Jumjournal Logo

বম সংগীত: লোকগানের ধারা, শোকের বাঁশনৃত্য, গির্জার হিম ও নতুন মঞ্চ

Last updated Nov 3rd, 2026

0

কাচের প্রদর্শনী-বাক্সে কাঠের তারযন্ত্র, দুটি ঢোল, বাঁশ-বেতের টুপি ও ঝুড়ি; লেবেলে লেখা বাদ্যযন্ত্র এবং ঝুড়ি: বম

বম সংগীত তিনটি স্তরে ছড়ানো: পুরোনো লোকগান ও নাচ, যার বড় অংশ শোক আর শিকারের অনুষ্ঠান ঘিরে; 1950-এর দশক থেকে বম ভাষায় লেখা গির্জার গান; আর আজকের তরুণদের সংগঠন ও মঞ্চের অনুষ্ঠান। দুই বম লেখকের তালিকা মিলিয়ে অন্তত নয়টি গানের ধারার নাম পাওয়া যায়, কিন্তু রেকর্ড করা বম গানের কোনো প্রকাশিত সংকলন বা অ্যালবামের খোঁজ মেলে না।

2025 সালের আগস্টে কোক স্টুডিও বাংলার “বাজি” গানটি প্রকাশের পর সুরকার ইমন চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, গানটির জন্য বান্দরবান থেকে একটি পুরো দল ঢাকায় এসেছিল, যাদের বেশির ভাগ বম; তারা এনেছিল বাঁশের লাঠির তাল আর গুনগুন সুর। বম লেখক জির কুং সাহুর বর্ণনায় বমদের বাঁশনৃত্য মূলত শোকের আয়োজন — অপঘাতে মৃত্যু হলে শোকার্ত বাড়ির উঠানে যা হয়; মঞ্চের নাচটি কোন উপলক্ষ থেকে নেওয়া, প্রতিবেদনগুলো তা বলেনি। এই লেখায় আছে গ্রামের আচার-অনুষ্ঠানের গান ও নাচ, গির্জার হিম, আর মঞ্চে বম শিল্পীদের উপস্থিতি — উৎসে যতটুকু পাওয়া যায়।

এই লেখা বম জাতি নিয়ে আমাদের মূল লেখা বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা-র একটি অংশ। বম বাদ্যযন্ত্র ও নাচের ধাপে ধাপে বিবরণ আছে জির কুং সাহুর মূল লেখা বম আদিবাসীদের লোকসংগীত ও লোকনৃত্য-য়, যেখানে গানের কথা ও বঙ্গানুবাদও আছে; এখানে সেগুলো আবার বলা হয়নি। এখানে মেলানো হয়েছে বিভিন্ন উৎসে ছড়িয়ে থাকা বাকি অংশগুলো: গানের ধারার নাম কোন উৎস কীভাবে দেয়, ধর্মান্তরের পর গান কীভাবে বদলাল, গির্জার গানের বই কবে এল, আর আজ বম গান কোথায় শোনা যায়।

সূচিপত্র

  1. বম সংগীতের তিনটি স্তর
  2. বম গানের ধারা কয়টি: দুই বম লেখকের দুই তালিকা
  3. বম লোকগানে কী নিয়ে গাওয়া হয়
  4. শোকের গান কেন বম সংগীতের কেন্দ্রে
  5. রোখা বা বাঁশনৃত্য: এক নাচের চার রকম নাম
  6. শিং নৃত্য সিয়া কী দেং: দুই উৎসের দুই বর্ণনা
  7. আনন্দের গান ও নাচ: শিকার, সাবাং আর সম্মান
  8. বমদের বাদ্যযন্ত্র: আর্কাইভ, জাদুঘর আর সংগ্রাহকেরা
  9. খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর বম গান কীভাবে বদলাল
  10. বম গির্জার গান: হিমের বই কবে, কারা বানালেন
  11. মঞ্চে বম সংগীত: ঢাকা 2007 থেকে কোক স্টুডিও 2025
  12. আজকের বম শিল্পী ও সংগঠন
  13. বম গান কি হারিয়ে যাচ্ছে
  14. এক নজরে: উৎসে উৎসে বম সংগীতের সময়রেখা
  15. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

বম সংগীতের তিনটি স্তর: লোকগান, গির্জার গান, নতুন মঞ্চ

উৎসগুলো পাশাপাশি রাখলে বম সংগীতের তিনটি আলাদা স্তর চোখে পড়ে। প্রথমটি পুরোনো লোকগান ও নাচ, যার বিবরণ দিয়েছেন বম লেখকেরাই। দ্বিতীয়টি 1918 সালের পরের খ্রিষ্টীয় গান, যা প্রথমে লুসাই ভাষায়, পরে বম ভাষায় এসেছে। তৃতীয়টি আজকের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পুরোনো নাচ মঞ্চে ফিরছে।

প্রথম স্তরের সবচেয়ে বিশদ বর্ণনা জুমজার্নালের আর্কাইভেই আছে। বান্দরবানের লেখক জির কুং সাহু 2021 সালে প্রকাশিত “বম আদিবাসীদের লোকসংগীত ও লোকনৃত্য” ও “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখায় গানের শ্রেণি, তিনটি যন্ত্র ও পাঁচটি নাচের কথা লিখেছেন। তাঁর আরেকটি পরিচয়ও পাওয়া যায়: “বম জাতির আদ্যোপান্ত”-র তথ্যসূত্রে আছে S.L. Pardo-র সঙ্গে লেখা The Bawms: Forest Wandering Tribes of Chittagong Hill Tracts (1998), আর একই লেখা জানায়, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তাঁর সম্পাদিত একটি লাই-ইংরেজি অভিধান বের করেছে।

দ্বিতীয় বম কণ্ঠ S. Loncheu, যাঁর “The Bawm Indigenous People” লেখাটি 2004 সালে বম লিটারেচার ফোরামের ওয়েবসাইট bawm.info-তে ছিল; সাইটটি এখন বন্ধ, লেখাটি ইন্টারনেট আর্কাইভে পড়া যায়। এই লেখায় সাতটি গান ও সাতটি নাচের নাম ইংরেজি অর্থসহ দেওয়া আছে, আর ধর্মান্তরের পর পুরোনো সংস্কৃতি কেন ছাড়া হয়েছিল তার একটি ব্যাখ্যাও আছে। দুই উৎসের মিল-অমিল নিচে আলাদা করে দেখানো হলো।

তৃতীয় স্তরের তথ্য আসে সংবাদপত্র থেকে: 2007 সালে ঢাকায় বান্দরবানের জনগোষ্ঠীগুলোর নাচের অনুষ্ঠান, 2017 সালে বান্দরবানের লাইমি পাড়ার গির্জায় নবান্ন, 2025 সালে কোক স্টুডিও, আর 2026 সালে বম তরুণদের সংগঠনের বার্ষিক অনুষ্ঠানের খবর।

বম গানের ধারা কয়টি: দুই বম লেখকের দুই তালিকা

বম গানের ধারার কোনো একক তালিকা নেই। জির কুং সাহু লোকগানের তিনটি শ্রেণির নাম দেন — কাইলেক, লা ফিং ও লাতুং — আর আলাদা করে বিয়ের গান (Lawi la) ও নাচের সঙ্গের গানগুলোর কথা লেখেন। S. Loncheu 2004 সালে সাতটি “famous songs”-এর নাম দেন। দুটো তালিকা মিলিয়ে অন্তত নয়টি আলাদা নাম পাওয়া যায়; সাহুর “লাতুং” আর Loncheu-র “Atung La” আলাদা হলে সংখ্যাটি দশ।

দুই তালিকায় একটি মিল চোখে পড়ার মতো: প্রায় প্রতিটি গানের নামে “লা” (La) শব্দটি আছে — Lawi la, Vawr La, Atung La, Savang La। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কোনো উৎস আলাদা করে লেখেনি, তাই এখানে অনুবাদ দেওয়া হলো না। নিচের ছকে প্রতিটি নাম সেই উৎসের বানানেই রাখা হয়েছে; যেখানে দুই লেখক একই গান বা নাচের কথা বলছেন বলে নাম থেকেই স্পষ্ট, কেবল সেখানেই পাশাপাশি বসানো হয়েছে।

S. Loncheu (2004)Loncheu-র দেওয়া অর্থজির কুং সাহু (জুমজার্নাল, 2021)
Atung LaFolk song (লোকগান)“লাতুং” নামে একটি শ্রেণি আছে; দুটি একই কি না, কোনো উৎস বলেনি
Kaihlek LaSelf composed (নিজের রচনা)কাইলেক — নাম আছে, অর্থ দেওয়া নেই
——লা ফিং — লাতুংয়ের সঙ্গে “ভাব প্রধান গান”
Sakah LaHunter song (শিকারির গান)আলাদা নামে নেই
La do / Vawr Laবিখ্যাত বন্যপ্রাণী-শিকারির গানলাদৌ বা বর-লা (Lado/Vawr La) — সফল শিকারির বিজয়গীত
Salu lamh Laপশুর মাথা হাতে নাচের গানসালু লাম (Salu lam) — শিকার করা পশুর মাথা শুচি করার নাচ ও গান
Savang Laদলবদ্ধ নাচের গানসাবাংরুয়াই (Savangruai) — বিত্তবানের আয়োজিত উৎসব, মূল গায়েন আর ধুয়া
Khuangchawi LaSong of honor (সম্মানের গান)আলাদা নামে নেই
——বিয়ের গান (Lawi la) — কনেকে বরের ঘরে নিয়ে যাওয়ার গান

ছকটি থেকে দুটি কথা বোঝা যায়। এক, শিকার ঘিরে গানের সংখ্যা বেশি — দুই তালিকা মিলিয়ে তিনটি (Sakah La, Vawr La, Salu lamh La)। দুই, যে গানগুলো দুই তালিকাতেই আছে (Vawr La, Salu lamh La, Savang La), সেগুলোর বর্ণনা দুই লেখকের লেখায় মেলে; পার্থক্য মূলত কোন নাম তালিকায় ঢুকেছে, তাতে। Loncheu নিজেই লিখেছেন “some of the famous songs are” — অর্থাৎ তালিকাটি সম্পূর্ণ হওয়ার দাবি করে না।

কাইলেক বা Kaihlek-এর ক্ষেত্রে Loncheu-র অর্থটি আলাদা করে লক্ষ করার মতো: “Self composed”। অর্থাৎ বম ঐতিহ্যে অন্তত একটি ধারা ছিল যেখানে গায়ক নিজের গান নিজে বাঁধতেন। এই ধারার কোনো গান, কোনো রচয়িতার নাম বা গাওয়ার উপলক্ষ কোনো উৎসে দেওয়া নেই।

বম লোকগানে কী নিয়ে গাওয়া হয়: জুম, শিকার আর বিরহ

জির কুং সাহুর মতে বম লোকগানের মূল বিষয় কঠোর জীবনসংগ্রাম: খাবার জোগাড়ের জন্য সারাদিনের জুমচাষ আর বন্যপ্রাণী শিকার বারবার ফিরে আসে। এর পাশে আছে প্রেম, বিরহ, নিঃসঙ্গতা আর সমাজের বৈষম্য। তাঁর ভাষায়, এমন কোনো লৌকিক উৎসব বা আচার নেই যেখানে নাচ-গান নেই।

লাফিং বা লাতুং গানকে তিনি বলেছেন “ভাব প্রধান গান”, যা বিষয়, ভাব, রস আর সুরের দিক থেকে সমৃদ্ধ। প্রেমিক-প্রেমিকার বিরহ ও অনুরাগ “আদান প্রদান হয় সুরের মাধ্যমে” — অর্থাৎ গানকে তিনি বর্ণনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগের একটি পথ হিসেবেও, শুধু বিনোদন হিসেবে নয়।

“বম জাতির আদ্যোপান্ত”-এ সাহু একটি “বহু প্রচলিত গীত”-এর কথা লেখেন, যা বমদের উৎপত্তি-কাহিনি মনে রাখে: চীনের চিনলুং (সিন লুং) এলাকার এক গুহা থেকে পূর্বপুরুষদের আসার কাহিনি। একই লেখা জানায়, এই কাহিনি মনে রাখতে বান্দরবানের একটি বম গ্রামের নাম রাখা হয়েছে চিনলুং। অর্থাৎ অন্তত একটি গান ইতিহাস ধরে রাখার কাজও করে। 1906 সালে R.H.S. Hutchinson তাঁর An Account of the Chittagong Hill Tracts-এ ক্যাপ্টেন Lewin-এর বই থেকে এক বম ব্যক্তির বলা একটি সৃষ্টিকাহিনি উদ্ধৃত করেছেন (তিনি বমদের পুরোনো বহিরাগত নাম “Banjogi” ব্যবহার করেছেন), যেখানে পূর্বপুরুষেরা মাটির এক গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন; সেটি অবশ্য গান হিসেবে নয়, গদ্যে বলা কাহিনি হিসেবে।

বিয়ের গান Lawi la-র যে নমুনা সাহু দিয়েছেন, তার বঙ্গানুবাদে কনে ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছেন, সামনে-পেছনে সখা-সখীর দল, আর নতুন সংসারকে তুলনা করা হয়েছে এক লতায় ধরা লাউ আর এক শীষের ধানের সঙ্গে। উপমাগুলো জুমের ফসল থেকে নেওয়া — যা সাহুর এই বক্তব্যের সঙ্গে মেলে যে বম গানের জগৎ জুমের জগৎ। গানের পূর্ণ পাঠ ও উচ্চারণ তাঁর মূল লেখায় আছে।

শোকের গান কেন বম সংগীতের কেন্দ্রে

বম নাচ-গানের সবচেয়ে স্বতন্ত্র দিক হলো আনন্দের চেয়ে শোকের অনুষ্ঠানের প্রাধান্য — এ কথা জির কুং সাহু সরাসরি লিখেছেন, আর বাংলাপিডিয়াও একই কথা বলে। বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তি অনুযায়ী বমদের বাঁশনৃত্য ও গান আনন্দ বা উৎসবের নয়; পরিবারের কারও অকাল বা অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকার্তদের সান্ত্বনা ও সাহস দিতেই এটি হয়।

এর সবচেয়ে পুরোনো লিখিত সাক্ষ্য 1906 সালের। Hutchinson লিখেছেন, তিনি এক প্রতিষ্ঠিত বম ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিতে উপস্থিত ছিলেন: মৃতদেহকে নতুন কাপড় পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, সবার জন্য ভোজ ছিল, আর নিকটাত্মীয়েরা চব্বিশ ঘণ্টা ধরে খেয়ে-দেয়ে মৃতের গুণ বর্ণনা করে একটানা এক রকম শোকগাথা (“a sort of dirge”) গেয়ে চলছিলেন। লেখক গানটির নাম বা সুরের বর্ণনা দেননি।

সাহুর বর্ণনায় শোক ঘিরে অন্তত দুটি নাচ আছে: অপঘাতে মৃত্যুর পর রোখা, আর যশস্বী মৃতের স্মরণে সিয়া কী দেং বা শিং নৃত্য। এর বাইরে মৃত্যুর পরের আরেকটি আচারের কথা আছে দুটি ভিন্ন উৎসে। সুগত চাকমা 1985 সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উপজাতি বইয়ে লেখেন, মৃতের পথযাত্রা সহজ করতে বমরা তাকে বিদায় জানানোর সময় আকাশে তীর বা বন্দুকের গুলি ছুড়ে “সানু” নামে এক অপদেবতাকে তাড়াত। Loncheu-র 2004 সালের নাচের তালিকায় আছে “Sanu terh” — দা হাতে অপশক্তি তাড়ানোর নাচ। দুই উৎসে “সানু” ও “Sanu” নামের মিল আছে, তবে কোনো উৎস দুটিকে একই আচার বলেনি।

শোকের নাচে শিকারের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। রোখার যে গানের বঙ্গানুবাদ সাহু দিয়েছেন, তাতে হারানো প্রিয়জনকে (গানে “বধূ”) ফিরে আসতে ডাকা হয়, আর শোকের সঙ্গে আসে আদরের গয়ালের উপমা আর আসন্ন পার্বণের কথা। শোক, শিকার, পশুপালন আর উৎসব একই গানের ভেতরে।

রোখা বা বাঁশনৃত্য: এক নাচের চার রকম নাম

বম বাঁশনৃত্য উৎসভেদে চার রকম নামে লেখা হয়েছে: জির কুং সাহু লেখেন “রোখা”, S. Loncheu “Rukha Tla”, দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে “Rogha Lang”, আর বাংলাপিডিয়া শুধু “বাঁশনৃত্য”। উপলক্ষ নিয়ে চার উৎসই একমত: অস্বাভাবিক বা অকাল মৃত্যু, অর্থাৎ শোক।

Loncheu একটি তথ্য যোগ করেন যা অন্য কোনো উৎসে নেই: Rukha Tla তিন রকমের (“3 kinds”)। তিনটির পার্থক্য কী, তিনি লেখেননি। ডেইলি স্টারের 2007 সালের প্রতিবেদন বলে, বাঁশনৃত্য করা হয় মৃতের সম্মানে (“in honour of the deceased”)। সাহুর বর্ণনায় নাচের মূল উদ্দেশ্য শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা ও সাহচর্য দেওয়া; বাঁশের ঠোকাঠুকির ছন্দ আর হালকা গানের সুর শোকের পরিবেশকে হালকা করে।

নাচের গড়ন সাহু বিস্তারিত দিয়েছেন: জোড়া জোড়া লম্বা বাঁশ আড়াআড়ি ঠুকে তাল তৈরি হয়, ফাঁক পড়লেই যুবক-যুবতীরা বৃত্তাকারে পা ফেলে নেচে যান, পাশে বসে অন্যরা গান গান। একটি সামাজিক খুঁটিনাটিও তিনি লিখেছেন: তরুণেরা প্রথমে অংশ নিতে দ্বিধা করেন, অনুনয় আর জোরাজুরির পর সবাই যোগ দেন। পুরো বর্ণনা ও গানের পাঠ তাঁর লোকসংগীত ও লোকনৃত্য লেখায়।

এই একটি নাচই বম সংগীতের সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে। বাংলাপিডিয়া একে বম সংস্কৃতির “একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান” বলে; ইংরেজি উইকিপিডিয়ার বম নিবন্ধ বাইরের লিংক হিসেবে রুমার একটি বম নাচের পাতা রেখেছে; আর 2025 সালে কোক স্টুডিও বাংলার “বাজি” গানে বম শিল্পীরা যে নাচ করেছেন, প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ তাকে বলেছে “traditional Bawm bamboo dance with humming”। মঞ্চে এই নাচ কোন উপলক্ষ থেকে এসেছে, সে কথা ওই প্রতিবেদনগুলোতে নেই।

শিং নৃত্য সিয়া কী দেং: দুই উৎসের দুই বর্ণনা

বমদের শিং নৃত্যের নাম সব উৎসে প্রায় এক — সিয়া কী দেং (সাহু), Siaki Deng (Loncheu), Shiakidong (ডেইলি স্টার, 2007) — কিন্তু নাচটি কেন হয়, তা নিয়ে দুটি আলাদা বর্ণনা আছে।

জির কুং সাহু লেখেন, সিয়া কী দেং যশস্বী মৃতের স্মরণোৎসব, অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ভোজ, কেবল নামকরা মৃত ব্যক্তির স্মরণে হয়। অংশ নেন কেবল পুরুষেরা, মাথায় পাগড়ি পরে; হাতে জোড়া শিং ঠুকে তাল দিতে দিতে বিশেষ ভঙ্গিতে নাচতে হয়, যার জন্য শারীরিক সক্ষমতা ও দক্ষতা লাগে। আর তাঁর একটি বাক্য বম সংগীতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ: “এই নৃত্যে গীত হয় না।”

দ্য ডেইলি স্টারের 28 জুলাই 2007 সালের প্রতিবেদন, যা ঢাকার রাশিয়ান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচারে বান্দরবানের জনগোষ্ঠীগুলোর নাচের অনুষ্ঠান নিয়ে লেখা, Shiakidong-কে বলে “a ritualistic dance performed all through the night to drive away the evil spirits” — সারারাত ধরে অপশক্তি তাড়ানোর আচারনৃত্য। Loncheu শুধু নাম ও অনুবাদ দেন: “Horns Dance”।

এক উৎস বলছে স্মরণোৎসব, আরেক উৎস বলছে অপশক্তি তাড়ানো। দুটি বর্ণনা পরস্পরকে বাদ দেয় কি না, কোনো উৎস তা আলোচনা করেনি।

আনন্দের গান ও নাচ: শিকার, সাবাং আর সম্মান

শোকের প্রাধান্য থাকলেও আনন্দের অনুষ্ঠান কম নয়, সাহু নিজেই লিখেছেন। তাঁর বর্ণনায় আনন্দের তিনটি আয়োজন: সফল শিকারির বিজয়গীত লাদৌ বা বর-লা, বিত্তবানের আয়োজিত উৎসব সাবাংরুয়াই, আর শিকার করা পশুর মাথা শুচি করার নাচ সালু লাম। তিনটিই কোনো না কোনোভাবে ব্যক্তির শৌর্য বা খ্যাতি উদ্‌যাপন করে।

গানের গড়নে একটি মিল আছে: লাদৌতে খ্যাতিমান শিকারি জন্তুর মাথা উঁচিয়ে গান ধরেন আর সঙ্গীরা ধুয়া তোলেন; সাবাংরুয়াইতে একজন মূল গায়েন আয়োজকের বীরত্বের কাহিনি গান, বাকিরা ধুয়া তোলেন। অর্থাৎ এক কণ্ঠের নেতৃত্ব আর দলের সাড়া — এই গড়নটি সাহুর বর্ণনায় বারবার আসে। সাবাংরুয়াইতে নারী-পুরুষ হাত ধরাধরি করে বৃত্তে একবার সামনে, একবার পেছনে ধীরে ধীরে নাচেন।

Loncheu-র তালিকায় আরও তিনটি নাচ আছে যা সাহুর লেখায় নেই: Chawnglai zuang (step dance, চার রকমের), Sanu terh (দা হাতে অপশক্তি তাড়ানোর নাচ) আর Khawvel Lam (উৎসবের দলবদ্ধ নাচ)। গানের তালিকায় আছে Khuangchawi La, যার অর্থ তিনি দিয়েছেন “Song of honor”। এগুলো কবে, কীভাবে গাওয়া বা নাচা হয়, তার বিবরণ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

খ্রিষ্টান মিশন-সংস্থা Joshua Project-এর বম-পাতা জানায়, বমরা বছরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পালন করেন, যেখানে “they share folk tales and songs rendered with dance and music”। উৎসব তিনটির নাম পাতাটিতে নেই। 2017 সালের সেপ্টেম্বরে বাংলা ট্রিবিউন বান্দরবান সদরের লাইমি পাড়ায় বমদের নবান্ন উৎসবের খবর দিয়েছিল: জুমের নতুন ফসল নিয়ে শিশু থেকে প্রবীণ সবাই ইভানজেলিক্যাল চার্চে প্রার্থনা করেন আর “নেচে গেয়ে” উৎসবে মাতেন। ফসলের উৎসব, গির্জা আর নাচ-গান সেখানে একই দিনের অংশ।

বমদের বাদ্যযন্ত্র: আর্কাইভ, জাদুঘর আর সংগ্রাহকেরা

জুমজার্নালের আর্কাইভে বমদের তিনটি যন্ত্রের নাম আছে — রিরৎ (একতারা-জাতীয়), মিমীম (ধানের নাড়ার বাঁশি) ও জলপাল (বাঁশি) — জির কুং সাহুর লেখা থেকে। এদের সুর সম্পর্কে তাঁর কথা: “কথা নেই আছে শুধু সুর।” এর বাইরে দুটি নাচে বস্তুই তালের যন্ত্র: রোখায় জোড়া বাঁশ, সিয়া কী দেং-এ জোড়া শিং।

এই যন্ত্রগুলোর উপাদান, গড়ন ও অন্য জনগোষ্ঠীর যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাদ্যযন্ত্রের তালিকা-য় এবং পাহাড়ি গান ও আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র লেখায়। একটি কথা এখানে বলে রাখা দরকার: পাহাড়ের বাঁশের মুখবীণা, যার নানা নাম নিয়ে আলাদা লেখা আছে — খেংগ্রং বাদ্যযন্ত্র: হেংগরং, খেংখং, খ্রে খ্রং, সাংমুঙ — আর্কাইভের যন্ত্রতালিকায় চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা ও ত্রিপুরার নামে আছে; বমদের কোনো উৎসে এর নাম পাওয়া যায়নি।

জাদুঘরের প্রদর্শনী-বাক্সে গিটারের মতো গড়নের পুরোনো কাঠের তারযন্ত্র আর ফালি দিয়ে ঘেরা, দড়িতে বাঁধা একটি বড় ঢোল
চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে “বাদ্যযন্ত্র এবং ঝুড়ি: বম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা” শিরোনামের প্রদর্শনীর অংশ (ছবি তোলা 2012)। ঢোলটির লেবেলে ইংরেজিতে লেখা “DRUM”; ওপরের কালো বাঁকা বস্তুটির লেবেলে লেখা বারুদ রাখার পাত্র (gunpowder container), বাদ্যযন্ত্র নয়। ছবি (অংশবিশেষ): Moheen Reeyad · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

আর্কাইভের লেখার বাইরে বম বাদ্যযন্ত্রের একটি দৃশ্যমান নথি আছে চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে। আলোকচিত্রী Moheen Reeyad 2012 সালের 1 অক্টোবর সেখানে যে প্রদর্শনী-বাক্সের ছবি তোলেন, তার লেবেল: “বাদ্যযন্ত্র এবং ঝুড়ি : বম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা”। বাক্সে দেখা যায় গিটারের মতো গড়নের একটি পুরোনো কাঠের তারযন্ত্র, দুটি ঢোল (একটির লেবেলে “DRUM”), কয়েকটি টুপি ও ঝুড়ি। তারযন্ত্রটির নাম লেবেল থেকে পড়া যায় না, আর আর্কাইভের তিনটি যন্ত্রের — রিরৎ, মিমীম, জলপাল — কোনোটির সঙ্গে এর মিল কোনো উৎস দেখায়নি।

ঢোলের প্রশ্নটি আলাদা করে ওঠে, কারণ সাহুর তিন যন্ত্রের তালিকায় কোনো ঢোল নেই, অথচ জাদুঘর বমদের যন্ত্র হিসেবে দুটি ঢোল রেখেছে। এ দুটির বম নাম, কোন অনুষ্ঠানে বাজত, কে বাজাতেন — কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। S. Loncheu-র লেখায় বমদের নিজেদের তৈরি জিনিসের একটি তালিকায় “Lai Dar (Lai made Bell)” আছে — লাই-তৈরি ঘণ্টা; সেটি সংগীতে ব্যবহৃত হতো কি না, তিনি লেখেননি।

বম যন্ত্র সংগ্রহের আরও দুটি উল্লেখ আছে। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা J.P. Mills 1926–27 সালের সফরে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে 89টি বস্তু কেনেন; Wolfgang Mey-র সম্পাদনায় 2009 সালে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী এর মাত্র 4টি বম, সেগুলো গায়ের কাপড়, নকশাদার মাথার ফিতা আর আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম — কোনো বাদ্যযন্ত্র নয়। অন্যদিকে গবেষক Rolf Killius তাঁর ওয়েবসাইটে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সের Musical Instrument Museum-এর জন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে যে যন্ত্র সংগ্রহ করেছেন, তার একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, ম্রো ও বম জনগোষ্ঠীর। কোন বম যন্ত্র সেখানে আছে, পাতাটিতে তার তালিকা নেই।

খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর বম গান কীভাবে বদলাল

উৎসগুলো একমত যে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর বম সমাজে পুরোনো আচার-অনুষ্ঠান ও তার সঙ্গের নাচ-গান অনেকখানি ছেড়ে দেওয়া হয়। S. Loncheu সবচেয়ে স্পষ্ট করে লিখেছেন: খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের আগে বমরা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পালন করতেন “most probably till 1958”; তারপর তা ছেড়ে দেন, কারণ মিশনারিদের ব্যাখ্যা করা গির্জার শৃঙ্খলা-বিধির সঙ্গে “complication” ছিল।

একই অনুচ্ছেদে Loncheu পরের অধ্যায়টিও লিখেছেন: এখনকার তরুণ প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি নতুন করে চালু করেছে, কারণ এটিই জাতি ও সম্প্রদায়ের “most relevant identity”; বমরা এখন নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন এবং তা “modifying” করছেন — অর্থাৎ বদলে নিয়ে চর্চা করছেন। পুরোনো গানের তালিকাটি তিনি দিয়েছেন ঠিক এই অনুচ্ছেদের পরে।

অন্য উৎসগুলো পরিবর্তনের অন্য দিক দেখায়। সুগত চাকমা 1985 সালে লেখেন, খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের ফলে বমদের সমাজজীবন, পোশাক ও সংস্কৃতিতে “পাশ্চাত্যের প্রভাব বিস্তারলাভ করেছে”; রুমায় গেলে তরুণ-তরুণীদের “প্রায়ই গিটার বাজিয়ে গান গাইতে দেখা যায়”, আর তখন তাঁদের “খুবই প্রাণবন্ত” মনে হয়। বইটি একই অধ্যায়ে লেখে, আধুনিক শিক্ষা ও খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের ফলে পুরোনো বিশ্বাসগুলো “আজ আর নেই”।

বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি Jumlian Amlai 2007 সালে (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত, bdnews24-এর সূত্রে) বলেছিলেন, 1960-এর দশক থেকে রূপকথা, গাথা ও লোকসংগীত রোমান হরফে বম ভাষায় লেখা হচ্ছিল, কিন্তু সেই চর্চা এখন কমে আসছে। তাঁর আরেকটি কথা: খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর বম সংস্কৃতি ও প্রথা বদলেছে, প্রকৃতিপূজার মতো পুরোনো রীতি বিস্মৃতিতে চলে গেছে।

খ্রিষ্টধর্ম কবে শুরু, সে প্রশ্নে উৎসে অমিল আছে: জির কুং সাহু, S. Loncheu, Rev. Thimkhup Buiting ও Sangrem Mawi Hernandez 1918 সাল ধরেন; Amlai-র 2007 সালের বক্তব্যে আছে 1927; আর বাংলাপিডিয়া লেখে মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রচার শুরু করেন এবং 1966 সালে বমদের 86% খ্রিষ্টান ছিলেন। এই ইতিহাসের বিস্তারিত আছে পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম কীভাবে এল: বম, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি লেখায়।

বম গির্জার গান: হিমের বই কবে, কারা বানালেন

বম গির্জার গান শুরু হয়েছিল অন্য ভাষায়। জির কুং সাহু লেখেন, 1918-এর পর বম ও পাংখোয়ারা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ শুরু করলে প্রথম দিকে লুসাই ভাষার বাইবেল ও “ধর্মীয় সংগীত” ব্যবহৃত হতো; পরে বম ভাষায় বাইবেল অনূদিত হয়, আর বাইবেলের পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীতের বইও বম ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

বম ভাষায় হিম কবে এল, তার একটি তারিখ দেন Sangrem Mawi Hernandez, যিনি 2026 সালে বম খ্রিষ্টধর্মের ইতিহাস সংকলন করেছেন: 1953 সালে মথি লিখিত সুসমাচার অনূদিত হয়, তার পরের বছর, 1954 সালে, হিম (“hymns in 1954”)। তাঁর হিসাবে বম বাইবেল ও হিম তৈরি করেছিলেন পাস্টর এইচ ডালা, Pu Chalkhup, Pu Kiplei ও Pu Kualthang। এর মধ্যে পাস্টর এইচ ডালাকে আমাদের আর্কাইভে সাহু বম সমাজে খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা ও চার্চ প্রতিষ্ঠার প্রধান ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

S. Loncheu 2004 সালে দুটি কথা লেখেন: বমরা নিজেদের হরফে হিমের বই (“Hymn Book”) ও বাইবেল প্রকাশ করেছেন, আর তাঁরা “La bute (Mizo Hymn)”-ও ব্যবহার করেন — অর্থাৎ মিজো ভাষার হিমও বম গির্জায় গাওয়া হয়। 2026 সালে দ্য ডেইলি স্টারে Pastor Sawn Thuang Loncheu, যিনি বম বাইবেল অনুবাদ কমিটির সম্পাদক, জানান পবিত্র বাইবেল, হিমের বই ও অন্যান্য উপকরণ এখন বম ভাষায় ছাপা হয়।

মিজো হিমের প্রসঙ্গে একজন মিশনারির নাম আসে। Rev. Thimkhup Buiting-এর 2004 সালের লেখা অনুযায়ী 1918 সালে বমদের কাছে খ্রিষ্টধর্মের বার্তা নিয়ে আসেন Edwin Rowlands। তিনি মিজো হিমের একজন বড় রচয়িতাও ছিলেন, তবে সংখ্যা নিয়ে দুই উৎস দুই রকম বলে: Hernandez লেখেন তিনি মিজো ভাষায় প্রায় 90টি হিম রচনা করেন; ইংরেজি উইকিপিডিয়ার জীবনী অনুযায়ী তিনি অনুবাদ ও মৌলিক মিলিয়ে একশোর বেশি মিজো হিম তৈরি করেন, যার 96টি টিকে আছে এবং ব্যাপটিস্ট ও প্রেসবিটারিয়ান গির্জার সরকারি হিমের বই Kristian Hla Bu-তে তিনিই একক বৃহত্তম অবদানকারী। Loncheu যে “La bute (Mizo Hymn)”-এর কথা বলেছেন, তাতে Rowlands-এর হিম আছে কি না, কোনো উৎস তা বলেনি।

গির্জার গান আজও বম ভাষাকে ধরে রাখার একটি প্রধান জায়গা। জির কুং সাহু তাঁর “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” লেখায় বলেন, বম ভাষা এখন টিকিয়ে রেখেছে চার্চগুলোই, চার্চভিত্তিক প্রকাশনাই প্রধান। 2026 সালে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বম ছাত্রী বলেন, সম্প্রদায়ের ভেতরে বম ভাষা গির্জা ও সাহিত্যে বেঁচে আছে, কিন্তু এর বাইরে বাংলাই প্রধান। Pastor Sawn Thuang Loncheu-র মতে গল্প, গান, প্রথা আর হিম — সব মৌখিক ঐতিহ্যই দৈনন্দিন চর্চায় কমে আসছে, যদিও লিখে রাখার চেষ্টা চলছে।

মঞ্চেও গির্জার গান উঠেছে। 2007 সালে ঢাকার অনুষ্ঠান নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন জানায়, নাচের ফাঁকে মারমাদের পূর্ণিমা উৎসবের গান ও খিয়াংদের দেশাত্মবোধক গানের পাশে “a religious Bawm song” পরিবেশিত হয়েছিল। গানটির নাম বা শিল্পীর নাম প্রতিবেদনে নেই।

মঞ্চে বম সংগীত: ঢাকা 2007 থেকে কোক স্টুডিও 2025

বম নাচ-গান গ্রাম থেকে জাতীয় মঞ্চে আসার তিনটি নথিভুক্ত মুহূর্ত পাওয়া যায়: 2007 সালে ঢাকায় বান্দরবানের জনগোষ্ঠীগুলোর নাচের অনুষ্ঠান, 2014 সালে বান্দরবানে এগারো জনগোষ্ঠীর উৎসব, আর 2025 সালে কোক স্টুডিও বাংলার “বাজি”।

2007, ঢাকা। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী 26 জুলাই 2007 ঢাকার রাশিয়ান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচারে মারমা, ম্রো, বম, খিয়াং ও তঞ্চঙ্গ্যা শিল্পীরা নাচ পরিবেশন করেন। বম শিল্পীরা পরিবেশন করেন শিং নৃত্য Shiakidong, আর অনুষ্ঠান শেষ হয় বমদের বাঁশনৃত্য Rogha Lang দিয়ে। আয়োজক ছিল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বান্দরবানের ট্রাইবাল কালচারাল সেন্টার, সহায়তায় ইউনেসকো; অনুষ্ঠানটি “Culture of the Bandarban Hill People” নামে দুই মাসের একটি সিরিজের অংশ ছিল।

2014, বান্দরবান। ডেইলি স্টারের 13 মে 2014 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবানের একটি আদিবাসী উৎসবে বমসহ এগারোটি জনগোষ্ঠী অংশ নেয়। বমরা কী পরিবেশন করেছিলেন, প্রতিবেদনে তা আলাদা করে লেখা নেই।

2025, কোক স্টুডিও বাংলা। “বাজি” গানটি শুরু হয় বান্দরবানের Mrakoi Ching Marma-র কণ্ঠে প্রায় হারিয়ে যাওয়া মারমা কাপ্যা সুরে। সুরকার ইমন চৌধুরী প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণকে (16 সেপ্টেম্বর 2025) বলেন, গানটি মারমা কাপ্যা দিয়ে শুরু হয়ে “traditional Bawm bamboo dance with humming”-এ যায়, তারপর মূল গানে। ডেইলি স্টারকে (25 আগস্ট 2025) তিনি বলেন, বান্দরবান থেকে একটি পুরো দল ঢাকায় এসেছিল, যারা এনেছিল বাঁশের লাঠির তাল আর গুনগুন অংশ: “Most of them were from the Bawm tribe, and their energy added something very raw and authentic.” প্রথম আলোর প্রতিবেদন আরও জানায়, ভিডিওতে মণিপুরী, মারমা ও বম জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে সম্মান জানানো হয়েছে।

একটি জিনিস লক্ষ করার মতো: তিনটি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই বম শিল্পীদের নাম নেই। 2007-এ নাম আছে কেবল একজন বাংলা গানের শিল্পীর; 2025-এ নাম আছে মারমা গায়িকার, সুরকারের ও পরিচালকের, কিন্তু বম দলের কোনো সদস্যের নয়।

আজকের বম শিল্পী ও সংগঠন: কারা গান ধরে রেখেছেন

প্রকাশিত উৎসে বম ভাষায় গান গাওয়া কোনো নির্দিষ্ট শিল্পী, ব্যান্ড বা অ্যালবামের নাম পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা হলো সংগঠন, লেখক আর অনুষ্ঠানের খবর।

2026 সালের 21 ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত “The Bawm language at a crossroads” প্রতিবেদনে Pastor Sawn Thuang Loncheu জানান, তরুণেরা ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশন, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বম উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনের মাধ্যমে প্রতি বছর গান ও সাংস্কৃতিক নাচের অনুষ্ঠান করেন। তাঁর মতে তরুণ প্রজন্ম ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ক্রমশ সক্রিয় হচ্ছে।

লেখার দিক থেকে একটি কাজ সংগীতের কাছাকাছি। প্রথম আলোর 28 ফেব্রুয়ারি 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী রুমার লেখক ভাননুনসিয়াম বম বম ভাষায় সাতটি বই লিখেছেন, যার একটি গীতিনাট্য — “বম খভেল লা”। বইটির বিষয়বস্তু প্রতিবেদনে নেই।

আর মুদ্রণের ইতিহাসে আছে দুটি পত্রিকার নাম, যদিও সেগুলো গানের নয়: জির কুং সাহু লেখেন, ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টিয়ান চার্চ Kawhmi Arfi নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে, আর বম ছাত্র সংগঠনের বার্ষিক ম্যাগাজিনের নাম “মেনরিহয়”। এগুলোতে গান বা গানের স্বরলিপি ছাপা হয় কি না, জানা যায়নি।

জুমজার্নালের নিজের গানের আর্কাইভ জুমজার্নাল মিউজিক-এ জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিভাগগুলোর মধ্যে “BAWM SONG” নামে একটি বিভাগ আছে, কিন্তু নভেম্বর 2026 পর্যন্ত তাতে কোনো গান যুক্ত হয়নি। সংগ্রহটির 631টি গানের মধ্যে বম ভাষার কোনো রেকর্ডিং নেই। যাঁদের কাছে বম গানের রেকর্ডিং আছে, তাঁরা জুমজার্নালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

বম গান কি হারিয়ে যাচ্ছে: উৎসগুলো যা বলে

একাধিক বম কণ্ঠ বম গান কমে আসার কথা বলেছেন, তবে কোনো উৎস কতগুলো গান হারিয়েছে বা কতজন গায়ক বেঁচে আছেন, তার হিসাব দেয়নি। উদ্বেগটা পর্যবেক্ষণভিত্তিক, গণনাভিত্তিক নয়।

জির কুং সাহু “বম জাতির আদ্যোপান্ত”-এ লেখেন, বমদের পুরাকাহিনি, প্রবচন, ছড়া, গীতিকা আর সৃষ্টিতত্ত্ব হারিয়ে যাচ্ছে, আর বম ভাষায় এ জাতীয় কোনো লিখিত গ্রন্থ নেই; এগুলো সংরক্ষণ করা দরকার। অন্যদিকে Amlai 2007 সালে বলেছিলেন, 1960-এর দশক থেকে লোকসংগীত রোমান হরফে বম ভাষায় লেখা হচ্ছিল, তবে সে চর্চা কমে আসছে।

2026 সালের ডেইলি স্টার প্রতিবেদনে বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি Lalrithang Bawm বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম সামাজিক মিলনের পুরোনো জায়গাগুলোর জায়গা নেওয়ায় তরুণ বমভাষীরা গল্প ও গানের সঙ্গে কম যুক্ত হচ্ছেন। ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক Zem Laltharngak Bawm বলেন, আনুষ্ঠানিক ভাষা আর ঐতিহাসিক আখ্যান কমে যাওয়া সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাকে হুমকিতে ফেলছে।

পুরো দেশের প্রেক্ষাপটে Rolf Killius লিখেছেন, বাংলাদেশে আদিবাসী ও জুম্ম জনগোষ্ঠীর সংগীত, নৃত্য ও যন্ত্র-নির্মাণকে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে দেখা হয় না, এর হারিয়ে যাওয়াকে “endangered” বলেও ধরা হয় না; অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম তাঁর মতে ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের পৃথিবীর অল্প কয়েকটি অবশিষ্ট ভান্ডারের একটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর আরেকটি প্রেক্ষাপটও উৎসে আছে: Hernandez লিখেছেন, 2022 সালে বান্দরবানে, বিশেষ করে বম সম্প্রদায়ের মধ্যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাত গির্জার প্রশিক্ষণ, মিশনারি কাজ ও সম্মেলনসহ নানা কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। এ বিষয়ে নথিভুক্ত তথ্য ও অভিযোগ আলাদা করে আছে কেএনএফ আর বম জনগোষ্ঠী এক নয় লেখায়।

এক নজরে: উৎসে উৎসে বম সংগীতের সময়রেখা

নিচের ছকে প্রতিটি সারি একটি উৎসের নিজের বক্তব্য; এক উৎসের কথা অন্য সারিতে বসানো হয়নি।

সালউৎসবম সংগীত নিয়ে যা বলে
1906R.H.S. Hutchinsonপ্রতিষ্ঠিত বম ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিতে আত্মীয়েরা 24 ঘণ্টা মৃতের গুণগান করে শোকগাথা গান
1926–27J.P. Mills-এর সংগ্রহ (Mey, 2009)89 বস্তুর মধ্যে 4টি বম; কোনোটি বাদ্যযন্ত্র নয়
1954Sangrem Mawi Hernandez (2026)বম ভাষায় হিম অনূদিত হয়
1958 পর্যন্তS. Loncheu (2004)“most probably” এ সময় পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পালিত হয়, পরে গির্জার বিধির কারণে ছাড়া হয়
1960-এর দশক থেকেJumlian Amlai (2007)রূপকথা, গাথা ও লোকসংগীত রোমান হরফে বম ভাষায় লেখা শুরু; চর্চা এখন কমছে
1985সুগত চাকমারুমায় তরুণ-তরুণীরা প্রায়ই গিটার বাজিয়ে গান করেন
2004S. Loncheuসাত গান ও সাত নাচের তালিকা; নিজ হরফে হিমের বই; মিজো হিম La bute-ও ব্যবহৃত
2007দ্য ডেইলি স্টারঢাকায় Shiakidong ও Rogha Lang নাচ, একটি বম ধর্মীয় গান
2012জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, চট্টগ্রাম (Moheen Reeyad-এর ছবি)বম বাদ্যযন্ত্রের প্রদর্শনী: কাঠের তারযন্ত্র ও দুটি ঢোল
2017বাংলা ট্রিবিউনলাইমি পাড়ার গির্জায় নবান্নে প্রার্থনা ও নাচ-গান
2021জির কুং সাহু (জুমজার্নাল)তিন শ্রেণির গান, তিন যন্ত্র, পাঁচ নাচ; শোকের প্রাধান্য
2025প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টারকোক স্টুডিও বাংলার “বাজি”-তে বম দলের বাঁশনৃত্য ও গুনগুন সুর
2026দ্য ডেইলি স্টার; প্রথম আলোবম সংগঠনগুলোর বার্ষিক গান-নাচের অনুষ্ঠান; ভাননুনসিয়াম বমের গীতিনাট্য “বম খভেল লা”

বম ভাষা নিজে কোন ভাষা-পরিবারের, আর প্রতিবেশী কুকি-চিন ভাষাগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা আছে কুকি-চিন ভাষা: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জনগোষ্ঠী ও বিষয়ের লেখাগুলো এক জায়গায় আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বম সংগীত কী?

বম সংগীত বলতে বান্দরবানের বম জনগোষ্ঠীর গান, নাচ ও বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য বোঝায়। এর তিনটি স্তর: শোক ও শিকার ঘিরে পুরোনো লোকগান-নাচ, যার বিবরণ দিয়েছেন জির কুং সাহু ও S. Loncheu; 1954 থেকে বম ভাষায় অনূদিত গির্জার হিম; আর আজকের তরুণ সংগঠনগুলোর বার্ষিক গান-নাচের অনুষ্ঠান।

বম লোকগানের ধারা কয়টি?

একক তালিকা নেই। জির কুং সাহু তিনটি শ্রেণির নাম দেন: কাইলেক, লা ফিং ও লাতুং, আলাদা করে বিয়ের গান Lawi la। S. Loncheu 2004 সালে সাতটি গানের নাম দেন: Atung La, Kaihlek La, Sakah La, Vawr La, Salu lamh La, Savang La ও Khuangchawi La। দুই তালিকা মিলিয়ে অন্তত নয়টি নাম পাওয়া যায়।

বমদের বাঁশনৃত্য কখন হয়?

বম বাঁশনৃত্য (রোখা, Rukha Tla বা Rogha Lang) মূলত শোকের নাচ। জির কুং সাহু, বাংলাপিডিয়া ও দ্য ডেইলি স্টার (2007) একমত যে এটি হয় অপঘাতে, অকালে বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর, শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে। S. Loncheu লিখেছেন নাচটি তিন রকমের, তবে পার্থক্য ব্যাখ্যা করেননি।

সিয়া কী দেং বা শিং নৃত্য কেন করা হয়?

দুই উৎস দুই কারণ দেয়। জির কুং সাহু লেখেন, এটি যশস্বী মৃতের স্মরণে ব্যয়বহুল ভোজ-উৎসব, কেবল পুরুষেরা জোড়া শিং ঠুকে নাচেন এবং এতে গান হয় না। দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে একে সারারাত ধরে অপশক্তি তাড়ানোর আচারনৃত্য বলেছে। S. Loncheu শুধু এর নাম দেন “Horns Dance”।

বমদের বাদ্যযন্ত্রগুলোর নাম কী?

জির কুং সাহু তিনটি যন্ত্রের নাম দেন: রিরৎ (একতারা-জাতীয়), মিমীম (ধানের নাড়ার বাঁশি) ও জলপাল (বাঁশি)। রোখায় জোড়া বাঁশ ও সিয়া কী দেং-এ জোড়া শিং তালের কাজ করে। চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে বম যন্ত্র হিসেবে একটি কাঠের তারযন্ত্র ও দুটি ঢোল প্রদর্শিত আছে, যাদের বম নাম লেবেলে নেই।

বম ভাষায় গির্জার গান বা হিম কবে থেকে?

Sangrem Mawi Hernandez-এর 2026 সালের সংকলন অনুযায়ী 1954 সালে বম ভাষায় হিম অনূদিত হয়, যা তৈরি করেছিলেন পাস্টর এইচ ডালা, Pu Chalkhup, Pu Kiplei ও Pu Kualthang। জির কুং সাহু লেখেন, তার আগে প্রথম দিকে লুসাই ভাষার বাইবেল ও ধর্মীয় সংগীত ব্যবহৃত হতো। S. Loncheu (2004) জানান, মিজো হিম La bute-ও ব্যবহার হয়।

খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর বম লোকগানের কী হয়েছে?

S. Loncheu লেখেন, বমরা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সম্ভবত 1958 পর্যন্ত পালন করেন, তারপর মিশনারিদের ব্যাখ্যা করা গির্জার বিধির সঙ্গে সংঘাতের কারণে ছেড়ে দেন; এখন তরুণেরা তা নতুন করে চালু করছেন। Jumlian Amlai (2007) বলেন, 1960-এর দশক থেকে লোকসংগীত বম ভাষায় লেখা হচ্ছিল, কিন্তু সে চর্চা কমছে।

কোক স্টুডিওর “বাজি” গানে কি বম শিল্পীরা ছিলেন?

হ্যাঁ। সুরকার ইমন চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে (25 আগস্ট 2025) বলেন, বান্দরবান থেকে আসা দলটির বেশির ভাগ সদস্য বম, যারা বাঁশের লাঠির তাল ও গুনগুন সুর এনেছিলেন। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ (16 সেপ্টেম্বর 2025) লেখে, গানটি মারমা কাপ্যা থেকে “traditional Bawm bamboo dance with humming”-এ যায়। শিল্পীদের নাম প্রকাশিত হয়নি।

বম ভাষার কোনো গানের অ্যালবাম বা শিল্পী আছেন কি?

প্রকাশিত কোনো উৎসে বম ভাষায় গাওয়া নির্দিষ্ট শিল্পী, ব্যান্ড বা অ্যালবামের নাম পাওয়া যায়নি। দ্য ডেইলি স্টার (2026) জানায়, ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশন, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বম উইমেন অ্যাসোসিয়েশন প্রতি বছর গান ও নাচের অনুষ্ঠান করে। জুমজার্নালের গানের আর্কাইভে বম বিভাগ আছে, তবে এখনো কোনো গান নেই।

বম লোকগান কি সংকলিত হয়েছে?

বই আকারে কোনো সংকলনের খোঁজ পাওয়া যায় না। জির কুং সাহু লেখেন, বম গীতিকা, ছড়া ও পুরাকাহিনি হারিয়ে যাচ্ছে এবং বম ভাষায় এ জাতীয় কোনো লিখিত গ্রন্থ নেই। জুমজার্নালের আর্কাইভে তাঁর লেখায় কয়েকটি গানের বম পাঠ ও বঙ্গানুবাদ আছে — বিয়ের গান, রোখা, বিজয়গীত ও সালু লামের গান।

বম আর লুসাই গির্জার গান কি একই?

পুরোপুরি নয়, তবে যোগ আছে। জির কুং সাহু লেখেন, 1918-এর পর প্রথম দিকে বম গির্জায় লুসাই ভাষার বাইবেল ও ধর্মীয় সংগীত ব্যবহৃত হতো, পরে বম ভাষায় নিজস্ব বই হয়। S. Loncheu (2004) জানান, বমরা নিজ হরফের হিমের বইয়ের পাশাপাশি মিজো হিম La bute-ও ব্যবহার করেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • “লা” শব্দের আক্ষরিক অর্থ, এবং Atung La ও সাহুর “লাতুং” একই ধারা কি না — কোনো উৎস বলেনি।
  • কাইলেক বা Kaihlek La (“Self composed”) ধারার কোনো গান, রচয়িতা বা উপলক্ষ।
  • Rukha Tla-র তিনটি ধরন আর Chawnglai zuang-এর চারটি ধরনের পার্থক্য।
  • সিয়া কী দেং মূলত স্মরণোৎসব না অপশক্তি তাড়ানোর আচার — দুই উৎস দুই কথা বলে, মেলানো যায়নি।
  • চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে রাখা বম তারযন্ত্র ও ঢোলের বম নাম, এবং সেগুলো কোন অনুষ্ঠানে বাজত।
  • Rolf Killius ফিনিক্সের Musical Instrument Museum-এর জন্য কোন কোন বম যন্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
  • 1954 সালের প্রথম বম হিমের বইয়ের নাম, প্রকাশক ও হিমের সংখ্যা; পরবর্তী সংস্করণগুলোর তথ্য।
  • Loncheu-র “La bute (Mizo Hymn)” কোন বই, আর বম গির্জায় এখন মিজো ও বম হিম কোন অনুপাতে গাওয়া হয়।
  • খ্রিষ্টধর্ম শুরুর সাল নিয়ে অমিল: বম গির্জার উৎসগুলো 1918, Amlai 1927, বাংলাপিডিয়া উনিশ শতকের মাঝামাঝি।
  • বম ভাষায় গান গাওয়া কোনো শিল্পী বা দলের রেকর্ডিং, এবং কোক স্টুডিওর “বাজি”-তে অংশ নেওয়া বম শিল্পীদের নাম।
  • ভাননুনসিয়াম বমের গীতিনাট্য “বম খভেল লা”-র বিষয়বস্তু ও প্রকাশকাল।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. জির কুং সাহু, “বম আদিবাসীদের লোকসংগীত ও লোকনৃত্য”, জুমজার্নাল (প্রকাশ 2021) — গানের তিন শ্রেণি, রিরৎ-মিমীম-জলপাল, রোখা, সাবাংরুয়াই, লাদৌ, সিয়া কী দেং, সালু লাম, বিয়ের গান। লিংক
  2. জির কুং সাহু, “বম জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল (প্রকাশ 2021) — উৎপত্তির গীত, লুসাই ধর্মীয় সংগীত থেকে বম ভাষায়, Kawhmi Arfi, গীতিকা হারিয়ে যাওয়া। লিংক
  3. জির কুং সাহু, “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ”, জুমজার্নাল (প্রকাশ 2017) — চার্চই ভাষা টিকিয়ে রাখছে। লিংক
  4. সুগত চাকমা, বাংলাদেশের উপজাতি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা; প্রথম প্রকাশ 1985, পুনর্মুদ্রণ 2000 — বম অধ্যায়, পৃ. 61–63 (রুমায় গিটার বাজিয়ে গান, “সানু” তাড়ানো)। জুমজার্নাল ই-বুক লাইব্রেরি। লিংক
  5. জুমজার্নাল মিউজিক — জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিভাগ, “BAWM SONG” (নভেম্বর 2026-এ খালি)। লিংক

বম লেখক ও গির্জার উৎস

  1. S. Loncheu, “The Bawm Indigenous People”, Bawm Literature Forum, bawm.info (2004; ইন্টারনেট আর্কাইভের কপি) — সাত গান, সাত নাচ, 1958, হিমের বই, La bute। লিংক
  2. Rev. Thimkhup Buiting, “The Advent of Christianity among the Bâwms”, bawm.info (2004; ইন্টারনেট আর্কাইভের কপি) — 1918 সালে Edwin Rowlands। লিংক
  3. Sangrem Mawi Hernandez, “The History of Bawm Christianity”, ilearnisharebysangrem.com (2 মে 2026) — 1954 সালের হিম, অনুবাদকদের নাম, Rowlands-এর প্রায় 90টি মিজো হিম, 2022-এর ব্যাঘাত। লিংক

ঐতিহাসিক ও বিশ্বকোষীয় উৎস

  1. R.H.S. Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts, Bengal Secretariat Book Depot, কলকাতা, 1906 — বম অন্ত্যেষ্টির শোকগাথা। ইন্টারনেট আর্কাইভ
  2. Wolfgang Mey (সম্পা.), J.P. Mills and the Chittagong Hill Tracts, 1926/27, 2009 — Mills-সংগ্রহের বস্তুতালিকা। ইন্টারনেট আর্কাইভ
  3. সাদাত উল্লাহ খান, “বম”, বাংলাপিডিয়া (বাংলা) — বাঁশনৃত্য শোকের দিনে, 1966 সালে 86% খ্রিষ্টান। লিংক
  4. Sadat Ullah Khan, “Bawm, The”, Banglapedia (ইংরেজি)। লিংক
  5. “Edwin Rowlands”, ইংরেজি উইকিপিডিয়া — 96টি টিকে থাকা মিজো হিম, Kristian Hla Bu। লিংক
  6. Rolf Killius, “Instruments in Bangladesh”, rolfkillius.com — MIM ফিনিক্সের জন্য চাকমা, ম্রো ও বম যন্ত্র সংগ্রহ। লিংক
  7. Moheen Reeyad, “Bawm Musical Instruments and Baskets at Ethnological Museum (01).jpg”, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY-SA 4.0 (ছবি 1 অক্টোবর 2012)। লিংক
  8. Joshua Project, “Bawm in Bangladesh” — তিনটি বার্ষিক উৎসবে গান ও নাচ। লিংক

সংবাদপত্র

  1. Ahsan Habib, “A modern celebration of indigenous culture: Dance performances by Bandarban hill people”, দ্য ডেইলি স্টার, 28 জুলাই 2007 — Shiakidong, Rogha Lang, বম ধর্মীয় গান। লিংক
  2. “First-ever history of Bom ethnic group being written”, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, 6 অক্টোবর 2007 (bdnews24-এর সূত্রে) — Jumlian Amlai-র বক্তব্য। লিংক
  3. “Indigenous fest in Bandarban”, দ্য ডেইলি স্টার, 13 মে 2014। লিংক
  4. “বান্দরবানে বমদের নবান্ন উৎসব”, বাংলা ট্রিবিউন, 10 সেপ্টেম্বর 2017। লিংক
  5. “ইমন চৌধুরী on how he bet on ‘Baaji'”, দ্য ডেইলি স্টার, 25 আগস্ট 2025। লিংক
  6. “Baaji: Celebrating Bangladesh’s Musical Heritage Through Coke Studio”, প্রথম আলো ইংরেজি, 16 সেপ্টেম্বর 2025। লিংক
  7. Shaila Shobnam, “The Bawm language at a crossroads”, দ্য ডেইলি স্টার, 21 ফেব্রুয়ারি 2026 — Lalrithang Bawm, Zem Laltharngak Bawm, Pastor Sawn Thuang Loncheu। লিংক
  8. বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, “বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে বম লোককাহিনি ও রূপকথা সংগ্রহ করে চলেছেন ভাননুনসিয়াম বম”, প্রথম আলো, 28 ফেব্রুয়ারি 2026। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:বম, বম জাতি, বম লোকসংগীত, লোকনৃত্য, লোকসংগীত

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা