Jumjournal Logo

আদিবাসী ভাষার অভিধান: বাংলাদেশের কোন ভাষার অভিধান আছে, কোনটির নেই

Last updated Nov 3rd, 2026

0

পুরোনো ছাপা বইয়ের পাতায় VOCABULARY শিরোনামের নিচে ছয়টি কলাম — Mru, Khyeng, Lhoosai, Bunjogi, Pankho ও Shendu — প্রতিটিতে রোমান হরফে লেখা শব্দ

আদিবাসী ভাষার অভিধান বাংলাদেশ থেকে কয়টি বেরিয়েছে, তার কোনো সরকারি তালিকা নেই। উৎস ধরে মেলালে দেখা যায়: চাকমা, ককবরক (ত্রিপুরা), বম, মারমা, চাক, রেংমিটচ্য ও পাত্র (লালেং) ভাষার অভিধান বা শব্দকোষ বাংলাদেশেই সংকলিত বা ছাপা হয়েছে; গারো, লুসাই, সাঁওতালি, কুড়ুখ, খাসি ও মণিপুরীর অভিধান আছে সীমান্তের ওপারে ছাপা; আর তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খুমি, পাংখোয়া, রাখাইন, হাজং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীসহ বেশ কয়েকটি ভাষার কোনো প্রকাশিত অভিধানের পূর্ণ বিবরণ উৎসে পাওয়া যায়নি।

“পাওয়া যায়নি” আর “নেই” এক কথা নয়। বাংলাদেশে আদিবাসী ভাষার অভিধানগুলো ছাপা হয় জেলা পরিষদ, সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, ছাত্র সংগঠন, গির্জা বা লেখকের নিজের পকেটের টাকায় — বেশির ভাগের ISBN নেই, জাতীয় গ্রন্থাগারের অনলাইন তালিকায় ওঠে না, আর খবর হয় একবারই, মোড়ক উন্মোচনের দিন। 1973 সালের চাকমা “কথাতারা”, 2022 সালের মারমা-বাংলা অভিধান আর 2023 সালের রেংমিটচ্য অভিধান — তিনটির খবর আছে তিন আলাদা জায়গায় — সংকলকের নিজের বই, প্রথম আলো আর দেশেবিদেশে — কোনোটিতে অন্য দুটির উল্লেখ নেই। এই লেখায় সেই টুকরোগুলো এক ছকে আনা হলো।

সূচিপত্র

  1. এক নজরে: কোন ভাষার অভিধান পাওয়া গেছে, কোনটির যায়নি
  2. এই তালিকায় “অভিধান” বলতে কী ধরা হয়েছে
  3. আদিবাসী ভাষার অভিধান বাংলাদেশ জুড়ে: ভাষাভিত্তিক ছক
  4. চাকমা ভাষার অভিধান: 1973-এর কথাতারা থেকে 2016-র দুই লিপির অভিধান
  5. মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা: অভিধান এল কবে
  6. ককবরক: সীমান্তের দুই পারে দেড়শো বছরের অভিধান-চেষ্টা
  7. বম, লুসাই, পাংখোয়া: রোমান হরফ আর মিশনারির অভিধান
  8. ম্রো ও রেংমিটচ্য: অভিধান আগে এল ছোট ভাষার
  9. চাক, খিয়াং, খুমি: গবেষকের হাতে অভিধান
  10. সমতলের ভাষা: গারো, সাঁওতালি, কুড়ুখ, মণিপুরী, পাত্র
  11. অভিধানের আগে শব্দতালিকা: 1798 থেকে 1966
  12. “কোনো নৃভাষারই অভিধান নেই” — দাবি আর তালিকা পাশাপাশি
  13. এই অভিধানগুলো কোথায় পড়া যায়
  14. যে ভাষাগুলোর অভিধান জানা যায়নি
  15. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

এক নজরে: কোন ভাষার অভিধান পাওয়া গেছে, কোনটির যায়নি

উৎসগুলো মিলিয়ে তিনটি দল দাঁড়ায়। প্রথম দলে সেই ভাষাগুলো, যাদের অভিধান বা শব্দকোষ বাংলাদেশে ছাপা হয়েছে এবং শিরোনাম, সংকলক ও সাল জানা: চাকমা, ককবরক, মারমা, চাক, রেংমিটচ্য, পাত্র। বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, কিন্তু শিরোনাম ও সাল কোথাও নেই। দ্বিতীয় দলে সেই ভাষাগুলো, যাদের অভিধান ভারতে বা অন্য দেশে ছাপা। তৃতীয় দলে বাকিরা।

দল ভাষা
বাংলাদেশে ছাপা অভিধান, বিবরণসহচাকমা, ককবরক (ত্রিপুরা), মারমা, চাক, রেংমিটচ্য, পাত্র (লালেং)
অভিধান আছে বলে উৎস জানায়, বিবরণ অসম্পূর্ণবম; তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রো (জেলা পরিষদের প্রকাশনা, শিরোনাম জানা যায়নি)
গবেষণাগ্রন্থের ভেতরে অভিধানখিয়াং (হিয়ো-ইংরেজি, 2018), গারো (মধুপুরের মান্দি, 2004)
অভিধান শুধু সীমান্তের ওপারে ছাপালুসাই (মিজো), গারো, সাঁওতালি, কুড়ুখ, সাদরি, মুন্ডারি, খাসি, মৈতৈ মণিপুরী
শুধু শব্দতালিকা পাওয়া গেছেপাংখোয়া, খুমি, উসুই
কোনো অভিধান বা শব্দকোষ জানা যায়নিরাখাইন, হাজং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, কোচ, খাড়িয়া ও আরও কয়েকটি (নিচে আলাদা তালিকা)

এই ভাগ চূড়ান্ত নয়। এটি সেই উৎসগুলোর ছবি, যেগুলো খুলে পড়া গেছে: জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহ, আমাদের আর্কাইভের প্রবন্ধ, ভাষাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক গ্রন্থপঞ্জি Glottolog, SIL International-এর জরিপ আর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। বাংলা একাডেমি বা জাতীয় গ্রন্থাগারের তালিকায় আরও কিছু থাকতে পারে।

এই তালিকায় “অভিধান” বলতে কী ধরা হয়েছে

এখানে অভিধান মানে এমন বই, যেখানে একটি আদিবাসী ভাষার শব্দ ভুক্তি হিসেবে সাজানো আর প্রতিটির অর্থ আরেক ভাষায় দেওয়া — বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায়। শব্দতালিকা (কয়েকশো শব্দের তুলনামূলক তালিকা) আর ব্যাকরণের পরিশিষ্টে জুড়ে দেওয়া শব্দকোষ আলাদা করে চিহ্নিত।

পার্থক্যটা জরুরি, কারণ উৎসগুলো নিজেরাই শব্দ তিনটি গুলিয়ে ফেলে। Glottolog প্রতিটি বইকে ধরন অনুযায়ী চিহ্ন দেয় — “dictionary”, “wordlist”, “grammar”। যেমন শাওন ফরিদের 2006 সালের পাংখোয়া বইকে Glottolog “ethnographic; wordlist” বলেছে, অভিধান নয়; আবার Robbins Burling-এর মধুপুরের মান্দি ভাষার বইকে “grammar; dictionary”। এই লেখার ছকে Glottolog-এর এই চিহ্নই মানা হয়েছে, যেখানে বইটি Glottolog-এ আছে। যেখানে নেই, সেখানে উৎস বইটিকে যা বলেছে — অভিধান, শব্দকোষ, শব্দভাণ্ডার — সেটিই লেখা হয়েছে।

দ্বিতীয় নিয়ম: “প্রথম” দাবি উৎসের মুখেই থাকবে। প্রায় প্রতিটি মোড়ক উন্মোচনের খবরে বইটিকে “প্রথম” বলা হয়েছে। কোনটি সত্যিই প্রথম, এই লেখা তা যাচাই করতে বসেনি; দুই উৎস দুই রকম বললে দুটোই লেখা হয়েছে।

তৃতীয় নিয়ম: “কোথায় আছে” ঘরে লেখা হয়েছে কেবল সেই জায়গা, যেখানে বইটির অস্তিত্ব নিজে দেখা গেছে — জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহে পুরো বই, Glottolog-এর গ্রন্থপঞ্জিতে ভুক্তি, বা সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ। কোনো লাইব্রেরিতে বইটির কপি আছে কি না, তা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি।

আদিবাসী ভাষার অভিধান বাংলাদেশ জুড়ে: ভাষাভিত্তিক ছক

নিচের ছকে প্রতিটি ভুক্তি একটি উৎস থেকে নেওয়া, আর উৎসটি শেষ কলামে। সাল যেখানে দুই উৎসে দুই রকম, সেখানে দুটোই আছে। ভাষাগুলো সাজানো হয়েছে আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম, পরে সমতল — এই ক্রমে।

ভাষা অভিধানের নাম সংকলক সাল প্রকাশক / স্থান কোথায় পাওয়া গেছে
চাকমাচাঙমা-বাঙলা কথাতারাসুগত চাকমা (ননাধন)1973জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তরলেখকের 2002 ও 2016 সালের বইয়ে উল্লেখ (জুমজার্নাল ই-বুক)
চাকমাChakma Dictionary (Chakma-English)পুলিন বয়ান চাকমা1993চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ, কমলানগর, মিজোরামGlottolog
চাকমাচাকমা শব্দভাণ্ডালআর্য্যমিত্র চাকমাজুন 2011ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়িজুমজার্নাল ই-বুক (পূর্ণ বই)
চাকমাচাকমা-বাংলা অভিধান (চাঙমা বাংলা কধা তারা)সুগত চাকমা2016ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটিজুমজার্নাল ই-বুক (পূর্ণ বই)
চাকমাচাকমা ভাষার শব্দকোষঅশোক কুমার দেওয়ানঅজানাঅসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি (আর্কাইভের জীবনী অনুযায়ী)জুমজার্নাল আর্কাইভ; Chakmapedia ব্লগ
মারমামারমা-বাংলা অভিধানজুয়েল বড়ুয়ামার্চ 2022 (উন্মোচন 8 এপ্রিল 2022)বান্দরবান; 370 পৃষ্ঠাপ্রথম আলো, বিডিনিউজ
চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা, ম্রোশিরোনাম জানা যায়নিজানা যায়নিআনুমানিক 2023 (“দুই বছর আগে”)জেলা পরিষদের উদ্যোগেদেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025
ককবরক (ত্রিপুরা)ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণসম্পাদক সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা1989উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটিজুমজার্নাল আর্কাইভ
ককবরকত্রৈপুর ভাষাভিধানঠাকুর রাধামোহন দেববর্মন1907ত্রিপুরা রাজ্যজুমজার্নাল আর্কাইভ
ককবরকককরবামঅজিত বন্ধু দেববর্মা1967ত্রিপুরাজুমজার্নাল আর্কাইভ
ককবরকAnglo-Kokborok-Bengali dictionaryবিনয় দেববর্মা2002 (প্রথম রূপ 1996)ককবরক তাই হুকুমু মিশন, আগরতলাGlottolog; জুমজার্নাল আর্কাইভ
বমলাই-ইংরেজি অভিধান (শিরোনাম হুবহু জানা যায়নি)সম্পাদক জির কুং সাহুজানা যায়নিবম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনজুমজার্নাল আর্কাইভ; বাংলা ট্রিবিউন
লুসাই (মিজো)A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (Dulien dialect)J. H. Lorrain ও F. W. Savidge1898আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস, শিলং; 368 পৃষ্ঠাGlottolog; Wikimedia Commons
রেংমিটচ্যমিটচ্য তখকইয়াংঙান ম্রোজানুয়ারি 2023বনতুলি প্রিন্টার্স, বান্দরবান; প্রায় 3,400 শব্দদেশেবিদেশে; গ্লোবাল ভয়েসেস
চাকCak-English-Bangla Dictionaryকেইসুকে হুজিওয়ারা (Keisuke Huziwara)2016A H Development Publishing House, ঢাকা; xxxiv+545 পৃষ্ঠাGlottolog
খিয়াং (হিয়ো)A grammar of Hyow (ভেতরে হিয়ো-ইংরেজি অভিধান)মুহাম্মদ জাকারিয়া2018নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (অভিসন্দর্ভ)LINGUIST List
গারো (মান্দি)The language of the Modhupur Mandi (Garo)Robbins Burling2004Bibliophile South Asia ও Promilla, নয়াদিল্লিGlottolog (“grammar; dictionary”)
গারোEnglish-Garo Dictionaryআমেরিকান ব্যাপটিস্ট গারো মিশনের সদস্যরা1905শিলংGlottolog; Wikimedia Commons
গারোKu’bidik Bengali into Garo dictionaryRamke Momin1996মেঘালয় সরকার, শিলং; 468 পৃষ্ঠাGlottolog
সাঁওতালিA Santal dictionary (7 খণ্ড)Paul Olaf Bodding1932–1936Dybwad, অসলোGlottolog
কুড়ুখKurukh (Orāo)-English DictionaryFerdinand Hahn1903বেঙ্গল সেক্রেটারিয়েট প্রেস, কলকাতাGlottolog
সাদরিEnglish-Sadri dictionaryE. Blain1975ঝাড়সুগুদা, ওড়িশাGlottolog
মুন্ডারিMundari-English dictionaryManindra Bhusan Bhaduri1931কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়Glottolog
খাসিKhasi-English DictionaryU Nissor Singh1906ভারতGlottolog
মৈতৈ মণিপুরীA Dictionary in English, Bengali and ManipuriCapt. George Gordon1837জানা যায়নিজুমজার্নাল আর্কাইভ
পাত্র (লালেং থার)পাত্র ভাষা ও শব্দকোষপাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ)2020 (উন্মোচন 18 অক্টোবর)সিলেট; 88 পৃষ্ঠাসিলেট টুডে; জুমজার্নাল

ছকে শব্দতালিকাগুলো রাখা হয়নি; সেগুলো আছে ইতিহাসের অংশে আর জানা-যায়নি তালিকায়।

চাকমা ভাষার অভিধান: 1973-এর কথাতারা থেকে 2016-র দুই লিপির অভিধান

বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিধান চাকমার — উৎসে অন্তত চারটি নাম আসে, প্রথমটি 1973 সালের। সংকলক একজনই, সুগত চাকমা: 1973 সালে বাংলা হরফে লেখা “চাঙমা-বাঙলা কথাতারা”, আর 2016 সালে চাকমা ও বাংলা দুই হরফে লেখা “চাকমা-বাংলা অভিধান”। মাঝখানে 2011 সালে আর্য্যমিত্র চাকমার “চাকমা শব্দভাণ্ডাল”।

1973-এর বইটির কথা সুগত চাকমা নিজে দুই জায়গায় লিখেছেন। 2002 সালে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত তাঁর বাংলাদেশের চাকমা ভাষা ও সাহিত্য বইয়ের ভূমিকায় তিনি গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-র কথা বলে লেখেন, ওই গ্রন্থ প্রকাশের সত্তর বছর পরে স্থানীয় ছাত্রদের মধ্যে সুগত চাকমা (ননাধন) সংকলিত ‘চাঙমা-বাঙলা কথাতারা’ (চাকমা বাংলা অভিধান) নামে “একটি ছোট অভিধান” প্রকাশিত হয়। 2016 সালের অভিধানের ভূমিকায় তিনি সালটি স্পষ্ট করেন: চাকমা-বাংলা দ্বিভাষিক অভিধান রচনার উদ্যোগ শুরু হয় 1973 সালে, যখন তাঁর প্রণীত বইটি “জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর (জুভাপ্র)” প্রকাশ করে; বইটি ছিল বাংলা বর্ণে লেখা।

ইংরেজি ভাষার ব্লগ Chakmapedia চাকমা অভিধানের যে তালিকা দিয়েছে, তার প্রথম নাম “Chakma Bangla Kodatara (1973)”, আর একে চাকমা ভাষার প্রথম অভিধান বলা হয়েছে — তবে ব্লগ নিজেই যোগ করেছে, প্রথম “ভাষায়, লিপিতে নয়”। অর্থাৎ বইটিতে চাকমা শব্দ বাংলা হরফে লেখা।

লিপির প্রশ্নটিই 2016 সালের বইয়ের মূল দাবি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটির গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা থেকে প্রথম প্রকাশ 2016, দাম 320 টাকা, 245 পৃষ্ঠা; নামপত্রে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নামও আছে। ভূমিকায় সুগত চাকমা লেখেন, কম্পিউটারে চাকমা হরফের সফটওয়্যার আসায় অভিধানে বাংলা বর্ণের পাশাপাশি চাকমা বর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়েছে, আর “এ দিক থেকে” এটিকে “একটি প্রথম অভিধান” বলতে হবে। বানানে তিনি মেনেছেন একই ইনস্টিটিউটের 2001 সালের বই “চাঙমা পত্থম পাত”-এর রীতি। ভুক্তির গড়ন এরকম: চাকমা শব্দ বাংলা হরফে, বন্ধনীতে চাকমা হরফে, তারপর পদ ও বাংলা অর্থ। বইটি পুরো পড়া যায় আমাদের ই-বুক সংগ্রহে: চাকমা-বাংলা অভিধান, সুগত চাকমা।

আর্য্যমিত্র চাকমার চাকমা শব্দভাণ্ডাল বেরিয়েছে জুন 2011-এ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি থেকে; ISBN 978-984-33-3680-4, 189 পৃষ্ঠা, দাম 240 টাকা। বইটি চাকমা শব্দ থেকে বাংলা অর্থের তালিকা। এর ভূমিকার প্রথম বাক্যই এই লেখার প্রশ্নের একটি উত্তর: চাকমা ভাষায় অভিধান প্রণয়ন “নুতন কোন বিষয় নয়”, সত্তরের দশক থেকে দেশে-বিদেশে বেশ কিছু শব্দকোষ বা অভিধান প্রণীত হয়েছে। লেখকের অভিযোগ, সেগুলোতে দুটি বিষয় অবহেলিত — চাকমা বর্ণমালার নিজস্ব বানানপদ্ধতি আর চাকমাদের আলাদা উচ্চারণ; কিছু চাকমা শব্দের বানান বাংলা বর্ণে “আদৌ দেওয়া সম্ভব হয় না”।

সীমান্তের ওপারে মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগ 1993 সালে প্রকাশ করে পুলিন বয়ান চাকমার Chakma Dictionary (Chakma-English), কমলানগর থেকে — Glottolog এই বইটিকে চাকমা ভাষার অভিধান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। Chakmapedia এটিকে “Kodha Tara” নামে ভারতের প্রথম চাকমা-ইংরেজি অভিধান বলেছে।

চতুর্থ নামটি নিয়ে উৎস দুটি আলাদা কথা বলে। আমাদের আর্কাইভের অশোক কুমার দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী জানায়, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের এই সাবেক পরিচালক (জন্ম 1926) “চাকমা ভাষার শব্দকোষ” অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে গেছেন। Chakmapedia আবার “Chakma Bhashar Shabdakosh”-কে অশোক কুমার দেওয়ানের বাংলা হরফের চাকমা-বাংলা অভিধান বলে তালিকাভুক্ত করে লিখেছে, এটি অনলাইনে দেখা যায়।

এর পর আসে জেলা পরিষদের উদ্যোগ। দেশ রূপান্তরের রাঙামাটি প্রতিনিধি শংকর হোড় 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এ লেখেন, “গত দুই বছর আগে” জেলা পরিষদের উদ্যোগে ককবরক শব্দভাণ্ডারসহ চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিধানগুলোর শিরোনাম, সংকলক বা কোন জেলা পরিষদ — তা নেই। চাকমা লিপির পুনরুজ্জীবন নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: চাকমা লিপি (অঝাপাত): উৎপত্তি, বর্ণমালা, ইউনিকোড ও পুনরুজ্জীবন।

মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা: অভিধান এল কবে

মারমা ভাষায় বাংলাদেশে ছাপা যে অভিধানের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়, সেটি 2022 সালের — জুয়েল বড়ুয়ার সংকলিত মারমা-বাংলা অভিধান, যার মোড়ক উন্মোচন হয় 8 এপ্রিল 2022, বান্দরবানে। তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার অভিধানের একমাত্র উল্লেখ দেশ রূপান্তরের ওই এক বাক্য; শিরোনাম, সংকলক, সাল — কিছুই জানা যায়নি।

প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধির 8 এপ্রিল 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিধানটি সংকলন করেছেন রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল বড়ুয়া, যাঁর মাতৃভাষা বাংলা; তিনি মারমা ভাষা ও বর্ণমালা নিজে শিখেছেন, কাজ শুরু করেন 2017 সালে, আর করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সময় সংকলন শেষ করেন। অভিধানে মারমা শব্দ মারমা ও বাংলা দুই বর্ণে লেখা, তারপর বাংলা অর্থ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরদিন যোগ করে: বইটি 370 পৃষ্ঠার, ছাপা হয়েছে আগের মাসে, সম্পাদনায় সহায়তা করেছেন মারমা ভাষা ও বর্ণমালা জানা পাঁচজন, আর ভিত্তি হিসেবে সংকলক আরাকান থেকে সংগ্রহ করা একটি “আরাকান-ফালৌং অভিধান” ব্যবহার করেছেন, কারণ ইয়াঙ্গুনের অভিধানে উচ্চারণ ছিল বর্মিদের আদলে। সংকলক নিজেই স্বীকার করেছেন, মারমা, রাখাইন ও বর্মি বর্ণমালা একই রকম হওয়ায় উচ্চারণে কিছু মিশ্রণ থাকতে পারে।

সংকলকের কর্মস্থল নিয়ে দুই প্রতিবেদন আলাদা: প্রথম আলো তাঁকে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেছে, বিডিনিউজ বলেছে তিনি তখন চট্টগ্রামের পটিয়ার আব্দুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত, আর 2017 সালে রোয়াংছড়িতে শিক্ষকতার সময় বৌদ্ধবিহারের “উসারা পাঠাগারে” মারমা শিখেছিলেন। মোড়ক উন্মোচক শিক্ষাবিদ ক্য শৈ প্রু মারমা (বিডিনিউজের বানানে ক্য শৈ প্রু খোকা) দুই প্রতিবেদনেই একই কথা বলেছেন: মারমা জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে এখনো কেউ অভিধান সংকলন করেননি। Glottolog-এর মারমা ভাষার নয়টি ভুক্তির কোনোটিই অভিধান নয়।

দুই লাখের কাছাকাছি বক্তার একটি ভাষায় অভিধান এত দেরিতে কেন এল, সে প্রশ্ন নিয়ে আলাদা একটি লেখা জুমজার্নালের পরিকল্পনায় আছে (“মারমা-বাংলা প্রথম অভিধান”); এখানে কেবল তথ্যটুকু রাখা হলো।

ককবরক: সীমান্তের দুই পারে দেড়শো বছরের অভিধান-চেষ্টা

ককবরকের অভিধান-চেষ্টার নথি সবচেয়ে পুরোনো — 1875–76 সালের ব্রিটিশ প্রশাসনিক প্রতিবেদনে। বাংলাদেশে ছাপা প্রথম ককবরক অভিধান হিসেবে উৎসে যার নাম আসে, সেটি 1989 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট থেকে সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পাদনায় প্রকাশিত “ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ”।

আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখা — ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল ও কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা — ধাপগুলো সাজিয়ে দেয়। ত্রিপুরায় ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট টি. ই. কক্সহেডের 26 জুন 1876-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী যুবরাজ রাধাকিশোর দেববর্মা তাঁর পরামর্শে “a Tipperah vocabulary” সংকলনে হাত দেন; পরে সি. ডব্লিউ. বল্টনের প্রতিবেদন একে “Tipperah-Bengali Dictionary” বলে। প্রায় একই সময়ে জে. ডি. এন্ডারসন ককবরক-বাংলা-চাকমা অভিধানের পাণ্ডুলিপি শেষ করেন, যা প্রকাশিত হয়নি এবং লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আছে বলে লেখাগুলো জানায়। এরপর ঠাকুর রাধামোহন দেববর্মন 1907 সালে “ত্রৈপুর ভাষাভিধান” রচনা করেন; অজিত বন্ধু দেববর্মা 1967 সালে “ককরবাম”; বিনয় দেববর্মা 1996 সালে “এ্যাংলো-ককবরক অভিধান”, যার দ্বিতীয় সংস্করণ 2002 সালের “এ্যাংলো-ককবরক-বাংলা অভিধান”, ককবরক তাই হুকুমু মিশন থেকে। Glottolog-এও শেষেরটি আছে: Anglo-Kokborok-Bengali dictionary, আগরতলা, 2002।

বাংলাদেশের দিকের কাজ নিয়ে দ্বিতীয় লেখাটি আরও জানায়: ত্রিপুরা সংগঠনগুলোর এক সিদ্ধান্তে ঠিক হয়েছিল সব দফার (উপভাষার) শব্দ নিয়ে একটি একক ককবরক-বাংলা-ইংরেজি অভিধান হবে; ভিত্তি হবে ত্রিপুরা রাজ্যের অভিধানগুলো ও প্রয়াত সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অভিধান; কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে SIL-এর; শব্দ সংগ্রহ হবে নয়টি “সিমেন্টিক ক্যাটাগরি” ধরে; আর কাজ শেষ হবে ডিসেম্বর 2014-এর মধ্যে, ছাপা বইয়ের সঙ্গে অনলাইন সংস্করণসহ। সেই অভিধান শেষ পর্যন্ত বেরিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। বিজুর খাবার নিয়ে আমাদের পাজন নিয়ে লেখায় উদ্ধৃত একটি প্রতিবেদনে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সজীব ত্রিপুরার পরিচয় দেওয়া হয়েছে “ককবরক অভিধানের লেখক” হিসেবে; অভিধানটির নাম ও সাল সেখানে নেই।

বম, লুসাই, পাংখোয়া: রোমান হরফ আর মিশনারির অভিধান

কুকি-চিন ভাষাগুলোর মধ্যে বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, কিন্তু কোনোটিই শিরোনাম বা সাল দেয় না। লুসাইয়ের অভিধান আছে, তবে তা 1898 সালে শিলংয়ে ছাপা মিজো ভাষার অভিধান। পাংখোয়ার জন্য পাওয়া গেছে কেবল একটি শব্দতালিকা।

বমের উৎসগুলো: আর্কাইভের বম জাতির আদ্যোপান্ত লেখে, বম ছাত্র সংগঠন “বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন” জির কুং সাহু সম্পাদিত লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে। একই লেখকের বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ লেখায় আছে, জার্মান নৃবিজ্ঞানী লোফলারের (Lorenz Löffler) সহযোগিতায় সম্পাদিত একটি বম অভিধান আছে। বাংলা ট্রিবিউনের 2019 সালের একটি কলাম লেখে, বান্দরবানে জিরকুন সাহু নামে একজন বম ভাষায় অভিধান করেছেন। আর SIL International-এর 2011 সালের কুকি-চিন জরিপ লেখে, বম ভাষায় “already dictionaries” আছে, সঙ্গে ধর্মীয় সাহিত্য ও বম ইতিহাসের বই। এগুলো একটি বই না একাধিক, তা উৎস থেকে বোঝা যায় না।

লুসাইয়ের ক্ষেত্রে J. Herbert Lorrain ও Fred W. Savidge-এর A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (Dulien dialect) ছাপা হয় 1898 সালে শিলংয়ের আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস থেকে, 368 পৃষ্ঠা; Glottolog এটিকে ব্যাকরণ ও অভিধান দুই ধরনেই চিহ্নিত করেছে। এই দুই মিশনারির রোমান বর্ণমালাই পরে মিজোরামের প্রচারকদের হাত ঘুরে বম ও পাংখোয়াদের কাছে পৌঁছায় — আর্কাইভের বম লেখাগুলো তা-ই বলে। বাংলাদেশের লুসাইদের মুখের ভাষা নিয়ে আলাদা অভিধান পাওয়া যায়নি; আমাদের লুসাই জনগোষ্ঠী লেখাতেও একই কথা।

পাংখোয়ার জন্য Glottolog যে বাংলাদেশি বইটির নাম দেয়, সেটি শাওন ফরিদের Parbathya Chattagramer Pangkhua Bhasha O Shahitya (রাঙামাটি, 2006; হিলি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও হিল ট্র্যাক্টস ফাউন্ডেশন), যার ধরন “ethnographic; wordlist”। জাহিদ আকতারের 2024 সালের A grammar of Pangkhua (মুটন দ্য গ্রুইটার, বার্লিন) একটি ব্যাকরণ। পাঁচ কুকি-চিন ভাষার লিপি, বাইবেল ও বিপন্নতার তুলনা আছে আমাদের কুকি-চিন ভাষা: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া লেখায়।

ম্রো ও রেংমিটচ্য: অভিধান আগে এল ছোট ভাষার

ম্রো ভাষার অভিধানের একমাত্র উল্লেখ দেশ রূপান্তরের জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত বাক্যটি; শিরোনাম জানা যায়নি। উল্টো দিকে, ম্রো জনগোষ্ঠীর ভেতরে মাত্র ছয়জন সাবলীল বক্তার ভাষা রেংমিটচ্যের অভিধানের পূর্ণ বিবরণ আছে — ইয়াংঙান ম্রোর “মিটচ্য তখক”, 2023।

দেশেবিদেশে ডটকমের 31 জানুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিনই অভিধানটির মোড়ক উন্মোচনের কথা ছিল। অভিধানটি ম্রো বর্ণমালায় লেখা, শব্দ প্রায় 3,400, প্রতিটির বাংলা অনুবাদসহ; কৃষি, সংস্কৃতি, ধর্ম, খাবার, জিনিসপত্র, ফলমূলের শব্দ আর কিছু কথোপকথন আছে; দশ বছরের কাজ; প্রকাশ বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে, সংকলকের নিজের খরচে; প্রচ্ছদে ছয় বক্তার ছবি। গ্লোবাল ভয়েসেস (21 ফেব্রুয়ারি 2024) একই অভিধানকে “Mitca Takhak” বানানে লিখে জানায়, এতে 3,400 ভুক্তি, আর রেংমিটচ্যের নিজের লিপি না থাকায় ম্রো ও বাংলা দুই বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়েছে; ডিসেম্বর 2023 থেকে সিংরা ম্রো এই অভিধান ধরেই রেংমিটচ্য শেখানোর ক্লাস চালাচ্ছেন। সিংরা গ্লোবাল ভয়েসেসকে বলেছেন, তাঁর প্রধান সমস্যা শেখানোর উপকরণের অভাব।

রেংমিটচ্যের অভিধান নিয়ে আলাদা একটি লেখা জুমজার্নালের পরিকল্পনায় আছে (“ছয়জন বক্তার ভাষা: রেংমিটচ্যের প্রথম অভিধান”)। ম্রো লিপিতে ছাপা অন্য বইয়ের তালিকা আছে ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা লেখায়।

চাক, খিয়াং, খুমি: গবেষকের হাতে অভিধান

তিনটি ছোট ভাষার অভিধান-সম্পদ এসেছে বিদেশি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাজ থেকে। চাকের পূর্ণাঙ্গ ত্রিভাষিক অভিধান ঢাকায় ছাপা হয় 2016 সালে; খিয়াংয়ের অভিধান আছে 2018 সালের একটি অভিসন্দর্ভের ভেতরে; খুমির জন্য পাওয়া যায় কেবল শব্দতালিকা।

কেইসুকে হুজিওয়ারার (Keisuke Huziwara) Cak-English-Bangla Dictionary (a Tibeto-Burman language spoken in Bangladesh) 2016 সালে ঢাকার A H Development Publishing House থেকে বেরিয়েছে, xxxiv+545 পৃষ্ঠা; Glottolog এটিকে অভিধান ও ব্যাকরণ-সংক্ষেপ দুই ধরনেই চিহ্নিত করেছে। এর আগে চাক ভাষার শব্দ ছাপা হয়েছিল Lucien Bernot-এর 1966 সালের “Éléments de vocabulaire Cak recueilli dans le Pakistan Oriental”-এ, যা Glottolog-এর হিসাবে শব্দতালিকা। চাকদের ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে বিস্তারিত আছে চাক জনগোষ্ঠী লেখায়।

খিয়াং (হিয়ো) ভাষার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ জাকারিয়ার A grammar of Hyow — নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির 2018 সালের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, তত্ত্বাবধায়ক Alexander Robertson Coupe। LINGUIST List-এ প্রকাশিত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী এতে বারোটি অধ্যায়, একটি পাঠ, “a Hyow-English dictionary” ও তিনটি পরিশিষ্ট আছে, আর লেখকের ভাষায় এটি ভাষাটির ব্যাকরণ লেখার প্রথম চেষ্টা। সারসংক্ষেপ বক্তার সংখ্যা বলে প্রায় চার হাজার। আরও আছে খিয়াং জনগোষ্ঠী লেখায়।

খুমির জন্য Glottolog-এ দুটি শব্দতালিকা — Bernard Houghton-এর 1895 সালের “Kami Vocabularies” আর Löffler-এর 1960 সালের “Khami/Khumi-Vokabulare” — এবং David A. Peterson-এর 2019 সালের ব্যাকরণ-সংক্ষেপ “Bangladesh Khumi”। অভিধান হিসেবে চিহ্নিত কোনো বই নেই।

সমতলের ভাষা: গারো, সাঁওতালি, কুড়ুখ, মণিপুরী, পাত্র

সমতলের আদিবাসী ভাষাগুলোর বেশির ভাগের অভিধান আছে, কিন্তু উৎসে যেগুলো পাওয়া গেছে তার প্রায় সবই ভারতে ছাপা। বাংলাদেশে ছাপা অভিধানের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেছে কেবল পাত্রদের লালেং থারের, 2020 সালে।

পাত্রদের বইটির নাম “পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ”। সিলেট টুডের 18 অক্টোবর 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” বইয়ের সঙ্গে এর মোড়ক উন্মোচন হয়। আমাদের লালেং থার লেখায় আছে, বইটি 88 পৃষ্ঠার, প্রকাশ করেছে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ), আর গবেষক কাওসার আহমদ এটিকে লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।

হলদেটে পুরোনো বইয়ের নামপত্র: ENGLISH-GARO DICTIONARY, গারো মিশনের সদস্যদের রচনা, তুরা, আসাম; নিচে শিলং, আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস, 1905
আমেরিকান ব্যাপটিস্ট মিশনের English-Garo Dictionary (শিলং, 1905)-এর নামপত্র। গারো ভাষার পুরোনো অভিধানগুলো ছাপা হয়েছে তুরা ও শিলংয়ে। ছবি: Members of the Garo Mission (M. C. Mason) · Public domain · Wikimedia Commons

গারো (মান্দি) ভাষার অভিধানের তালিকা Glottolog-এ দীর্ঘ, কিন্তু প্রায় সবই মেঘালয় বা আসামের: 1905 সালে তুরার আমেরিকান ব্যাপটিস্ট গারো মিশনের English-Garo Dictionary, 1975 সালে গুয়াহাটির Kubidik: A Garo-English-Assamese Dictionary, 1996 সালে মেঘালয় সরকারের 468 পৃষ্ঠার Ku’bidik Bengali into Garo dictionary (Ramke Momin), আর D. S. Nengminza-র স্কুল ডিকশনারিগুলো। বাংলাদেশের গারো ভাষা নিয়ে Glottolog-এ অভিধান হিসেবে চিহ্নিত একমাত্র কাজটি মার্কিন ভাষাবিদ Robbins Burling-এর: The language of the Modhupur Mandi (Garo), নয়াদিল্লি, 2004, তিন অংশে, যাকে Glottolog “grammar; dictionary” বলেছে। বাংলাদেশে ছাপা গারো-বাংলা অভিধান উৎসে পাওয়া যায়নি। গারো সমাজ নিয়ে আছে মাহারি ও নকমা লেখায়।

সাঁওতালির জন্য Glottolog-এ আছে Paul Olaf Bodding-এর সাত খণ্ডের A Santal dictionary (অসলো, 1932–1936), আর তার আগে Andrew Campbell-এর 1899 সালের A Santali-English dictionary। বাংলা ট্রিবিউনের 2019 সালের কলাম শুধু এটুকু বলে যে “সাঁওতালি ভাষায় সাহিত্য ও অভিধান আছে”। বাংলাদেশে ছাপা সাঁওতালি অভিধানের বিবরণ পাওয়া যায়নি।

কুড়ুখের অভিধান Ferdinand Hahn-এর Kurukh (Orāo)-English Dictionary, কলকাতা, 1903; Glottolog-এ আরও আছে 1924 সালের ওরাওঁ-ইংরেজি ও 1958 সালের কুড়ুখ-হিন্দি অভিধান। বাংলাদেশে কুড়ুখ নিয়ে আমাদের বরেন্দ্রের কুড়ুখ লেখা জানায়, পাঠ্যবই, অভিধান বা সাক্ষরতা কর্মসূচির মতো সম্প্রদায়-চালিত উদ্যোগের তথ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। সাদরির জন্য Glottolog-এ আছে E. Blain-এর English-Sadri dictionary (1975), মুন্ডারির জন্য Manindra Bhusan Bhaduri-র Mundari-English dictionary (কলকাতা, 1931), খাসির জন্য U Nissor Singh-এর Khasi-English Dictionary (1906) — সবই ভারতে।

মৈতৈ মণিপুরীর ক্ষেত্রে আর্কাইভের মণিপুরী ভাষা দিবস লেখা জানায়, 1837 সালে প্রকাশিত ক্যাপ্টেন জর্জ গর্ডনের A Dictionary in English, Bengali and Manipuri সম্ভবত মণিপুরী ভাষার প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ, আর এতেই প্রথম ছাপার অক্ষরে “মৈতৈ”-এর বদলে “মণিপুরী” শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীর জন্য Glottolog-এর দশটি ভুক্তির একটিও অভিধান নয়; দুই মণিপুরী ভাষার পার্থক্য নিয়ে আছে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ মণিপুরী লেখায়।

অভিধানের আগে শব্দতালিকা: 1798 থেকে 1966

উৎসে পাওয়া পাহাড়ি ভাষার সবচেয়ে পুরোনো লিখিত শব্দসংগ্রহগুলো ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নমুনা ও শব্দতালিকা, অভিধান নয়। সুগত চাকমার হিসাবে চাকমা শব্দের প্রথম নমুনা সংগ্রহ করেন ফ্রান্সিস বুকানন (Francis Buchanan), 1798 সালে; আর 1869 সালে টমাস হার্বার্ট লুইন তাঁর বইয়ে কয়েকটি পাহাড়ি ভাষার শব্দ পাশাপাশি ছাপেন।

পুরোনো ছাপা বইয়ের পাতায় VOCABULARY শিরোনামের নিচে ছয়টি কলাম — Mru, Khyeng, Lhoosai, Bunjogi, Pankho ও Shendu — প্রতিটিতে রোমান হরফে লেখা শব্দ
লুইনের The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein (কলকাতা, 1869)-এর পরিশিষ্ট E: ম্রো, খিয়াং, লুসাই, বনযোগী, পাংখো ও শেন্দু ভাষার শব্দ পাশাপাশি। ছবি: T. H. Lewin · Public domain · Wikimedia Commons

2002 সালের বইয়ে সুগত চাকমা ক্রমটি এভাবে দেন: বুকানন 1798 সালে সরকারি কাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে কিছু চাকমা শব্দের নমুনা সংগ্রহ করেন; উনিশ শতকে কয়েকজন ইংরেজ লেখক আরও তথ্য জোগাড় করেন, যাঁদের মধ্যে জেলার প্রথম প্রশাসক লুইন উল্লেখযোগ্য; তারপর 1903 সালে জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-র পঞ্চম খণ্ডের প্রথম অংশে চাকমা ভাষার তথ্য আসে। লুইন সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, লুইন ভাষাবিদ ছিলেন না, ফলে তাঁর মতামতে নানা বিভ্রান্তি ঢুকেছে।

লুইনের বইয়ের পুরো নামেই শব্দতালিকার কথা আছে — The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein; with comparative vocabularies of the hill dialects। বইটির ডিজিটাল কপি আছে আমাদের ই-বুক সংগ্রহে। Glottolog এই বইকে বম, ম্রো, পাংখোয়া ও ককবরকের উৎস হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ককবরকের ক্ষেত্রেও একই ধারা: 1876 সালের ব্রিটিশ প্রতিবেদনে যুবরাজের কাজকে প্রথমে “vocabulary” বলা হয়েছিল, পরে “dictionary”।

বিশ শতকের মাঝামাঝিও একই ধারা চলেছে: Löffler খুমির শব্দতালিকা প্রকাশ করেন 1960 সালে, Bernot চাকের 1966 সালে। খুমির ক্ষেত্রে Glottolog-এ এর পরে কোনো অভিধান-ভুক্তি নেই।

“কোনো নৃভাষারই অভিধান নেই” — দাবি আর তালিকা পাশাপাশি

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং 2023 সালে বিডিনিউজকে বলেছেন, দেশের অধিকাংশ নৃভাষার লিখিত রূপ নেই “এবং কোনো নৃভাষারই কোনো ধরনের অভিধান কোষ নেই”। এই লেখার ছকে অন্তত ছয়টি ভাষার এমন অভিধান বা শব্দকোষ আছে, যা বাংলাদেশে ছাপা — সবচেয়ে পুরোনোটি 1973 সালের।

ছকের বইগুলো কারা প্রকাশ করেছে, সেটিও লক্ষ করার মতো: চাকমা ও ককবরকের অভিধান জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের, বমের অভিধান একটি ছাত্র সংগঠনের, পাত্রদের শব্দকোষ সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংগঠনের, রেংমিটচ্যের অভিধান সংকলকের নিজের টাকায়, চাকের অভিধান এক বিদেশি গবেষকের। মারমা-বাংলা অভিধানের সংকলক নিজেই ভুলের সম্ভাবনা স্বীকার করে পরের সংস্করণে সংশোধনের কথা বলেছেন।

যে প্রতিষ্ঠানের হাতে এই কাজ থাকার কথা, সেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অবস্থাও একই প্রতিবেদনে আছে। 2013 সালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে “নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা” শুরু হয়, তিন বছরে মাঠের কাজ শেষ হয়, পরিকল্পনা ছিল দশ খণ্ড বাংলায় ও দশ খণ্ড ইংরেজিতে; 2018 সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি খণ্ড বাংলায় ছাপা হয়, কিন্তু 2023 পর্যন্ত তা বাজারে আসেনি। ইনস্টিটিউট “মাতৃভাষা পিডিয়া” রচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা হলে প্রতিবেদনের ভাষায় “নৃভাষার শব্দকোষ বা অভিধান নির্মাণের কাজও এগিয়ে যাবে”। ইনস্টিটিউটের 2018 সালে শেষ হওয়া জরিপে বিপন্ন 14টি ভাষার একটি যে লালেং (পাত্র), তা আছে আমাদের লালেং থার লেখায়।

এই অভিধানগুলো কোথায় পড়া যায়

ছকের বইগুলোর মধ্যে দুটি পুরোটা অনলাইনে পড়া যায় জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহে — সুগত চাকমার 2016 সালের চাকমা-বাংলা অভিধান আর আর্য্যমিত্র চাকমার চাকমা শব্দভাণ্ডাল। লুইনের 1869 সালের শব্দতালিকা, 1898 সালের লুসাই অভিধান আর 1905 সালের ইংরেজি-গারো অভিধান মেধাস্বত্বমুক্ত, Wikimedia Commons-এ আছে।

যে ভাষাগুলোর অভিধান জানা যায়নি

নিচের ভাষাগুলোর জন্য এই লেখার উৎসগুলোতে — Glottolog, SIL, জুমজার্নালের আর্কাইভ ও ই-বুক, সংবাদপত্র — কোনো অভিধান বা শব্দকোষের নাম পাওয়া যায়নি। এর মানে এই নয় যে অভিধান নেই; মানে হলো, থাকলেও তার খবর এই উৎসগুলোতে ওঠেনি।

  • তঞ্চঙ্গ্যা — জেলা পরিষদের অভিধানের এক বাক্যের উল্লেখ ছাড়া কিছু নেই; Glottolog-এর পাঁচটি ভুক্তির কোনোটি অভিধান নয়।
  • ম্রো — একই অবস্থা; Glottolog-এর ম্রো তালিকায় ব্যাকরণ-সংক্ষেপ, প্রবন্ধ ও শব্দতালিকা আছে, অভিধান নেই।
  • রাখাইন — Glottolog-এর 13টি ভুক্তি ধ্বনিতত্ত্ব ও উপভাষা নিয়ে; বাংলাদেশের রাখাইন ভাষার অভিধান পাওয়া যায়নি।
  • খুমি — কেবল শব্দতালিকা (1895, 1960)।
  • পাংখোয়া — কেবল শব্দতালিকাসহ একটি বই (2006) ও ব্যাকরণ।
  • লুসাই (বাংলাদেশের কথ্য রূপ) — মিজো অভিধান আছে, বাংলাদেশের লুসাইদের জন্য আলাদা কিছু নেই।
  • উসুই — হুজিওয়ারার 2010 সালের মৌলিক শব্দতালিকা (টোকিও) ছাড়া কিছু নেই।
  • হাজং — Glottolog-এর নয়টি ভুক্তির মধ্যে ধ্বনিতত্ত্ব, ক্রিয়ারূপ ও SIL-এর 2011 সালের জরিপ; অভিধান নেই।
  • বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী — দশটি ভুক্তির একটিও অভিধান নয়।
  • কোচ — কেবল 2011 সালের জরিপ-শব্দতালিকা।
  • খাড়িয়া — ভারতে 1934 সালের ইংরেজি-খাড়িয়া ও 2018 সালের ওড়িয়া-খাড়িয়া শব্দকোষ আছে; বাংলাদেশে ছাপা কিছু নেই।
  • বাংলাদেশে ছাপা সাঁওতালি, কুড়ুখ, সাদরি, মুন্ডারি, খাসি ও গারো-বাংলা অভিধান — ভারতের অভিধান আছে, বাংলাদেশের নয়।

সমতলের আরও কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা এই লেখায় আলাদা করে খোঁজা হয়নি; তাদের অভিধানের অবস্থা অজানা বলেই ধরতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে কোন কোন আদিবাসী ভাষার অভিধান আছে?

উৎসে বিবরণসহ পাওয়া গেছে চাকমা (1973, 2011, 2016), ককবরক (1989, রাঙামাটি), মারমা (2022), চাক (2016, ঢাকা), রেংমিটচ্য (2023) ও পাত্রদের লালেং থারের (2020) অভিধান বা শব্দকোষ। বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, শিরোনাম অজানা। খিয়াং ও গারোর অভিধান আছে গবেষণাগ্রন্থের ভেতরে। তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রোর অভিধানের উল্লেখ আছে, বিবরণ নেই।

চাকমা ভাষার প্রথম অভিধান কোনটি?

সুগত চাকমার “চাঙমা-বাঙলা কথাতারা”, 1973 সালে জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর থেকে প্রকাশিত, বাংলা হরফে লেখা — সংকলক নিজে তাঁর 2002 ও 2016 সালের বইয়ে এ কথা লিখেছেন, আর Chakmapedia ব্লগও একে প্রথম বলেছে। চাকমা ও বাংলা দুই হরফে লেখা অভিধান হিসেবে সুগত চাকমা নিজের 2016 সালের অভিধানকে “একটি প্রথম অভিধান” বলেছেন।

মারমা-বাংলা অভিধান কে লিখেছেন?

জুয়েল বড়ুয়া, যাঁর মাতৃভাষা বাংলা। 2017 সালে কাজ শুরু করে করোনার সময় শেষ করেন; 370 পৃষ্ঠার বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় 8 এপ্রিল 2022, বান্দরবানে। মারমা শব্দ মারমা ও বাংলা দুই হরফে, অর্থ বাংলায়। তাঁর কর্মস্থল নিয়ে প্রথম আলো (রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) ও বিডিনিউজ (পটিয়ার একটি বালিকা বিদ্যালয়) আলাদা কথা লিখেছে।

তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার অভিধান আছে কি?

একটি উৎস — দেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 — লেখে, প্রায় দুই বছর আগে জেলা পরিষদের উদ্যোগে চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়েছে। বইটির শিরোনাম, সংকলক, প্রকাশের সাল বা কপি কোথায় পাওয়া যায় — তা জানা যায়নি। Glottolog-এ তঞ্চঙ্গ্যার কোনো অভিধান তালিকাভুক্ত নেই।

ককবরক ভাষার অভিধান বাংলাদেশে কবে বেরিয়েছে?

আমাদের আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী 1989 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পাদনায় “ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ” প্রকাশ করে। ত্রিপুরা রাজ্যে এর আগে 1907 সালের “ত্রৈপুর ভাষাভিধান”, 1967 সালের “ককরবাম” আর পরে 2002 সালের Anglo-Kokborok-Bengali dictionary বেরিয়েছে।

রেংমিটচ্য ভাষার অভিধানের নাম কী?

“মিটচ্য তখক” (গ্লোবাল ভয়েসেসের বানানে Mitca Takhak), সংকলক ইয়াংঙান ম্রো। মোড়ক উন্মোচনের দিন ধার্য ছিল 31 জানুয়ারি 2023; প্রকাশ বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে, নিজের খরচে। প্রায় 3,400 শব্দ, বাংলা অনুবাদসহ; রেংমিটচ্যের নিজের লিপি নেই বলে ম্রো ও বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়েছে। দশ বছরের কাজ।

বম ভাষার অভিধান কে করেছেন?

আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জির কুং সাহু সম্পাদিত লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে; “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” জানায়, লোফলারের (Lorenz Löffler) সহযোগিতায় সম্পাদিত একটি অভিধান আছে। বাংলা ট্রিবিউন (2019) ও SIL (2011)-ও অভিধানের কথা বলে। শিরোনাম ও সাল কোনো উৎসে নেই।

গারো ভাষার অভিধান বাংলাদেশে ছাপা হয়েছে কি?

বাংলাদেশে ছাপা গারো-বাংলা অভিধান উৎসে পাওয়া যায়নি। গারো অভিধানগুলো মূলত মেঘালয় ও আসামের — 1905 সালের English-Garo Dictionary (শিলং), 1975 সালের Kubidik (গুয়াহাটি), 1996 সালের Bengali-to-Garo (মেঘালয় সরকার)। বাংলাদেশের মধুপুরের মান্দি ভাষা নিয়ে Robbins Burling-এর 2004 সালের বইকে Glottolog ব্যাকরণ ও অভিধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে; এটি নয়াদিল্লিতে ছাপা।

চাক ভাষার অভিধান কোথায় পাওয়া যায়?

কেইসুকে হুজিওয়ারার Cak-English-Bangla Dictionary 2016 সালে ঢাকার A H Development Publishing House থেকে প্রকাশিত, xxxiv+545 পৃষ্ঠা। বইটির বিবরণ Glottolog-এর চাক ভাষার পাতায় আছে। Glottolog-এ এর আগের চাক শব্দসংগ্রহ হিসেবে আছে Lucien Bernot-এর 1966 সালের শব্দতালিকা।

পাত্রদের লালেং থার ভাষার অভিধান আছে কি?

আছে — “পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ”, 88 পৃষ্ঠা, প্রকাশক পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ)। সিলেট টুডে অনুযায়ী 18 অক্টোবর 2020 সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” বইয়ের সঙ্গে এর মোড়ক উন্মোচন হয়। গবেষক কাওসার আহমদ এটিকে লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।

পাহাড়ি ভাষার শব্দ প্রথম কে লিখে রেখেছিলেন?

সুগত চাকমার 2002 সালের বই অনুযায়ী ফ্রান্সিস বুকানন 1798 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে কিছু চাকমা শব্দের নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর টমাস হার্বার্ট লুইন 1869 সালে তাঁর The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein বইয়ে কয়েকটি পাহাড়ি ভাষার তুলনামূলক শব্দতালিকা ছাপেন। এগুলো শব্দতালিকা, অভিধান নয়।

সব আদিবাসী ভাষার অভিধান বানানোর সরকারি কোনো উদ্যোগ আছে কি?

বিডিনিউজের 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট “মাতৃভাষা পিডিয়া” রচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নৃভাষার শব্দকোষ বা অভিধান নির্মাণে সহায়ক হবে বলে বলা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের 2013 সালে শুরু হওয়া “নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা”-র একটি খণ্ড 2018 সালে ছাপা হলেও 2023 পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

যা এখনো জানা যায়নি

  • জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রকাশিত চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো অভিধানগুলোর শিরোনাম, সংকলক, সাল আর কোন জেলা পরিষদ সেগুলো প্রকাশ করেছে।
  • 1973 সালের “চাঙমা-বাঙলা কথাতারা”-র কোনো কপি আজ কোথায় আছে, বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ও শব্দসংখ্যা।
  • অশোক কুমার দেওয়ানের “চাকমা ভাষার শব্দকোষ” অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি, নাকি কোনো রূপে প্রকাশিত — দুই উৎস দুই কথা বলে।
  • বমের অভিধান একটি না একাধিক; জির কুং সাহুর লাই-ইংরেজি অভিধান আর লোফলারের সহযোগিতায় সম্পাদিত অভিধান একই বই কি না; প্রকাশের সাল।
  • 2014 সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকা একক ককবরক-বাংলা-ইংরেজি অভিধানের কী হলো; সজীব ত্রিপুরার ককবরক অভিধানের নাম ও সাল।
  • বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থাগার বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সংগ্রহে এই অভিধানগুলোর কোনটির কপি আছে।
  • রাখাইন, হাজং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, তঞ্চঙ্গ্যা ও সাঁওতালি ভাষার কোনো বাংলাদেশি শব্দকোষ স্থানীয়ভাবে ছাপা হয়েছে কি না।
  • মারমা-বাংলা অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে কি না, যার কথা সংকলক 2022 সালে বলেছিলেন।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ

  1. সুগত চাকমা, চাকমা-বাংলা অভিধান (চাঙমা বাংলা কধা তারা), ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি, 2016 — ভূমিকা: 1973-এর কথাতারা, জুভাপ্র, দুই লিপির অভিধান। লিংক
  2. সুগত চাকমা, বাংলাদেশের চাকমা ভাষা ও সাহিত্য, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি, 2002 — ভূমিকা: বুকানন 1798, লুইন 1869, গ্রিয়ারসন 1903, কথাতারা। লিংক
  3. আর্য্যমিত্র চাকমা, চাকমা শব্দভাণ্ডাল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি, জুন 2011। লিংক
  4. T. H. Lewin, The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein; with comparative vocabularies of the hill dialects, Calcutta, 1869। জুমজার্নাল ই-বুক · Wikimedia Commons

প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. “ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল” — 1876-এর প্রতিবেদন, 1907, 1967, 1996, 2002-এর অভিধান। লিংক
  2. “কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা: এপার-ওপারের কিছু তথ্য-উপাত্ত” — 1989-এর রাঙামাটি অভিধান, একক অভিধানের পরিকল্পনা। লিংক
  3. জির কুং সাহু, “বম জাতির আদ্যোপান্ত” — লাই-ইংরেজি অভিধান। লিংক
  4. জির কুং সাহু, “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” — লোফলারের সহযোগিতায় সম্পাদিত অভিধান। লিংক
  5. “মণিপুরী ভাষা দিবস: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা” — গর্ডনের 1837 সালের অভিধান। লিংক
  6. “অশোক কুমার দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী” — অসমাপ্ত “চাকমা ভাষার শব্দকোষ”। লিংক

সংবাদ ও প্রতিবেদন

  1. প্রথম আলো, “বান্দরবানে মারমা-বাংলা প্রথম অভিধানের মোড়ক উন্মোচন”, 8 এপ্রিল 2022। লিংক
  2. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, “বান্দরবানে ‘প্রথম’ মারমা-বাংলা অভিধানের মোড়ক উন্মোচন”, 9 এপ্রিল 2022। লিংক
  3. দেশেবিদেশে, “ম্রো তরুণের কলমে দেশে রেংমিটচ্য ভাষার প্রথম অভিধান”, 31 জানুয়ারি 2023। লিংক
  4. Global Voices, “One man is trying to save a language in Bangladesh with only six native speakers”, 21 ফেব্রুয়ারি 2024। লিংক
  5. শংকর হোড়, “মায়ের ভাষায় লেখার লড়াই”, দেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 — জেলা পরিষদের অভিধান। লিংক
  6. সিলেট টুডে, “পাত্র সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক নিয়ে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন”, 18 অক্টোবর 2020। লিংক
  7. বাংলা ট্রিবিউন, “অন্ধকারেই কি থাকবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাতৃভাষা?”, 21 ফেব্রুয়ারি 2019 — বম ও সাঁওতালি অভিধানের উল্লেখ। লিংক
  8. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, “এক যুগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অর্জন কী?”, 21 ফেব্রুয়ারি 2023 — নৃ-ভাষা সমীক্ষা, মাতৃভাষা পিডিয়া, সঞ্জীব দ্রংয়ের বক্তব্য। লিংক

গবেষণা, গ্রন্থপঞ্জি ও ডেটাবেস

  1. Glottolog 5.3 (Hammarström, Forkel, Haspelmath, Bank সম্পাদিত) — ভাষাভিত্তিক গ্রন্থপঞ্জি: চাকমা · মারমা · তঞ্চঙ্গ্যা · ককবরক · ম্রো · বম · খুমি · লুসাই · পাংখোয়া · চাক · গারো · সাঁওতালি · কুড়ুখ · হাজং · বিষ্ণুপ্রিয়া · রাখাইন
  2. Glottolog-এর নির্দিষ্ট ভুক্তি: Huziwara 2016 (555791), পুলিন বয়ান চাকমা 1993 (604773), বিনয় দেববর্মা 2002 (72511), Burling 2004 (134889), Lorrain ও Savidge 1898 (550436), Bodding 1932–36 (23856), Hahn 1903 (413250), Ramke Momin 1996 (556695), শাওন ফরিদ 2006 (692875)।
  3. Amy Kim, Palash Roy, Mridul Sangma, The Kuki-Chin Communities of Bangladesh: A sociolinguistic survey, SIL Electronic Survey Report 2011-025। লিংক
  4. Muhammad Zakaria, “A grammar of Hyow”, পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, Nanyang Technological University, 2018 — LINGUIST List 29.3533। লিংক
  5. Chakmapedia, “About Chakma Dictionaries” (ব্লগ)। লিংক
  6. Members of the Garo Mission, English-Garo Dictionary, Shillong, 1905 — Wikimedia Commons। লিংক
  7. J. H. Lorrain ও F. W. Savidge, A Grammar and Dictionary of the Lushai Language, Shillong, 1898 — Wikimedia Commons। লিংক
  8. জুমজার্নাল — কুকি-চিন ভাষা, চাকমা লিপি, ম্রো লিপি, চাক, খিয়াং, লুসাই, লালেং থার, কুড়ুখ, মণিপুরী, গারো ও পাজন নিয়ে লেখা (ভেতরের লিংকগুলো লেখার মধ্যে)।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, চাকমা, বম, ম্রো

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা