Jumjournal Logo

লালেং থার: সিলেটের পাত্র জনগোষ্ঠীর ভাষা ও বর্তমান অবস্থা

Last updated Oct 23rd, 2026

1

সিলেটের খাদিমনগর বনে ঘন বাঁশঝাড়, বাঁকানো বাঁশের ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকছে

পাত্র জনগোষ্ঠী, যাঁরা নিজেদের লালেং বলেন, সিলেটের সবচেয়ে ছোট আদিবাসী জাতিগুলোর একটি। তাঁদের ভাষার নাম লালেং থার। এর নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই, লেখা হয় বাংলা হরফে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের জরিপে এটি বাংলাদেশের 14টি বিপন্ন ভাষার একটি। জনশুমারি 2022 পাত্রদের সংখ্যা দিয়েছে 3,103, আর সম্প্রদায়ের নিজস্ব 2020 সালের জরিপে সংখ্যাটি 3,999।

পাত্র জনগোষ্ঠী লালেং সিলেট — এই তিনটি শব্দ একসাথে খুঁজলে যা পাওয়া যায় তা মূলত ছড়ানো কয়েকটি সংবাদ-ফিচার আর এক অনুচ্ছেদের পরিচিতি। অথচ এই ছোট সম্প্রদায়টি নিজেরাই নিজেদের ভাষার প্রথম শব্দকোষ লিখেছে। 18 অক্টোবর 2020 সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ’ আর ‘পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ নামে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, প্রকাশ করেছিল পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ) [সিলেট টুডে টোয়েন্টিফোর]। এই লেখা সেই ভাষা নিয়ে: কারা বলেন, কত জন, ভাষাটির গড়ন কেমন, কোন জরিপ একে কতটা বিপন্ন বলেছে, আর এখন কী কী কাজ চলছে।

সমতলের সব আদিবাসী জাতির এক নজরের পরিচয় আছে আমাদের লেখা সমতলের আদিবাসী জাতিগুলো: কে কোথায় থাকেন-এ, সেখানে পাত্রদের নিয়ে এক অনুচ্ছেদ। এই লেখা সেখান থেকে শুরু করে ভাষা ও বর্তমান অবস্থার দিকে যায়।

এই লেখায়

  1. পাত্র কারা, আর ‘লালেং’ নামটি কোথা থেকে এল
  2. পাত্র জনগোষ্ঠী লালেং সিলেট: কোন উপজেলায়, কয়টি গ্রামে
  3. পাত্রদের সংখ্যা কত: জনশুমারি বনাম সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ
  4. লালেং থার কোন ভাষা পরিবারের — প্রশ্নটির নিষ্পত্তি হয়নি
  5. লালেং থারে কয়টি স্বর, কয়টি ব্যঞ্জন: তিন গবেষকের তিন হিসাব
  6. লালেং থারের বাক্য কেমন: সর্বনাম, কাল আর শব্দক্রম
  7. এক থেকে একশো: লালেং থারের গণনার শব্দ কীভাবে হারাল
  8. লালেং থারের নিজস্ব লিপি নেই, লেখা হয় বাংলা হরফে
  9. লালেং থার কতটা বিপন্ন: কোন জরিপ কী বলেছে
  10. পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ: সম্প্রদায় নিজেই যে বই লিখেছে
  11. পাত্র ভাষা নিয়ে কে কী গবেষণা করেছেন
  12. গৌড় গোবিন্দের উত্তরসূরি: পাত্রদের নিজেদের ইতিহাসের দাবি
  13. বারো গোত্র, পিতৃসূত্র আর ধর্মাচার: পাত্র সমাজের গড়ন
  14. কয়লা, লেবু আর হারানো বন: পাত্রদের জীবিকা কীভাবে বদলাল
  15. পাত্রদের জমি কীভাবে হাতছাড়া হয়েছে: গবেষণা যা বলে
  16. মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ নেই: শিক্ষা আর ভাষার সম্পর্ক
  17. প্রশ্নোত্তর
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

পাত্র কারা, আর ‘লালেং’ নামটি কোথা থেকে এল

পাত্ররা সিলেট অঞ্চলের একটি আদিবাসী জাতি। বাংলাপিডিয়া (ভুক্তির লেখক সাদাত উল্লাহ খান) বলছে, এই জাতির প্রকৃত নাম ‘লালেং’, যার অর্থ ‘পাথর’; কোথাও কোথাও তাঁরা ‘পাতর’ বা ‘পাথর’ নামে পরিচিত। বাইরের মানুষ ডাকে পাত্র বা পাতর, আর সম্প্রদায় নিজে ‘লালেং’ পরিচয়টিই পছন্দ করে।

শেষ কথাটি এসেছে Kawsar Ahmad-এর 2024 সালের গবেষণাপত্র থেকে, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএলআই) জার্নাল Mother Language-এ ছাপা হয়েছে [Ahmad 2024]। তিনি লিখেছেন, ঐতিহাসিকভাবে তাঁরা ‘Laleng’ নামে পরিচিত ছিলেন, এই নামেই নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করেন, স্থানীয়রা ডাকে ‘Patar’ বা ‘Patro people’, আর এখন সবার কাছে পরিচিত নামটি পাত্র।

নামের উৎস নিয়ে উৎসগুলো একটি ব্যাখ্যায় থামেনি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে (টিবিএস) Jannatul Naym Pieal-এর 2024 সালের ফিচার কয়েকটি মত পাশাপাশি রেখেছে [TBS 2024]:

  • Mohammad Abdul Hye তাঁর Laleng Canvas বইয়ে লিখেছেন, লালেংরা কাঠকয়লা বানানোর জন্য পরিচিত ছিলেন, আর স্থানীয়ভাবে কয়লাকে ‘পাথর’ বলা হয়; সেখান থেকেই অন্যরা তাঁদের পাত্র বা পাতর ডাকতে শুরু করে থাকতে পারে।
  • ‘লালেং’ শব্দটিই তাঁদের নিজেদের ভাষায় ‘পাথর’ — এই অর্থ ধরে টিবিএস অনুমান করেছে, কোনো গবেষক পরিচয় জানতে চাইলে উত্তরে ‘লালেং’ শব্দটি এসেছিল এবং সেখান থেকেই দুটি নাম চালু হয়।
  • H R Risley 1872 সালের Tribes and Castes in Eastern India-এ প্রথম ‘Pathor’ ও ‘Pator’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে টিবিএস লিখেছে, এবং পরের লেখকেরা সেটি নেন।
  • R. N. Nath-এর 1948 সালের Background of Assamese Culture বইয়ে পাত্রদের ‘চুটিয়া’ বলা হয়েছে — এটি বাংলাপিডিয়া ও টিবিএস দুই জায়গাতেই আছে।

টিবিএস আরও লিখেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের গবেষকেরা ‘লালেং’ নামটিই বেশি ব্যবহার করছেন, আর নামটি 2005 সালে জনপ্রিয় করেন বারসিকের (BARCIK) পরিচালক পাভেল পার্থ। জুমজার্নালের আর্কাইভে পাভেল পার্থর একটি লেখা আছে — আদিবাসী জনগণের কার্বন-নিরপেক্ষ অর্থনীতি — সেখানে তিনি সম্প্রদায়টিকে লিখেছেন ‘সিলেটের আদিবাসী লালেং বা পাত্র সমাজ’।

বানান নিয়ে একটি কথা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারি 2022-এ বাংলায় ‘পাত্র’ আর ইংরেজিতে ‘Patro’ লিখেছে [জনশুমারি 2022: 50 জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা]। ইংরেজি লেখায় Patra ও Patro দুটিই চলে; বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ভুক্তির নাম ‘Patra, The’।

পাত্র জনগোষ্ঠী লালেং সিলেট: কোন উপজেলায়, কয়টি গ্রামে

পাত্ররা মূলত সিলেট জেলার সদর, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় থাকেন। গ্রামের সংখ্যা নিয়ে তিনটি উৎস তিনটি সংখ্যা দেয়: বাংলাপিডিয়া বলছে 19টি গ্রাম, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলছেন সিলেট সদর ও গোয়াইনঘাটের 23টি গ্রাম, আর পাসকপের 2020 সালের জরিপ বলছে 33টি গ্রাম।

পাসকপের জরিপের হিসাবটি Kawsar Ahmad উদ্ধৃত করেছেন: উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে 3,999 জন পাত্র থাকেন 33টি গ্রামে, 705টি পরিবারে, চারটি উপজেলায় — সিলেট সদর, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও বড়লেখা [Ahmad 2024]। Ahmad চারটিকেই ‘সিলেটের’ উপজেলা বলেছেন; প্রশাসনিকভাবে বড়লেখা মৌলভীবাজার জেলায়। টিবিএসের ফিচারও বলছে, সিলেট শহরের বাইরের দিকের বন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট আর মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি গ্রামে তাঁদের বসতি।

Ahmad আরও লিখেছেন (Md. Ashraful Karim-এর 2014 সালের বইয়ের বরাতে), পাত্ররা সিলেট শহর থেকে প্রায় 12 কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে খাদিমনগরের পাহাড়ে কয়েকটি গ্রামে থাকেন। ডেইলি স্টারে Khairun Nahar Ipshita-র 2024 সালের লেখায় এলাকা হিসেবে আছে সিলেট সদর, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট [Ipshita 2024]।

নাম ধরে যে কয়টি গ্রাম বা জায়গা উৎসগুলোতে পাওয়া যায়, সেগুলো এক জায়গায় রাখা হলো। এটি পূর্ণ তালিকা নয় — 33টি গ্রামের নামসহ কোনো প্রকাশিত তালিকা পাওয়া যায়নি।

জায়গাউৎসে যা বলা আছেউৎস
Kushirgul গ্রাম, শাহপরান থানা, সিলেটমন্দির প্রাঙ্গণে সরস্বতী পূজার মেলা; গ্রামে প্রায় 60টি পাত্র পরিবার বলে এক বাসিন্দা জানানটিবিএস, 2024
Surma Gateপাত্রদের আরেকটি গ্রাম; পাসকপের অফিস এখানে, সেখানে লালেং থারে লেখা কিছু বই রাখাটিবিএস, 2024
সেনাপতিটিলা গ্রামপাত্র কল্যাণ পরিষদের সহযোগিতায় পাত্র ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিতআসাদুজ্জামান, ডেইলি স্টার বাংলা, 2025
মালগাঁও গ্রাম, ফতেপুর ইউনিয়ন, গোয়াইনঘাটপাত্র পরিবারগুলো জারা ও জামির লেবু চাষ করেপাভেল পার্থ, জুমজার্নাল আর্কাইভ, 2019
খাদিমনগরের পাহাড়, সিলেট শহরের প্রায় 12 কিমি উত্তর-পূর্বেকয়েকটি পাত্র গ্রামAhmad 2024 (করিম 2014-এর বরাতে)

ভারতেও পাত্ররা আছেন। বাংলাপিডিয়া বলছে, 1971 সালে কিছু পাত্র আসাম, মেঘালয় ও কাছাড়ে চলে যান। টিবিএস লিখেছে, 1947 সালের দেশভাগের সময়ও বড় একটি অংশ ভারতে যায়, আর মেঘালয় ও আসামে এখন তাঁদের উত্তরসূরিরা থাকেন। শিলংয়ের এক তরুণ টিবিএসকে বলেছেন, তাঁর পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে সেখানে, আর তাঁদের কাছে ‘পাত্র’ এখন শুধু একটি পদবি।

পাত্রদের সংখ্যা কত: জনশুমারি বনাম সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ

বাংলাদেশে পাত্রদের সংখ্যা নিয়ে অন্তত সাতটি আলাদা সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে, 2,033 থেকে প্রায় 6,000 পর্যন্ত। জনশুমারি 2022 বলছে 3,103 জন; সম্প্রদায়ের নিজস্ব 2020 সালের জরিপ বলছে 3,999 জন। কোন সংখ্যা কী গুনেছে — মানুষ, ভাষাভাষী না পরিবার — সেটি আলাদা করে দেখা দরকার।

উৎসসময়সংখ্যাকী গোনা হয়েছে
মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ডেইলি স্টার বাংলা2011 সালের জনগণনার বরাতে2,033পাত্র জনসংখ্যা
বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি)“At present (2011)”প্রায় 3,000; 402টি পরিবারসিলেট অঞ্চলের পাত্র
পাসকপের জরিপ (Ahmad 2024-এ উদ্ধৃত)20203,999 (পুরুষ 2,076, নারী 1,923); 705টি পরিবার33টি গ্রামের পাত্র
বিবিএস, জনশুমারি 202220223,103 (পুরুষ 1,597, নারী 1,506)সারা দেশের পাত্র
প্রথম আলো ইংরেজিফেব্রুয়ারি 20245,000-এর কমপাত্র জনগোষ্ঠী
টিবিএসফেব্রুয়ারি 20244,000-এর কমপাত্র জনগোষ্ঠী
Ipshita, ডেইলি স্টারফেব্রুয়ারি 2024প্রায় 6,000লালেং ভাষাভাষী

জনশুমারির সংখ্যা নিয়ে সম্প্রদায়ের আপত্তি টিবিএসের প্রতিবেদনে আছে। পাসকপের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র টিবিএসকে বলেছেন, জনশুমারি 3,100 দেখিয়েছে, অথচ তাঁদের 2020 সালের জরিপে 705টি পরিবারে 3,999 জন। Kushirgul গ্রামের এক বাসিন্দা টিবিএসকে বলেছেন, তাঁদের সম্প্রদায় অত বড় নয়, তবে সংখ্যা এতটা কমও হওয়ার কথা নয়।

জনশুমারি 2022-এ বিভাগভিত্তিক বণ্টন — আমাদের জনশুমারি লেখায় বিবিএসের জাতীয় প্রতিবেদন থেকে নেওয়া ছক অনুযায়ী:

বিভাগপাত্র জনসংখ্যা
সিলেট2,571
খুলনা258
ঢাকা129
চট্টগ্রাম62
ময়মনসিংহ28
রংপুর23
রাজশাহী17
বরিশাল15
মোট3,103

সিলেট বিভাগের বাইরে 532 জনকে ‘পাত্র’ হিসেবে গোনা হয়েছে, এর মধ্যে খুলনায় 258 জন। এই মানুষেরা সিলেটের লালেংদের অংশ, নাকি ‘পাত্র’ পদবির অন্য কোনো গোষ্ঠী, সে ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। একই রকম প্রশ্ন আমাদের সমতলের লেখাতেও উঠেছে: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের এক চা-শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধাকে আর্কাইভের লেখা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা-য় ‘চা জনগোষ্ঠীর আদিবাসী পাত্র সম্প্রদায়ের’ বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি সিলেটের লালেংদের অংশ কি না তা বলা নেই।

বাংলাপিডিয়া আরও দুটি হিসাব দিয়েছে: পাত্র জনসংখ্যার 54.11% পুরুষ ও 45.89% নারী, আর পরিবারপ্রতি গড় সদস্য 4.86 জন। জনশুমারি 2022-এর হিসাবে অনুপাতটি অনেক কাছাকাছি — 1,597 পুরুষ ও 1,506 নারী। দুই হিসাবের সময় ও পদ্ধতি আলাদা, তাই সরাসরি তুলনা চলে না।

লালেং থার কোন ভাষা পরিবারের — প্রশ্নটির নিষ্পত্তি হয়নি

লালেং থার কোন ভাষা পরিবারের, তা নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। যে গবেষকেরা মত দিয়েছেন, তাঁরা একে চীনা-তিব্বতি পরিবারে, কেউ কেউ আরও নির্দিষ্ট করে বোড়ো শাখায় রাখেন। কিন্তু ডেইলি স্টারে 2024 সালে লেখা হয়েছে, ভাষাটি এখনো শ্রেণিবিন্যাসহীন, আর কোন পরিবারে পড়ে তা অধরা।

Kawsar Ahmad তিনটি মত উদ্ধৃত করেছেন [Ahmad 2024]। সৌরভ সিকদার লালেং ভাষাকে চীনা-তিব্বতি পরিবারের বলেছেন (Ahmad-এর উদ্ধৃতিতে বাংলা একাডেমির Bangladesher Adibasi Bhasha, 2011)। S. Chowdhury ও K. Saha-র 2012 সালের একটি প্রবন্ধে পাত্রদের রাখা হয়েছে চীনা-তিব্বতি → তিব্বতি-বর্মি → আসাম-বর্মি → বোড়ো-নাগা → বোড়ো — এই ধারায়, যেখানে বোড়ো (কাছাড়ি), ডিমাসা, গারো, রাভা, টিপরা ইত্যাদির পাশে ‘Lalung or Laleng’ নামটি আছে। Ahmad নিজে লিখেছেন, পাত্রদের উৎস তিব্বত-হিমালয় অঞ্চলের বোড়ো নামে পরিচিত জনগোষ্ঠীতে খোঁজা যায়।

Khairun Nahar Ipshita ডেইলি স্টারে লিখেছেন, অনেক ভাষাবিদ অনুমান করেছেন লালেং চীনা-তিব্বতি পরিবারের হতে পারে, কিন্তু ব্যাপক গবেষণার পরও এটি কোথায় পড়ে তা অধরা রয়ে গেছে [Ipshita 2024]। তাঁর মতে, ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য চীনা-তিব্বতি ভাষাগুলোর সঙ্গে মেলে কি না, সেটিই ভবিষ্যৎ গবেষণার প্রশ্ন।

Ahmad একটি পর্যবেক্ষণও যোগ করেছেন: লালেং থারের অনেক শব্দ এক অক্ষরের, যা তিনি চীনা ভাষার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন, আর একই সঙ্গে ভাষাটিতে ইংরেজি ও হিন্দির প্রভাব দেখেছেন। তুলনাটি তাঁর নিজের; অন্য কোনো উৎসে একই দাবি পাওয়া যায়নি।

লালেং থারে কয়টি স্বর, কয়টি ব্যঞ্জন: তিন গবেষকের তিন হিসাব

লালেং থারের ধ্বনির হিসাব তিন গবেষকের কাজে তিন রকম। Md. Ashraful Karim (2014) পেয়েছেন 6টি স্বর ও 23টি ব্যঞ্জন, মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের অপ্রকাশিত পিএইচডি অভিসন্দর্ভ (2018) 24টি ব্যঞ্জন, আর Kawsar Ahmad (2024) 7টি স্বর ও 28টি ব্যঞ্জন।

গবেষকসালস্বরব্যঞ্জনযেখানে প্রকাশিত
Md. Ashraful Karim2014623Bhashar Nanarup, Gotidhara Prokashoni
মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান2018উল্লেখ নেই24পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Kawsar Ahmad2024728Mother Language 8(1–2), আইএমএলআই

ছকের প্রথম দুটি সারি Ahmad-এর প্রবন্ধের সাহিত্য-পর্যালোচনা থেকে নেওয়া [Ahmad 2024]। Ahmad বলছেন, করিমের তালিকার বাইরে তিনি পাঁচটি নতুন ব্যঞ্জন পেয়েছেন — /ɡʱ/, /dʒʱ/, /d̪ʱ/, /bʱ/ ও /ɽ/। অর্থাৎ ঘ, ঝ, ধ, ভ ও ড়-এর মতো ধ্বনি।

তাঁর হিসাবে 28টি ব্যঞ্জন উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এভাবে ভাগ হয়: ওষ্ঠ্য 5টি (/p/, /pʰ/, /b/, /bʱ/, /m/), দন্ত্য 4টি, মূর্ধন্য 4টি, দন্তমূলীয় 3টি (/ɾ/, /l/, /n/), তালব্য 5টি, আর কণ্ঠ্য 6টি। সাতটি স্বর হলো /i/, /e/, /æ/, /a/, /ɔ/, /o/, /u/। এর বাইরে দুটি অর্ধস্বর /j/ ও /w/, আর দুটি যৌগিক স্বর /ɔɪ/ ও /ɔʊ/।

Ahmad লিখেছেন, ভাষাটিতে নাসিক্য /ŋ/-এর ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। কিছু শব্দজোড়ে শ্বাসাঘাত আছে, কিন্তু স্বরের দৈর্ঘ্য, সুর বা তান বদলালে শব্দের অর্থ বদলায় না। অর্থাৎ তাঁর বিশ্লেষণে লালেং থার সুরভিত্তিক (টোনাল) ভাষা নয়।

লালেং থারের বাক্য কেমন: সর্বনাম, কাল আর শব্দক্রম

লালেং থারের বাক্যে কর্তা আগে, কর্ম মাঝে, ক্রিয়া শেষে — বাংলার মতোই কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV) ক্রম। সর্বনামে একবচন ও বহুবচন আলাদা, আর ক্রিয়ার সঙ্গে কাল বোঝাতে আলাদা প্রত্যয় যুক্ত হয়। নিচের নমুনাগুলো Kawsar Ahmad-এর মাঠ-উপাত্ত থেকে, আইপিএ বানানে।

সর্বনাম:

পুরুষএকবচনবহুবচন
উত্তম পুরুষ (আমি / আমরা)hai /hɑi/haling /hɑː.lɪŋ/
মধ্যম পুরুষ (তুমি / তোমরা)nang /nɑŋ/naling /nɑː.lɪŋ/
নাম পুরুষ (সে / তারা)alang /ɑ.lɑŋ/alaling /ɑː.lɑ.lɪŋ/

বহুবচনে প্রায় সবখানে ‘-ling’ যোগ হচ্ছে, এই নকশাটি ছক থেকেই দেখা যায়। কয়েকটি বাক্য:

লালেং থার (আইপিএ)অর্থ
/nɑŋ maɪ dɑ.kʰɑŋ/তুমি কেমন আছ?
/hɑi maɪ dɑ.kʰɑŋ/আমি ভালো আছি।
/nɑŋ ˈbɑɾi tɔŋ.kɑ/তোমার বাড়ি কোথায়?
/hɑi ɑn tʃɑ.kʰɑŋ/আমি ভাত খেয়েছি।
/nɑi.luŋ mɑt aɪn neŋ.kɑ dɑ.nɑ/তোমার কথা আমার মনে থাকবে।

শেষ বাক্যের ক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ কালের রূপ দেখা যাচ্ছে। Ahmad একটি সহায়ক ক্রিয়ার তিন কালের রূপ দিয়েছেন: অতীত /dɑ.d̪iŋ/, বর্তমান /dɑ.kʰɑŋ/, ভবিষ্যৎ /dɑ.nɑ/। তবে বচনভেদে ক্রিয়ার রূপ সাধারণত বদলায় না। /bɑɾi/ শব্দটি বাংলার ‘বাড়ি’-র মতোই শোনায়।

লিঙ্গ: পুরোনো গবেষণা (আসাদুজ্জামান 2018) দুটি লিঙ্গ — পুং ও স্ত্রী — দেখিয়েছিল। Ahmad কিছু উভলিঙ্গ শব্দও পেয়েছেন:

পুংলিঙ্গস্ত্রীলিঙ্গউভলিঙ্গ
/pa/ বাবা/jo/ মা/tʃa.tʃu/ শিশু
/kɔrtai/ ভাই/i.d͡ʒor/ বোন/kʰa.mai/ বিধবা
/ɡaːbur/ বর/kɔi.na/ কনে/dɔ.ra/ আত্মীয়
/pin.tʃa/ পুরুষ/la.la.oi/ নারী/lɔ.ɡor/ বন্ধু

কয়েকটি দৈনন্দিন শব্দ, একই প্রবন্ধ থেকে: /ɪlːɔŋ/ পাহাড়, /inti/ লবণ, /t͡ʃɔŋ/ ব্যাঙ, /fanta/ ছাগল, /aːn/ ভাত, /iː/ রক্ত, /la/ পাতা, /lɔk/ সাদা, /iːrɑn/ গান, /tʰak/ ওপরে। /skuːl/ (স্কুল) ও /t͡ʃatːi/ (ছাতা) শব্দও তালিকায় আছে; Ahmad ভাষাটিতে ইংরেজি ও হিন্দির প্রভাবের কথা বলেছেন।

কারক-বিভক্তিতে Ahmad হিন্দির প্রভাব দেখেছেন: বাংলার ‘বাড়িতে’-র ‘-তে’ লালেং থারে ‘-কা’, আর ‘মামার’-এর ‘-র’ ও ‘জাল দিয়ে’-র ‘দিয়ে’ — দুটির জায়গাতেই ‘-কুং’। প্রভাবটি যে হিন্দির, সেটি তাঁর বিশ্লেষণ।

এক থেকে একশো: লালেং থারের গণনার শব্দ কীভাবে হারাল

লালেং থারের নিজস্ব গণনার শব্দ দ্রুত হারাচ্ছে। আসাদুজ্জামানের 2018 সালের অভিসন্দর্ভে এক থেকে একশোর মধ্যে এগারোটি সংখ্যার নিজস্ব শব্দ ছিল, বাকিগুলো বাংলা থেকে নেওয়া। পাসকপের 2020 সালের বই বলছে, এখন কেবল এক থেকে পাঁচ আর বিশ — এই ছয়টি ব্যবহার হয়।

Kawsar Ahmad দুটি তালিকা পাশাপাশি রেখেছেন [Ahmad 2024]:

সংখ্যালালেং থার (আইপিএ, আসাদুজ্জামান 2018)2020 সালে ব্যবহার আছে কি?
1/tʃik/আছে
2/kʰɑni/আছে
3/tʰom/আছে
4/pʰɑlli/আছে
5/pʰɑnɑ/আছে
10/phanakhani/নেই
15/pʰɑɳɑ inkbum/নেই
20/innokol tʃik/আছে
25/pʰɑnɑpink antʃiki/নেই
60/inkʰomo pʰɑlli/নেই
100/inkʰolo gɑntɑ/নেই
লাখ/lɑkʰɑ/নেই

আসাদুজ্জামান লিখেছিলেন, হাজার ও কোটির জন্য পাত্ররা বাংলা শব্দই ব্যবহার করেন, লাখের জন্য বলেন ‘লাখা’। পাসকপের বইয়ের বরাতে Ahmad বলছেন, এক থেকে পাঁচ ও বিশের পরের সংখ্যাগুলো এখন আর কেউ বলেন না বা কারও মুখে শোনা যায় না, আর শুধু সংখ্যা নয়, আরও অনেক শব্দ ভাষা থেকে হারিয়ে গেছে।

লালেং থারের নিজস্ব লিপি নেই, লেখা হয় বাংলা হরফে

লালেং থারের নিজস্ব বর্ণমালা নেই। পাত্ররা নিজেদের ভাষা বাংলা হরফে লেখেন — Kawsar Ahmad পাসকপের 2020 সালের বইয়ের বরাত দিয়ে এ কথা লিখেছেন। আসাদুজ্জামানও লিখেছেন, ভাষাটির কোনো লিখিত রূপ নেই। পাসকপের শব্দকোষও বাংলা হরফে।

টিবিএসের প্রতিবেদক Surma Gate-এ পাসকপের অফিসে গিয়ে দেখেছেন, সেখানে রাখা লালেং থারের বইগুলো বাংলা হরফে লালেং উচ্চারণে লেখা [TBS 2024]। Kushirgul গ্রামের এক তরুণী টিবিএসকে বলেছেন, অষ্টম শ্রেণির পর তাঁর পড়াশোনা থেমে যাওয়ার একটি কারণ ছিল নিজের ভাষার লিখিত রূপ না থাকা।

লিপি না থাকাকে উৎসগুলো বিপন্নতার একটি কারণ হিসেবে দেখেছে। ডেইলি স্টার বাংলার 2021 সালের প্রতিবেদন বলছে, আইএমএলআই যে 14টি ভাষাকে বিপন্ন ঘোষণা করেছে সেগুলোর কোনো লিখিত রূপ বা বর্ণমালা না থাকায় সংরক্ষণ বেশ কঠিন [ডেইলি স্টার বাংলা, 2021]। একই প্রতিবেদনে আছে, দেশের 41টি ভাষার মধ্যে কেবল আটটির নিজস্ব বর্ণমালা আছে। 2020 সালের মোড়ক উন্মোচনে পাসকপের নির্বাহী প্রধান গৌরাঙ্গ পাত্রও একই কথা বলেছিলেন: বর্ণমালা না থাকায় ভাষাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব লিপি না থাকলে অন্য লিপিতে ভাষা লেখার পক্ষে Ahmad উদ্ধৃত করেছেন Abdur Rahim-এর 2017 সালের বই Bangladesher Bhasha-Porikalpona: যে জনগোষ্ঠীর নিজস্ব লিপি নেই, তাদের ভাষা অন্য লিপিতে লিখে রাখা দরকার।

লালেং থার কতটা বিপন্ন: কোন জরিপ কী বলেছে

প্রতিটি উৎসই লালেং থারকে বিপন্ন বলেছে, তবে মাত্রায় ফারাক আছে। আইএমএলআইয়ের 2018 সালে শেষ হওয়া জরিপ একে 14টি বিপন্ন ভাষার তালিকায় রেখেছে। আসাদুজ্জামান ফিশম্যান মানদণ্ডে একে বিপন্নতার ষষ্ঠ স্তরে রেখেছেন। এসআইএলের 2024 সালের গবেষণা বলছে, ভাষাটি ঝুঁকিতে, তবে সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো নিজেদের মধ্যে এটি বলেন।

উৎসসালযা বলা হয়েছে
আইএমএলআই জরিপ (ডেইলি স্টার বাংলায় উদ্ধৃত)2018 সালে শেষবিপন্ন 14টি ভাষার একটি ‘লালেং (পাত্র)’; বাকি 13টি কন্দ, খাড়িয়া, কোডা, সৌরা, মুণ্ডারি, কোল, মালতো, খুমি, পাংখোয়া, রেংমিত্চা, চাক, খিয়াং ও লুসাই
মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান2025ফিশম্যান মানদণ্ডে বিপন্নতার ষষ্ঠ স্তরে; চল্লিশোর্ধ্বরা বলেন, শিশুরা শিখতে চায় না; প্রায় 50 শতাংশ আঞ্চলিক বাংলার অনুপ্রবেশ
এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল (প্রথম আলোয় উদ্ধৃত)2024পাত্রদের ‘Lalengthar’ ঝুঁকিতে, তবে সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখনো নিজেদের মধ্যে ভাষাটি ব্যবহার করেন
Khairun Nahar Ipshita, ডেইলি স্টার2024তরুণ প্রজন্ম সীমিতভাবে ব্যবহার করে; বাড়িতেও বাবা-মায়ের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলে না
মাশরুর ইমতিয়াজ (টিবিএসে)2024লালেং ভাষাভাষীর সংখ্যা পুরো সম্প্রদায়ের চেয়ে অনেক কম

আসাদুজ্জামানের হিসাবটি সবচেয়ে বিস্তারিত [ডেইলি স্টার বাংলা, 2025]। তিনি লিখেছেন, পাত্ররা নিজেদের ভাষাকে ‘লালং ভাষা’ বলেন, এটি পাত্র ভাষা নামেও পরিচিত। গবেষকদের বরাতে তিনি বলছেন, এখন অনেক পরিবার আছে যারা ভাষাটি জানলেও আর বলে না — সংখ্যাটি প্রায় 2 শতাংশ। চল্লিশোর্ধ্ব সদস্যরা লালং ভাষায় কথা বললেও শিশুরা আর শিখতে চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাশরুর ইমতিয়াজ ডেইলি স্টার বাংলাকে 2021 সালে বলেছিলেন, এই 14টি ভাষার জনগোষ্ঠীতে লোকসংখ্যা এক থেকে 40 হাজারের মধ্যে। একই প্রতিবেদন লিখেছে, বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো ভাষার বক্তা পাঁচ হাজারের কম হলে সেটি বিপন্ন ধরা হয়। পাত্রদের যেকোনো প্রকাশিত হিসাবই এই সীমার আশপাশে বা নিচে।

এসআইএলের গবেষণা প্রসঙ্গে প্রথম আলো লিখেছে, সংস্থাটি তিন বছর ধরে 15টি জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে কাজ করেছে, যার একটি পাত্র, এবং মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করেছে Expanded Graded Intergenerational Disruption Scale (EGIDS) [প্রথম আলো, 2024]। লালেং থারকে EGIDS-এর কোন স্তরে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদনে তা বলা নেই। আসাদুজ্জামান একই লেখায় যে ভাষাগুলোকে বিপন্ন বলেছেন, তার একটি কুড়ুখ; সেটি নিয়ে আছে আমাদের লেখা কুড়ুখ: ওরাওঁদের ভাষা বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে টিকে আছে।

পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ: সম্প্রদায় নিজেই যে বই লিখেছে

লালেং থারের প্রথম শব্দকোষ লিখেছে পাত্র সম্প্রদায় নিজেই। ‘পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ’ নামের 88 পৃষ্ঠার বইটি এবং 80 পৃষ্ঠার ‘পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ প্রকাশ করে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ)। দুটির মোড়ক উন্মোচন হয় 18 অক্টোবর 2020, সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে।

অনুষ্ঠানের খবর ছাপে সিলেটের অন্তত দুটি অনলাইন পত্রিকা — সিলেট টুডে টোয়েন্টিফোর ও ড্রিম সিলেট 24। দুটি প্রতিবেদনের ভাষা প্রায় হুবহু এক। সেখানে আছে: অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাসকপের নির্বাহী প্রধান গৌরাঙ্গ পাত্র, সঞ্চালনা করেন সমন্বয়কারী লাবনী স্বার্তী, আর শুরুতে লাবনী স্বার্তী পাত্রদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখান। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা ও মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি এ কে শেরাম।

বই দুটি কোন প্রকল্পের অর্থে ছাপা, তা নিয়ে উৎসে দুই রকম তথ্য আছে। সিলেটের প্রতিবেদন দুটি বলছে, ইউরোপিয়ান কমিশন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও কাপেং ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষা সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায়। Kawsar Ahmad লিখেছেন, অর্থায়ন এসেছে AIERP, IWGIA ও ইউরোপিয়ান কমিশন থেকে।

Ahmad দুটি বইয়ের বিবরণ দিয়েছেন [Ahmad 2024]। ‘পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ সম্পাদনা করেছেন গৌরাঙ্গ পাত্র, লাবনী স্বার্তী ও Bichindra Kumar Patra; এতে আছে বসতি, ভাষা, গোত্র, সমাজ, গ্রামীণ সংস্কৃতি, পরিবার, নারীর অবস্থা, অর্থনীতি, শিক্ষা, ধর্মাচার, সামাজিক শাসন আর মুক্তিযুদ্ধে পাত্রদের অবদান। শব্দকোষে দেবদেবীর নাম থেকে শুরু করে স্থানীয় পথঘাটের নাম পর্যন্ত নানা ধরনের শব্দের বাংলা অর্থ দেওয়া আছে, আর Ahmad এটিকেই লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।

Ahmad-এর প্রবন্ধের পরিশিষ্টে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বইটি থেকে Moumita Patro-র লেখা লালেং থারের একটি ছড়া ইংরেজি অনুবাদসহ ছাপা হয়েছে। ছড়াটির দুটি চরণের ইংরেজি অনুবাদ: “My language is Laleng Thar / Bangladesh is my homeland”।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বইটির ইংরেজি অনুবাদ বেরিয়েছে পরে। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ জানায়, ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন 13 ফেব্রুয়ারি 2024 তাদের অস্ট্রেলিয়া ডে অনুষ্ঠানে Cultural Heritage of the Patra বইটির অনুবাদ প্রকাশ করে, যার অনুবাদে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা দিয়েছে [প্রথম আলো, 2024]।

সম্প্রদায়ের আরেকটি উদ্যোগের কথা আসাদুজ্জামান লিখেছেন: পাত্র কল্যাণ পরিষদের সহযোগিতায় সেনাপতিটিলা গ্রামে একটি পাত্র ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রটি কবে থেকে চলছে বা সেখানে কী শেখানো হয়, তা জানা যায়নি। Ipshita-ও ডেইলি স্টারে লিখেছেন, লালেংভাষীরা ও তাঁদের সংগঠন নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষা ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পাত্র ভাষা নিয়ে কে কী গবেষণা করেছেন

পাত্র ভাষা নিয়ে সবচেয়ে বড় কাজ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে 2018 সালের তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভটি বাংলা একাডেমি সেপ্টেম্বর 2025-এ ‘পাত্র ভাষা ও সংস্কৃতি’ নামে বই আকারে প্রকাশ করেছে, 215 পৃষ্ঠার। এর আগে-পরে আরও অন্তত ছয়টি কাজ পাওয়া যায়।

সালকাজকী আছে
2011সৌরভ সিকদার, Bangladesher Adibasi Bhasha, বাংলা একাডেমিদশটি আদিবাসী ভাষার মধ্যে লালেং; জনসংখ্যা ও পেশা; লালেংকে চীনা-তিব্বতি পরিবারে রাখা (Ahmad-এর বিবরণে)
2012S. Chowdhury ও K. Saha, ‘Indigenous Housing and Settlement Pattern of Patro (Laleng) Community in Sylhet’, IJEIT 2(6)পাত্রদের বসতি ও ঘরের নকশা; ভাষাগত বংশলতিকা
2014Md. Ashraful Karim, Bhashar Nanarup-এর প্রবন্ধ ‘Adibasi Patra Bhasha: Bhashatatthik Boishishtyer Swaroop Sandhan’রূপতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্ব; 6 স্বর, 23 ব্যঞ্জন
2018মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বারো অধ্যায়; অষ্টম অধ্যায়ে ভাষা বিশ্লেষণ; 24 ব্যঞ্জন; গণনা ও লিঙ্গ
2020পাসকপ, ‘পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ ও ‘পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ’সম্প্রদায়ের নিজের জরিপ, শব্দকোষ
2024Kawsar Ahmad, Mother Language 8(1–2): 49–697 স্বর, 28 ব্যঞ্জন; সর্বনাম, কাল, বাক্যগঠন
2025মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ‘পাত্র ভাষা ও সংস্কৃতি’, বাংলা একাডেমিঅভিসন্দর্ভের গ্রন্থরূপ; শব্দভাণ্ডার, লোকসাহিত্য, রূপমূল তালিকা

আসাদুজ্জামানের বইয়ের পর্যালোচনা ছেপেছে দেশ রূপান্তর, 28 সেপ্টেম্বর 2026, লিখেছেন সুহৃদ সাদিক [দেশ রূপান্তর]। সেখানে আছে, বারো অধ্যায়ের বইটিতে একটি অধ্যায়ে পাত্র ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক, রূপতাত্ত্বিক, বাক্যতাত্ত্বিক ও অর্থতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, দশম অধ্যায়ে বিয়ে, গৃহনির্মাণ, খাদ্য, ধর্মাচার ও মৃতের সৎকারে ব্যবহৃত শব্দের বিশ্লেষণ, একাদশ অধ্যায়ে পাত্রদের লোকসাহিত্য, আর চারটি পরিশিষ্টে রূপমূল তালিকা, নানা ধরনের বাক্য, আলোকচিত্র ও ভাষার নমুনা। বইয়ের মূল্য 460 টাকা।

Kawsar Ahmad সিলেট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। তাঁর মাঠ-উপাত্ত এসেছে সিলেট সদর উপজেলার একটি পাত্র গ্রাম থেকে, চারজন পুরুষ, চারজন নারী, তিনজন প্রবীণ ও চারজন শিশু — মোট 15 জনের কাছ থেকে। নমুনাটি ছোট, আর এক গ্রামের; সেটি মাথায় রেখেই তাঁর সংখ্যাগুলো পড়া দরকার।

আরও দুটি চলমান কাজের খবর পাওয়া যায়। টিবিএস জানায়, Sharmi Barua সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে লালেং ভাষা নিয়ে পিএইচডি করছেন। আর Ipshita ডেইলি স্টারে লিখেছেন, সরকারের EBLICT প্রকল্পের অধীন ‘Digitisation of Ethnic Languages in Bangladesh’ অংশে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও আইসিটি বিভাগ, বাস্তবায়নকারী Dream71 Bangladesh Limited, 40টি জাতিগত ভাষার ডিজিটাল ভান্ডার গড়ছে [Ipshita 2024]। এর মধ্যে লালেংয়ের জন্য শব্দ, ব্যাকরণ এবং পূর্বনির্ধারিত ও স্বতঃস্ফূর্ত কথার মোট 300 মিনিটের অডিও সংগ্রহ হয়েছে, আর আইপিএ প্রতিলিপির কাজ চলছিল। সেই ভান্ডার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

আরও দুটি বইয়ের নাম পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলোর ভেতরের তথ্য এখানে যাচাই করা যায়নি: Ratanlal Chakraborty-র Nihsha Adibasi Patra (Ahmad-এর উল্লেখ) আর Mohammad Abdul Hye-এর Laleng Canvas (টিবিএসের উল্লেখ)।

গৌড় গোবিন্দের উত্তরসূরি: পাত্রদের নিজেদের ইতিহাসের দাবি

পাত্ররা নিজেদের সিলেটের গৌড় রাজ্যের শেষ হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দের উত্তরসূরি বা অনুসারী বলে দাবি করেন। এটি তাঁদের মৌখিক ইতিহাস; প্রবীণদের বরাতে Kawsar Ahmad লিখেছেন, তাঁরা চতুর্দশ শতকের আগে থেকে সিলেট অঞ্চলে আছেন। দাবিটি প্রমাণিত নয় — ইংরেজি উইকিপিডিয়া তা স্পষ্ট বলেছে, আর সংবাদমাধ্যম একে ‘বিশ্বাস’ হিসেবেই লিখেছে।

Ahmad এই কাহিনিটি দিয়েছেন: শাহজালালের সঙ্গে সংঘর্ষে গৌড় গোবিন্দ পরাজিত হয়ে অনুসারীদের নিয়ে উত্তরে চলে যান, অনেকে তাঁর সঙ্গে যেতে পারেননি, আর তখন থেকে পাত্ররা গভীর বনে নতুন জীবন শুরু করেন। টিবিএস লিখেছে, ‘ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়’ যে 1303 সালে সিলেট বিজয়ের পর রাজপরিবার ও অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পাত্ররা শহর ছেড়ে উত্তর সিলেটের বনে চলে যান।

ইংরেজি উইকিপিডিয়ার Gour Kingdom নিবন্ধ বলছে, গৌড়ের আদি শাসকেরা ‘Pator-Chutia’ বা ‘Patro’ নামের একটি সর্বপ্রাণবাদী গোত্রের ছিলেন বলে কথিত, পরে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন; আজকের লালেংরা এই রাজাদের বংশধর বলে দাবি করেন, ‘যদিও তা প্রমাণ করা যায় না’। প্রথম আলোর 2024 সালের প্রতিবেদনেও আছে, পাত্রদের মধ্যযুগের সিলেটের গৌড় রাজ্যের টিকে থাকা উত্তরাধিকার বলে ‘বিশ্বাস করা হয়’।

টিবিএসের প্রতিবেদক Kushirgul-এ লক্ষ করেছেন, গ্রামের মানুষ এই ইতিহাসের কথা জানেন না, যা তিনি বইপত্রে পড়ে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ গৌড় গোবিন্দের সঙ্গে সম্পর্কের কাহিনিটি অন্তত সব পাত্র পরিবারে সমানভাবে চালু নয়।

বারো গোত্র, পিতৃসূত্র আর ধর্মাচার: পাত্র সমাজের গড়ন

পাত্র সমাজ 12টি গোত্রে বিভক্ত, আর বাংলাপিডিয়া বলছে প্রতিটি গোত্রই সমমর্যাদার। সমাজ পুরোপুরি পিতৃতান্ত্রিক; সম্পত্তি পান কেবল ছেলেরা। আদিতে তাঁরা সর্বপ্রাণবাদী ছিলেন, পরে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন, তবে আচারে আদি বিশ্বাস আর হিন্দু রীতি মিশে আছে।

গোত্রকে লালেং থারে বলা হয় ‘rai’। পাসকপের বইয়ের বরাতে Kawsar Ahmad বারোটি গোত্রের নাম দিয়েছেন (রোমান হরফে, যেভাবে প্রবন্ধে আছে): Langkhirai, Gaburai, Alairai, Langthurai, Tongrarai, Tukurai, Theklarai, Kelaangrai, Chamangrai, Barai, Tiprarai ও Chandrakanyarai। প্রতিটি নামের শেষে ‘rai’ আছে, যা গোত্র-বাচক শব্দের সঙ্গে মেলে। Ahmad লিখেছেন, গোত্রগুলোর মধ্যে সামাজিক বা উঁচু-নিচু স্তরভেদ নেই, আর সনাতন ধর্ম পালন করলেও সাংস্কৃতিকভাবে তাঁরা বাঙালি হিন্দুদের থেকে আলাদা।

উত্তরাধিকার নিয়ে বাংলাপিডিয়া: কেবল ছেলে পিতার সম্পত্তি পায়, কন্যাসন্তানের কোনো অধিকার স্বীকৃত নয়, আর ছেলে না থাকলে সম্পত্তি পান ভাই বা ভাইয়ের ছেলেরা। বাংলাদেশের অন্য জাতিগুলোর সঙ্গে তুলনা আছে আমাদের লেখা বাংলাদেশের কোন জাতিগুলো মাতৃসূত্রীয়, কোনগুলো নয়-এ।

বাংলাপিডিয়া পাত্রদের কয়েকটি পূজার নিজস্ব নাম দিয়েছে:

পূজার নাম (বাংলাপিডিয়ার বানানে)কার উদ্দেশে
পুইনদুর্গা; সর্বজনীনভাবে, আবার অনেক পরিবার নিজের বাড়িতেও করে
পুইলুংনংবিষহরী (মনসা); মূলত মানত পূজা, শ্রাবণ মাসে
কর্তাইনকার্তিক ও গণেশ
মলমথংয়াংমহাদেব বা শিব
ইকওইনকালী

বাংলাপিডিয়া আরও লিখেছে, পাত্রদের বাড়িতে কোনো দেবদেবীর মূর্তি থাকে না। পূজার উপকরণে থাকে পাঁঠা, জোড়া কবুতর, চিতল বা রুই বা গজার মাছ, ভাতের তৈরি হাঁড়িয়া, পান-সুপারি, নারকেল, গুড় আর মৌসুমি ফসল।

আগে আট-দশ বছরের প্রতিটি ছেলের কানের লতি গাছের কাঁটা দিয়ে ফোঁড়ানো হতো; পাত্ররা একে পুরুষদের শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান বলেন, আর কান ফোঁড়ানো না থাকলে বিয়ের দিনই তা করা হতো। বিয়ে দুই রকম: ‘সাব্যস্ত বিয়ে’ আর ‘সীতকই’ — বলপূর্বক বিয়ে, যাকে পাত্ররা মর্যাদাহীন মনে করেন। চাচাতো, মামাতো, পিসতুতো বা মাসতুতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে চলে না।

বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি ভুক্তিতে একটি অমিল আছে। বাংলা ভুক্তি বলছে, হিন্দুদের মতো জন্ম নিয়ে পাত্রদের বিস্তৃত আচার নেই, তবে পারলৌকিক আচার বেশ বিস্তৃত। ইংরেজি ভুক্তি বলছে, জন্মের আচার হিন্দুদের চেয়ে বেশি বিস্তৃত, আর মৃত্যুর আচার হিন্দু রীতির খুব কাছাকাছি।

পোশাক ও খাবার নিয়ে Ahmad পাসকপের বইয়ের বরাতে লিখেছেন, পাত্রদের নিজস্ব পোশাক এখন বিলুপ্ত; প্রবীণদের কথায়, পুরুষেরা পরতেন জামা ও ধুতি, নারীরা শাড়ি, আর 25 পয়সার মুদ্রা দিয়ে বানানো রুপার আংটির মতো নিজস্ব গয়না ছিল। খাবার এখন বাঙালিদের মতোই, তবে তাঁরা সপ্তাহে এক দিন নিরামিষ খান। ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে ছিল ‘Pachuben’ ও ‘Falaben’, আর ঘরে তৈরি পানীয় ‘khar’।

কয়লা, লেবু আর হারানো বন: পাত্রদের জীবিকা কীভাবে বদলাল

পাত্রদের প্রধান পেশা ছিল কৃষি, পরে তাঁরা কাঠ পুড়িয়ে কাঠকয়লা বানিয়ে জীবিকা চালাতেন — পাসকপের বইয়ের বরাতে এ কথা লিখেছেন Kawsar Ahmad। গোয়াইনঘাটে পাত্র পরিবারগুলো লেবু চাষ করে। বন কমে যাওয়ায় শিকার ও ভেষজ জ্ঞানের মতো বনের সঙ্গে বাঁধা চর্চাগুলো হারাচ্ছে।

জুমজার্নালের আর্কাইভে পাভেল পার্থর 2019 সালের লেখাটি লেবুর কথা বলে [পাভেল পার্থ, জুমজার্নাল]। তিনি লিখেছেন, সিলেট অঞ্চল সাতকড়া, জারা, আদাজামির, কাটাজামির নামের নানা জাতের লেবুর জন্য বিখ্যাত, আর ঐতিহাসিকভাবে এসব লেবু মূলত চাষ করে আসছেন লালেং বা পাত্র সমাজ। গোয়াইনঘাটের ফতেপুর ইউনিয়নের মালগাঁও গ্রামে পাত্র পরিবারগুলো মূলত জারা ও জামির লেবু চাষ করে; বাঙালি পাইকাররা গ্রামে এসে লেবু কিনে নেন, আর তা মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

সিলেটের খাদিমনগর বনে মাথার ওপরে চওড়া সবুজ পাতার চাঁদোয়া, পাতার ফাঁকে রোদ
খাদিমনগরের বন, সিলেট — Kawsar Ahmad-এর প্রবন্ধে উদ্ধৃত হিসাবে কয়েকটি পাত্র গ্রাম খাদিমনগরের পাহাড়ে। ছবি: Faisal Akram · CC BY-SA 2.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

টিবিএসের প্রতিবেদন বলছে, পাত্ররা জমিনির্ভর অর্থনীতির মানুষ — শিকার, সংগ্রহ, ছোট পরিসরের কৃষি ও জুম চাষ [TBS 2024]। লালেং ভাষা নিয়ে গবেষণারত Sharmi Barua টিবিএসকে বলেছেন, পাত্ররা দ্রুত ঐতিহ্য ও আচার হারাচ্ছেন কারণ তাঁরা বন হারাচ্ছেন। তাঁর উদাহরণ: শিকার পাত্রদের কাছে কখনো নিছক শখ ছিল না, ছিল সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; বন কমে যাওয়ায় তা এখন কঠিন। একই কারণে বর্তমান প্রজন্ম পূর্বপুরুষদের মতো ভেষজ গাছ চেনে না।

Kushirgul-এর এক প্রবীণ বাসিন্দা টিবিএসকে বলেছেন, 20 বছর আগে চারপাশে ঘন বন ছিল, এখন সব শেষ। তাঁর পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলেরা দিনমজুরি করেন। একই প্রতিবেদনে আছে প্রসবকালীন জটিলতায় সময়মতো হাসপাতালে না যেতে পেরে এক প্রতিবেশীর মৃত্যুর কথা — স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির একটি সাক্ষ্য।

পাত্রদের সঙ্গে চা-বাগানের সম্পর্ক নিয়ে উৎসগুলো পরিষ্কার নয়। আমাদের লেখা চা বাগানের আদিবাসী জনগোষ্ঠী-এ যে চা-শ্রমিক জাতির তালিকা আছে, সেখানে ‘Patro’ নামটি আছে; কিন্তু সেই তালিকার পাত্ররা সিলেটের লালেংদের অংশ কি না, তা বলা নেই।

পাত্রদের জমি কীভাবে হাতছাড়া হয়েছে: গবেষণা যা বলে

পাত্রদের জমি হারানো নিয়ে 2017 সালের একটি গবেষণা বলছে, প্রভাবশালী মূলধারার কিছু মানুষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাল কাগজ ও জোর করে উচ্ছেদের মাধ্যমে পাত্রদের জমি দখল করেছে, আর সবচেয়ে বেশি পাত্র পরিবার ভূমিহীন হয়েছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ফলে।

গবেষণাটি Md. Bayezid Alam ও K. M. Atikur Rahman-এর ‘Land Grabbing and Its Impacts on Indigenous Livelihoods: A Study on the Patro Community in Sylhet’, প্রকাশিত Developing Country Studies 7(9), 2017 [IISTE]। টিবিএস একই শিরোনামের 2017 সালের একটি গবেষণা উদ্ধৃত করেছে Journal of Social Studies-এর নামে, এবং লিখেছে আগের তিন দশকে পাত্রদের আনুমানিক 217,100 শতাংশ জমি হাতছাড়া হয়েছে। জার্নালের নাম দুই জায়গায় দুই রকম, আর 217,100 সংখ্যাটি IISTE-র সারসংক্ষেপে নেই।

টিবিএস আরও দুটি কাজ উদ্ধৃত করেছে। Abul Barkat-এর 2016 সালের বই Political Economy of Unpeopling of Indigenous Peoples: the Case of Bangladesh পাত্রদের জমি হারানোর প্রধান পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভূমি রেকর্ডে জালিয়াতি, জাল দলিলে দখল, প্রভাবশালী বাঙালিদের দখল আর বসতিস্থাপনকারীদের দখল। আর 2008 সালে Annual Review of Ethnic Affairs-এ ‘Identity Crisis of Patra Indigenous People’ শিরোনামের একটি গবেষণা লিখেছে, সামাজিক বনায়ন, ইকো-ট্যুরিজম, ইকো-পার্ক ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মতো নানা প্রকল্পের নামে সরকারও তাঁদের জমি অধিগ্রহণ করেছে।

ইতিহাসের দিক থেকে টিবিএস দুটি বাঁক দেখিয়েছে: 1947 ও 1971। 1971 সালে ভারতে চলে যাওয়া অনেকে যুদ্ধের পর ফিরলেও, Kushirgul-এর এক বাসিন্দার ভাষায়, ফিরে এসে তাঁরা দেখেন বাড়ি ও জমি ধীরে ধীরে বাঙালি ও বসতিস্থাপনকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, তাঁর বাবার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অনেক জমি ছিল, এখন কেবল বসতবাড়ির জমিটুকু আছে। নিউ জার্সির Monmouth University-র অধ্যাপক Golam M. Mathbor টিবিএসকে বলেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবানদের জমি দখলের ফলে পাত্ররা দ্রুত প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।

এসব অভিযোগে কোনো নির্দিষ্ট মামলা, রায় বা সরকারি তদন্তের তথ্য উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি। যা আছে তা গবেষণার সাধারণ সিদ্ধান্ত ও সম্প্রদায়ের মানুষের সাক্ষ্য।

মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ নেই: শিক্ষা আর ভাষার সম্পর্ক

2021 সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাত্র শিশুদের নিজের ভাষায় পড়ার কোনো সরকারি ব্যবস্থা ছিল না। সরকার 2017 সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষার বই দিতে শুরু করে মাত্র পাঁচটি ভাষায় — চাকমা, মারমা, ককবরক, গারো ও সাদরি। লালেং থার সেখানে নেই।

তথ্যটি ডেইলি স্টার বাংলার 2021 সালের প্রতিবেদনের [ডেইলি স্টার বাংলা, 2021]। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেছেন, বিপন্ন 14টি ভাষার মানুষ যেন অন্তত প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত নিজের ভাষায় পড়তে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, আর তখন পর্যন্ত এই 14টির জন্য সরকারের এমন কোনো উদ্যোগ ছিল না।

টিবিএসের প্রতিবেদনে Jahiria MU High School-এর দশম শ্রেণির এক পাত্র শিক্ষার্থী বলেছে, মাতৃভাষায় পড়তে না পারা একটি কারণ যে জন্য তারা বাংলাভাষী সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠে না। Ipshita ডেইলি স্টারে লিখেছেন, পড়াশোনা বাংলা ও ইংরেজিতে হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম লালেং কম ব্যবহার করে।

Kawsar Ahmad তাঁর প্রবন্ধের শেষে ভাষাটি রক্ষায় পাঁচটি সুপারিশ রেখেছেন:

  1. অন্তত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে পাত্র ভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা।
  2. মূলধারার গণমাধ্যমে লালেং থারের সাহিত্য প্রচার ও সংরক্ষণ।
  3. লালেং থারের একটি ব্যাকরণ তৈরি।
  4. শিক্ষাক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ।
  5. রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বড় পরিসরে অভিধান সংকলন।

পাত্ররা 2019 সালের গেজেটে স্বীকৃত 50টি জাতিগোষ্ঠীর একটি; তালিকা কীভাবে 27 থেকে 50 হলো তা আছে আমাদের লেখা স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা 27 থেকে 50 হলো কীভাবে-এ। দেশের অন্য আদিবাসী ভাষাগুলোর অবস্থার একটি পুরোনো চিত্র পাওয়া যাবে আর্কাইভের অনূদিত লেখা আমাদের আদিবাসী ভাষাগুলোর বর্তমান অবস্থা-এ, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগুলোর কথা পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।

প্রশ্নোত্তর

পাত্র জনগোষ্ঠী কারা?

পাত্ররা সিলেট অঞ্চলের একটি ছোট আদিবাসী জাতি, নিজেদের তাঁরা লালেং বলেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ‘লালেং’ মানে পাথর, আর তাঁরা কোথাও কোথাও পাতর বা পাথর নামেও পরিচিত। সমাজ 12টি সমমর্যাদার গোত্রে বিভক্ত ও পিতৃতান্ত্রিক। 2019 সালের গেজেটে স্বীকৃত 50টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পাত্ররা একটি।

পাত্রদের ভাষার নাম কী?

পাত্রদের ভাষার নাম লালেং থার। সিলেটের সংবাদপত্র ও Kawsar Ahmad-এর 2024 সালের গবেষণায় এই নামটি আছে। ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান লিখেছেন, পাত্ররা নিজেদের ভাষাকে ‘লালং ভাষা’ বলেন এবং এটি পাত্র ভাষা নামেও পরিচিত। এসআইএলের গবেষণা নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নামটি লেখা ‘Lalengthar’।

বাংলাদেশে পাত্র জনসংখ্যা কত?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 3,103 জন, যার 2,571 জন সিলেট বিভাগে। সম্প্রদায়ের সংগঠন পাসকপের 2020 সালের জরিপে সংখ্যা 3,999, 705টি পরিবারে। আসাদুজ্জামান 2011 সালের জনগণনার বরাতে 2,033 লিখেছেন, বাংলাপিডিয়া প্রায় 3,000। ডেইলি স্টারের 2024 সালের এক লেখায় লালেং ভাষাভাষী প্রায় 6,000।

পাত্ররা কোথায় থাকেন?

পাত্ররা মূলত সিলেট জেলার সদর, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় থাকেন। পাসকপের 2020 সালের জরিপ চারটি উপজেলার কথা বলে, সঙ্গে মৌলভীবাজারের বড়লেখা। গ্রামের সংখ্যা উৎসভেদে 19, 23 বা 33। নাম ধরে পাওয়া যায় Kushirgul, Surma Gate, সেনাপতিটিলা ও গোয়াইনঘাটের মালগাঁও।

লালেং থারের কি নিজস্ব বর্ণমালা আছে?

না। লালেং থারের নিজস্ব লিপি নেই; পাত্ররা বাংলা হরফে নিজেদের ভাষা লেখেন। 2020 সালে পাসকপের প্রকাশিত ‘পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ’ও বাংলা হরফে। আইএমএলআইয়ের জরিপের বরাতে ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে, দেশের 41টি ভাষার মধ্যে কেবল আটটির নিজস্ব বর্ণমালা আছে।

লালেং থার কোন ভাষা পরিবারের?

নিষ্পত্তি হয়নি। সৌরভ সিকদার একে চীনা-তিব্বতি পরিবারে রেখেছেন, আর Chowdhury ও Saha-র 2012 সালের প্রবন্ধে একে তিব্বতি-বর্মি শাখার বোড়ো উপশাখায় রাখা হয়েছে। ডেইলি স্টারে 2024 সালে লেখা হয়েছে, ব্যাপক গবেষণার পরও ভাষাটি কোন পরিবারে পড়ে তা অধরা।

লালেং থার কি বিপন্ন ভাষা?

হ্যাঁ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের 2018 সালে শেষ হওয়া জরিপে বিপন্ন 14টি ভাষার একটি ‘লালেং (পাত্র)’। ড. আসাদুজ্জামান একে ফিশম্যান মানদণ্ডে ষষ্ঠ স্তরে রেখেছেন; তাঁর হিসাবে চল্লিশোর্ধ্বরা ভাষাটি বলেন, শিশুরা শিখতে চায় না, আর প্রায় 50 শতাংশ আঞ্চলিক বাংলার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

পাত্র ভাষার প্রথম অভিধান কোনটি?

‘পাত্র ভাষা ও শব্দকোষ’, 88 পৃষ্ঠার বই, প্রকাশ করেছে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ)। 18 অক্টোবর 2020 সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘পাত্র জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বইয়ের সঙ্গে এর মোড়ক উন্মোচন হয়। Kawsar Ahmad এটিকে লালেং থারের প্রথম অভিধান বলেছেন।

লালেং থারে এক থেকে পাঁচ কীভাবে গোনা হয়?

Kawsar Ahmad-এর প্রবন্ধে আসাদুজ্জামানের তালিকা অনুযায়ী আইপিএ বানানে: এক /tʃik/, দুই /kʰɑni/, তিন /tʰom/, চার /pʰɑlli/, পাঁচ /pʰɑnɑ/। বিশ হলো /innokol tʃik/। পাসকপের 2020 সালের বই বলছে, এই ছয়টি ছাড়া বাকি নিজস্ব সংখ্যা-শব্দ এখন আর ব্যবহার হয় না।

‘লালেং’ নামের অর্থ কী?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ‘লালেং’ মানে পাথর। টিবিএসের 2024 সালের ফিচারে বিকল্প ব্যাখ্যাও আছে: Mohammad Abdul Hye লিখেছেন, লালেংরা কাঠকয়লা বানাতেন, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘পাথর’ বলা হয়, আর সেখান থেকেই ‘পাত্র’ বা ‘পাতর’ নাম আসতে পারে। নামটি 2005 সালে পাভেল পার্থ জনপ্রিয় করেন।

পাত্ররা কোন ধর্ম পালন করেন?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পাত্ররা আদিতে সর্বপ্রাণবাদী ছিলেন, পরে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন। কালী, বিষহরী (মনসা), লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পূজা চলে, তবে বাড়িতে দেবদেবীর মূর্তি থাকে না। নিজস্ব পূজার নামের মধ্যে আছে পুইন (দুর্গা), পুইলুংনং (বিষহরী) ও ইকওইন (কালী)।

পাত্রদের জমি কীভাবে হাতছাড়া হয়েছে?

Md. Bayezid Alam ও K. M. Atikur Rahman-এর 2017 সালের গবেষণা বলছে, প্রভাবশালী মানুষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাল কাগজ ও জোর করে উচ্ছেদের মাধ্যমে জমি দখল করেছে, আর সবচেয়ে বেশি পরিবার ভূমিহীন হয়েছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অধিগ্রহণে। টিবিএস তিন দশকে আনুমানিক 217,100 শতাংশ জমি হারানোর হিসাব উদ্ধৃত করেছে।

যা এখনো জানা যায়নি

  • লালেং থার কোন ভাষা পরিবারের — উৎসগুলো একমত নয়, আর তুলনামূলক ঐতিহাসিক ভাষাতাত্ত্বিক কোনো কাজ পাওয়া যায়নি।
  • কতজন মানুষ এখনো লালেং থার সাবলীলভাবে বলেন — ভাষাভাষীর সংখ্যা নিয়ে একমাত্র প্রকাশিত হিসাব (প্রায় 6,000) জনসংখ্যার যেকোনো হিসাবের চেয়ে বেশি, আর তা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে তা বলা নেই।
  • জনশুমারি 2022-এ সিলেট বিভাগের বাইরে গোনা 532 জন ‘পাত্র’ — বিশেষ করে খুলনার 258 জন — কারা।
  • পাসকপের 2020 সালের জরিপের 33টি গ্রামের নাম, আর উপজেলাভিত্তিক বণ্টন।
  • সেনাপতিটিলার ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র কবে থেকে চলছে, সেখানে কারা শেখে।
  • সরকারি ডিজিটাল ভাষা-ভান্ডারে সংগৃহীত লালেংয়ের 300 মিনিটের অডিও প্রকাশিত হয়েছে কি না।
  • এসআইএলের গবেষণায় লালেং থারকে EGIDS-এর কোন স্তরে রাখা হয়েছে।
  • বই দুটির অর্থায়ন কোন প্রকল্প থেকে — সংবাদপত্র বলছে ইউরোপিয়ান কমিশন, আইএলও ও কাপেং ফাউন্ডেশন; Kawsar Ahmad বলছেন AIERP, IWGIA ও ইউরোপিয়ান কমিশন।
  • 217,100 শতাংশ জমি হারানোর হিসাবটি কোন জার্নালে, কোন পদ্ধতিতে — টিবিএস ও IISTE-তে জার্নালের নাম আলাদা।
  • বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি ভুক্তিতে পাত্রদের জন্মকালীন আচার নিয়ে বিপরীত বক্তব্য — কোনটি ঠিক, অন্য কোনো উৎসে মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ

বিশ্বকোষ ও গবেষণা

  • সাদাত উল্লাহ খান, পাত্র, বাংলাপিডিয়া (বাংলা), বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।
  • Sadat Ullah Khan, Patra, The, Banglapedia (English), Asiatic Society of Bangladesh।
  • Kawsar Ahmad, ‘A Linguistic Review on the ‘Laleng Thar Language’ of the Patro Community of North-Eastern Bangladesh’, Mother Language 8(1–2): 49–69, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, 2024; BanglaJOL, DOI 10.3329/ml.v8i1.85884।
  • Md. Bayezid Alam ও K. M. Atikur Rahman, Land Grabbing and Its Impacts on Indigenous Livelihoods: A Study on the Patro Community in Sylhet, Developing Country Studies 7(9): 27–29, 2017।
  • Gour Kingdom, ইংরেজি উইকিপিডিয়া (দেখা হয়েছে 19 অক্টোবর 2026)।

সংবাদমাধ্যম

সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, আদিবাসীদের ভাষা বিলুপ্তি, সিলেট

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা