Jumjournal Logo

মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু: 2012-র সভা থেকে 2027-এর দরপত্র পর্যন্ত সময়রেখা

Last updated Nov 3rd, 2026

0

চাকমা লিপিতে বইয়ের নাম, নিচে বাংলা হরফে ‘ম চাকমা বই’ ও ‘পথম্ কেলাচ্’, উপরে লেখা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত

মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু — এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর 1 জানুয়ারি 2017। সেদিন প্রথমবারের মতো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো (মান্দি) ও সাদরি — এই পাঁচ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের হাতে সরকারি বই দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তের শুরু তারও চার বছরের বেশি আগে: 31 অক্টোবর 2012-র প্রথম সভা, আর 14 জুলাই 2013-র জাতীয় কমিটির সভায় ছয় ভাষা থেকে পাঁচ ভাষায় নেমে আসা।

এই লেখা পুরো পথটিকে তারিখ ধরে সাজিয়েছে — কোন সভায় কী সিদ্ধান্ত হলো, কোন বছর কোন লক্ষ্য পিছিয়ে গেল, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কোন শিক্ষাবর্ষে কোন ভাষার কোন শ্রেণির বই তালিকায় তুলেছে, আর 2027 শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্র কোথায় দাঁড়িয়ে। প্রতিটি তারিখ এসেছে এনসিটিবির নিজস্ব পাতা, আমাদের আর্কাইভের লেখা অথবা জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে। লিপির প্রশ্ন — কোন ভাষার বই কোন হরফে — আলাদা লেখায় আছে: পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা। এখানে সেটি আবার বলা হয়নি; এই লেখার কাজ সময়রেখা। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখার সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

এই লেখায় যা আছে

  1. মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু: এক নজরে সময়রেখা
  2. কর্মসূচির আইনি ও নীতিগত ভিত্তি কী: চুক্তি, শিক্ষানীতি, খসড়া শিক্ষা আইন
  3. 31 অক্টোবর 2012: প্রথম সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল
  4. 14 জুলাই 2013: ছয় ভাষা থেকে পাঁচ ভাষা কেন
  5. দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কোন কোন ভাষা থাকার কথা ছিল
  6. 2014, 2015, 2016: তিনবার পেছানো লক্ষ্য
  7. 1 জানুয়ারি 2017: প্রথম বই, আর যেখানে বই পৌঁছায়নি
  8. প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ে কী কী আছে: ভাষাভিত্তিক তালিকা
  9. প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই কবে এল
  10. এনসিটিবির পাতায় বছর ধরে বছর: 2018 থেকে 2026
  11. 2020–2023: বই বাড়ল, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কতদূর
  12. 2025: নতুন তালিকা, দেরিতে পৌঁছানো বই
  13. 2026 শিক্ষাবর্ষ: ‘আমার চাকমা বই’ ও রাঙামাটির হিসাব
  14. 2027 শিক্ষাবর্ষের বই: পুনঃদরপত্রে কী আছে
  15. তৃতীয় শ্রেণির পরে কী হয়
  16. সরকারি কর্মসূচির পাশে বেসরকারি উদ্যোগ
  17. প্রশ্নোত্তর
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু: এক নজরে সময়রেখা

সরকারি বই প্রথম বিতরণের দিন 1 জানুয়ারি 2017; সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু 31 অক্টোবর 2012-র সভায়; পাঁচ ভাষা চূড়ান্ত হয় 14 জুলাই 2013-য়। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই আসে পরের তিন-চার বছরে। নিচের ছকে প্রতিটি ধাপ, তার উৎসসহ — বিস্তারিত পরের অংশগুলোয়।

তারিখ কী হয়েছিল উৎস
1997পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ খণ্ডের 33 ধারায় মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার কথাপ্রথম আলো, 6 মার্চ 2024
2010জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষক ও পাঠ্যবইয়ের ব্যবস্থার অঙ্গীকারপ্রথম আলো, 28 ফেব্রুয়ারি 2017 ও 6 মার্চ 2024
31 অক্টোবর 2012প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম সভা; স্টিয়ারিং কমিটি গঠন; ছয় ভাষায় শুরুর সিদ্ধান্তজুমজার্নাল আর্কাইভ (মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা)
14 জুলাই 2013এমএলই বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভায় আপাতত পাঁচ ভাষায় উপকরণ প্রণয়নের সিদ্ধান্তজুমজার্নাল আর্কাইভ; প্রথম আলো, 2024
জানুয়ারি 2014প্রথম লক্ষ্য — পূরণ হয়নিজুমজার্নাল আর্কাইভ
26–27 ফেব্রুয়ারি 2014এনসিটিবিতে জাতীয় কর্মশালায় এমএলই ব্রিজিং প্ল্যান প্রণয়নজুমজার্নাল আর্কাইভ
জানুয়ারি 2015দ্বিতীয় লক্ষ্য — পূরণ হয়নিজুমজার্নাল আর্কাইভ
মার্চ–মে 2015পাঁচ ভাষার লেখক প্যানেলে প্রাক-প্রাথমিকের উপকরণ প্রণয়নজুমজার্নাল আর্কাইভ
24 মে 2016শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের বইদ্য ডেইলি স্টার
1 জানুয়ারি 2017পাঁচ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম বইপ্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2017
10 জানুয়ারি 2017খাগড়াছড়ির শিশুরা তখনো মাতৃভাষার বই পায়নিদ্য ডেইলি স্টার
1 জানুয়ারি 2018খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিশুরা মাতৃভাষার বই পেল বলে প্রতিবেদনদ্য ডেইলি স্টার
2019 শিক্ষাবর্ষএনসিটিবির তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই, পাঁচ ভাষায়এনসিটিবি
2020 শিক্ষাবর্ষএনসিটিবির তালিকায় তৃতীয় শ্রেণির বই যোগএনসিটিবি
2022–23 অর্থবছরখাগড়াছড়িতে 90 জন শিক্ষকের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণবিডিনিউজ২৪, 22 ফেব্রুয়ারি 2025
15 জানুয়ারি 2025এনসিটিবির নতুন একত্রিত তালিকা: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরএনসিটিবি
24 ডিসেম্বর 20252026 শিক্ষাবর্ষের পাঁচ ভাষার তালিকা প্রকাশএনসিটিবি
12 আগস্ট 20262027 শিক্ষাবর্ষের পাঁচ ভাষার বই মুদ্রণের পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তিএনসিটিবি

ছকের দুটি জায়গায় উৎসগুলো এক কথা বলে না — কমিটির সিদ্ধান্তের বছর (2012 না 2013), আর প্রথম শ্রেণির বইয়ের বছর (2018 না 2019)। দুটোই নিচে নিজ নিজ অংশে পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

কর্মসূচির আইনি ও নীতিগত ভিত্তি কী: চুক্তি, শিক্ষানীতি, খসড়া শিক্ষা আইন

উৎসগুলো তিনটি দলিলকে ভিত্তি হিসেবে দেখায়: 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ খণ্ডের 33 ধারা, 2010 সালের জাতীয় শিক্ষানীতি, আর 2013 সালের খসড়া শিক্ষা আইন। প্রথম দুটি বই তৈরির রাজনৈতিক ও নীতিগত ভিত্তি; খসড়া আইনটি এখনো আইন হয়নি বলে আর্কাইভের লেখায় উল্লেখ আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর প্রথম আলোয় 6 মার্চ 2024-এ লিখেছেন, 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ-এর 33 ধারায় মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। একই লেখায় আছে, 2010 সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল — ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু যাতে নিজের ভাষা শিখতে পারে, সে জন্য শিক্ষক ও পাঠ্যবইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। দ্য ডেইলি স্টারের 19 মার্চ 2024-এর প্রতিবেদনও চুক্তির প্রতিশ্রুতি আর 2010-এর শিক্ষানীতিকে একই সূত্রে রেখেছে।

শিক্ষানীতির কোন ধারাগুলো, তা বলেছে প্রথম আলোর 28 ফেব্রুয়ারি 2017-এর লেখা “মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষা কোন পথে?” — 18, 19 ও 20 ধারা, যেখানে শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকারের বিষয়টি বলা আছে বলে লেখাটি জানায়।

তৃতীয় দলিলটি নিয়ে লিখেছেন মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত “শিক্ষা আইন, আদিবাসীদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ও ঝুলন্ত একটি রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞ” লেখায়। তাঁর বিবরণে 2013 সালে প্রণীত খসড়া শিক্ষা আইনে প্রস্তাবনা ও প্রারম্ভিক বাদে পাঁচটি অধ্যায়ে 65টি ধারা; আর সেই খসড়ায় প্রাথমিক স্তরে নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা, এই শিক্ষার জন্য পাঠ্যপুস্তক তৈরি, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অবদানের স্বীকৃতি ও নমনীয় শিক্ষা পঞ্জিকার কথা সন্নিবেশিত হয়েছে। লেখাটির তথ্যসূত্রে 2014 সালের “চূড়ান্ত খসড়া”-রও উল্লেখ আছে। খসড়াটি তখন সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল বলে লেখক জানিয়েছেন।

31 অক্টোবর 2012: প্রথম সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল

প্রথম সভা হয় 31 অক্টোবর 2012, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে। সেখানে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হয়, আর চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদ্রি ও সাঁওতাল — এই ছয় ভাষায় বই প্রণয়ন করে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

এই বিবরণ এসেছে আমাদের আর্কাইভের আরেকটি লেখা থেকে — মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার “বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা: এ যেন আলো আঁধারি পথ রেখায় অন্তহীন পদযাত্রা”। লেখাটির বিবরণ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড 2012 সাল থেকে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেয়।

সেই সভার সিদ্ধান্তগুলো লেখাটিতে যেভাবে আছে:

  1. একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন, যেখানে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
  2. পরে একটি টেকনিক্যাল কমিটি, একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কমিটি এবং ভাষাভিত্তিক লেখক কমিটি গঠন।
  3. প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদ্রি ও সাঁওতাল ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে কার্যক্রম শুরু; পর্যায়ক্রমে সব ভাষায় একই উদ্যোগের পরিকল্পনা।
  4. সিদ্ধান্তের বিভিন্ন পর্যায়ে এমএলই ফোরাম-কে সম্পৃক্ত করা — আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জোট।

এমএলই ফোরাম কীভাবে গঠিত, তার একটি বিবরণ দিয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন: মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) নিয়ে কর্মরত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে ফোরামটি গঠিত হয়, এবং এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে 5/6টি ভাষা বাছাই করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

সিদ্ধান্তের বছর নিয়ে উৎসগুলোর বক্তব্য আলাদা। প্রথম আলোয় তারিক মনজুর লিখেছেন, এনসিটিবি 2012 সালে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে এবং 2013 সালে এই কমিটি প্রথম দফায় পাঁচ ভাষায় পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেয়। দ্য ডেইলি স্টারের 20 ফেব্রুয়ারি 2020-এর প্রতিবেদন বলছে, সরকার 2012 সালে জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যবই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

14 জুলাই 2013: ছয় ভাষা থেকে পাঁচ ভাষা কেন

14 জুলাই 2013-য় এমএলই বিষয়ক সরকারের জাতীয় কমিটির সভায় আপাতত পাঁচ ভাষায় উপকরণ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। সাঁওতালি বাদ পড়ে, কারণ সাঁওতালরা তাঁদের বর্ণমালার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে না পারায় ওই ভাষার উপকরণ প্রণয়ন স্থগিত করা হয় — আর্কাইভের লেখায় এই কারণটিই দেওয়া আছে।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখার ভাষায়, “সাঁওতালরা তাঁদের বর্ণমালার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভাষায় শিখন শেখানো উপকরণ প্রণয়ন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।” প্রথম আলোয় 2024-এ তারিক মনজুরও একই কারণ বলেছেন: কিছু ভাষার বর্ণমালা নেই, বাংলা, রোমান না নতুন লিপি — সেই সিদ্ধান্তের সমস্যায় সাঁওতাল ভাষায় পাঠ্যবই তৈরি সম্ভব হয়নি, যদিও প্রথম দফায় পাঁচ ভাষার সঙ্গে সাঁওতালিতেও বই লেখার কথা ছিল। 2017 সালের প্রথম আলোর লেখাতেও বর্ণমালা ব্যবহারে সাঁওতালদের মধ্যে মতপার্থক্যকে বই ছাপার কাজ পিছিয়ে পড়ার একটি কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের দাবি বলে উল্লেখ আছে।

পাঁচটি ভাষার নাম প্রায় সব উৎসে একই, শুধু বন্ধনীর ভেতরের নাম আলাদা। প্রথম আলো 2024: “চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), সাদরি (ওঁরাও) ও গারো (মান্দি)”। এনসিটিবি নিজের পাতায় লেখে চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি, ত্রিপুরা — ভাষার নামে নয়, জনগোষ্ঠীর নামে। কেন ঠিক এই পাঁচটি, আর বাকি ভাষাগুলোর কী হবে — সেই প্রশ্ন নিয়ে আলাদা একটি লেখা আসছে; এখানে কেবল সিদ্ধান্তের তারিখটুকু।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কোন কোন ভাষা থাকার কথা ছিল

দ্বিতীয় পর্যায়ে ম্রো, মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া), মণিপুরী (মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বম; তৃতীয় পর্যায়ে কোচ, কুড়ুখ (ওঁরাও), হাজং, রাখাইন, খুমি ও খিয়াং — এই বারোটি ভাষা যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। আর্কাইভের লেখা ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তালিকা একই; কোনো পর্যায় এখনো শুরু হয়নি।

পর্যায় আর্কাইভের লেখায় (মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা) বাংলা ট্রিবিউনে (21 ফেব্রুয়ারি 2023)
প্রথম (মূল সুপারিশ)চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদ্রি, সাঁওতালচাকমা, সাঁওতাল, সাদরি (ওরাওঁ ও অন্যান্য), মারমা, ত্রিপুরা, গারো
দ্বিতীয়ম্রো, মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া), মণিপুরী (মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি, বমম্রো, মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া, মণিপুরী মৈতেই, তঞ্চঙ্গা, খাসিয়া, বম
তৃতীয়কোচ, কুড়ুক (ওঁরাও), হাজং, রাখাইন, খুমি, খ্যাংকোচ, কুড়ুক (ওরাওঁ), হাজং, রাখাইন, খুমি, খিয়াং/খ্যাং

মোট কয়টি ভাষায় বই হওয়ার কথা — সেখানে সংখ্যা আলাদা। বাংলা ট্রিবিউন বলেছে 18টি ভাষার পরিকল্পনা; তারিক মনজুর প্রথম আলোয় লিখেছেন, তখন বলা হয়েছিল সব মিলিয়ে 19 থেকে 20টি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় প্রাথমিকের পাঠ্যবই লেখা হবে।

দ্বিতীয় পর্যায় কবে শুরুর কথা ছিল, সেটিও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে আছে: পাঁচ ভাষার কার্যক্রম চালুর পর 2020 সালের দিকে দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর কথা ছিল, করোনার কারণে তা পিছিয়ে পড়ে, আর করোনা শেষ হলেও শুরু হয়নি। একই প্রতিবেদনে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের কারিকুলাম প্রস্তুত, তবে মন্ত্রণালয়, এমএলই ফোরাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এনসিটিবিকে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমএলই ফোরামের সদস্য সচিব তপন কুমার দাস বলেছেন, “দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুই হয়নি।”

দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকার কয়েকটি ভাষার লিপি নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে — যেমন ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা। তৃতীয় পর্যায়ের কুড়ুখ নিয়ে আছে কুড়ুখ: ওরাওঁদের ভাষা বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে টিকে আছে।

2014, 2015, 2016: তিনবার পেছানো লক্ষ্য

কর্মসূচি শুরুর প্রথম লক্ষ্য ছিল জানুয়ারি 2014; পূরণ হয়নি। এরপর লক্ষ্য জানুয়ারি 2015, তারপর জানুয়ারি 2016 — কোনোটিই পূরণ হয়নি। বই শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় জানুয়ারি 2017-এ। এই তিনটি লক্ষ্যের হিসাব আর্কাইভের লেখায় আছে; প্রথম আলোর 2017-এর লেখাও 2014 সাল থেকে শুরুর কথা থাকার উল্লেখ করেছে।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার লেখা অনুযায়ী জানুয়ারি 2014-এর লক্ষ্য “নানা কারণে” সম্ভব হয়নি, জানুয়ারি 2015-এর লক্ষ্যও “আলোর মুখ দেখেনি”, এবং এরপর লক্ষ্য দাঁড়ায় জানুয়ারি 2016। এই তিন বছরে মাঠের বাইরে কিছু কাজ এগিয়েছিল, তারিখসহ:

  • 26–27 ফেব্রুয়ারি 2014: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে জাতীয়ভাবে আয়োজিত কর্মশালায় এমএলই ব্রিজিং প্ল্যান প্রণয়ন — অর্থাৎ মাতৃভাষা থেকে বাংলায় যাওয়ার পরিকল্পনা।
  • মার্চ–মে 2015: কয়েক দফায় পাঁচ ভাষার লেখক-গবেষকদের লেখক প্যানেলে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিখন-শেখানো উপকরণ প্রণয়ন সম্পন্ন।

লেখাটি যখন লেখা হয়, তখনো বাকি ছিল উপকরণের যৌক্তিকতা যাচাই কর্মশালা, উপকরণ প্রকাশ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও স্কুল পর্যায়ে বাস্তবায়ন। লেখক তখন জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষামূলক সংস্করণ প্রকাশের তাগিদ দিয়েছিলেন। আর্কাইভে লেখাটির প্রকাশের তারিখ 15 এপ্রিল 2021, তবে লেখার ভেতরের বিবরণ জানুয়ারি 2016-এর লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে থেমেছে।

এরপরের ঘোষণা আসে 24 মে 2016-এ। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন এনসিটিবিতে এক বৈঠকের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্তের কারণ — মাতৃভাষায় শেখার সুযোগ না পেলে এসব জাতিগোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে।

1 জানুয়ারি 2017: প্রথম বই, আর যেখানে বই পৌঁছায়নি

1 জানুয়ারি 2017-এর পাঠ্যপুস্তক উৎসবে প্রথমবারের মতো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি — পাঁচ জাতিসত্তার প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মাতৃভাষায় বই দেওয়ার কথা জানায় প্রথম আলো। দশ দিন পর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, খাগড়াছড়ির শিশুরা তখনো সে বই হাতে পায়নি।

প্রথম আলোর 1 জানুয়ারি 2017-এর “আজ পাঠ্যপুস্তক উৎসব” প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের দিন, 31 ডিসেম্বর 2016, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বই বিতরণের কাজ উদ্বোধন করেন। প্রতিবেদনের শেষ বাক্যে আছে, সূত্র জানিয়েছে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মাতৃভাষায় বই দেওয়া হবে।

খাগড়াছড়ির অবস্থা ছিল আলাদা। দ্য ডেইলি স্টারের 10 জানুয়ারি 2017-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার আদিবাসী শিশুরা তখনো মাতৃভাষার বই পায়নি। এনসিটিবির ককবরক (ত্রিপুরা) পাঠ্যক্রম প্রণেতা দলের সদস্য মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা পত্রিকাটিকে বলেন, প্রতিটি শিশুর 1 জানুয়ারি একটি করে প্রাক-প্রাথমিক বই পাওয়ার কথা ছিল। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বই হাতে পেলেই বিতরণ হবে, এবং শুধু মাতৃভাষার বই নয়, বাংলা বর্ণমালার বইও তখনো পৌঁছায়নি। প্রতিবেদনে সদর উপজেলার কিছু স্কুলে পুরোনো বই দিয়ে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ শুরু করার কথাও আছে।

একই প্রতিবেদনে একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, চাকমা ও মারমা ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে, আর শিক্ষকেরা সেগুলোর সঙ্গে পরিচিত নন। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাও সেখানে শিক্ষকদের বর্ণমালা ও ভাষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।

পরের বছরগুলোতেও সরকারি বিবরণে শুরুর বছর 2017-ই থেকেছে। 31 ডিসেম্বর 2023-এ বাসসের যে খবর প্রথম আলো প্রকাশ করে, তাতে আছে: 2017 সাল থেকে সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পড়ার জন্য চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষার বই বিতরণ করছে।

প্রথম বছরে ফিরে গেলে — 28 ফেব্রুয়ারি 2017-এ, প্রথম আলোর লেখা “মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষা কোন পথে?” লেখে, দেরিতে হলেও অবশেষে “আংশিকভাবে” পাঁচ জাতিসত্তার শিশুদের হাতে মাতৃভাষার বই পৌঁছেছে; দেশে প্রায় 45টির মতো জাতিসত্তা থাকলেও বই প্রকাশ সম্ভব হয়েছে মাত্র 5টি ভাষায়।

“বই লেখা” আর “বই বিতরণ” — দুটির বছর নিয়ে উৎসগুলোর ভাষা আলাদা। তারিক মনজুর লিখেছেন, 2017 সালে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ্যবই “লেখা হয়”। বিডিনিউজ২৪-এর 22 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন বলছে, 2017 সাল থেকে পাঁচ ভাষায় পাঠ্যবই “প্রণয়ন শুরু হয়”। আর এনসিটিবির 2018 শিক্ষাবর্ষের পাঁচ ভাষার প্রাক-প্রাথমিক পাতাগুলোর বেশির ভাগ সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে 7 জানুয়ারি 2018-এ (সাদরির পাতাটি 31 ডিসেম্বর 2018-এ)। 2017 শিক্ষাবর্ষের এনসিটিবি তালিকায় “মাল্টি-লিঙ্গুয়েল এডুকেশন (MLE)” শিরোনামটি আছে, তবে তার নিচে কোনো ভাষার আলাদা পাতা পাওয়া যায়নি।

প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ে কী কী আছে: ভাষাভিত্তিক তালিকা

2018 থেকে 2023 শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এনসিটিবির প্রতিটি ভাষার প্রাক-প্রাথমিক পাতায় একই কাঠামো: চারটি মূল উপকরণ — “আমার বই”, “এসো লিখতে শিখি”, ফ্ল্যাশ কার্ড ও ফ্লিপ চার্ট — আর এর সঙ্গে দশটি করে গল্পের বই। 2025 ও 2026-এর তালিকায় প্রাক-প্রাথমিকে আছে কেবল “আমার বই” ও “এসো লিখতে শিখি”।

গল্পের বইয়ের নাম ভাষাভেদে আলাদা। নিচের ছকে এনসিটিবির পাতায় যেভাবে আছে সেভাবে — গারো ও ত্রিপুরার নাম রোমান হরফে, বাকিগুলো বাংলা হরফে।

ভাষা গল্পের বই (এনসিটিবির তালিকার ক্রমে)
চাকমাঅতিথি পাখি · দুলেই কুমারী · কাক হরিণের বন্ধু · কুনো ব্যাঙ ও টুনটুনি · শিয়ালের বুদ্ধি · শ্রীফল · লাল পোকার গল্প · টিং টং এর কাণ্ড · বর্গরাজা ও ত্রিভুজরানি · ফুল ফোটার আনন্দ
মারমাবকের গল্প · বড়জনকে সম্মান করতে হয় · বেড়ানোর একদিন · বর্গরাজা ও ত্রিভুজরানি · চাচা বাজারে যান · চার বন্ধু · ফুল ফোটার আনন্দ · খুশি একদিন কুসুমপুরে · মোরগ ও কুকুরের গল্প · শকুনরাজা ও রাজকন্যার গল্প
গারোSONANI BITCHI CHI.GIPA GAGAK GANGSI · PAKMARI ARO BIBAL · DO•PINCHEP ARO UNI RIPENGRANG · AN.SENGATANI ATCHU · AMBE ARO DO•KRUNI GOLPO · KISING ARO CHIPU · KHUSI SALSA KUSUMPURO · BORGORAJA O TRIVUJRANI · AWANG BAJALCHI RE.ANGA · BIBAL BALANA KATCHAANI
ত্রিপুরা (ককবরক)Buju ganang sial · Gong bai Poyathop · Hadulsa · Masandwi bai Mayung · Mwsa bai Kerang · Swicha bai Tokla · Borgoraja Trivujrani · Caca bazare jan · Ful Fotar anondo · Khusi ek din kusupure
সাদরিটিং টংকের কান্ড · লাল পোকাকের গপ্প · অপুকের বিলেই · ঘুর বেড়াক এক দিন · কাঁহা হামার মায় · মজাকের মামু · ঋষি আর চুটিয়ার গপ্প · কারাম · বাঘ আর শিয়ার · বানদরা আর কুমহির

তালিকাগুলো পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি নাম একাধিক ভাষায় দেখা যায়: “বর্গরাজা ও ত্রিভুজরানি” পাঁচ ভাষার তালিকাতেই আছে (গারো ও ত্রিপুরায় রোমান হরফে); “ফুল ফোটার আনন্দ” আছে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরার তালিকায়; “লাল পোকার গল্প” ও “টিং টং” আছে চাকমা ও সাদরির তালিকায়। এনসিটিবির 2024 শিক্ষাবর্ষের সাধারণ (বাংলা) প্রাক-প্রাথমিক তালিকাতেও এর কয়েকটি নাম আছে — “বর্গরাজা ও ত্রিভুজরানি”, “চাচা বাজারে যান”, “ফুল ফোটার আনন্দ”, “খুশি একদিন কুসুমপুরে”, “লাল পোকার গল্প”, “অপুর বিড়াল”, “কোথায় আমার মা”, “মজার মামা”।

প্রতিটি ভাষার এই তালিকা 2018, 2019, 2020, 2022 ও 2023 শিক্ষাবর্ষের পাতায় হুবহু একই — গল্পের নাম, ক্রম, এমনকি বানানও। কোন গল্প কোন জনগোষ্ঠীর লোককথা থেকে, তা এনসিটিবির পাতায় বলা নেই।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই কবে এল

তারিক মনজুরের হিসাবে প্রথম শ্রেণির বই তৈরি হয় 2018-এ, দ্বিতীয় শ্রেণির 2019-এ, তৃতীয় শ্রেণির 2020-এ। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচ ভাষার পাতা প্রথম পাওয়া যায় 2019 শিক্ষাবর্ষে, তৃতীয় শ্রেণির পাতা 2020 শিক্ষাবর্ষে।

শিশুর হাতে প্রথম শ্রেণির বই কবে পৌঁছাল, সেখানে উৎস দুটি আলাদা ছবি দেয়। দ্য ডেইলি স্টারের 1 জানুয়ারি 2018-এর প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির 20,723 জন আদিবাসী শিশু চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা (ককবরক) ভাষায় বই পেয়েছে। একই প্রতিবেদনে রাঙামাটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, জেলার দশ উপজেলায় তিন জনগোষ্ঠীর 25,000 প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাতৃভাষার বই পেয়েছে, যেখানে আগের বছর (2017) পেয়েছিল 12,381 জন। এনসিটিবির নিজস্ব 2018 শিক্ষাবর্ষের পাতাগুলোয় অবশ্য কেবল প্রাক-প্রাথমিকের তালিকা আছে; প্রথম শ্রেণির পাতা আছে 2019 শিক্ষাবর্ষ থেকে।

এনসিটিবির শ্রেণিভিত্তিক পাতাগুলোর কাঠামো এরকম — প্রতিটি পাতায় বইয়ের নাম, আর তার পাশে চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি ও ত্রিপুরা — পাঁচ কলামে আলাদা আলাদা লিংক:

শিক্ষাবর্ষ প্রথম শ্রেণি দ্বিতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণি
2019আমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today, গণিত— (পাতা নেই)
2020আমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today
2022আমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today
2023আমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today, গণিতআমার বাংলা বই, English for Today
2025আমার বাংলা বই, গণিতআমার বাংলা বই, গণিতআমার বাংলা বই
2026আমার বাংলা বই, গণিতআমার বাংলা বই, গণিতআমার বাংলা বই

ছকের বইয়ের নামগুলো এনসিটিবির পাতার সারির শিরোনাম। ভাষার কলামের লিংকে কোন বই, তার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় 2026-এর চাকমা প্রথম শ্রেণির ফাইলটিতে: সারির নাম “আমার বাংলা বই” হলেও ফাইলের প্রচ্ছদে লেখা “আমার চাকমা বই, প্রথম শ্রেণি” (নিচের 2026 অংশে বিস্তারিত)। অন্য বছর ও অন্য ভাষার ফাইলগুলোর প্রচ্ছদের নাম জানা যায়নি।

দ্য ডেইলি স্টারের 2020-এর প্রতিবেদনে সরকারের পরিকল্পনাটি এভাবে বলা আছে: জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কেবল মাতৃভাষায় শিখবে, আর তৃতীয় শ্রেণি থেকে ধীরে ধীরে বাংলা শিখবে।

এনসিটিবির পাতায় বছর ধরে বছর: 2018 থেকে 2026

এনসিটিবির ওয়েবসাইটে মাতৃভাষার বইয়ের পাতা আছে 2018, 2019, 2020, 2022, 2023, 2025 ও 2026 শিক্ষাবর্ষের। 2021 শিক্ষাবর্ষের তালিকা 2020-এর পাতাগুলোতেই নিয়ে যায়। 2024 শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের পাতায় মাতৃভাষার বইয়ের কোনো লিংক পাওয়া যায়নি।

প্রতিটি পাতার নিচে এনসিটিবি “কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ” তারিখ দেয়। সেই তারিখগুলো একটি বাড়তি সময়রেখা তৈরি করে — কোন বছরের তালিকা কবে অনলাইনে উঠেছে বা সর্বশেষ বদলেছে:

শিক্ষাবর্ষ এনসিটিবির পাতায় যা আছে পাতার শেষ হালনাগাদ
2017“মাল্টি-লিঙ্গুয়েল এডুকেশন (MLE)” শিরোনাম; ভাষাভিত্তিক পাতা পাওয়া যায়নি—
2018পাঁচ ভাষার প্রাক-প্রাথমিক, ভাষাপ্রতি আলাদা পাতা7 জানুয়ারি 2018 (সাদরি: 31 ডিসেম্বর 2018)
2019প্রাক-প্রাথমিক (পাঁচ পাতা); প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি2 জানুয়ারি 2019; দ্বিতীয় শ্রেণি 5 ফেব্রুয়ারি 2019
2020প্রাক-প্রাথমিক; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি28–31 ডিসেম্বর 2019; প্রথম শ্রেণি 6 জানুয়ারি 2020
2021তালিকার লিংক 2020-এর পাতাগুলোতে যায়—
2022প্রাক-প্রাথমিক; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি18 ডিসেম্বর 2021
2023প্রাক-প্রাথমিক; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি12 জুলাই 2023
2024মাতৃভাষার বইয়ের লিংক পাওয়া যায়নি—
2025“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” নামে দুটি একত্রিত পাতা: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক15 জানুয়ারি 2025
2026একই কাঠামোর দুটি পাতা24 ডিসেম্বর 2025

2018 থেকে 2023 পর্যন্ত এনসিটিবি প্রতিটি ভাষার জন্য আলাদা পাতা রাখত, শিরোনামে “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির (চাকমা ভাষার) প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক” ধাঁচে। 2025 থেকে কাঠামো বদলায়: একটি পাতায় পাঁচ ভাষা পাঁচ কলামে, প্রতিটি বইয়ের দুটি ডাউনলোড লিংক। কোন পাতা কোথায়, কীভাবে নামাবেন — সেই পথনির্দেশ নিয়ে আলাদা একটি লেখা আসছে।

2020–2023: বই বাড়ল, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কতদূর

2020 শিক্ষাবর্ষে এনসিটিবি পাঁচ ভাষায় 97,594 শিক্ষার্থীর জন্য 2,30,130 কপি বই বিতরণ করে — দ্য ডেইলি স্টারের হিসাব। একই প্রতিবেদন বলছে, তিন পার্বত্য জেলার 4,204 জন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষকের 38.60 শতাংশ আগের তিন বছরে নিজ ভাষার 14 দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।

20 ফেব্রুয়ারি 2020-এর এই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশিক্ষণগুলো আয়োজন করেছিল খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের জেলা পরিষদ, এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল কেবল শিক্ষকদের বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করানো। একাধিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পত্রিকাটির কাছে স্বীকার করেন, প্রশিক্ষণ যথেষ্ট ছিল না।

2023 শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বান্দরবানের হিসাব দিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 1 জানুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে: 7 উপজেলার 435টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে 6,400টি, প্রথম শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিনটি করে 7,920টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিনটি করে 7,521টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে একটি করে 2,410টি বই; ভাষাভিত্তিক হিসাবে চাকমা ভাষার 1,511টি, মারমা ভাষার 17,545টি ও ত্রিপুরা ভাষার 5,195টি বই। প্রতিবেদনটি বলছে, সেদিন পার্বত্য এলাকায় চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষার বই পেয়েছে।

প্রশিক্ষণের হিসাবে সবচেয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়েছে বিডিনিউজ২৪-এর 22 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন: সরকারি হিসাবে 2022–23 অর্থবছরে খাগড়াছড়িতে মাত্র 90 জন শিক্ষক — 30 জন চাকমা, 30 জন ত্রিপুরা ও 30 জন মারমা — মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পান, এবং এরপর আর প্রশিক্ষণ হয়নি। প্রতিবেদনটি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা জানিয়েছে 595টি।

এর আগে, 21 ফেব্রুয়ারি 2023-এর বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেছিলেন, পাঁচটি ভাষা দিয়ে শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে; বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এনসিটিবি মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করবে; আর তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষক নিয়োগ দেবে পার্বত্য জেলা পরিষদ। শিক্ষক-সংকটের পুরো চিত্র — কেন বই থাকলেও পাঠ হয় না — নিয়ে আলাদা একটি লেখা আসছে; এখানে কেবল তারিখ ও সংখ্যা।

2025: নতুন তালিকা, দেরিতে পৌঁছানো বই

2025 শিক্ষাবর্ষে এনসিটিবি পাঁচ ভাষার বই দুটি একত্রিত পাতায় তোলে, 15 জানুয়ারি 2025। রাঙামাটিতে 1 জানুয়ারি বই বিতরণ হয়; খাগড়াছড়িতে ফেব্রুয়ারির শেষেও কিছু বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার বই পৌঁছায়নি বলে প্রতিবেদন আছে।

এনসিটিবির 2025 পাতা অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিকে প্রতিটি ভাষার দুটি বই — “আমার বই” ও “এসো লিখতে শিখি”; প্রাথমিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে “আমার বাংলা বই” ও “গণিত”, তৃতীয় শ্রেণিতে “আমার বাংলা বই”। 2019–2023-এর তালিকায় থাকা English for Today এই তালিকায় নেই।

বিডিনিউজ২৪-এর 1 জানুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, 2025 শিক্ষাবর্ষে জেলার 10 উপজেলায় 30,534 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীকে 69,221টি বই বিতরণ করা হয়েছে — প্রাক-প্রাথমিকে 7,635 জন, প্রথম শ্রেণিতে 7,610 জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে 7,916 জন ও তৃতীয় শ্রেণিতে 7,373 জন শিক্ষার্থী। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেষ শীল বলেন, বই শতভাগ এসে গেছে, আর পার্বত্য জেলা পরিষদের সহায়তায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলছে, যা শেষ হলে মাতৃভাষায় পাঠদান শুরু হবে।

খাগড়াছড়ির চিত্র আলাদা। বিডিনিউজ২৪-এর 22 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদনে দীঘিনালার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, আগের বছরগুলোতে বই পেলেও সে বছর তখনো মাতৃভাষার বই পাননি; প্রতিবেদক বন্ধনীতে যোগ করেছেন, “এ বছর এই চিত্র সব জায়গাতেই।” একই প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য: দেশের 19টি জেলায় শিক্ষার্থীরা পাঁচ ভাষায় বই পাচ্ছে; এর 16টি জেলায় কার্যক্রম তদারকি করে অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের একীভূত শিক্ষা সেল; তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত। সেলের সহকারী পরিচালক রোখসানা পারভীন জানান, শিক্ষকদের ট্রেনিং ম্যানুয়াল তৈরি করছে এনসিটিবি, এবং পরের অর্থবছরে পিইডিপি-5 বাস্তবায়ন শুরু হলে প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

পার্বত্য জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব কার, তা নিয়েও আলাদা একটি লেখা পরিকল্পনায় আছে।

2026 শিক্ষাবর্ষ: ‘আমার চাকমা বই’ ও রাঙামাটির হিসাব

2026 শিক্ষাবর্ষের পাঁচ ভাষার তালিকা এনসিটিবি তোলে 24 ডিসেম্বর 2025। কাঠামো 2025-এর মতোই। 1 জানুয়ারি 2026-এ রাঙামাটির দশ উপজেলায় 27,801 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থী মাতৃভাষার বই পায় — জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব।

চাকমা লিপিতে বইয়ের নাম, নিচে বাংলা হরফে ‘ম চাকমা বই’ ও ‘পথম্ কেলাচ্’, উপরে লেখা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত
2026 শিক্ষাবর্ষের তালিকায় থাকা প্রথম শ্রেণির চাকমা বইয়ের নামপাতা। নথি: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (সরকারি প্রকাশনা)

2026 তালিকার প্রথম শ্রেণির চাকমা কলামের ফাইলটির নামপাতার উপরে লেখা: “জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত”। বইয়ের নাম চাকমা লিপিতে, নিচে বন্ধনীতে বাংলা হরফে “ম চাকমা বই”, তার নিচে “পথম্ কেলাচ্”। প্রচ্ছদে বাংলায় লেখা “আমার চাকমা বই, প্রথম শ্রেণি”। চাকমা লিপি নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের চাকমা লিপি (অঝাপাত): উৎপত্তি, বর্ণমালা, ইউনিকোড ও পুনরুজ্জীবন লেখায়; মারমা বইয়ের লিপি নিয়ে আছে ম্রাইমাজা: মারমা বর্ণমালা।

এনসিটিবির 2024 শিক্ষাবর্ষের পাতায় মাতৃভাষার বইয়ের লিংক না থাকলেও এই বইটি নিজেই বলছে, এটি 2024 শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্ধারিত। দুটি তথ্য পাশাপাশি রইল।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 1 জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি শহরের বনরুপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে 27,801 জন শিক্ষার্থী পেয়েছে প্রাক-প্রাথমিকে 13,134টি, প্রথম শ্রেণিতে 20,880টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে 21,207টি ও তৃতীয় শ্রেণিতে 7,205টি বই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কফিল উদ্দিন জানান, শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, এবং চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে অভিভাবকদের অভিযোগ — বই পড়ানোর মতো যথেষ্ট শিক্ষক নেই।

রাঙামাটির তিন বছরের সংখ্যা উৎস অনুযায়ী পাশাপাশি: 2018-এ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির 25,000 শিক্ষার্থী (দ্য ডেইলি স্টার), 2025-এ চার স্তরের 30,534 শিক্ষার্থী (বিডিনিউজ২৪), 2026-এ চার স্তরের 27,801 শিক্ষার্থী (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)। প্রতিটি সংখ্যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া।

2027 শিক্ষাবর্ষের বই: পুনঃদরপত্রে কী আছে

12 আগস্ট 2026-এ এনসিটিবি “২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের পুনঃদরপত্র” বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ই-জিপি পোর্টালে দরপত্র প্রকাশ 13 আগস্ট 2026, জমা ও খোলার শেষ সময় 24 আগস্ট 2026 বিকেল 4টা।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের চিঠি: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ
2027 শিক্ষাবর্ষের পাঁচ ভাষার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চিঠি, 12 আগস্ট 2026। নথি: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, নোটিশ (সরকারি প্রকাশনা)

নোটিশটির দুটি পাতা। প্রথম পাতা এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসের স্বাক্ষরে বিজ্ঞাপন ম্যানেজারদের কাছে চিঠি: বিজ্ঞপ্তিটি 13.08.2026 তারিখের মধ্যে পত্রিকার ভেতরের পাতায় 3 কলাম × 5 ইঞ্চি আকারে একবার প্রকাশ করতে হবে; তালিকায় দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক আমাদের সময় ও The Daily Bangladesh Post। দ্বিতীয় পাতা ইংরেজিতে “Invitation for e-Re-Tender (OTM)”: “Multilingual education” প্যাকেজের মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ, 2027 শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য; লট নম্বর 201, টেন্ডার আইডি 1317985; ক্রয়কারী সত্তা “Member (Textbook), NCTB”; অর্থের উৎস সরকার (GoB)।

শিরোনামের “পুনঃদরপত্র” শব্দটি বলে, এর আগে একটি দরপত্র ছিল। আগের দরপত্রটি কবে হয়েছিল এবং কেন আবার ডাকতে হলো, তা এনসিটিবির নোটিশ পাতায় পাওয়া যায়নি। নোটিশে কোন শ্রেণির কয়টি বই, তার সংখ্যাও নেই।

তৃতীয় শ্রেণির পরে কী হয়

পাঁচ ভাষায় সরকারি বই তৃতীয় শ্রেণিতে গিয়ে থামে; চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য কোনো মাতৃভাষার বই এনসিটিবির কোনো বছরের তালিকায় নেই। তারিক মনজুরের ভাষায়, “ওই পাঁচ ভাষায়ও তৃতীয় শ্রেণির পরে আর কোনো বই লেখা হয়নি।”

তাঁর লেখায় এনসিটিবির প্রত্যাশাও উল্লেখ আছে: প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত চার বছরে একটি শিশু মাতৃভাষায় পড়া ও লেখার দক্ষতা অর্জন করবে, আর এই সময়ের মধ্যেই বাংলার সঙ্গে “ব্রিজিং” বা সংযোগপ্রক্রিয়া শেষ হবে। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, ভাষাসংযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সময় সাত বছর, এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিশু কীভাবে বাংলায় লেখা সব বিষয়ের পাঠ নেবে, তা পরিকল্পনায় নির্দেশ করা হয়নি।

1 জানুয়ারি 2018-এ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ধীরে ধীরে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এমন বইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। 2026 শিক্ষাবর্ষের এনসিটিবি তালিকায় মাতৃভাষার বইয়ের শেষ শ্রেণি তৃতীয়।

সরকারি কর্মসূচির পাশে বেসরকারি উদ্যোগ

সরকারি বইয়ের আগে থেকে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে মাতৃভাষা ও লিপি শেখাচ্ছে। মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা তাঁর লেখায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার “নানামুখি উদ্যোগ”-এর কথা লিখেছেন। সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ চাকমা কালচারাল কাউন্সিল অব বাংলাদেশ।

দেশ রূপান্তরের 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংগঠন 2023 সাল থেকে পাহাড়ের দুর্গম গ্রামে তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীদের চাকমা বর্ণমালা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, মাঠপর্যায়ে ও অনলাইনে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিখিয়েছে; প্রতিবেদনে সংগঠনের উপদেষ্টা আনন্দ জ্যোতি চাকমার বক্তব্য আছে। দীঘিনালায় চাঙমা সাহিত্য বা-র স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেভাবে চাকমা বর্ণমালা পড়ান, তা আছে দীঘিনালার স্কুলে স্বেচ্ছাসেবীদের চাকমা বর্ণমালা পড়ানো লেখায়।

সরকারি তালিকার বাইরের ভাষা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার একটি প্রতিবেদনে বান্দরবানের আলীকদমের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেছেন, তাঁদের স্কুলে ত্রিপুরা, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যা শিক্ষার্থী বেশি হলেও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বই প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশে কোন ভাষার অভিধান আছে আর কোনটির নেই, তার হিসাব আছে আদিবাসী ভাষার অভিধান লেখায়।

প্রশ্নোত্তর

মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে শুরু হয়?

সরকারি বই প্রথম বিতরণ হয় 1 জানুয়ারি 2017-এর পাঠ্যপুস্তক উৎসবে — চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য। সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল 31 অক্টোবর 2012-র সভায়, আর পাঁচ ভাষা চূড়ান্ত হয় 14 জুলাই 2013-য়। খাগড়াছড়িতে 10 জানুয়ারি 2017 পর্যন্ত বই পৌঁছায়নি বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছিল।

কোন পাঁচটি ভাষায় সরকারি পাঠ্যবই দেওয়া হয়?

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো (মান্দি) ও সাদরি। এনসিটিবির পাতায় নামগুলো জনগোষ্ঠী ধরে লেখা — চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি, ত্রিপুরা। 2012-র প্রথম সভায় সাঁওতালিসহ ছয় ভাষার কথা ছিল; বর্ণমালার সিদ্ধান্ত না হওয়ায় 14 জুলাই 2013-র সভায় সাঁওতালির উপকরণ প্রণয়ন স্থগিত হয়।

মাতৃভাষার বইয়ের সিদ্ধান্ত 2012-তে না 2013-তে?

দুটোই উৎসে আছে। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী প্রথম সভা 31 অক্টোবর 2012, আর পাঁচ ভাষার সিদ্ধান্ত 14 জুলাই 2013-র জাতীয় কমিটির সভায়। প্রথম আলোয় তারিক মনজুর লিখেছেন, কমিটি গঠন 2012-তে, সিদ্ধান্ত 2013-তে। দ্য ডেইলি স্টার 2020-এ লিখেছে, সরকার 2012-তে বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রাক-প্রাথমিকের মাতৃভাষার বইয়ে কী কী থাকে?

2018–2023 শিক্ষাবর্ষের এনসিটিবি তালিকায় প্রতিটি ভাষায় “আমার বই”, “এসো লিখতে শিখি”, ফ্ল্যাশ কার্ড, ফ্লিপ চার্ট এবং দশটি গল্পের বই। গল্পের নাম ভাষাভেদে আলাদা, যেমন চাকমায় “অতিথি পাখি”, মারমায় “বকের গল্প”, সাদরিতে “কারাম”। 2025 ও 2026-এর তালিকায় প্রাক-প্রাথমিকে কেবল “আমার বই” ও “এসো লিখতে শিখি”।

প্রথম শ্রেণির মাতৃভাষার বই কবে থেকে দেওয়া হয়?

উৎস দুটি আলাদা বছর বলে। দ্য ডেইলি স্টার 1 জানুয়ারি 2018-এ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিশুদের মাতৃভাষার বই পাওয়ার খবর দিয়েছে। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রথম শ্রেণির পাঁচ ভাষার পাতা প্রথম আছে 2019 শিক্ষাবর্ষে। তারিক মনজুরের হিসাবে প্রথম শ্রেণির বই তৈরি হয় 2018-এ।

কোন শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষার বই আছে?

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। প্রাক-প্রাথমিক ছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই আছে; তৃতীয় শ্রেণির বই প্রথম এনসিটিবির তালিকায় আসে 2020 শিক্ষাবর্ষে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মাতৃভাষার বই এনসিটিবির কোনো বছরের তালিকায় নেই। তারিক মনজুর লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণির পরে আর কোনো বই লেখা হয়নি।

প্রথম শ্রেণির চাকমা বইয়ের নাম কী?

2026 শিক্ষাবর্ষের এনসিটিবি তালিকায় সারির নাম “আমার বাংলা বই” হলেও চাকমা কলামের ফাইলের প্রচ্ছদে লেখা “আমার চাকমা বই, প্রথম শ্রেণি”। নামপাতায় চাকমা লিপির শিরোনামের নিচে বাংলা হরফে “ম চাকমা বই” ও “পথম্ কেলাচ্”, আর উপরে লেখা — এনসিটিবি কর্তৃক 2024 শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত।

রাঙামাটিতে কতজন শিশু মাতৃভাষার বই পায়?

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে 2025 শিক্ষাবর্ষে 10 উপজেলার 30,534 জন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থী 69,221টি বই পায় (বিডিনিউজ২৪)। 2026 শিক্ষাবর্ষে সংখ্যাটি 27,801 জন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)। 2018-এ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির 25,000 শিক্ষার্থী পেয়েছিল (দ্য ডেইলি স্টার)।

কতজন শিক্ষক মাতৃভাষায় পড়ানোর প্রশিক্ষণ পেয়েছেন?

দ্য ডেইলি স্টার 20 ফেব্রুয়ারি 2020-এ জানায়, তিন পার্বত্য জেলার 4,204 জন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষকের 38.60 শতাংশ আগের তিন বছরে 14 দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য ছিল বর্ণমালার পরিচয়। বিডিনিউজ২৪ জানায়, 2022–23 অর্থবছরে খাগড়াছড়িতে 90 জন শিক্ষক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পান — চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা, প্রতি ভাষায় 30 জন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে কোন ভাষাগুলো যুক্ত হওয়ার কথা ছিল?

ম্রো, মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া), মণিপুরী (মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বম। তৃতীয় পর্যায়ে কোচ, কুড়ুখ (ওঁরাও), হাজং, রাখাইন, খুমি ও খিয়াং। বাংলা ট্রিবিউন 2023-এ জানায়, দ্বিতীয় পর্যায় 2020 সালের দিকে শুরুর কথা ছিল, করোনায় পিছিয়ে যায়, পরেও শুরু হয়নি। এমএলই ফোরাম বলেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুই হয়নি।

2027 সালের মাতৃভাষার বই ছাপার কাজ কোন পর্যায়ে?

এনসিটিবি 12 আগস্ট 2026-এ 2027 শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের পাঁচ ভাষার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয়। ই-জিপি পোর্টালে টেন্ডার আইডি 1317985, লট 201; প্রকাশ 13 আগস্ট, জমা ও খোলার শেষ সময় 24 আগস্ট 2026 বিকেল 4টা। আগের দরপত্রের বিবরণ নোটিশে নেই।

মাতৃভাষার বই কার দায়িত্বে বিতরণ হয়?

বই তৈরি করে এনসিটিবি; বিতরণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিডিনিউজ২৪-এর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 19টি জেলায় শিক্ষার্থীরা পাঁচ ভাষায় বই পায়; 16টি জেলায় তদারকি করে অধিদপ্তরের একীভূত শিক্ষা সেল, আর তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 2017 সালে মোট কত বই ছাপা ও বিতরণ হয়েছিল — জাতীয় পর্যায়ের কোনো পঠিত উৎসে প্রথম বছরের ছাপা বা বিতরণের মোট সংখ্যা পাওয়া যায়নি; কেবল রাঙামাটির 12,381 জন শিক্ষার্থীর হিসাব আছে।
  • 2024 শিক্ষাবর্ষের তালিকা — এনসিটিবির 2024 পাতায় মাতৃভাষার বইয়ের লিংক নেই; সে বছর বই বিতরণ হয়েছিল কি না বা কতটি, তা কোনো পঠিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
  • English for Today কেন বাদ — 2019–2023-এর তালিকায় থাকা English for Today 2025-এর তালিকায় নেই; পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা এনসিটিবির পাতায় নেই।
  • প্রথম দরপত্রের কী হলো — 2027 শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিটি “পুনঃদরপত্র”; আগের দরপত্রের তারিখ বা বাতিলের কারণ জানা যায়নি।
  • মূল সভার কার্যবিবরণী — 31 অক্টোবর 2012 ও 14 জুলাই 2013-র সভার সরকারি কার্যবিবরণী কোনো প্রকাশ্য সরকারি পাতায় পাওয়া যায়নি; তারিখগুলো এসেছে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একজন লেখকের লেখা থেকে।
  • অন্য বছরের ফাইলের ভেতরের নাম — 2019–2025-এর প্রথম শ্রেণির ফাইলগুলোর প্রচ্ছদেও “আমার চাকমা বই”-ধাঁচের নাম আছে কি না, যাচাই করা যায়নি।
  • খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের 2026-এর সংখ্যা — রাঙামাটির হিসাব পাওয়া গেছে, বাকি দুই জেলার 2026 শিক্ষাবর্ষের হিসাব পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

  1. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, “বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা: এ যেন আলো আঁধারি পথ রেখায় অন্তহীন পদযাত্রা”, জুমজার্নাল আর্কাইভ (প্রকাশ 15 এপ্রিল 2021) — লিংক
  2. মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, “শিক্ষা আইন, আদিবাসীদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ও ঝুলন্ত একটি রাষ্ট্রীয় কর্মযজ্ঞ”, জুমজার্নাল আর্কাইভ (প্রকাশ 4 ডিসেম্বর 2020) — লিংক
  3. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2018 শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (চাকমা ভাষার) পাঠ্যপুস্তক — লিংক; একই বছরের মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো পাতা 2018 শিক্ষাবর্ষের তালিকা থেকে
  4. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2019 শিক্ষাবর্ষের সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকের তালিকা (প্রাক-প্রাথমিক পাঁচ ভাষা; প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) — তালিকা, চাকমা প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি
  5. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2020 শিক্ষাবর্ষ — তালিকা, গারো প্রাক-প্রাথমিক, তৃতীয় শ্রেণি
  6. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2022 শিক্ষাবর্ষ — চাকমা প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণি
  7. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2023 শিক্ষাবর্ষ — চাকমা প্রাক-প্রাথমিক, তৃতীয় শ্রেণি
  8. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2024 শিক্ষাবর্ষের প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক — লিংক
  9. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2025 শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর — প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক
  10. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, 2026 শিক্ষাবর্ষের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর — প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক; প্রথম শ্রেণির চাকমা বইয়ের ফাইল (এনসিটিবির পাতার লিংক থেকে)
  11. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, “২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি ভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের পুনঃদরপত্র” বিজ্ঞপ্তি, 12 আগস্ট 2026 — নোটিশ পাতা
  12. তারিক মনজুর, “চাকমা–মারমা ভাষায় পাঠদান কেন সফল হচ্ছে না”, প্রথম আলো, 6 মার্চ 2024 — লিংক
  13. নিজস্ব প্রতিবেদক, “আজ পাঠ্যপুস্তক উৎসব”, প্রথম আলো, 1 জানুয়ারি 2017 — লিংক
  14. “মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষা কোন পথে?”, প্রথম আলো, 28 ফেব্রুয়ারি 2017 — লিংক
  15. বাসস, “বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী”, প্রথম আলো, 31 ডিসেম্বর 2023 — লিংক
  16. Star Online Report, “Pre-primary books to be in 5 ethnic languages: Nahid”, The Daily Star, 24 May 2016 — লিংক
  17. A Correspondent, Khagrachhari, “Yet to get textbooks in mother tongue”, The Daily Star, 10 January 2017 — লিংক
  18. Star Country Desk, “Happy with new books”, The Daily Star, 1 January 2018 — লিংক
  19. “Education in mother tongue: Govt move for ethnic minority students faltering”, The Daily Star, 20 February 2020 — লিংক
  20. “An empty promise; of books without teachers”, The Daily Star, 19 March 2024 — লিংক
  21. “শিক্ষক সংকটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা”, বাংলা ট্রিবিউন, 21 ফেব্রুয়ারি 2023 — লিংক
  22. মংসিং হাই মারমা, “নতুন বছরে মাতৃভাষায় বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত পাহাড়ের শিশুরা”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 1 জানুয়ারি 2023 — লিংক
  23. রাঙামাটি প্রতিনিধি, “রাঙামাটিতে পাহাড়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পেল মাতৃভাষার বই”, বিডিনিউজ২৪, 1 জানুয়ারি 2025 — লিংক
  24. সমির মল্লিক, “মাতৃভাষায় শিক্ষা: পাহাড়ের শিশুদের সামনে সমস্যার পাহাড়”, বিডিনিউজ২৪, 22 ফেব্রুয়ারি 2025 — লিংক
  25. “মায়ের ভাষায় লেখার লড়াই”, দেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 — লিংক
  26. নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙামাটি, “রাঙ্গামাটিতে মাতৃভাষায় বই পেল ২৭ হাজার পাহাড়ি শিক্ষার্থী”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 1 জানুয়ারি 2026 — লিংক
  27. মংসিং হাই মারমা, “মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত পাহাড়ের শিশুরা”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা — লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ককবরক ভাষা, চাকমা ভাষা, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা