Jumjournal Logo

কুকি-চিন ভাষা: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া — শ্রেণিবিন্যাস, লিপি, বাইবেল ও বিপন্নতা

Last updated Nov 3rd, 2026

0

পুরনো ছাপা বইয়ের পাতা: শিরোনামে লেখা Grammar and Dictionary of the Lushai Language, নিচে রোমান হরফে লুসাই বর্ণমালার তালিকা ও প্রতিটি অক্ষরের উচ্চারণ

বাংলাদেশে কুকি-চিন ভাষা পাঁচটি: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া (পাংখুয়া)। পাঁচটিই চীনা-তিব্বতি পরিবারের কুকি-চিন শাখার, কিন্তু একই উপশাখার নয় — বম, লুসাই ও পাংখোয়া কেন্দ্রীয় দলে, খুমি ও খিয়াং দক্ষিণ বা প্রান্তিক দলে। শব্দের মিল এত কম যে SIL-এর জরিপ পাঁচটিকেই আলাদা ভাষা ধরেছে; চারটি রোমান হরফে লেখা হয়, আর খিয়াংদের এখন নিজস্ব একটি লিপি আছে।

2007 সালের অক্টোবর থেকে 2008 সালের জানুয়ারির মধ্যে SIL বাংলাদেশের তিন গবেষক — অ্যামি কিম, পলাশ রায় ও মৃদুল সাংমা — থানচির মাংলুং হেডম্যান পাড়া থেকে সাজেকের কংলাক পর্যন্ত নয়টি গ্রামে 306টি শব্দের একই তালিকা নিয়ে ঘুরেছিলেন। ফল দাঁড়াল এরকম: বম আর লুসাইয়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেক শব্দ মেলে, খুমি আর খিয়াংয়ের মধ্যে দশটিতে একটিরও কম, আর পাঁচ ভাষার কোনোটির সঙ্গেই বাংলার মিল 3 শতাংশের বেশি নয়।

এই লেখায় পাঁচটি ভাষাকে ভাষা হিসেবে পাশাপাশি রাখা হলো — কোন ক্যাটালগ কোন শাখায় রাখে, কোড কী, কতজন বলেন কোন উৎসের হিসাবে, কোন হরফে লেখা হয়, কোন ভাষায় কবে বাইবেল এসেছে, পাঠ্যবই আছে কি না, আর কোন তালিকা কোন ভাষাকে কতটা বিপন্ন বলে। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সমাজ ও প্রথা আছে আলাদা লেখায় — খুমি জনগোষ্ঠী, খিয়াং জনগোষ্ঠী, লুসাই জনগোষ্ঠী ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের লেখায়; সেগুলো এখানে আর বলা হয়নি।

সূচিপত্র

  1. কুকি-চিন ভাষা কী, আর বাংলাদেশে কোন পাঁচটি
  2. এক নজরে পাঁচ ভাষা: কোড, শাখা, লিপি, বাইবেল
  3. শ্রেণিবিন্যাস: Glottolog আর SIL কোথায় মেলে, কোথায় মেলে না
  4. পাঁচ ভাষায় শব্দের মিল কত: SIL-এর 306 শব্দের ছক
  5. কে কার ভাষা বোঝেন, আর কে বোঝেন না
  6. বম ভাষা: চার্চ, প্রাইমার আর সমাজের নিজের স্কুল
  7. খুমি ভাষা: দুই দেশের এক ভাষা, তিন রকম বানান
  8. খিয়াং ভাষা: আশো চিনের উপভাষা, নাকি আলাদা ভাষা
  9. লুসাই ভাষা: মিজোরামে রাজ্যভাষা, বাংলাদেশে একটি পাড়া
  10. পাংখোয়া ভাষা: নিজের ভাষা, পড়ার বই অন্যের ভাষায়
  11. কোন ভাষা কোন হরফে লেখা হয়
  12. কোন ভাষায় কবে বাইবেল অনূদিত হয়েছে
  13. পাঠ্যবই ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: সরকারি তালিকায় পাঁচটির একটিও নেই
  14. কুকি-চিন ভাষা কতটা বিপন্ন: পাঁচ তালিকার পাঁচ রায়
  15. কতজন এই ভাষাগুলো বলেন: শুমারির জনসংখ্যা আর ভাষাভাষী এক নয়
  16. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

কুকি-চিন ভাষা কী, আর বাংলাদেশে কোন পাঁচটি

কুকি-চিন হলো চীনা-তিব্বতি (তিব্বতি-বর্মী) ভাষাপরিবারের একটি শাখা, যার ভাষাগুলো মূলত মিয়ানমারের চিন রাজ্য, ভারতের মিজোরাম-মণিপুর আর বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বলা হয়। SIL International-এর 2011 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে এই শাখার পাঁচটি ভাষা: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া।

প্রতিবেদনটির নাম The Kuki-Chin Communities of Bangladesh: A sociolinguistic survey; মূল লেখা বাংলায় মৃদুল সাংমার, ইংরেজি অনুবাদ অংশত অ্যামি কিমের। জরিপের পাঁচটি লক্ষ্যের প্রথমটিই ছিল জানা — বাংলাদেশে আসলে কোন কোন কুকি-চিন ভাষা আছে। উত্তর হিসেবে প্রতিবেদন Gordon (2005)-এর শ্রেণিবিন্যাস ধরে এই পাঁচটির নাম দেয়, আর প্রথম পাতাতেই স্পষ্ট করে: পাঁচটি ভাষা একই পরিবারের হলেও একই শাখা-উপশাখার নয়।

জুমজার্নালের আর্কাইভে বম লেখক জির কুং সাহুর লেখা “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ”-ও একই কথা বলে, নিজের ভাষায়: বম ভাষা “ভোট-বর্মী দলভুক্ত কুকি-চিন” উপবিভাগের, আর এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষেরা “বিভিন্ন পরিচয়ে” পার্বত্য চট্টগ্রাম, মিয়ানমারের চিন রাজ্য ও আরাকান এবং ভারতের মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও আসামে থাকেন। সীমান্তের ওপারের এই ভাষাপরিবারের রাজনৈতিক ছবি আছে নাগা ও মিজো জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের লেখায়।

একটি বিষয় শুরুতেই আলাদা করে রাখা দরকার। SIL-এর প্রতিবেদন লেখে, পার্বত্য চট্টগ্রামের এগারোটি জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগের ভাষা চীনা-তিব্বতি পরিবারের, কিন্তু তার মধ্যে কুকি-চিন শাখায় পড়ে কেবল এই পাঁচটি। তাই “পাহাড়ের তিব্বতি-বর্মী ভাষা” আর “কুকি-চিন ভাষা” সমার্থক নয়। পাহাড়ের সব ভাষার সার্বিক ছবি আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে আমাদের মূল লেখায়; এই লেখা তার একটি অংশ।

এক নজরে পাঁচ ভাষা: কোড, শাখা, লিপি, বাইবেল

নিচের ছকে পাঁচটি ভাষার মূল পরিচয়পত্র একসঙ্গে। ISO 639-3 কোড আর Glottolog কোড দুটি আন্তর্জাতিক ক্যাটালগের; “শাখা” কলামে Glottolog-এর শ্রেণিবিন্যাস। বাইবেলের সাল আর বিপন্নতার মূল্যায়ন উৎসভেদে আলাদা, তাই সেগুলোর পূর্ণ হিসাব নিচের আলাদা অংশে।

ভাষা ISO 639-3 Glottolog শাখা (Glottolog) লেখার হরফ পূর্ণ বাইবেল
বম bgr bawm1236 কেন্দ্রীয় › লাই চিন › ফালামিক রোমান 1989 (বিতরণ 1992)
খুমি cnk khum1248 প্রান্তিক › খোমিক রোমান; ক্রামা অনুসারীদের মধ্যে ম্রো লিপি 2014 (মিয়ানমার)
খিয়াং csh (আশো চিন) khya1239, আশো চিনের উপভাষা দক্ষিণ প্রান্তিক › আশোয়িক নিজস্ব হোয়ো লিপি (2017) আশো ভাষায় 2008 (মিয়ানমার)
লুসাই lus lush1249 (Mizo) কেন্দ্রীয় › মিজোইক রোমান 1959 (মিজো)
পাংখোয়া pkh pank1249 কেন্দ্রীয় (মূল কেন্দ্রীয়) রোমান (লুসাই বর্ণমালা) নেই; সুসমাচার ও অংশবিশেষ

উৎস: Glottolog (bawm1236, khum1248, asho1236, khya1239, lush1249, pank1249); SIL 2011; বাইবেলের সাল নিচের “বাইবেল” অংশের উৎসগুলো থেকে।

ছকের দুটি ঘর বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। খিয়াংয়ের নিজের কোনো ISO কোড নেই — আন্তর্জাতিক ক্যাটালগে এটি মিয়ানমারের আশো চিন ভাষার একটি উপভাষা হিসেবে আছে, যা নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে আপত্তিও আছে (নিচে খিয়াং অংশ দেখুন)। আর খুমি ও খিয়াংয়ের বাইবেল-ঘরে যে সাল আছে, সেগুলো মিয়ানমারের সংস্করণের; বাংলাদেশের খিয়াংদের নিজেদের উপভাষায় পূর্ণ অনুবাদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রেণিবিন্যাস: Glottolog আর SIL কোথায় মেলে, কোথায় মেলে না

দুটি উৎসই পাঁচটি ভাষাকে দুই ভাগে ফেলে: বম, লুসাই ও পাংখোয়া এক দিকে (কেন্দ্রীয় কুকি-চিন), খুমি ও খিয়াং অন্য দিকে। পার্থক্য নামকরণে আর ভেতরের স্তরে — SIL দ্বিতীয় দলটিকে বলে “দক্ষিণ”, Glottolog বলে “প্রান্তিক” (Peripheral); আর বমকে Glottolog কেন্দ্রীয় দলের ভেতরে লাই চিনের নিচে ফালামিক উপদলে রাখে, যা SIL-এর ছকে নেই।

SIL 2011-এর গাছ

SIL-এর প্রতিবেদনের দ্বিতীয় চিত্রে গাছটি এরকম: চীনা-তিব্বতি › তিব্বতি-বর্মী › কুকি-চিন-নাগা › কুকি-চিন, তারপর দুই ভাগ — কেন্দ্রীয় (Chin, Bawm; Pangkhua; Mizo বা Lushai) আর দক্ষিণ। দক্ষিণের ভেতরে আবার দুটি উপশাখা: “খুমি” (Chin, Khumi) আর “শো” (Chin, Asho — বাংলাদেশে খিয়াং)। প্রতিবেদন লেখে, কেন্দ্রীয় তিনটির মধ্যে আর কোনো উপশাখা নেই; দক্ষিণের দুটি একে অপরের থেকে আলাদা উপশাখায় বলে খুমি আর খিয়াংয়ের শব্দমিল মাত্র 8–11 শতাংশ।

Glottolog-এর গাছ

ভাষাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ক্যাটালগ Glottolog পাঁচটিকে এভাবে রাখে:

  • বম (Bawm Chin): Kuki-Chin › Central Kuki-Chin › Core Central Kuki-Chin › Lai Chin › Falamic।
  • পাংখোয়া (Pangkhua): Kuki-Chin › Central Kuki-Chin › Core Central Kuki-Chin — এর নিচে আর কোনো দলে নয়।
  • লুসাই (Mizo): Kuki-Chin › Central Kuki-Chin › Core Central Kuki-Chin › Mizoic; এর নিচে উপভাষা হিসেবে Lusei, Ralte, Fannai, Ngente, Tlau ও Le।
  • খুমি (Khumi Chin): Kuki-Chin › Peripheral Kuki-Chin › Khomic; নিচে নয়টি উপভাষা।
  • খিয়াং (Khyang): Kuki-Chin › Peripheral Kuki-Chin › South Peripheral Kuki-Chin › Ashoic › Asho Chin-এর একটি উপভাষা। একই আশো চিনের নিচে আছে “Chittagong” নামে আরেকটি উপভাষা।

বম ও পাংখোয়ার পাতায় Glottolog উপশাখার মন্তব্যের উৎস হিসেবে ভাষাবিদ ডেভিড এ পিটারসনের (David A. Peterson, 2017) ও কেনেথ ভ্যানবিকের (Kenneth VanBik, 2006) কাজ দেখায়; খুমি ও আশো চিনের পাতায় হেলগা সো-হার্টম্যানের (Helga So-Hartmann, 2009) কাজ।

যেখানে ঐকমত্য নেই

দুটি জায়গায় ভাষাবিদেরা ভিন্নমত দিয়েছেন। প্রথমটি খিয়াং: ভাষাবিদ মুহাম্মদ জাকারিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের তথ্য ধরে যুক্তি দিয়েছেন হিয়ো (খিয়াং) ভাষাকে আশোর অধীনে না রেখে খুমি ও চো-আশোর সঙ্গে এক দলে রাখা উচিত — বিস্তারিত আছে খিয়াং জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের লেখায়। দ্বিতীয়টি পাংখোয়া: ভাষাবিদ জাহিদ আকতারের প্রবন্ধের একটি মূল দাবি, কেন্দ্রীয় দলের ভেতরে পাংখোয়ার অবস্থান যতটা স্পষ্ট ভাবা হয় ততটা নয় — যা Glottolog-এর ছকেও প্রতিফলিত, কারণ সেখানে পাংখোয়া কোনো উপদলে নেই।

একটি তৃতীয় জটিলতাও আছে, যা নাম থেকে আসে। Glottolog বম ভাষাকে “Bawm Chin” আর খুমিকে “Khumi Chin” বলে; “চিন” শব্দটি এখানে ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষা, জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় নয়। জির কুং সাহুর লেখায় বম লেখকেরা নিজেদের “জো জাতির” অংশ বলেন; লেখাটি জানায়, লেউইন, গ্রিয়ারসন, হাচিনসনসহ পুরনো লেখকেরা ভাষার বিচারে বমদের “কুকী” বা “চীন” বলেছিলেন।

পাঁচ ভাষায় শব্দের মিল কত: SIL-এর 306 শব্দের ছক

SIL-এর জরিপে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর দুটি গ্রাম থেকে 306টি মৌলিক শব্দ নেওয়া হয়, মোট দশটি তালিকা; সঙ্গে মিয়ানমারের একটি খুমি তালিকা আর একটি বাংলা তালিকা। কেন্দ্রীয় তিন ভাষার মধ্যে মিল 30–47 শতাংশ, দক্ষিণের দুটির মধ্যে 8–11, আর দুই দলের মধ্যে 7–12 শতাংশ। প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত: পাঁচটিকেই আলাদা ভাষা ধরতে হবে।

পুরো ছকটি আমাদের কোনো লেখায় আগে আসেনি (পাংখোয়া লেখায় কেবল পাংখোয়ার সারিগুলো আছে)। নিচে প্রতিটি জোড়ার জন্য গ্রামভিত্তিক সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ মিল দেওয়া হলো।

ভাষার জোড়া শব্দে মিল (%) কোন গ্রামের তালিকা
লুসাই — লুসাই 91 বেথেল পাড়া (রুমা) ও মাহমুয়াম পাড়া (সাজেক)
পাংখোয়া — পাংখোয়া 88 বিলাইছড়ি ও কংলাক
বম — বম 84 বেথেল পাড়া ও যমুনাছড়ি (বিলাইছড়ি)
খুমি — খুমি 82 মাংলুং হেডম্যান পাড়া (থানচি) ও প্রংফুং পাড়া (রুমা)
খিয়াং — খিয়াং 78 বড় কুকিয়াছড়ি (রাজস্থলী) ও গুংগুরুমুখ পাড়া (বান্দরবান সদর)
বাংলাদেশের খুমি — মিয়ানমারের খুমি 68–72 দুই খুমি গ্রাম বনাম মিয়ানমারের একটি তালিকা
বম — লুসাই 46–47 চারটি তালিকা
পাংখোয়া — বম 36–41 চারটি তালিকা
পাংখোয়া — লুসাই 30–33 চারটি তালিকা
খুমি — খিয়াং 10–11 চারটি তালিকা
খিয়াং — কেন্দ্রীয় তিনটি 7–12 —
খুমি — কেন্দ্রীয় তিনটি 7–8 —
পাঁচটির যেকোনোটি — বাংলা 1–3 মানক বাংলা তালিকা

উৎস: Kim, Roy ও Sangma, SIL Electronic Survey Report 2011-025, Figure 6। মিয়ানমারের খুমি তালিকাটি 2002-এর পরে আরেক ভাষাবিদের সংগ্রহ (প্রতিবেদনে হেলগা সো-হার্টম্যানের ব্যক্তিগত যোগাযোগ উল্লেখ আছে); তাতে 306টির সবকটি শব্দ ছিল না।

এই সংখ্যাগুলো পড়ার সময় দুটি কথা মনে রাখা দরকার। প্রথমত, এগুলো শব্দের চেহারার মিল, পুরো ভাষা বোঝার মাপ নয় — 46 শতাংশ মিল মানে বম ও লুসাইভাষী একে অপরকে অর্ধেক বোঝেন, এমন নয়। প্রতিবেদন নিজেই লেখে, কেন্দ্রীয় তিন ভাষার যেকোনো একটির বক্তাকে ভালোভাবে বুঝতে হলে বাকি দুটি শিখে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলার সঙ্গে 1–3 শতাংশ মিলকে প্রতিবেদন ব্যাখ্যা করে এভাবে — এই ভাষাগুলোতে বাংলা থেকে ধার করা শব্দ “ন্যূনতম”। এর সঙ্গে আর্কাইভের বম লেখকের অভিযোগ মেলে না: জির কুং সাহু লেখেন, বাংলা শব্দের আধিক্য ছাড়া বম ভাষায় কথা বলা “যেন এখন রীতিমত কষ্টকর”। একটি হলো 306টি মৌলিক শব্দের তালিকা, অন্যটি দৈনন্দিন কথাবার্তার পর্যবেক্ষণ — দুটি আলাদা জিনিস মাপে।

উপভাষার দিক থেকেও পাঁচটি ভাষা আলাদা আচরণ করে। লুসাই ও পাংখোয়ার ভেতরে বড় আঞ্চলিক পার্থক্য পাওয়া যায়নি। বমের দুই গ্রামের মধ্যে 84 শতাংশ মিল, আর প্রশ্নমালায় 21 জনের 12 জন আঞ্চলিক পার্থক্যের কথা বললেও সবাই জানান তাঁরা অন্য অঞ্চলের বম পুরোটা বোঝেন। খিয়াংয়ে পার্থক্য সবচেয়ে বেশি — পাহাড়ের কংতু আর সমতলের লাইতু উপভাষার মিল 78 শতাংশ।

কে কার ভাষা বোঝেন, আর কে বোঝেন না

কেন্দ্রীয় তিন ভাষার বক্তারা একে অপরের ভাষা কিছুটা বোঝেন, বিশেষত যেখানে প্রতিবেশী; কিন্তু খুমি, খিয়াং ও লুসাই উত্তরদাতাদের বেশির ভাগ বলেছেন মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো কুকি-চিন ভাষা তাঁদের কাছে “একটুও সহজ” নয়। SIL-এর সিদ্ধান্ত: এই তিন জনগোষ্ঠী অন্য কোনো কুকি-চিন ভাষার বই ব্যবহার করতে পারবে না।

SIL-এর প্রশ্নটি ছিল: বম, খুমি, লুসাই, খিয়াং, পাংখোয়া ও ম্রোর মধ্যে (নিজেরটি বাদে) কোনটি বুঝতে সবচেয়ে সহজ? উত্তরগুলো ভূগোলের সঙ্গে মিলে যায়:

  • বেথেল পাড়ার বম (রুমা): 11 জনের 7 জন বলেছেন লুসাই। প্রতিবেদন সতর্ক করে, এর মানে এই নয় যে তাঁরা লুসাই বই পড়ে বুঝতে পারবেন।
  • যমুনাছড়ির বম (বিলাইছড়ি): 10 জনের 9 জন বলেছেন পাংখোয়া — কারণ প্রতিবেশী পাংখোয়া।
  • বিলাইছড়ির পাংখোয়া: 11 জনের 4 জন লুসাই, 7 জন বম। যাঁরা লুসাই বলেছেন তাঁদের তিনজন শিক্ষিত, যাঁরা লুসাই ভাষার খ্রিস্টীয় বই পড়েন; যাঁরা বম বলেছেন তাঁদের পাঁচজন অশিক্ষিত।
  • কংলাকের পাংখোয়া (সাজেক): লুসাইয়ের কাছাকাছি থাকায় নিজের ভাষার মতোই লুসাই বোঝেন; এমনকি নিয়মিত পাংখোয়া আর মাতৃভাষা হিসেবে বলেন না।
  • খুমি, খিয়াং ও লুসাই: বেশির ভাগ বলেছেন, অন্য কোনো কুকি-চিন ভাষা তাঁদের কাছে সহজ নয়।

আর্কাইভের বম লেখকের বর্ণনা এই ছবিতে আরেকটি মাত্রা যোগ করে — মিজোরামের মিজো ভাষা। জির কুং সাহু লেখেন, বমরা মিজো ভাষা “৭০/৮০ শতাংশ” বোঝেন, মিজোরামের গান বমদের “মুখে মুখে থাকে”, আর মিজো ভাষা বাংলাদেশের বম, পাংখোয়া ও লুসাই সবাই কম-বেশি বোঝেন; তাঁর ভাষায় এটিই “বর্তমানে আমাদের LINGUA FRANCA”। SIL-এর শব্দ-তালিকার হিসাব (বম-লুসাই 46–47 শতাংশ) এই দাবির চেয়ে কম মিল দেখায়, কিন্তু দুটি এক জিনিস মাপে না: একটি মৌলিক শব্দের মিল, অন্যটি গান, বাইবেল ও যাতায়াতের মধ্য দিয়ে শেখা বোঝাপড়া।

খুমিদের ক্ষেত্রে সীমান্তের ওপারের বোঝাপড়াই বেশি। SIL-এর গবেষকেরা একবার বাংলাদেশের এক তরুণ খুমি আর সদ্য মিয়ানমার থেকে আসা এক তরুণ খুমির কথোপকথনে উপস্থিত ছিলেন; প্রতিবেদন অনুযায়ী দুজন সহজেই কথা বলছিলেন, আর মিয়ানমারে ছাপা খুমি বইয়ের অংশ পড়ে শোনালে উপস্থিত প্রত্যেক খুমি বলেন তাঁরা সবটা বুঝেছেন। সেই সঙ্গে 68–72 শতাংশ শব্দমিল ধরে প্রতিবেদনের মত: মিয়ানমারের খুমি সাহিত্য বাংলাদেশের খুমিরা সরাসরি বা কিছু পরিমার্জন করে ব্যবহার করতে পারবেন।

দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে কে কী বলেন, তা নির্ভর করে প্রতিবেশীর ওপর। SIL-এর প্রশ্নমালায় খুমিদের 90 শতাংশ মারমা বলতে পারেন বলেছেন, বাংলা 62 শতাংশ; লুসাইদের 90 শতাংশ ত্রিপুরা, কারণ মাহমুয়াম পাড়ার সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ত্রিপুরা; পাংখোয়াদের 91 শতাংশ বম। কিন্তু প্রতিবেদনের সামগ্রিক রায় হলো, পাঁচ জনগোষ্ঠীর কোনোটিরই বাংলা বা প্রতিবেশী ভাষায় এতটা দক্ষতা নেই যে সেই ভাষার লিখিত বা মৌখিক সাহিত্য ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।

বম ভাষা: চার্চ, প্রাইমার আর সমাজের নিজের স্কুল

বম ভাষা (ISO bgr) পাঁচটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিখিত। এটি রোমান হরফে লেখা হয়; প্রথম বর্ণমালা-শিক্ষার বই বেরোয় 1952 সালে, পূর্ণ বাইবেলের অনুবাদ শেষ হয় 1989-এ, আর SIL-এর 2007–08 জরিপে পাঁচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেবল বমদেরই নিজেদের চালানো মাতৃভাষা-শিক্ষা কার্যক্রম পাওয়া যায়।

লেখার ইতিহাস

জির কুং সাহুর হিসাবে খ্রিস্টান মিশনারিরা আসার আগে বম, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না। 1894 সালে মিশনারি জে. এইচ. লরেইন ও এফ. ডব্লিউ. সেভিজ রোমান হরফ অনুসরণে লুসাই বর্ণমালা তৈরি করেন; মিজোরাম থেকে আসা লুসাই প্রচারকেরা সেটি বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে চালু করেন। বর্ণমালাটি বমদের কাছে পৌঁছায় “সম্ভবত ১৯২০ সালের পরবর্তী কালে”; 1929 সালে দুজন বম (Kualthang ও Ngun Khar) মিজোরামের সিরতে গ্রামে পড়তে যান, আর লেখকের জানা মতে তাঁরাই বমদের মধ্যে প্রথম বর্ণমালা-জানা মানুষ। 1932 সালে রোয়াংছড়ির পানখ্যাং গ্রামে প্রথম বম স্কুল খোলে, যেখানে মিজোরাম থেকে আনা মিজো/লুসাই পাঠ্যবই পড়ানো হতো।

বম ভাষার নিজের বই এসেছে পরে। 1948 সালে বম সমাজ প্রথাগত আইনের পুস্তিকা Bawm Dan Bu ছাপে, আর 1952 সালে বর্ণমালা শেখার বই Bawm Bu Bul Bu — জির কুং সাহুর লেখা অনুযায়ী। দ্য ডেইলি স্টারে 2026 সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত শায়লা শবনমের লেখাও 1952 সালের একটি প্রাইমারের কথা বলে — The Bawm Primer Book, লিখে প্রকাশ করেন রেভারেন্ড এল. ডলান — এবং লেখে, তখন থেকে শিশুরা সানডে স্কুলে এটি পড়ে আসছে। দুটি নাম একই বইয়ের কি না, কোনো উৎস স্পষ্ট করে বলে না; সাল একই।

বর্ণমালা

জির কুং সাহুর হিসাবে বম বর্ণমালায় 25টি বর্ণ — 5টি স্বরবর্ণ ও 20টি ব্যঞ্জনবর্ণ — আর এর মধ্যে “J”-এর কোনো ব্যবহার নেই। এখানে একটি তুলনা লক্ষ করার মতো: আমাদের পাংখোয়া লেখায় আর্কাইভের পাংখোয়া লেখকের দেওয়া বর্ণমালার তালিকায় J আছে। একই উৎস থেকে আসা দুই ভাষার বর্ণমালাও তাই হুবহু এক নয়।

বাইবেল, পত্রিকা ও অভিধান

আমাদের পাহাড়ে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস নিয়ে লেখায় গির্জার একটি সংকলন ধরে অনুবাদের ধাপগুলো আছে: 1953 সালে মথির সুসমাচার, 1956–1976 সালে নূতন নিয়ম, 1989 সালে পূর্ণ বাইবেল, আর সরকারি অনুমতির পর 1992 সালে বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির মাধ্যমে বিতরণ। বাইবেল সংস্থাগুলোর যৌথ তালিকা find.bible-এ বম ভাষার তিনটি সংস্করণ আছে: The Holy Bible in Bawm (Pathian lasuibû thenhlimh, 1989), বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির 2004 সালের Bawm Common Language Bible, আর 2006 সালের একটি সংস্করণ — তিনটিই রোমান হরফে।

জির কুং সাহু আরও জানান, বম ভাষায় দুটি পত্রিকা বের হয় (একটি মাসিক, একটি ত্রৈমাসিক), আর “আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন” Dr. Lorenz Loffler-এর সহযোগিতায় সম্পাদিত একটি অভিধান আছে। ভাষাটির সবচেয়ে বিস্তৃত ব্যাকরণগত বিবরণ হিসেবে Glottolog দেখায় ভেরেনা রাইখলের (Verena Reichle) 1981 সালের 135 পৃষ্ঠার Bawm Language and Lore। SIL-এর প্রতিবেদনও লেখে, বম ভাষায় অভিধান, ধর্মীয় সাহিত্য ও বম ইতিহাসের বই আছে, আর ভাষাটি “fairly developed”।

সমাজের নিজের স্কুল

SIL-এর জরিপের সময় বমদের প্রতিটি গ্রামে একটি মাতৃভাষা-শিক্ষা কেন্দ্র ছিল, প্রতিবেদনের ভাষায় “largely through their own efforts”; বম সমাজের সদস্যেরা গবেষকদের জানান, এর ফলে বম শিশুরা নিজের ভাষার বই স্বাধীনভাবে পড়তে পারে। জির কুং সাহুর ছবিটা অবশ্য কম আশাব্যঞ্জক: বর্ণমালার প্রাথমিক বই (Bawm Premier) পরিবার, গির্জা বা পাড়াভিত্তিক উদ্যোগে পড়ানো হলেও “পাড়ায় পাড়ায় বম ভাষা পড়ানোর উদ্যোগ আর নেই”, আর “আজকাল অধিকাংশ বম ছেলেমেয়েরা বম ভাষায় লেখা পড়তে পারে না।” একই লেখায় অন্য জায়গায় তিনি বলেন, বমদের শতকরা 80 জন নিজ ভাষায় লেখাপড়া জানেন; দাবিটি কোন জরিপ থেকে, লেখায় নেই। আর্কাইভের লেখাটির তারিখও দেওয়া নেই, তাই SIL-এর 2007–08 সালের পর্যবেক্ষণের আগে না পরে, বলা যায় না।

দ্য ডেইলি স্টারের 2026 সালের লেখায় বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি লালরিথাং বমের মত হিসেবে আছে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে আগামী দুই-তিন দশকে ভাষাটি গুরুতরভাবে ক্ষয়ে যেতে পারে। লেখাটি আরও জানায়, তরুণেরা শহর ও পর্দার প্রভাবে সরল বম বলেন, বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে, আর বাগধারা, প্রবাদ ও আনুষ্ঠানিক ভাষা কমে আসছে। বম সমাজের ইতিহাস ও প্রথা নিয়ে আর্কাইভের বম জাতির আদ্যোপান্ত আর বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ লেখা দুটি পড়া যায়।

খুমি ভাষা: দুই দেশের এক ভাষা, তিন রকম বানান

খুমি ভাষার (ISO cnk) বেশির ভাগ বক্তা মিয়ানমারে; বাংলাদেশের খুমিরা একই ভাষার একটি প্রান্ত। ভাষাটি রোমান হরফে লেখা হয়, পূর্ণ বাইবেল আছে মিয়ানমারে 2014 সাল থেকে, কিন্তু SIL-এর জরিপে পাঁচটির মধ্যে খুমিকেই “সম্ভবত সবচেয়ে কম প্রাণবন্ত” বলা হয়েছে।

কতজন, কোথায়

ইংরেজি উইকিপিডিয়ার খুমি ভাষার নিবন্ধ Ethnologue-এর বরাতে সব দেশ মিলিয়ে প্রায় 74,090 জন বক্তার কথা বলে (2006–2009)। খ্রিস্টান মিশন-তথ্যভান্ডার Asia Harvest-এর খুমি-পরিচিতি মিয়ানমারে প্রায় 67,000 আর বাংলাদেশে 4,000 খুমির কথা লেখে। বাংলাদেশের জন্য ভাষাবিদ ডেভিড পিটারসনের হিসাব প্রায় 2,000 বক্তা, যা আমাদের খুমি জনগোষ্ঠী লেখায় বিস্তারিত আছে। Glottolog খুমির নিচে নয়টি উপভাষার নাম রাখে, আর উইকিপিডিয়া লেখে খুমির সঙ্গে পূর্ব খুমির শব্দমিল 75–87 শতাংশ, ম্রো-খিমির সঙ্গে 78–81।

হরফ ও বানান: তিনটি ধারা

খুমি লেখার রোমান বর্ণমালার জন্ম মিয়ানমারে, আর কার হাতে — উৎস দুটি দুই কথা বলে। উইকিপিডিয়ার মিশনারি এডউইন রোল্যান্ডসের জীবনী লেখে, তিনি 1925 সালে খুমি বর্ণমালা তৈরি করেন; উইকিপিডিয়ার খুমি ভাষার নিবন্ধ লেখে, লিখিত রূপটি তৈরি করেন ই. ডব্লিউ. ফ্রান্সিস, 1930 থেকে 1949 সালের মধ্যে।

দ্বিতীয় ধারা বাংলাদেশের নিজস্ব। পিটারসন লেখেন, বার্মার দিকের বানানরীতি বাংলাদেশের খুমিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জানা নয়, আর বাংলাদেশের খুমিতে এমন কিছু ধ্বনিভেদ আছে যা বর্মি খুমিতে নেই — তাই তিনি ও তাঁর খুমি সহকর্মীরা আলাদা একটি বানানরীতি তৈরি করেছিলেন। তৃতীয় ধারা ধর্মের সঙ্গে জড়িত: 2004 সালের “লাঙ” সংকলনের ছক অনুযায়ী ক্রামা ধর্মের অনুসারী খুমিরা ক্রামা বর্ণমালা, অর্থাৎ ম্রো লিপি, ব্যবহার করেন। বাংলাপিডিয়া অবশ্য সোজাসুজি লেখে খুমি ভাষার “no alphabets”।

বাইবেল

Asia Harvest-এর হিসাবে খুমি ভাষায় বাইবেলের প্রথম অংশ অনূদিত হয় 1935 সালে, নূতন নিয়ম 1959-এ, পূর্ণ বাইবেল 2014-এ। find.bible-এ মিয়ানমার বাইবেল সোসাইটির 2005 সালের একটি সাধারণ-ভাষার (Common Language) খুমি সংস্করণও আছে, রোমান হরফে। এগুলো মিয়ানমারের খুমির জন্য তৈরি; SIL-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের খুমিরা সেগুলো বুঝতে পারেন বলে মনে হয়।

প্রাণশক্তি

SIL-এর প্রশ্নমালায় প্রতিটি খুমি উত্তরদাতা বলেছেন খুমিই তাঁদের সবচেয়ে ভালো ভাষা, আর শিশুরাও প্রথমে খুমিই শেখে। কিন্তু তিরিশ বছর পর শিশুরা কোন ভাষা বলবে — এই প্রশ্নে 21 জনের 9 জন বলেছেন বাংলা, 8 জন খুমি। খুমিরাই একমাত্র জনগোষ্ঠী যাঁরা বাজারে বাংলার চেয়ে মারমা বেশি বলেন; 21 জনের 17 জনের দ্বিতীয় সেরা ভাষা মারমা। থানচির মাংলুং হেডম্যান পাড়ায় অষ্টম শ্রেণি পাস একজনও পাওয়া যায়নি।

খিয়াং ভাষা: আশো চিনের উপভাষা, নাকি আলাদা ভাষা

খিয়াংয়ের নিজের ISO কোড নেই; আন্তর্জাতিক ক্যাটালগে এটি মিয়ানমারের আশো চিন (csh) ভাষার একটি উপভাষা। বাংলাদেশে এর দুটি উপভাষা — পাহাড়ের কংতু আর সমতলের লাইতু — যাদের শব্দমিল 78 শতাংশ। 2017 সালে বান্দরবানের খিয়াংরা নিজস্ব “হোয়ো” লিপি তৈরি করেছেন।

একটি ভাষা, অনেক নাম

Glottolog-এর তালিকায় “Khyang” (khya1239) আশো চিনের নিচে, তার পাশে “Chittagong”, “Lemyo”, “Minbu”, “Sandoway”, “Thayetmyo” ও “Saingbaun” নামের আরও ছয়টি উপভাষা। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Shö language” নিবন্ধ ভাষাটির নাম দেয় শো বা আশো, লেখে বাংলাদেশে এটি “Asho Khyang” নামে পরিচিত, আর Ethnologue-এর বরাতে সব দেশ মিলিয়ে বক্তা 1,80,000 (2024)। Asia Harvest-এর আশো-পরিচিতিতেও 1,80,000 সংখ্যাটি আছে, সঙ্গে বাংলাদেশে 4,826 — যা 2022 সালের শুমারিতে খিয়াং জনসংখ্যার সঙ্গে হুবহু মেলে।

এই শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে ভাষাবিদ মুহাম্মদ জাকারিয়ার আপত্তির কথা উপরে বলা হয়েছে। তাঁর 2018 সালের অভিসন্দর্ভ A Grammar of Hyow (নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি) Glottolog-এ আশো চিনের সবচেয়ে বিস্তৃত বিবরণ হিসেবে তালিকাভুক্ত, 882 পৃষ্ঠা। অর্থাৎ যে বইটি ক্যাটালগ আশো চিনের প্রধান ব্যাকরণ বলে দেখায়, তার লেখক নিজে খিয়াংকে আশোর উপভাষা মানতে দ্বিধা করেছেন।

কংতু ও লাইতু

SIL-এর জরিপে খিয়াং উত্তরদাতাদের 20 জনের 17 জন আঞ্চলিক পার্থক্যের কথা বলেছেন। রাজস্থলীর বড় কুকিয়াছড়ির (কংতু) প্রায় সবাই বলেছেন তাঁরা সমতলের লাইতুর প্রায় অর্ধেক বোঝেন; বান্দরবানের গুংগুরুমুখ পাড়ার (লাইতু) বেশির ভাগ বলেছেন তাঁরা কংতুর বেশির ভাগই বোঝেন। প্রতিবেদন তাই সুপারিশ করে, দুই অঞ্চলের নেতারা মিলে একটি কমিটি গড়ে ঠিক করুন — বই একটি উপভাষায় হবে, না দুটিতে। দুই গোষ্ঠীর সামাজিক পরিচয় নিয়ে আছে আমাদের খিয়াং লেখার “কোংতু ও লাইতু” অংশে।

লিপি ও বই

SIL 2011 লেখে, খিয়াং ভাষায় লোককাহিনি ও গান ছাড়া কার্যত কোনো সাহিত্য নেই, আর বমদের কাছাকাছি থাকা খিয়াংরা কিছু বম বই ব্যবহার করেন। তার পরে ছবিটা বদলেছে: 2017 সালে গুংগুরু খেয়াং পাড়ার পাঁচজনের একটি দল “হোয়ো” বর্ণমালা তৈরি করেন (স্বরবর্ণ 11, ব্যঞ্জনবর্ণ 21), আর 2023 সালে এর কম্পিউটার কি-বোর্ড উদ্বোধন হয় — লিপির পুরো ইতিহাস আছে খিয়াং লেখায়। উইকিপিডিয়ার শো নিবন্ধের তথ্যছক অবশ্য বাংলাদেশে ভাষাটির হরফ হিসেবে বাংলা-অসমিয়া লিপির নাম দেয়, মিয়ানমারে বর্মি ও রোমান; বাংলায় খিয়াং লেখার কোনো প্রকাশিত বই বা উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের আশো ভাষার বাইবেলের ইতিহাস লম্বা। find.bible-এ 1898 সালের একটি “John 1–4 (tentative)” আছে; Asia Harvest লেখে মার্কের সুসমাচার রোমান হরফে অনূদিত হয় 1921 সালে, নূতন নিয়ম 1954 সালে বর্মি হরফে, পূর্ণ বাইবেল 2008 সালে। find.bible-এ মিয়ানমার বাইবেল সোসাইটির 2024 সালের “Laymyo New Testament”-ও আছে, রোমান হরফে। এগুলোর কোনোটি বাংলাদেশের খিয়াং উপভাষায় নয়।

লুসাই ভাষা: মিজোরামে রাজ্যভাষা, বাংলাদেশে একটি পাড়া

বাংলাদেশে যাঁদের লুসাই বলা হয়, তাঁদের ভাষা মিজোরামের মিজো ভাষাই (ISO lus)। মিজোরামে এটি রাজ্যের সরকারি ভাষা, পূর্ণ বাইবেল আছে 1959 সাল থেকে; কিন্তু বাংলাদেশে SIL-এর জরিপের সময় একমাত্র লুসাই গ্রাম ছিল সাজেকের মাহমুয়াম পাড়া, 15টি পরিবার, আর প্রতিবেদনের আশঙ্কা ছিল, “খুব দূরের নয় এমন ভবিষ্যতে” ভাষাটি বাংলাদেশে আর ব্যবহৃত না-ও হতে পারে।

রোমান বর্ণমালার জন্ম

লুসাই ভাষাকে ঘিরেই পাঁচ ভাষার তিনটির লেখার ইতিহাস। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার মিজো ভাষা নিবন্ধ লেখে, মিজো বর্ণমালা রোমান হরফভিত্তিক, 25 অক্ষরের; লুসাই ভাষার জন্য একটি লিখিত রূপ প্রথম তৈরি করেন টমাস হার্বার্ট লেউইন, 1874 সালে, আর এর বর্তমান রূপ দাঁড় করান মিজোরামের প্রথম খ্রিস্টান মিশনারি জে. এইচ. লরেইন ও এফ. ডব্লিউ. সেভিজ, হান্টেরিয়ান প্রতিবর্ণীকরণ পদ্ধতির ভিত্তিতে। দুই মিশনারির ব্যাকরণ ও অভিধান 1898 সালে শিলংয়ের আসাম সেক্রেটারিয়েট প্রিন্টিং অফিস থেকে ছাপা হয়; Glottolog এটিকে মিজো ভাষার অন্যতম বিস্তৃত ব্যাকরণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

পুরনো ছাপা বইয়ের পাতা: শিরোনামে লেখা Grammar and Dictionary of the Lushai Language, নিচে রোমান হরফে লুসাই বর্ণমালার তালিকা ও প্রতিটি অক্ষরের উচ্চারণ
লরেইন ও সেভিজের A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (শিলং, 1898)-এর প্রথম পাতা: “Lushai Alphabet and Pronunciation”। এই রোমান বর্ণমালাই পরে বম ও পাংখোয়া লেখার ভিত্তি হয়। ছবি: J. Herbert Lorrain ও Fred. W. Savidge · Public domain · Wikimedia Commons / Internet Archive

ছবির পাতায় দেখা যায়, 1898 সালের বর্ণমালায় দীর্ঘ স্বর বোঝাতে স্বরবর্ণের মাথায় টুপিচিহ্ন (Â, Ê, Î) ছিল, “aw” ও “ch” ছিল আলাদা অক্ষর, আর “g” লুসাই শব্দে কেবল “ng” হয়ে আসে — বিদেশি শব্দের শুরুতে ছাড়া। পাতার পাদটীকায় লেখা, শব্দের শেষের স্বর সাধারণত দীর্ঘ বলে সেগুলোতে চিহ্ন দেওয়া হয় না।

বাইবেল ও সংখ্যা

Asia Harvest-এর মিজো-পরিচিতি অনুযায়ী মিজো ভাষায় বাইবেলের প্রথম অংশ 1898 সালে, নূতন নিয়ম 1916-এ, পূর্ণ বাইবেল 1959-এ। একই পরিচিতি বাংলাদেশে মিজোদের সংখ্যা লেখে 380 — 2022 সালের শুমারিতে লুসাই জনসংখ্যার সঙ্গে মেলে। আমাদের লুসাই লেখায় উইকিপিডিয়ার বরাতে ভারতের 2011 সালের ভাষা-শুমারিতে মিজোভাষী 8,30,846 জনের হিসাব আছে।

বাংলাদেশে ভাষাটির অবস্থা

SIL-এর জরিপে মাহমুয়াম পাড়ার দশজন উত্তরদাতাই বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা তিরিশ বছর পরও লুসাই বলবে; রুমার বেথেল পাড়ায় পাওয়া গিয়েছিল মাত্র একজন বয়স্ক লুসাই, যিনি তখনো ভালো লুসাই বলতেন। প্রতিবেদন লেখে, বান্দরবান সদরের লুসাই পরিবারগুলো অন্য জনগোষ্ঠী, বিশেষত বমদের সঙ্গে মিশে গেছে। মাহমুয়াম পাড়ার হেডম্যান গবেষকদের বলেছিলেন, ওই এলাকার লুসাইরা একদিন ভারতে চলে যেতে পারেন। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম কী হওয়া উচিত — এই প্রশ্নে লুসাইদের অর্ধেক বলেছেন বাংলা, অর্ধেক ইংরেজি; দুজন সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ভারতে পাঠানোর কথা বলেছেন।

পাংখোয়া ভাষা: নিজের ভাষা, পড়ার বই অন্যের ভাষায়

পাংখোয়া (ISO pkh) কেন্দ্রীয় কুকি-চিন দলের ভাষা, যা বম ও লুসাইয়ের সবচেয়ে কাছের হলেও আলাদা ভাষা। এটি লুসাই বর্ণমালায় রোমান হরফে লেখা হয়, কিন্তু SIL 2011 লেখে পাংখোয়া ভাষায় কার্যত কোনো সাহিত্য নেই — পাংখোয়ারা লুসাই ভাষার খ্রিস্টীয় বই পড়েন। অথচ বাইবেল সংস্থাগুলোর তালিকায় 1954 সালের পাংখোয়া সুসমাচার আর 2020 সালের নূতন নিয়মের অংশবিশেষ আছে।

বই আছে, না নেই

উৎসগুলো এখানে স্পষ্টভাবে আলাদা কথা বলে। বাংলাপিডিয়ার পাংখো ভুক্তি লেখে, পাংখোদের ভাষা কেবল মৌখিক, বনযোগীদেরও (বম) তাই, আর দুটির কোনো লিখিত রূপ নেই। SIL 2011 লেখে, পাংখোয়া ভাষায় লোককাহিনি ও গান ছাড়া কার্যত কোনো সাহিত্য নেই। find.bible-এ বাংলাদেশের নামে পাংখোয়া ভাষার দুটি ভুক্তি আছে: “Pankho Gospels” (1954) আর রোমান হরফে “Pankhua New Testament Portions” (2020)। প্রথমটির ছাপা কপি কোথায় আছে, কতজন পেয়েছিলেন, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাপিডিয়ার বম-বিষয়ক বাক্যটিও বম সূত্রের সঙ্গে মেলে না — বম ভাষায় 1952 সালের প্রাইমার আর 1989 সালের পূর্ণ বাইবেল আছে।

ব্যাকরণের কাজ

পাঁচটির মধ্যে সাম্প্রতিকতম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ পাংখোয়ার। Glottolog জাহিদ আকতারের 2023 সালের 514 পৃষ্ঠার একটি ব্যাকরণকে ভাষাটির সবচেয়ে বিস্তৃত বিবরণ হিসেবে দেখায়; উইকিপিডিয়ার গ্রন্থপঞ্জিতে আছে আকতারের A Grammar of Pangkhua (দে গ্রুইটার মুতঁ, 2024)। আকতারের বিবরণ অনুযায়ী পাংখোয়ায় 21টি ব্যঞ্জনধ্বনি, 7টি স্বরধ্বনি ও দুটি সুর; এর বিস্তারিত আছে পাংখোয়া লেখার “ধ্বনি ও গঠন” অংশে।

দুই পাংখোয়া, দুই ভবিষ্যৎ

SIL-এর প্রতিবেদন পাংখোয়াদের ভাষা-পরিস্থিতিকে “unique” বলে। বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়ায় প্রত্যেক উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা ও তাঁদের শিশুরা পাংখোয়াকেই প্রথম ও সবচেয়ে ভালো ভাষা হিসেবে বলেন, আর তিরিশ বছর পরও শিশুরা পাংখোয়াই বলবে। কিন্তু সাজেকের কংলাকে গবেষকেরা প্রশ্নমালাই ব্যবহার করেননি, কারণ শব্দতালিকার তথ্যদাতা ছাড়া সেখানে কেউ আর ভালো পাংখোয়া জানতেন না; সেখানকার মানুষ প্রথম ভাষা হিসেবে লুসাই বলেন। সুপারিশেও তাই দুই রকম কথা: বিলাইছড়ির পাংখোয়ারা বম বই, সাজেকের পাংখোয়ারা মিজো বই বেশি ব্যবহার করে দেখতে পারেন; নিজের ভাষায় বই তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে বম বা মিজো উপকরণ থেকে শুরু করা সহজ হবে, কারণ তিনটি ভাষা একই শাখার।

কোন ভাষা কোন হরফে লেখা হয়

পাঁচটি কুকি-চিন ভাষার কোনোটিরই সরকারি পাঠ্যবইয়ের কোনো লিপি-সিদ্ধান্ত নেই। চর্চায় চারটি রোমান হরফে লেখা হয় — বম, লুসাই ও পাংখোয়া একই লুসাই বর্ণমালার ধারা থেকে, খুমি মিয়ানমারের মিশন-বর্ণমালা থেকে — আর খিয়াংরা 2017 সালে নিজস্ব লিপি তৈরি করেছেন।

ভাষা প্রধান হরফ উৎস ও সাল যে উৎস ভিন্ন কথা বলে
লুসাই রোমান, 25 অক্ষর লেউইন 1874; লরেইন ও সেভিজ 1894 (বর্তমান রূপ) —
বম রোমান, 25 বর্ণ (J নেই) লুসাই বর্ণমালা, সম্ভবত 1920-এর পরে বমদের কাছে; প্রাইমার 1952 বাংলাপিডিয়ার পাংখো ভুক্তি: লিখিত রূপ নেই
পাংখোয়া রোমান (লুসাই বর্ণমালা) লুসাই প্রচারকদের মাধ্যমে বাংলাপিডিয়া: কেবল মৌখিক
খুমি রোমান; ক্রামা অনুসারীদের মধ্যে ম্রো লিপি রোল্যান্ডস 1925, অথবা ফ্রান্সিস 1930–49 (মিয়ানমার); পিটারসনের বাংলাদেশি বানানরীতি বাংলাপিডিয়া: বর্ণমালা নেই
খিয়াং নিজস্ব হোয়ো লিপি গুংগুরু খেয়াং পাড়া, 2017; কি-বোর্ড 2023 উইকিপিডিয়া: বাংলাদেশে বাংলা-অসমিয়া লিপি; বাংলাপিডিয়া: বর্ণমালা নেই

উৎস: জির কুং সাহু (জুমজার্নাল আর্কাইভ); উইকিপিডিয়ার মিজো ভাষা, খুমি ভাষা, এডউইন রোল্যান্ডস ও শো ভাষা নিবন্ধ; বাংলাপিডিয়া (Khumee, Khyang, Pankho); SIL 2011; আমাদের খুমি ও খিয়াং লেখা।

এই ছকের একটি ধরন চোখে পড়ে: যে তিনটি ভাষার বক্তারা প্রায় সবাই খ্রিস্টান (বম, পাংখোয়া, লুসাই — জির কুং সাহু লেখেন তাঁরা “একশত ভাগই খ্রিস্টান”), তাদের লেখা একটি মিশন-বর্ণমালা থেকে এসেছে। খুমি ও খিয়াং সমাজে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষ আছেন, আর তাদের লিপির প্রশ্নও বেশি জটিল — খুমিদের মধ্যে রোমান ও ক্রামা পাশাপাশি, খিয়াংদের মধ্যে প্রথমে রোমানের চেষ্টা, তারপর নিজস্ব লিপি। চাকমা ও ম্রো লিপির সঙ্গে তুলনার জন্য দেখতে পারেন চাকমা লিপি (অঝাপাত) নিয়ে আমাদের লেখা।

কোন ভাষায় কবে বাইবেল অনূদিত হয়েছে

পাঁচটির মধ্যে বাংলাদেশে তৈরি পূর্ণ বাইবেল আছে কেবল বম ভাষায় (1989, বিতরণ 1992)। মিজো (লুসাই), খুমি ও আশোর (খিয়াং) পূর্ণ বাইবেল আছে, কিন্তু সেগুলো ভারত ও মিয়ানমারে তৈরি; পাংখোয়ায় আছে কেবল সুসমাচার ও নূতন নিয়মের অংশবিশেষ।

ভাষা প্রথম অংশ নূতন নিয়ম পূর্ণ বাইবেল কোথায় তৈরি / উৎস
মিজো (লুসাই) 1898 1916 1959 ভারত; Asia Harvest
বম 1953 (মথি) 1956–1976 1989; বিতরণ 1992; সাধারণ-ভাষা সংস্করণ 2004 বাংলাদেশ; গির্জার সংকলন, find.bible
খুমি 1935 1959 2014 মিয়ানমার; Asia Harvest, find.bible
আশো চিন (খিয়াং) 1898 (find.bible) / 1921 (Asia Harvest) 1954 (বর্মি হরফে) 2008 মিয়ানমার
পাংখোয়া 1954 (সুসমাচার) অংশবিশেষ, 2020 নেই বাংলাদেশ; find.bible

বাইবেল এখানে আলাদা গুরুত্ব পায়, কারণ এই ভাষাগুলোর বেশির ভাগের সবচেয়ে বড় ছাপা লেখা এটিই, আর লেখার চর্চাও চলেছে গির্জার হাত ধরে। জির কুং সাহুর কথায়, বম ভাষা আজ “টিকিয়ে রেখেছে চার্চসমূহ”, আর বম ভাষায় প্রকাশনা মূলত চার্চভিত্তিক। আবার পাশের ভাষার বাইবেল নিজের ভাষার বই না থাকার ফাঁকও ভরেছে: আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী প্রথম দিকে বমরাও লুসাই ভাষার বাইবেল ও ধর্মীয় সংগীত ব্যবহার করতেন, আর SIL-এর জরিপের সময় পাংখোয়ারা তখনো লুসাই বাইবেলই পড়তেন। বমদের অনুবাদের পুরো কাহিনি, অনুবাদকদের নামসহ, আছে আমাদের খ্রিস্টধর্ম-বিষয়ক লেখায়।

পাঠ্যবই ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: সরকারি তালিকায় পাঁচটির একটিও নেই

2017 সাল থেকে সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় বই ছাপছে — চাকমা, মারমা, ককবরক, গারো ও সাদরি। পাঁচটি কুকি-চিন ভাষার একটিও এই তালিকায় নেই। দ্য ডেইলি স্টারের 2021 সালের প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেন, বিপন্ন 14টি ভাষার জন্য সরকারের তখন “কোনো উদ্যোগ নেই”।

পিনাকী রায়ের ওই প্রতিবেদন (20 ফেব্রুয়ারি 2021) আরও জানায়, বিশেষজ্ঞেরা কর্মসূচিটিকে “মিশ্র সাফল্যের” বলেছেন শিক্ষক-প্রশিক্ষণের অভাবে। শায়লা শবনমের 2026 সালের লেখা একই কথা বম ভাষার দিক থেকে বলে: 2017 সালের পাঁচ ভাষার তালিকায় বম শিশুরা বাদ পড়েছে, স্কুলে পড়ানো হয় মূলত বাংলা বা ইংরেজিতে, উপকরণ কম, প্রশিক্ষিত শিক্ষক কম। সরকারি কর্মসূচির সময়রেখা ও শিক্ষক-সংকটের বিস্তারিত আছে পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা লেখায়।

সরকারি বইয়ের বাইরে যা আছে

  • বম: 1952 সালের প্রাইমার; পরিবার, গির্জা ও পাড়াভিত্তিক বর্ণমালা-পাঠ; SIL-এর সময় প্রতিটি বম গ্রামে সমাজের চালানো মাতৃভাষা-শিক্ষা কেন্দ্র।
  • খুমি: লেলুং খুমীর বিবরণে, খ্রিস্টান মিশনারিদের সহযোগিতায় নিজ ভাষায় সাক্ষর খুমিরা অন্য পাড়ায় গিয়ে অক্ষর শেখাচ্ছেন (আমাদের খুমি ও খ্রিস্টধর্ম লেখা দুটিতে)।
  • খিয়াং: হোয়ো লিপির উদ্ভাবকদের একজন জানান, এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুদিন খেয়াং ভাষা শেখানো হয়েছিল, পরে বন্ধ হয়ে যায় (আমাদের খিয়াং লেখায় দুই উৎসের দুই কারণ)।
  • লুসাই ও পাংখোয়া: নিজের ভাষার কোনো শিক্ষা-কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি; SIL-এর জরিপের সময়ও ছিল না।

সমাজ নিজে কী চায়

SIL-এর প্রশ্নমালায় একটি প্রশ্ন ছিল: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যম কী হওয়া উচিত? উত্তরগুলো বাস্তববাদী — বাংলা বলেছেন পাংখোয়াদের 82, বমদের 95, খিয়াংদের 95 আর খুমিদের 100 শতাংশ; মাতৃভাষা বলেছেন 9 থেকে 25 শতাংশ। কিন্তু যেখানে মাতৃভাষার ক্লাস নেই, সেখানে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: শিশুদের আগে মাতৃভাষায়, পরে বাংলায় পড়তে-লিখতে শেখানোর ক্লাস হলে পাঠাবেন কি? খিয়াং ও খুমি উত্তরদাতাদের সবাই বলেছেন হ্যাঁ; পাংখোয়াদের 11 জনের 8 জন, লুসাইদের 10 জনের 8 জন। প্রতিবেদন এই দুই উত্তরকে পরস্পরবিরোধী মনে করে না — মানুষ বাংলা শিখতে চান জীবিকার জন্য, আর মাতৃভাষা দিয়ে শুরু করাকে তার পথ হিসেবে দেখেন।

জনগোষ্ঠী মাধ্যম: মাতৃভাষা মাধ্যম: বাংলা মাধ্যম: ইংরেজি
পাংখোয়া 9% (1/11) 82% (9/11) 9% (1/11)
বম 20% (4/20) 95% (19/20) 25% (5/20)
লুসাই 20% (2/10) 50% (5/10) 50% (5/10)
খিয়াং 25% (5/20) 95% (19/20) —
খুমি 10% (2/21) 100% (21/21) —

উৎস: SIL 2011, Figure 8। একজন একাধিক ভাষার নাম বলতে পারতেন, তাই যোগফল 100 ছাড়ায়।

কুকি-চিন ভাষা কতটা বিপন্ন: পাঁচ তালিকার পাঁচ রায়

খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (IMLI) জরিপে দেশের 14টি বিপন্ন ভাষার তালিকায় আছে; বম নেই। আন্তর্জাতিক তালিকাগুলো আবার ভিন্ন কথা বলে — যেমন UNESCO-র অ্যাটলাস বমকে “definitely endangered” বলে, অথচ Ethnologue বাংলাদেশে বমকে “developing” স্তরে রাখে।

IMLI-র নৃভাষা জরিপের সময় নিয়ে একই পত্রিকার দুই প্রতিবেদন দুই কথা বলে: দ্য ডেইলি স্টারের 2019 সালের প্রতিবেদন (মালিহা খান) লেখে মাঠকর্ম শুরু 2013-এ, শেষ 2015-এ, আর প্রথম খণ্ড 2018 সালে তৈরি হলেও প্রকাশিত হয়নি; 2021 সালের প্রতিবেদন (পিনাকী রায়) লেখে জরিপ শেষ হয় 2018 সালে, আর ফল তখনো প্রকাশিত হয়নি। 14টি ভাষার তালিকায় কুকি-চিনের চারটি — খেয়াং, খুমি, পাংখোয়া ও লুসাই। এর আগে, 2015 সালের ফেব্রুয়ারিতে, অনলাইন পত্রিকা বিডিক্রনিকলের একটি প্রতিবেদন লুসাই, পাংখোয়া, খিয়াং ও খুমিকে “critically endangered” তালিকায় রাখে, 2011 সালের শুমারির সংখ্যা উল্লেখ করে।

ভাষা IMLI জরিপ (ডেইলি স্টার 2021) UNESCO / Endangered Language Alliance (উইকিপিডিয়ার তালিকায়) Endangered Languages Catalogue (Glottolog-এ) Ethnologue
বম 14টির তালিকায় নেই Definitely endangered, 14,000 (UNESCO) Vulnerable, “80 percent certain”, কেবল বাংলাদেশের বম বাংলাদেশে 5 (Developing); ভারত ও মিয়ানমারে 6B (উইকিপিডিয়ার বরাতে)
খুমি বিপন্ন — — 5 (Developing), পুরো ভাষার জন্য
খিয়াং বিপন্ন আশো চিন: Definitely endangered, 2,340 (ELA) — আশো চিন: 5 (Developing)
লুসাই বিপন্ন মিজো: Vulnerable (UNESCO 2010, Glottolog-এ) — —
পাংখোয়া বিপন্ন Severely endangered, 2,730 (ELA) Vulnerable, “80 percent certain” —

উৎস: দ্য ডেইলি স্টার (20 ফেব্রুয়ারি 2021; 8 আগস্ট 2019); ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “List of endangered languages in Bangladesh” ও “Bawm language”; Glottolog-এর ভাষা-পাতা (bawm1236, pank1249, khum1248, asho1236, lush1249)। “—” মানে ওই উৎসে এই ভাষার মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

তালিকাগুলো কেন একমত নয়, তার একটি কারণ পরিধি। Ethnologue-এর খুমি ও আশো চিনের মান পুরো ভাষার — মিয়ানমারের হাজার হাজার বক্তাসহ — আর মিজোর UNESCO-মূল্যায়ন মিজোরামের ভাষার; বাংলাদেশের কয়েক শ বা কয়েক হাজার বক্তার আলাদা মান সেখানে নেই। ব্যতিক্রম বম: উইকিপিডিয়া Ethnologue-এর বরাতে বাংলাদেশ আর ভারত-মিয়ানমারের জন্য আলাদা মান দেয়, আর Endangered Languages Catalogue স্পষ্ট লেখে তাদের মূল্যায়ন কেবল বাংলাদেশের বমদের নিয়ে, SIL 2011-এর তথ্যে।

SIL-এর নিজের রায় তালিকাগুলোর চেয়ে কম শঙ্কিত, অন্তত 2008 সালের জন্য: পাঁচ জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক উত্তরদাতা বলেছেন মাতৃভাষাই তাঁদের ও তাঁদের শিশুদের প্রথম ও সবচেয়ে ভালো ভাষা — গবেষকেরা লেখেন, আগে কোনো জনগোষ্ঠীতে তাঁরা 100 শতাংশ এই উত্তর পাননি। ব্যতিক্রম দুটি: লুসাই, যার বাংলাদেশে টিকে থাকা নিয়ে প্রতিবেদন শঙ্কিত, আর খুমি, যাকে “সম্ভবত সবচেয়ে কম প্রাণবন্ত” বলা হয়েছে। জরিপটি দেড় দশকেরও বেশি পুরনো; এর পরের কোনো তুলনীয় মাঠ-জরিপ পাওয়া যায়নি।

কতজন এই ভাষাগুলো বলেন: শুমারির জনসংখ্যা আর ভাষাভাষী এক নয়

2022 সালের শুমারি জনগোষ্ঠী গোনে, ভাষাভাষী নয়: বম 13,193, খিয়াং 4,826, খুমি 3,780, পাংখোয়া 1,857, লুসাই 380। ভাষাবিদ ও ভাষা-তালিকাগুলোর হিসাব প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা — কোথাও কম (পাংখোয়ার জন্য আকতারের প্রায় 2,000), কোথাও বেশি (পাংখোয়ার জন্য Ethnologue-এর 3,200)।

ভাষা শুমারি 2022 (জনগোষ্ঠী) বিডিক্রনিকল 2015 (“2011 শুমারি”) ভাষাবিদ / ভাষা-তালিকার হিসাব (বাংলাদেশ)
বম 13,193 — 10,000 (Ethnologue, 2011, উইকিপিডিয়ায়); “দশ-বার হাজার” (জির কুং সাহু); 14,000 (UNESCO তালিকা)
খিয়াং 4,826 3,899 প্রায় 4,000 (জাকারিয়া 2018); 2,340 (ELA, আশো চিন)
খুমি 3,780 3,369 প্রায় 2,000 (পিটারসন); 4,000 (Asia Harvest)
পাংখোয়া 1,857 2,274 3,200 (Ethnologue 2012, উইকিপিডিয়ায়); 2,730 (ELA); প্রায় 2,000 (আকতার)
লুসাই 380 959 একটি গ্রামে 15 পরিবার (SIL, 2007–08)

উৎস: বিবিএস, জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জাতীয় প্রতিবেদন খণ্ড 1, সারণি P29; বিডিক্রনিকল, 21 ফেব্রুয়ারি 2015; বাকি সংখ্যা উপরের অংশগুলোর উৎস থেকে।

শুমারির জেলাভিত্তিক সারণি দেখায়, ভাষাগুলোর ভূগোলও আলাদা। বম (বান্দরবানে 11,854), খুমি (3,287) আর খিয়াংয়ের বড় অংশ (2,502) বান্দরবানে; পাংখোয়ার প্রায় সবাই রাঙামাটিতে (1,398); খিয়াংয়ের বাকি অংশ রাঙামাটিতে (1,670); আর লুসাইরা তিন জেলায় ছড়ানো, কোথাও দেড় শর বেশি নয়। জেলা ও উপজেলা ধরে পূর্ণ হিসাব আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী ও জনসংখ্যা লেখায়, আর পাঁচ ক্ষুদ্রতম জনগোষ্ঠীর সংখ্যার বিরোধ নিয়ে ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে হাব পাতায়।

জনসংখ্যা আর ভাষাভাষী কেন আলাদা, তার উদাহরণ পাংখোয়া নিজেই: সাজেকের কংলাক গ্রামের মানুষ শুমারিতে পাংখোয়া হিসেবেই গোনা হবেন, কিন্তু SIL-এর জরিপ অনুযায়ী তাঁদের প্রথম ভাষা লুসাই। উল্টো দিকে, SIL-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবান সদরের কিছু লুসাই পরিবার অন্য জনগোষ্ঠী, বিশেষত বমদের সঙ্গে মিশে গেছে — তাঁদের ভাষা ও জাতিপরিচয় শুমারির কোন ঘরে গেছে, জানা যায়নি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে কয়টি কুকি-চিন ভাষা আছে?

SIL International-এর 2011 সালের জরিপ অনুযায়ী পাঁচটি: বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া। পাঁচটিই চীনা-তিব্বতি পরিবারের কুকি-চিন শাখার, সবগুলোর বক্তা মূলত বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলায়। এদের মধ্যে বম, লুসাই ও পাংখোয়া কেন্দ্রীয় দলের, আর খুমি ও খিয়াং দক্ষিণ বা প্রান্তিক দলের ভাষা।

বম, লুসাই আর পাংখোয়া কি একই ভাষা?

না। তিনটিই কেন্দ্রীয় কুকি-চিন দলের এবং পরস্পরের সবচেয়ে কাছের, কিন্তু SIL-এর 306 শব্দের তুলনায় বম-লুসাই মিল 46–47%, পাংখোয়া-বম 36–41%, পাংখোয়া-লুসাই 30–33%। প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত, এগুলো একই ভাষার উপভাষা বলার মতো যথেষ্ট নয়; একটির বক্তাকে অন্য দুটি ভালো বুঝতে হলে শিখতে হয়।

খুমি আর খিয়াং ভাষা কি কাছাকাছি?

দুটিই দক্ষিণ (প্রান্তিক) কুকি-চিন দলের, কিন্তু আলাদা উপশাখায় — খুমি “খোমিক” দলে, খিয়াং আশো বা “শো” দলে। তাই SIL-এর 2007–08 জরিপে দুটির শব্দমিল মাত্র 10–11%। খুমি ও খিয়াং উত্তরদাতাদের বেশির ভাগ বলেছেন, মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো কুকি-চিন ভাষা তাঁদের কাছে সহজবোধ্য নয়।

কুকি-চিন ভাষাগুলোর ISO কোড কী?

বম bgr, খুমি cnk, লুসাই (মিজো) lus, পাংখোয়া pkh। খিয়াংয়ের আলাদা ISO কোড নেই; আন্তর্জাতিক ক্যাটালগে এটি আশো চিনের (csh) উপভাষা, Glottolog কোড khya1239। Glottolog কোডগুলো: বম bawm1236, খুমি khum1248, মিজো lush1249, পাংখোয়া pank1249, আশো চিন asho1236।

বম ভাষা কোন হরফে লেখা হয়?

রোমান হরফে। মিশনারি লরেইন ও সেভিজ 1894 সালে লুসাই ভাষার জন্য যে রোমান বর্ণমালা তৈরি করেন, লুসাই প্রচারকেরা তা 1918-এর পরে বমদের মধ্যে আনেন। জির কুং সাহুর হিসাবে বম বর্ণমালায় 25টি বর্ণ — 5টি স্বর, 20টি ব্যঞ্জন, J নেই। প্রথম বর্ণমালা-শিক্ষার বই বের হয় 1952 সালে।

খিয়াংদের কি নিজস্ব লিপি আছে?

আছে, সাম্প্রতিক। 2017 সালে বান্দরবানের গুংগুরু খেয়াং পাড়ার পাঁচজনের একটি দল “হোয়ো” নামে বর্ণমালা তৈরি করেন, যাতে স্বরবর্ণ 11টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ 21টি; 2023 সালে এর কম্পিউটার কি-বোর্ড চালু হয়। এর আগে বাংলাপিডিয়া ও SIL দুটিই লিখেছিল খিয়াং ভাষায় লিখিত রূপ বা সাহিত্য কার্যত নেই।

কোন কুকি-চিন ভাষায় পূর্ণ বাইবেল আছে?

বাংলাদেশে তৈরি পূর্ণ বাইবেল আছে কেবল বম ভাষায়: অনুবাদ শেষ 1989-এ, বিতরণ 1992 থেকে, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির মাধ্যমে। মিজোতে পূর্ণ বাইবেল 1959, খুমিতে 2014 আর আশো চিনে 2008 — এগুলো ভারত ও মিয়ানমারে তৈরি। পাংখোয়ায় আছে 1954 সালের সুসমাচার ও 2020 সালের নূতন নিয়মের অংশবিশেষ।

সরকারি পাঠ্যবই কি এই ভাষাগুলোতে আছে?

না। 2017 সাল থেকে সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই ছাপছে পাঁচটি ভাষায় — চাকমা, মারমা, ককবরক, গারো ও সাদরি। বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই বা পাংখোয়া এতে নেই। 2021 সালে অধ্যাপক সৌরভ সিকদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিপন্ন 14টি ভাষার জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

কোন কুকি-চিন ভাষাগুলো বিপন্ন?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (IMLI) নৃভাষা জরিপে দেশের 14টি বিপন্ন ভাষার তালিকায় আছে খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া; বম নেই। আন্তর্জাতিক তালিকায় মূল্যায়ন ভিন্ন: UNESCO বমকে “definitely endangered” বলে, Endangered Language Alliance পাংখোয়াকে “severely endangered”, আর Endangered Languages Catalogue বম ও পাংখোয়া দুটিকেই “vulnerable”।

বাংলাদেশে কতজন পাংখোয়া ভাষা বলেন?

উৎসভেদে আলাদা। 2022 সালের শুমারিতে পাংখোয়া জনসংখ্যা 1,857, কিন্তু শুমারি ভাষাভাষী গোনে না। উইকিপিডিয়া Ethnologue-এর বরাতে 2012 সালে 3,200 বক্তা লেখে, Endangered Language Alliance 2,730, ভাষাবিদ জাহিদ আকতার প্রায় 2,000। সাজেকের কংলাক গ্রামে পাংখোয়ারা এখন লুসাইকে প্রথম ভাষা হিসেবে বলেন।

লুসাই ভাষা কি বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে?

SIL-এর 2011 সালের প্রতিবেদন সেই আশঙ্কাই করেছিল: বাংলাদেশে একমাত্র লুসাই গ্রাম ছিল সাজেকের মাহমুয়াম পাড়া, 15টি পরিবার, আর প্রতিবেদন লেখে খুব দূরের নয় এমন ভবিষ্যতে ভাষাটি বাংলাদেশে আর ব্যবহৃত না-ও হতে পারে। 2022 সালের শুমারিতে দেশে লুসাই 380 জন। মিজোরামে অবশ্য ভাষাটি রাজ্যের সরকারি ভাষা।

মিজো ভাষা কি বম ও পাংখোয়ারা বোঝেন?

অনেকে বোঝেন। বম লেখক জির কুং সাহু লেখেন, বমরা মিজো ভাষা 70–80 শতাংশ বোঝেন, আর মিজো বাংলাদেশের বম, পাংখোয়া ও লুসাইদের “LINGUA FRANCA”। SIL-এর জরিপে বিলাইছড়ির শিক্ষিত পাংখোয়ারা লুসাই খ্রিস্টীয় বই পড়েন; তবে বেথেল পাড়ার বমদের লুসাই বোঝা বই পড়ার মতো যথেষ্ট কি না, প্রতিবেদন তা নিয়ে সতর্ক।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 2008-এর পরের মাঠ-জরিপ। পাঁচটি ভাষাকে একসঙ্গে তুলনা করা একমাত্র প্রকাশিত মাঠ-জরিপ SIL-এর 2007–08 সালের। এর পরে কোনো ভাষার প্রাণশক্তি বা দ্বিভাষিকতা নতুন করে মাপা হয়েছে কি না, প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • IMLI জরিপের ফল। নৃভাষা জরিপে প্রতিটি ভাষার কতজন বক্তা গোনা হয়েছিল, আর খণ্ডগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে কি না — 2021 সালের পরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
  • বিডিক্রনিকলের সংখ্যার উৎস। 2015 সালের প্রতিবেদনে লুসাই 959, পাংখোয়া 2,274, খিয়াং 3,899, খুমি 3,369 — “2011 শুমারি” হিসেবে। এগুলো 2011 সালের শুমারির প্রকাশিত সারণির সঙ্গে মেলানো যায়নি।
  • পাংখোয়া সুসমাচার, 1954। find.bible-এর তালিকায় বইটি আছে, কিন্তু কে অনুবাদ করেছিলেন, কোন হরফে, কতটা প্রচলিত ছিল — জানা যায়নি। SIL 2011 ও বাংলাপিডিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে এই তথ্য মেলে না।
  • বম প্রাইমারের নাম। 1952 সালের প্রাইমারকে আর্কাইভের লেখা “Bawm Bu Bul Bu” বলে, দ্য ডেইলি স্টার “The Bawm Primer Book”, লেখক রেভারেন্ড এল. ডলান। দুটি একই বই কি না, স্পষ্ট নয়।
  • খুমি বর্ণমালার স্রষ্টা। উইকিপিডিয়ার দুটি নিবন্ধ দুই নাম ও দুই সময় দেয় — এডউইন রোল্যান্ডস, 1925; ই. ডব্লিউ. ফ্রান্সিস, 1930–49। মূল মিশন-নথি পাওয়া যায়নি।
  • খিয়াংয়ের বাংলা হরফ। উইকিপিডিয়ার তথ্যছক বাংলাদেশে খিয়াং লেখার হরফ বাংলা-অসমিয়া বলে; এর পক্ষে কোনো বই বা প্রকাশনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
  • বমদের নিজ ভাষায় সাক্ষরতা। “শতকরা 80 জন” দাবিটি কোন জরিপের, আর একই লেখায় “অধিকাংশ বম ছেলেমেয়েরা বম ভাষায় লেখা পড়তে পারে না” — কোনটি কোন সময়ের, জানা যায়নি।
  • লুসাই ভাষার বাংলাদেশি রূপ। বাংলাদেশের লুসাইদের মুখের ভাষা মিজোরামের প্রমিত মিজো থেকে কতটা আলাদা, তার কোনো ভাষাতাত্ত্বিক বিবরণ পাওয়া যায়নি; SIL কেবল দুই গ্রামের তালিকায় 91% মিল দেখিয়েছে।

তথ্যসূত্র

  1. প্রাথমিক উৎস — জির কুং সাহু, “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ”, জুমজার্নাল আর্কাইভ (মূল: বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন ’14, জুম ঈস্থেটিকস্ কাউন্সিল, রাঙামাটি) — বর্ণমালার ইতিহাস, 1929/1932/1948/1952, 25 বর্ণ, মিজো লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা, পত্রিকা, অভিধান, 80% সাক্ষরতার দাবি। লিংক
  2. প্রাথমিক উৎস — “বম জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল আর্কাইভ। লিংক
  3. Amy Kim, Palash Roy, Mridul Sangma, The Kuki-Chin Communities of Bangladesh: A sociolinguistic survey, SIL Electronic Survey Report 2011-025, SIL International, 2011 — শ্রেণিবিন্যাস, শব্দমিলের ছক, বোঝাপড়া, ভাষা-ব্যবহার, শিক্ষার মাধ্যম, প্রাণশক্তি, সুপারিশ। লিংক (Internet Archive)
  4. Glottolog 5 — Bawm Chin (bawm1236), Pangkhua (pank1249), Mizo (lush1249), Khumi Chin (khum1248), Asho Chin (asho1236), Khyang (khya1239): শ্রেণিবিন্যাস, বিপন্নতার মান, প্রধান ব্যাকরণ। bawm1236 · pank1249 · lush1249 · khum1248 · asho1236 · khya1239
  5. Pinaki Roy, “Dying in silence”, The Daily Star, 20 ফেব্রুয়ারি 2021 — IMLI-র 14টি বিপন্ন ভাষা, পাঁচ ভাষার পাঠ্যবই, সৌরভ সিকদারের মন্তব্য। লিংক
  6. Maliha Khan, “Lost documentation”, The Daily Star (Star Weekend), 8 আগস্ট 2019 — IMLI নৃভাষা জরিপের সময়কাল ও প্রকাশনার অবস্থা। লিংক
  7. Shaila Shobnam, “The Bawm language at a crossroads”, The Daily Star, ফেব্রুয়ারি 2026 — 1952 সালের প্রাইমার, স্কুলের মাধ্যম, বম নেতাদের মন্তব্য। লিংক
  8. BdChronicle Special Correspondent, “Disappearing indigenous languages”, BdChronicle, 21 ফেব্রুয়ারি 2015 — “critically endangered” তালিকা ও সংখ্যা। লিংক (Internet Archive)
  9. J. Herbert Lorrain ও Fred. W. Savidge, A Grammar and Dictionary of the Lushai Language (Dulien dialect), শিলং: Assam Secretariat Printing Office, 1898 — বর্ণমালা-পাতা (ছবি)। লিংক (Wikimedia Commons)
  10. Wikipedia (ইংরেজি) — “Bawm language”, “Khumi language”, “Pangkhu language”, “Mizo language”, “Shö language”, “List of endangered languages in Bangladesh”, “Edwin Rowlands” — Ethnologue-এর বক্তা-সংখ্যা ও মান, বর্ণমালার ইতিহাস, UNESCO/ELA তালিকা। Bawm · Khumi · Pangkhu · Mizo · Shö · তালিকা · Rowlands
  11. Asia Harvest, জনগোষ্ঠী-পরিচিতি “Khumi”, “Asho” ও “Mizo” (মিয়ানমার খণ্ড, 2025) — বাইবেল অনুবাদের সাল, জনসংখ্যা। Khumi · Asho · Mizo
  12. Find a Bible (Forum of Bible Agencies / Digital Bible Society) — বম, পাংখোয়া, খুমি ও আশো চিন ভাষার বাইবেল-সংস্করণ। বম · পাংখোয়া · খুমি · আশো চিন
  13. Banglapedia — “Khumee”, “Khyang”, “Pankho, The”। Khumee · Khyang · Pankho
  14. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022: জাতীয় প্রতিবেদন, খণ্ড 1, সারণি P29; জেলা প্রতিবেদন (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি), সারণি P17। জাতীয় প্রতিবেদন · বান্দরবান · রাঙামাটি
  15. Zahid Akter, A Grammar of Pangkhua, Berlin/Boston: De Gruyter Mouton, 2024। লিংক
  16. জুমজার্নাল — খুমি, খিয়াং, লুসাই ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠী; পাহাড়ে খ্রিস্টধর্ম; পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা; ম্রো লিপি; নাগা ও মিজো (ভেতরের লিংকগুলো লেখার মধ্যে)।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 2 নভেম্বর 2026

 

প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, খিয়াং, খুমি, পাংখোয়া, বম, লুসাই

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা