Last updated Oct 17th, 2026
0

১৮১৯ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, নাম Civilization Fund Act। আইনের উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা ছিল — “providing against the further decline and final extinction of the Indian tribes… and for introducing among them the habits and arts of civilization।” অর্থাৎ ইন্ডিয়ান জাতিগুলোর ক্ষয় ও চূড়ান্ত বিলুপ্তি রোধ করা, আর তাদের মধ্যে “সভ্যতার অভ্যাস ও কলা” প্রবেশ করানো।
এই আইন থেকে যা দাঁড়িয়েছিল, তার হিসাব যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেই প্রকাশ করেছে ২০২২ সালের মে মাসে। সংখ্যাটি হলো: ১৮১৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৩৭টি রাজ্যে ৪০৮টি বোর্ডিং স্কুল চালিয়েছে বা সহায়তা দিয়েছে, আর সেই ব্যবস্থায় অন্তত ৫৩টি জায়গায় শিশুদের কবর পাওয়া গেছে।
এই লেখাটি সেই জনগোষ্ঠী নিয়ে, যাঁদের নিয়ে ওই আইন করা হয়েছিল। শুরু হচ্ছে একটি শব্দ দিয়ে — কারণ শব্দের প্রশ্নেই আলোচনাটি শুরু হওয়া দরকার।
‘রেড ইন্ডিয়ান’ শব্দটি এখন আর ব্যবহার হয় না — এটি ঔপনিবেশিক আমলের একটি বাইরের-দেওয়া নাম, আর এর ভেতরে গায়ের রঙের একটি অবজ্ঞা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের Bureau of Indian Affairs (BIA) সরকারিভাবে যে দুটি পরিভাষা ব্যবহার করে, সেগুলো হলো American Indian ও Alaska Native। BIA-র নিজের ভাষায়: “It is still appropriate to use the terms ‘American Indian’ and ‘Alaska Native’.”
বাংলায় সাধারণত ব্যবহার হয় নেটিভ আমেরিকান বা আদিবাসী আমেরিকান। জুমজার্নালের আর্কাইভেও এই দুটি শব্দই আছে।
শব্দটির ভুল কোথায়, সেটি জুমজার্নালের আর্কাইভে ১৯৯৩ সালের একটি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করা আছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ইউরোপীয়রা বিজিত জনগোষ্ঠীদের ডেকেছে savage, primitive, tribal, Red Indian, Aboriginal প্রভৃতি নামে — আর “এই নামগুলির অবজ্ঞাসূচক ও বর্ণবাদী ব্যঞ্জনা এড়ানোর জন্যই indigenous কথাটির ব্যবহার শুরু হয়।”
অর্থাৎ পরিভাষার এই বদল কোনো সৌজন্যের ব্যাপার নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সংশোধন। আর এই আলোচনা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে অপরিচিত নয় — সেখানেও কোন শব্দে কাকে ডাকা হবে, সেই প্রশ্নটি রাজনৈতিক।
একটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার: কোনো জনগোষ্ঠীর নিজের নাম সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। চেরোকি, নাভাহো, লাকোটা, ইউপিক, ত্লিংগিত — এগুলোই তাঁদের নিজেদের নাম, আর নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা বলার সময় সেই নামই ব্যবহার করা উচিত।
“নেটিভ আমেরিকান” একটি জনগোষ্ঠী নয় — এটি শত শত আলাদা জাতি, ভাষা ও রাজনৈতিক সত্তার সমষ্টির নাম। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাবে কেবল ফেডারেলভাবে স্বীকৃত ট্রাইবের সংখ্যাই পাঁচশোর বেশি, আর তার বাইরেও আছে রাজ্য-স্বীকৃত ও অস্বীকৃত জনগোষ্ঠী।
এই বৈচিত্র্যের মাপ বোঝাতে Federal Indian Boarding School Initiative-এর প্রতিবেদনের একটি বাক্য কাজে লাগে। সেখানে লেখা আছে, বোর্ডিং স্কুলগুলো ছিল ততটাই বিচিত্র, যতটা বিচিত্র “the Indian Tribes, Alaska Native Villages, and the Native Hawaiian Community” যাদের উপর সেগুলোর প্রভাব পড়েছিল।
লক্ষ করুন তিনটি আলাদা বিভাগ — ইন্ডিয়ান ট্রাইব, আলাস্কা নেটিভ ভিলেজ, আর নেটিভ হাওয়াইয়ান সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামোয় এই তিনটির অবস্থান আলাদা, আর সেটি না জানলে “নেটিভ আমেরিকান” শব্দটি বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে। আরও উত্তরে, আর্কটিকে, আছে ইনুইট — যাঁদের ইতিহাস আবার আলাদা।
২০২০ সালের মার্কিন আদমশুমারিতে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৯৭ লাখ মানুষ — একা অথবা অন্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিয়ে। এটি US Census Bureau-র সরকারি হিসাব।
তুলনার জন্য একটি পুরনো সংখ্যা পাশে রাখা যায়। BIA-র প্রশ্নোত্তর পাতায় এখনো যে হিসাব দেওয়া আছে, সেটি ২০০৭ সালের ১ জুলাইয়ের — তখন সংখ্যাটি ছিল ৪৫ লাখ, মোট মার্কিন জনসংখ্যার ১.৫ শতাংশ।
তেরো বছরে ৪৫ লাখ থেকে ৯৭ লাখ — এই বৃদ্ধি কেবল জন্মহারের নয়। শুমারিতে একাধিক জাতিগত পরিচয় লেখার সুযোগ এবং পরিচয় ঘোষণার প্রবণতা বদলানোও এর কারণ। গণনার পদ্ধতি বদলালে সংখ্যা বদলায় — মিজোরাম, তানজানিয়া বা বাংলাদেশের শুমারি-তর্কেও একই কথা সত্য।
২০২০ সালের শুমারিতে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী চেরোকি — একা বা অন্য পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ১৫ লাখ। US Census Bureau-র হিসাবে আরও কয়েকটি:
| জনগোষ্ঠী | সংখ্যা (২০২০) | কোন হিসাবে |
|---|---|---|
| চেরোকি | ১৫ লাখ | একা বা যেকোনো সংযোগে |
| নাভাহো নেশন | ৩,১৫,০৮৬ | আমেরিকান ইন্ডিয়ান একা |
| ত্লিংগিত | ২২,৬০১ | আলাস্কা নেটিভদের মধ্যে বৃহত্তম, একা বা যেকোনো সংযোগে |
| ইউপিক | ৯,০২৬ | আলাস্কা নেটিভদের মধ্যে বৃহত্তম, “একা” হিসাবে |
চেরোকিদের সংখ্যাটি লক্ষণীয় — ১৫ লাখ, অর্থাৎ মোট ৯৭ লাখের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। তবে “একা বা যেকোনো সংযোগে” আর “একা” — এই দুই হিসাবের ফারাক বড়, আর সেটি মনে রাখা দরকার। নাভাহোদের ৩,১৫,০৮৬ সংখ্যাটি কেবল “আমেরিকান ইন্ডিয়ান একা” হিসাবের।
যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সরকারি সংস্থা দুটি সংখ্যা দিচ্ছে। Bureau of Indian Affairs-এর প্রশ্নোত্তর পাতায় লেখা “there are 575 federally recognized tribes”, আর US Census Bureau-র ২০২৩ সালের তথ্যপত্রে ৫৭৪।
ফারাকটি সম্ভবত তারিখের — স্বীকৃতির তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়, নতুন ট্রাইব যুক্ত হয়। এখানে দুটো সংখ্যাই লেখা থাকল, উৎসের নামসহ। [কোন তারিখে কোনটি, তা এই লেখার উৎসে স্পষ্ট নয় — যাচাই প্রয়োজন]
BIA-র ভাষায় এই তালিকায় আছে “American Indian and Alaska Native tribes and villages” — অর্থাৎ ট্রাইব ও গ্রাম, দুটোই।
ফেডারেলভাবে স্বীকৃত ট্রাইব মানে সেই ট্রাইব, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকার-থেকে-সরকার সম্পর্ক আছে। BIA-র ভাষায়: একটি স্বীকৃত ট্রাইব হলো সেটি, যা “recognized as having a government-to-government relationship with the United States” এবং যা Bureau of Indian Affairs-এর তহবিল ও সেবা পাওয়ার যোগ্য।
এই একটি শব্দবন্ধেই — government-to-government — পুরো ব্যবস্থাটির চরিত্র ধরা আছে। ট্রাইবগুলো রাষ্ট্রের ভেতরে কেবল একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়; আইনি কাঠামোয় তারা একটি সরকার, যার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনায় পার্থক্যটি এখানেই সবচেয়ে বড়। সার্কেল চিফ বা জেলা পরিষদের ক্ষমতা আছে, কিন্তু সেই ক্ষমতার উৎস রাষ্ট্রের একটি আইন — আইনি কাঠামোটি যেমন সাজানো — আর “সরকার-থেকে-সরকার” ভাষাটি সেখানে নেই।
BIA-র সংজ্ঞায় ট্রাইবাল সার্বভৌমত্বের সারকথা দুটি: ট্রাইবগুলো অন্তর্নিহিত স্বশাসনের ক্ষমতা ধরে রাখে, আর তাদের সম্পত্তি ও নাগরিকদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় তাদের অংশগ্রহণ ও সম্মতিতে।
BIA-র ভাষায় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে যে “decisions about the tribes with regard to their property and citizens are made with their participation and consent”।
শব্দটি লক্ষ করুন — consent, সম্মতি। UNDRIP-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ৩২-এর FPIC ধারণার সঙ্গে এর সরাসরি মিল আছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাটি UNDRIP-এর অনেক আগের।
আর “অন্তর্নিহিত” শব্দটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। BIA বলছে ট্রাইবগুলো ধরে রাখে “inherent powers of self-government” — অর্থাৎ এই ক্ষমতা রাষ্ট্র তাদের দেয়নি; এটি তাদের নিজেরই, আগে থেকেই ছিল।
BIA-র সংজ্ঞায় এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতার তিনটি ব্যতিক্রম স্পষ্ট করে বলা আছে। ট্রাইবগুলো স্বশাসনের ক্ষমতা ধরে রাখে — তবে সেগুলো নয়, যেগুলো:
এই তিনটি সীমা পড়লে বোঝা যায় ব্যবস্থাটি কতটা জটিল। সার্বভৌমত্ব আছে, কিন্তু কংগ্রেস চাইলে তা স্পষ্ট আইনে কমাতে পারে। অর্থাৎ এটি নিরঙ্কুশ নয় — আইনে এটি “plenary power” বিতর্কের বিষয়।
প্রতিবেদনটি সাংবিধানিক ভিত্তিটিও দেখিয়েছে। ইন্ডিয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত — বিশেষত অনুচ্ছেদ ১-এর ২ ও ৮ ধারা — আর প্রাসঙ্গিক মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে Johnson v. M’Intosh (১৮২৩), Cherokee Nation v. Georgia (১৮৩১), Worcester v. Georgia (১৮৩২) এবং Michigan v. Bay Mills Indian Community (২০১৪)।
Worcester v. Georgia-র একটি উদ্ধৃতি প্রতিবেদনে আছে, যা ব্যবস্থাটির ভিত্তি বোঝায়: চুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিবেচনা করে যে ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে সব লেনদেন চলবে “exclusively by the government of the union” — অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমেই, রাজ্যের মাধ্যমে নয়।
BIA-র হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩২৬টি ইন্ডিয়ান ভূমি-এলাকা ফেডারেল ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশন হিসেবে পরিচালিত হয়; US Census Bureau-র ২০২২ সালের হিসাবে ৩২৪টি স্বতন্ত্র স্বীকৃত রিজার্ভেশন, রিজার্ভেশনের বাইরের ট্রাস্ট-ভূমিসহ।
BIA স্পষ্ট করেছে, এই “ভূমি-এলাকা” কথাটির ভেতরে একাধিক রকম আছে — reservations, pueblos, rancherias, missions, villages, communities ইত্যাদি। অর্থাৎ সব আদিবাসী ভূমি একই আইনি নামে নয়।
এই বৈচিত্র্যটি গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে মৌজা ও সার্কেল — দুটি স্তর; যুক্তরাষ্ট্রে ভূমি-ব্যবস্থার নামই অন্তত ছয় রকম, আর প্রতিটির আইনি ইতিহাস আলাদা।
US Census Bureau-র হিসাবে আলাস্কায় আছে ২২১টি Alaska Native village statistical area — যা রিজার্ভেশন নয়, আলাদা একটি বিভাগ।
এই পার্থক্যটি কেন, তা এই লেখার উৎসে ব্যাখ্যা করা নেই। তবে সংখ্যাটি নিজেই একটি কথা বলে: আলাস্কায় আদিবাসী জনপদের সংখ্যা মূল ভূখণ্ডের রিজার্ভেশনের চেয়ে কম নয়, কিন্তু তাদের আইনি মর্যাদা ভিন্ন।
বোর্ডিং স্কুলের প্রতিবেদনেও আলাস্কা আলাদা অধ্যায় পেয়েছে, আর সেখানে ২১টি স্কুল ছিল — যা মোট ৪০৮টির মধ্যে। নেটিভ হাওয়াইয়ান সম্প্রদায়ের জন্যও আলাদা অধ্যায়, আর হাওয়াইতে স্কুল ছিল ৭টি।
বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থার আইনি শুরু ১৮১৯ সালের Civilization Fund Act। Federal Indian Boarding School Initiative-এর প্রতিবেদনে আইনের উদ্দেশ্য হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে — “providing against the further decline and final extinction of the Indian tribes, adjoining the frontier settlements of the United States, and for introducing among them the habits and arts of civilization।”
বাক্যটি দুবার পড়া দরকার। রাষ্ট্র বলছে সে ইন্ডিয়ান জাতিগুলোর বিলুপ্তি রোধ করতে চায় — আর সেই উদ্দেশ্যে যা করবে, তা হলো তাদের মধ্যে “সভ্যতার অভ্যাস ও কলা” ঢোকানো। অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর নাম দিয়ে তার সংস্কৃতি বদলে দেওয়া।
প্রতিবেদনটি এই নীতির একটি পরিচিত সারসংক্ষেপ উদ্ধৃত করেছে, যা Carlisle Indian Industrial School-এর প্রতিষ্ঠাতা Richard Henry Pratt-এর বলে চিহ্নিত: “kill the Indian in him, and save the man” — ভেতরের ইন্ডিয়ানকে মারো, মানুষটিকে বাঁচাও।
প্রতিবেদনের কেন্দ্রীয় সংখ্যা: ১৮১৯ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭টি রাজ্যে বা তখনকার অঞ্চলে ৪০৮টি ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল চালিয়েছে বা সহায়তা দিয়েছে — তার মধ্যে আলাস্কায় ২১টি, হাওয়াইতে ৭টি।
দেড়শো বছর, ৩৭টি রাজ্য, ৪০৮টি প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না — এটি ছিল একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, যার জন্য আইন হয়েছে, বরাদ্দ হয়েছে, কর্মী নিয়োগ হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্কুলগুলোর আকারের ফারাকও আছে, আর তা অবাক করা: স্কুলের আকার ছিল “from one child to over 1,700 children” — এক শিশু থেকে সতেরো শতাধিক শিশু পর্যন্ত।
একটি তথ্য আলাদা করে লেখা দরকার। প্রতিবেদন বলছে, ওই ৪০৮টির মধ্যে আনুমানিক ৯০টি, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ, আজও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু থাকতে পারে। অর্থাৎ ভবনগুলো ইতিহাস নয়, বর্তমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাইবগুলোর মধ্যে করা চুক্তিগুলোতে শিক্ষা-সংক্রান্ত শর্ত ছিল, আর বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থা সেই চুক্তি-বাধ্যবাধকতার সঙ্গে যুক্ত।
এই যোগসূত্রটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ব্যবস্থাটির আইনি চরিত্র বদলে যায়। স্কুলগুলো কেবল একটি নীতি ছিল না — চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দুই পক্ষের একটি দায়ের মধ্যে সেগুলো ঢোকানো হয়েছিল।
প্রতিবেদন আরও বলছে, ১৮৭১ সালে কংগ্রেস ইন্ডিয়ান ট্রাইবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা বন্ধ করে দেয় — তবে আগের চুক্তিতে নেওয়া দায়গুলো বহাল থাকে বলে নিশ্চিত করা হয়।
১৮৭১-এর পর থেকে ট্রাইবগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হয়েছে কংগ্রেসের আইন, নির্বাহী আদেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে — চুক্তিতে নয়। এটি একটি মৌলিক বদল: দুই পক্ষের দরকষাকষি থেকে একপাক্ষিক আইনপ্রণয়নে সরে যাওয়া।
প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে চিহ্নিত করেছে, স্কুলগুলো শিশুদের পরিচয় বদলাতে চারটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনের তালিকা অনুযায়ী:
চারটি পদ্ধতির প্রতিটি একটি জিনিসকে লক্ষ্য করে — শিশুটির নিজের পরিচয়ের চিহ্ন। নাম, চুল, ভাষা, আর শরীরের চলন।
তৃতীয়টি — ভাষা — এই লেখার জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ জুমজার্নালের আর্কাইভে এই ভাষা-ক্ষতির প্রসঙ্গ আলাদা করে লেখা আছে। সেই কথায় একটু পরে আসা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বোর্ডিং স্কুলগুলোর পাঠক্রমে প্রাধান্য ছিল শারীরিক শ্রমের। প্রতিবেদনে উল্লিখিত কাজের তালিকা: গবাদিপশু পালন, দুগ্ধ-উৎপাদন, কাঠ কাটা, ইট তৈরি, পোশাক সেলাই, সেচব্যবস্থা নির্মাণ এবং রেলপথের কাজ।
অর্থাৎ যাকে “শিক্ষা” বলা হচ্ছিল, তার একটি বড় অংশ ছিল উৎপাদনমূলক কাজ। প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এই শ্রম স্কুলের নিজের খরচ চালাতেও ব্যবহৃত হতো।
প্রতিবেদনে একটি “outing system”-এর কথাও আছে, যেখানে শিশুদের বাইরে কাজে পাঠানো হতো। [এই ব্যবস্থার বিস্তারিত নিয়ম এই লেখার উৎসে পুরো পাওয়া যায়নি — যাচাই প্রয়োজন]
প্রতিবেদনের সবচেয়ে ভারী সংখ্যাগুলো এখানে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার নিজের অনুসন্ধানে ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৫৩টি কবরস্থান চিহ্নিত করেছে — চিহ্নিত, অচিহ্নিত ও স্থানান্তরিত, সব মিলিয়ে।
আর মৃত্যুর হিসাব: প্রতিবেদন জানাচ্ছে প্রায় ১৯টি ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুলে ৫০০-র বেশি আমেরিকান ইন্ডিয়ান, আলাস্কা নেটিভ ও নেটিভ হাওয়াইয়ান শিশুর মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গেছে।
এখানে প্রতিবেদনের নিজের একটি সতর্কবার্তা আছে, আর সেটি বাদ দিলে সংখ্যাটি ভুলভাবে পড়া হবে: প্রতিবেদন বলছে অনুসন্ধান এগোলে এই সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫০০ কোনো চূড়ান্ত হিসাব নয় — এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সংখ্যা।
কবরস্থানের ব্যাপারে একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার। ৫৩টি সংখ্যা মানে ৫৩টি শিশুর কবর নয় — ৫৩টি জায়গা, যার প্রত্যেকটিতে একাধিক কবর থাকতে পারে।
ব্যবস্থাটির সরকারি সমালোচনা প্রথম বড় আকারে আসে ১৯৬৯ সালে, মার্কিন সেনেটের একটি প্রতিবেদনে — যার শিরোনামই রায়ের মতো: “Indian Education: A National Tragedy – A National Challenge”।
এটি পরিচিত কেনেডি রিপোর্ট নামে, আর এর আনুষ্ঠানিক সূত্র S. Rep. No. 91-501। Federal Indian Boarding School Initiative-এর প্রতিবেদন এটিকে উদ্ধৃত করেছে।
“জাতীয় ট্র্যাজেডি” — রাষ্ট্রের নিজের সেনেট কমিটি তার নিজের শিক্ষানীতিকে এই নাম দিচ্ছে। ১৮১৯ থেকে ১৯৬৯, দেড়শো বছর পরে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত ফেডারেল বোর্ডিং স্কুল আমলের শেষ সীমাও ১৯৬৯ — অর্থাৎ কেনেডি রিপোর্টের বছরটিকেই সময়সীমার শেষ ধরা হয়েছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি লেখায় নেটিভ আমেরিকান ভাষার আইনি সুরক্ষার তারিখটি নির্দিষ্ট করে বলা আছে — ১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর।
সেই লেখায় বলা হয়েছে, নেটিভ আমেরিকানদের ভাষাগুলো “ঔপনিবেশিক আক্রমণের শিকার হয়ে” ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকগুলো মরে গেছে। এরপর ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ভেতরে ভাষা-সুরক্ষার দাবিও ছিল, আর প্রায় কুড়ি বছরের প্রচারের পর আইনটি পাস হয়।
তারিখটি লক্ষণীয়। ১৮১৯ সালে আইন করে ভাষা মুছে ফেলার কাজ শুরু, আর ১৯৯০ সালে আইন করে ভাষা রক্ষার স্বীকৃতি — মাঝখানে ১৭১ বছর।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য এই সময়-হিসাবটি অর্থবহ। চাকমা, মারমা, ম্রো বা অন্য ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার দাবি এবং ভাষা আন্দোলনের তুলনামূলক আলোচনা জুমজার্নালেই আছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে একটি সরাসরি বিবরণ আছে — একজন পাহাড়ি লেখক যুক্তরাষ্ট্রে একটি পাও ওয়াও-তে গিয়ে যা দেখেছেন, তার প্রথম-পুরুষ বর্ণনা। লেখাটির শিরোনাম “আদিবাসী আমেরিকানদের সাথে একদিন”।
অনুষ্ঠানটির নাম ছিল Mountain Spirit Pow Wow, হয়েছিল Mason Dixon Historical Park-এ, Core নামের এলাকার কাছে — এবং চলেছিল তিন দিন।
এই উৎসটি এই লেখার জন্য বিশেষ, কারণ এটি বাইরের কোনো পর্যবেক্ষকের লেখা নয়। একজন আদিবাসী লেখক আরেক মহাদেশের আদিবাসীদের অনুষ্ঠানে গিয়ে যা দেখেছেন — সেই দেখাটির নিজস্ব মূল্য আছে।
আর্কাইভের ওই লেখা অনুযায়ী, পাও ওয়াও শব্দটি এসেছে নারাগানসেট (Narragansett) ভাষার powwaw থেকে, যার অর্থ আধ্যাত্মিক নেতা।
অর্থাৎ শব্দটি নিজেই একটি নেটিভ আমেরিকান ভাষার — ইংরেজিতে ধার করা। আজ এটি একটি সমাবেশ ও নৃত্য-উৎসবের নাম, কিন্তু মূল অর্থ ছিল একজন মানুষ: যিনি আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেন।
শব্দের এই যাত্রাটি পরিভাষার আলোচনার আরেক দিক দেখায়। “রেড ইন্ডিয়ান” বাইরে থেকে চাপানো নাম; “পাও ওয়াও” ভেতর থেকে আসা শব্দ, যা বাইরের ভাষা গ্রহণ করেছে।
আর্কাইভের বিবরণে পাও ওয়াও-র নাচ, পোশাক ও আয়োজনের বর্ণনা আছে, আর তার মধ্যে একটি স্মরণ-অনুষ্ঠানের কথা। অনুষ্ঠানে প্রয়াতদের স্মরণে একটি নৃত্য হয়, যেখানে উপস্থিত সবাই যোগ দিতে পারেন।
লেখায় Timothy Ray নামে একজনের উল্লেখ আছে, যাঁর সঙ্গে লেখকের কথা হয়।
পূর্ণ বিবরণটি পড়ার জন্য মূল লেখাটিই সবচেয়ে ভালো — আদিবাসী আমেরিকানদের সাথে একদিন। এই পোস্টে কেবল তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে; অভিজ্ঞতাটি সেখানেই আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে “রেড ইন্ডিয়ান” বনাম “American Indian”, আর পার্বত্য চট্টগ্রামে “উপজাতি” বনাম “আদিবাসী” — দুটি তর্কের গঠন একই রকম: জনগোষ্ঠীকে কে নাম দেবে, আর সেই নামের সঙ্গে কী কী অধিকার জড়িত।
জুমজার্নাল এই তর্কে কোনো পক্ষ নেয় না। বাংলাদেশে সাংবিধানিক পরিভাষা “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা”, আর ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ব্যবহৃত শব্দ “উপজাতি” — এগুলো আইনি নথির শব্দ, এবং নথির কথা বলার সময় নথির শব্দই লেখা হয়।
আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে BIA-র পরিভাষা “American Indian” ও “Alaska Native” — সেখানেও সরকারি নথির শব্দই লেখা হয়েছে এই পোস্টে।
পার্থক্য একটা আছে, আর সেটি তথ্য হিসেবেই লেখা থাকল: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থায় ট্রাইবগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে BIA নিজেই “government-to-government” বলে বর্ণনা করে। বাংলাদেশ UNDRIP-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, তবে সেখানে এমন কোনো সরকার-থেকে-সরকার কাঠামো নেই।
এই লেখার সংখ্যাগুলো একসঙ্গে পড়লে একটি কথাই দাঁড়ায়: ১৮১৯ সালের আইনটি যা করতে চেয়েছিল, তা হয়নি। ৪০৮টি স্কুল, দেড়শো বছর, নাম-চুল-ভাষা বদলানোর চেষ্টা — তারপরেও ২০২০ সালের শুমারিতে ৯৭ লাখ মানুষ নিজেদের আমেরিকান ইন্ডিয়ান বা আলাস্কা নেটিভ হিসেবে লিখেছেন।
৫৭৪ বা ৫৭৫টি ট্রাইব এখনো ফেডারেলভাবে স্বীকৃত সরকার। চেরোকি পরিচয় লিখেছেন ১৫ লাখ মানুষ। আর Mason Dixon Historical Park-এ তিন দিনের পাও ওয়াও হয়েছে, যেখানে একজন পাহাড়ি লেখক গিয়ে বসতে পেরেছেন।
এটি কোনো সমাধানের গল্প নয়। কবরস্থানের অনুসন্ধান চলছে, সংখ্যা বাড়তে পারে কয়েক হাজারে, আর যে স্কুলভবনগুলোর ২২ শতাংশ এখনো চালু — সেগুলোর ইতিহাস সেখানকার শিশুদের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা এই লেখার উৎসে নেই।
এই ইতিহাস থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের জন্য সবচেয়ে কাজের জিনিসটি একটি সংখ্যা নয়, একটি পদ্ধতি — রাষ্ট্র নিজের ভুলের হিসাব নিজেই প্রকাশ করেছে, নাম ধরে, সংখ্যা ধরে, উদ্ধৃতি ধরে।
২০২২ সালের প্রতিবেদনটি Assistant Secretary — Indian Affairs Bryan Newland-এর নামে প্রকাশিত। সেখানে স্কুলের তালিকা আছে, কবরস্থানের সংখ্যা আছে, আর ১৮১৯ সালের আইনের বাক্যটি হুবহু উদ্ধৃত আছে।
এই ধরনের নথি বাংলাদেশে এখনো তৈরি হয়নি। ১৯৯৭ সালের চুক্তির পাঠ আছে, বাস্তবায়নের তর্ক আছে — কিন্তু অতীতের হিসাব সরকারি নথিতে সংখ্যাসহ লেখার নজির নেই।
আর ভাষার প্রশ্নটি সবচেয়ে কাছের। যুক্তরাষ্ট্রে ভাষা-ধ্বংসের পদ্ধতি ছিল স্কুল — “ভাষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিরুৎসাহিত বা প্রতিরোধ করা”। পাহাড়ের ভাষাগুলো যেখানে আছে, সেখানেও স্কুলই নির্ধারক জায়গা, যদিও পদ্ধতি আলাদা — মাতৃভাষায় শিক্ষার কর্মসূচি ও বাস্তবতা নিয়ে আলাদা লেখা আছে।
প্রতিবেদনের একটি বাক্য পুরো ইতিহাসটির অর্থনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখে: “Through treaties and other agreements, Indian Tribes ceded to the United States approximately 1 billion acres of land।” অর্থাৎ চুক্তি ও অন্যান্য সমঝোতার মাধ্যমে ইন্ডিয়ান ট্রাইবগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ১০০ কোটি একর ভূমি ছেড়ে দিয়েছে।
সংখ্যাটির মাপ বোঝার জন্য একটি তুলনা দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট আয়তন প্রায় ১৩,২৯৫ বর্গকিলোমিটার [সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া দরকার — যাচাই প্রয়োজন], আর ১০০ কোটি একর মানে প্রায় ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি।
প্রতিবেদন আরও একটি কথা লিখেছে, যা এই ভূমি-হস্তান্তরের চরিত্র বোঝায়: অ-ইন্ডিয়ান বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডিয়ান ট্রাইবগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা কমে এসেছে।
অর্থাৎ চুক্তিগুলো সময়ের সঙ্গে সমান দুই পক্ষের দরকষাকষি থাকেনি। এই পর্যবেক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ “চুক্তি হয়েছিল” কথাটি দিয়ে অনেক সময় বোঝানো হয় যে সম্মতি ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৭২২ থেকে ১৮৬৯ সালের মধ্যে ব্রিটিশ রাজশক্তি ও যুক্তরাষ্ট্র ইন্ডিয়ান ট্রাইবগুলোর সঙ্গে অন্তত ৩৭৪টি চুক্তি করেছে।
প্রতিবেদনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র — তার আগে গ্রেট ব্রিটেন ও ঔপনিবেশিক সরকারগুলোর মতোই — ইন্ডিয়ান ট্রাইবগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেছে “as separate and distinct sovereigns”, অর্থাৎ পৃথক ও স্বতন্ত্র সার্বভৌম সত্তা হিসেবে।
এই বাক্যটিই পরবর্তী সব আইনি তর্কের ভিত্তি। যদি চুক্তি হয়েছিল সার্বভৌম সত্তার সঙ্গে, তবে সেই সার্বভৌমত্ব কোনো অনুগ্রহ নয় — এটিই BIA-র “inherent powers” কথার ঐতিহাসিক ভিত্তি।
আর ১৮৬৯/১৮৭১-এ চুক্তি করা বন্ধ হওয়ার পরেও আগের চুক্তির দায় বহাল থাকার যে নিশ্চয়তা কংগ্রেস দিয়েছিল, তার কারণ এটিই।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে নির্দিষ্ট আইনি তথ্যটি এটি — Act of March 3, 1893 দিয়ে কংগ্রেস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমতা দেয়, যে পরিবারের শিশু স্কুলে যায়নি, সেই পরিবারের রেশন বন্ধ করে দেওয়ার — চুক্তিতে নিশ্চিত করা রেশনসহ।
আইনের ভাষা প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বিধি করতে পারেন, যা আটকে দেবে “the issuing of rations or the furnishing of subsistence either in money or in kind to the head of any Indian family for or on account of any Indian child or children between the ages of eight and twenty-one years who shall not have attended school during the preceding year…”
লক্ষ করুন বয়সসীমা — আট থেকে একুশ বছর। আর লক্ষ করুন কী আটকানো হচ্ছে — টাকা বা জিনিস, যে রূপেই হোক, subsistence; অর্থাৎ বেঁচে থাকার উপকরণ।
প্রতিবেদনে ১৯০৬ সালের Commissioner of Indian Affairs-এর বার্ষিক প্রতিবেদনের একটি লাইনও উদ্ধৃত আছে, যেখানে এই পদ্ধতির ফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে: “This good record has been possible thru the granting of authority by the Secretary of the Interior to withhold annuities from parents who refused to place their children in some school।” — অর্থাৎ যে বাবা-মা সন্তানকে স্কুলে দিতে রাজি হননি, তাঁদের বার্ষিক প্রাপ্য আটকে রাখার ক্ষমতাই এই “ভালো ফলাফল” সম্ভব করেছে।
এটি কোনো ব্যাখ্যা নয়, রাষ্ট্রের নিজের নথিতে লেখা স্বীকারোক্তি। অর্থাৎ উপস্থিতি “স্বেচ্ছায়” ছিল না — খাদ্য ও প্রাপ্য টাকার শর্ত হিসেবে আদায় করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন স্কুলগুলোর শাস্তির ধরন নাম ধরে লিখেছে: solitary confinement; flogging; withholding food; whipping; slapping; and cuffing — একাকী কারাবাস, বেত্রাঘাত, খাবার বন্ধ করা, চাবুক, চড় ও থাপ্পড়।
আর একটি বাক্য আছে, যা আলাদা করে লেখা দরকার: প্রতিবেদন বলছে ব্যবস্থাটি “at times made older Indian children punish younger Indian children” — কখনো কখনো বড় শিশুদের দিয়ে ছোট শিশুদের শাস্তি দেওয়ানো হয়েছে।
এই একটি তথ্যে ব্যবস্থাটির পদ্ধতি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শাস্তি কেবল বাইরে থেকে আসেনি; শিশুদের নিজেদের মধ্যেই তা চালু করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনের একটি পর্যবেক্ষণ পাঠক্রমের ফলাফল নিয়ে। শ্রম ও বৃত্তিমূলক দক্ষতায় মন দেওয়া এই ব্যবস্থা স্নাতকদের হাতে এমন কাজের সুযোগ তুলে দিয়েছে, যা “often irrelevant to the industrial U.S. economy” — অর্থাৎ শিল্পভিত্তিক মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায়ই অপ্রাসঙ্গিক।
প্রতিবেদনের ভাষায় এর ফল ছিল দ্বিমুখী: শিক্ষার্থীরা কাজ পাননি, আর ট্রাইবাল অর্থনীতিও ভেঙেছে।
অর্থাৎ যে যুক্তিতে শিশুদের নেওয়া হয়েছিল — “কাজ শেখানো” — সেটিও ফলেনি। শিশুরা নিজেদের সমাজের উৎপাদনব্যবস্থা থেকে সরে গেছে, আর যে অর্থনীতির জন্য তাদের তৈরি করা হচ্ছিল বলা হয়েছিল, সেখানেও জায়গা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী স্কুলের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রীভবন ছিল আজকের ওকলাহোমায় — ৭৬টি স্কুল, মোটের ১৯ শতাংশ। এরপর অ্যারিজোনা ৪৭টি (১২%) এবং নিউ মেক্সিকো ৪৩টি (১১%)।
| রাজ্য | স্কুলসংখ্যা | মোটের অংশ |
|---|---|---|
| ওকলাহোমা | ৭৬ | ১৯% |
| অ্যারিজোনা | ৪৭ | ১২% |
| নিউ মেক্সিকো | ৪৩ | ১১% |
| আলাস্কা | ২১ | ৫% |
| হাওয়াই | ৭ | ২% |
এই তিনটি রাজ্যেই মোটের ৪২ শতাংশ। ওকলাহোমার সংখ্যাটি দৈবাৎ নয় — ঊনবিংশ শতকে বহু ট্রাইবকে জোর করে সরিয়ে এই অঞ্চলে, তখনকার “ইন্ডিয়ান টেরিটরি”-তে, নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে সেই উচ্ছেদের কথা আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র স্কুল চালানোর জন্য একাধিক ধর্মীয় সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল, আর শর্ত ছিল “to pay a certain sum for each pupil” — প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক, যার সঙ্গে সংস্থাটি নিজের টাকাও যোগ করত।
প্রতিবেদনে নাম ধরে উল্লিখিত সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে: American Missionary Association of the Congregational Church, Board of Foreign Missions of the Presbyterian Church, Board of Home Missions of the Presbyterian Church, Bureau of Catholic Indian Missions এবং Protestant Episcopal Church।
কিন্তু ব্যাপারটি স্কুলেই থামেনি। ১৯২৮ সালের Meriam Report থেকে প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেছে যে ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশনগুলো “were distributed among the major religious denominations” — বড় ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল, আর এটি ছিল “an unprecedented delegation of power by the Federal Government to church bodies”।
Meriam Report-এর ভাষায় এই সম্প্রদায়গুলো পেয়েছিল নতুন এজেন্ট মনোনয়ন করার অধিকার এবং রিজার্ভেশনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা।
আইনি দিকটিও আছে। ১৯২২ সালের একটি বিধান অনুযায়ী মিশন বা স্কুলের কাজে ব্যবহৃত রিজার্ভেশনের ভূমি ধর্মীয় সংস্থার নামে পাট্টা দেওয়া যেত — প্রতি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১৬০ একর, এবং শর্ত ছিল যে মিশন বা স্কুলের কাজে আর ব্যবহার না হলে সেই ভূমি “shall revert to the Indian owners”, ইন্ডিয়ান মালিকদের কাছে ফিরে যাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী আলাস্কায় আদিবাসী শিশুদের বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে তিন পক্ষ — রুশ সরকার, মিশনারিরা এবং যুক্তরাষ্ট্র। সময়রেখাটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পুরনো।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ১৭৯৩ সালে দ্বিতীয় ক্যাথরিন একটি ukase (রাজকীয় আদেশ) জারি করে উত্তর আমেরিকার উপনিবেশে মিশনারি পাঠানোর নির্দেশ দেন — আলাস্কা নেটিভদের শিক্ষার জন্য।
১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কা কিনে নেওয়ার পর কী হলো, তাও প্রতিবেদনে আছে: রুশ সরকারের প্রতিনিধি Fur Company-র চালানো স্কুলগুলো “were disbanded”, আর রুশ পুরোহিতদের পড়ানো স্কুলগুলো “one after another died”। ফলে ১৮৬৭ থেকে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত আলাস্কায় কেবল মিশন স্কুলই ছিল।
পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি বিবরণ: শিশুদের রাখা হতো বেসমেন্ট ও চিলেকোঠায়, এবং “crowding was commonly observed” — গাদাগাদি সাধারণ দৃশ্য ছিল।
ভূমির প্রশ্নটি আলাস্কায় আলাদা পথে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৫৮ সালের Alaska Statehood Act নতুন রাজ্যকে ফেডারেল সরকারি ভূমি থেকে ১০ কোটি একরের বেশি বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয় — এবং আলাস্কা নেটিভদের ভূমি-অধিকারের প্রশ্নটি তাতেও মেটেনি। পরে Alaska Native Claims Settlement Act আদিবাসী স্বত্বের দাবি বিলোপ করে, বিনিময়ে টাকা ও ভূমি-নির্বাচনের ব্যবস্থা করে — তবে সেটি ট্রাইবাল সরকারের হাতে নয়, Alaska Native Corporation-এর হাতে। আর ১৯৮০ সালে ANILCA দিয়ে ১০ কোটি ৪০ লাখ একর ভূমির উপর ফেডারেল, রাজ্য, আলাস্কা নেটিভ গ্রাম, কর্পোরেশন ও ব্যক্তিমালিকানার ভারসাম্য নির্ধারণ করা হয়।
এই কর্পোরেশন-ব্যবস্থাটিই আলাস্কার পার্থক্যের মূল। মূল ভূখণ্ডে ট্রাইবাল সরকার, আলাস্কায় কর্পোরেশন — দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি গঠন।
প্রতিবেদনের একটি যোগসূত্র অপ্রত্যাশিত: ১৮১৯ সালের Indian Civilization Fund Act-এর টাকা হাওয়াইতেও গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮১৯ থেকে ১৮৪৭ সালের মধ্যে American Board of Commissioners for Foreign Missions (ABCFM) হাওয়াইতে ১২টি মিশনারি দল পাঠায় — এবং এই সংস্থাটি ১৮১৯ সালের ওই আইনের মাধ্যমে ফেডারেল সহায়তা পেয়েছিল।
ফল কী হয়েছিল, তার একটি মাপ প্রতিবেদনে আছে: ১৮২০-এর দশকের শেষে নেটিভ হাওয়াইয়ান প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার অধিকাংশই মিশনারি স্কুলে পড়তেন।
তবে হাওয়াইয়ের গল্পে একটি মোড় আছে, যা অন্য জায়গায় নেই। প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মিশনারিরা ১৮৩৪ সালে একটি ছাপাখানা এনে ʻŌlelo Hawaiʻi ভাষায় প্রাইমার, ক্যাটিকিজম ও বাইবেল ছেপে বিতরণ করে — আর ১৮৪০ সালে রাজা কামেহামেহা তৃতীয় একটি অধিকার-সনদ তৈরি করেন, যেখানে ʻŌlelo Hawaiʻi-ভিত্তিক একটি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার কথা ছিল, এবং শিক্ষা মিশনারির দায় থেকে রাজ্যের দায়ে পরিণত হয়।
অর্থাৎ হাওয়াইতে আদিবাসী ভাষায় ছাপা ও আদিবাসী ভাষায় রাষ্ট্রীয় শিক্ষা — দুটোই ঊনবিংশ শতকেই হয়েছিল। মূল ভূখণ্ডের স্কুলগুলোতে তখন ভাষা ব্যবহার “নিরুৎসাহিত বা প্রতিরোধ” করা হচ্ছিল।
এই বৈপরীত্যটি মাথায় রাখলে ১৮৯৮ সালের পরিণতিটি আরও স্পষ্ট হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই বছর সংযুক্তির যৌথ প্রস্তাবে হাওয়াই রিপাবলিকের হাতে থাকা সব ভূমি — সাবেক রাজ্যের সরকারি ও রাজকীয় ভূমিসহ — যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরিত হয়, পরিমাণে ১৮ লাখ একর।
প্রতিবেদনে একটি অধ্যায় আছে, যা সাধারণত এই আলোচনায় আসে না — Freedmen, অর্থাৎ দাসত্বমুক্ত আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রসঙ্গ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী Five Civilized Tribes হিসেবে পরিচিত জনগোষ্ঠীগুলোর — Cherokee Nation, Chickasaw Nation, Choctaw Nation, Muscogee (Creek) Nation ও Seminole Nation — কারও কারও কাছে দাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আজকের ওকলাহোমার ইন্ডিয়ান টেরিটরিতে জোর করে সরিয়ে নেওয়ার আগে।
১৮৬৩ সালের মুক্তির ঘোষণা ও ১৮৬৫-তে গৃহযুদ্ধ শেষের পর ১৮৬৫ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত Freedmen’s Bureau মুক্ত মানুষদের ত্রাণ ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সব কাজ দেখত — রেশন, কাপড় ও ওষুধ বিতরণসহ।
প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট স্কুলের উদাহরণ আছে: আগুনে ভবন পুড়ে যাওয়ার পর স্কুলটি ১৮৮৩ সালে Tullahassee Manual Labor School নামে আবার চালু হয়, Baptist Home Mission Society এবং Creek Freedmen ও তাঁদের বংশধরদের সহযোগিতায়।
এই স্তরটি উল্লেখ করা দরকার, কারণ এটি দেখায় ব্যবস্থাটি একরৈখিক ছিল না। একই ইতিহাসে ট্রাইবগুলো একসঙ্গে ভুক্তভোগী ও দাসমালিক — দুটোই।
এই পুরো হিসাবটি তৈরি হওয়ার কারণ একটি সরকারি নির্দেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের ২২ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেব হাল্যান্ড একটি মেমোরান্ডাম জারি করে Department of the Interior-কে নির্দেশ দেন ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থার অনুসন্ধান করতে।
নির্দেশে যা দেখতে বলা হয়েছিল, প্রতিবেদনের ভাষায়: ব্যবস্থাটির পরিধি, বিশেষ করে স্কুলের অবস্থান, কবরস্থান এবং যে শিশুরা সেখানে পড়েছে তাদের পরিচয় নির্ণয়।
প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে Assistant Secretary — Indian Affairs ব্রায়ান নিউল্যান্ড-এর দায়িত্বে, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠির তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২।
কাজের একটি ধাপ ছিল পরামর্শ-সভা। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৭, ১৮ ও ২৩ নভেম্বর ইন্ডিয়ান ট্রাইব, আলাস্কা নেটিভ ভিলেজ, আলাস্কা নেটিভ কর্পোরেশন ও নেটিভ হাওয়াইয়ান সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ হয়েছে।
প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সেই সভাগুলোতে ট্রাইবাল নেতা ও প্রতিনিধিরা কবরস্থান রক্ষা এবং NAGPRA-র অধীনে সুরক্ষা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
প্রতিবেদনে Assistant Secretary নিউল্যান্ড স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আটটি সুপারিশ করেছেন। তার মধ্যে দুটি নির্দিষ্ট কাজের কথা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে নাম ধরে আছে।
প্রথমটি: ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুলগুলোর চিহ্নিত ও অচিহ্নিত কবরস্থানের একটি তালিকা তৈরি করা।
দ্বিতীয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ: ব্যবস্থাটি চালাতে মোট কত ফেডারেল অর্থ ব্যয় হয়েছে তার একটি আনুমানিক হিসাব — এবং তার মধ্যে এমন কোনো টাকা ছিল কি না, যা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ট্রাস্টে রাখা ট্রাইবাল ও ব্যক্তিগত ইন্ডিয়ান অ্যাকাউন্ট থেকে।
এই দ্বিতীয় সুপারিশের ভেতরে একটি সম্ভাবনা লুকানো আছে, যা বড় প্রশ্ন তোলে: যে ব্যবস্থাটি ইন্ডিয়ান শিশুদের পরিচয় বদলানোর জন্য চালানো হয়েছিল, তার খরচের একটি অংশ হয়তো ইন্ডিয়ানদের নিজেদের টাকা থেকেই এসেছে। প্রতিবেদন এটি প্রমাণ করছে না — এটি তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে NAGPRA-র অধীনে ফেরত আসা শিশুদের দেহাবশেষ ট্রাইবাল প্রথা অনুযায়ী পুনরায় সমাধিস্থ করার সুযোগ দেওয়া, NAGPRA-পালনের জন্য বরাদ্দ ও কর্মী বাড়ানো, স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে ফেডারেল তহবিলে গবেষণা, এবং একটি ফেডারেল স্মৃতিস্তম্ভ দিয়ে সেই প্রজন্মগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।
প্রতিবেদনের একটি বৈশিষ্ট্য আলাদা করে উল্লেখযোগ্য — এটি নিজের কাজের সীমা স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছে।
প্রতিবেদনের ভাষায়: এই প্রতিবেদন ফেডারেল ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থা এবং আজকের ইন্ডিয়ান ট্রাইব, আলাস্কা নেটিভ ভিলেজ ও নেটিভ হাওয়াইয়ান সম্প্রদায়ের মানুষের বর্তমান অভিজ্ঞতার মধ্যে সংযোগ বিশ্লেষণ করেনি।
কারণও লেখা আছে: Department বরাদ্দের দিক থেকে সীমাবদ্ধ ছিল — ২০২১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলছিল ধারাবাহিক continuing resolution-এর অধীনে, আর নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় কিছু গবেষণা করা যায়নি।
তাই প্রতিবেদনটি নিজেকে চূড়ান্ত বলছে না। নিউল্যান্ড তাঁর উপসংহারে লিখেছেন, বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থার legacy impact নির্ধারণ করতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।
একটি নথি তার নিজের ফাঁক কোথায়, সেটি লিখে দিলে পরের গবেষকের কাজ সহজ হয় — আর পাঠকের পক্ষে বোঝা সহজ হয় যে কোন সংখ্যা এখনো বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন একটি গবেষণা-ধারার উল্লেখ করেছে, যা বোর্ডিং স্কুলে পড়া এখন-প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শারীরিক অবস্থার পরিমাণগত হিসাব নিয়েছে — প্রতিবেদনের ভাষায় watershed Running Bear studies।
প্রতিবেদন বলছে, এই গবেষণার ফল ইঙ্গিত করে যে ইন্ডিয়ান বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থা অংশগ্রহণকারীদের বর্তমান স্বাস্থ্যের উপর এখনো প্রভাব রাখছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি গবেষণাপত্রের সূত্র: Ursula Running Bear et al., Boarding School Attendance and Physical Health Status of Northern Plains Tribes, Applied Research in Quality of Life (২০১৮)।
প্রতিবেদন এই ফলাফল থেকে একটি উপসংহারে গিয়েছে: একটি স্বতন্ত্র গবেষক দলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও প্রতিবেদন দরকার। অর্থাৎ সরকারি তদন্তই বলছে, সরকারের বাইরের গবেষণা দরকার।
প্রজন্মান্তরের প্রভাবের প্রসঙ্গেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। প্রতিবেদনের ভাষায়, এই উদ্যোগটি নতুন আলো ফেলেছে কীভাবে ব্যবস্থাটি পরিবারের বন্ধন ভেঙে intergenerational trauma তৈরি করেছে — ইন্ডিয়ান ট্রাইব, আলাস্কা নেটিভ ভিলেজ ও নেটিভ হাওয়াইয়ান সম্প্রদায়ে।
প্রতিবেদনের শেষভাগে একটি দৃশ্য আছে, যা পুরো ইতিহাসটির জটিলতা একটি অনুচ্ছেদে ধরে রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০৫ সালে, প্রায় কুড়ি বছর যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক থাকার পর, Geronimo (Goyaałé) ওকলাহোমার Fort Sill থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পান — মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের অভিষেকে যোগ দিতে।
প্রতিবেদন জানাচ্ছে, তিনি পেনসিলভেনিয়ার Carlisle Indian Industrial School দেখতে যাওয়ার ব্যবস্থাও করিয়ে নেন — সেই স্কুল, যার প্রতিষ্ঠাতার নামের সঙ্গে “kill the Indian in him” কথাটি জড়িয়ে আছে।
সেখানে বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে Goyaałé বলেন — প্রতিবেদনে ১৯০৫ সালের Carlisle Arrow থেকে উদ্ধৃত: “You are all just the same as my children to me, just the same … when I look at you all here … You are here to study, to learn the ways of white men; do it well।”
অর্থাৎ: তোমরা সবাই আমার কাছে আমার সন্তানের মতোই… তোমরা এখানে পড়তে এসেছ, সাদা মানুষদের পথ শিখতে; ভালোভাবে শেখো।
এই কথাগুলোর অর্থ একভাবে পড়া যায় না, আর এই পোস্টে তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। একজন কুড়ি বছর ধরে বন্দি মানুষ সেই ব্যবস্থার শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে কী ভেবে এ কথা বলেছিলেন, তা প্রতিবেদনে নেই।
এটি ঔপনিবেশিক আমলের বাইরে থেকে চাপানো নাম, যার ভেতরে গায়ের রঙের অবজ্ঞা আছে। জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি প্রবন্ধে লেখা আছে, ইউরোপীয়রা বিজিত জনগোষ্ঠীদের savage, primitive, tribal, Red Indian প্রভৃতি নামে ডেকেছে, আর এই নামগুলোর বর্ণবাদী ব্যঞ্জনা এড়াতেই indigenous শব্দের ব্যবহার শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের Bureau of Indian Affairs সরকারিভাবে দুটি পরিভাষা ব্যবহার করে — American Indian ও Alaska Native, আর তাদের ভাষায় এই দুটি শব্দ ব্যবহার করা এখনো যথাযথ। বাংলায় চলে “নেটিভ আমেরিকান” বা “আদিবাসী আমেরিকান”। নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা বলতে হলে তার নিজের নামই সবচেয়ে ভালো — চেরোকি, নাভাহো, ইউপিক, ত্লিংগিত।
২০২০ সালের আদমশুমারিতে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৯৭ লাখ মানুষ — একা অথবা অন্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিয়ে। BIA-র পাতায় থাকা ২০০৭ সালের হিসাব ছিল ৪৫ লাখ, মোট জনসংখ্যার ১.৫ শতাংশ।
দুটি সরকারি সংস্থা দুটি সংখ্যা দিচ্ছে। Bureau of Indian Affairs-এর প্রশ্নোত্তর পাতায় লেখা ৫৭৫, আর US Census Bureau-র ২০২৩ সালের তথ্যপত্রে ৫৭৪। ফারাকটি সম্ভবত তালিকা হালনাগাদের তারিখের, তবে এই লেখার উৎসে তা স্পষ্ট নয়।
BIA-র সংজ্ঞায় স্বীকৃত ট্রাইব হলো সেটি, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকার-থেকে-সরকার সম্পর্ক আছে এবং যা BIA-র তহবিল ও সেবা পাওয়ার যোগ্য। মূল কথাটি ওই “government-to-government” শব্দবন্ধেই — আইনি কাঠামোয় ট্রাইব একটি সরকার, কেবল সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়।
না। BIA-র সংজ্ঞায় ট্রাইবগুলো স্বশাসনের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ধরে রাখে, তবে তিনটি ব্যতিক্রম আছে — যা চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেস স্পষ্টভাবে বিলোপ করেছে, এবং যা আদালত ফেডারেল আইনের সঙ্গে অসঙ্গত বলে রায় দিয়েছে।
Federal Indian Boarding School Initiative-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮১৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৩৭টি রাজ্যে বা তখনকার অঞ্চলে ৪০৮টি স্কুল চালিয়েছে বা সহায়তা দিয়েছে — আলাস্কায় ২১টি, হাওয়াইতে ৭টি। স্কুলের আকার ছিল এক শিশু থেকে সতেরো শতাধিক শিশু পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে প্রায় ১৯টি স্কুলে ৫০০-র বেশি শিশুর মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গেছে, আর অন্তত ৫৩টি জায়গায় কবরস্থান চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিবেদন নিজেই সতর্ক করেছে, অনুসন্ধান এগোলে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে — অর্থাৎ ৫০০ চূড়ান্ত হিসাব নয়।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত Act of March 3, 1893 অনুযায়ী কংগ্রেস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমতা দেয়, আট থেকে একুশ বছরের যে শিশু আগের বছর স্কুলে যায়নি, তার পরিবারের রেশন ও ভরণপোষণ — টাকায় বা জিনিসে — বন্ধ করে দেওয়ার। চুক্তিতে নিশ্চিত করা রেশনও এর মধ্যে ছিল।
প্রতিবেদন চারটি পদ্ধতি নাম ধরে লিখেছে — ইন্ডিয়ান নাম বদলে ইংরেজি নাম দেওয়া, চুল কেটে দেওয়া, ভাষা-ধর্ম-সাংস্কৃতিক চর্চা নিরুৎসাহিত বা প্রতিরোধ করা, এবং সামরিক কুচকাওয়াজের জন্য শিশুদের ইউনিটে ভাগ করা।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একটি লেখা অনুযায়ী আইনটি পাস হয় ১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর, প্রায় কুড়ি বছরের প্রচারের পর। সেই লেখায় বলা হয়েছে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ভেতরেও ভাষা-সুরক্ষার দাবি ছিল।
জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি প্রত্যক্ষ বিবরণ অনুযায়ী শব্দটি এসেছে নারাগানসেট ভাষার powwaw থেকে, যার অর্থ আধ্যাত্মিক নেতা। লেখকটি Mason Dixon Historical Park-এ তিন দিনের Mountain Spirit Pow Wow-তে গিয়েছিলেন।
এই লেখার সব সংখ্যা ও উদ্ধৃতি উপরের উৎসগুলো থেকে নেওয়া। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী শিক্ষা, আদিবাসীদের ভাষা বিলুপ্তি, আন্তর্জাতিক, আমেরিকা, আমেরিকান আদিবাসী
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।