বলেছেন।
দাবিদারদের মতে বাংলা হরফ সুরপ্রধান ককবরকের ধ্বনি ঠিকমতো ধরতে পারে না, আর উত্তর-পূর্বের মিজো, আও, কার্বি ও ডিমাসার মতো ভাষা রোমানে লেখা হয়। তাঁরা বলেন বেশির ভাগ সাহিত্য রোমানে প্রকাশিত, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় রোমান বেছে নেয়, আর 15 জানুয়ারি 2026-এর স্মারকলিপি অনুযায়ী রোমান না দেওয়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ 29(1) লঙ্ঘন করে।
প্রশান্ত ত্রিপুরার 2000 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী ভাষাবিজ্ঞানী সুহাস চট্টোপাধ্যায় দ্বিভাষিতা ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে বাংলা বর্ণমালাকে বেশি গ্রহণযোগ্য বলেছেন, আর মোহন চৌধুরী বলেছেন রোমানে সেই সম্পর্ক ছিন্ন হবে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব একটি পুস্তিকায় বাংলার পক্ষে অবস্থান নেন। ফেব্রুয়ারি 2024-এ TBSE সভাপতি খাতা মূল্যায়নের অসুবিধার কথা বলেছিলেন।
শ্যামা চরণ ত্রিপুরা ও পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে অন্তত দুটি কমিশনের কথা সব উৎসে আছে; কিছু উৎসে Kumud Kundu Chowdhury-র কমিটিসহ তিনটি। প্রথমটি রোমানের পক্ষে ছিল। পবিত্র সরকার কমিশন নিয়ে Indian Express বলেছে এটিও রোমানের পক্ষে ছিল, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এটি কোনো হরফ সমর্থন করেনি, আর EastMojo বলেছে প্রতিবেদনটি প্রকাশই হয়নি।
উৎসগুলো পরস্পরবিরোধী। ETV Bharat 13 ফেব্রুয়ারি 2024-এ পরীক্ষায় রোমানের অনুমতির ঘোষণার খবর দিয়েছে, আর মুখ্যমন্ত্রী ফেব্রুয়ারি 2026-এ বলেছেন বাংলা বা রোমানে লেখায় বাধা নেই। একই মাসে ANI লিখেছে TBSE ও CBSE পরীক্ষা বাংলা হরফে হয়। CBSE জানিয়েছে রোমান প্রশ্নপত্র 2026-এ সম্ভব নয়, সম্ভবত 2027 থেকে বিবেচনা হবে।
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার বিবরণ অনুযায়ী 20 ডিসেম্বর 2000-এ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ রেস্ট হাউসে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদসহ ত্রিপুরা সংগঠনগুলোর কর্মশালায় সর্বসম্মতিক্রমে রোমান হরফের সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর আরেক লেখায় কর্মশালাগুলোর সাল 2001 ও 2003। লেখার নির্দিষ্ট পদ্ধতি 6 ডিসেম্বর 2010-এ খাগড়াপুরের জাবারাং রিসোর্স সেন্টারে গৃহীত হয়।
3 ডিসেম্বর 2012-এ মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ক সরকারি কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, গারো ও ত্রিপুরার বই হবে রোমান বর্ণমালায়। এনসিটিবি ডিসেম্বর 2016-এ ককবরকের প্রাক-প্রাথমিক বই প্রকাশ করে, যেগুলোর নাম লেখকের প্রকাশনা-তালিকায় রোমান হরফে লেখা, যেমন “ANI BIJAP”। 2017 সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্কুলে এই বই দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন 16 সেপ্টেম্বর 2022-এ বইটিকে “দেশে বাংলায় প্রথম ককবরক ভাষার বই” বলেছে; উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এর আগে দেশে ককবরক বই ছিল ইংরেজি বর্ণমালায়। অন্যদিকে প্রশান্ত ত্রিপুরা 2000 সালে লিখেছিলেন, বাংলাদেশের ককবরক লেখকেরা তখন পর্যন্ত মূলত বাংলা হরফই ব্যবহার করতেন।
EastMojo-র 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই বিজেপি বিধায়ক ককবরকের জন্য দেবনাগরীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 14 ফেব্রুয়ারি 2026-এ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা দেবনাগরী নেওয়ার কথা বলেন, আর 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এ আগরতলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিপিহীন ভাষার জন্য দেবনাগরীর পক্ষে বলেন। তিপ্রা মোথা, IPFT ও সিপিআই(এম) এর বিরোধিতা করেছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভ
ভারত (ত্রিপুরা)
বাংলাদেশ
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ককবরক, ত্রিপুরা, ত্রিপুরা লিপি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।