Last updated Nov 3rd, 2026
0

আদিবাসী ভাষার অভিধান বাংলাদেশ থেকে কয়টি বেরিয়েছে, তার কোনো সরকারি তালিকা নেই। উৎস ধরে মেলালে দেখা যায়: চাকমা, ককবরক (ত্রিপুরা), বম, মারমা, চাক, রেংমিটচ্য ও পাত্র (লালেং) ভাষার অভিধান বা শব্দকোষ বাংলাদেশেই সংকলিত বা ছাপা হয়েছে; গারো, লুসাই, সাঁওতালি, কুড়ুখ, খাসি ও মণিপুরীর অভিধান আছে সীমান্তের ওপারে ছাপা; আর তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খুমি, পাংখোয়া, রাখাইন, হাজং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীসহ বেশ কয়েকটি ভাষার কোনো প্রকাশিত অভিধানের পূর্ণ বিবরণ উৎসে পাওয়া যায়নি।
“পাওয়া যায়নি” আর “নেই” এক কথা নয়। বাংলাদেশে আদিবাসী ভাষার অভিধানগুলো ছাপা হয় জেলা পরিষদ, সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, ছাত্র সংগঠন, গির্জা বা লেখকের নিজের পকেটের টাকায় — বেশির ভাগের ISBN নেই, জাতীয় গ্রন্থাগারের অনলাইন তালিকায় ওঠে না, আর খবর হয় একবারই, মোড়ক উন্মোচনের দিন। 1973 সালের চাকমা “কথাতারা”, 2022 সালের মারমা-বাংলা অভিধান আর 2023 সালের রেংমিটচ্য অভিধান — তিনটির খবর আছে তিন আলাদা জায়গায় — সংকলকের নিজের বই, প্রথম আলো আর দেশেবিদেশে — কোনোটিতে অন্য দুটির উল্লেখ নেই। এই লেখায় সেই টুকরোগুলো এক ছকে আনা হলো।
সূচিপত্র
উৎসগুলো মিলিয়ে তিনটি দল দাঁড়ায়। প্রথম দলে সেই ভাষাগুলো, যাদের অভিধান বা শব্দকোষ বাংলাদেশে ছাপা হয়েছে এবং শিরোনাম, সংকলক ও সাল জানা: চাকমা, ককবরক, মারমা, চাক, রেংমিটচ্য, পাত্র। বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, কিন্তু শিরোনাম ও সাল কোথাও নেই। দ্বিতীয় দলে সেই ভাষাগুলো, যাদের অভিধান ভারতে বা অন্য দেশে ছাপা। তৃতীয় দলে বাকিরা।
| দল | ভাষা |
|---|---|
| বাংলাদেশে ছাপা অভিধান, বিবরণসহ | চাকমা, ককবরক (ত্রিপুরা), মারমা, চাক, রেংমিটচ্য, পাত্র (লালেং) |
| অভিধান আছে বলে উৎস জানায়, বিবরণ অসম্পূর্ণ | বম; তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রো (জেলা পরিষদের প্রকাশনা, শিরোনাম জানা যায়নি) |
| গবেষণাগ্রন্থের ভেতরে অভিধান | খিয়াং (হিয়ো-ইংরেজি, 2018), গারো (মধুপুরের মান্দি, 2004) |
| অভিধান শুধু সীমান্তের ওপারে ছাপা | লুসাই (মিজো), গারো, সাঁওতালি, কুড়ুখ, সাদরি, মুন্ডারি, খাসি, মৈতৈ মণিপুরী |
| শুধু শব্দতালিকা পাওয়া গেছে | পাংখোয়া, খুমি, উসুই |
| কোনো অভিধান বা শব্দকোষ জানা যায়নি | রাখাইন, হাজং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, কোচ, খাড়িয়া ও আরও কয়েকটি (নিচে আলাদা তালিকা) |
এই ভাগ চূড়ান্ত নয়। এটি সেই উৎসগুলোর ছবি, যেগুলো খুলে পড়া গেছে: জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহ, আমাদের আর্কাইভের প্রবন্ধ, ভাষাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক গ্রন্থপঞ্জি Glottolog, SIL International-এর জরিপ আর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। বাংলা একাডেমি বা জাতীয় গ্রন্থাগারের তালিকায় আরও কিছু থাকতে পারে।
এখানে অভিধান মানে এমন বই, যেখানে একটি আদিবাসী ভাষার শব্দ ভুক্তি হিসেবে সাজানো আর প্রতিটির অর্থ আরেক ভাষায় দেওয়া — বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায়। শব্দতালিকা (কয়েকশো শব্দের তুলনামূলক তালিকা) আর ব্যাকরণের পরিশিষ্টে জুড়ে দেওয়া শব্দকোষ আলাদা করে চিহ্নিত।
পার্থক্যটা জরুরি, কারণ উৎসগুলো নিজেরাই শব্দ তিনটি গুলিয়ে ফেলে। Glottolog প্রতিটি বইকে ধরন অনুযায়ী চিহ্ন দেয় — “dictionary”, “wordlist”, “grammar”। যেমন শাওন ফরিদের 2006 সালের পাংখোয়া বইকে Glottolog “ethnographic; wordlist” বলেছে, অভিধান নয়; আবার Robbins Burling-এর মধুপুরের মান্দি ভাষার বইকে “grammar; dictionary”। এই লেখার ছকে Glottolog-এর এই চিহ্নই মানা হয়েছে, যেখানে বইটি Glottolog-এ আছে। যেখানে নেই, সেখানে উৎস বইটিকে যা বলেছে — অভিধান, শব্দকোষ, শব্দভাণ্ডার — সেটিই লেখা হয়েছে।
দ্বিতীয় নিয়ম: “প্রথম” দাবি উৎসের মুখেই থাকবে। প্রায় প্রতিটি মোড়ক উন্মোচনের খবরে বইটিকে “প্রথম” বলা হয়েছে। কোনটি সত্যিই প্রথম, এই লেখা তা যাচাই করতে বসেনি; দুই উৎস দুই রকম বললে দুটোই লেখা হয়েছে।
তৃতীয় নিয়ম: “কোথায় আছে” ঘরে লেখা হয়েছে কেবল সেই জায়গা, যেখানে বইটির অস্তিত্ব নিজে দেখা গেছে — জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহে পুরো বই, Glottolog-এর গ্রন্থপঞ্জিতে ভুক্তি, বা সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ। কোনো লাইব্রেরিতে বইটির কপি আছে কি না, তা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি।
নিচের ছকে প্রতিটি ভুক্তি একটি উৎস থেকে নেওয়া, আর উৎসটি শেষ কলামে। সাল যেখানে দুই উৎসে দুই রকম, সেখানে দুটোই আছে। ভাষাগুলো সাজানো হয়েছে আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম, পরে সমতল — এই ক্রমে।
| ভাষা | অভিধানের নাম | সংকলক | সাল | প্রকাশক / স্থান | কোথায় পাওয়া গেছে |
|---|---|---|---|---|---|
| চাকমা | চাঙমা-বাঙলা কথাতারা | সুগত চাকমা (ননাধন) | 1973 | জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর | লেখকের 2002 ও 2016 সালের বইয়ে উল্লেখ (জুমজার্নাল ই-বুক) |
| চাকমা | Chakma Dictionary (Chakma-English) | পুলিন বয়ান চাকমা | 1993 | চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ, কমলানগর, মিজোরাম | Glottolog |
| চাকমা | চাকমা শব্দভাণ্ডাল | আর্য্যমিত্র চাকমা | জুন 2011 | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি | জুমজার্নাল ই-বুক (পূর্ণ বই) |
| চাকমা | চাকমা-বাংলা অভিধান (চাঙমা বাংলা কধা তারা) | সুগত চাকমা | 2016 | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | জুমজার্নাল ই-বুক (পূর্ণ বই) |
| চাকমা | চাকমা ভাষার শব্দকোষ | অশোক কুমার দেওয়ান | অজানা | অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি (আর্কাইভের জীবনী অনুযায়ী) | জুমজার্নাল আর্কাইভ; Chakmapedia ব্লগ |
| মারমা | মারমা-বাংলা অভিধান | জুয়েল বড়ুয়া | মার্চ 2022 (উন্মোচন 8 এপ্রিল 2022) | বান্দরবান; 370 পৃষ্ঠা | প্রথম আলো, বিডিনিউজ |
| চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা, ম্রো | শিরোনাম জানা যায়নি | জানা যায়নি | আনুমানিক 2023 (“দুই বছর আগে”) | জেলা পরিষদের উদ্যোগে | দেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 |
| ককবরক (ত্রিপুরা) | ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ | সম্পাদক সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা | 1989 | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| ককবরক | ত্রৈপুর ভাষাভিধান | ঠাকুর রাধামোহন দেববর্মন | 1907 | ত্রিপুরা রাজ্য | জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| ককবরক | ককরবাম | অজিত বন্ধু দেববর্মা | 1967 | ত্রিপুরা | জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| ককবরক | Anglo-Kokborok-Bengali dictionary | বিনয় দেববর্মা | 2002 (প্রথম রূপ 1996) | ককবরক তাই হুকুমু মিশন, আগরতলা | Glottolog; জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| বম | লাই-ইংরেজি অভিধান (শিরোনাম হুবহু জানা যায়নি) | সম্পাদক জির কুং সাহু | জানা যায়নি | বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন | জুমজার্নাল আর্কাইভ; বাংলা ট্রিবিউন |
| লুসাই (মিজো) | A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (Dulien dialect) | J. H. Lorrain ও F. W. Savidge | 1898 | আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস, শিলং; 368 পৃষ্ঠা | Glottolog; Wikimedia Commons |
| রেংমিটচ্য | মিটচ্য তখক | ইয়াংঙান ম্রো | জানুয়ারি 2023 | বনতুলি প্রিন্টার্স, বান্দরবান; প্রায় 3,400 শব্দ | দেশেবিদেশে; গ্লোবাল ভয়েসেস |
| চাক | Cak-English-Bangla Dictionary | কেইসুকে হুজিওয়ারা (Keisuke Huziwara) | 2016 | A H Development Publishing House, ঢাকা; xxxiv+545 পৃষ্ঠা | Glottolog |
| খিয়াং (হিয়ো) | A grammar of Hyow (ভেতরে হিয়ো-ইংরেজি অভিধান) | মুহাম্মদ জাকারিয়া | 2018 | নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (অভিসন্দর্ভ) | LINGUIST List |
| গারো (মান্দি) | The language of the Modhupur Mandi (Garo) | Robbins Burling | 2004 | Bibliophile South Asia ও Promilla, নয়াদিল্লি | Glottolog (“grammar; dictionary”) |
| গারো | English-Garo Dictionary | আমেরিকান ব্যাপটিস্ট গারো মিশনের সদস্যরা | 1905 | শিলং | Glottolog; Wikimedia Commons |
| গারো | Ku’bidik Bengali into Garo dictionary | Ramke Momin | 1996 | মেঘালয় সরকার, শিলং; 468 পৃষ্ঠা | Glottolog |
| সাঁওতালি | A Santal dictionary (7 খণ্ড) | Paul Olaf Bodding | 1932–1936 | Dybwad, অসলো | Glottolog |
| কুড়ুখ | Kurukh (Orāo)-English Dictionary | Ferdinand Hahn | 1903 | বেঙ্গল সেক্রেটারিয়েট প্রেস, কলকাতা | Glottolog |
| সাদরি | English-Sadri dictionary | E. Blain | 1975 | ঝাড়সুগুদা, ওড়িশা | Glottolog |
| মুন্ডারি | Mundari-English dictionary | Manindra Bhusan Bhaduri | 1931 | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় | Glottolog |
| খাসি | Khasi-English Dictionary | U Nissor Singh | 1906 | ভারত | Glottolog |
| মৈতৈ মণিপুরী | A Dictionary in English, Bengali and Manipuri | Capt. George Gordon | 1837 | জানা যায়নি | জুমজার্নাল আর্কাইভ |
| পাত্র (লালেং থার) | পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ | পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ) | 2020 (উন্মোচন 18 অক্টোবর) | সিলেট; 88 পৃষ্ঠা | সিলেট টুডে; জুমজার্নাল |
ছকে শব্দতালিকাগুলো রাখা হয়নি; সেগুলো আছে ইতিহাসের অংশে আর জানা-যায়নি তালিকায়।
বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিধান চাকমার — উৎসে অন্তত চারটি নাম আসে, প্রথমটি 1973 সালের। সংকলক একজনই, সুগত চাকমা: 1973 সালে বাংলা হরফে লেখা “চাঙমা-বাঙলা কথাতারা”, আর 2016 সালে চাকমা ও বাংলা দুই হরফে লেখা “চাকমা-বাংলা অভিধান”। মাঝখানে 2011 সালে আর্য্যমিত্র চাকমার “চাকমা শব্দভাণ্ডাল”।
1973-এর বইটির কথা সুগত চাকমা নিজে দুই জায়গায় লিখেছেন। 2002 সালে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত তাঁর বাংলাদেশের চাকমা ভাষা ও সাহিত্য বইয়ের ভূমিকায় তিনি গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-র কথা বলে লেখেন, ওই গ্রন্থ প্রকাশের সত্তর বছর পরে স্থানীয় ছাত্রদের মধ্যে সুগত চাকমা (ননাধন) সংকলিত ‘চাঙমা-বাঙলা কথাতারা’ (চাকমা বাংলা অভিধান) নামে “একটি ছোট অভিধান” প্রকাশিত হয়। 2016 সালের অভিধানের ভূমিকায় তিনি সালটি স্পষ্ট করেন: চাকমা-বাংলা দ্বিভাষিক অভিধান রচনার উদ্যোগ শুরু হয় 1973 সালে, যখন তাঁর প্রণীত বইটি “জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর (জুভাপ্র)” প্রকাশ করে; বইটি ছিল বাংলা বর্ণে লেখা।
ইংরেজি ভাষার ব্লগ Chakmapedia চাকমা অভিধানের যে তালিকা দিয়েছে, তার প্রথম নাম “Chakma Bangla Kodatara (1973)”, আর একে চাকমা ভাষার প্রথম অভিধান বলা হয়েছে — তবে ব্লগ নিজেই যোগ করেছে, প্রথম “ভাষায়, লিপিতে নয়”। অর্থাৎ বইটিতে চাকমা শব্দ বাংলা হরফে লেখা।
লিপির প্রশ্নটিই 2016 সালের বইয়ের মূল দাবি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটির গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা থেকে প্রথম প্রকাশ 2016, দাম 320 টাকা, 245 পৃষ্ঠা; নামপত্রে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নামও আছে। ভূমিকায় সুগত চাকমা লেখেন, কম্পিউটারে চাকমা হরফের সফটওয়্যার আসায় অভিধানে বাংলা বর্ণের পাশাপাশি চাকমা বর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়েছে, আর “এ দিক থেকে” এটিকে “একটি প্রথম অভিধান” বলতে হবে। বানানে তিনি মেনেছেন একই ইনস্টিটিউটের 2001 সালের বই “চাঙমা পত্থম পাত”-এর রীতি। ভুক্তির গড়ন এরকম: চাকমা শব্দ বাংলা হরফে, বন্ধনীতে চাকমা হরফে, তারপর পদ ও বাংলা অর্থ। বইটি পুরো পড়া যায় আমাদের ই-বুক সংগ্রহে: চাকমা-বাংলা অভিধান, সুগত চাকমা।
আর্য্যমিত্র চাকমার চাকমা শব্দভাণ্ডাল বেরিয়েছে জুন 2011-এ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি থেকে; ISBN 978-984-33-3680-4, 189 পৃষ্ঠা, দাম 240 টাকা। বইটি চাকমা শব্দ থেকে বাংলা অর্থের তালিকা। এর ভূমিকার প্রথম বাক্যই এই লেখার প্রশ্নের একটি উত্তর: চাকমা ভাষায় অভিধান প্রণয়ন “নুতন কোন বিষয় নয়”, সত্তরের দশক থেকে দেশে-বিদেশে বেশ কিছু শব্দকোষ বা অভিধান প্রণীত হয়েছে। লেখকের অভিযোগ, সেগুলোতে দুটি বিষয় অবহেলিত — চাকমা বর্ণমালার নিজস্ব বানানপদ্ধতি আর চাকমাদের আলাদা উচ্চারণ; কিছু চাকমা শব্দের বানান বাংলা বর্ণে “আদৌ দেওয়া সম্ভব হয় না”।
সীমান্তের ওপারে মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগ 1993 সালে প্রকাশ করে পুলিন বয়ান চাকমার Chakma Dictionary (Chakma-English), কমলানগর থেকে — Glottolog এই বইটিকে চাকমা ভাষার অভিধান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। Chakmapedia এটিকে “Kodha Tara” নামে ভারতের প্রথম চাকমা-ইংরেজি অভিধান বলেছে।
চতুর্থ নামটি নিয়ে উৎস দুটি আলাদা কথা বলে। আমাদের আর্কাইভের অশোক কুমার দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী জানায়, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের এই সাবেক পরিচালক (জন্ম 1926) “চাকমা ভাষার শব্দকোষ” অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে গেছেন। Chakmapedia আবার “Chakma Bhashar Shabdakosh”-কে অশোক কুমার দেওয়ানের বাংলা হরফের চাকমা-বাংলা অভিধান বলে তালিকাভুক্ত করে লিখেছে, এটি অনলাইনে দেখা যায়।
এর পর আসে জেলা পরিষদের উদ্যোগ। দেশ রূপান্তরের রাঙামাটি প্রতিনিধি শংকর হোড় 21 ফেব্রুয়ারি 2025-এ লেখেন, “গত দুই বছর আগে” জেলা পরিষদের উদ্যোগে ককবরক শব্দভাণ্ডারসহ চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিধানগুলোর শিরোনাম, সংকলক বা কোন জেলা পরিষদ — তা নেই। চাকমা লিপির পুনরুজ্জীবন নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: চাকমা লিপি (অঝাপাত): উৎপত্তি, বর্ণমালা, ইউনিকোড ও পুনরুজ্জীবন।
মারমা ভাষায় বাংলাদেশে ছাপা যে অভিধানের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়, সেটি 2022 সালের — জুয়েল বড়ুয়ার সংকলিত মারমা-বাংলা অভিধান, যার মোড়ক উন্মোচন হয় 8 এপ্রিল 2022, বান্দরবানে। তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার অভিধানের একমাত্র উল্লেখ দেশ রূপান্তরের ওই এক বাক্য; শিরোনাম, সংকলক, সাল — কিছুই জানা যায়নি।
প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধির 8 এপ্রিল 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিধানটি সংকলন করেছেন রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল বড়ুয়া, যাঁর মাতৃভাষা বাংলা; তিনি মারমা ভাষা ও বর্ণমালা নিজে শিখেছেন, কাজ শুরু করেন 2017 সালে, আর করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সময় সংকলন শেষ করেন। অভিধানে মারমা শব্দ মারমা ও বাংলা দুই বর্ণে লেখা, তারপর বাংলা অর্থ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরদিন যোগ করে: বইটি 370 পৃষ্ঠার, ছাপা হয়েছে আগের মাসে, সম্পাদনায় সহায়তা করেছেন মারমা ভাষা ও বর্ণমালা জানা পাঁচজন, আর ভিত্তি হিসেবে সংকলক আরাকান থেকে সংগ্রহ করা একটি “আরাকান-ফালৌং অভিধান” ব্যবহার করেছেন, কারণ ইয়াঙ্গুনের অভিধানে উচ্চারণ ছিল বর্মিদের আদলে। সংকলক নিজেই স্বীকার করেছেন, মারমা, রাখাইন ও বর্মি বর্ণমালা একই রকম হওয়ায় উচ্চারণে কিছু মিশ্রণ থাকতে পারে।
সংকলকের কর্মস্থল নিয়ে দুই প্রতিবেদন আলাদা: প্রথম আলো তাঁকে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেছে, বিডিনিউজ বলেছে তিনি তখন চট্টগ্রামের পটিয়ার আব্দুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত, আর 2017 সালে রোয়াংছড়িতে শিক্ষকতার সময় বৌদ্ধবিহারের “উসারা পাঠাগারে” মারমা শিখেছিলেন। মোড়ক উন্মোচক শিক্ষাবিদ ক্য শৈ প্রু মারমা (বিডিনিউজের বানানে ক্য শৈ প্রু খোকা) দুই প্রতিবেদনেই একই কথা বলেছেন: মারমা জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে এখনো কেউ অভিধান সংকলন করেননি। Glottolog-এর মারমা ভাষার নয়টি ভুক্তির কোনোটিই অভিধান নয়।
দুই লাখের কাছাকাছি বক্তার একটি ভাষায় অভিধান এত দেরিতে কেন এল, সে প্রশ্ন নিয়ে আলাদা একটি লেখা জুমজার্নালের পরিকল্পনায় আছে (“মারমা-বাংলা প্রথম অভিধান”); এখানে কেবল তথ্যটুকু রাখা হলো।
ককবরকের অভিধান-চেষ্টার নথি সবচেয়ে পুরোনো — 1875–76 সালের ব্রিটিশ প্রশাসনিক প্রতিবেদনে। বাংলাদেশে ছাপা প্রথম ককবরক অভিধান হিসেবে উৎসে যার নাম আসে, সেটি 1989 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট থেকে সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পাদনায় প্রকাশিত “ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ”।
আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখা — ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ককবরক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল ও কালের দর্পনে ককবরকের লিখিত চর্চা — ধাপগুলো সাজিয়ে দেয়। ত্রিপুরায় ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট টি. ই. কক্সহেডের 26 জুন 1876-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী যুবরাজ রাধাকিশোর দেববর্মা তাঁর পরামর্শে “a Tipperah vocabulary” সংকলনে হাত দেন; পরে সি. ডব্লিউ. বল্টনের প্রতিবেদন একে “Tipperah-Bengali Dictionary” বলে। প্রায় একই সময়ে জে. ডি. এন্ডারসন ককবরক-বাংলা-চাকমা অভিধানের পাণ্ডুলিপি শেষ করেন, যা প্রকাশিত হয়নি এবং লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আছে বলে লেখাগুলো জানায়। এরপর ঠাকুর রাধামোহন দেববর্মন 1907 সালে “ত্রৈপুর ভাষাভিধান” রচনা করেন; অজিত বন্ধু দেববর্মা 1967 সালে “ককরবাম”; বিনয় দেববর্মা 1996 সালে “এ্যাংলো-ককবরক অভিধান”, যার দ্বিতীয় সংস্করণ 2002 সালের “এ্যাংলো-ককবরক-বাংলা অভিধান”, ককবরক তাই হুকুমু মিশন থেকে। Glottolog-এও শেষেরটি আছে: Anglo-Kokborok-Bengali dictionary, আগরতলা, 2002।
বাংলাদেশের দিকের কাজ নিয়ে দ্বিতীয় লেখাটি আরও জানায়: ত্রিপুরা সংগঠনগুলোর এক সিদ্ধান্তে ঠিক হয়েছিল সব দফার (উপভাষার) শব্দ নিয়ে একটি একক ককবরক-বাংলা-ইংরেজি অভিধান হবে; ভিত্তি হবে ত্রিপুরা রাজ্যের অভিধানগুলো ও প্রয়াত সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অভিধান; কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে SIL-এর; শব্দ সংগ্রহ হবে নয়টি “সিমেন্টিক ক্যাটাগরি” ধরে; আর কাজ শেষ হবে ডিসেম্বর 2014-এর মধ্যে, ছাপা বইয়ের সঙ্গে অনলাইন সংস্করণসহ। সেই অভিধান শেষ পর্যন্ত বেরিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। বিজুর খাবার নিয়ে আমাদের পাজন নিয়ে লেখায় উদ্ধৃত একটি প্রতিবেদনে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সজীব ত্রিপুরার পরিচয় দেওয়া হয়েছে “ককবরক অভিধানের লেখক” হিসেবে; অভিধানটির নাম ও সাল সেখানে নেই।
কুকি-চিন ভাষাগুলোর মধ্যে বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, কিন্তু কোনোটিই শিরোনাম বা সাল দেয় না। লুসাইয়ের অভিধান আছে, তবে তা 1898 সালে শিলংয়ে ছাপা মিজো ভাষার অভিধান। পাংখোয়ার জন্য পাওয়া গেছে কেবল একটি শব্দতালিকা।
বমের উৎসগুলো: আর্কাইভের বম জাতির আদ্যোপান্ত লেখে, বম ছাত্র সংগঠন “বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন” জির কুং সাহু সম্পাদিত লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে। একই লেখকের বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ লেখায় আছে, জার্মান নৃবিজ্ঞানী লোফলারের (Lorenz Löffler) সহযোগিতায় সম্পাদিত একটি বম অভিধান আছে। বাংলা ট্রিবিউনের 2019 সালের একটি কলাম লেখে, বান্দরবানে জিরকুন সাহু নামে একজন বম ভাষায় অভিধান করেছেন। আর SIL International-এর 2011 সালের কুকি-চিন জরিপ লেখে, বম ভাষায় “already dictionaries” আছে, সঙ্গে ধর্মীয় সাহিত্য ও বম ইতিহাসের বই। এগুলো একটি বই না একাধিক, তা উৎস থেকে বোঝা যায় না।
লুসাইয়ের ক্ষেত্রে J. Herbert Lorrain ও Fred W. Savidge-এর A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (Dulien dialect) ছাপা হয় 1898 সালে শিলংয়ের আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস থেকে, 368 পৃষ্ঠা; Glottolog এটিকে ব্যাকরণ ও অভিধান দুই ধরনেই চিহ্নিত করেছে। এই দুই মিশনারির রোমান বর্ণমালাই পরে মিজোরামের প্রচারকদের হাত ঘুরে বম ও পাংখোয়াদের কাছে পৌঁছায় — আর্কাইভের বম লেখাগুলো তা-ই বলে। বাংলাদেশের লুসাইদের মুখের ভাষা নিয়ে আলাদা অভিধান পাওয়া যায়নি; আমাদের লুসাই জনগোষ্ঠী লেখাতেও একই কথা।
পাংখোয়ার জন্য Glottolog যে বাংলাদেশি বইটির নাম দেয়, সেটি শাওন ফরিদের Parbathya Chattagramer Pangkhua Bhasha O Shahitya (রাঙামাটি, 2006; হিলি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও হিল ট্র্যাক্টস ফাউন্ডেশন), যার ধরন “ethnographic; wordlist”। জাহিদ আকতারের 2024 সালের A grammar of Pangkhua (মুটন দ্য গ্রুইটার, বার্লিন) একটি ব্যাকরণ। পাঁচ কুকি-চিন ভাষার লিপি, বাইবেল ও বিপন্নতার তুলনা আছে আমাদের কুকি-চিন ভাষা: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া লেখায়।
ম্রো ভাষার অভিধানের একমাত্র উল্লেখ দেশ রূপান্তরের জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত বাক্যটি; শিরোনাম জানা যায়নি। উল্টো দিকে, ম্রো জনগোষ্ঠীর ভেতরে মাত্র ছয়জন সাবলীল বক্তার ভাষা রেংমিটচ্যের অভিধানের পূর্ণ বিবরণ আছে — ইয়াংঙান ম্রোর “মিটচ্য তখক”, 2023।
দেশেবিদেশে ডটকমের 31 জানুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিনই অভিধানটির মোড়ক উন্মোচনের কথা ছিল। অভিধানটি ম্রো বর্ণমালায় লেখা, শব্দ প্রায় 3,400, প্রতিটির বাংলা অনুবাদসহ; কৃষি, সংস্কৃতি, ধর্ম, খাবার, জিনিসপত্র, ফলমূলের শব্দ আর কিছু কথোপকথন আছে; দশ বছরের কাজ; প্রকাশ বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে, সংকলকের নিজের খরচে; প্রচ্ছদে ছয় বক্তার ছবি। গ্লোবাল ভয়েসেস (21 ফেব্রুয়ারি 2024) একই অভিধানকে “Mitca Takhak” বানানে লিখে জানায়, এতে 3,400 ভুক্তি, আর রেংমিটচ্যের নিজের লিপি না থাকায় ম্রো ও বাংলা দুই বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়েছে; ডিসেম্বর 2023 থেকে সিংরা ম্রো এই অভিধান ধরেই রেংমিটচ্য শেখানোর ক্লাস চালাচ্ছেন। সিংরা গ্লোবাল ভয়েসেসকে বলেছেন, তাঁর প্রধান সমস্যা শেখানোর উপকরণের অভাব।
রেংমিটচ্যের অভিধান নিয়ে আলাদা একটি লেখা জুমজার্নালের পরিকল্পনায় আছে (“ছয়জন বক্তার ভাষা: রেংমিটচ্যের প্রথম অভিধান”)। ম্রো লিপিতে ছাপা অন্য বইয়ের তালিকা আছে ম্রো লিপি: মেনলে ম্রোর বর্ণমালা লেখায়।
তিনটি ছোট ভাষার অভিধান-সম্পদ এসেছে বিদেশি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাজ থেকে। চাকের পূর্ণাঙ্গ ত্রিভাষিক অভিধান ঢাকায় ছাপা হয় 2016 সালে; খিয়াংয়ের অভিধান আছে 2018 সালের একটি অভিসন্দর্ভের ভেতরে; খুমির জন্য পাওয়া যায় কেবল শব্দতালিকা।
কেইসুকে হুজিওয়ারার (Keisuke Huziwara) Cak-English-Bangla Dictionary (a Tibeto-Burman language spoken in Bangladesh) 2016 সালে ঢাকার A H Development Publishing House থেকে বেরিয়েছে, xxxiv+545 পৃষ্ঠা; Glottolog এটিকে অভিধান ও ব্যাকরণ-সংক্ষেপ দুই ধরনেই চিহ্নিত করেছে। এর আগে চাক ভাষার শব্দ ছাপা হয়েছিল Lucien Bernot-এর 1966 সালের “Éléments de vocabulaire Cak recueilli dans le Pakistan Oriental”-এ, যা Glottolog-এর হিসাবে শব্দতালিকা। চাকদের ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে বিস্তারিত আছে চাক জনগোষ্ঠী লেখায়।
খিয়াং (হিয়ো) ভাষার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ জাকারিয়ার A grammar of Hyow — নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির 2018 সালের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, তত্ত্বাবধায়ক Alexander Robertson Coupe। LINGUIST List-এ প্রকাশিত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী এতে বারোটি অধ্যায়, একটি পাঠ, “a Hyow-English dictionary” ও তিনটি পরিশিষ্ট আছে, আর লেখকের ভাষায় এটি ভাষাটির ব্যাকরণ লেখার প্রথম চেষ্টা। সারসংক্ষেপ বক্তার সংখ্যা বলে প্রায় চার হাজার। আরও আছে খিয়াং জনগোষ্ঠী লেখায়।
খুমির জন্য Glottolog-এ দুটি শব্দতালিকা — Bernard Houghton-এর 1895 সালের “Kami Vocabularies” আর Löffler-এর 1960 সালের “Khami/Khumi-Vokabulare” — এবং David A. Peterson-এর 2019 সালের ব্যাকরণ-সংক্ষেপ “Bangladesh Khumi”। অভিধান হিসেবে চিহ্নিত কোনো বই নেই।
সমতলের আদিবাসী ভাষাগুলোর বেশির ভাগের অভিধান আছে, কিন্তু উৎসে যেগুলো পাওয়া গেছে তার প্রায় সবই ভারতে ছাপা। বাংলাদেশে ছাপা অভিধানের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেছে কেবল পাত্রদের লালেং থারের, 2020 সালে।
পাত্রদের বইটির নাম “পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ”। সিলেট টুডের 18 অক্টোবর 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” বইয়ের সঙ্গে এর মোড়ক উন্মোচন হয়। আমাদের লালেং থার লেখায় আছে, বইটি 88 পৃষ্ঠার, প্রকাশ করেছে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ), আর গবেষক কাওসার আহমদ এটিকে লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।

গারো (মান্দি) ভাষার অভিধানের তালিকা Glottolog-এ দীর্ঘ, কিন্তু প্রায় সবই মেঘালয় বা আসামের: 1905 সালে তুরার আমেরিকান ব্যাপটিস্ট গারো মিশনের English-Garo Dictionary, 1975 সালে গুয়াহাটির Kubidik: A Garo-English-Assamese Dictionary, 1996 সালে মেঘালয় সরকারের 468 পৃষ্ঠার Ku’bidik Bengali into Garo dictionary (Ramke Momin), আর D. S. Nengminza-র স্কুল ডিকশনারিগুলো। বাংলাদেশের গারো ভাষা নিয়ে Glottolog-এ অভিধান হিসেবে চিহ্নিত একমাত্র কাজটি মার্কিন ভাষাবিদ Robbins Burling-এর: The language of the Modhupur Mandi (Garo), নয়াদিল্লি, 2004, তিন অংশে, যাকে Glottolog “grammar; dictionary” বলেছে। বাংলাদেশে ছাপা গারো-বাংলা অভিধান উৎসে পাওয়া যায়নি। গারো সমাজ নিয়ে আছে মাহারি ও নকমা লেখায়।
সাঁওতালির জন্য Glottolog-এ আছে Paul Olaf Bodding-এর সাত খণ্ডের A Santal dictionary (অসলো, 1932–1936), আর তার আগে Andrew Campbell-এর 1899 সালের A Santali-English dictionary। বাংলা ট্রিবিউনের 2019 সালের কলাম শুধু এটুকু বলে যে “সাঁওতালি ভাষায় সাহিত্য ও অভিধান আছে”। বাংলাদেশে ছাপা সাঁওতালি অভিধানের বিবরণ পাওয়া যায়নি।
কুড়ুখের অভিধান Ferdinand Hahn-এর Kurukh (Orāo)-English Dictionary, কলকাতা, 1903; Glottolog-এ আরও আছে 1924 সালের ওরাওঁ-ইংরেজি ও 1958 সালের কুড়ুখ-হিন্দি অভিধান। বাংলাদেশে কুড়ুখ নিয়ে আমাদের বরেন্দ্রের কুড়ুখ লেখা জানায়, পাঠ্যবই, অভিধান বা সাক্ষরতা কর্মসূচির মতো সম্প্রদায়-চালিত উদ্যোগের তথ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। সাদরির জন্য Glottolog-এ আছে E. Blain-এর English-Sadri dictionary (1975), মুন্ডারির জন্য Manindra Bhusan Bhaduri-র Mundari-English dictionary (কলকাতা, 1931), খাসির জন্য U Nissor Singh-এর Khasi-English Dictionary (1906) — সবই ভারতে।
মৈতৈ মণিপুরীর ক্ষেত্রে আর্কাইভের মণিপুরী ভাষা দিবস লেখা জানায়, 1837 সালে প্রকাশিত ক্যাপ্টেন জর্জ গর্ডনের A Dictionary in English, Bengali and Manipuri সম্ভবত মণিপুরী ভাষার প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ, আর এতেই প্রথম ছাপার অক্ষরে “মৈতৈ”-এর বদলে “মণিপুরী” শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীর জন্য Glottolog-এর দশটি ভুক্তির একটিও অভিধান নয়; দুই মণিপুরী ভাষার পার্থক্য নিয়ে আছে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ মণিপুরী লেখায়।
উৎসে পাওয়া পাহাড়ি ভাষার সবচেয়ে পুরোনো লিখিত শব্দসংগ্রহগুলো ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নমুনা ও শব্দতালিকা, অভিধান নয়। সুগত চাকমার হিসাবে চাকমা শব্দের প্রথম নমুনা সংগ্রহ করেন ফ্রান্সিস বুকানন (Francis Buchanan), 1798 সালে; আর 1869 সালে টমাস হার্বার্ট লুইন তাঁর বইয়ে কয়েকটি পাহাড়ি ভাষার শব্দ পাশাপাশি ছাপেন।

2002 সালের বইয়ে সুগত চাকমা ক্রমটি এভাবে দেন: বুকানন 1798 সালে সরকারি কাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে কিছু চাকমা শব্দের নমুনা সংগ্রহ করেন; উনিশ শতকে কয়েকজন ইংরেজ লেখক আরও তথ্য জোগাড় করেন, যাঁদের মধ্যে জেলার প্রথম প্রশাসক লুইন উল্লেখযোগ্য; তারপর 1903 সালে জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের Linguistic Survey of India-র পঞ্চম খণ্ডের প্রথম অংশে চাকমা ভাষার তথ্য আসে। লুইন সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, লুইন ভাষাবিদ ছিলেন না, ফলে তাঁর মতামতে নানা বিভ্রান্তি ঢুকেছে।
লুইনের বইয়ের পুরো নামেই শব্দতালিকার কথা আছে — The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein; with comparative vocabularies of the hill dialects। বইটির ডিজিটাল কপি আছে আমাদের ই-বুক সংগ্রহে। Glottolog এই বইকে বম, ম্রো, পাংখোয়া ও ককবরকের উৎস হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ককবরকের ক্ষেত্রেও একই ধারা: 1876 সালের ব্রিটিশ প্রতিবেদনে যুবরাজের কাজকে প্রথমে “vocabulary” বলা হয়েছিল, পরে “dictionary”।
বিশ শতকের মাঝামাঝিও একই ধারা চলেছে: Löffler খুমির শব্দতালিকা প্রকাশ করেন 1960 সালে, Bernot চাকের 1966 সালে। খুমির ক্ষেত্রে Glottolog-এ এর পরে কোনো অভিধান-ভুক্তি নেই।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং 2023 সালে বিডিনিউজকে বলেছেন, দেশের অধিকাংশ নৃভাষার লিখিত রূপ নেই “এবং কোনো নৃভাষারই কোনো ধরনের অভিধান কোষ নেই”। এই লেখার ছকে অন্তত ছয়টি ভাষার এমন অভিধান বা শব্দকোষ আছে, যা বাংলাদেশে ছাপা — সবচেয়ে পুরোনোটি 1973 সালের।
ছকের বইগুলো কারা প্রকাশ করেছে, সেটিও লক্ষ করার মতো: চাকমা ও ককবরকের অভিধান জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের, বমের অভিধান একটি ছাত্র সংগঠনের, পাত্রদের শব্দকোষ সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংগঠনের, রেংমিটচ্যের অভিধান সংকলকের নিজের টাকায়, চাকের অভিধান এক বিদেশি গবেষকের। মারমা-বাংলা অভিধানের সংকলক নিজেই ভুলের সম্ভাবনা স্বীকার করে পরের সংস্করণে সংশোধনের কথা বলেছেন।
যে প্রতিষ্ঠানের হাতে এই কাজ থাকার কথা, সেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অবস্থাও একই প্রতিবেদনে আছে। 2013 সালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে “নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা” শুরু হয়, তিন বছরে মাঠের কাজ শেষ হয়, পরিকল্পনা ছিল দশ খণ্ড বাংলায় ও দশ খণ্ড ইংরেজিতে; 2018 সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি খণ্ড বাংলায় ছাপা হয়, কিন্তু 2023 পর্যন্ত তা বাজারে আসেনি। ইনস্টিটিউট “মাতৃভাষা পিডিয়া” রচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা হলে প্রতিবেদনের ভাষায় “নৃভাষার শব্দকোষ বা অভিধান নির্মাণের কাজও এগিয়ে যাবে”। ইনস্টিটিউটের 2018 সালে শেষ হওয়া জরিপে বিপন্ন 14টি ভাষার একটি যে লালেং (পাত্র), তা আছে আমাদের লালেং থার লেখায়।
ছকের বইগুলোর মধ্যে দুটি পুরোটা অনলাইনে পড়া যায় জুমজার্নালের ই-বুক সংগ্রহে — সুগত চাকমার 2016 সালের চাকমা-বাংলা অভিধান আর আর্য্যমিত্র চাকমার চাকমা শব্দভাণ্ডাল। লুইনের 1869 সালের শব্দতালিকা, 1898 সালের লুসাই অভিধান আর 1905 সালের ইংরেজি-গারো অভিধান মেধাস্বত্বমুক্ত, Wikimedia Commons-এ আছে।
নিচের ভাষাগুলোর জন্য এই লেখার উৎসগুলোতে — Glottolog, SIL, জুমজার্নালের আর্কাইভ ও ই-বুক, সংবাদপত্র — কোনো অভিধান বা শব্দকোষের নাম পাওয়া যায়নি। এর মানে এই নয় যে অভিধান নেই; মানে হলো, থাকলেও তার খবর এই উৎসগুলোতে ওঠেনি।
সমতলের আরও কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা এই লেখায় আলাদা করে খোঁজা হয়নি; তাদের অভিধানের অবস্থা অজানা বলেই ধরতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
উৎসে বিবরণসহ পাওয়া গেছে চাকমা (1973, 2011, 2016), ককবরক (1989, রাঙামাটি), মারমা (2022), চাক (2016, ঢাকা), রেংমিটচ্য (2023) ও পাত্রদের লালেং থারের (2020) অভিধান বা শব্দকোষ। বমের অভিধান আছে বলে একাধিক উৎস জানায়, শিরোনাম অজানা। খিয়াং ও গারোর অভিধান আছে গবেষণাগ্রন্থের ভেতরে। তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রোর অভিধানের উল্লেখ আছে, বিবরণ নেই।
সুগত চাকমার “চাঙমা-বাঙলা কথাতারা”, 1973 সালে জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর থেকে প্রকাশিত, বাংলা হরফে লেখা — সংকলক নিজে তাঁর 2002 ও 2016 সালের বইয়ে এ কথা লিখেছেন, আর Chakmapedia ব্লগও একে প্রথম বলেছে। চাকমা ও বাংলা দুই হরফে লেখা অভিধান হিসেবে সুগত চাকমা নিজের 2016 সালের অভিধানকে “একটি প্রথম অভিধান” বলেছেন।
জুয়েল বড়ুয়া, যাঁর মাতৃভাষা বাংলা। 2017 সালে কাজ শুরু করে করোনার সময় শেষ করেন; 370 পৃষ্ঠার বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় 8 এপ্রিল 2022, বান্দরবানে। মারমা শব্দ মারমা ও বাংলা দুই হরফে, অর্থ বাংলায়। তাঁর কর্মস্থল নিয়ে প্রথম আলো (রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) ও বিডিনিউজ (পটিয়ার একটি বালিকা বিদ্যালয়) আলাদা কথা লিখেছে।
একটি উৎস — দেশ রূপান্তর, 21 ফেব্রুয়ারি 2025 — লেখে, প্রায় দুই বছর আগে জেলা পরিষদের উদ্যোগে চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ম্রো ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়েছে। বইটির শিরোনাম, সংকলক, প্রকাশের সাল বা কপি কোথায় পাওয়া যায় — তা জানা যায়নি। Glottolog-এ তঞ্চঙ্গ্যার কোনো অভিধান তালিকাভুক্ত নেই।
আমাদের আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী 1989 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পাদনায় “ত্রিপুরা ভাষা বা ককবরক ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ” প্রকাশ করে। ত্রিপুরা রাজ্যে এর আগে 1907 সালের “ত্রৈপুর ভাষাভিধান”, 1967 সালের “ককরবাম” আর পরে 2002 সালের Anglo-Kokborok-Bengali dictionary বেরিয়েছে।
“মিটচ্য তখক” (গ্লোবাল ভয়েসেসের বানানে Mitca Takhak), সংকলক ইয়াংঙান ম্রো। মোড়ক উন্মোচনের দিন ধার্য ছিল 31 জানুয়ারি 2023; প্রকাশ বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে, নিজের খরচে। প্রায় 3,400 শব্দ, বাংলা অনুবাদসহ; রেংমিটচ্যের নিজের লিপি নেই বলে ম্রো ও বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়েছে। দশ বছরের কাজ।
আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জির কুং সাহু সম্পাদিত লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে; “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” জানায়, লোফলারের (Lorenz Löffler) সহযোগিতায় সম্পাদিত একটি অভিধান আছে। বাংলা ট্রিবিউন (2019) ও SIL (2011)-ও অভিধানের কথা বলে। শিরোনাম ও সাল কোনো উৎসে নেই।
বাংলাদেশে ছাপা গারো-বাংলা অভিধান উৎসে পাওয়া যায়নি। গারো অভিধানগুলো মূলত মেঘালয় ও আসামের — 1905 সালের English-Garo Dictionary (শিলং), 1975 সালের Kubidik (গুয়াহাটি), 1996 সালের Bengali-to-Garo (মেঘালয় সরকার)। বাংলাদেশের মধুপুরের মান্দি ভাষা নিয়ে Robbins Burling-এর 2004 সালের বইকে Glottolog ব্যাকরণ ও অভিধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে; এটি নয়াদিল্লিতে ছাপা।
কেইসুকে হুজিওয়ারার Cak-English-Bangla Dictionary 2016 সালে ঢাকার A H Development Publishing House থেকে প্রকাশিত, xxxiv+545 পৃষ্ঠা। বইটির বিবরণ Glottolog-এর চাক ভাষার পাতায় আছে। Glottolog-এ এর আগের চাক শব্দসংগ্রহ হিসেবে আছে Lucien Bernot-এর 1966 সালের শব্দতালিকা।
আছে — “পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ”, 88 পৃষ্ঠা, প্রকাশক পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ)। সিলেট টুডে অনুযায়ী 18 অক্টোবর 2020 সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” বইয়ের সঙ্গে এর মোড়ক উন্মোচন হয়। গবেষক কাওসার আহমদ এটিকে লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।
সুগত চাকমার 2002 সালের বই অনুযায়ী ফ্রান্সিস বুকানন 1798 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে কিছু চাকমা শব্দের নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর টমাস হার্বার্ট লুইন 1869 সালে তাঁর The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein বইয়ে কয়েকটি পাহাড়ি ভাষার তুলনামূলক শব্দতালিকা ছাপেন। এগুলো শব্দতালিকা, অভিধান নয়।
বিডিনিউজের 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট “মাতৃভাষা পিডিয়া” রচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নৃভাষার শব্দকোষ বা অভিধান নির্মাণে সহায়ক হবে বলে বলা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের 2013 সালে শুরু হওয়া “নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা”-র একটি খণ্ড 2018 সালে ছাপা হলেও 2023 পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল ই-বুক সংগ্রহ
প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল আর্কাইভ
সংবাদ ও প্রতিবেদন
গবেষণা, গ্রন্থপঞ্জি ও ডেটাবেস
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, চাকমা, বম, ম্রো
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।