Last updated Oct 23rd, 2026
0

1903 সালে কলকাতা থেকে বেরোনো Linguistic Survey of India-র পঞ্চম খণ্ডের 321 পৃষ্ঠায় একটি ছোট ছক আছে: সাত সারিতে সাজানো কিছু গোলাকার হরফ, প্রতিটির নিচে রোমান হরফে লেখা kā, khā, gā। ছকের ওপরে সংকলক জর্জ গ্রিয়ারসন লিখে রেখেছেন, তথ্যটি দিয়েছিলেন “Dewan Kristo Chandra, a gentleman of Chākmā nationality”। সেটিই চাকমা লিপির ছাপা অক্ষরে আসার প্রথম দিকের নথিগুলোর একটি।
চাকমা লিপি (চাকমা ভাষায় অঝাপাত, অজপাত বা অঝাপাঠ নামেও লেখা হয়) চাকমা ভাষা লেখার নিজস্ব হরফ — ব্রাহ্মী-উদ্ভূত একটি লিপি, যার প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণে অন্তর্নিহিত স্বর “অ” নয়, “আ”। লিপিটি 2012 সাল থেকে ইউনিকোডে আছে, আর বাংলাদেশে 2017 সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা বর্ণমালার পাঠ্যবই বিতরণ হচ্ছে; কিন্তু বই পড়ানোর মতো শিক্ষকের অভাব এখনো সবচেয়ে বড় বাধা।
এই লেখায় লিপিটির নাম, উৎপত্তি নিয়ে নানা মত, বর্ণের হিসাব, ইউনিকোডে ঢোকার ইতিহাস, আর স্কুল ও ছাপাখানায় এর ফিরে আসার চেষ্টা এক জায়গায় রাখা হলো। চাকমা বর্ণের ঐতিহ্যবাহী নাম, বৈদ্যদের পাঠক্রম ও ব্যাকরণের বিস্তারিত আছে আমাদের আর্কাইভের চাকমা ভাষার বর্ণমালা ও ব্যাকরণ লেখায়; পাহাড়ের সব ভাষার মাতৃভাষা-শিক্ষা কর্মসূচির সামগ্রিক চিত্র আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা-য়। এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি।
সূচিপত্র
চাকমা লিপি চাকমা ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা, চাকমা ভাষায় যার নাম অঝাপাত। ইউনিকোডের মানদণ্ড-গ্রন্থ একে “Brahmi-derived” লিপি বলে, আর এর রোমান নাম দেয় Ajhā pāṭh বা Ojhopath। আন্তর্জাতিক লিপি-কোড ISO 15924-এ এর কোড Cakm, সংখ্যা 349।
বাংলায় নামটির বানান এক রকম নয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 2023 সালের একটি প্রতিবেদন লিখেছে “অঝাপাত”; বাংলা উইকিপিডিয়া একই নামকে “অজপাত বা অজাপাত বা অঝাপাঠ (ওঝাপাঠ)” লিখেছে। ভারতের মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (CADC) ওয়েবসাইটে রোমান বানান Aujhapaat বা Ojhapath। ইউনিকোডে লিপিটি প্রস্তাব করা হয়েছিল যে নথিতে, সেই মাইকেল এভারসন ও মার্টিন হোস্কেনের 2009 সালের প্রস্তাবও Ajhā pāṭh নামটিই ব্যবহার করে।
লিপিটির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য তার অন্তর্নিহিত স্বর। বাংলায় “ক” পড়লে “কঅ” শোনা যায়; চাকমায় একই বর্ণ পড়লে শোনা যায় “কা”। ইংরেজি উইকিপিডিয়া এটিকে পূর্ব ইন্দো-আর্য ভাষাগুলোর মধ্যে “অস্বাভাবিক” বলেছে, আর CADC-র ওয়েবসাইট বলছে, এই অন্তর্নিহিত স্বরকে স্পষ্ট চিহ্ন দিয়ে “মারতে” হয়। জুমজার্নালের আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখাটিও একই কথা বলে: “চাকমা বর্ণমালাগুলো আ-কার যুক্ত।”
তবে দৈনন্দিন লেখায় চাকমা লিপির ব্যবহার সীমিত। বাংলাপিডিয়ায় উইলেম ফান সেনডেল লিখেছেন, চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও আজ তা সাধারণত ব্যবহৃত হয় না এবং চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা অক্ষরে লেখা হয়। 2009 সালের ইউনিকোড প্রস্তাবও এক বাক্যে বলেছে: “Literacy in Chakma script is low.”
চাকমা লিপির উৎপত্তি নিয়ে একটি মাত্র সর্বসম্মত উত্তর নেই। সব উৎস একমত যে এটি ব্রাহ্মী-পরিবারের লিপি; মতভেদ কেবল মাঝের ধাপ নিয়ে — খমের লিপি, বর্মি লিপি, নাকি সরাসরি ব্রাহ্মীর অনুকরণ। নিচের ছকে প্রতিটি উৎসের বক্তব্য তার নিজের ভাষায়, পাশাপাশি রাখা হলো।
| উৎস ও সাল | উৎপত্তি নিয়ে বক্তব্য |
|---|---|
| জি. এ. গ্রিয়ারসন, Linguistic Survey of India, খণ্ড 5, ভাগ 1 (1903) | টানা হাতের লেখার ধরন বাদ দিলে চাকমা বর্ণমালা “almost identical with the Khmer character”; বর্মি লিপিও একই উৎস থেকে এসেছে, তবে চাকমার চেয়ে “much more corrupted”। |
| ভগদত্ত খীসা, “চাকমা লিপি ও ভাষা”, গিরি নির্ঝর, ফেব্রুয়ারি 1987 (আর্কাইভে উদ্ধৃত) | গ্রিয়ারসনের মত ধরে খমের লিপি থেকে উদ্ভব; লেখকের যুক্তি, চাকমারা লিপিটি আরাকানে গিয়ে গ্রহণ করেননি, “সরাসরি চম্পকনগর থেকেই” এনেছিলেন। |
| বঙ্কিম চন্দ্র চাকমা, চাকমা সমাজ ও সংস্কৃতি (আর্কাইভে উদ্ধৃত) | চাকমারা “ব্রাক্ষ্মী লিপির অনুকরণে বর্ণমালা গ্রহণ করেছিল”। |
| এভারসন ও হোস্কেন, ইউনিকোড প্রস্তাব N3645R (2009) | মিয়ানমার লিপির সঙ্গে “close relationship”; এনকোডিংয়ের জন্যও তাই মিয়ানমার মডেলটিকে বেশি মানানসই বলা হয়েছে। |
| CADC, মিজোরাম (ওয়েবসাইট) | খমের ও লান্না (চিয়াংমাই) হরফের সঙ্গে “striking similarity”, আধুনিক মিয়ানমার হরফের সঙ্গেও কিছু মিল। |
| সুগত চাকমা, প্রথম আলো (14 ফেব্রুয়ারি 2025) | মিয়ানমারের শান, আসামের আহোম ও অরুণাচলের খামতি লিপির সঙ্গে “সাদৃশ্য ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র”; ব্রাহ্মী থেকে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে চাকমা, রাখাইন ও বর্মি লিপির উদ্ভব। |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, “Chakma script” | বর্মি লিপি থেকে উদ্ভূত; কয়েকটি বইয়ের বরাতে আরাকানি লিপি থেকে; সম্ভবত ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত আরাকানে বিকশিত — নিবন্ধটি নিজেই সালের পাশে প্রশ্নচিহ্ন রেখেছে। |
ছকটি থেকে দুটি জিনিস পরিষ্কার। প্রথমত, “খমের” তত্ত্বের আদি উৎস গ্রিয়ারসন; পরের বাংলা লেখাগুলো, যেমন ভগদত্ত খীসার প্রবন্ধ আর আর্কাইভের “আদিবাসী ভাষাগত সঙ্কট ও সম্ভাবনার প্রেক্ষিত” লেখাটি, তাঁকেই উদ্ধৃত করে। দ্বিতীয়ত, লিপিটি কবে চাকমাদের হাতে এল, সে বিষয়ে কোনো সমসাময়িক নথি কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; সালগুলো অনুমান।
গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-র পঞ্চম খণ্ডের প্রথম ভাগে (1903) “Chākmā Sub-dialect” অংশে চাকমা বর্ণমালার একটি পূর্ণ ছক, স্বরচিহ্নের তালিকা আর বর্মি হরফের সঙ্গে তুলনা ছাপা হয়েছিল। তথ্যদাতা ছিলেন দেওয়ান কৃষ্টচন্দ্র, আর তা গ্রিয়ারসনের কাছে পাঠিয়েছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার জে. এ. কেভ-ব্রাউন।

সার্ভের ভাষায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যাঞ্চলে, চাকমা চিফের সার্কেলে কর্ণফুলী নদীর আশপাশে যে ভাষা বলা হয়, তা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার ভিত্তিতে গড়া হলেও এত রূপান্তরিত যে “almost worthy of the dignity of being classed as a separate language”। সার্ভে তখন এর বক্তার সংখ্যা ধরেছিল প্রায় 20,000।
লিপি নিয়ে গ্রিয়ারসনের তিনটি পর্যবেক্ষণ আজকের ইউনিকোড-বর্ণনার সঙ্গে প্রায় হুবহু মেলে:
জুমজার্নালের আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখাটি এই ঘটনাকে এভাবে লিখেছে: “কৃষ্টচন্দ্র দেওয়ান কর্তৃক মি. গ্রীয়ারসনকে প্রেরিত প্রথম চাকমা বর্ণমালা ১৯০৩ সালে লিংগুস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে প্রকাশিত হয়।” একই লেখা অনুযায়ী পরে সতীশ ঘোষের চাকমা জাতি বইয়েও চাকমা বর্ণ ছাপা হয়; গৌতমলাল চাকমার আর্কাইভ-লেখার তথ্যসূত্রে বইটির সাল 1909।
চাকমা লিপি দীর্ঘকাল টিকে ছিল মূলত দুই শ্রেণির মানুষের হাতে: ধর্মীয় পুরোহিত লুরি (রাউলি বা লাউলি নামেও লেখা হয়) এবং গ্রামের বৈদ্য বা ওঝা। লুরিরা পড়তেন ধর্মগ্রন্থ আঘরতারা, আর বৈদ্যরা লিখে রাখতেন চিকিৎসার মন্ত্র ও ওষুধের তালিকা — তাল্লিক বা তাহ্লিক শাস্ত্র।
জুমজার্নালের আর্কাইভে এ নিয়ে অন্তত চারটি লেখা একই কথা বলে, যদিও খুঁটিনাটিতে কিছু তফাত আছে:
ভারতের দিক থেকেও একই ছবি। CADC-র ওয়েবসাইট লিখেছে, চাকমা লিপি রক্ষা করেছিলেন “BOIDYOS, the village medicine men”, যাঁরা এতে ঔষধি গাছ, লতাগুল্ম ও শিকড়ের বিশাল সংগ্রহ লিখে রাখতেন। চাকমা লিপিতে লেখা একটি পুঁথির ইতিহাস নিয়ে আলাদা লেখা আছে: গোজেন লামা: শিবচরণের ঈশ্বর নামা, আর তার শ্রেণি নিয়ে তিনটি দাবি।
উনিশ শতকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলা ভাষা ও বাংলা লিপির প্রচলন বাড়ার সঙ্গে চাকমা লিপির ব্যবহার কমতে থাকে। গৌতমলাল চাকমার আর্কাইভ-লেখা এই বদলকে রানি কালিন্দীর সময়ের (লেখায় সাল 1844–1872) সঙ্গে যুক্ত করেছে; সে সময় বর্মি ভাষার বৌদ্ধ গ্রন্থ “তাদুয়াং”-এর বাংলা পদ্যানুবাদ “বৌদ্ধরঞ্জিকা” চাকমা সমাজে প্রচলিত হয়।
এরপর থেকে, ওই লেখার ভাষায়, “শুরু হয় বাংলা ভাষা ও বাংলা লিপিতে চাকমাদের ধর্ম ও সাহিত্য চর্চা”। বিশ শতকের চাকমা সাহিত্যের বড় অংশই তাই বাংলা হরফে। ত্রিপুরায় 1960-এর দশকের শেষ দিকে কবি জনেশ চাকমা বাংলা লিপিতে চাকমা ভাষায় লেখা চেয়ে পোস্টকার্ডে আবেদন ছাপিয়েছিলেন — সেটিও একই লেখায় আছে।
বাংলা হরফে চাকমা লেখার একটি বাস্তব সমস্যা আছে: কিছু চাকমা ধ্বনির বাংলা প্রতিবর্ণ নেই। দেবাশীষ ওয়াংঝার প্রবন্ধ বাংলা হরফে চাকমা ভাষা উচ্চারণের সমস্যা ও তার সমাধান উদাহরণ দেয়: চাকমা শব্দে যেখানে ইংরেজি z-এর মতো ধ্বনি, বাংলা হরফে লেখা পড়ে অনেকে সেখানে j উচ্চারণ করেন — Bizu না বলে Biju। প্রবন্ধটি 19 নভেম্বর 2014 রাঙামাটির রাজবাড়িতে চাকমা রাজ কার্যালয়ের আয়োজনে একটি পরামর্শ সভায় উপস্থাপিত লেখার সংশোধিত রূপ।
লেখক সেখানে স্পষ্ট করেছেন, তিনি “চাকমা বর্ণ বর্জন করে বাংলা বর্ণ ব্যবহার করা পক্ষে নই”; বরং তাঁর পর্যবেক্ষণ, গ্রামাঞ্চলে চাকমা লিপির ব্যবহার “ধীর গতিতে হলেও বেড়ে চলেছে”। আবার বাস্তবতাও তিনি লিখেছেন: বাংলার আধিপত্যের কারণে অধিকাংশ চাকমাভাষীকে প্রথম লিপি হিসেবে চাকমা অক্ষরজ্ঞান দেওয়া “বর্তমান প্রেক্ষাপটে অথবা অদূর ভবিষ্যতে দূরুহ ব্যাপার”।
চাকমা বর্ণমালায় কয়টি বর্ণ, তার উত্তর নির্ভর করে কে গুনছেন তার ওপর। 2000 সালের একটি কর্মশালায় 33টি বর্ণের নাম ও আকার ঠিক করা হয়েছিল; কেউ কেউ 36টি বলেন; আর 1959 সালে নোয়ারাম চাকমার সংকলনে ছিল 39টি। ইউনিকোডে আজ চাকমা ব্লকে মোট 71টি অক্ষর-স্থান বরাদ্দ।
আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখার হিসাবে চাকমা ভাষায় বর্ণ 33টি — স্বরবর্ণ 1টি, ব্যঞ্জনবর্ণ 32টি। সেখানে আ (“পিছপুজা আ”)-কে মৌলিক স্বরবর্ণ ধরা হয়েছে। একই লেখা বলছে, অনেকে 33টি মনে করেন, কেউ কেউ 36টি; সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় “সর্বজন গ্রহণযোগ্য রূপ” তৈরি হয়নি।
ইউনিকোডের হিসাব আলাদা, কারণ সেখানে প্রতিটি চিহ্ন আলাদা অক্ষর হিসেবে গোনা হয়। ইউনিকোড ক্যারেক্টার ডেটাবেসের DerivedAge ফাইল আর চাকমা কোড-চার্ট মিলিয়ে হিসাবটি এরকম:
| শ্রেণি | কোড-পয়েন্ট | সংখ্যা | কোন সংস্করণে |
|---|---|---|---|
| চন্দ্রবিন্দু, অনুস্বার, বিসর্গ | U+11100–11102 | 3 | 6.1 (2012) |
| স্বাধীন স্বরবর্ণ (আ, ই, উ, এ) | U+11103–11106 | 4 | 6.1 |
| ব্যঞ্জনবর্ণ (কা থেকে হা) | U+11107–11126 | 32 | 6.1 |
| নির্ভরশীল স্বরচিহ্ন ও দুটি খণ্ডচিহ্ন | U+11127–11132 | 12 | 6.1 |
| বিরাম ও মায্যা | U+11133–11134 | 2 | 6.1 |
| অঙ্ক (0–9) | U+11136–1113F | 10 | 6.1 |
| যতিচিহ্ন (অনুচ্ছেদ-চিহ্ন, দাঁড়ি, দুই দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন) | U+11140–11143 | 4 | 6.1 |
| LHAA (ল-এর মহাপ্রাণ), আ-কার, এই-কার | U+11144–11146 | 3 | 11.0 (2018) |
| VAA, পালির জন্য | U+11147 | 1 | 13.0 (2020) |
| মোট | U+11100–1114F ব্লকে | 71 |
এই হিসাবে ব্যঞ্জনবর্ণ এখন 34টি (মূল 32 + LHAA + VAA)। U+11135 স্থানটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। ইউনিকোডের মানদণ্ড-গ্রন্থ আরও বলে, চাকমার নিজস্ব অঙ্ক থাকলেও বাংলা অঙ্কও ব্যবহৃত হয়।

স্বরবর্ণের ব্যবস্থাটিও বাংলার চেয়ে আলাদা। ইউনিকোড অনুযায়ী স্বাধীন স্বরবর্ণ মাত্র চারটি — আ, ই, উ, এ। ঈ, ঊ, আই, অই-এর মতো অন্য স্বর শব্দের শুরুতে লিখতে হলে “আ” বর্ণের গায়ে স্বরচিহ্ন বসানো হয়; 1903 সালে গ্রিয়ারসন ঠিক এই ব্যবস্থাকেই “scaffolding” বলেছিলেন। এভারসন-হোস্কেনের প্রস্তাব যোগ করেছে, কিছু আধুনিক লেখক ই, উ, এ-র ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি সাধারণভাবে ব্যবহার করছেন।
আরেকটি বৈশিষ্ট্য প্রস্তাবটি আলাদা করে উল্লেখ করেছে: চাকমায় চন্দ্রবিন্দু (চানফুদা) অনুস্বার (একফুদা) বা বিসর্গের (দ্বিফুদা) সঙ্গে একসঙ্গে বসতে পারে।
চাকমা লিপিতে ব্যঞ্জনের অন্তর্নিহিত “আ” মুছতে দুটি আলাদা চিহ্ন আছে: দৃশ্যমান “মায্যা” (বাংলা হসন্তের মতো কাজ করে) আর অদৃশ্য “বিরাম”, যা দুই ব্যঞ্জনকে জুড়ে যুক্তবর্ণ বানায়। 2001 সালের একটি প্রাইমারে প্রস্তাব করা হয়েছিল, যুক্তবর্ণ কেবল পাঁচটি বর্ণ দিয়েই গড়া হবে।
ইউনিকোডের মানদণ্ড-গ্রন্থ বলছে, মিয়ানমার লিপির মতো চাকমাতেও দুটি স্বর-মোছার অক্ষর রাখা হয়েছে “to conform to modern user expectations”; কোনো শব্দে যুক্তবর্ণ লাগবে কি না, তা শব্দটির বানানেরই অংশ। এভারসন-হোস্কেনের প্রস্তাব জানায়, এনকোডিংয়ের দুটি মডেল — দেবনাগরী মডেল আর মিয়ানমার মডেল — ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, এবং তাঁদের মত ছিল মিয়ানমার মডেলটিই লিপির সঙ্গে বেশি মানায়।
বানান-সংস্কারের ইতিহাস প্রস্তাবটি তিনটি বই ধরে দেখিয়েছে:
| বই ও সাল | যুক্তবর্ণ নিয়ে যা দেখায় |
|---|---|
| চিরজ্যোতি চাকমা ও মঙ্গল কুমার চাকমা, চাঙমার আগ পুধি (রাঙামাটি, 1982) | অনেক বিস্তৃত যুক্তবর্ণ, কয়েকটির গ্লিফ বেশ জটিল (কক্কা, ক্তা, ঙ্কা, ঞ্জা, ত্থা, দ্ধা, ল্কা, স্পা ইত্যাদি)। |
| ভগদত্ত খীসা, চাঙমা পত্থম পাট (উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি, 2001) | সংস্কার-প্রস্তাব: যুক্তবর্ণ সীমিত থাকবে য, র, ল, ওয়া ও ন — এই পাঁচ বর্ণে। |
| Singā, ফাদাগাঙ (2004) | ওই পাঁচটির পাশাপাশি ব, ম ও হ দিয়ে গড়া যুক্তবর্ণ। |
প্রস্তাবটি আরও লিখেছে, প্যাঁচানো (ligating) ধাঁচের যুক্তাক্ষর এখন “old-fashioned” গণ্য হয়; বেশিরভাগ লেখক এখন যুক্তবর্ণের বদলে মায্যা দিয়ে লিখতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে আরেকটি নিয়মও চোখে পড়ে। চাকমা-বাংলা মেশিন ট্রান্সলেশন নিয়ে 2024–2026 সালের একটি গবেষণাপত্র (ChakmaNMT) জানায়, চাকমা ভাষা-গবেষকেরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাক-প্রাথমিক চাকমা বই যাঁরা লিখেছেন তাঁদের নিয়ম মানতে বলেছেন; তার প্রধান নিয়মটি হলো, একটি মূল বর্ণের সঙ্গে একটির বেশি চিহ্ন বসবে না। ভারতে এই নিয়ম মানা হয় না, সেখানকার লেখায় একাধিক চিহ্ন প্রায়ই দেখা যায়।
আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখায় এই চিহ্নগুলোর ঐতিহ্যবাহী নামও আছে — যেমন কায়ি পাঠ, কারা পাঠ (র-ফলা), কিয়া পাঠ (য-ফলা) — আর বলা হয়েছে, বৈদ্যদের পুরোনো পাঠক্রমে কেবল 12টি বর্ণে মায্যা ব্যবহারের বিধান ছিল। পুরো তালিকা সেখানেই দেখা যেতে পারে।
চাকমা বর্ণের নাম ও আকার এক বই থেকে আরেক বইয়ে বদলায়, আর সেটি মেটাতে অন্তত তিনবার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: 2000 সালে রাঙামাটির কর্মশালা, 2014 সালে চাকমা রাজ কার্যালয়ের পরামর্শ সভা, আর 2019 সালে মিজোরামে তিন দেশের সাধারণ লিপি নিয়ে সেমিনারের প্রস্তাব।
আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখা অনুযায়ী 2000 সালের 5 অক্টোবর নুঅ পহর, টংগ্যা ও তৃণমূল নামের তিনটি বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে একটি কর্মশালা আয়োজন করে। লক্ষ্য ছিল বর্ণমালার অসঙ্গতি চিহ্নিত করা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্ণের নাম ও আকার ঠিক করা।
লেখাটি অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি স্নেহ কুমার চাকমা, বর্ণমালা নিয়ে বই লিখেছেন এমন মঙ্গল কুমার চাকমা, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো, আর উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের চাকমা প্রাইমারের রচয়িতা ডা. ভগদত্ত খীসা ও ঝিমিত ঝিমিত চাকমা। প্রায় 15 জন বৈদ্যের উপস্থিতিতে 33টি বর্ণের নাম, বাছাই ও কাঠামো ঠিক করা হয়, আর বানানরীতি ও অঙ্ক নিয়েও ঐকমত্য হয়।
মতভেদ কতটা ছিল, লেখাটি তার নমুনা দিয়েছে। প্রথম বর্ণটির নামই চার রকম: চুচেঙ্যা কা, চুচাঙ্যা কা, চুজেয়া কা ও চুজাঙা কা। “দ্বিপদলা জা”-র নাম পাওয়া গেছে সাতটি রূপে। লেখাটি একেকটি বর্ণের আকার মিলিয়েছে কৃষ্টচন্দ্র, সতীশ ঘোষ, নোয়ারাম, মিজোরাম, বিরাজ মোহন দেওয়ান, শ্রদ্ধালংকার, চিরজ্যোতি-মঙ্গল, সুগত চাকমা, সুপ্রিয় তালুকদার ও হরকিশোর চাকমার বইয়ের সঙ্গে।
দেবাশীষ ওয়াংঝার প্রবন্ধের পাদটীকা অনুযায়ী সভাটি ইউএনডিপির সহায়তায় চাকমা রাজ কার্যালয় আয়োজন করে রাঙামাটির রাজবাড়িতে। সেখানে তনয় দেওয়ান “চাকমা বর্ণমালা ও বানানরীতি” নামে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভার সুপারিশের মধ্যে ছিল:
প্রবন্ধ অনুযায়ী দু-একজন অংশগ্রহণকারী চাকমা বর্ণ ছাড়া অন্য কোনো বর্ণ ব্যবহার না করার পক্ষে মত দেন; সংখ্যাগরিষ্ঠরা উচ্চারণ-সমস্যা মেটাতে বাংলা বা ইংরেজি হরফ ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি।
CADC-র 26 ফেব্রুয়ারি 2019 তারিখের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজা দেবাশীষ রায়ের মিজোরাম সফরের সময় চাকমা ভাষা-পণ্ডিত ও জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁকে CADC-র স্কুলে পড়ানো চাকমা পাঠ্যবই দেন, এবং তিন দেশের সব পক্ষকে নিয়ে “a common set of Chakma script” ঠিক করতে একটি সেমিনারের প্রয়োজন অনুভূত হয়। বিজ্ঞপ্তিটির ভাষায়, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের চাকমারা আজ চাকমা লিপি ব্যবহার করেন “with slight variation in form and numbers of alphabets”। সেই সেমিনার হয়েছিল কি না, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
চাকমা লিপি ইউনিকোডে যুক্ত হয় 2012 সালের 31 জানুয়ারি প্রকাশিত ইউনিকোড 6.1 সংস্করণে, U+11100–U+1114F ব্লকে। ভিত্তি ছিল মাইকেল এভারসনের 2008 সালের প্রাথমিক প্রস্তাব আর 2009 সালে এভারসন ও মার্টিন হোস্কেনের পূর্ণ প্রস্তাব। পরে 2018 ও 2020 সালে আরও চারটি অক্ষর যোগ হয়।
| তারিখ | নথি / ঘটনা | কী ছিল |
|---|---|---|
| 8 এপ্রিল 2008 | N3428 / L2/08-133, মাইকেল এভারসন | প্রাথমিক প্রস্তাব; লিপিটিকে ইউনিকোডের প্রধান স্তরে (BMP) রাখার কথা বলা হয়েছিল। |
| 28 জুলাই 2009 | N3645R / L2/09-187R, এভারসন ও হোস্কেন | পূর্ণ প্রস্তাব, ইউসি বার্কলের স্ক্রিপ্ট এনকোডিং ইনিশিয়েটিভ থেকে; অর্থায়ন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর দ্য হিউম্যানিটিজের অনুদান। গ্লিফের ভিত্তি Chadigang ফন্ট। |
| 31 জানুয়ারি 2012 | ইউনিকোড 6.1 | চাকমা ব্লক যুক্ত, 67টি অক্ষর; ব্লকটি গেল সম্পূরক স্তরে (U+11100)। |
| 2 নভেম্বর 2016 | L2/16-330, Bivuti Chakma ও Andrew Glass | LHAA, আ-কার ও এই-কার যোগের প্রস্তাব, “Baarah Maatraa” বানানরীতির জন্য। |
| 2018 | ইউনিকোড 11.0 | U+11144–11146 যুক্ত। |
| 22 এপ্রিল 2019 | L2/19-143, জাকারি শিউরেন | পালি লেখার জন্য VAA বর্ণের প্রস্তাব। |
| 2020 | ইউনিকোড 13.0 | U+11147 যুক্ত। |
2009 সালের প্রস্তাবে আঞ্চলিক ভিন্নতার স্বীকৃতি। এভারসন-হোস্কেন লিখেছেন, ভারত ও বাংলাদেশে ব্যবহৃত লিপির গ্লিফে কিছুটা তফাত আছে; কিছু ফন্ট মিয়ানমারের ধাঁচে বেশি গোলাকার। প্রস্তাবের গ্রন্থপঞ্জিতে তিনটি স্থানীয় বই আছে — 1982 সালের চাঙমার আগ পুধি, 2001 সালের চাঙমা পত্থম পাট আর 2004 সালের ফাদাগাঙ।
একটি কারিগরি ব্যতিক্রম। ইউনিকোড 6.1-এর প্রকাশনা-নোট সতর্ক করেছিল, চাকমার দুটি স্বরচিহ্ন (U+1112E ও-কার, U+1112F ঔ-কার) ভেঙে দুটি অংশে লেখা যায় — প্রধান স্তরের বাইরের অক্ষরে এমন “canonical decomposition” ছিল অস্বাভাবিক, এবং এতে নর্মালাইজেশন ও বাছাই-অ্যালগরিদমে আগে থেকে ধরে রাখা অনুমান ভেঙে যেতে পারে।
2016: বাদ পড়া তিনটি অক্ষর। Bivuti Chakma ও Andrew Glass-এর প্রস্তাব বলে, বিদ্যমান এনকোডিংয়ে “Baarah Maatraa” বানানরীতির তিনটি অক্ষর নেই: LHAA (ল-এর মহাপ্রাণ রূপ; প্রস্তাবে নাম “fetfada lhaa”), দীর্ঘ আ বোঝাতে আলাদা আ-কার, আর এ ও ই মিলিয়ে এই-কার। প্রস্তাবকদের দাবি, এগুলো “not simply modern innovations”; আঞ্চলিক চাকমা বানানে আগে থেকেই ছিল। প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ত্রিপুরা থেকে অনলাইনে প্রকাশিত শেখার বই আর CADC-র জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ডের 12 জানুয়ারি 2009 তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত একটি পাঠ্যবইয়ের পাতা।
2019: ভিক্ষুদের বানানো একটি নতুন বর্ণ। জাকারি শিউরেনের প্রস্তাব অনুযায়ী VAA বর্ণটি 2013 সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তৈরি করেন পালি ত্রিপিটক ছাপার জন্য, কারণ পালির বাকি সব ধ্বনি চাকমায় থাকলেও VAA ছিল না। দেখতে এটি চাকমা “বা”-র মতো, সঙ্গে একটি আনুভূমিক রেখা। প্রস্তাবে নমুনা হিসেবে চাকমা লিপিতে ছাপা পালি গ্রন্থ বিসুদ্ধিমগ্গ-র পাতা দেওয়া হয়েছে, আর ব্যবহারকারী সম্প্রদায়ের পক্ষে যোগাযোগের নাম হিসেবে আছেন ভিক্ষু Sansayan Chakma।
ইউনিকোড আসার আগে কম্পিউটারে চাকমা লিপি লেখা হতো নানা ASCII-ভিত্তিক ফন্টে, যাদের প্রত্যেকটির অক্ষর-বিন্যাস আলাদা; এক ফন্টে লেখা ফাইল অন্য ফন্টে পড়া যেত না। এখন RibengUni-র মতো ইউনিকোড ফন্ট আর গুগলের মুক্ত-লাইসেন্সের Noto Sans Chakma আছে।
ChakmaNMT গবেষণাপত্রের লেখকেরা চাকমা ভাষার লেখা সংগ্রহ করতে গিয়ে ঠিক এই সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁদের বর্ণনায় সংগৃহীত ফাইলগুলো ছিল “various ASCII-based formats, each with distinct character mappings”; সব ফন্টকে একটি ইউনিকোড ফন্টে রূপান্তরের জন্য তাঁরা আলাদা প্রোগ্রাম লেখেন। লক্ষ্য-ফন্টটিকে তাঁরা বলেছেন RibengUni, “the first UTF-8–compliant font for the Chakma language” — এটি গবেষকদের দাবি; বাংলা উইকিপিডিয়াও একই ফন্ট ও কিবোর্ডকে “First & Only” বলে উল্লেখ করেছে।
গুগলের Noto ফন্ট-প্রকল্পের চাকমা ফন্টের সোর্স GitHub-এ আছে, SIL Open Font License 1.1-এ — অর্থাৎ যে কেউ বিনা মূল্যে ব্যবহার ও বিতরণ করতে পারেন। এই লেখায় ব্যবহৃত বর্ণমালার ছকটিও Noto Sans Chakma ফন্টে আঁকা।
ছাপার কাজেও পরিবর্তন এসেছে। সুগত চাকমা 2025 সালে প্রথম আলোয় লিখেছেন, কম্পিউটারে ব্যবহারযোগ্য নানা ধরনের চাকমা ফন্ট উদ্ভাবিত হয়েছে, এবং বাংলা বর্ণের পাশাপাশি চাকমা বর্ণমালাও “বই-পুস্তকাদির মুদ্রণকাজে” ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি ব্যবহারের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ মিজোরামে: CADC-র ওয়েবসাইটে ইংরেজির পাশে চাকমা লিপিতে ভাষা বাছাইয়ের বিকল্প আছে।
তবু ডিজিটাল জগতে চাকমা লেখা এখনো বিরল। ChakmaNMT গবেষণাপত্রের ভাষায়, চাকমা ডিজিটাল লেখা অনলাইনে “rarely available”, বেশিরভাগ উপকরণ কেবল স্থানীয় পণ্ডিতদের কাছে বা ছাপা বইয়ে। একই গবেষণাপত্র সাইকিয়া ও উলম্যানের (2023) বরাতে চাকমা ভাষাকে “Definitely Endangered” শ্রেণিতে রাখে।
বাংলাদেশ সরকার 2012 সালে সিদ্ধান্ত নেয়, চাকমা শিশুদের পাঠ্যবই ছাপা হবে চাকমা নিজস্ব বর্ণমালায়। 2017 সাল থেকে তিন পার্বত্য জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত এই বই বিতরণ হচ্ছে; 2026 শিক্ষাবর্ষে বই পেয়েছে 35,145 চাকমা শিশু। কিন্তু প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পড়ানোর মতো শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যত শুরুই হয়নি।
আর্কাইভের আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়? লেখা অনুযায়ী 3 ডিসেম্বর 2012 সরকারি কমিটির প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়: পাঠ্যপুস্তকে চাকমা ও মারমা নিজস্ব বর্ণমালা, গারো ও ত্রিপুরা রোমান বর্ণমালা, আর ওঁরাওরা বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করবে। সাঁওতালরা বর্ণমালার সিদ্ধান্ত জানাতে না পারায় 14 জুলাই 2013-এর জাতীয় কমিটির সভায় আপাতত পাঁচটি ভাষায় উপকরণ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। একই লেখা জানায়, চাকমা ভাষা কাউন্সিল ও চাঙমা একাডেমি নিজেদের উদ্যোগে উপকরণ তৈরিতে যুক্ত ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর 6 মার্চ 2024 প্রথম আলোয় সময়রেখা দিয়েছেন: 2017 সালে প্রাক-প্রাথমিক, 2018 সালে প্রথম, 2019 সালে দ্বিতীয় এবং 2020 সালে তৃতীয় শ্রেণির বই; তৃতীয় শ্রেণির পর আর বই লেখা হয়নি। সুগত চাকমা 2025 সালে প্রথম আলোয় লিখেছেন, এনসিটিবির চাকমা ভাষা ও বর্ণমালার বই বিতরণ শুরু হয় 2016 সাল থেকে। শুরুর সাল নিয়ে তাই দুটি তথ্য আছে — অধিকাংশ প্রতিবেদন বলছে 2017, সুগত চাকমা বলছেন 2016। কোন শ্রেণি পর্যন্ত বই, তা নিয়েও দেশ রূপান্তরের 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন “প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি” লিখেছে, যেখানে প্রথম আলো (2024 ও 2026) লিখেছে তৃতীয় শ্রেণি।
| উৎস ও সময় | এলাকা | তথ্য |
|---|---|---|
| ঢাকা ট্রিবিউন, 24 ফেব্রুয়ারি 2019 | রাঙামাটি | 2017 থেকে 1,22,034টি আদিবাসী ভাষার বই বিতরণ; 723 জন শিক্ষক প্রশিক্ষিত (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব)। |
| ঢাকা ট্রিবিউন, 24 ফেব্রুয়ারি 2019 | খাগড়াছড়ি | প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে 30,129 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থী; প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় বেশিরভাগ বই “gathering dust”। |
| দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 1 জানুয়ারি 2026 | রাঙামাটি | 10 উপজেলার 27,801 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীকে মাতৃভাষার বই বিতরণ। |
| প্রথম আলো, 20 ফেব্রুয়ারি 2026 | তিন পার্বত্য জেলা | 2026 শিক্ষাবর্ষে 66,687 শিশু বই পেয়েছে — চাকমা 35,145, মারমা 18,513, ত্রিপুরা 12,756। |
প্রায় সব উৎস একই জায়গায় থামে: চাকমা শিক্ষকেরা চাকমা বলতে পারেন, কিন্তু অনেকে চাকমা লিপি পড়তে পারেন না। সুগত চাকমার ভাষায়, “চাকমা বর্ণমালা বহু প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের অজানা কিংবা স্বল্পজ্ঞাত”। দ্য ডেইলি স্টারের 18 ফেব্রুয়ারি 2021-এর প্রতিবেদনও লিখেছে, উদ্যোগটি থমকে গেছে চাকমা বর্ণমালায় লিখতে-পড়তে পারেন এমন শিক্ষকের অভাবে।
প্রথম আলোর 2026 সালের প্রতিবেদন কারণটি আরও খুলে বলে: বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মূলধারার শিক্ষার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত; জেলা পরিষদ থেকে কিছু শিক্ষককে এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যা যথেষ্ট ছিল না। 2026 সালে প্রথমবার শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন মাতৃভাষার একটি বিষয় ক্লাস রুটিনে রাখা হয়েছে; কিন্তু একজন প্রধান শিক্ষকের ভাষায়, কে কীভাবে পড়াবেন তা বলা হয়নি। বান্দরবানের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিকে “এক ধাপ অগ্রগতি” বলেছেন।
বাংলা ট্রিবিউনের 25 ডিসেম্বর 2021-এর খাগড়াছড়ি প্রতিবেদনে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ছিল দুই থেকে ছয় দিনের; একজন শিক্ষক বলেছেন, শুধু বর্ণ চিনলেই হয় না, “কার” চিহ্ন আর বানানও শিখতে হয়। ওই প্রতিবেদন আরও একটি সমস্যা দেখিয়েছে: বদলির সময় শিক্ষকের জনগোষ্ঠী আর বিদ্যালয়ের শিশুদের ভাষা মেলানো হয় না, ফলে এক স্কুলে চাকমা শিক্ষক মারমা শিশুদের পড়াচ্ছেন। পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ছবি আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা লেখায়।
সরকারি কর্মসূচির আগে ও পাশাপাশি চাকমা লিপি শেখানোর সবচেয়ে বড় কাজ হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ইনজেব চাকমা ও তাঁর সংগঠন 2004 সাল থেকে বর্ণমালা শেখাচ্ছেন; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 2023 সালের হিসাবে 218টি কেন্দ্রের মাধ্যমে 11,118 জনকে।
দুটি প্রতিবেদনে সংগঠনটির নাম আলাদা। দ্য ডেইলি স্টার (18 ফেব্রুয়ারি 2021) ইনজেব চাকমাকে “Changma Sahitya Bah”-এর সভাপতি বলেছে; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (20 ফেব্রুয়ারি 2023) লিখেছে, তিনি “নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদ” নামে সংগঠন গড়েছেন। দুই প্রতিবেদনেই শুরুর সাল 2004।
ডেইলি স্টারের 2021 সালের হিসাবে তখন পর্যন্ত প্রায় 10 হাজার মানুষ শিখেছিলেন, পাঠ চলত দেশের 200টি জায়গায় — বেশিরভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় — আর তাদের নিজস্ব বর্ণমালা-বইয়ের নাম Pattam Adi Pudi। একই প্রতিবেদনে দীঘিনালার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক Sohagi Chakma বলেছেন, পড়ানো শুরুর সময় তিনি চাকমা বর্ণমালা জানতেন না; সংগঠনটির কাছে শিখে এখন বিদ্যালয়ে চাকমা পড়াতে পারছেন। বিডিনিউজের 2023 সালের প্রতিবেদন যোগ করেছে, 41টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, আর হেডম্যান, কার্বারি ও চেয়ারম্যানরাও শিখছেন; ইনজেব চাকমার লক্ষ্য, 2050 সালের মধ্যে পুরো চাকমা জনগোষ্ঠীকে নিজস্ব বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করানো।

আরও কয়েকটি উদ্যোগ নথিভুক্ত আছে। দেশ রূপান্তরের 2025 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী চাকমা কালচারাল কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (সিসিসিবি) 2023 সাল থেকে দুর্গম গ্রামে তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের চাকমা বর্ণমালা শেখাচ্ছে, মাঠে ও অনলাইনে মিলিয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। একই প্রতিবেদন জানায়, জেলা পরিষদের উদ্যোগে চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়েছে। বিডিনিউজের 2023 সালের প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক জিতেন চাকমা বলেছেন, ইনস্টিটিউট থেকে চাকমা ও ককবরক ভাষায় বই প্রকাশ করা হয়েছে।
পুরোনো উদ্যোগের একটি স্মৃতি আছে আর্কাইভের মাতৃভাষা-শিক্ষার লেখায়: চাঙমা ভাষায় পরিচালিত একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের গানের কথা, যেখানে সরকারি বই আসার আগেই বেসরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব পাঠক্রমে মাতৃভাষায় পড়াত।
ভারতে চাকমা লিপির সবচেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদে, যেখানে জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ড চাকমা পাঠ্যবই ছাপে এবং চাকমা একটি আঞ্চলিক ভাষা-বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়। ত্রিপুরায় 2024 সালে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী 123টি বিদ্যালয়ে চাকমা ভাষা পড়ানো হয়।
CADC-র জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ডের (DSEB) তথ্য-অধিকার হ্যান্ডবুক অনুযায়ী বোর্ডের পূর্বসূরি গঠিত হয় 8 জানুয়ারি 1994। শুরুতে শিক্ষার মাধ্যম ছিল বাংলা; 1996 সালে তা ইংরেজিতে বদলায়। চাকমাকে “one of the vernacular subjects” হিসেবে চালু করা হয়েছে, আর সে জন্য বোর্ড সময়ে সময়ে চাকমা পাঠ্যবই প্রকাশ করেছে; 2010 সালে অষ্টম শ্রেণি মধ্য বিদ্যালয়ে যুক্ত হলে অষ্টম শ্রেণির চাকমা বইও প্রকাশ করা হয়। বোর্ডের অধীনে একটি “Chakma Script & Language Development Committee” চাকমা ভাষা-শিক্ষকদের জন্য দক্ষতা পরীক্ষা নেয় এবং তাকে ব্যাকরণ বই Changmha Bhajalam প্রকাশের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
CADC-র ওয়েবসাইটে চাকমা পাঠ্যবইয়ের তালিকায় আছে একটি প্রাইমার, Changmha Abidhi Pudhi, আর Changmha Shikkhye Pudhi-র সাতটি খণ্ড। 29 জুন 2022 বোর্ডের Changmha Grammar & Composition-এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়; প্রথম সংস্করণ 2017 সালের। সেই অনুষ্ঠানে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা মিজোরামে চাকমাকে রাজ্যভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।
কতটি বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়, সে বিষয়ে গৌতমলাল চাকমার আর্কাইভ-লেখা জানায়, মিজোরামে CADC-র অধীনে 174টি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা লিপিতে পঠন-পাঠন চলে; সংখ্যাটি কোন বছরের, লেখায় বলা নেই।
একই আর্কাইভ-লেখা অনুযায়ী ত্রিপুরা রাজ্যে 2004 সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা পাঠ্যক্রম চালু হয়েছিল বাংলা লিপিতে, আর লেখার সময় চাকমা লিপিতে পাঠ্যক্রম তৈরির কাজ চলছিল। ইস্টমোজোর 21 ফেব্রুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেছেন, চাকমা ভাষা 123টি বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। এর আগে 2021 সালে ত্রিপুরা হাইকোর্টে চাকমা শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলায় (Samir Chakma v. State of Tripura) রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি মত দিয়েছিল, বিজ্ঞান, গণিত, সমাজবিজ্ঞানের মতো ভাষা-বহির্ভূত বিষয়ের পাঠ্যবই চাকমায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়; আদালত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়।
চাকমা লিপিতে ছাপা বইয়ের ইতিহাস ছোট কিন্তু ধারাবাহিক: 1903 সালে গ্রিয়ারসনের ছক, 1959 সালে নোয়ারাম চাকমার বর্ণ-সংকলন, 1969 সালে বিরাজ মোহন দেওয়ানের বইয়ে বর্ণমালা, 1982 ও 2001 সালের প্রাইমার, আর 2013 সালে ভিক্ষুদের হাতে পালি ত্রিপিটক ছাপার উদ্যোগ।
| সাল | প্রকাশনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1903 | Linguistic Survey of India-তে চাকমা বর্ণমালার ছক | LSI খণ্ড 5, ভাগ 1 |
| 1959 | নোয়ারাম চাকমার বর্ণ-সংকলন, 39টি বর্ণ | আর্কাইভ (বর্ণমালা-লেখা) |
| 1969 | বিরাজ মোহন দেওয়ান, চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত-তে বর্ণমালা | আর্কাইভ (বর্ণমালা-লেখা) |
| 1982 | চাঙমার আগ পুধি (চাকমা প্রাইমার), রাঙামাটি | ইউনিকোড প্রস্তাব N3645R |
| 2001 | চাঙমা পত্থম পাট, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট | N3645R |
| 2001 | বিমল মমেন চাকমার কবিতা সংকলন “রান্যাঘর”, চাকমা লিপিতে সাইক্লোস্টাইলে | আর্কাইভ (গৌতমলাল চাকমা) |
| 2004 | ফাদাগাঙ | N3645R |
| 2010 | কুসুম চাকমা, “চাকমা ভাষা সাহিত্য ও লিপি চর্চা”, আগরতলা | আর্কাইভ (গৌতমলাল চাকমা) |
| 2013 | বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পালি ত্রিপিটক ছাপার জন্য VAA বর্ণ তৈরি | ইউনিকোড প্রস্তাব L2/19-143 |
| 2013 | অরুণ চাকমা, “ইতিহাসের আলোকে চাকমা ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে”, আগরতলা | আর্কাইভ (গৌতমলাল চাকমা) |
| 2014 | প্রদীপ চাকমা, “চাকমা লিপির উদ্ভানী-র ইতিহাস” | আর্কাইভ (গৌতমলাল চাকমা) |
| 2017, 2022 | Changmha Grammar & Composition, প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণ, DSEB, CADC | CADC সংবাদ বিজ্ঞপ্তি |
গৌতমলাল চাকমার লেখায় কলকাতা থেকে শ্রী মানেয়্যের “চাকমা লিপিতে” প্রকাশিত একটি প্রকাশনার কথাও আছে; সাল সেখানে স্পষ্ট নয়। একই লেখা মনে করিয়ে দেয়, ভারতের চাকমা সাহিত্যের বড় অংশ — ফলক, ত্রিপুরা সদক, সদরক-এর মতো পত্রিকা — বাংলা লিপিতেই প্রকাশিত, আর 1985 সালে পুলিন বয়ন চাকমা রোমান লিপিতেও একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন। চাকমা সাহিত্য তাই আজ তিনটি হরফে লেখা হয়।
উৎসগুলো বলছে, তঞ্চঙ্গ্যা ভাষা লেখার জন্যও চাকমা লিপি বা তার কিছুটা পরিবর্তিত রূপ ব্যবহৃত হয়, তবে তঞ্চঙ্গ্যা বানানরীতি এখনো তৈরির পথে। ইউনিকোডের মানদণ্ড-গ্রন্থ অনুযায়ী চাকমা লিপিতে তঞ্চঙ্গ্যা লেখার সময় মিয়ানমারের অঙ্ক ব্যবহার করা হয়।
আর্কাইভের “আদিবাসীদের মাতৃভাষা প্রচলন ও চর্চা” লেখায় মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা, মংসিংঞো ও সুখেশ্বর চাকমা লিখেছেন, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা একই বর্ণমালা ব্যবহার করেন, যা “চাকমা বর্ণমালা” নামে পরিচিত। 2009 সালের ইউনিকোড প্রস্তাব বলে, চাকমা লিপিকে তঞ্চঙ্গ্যার জন্য মানিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং তাতে বাড়তি বর্ণ, স্বরচিহ্ন ও সুরচিহ্ন লাগতে পারে; সেগুলো “future standardization”-এর বিষয়। 2016 সালের প্রস্তাবটি স্পষ্ট করে লিখেছে, তাদের যোগ করা তিনটি অক্ষর তঞ্চঙ্গ্যার জন্য নয়।
আর্কাইভের বর্ণমালা-লেখাও মনে করিয়ে দেয়, তঞ্চঙ্গ্যা আলাদা জাতি হিসেবে গঠিত হওয়ায় তার ভাষাও আলাদা হিসেবে চিহ্নিত। তাই চাকমা লিপি নিয়ে লেখা কোনো তথ্য তঞ্চঙ্গ্যাদের বেলায় সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না। তঞ্চঙ্গ্যা জাতি নিয়ে পূর্ণ আলোচনা আছে তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত-য়। পাহাড়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন লিপি তৈরির উদাহরণ — ম্রোদের — আছে ক্রামা ধর্ম ও মেনলে ম্রোর নতুন লিপি লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয় এক জায়গায় পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
চাকমা লিপিকে চাকমা ভাষায় অঝাপাত বলা হয়; বাংলায় অজপাত, অজাপাত বা অঝাপাঠ বানানও দেখা যায়। ইউনিকোড ও 2009 সালের এভারসন-হোস্কেন প্রস্তাব এর রোমান নাম দেয় Ajhā pāṭh বা Ojhopath, আর মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ লেখে Aujhapaat বা Ojhapath। আন্তর্জাতিক লিপি-কোড ISO 15924-এ এর কোড Cakm।
সব উৎস একমত যে চাকমা লিপি ব্রাহ্মী-পরিবারের। মাঝের ধাপ নিয়ে মত আলাদা: গ্রিয়ারসন (1903) একে খমের হরফের প্রায় অভিন্ন বলেছেন, 2009 সালের ইউনিকোড প্রস্তাব মিয়ানমার লিপির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেছে, বঙ্কিম চন্দ্র চাকমা লিখেছেন ব্রাহ্মীর অনুকরণে গৃহীত, আর সুগত চাকমা (2025) শান, আহোম ও খামতি লিপির সঙ্গে সাদৃশ্যের কথা বলেছেন।
হিসাবটি উৎসভেদে আলাদা। 5 অক্টোবর 2000-এর রাঙামাটি কর্মশালায় 33টি বর্ণের নাম ও আকার ঠিক করা হয়েছিল (1টি স্বর, 32টি ব্যঞ্জন); কেউ কেউ 36টি বলেন; 1959 সালে নোয়ারাম চাকমার সংকলনে ছিল 39টি। ইউনিকোডের চাকমা ব্লকে আজ মোট 71টি অক্ষর আছে, যার মধ্যে ব্যঞ্জন 34টি ও স্বাধীন স্বর 4টি।
কারণ চাকমা লিপির প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণে অন্তর্নিহিত স্বর “আ”, বাংলার মতো “অ” নয়। 1903 সালে গ্রিয়ারসন এটিকে বর্ণমালার “most important point” বলেছিলেন। স্বরহীন ব্যঞ্জন লিখতে মাথায় “মায্যা” নামের একটি চিহ্ন বসাতে হয়, যা বাংলা হসন্তের মতো কাজ করে; ইউনিকোডে এর কোড U+11134।
ইউনিকোড 6.1 সংস্করণে, যা 31 জানুয়ারি 2012 প্রকাশিত হয়; ব্লকটি U+11100 থেকে U+1114F। ভিত্তি ছিল মাইকেল এভারসনের 2008 সালের প্রাথমিক প্রস্তাব আর এভারসন ও মার্টিন হোস্কেনের 2009 সালের পূর্ণ প্রস্তাব। পরে ইউনিকোড 11.0-তে (2018) তিনটি এবং 13.0-তে (2020) একটি অক্ষর যোগ হয়।
2019 সালে জাকারি শিউরেনের ইউনিকোড প্রস্তাব (L2/19-143) অনুযায়ী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা 2013 সালে বর্ণটি তৈরি করেন পালি ত্রিপিটক চাকমা লিপিতে ছাপার জন্য, কারণ পালির বাকি সব ধ্বনি চাকমায় থাকলেও VAA ছিল না। দেখতে এটি চাকমা “বা”-র ওপর একটি আনুভূমিক রেখার মতো। ইউনিকোড 13.0-তে এটি U+11147 হিসেবে যুক্ত হয়।
দুটি পরিচিত ইউনিকোড ফন্ট আছে। গুগলের Noto Sans Chakma, যার সোর্স GitHub-এ SIL Open Font License 1.1-এ মুক্ত; আর RibengUni, যাকে ChakmaNMT গবেষণাপত্রের লেখকেরা চাকমা ভাষার প্রথম UTF-8 সামঞ্জস্যপূর্ণ ফন্ট বলেছেন। এর আগের অনেক চাকমা ফন্ট ছিল ASCII-ভিত্তিক, যাদের লেখা অন্য ফন্টে ঠিকমতো দেখা যায় না।
বই আছে, পড়ানো খুব সীমিত। 2012 সালের সরকারি সিদ্ধান্তে চাকমা পাঠ্যবই চাকমা বর্ণমালায় ছাপার কথা হয়; 2017 সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই বিতরণ হচ্ছে, 2026 সালে পেয়েছে 35,145 চাকমা শিশু। কিন্তু প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অধিকাংশ শিক্ষক নিজেরাই এই বই পড়তে পারেন না।
দুটি তথ্য আছে। অধ্যাপক তারিক মনজুর (প্রথম আলো, 6 মার্চ 2024), দ্য ডেইলি স্টার (1 জানুয়ারি 2026) ও প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন বলছে 2017 সালে প্রাক-প্রাথমিকের বই দিয়ে শুরু। চাকমা ভাষা-গবেষক সুগত চাকমা প্রথম আলোয় (14 ফেব্রুয়ারি 2025) লিখেছেন, এনসিটিবির বই 2016 সাল থেকে ধাপে ধাপে বিতরণ হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় নথিভুক্ত উদ্যোগ খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ইনজেব চাকমার। 2004 সাল থেকে তাঁর সংগঠন 2023 পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলার 218টি কেন্দ্রে 11,118 জনকে শিখিয়েছে (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)। সংগঠনটির নাম ডেইলি স্টারে Changma Sahitya Bah, বিডিনিউজে নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদ। চাকমা কালচারাল কাউন্সিল অব বাংলাদেশও 2023 থেকে গ্রামে বর্ণমালা শেখাচ্ছে।
মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের বিদ্যালয়ে চাকমা একটি আঞ্চলিক ভাষা-বিষয়; জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ড প্রাইমার, সাত খণ্ডের পাঠমালা আর অষ্টম শ্রেণির বই ছেপেছে। গৌতমলাল চাকমার লেখা অনুযায়ী সেখানে 174টি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা লিপিতে পড়ানো হয়। ত্রিপুরায় 2024 সালে মুখ্যমন্ত্রীর হিসাবে 123টি বিদ্যালয়ে চাকমা ভাষা পড়ানো হয়।
আর্কাইভের একটি লেখা অনুযায়ী চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা একই “চাকমা বর্ণমালা” ব্যবহার করেন। 2009 সালের ইউনিকোড প্রস্তাব বলে, তঞ্চঙ্গ্যার জন্য লিপিটি মানিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং বাড়তি বর্ণ ও সুরচিহ্ন লাগতে পারে। ইউনিকোড অনুযায়ী তঞ্চঙ্গ্যা লেখায় মিয়ানমারের অঙ্ক ব্যবহৃত হয়, চাকমায় চাকমা বা বাংলা অঙ্ক।
প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল আর্কাইভ
মূল নথি ও মানদণ্ড
গবেষণা ও বিশ্বকোষ
সংবাদ ও মতামত
সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, চাকমা, চাকমা বর্ণমালা, চাকমা লিপি, মাতৃভাষায় শিক্ষা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।