Jumjournal Logo

জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎকরণ আইন ২০২৩: সামরিক আমলের অধ্যাদেশ নতুন করে কেন লিখতে হলো

Last updated Oct 19th, 2026

0

মাঠের ওপারে ধূসর আকাশের নিচে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন, সামনে লাল-হলুদ ফুলের সারি আর বাঁ পাশে একটি নারকেল গাছের পাতা

জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎকরণ আইন ২০২৩ (সরকারি নাম “জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩”, 2023 সনের 55 নং আইন) সামরিক শাসনামলের মাত্র একটি অধ্যাদেশকে বাংলায় নতুন করে লিখেছে: 1984 সালের Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance। আইনটির প্রস্তাবনা কারণ জানায় দুটি: পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের 19 অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করেছে, আর সিভিল আপিল নং 48/2011-এ আপিল বিভাগ সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে; ফলে 24 মার্চ 1982 থেকে 11 নভেম্বর 1986-এর মধ্যে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর “কার্যকারিতা লোপ পাইয়াছে”।

অধ্যাদেশটির কাজ ছিল ছোট কিন্তু ভিত্তিমূলক: 1836 সালের জেলা আইন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ করা, আর বান্দরবান ও খাগড়াছড়িকে সেই আইনের অধীনে সৃষ্ট জেলা বলে গণ্য করা। এই লেখা আইনটির পাঁচটি ধারা, তার আগের অধ্যাদেশের চারটি ধারা, সংসদে বিলটির সঙ্গে দেওয়া “উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতি”, আর সুপ্রিম কোর্টের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী মামলার রায় আদালত যে ভাষায় দিয়েছিল তা পাশাপাশি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য আইন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

সূচিপত্র

  1. জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎকরণ আইন ২০২৩ আসলে কী করে
  2. কোন অধ্যাদেশটি নতুন করে লেখা হলো, আর সেটি কবে জারি হয়েছিল
  3. পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা আইন আলাদা করে “প্রয়োগ” করতে হলো কেন
  4. বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়
  5. সামরিক আমলের অধ্যাদেশ কীভাবে টিকে ছিল: চতুর্থ তফসিলের 19 অনুচ্ছেদ
  6. পঞ্চম সংশোধনী মামলায় আদালত কী বলেছিল
  7. সপ্তম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগ ঠিক কী ঘোষণা করেছিল
  8. পঞ্চদশ সংশোধনীর পর অধ্যাদেশগুলোর কী হলো
  9. 2013 সালের 7 নং আইন অধ্যাদেশটিকে কীভাবে টিকিয়ে রেখেছিল
  10. 2023 সালের বিলটি কী যুক্তিতে সংসদে আনা হয়েছিল
  11. ধারা ধরে ধরে: 1984-র অধ্যাদেশ আর 2023-এর আইন
  12. আইনটি কী করে না
  13. পাহাড়ের অন্য সামরিক-আমলের অধ্যাদেশগুলোর কী হয়েছে
  14. সময়রেখা: 1836 থেকে 2024
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎকরণ আইন ২০২৩ আসলে কী করে?

আইনটি তিন পার্বত্য জেলায় 1836 সালের জেলা আইন (Act No. XXI of 1836) প্রযোজ্য ঘোষণা করে, Code of Criminal Procedure, 1898-এর অধীনে সৃষ্ট বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলাকে 1836 সালের আইনের অধীনে সৃষ্ট বলে গণ্য করে, আর 1984 সালের অধ্যাদেশ রহিত করে তার অধীনে করা কাজ রক্ষা করে। মোট ধারা পাঁচটি, তফসিল নেই।

বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় (সোমবার, 13 নভেম্বর 2023, পৃষ্ঠা 15947–15948) আইনটি ছাপা হয়। গেজেটের ভাষায়, “সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনটি ২৮ কার্তিক, ১৪৩০ মোতাবেক ১৩ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভ করিয়াছে”। স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সচিব কে, এম, আব্দুস সালাম। আইনটির শিরোনামের নিচে লেখা: Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 “রহিতক্রমে নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন”।

পাঁচটি ধারার বিষয় এক নজরে:

ধারাশিরোনামযা বলে
1সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তনআইনের নাম; “ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে”
2সংজ্ঞা“পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা” অর্থ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা
3Act No. XXI of 1836 এর প্রয়োগপার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে District Act, 1836 প্রযোজ্য হবে
4বৈধতাCrPC 1898-এর অধীনে সৃষ্ট বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা 1836 সালের আইনের অধীনে সৃষ্ট বলে গণ্য হবে
5রহিতকরণ ও হেফাজত1984 সালের অধ্যাদেশ রহিত; তার অধীনে কৃত কাজ এই আইনের অধীনে কৃত বলে গণ্য

প্রস্তাবনায় চারটি “যেহেতু” আছে, আর আইনের যুক্তির প্রায় সবটাই সেখানে। প্রথমটি সাংবিধানিক ঘটনা দুটির কথা বলে, দ্বিতীয়টি 2013 সালের 7 নং আইনের, তৃতীয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের: অধ্যাদেশগুলোর “আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া” দরকারি অধ্যাদেশগুলো “প্রয়োজনীয় পরিমার্জনক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে বাংলায় নূতন আইন” হিসেবে প্রণয়ন করা হবে। চতুর্থটি সেই সিদ্ধান্তের আলোকে এই নির্দিষ্ট অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন করাকে “সমীচীন ও প্রয়োজনীয়” বলে।

কোন অধ্যাদেশটি নতুন করে লেখা হলো, আর সেটি কবে জারি হয়েছিল?

নতুন করে লেখা হয়েছে একটিই অধ্যাদেশ: The Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (Ordinance No. LXXI of 1984), জারির তারিখ 5 ডিসেম্বর 1984। রাষ্ট্রপতি এটি জারি করেন “in pursuance of the Proclamation of the 24th March, 1982”, অর্থাৎ এরশাদের সামরিক আইন ঘোষণার ক্ষমতাবলে। অধ্যাদেশটি পেছনের তারিখ 18 এপ্রিল 1981 থেকে কার্যকর ধরা হয়েছিল।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইন-সংকলন bdlaws-এ অধ্যাদেশটির ইংরেজি পাঠ এখনো রাখা আছে, ওপরে লেখা: “এই আইন জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৫ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে।” অধ্যাদেশের দীর্ঘ শিরোনাম ছিল “An Ordinance to extend the Districts Act, 1836, to the Chittagong Hill-tracts”। ধারা মোট চারটি:

  1. ধারা 1: নাম, আর উপধারা (2): “It shall be deemed to have come into force on the 18th April, 1981.”
  2. ধারা 2: “Chittagong Hill-tracts” means the area known by that name as existing on the first day of January, 1936.
  3. ধারা 3: The Districts Act, 1836 (XXI of 1836), shall apply to the Chittagong Hill-tracts.
  4. ধারা 4 (Validation): The new districts of Bandarban and Khagrachari created in the Chittagong Hill-tracts under the Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898), before the commencement of this Ordinance shall be deemed to have been created under the Districts Act, 1836 (XXI of 1836).

অধ্যাদেশটি জারি হয়েছিল ডিসেম্বর 1984-তে, কিন্তু প্রবর্তনের তারিখ ধরা হয় সাড়ে তিন বছর আগের, 18 এপ্রিল 1981। অধ্যাদেশটি নিজে ওই তারিখ বাছাইয়ের কারণ জানায় না। এর ধারা 4 যা জানায় তা হলো, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা অধ্যাদেশের আগেই সৃষ্টি হয়েছিল, এবং সেটি হয়েছিল ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে, জেলা আইনের অধীনে নয়। অধ্যাদেশটি সেই সৃষ্টিকে পেছন থেকে জেলা আইনের ছাতার নিচে আনে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা আইন আলাদা করে “প্রয়োগ” করতে হলো কেন?

কারণ 1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির 4 ধারা বলে, তফসিলে নাম থাকা আইন ছাড়া “No other enactment heretofore or hereafter passed shall be deemed to apply in the Chittagong Hill-tracts”, যদি না সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে আলাদা করে প্রয়োগ ঘোষণা করে। দেশের সাধারণ আইন পাহাড়ে আপনা-আপনি চলে না; প্রতিটিকে আলাদা করে আনতে হয়।

শাসনবিধির ধারা 4(1) তফসিলভুক্ত আইনগুলোকে পাহাড়ে বলবৎ ঘোষণা করে, আর ধারা 4(2) বাকি সব আইনের দরজা বন্ধ রাখে। ধারা 4(2)-এর শর্তাংশ সরকারকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নতুন আইন প্রয়োগ বা পুরোনো আইন প্রত্যাহারের ক্ষমতা দিয়েছিল, কিন্তু তার দ্বিতীয় শর্তাংশ বলে: “Provided further that no such declaration shall be after the commencement of Part III of the Government of India Act, 1935.” অর্থাৎ শাসনবিধির নিজের ভাষায়, প্রজ্ঞাপনের পথটি 1935 সালের ভারত শাসন আইনের তৃতীয় খণ্ড চালু হওয়ার পর থেকে আর খোলা নেই। এরপর পাহাড়ে কোনো আইন প্রয়োগ করতে হলে আইন বা অধ্যাদেশ দিয়েই করতে হয়েছে; 1984 সালের অধ্যাদেশ তেমনই একটি।

এর সঙ্গে শাসনবিধির 7 ধারা যুক্ত। মূল পাঠে বলা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম “a district”। bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী “three districts” শব্দগুলো বসানো হয় অনেক পরে, The Chittagong Hill-Tracts Regulation (Amendment) Act, 2003 (2003 সনের 38 নং আইন)-এর 3 ধারায়। ফলে 1981–1983 সালে যখন পাহাড়ে নতুন জেলা হচ্ছে, তখন শাসনবিধির পাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম তখনো একটি জেলা। শাসনবিধি নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন পর্যন্ত পাহাড়ের ভূমি-ব্যবস্থার লেখায়।

1836 সালের জেলা আইনে কী আছে

The Districts Act, 1836 (Act No. XXI of 1836, তারিখ 11 সেপ্টেম্বর 1836) এক অনুচ্ছেদের আইন। এর বর্তমান পাঠ: “It shall be lawful for the Government, by notification in the official Gazette, to create new districts in any part of Bangladesh.” দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: “Government may, from time to time, alter the limits of the existing districts in any part of Bangladesh.” bdlaws-এর পাদটীকা বলে, শিরোনাম থেকে “BENGAL” শব্দ, “Provincial” শব্দ, আর পুরো দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি এসেছে Bangladesh Laws (Revision And Declaration) Act, 1973 (Act No. VIII of 1973)-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ নতুন জেলা গঠনের সাধারণ আইনি ক্ষমতা এই আইনেই।

আমাদের আর্কাইভের একটি পুরোনো লেখা এই আইনের সঙ্গে পাহাড়ের সম্পর্ক অন্য দিক থেকে দেখায়। গৌতম কুমার চাকমা তাঁর “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা” প্রবন্ধে (কেদাকতুক বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন 2012) লিখেছেন, 1860 সালে চাকমা রাজার শাসনাধীন অঞ্চল চট্টগ্রাম জেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেখানে District Act, 1836 অনুযায়ী শাসন চলত, এবং “উক্ত সাধারণ আইনের আওতায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও অপরাপর জাতির লোকদের অধিকারের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব ছিল না”। একই প্রবন্ধ অনুযায়ী 1860 সালেই Bengal Act XXII of 1860 বলে চট্টগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করে “Chittagong Hill Tracts” নামে আলাদা জেলা করা হয়। 1984 সালের অধ্যাদেশ সেই সাধারণ জেলা আইনটিকেই আবার পাহাড়ে এনেছিল, তবে কেবল জেলা গঠন ও সীমানা বদলের কাজে।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বাংলাপিডিয়ার হিসাবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয় 1983 সালে। বান্দরবানের তারিখ নিয়ে উৎসে অমিল আছে: ইংরেজি বাংলাপিডিয়া বলে 1 অক্টোবর 1981, বাংলা বাংলাপিডিয়া বলে 10 অক্টোবর 1981, আর ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যছক বলে 18 এপ্রিল 1981, যা 1984 সালের অধ্যাদেশের প্রবর্তন-তারিখের সঙ্গে মেলে।

বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লাল রঙে চিহ্নিত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান
বাংলাদেশের মানচিত্রে তিন পার্বত্য জেলা, আইনের ধারা 2 যাদের “পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা” বলে। ছবি: Nafsadh · CC0 · Wikimedia Commons

2023 সালের বিলের সঙ্গে সংসদে দেওয়া “উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতি” জেলা দুটির আইনি জন্মকথা সরকারি ভাষায় বলে: “District Act, 1836 এর অধীনে নতুন জেলা সৃজন করা হয়ে থাকে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা Code of Criminal Procedure, 1898 এর section 8 এর ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। উক্ত অসামঞ্জস্য দূরীকরণের জন্য Districts (Extension to the Chittagong Hill-Tracts) Ordinance, 1984 জারি করে উল্লিখিত দুটি জেলাকে District Act, 1836 এর অধীন সৃষ্ট জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।”

অর্থাৎ সরকারের নিজের বিবরণে জেলা দুটি জন্মেছিল ভুল আইনের অধীনে। ফৌজদারি কার্যবিধি জেলা বানানোর জন্য তৈরি আইন নয়; সেটি আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের এলাকাভিত্তিক এখতিয়ারের আইন। কার্যবিধির 7(1) ধারা বলে, “Bangladesh shall consist of sessions divisions: and every sessions division shall, for the purposes of this Code, be a district or consist of districts।” অর্থাৎ কার্যবিধির “district” শব্দটি কার্যবিধির উদ্দেশ্যেই। বিবৃতিতে উল্লিখিত section 8-এর বর্তমান পাঠ অবশ্য 1981 সালের পাঠ নয়: bdlaws অনুযায়ী 8 ধারা Code of Criminal Procedure (Amendment) Act, 2009 দিয়ে প্রতিস্থাপিত (কার্যকর 1 নভেম্বর 2007 থেকে), এবং এখন এটি জেলাকে উপজেলায় ভাগ করার বিধান।

রাঙামাটির কথা আইনে বা অধ্যাদেশে নেই। ধারা 4 কেবল বান্দরবান ও খাগড়াছড়িকে বৈধতা দেয়, কারণ সরকারি বিবৃতিতে “নতুন” জেলা ওই দুটিই। মূল পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার জায়গায় রাঙামাটি কোন আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন নাম ও সীমানা পেল, সে বিষয়ে আইনটি কিছু বলে না।

সামরিক আমলের অধ্যাদেশ কীভাবে টিকে ছিল: চতুর্থ তফসিলের 19 অনুচ্ছেদ

1986 সালের সপ্তম সংশোধনী (Act 1 of 1986)-এর 3 ধারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে নতুন 19 অনুচ্ছেদ যোগ করে। এই অনুচ্ছেদ 24 মার্চ 1982 থেকে সপ্তম সংশোধনী চালু হওয়া পর্যন্ত জারি হওয়া সব ঘোষণা, সামরিক বিধি ও অধ্যাদেশকে “ratified and confirmed” ঘোষণা করে। 1984 সালের জেলা অধ্যাদেশও এই সময়ের মধ্যে পড়ে, তাই এর আইনি ভিত্তি ছিল এই অনুচ্ছেদ।

সপ্তম সংশোধনী মামলার রায়ে আপিল বিভাগ 19 অনুচ্ছেদের পাঠ উদ্ধৃত করেছে। উপ-অনুচ্ছেদ (1)-এর মূল অংশ: “The Proclamation of the 24th March, 1982 … and all other Proclamations, Proclamation Orders, Chief Martial Law Administrators Orders, Martial Law Regulations, Martial Law Orders, Martial Law Instructions, Ordinances and all other laws made during the period … are hereby ratified and confirmed and declared to have been validly made and shall not be called in question in or before any court, tribunal or authority on any ground whatsoever.”

অধ্যাদেশগুলো ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কীভাবে, তা বলা ছিল আরেকটি উপ-অনুচ্ছেদে: “All Ordinances and other laws in force immediately before the date of commencement of the said Act shall, subject to the Proclamation revoking the said Proclamation and withdrawing the Martial Law, continue in force until altered, amended or repealed by competent authority.” এই বাক্যের জোরেই 1984 সালের অধ্যাদেশটি সামরিক শাসন উঠে যাওয়ার পরও সাধারণ আইনের মতো চলছিল, যতদিন না আদালত ও সংসদ অনুচ্ছেদটিকে সরিয়ে দেয়।

এই সময়ের সীমা নিয়ে দলিলগুলোতে সামান্য ভিন্নতা আছে। 2013 সালের 7 নং আইনের নাম ও 2023 সালের আইনের প্রস্তাবনা বলে “১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর”; সপ্তম সংশোধনীর রায় সামরিক কাজকর্মের সমাপ্তি বলে “till 11 November 1986”; আর 7 নং আইনের রহিতকরণ ধারায় 2013 সালের 2 নং অধ্যাদেশের নামে লেখা “১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর”।

পঞ্চম সংশোধনী মামলায় আদালত কী বলেছিল?

পঞ্চম সংশোধনী মামলা (Khondker Delwar Hossain v. Bangladesh Italian Marble Works Ltd.) এরশাদের নয়, 1975–1979 সালের সামরিক শাসনের বিষয়ে। হাইকোর্ট বিভাগ 29 আগস্ট 2005 পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে; আপিল বিভাগ 2010 সালে লিভ আবেদন খারিজ করে সেই রায় সংশোধনসহ বহাল রাখে। সপ্তম সংশোধনী মামলার যুক্তির ভিত্তি এই রায়।

আপিল বিভাগের রায়ে (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং 1044 ও 1045/2009, প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামসহ ছয় বিচারপতি; শুনানি 19 জানুয়ারি থেকে 1 ফেব্রুয়ারি 2010) হাইকোর্টের একটি অংশ উদ্ধৃত আছে, যেখানে হাইকোর্ট বলেছিল: “we provisionally condone the Ordinances, and provisions of the various Proclamations, MLRs and MLOs save and except those are specifically denied above”। অর্থাৎ হাইকোর্ট অবৈধতা ঘোষণা করেও আইনি শূন্যতা এড়াতে “doctrine of necessity” প্রয়োগ করে অধ্যাদেশগুলোকে সাময়িকভাবে মার্জনা করেছিল।

আপিল বিভাগ নিজের আদেশে মার্জনার তালিকা নতুন করে লেখে। তালিকার শেষ দফা (f) অধ্যাদেশের প্রশ্নে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক: “all acts and legislative measures which are in accordance with, or could have been made under the original Constitution.” রায়ের শেষে আদালত লেখে: “While dismissing the leave petitions we are putting on record our total disapproval of Martial Law and suspension of the Constitution or any part thereof in any form.” আরও লেখে: “However, it is the Parliament which can make law in this regard. Let us bid farewell to all kinds of extra constitutional adventure for ever.”

পরে আপিল বিভাগ সিভিল রিভিউ পিটিশন নং 17–18/2011-এ 29 মার্চ 2011 তারিখের আদেশে রায়ের চতুর্থ তফসিল-সংক্রান্ত অংশ পুনর্বিবেচনা করে। সপ্তম সংশোধনী মামলার রায় সেই আদেশের সারকথা দেয়: আপিল বিভাগ হাইকোর্টের মত বহাল রাখে এবং “made the condonation of the past and closed transactions, as provisional, as held by the High Court Division”।

সপ্তম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগ ঠিক কী ঘোষণা করেছিল?

সিভিল আপিল নং 48/2011 (Siddique Ahmed v. Government of Bangladesh)-এ আপিল বিভাগ 15 মে 2011 রায় দেয়: সপ্তম সংশোধনী আইনের 3 ধারা বাতিল, চতুর্থ তফসিলের 19 অনুচ্ছেদ “void and non est”। 24 মার্চ 1982 থেকে 11 নভেম্বর 1986 পর্যন্ত জারি হওয়া সামরিক ঘোষণা, বিধি ও অধ্যাদেশ “illegal and void ab initio”, তবে অতীত ও নিষ্পন্ন কাজ সাময়িকভাবে মার্জনা করা হয়।

মামলাটি পাহাড়ের কোনো বিষয় থেকে আসেনি। Lawyers and Jurists-এ প্রকাশিত রায়ের পাঠ (2 LNJ (AD) (2013) 50) অনুযায়ী আবেদনকারী সিদ্দিক আহমেদকে চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় একটি বিশেষ সামরিক আদালত (মার্শাল ল কেস নং 12/1986) তাঁর অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তিনি 2010 সালে রিট পিটিশন নং 696/2010 দায়ের করেন, আর হাইকোর্ট বিভাগ 26.08.2010 রায় দেয়। আপিল বিভাগের বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, এস কে সিনহা, নাজমুন আরা সুলতানা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও মুহাম্মদ ইমান আলী। দ্য ডেইলি স্টার (19 ডিসেম্বর 2012) জানায়, 125 পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় ঘোষণার প্রায় 19 মাস পর।

আদালতের নিজের ভাষায় প্রধান সিদ্ধান্তগুলো

রায় প্রথমে পঞ্চম সংশোধনী মামলাকে ভিত্তি হিসেবে নেয়: “Since the Constitution (Seventh Amendment) Act, 1986, is similar to that of the Constitution (Fifth Amendment) Act, 1979, we need not discuss and repeat all those points all over again, rather, we agree, accept and uphold what were decided in the Fifth Amendment case.”

এরপর 19 অনুচ্ছেদ নিয়ে: “Section 3 of the Constitution (Seventh Amendment) Act, 1986, added paragraph 19 in the Fourth Schedule of the Constitution. The sub-para (1) of the said paragraph 19 sought to ratify and confirm the various Proclamations … Ordinances etc. made from time to time since 24 March 1982 till 11 November 1986. Those are on the face of it, unconstitutional and illegal.”

সংসদের ক্ষমতা নিয়ে আদালত একটি পার্থক্য টানে, যা পরে 2013 ও 2023 সালের আইনগুলোর কাঠামো বুঝতে কাজে লাগে: সংসদ “can also ratify any Ordinance made by a lawfully elected President, following a proper and lawful procedure but cannot ratify and confirm any illegal Proclamation, Regulation and Order by whomsoever it was made.”

চতুর্থ তফসিলের প্রকৃতি নিয়ে: অনুচ্ছেদ 150-এর অধীনে চতুর্থ তফসিল কেবল 26 মার্চ 1971 থেকে 16 ডিসেম্বর 1972 সময়ের অন্তর্বর্তী বিধানের জন্য, তাই “Paragraph 19 which was illegally added in the Fourth Schedule, is declared void and non est.”

মার্জনা নিয়ে আদালতের বাক্যটি অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: “Although the Martial Law Proclamations etc. made during the period form 24 March 1982 to 11 November 1986, are all declared illegal and void ab initio with the exception of international treaties, contracts and transactions. Besides, all orders made, acts and things done, actions and proceedings taken and trials conducted, during the aforesaid period which are past and closed, are condoned on the age old maxim salus populi est suprema lex, but provisionally. However, even this kind of indulgence of condonation may not be available in future. There shall be no condonation in respect of Martial Law Proclamations, Proclamation Orders, Chief Martial Law Administrators Orders, Martial Law Regulations, Martial Law Orders, Martial Law Instructions, Ordinances etc.”

রায়ের আদেশ-অংশ তিনটি ঘোষণা দেয়: সপ্তম সংশোধনী আইনের 3 ধারা বাতিল, 19 অনুচ্ছেদ বাতিল ও অস্তিত্বহীন, আর আবেদনকারীর সামরিক আদালতের বিচার ও দণ্ড অবৈধ; তাঁর মামলার বিচার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে চলবে।

রায়ের প্রকাশিত পাঠে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা অধ্যাদেশের নাম নেই; রায় অধ্যাদেশগুলোর কথা বলে সমষ্টিগতভাবে। 2023 সালের আইনের প্রস্তাবনা রায়টিকে উল্লেখ করে এই অর্থে: রায়ে “সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী” সপ্তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা লোপ পেয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনীর পর অধ্যাদেশগুলোর কী হলো?

সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, 2011 (Act XIV of 2011)-এর 49(গ) ধারা চতুর্থ তফসিলের 18 থেকে 23 অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে, যার মধ্যে 19 অনুচ্ছেদও আছে। 2013 সালের 7 নং আইনের প্রস্তাবনা বলে, এর ফলে 1982–1986 সময়ের অধ্যাদেশগুলো “কার্যকারিতা হারাইয়াছে”।

bdlaws-এ সংবিধানের তফসিলের পিডিএফে পাদটীকাটি এভাবে আছে: “Paragraphs 18, 19, 20, 21, 22 and 23, were omitted by the Constitution (Fifteenth Amendment) Act, 2011 (Act XIV of 2011), section 49(c).” সংশোধনীটি সংসদে পাসের তারিখ 30 জুন 2011 পাওয়া যায় উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে।

অর্থাৎ 2011 সালের মাঝামাঝি দুটি ঘটনা এক দিকে কাজ করেছিল। মে মাসে আপিল বিভাগ 19 অনুচ্ছেদকে বাতিল ও অস্তিত্বহীন বলে, আর জুনে সংসদ সংবিধানের পাঠ থেকেই অনুচ্ছেদটি সরিয়ে দেয়। 2023 সালের আইনের প্রস্তাবনা দুটি ঘটনাকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করে, পঞ্চদশ সংশোধনীকে আগে, আদালতের রায়কে পরে।

পঞ্চদশ সংশোধনীর আরেকটি দিক, সংবিধানে পাহাড়ের মানুষের পরিচয় কোন শব্দে লেখা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ আমাদের রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে, সেই লেখায় আছে। এখানে প্রাসঙ্গিক কেবল তফসিলের অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির দিকটি।

2013 সালের 7 নং আইন অধ্যাদেশটিকে কীভাবে টিকিয়ে রেখেছিল?

আইনি শূন্যতা ঠেকাতে রাষ্ট্রপতি 21 জানুয়ারি 2013 সংবিধানের 93(1) অনুচ্ছেদে একটি অধ্যাদেশ (2013 সালের 2 নং) জারি করেন, আর সংসদ 26 ফেব্রুয়ারি 2013 সেটিকে 2013 সালের 7 নং আইন করে। এর তফসিলের 55 নম্বরে ছিল 1984 সালের জেলা অধ্যাদেশ। ধারা 4 তফসিলভুক্ত অধ্যাদেশগুলোকে কার্যকর রাখে “যেন উহা … জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন”।

আইনটির পুরো নাম “১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩”। এর প্রস্তাবনা ঘটনাক্রম বলে দেয়: সংসদ অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি 21 জানুয়ারি 2013 অধ্যাদেশ জারি করেন; নবম সংসদের 16তম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে, 27 জানুয়ারি 2013, সেটি উপস্থাপিত হয়; আর 93(2) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপস্থাপনের 30 দিন পর অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পেত। প্রস্তাবনার আরেকটি বাক্য পরের দশ বছরের কাজের আগাম ইঙ্গিত দেয়: “দীর্ঘসময় পূর্বে জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহ যাচাই-বাছাইপূর্বক বাংলায় নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সময় সাপেক্ষ”।

ধারা 4-এর শর্তাংশটি আদালতের রায়ের সঙ্গে আইনটিকে সংগতিপূর্ণ রাখার চেষ্টা। এতে বলা আছে, অধ্যাদেশগুলো কার্যকর করা হলেও “যতটুকু উহাদের বিষয়বস্তুর (contents) সহিত সংশ্লিষ্ট শুধুমাত্র ততটুকু গ্রহণ করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং উক্ত সময়কালে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সামরিক শাসন আমলের কৃতকর্মের অনুমোদন ও সমর্থন (confirmation and ratification) করা হইয়াছে বলিয়া কোনক্রমেই বিবেচিত হইবে না।” অর্থাৎ সংসদ অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুকে নিজের আইন হিসেবে নিচ্ছে, সামরিক শাসনকে বৈধতা দিচ্ছে না; আপিল বিভাগ ঠিক এই পার্থক্যটিই টেনেছিল।

ধারা 6 সরকারকে গেজেট প্রজ্ঞাপনে তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা দেয়। পরের বছরগুলোতে সরকার এই ক্ষমতা দিয়ে একের পর এক অধ্যাদেশ তফসিল থেকে বাদ দিয়েছে, সাধারণত সেটির বদলে নতুন আইন আসার পর। bdlaws-এ রাখা তফসিলের হালনাগাদ পিডিএফে (bdlaws-এ আপলোডের তারিখ 7 ফেব্রুয়ারি 2024) 55 নম্বরের পাদটীকা: ক্রমিক নং (৫৫) এবং উহার বিপরীতে উল্লিখিত এন্ট্রি “The Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (Ordinance No. LXXI of 1984)” এস. আর. ও নং ১৫-আইন/২০২৪ এর দ্বারা বিলুপ্ত।

2023 সালের বিলটি কী যুক্তিতে সংসদে আনা হয়েছিল?

বিলটি (বা. জা. স. বিল নং 51/2023) সংসদে উত্থাপিত হয় 23 অক্টোবর 2023, আর একই দিনের গেজেটে ছাপা হয়। সঙ্গের বিবৃতিতে সরকার দুটি যুক্তি দেয়: জেলা দুটি ভুল আইনে সৃষ্টি হওয়ার “অসামঞ্জস্য” দূর করতেই 1984-র অধ্যাদেশ, আর সামরিক আমলের অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে নতুন আইন করার সরকারি সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যার প্রথম পাতা, ১৩ নভেম্বর ২০২৩: ওপরে সরকারি সিলমোহর, নিচে ২০২৩ সনের ৫৫ নং আইনের শিরোনাম ও প্রস্তাবনার প্রথম তিনটি 'যেহেতু' অনুচ্ছেদ
2023 সনের 55 নং আইনের গেজেট, প্রথম পাতা। সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, 13 নভেম্বর 2023, পৃ. 15947; লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ (bdlaws)। সরকারি দলিল।

বিবৃতির দ্বিতীয় ও তৃতীয় অনুচ্ছেদ: “যেহেতু, সামরিক শাসনামলে জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে; সেহেতু, সামরিক শাসনামলে প্রণীত Districts (Extension to the Chittagong Hill-Tracts) Ordinance, 1984 রহিত করে উক্ত আইনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তুতকৃত … বিল মহান জাতীয় সংসদে সানুগ্রহ বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হলো।” বিবৃতির নিচে স্বাক্ষর “আ, ক, ম, মোজাম্মেল হক, ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী”।

বিল আর চূড়ান্ত আইন পাশাপাশি পড়লে দুটি ছোট পার্থক্য চোখে পড়ে। বিলের প্রস্তাবনা ও 5(1) ধারায় অধ্যাদেশের নম্বর লেখা “Ordinance No. LXXI of 1985”; চূড়ান্ত আইনে সেটি ঠিক করে “LXXI of 1984” করা হয়েছে। আর বিবৃতির শেষ বাক্যে বিলের নাম লেখা “জেলা (চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩”, যেখানে বিলের মূল পাঠে ও আইনে “পার্বত্য চট্টগ্রাম”। ধারাগুলোর বিষয়বস্তু বিল থেকে আইনে বদলায়নি।

বিলটি সংসদে কবে পাস হয়, কোনো সংসদীয় বিতর্ক বা কমিটির প্রতিবেদন হয়েছিল কি না, তা গেজেট বলে না। গেজেট কেবল জানায় যে “সংসদ কর্তৃক গৃহীত” আইনটি 13 নভেম্বর 2023 রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়।

ধারা ধরে ধরে: 1984-র অধ্যাদেশ আর 2023-এর আইনে কী মিল, কী অমিল

মূল কাজ একই রয়েছে: জেলা আইন প্রয়োগ আর দুই জেলার বৈধতা। বদলেছে চারটি জিনিস: ভাষা ইংরেজি থেকে বাংলা, “পার্বত্য চট্টগ্রাম”-এর সংজ্ঞা 1936 সালের এলাকা থেকে তিনটি নামধারী জেলা, প্রবর্তন পেছনের তারিখ থেকে “অবিলম্বে”, আর নতুন যোগ হয়েছে রহিতকরণ ও হেফাজতের ধারা।

বিষয়অধ্যাদেশ, 1984 (LXXI of 1984)আইন, 2023 (55 নং আইন)
জারি / সম্মতি5 ডিসেম্বর 1984, 24 মার্চ 1982-এর ঘোষণার ক্ষমতাবলে13 নভেম্বর 2023, সংসদে গৃহীত
ভাষাইংরেজিবাংলা
প্রবর্তন18 এপ্রিল 1981 থেকে কার্যকর বলে গণ্য“অবিলম্বে কার্যকর”
সংজ্ঞা1 জানুয়ারি 1936 তারিখে “Chittagong Hill-tracts” নামে পরিচিত এলাকারাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা
জেলা আইনের প্রয়োগধারা 3: “Districts Act, 1836” প্রযোজ্যধারা 3: “District Act, 1836” প্রযোজ্য
বৈধতাধারা 4: বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি, “before the commencement of this Ordinance” সৃষ্টধারা 4: বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি; সময়সীমার উল্লেখ নেই
রহিতকরণ ও হেফাজতনেইধারা 5: অধ্যাদেশ রহিত; তার অধীনে কৃত কাজ বহাল

ধারা 1: পেছনের তারিখ বাদ গেল কেন

অধ্যাদেশের দরকার ছিল 18 এপ্রিল 1981 থেকে কার্যকর হওয়া, কারণ বৈধতা দিতে হতো ইতোমধ্যে সৃষ্ট জেলাকে। 2023 সালের আইনের সেই দরকার আর নেই: অধ্যাদেশের অধীনে যা হয়েছে, ধারা 5(2) তা আগেই রক্ষা করে। তাই নতুন আইন “অবিলম্বে” কার্যকর। আইনটি নিজে এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে না; ওপরের যোগসূত্রটি দুই পাঠের তুলনা থেকে।

ধারা 2: 1936 সালের এলাকা থেকে তিন জেলা

অধ্যাদেশ “Chittagong Hill-tracts” বোঝাতে 1 জানুয়ারি 1936 তারিখের এলাকাকে মাপকাঠি করেছিল। 2023 সালের আইন সংজ্ঞা দেয় জেলার নাম দিয়ে, এবং শব্দটিও বদলায়: এখন “পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা”। একই ধাঁচের সংজ্ঞা আগে থেকেই অন্য আইনে আছে; যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014-এর 2(5) ধারা “পার্বত্য জেলা” বোঝাতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের নাম দেয়। bdlaws-এর বাংলা পাঠে 2023 সালের আইনের সংজ্ঞায় বানান ছাপা হয়েছে “পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জেলা”; গেজেটেও একই বানান।

ধারা 3: আইনের নামের বানান

1836 সালের আইনটি bdlaws-এ “The Districts Act, 1836” নামে তালিকাভুক্ত, আর 1984 সালের অধ্যাদেশও “Districts Act” লিখেছিল। 2023 সালের আইনের ধারা 3 ও 4-এ লেখা “District Act, 1836 (Act No. XXI of 1836)”। আইনের নম্বর একই থাকায় কোন আইনের কথা বলা হচ্ছে তা নিয়ে সংশয় নেই; পার্থক্যটি কেবল বানানের।

ধারা 4: “বৈধতা” ধারা কেন আবার লাগল

অধ্যাদেশের বৈধতা-ধারাটি নিজেই সামরিক আমলের আইন ছিল, আর আপিল বিভাগ ওই আমলের অধ্যাদেশকে “void ab initio” বলেছিল। 2013 সালের 7 নং আইন বিষয়বস্তু হিসেবে অধ্যাদেশটিকে টিকিয়ে রেখেছিল, কিন্তু তফসিল থেকে সেটি বাদ দেওয়ার আগে সংসদের নিজের আইনে বিধানটি লেখা দরকার ছিল। 2023 সালের ধারা 4 তাই একই কথা নতুন করে বলে: বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা 1836 সালের আইনের অধীনে সৃষ্ট বলে গণ্য হবে। এবার বিধানটির উৎস নির্বাচিত সংসদ।

ধারা 5: রহিতকরণ ও হেফাজত

উপধারা (1) অধ্যাদেশ রহিত করে। উপধারা (2): “রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন কৃত কোনো কাজ বা গৃহীত কোনো কার্যক্রম এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত বলিয়া গণ্য হইবে।” 1984 থেকে 2023 পর্যন্ত জেলা দুটির সীমানা, প্রশাসন বা আদালতের এখতিয়ার নিয়ে অধ্যাদেশের ভিত্তিতে যা কিছু হয়েছে, এই উপধারা সেগুলোকে নতুন আইনের ভিত্তি দেয়।

আইনটি কী করে না

আইনটি কোনো নতুন জেলা বানায় না, কোনো জেলার সীমানা বদলায় না, এবং 1900 সালের শাসনবিধি, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন বা আঞ্চলিক পরিষদ আইনের কোনো ধারা ছোঁয় না। পাঁচ ধারার পাঠে কেবল তিনটি আইনের নাম আছে: 1836 সালের জেলা আইন, 1898 সালের ফৌজদারি কার্যবিধি, আর রহিত হওয়া 1984 সালের অধ্যাদেশ।

ধারা 3 পাহাড়ে 1836 সালের আইন প্রযোজ্য করে, আর সেই আইনের ক্ষমতা হলো সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নতুন জেলা গঠন ও বিদ্যমান জেলার সীমানা বদল। অর্থাৎ আইনগতভাবে তিন পার্বত্য জেলার সীমানা বদল বা নতুন জেলা গঠনের সাধারণ পথ এই ধারার মাধ্যমে খোলা থাকে। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বা প্রজ্ঞাপনের খবর আইনটির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দলিলে নেই।

জেলা পরিষদের গঠন বা আসন-বণ্টনের সঙ্গেও আইনটির সম্পর্ক নেই; সেটি চলে 1989 সালের তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে, যা নিয়ে লেখা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদে আসন ভাগের লেখায়। আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা নিয়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের গঠন ও ক্ষমতার লেখা। 1900 সালের শাসনবিধি নিজে বহাল কি না, সে প্রশ্ন আদালতে আলাদাভাবে লড়া হয়েছে; সেই মামলার নথিভিত্তিক বিবরণ আছে আমাদের রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা ও শাসনবিধি ১৯০০ মৃত আইন রায়ের লেখায়।

পাহাড়ের অন্য সামরিক-আমলের অধ্যাদেশগুলোর কী হয়েছে?

bdlaws-এর তালিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সামরিক শাসনামলের তিনটি অধ্যাদেশ পাওয়া যায়, আর তিনটির পরিণতি তিন রকম। উন্নয়ন বোর্ডের 1976 সালের অধ্যাদেশ 2014 সালে নতুন আইনে বদলেছে; জেলা অধ্যাদেশ 2023 সালে; আর ভূমি-খতিয়ান অধ্যাদেশ 2021 সালে 2013 সালের তফসিল থেকে বাদ পড়েছে, কিন্তু তার বদলে কোনো নতুন আইন তালিকায় পাওয়া যায় না।

অধ্যাদেশজারি2013 সালের কোন আইনের তফসিলেতফসিল থেকে বাদবদলি আইন
Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976 (LXXVII of 1976)21 অক্টোবর 1976; 20 আগস্ট ও 8 নভেম্বর 1975-এর ঘোষণার ক্ষমতাবলে2013 সালের 6 নং আইন, ক্রমিক 32এস. আর. ও নং 256-আইন/2014পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 (8 নং আইন, 8 জুলাই 2014)
Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (LXXI of 1984)5 ডিসেম্বর 1984; 24 মার্চ 1982-এর ঘোষণার ক্ষমতাবলে2013 সালের 7 নং আইন, ক্রমিক 55এস. আর. ও নং 15-আইন/2024জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, 2023 (55 নং আইন)
ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ, 1984 (1985 সনের 2 নং অধ্যাদেশ)16 জানুয়ারি 1985; 24 মার্চ 1982-এর ফরমানের ক্ষমতাবলে2013 সালের 7 নং আইন, ক্রমিক 56এস. আর. ও নং 305-আইন/2021bdlaws-এর তালিকায় পাওয়া যায় না

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কবে গঠিত হয়, আর তার অধ্যাদেশের কী হলো

উন্নয়ন বোর্ডের ভিত্তি The Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976, জারি 21 অক্টোবর 1976, “in pursuance of the Proclamations of the 20th August, 1975, and 8th November, 1975″। এটি পঞ্চম সংশোধনীর সময়ের (1975–1979) অধ্যাদেশ, তাই 2013 সালে এটি টিকিয়ে রাখা হয় 6 নং আইনে, যার নাম “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩”। 2014 সালের নতুন আইন অধ্যাদেশটি “রহিতপূর্বক সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে” করা। তুলনায় লক্ষ করার মতো দিক: 2014 সালের আইনের প্রস্তাবনায় কেবল এক বাক্য, পুনঃপ্রণয়ন “সমীচীন ও প্রয়োজনীয়”; সেখানে পঞ্চম সংশোধনী বা আদালতের রায়ের উল্লেখ নেই। 2023 সালের জেলা আইন সেই কারণগুলো প্রস্তাবনাতেই লিখে দিয়েছে।

ভূমি-খতিয়ান অধ্যাদেশের অবস্থা কী

পাহাড়ে জরিপ ও খতিয়ান প্রস্তুতের আইন, ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ, bdlaws-এ এখনো “রহিত” চিহ্ন ছাড়াই আছে। এর মূল পাঠ আমাদের আর্কাইভে ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশের পাতায় রাখা আছে। অধ্যাদেশটি জারি হয় 16 জানুয়ারি 1985, যদিও এর সংক্ষিপ্ত শিরোনামে লেখা “১৯৮৪ সনের ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ”। 2013 সালের 7 নং আইনের তফসিলের হালনাগাদ পাঠের পাদটীকা বলে, ক্রমিক 56-এর এই এন্ট্রি “এস, আর ও নং ৩০৫-আইন/২০২১ এর দ্বারা বিলুপ্ত”। এই তফসিল থেকে বাদ পড়া অন্য অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নতুন আইন এসেছে, কিন্তু ভূমি-খতিয়ান অধ্যাদেশের জায়গায় কোনো নতুন আইন bdlaws-এর কালানুক্রমিক তালিকায় পাওয়া যায় না। ফলে এটি এখন কোন আইনি ভিত্তিতে চলছে, তা নথি থেকে জানা যায়নি। এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা আছে আমাদের পাহাড়ের ভূমি-ব্যবস্থার লেখায়।

সময়রেখা: 1836 থেকে 2024

জেলা আইন থেকে নতুন বাংলা আইন পর্যন্ত মোট 188 বছর। পাহাড়ের দিক থেকে মূল তারিখ তিনটি: 1984 সালে অধ্যাদেশ, 2011 সালে তার সাংবিধানিক ভিত্তি হারানো, আর 2023 সালে সংসদের আইন।

তারিখঘটনাউৎস
11 সেপ্টেম্বর 1836The Districts Act, 1836 (XXI of 1836)bdlaws
1860Bengal Act XXII of 1860-এ চট্টগ্রাম জেলা থেকে আলাদা “Chittagong Hill Tracts” জেলাগৌতম কুমার চাকমা, জুমজার্নাল আর্কাইভ
17 জানুয়ারি 1900পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি; ধারা 4 অন্য আইনের প্রয়োগ আটকায়, ধারা 7 পাহাড়কে “a district” বলেbdlaws
1981–1983বান্দরবান (1981), খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি (1983) জেলাবাংলাপিডিয়া; বান্দরবানের তারিখে অমিল
24 মার্চ 1982সামরিক আইন ঘোষণাসপ্তম সংশোধনী রায়
5 ডিসেম্বর 1984জেলা অধ্যাদেশ জারি, 18 এপ্রিল 1981 থেকে কার্যকর ধরেbdlaws
1986সপ্তম সংশোধনী (Act 1 of 1986), চতুর্থ তফসিলে 19 অনুচ্ছেদসপ্তম সংশোধনী রায়
29 আগস্ট 2005হাইকোর্ট: পঞ্চম সংশোধনী অবৈধপঞ্চম সংশোধনী রায় (আপিল বিভাগ)
2010আপিল বিভাগ: পঞ্চম সংশোধনী রায় সংশোধনসহ বহাল; হাইকোর্ট (26 আগস্ট): সপ্তম সংশোধনী অবৈধদুই রায়
29 মার্চ 2011পঞ্চম সংশোধনী রিভিউ আদেশ: মার্জনা “provisional”সপ্তম সংশোধনী রায়
15 মে 2011আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল 48/2011: 19 অনুচ্ছেদ বাতিল2 LNJ (AD) (2013) 50
30 জুন 2011পঞ্চদশ সংশোধনী পাস; 18–23 অনুচ্ছেদ বিলুপ্তউইকিপিডিয়া; bdlaws
21 জানুয়ারি 20132013 সালের 2 নং অধ্যাদেশ2013 সালের 7 নং আইনের প্রস্তাবনা
26 ফেব্রুয়ারি 20132013 সালের 7 নং আইন; জেলা অধ্যাদেশ তফসিলের 55 নম্বরেbdlaws
23 অক্টোবর 2023বিল নং 51/2023 সংসদে উত্থাপিতবাংলাদেশ গেজেট
13 নভেম্বর 2023রাষ্ট্রপতির সম্মতি; 2023 সনের 55 নং আইনবাংলাদেশ গেজেট
2024এস. আর. ও নং 15-আইন/2024: অধ্যাদেশ 7 নং আইনের তফসিল থেকে বিলুপ্তbdlaws

প্রশ্নোত্তর

জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩ কবে কার্যকর হয়?

আইনটি 2023 সনের 55 নং আইন। রাষ্ট্রপতি 13 নভেম্বর 2023 (28 কার্তিক 1430) এতে সম্মতি দেন, আর একই দিন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। ধারা 1(2) বলে, “ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে”। আগের অধ্যাদেশের মতো পেছনের কোনো তারিখ থেকে এটিকে কার্যকর ধরা হয়নি।

২০২৩ সালের এই আইন কোন সামরিক অধ্যাদেশ নতুন করে প্রণয়ন করেছে?

কেবল একটি: The Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (Ordinance No. LXXI of 1984)। এরশাদের সামরিক শাসনামলে 5 ডিসেম্বর 1984 জারি হওয়া এই অধ্যাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রামে 1836 সালের জেলা আইন প্রয়োগ করেছিল এবং বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলাকে সেই আইনের অধীনে সৃষ্ট বলে বৈধতা দিয়েছিল। 2023 সালের আইনের ধারা 5 অধ্যাদেশটি রহিত করে।

সামরিক আমলের অধ্যাদেশগুলো নতুন করে লিখতে হলো কেন?

2023 সালের আইনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পঞ্চদশ সংশোধনী (2011) চতুর্থ তফসিলের 19 অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করেছে, আর সিভিল আপিল 48/2011-এ আপিল বিভাগ সপ্তম সংশোধনী বাতিল করেছে। এতে 24 মার্চ 1982 থেকে 11 নভেম্বর 1986 সময়ের অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা লোপ পায়। 2013 সালের 7 নং আইন কয়েকটিকে সাময়িক টিকিয়ে রাখে; সরকার পরে সেগুলো বাংলায় নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সপ্তম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগ অধ্যাদেশ নিয়ে কী বলেছিল?

15 মে 2011 তারিখের রায়ে আপিল বিভাগ বলে, 24 মার্চ 1982 থেকে 11 নভেম্বর 1986 পর্যন্ত জারি হওয়া সামরিক ঘোষণা, বিধি ও অধ্যাদেশ “illegal and void ab initio”; আন্তর্জাতিক চুক্তি ও লেনদেন ব্যতিক্রম। অতীত ও নিষ্পন্ন কাজ মার্জনা করা হয় “but provisionally”, আর আদালত লেখে: “There shall be no condonation in respect of … Ordinances etc.”

চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ কী ছিল?

সপ্তম সংশোধনী আইনের (Act 1 of 1986) 3 ধারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে 19 অনুচ্ছেদ যোগ করে। এটি 24 মার্চ 1982 থেকে সপ্তম সংশোধনী চালু হওয়া পর্যন্ত জারি হওয়া সব সামরিক ঘোষণা, বিধি ও অধ্যাদেশকে “ratified and confirmed” ঘোষণা করে এবং বলে অধ্যাদেশগুলো রহিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আপিল বিভাগ 2011 সালে অনুচ্ছেদটিকে “void and non est” ঘোষণা করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন কোন জেলা নিয়ে গঠিত?

তিনটি জেলা নিয়ে: রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। 2023 সালের আইনের ধারা 2 “পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা” বলতে ঠিক এই তিন পার্বত্য জেলাকে বোঝায়। আগের 1984 সালের অধ্যাদেশ নাম না দিয়ে 1 জানুয়ারি 1936 তারিখে “Chittagong Hill-tracts” নামে পরিচিত এলাকাকে সংজ্ঞা হিসেবে ধরেছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী খাগড়াছড়ি মহকুমা 1983 সালে জেলায় উন্নীত হয়। 2023 সালের বিলের সরকারি বিবৃতি বলে, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল Code of Criminal Procedure, 1898-এর section 8-এর ক্ষমতাবলে। 1984 সালের অধ্যাদেশ ও 2023 সালের আইনের ধারা 4 জেলাটিকে District Act, 1836-এর অধীনে সৃষ্ট বলে গণ্য করে।

বান্দরবান জেলা কবে গঠিত হয়?

উৎসে তারিখের অমিল আছে। ইংরেজি বাংলাপিডিয়া বলে 1 অক্টোবর 1981, বাংলা বাংলাপিডিয়া বলে 10 অক্টোবর 1981, আর ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলে 18 এপ্রিল 1981। শেষ তারিখটি 1984 সালের জেলা অধ্যাদেশের প্রবর্তন-তারিখের সঙ্গে মেলে, যে অধ্যাদেশকে 18 এপ্রিল 1981 থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছিল।

জেলা আইন ১৮৩৬ পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা করে প্রয়োগ করতে হলো কেন?

1900 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির 4(2) ধারা বলে, তফসিলভুক্ত আইন ছাড়া অন্য কোনো আইন পাহাড়ে প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে না। প্রজ্ঞাপন দিয়ে নতুন আইন আনার ক্ষমতাও 1935 সালের ভারত শাসন আইনের তৃতীয় খণ্ড চালুর পর বন্ধ। তাই নতুন জেলা গঠনের সাধারণ আইনটি পাহাড়ে চালাতে আলাদা অধ্যাদেশ, পরে আলাদা আইন লেগেছে।

২০১৩ সালের ৭ নং আইন কী, আর তাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন অধ্যাদেশ ছিল?

2013 সালের 7 নং আইন (26 ফেব্রুয়ারি 2013) 1982–1986 সময়ের কিছু অধ্যাদেশকে সংসদের আইনের মতো কার্যকর রাখে, তবে সামরিক শাসনকে বৈধতা না দিয়ে। এর তফসিলে পাহাড়ের দুটি অধ্যাদেশ ছিল: ক্রমিক 55-এ জেলা অধ্যাদেশ, 1984 আর ক্রমিক 56-এ ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ। দুটিই পরে প্রজ্ঞাপনে তফসিল থেকে বাদ পড়ে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কবে গঠিত হয়?

বোর্ডের ভিত্তি The Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976, জারি 21 অক্টোবর 1976, 1975 সালের সামরিক ঘোষণার ক্ষমতাবলে। পঞ্চম সংশোধনী মামলার পর এটি 2013 সালের 6 নং আইনের তফসিলে (ক্রমিক 32) টিকে থাকে। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014 (8 জুলাই 2014) অধ্যাদেশটি রহিত করে সংশোধনসহ পুনঃপ্রণয়ন করে।

এই আইনে কি নতুন জেলা বা সীমানা পরিবর্তনের কথা আছে?

না। পাঁচ ধারার আইনটি কোনো নতুন জেলা গঠন করে না, কোনো সীমানাও বদলায় না। ধারা 3 পাহাড়ে 1836 সালের জেলা আইন প্রযোজ্য করে, যে আইন সরকারকে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নতুন জেলা গঠন ও জেলার সীমানা বদলের ক্ষমতা দেয়। সেই ক্ষমতা ব্যবহারের কোনো প্রস্তাব আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত দলিলে নেই।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বিল পাসের তারিখ ও আলোচনা। বিলটি 23 অক্টোবর 2023 উত্থাপিত হয়, আর আইন 13 নভেম্বর 2023 সম্মতি পায়। মাঝখানে সংসদে কবে পাস হয়েছিল, কোনো সংসদীয় কমিটি বিলটি দেখেছিল কি না, বা পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। কোনো জাতীয় সংবাদমাধ্যমে আইনটি নিয়ে প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
  • বান্দরবান সৃষ্টির প্রজ্ঞাপন। বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা সৃষ্টির মূল গেজেট প্রজ্ঞাপন, তার তারিখ ও নম্বর পাওয়া যায়নি। তাই বান্দরবানের তারিখ নিয়ে তিন উৎসের অমিল মেটানো যায়নি।
  • CrPC-র 8 ধারার 1981 সালের পাঠ। সরকারি বিবৃতি জেলা দুটির ভিত্তি হিসেবে কার্যবিধির section 8-এর কথা বলে, কিন্তু 1981–1983 সালে ধারাটির পাঠ কী ছিল তা পাওয়া যায়নি; বর্তমান পাঠ 2009 সালে প্রতিস্থাপিত।
  • “১ জানুয়ারি ১৯৩৬” কেন। 1984 সালের অধ্যাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রামের সংজ্ঞায় এই তারিখ কেন বেছে নিয়েছিল, অধ্যাদেশে বা অন্য কোনো উৎসে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • এস. আর. ও-র তারিখ। এস. আর. ও নং 15-আইন/2024 এবং 305-আইন/2021 কোন তারিখে জারি হয়, তা bdlaws-এর পাদটীকায় নেই।
  • ভূমি-খতিয়ান অধ্যাদেশের বর্তমান ভিত্তি। অধ্যাদেশটি 2021 সালে 7 নং আইনের তফসিল থেকে বাদ পড়েছে, অথচ এর জায়গায় কোনো নতুন আইন পাওয়া যায়নি এবং bdlaws-এ এটি রহিত হিসেবে চিহ্নিত নয়। এর বর্তমান আইনি অবস্থা জানা যায়নি।
  • পঞ্চম সংশোধনী রায়ের ঘোষণার দিন। আপিল বিভাগের রায়ের পাঠে শুনানির শেষ দিন 1 ফেব্রুয়ারি 2010 লেখা আছে, কিন্তু রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ রায়ের যে কপি পাওয়া গেছে তাতে নেই।

তথ্যসূত্র

  1. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৫ নং আইন)। bdlaws.minlaw.gov.bd।
  2. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, 13 নভেম্বর 2023, পৃ. 15947–15948। 2023 সনের 55 নং আইন (পিডিএফ)।
  3. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, 23 অক্টোবর 2023, পৃ. 14697–14699। বা. জা. স. বিল নং 51/2023 ও উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতি (পিডিএফ)। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়।
  4. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984 (Ordinance No. LXXI of 1984)। bdlaws।
  5. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Districts Act, 1836 (Act No. XXI of 1836)। bdlaws।
  6. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Chittagong Hill-tracts Regulation, 1900 (Regulation I of 1900), ধারা 4, 7, 8 ও পাদটীকা। bdlaws।
  7. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Code of Criminal Procedure, 1898, ধারা 7 ও ধারা 8। bdlaws।
  8. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৭ নং আইন); হালনাগাদ তফসিল (পিডিএফ)। bdlaws।
  9. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৬ নং আইন); হালনাগাদ তফসিল (পিডিএফ)। bdlaws।
  10. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, Schedules (পিডিএফ), চতুর্থ তফসিলের পাদটীকা; অনুচ্ছেদ 150। bdlaws।
  11. Supreme Court of Bangladesh, Appellate Division. Khondker Delwar Hossain v. Bangladesh Italian Marble Works Ltd., Civil Petition for Leave to Appeal Nos. 1044 & 1045 of 2009 (2010)। রায়ের পূর্ণ পাঠ (দ্য ডেইলি স্টার আর্কাইভ, পিডিএফ)।
  12. Supreme Court of Bangladesh, Appellate Division. Siddique Ahmed v. Government of Bangladesh, Civil Appeal No. 48 of 2011, রায় 15.05.2011। 2 LNJ (AD) (2013) 50, The Lawyers and Jurists।
  13. দ্য ডেইলি স্টার। “Full Verdict on 7th Amendment Released”। 19 ডিসেম্বর 2012।
  14. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। The Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976 ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৪। bdlaws।
  15. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ (1985 সনের 2 নং অধ্যাদেশ)। bdlaws।
  16. বাংলাপিডিয়া। Bandarban District, Khagrachhari District, Rangamati District; বাংলা সংস্করণ বান্দরবান জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ।
  17. উইকিপিডিয়া। Bandarban District; Fifteenth Amendment to the Constitution of Bangladesh; Bangladesh Italian Marble Works Ltd. v. Government of Bangladesh।
  18. গৌতম কুমার চাকমা। “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা”। কেদাকতুক বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন, 2012; জুমজার্নাল আর্কাইভ।
  19. জুমজার্নাল আর্কাইভ। ভূমি-খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:আইন, আইন রহিত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, সংবিধান

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা