Last updated Oct 19th, 2026
0

কেএনএফ বম জনগোষ্ঠী নয়: কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) একটি সশস্ত্র সংগঠন, যা বম জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ গড়ে তুলেছেন বলে সংবাদমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়; আর বম জনগোষ্ঠী বান্দরবান ও রাঙামাটির প্রায় 13 হাজার মানুষের একটি জাতি। ব্যাংক ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগ উঠেছে কেএনএফের বিরুদ্ধে। বম সমাজের সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে কেএনএফ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, আর মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে অভিযানে পুরো জনগোষ্ঠীকেই দায়ী করা হচ্ছে।
19 মে 2024, রোববার বিকেল চারটা। বান্দরবান শহরের উজানী পাড়ায় একটি মানববন্ধন। ব্যানারে লেখা “সাধারণ বম জনগোষ্ঠী”। লিখিত বক্তব্য পড়েন ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য লাল পেক থার বম: “কতিপয় পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী কেএনএফের সদস্যের অপকর্মকে আমরা সমর্থন করি না এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা সাধারণ জনগণ শান্তিতে থাকতে চাই। তাই কেএনএফ বা কেএনএ সংগঠনকে বর্জন ঘোষণা করছি।” (প্রথম আলো, 19 মে 2024)। চার দিন পর লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জানায়, 7 এপ্রিল থেকে শতাধিক বমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আছেন (প্রথম আলো, 23 মে 2024)।
এই দুই খবর সাধারণত আলাদা পাতায় ছাপা হয়: একদিকে অভিযানের খবর, অন্যদিকে সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া। এই লেখা দুটোকে এক জায়গায় রেখেছে, আর প্রতিটি দাবির পাশে লিখেছে দাবিটি কার: আদালতের নথি, সরকারি বাহিনীর বিবৃতি, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন, সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান, নাকি কোনো সংগঠনের অভিযোগ। বম জাতির ভাষা, গোত্র, ধর্ম ও বর্ণমালা নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের বম জাতির পরিচিতি লেখায়; এখানে সেগুলো আর বলা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য লেখাগুলো আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
সূচিপত্র
কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় একটি সশস্ত্র সংগঠন, যার সশস্ত্র শাখার নাম কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)। বাংলা উইকিপিডিয়া একে নিষিদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন বলে। সংগঠনটি নিজেকে ছয়টি জাতির প্রতিনিধি দাবি করে; স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিত।
বাংলা উইকিপিডিয়ার “কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট” নিবন্ধের প্রথম বাক্য হুবহু এমন: “কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ), যা বম পার্টি নামেও পরিচিত–হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় একটি নিষিদ্ধ জাতিগত সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন, যা চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় হত্যা, লুটপাট, মুক্তি পণ দাবিসহ একাধিক সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে।” (বাংলা উইকিপিডিয়া, সংস্করণ 22 আগস্ট 2026)। ইংরেজি উইকিপিডিয়াও একে “banned armed militant political organization” বলে (English Wikipedia)।
সরকারি পক্ষের ভাষাও একই দিকে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক ক্য শৈ হ্লা মারমা 20 এপ্রিল 2024-এর এক সভায় বলেন, ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুট কেএনএফের অপরাধী চরিত্র স্পষ্ট করেছে, আর “সন্ত্রাসী সংগঠনের” সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নেই বলে কমিটি সব আলোচনা স্থগিত করেছে (Prothom Alo English, 21 এপ্রিল 2024)। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবদুল হাফিজ 18 ফেব্রুয়ারি 2025-এ বলেন, অভিযান চালাতে গিয়ে সাতজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং কেএনএফ “নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত” অভিযান চলবে (ইত্তেফাক, 18 ফেব্রুয়ারি 2025)।
কোন সরকারি প্রজ্ঞাপনে কেএনএফকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তার গেজেট এই লেখার উৎসগুলোয় পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, 2009 অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ও তফসিলভুক্ত করতে পারে; 2025 সালের মে মাসে সংশোধনী অধ্যাদেশে সত্তার “কার্যক্রম” নিষিদ্ধের বিধানও যুক্ত হয় (প্রথম আলো, 11 মে 2025)। পাঠক নিজে বাংলাদেশ গেজেটে কেএনএফের নাম খুঁজে দেখতে পারেন।
কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাথান বম, রুমা উপজেলার এডেন পাড়ার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার স্নাতক। সংগঠনটি 2008 সালে কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও) নামের এনজিও হিসেবে শুরু হয় বলে একাধিক উৎস জানায়; সশস্ত্র রূপ নেওয়ার সাল নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। এর দাবি রাঙামাটি ও বান্দরবানের নয়টি উপজেলা নিয়ে আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল।
প্রথম আলো 24 মে 2022-এ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের খবর দেয়: “বান্দরবানের বম জাতিগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি এটি গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।” একই প্রতিবেদন জানায়, কেএনএফ ফেসবুক পেজে দাবি করেছে তারা বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমি জাতির প্রতিনিধি; তাদের মূল সংগঠনের সভাপতি নাথান বম; আর রুমার এডেন পাড়ায় কেএনডিও নামের একটি বেসরকারি সংগঠনেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি (প্রথম আলো, 24 মে 2022)। নাথান বমের অবস্থান তখন জানা যায়নি; রুমা থানার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, “নাথান বমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা তাঁর খোঁজ করছি।”
সশস্ত্র হয়ে ওঠার সাল নিয়ে উৎসগুলো আলাদা কথা বলে। ইনডিপেনডেন্ট টিভি লিখেছে, 2008 সালে এনজিও হিসেবে শুরু হয়ে 2016 সালে কেএনএফ নামে গোষ্ঠীটি সশস্ত্র হয়ে ওঠে (ইনডিপেনডেন্ট টিভি, 4 এপ্রিল 2024); বাংলা উইকিপিডিয়ার নাথান বম নিবন্ধ বলছে 2016 সালে কুকি-চিন ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্স গঠন, আর 2017 সালে নাম বদলে কেএনএফ; ইংরেজি উইকিপিডিয়ার কেএনএফ নিবন্ধ এক জায়গায় 2008, আরেক জায়গায় 2017, আর ভলান্টিয়ার্স থেকে কেএনএফ হওয়ার সাল 2020 লিখেছে; নেত্র নিউজ লিখেছে সংগঠনটির আবির্ভাব 2017 সালে (নেত্র নিউজ, 31 আগস্ট 2025)। bdnews24 ইংরেজি সংস্করণ জানায়, কেএনএফের ফেসবুক পেজ শুরু হয় ডিসেম্বর 2021-এ (bdnews24, 23 নভেম্বর 2023)।
কেএনএফের দাবিগুলো সংগঠনটির ভাষায় প্রথম ছাপা হয় দ্য ডেইলি স্টার বাংলায়। 19 মে 2023-এ সরকারের কাছে পাঠানো তিন দফার প্রথমটি ছিল “পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলের ৯টি উপজেলা (বাঘাইছড়ি, জুরাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানছি, লামা ও আলিকদম) নিয়ে একটি পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রণয়নসহ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রদান”; দ্বিতীয়টি ওই অঞ্চলে ‘ইনার লাইন পারমিট’; তৃতীয়টি মিজোরাম ও মিয়ানমারের পালেতোয়ায় চলে যাওয়া কুকি-চিনদের প্রত্যাবাসন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 19 জুলাই 2023)। প্রস্তাবিত অঞ্চলে কারা থাকবেন না, তা নিয়ে bdnews24 লিখেছে: সেখানে “চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরারা থাকবে না, থাকবে বম, খিয়াং, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি ও ম্রোরা” (bdnews24, 15 ফেব্রুয়ারি 2025)।
সশস্ত্র সদস্যসংখ্যার হিসাবও উৎসভেদে আলাদা। 2022 সালে প্রথম আলোর “ওয়াকিবহাল একাধিক সূত্র” 15 থেকে 20 জনের কথা বলেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা ইইউএএ-র আগস্ট 2025-এর প্রতিবেদন লিখেছে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে কেএনএফ নিজে 3,000-এর বেশি সদস্যের দাবি করে, অন্য হিসাবে 50–60 জন (EUAA, আগস্ট 2025)। বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে দুই হাজার কর্মী।
বম পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি জাতি, যাঁদের বেশির ভাগ বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলায় আর রাঙামাটির বিলাইছড়িতে থাকেন। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তাঁদের সংখ্যা 13,193। কেএনএফ একটি সংগঠন, যার সদস্য বা সমর্থক কারা তা প্রমাণের বিষয়; একটি জাতির সবাইকে কোনো সংগঠনের সদস্য ধরে নেওয়ার ভিত্তি কোনো উৎসে নেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি 2022 সারা দেশে 13,193 জন বম গুনেছে, যার 11,854 জন বান্দরবানে ও 441 জন রাঙামাটিতে; জেলাভিত্তিক বিস্তারিত পাবেন জনশুমারি 2022-এর জাতিভিত্তিক হিসাব লেখায়। অন্য উৎসগুলো আলাদা সংখ্যা দিয়েছে: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রায় 11,000 (Amnesty, UA 48/24, 22 মে 2024), ইইউএএ জনশুমারির বরাতে 12,529, আর বম ছাত্র সংগঠনের সভাপতি 2023 সালে বলেছিলেন “দশ হাজারেও কিছু বেশি”। আমাদের আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখায় 1991 সালের আদমশুমারির 6,978 আর বম সোশাল কাউন্সিল বাংলাদেশের 2003 সালের নিজস্ব জরিপের 9,500 সংখ্যা আছে, সঙ্গে মন্তব্য: “বমরা সরকারি পরিসংখ্যান যথাযথ নয় বলে মনে করে।”
একই আর্কাইভ-লেখা বম সমাজের রাজনৈতিক অবস্থানের একটি তথ্য দেয়, যা কেএনএফের দাবিনামা বুঝতে কাজে লাগে: “স্বল্প জনসংখ্যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে বম জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে।” লেখাটি জানায়, সংরক্ষিত আসনে কয়েকজন বম নারী ইউপি সদস্য হয়েছেন, কিন্তু সরাসরি নির্বাচিত সদস্য বা চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো বমের নজির তখনো ছিল না। কেএনএফের উদ্ভবের সঙ্গে এর সম্পর্ক কোনো উৎস নির্দিষ্ট করে দেখায়নি; এখানে তথ্যটি কেবল প্রেক্ষাপট।
“সংগঠন আর জাতি এক নয়” কথাটি কেবল সম্প্রদায়ের দাবি নয়, সরকারি পক্ষও বলেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক 13 মে 2024-এ থানচি ও রুমা পরিদর্শন শেষে বলেন: “the Bawm community does not support the criminal activities of the KNF” (Dhaka Tribune, 13 মে 2024)। একই সপ্তাহে অ্যামনেস্টি লিখেছিল, কর্তৃপক্ষ “ধরেই নিয়েছে যে বম জনগোষ্ঠীর সবাই হয় কেএনএফের সদস্য নয়তো সমর্থক”। একই প্রশ্নে সরকারি বক্তব্য আর মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগের এই অমিলই এই লেখার মূল বিষয়।
কেএনএফ ছয় জাতির প্রতিনিধিত্বের দাবি করলেও সংগঠনটিতে মূলত বম জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ আছেন বলে স্থানীয়ভাবে এর নাম হয়েছে ‘বম পার্টি’। বাকি পাঁচ জাতি, অর্থাৎ ম্রো, লুসাই, খুমি, খিয়াং ও পাংখোয়ার নেতারা 28 ডিসেম্বর 2022-এ সংবাদ সম্মেলন করে কেএনএফের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেন।
নামটির উৎস নিয়ে bdnews24 লিখেছে: “বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রোদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও সেখানে বম জনোগষ্ঠীর কিছু সংখ্যক লোকজন রয়েছে। যার কারণে সংগঠনটি পাহাড়ে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়” (bdnews24, 5 নভেম্বর 2023)। ইইউএএ-র প্রতিবেদনও একই কথা বলে: সম্প্রদায়টি কেএনএফ গঠনে যুক্ত ছিল, তাই কেএনএফকে ‘বম পার্টি’ হিসেবে দেখা হয়। এই নামের ব্যবহার সংবাদ শিরোনামেও এসেছে, যেমন “বম পার্টির সঙ্গে নতুন জঙ্গি দলের ‘মাসিক চুক্তির’ খবর দিল র্যাব”। ভারতের দ্য ডিপ্লোম্যাট নভেম্বর 2022-এ লিখেছিল, সংগঠনটির “support base” আছে কুকি-চিন সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে, বিশেষ করে বমদের মধ্যে (The Diplomat, 22 নভেম্বর 2022); সমর্থনের মাত্রা কোনো জরিপ বা নথি দিয়ে দেখানো হয়নি।
বান্দরবানের অরুণ সারকি টাউন হলে 28 ডিসেম্বর 2022-এর সংবাদ সম্মেলনে বাকি পাঁচ জাতির নেতারা বলেন, “পাংখোয়া, লুসাই, ম্রো, খুমী ও খিয়াং কেএনএফের সশস্ত্র আন্দোলনের সাথে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়”। তাঁদের বক্তব্যে আরও ছিল, কেএনএফ “এইসব জনগোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে কখনো কুকিচিন রাজ্য, কখনো বা খ্রিষ্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে”, আর সংগঠনটির “কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই”। তাঁরা দাবি করেন, যারা সন্ত্রাসী তাদের আইনের আওতায় এনে নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধ করা হোক। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন লুসাই জনগোষ্ঠীর অধ্যাপক থানজামা লুসাই, থানচির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো, খিয়াং জনগোষ্ঠীর ম্রা সা খিয়াং, আর খুমি জনগোষ্ঠীর সিং ইয়ং খুমী ও লেলুং খুমী (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 28 ডিসেম্বর 2022)। এই পাঁচ জাতির পরিচিতি পাবেন খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া ও লুসাই নিয়ে আমাদের লেখায়।
এই সংবাদ সম্মেলনের পরিণতি এক বছরের বেশি পরে আবার আলোচনায় আসে। 20 এপ্রিল 2024-এ জেলা পরিষদের সভায় ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি ও শান্তি কমিটির এক সদস্য বলেন, পাঁচ জাতি কেএনএফের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কথা ঘোষণা করেছে; বম সম্প্রদায়কেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, নইলে মানুষ ভাববে সব বমই কেএনএফের সঙ্গে জড়িত (Prothom Alo English, 21 এপ্রিল 2024)। বম সমাজ তার পরে কী বলেছে, তা আছে নিচের একটি অংশে।
কেএনএফ ও বম জনগোষ্ঠী নিয়ে প্রচলিত দাবিগুলোর উৎস পাঁচ রকম: আদালতে দায়ের করা মামলা, সরকারি বাহিনীর বিবৃতি, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন, সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব অনুসন্ধান, আর রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের অভিযোগ। নিচের ছকে প্রতিটি প্রধান দাবির পাশে লেখা আছে সেটি কোন ধরনের উৎস থেকে এসেছে।
| দাবি | কে বলেছে | উৎসের ধরন | বিপরীত বা ভিন্ন বক্তব্য |
|---|---|---|---|
| কেএনএফ অর্থের বিনিময়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে প্রশিক্ষণ দিত | র্যাব, অক্টোবর 2022 | সরকারি বাহিনীর সংবাদ সম্মেলন | মিজোরামের কিছু নাগরিক সংগঠন একে “baseless allegation” বলেছে (The Diplomat) |
| প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে এক তরুণকে হত্যা, আসামি নাথান বমসহ 20 জন | নিহতের বাবা, বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, জানুয়ারি 2023 | আদালতে দায়ের করা মামলা (আদালত আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে) | কবরে মরদেহ পাওয়া যায়নি (র্যাব); মামলার পরিণতি জানা যায়নি |
| 2–3 এপ্রিল 2024-এ রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি ও 14টি অস্ত্র লুট কেএনএফ করেছে | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, র্যাব, পুলিশ | সরকারি বক্তব্য; 22টি মামলা | রুমা শাখার ভল্টের টাকা অক্ষত ছিল বলে সিআইডি জানায় |
| 7 এপ্রিল 2024 থেকে শতাধিক বমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার | অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল | মানবাধিকার সংগঠনের আবেদন | “নিরীহ বম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” (বিজিবি মহাপরিচালক) |
| মে 2023 থেকে নভেম্বর 2024 পর্যন্ত গুলিতে 39 জন বম নিহত, যার 19 জন বেসামরিক | আদিবাসী সাংবাদিক-আইনজীবীদের একটি জোটের তালিকা, নেত্র নিউজের যাচাই | সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান | আইএসপিআর বা অন্তর্বর্তী সরকার নেত্র নিউজের প্রশ্নের জবাব দেয়নি |
| কারাগারে তিন বম বন্দীর মৃত্যু অবহেলায় | ইউপিডিএফ; 235 নাগরিকের বিবৃতি | সংগঠন ও নাগরিকদের বিবৃতি | জেল সুপারের বর্ণনায় খিঁচুনির পর হাসপাতালে মৃত্যু, ময়নাতদন্ত |
| বম জনগোষ্ঠী কেএনএফ সমর্থন করে না | বম সংগঠনগুলো; বিজিবি মহাপরিচালক | সম্প্রদায় ও সরকারি বক্তব্য | কেএনএফের “support base” বমদের মধ্যে (The Diplomat, 2022) |
কেএনএফের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযোগের তিনটি স্তর: 2022 সালে র্যাবের অভিযোগ যে সংগঠনটি অর্থের বিনিময়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিত; 2023 সালে সেনা টহলে হামলা ও অপহরণ; আর 2024 সালের 2–3 এপ্রিল রুমা ও থানচিতে তিনটি ব্যাংক শাখায় হামলা, অস্ত্র লুট ও ব্যাংক ব্যবস্থাপক অপহরণ।
21 অক্টোবর 2022 বান্দরবান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াসহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠনকে পার্বত্য অঞ্চলে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণে সহায়তা করে আসছিল কেএনএফ। সেদিন সংগঠনটির সাতজন ও কেএনএফের তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয় (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 21 অক্টোবর 2022)। bdnews24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী র্যাব বলেছিল, 2021 সালে নাথান বমের সঙ্গে জামাতুল আনসারের আমিরের সমঝোতা হয়, আর প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়; এই তথ্য গ্রেপ্তার তিন পাহাড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মিলেছে বলে র্যাবের ভাষ্য (bdnews24, 21 অক্টোবর 2022)।
এই অভিযোগের বিপরীত বক্তব্যও ছাপা হয়েছে। দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, মিজোরামের কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের কর্মকর্তারা কেএনএফ ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সংযোগের খবরকে “baseless allegation” বলেছেন। ঢাকা কুরিয়ারের নির্বাহী সম্পাদক সায়ান এস খান এক লেখায় র্যাবের উপস্থাপিত প্রমাণকে দুর্বল বলে মত দিয়েছেন (Dhaka Courier, 2023)। দুটিই মতামত বা দাবি; র্যাবের অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির খবর পাওয়া যায়নি।
17 জানুয়ারি 2023-এ কুমিল্লার এক ব্যক্তি বান্দরবানের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ: তাঁর ছেলে 23 আগস্ট 2022-এ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে বান্দরবানে শারক্বীয়া ও কেএনএফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যান, আর সেখানে থাকতে না চাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। আসামি 20 জন, যাঁদের মধ্যে শারক্বীয়ার আমির ও কেএনএফ প্রধান নাথান বম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রুমা থানার ওসিকে 5 কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন। এর আগে 16 জানুয়ারি র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের দল গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে একটি কবর খুঁড়লেও মরদেহ পায়নি বলে র্যাব জানায় (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 17 জানুয়ারি 2023)। মামলাটির পরের অগ্রগতি জানা যায়নি।
বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া কেএনএফের বিরুদ্ধে 2023 সালের কয়েকটি ঘটনার তালিকা দেয়: 11 মার্চ থানচি সড়ক নির্মাণের 12 জন শ্রমিক অপহরণ, 12 মার্চ রোয়াংছড়িতে সেনা টহলে হামলা, 16–17 মে রুমায় আইইডি বিস্ফোরণ ও গুলিতে দুই সেনাসদস্য নিহত, আর 16 জুন পানি ও স্যালাইন বিতরণে যাওয়া টহল দলের ওপর আইইডি বিস্ফোরণ। 12 মার্চের ঘটনায় মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন নিহত হন বলে উইকিপিডিয়ার “সন্ত্রাসী কার্যকলাপ” অংশ বলছে, যদিও একই নিবন্ধের আরেক অংশে তিনি “আহত” বলে লেখা; এই অমিল নিবন্ধটিতেই আছে। ইইউএএ ঢাকা ট্রিবিউনের বরাতে লিখেছে, অক্টোবর 2022 থেকে এপ্রিল 2024 পর্যন্ত 6 জন সেনাসদস্য ও 17 জন কেএনএফ সদস্য নিহত হন, আহত 50-এর বেশি, অপহৃত 30 জন; ইইউএএ জানিয়েছে, এই সংখ্যার পক্ষে আরেকটি সমর্থনকারী উৎস তাদের সময়সীমার মধ্যে পাওয়া যায়নি।
2 এপ্রিল 2024 রাতে রুমা বাজারের সোনালী ব্যাংক শাখায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি হানা দেয়। ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী মসজিদ থেকে ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে মারধর করে অপহরণ করা হয়, আর ব্যাংকের নিরাপত্তায় থাকা 10 পুলিশ ও 4 আনসার সদস্যের কাছ থেকে 8টি চাইনিজ রাইফেল, 2টি এসএমজি, 4টি শটগান ও 415 রাউন্ড গুলি নিয়ে যাওয়া হয়। 16 ঘণ্টা পর, 3 এপ্রিল দুপুরে থানচির সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি হয় (ইনডিপেনডেন্ট টিভি, 4 এপ্রিল 2024)। থানচির কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে বলেন, ইউনিফর্ম পরা সাত-আটজন ঢুকে 2 লাখ 30 হাজার 270 টাকা নিয়ে যায়, আর তাদের ওয়াকিটকিতে নির্দেশ আসছিল বাংলায় (প্রথম আলো, 3 এপ্রিল 2024)।
রুমা শাখা থেকে কত টাকা গেছে, তা নিয়ে উৎসগুলো আলাদা কথা বলে। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ 3 এপ্রিল বলেন, ভল্ট খুলে গুনে দেখা গেছে 1 কোটি 59 লাখ 46 হাজার টাকার পুরোটাই আছে, অর্থাৎ রুমা শাখা থেকে কোনো টাকা লুট হয়নি (প্রথম আলো, 3 এপ্রিল 2024); বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে রুমায় “প্রায় দেড় কোটি টাকা” লুট হয়েছে, আর হিল ভয়েসের বরাতে ঢাকা কুরিয়ার লিখেছে প্রায় 16 লাখ টাকা। ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে র্যাব 4 এপ্রিল রাতে উদ্ধার করে; বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে 15 লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তিনি মুক্তি পান। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে একই অঙ্ক লিখেছে, আর তাঁর স্ত্রীর বরাতে লিখেছে অপরিচিত নম্বর থেকে 10 লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল; নেজাম উদ্দিনের ভাই বলেছেন, পরিবার কোনো মুক্তিপণ দেয়নি (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 4 এপ্রিল 2024)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল 6 এপ্রিল বান্দরবানে বলেন, “কেএনএফকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়া হবে না”, আর “এদের পেছনে কোনো ইন্ধন আছে কিনা তাও বের করে নেওয়া হবে” (bdnews24, 6 এপ্রিল 2024)। র্যাব জানায়, যৌথ অভিযান কেএনএফ সন্ত্রাসীদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত চলবে, এতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ অংশ নিচ্ছে (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 6 এপ্রিল 2024)। ব্যাংক হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় রুমা থানায় 14টি, থানচিতে 4টি, সদরে 1টি ও রোয়াংছড়িতে 3টি, মোট 22টি মামলা হয় (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 12 জুলাই 2024)।
2023 সালের মে মাসে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে 18 সদস্যের শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠিত হয়, যার সদস্যসচিব ছিলেন বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি। কমিটি কেএনএফের সঙ্গে দুবার ভার্চুয়াল ও দুবার সরাসরি বৈঠক করে, দুটি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। 2024 সালের ব্যাংক হামলার পর 4 এপ্রিল কমিটি সব আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দেয়।
কমিটি গঠনের তারিখ নিয়ে উৎসগুলো আলাদা: ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও প্রথম আলো ইংরেজি লিখেছে 29 মে 2023, bdnews24 লিখেছে 30 মে 2023, আর দ্য ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয় 22 জুন। আহ্বায়ক বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমা, মুখপাত্র জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, আর সদস্যসচিব বম স্যোসাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজারলম বম (bdnews24, 5 নভেম্বর 2023)। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা সদস্যসচিবের নাম লিখেছে “লালজার বম”, আর bdnews24-এর ইংরেজি সংস্করণ একই প্রতিবেদনে “Jarlamjar Bawm” ও “Laljarlam Bawm” দুই রূপই ব্যবহার করেছে।
| তারিখ | ঘটনা | যা নথিভুক্ত হয়েছে |
|---|---|---|
| 19 জুলাই 2023 | প্রথম ভার্চুয়াল বৈঠক | কমিটির 12 সদস্য ও কেএনএফের 4 সদস্য; অপহরণ ও হত্যা থেকে “বিরত থাকার” অঙ্গীকার |
| আগস্ট 2023 | দ্বিতীয় ভার্চুয়াল বৈঠক | সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব |
| 5 নভেম্বর 2023 | রুমার মুনলাই পাড়ায় প্রথম সরাসরি বৈঠক | জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত; সমঝোতা স্মারক সই |
| 5 মার্চ 2024 | রুমার বেথেল পাড়ায় দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক | “নতুন ও পুরনো মিলে সাতটি বিষয়ে” সমঝোতা; এপ্রিলে পরের বৈঠকের কথা |
| 4 এপ্রিল 2024 | সংলাপ বন্ধের ঘোষণা | ব্যাংক হামলার পর কমিটি বলে, কেএনএফ সংলাপের “সকল ধরনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে” |
| 7 এপ্রিল 2024 | কমিটির বিবৃতি | আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব লালজারলম বমের সই; কেএনএফকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান |
5 নভেম্বর 2023-এর বৈঠকে কেএনএফ যা চেয়েছিল, তার বর্ণনা দেন কমিটির মুখপাত্র: “বম সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার-সদাই কেনার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, আটক ৬১ কেএনএফ সদস্যের মুক্তিসহ বম সম্প্রদায়ের পাড়ায় অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে কেএনএফ” (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 5 নভেম্বর 2023)। অর্থাৎ আলোচনার টেবিলে বম পাড়ার দুর্ভোগের কথাও তুলেছিল সশস্ত্র সংগঠনটিই। মুখপাত্র আরও বলেন, “কেএনফের মূল যে ছয় দফা সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনার সুযোগ নেই।”
5 মার্চ 2024-এর বৈঠকে কেএনএফের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লালজংময় বম। দলের সদস্য লালসংলম বম সাংবাদিকদের বলেন: “অবশ্যই শান্তি ফিরে আসবে। আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, সেই শান্তির পথ দিয়েই যাচ্ছি” (bdnews24, 5 মার্চ 2024)। এর চার সপ্তাহ পর ব্যাংক হামলা হয়। 4 এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক বলেন, “কমিটি মনে করে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে কেএনএফ শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সঙ্গে সংলাপ করার সকল ধরনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে” (bdnews24, 4 এপ্রিল 2024)। 7 এপ্রিলের বিবৃতিতে, যাতে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতির সই আছে, লেখা হয়: “কেএনএফ এর সকল সদস্য শান্তি বজায় রাখবেন এবং অস্ত্র সমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি” (bdnews24, 7 এপ্রিল 2024)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কাঠামোয় জেলা পরিষদের ভূমিকা ও চুক্তির ধারাগুলো জানতে পড়ুন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে। কেএনএফ চুক্তিটির বিরোধিতা করে বলে পাঁচ জাতির নেতারা 2022 সালে অভিযোগ করেছিলেন।
ব্যাংক হামলার পর এপ্রিল 2024 থেকে কেএনএফ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বান্দরবানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সময় ও উৎসভেদে 49 থেকে প্রায় 200। পুলিশ জুলাই 2024 পর্যন্ত 116 জনের কথা বলেছে; অ্যামনেস্টি ইউকে মে 2025-এ 126 জনের হিসাব দিয়েছে, যার 30 জন নারী ও শিশু।
| উৎস | তারিখ | সংখ্যা | উৎস যেভাবে বলেছে |
|---|---|---|---|
| বান্দরবান জেলা পুলিশ (ইনডিপেনডেন্ট টিভি) | 8 এপ্রিল 2024 | 49 | বেথেল পাড়ায় যৌথ অভিযানে 31 পুরুষ ও 18 নারী গ্রেপ্তার |
| বিজিবি মহাপরিচালক (Dhaka Tribune) | 13 মে 2024 | 82 | নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির |
| অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল | 22 মে 2024 | 100-এর বেশি | “arbitrarily arrested”; পুলিশের নথিতে নাম নেই, লেখা “130-150 armed terrorist robbers” |
| ইনডিপেনডেন্ট টিভি | 23 জুন 2024 | 109 | যৌথ বাহিনীর অভিযানে “কেএনএফ-এর ১০৯ সদস্য” গ্রেপ্তার |
| দ্য ডেইলি স্টার বাংলা | 12 জুলাই 2024 | 116 | 22 মামলায় “কেএনএফের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে” গ্রেপ্তার |
| RRAG (EUAA-র বরাতে) | অক্টোবর 2024 | 144 | ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় “arbitrarily arrested” |
| অ্যামনেস্টি ইউকে | 13 মে 2025 | 126 | এর মধ্যে 30 জন নারী ও শিশু |
| “বম লাইভস ম্যাটার” ফেসবুক পেজ (প্রথম আলোর মতামত কলামে উদ্ধৃত) | 23 আগস্ট 2025 | প্রায় 200 | “কোনো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই নির্বিচারে আটক” |
| পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (প্রথম আলো) | 5 জুলাই 2026 | প্রায় 80 | এখনো কারাগারে আটক বলে দাবি |
গ্রেপ্তারের ধরন নিয়ে একটি সরকারি নথি-নির্ভর খবর আছে। 22 এপ্রিল 2024-এ রুমার সোনালী ব্যাংক ডাকাতির মামলায় তিন বম নারীকে বান্দরবানের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কারাগারে পাঠান; আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তার বরাতে bdnews24 জানায়, তাঁদের দুজনের সঙ্গে কারাগারে গেছে তিন ও চার বছরের সন্তান এবং ছয় মাসের এক শিশু (bdnews24, 22 এপ্রিল 2024)। অ্যামনেস্টির আবেদনে উল্লেখিত “শিশুসহ মাকে কারাগারে পাঠানো” অভিযোগের সঙ্গে এই খবরের মিল আছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আইডব্লিউজিআইএ ও নেত্র নিউজের অনুসন্ধান বলছে, কেএনএফবিরোধী অভিযানে বম জনগোষ্ঠী সামষ্টিক শাস্তির শিকার: গণগ্রেপ্তার, চাল কেনায় সীমা, চলাচলে বাধা, আর বেসামরিক মানুষের মৃত্যু। সরকারি পক্ষ এসব অভিযোগের বেশির ভাগের জবাব দেয়নি; বিজিবি প্রধান অপপ্রচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেছেন, আর চুক্তি পরিবীক্ষণ কমিটি নিরীহ মানুষের হয়রানি এড়াতে বলেছে।
অ্যামনেস্টির জরুরি আবেদন (Index: ASA 13/8076/2024) জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের 15 ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ এবং দণ্ডবিধির অধীনে ডাকাতি ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, 8 এপ্রিল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী বেথেল পাড়ায় আসে, গ্রামবাসীদের স্কুলমাঠে জড়ো করে নারী-পুরুষ আলাদা করে, তারপর এলোমেলোভাবে বেছে গ্রেপ্তার করে; প্রথমে প্রত্যেক বমকে দোকান থেকে 5 কেজির বেশি চাল নিতে নিষেধ করা হয়, পরে সীমা নামে 1 কেজিতে; আর সিসিটিভি ফুটেজে ডাকাতদের দেখা গেলেও তা দিয়ে অপরাধী শনাক্তের বদলে “পুরো একটি আদিবাসী সম্প্রদায়কে” নিপীড়ন করা হচ্ছে (Amnesty International, 22 মে 2024)। এসব তথ্যের উৎস হিসেবে অ্যামনেস্টি গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের সদস্য ও বম অধিকারকর্মীদের কথা বলেছে।
ইইউএএ-র আগস্ট 2025-এর প্রতিবেদন আইডব্লিউজিআইএ-র 9 সেপ্টেম্বর 2024-এর প্রতিবেদনের বরাতে লেখে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, স্কুলশিক্ষক, পাস্টর, সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও কৃষক আছেন; 7 এপ্রিল থেকে 9 সেপ্টেম্বর 2024 পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হাতে অন্তত 10 জন বেসামরিক মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত হয়েছেন; আর অক্টোবর 2022 থেকে সেপ্টেম্বর 2024 পর্যন্ত প্রায় 4,000 বম বাস্তুচ্যুত। আরআরএজি নামের সংস্থার হিসাবে 13 জন বম বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত। ইইউএএ নিজে জানিয়েছে, এসব তথ্যের কয়েকটি অন্য উৎস দিয়ে মেলানো সম্ভব হয়নি, আর আইডব্লিউজিআইএ বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে নিহত বা আটক মানুষকে কেএনএফ সদস্য লেখার জন্য (EUAA, আগস্ট 2025)।
নেত্র নিউজ জানায়, আদিবাসী সাংবাদিক, আইনজীবী ও গবেষকদের একটি জোট 8 মে 2023 থেকে 24 নভেম্বর 2024 পর্যন্ত রুমা, রোয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত 39 জন বমের মৃত্যুর তালিকা করেছে; তালিকা অনুযায়ী 20 জন কেএনএফ-সংশ্লিষ্ট, বাকি 19 জনের সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। নেত্র নিউজ এর মধ্যে 10 জনের পরিবার, দুই জেলার দুজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কয়েকজন প্রবীণ এবং ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সেই 19 জনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার কথা যাচাই করেছে বলে জানায়। একটি উদাহরণ: 23 মে 2024 বান্দরবানের শ্যারন পাড়ায় 13 বছরের এক স্কুলছাত্র গুলিতে নিহত হয়; পরদিন আইএসপিআর তাকে বন্দুকযুদ্ধে নিহত কেএনএফ “সন্ত্রাসী” বলে, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বয়স লেখা হয় “প্রায় 20”, আর নেত্র নিউজের দেখা জন্মনিবন্ধন ও টিকার কাগজে বয়স 13। নেত্র নিউজ লিখেছে, আইএসপিআর বা অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব দেয়নি (নেত্র নিউজ, 31 আগস্ট 2025)।
বিজিবি মহাপরিচালক 13 মে 2024-এ বলেন: “Allegations of propaganda against the innocent Bawm community on social media are completely baseless” (Dhaka Tribune)। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি 30 এপ্রিল 2024-এর বৈঠকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে “কোনো নিরীহ অধিবাসী যেন হেনস্তার শিকার না হন” সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় (প্রথম আলো, 30 এপ্রিল 2024)। আইএসপিআর নিহত বা আটক ব্যক্তিদের বিজ্ঞপ্তিতে কেএনএফ বা কেএনএ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করে, যেমন 28 এপ্রিল 2024-এর বিজ্ঞপ্তি: “কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির দুইজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন” (bdnews24, 28 এপ্রিল 2024)। অ্যামনেস্টি, আইডব্লিউজিআইএ বা নেত্র নিউজের নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাবে সেনাবাহিনী বা সরকারের কোনো বিস্তারিত বিবৃতি এই লেখার উৎসগুলোয় পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কার্যক্রমের কাঠামো নিয়ে পড়ুন অপারেশন উত্তরণ: নথিতে যা আছে, যা নেই।
কেএনএফ-সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক তিনজন বম পুরুষ 2025 সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের হেফাজতে বা জামিনের পরপর মারা যান। কারা কর্তৃপক্ষ একটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে খিঁচুনির পর হাসপাতালে মৃত্যুর কথা বলেছে; ইউপিডিএফ ও 235 নাগরিক অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন। নারী বন্দীদের জামিন হয় 500 দিনের বেশি পরে।
প্রথম মৃত্যুটির সরকারি বিবরণ: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসেন bdnews24-কে বলেন, 15 মে 2025 সকালে 30 বছর বয়সী এক বন্দী ঘুম থেকে উঠে অসুস্থতা বোধ করেন, “খিঁচুনি চলে আসায়” তাঁকে কারা হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর মৃত্যু হয়, আর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হবে। তিনি ব্যাংক ডাকাতিসহ কয়েকটি মামলার আসামি ছিলেন, গ্রেপ্তার হন 8 এপ্রিল 2024-এ (bdnews24, 15 মে 2025)।
দ্বিতীয়জন সম্পর্কে 235 জন নাগরিকের বিবৃতি পরিবারের অভিযোগ তুলে ধরে: তিনি প্রায় দুই মাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, অবস্থার অবনতি হলে 29 মে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়, আর 31 মে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরার আগেই তিনি মারা যান। নাগরিকেরা দুটি মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও “নিরপরাধ বম নাগরিকদের” মুক্তি চান (প্রথম আলো, 4 জুন 2025)। তৃতীয় মৃত্যুটি 17 জুলাই 2025-এ; ইউপিডিএফ একে “পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড” বলে বিবৃতি দেয় (bdnews24, 18 জুলাই 2025)। ইউপিডিএফের দাবি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অভিযোগ; এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের খবর পাওয়া যায়নি।
জামিনের তথ্য এসেছে দুটি উৎস থেকে। নেত্র নিউজ লিখেছে, বম নারী বন্দীদের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমানের হিসাবে অন্তত 11 জন নারী এক বছরের বেশি আটক, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সাধারণত চারটি মামলা; আদালতের নথিতে এক আনসার কর্মকর্তার করা এজাহারে ডাকাতদের “young men” বলা হয়েছে; আর 24 আগস্ট 2025 নয়জন নারী ও চার শিশু জামিন পায়, 14 জন নারী তখনো কারাগারে। প্রথম আলোর একটি মতামত কলাম “বম লাইভস ম্যাটার” ফেসবুক পেজের বরাতে লিখেছে, 26 মে 2025 হাইকোর্ট চার বম নারীর জামিন দিলেও 3 জুন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে, আর 21 আগস্ট বেথেলপাড়া ও শাহজাহানপাড়ার সাতজন নারী মুক্তি পান (প্রথম আলো, মতামত, 7 সেপ্টেম্বর 2025)। কলামটির লেখক একজন অধিকারকর্মী, আর ফেসবুক পেজটি অধিকারকর্মীদের পরিচালিত; আদালতের আদেশের অনুলিপি এই লেখার উৎসে নেই।
6–7 এপ্রিল 2023 রোয়াংছড়ির খামতাং পাড়া (Khamtang Para; বানান: bdnews24, 8 এপ্রিল 2023) এলাকায় আটজন নিহত হন, যাঁদের সবাই বম। পুলিশ বলেছে এটি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও কেএনএ-র বন্দুকযুদ্ধ, আর নিহতরা কেএনএফ সদস্য হতে পারেন বলে সন্দেহ করেছে; বম সোশ্যাল কাউন্সিলের এক নেতা সদস্যপদ নিশ্চিত করতে পারেননি; হিল ভয়েস লিখেছে নিহতদের সাতজন আটক গ্রামবাসী।
দ্য ডেইলি স্টারের ইংরেজি সংস্করণে রোয়াংছড়ি থানার ওসি বলেন, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও কেএনএ গোলাগুলিতে জড়ায়। বান্দরবানের পুলিশ সুপার বলেন, “As it came to the media, we also suspect that the deceased might be KNF members.” একই প্রতিবেদনে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের এক নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, নিহতদের তালিকা দেন: ছয়জন Zurvarawng গ্রামের, একজন Raunin Para-র, একজন Pangkhyang Para-র; তাঁদের একজন Zurvarawng সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী। নিহতরা কেএনএফ সদস্য কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো দাফনের জন্য বম সম্প্রদায়ের নেতাদের হাতে দেওয়া হয় (The Daily Star, 9 এপ্রিল 2023)।
হিল ভয়েসের বরাতে ঢাকা কুরিয়ার আরেক বিবরণ দেয়: 6 এপ্রিল সকালে জনসংহতি সমিতি (সংস্কারপন্থী) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর 20–25 জন সশস্ত্র সদস্য গ্রামটিতে ঢুকে 22 জনকে আটক করে, পরে 15 জনকে ছেড়ে দেয়; পরদিন ভোরে কেএনএফ তাঁদের ছাড়াতে হামলা চালালে গোলাগুলিতে কেএনএফের একজন নিহত হন, আর আটক সাত গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই প্রতিবেদন জানায়, 8 মে 2023 রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের একটি পাড়ায় আরও তিনজন বম গুলিতে নিহত হন, আর পুলিশ তাঁদের লাশ বম সোশ্যাল কাউন্সিলের হাতে তুলে দেয়, কারণ ভয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিতে যাননি (Dhaka Courier, 2023)। হিল ভয়েস পার্বত্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি অনলাইন পোর্টাল; প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রের।
বাংলা উইকিপিডিয়া ঘটনাটিকে লিখেছে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও কেএনএ-র “বন্দুকযুদ্ধে আটজন নিহত”। bdnews24-এর ইংরেজি সংস্করণ পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে খামতাং পাড়ার ঘটনাকে এই সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা বলে, যেখানে আটজন বম মারা যান। চারটি উৎসই নিহতের সংখ্যা ও জাতিপরিচয়ে একমত; কারা মেরেছে আর নিহতরা কারা ছিলেন, তাতে একমত নয়।
অক্টোবর 2022 থেকে কেএনএফ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতের মধ্যে বমদের একটি অংশ ভারতের মিজোরামে, কিছু মিয়ানমারে, আর অনেকে কাছের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন। সংখ্যা উৎসভেদে 270 থেকে প্রায় 4,000। ফেব্রুয়ারি 2025 থেকে কিছু পরিবারের ফেরার খবর দিয়েছে আইএসপিআর।
| উৎস | তারিখ | সংখ্যা |
|---|---|---|
| ভারতের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা (The Diplomat) | নভেম্বর 2022 | প্রায় 270 জন মিজোরামের Lawngtlai সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ |
| bdnews24 | নভেম্বর 2023 | “পাঁচ শতাধিক বম নারী-পুরুষ” মিজোরামে |
| বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি (bdnews24 ইংরেজি) | নভেম্বর 2023 | প্রায় 1,200 জন তখন মিজোরামে |
| বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি (bdnews24 ইংরেজি) | নভেম্বর 2023 | 15টি গ্রামে 1,500–2,000 জন |
| আইডব্লিউজিআইএ (EUAA-র বরাতে) | অক্টোবর 2022–সেপ্টেম্বর 2024 | প্রায় 4,000 বাস্তুচ্যুত |
| রেভারেন্ড পাকসিম বম (Rev Paksim Bawm; bdnews24 ইংরেজি) | জানুয়ারি 2025 | 3,000 জন মিজোরামে; নয়টি গ্রাম বমশূন্য |
| আইএসপিআর (bdnews24) | 15 ফেব্রুয়ারি 2025 | থানচির বাকলাই পাড়ার 28 পরিবারের 15টির 81 জন ফিরেছেন |
ঘরছাড়া হওয়ার কারণ নিয়েও বর্ণনা আলাদা। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি বলেছে, মানুষ গ্রাম ছেড়েছিলেন “কুকি চিনের হাত থেকে রেহাই পেতে” (bdnews24, 15 ফেব্রুয়ারি 2025)। bdnews24 ইংরেজি লিখেছে, কেএনএফের সহিংসতা ও তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান, দুটির কারণেই এক হাজারের বেশি পরিবার পালিয়েছে (bdnews24, 23 নভেম্বর 2023)। রেভারেন্ড পাকসিম বম বলেছেন, কেএনএফ ইস্যু, সংঘর্ষের ভয় ও চলমান যৌথ অভিযান মিলে এই বিপর্যয় (bdnews24, 3 জানুয়ারি 2025)। অ্যামনেস্টি লিখেছে, যাঁরা গ্রেপ্তার হননি তাঁদের বেশির ভাগ গ্রেপ্তারের ভয়ে জঙ্গলে বা দেশের বাইরে পালিয়েছেন। 2023 সালের জানুয়ারিতেই রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের বম ও মারমাদের পাঁচটি পাড়া জনশূন্য হওয়ার খবর দিয়েছিল প্রথম আলো (প্রথম আলো, 29 জানুয়ারি 2023)। পার্বত্য চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু তালিকার সরকারি কাঠামো কী, তা আছে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স নিয়ে আমাদের লেখায়; বম বাস্তুচ্যুতরা সেই তালিকায় আছেন কি না, তার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিজোরামে যাওয়া বমদের প্রসঙ্গে সীমান্তের দুপারের জাতিগত সম্পর্ক বুঝতে পড়তে পারেন নাগা ও মিজো: সীমান্তের ওপারে একই ভাষাপরিবার। দ্য ডিপ্লোম্যাট জানিয়েছিল, মিজোরামের Chawngte মহকুমার গ্রামবাসীরা শরণার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গির্জায় রেখে খাবার দিচ্ছিলেন।
বম সমাজের সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্যে দুটি কথা বারবার এসেছে: কেএনএফের সহিংসতা তাঁরা সমর্থন করেন না, অপরাধীদের শাস্তি চান; আর কয়েকজনের অপরাধে পুরো জনগোষ্ঠীকে দায়ী বা হয়রানি না করা হোক। এই বক্তব্য দিয়েছে বম সোশ্যাল কাউন্সিল, বম ছাত্র সংগঠন, ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশন, নারী সংগঠন বম নুনাও ম্রুই ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান চার্চ।
আমাদের আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখায় বম সমাজের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম আছে: বম সোশাল কাউন্সিল বাংলাদেশ, যারা 2003 সালে নিজেদের জনসংখ্যা জরিপ করেছিল; বম ছাত্র সংগঠন ‘বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’, যারা লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে; আর ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টিয়ান চার্চ, যার মাসিক পত্রিকা Kawhmi Arfi। কেএনএফ প্রশ্নে বক্তব্য এসেছে মূলত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতাদের কাছ থেকেই। নিচে বক্তব্যগুলো কালানুক্রমে, যেভাবে সংবাদমাধ্যম ছেপেছে।
জেলা পরিষদের মতবিনিময় সভায় বম ছাত্র সংগঠনের সভাপতি লাল ঙাক বম বলেন: “দশ হাজারেও কিছু বেশি সদস্যের একটি জনগোষ্ঠীর কিছু যুবক কেন অস্ত্র হাতে তুলে নিল এটা খুঁজতে হবে। যারা বিপথে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আগেও ছিল; এখনও চলমান রয়েছে। তবে অনেকেই বম জনগোষ্ঠীর সবাইকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা করছে।” তিনি আরও বলেন, “কুকি-চিন সদস্যরা বম জনগোষ্ঠীর হলেও এতে সবাই জড়িত নয়। তাছাড়া এ বিষয়ে কথা বলতে সবাই অনিরাপদবোধ মনে করে।” (bdnews24, 29 মে 2023)
বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজারলম বম শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কেএনএফের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন। নভেম্বর 2023-এ তিনি bdnews24-কে বলেন, 5 নভেম্বরের সমঝোতার পর পালিয়ে যাওয়া অনেক বম পরিবার ফিরতে শুরু করেছে; Paikhyang পাহাড়ের মানুষ প্রায় আট মাস যোগাযোগের বাইরে ছিলেন, আর “Everyone’s overjoyed. Hopefully we will be able to coexist like before.” একই প্রতিবেদন জানায়, কাউন্সিল বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে যাওয়া মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ফিরতে উৎসাহ দিচ্ছিল (bdnews24, 23 নভেম্বর 2023)। এপ্রিল 2023-এ রোয়াংছড়িতে নিহত আটজনের তালিকাও দিয়েছিলেন কাউন্সিলের এক নেতা, তবে তাঁরা কেএনএফ সদস্য কি না তা নিশ্চিত করেননি (The Daily Star, 9 এপ্রিল 2023)। দাফনের জন্য লাশ গ্রহণের দায়িত্বও একাধিকবার কাউন্সিলের ওপর পড়েছে; সর্বশেষ 9 ডিসেম্বর 2025-এ রুমার জঙ্গলে পাওয়া এক বম যুবকের লাশ ময়নাতদন্তের পর বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতাদের হাতে দেয় পুলিশ, আর হত্যাকারী কারা তা জানা যায়নি (প্রথম আলো, 9 ডিসেম্বর 2025)।
ব্যাংক হামলার পাঁচ দিন পর শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির যে বিবৃতিতে আহ্বায়কের সঙ্গে সদস্যসচিব লালজারলম বমের সই আছে, তাতে লেখা: “আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি তথা আপামর জনগণ এই উদ্ভট পরিস্থিতি কোনোভাবে কামনা করি না। এমন অশান্ত পরিস্থিতি পরিহার এবং সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী কেএনএফ এর সকল সদস্য শান্তি বজায় রাখবেন এবং অস্ত্র সমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।” (bdnews24, 7 এপ্রিল 2024)। বিবৃতিটি কমিটির, কাউন্সিলের আলাদা বিবৃতি নয়।
পাঁচ জাতির নেতারা যখন বম সম্প্রদায়কে অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেন, তখন একই সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম (প্রথম আলো ইংরেজির বানানে Jewel Bom) বলেন, সব বম কেএনএফের সঙ্গে জড়িত, এই অভিযোগ সত্য নয়; কিন্তু সাধারণ বমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। সভায় বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন (Prothom Alo English, 21 এপ্রিল 2024)।
বান্দরবান শহরের উজানী পাড়ার মানববন্ধনে ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইবিএ) সদস্য লাল পেক থার বম লিখিত বক্তব্যে কেএনএফ বর্জনের ঘোষণা দেন, যা এই লেখার শুরুতে উদ্ধৃত। বক্তব্যে আরও ছিল: “আমরা নিরীহ বমরা রাজনীতির চালচলনের সঙ্গে পরিচিত না। বর্তমানে কেএনএফের সদস্যদের অপকর্মে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপ্রিয় বম জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। শত শত নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু প্রাণভয়ে বনে–জঙ্গলে পালিয়ে জীবনযাপন করছে, দেশান্তরী হয়েছে অনেকে।” তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যাংক ডাকাত ও অস্ত্র লুটকারী কেএনএফ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন, সঙ্গে চান নিরীহ বমরা যেন হয়রানির শিকার না হন।
নারীদের সংগঠন বম নুনাও ম্রুইয়ের (বিএনএম) সভানেত্রী ঙুন চুয়ান বম বলেন: “বমরা সবাই কেএনএফ—এ রকম ভুল দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুট করিনি, করেছে কেএনএফের সন্ত্রাসীরা। খুব স্বাভাবিক বিষয়, ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু কতিপয়ের অপরাধে অনেক শিক্ষার্থী এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।” (প্রথম আলো, 19 মে 2024)
তিন দিন পর রুমা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় “সাধারণ বম জনগোষ্ঠী”র ব্যানারে শতাধিক বম নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান চার্চের (ইসিসি) সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড লাল পেকলিয়ান বম। বক্তারা কেএনএফ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন: “ব্যাংক ডাকাতির সময় লুট ১৪টি সরকারি অস্ত্র সরকারের কাছে ফেরত দিন, কারও প্ররোচনায় হঠকারিতা না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।” তাঁরা জানান, পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেক বম পরিবার বনে-জঙ্গলে পালিয়ে আছেন, আর সাধারণ বমরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না (প্রথম আলো, 22 মে 2024)।
জেলা পরিষদ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বম খ্রিষ্টান নেতা রেভারেন্ড পাকসিম বম কেএনএফ সদস্যদের আত্মসমর্পণ করে সমাজে ফেরার আহ্বান জানান এবং রোয়াংছড়ি, রুমা ও বিলাইছড়ির নয়টি গ্রামের নাম বলেন, যেগুলো তাঁর ভাষায় এখন বমশূন্য। সমাবেশে বম সোশ্যাল কাউন্সিল ও ম্রো স্টুডেন্ট সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতারাও বক্তব্য দেন (bdnews24, 3 জানুয়ারি 2025)।
বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নিজস্ব প্যাডে বা নিজের নামে কেএনএফ নিয়ে আলাদা কোনো লিখিত বিবৃতি এই লেখার উৎসগুলোয় পাওয়া যায়নি; কাউন্সিলের অবস্থান পাওয়া যায় এর সভাপতির শান্তি কমিটির ভূমিকা, কমিটির বিবৃতিতে তাঁর সই, আর নেতাদের সাক্ষাৎকার থেকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কেএনএফবিরোধী অভিযান চলেছে। আইএসপিআর 2025 সালের জুলাইয়ে রুমায় অভিযানে কেএনএ-র এক কমান্ডারসহ দুজন নিহত হওয়ার কথা জানায়। একই সময়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বম পরিবারগুলোর ফেরা, পরিবহন ও একটি ইকো রিসোর্ট প্রকল্পের খবর এসেছে, আর অধিকারকর্মীরা গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকার অভিযোগ করছেন।
3 জুলাই 2025 আইএসপিআর জানায়, রুমার দুর্গম পাহাড়ে সেনা অভিযানে কেএনএ-র কমান্ডারসহ দুজন নিহত হন এবং 3টি এসএমজি ও 1টি রাইফেল উদ্ধার হয় (bdnews24, 3 জুলাই 2025)। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে, 25 জুলাই থেকে 26 আগস্ট 2025 পর্যন্ত রুমার রেনা ত্লাং পাহাড়ে কেএনএফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অভিযান চলে। ইইউএএ-র হিসাবে রুমা ও থানচিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা 6 জুন 2025 তুলে নেওয়া হয়, তবে কেবল নির্ধারিত এলাকায়।
ডিসেম্বর 2025-এ বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার রুমার কেওক্রাডং সংলগ্ন সুংসুয়াং পাড়ায় বম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য সেনাবাহিনীর অর্থায়নে একটি ইকো রিসোর্টের কাজ উদ্বোধন করেন (ইনডিপেনডেন্ট টিভি, 28 ডিসেম্বর 2025)। জুলাই 2026-এ ইনডিপেনডেন্ট টিভি লিখেছে, সেনাবাহিনীর অভিযান, “বিপথগামী বম তরুণদের আত্মসমর্পণ” ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কয়েকশ বম নিজ গ্রামে ফিরেছেন, আর 17টি পাড়ার জন্য দুটি পরিবহন চালু হয়েছে (ইনডিপেনডেন্ট টিভি, 31 জুলাই 2026)। একই মাসে, 5 জুলাই 2026, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকায় সমাবেশ করে দাবি করে যে প্রায় 80 জন বম তখনো কারাগারে, আর 2 জুলাই থানচি থেকে কেএনএফ সদস্য সন্দেহে আরও দুজন বমকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের একজনের অবস্থান জানা যায়নি (প্রথম আলো, 6 জুলাই 2026)।
পাঠক লক্ষ করবেন, প্রত্যাবর্তনের খবরগুলোর উৎস প্রায় সবই সেনাবাহিনী বা আইএসপিআর, আর আটকের অভিযোগগুলোর উৎস অধিকারকর্মী ও ছাত্র সংগঠন। দুই ধারার দাবি একই প্রতিবেদনে মিলিয়ে দেখা কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
কেএনএফ বা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সশস্ত্র সংগঠন, যার সশস্ত্র শাখা কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রুমার নাথান বম। সংগঠনটি বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমিদের প্রতিনিধি দাবি করে রাঙামাটি ও বান্দরবানের নয় উপজেলা নিয়ে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চায়। বাংলা উইকিপিডিয়া একে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন বলে।
না। কেএনএফ একটি সশস্ত্র সংগঠন, আর বম প্রায় 13 হাজার মানুষের একটি জাতি (জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 13,193)। সংগঠনটি বম জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ গড়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানায়। বিজিবি মহাপরিচালক মে 2024-এ বলেছেন বম সম্প্রদায় কেএনএফের অপরাধ সমর্থন করে না, আর বম সংগঠনগুলো মানববন্ধন করে কেএনএফ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
কেএনএফ ছয় জাতির প্রতিনিধিত্ব দাবি করলেও এতে মূলত বম জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ আছেন, তাই স্থানীয়ভাবে নাম হয়েছে ‘বম পার্টি’, বলে bdnews24 (নভেম্বর 2023) জানায়। বাকি পাঁচ জাতি, ম্রো, লুসাই, খুমি, খিয়াং ও পাংখোয়ার নেতারা 28 ডিসেম্বর 2022-এ বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন করে কেএনএফের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেন।
উৎসগুলো একমত নয়। ইনডিপেনডেন্ট টিভি লিখেছে 2008 সালে কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামে এনজিও হিসেবে শুরু, 2016 সালে সশস্ত্র কেএনএফ। বাংলা উইকিপিডিয়ার নাথান বম নিবন্ধ বলছে 2016-তে ভলান্টিয়ার্স, 2017-তে কেএনএফ নাম। ইংরেজি উইকিপিডিয়া কোথাও 2008, কোথাও 2017 ও 2020 লিখেছে। প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে 2022 সালে।
19 মে 2023-এ সরকারের কাছে পাঠানো দাবিনামায় কেএনএফ বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম, এই নয় উপজেলা নিয়ে আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সেখানে ইনার লাইন পারমিট, আর মিজোরাম ও মিয়ানমারে চলে যাওয়া কুকি-চিনদের প্রত্যাবাসন চায় (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 19 জুলাই 2023)।
2 এপ্রিল 2024 রাতে রুমার সোনালী ব্যাংকে হামলা, ব্যবস্থাপক অপহরণ এবং পুলিশ ও আনসারের 14টি অস্ত্র ও 415 রাউন্ড গুলি লুট হয়; 3 এপ্রিল দুপুরে থানচির সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি হয়। সরকার কেএনএফকে দায়ী করে, মামলা হয় 22টি। রুমার ভল্টের 1 কোটি 59 লাখ টাকা অক্ষত ছিল বলে সিআইডি জানায়।
সংখ্যা উৎস ও সময়ভেদে আলাদা। বান্দরবান পুলিশ 8 এপ্রিল 2024 বেথেল পাড়ায় 49 জন গ্রেপ্তারের কথা জানায়; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা 12 জুলাই 2024 লিখেছে 116 জন; অ্যামনেস্টি ইউকে মে 2025-এ 126 জনের হিসাব দিয়েছে, যার 30 জন নারী ও শিশু। অধিকারকর্মীদের একটি ফেসবুক পেজ প্রায় 200 জনের কথা বলেছে।
22 মে 2024-এর জরুরি আবেদনে (ASA 13/8076/2024) অ্যামনেস্টি বলেছে, 7 এপ্রিল থেকে শতাধিক বমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আছেন; পুলিশের নথিতে তাঁদের নাম নেই; আর বম জনগোষ্ঠী সামষ্টিক শাস্তির ঝুঁকিতে। সংস্থাটি সব বেসামরিক বন্দীর মুক্তি ও অভিযান বন্ধের আহ্বান জানায়।
কাউন্সিলের সভাপতি লালজারলম বম 2023–2024 সালে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন এবং 7 এপ্রিল 2024-এর বিবৃতিতে সই করেন, যাতে কেএনএফকে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। নভেম্বর 2023-এ কাউন্সিল পালিয়ে যাওয়া বমদের ফিরতে উৎসাহ দিচ্ছিল। কাউন্সিলের নিজের নামে আলাদা লিখিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
19 মে 2024 বান্দরবান শহরের উজানী পাড়ায় “সাধারণ বম জনগোষ্ঠী”র ব্যানারে মানববন্ধনে ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য লাল পেক থার বম লিখিত বক্তব্যে বলেন, “কেএনএফ বা কেএনএ সংগঠনকে বর্জন ঘোষণা করছি।” 22 মে রুমায় আরেক মানববন্ধনে কেএনএফকে লুট করা 14টি অস্ত্র ফেরত দিতে বলা হয় (প্রথম আলো)।
সংবাদমাধ্যম 2025 সালে তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে: 15 মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী (জেল সুপারের ভাষায় খিঁচুনির পর হাসপাতালে মৃত্যু), মে মাসের শেষে জামিনে মুক্তির পরপর আরেকজন, আর 17 জুলাই তৃতীয়জন। 235 নাগরিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন; ইউপিডিএফ একে হত্যাকাণ্ড বলেছে। তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি।
হিসাব উৎসভেদে আলাদা। ভারতের এক কর্মকর্তা নভেম্বর 2022-এ প্রায় 270 জনের কথা বলেন (The Diplomat); বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি নভেম্বর 2023-এ প্রায় 1,200; সাবেক সভাপতি 1,500–2,000; আর রেভারেন্ড পাকসিম বম জানুয়ারি 2025-এ 3,000 জন। আইডব্লিউজিআইএ দেশের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় 4,000 বাস্তুচ্যুতের হিসাব দিয়েছে।
জুমজার্নালের আর্কাইভ
সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
বিশ্বকোষ
সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধান
ছবি: প্রচ্ছদের রুমা উপজেলার পাহাড়ের ছবি gfnathing-এর তোলা, CC BY-SA 3.0, উইকিমিডিয়া কমন্স।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:পার্বত্য চট্টগ্রাম, বম, বম জনগোষ্ঠী, বান্দরবান, মানবাধিকার
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।