Last updated Oct 17th, 2026
0

১৯২৯ সালে বান্দরবান থেকে দুজন বম মানুষ মিজোরামের সিরতে নামের একটি গ্রামে গিয়েছিলেন — লেখাপড়া শিখতে। জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত একজন বম লেখকের বিবরণ অনুযায়ী তাঁরা দুজন — Kualthang ও Ngun Khar — বমদের মধ্যে প্রথম a aw b বর্ণমালা জানা মানুষ।
তিন বছর পরে, ১৯৩২ সালে, রোয়াংছড়ি উপজেলার পানখ্যাং গ্রামে একটি স্কুল খোলা হয়। সেই লেখার ভাষায়, এটিই ছিল কোনো বম গ্রামে প্রথম স্কুল।
এই একটি ঘটনার মধ্যেই এই লেখার মূল প্রশ্নটি আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বম, পাংখোয়া ও লুসাই জনগোষ্ঠী যে ভাষাপরিবারের, তার বড় অংশ ভারতের মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও আসামে — আর মিয়ানমারের চিন প্রদেশ ও আরাকানে। সীমান্ত তিনটি দেশের, ভাষা একটিই পরিবারের।
এই লেখাটি দুই দিক থেকে সেই প্রতিবেশকে দেখার চেষ্টা: ভাষা ও লিপির দিক থেকে, আর ভারতের সংবিধান ও শান্তিপ্রক্রিয়ার নথির দিক থেকে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” লেখাটির ভাষায়, বমরা “কুকি-চিন বা সিনো-টিবেটান ভাষাগোষ্ঠীর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম জো জাতির একটি অংশ”।
আর সেই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ কোথায় কোথায় আছেন, তার তালিকাও সেখানে আছে — “বিভিন্ন পরিচয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে, মিয়ানমারের চিন স্টেট ও আরাকান, ভারতের মিজোরাম (লুসাই হিল), নাগাল্যান্ড, মণিপুর, আসামে বসবাস করে।”
“বিভিন্ন পরিচয়ে” — এই তিনটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ। একই ভাষাপরিবারের মানুষ তিনটি দেশে তিন রকম রাষ্ট্রীয় নাম পেয়েছেন, আর প্রত্যেকটি নামের সঙ্গে আলাদা আইনি মর্যাদা জড়িয়ে আছে।
ভাষাতত্ত্বের অবস্থানটিও সেই লেখায় স্পষ্ট: বম ভাষা ভোট-বর্মী দলভুক্ত, কুকি-চিন বা সিনো-টিবেটান উপবিভাগের অন্তর্ভুক্ত। লেখাটির হিসাবে এটি বাংলাদেশের দশ-বারো হাজার বম মানুষের মুখের ভাষা।
আর্কাইভের দুটি লেখাতেই একই হিসাব: বমরা থাকেন বান্দরবান জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদর উপজেলায় এবং রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় — মোট ৭০টি গ্রামে।
সংখ্যার প্রশ্নে লেখাগুলো সরকারি হিসাবকে প্রশ্ন করেছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে বম জনসংখ্যা ৬,৯৭৮ বলে উল্লেখ আছে — কিন্তু লেখাটির ভাষায় “বমরা সরকারী পরিসংখ্যান যথাযথ নয় বলে মনে করেন”।
আর বিকল্প হিসাবটিও আছে: ২০০৩ সালে বম সোশ্যাল কাউন্সিল বাংলাদেশ পরিচালিত জরিপ অনুসারে বম জনসংখ্যা ৯,৫০০।
৬,৯৭৮ বনাম ৯,৫০০ — ফারাকটি প্রায় ৩৬ শতাংশ। কে গোনে আর কীভাবে গোনে, সেই প্রশ্নটি এখানেও একই।
দ্বিতীয় লেখাটি জানাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া বম জনগোষ্ঠীর বসবাস আছে ভারতের মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যে এবং মিয়ানমারের চিন প্রদেশে।
আর্কাইভের বম লেখকের একটি বাক্য এই গোটা আলোচনার সবচেয়ে সরাসরি তথ্য: মিজোরামের বই বমরা সহজে পেতে পারেন, আর সেই ভাষা তাঁরা ৭০–৮০ শতাংশ বোঝেন। লেখকের ভাষায় — “আসলে এই মিজো ভাষাই বর্তমানে আমাদের LINGUA FRANCA।”
লেখাটি আরও জানাচ্ছে:
শেষ বাক্যটিই পার্থক্যের জায়গা। একই ভাষাপরিবারের একটি ভাষা সীমান্তের একদিকে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম, আর অন্যদিকে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাই এখনো তর্কের বিষয়।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমনের আগে বম, পাংখোয়া, লুসাই তথা মিজো/জৌ ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না। মৌখিক ভাষার মাধ্যমে বংশপরম্পরায় ধরে রাখা হতো অলিখিত সাহিত্য, লোকগীতি, গল্প, পৌরাণিক কাহিনি ও ধাঁধা।
তারপর তারিখ: Rev. J. H. Lorrain এবং Rev. F. W. Savidge — এই দুই মিশনারি ১৮৯৪ সালে রোমান বর্ণমালা অনুসরণে একটি বর্ণমালা প্রবর্তন করেন। তা দিয়ে তাঁরা বাইবেলের অংশ, ধর্মীয় শিক্ষার পুস্তিকা ও অভিধান প্রকাশ করেন।
এরপরের অংশটি সীমান্তের গল্প: মিজোরাম থেকে আসা লুসাই ধর্মপ্রচারকেরা এই বর্ণমালা বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে প্রচলন করেন। লেখাটির ভাষায় “এই একই বর্ণমালা বম, পাংখোয়ারা ব্যবহার করে”।
সময়ের হিসাবটিও দেওয়া আছে: ১৮৯৪ সালে প্রবর্তিত রোমান লিপি বমদের কাছে পৌঁছায় সম্ভবত ১৯২০ সালের পরবর্তী কালে।
অর্থাৎ লিপিটি সীমান্ত পার হয়ে এসেছে — আর এসেছে প্রায় ছাব্বিশ বছর পরে।
আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখা অনুযায়ী বম, পাংখোয়া ও লুসাই জনগোষ্ঠী বর্তমানে একশত ভাগই খ্রিস্টিয়ান, আর তাঁদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচার শুরু ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে।
কে প্রচার করেছিলেন, সেটিই এই লেখার জন্য মূল তথ্য: ভারতের মণিপুর ও মিজোরামের একই ভাষাভাষী স্বগোত্রীয় লুসাইরা বমদের কাছে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন।
লেখাটি তাঁদের পরিচয়ও দিয়েছে: তাঁরা চাকরি করতেন ভারতের মণিপুর রাজ্যের চুরাচাঁদপুর (Churachandpur)-এ অবস্থিত নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া জেনারেল মিশন (সংক্ষেপে Neig Mission)-এ। সেই মিশনই তাঁদের পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারি কাজে পাঠায়।
লক্ষ করুন কাঠামোটি: ধর্ম, লিপি ও শিক্ষা — তিনটিই এসেছে একই পথ ধরে, মণিপুর ও মিজোরাম থেকে, একই ভাষাভাষী মানুষের হাত দিয়ে।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত প্রাচীন কিছু তথ্যে বনযোগী নামে একটি জনগোষ্ঠীর কথা পাওয়া যায়, কিন্তু বম নামে কোনো জনগোষ্ঠীর কথা পাওয়া যায় না। বমরা নিজেদের বলতেন বমজৌ।
লেখাটিতে এস এল পারদো ও জির কুং সাহু-র গ্রন্থ The Bawms: The Forest Wandering Tribe of the Chittagong Hill Tracts থেকে একটি তালিকা উদ্ধৃত আছে, হুবহু: ‘Banjogi, Bonjoogees, Banzoos, Bounjous, Bounjwes, Bangogis, Bunjogi, Bom-Laejo, Bom-Zou were synonymous to the word Bawm-Zo.’
দ্বিতীয় লেখাটিতে বাইরের লেখকদের ব্যবহৃত নাম তারিখসহ আছে: বনজো (বুকানন ১৭৯৮), বনযোগী (ম্যাক্রোয়া ১৮০১), বুনজোস (বারবে ১৮৪৫), বৌন-জুস ও বৌনজিস (পিয়ারে ১৮৪৫), বম ও বম-জো (লোরেন ১৯৪০), বোম-জৌ (লোফলার, ১৯৫৯), বনযোগী ও বোম (সোফার, ১৯৬৪), বম (ওলফগং মে, ১৯৬০)।
আর ‘বম’ শব্দের অর্থ লেখাগুলোতে একই — বন্ধন, মিলন, পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত, একত্রীভূত।
নাম নিয়ে এই তালিকাটি ম্রো জনগোষ্ঠীর নামের তর্কের মতোই — বাইরের লেখকের উচ্চারণ ও বানান থেকে তৈরি হওয়া নামের স্তর।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী বমদের আদি নিবাস নিয়ে প্রচলিত কাহিনিগুলোর একটি হলো — তাঁরা চীনের চিনলুং এলাকার এক গুহা থেকে এসেছেন।
লেখাটির অনুমান: এই কাহিনি মনে রাখার জন্যই বান্দরবান জেলার একটি বম গ্রামের নাম রাখা হয়েছে চিনলুং।
আর একটি বহুল প্রচলিত গীতও উদ্ধৃত আছে:
কা পা লাম তলাক আ ঠান দাং
সিন লুং লাম তলাক অ আ ন দাংঅনুবাদ: আমার পিতার পদপাত অতি চমৎকার / সিন লং পদপাত অতি চমৎকার।
গানটিতে জায়গার নামই স্মৃতির বাহক। [গানটির ভাষাগত বিশ্লেষণ ও অন্য পাঠান্তর এই লেখার উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
ভারতের উপজাতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান-পুস্তিকায় ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে দুটি রাজ্যের হিসাব আছে, আর সংখ্যাগুলো অসাধারণ।
| রাজ্য | মোট জনসংখ্যা | তফসিলি উপজাতি | রাজ্যে ST-র অংশ |
|---|---|---|---|
| মিজোরাম | ১০,৯৭,২০৬ | ১০,৩৬,১১৫ | ৯৪.৪% |
| নাগাল্যান্ড | ১৯,৭৮,৫০২ | ১৭,১০,৯৭৩ | ৮৬.৫% |
| মেঘালয় | ২৯,৬৬,৮৮৯ | ২৫,৫৫,৮৬১ | ৮৬.১% |
| মণিপুর | ২৮,৫৫,৭৯৪ | ১১,৬৭,৪২২ | ৪০.৯% |
মিজোরামে প্রায় পুরো রাজ্যই তফসিলি উপজাতি, নাগাল্যান্ডে ছয় ভাগের পাঁচেরও বেশি। এই সংখ্যাই পরের অনুচ্ছেদগুলোর আইনি ব্যবস্থাটিকে ব্যাখ্যা করে — যেখানে জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে স্বায়ত্তশাসনের চেহারা আলাদা।
তুলনার জন্য মনে রাখা দরকার, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী ও বাঙালির অনুপাত সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে গেছে — আর ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে আজকের ভূমি কমিশন পর্যন্ত সেই ইতিহাসটি আলাদা করে লেখা আছে।
একই পরিসংখ্যান-পুস্তিকায় ২০১১ সালের আদমশুমারির সাক্ষরতার টেবিলটি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত। ভারতে মোট জনসংখ্যার সাক্ষরতার হার ৭৩, তফসিলি উপজাতিদের ৫৯ — ফারাক ১৪ পয়েন্ট। কিন্তু নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে ফারাকটি উল্টো।
অর্থাৎ নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে তফসিলি উপজাতিদের সাক্ষরতার হার রাজ্যের সার্বিক হারের চেয়ে বেশি। আর ত্রিপুরায় ফারাকটি ৮ পয়েন্টের বেশি — ভারতের জাতীয় ছবির দিকেই।
জাতীয় সময়রেখাটিও একই পুস্তিকায় আছে: তফসিলি উপজাতিদের সাক্ষরতার হার ১৯৬১ সালে ৮.৫৩ থেকে ২০১১ সালে ৫৯.০০, আর ২০২২–২৩-এর শ্রমশক্তি সমীক্ষার হিসাবে ৭৩.৬০।
নাগাল্যান্ড ও মিজোরামের স্বায়ত্তশাসন একই আইনি পথে আসেনি। নাগাল্যান্ডের জন্য আছে সংবিধানের ৩৭১A অনুচ্ছেদ, মিজোরামের জন্য ৩৭১G — আর মিজোরামে এর সঙ্গে আছে ষষ্ঠ তফসিল, যা নাগাল্যান্ডে নেই।
এই পার্থক্যটি না জানলে “ভারতে আদিবাসীদের স্বায়ত্তশাসন আছে” কথাটি বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে। ব্যবস্থাটি একটি নয়, অন্তত তিনটি — অনুচ্ছেদ-ভিত্তিক বিশেষ বিধান, ষষ্ঠ তফসিলের স্বশাসিত জেলা পরিষদ, আর পঞ্চম তফসিলের তফসিলি এলাকা।
নিচে প্রথম দুটি ধরে ধরে দেখা হচ্ছে, সংবিধানের নিজের ভাষায়।
সংবিধানের ৩৭১A অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে Constitution (Thirteenth Amendment) Act, 1962 দিয়ে, কার্যকর ১ ডিসেম্বর ১৯৬৩ থেকে। অনুচ্ছেদটি বলছে, সংবিধানে যা-ই থাকুক, চারটি বিষয়ে সংসদের কোনো আইন নাগাল্যান্ডে প্রযোজ্য হবে না — যদি না নাগাল্যান্ড বিধানসভা প্রস্তাব পাস করে সেটি ঠিক করে।
চারটি বিষয় হুবহু:
শেষ শব্দগুলো মনে রাখা দরকার — “and its resources”। অর্থাৎ ভূমির নিচের ও উপরের সম্পদও এই সুরক্ষার আওতায়।
অনুচ্ছেদটির আরেকটি উপধারা রাজ্যপালকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে: নাগাল্যান্ড গঠনের ঠিক আগে Naga Hills-Tuensang Area-তে যে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ চলছিল, তা যতদিন তাঁর মতে চলতে থাকবে, ততদিন আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে রাজ্যপালের বিশেষ দায়িত্ব থাকবে — এবং মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবেন।
পাঠটিতে একটি শর্তও আছে: এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে রাজ্যপালের স্বীয় বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এবং তিনি ঠিক করেছেন কি না — এই যুক্তিতে তাঁর কাজের বৈধতা প্রশ্ন করা যাবে না।
মিজোরামের ৩৭১G অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে Constitution (Fifty-third Amendment) Act, 1986 দিয়ে, কার্যকর ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ থেকে। গঠন প্রায় একই — চারটি বিষয়ে সংসদের আইন প্রযোজ্য হবে না, যদি না মিজোরাম বিধানসভা প্রস্তাব পাস করে।
চারটি বিষয় হুবহু: religious or social practices of the Mizos; Mizo customary law and procedure; administration of civil and criminal justice involving decisions according to Mizo customary law; ownership and transfer of land।
তুলনা করুন ৩৭১A-র সঙ্গে। চতুর্থ বিষয়ে নাগাল্যান্ডের পাঠে আছে “ownership and transfer of land and its resources”; মিজোরামের পাঠে আছে কেবল “ownership and transfer of land”।
“and its resources” শব্দগুলো মিজোরামের অনুচ্ছেদে নেই। সংবিধানের পাঠে এটিই পার্থক্য — আর ভূমির নিচের সম্পদ নিয়ে তর্ক হলে এই তিনটি শব্দের ওজন অনেক।
৩৭১G-তে একটি শর্তও আছে: ৫৩তম সংশোধনী কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে মিজোরাম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বলবৎ থাকা কোনো কেন্দ্রীয় আইনের উপর এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।
আর একটি বিধান সংখ্যার: মিজোরামের বিধানসভায় সদস্যসংখ্যা চল্লিশের কম হবে না (“not less than forty members”)।
সংবিধানের পাদটীকায় তারিখটি আছে। State of Mizoram Act, 1986 (34 of 1986)-এর ৩৯ ধারা দিয়ে ষষ্ঠ তফসিলে “Union territory” শব্দের জায়গায় “State” বসানো হয়, কার্যকর ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ থেকে।
একই তারিখে ৩৭১G অনুচ্ছেদও কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা — দুটি একসঙ্গে এসেছে।
এই একই সময়ের মধ্যে আরেকটি ঘটনাও ঘটেছে, আর সংবিধানের পাদটীকাতেই তা দেখা যায়: Constitution (Fifty-fifth Amendment) Act, 1986 দিয়ে অরুণাচল প্রদেশের জন্য ৩৭১H অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়, কার্যকর একই দিন — ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭।
সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের শিরোনামই তার পরিধি জানিয়ে দেয়: “Administration of Tribal Areas in the States of Assam, Meghalaya, Tripura and Mizoram” — আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
লক্ষ করুন তালিকায় কোন রাজ্যটি নেই — নাগাল্যান্ড। নাগাল্যান্ডের ব্যবস্থা ৩৭১A অনুচ্ছেদের, ষষ্ঠ তফসিলের নয়।
তফসিলের ২০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নিচের টেবিলের Part I, II, IIA ও III-তে উল্লিখিত এলাকাগুলোই যথাক্রমে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের tribal areas।
সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের টেবিলটি হুবহু এই:
| ভাগ | রাজ্য | স্বশাসিত জেলা |
|---|---|---|
| Part I | আসাম | The North Cachar Hills District; The Karbi Anglong District; The Bodoland Territorial Areas District |
| Part II | মেঘালয় | Khasi Hills District; Jaintia Hills District; The Garo Hills District |
| Part IIA | ত্রিপুরা | Tripura Tribal Areas District |
| Part III | মিজোরাম | The Chakma District; The Mara District; The Lai District |
আসামের Bodoland Territorial Areas District যুক্ত হয়েছে Sixth Schedule to the Constitution (Amendment) Act, 2003 দিয়ে, কার্যকর ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৩।
আর ত্রিপুরার Part IIA যুক্ত হয়েছে Constitution (Forty-ninth Amendment) Act, 1984 দিয়ে, কার্যকর ১ এপ্রিল ১৯৮৫। সংবিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই “Tripura Tribal Areas District” মানে Tripura Tribal Areas Autonomous District Council Act, 1979-এর প্রথম তফসিলে উল্লিখিত উপজাতীয় এলাকাগুলো।
ষষ্ঠ তফসিলের Part III-তে মিজোরামের তিনটি স্বশাসিত জেলার প্রথম নামটি জুমজার্নালের পাঠকের জন্য আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ — The Chakma District।
অর্থাৎ ভারতের সংবিধানের একটি তফসিলে চাকমাদের নামে একটি স্বশাসিত জেলা নথিবদ্ধ আছে, আর তার সঙ্গে আছে Mara ও Lai জেলা।
এই জেলাগুলোর ক্ষমতা কী, তা পরের অনুচ্ছেদে। আর ভারতের চাকমাদের নিয়ে আলাদা লেখায় অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরার অবস্থা ধরে ধরে আছে।
তফসিলের ২০A অনুচ্ছেদে আরেকটি তথ্য আছে: নির্দিষ্ট তারিখের আগে বিদ্যমান Mizo District-এর জেলা পরিষদ (Mizo District Council) বিলুপ্ত হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়।
ষষ্ঠ তফসিলের ৩ অনুচ্ছেদ জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছে — দশটি নির্দিষ্ট বিষয়ে। তালিকাটি হুবহু:
তালিকাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে অপরিচিত হতে পারে না। জুম নিয়ন্ত্রণ, হেডম্যানের উত্তরাধিকার, উত্তরাধিকার, বিয়ে, সামাজিক প্রথা — এগুলোই পাহাড়ের প্রথাগত প্রশাসনের বিষয়।
পার্থক্যটি কাঠামোয়। পাহাড়ে এই বিষয়গুলো দেখে প্রথাগত প্রতিষ্ঠান — সার্কেল চিফ, হেডম্যান, কার্বারি। ষষ্ঠ তফসিলে একই বিষয়গুলোতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে একটি নির্বাচিত পরিষদকে।
ষষ্ঠ তফসিলের একই অনুচ্ছেদে দুটি সীমাও লেখা আছে, আর সেগুলো না পড়লে ক্ষমতাটি বড় মনে হয়।
প্রথম সীমা: ভূমি-সংক্রান্ত ক্ষমতা সংরক্ষিত বনে প্রযোজ্য নয়। তফসিলে “reserved forest”-এর সংজ্ঞাও দেওয়া আছে — Assam Forest Regulation, 1891 অথবা সেই এলাকায় বলবৎ অন্য যেকোনো আইনের অধীনে সংরক্ষিত বন।
দ্বিতীয় সীমা একটি শর্তে: এই আইনগুলোর কোনোটি জনস্বার্থে ভূমির বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ ঠেকাতে পারবে না — দখলকৃত হোক বা অদখলকৃত — যদি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার বলবৎ আইন অনুযায়ী তা করে।
অর্থাৎ পরিষদ ভূমির বরাদ্দ ও ব্যবহারের আইন করতে পারে, কিন্তু রাজ্য সরকারের অধিগ্রহণের ক্ষমতা তাতে আটকায় না।
ষষ্ঠ তফসিলের ৩ অনুচ্ছেদের তৃতীয় উপধারাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু নির্ধারক: “All laws made under this paragraph shall be submitted forthwith to the Governor and, until assented to by him, shall have no effect.”
অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদের অধীনে করা সব আইন অবিলম্বে রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হবে, আর তিনি সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলোর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
এটিই স্বায়ত্তশাসনের সীমারেখা। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নির্বাচিত পরিষদের, কিন্তু আইনটি জীবন পায় কেন্দ্র-নিযুক্ত রাজ্যপালের সম্মতিতে।
ষষ্ঠ তফসিলের ৪ অনুচ্ছেদ বিচারব্যবস্থা নিয়ে, আর সেখানে একটি শব্দবন্ধ আছে যা অসাধারণ: জেলা বা আঞ্চলিক পরিষদ গ্রাম পরিষদ বা আদালত গঠন করতে পারে — এমন মামলা ও বিরোধের বিচারের জন্য যেখানে সব পক্ষই তফসিলি উপজাতির — এবং সেটি “to the exclusion of any court in the State”।
অর্থাৎ রাজ্যের অন্য যেকোনো আদালতকে বাদ দিয়ে। এই এলাকায়, এই ধরনের মামলায়, প্রথাগত আদালতই আদালত।
পরিষদ এই আদালতগুলোর সদস্য ও পিঠাসীন কর্মকর্তা হিসেবে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারে, এবং ৩ অনুচ্ছেদের অধীনে করা আইনগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাও নিয়োগ করতে পারে।
একটি ব্যতিক্রম আছে: তফসিলের ৫ অনুচ্ছেদের প্রথম উপধারা যেসব মামলায় প্রযোজ্য, সেগুলো এর বাইরে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MHA) উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিভাগের একটি নথিতে বাক্যটি সংক্ষিপ্ত: “NSCN(Isak-Muivah) has signed a Ceasefire Agreement for an indefinite period.” — NSCN (ইসাক-মুইভা) অনির্দিষ্টকালের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে।
“অনির্দিষ্টকালের জন্য” — এই শব্দবন্ধটিই কাঠামোটি বলে দেয়। যুদ্ধবিরতির কোনো শেষ তারিখ নেই, আর তাই এটি নবায়নেরও দরকার হয় না।
একই নথিতে অন্য গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতির ছবি আলাদা — সেগুলো এক বছর করে বাড়ানো হয়। যেমন নথিটিতে লেখা আছে, NSCN (NK) ও NSCN(R)-এর যুদ্ধবিরতি ২৮.০৪.২০২১ থেকে ২৭.০৪.২০২২ পর্যন্ত এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল, আর NSCN(K-Khango)-র ১৮.০৪.২০২১ থেকে ১৭.০৪.২০২২ পর্যন্ত।
MHA-র পরের নথিতে সময়সীমা আরও এগিয়েছে: NSCN/R, NSCN (NK) ও NSCN (K-Khango)-র যুদ্ধবিরতির সময়সীমা এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
MHA-র দুটি নথিতেই একই তারিখ: ৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে NSCN(IM)-এর সঙ্গে একটি Framework Agreement সই হয়েছে।
নথিগুলোতে এই চুক্তির শর্তাবলি দেওয়া নেই — কেবল তারিখ ও নাম। চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা এই নথিগুলো থেকে জানা যায় না।
তাই এখানে কেবল যা নথিতে আছে, সেটিই লেখা থাকল: একটি রূপরেখা-চুক্তি হয়েছে, তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৫, এবং আলাদা করে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিও বহাল।
[Framework Agreement-এর পূর্ণ পাঠ এই লেখার উৎসে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
MHA-র নথিতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হিসাব সংখ্যাসহ আছে। NSCN(K) Niki গোষ্ঠীর সঙ্গে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়, আর এই গোষ্ঠীর ২০০-র বেশি ক্যাডার ৮৩টি অস্ত্রসহ শান্তিপ্রক্রিয়ায় যোগ দেয়।
পরের নথি অনুযায়ী NSCN(K) Niki-র যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ৭.৯.২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেশী মণিপুরের ব্যবস্থাটিও নথিতে আছে, আর সেখানে নামটি আলাদা — Suspension of Operation (SoO)। পুরনো নথি অনুযায়ী দুটি সমষ্টির অধীনে মোট ২৩টি গোষ্ঠী — United Peoples’ Front (UPF)-এর ৮টি এবং Kuki National Organization (KNO)-এর ১৫টি — ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ভারত সরকারের সঙ্গে SoO-তে আছে।
নতুন নথি অনুযায়ী UPF ও KNO-র সঙ্গে সংশোধিত ভিত্তি-নিয়মে একটি ত্রিপক্ষীয় SoO চুক্তি সই হয়েছে ০৪.০৯.২০২৫ তারিখে, যা ০৩.০৯.২০২৬ পর্যন্ত বৈধ।
আর মণিপুরের Zeliangrong United Front (ZUF) গোষ্ঠীর সঙ্গে ২৭.১২.২০২২ তারিখে একটি Cessation of Operations (CoO) চুক্তি সই হয়।
MHA-র নথির প্রথম দাবিটি পরিমাণগত: “Compared to 2014, there has been 64% reduction in insurgency incidents in 2024.” — ২০১৪-র তুলনায় ২০২৪ সালে বিদ্রোহ-সংক্রান্ত ঘটনা ৬৪ শতাংশ কমেছে।
একই নথিতে আরও দুটি সংখ্যা: এই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহত ৮৫ শতাংশ এবং বেসামরিক মৃত্যু ৮৬ শতাংশ কমেছে।
নথিটি এগুলোকে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হিসাব হিসেবে দিয়েছে, রাজ্য ধরে ধরে নয়। [রাজ্যভিত্তিক ভাঙা হিসাব এই নথিতে নেই — যাচাই প্রয়োজন]
MHA-র নথিতে Armed Forces (Special Powers) Act-এর অধীনে “disturbed areas” কমে আসার একটি তালিকা আছে — রাজ্য ধরে ধরে, তারিখসহ।
| রাজ্য | নথিতে যা লেখা |
|---|---|
| ত্রিপুরা | সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, কার্যকর ২৭.০৫.২০১৫ |
| মেঘালয় | সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, কার্যকর ০১.০৪.২০১৮ |
| আসাম | ৩টি জেলা ছাড়া সব জেলা থেকে প্রত্যাহার |
| অরুণাচল প্রদেশ | ধীরে ধীরে প্রত্যাহার; এখন কেবল ৩টি জেলায় (Tirap, Changlang ও Longding) এবং আরেক জেলার ৩টি থানায় (Namsai) |
| মণিপুর | ৫টি জেলার ১৩টি থানা থেকে প্রত্যাহার |
| নাগাল্যান্ড | এখন ৯টি জেলায় এবং আরও ৫টি জেলার ২১টি থানায় প্রযোজ্য |
একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার: এই তালিকায় মিজোরামের নাম নেই। নথিটি মিজোরাম নিয়ে কিছু বলেনি — তাই এখান থেকে মিজোরামের অবস্থা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না, কেবল এটুকু যে তালিকায় রাজ্যটি নেই।
নাগাল্যান্ডের সারিটি পড়ে একটি ব্যাপার মনে রাখা দরকার: অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি, ২০১৫-র রূপরেখা-চুক্তি, ৩৭১A-র সাংবিধানিক সুরক্ষা — তিনটিই আছে, আর তবু ৯টি জেলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন বলবৎ।
MHA-র নথিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান্তিচুক্তিগুলো তারিখ ও সংখ্যাসহ তালিকা করা আছে। পুরো তালিকাটি একসঙ্গে পড়লে একটি ধারা দেখা যায়।
| চুক্তি | তারিখ | নথিতে উল্লিখিত ফল |
|---|---|---|
| ANVC ও ANVC/B (মেঘালয়) | ২৪.০৯.২০১৪ | ৭৫১ জন আত্মসমর্পণ; ১৫.১২.২০১৪-তে বিলুপ্তি |
| NLFT (SD), ত্রিপুরা | ১০.০৮.২০১৯ | ৮৮ জন, ৪৪টি অস্ত্র |
| বোড়ো চুক্তি (আসাম) | ২৭.০১.২০২০ | NDFB-র ৪,৮৮১ জন; ৯–১০ মার্চ ২০২০-তে বিলুপ্তি |
| কার্বি চুক্তি (আসাম) | ০৪.০৯.২০২১ | ১,৯২৬ জন |
| আদিবাসী চুক্তি (আসাম), ৮টি গোষ্ঠী | ১৫.০৯.২০২২ | ১,১৮২ জন |
| DNLA/DPSC (আসাম) | ২৭.০৪.২০২৩ | ১৮১ জন, ২৮.১০.২০২৩-এ অস্ত্র সমর্পণ |
| UNLF (মণিপুর) | ২৯.১১.২০২৩ | নথির ভাষায় মণিপুরের উপত্যকাভিত্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম |
| ULFA (আসাম) | ২৯.১২.২০২৩ | ৮৫২ জন; ২৩.০১.২০২৪-তে বিলুপ্তি |
| NLFT ও ATTF (ত্রিপুরা) | ০৪.০৯.২০২৪ | ৯১৮ জন |
UNLF চুক্তি নিয়ে নথির ভাষাটি লক্ষণীয়: এটি “agreed ground rules”-এর উপর একটি চুক্তি, আর নথি জানাচ্ছে UNLF — মণিপুরের উপত্যকাভিত্তিক প্রাচীনতম সশস্ত্র গোষ্ঠী — সহিংসতা পরিত্যাগ করে ভারতের সংবিধান ও আইনের শাসন গ্রহণ করতে সম্মত হয়; নথির দাবি অনুযায়ী এই প্রথমবার মণিপুরের কোনো উপত্যকাভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী মূলধারায় ফিরতে রাজি হলো।
MHA-র নথিতে একটি চুক্তি আছে, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর নয় — বাস্তুচ্যুত মানুষের। ১৬.০১.২০২০ তারিখে ব্রু অভিবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়, ত্রিপুরায় ব্রু (রিয়াং) পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য।
সংখ্যাগুলো নথিতে আছে: ৬,৯৩৫টি ব্রু (রিয়াং) পরিবার — ৩৭,৫৮৪ জন মানুষ — ত্রিপুরায় পুনর্বাসিত হচ্ছেন, আর তার জন্য আর্থিক প্যাকেজ ৭৯৩.৬৫ কোটি রুপি।
এই চুক্তিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঠকের কাছে সবচেয়ে কাছের প্রসঙ্গ হতে পারে। বড়পরং-এর পরে যাঁরা ভারতে গিয়েছিলেন, তাঁদের পুনর্বাসনের কোনো সংখ্যা-নির্দিষ্ট চুক্তি কখনো হয়নি — অন্তত এই লেখার উৎসে তার উল্লেখ নেই।
MHA-র নথির সবচেয়ে সাম্প্রতিক ত্রিপুরা-চুক্তিটি ২ মার্চ ২০২৪ তারিখে নয়াদিল্লিতে সই হয় — ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং The Indigenous Progressive Regional Alliance/TIPRA, যা Tipra Motha নামে পরিচিত — এই তিন পক্ষের মধ্যে।
চুক্তিতে যা মেটানোর কথা বলা হয়েছে, তার তালিকাটি নথিতে হুবহু আছে: ত্রিপুরার আদিবাসী মানুষের ইতিহাস, ভূমি ও রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভাষা সংক্রান্ত সব বিষয় সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করা।
পদ্ধতিও লেখা আছে: উপরের সব বিষয়ে পরস্পর-সম্মত বিন্দুগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য একটি Joint Working Group/Committee গঠন করা হয়েছে।
তালিকাটি পড়লে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়সূচির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় — ভূমি, রাজনৈতিক অধিকার, পরিচয়, সংস্কৃতি। আর “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে” কথাটিও পরিচিত।
MHA-র নথিতে আরেক ধরনের চুক্তিও আছে — রাজ্যে-রাজ্যে সীমানা নিয়ে।
১২৩টি গ্রাম নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি — এই ধরনের নির্দিষ্টতা পাহাড়ের ভূমিবিরোধের আলোচনায় বিরল।
এই লেখার উৎসগুলো একসঙ্গে পড়লে তিনটি জিনিস দাঁড়ায়, আর তিনটিই তুলনীয়।
এক — ভাষার আত্মীয়তা সীমান্ত মানেনি, কিন্তু সুযোগ মানেছে। বম, পাংখোয়া ও লুসাই মিজো ভাষা ৭০–৮০ শতাংশ বোঝেন, মিজোরামের গান তাঁদের মুখে মুখে, মিজোরামের বই তাঁরা পান — আর সেই একই ভাষা মিজোরামে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যম। লিপিটি ১৮৯৪ সালে তৈরি, সীমান্ত পার হয়ে এসেছে ১৯২০-র পরে, আর দুজন বম ১৯২৯ সালে শিখতে গিয়েছিলেন সিরতে গ্রামে।
দুই — স্বায়ত্তশাসনের বিষয়সূচি একই, কাঠামো আলাদা। ষষ্ঠ তফসিলের দশটি বিষয়ের মধ্যে জুম নিয়ন্ত্রণ, হেডম্যানের উত্তরাধিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে ও সামাজিক প্রথা আছে — ঠিক যা পাহাড়ের প্রথাগত প্রশাসনের বিষয়। পার্থক্য হলো, ওখানে এগুলোতে আইন করার ক্ষমতা একটি নির্বাচিত পরিষদের, আর সেই আইন কার্যকর হয় রাজ্যপালের সম্মতিতে। ভূমি-ক্ষমতা সংরক্ষিত বনে পৌঁছায় না, আর রাজ্যের বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণও আটকায় না।
তিন — নথিতে লেখা থাকলে হিসাব চাওয়া যায়। MHA-র নথিতে চুক্তির তারিখ, আত্মসমর্পণের সংখ্যা, অস্ত্রের সংখ্যা, পুনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ও টাকার অঙ্ক — সব একসঙ্গে ছাপা। ৬,৯৩৫টি পরিবার, ৩৭,৫৮৪ জন, ৭৯৩.৬৫ কোটি রুপি। এই ধরনের তালিকা থাকলে কতটা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলানো যায়।
আর একটি কথা শেষে। ষষ্ঠ তফসিলের টেবিলের Part III-তে মিজোরামের প্রথম স্বশাসিত জেলার নাম The Chakma District। সীমান্তের ওপারে, ভারতের সংবিধানের তফসিলে, একটি চাকমা জেলা নথিবদ্ধ আছে।
আর্কাইভের “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লেখা অনুযায়ী বম সমাজ নিজেদের প্রথাগত আইন একটি বইয়ে লিখে প্রকাশ করেছে — বইটির নাম ‘বম ডান বু’, আর তা ব্যবহার হয় সামাজিক বিচার-সালিশে।
লেখাটির বিবরণ অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ গ্রামেই সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়, আর বম সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রাচীন রীতি-নীতি, প্রথা ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সর্বসম্মতভাবে বম সোশ্যাল কাউন্সিল গঠন করেন।
লেখাটিতে একটি সমস্যাও স্বীকার করা আছে: সময়োপযোগী পরিবর্তন না হওয়ায় এই প্রথাগত সামাজিক আইনগুলো প্রয়োগে বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট দেখা দিচ্ছে।
এই স্বীকৃতিটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথাগত আইন লিখিত রূপ পেলে প্রয়োগ সহজ হয়, কিন্তু লিখিত রূপই আবার পরিবর্তনকে শক্ত করে তোলে — আর পাংখোয়া নারীর অবস্থান নিয়ে আলাদা লেখায় সেই প্রশ্নটি ধরে ধরে আছে।
ষষ্ঠ তফসিলের সঙ্গে তুলনাটি এখানেই দেখা যায়। ওখানে প্রথাগত বিষয়গুলোতে আইন করে সেটি রাজ্যপালের সম্মতিতে কার্যকর হয়; এখানে প্রথাগত আইন সমাজের নিজের বই, যার কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি-প্রক্রিয়ার কথা লেখাটিতে নেই।
আর্কাইভের “বম ভাষা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” লেখাটি শেষ হয় একটি সতর্কবার্তায়, আর সেটি লেখকের নিজের ভাষাতেই উদ্ধৃত করা ভালো।
লেখাটিতে বলা হয়েছে, কেবল বম ভাষা নয় — পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনমানুষের কোনো ভাষাই “ভাল নেই, যতটা ভাল থাকা উচিত”। অন্য দেশের মতো বম ভাষাও দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, আর অন্য জাতিগুলোর মাতৃভাষাও বিলীন হওয়ার পথে।
আর লেখকের উপসংহারটি সবচেয়ে সরাসরি: সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে অনেক জনগোষ্ঠীর ভাষা চিরতরে হারিয়ে যাবে — আর তাঁর কথায়, “যে দেশে ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে, সে দেশে এমন ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক হবে”।
লেখাটির সমাধান-প্রস্তাবও একটি বাক্যে: একটি ভাষাকে রক্ষা, সমৃদ্ধ ও বিকশিত করতে হলে মাতৃভাষায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
এই অনুচ্ছেদের পাশে আগের সংখ্যাটি রাখা যায়: মিজোরামে একই ভাষাপরিবারের একটি ভাষায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী ‘বম’ শব্দের অর্থ বন্ধন, মিলন, পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত, একত্রীভূত, এক করা বা হওয়া — আর এই অর্থের পেছনে একটি ইতিহাস আছে।
লেখাটির বিবরণ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পরিভ্রমণ, গোত্রীয় প্রাধান্যের লড়াই, উপগোত্রীয় দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ — এসব কারণে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে দলছুট বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গহিন অরণ্য ও দুর্গম পাহাড়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যান।
আর ছোট দলে ভাগ হওয়ার ফলে তাঁরা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, সংখ্যাও কমতে থাকে।
অর্থাৎ নামটির অর্থ — “এক করা” — ওই ভাঙনের বিপরীত প্রতিক্রিয়া। একটি জনগোষ্ঠীর নিজের দেওয়া নামে তার ইতিহাসের সমস্যাটিই ধরা আছে।
সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদে একটি ব্যাখ্যা-নিয়ম আছে, যা না জানলে টেবিলটি ভুল পড়া হয়।
অনুচ্ছেদটি বলছে, টেবিলের Part I, II বা III-তে কোনো জেলার যে উল্লেখ আছে, তা পড়তে হবে North-Eastern Areas (Reorganisation) Act, 1971-এর ২ ধারার (b) দফার অধীনে নির্ধারিত দিনের ঠিক আগে বিদ্যমান সেই নামের স্বশাসিত জেলার ভেতরের এলাকাগুলোর উল্লেখ হিসেবে।
অর্থাৎ নামগুলো আজকের প্রশাসনিক জেলার নাম নয় — ১৯৭১ সালের পুনর্গঠনের আগের স্বশাসিত জেলার এলাকা।
একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমও লেখা আছে: তফসিলের কয়েকটি নির্দিষ্ট দফার জন্য শিলং পৌরসভার ভেতরের কোনো অংশ Khasi Hills District-এর মধ্যে বলে গণ্য হবে না।
এই ধরনের খুঁটিনাটি পড়তে ক্লান্তিকর, কিন্তু এগুলোর উপরেই নির্ভর করে কোন গ্রাম কোন পরিষদের আওতায় পড়ে — আর সেটাই ভূমি-বিরোধের মূল প্রশ্ন।
জুমজার্নালের আর্কাইভে প্রকাশিত লেখা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের বম জনগোষ্ঠী কুকি-চিন বা সিনো-টিবেটান ভাষাগোষ্ঠীর অংশ, আর এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ বিভিন্ন পরিচয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, মিয়ানমারের চিন স্টেট ও আরাকান এবং ভারতের মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও আসামে বসবাস করেন।
আর্কাইভের বম লেখকের ভাষায় মিজোরামের বই বমরা সহজে পান এবং সেই ভাষা ৭০–৮০ শতাংশ বোঝেন; তাঁর কথায় “এই মিজো ভাষাই বর্তমানে আমাদের LINGUA FRANCA”। লেখাটি অনুযায়ী বাংলাদেশের বম, পাংখোয়া ও লুসাই সবাই মিজো ভাষা কম-বেশি বোঝেন, আর মিজোরামে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ভাষায় পড়ানো হয়।
আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমনের আগে বম, পাংখোয়া, লুসাই তথা মিজো/জৌ ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না। Rev. J. H. Lorrain ও Rev. F. W. Savidge ১৮৯৪ সালে রোমান বর্ণমালা অনুসরণে একটি বর্ণমালা প্রবর্তন করেন, আর মিজোরাম থেকে আসা লুসাই ধর্মপ্রচারকেরা সেটি বম ও পাংখোয়াদের মধ্যে প্রচলন করেন। বমদের কাছে লিপিটি পৌঁছায় সম্ভবত ১৯২০ সালের পরে।
সংবিধানের ৩৭১A অনুচ্ছেদ — যুক্ত হয়েছে Constitution (Thirteenth Amendment) Act, 1962 দিয়ে, কার্যকর ১ ডিসেম্বর ১৯৬৩। এতে বলা আছে, নাগাদের ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা, নাগা প্রথাগত আইন ও পদ্ধতি, সেই আইন অনুযায়ী দেওয়ানি-ফৌজদারি বিচার, এবং ভূমি ও তার সম্পদের মালিকানা ও হস্তান্তর — এই চার বিষয়ে সংসদের কোনো আইন নাগাল্যান্ডে প্রযোজ্য হবে না, যদি না নাগাল্যান্ড বিধানসভা প্রস্তাব পাস করে।
একই গঠনের চারটি বিষয় — মিজোদের ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা, মিজো প্রথাগত আইন ও পদ্ধতি, সেই আইন অনুযায়ী বিচার, এবং ভূমির মালিকানা ও হস্তান্তর। অনুচ্ছেদটি যুক্ত হয়েছে Constitution (Fifty-third Amendment) Act, 1986 দিয়ে, কার্যকর ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭। মিজোরামের বিধানসভায় সদস্যসংখ্যা চল্লিশের কম হবে না — এই বিধানও এতে আছে।
সংবিধানের পাঠে চতুর্থ বিষয়টিতে পার্থক্য। নাগাল্যান্ডের ৩৭১A-তে লেখা “ownership and transfer of land and its resources”, আর মিজোরামের ৩৭১G-তে কেবল “ownership and transfer of land” — অর্থাৎ “and its resources” শব্দগুলো মিজোরামের অনুচ্ছেদে নেই।
ষষ্ঠ তফসিলের শিরোনাম অনুযায়ী আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। নাগাল্যান্ড এই তালিকায় নেই — সেখানকার ব্যবস্থা ৩৭১A অনুচ্ছেদের।
তফসিলের ৩ অনুচ্ছেদে দশটি বিষয় আছে: ভূমির বরাদ্দ-দখল-ব্যবহার (সংরক্ষিত বন ছাড়া), সংরক্ষিত নয় এমন বনের ব্যবস্থাপনা, কৃষির জন্য খাল বা জলপথ, জুম বা অন্য স্থানান্তর-কৃষি নিয়ন্ত্রণ, গ্রাম/শহর কমিটি গঠন ও ক্ষমতা, গ্রাম/শহর প্রশাসনের অন্য বিষয়, চিফ বা হেডম্যান নিয়োগ ও উত্তরাধিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ, এবং সামাজিক প্রথা।
তফসিলের ৩ অনুচ্ছেদের তৃতীয় উপধারা অনুযায়ী এই অনুচ্ছেদের অধীনে করা সব আইন অবিলম্বে রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হবে, এবং তিনি সম্মতি না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলোর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
ষষ্ঠ তফসিলের টেবিলের Part III অনুযায়ী তিনটি — The Chakma District, The Mara District এবং The Lai District।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী NSCN (ইসাক-মুইভা) অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে, আর NSCN(IM)-এর সঙ্গে একটি Framework Agreement সই হয়েছে ৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে। অন্য গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয় এবং বাড়ানো হয় — NSCN/R, NSCN(NK) ও NSCN(K-Khango)-র সময়সীমা এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত।
MHA-র নথি অনুযায়ী ২০১৪-র তুলনায় ২০২৪ সালে বিদ্রোহ-সংক্রান্ত ঘটনা ৬৪ শতাংশ কমেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহত ৮৫ শতাংশ এবং বেসামরিক মৃত্যু ৮৬ শতাংশ কমেছে। একই নথিতে AFSPA-র “disturbed areas” কমে আসার তালিকাও আছে — ত্রিপুরায় ২৭.০৫.২০১৫ থেকে এবং মেঘালয়ে ০১.০৪.২০১৮ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, আর নাগাল্যান্ডে এখন ৯টি জেলা ও আরও ৫টি জেলার ২১টি থানায় প্রযোজ্য।
সংবিধান ও সরকারি নথির ইংরেজি শব্দবন্ধ এবং সব ব্যক্তি-স্থান-জাতির নাম মূল রূপে রাখা হয়েছে। পরিভাষার ক্ষেত্রে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেই নথির শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬।
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী ভাষা, আন্তর্জাতিক, বম আদিবাসী, ভারতের আদিবাসী, লুসাই আদিবাসী
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।