Last updated Nov 3rd, 2026
0

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চাকমা বর্ণমালা শেখানো উদ্যোগের সবচেয়ে বড় নথিভুক্ত রূপটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের: ‘চাঙমা সাহিত্য বা’। প্রথম আলোর 14 অক্টোবর 2019-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সংগঠনটির সদস্যরা উপজেলার 93টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো সম্মানী ছাড়া সপ্তাহে এক দিন করে চাকমা শিশুদের বর্ণপরিচয় পড়াতেন, নিজেদের প্রকাশ করা ‘পত্তম আদি পুদি’ বই দিয়ে; 2 ফেব্রুয়ারি 2019 থেকে ওই প্রতিবেদন পর্যন্ত শিখেছিল 3,102 শিশু।
সেই প্রতিবেদনের দৃশ্যটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘর। উপজেলা সদর থেকে 12 কিলোমিটার দূরের দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে বড় বড় করে চাকমা বর্ণ লেখা, আর শিশুরা সমস্বরে পড়ছে: চুচ্যাঙা-কা, গুজঙ্যা-খা, পিজপুঝা-আ। বোর্ডের সামনে যিনি দাঁড়িয়ে, তিনি বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক নন — সংগঠনের একজন স্বেচ্ছাসেবী। এই লেখা সেই ক্লাসগুলোর হিসাব: কারা পড়ান, কী বই দিয়ে, কত স্কুলে, কতজনকে, টাকা আসে কোথা থেকে — আর বিভিন্ন বছরের প্রতিবেদনে সংখ্যা ও নাম কোথায় মেলে না।
চাকমা লিপির ইতিহাস, বর্ণমালা ও ইউনিকোডের কথা আলাদা করে আছে চাকমা লিপি (অঝাপাত): উৎপত্তি, বর্ণমালা, ইউনিকোড ও পুনরুজ্জীবন লেখায়; ফোনে-কম্পিউটারে চাকমা লেখার পদ্ধতি আছে চাকমা, ম্রো ও মারমা লিপির ফন্ট ও কিবোর্ড লেখায়। এখানে সেগুলো আবার বলা হবে না।
এই লেখায়
চাঙমা সাহিত্য বা দীঘিনালার একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যার প্রধান কাজ চাকমা ভাষাভাষী মানুষকে বিনা মূল্যে নিজস্ব বর্ণমালা পড়তে-লিখতে শেখানো। প্রথম আলো (19 ফেব্রুয়ারি 2017) নামটির বাংলা অর্থ লিখেছে ‘চাকমা সাহিত্য কুটির’; প্রতিষ্ঠার তারিখ 5 জানুয়ারি 2000।
প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদনে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য দুটি বলা হয়েছে: চাকমা সাহিত্যের প্রকাশনা সংরক্ষণ, আর চাকমা জনগোষ্ঠীকে নিজ ভাষার বর্ণমালার সঙ্গে পরিচিত করানো।
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী উদ্যোগটির নেতৃত্বে ছিলেন দীঘিনালার পূর্ব কাঁঠালতলি গ্রামের ইনজেব চাকমা (তখন বয়স 32), আর সঙ্গে ছিলেন রিপন চাকমা, সুমিত্র চাকমা, নমিতা চাকমা ও প্রীতি বিকাশ চাকমা। সংগঠনটি বর্ণমালা শেখানোর বাইরে একটি পাঠাগারও গড়েছিল — উপজেলা সদর থেকে 18 কিলোমিটার দূরের মনের মানুষ গ্রামে ‘সাঙু’ নামে। প্রতিবেদনটি বন্ধনীতে ‘সাঙু’ শব্দের অর্থ দিয়েছে: মাচাংয়ে ওঠার সিঁড়ি।
পরের প্রতিবেদনগুলোতে সংগঠনটি পরিচিত হয়েছে সভাপতি ইনজেব চাকমার নামে। প্রথম আলো (14 অক্টোবর 2019) তাঁকে ‘চাঙমা সাহিত্য বা–এর সভাপতি’ বলেছে, দ্য ডেইলি স্টার (17 ফেব্রুয়ারি 2021) বলেছে “Changma Sahitya Bah President Injeb Chakma”। তবে 2023 সালের দুটি প্রতিবেদনে সংগঠনের নাম অন্য — সে কথা নিচে আলাদা অংশে।
ইনজেব চাকমা দীঘিনালার পূর্ব কাঁঠালতলি গ্রামের বাসিন্দা এবং চাঙমা সাহিত্য বা-র সভাপতি ও কর্মসূচির সমন্বয়ক। প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি নিজেও শুরুতে চাকমা বর্ণমালা জানতেন না; 1994 সালে গৃহশিক্ষক বীর চাকমার কাছে শেখেন। এসএসসির পর তাঁর আর পড়ার সুযোগ হয়নি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 20 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদন তাঁকে পেশায় কৃষক বলেছে, আর লিখেছে, ব্যক্তিজীবনে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তিনি বর্ণমালা শেখানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন তাঁকে দুই সন্তানের জনক বলে উল্লেখ করেছে এবং লিখেছে, চাকমা মানুষকে নিজের ভাষার বর্ণমালা শেখানোই তখন তাঁর “একমাত্র কাজ”।
উদ্যোগের পেছনের প্রেরণা হিসেবে ইনজেব চাকমা দুটি প্রতিবেদনেই একজন মানুষের নাম করেছেন — পলান সরকার, যিনি ইনজেবের ভাষায় “গ্রামে গ্রামে বই বিলিয়ে মানুষকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন”। 2019 সালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “আমরাও মনে করি, নিজ ভাষায় বই না পড়লে অন্ধকারে থাকতে হবে।” তাঁর সম্পাদিত বর্ণশিক্ষার বইয়ের মুখবন্ধেও পলান সরকারের উক্তিটি আছে, যা নিচে বইয়ের অংশে।
লক্ষ্যের কথাও তিনি একাধিকবার বলেছেন। ডেইলি স্টারকে 2021 সালে: “We want every Chakma — from children to the elderly — to know how to read and write in our alphabet.” বিডিনিউজকে 2023 সালে তিনি একটি সময়সীমা দেন: 2050 সালের মধ্যে পুরো চাকমা জনগোষ্ঠীকে নিজস্ব বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
বর্ণমালা নিয়ে ইনজেব চাকমার কাজ গবেষণাতেও উল্লেখ পেয়েছে। চাকমা ভাষার যন্ত্র-অনুবাদ নিয়ে ChakmaNMT গবেষণাপত্রের (arXiv:2410.10219, v2) লেখকেরা লিপির বৈচিত্র্য — বর্ণের সংখ্যা, চিহ্ন, বানানের নিয়ম — নিয়ে বাংলাদেশের যে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের তালিকায় ইনজেব চাকমার নাম আছে। একই গবেষণার চাকমা ভাষার লেখার সংগ্রহে তাঁর একটি লেখাও (“My Legha by Injeb Chakma”) উৎস হিসেবে তালিকাভুক্ত।
যে সংগঠন দীঘিনালায় বর্ণমালা শেখায়, তার নাম সব প্রতিবেদনে এক নয়। 2017 ও 2019 সালের প্রথম আলো এবং 2021 সালের ডেইলি স্টার নাম দিয়েছে ‘চাঙমা সাহিত্য বা’; 2023 সালে বিডিনিউজ লিখেছে ‘নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদ’, প্রথম আলো লিখেছে ‘নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ’। প্রতিটিতেই প্রধান ব্যক্তি ইনজেব চাকমা।
| উৎস ও তারিখ | সংগঠনের নাম যেভাবে লেখা | ইনজেব চাকমার পরিচয় |
|---|---|---|
| প্রথম আলো, 19 ফেব্রুয়ারি 2017 | চাঙমা সাহিত্য বা (চাকমা সাহিত্য কুটির) | নেতৃত্বদাতা; বইয়ের সম্পাদক |
| প্রথম আলো, 14 অক্টোবর 2019 | চাঙমা সাহিত্য বা | সভাপতি |
| দ্য ডেইলি স্টার, 17 ফেব্রুয়ারি 2021 | Changma Sahitya Bah | President |
| বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 20 ফেব্রুয়ারি 2023 | নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদ | সংগঠনটি তিনি গড়ে তুলেছেন |
| প্রথম আলো, 4 মার্চ 2023 | নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ | কর্মসূচির সমন্বয়ক ও প্রশিক্ষক |
| Avijoy Chakma ও অন্যান্য, CHI 2026 গবেষণাপত্র (arXiv, জানুয়ারি 2026) | Noyaram Changma Sahitya Sangsad (NCSS); এক জায়গায় Noyaram Chakma Sahitya Sangsad | নাম উল্লেখ নেই |
নাম বদল হয়েছে, নাকি একই মানুষের নেতৃত্বে দুটি আলাদা সংগঠন কাজ করছে — কোনো প্রতিবেদন তা সরাসরি বলেনি। প্রতিবেদনগুলোতে পাশাপাশি যা পাওয়া যায়: দুই নামের সঙ্গেই একই মানুষ যুক্ত। দুই নামেই ক্লাস চলে দীঘিনালার একই বিদ্যালয়ে: 2019 সালে চাঙমা সাহিত্য বা-র সদস্য সোহাগী চাকমা দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার পড়াতেন, আর 2023 সালে নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে একই সোহাগী চাকমা একই বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার পড়াচ্ছেন। আর শুরুর সাল হিসেবে ডেইলি স্টার (চাঙমা সাহিত্য বা-র নামে) ও বিডিনিউজ (নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদের নামে) দুজনেই 2004 লিখেছে।
এই লেখায় 2019 পর্যন্ত বিবরণে ‘চাঙমা সাহিত্য বা’, আর 2023-এর প্রতিবেদনের তথ্যে সেই প্রতিবেদনের দেওয়া নামই ব্যবহার করা হয়েছে।
উৎসভেদে তিনটি সাল পাওয়া যায়। প্রথম আলো (2017) লিখেছে, সংগঠন প্রতিষ্ঠা 5 জানুয়ারি 2000 এবং বিনা মূল্যে ভাষা শেখানো শুরু সেপ্টেম্বর 2015 থেকে। ডেইলি স্টার (2021) ও বিডিনিউজ (2023) লিখেছে, বর্ণমালা শেখানোর উদ্যোগ শুরু 2004 সালে।
বিডিনিউজের প্রতিবেদনে ইনজেব চাকমার নিজের উদ্ধৃতি: “২০০৪ সাল থেকে আমরা মাতৃভাষায় কার্যক্রম শুরু করেছি।” একই প্রতিবেদনের সূচনা-বাক্য বলছে, তিনি “গত ১৯ বছর ধরে” লড়াই করছেন — 2023 থেকে পেছনে গুনলে যা 2004-এ পৌঁছায়। ডেইলি স্টারও লিখেছে “an initiative that started in 2004”।
প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন ‘বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের চাকমা ভাষা শেখানো’-র শুরু হিসেবে দিয়েছে 2015 সালের সেপ্টেম্বর, আর সেটি ইনজেবের সঙ্গে কথা বলেই লেখা। একই প্রতিবেদনে বলা আছে, তিনি নিজে বর্ণমালা শেখেন 1994 সালে।
প্রথম আলোর 2019 সালের প্রতিবেদন আরেকটি তারিখ দেয় — 2 ফেব্রুয়ারি 2019, যেদিন “চাঙমা সাহিত্য বা–এর বর্ণমালা শেখানোর কার্যক্রম” শুরু হয়। একই প্রতিবেদন এই তারিখ থেকে ওই সময় পর্যন্ত 3,102 শিশুর হিসাব দিয়েছে, আর শিশুরা পড়ছিল উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
| সাল | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1994 | ইনজেব চাকমা গৃহশিক্ষক বীর চাকমার কাছে বর্ণমালা শেখেন | প্রথম আলো 2017 |
| 5 জানুয়ারি 2000 | চাঙমা সাহিত্য বা প্রতিষ্ঠা | প্রথম আলো 2017 |
| 2004 | বর্ণমালা শেখানোর উদ্যোগ শুরু | ডেইলি স্টার 2021; বিডিনিউজ 2023 |
| সেপ্টেম্বর 2015 | বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের চাকমা ভাষা শেখানো শুরু | প্রথম আলো 2017 |
| 3 ফেব্রুয়ারি 2017 | নতুন 210 জনকে শেখানো শুরু | প্রথম আলো 2017 |
| 2 ফেব্রুয়ারি 2019 | প্রতিবেদনের ভাষায় “চাঙমা সাহিত্য বা–এর বর্ণমালা শেখানোর কার্যক্রম” শুরু | প্রথম আলো 2019 |
‘93টি স্কুল’ সংখ্যাটির উৎস প্রথম আলোর 14 অক্টোবর 2019-এর প্রতিবেদন। প্রতিবেদক নিজে লিখেছেন, চাঙমা সাহিত্য বা-র সদস্যরা “উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” কোনো সম্মানী ছাড়া চাকমা শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠ দিচ্ছেন। একই সংখ্যা ওই প্রতিবেদনে একজন সরকারি কর্মকর্তার কথাতেও আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষক মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার 93টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাঙমা সাহিত্য বা ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি চাকমা শিক্ষার্থীদের বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, আবার বিদ্যালয়ের চাকমা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও সহায়ক হচ্ছে — মাতৃভাষায় পাঠদানে তাঁরা এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে দুটি বিদ্যালয়ের নাম: দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বানছড়া আনন্দময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয়টির প্রধান শিক্ষিকা বেনু মারমা বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সপ্তাহে এক দিন এসে প্রাক্-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চাকমা বর্ণমালা শেখানো হয়। 93টি বিদ্যালয়ের পুরো তালিকা কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়নি।
সাড়ে তিন বছর পরের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি অন্য। প্রথম আলোর 4 মার্চ 2023-এর প্রতিবেদনে কর্মসূচির সমন্বয়ক ইনজেব চাকমা বলেন, নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদের নারী সদস্যরা দীঘিনালা উপজেলায় 41টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন কোর্সে গিয়ে বর্ণমালা শেখান। বিডিনিউজের 20 ফেব্রুয়ারি 2023-এর প্রতিবেদনও 41 সংখ্যাটি দিয়েছে, তবে অন্য প্রসঙ্গে: 41টি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ 2019 সালে 93টি বিদ্যালয়ে ক্লাসের কথা পাওয়া যায় প্রথম আলোর প্রতিবেদনে, আর 2023 সালে দীঘিনালার 41টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা পাওয়া যায় প্রথম আলো ও বিডিনিউজে। মাঝের বছরগুলোতে কতটি বিদ্যালয়ে ক্লাস চলেছে, তার কোনো প্রকাশিত হিসাব পাওয়া যায়নি।
সংগঠনটির শিক্ষার্থীর হিসাব প্রতিবেদনভেদে 415 থেকে 11,118 পর্যন্ত, কারণ প্রতিটি সংখ্যা ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন এলাকার এবং কখনো ভিন্ন দলের — কোথাও কেবল শিশু, কোথাও সব বয়সের মানুষ, কোথাও তিন পার্বত্য জেলা ও ঢাকা মিলিয়ে। প্রতিটি সংখ্যা সংগঠন বা তার সভাপতির দেওয়া; কোনো স্বাধীন গণনা পাওয়া যায়নি।
| উৎস ও তারিখ | কতজন | কাদের, কোথায়, কোন সময়ে |
|---|---|---|
| প্রথম আলো, 19 ফেব্রুয়ারি 2017 | 415 জন; আরও 210 জনের ক্লাস শুরু | সেপ্টেম্বর 2015 থেকে; দীঘিনালার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠাগারে, প্রাপ্তবয়স্কসহ |
| প্রথম আলো, 14 অক্টোবর 2019 | 3,102 শিশু | 2 ফেব্রুয়ারি 2019 থেকে; দীঘিনালার 93টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে |
| দ্য ডেইলি স্টার, 17 ফেব্রুয়ারি 2021 | প্রায় 10 হাজার | 2004 থেকে; সব বয়সের শিক্ষার্থী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ; তখন দেশের 200টি জায়গায় পাঠ, বেশির ভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় |
| বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 20 ফেব্রুয়ারি 2023 | 11,118 জন | তিন পার্বত্য জেলায় 218টি কেন্দ্রের মাধ্যমে; শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, হেডম্যান, কার্বারি ও চেয়ারম্যান |
| প্রথম আলো, 4 মার্চ 2023 | একজন স্বেচ্ছাসেবীর হিসাবে “দুই শতাধিক” | রিমি চাকমা ব্যক্তিগতভাবে যতজনকে শিখিয়েছেন |
সংখ্যাগুলোর মধ্যে আরেকটি অমিল দলের আকারে। প্রথম আলো (মার্চ 2023) লিখেছে, সংগঠনের 41 সদস্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাকমা ভাষা শেখান, তাঁদের 19 জন নারী। CHI 2026 গবেষণাপত্রে একজন অংশগ্রহণকারী — কোন সংগঠনের, তা গবেষণাপত্রে স্পষ্ট নয় — বলেছেন, “we have 144 members from various upazilas”।
শিক্ষার্থী কারা, সে বিষয়েও প্রতিবেদনগুলো ভিন্ন ছবি দেয়। 2017 সালে উত্তর রেংক্যার্যা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্লাসে এসেছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এমনকি রাঙামাটির একটি কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীও। 2019 সালের ক্লাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের। 2023 সালে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একটি কক্ষে একজন স্বেচ্ছাসেবী 15 শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছিলেন (প্রথম আলো), আর বিডিনিউজ লিখেছে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হেডম্যান, কার্বারি ও চেয়ারম্যানরাও শিখছেন।
প্রতিবেদনগুলোর বর্ণনায় ক্লাসের ধরন প্রায় একই: সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে একজন স্বেচ্ছাসেবী বিদ্যালয়ে যান, ব্ল্যাকবোর্ডে চাকমা বর্ণ লেখেন, প্রতিটি বর্ণের নাম ধরে উচ্চারণ করেন, আর শিক্ষার্থীরা সমস্বরে সঙ্গে সঙ্গে বলে। ক্লাস হয় বিদ্যালয়ের কক্ষেই।
প্রথম আলো 2019 সালে দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে ক্লাসটির বর্ণনা দিয়েছে, সেটি মঙ্গলবারের, দ্বিতীয় শ্রেণির। স্বেচ্ছাসেবী সোহাগী চাকমা তখন দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী; তিনি জানান, সংগঠন থেকে নিজে বর্ণমালা শিখে সপ্তাহের মঙ্গলবার প্রাক্-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ান। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের অনেক শিশু জানিয়েছে, ঘরে বাবা-মায়েরাও চাকমা বর্ণমালা জানেন না বলে এতদিন তারা পড়তে পারেনি।
2023 সালের মার্চে প্রথম আলো দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ক্লাসের বর্ণনা দিয়েছে। সেখানে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন সুইটি চাকমা — বোর্ডে বর্ণ লিখে উচ্চারণ করছিলেন “চুচ্যাঙক-কা, গুজঙ্যা-খা, পিচপূঝা-আ, চান্দ্যা-গা, তিনধাল্যা-ঘা, চিলাম-ঙা”, আর শিশুরা উচ্চ স্বরে সঙ্গে বলছিল।
শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়। 2017 সালে সংগঠনটির ক্লাস হতো চারটি জায়গায়: বৃহস্পতিবার চংড়াছড়ি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উত্তর রেংক্যার্যা উচ্চবিদ্যালয়ে, শুক্রবার রেংক্যার্যা উচ্চবিদ্যালয় ও মনের মানুষ এলাকার সাঙু পাঠাগারে। 17 ফেব্রুয়ারি 2017 সকালে উত্তর রেংক্যার্যা উচ্চবিদ্যালয়ে ইনজেব চাকমা ও সুমন চাকমা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে বর্ণ ধরে ধরে উচ্চারণ শেখাচ্ছিলেন।
কলেজেও ক্লাস হয়। বিডিনিউজ লিখেছে, এক শুক্রবার দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে বর্ণমালা ক্লাস চলছিল; প্রথম আলো (2023) লিখেছে, 24 ফেব্রুয়ারি সকালে একই কলেজের একটি কক্ষে রিমি চাকমা 15 শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছিলেন। দীঘিনালার বাইরেও কেন্দ্র আছে — ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক 2021 সালে খাগড়াছড়ির একটি বৌদ্ধ বিহারের কেন্দ্রে গিয়েছিলেন (প্রতিবেদনে নাম “Amrokanan Buddhist Monastery”), যেখানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের কাছে পড়ছিলেন।
CHI 2026 গবেষণাপত্র ক্লাসের উপকরণের কথা লিখেছে: সংগঠনটি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে মূলত বোর্ড-মার্কার দিয়ে পড়ায়, দেয়ালপত্রিকা বানায় এবং পাঠচক্রের আয়োজন করে। তাদের একটি দান করা কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার ও একটি প্রজেক্টর আছে, আর কম্পিউটারটি দিয়ে অনলাইনেও পড়ানো হয়।
চাকমা বর্ণমালায় প্রতিটি বর্ণের একটি নিজস্ব নাম আছে, আর প্রতিবেদনে বর্ণিত ক্লাসগুলোতে বর্ণ শেখানো হয় সেই নাম ধরে: চুচ্যাঙা-কা, গুজঙ্যা-খা, পিজপুঝা-আ। একই বর্ণের নাম ও বানান উৎসভেদে একাধিক রূপে পাওয়া যায়, আর জুমজার্নালের আর্কাইভে ঐতিহ্যবাহী বর্ণশিক্ষার একটি ধাপে ধাপে কাঠামো লেখা আছে।

শুধু 2016 থেকে 2023 সালের প্রথম আলোর প্রতিবেদনগুলোতেই প্রথম বর্ণটির নাম দুইভাবে ছাপা হয়েছে: “চুচ্যাঙা” (2016, 2019), “চুচ্যাঙক” (2023)। তৃতীয় বর্ণটি 2019 সালে “পিজপুঝা”, 2023 সালে “পিচপূঝা”। জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখা চাকমা ভাষার বর্ণমালা ও ব্যকরণ জানায়, প্রথম বর্ণটির আরও কয়েকটি নাম প্রচলিত: চুচেঙ্যা কা, চুচাঙ্যা কা, চুজেয়া কা ও চুজাঙা কা; দ্বিতীয়টির গুজাঙা খা, গুজেদ্য খা ও গুজেয়্য খা।
একই আর্কাইভ-লেখা চাকমা বর্ণশিক্ষার ঐতিহ্যবাহী কাঠামোটিও দিয়েছে। বৈদ্যদের তথা ঐতিহ্যবাহী পাঠ পদ্ধতিতে চাকমা বর্ণমালা শেখানো হয় 12টি ‘পাঠে’ ভাগ করে। প্রথমটি ‘অঝা পাঠ’ (কা, খা, গা ইত্যাদি)। তারপর ‘মায্যা পাঠ’ (বাংলা হসন্তের মতো চিহ্ন), ‘কায়ি পাঠ’ (স্বরচিহ্ন যোগ করে কি, কু, কে), ‘কারা পাঠ’ (র-ফলা), ‘কিয়া পাঠ’ (য-ফলা) — এভাবে শেষ ধাপ ‘নাদা পাঠ’, যেখানে যতিচিহ্ন।
লেখাটি জানায়, চাকমা বর্ণমালার নাম ও আকার এক করার জন্য 5 অক্টোবর 2000 তারিখে তিনটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ কর্মশালায় প্রায় 15 জন বৈদ্যসহ উপস্থিত প্রতিনিধিরা 33টি বর্ণের নাম, বাছাই ও কাঠামো ঠিক করেন। তার আগে নোয়ারাম চাকমা 1959 সালে বর্ণগুলোর সংকলন লিখিত আকারে প্রকাশ করেছিলেন — তাঁর বইয়ে 39টি বর্ণ। বর্ণসংখ্যা ও আকারের এই বিতর্কের বিস্তারিত আছে চাকমা লিপির মূল লেখায়।
বর্ণ নিয়ে বিতর্ক স্বেচ্ছাসেবীদের ক্লাসেও পৌঁছায়। প্রথম আলোর 27 ফেব্রুয়ারি 2016-এর প্রতিবেদনে দীঘিনালার আরেকটি সংগঠনের একজন প্রশিক্ষক বলেছেন, বর্ণমালার কয়েকটি বর্ণ নিয়ে বিতর্ক আছে, যার সুরাহা হওয়া দরকার। ChakmaNMT গবেষণার লেখকেরা যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন — গবেষণাপত্রের বানানে Arjya Mitra, Injeb Chakma, Ananda Mohon Chakma ও Sugata Chakma — তাঁদের প্রায় সবাই পরামর্শ দেন, প্রাক্-প্রাথমিকের চাকমা বই যাঁরা লিখেছেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সেই সদস্যদের নিয়মই অনুসরণ করতে, কারণ শেষ পর্যন্ত সেটিই চলবে।
উচ্চারণ শেখানো নিয়ে গবেষকেরা একটি সীমাবদ্ধতাও লিখেছেন। CHI 2026 গবেষণাপত্র অনুযায়ী প্রশিক্ষকেরা প্রায়ই চাকমা ধ্বনি বোঝাতে বাংলা অক্ষরের ধ্বনি ব্যবহার করেন — ক, খ, গ, ঘ — ফলে শিক্ষার্থীরা লিপি শেখে বাংলার ধ্বনির সূত্র ধরে। একজন অংশগ্রহণকারীর কথায়, কোর্সে মূলত শেখানো হয় বাংলা বা চাকমা শব্দ চাকমা লিপিতে কীভাবে লিখতে হয়।
‘পত্তম আদি পুদি’ চাঙমা সাহিত্য বা-র প্রকাশ করা চাকমা বর্ণশিক্ষার বই; সম্পাদক সংগঠনের সভাপতি ইনজেব চাকমা। প্রথম আলো (2017) নামটির বাংলা করেছে ‘প্রথম আদি পুঁথি’। স্বেচ্ছাসেবীদের ক্লাসে এই বই দিয়েই পড়ানো হয় — প্রথম আলো (2019) ও ডেইলি স্টার (2021, “Pattam Adi Pudi”) দুটিতেই এটি সংগঠনের নিজস্ব বই হিসেবে উল্লেখিত।
বইটির মুখবন্ধে আছে পলান সরকারের উক্তি: “বই পড়লে আলোকিত হই, না পড়লে অন্ধকারে রই” (প্রথম আলো, 2017)। বইয়ের দাম হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এককালীন 50 টাকা নেওয়া হতো; প্রতিবেদন অনুযায়ী এর বাইরে আর কোনো টাকা নেওয়া হতো না।
বইটি কবে প্রথম ছাপা হয়, কত পৃষ্ঠার, কত কপি — এসব তথ্য কোনো প্রতিবেদনে নেই। বইটির ভেতরের বিন্যাস, অর্থাৎ ওপরে বলা 12টি পাঠের কাঠামো এতে অনুসরণ করা হয় কি না, তাও জানা যায়নি।
চাকমা বর্ণশিক্ষার বই এটিই প্রথম নয়। আর্কাইভের লেখা চাকমা ভাষার বর্ণমালা ও ব্যকরণ আরও কয়েকটি বইয়ের নাম করেছে: নোয়ারাম চাকমার ‘পথম শিক্ষা’ ও চিরজ্যোতি-মঙ্গল চাকমার সম্পাদিত ‘চাঙমার আগপুধি’ — দুটিতেই যুক্তাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে — আর রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের চাকমা প্রাইমার, যা ডা. ভগদত্ত খীসা ও ঝিমিত ঝিমিত চাকমা রচনা করেছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 2017 সাল থেকে বিতরণ হওয়া মাতৃভাষার পাঠ্যবই এর বাইরে আলাদা ধারা।
প্রতিবেদনগুলোতে যে স্বেচ্ছাসেবীদের নাম এসেছে, তাঁরা বেশির ভাগ কলেজ বা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কেউ গৃহিণী। অনেকে নিজে সংগঠনের কাছে বর্ণমালা শিখে তারপর প্রশিক্ষক হয়েছেন। প্রথম আলো (2023) একজনের প্রশিক্ষণের মেয়াদ জানিয়েছে: তিন মাস।
প্রথম আলোর 4 মার্চ 2023-এর প্রতিবেদনের শিরোনামই বলে দেয় দলটি কারা: “কেউ গৃহিণী কেউবা শিক্ষার্থী, তাঁরা শেখান চাকমা বর্ণমালা”। প্রতিবেদন অনুযায়ী 41 সদস্যের 19 জন নারী, আর তাঁরা সপ্তাহের কোনো না কোনো দিন রুটিন করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। তিনজনের বিবরণ আছে:
সোহাগী চাকমার পরিচয় তিনটি প্রতিবেদনে তিনভাবে এসেছে। প্রথম আলো (2019) লিখেছে, তিনি দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী। ডেইলি স্টার (2021) লিখেছে, তিনি দীঘিনালার “Babuchhara Friendship School”-এর সহকারী শিক্ষক; শিক্ষকতা শুরুর সময় চাকমা বর্ণমালা জানতেন না, সংগঠনের কাছে শিখে এখন বিদ্যালয়ে চাকমা পড়াতে পারছেন। প্রথম আলো (2023) লিখেছে, তিনি দুই সন্তানের মা, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পড়ান।
ডেইলি স্টার আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকের নাম দিয়েছে — খাগড়াছড়ির বৌদ্ধ বিহারের কেন্দ্রের Toshi Chakma, যিনি দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে আছেন বলে জানিয়েছেন। 2017 সালের ক্লাসে ইনজেব চাকমার সঙ্গে পড়াচ্ছিলেন সুমন চাকমা।
প্রশিক্ষক তৈরির এই ধারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পর্যন্তও গেছে। বিডিনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী 41টি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, আর ইনজেব চাকমা বলেছেন, প্রাথমিকের যে শিক্ষকদের তাঁরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাঁরা “এখন বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন”। ডেইলি স্টারও লিখেছে, যাঁরা শিখেছেন তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও আছেন।
লিঙ্গভিত্তিক ছবিটি উৎসভেদে আলাদা। প্রথম আলো (2023) 41 সদস্যের 19 জনকে নারী বলেছে। CHI 2026 গবেষণাপত্রের লেখকেরা লিখেছেন, তাঁদের তিনটি ভাষাশিক্ষা কেন্দ্রের অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের সময় প্রশিক্ষকদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল এবং কোনো নারী প্রশিক্ষক তাঁরা পাননি।
স্বেচ্ছাসেবীরা পড়ানোর জন্য কোনো সম্মানী পান না — 2019 সালের প্রথম আলো, 2021 সালের ডেইলি স্টার ও 2023 সালের প্রথম আলো তিনটিতেই এ কথা আছে। খরচ মেটানোর তিনটি পথের কথা উৎসগুলোতে আছে: শিক্ষার্থীদের এককালীন ফি (বইয়ের দাম বা নিবন্ধন ফি), অনুদান, আর প্রশিক্ষকদের নিজেদের টাকা।
প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেবল বইয়ের দাম হিসেবে এককালীন 50 টাকা নেওয়া হতো, আর “শিক্ষকেরা নিজেদের টাকায় এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন”। CHI 2026 গবেষণাপত্র লিখেছে, সংগঠনটি এবং রাঙামাটির রীদিসুদোম শিক্ষণ উপকরণ ও সনদ ছাপার খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিবন্ধন ও ভর্তির এককালীন ফি হিসেবে 200 টাকা নেয়; বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদানও আসে, তবে অংশগ্রহণকারীরা তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন।
যন্ত্রপাতির কথাও গবেষণাপত্রে আছে। একজন সংসদ সদস্য সংগঠনটিকে একটি কম্পিউটার দান করেছিলেন; একজন অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্য Basanti Chakma অফিসের কাজের জন্য ডেস্কটপটি দিয়েছিলেন, আর তাঁর নিজের কোনো স্মার্টফোন নেই। একই অংশগ্রহণকারী বলেছেন, সংগঠনটির সঙ্গে যুক্তদের বেশির ভাগ শহর বা উপজেলা সদরের নন, আর তাঁদের এলাকায় ঠিকমতো ইন্টারনেট মেলে না। গবেষকেরা সাধারণভাবেও লিখেছেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের এলাকায় কখনো 2G সেবাও থাকে না, ফলে অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত অংশ নেওয়া কঠিন।
সংগঠনের সভাপতির নিজের অবস্থাও প্রতিবেদনে এসেছে। বিডিনিউজ (2023) তাঁকে কৃষক বলেছে এবং লিখেছে, ব্যক্তিজীবনে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি কাজটি করছেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা যে ধরনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান, সেখানেই সরকার 2017 সাল থেকে তিন পার্বত্য জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশুদের মাতৃভাষার পাঠ্যবই দিচ্ছে, কিন্তু পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই। প্রথম আলো (2019) চাঙমা সাহিত্য বা-র উদ্যোগকে এই শূন্যতার প্রেক্ষাপটেই বর্ণনা করেছে।
2019 সালের প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদ: চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন হলেও ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম “থমকে আছে শিক্ষকের অভাবে”, আর দীঘিনালায় এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন একদল চাকমা তরুণ। ডেইলি স্টার (2021) প্রায় একই কথা লিখেছে: সরকারি উদ্যোগে বাধা এসেছে চাকমা বর্ণমালায় লিখতে-পড়তে পারা শিক্ষকের অভাবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চাকমা লেখক সদস্য আনন্দ মোহন চাকমা দুটি প্রতিবেদনেই মন্তব্য করেছেন। 2019 সালে প্রথম আলোকে তিনি উদ্যোগটিকে “অত্যন্ত প্রশংসনীয়” বলেন, তবে যোগ করেন, সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষক নিয়োগ না দিলে পাঠদানে গতি আসবে না। 2021 সালে ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, সংগঠনটির তরুণেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দুজনকেই বর্ণমালা শিখিয়ে “pivotal role” রাখছেন, আর তাঁদের সব রকম সহায়তা দেওয়া উচিত।
সাত বছর পরের অবস্থা প্রথম আলোর 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে: 2017 সাল থেকে বই দেওয়া হলেও শিক্ষক না থাকায় নয় বছরেও পাঠদান শুরু হয়নি। 2026 শিক্ষাবর্ষে তিন পার্বত্য জেলায় মাতৃভাষার বই পেয়েছে 66,687 শিশু, তার মধ্যে চাকমা 35,145 জন। শিক্ষকেরা মূলধারার শিক্ষার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত; জেলা পরিষদ কিছু শিক্ষককে এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, যা যথেষ্ট ছিল না। এ বছর শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন মাতৃভাষার একটি বিষয় রুটিনে রাখা হয়েছে, তবে একজন প্রধান শিক্ষকের ভাষায়, কে কীভাবে পড়াবেন তা বলা হয়নি।
সরকারি কর্মসূচির সিদ্ধান্ত থেকে বই বিতরণ পর্যন্ত পুরো সময়রেখা এই লেখার বিষয় নয়; তার সংক্ষিপ্ত রূপ আছে চাকমা লিপির লেখার স্কুল-অংশে আর পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা লেখায়। পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ছবি আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা লেখায়, আর আর্কাইভের পুরোনো লেখা আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা: অপেক্ষার শেষ কোথায়? সরকারি কর্মসূচির আগের বেসরকারি উদ্যোগগুলোর কথা বলে।
চাকমা বর্ণমালা শেখানোর স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ দীঘিনালায় একটি নয়, আর পাহাড়ের অন্য জায়গাতেও আছে। প্রতিবেদন ও গবেষণায় নথিভুক্ত কয়েকটির সঙ্গে পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, কোর্সের দৈর্ঘ্য কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস, ফি বিনা মূল্য থেকে 500 টাকা, আর কোথাও প্রশিক্ষক সম্মানী পান, কোথাও পান না।
| উদ্যোগ ও এলাকা | কীভাবে চলে | ফি ও সম্মানী | উৎস |
|---|---|---|---|
| চাঙমা সাহিত্য বা / নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ, দীঘিনালা | বিদ্যালয়ে সপ্তাহে এক দিন; কলেজ, পাঠাগার ও বিহারে কেন্দ্র; প্রশিক্ষকের তিন মাসের প্রশিক্ষণ | প্রশিক্ষক সম্মানী পান না; বইয়ের দাম 50 টাকা (2017) বা নিবন্ধন 200 টাকা (CHI 2026) | প্রথম আলো 2017, 2019, 2023; ডেইলি স্টার 2021; CHI 2026 |
| রিবেং যুব সংঘ, দীঘিনালা | দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের মিলনায়তনে বৃহস্পতি ও শুক্রবার 50 শিক্ষার্থী; সদস্যরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছুটিতে বাড়ি এসে পড়ান | বিনা মূল্যে | প্রথম আলো, 27 ফেব্রুয়ারি 2016 |
| রীদিসুদোম (ভালেদীজদা), রাঙামাটি শহর | 8 দিনের কর্মশালা, প্রতি ব্যাচে 30 জন, শেষে মূল্যায়ন ও সনদ; ভাড়া করা ফ্লোরে | 200 টাকা, পরে 500 টাকা (প্রথম আলো 2026)। প্রথম আলো লিখেছে একজন প্রশিক্ষক সম্মানী পান; CHI 2026 লিখেছে প্রশিক্ষকেরা স্বেচ্ছায় কাজ করেন | প্রথম আলো, 21 ফেব্রুয়ারি 2026; CHI 2026 |
| প্রহর ছিদোক (প্রতিবেদনে এক জায়গায় ‘পহর ছিদোক’), আটারকছড়া, লংগদু (রাঙামাটি) | দুই মাসের চাকমা বর্ণমালা ও মাতৃভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স; সহযোগিতায় রাঙামাটি চাকমা ভাষা গবেষণা কেন্দ্র | প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই | বাংলা ট্রিবিউন, 25 ফেব্রুয়ারি 2017 |
দীঘিনালাতেই চাঙমা সাহিত্য বা-র পাশাপাশি আরেকটি সংগঠনের কথা প্রথম আলো লিখেছিল 2016 সালে: ‘রিবেং যুব সংঘ’। দুটি সংগঠনই তরুণদের, দুটিতেই শেখানো হতো বিনা পয়সায়। রিবেং যুব সংঘের একজন সদস্য জানান, তিনি বিভিন্ন বই সংগ্রহ করে এবং একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাছে বর্ণমালা শিখেছেন।
রাঙামাটির রীদিসুদোমের কাঠামো আলাদা। প্রথম আলোর 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোই মূল লক্ষ্য, প্রতি ব্যাচে 30 জন, আর কর্মশালার শেষে মূল্যায়নের পর সনদ দেওয়া হয়। সংগঠনটির একজন তরুণ প্রশিক্ষক নভেম্বর 2024-এর একটি কর্মশালায় অংশ নিয়ে পরে নিজেই প্রশিক্ষক হন এবং এ পর্যন্ত 240 জনকে শিখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। CHI 2026 গবেষণাপত্র লিখেছে, রীদিসুদোমে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় থাকেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা, যাঁরা একে দ্বিতীয় একটি স্বেচ্ছাশ্রমের কাজ হিসেবে দেখেন।
এই তুলনা চাকমা বর্ণমালার মধ্যেই সীমিত। মারমা, ত্রিপুরা বা ম্রো ভাষা শেখানোর স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আলাদা বিষয়; মারমা লিপির কথা আছে ম্রাইমাজা: মারমা বর্ণমালা লেখায়। CHI 2026 গবেষণাপত্র কেবল এটুকু উল্লেখ করেছে যে মারমা ভাষা শেখানোয় বৌদ্ধ বিহারগুলো বড় ভূমিকা রাখে।
সংগঠনটি নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনের বাইরে একটি একাডেমিক গবেষণা আছে: Avijoy Chakma, Adity Khisa, Soham Khisa, Jannatun Noor ও Sharifa Sultana-র “Re-educating Educated Ones: A Case Study on Chakma Language Revitalization in Chittagong Hill Tracts”, যা CHI 2026 সম্মেলনের জন্য গৃহীত এবং জানুয়ারি 2026-এ arXiv-এ প্রকাশিত। ছয় মাসের এই গবেষণায় 25 জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
গবেষকেরা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির তিনটি চাকমা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন: Ridisudom, Gyanor Bareng এবং Noyaram Chakma Sahitya Sangsad। লেখকদের কয়েকজন — প্রথম লেখকসহ — নিজেরাই এই এলাকার চাকমা সমাজের মানুষ এবং চাকমা ভাষায় কথা বলেন বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে।
গবেষণাপত্রের মূল পর্যবেক্ষণগুলো — কোনটি বিশেষভাবে এই সংগঠন নিয়ে আর কোনটি তিন কেন্দ্র মিলিয়ে, তা প্রতিটির সঙ্গে বলা হলো:
আরেকটি গবেষণা, ChakmaNMT, দীঘিনালার সঙ্গে যুক্ত অন্য এক স্বেচ্ছাশ্রমের কথা লিখেছে: চাকমা-বাংলা-ইংরেজি সমান্তরাল বাক্য সংগ্রহের জন্য দীঘিনালায় তিন দিনের একটি স্বেচ্ছাসেবী অনুবাদ কর্মসূচি হয়েছিল, প্রতিদিন 7 থেকে 10 জন দক্ষ চাকমাভাষী অংশ নেন, আর তা থেকে বাছাই শেষে 5,203টি বাক্য-ত্রয়ী পাওয়া যায়। কর্মসূচিটি কারা আয়োজন করেছিল বা এতে কোনো বর্ণমালা-সংগঠন যুক্ত ছিল কি না, গবেষণাপত্রে তা বলা নেই।
চাঙমা সাহিত্য বা খাগড়াছড়ির দীঘিনালার একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা বিনা সম্মানীতে চাকমা ভাষাভাষীদের নিজস্ব বর্ণমালা শেখায়। প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয় 5 জানুয়ারি 2000, নামের অর্থ ‘চাকমা সাহিত্য কুটির’, আর এর নেতৃত্বে আছেন ইনজেব চাকমা।
প্রথম আলোর 14 অক্টোবর 2019-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চাঙমা সাহিত্য বা উপজেলার 93টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা বর্ণমালা পড়াত, যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষকও প্রতিবেদনে বলেছেন। প্রথম আলোর 4 মার্চ 2023-এর প্রতিবেদনে সংখ্যাটি দীঘিনালার 41টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঙ্গে মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলার কিছু কোর্স।
সংখ্যাটি প্রতিবেদনভেদে আলাদা। প্রথম আলো (2019) লিখেছে 2 ফেব্রুয়ারি 2019 থেকে 3,102 শিশু; দ্য ডেইলি স্টার (2021) লিখেছে 2004 থেকে প্রায় 10 হাজার মানুষ; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (2023) লিখেছে তিন পার্বত্য জেলার 218টি কেন্দ্রে 11,118 জন। সব সংখ্যাই সংগঠনের দেওয়া; স্বাধীন কোনো গণনা পাওয়া যায়নি।
‘পত্তম আদি পুদি’ চাঙমা সাহিত্য বা-র প্রকাশ করা চাকমা বর্ণশিক্ষার বই, সম্পাদনা করেছেন সংগঠনের সভাপতি ইনজেব চাকমা। প্রথম আলো (2017) নামটির বাংলা করেছে ‘প্রথম আদি পুঁথি’ এবং লিখেছে, বইয়ের মুখবন্ধে পলান সরকারের উক্তি “বই পড়লে আলোকিত হই, না পড়লে অন্ধকারে রই” আছে। শিক্ষার্থীরা বইয়ের দাম হিসেবে এককালীন 50 টাকা দিতেন।
ইনজেব চাকমা দীঘিনালার পূর্ব কাঁঠালতলি গ্রামের বাসিন্দা, চাঙমা সাহিত্য বা-র সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবী বর্ণমালা কর্মসূচির সমন্বয়ক। প্রথম আলো (2017) অনুযায়ী তিনি 1994 সালে গৃহশিক্ষক বীর চাকমার কাছে বর্ণমালা শেখেন; বিডিনিউজ (2023) তাঁকে পেশায় কৃষক বলেছে। তাঁর লক্ষ্য, 2050 সালের মধ্যে পুরো চাকমা জনগোষ্ঠীকে নিজস্ব বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় করানো।
কোনো প্রতিবেদন তা সরাসরি বলেনি। দুই নামের সঙ্গেই ইনজেব চাকমা যুক্ত — 2019 ও 2021 সালে চাঙমা সাহিত্য বা-র সভাপতি, 2023 সালে নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদের সমন্বয়ক। স্বেচ্ছাসেবী সোহাগী চাকমা দুই নামের অধীনেই দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন বলে প্রথম আলো লিখেছে। বিডিনিউজ (2023) লিখেছে ‘নোয়ারাম চাকমা সাহিত্য পরিষদ’।
না। প্রথম আলো (2019 ও 2023) ও দ্য ডেইলি স্টার (2021) অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো সম্মানী বা পারিশ্রমিক নেন না। প্রথম আলো (2017) লিখেছে, শিক্ষকেরা নিজেদের টাকায় কার্যক্রম চালাতেন। CHI 2026 গবেষণাপত্র অনুযায়ী উপকরণ ও সনদ ছাপার খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এককালীন 200 টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশির ভাগ স্বেচ্ছাসেবী আগে সংগঠনের কাছে নিজে বর্ণমালা শিখেছেন, তারপর পড়াতে শুরু করেছেন। প্রথম আলোর 4 মার্চ 2023-এর প্রতিবেদনে একজন স্বেচ্ছাসেবী জানিয়েছেন, তিনি তিন মাসের চাকমা বর্ণমালা শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে পড়াচ্ছেন। সংগঠনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছে — বিডিনিউজ (2023) অনুযায়ী 41টি বিদ্যালয়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণ লিখে প্রতিটির নাম ধরে উচ্চারণ করেন — চুচ্যাঙা-কা, গুজঙ্যা-খা, পিজপুঝা-আ — আর শিশুরা সমস্বরে সঙ্গে বলে। ক্লাস হয় সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী চাকমা বর্ণশিক্ষা 12টি পাঠে ভাগ করা, যার প্রথমটির নাম ‘অঝা পাঠ’ (কা, খা, গা)।
প্রতিবেদনগুলো একটি কারণই বলে: পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই। প্রথম আলো (2019) লিখেছে, পাঠ্যপুস্তক হলেও ভাষা শিক্ষা “থমকে আছে শিক্ষকের অভাবে”। প্রথম আলোর 20 ফেব্রুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2017 থেকে বই দেওয়া হলেও নয় বছরে পাঠদান শুরু হয়নি; 2026 সালে 35,145 চাকমা শিশু মাতৃভাষার বই পেয়েছে।
প্রথম আলোর 27 ফেব্রুয়ারি 2016-এর প্রতিবেদন দীঘিনালায় ‘রিবেং যুব সংঘ’ নামে আরেকটি তরুণ সংগঠনের কথা লিখেছে, যারা দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের মিলনায়তনে বৃহস্পতি ও শুক্রবার 50 জন শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে বর্ণমালা শেখাত। সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছুটিতে বাড়ি এসে পড়ান।
উৎসভেদে দুটি সাল আছে। দ্য ডেইলি স্টার (2021) ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (2023) লিখেছে 2004; বিডিনিউজে ইনজেব চাকমা নিজেও 2004 বলেছেন। প্রথম আলো (2017) লিখেছে, সংগঠন প্রতিষ্ঠা 5 জানুয়ারি 2000 এবং বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের শেখানো শুরু সেপ্টেম্বর 2015 থেকে। প্রথম আলো (2019) আরেকটি তারিখ দিয়েছে: 2 ফেব্রুয়ারি 2019, যেদিন থেকে 3,102 শিশুর হিসাব ধরা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল আর্কাইভ
সংবাদ প্রতিবেদন
গবেষণা
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, চাকমা, চাকমা বর্ণমালা, চাকমা লিপি, মাতৃভাষায় শিক্ষা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।