Last updated Nov 3rd, 2026
0

আগস্ট 2026-এর প্রথম সপ্তাহে রাঙামাটিতে একই সময়ে দুটি কথা শোনা গেল। প্রথম আলো ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির গোলটেবিলে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বললেন, জুমচাষকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আর পরদিন প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন মনে করিয়ে দিল, বন অধিদপ্তরের ভেতরে এখনো একটি বিভাগ আছে যার নামই “জুম নিয়ন্ত্রণ”, আর যার দাপ্তরিক কাজের তালিকায় প্রথম কথাটি জুম চাষ নিয়ন্ত্রণ করা।
তাহলে জুম চাষ নিষিদ্ধ, না স্বীকৃত? সংক্ষেপে উত্তর: বাংলাদেশে জুম চাষ নিষিদ্ধ নয়, তবে সংরক্ষিত বনে নিষিদ্ধ, রক্ষিত বনে সীমিত, আর বাকি পাহাড়ি জমিতে 1900 সালের শাসনবিধির 41 বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত। দেড়শো বছর ধরে রাষ্ট্রের নীতি জুমকে কখনো পুরোপুরি মেনে নেয়নি, পুরোপুরি বন্ধও করতে পারেনি — এই লেখা সেই নীতিগুলোর তারিখ, দলিল আর ফলাফল ধরে ধরে সাজানো।
জুম চাষ নিজে কীভাবে হয় — চক্র, ফসল, যন্ত্রপাতি — তা আছে আমাদের মূল লেখা জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে-এ। জুম বন ধ্বংস করে কি না, সেই বৈজ্ঞানিক বিতর্ক আছে পাহাড়ের বন কমেছে কীসে লেখায়। এখানে প্রশ্ন একটাই: রাষ্ট্র জুম নিয়ে কী বলেছে, আর কী করেছে।
এই লেখায়
জুম চাষ নিষিদ্ধ কি না, তা নির্ভর করে জমিটি কোন শ্রেণির। সংরক্ষিত বনে জুম নিষিদ্ধ, কারণ বন আইনের 26 ধারা সেখানে আগুন জ্বালানো ও চাষের জন্য জমি পরিষ্কার দণ্ডনীয় করেছে। রক্ষিত বনে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাষ বন্ধ করতে পারে। বাকি পাহাড়ি জমিতে জুম বৈধ, তবে নিয়ন্ত্রিত।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি আইনের চোখে কয়েক ভাগে বিভক্ত। শাসনবিধির 35 বিধি বলছে, জেলাটি গঠিত সংরক্ষিত বন, তিন চিফের সার্কেল আর মাইনি উপত্যকা নিয়ে; 37 বিধি বলছে, সংরক্ষিত বনের বাইরের পুরো এলাকা মৌজায় ভাগ করা। জুমের আইনি অবস্থান এই ভাগের ওপরই দাঁড়িয়ে।
| জমির ধরন | জুমের অবস্থা | কোন আইন বা দলিল | কে নিয়ন্ত্রণ করে |
|---|---|---|---|
| সংরক্ষিত বন (রিজার্ভ ফরেস্ট) | নিষিদ্ধ | বন আইন 1927, ধারা 5 ও 26(1A); বন অধিদপ্তরের 2020 সালের অ্যাটলাস | বন অধিদপ্তর |
| রক্ষিত বন (প্রটেক্টেড ফরেস্ট) | সীমিত; বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বন্ধ করা যায় | বন আইন 1927, ধারা 30(c) | বন অধিদপ্তর |
| অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন বা মৌজার জমি | বৈধ, তবে নিয়ন্ত্রিত; জুম কর দিতে হয় | শাসনবিধি 41, 41A ও 42 | 2014-এর আগে জেলা প্রশাসক, পরে জেলা পরিষদ; মৌজায় হেডম্যান |
| নদীর তীর | নিষেধ করা যায় | শাসনবিধি 34B (1939) | জেলা প্রশাসক |
সংরক্ষিত বনের নিষেধ যে রাষ্ট্রের নিজের ভাষাতেই স্পষ্ট, তা দেখা যায় বন অধিদপ্তরের 2020 সালের Forest Conservation and Management Atlas-এ। সেখানে ব্রিটিশ আমলের ব্যবস্থার বর্ণনা: সংরক্ষিত বন পুরোপুরি বন বিভাগের হাতে, অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন জেলা প্রশাসকের হাতে, আর সংরক্ষিত বনে “No jhuming or cultivation of any other kind was to be allowed”।
এই ছকের শেষ সারির নিয়ম, অর্থাৎ নদীতীরে জুম নিষেধের 34B বিধি, আর জমি বন্দোবস্তের পুরো কাঠামো আলাদা করে ব্যাখ্যা করা আছে শাসনবিধির 34 নম্বর বিধি নিয়ে আমাদের লেখায়। জুম কর কে তোলেন আর কত, তা আছে জুম কর কে তোলেন, কত, আর টাকাটা শেষে কোথায় যায় লেখায়।
রাষ্ট্রের জুমনীতি একটি দলিলে নেই; তা ছড়িয়ে আছে বন আইন, শাসনবিধি, বননীতি, উন্নয়ন প্রকল্প আর প্রশাসনিক আদেশে। নিচের ছকে 1860 থেকে 2026 পর্যন্ত জুম নিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান পদক্ষেপগুলো সাল ধরে সাজানো, প্রতিটির পাশে উৎস। কোনো সালে উৎসে অমিল থাকলে দুটোই লেখা।
| সাল | পদক্ষেপ | জুমের ওপর প্রভাব | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1860 | পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন | লাঙলচাষের এলাকা বাদ দিয়ে সীমা টানা; ফলে নতুন জেলায় কৃষি মানেই জুম | প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন (আর্কাইভ) |
| 1867–1900 | লাঙলচাষে উত্তরাধিকারযোগ্য ইজারা ও ঋণ; জুমে পরিবারপ্রতি 4 টাকা কর | জুম থেকে স্থায়ী চাষে সরানোর চেষ্টা | Rasul, IIED 2005 |
| 1870 | চট্টগ্রাম জেলায় পড়া পাহাড়ি এলাকায় জুম নিষিদ্ধ | কার্যত আনুষ্ঠানিকতা ছিল বলে মনে হয় (Sopher-এর বরাতে) | প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন (আর্কাইভ) |
| 1871 | প্রায় সব বন সরকারি সম্পত্তি ঘোষণা; সীতাপাহাড়ে প্রথম সেগুন | বনের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে | Rasul 2005; বন অধিদপ্তর অ্যাটলাস 2020 |
| 1874 | ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পাওয়ারের চিঠি | লাঙলচাষের লক্ষ্য পাহাড়িদের “যাযাবর প্রবৃত্তি” থেকে সরিয়ে স্থায়ী করা | প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন (আর্কাইভ) |
| 1875–1882 | কাচালং, রেংখং, সাঙ্গু, মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন | অঞ্চলের প্রায় এক-চতুর্থাংশে জুম নিষিদ্ধ | IWGIA 2000; Rasul 2005 |
| 1927 | বন আইন; 1942 সালের বেঙ্গল রেগুলেশন V দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য, কার্যকর ধরা হয় 21 সেপ্টেম্বর 1927 থেকে | জুম আইনত “privilege”, অধিকার নয় | বন আইন ধারা 10; PCJSS সংকলন |
| 1939 | শাসনবিধিতে 41, 41A ও 34B | জেলা প্রশাসকের হাতে জুম নিয়ন্ত্রণ; হেডম্যানের হাতে মৌজার সম্পদ রক্ষা | PCJSS সংকলন, পাদটীকা 109–110 |
| 1960 | রক্ষিত বন শ্রেণির প্রবর্তন | অশ্রেণীভুক্ত সামষ্টিক জমির একাংশে জুম সীমিত | IWGIA 2000 |
| 1964–66 | Forestal জরিপ | জমির 77% “বনায়নের উপযোগী”; জুম ছেড়ে উদ্যানের সুপারিশ | IWGIA 2000 |
| 1967 বা 1969 | পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প | জুমিয়াদের ব্যক্তিমালিকানায় উদ্যানের জমি | আর্কাইভ বলছে 1967, IWGIA বলছে 1969 |
| 1971 | 34 বিধি সংশোধন | পরিবারপ্রতি বন্দোবস্তের সীমা 25 থেকে 5 একর | IWGIA 2000 |
| 1979 | প্রথম জাতীয় বননীতি | সরকারি বন বন ছাড়া অন্য কাজে নয় | FAO পর্যালোচনা |
| 1983–84 | জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গঠন | এক প্রকল্পে 2,000 পরিবার, প্রত্যেককে 5 একর | ডেইলি স্টার, 9 মে 2008 |
| 1988 | পার্বত্য জেলাগুলোর ডেপুটি কমিশনারদের জুম নিষেধাজ্ঞা | বিধির “নিয়ন্ত্রণ” ক্ষমতা ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ নিষেধ | IWGIA 2000 |
| 1992 | নতুন সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনের বিজ্ঞপ্তি | জুমভূমি বন বিভাগের হাতে; পরিমাণ নিয়ে উৎসে অমিল | IWGIA 2000; Rasul 2005; আর্কাইভ |
| 1994 | দ্বিতীয় জাতীয় বননীতি | অশ্রেণীভুক্ত বনে ব্যাপক বনায়ন; বনে চাষ করা আদিবাসীদের জন্য আলাদা জমি চিহ্নিত করার কথা | FAO পর্যালোচনা |
| 1995–2000 | বনায়ন ও জুমিয়া পুনর্বাসন প্রকল্পের তৃতীয় পর্ব, 280 কোটি টাকা | অংশীদারত্বমূলক বনায়ন, লাভের 30% অংশগ্রহণকারীর | ডেইলি স্টার (বাসস), 26 জানুয়ারি 1998 |
| 1997 | পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি | “জুম চাষ” জেলা পরিষদের কার্যাবলির তালিকায় | চুক্তির খ খণ্ড, 34(ঠ) |
| 2000 | বন আইন সংশোধন; জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পুনর্বাসন প্রকল্প বন্ধ | সংরক্ষিত বনে “অন্য কোনোভাবে” চাষও দণ্ডনীয় | বন আইন, পাদটীকা 18; ডেইলি স্টার 2008 |
| 2014 | 41 ও 42 বিধিতে জেলা প্রশাসকের জায়গায় জেলা পরিষদ | জুমভূমি ও জুম খাজনার ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদে | প্রথম আলো, 24 ডিসেম্বর 2014 |
| 2020 | বন অধিদপ্তরের অ্যাটলাস | জুমিয়া পুনর্বাসনের 5 একরের তিনটি মডেল | বন অধিদপ্তর |
| 2026 | রাঙামাটির গোলটেবিল | সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চাকমা সার্কেল চিফের মুখে জুমকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি | প্রথম আলো, 7 আগস্ট 2026 |
ব্রিটিশ প্রশাসন জুমকে দেখত যাযাবর জীবনের কারণ হিসেবে, আর তার নীতির লক্ষ্য ছিল জুমিয়াদের লাঙলচাষে স্থায়ী করা। এর তিনটি হাতিয়ার ছিল: লাঙলচাষের জন্য ইজারা ও ঋণ, জুমের ওপর কর, আর বনের বড় অংশ সংরক্ষিত ঘোষণা করে জুমের জমি কমিয়ে দেওয়া।
আমাদের আর্কাইভে প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুনের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে জুমচাষ ও জুমিয়া (নভেম্বর 2003) এই কালপর্বের সবচেয়ে কাছের বিবরণ। তাঁদের ভাষায়, প্রশাসনিক মহলে জুমচাষিদের “যাযাবর” বলে ভাবা হতো, আর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধার জন্য জুম বন্ধ করে লাঙলচাষে আগ্রহী করার কথা ভাবা হতো। লক্ষ্য ছিল দুটি: লাঙলচাষ দিয়ে রাজস্ব বাড়ানো, আর বড় অংশজুড়ে সংরক্ষিত বন বানিয়ে কাঠ আহরণ ও সেগুন চাষ।
লেখাটি একটি দাপ্তরিক চিঠির কথা জানায়। 1874 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ. ডব্লিউ. বি. পাওয়ার চট্টগ্রামের কমিশনারকে লেখেন, লাঙলচাষ চালুর মূল লক্ষ্য পাহাড়িদের তাদের যাযাবর প্রবৃত্তি থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট আবাসস্থলে স্থায়ী করা। এই যাযাবর প্রবৃত্তিকে চিঠিতে জুম পদ্ধতির “প্রত্যক্ষ পরিণাম” বলা হয়েছে।
এর চার বছর আগে, 1870 সালে, চট্টগ্রাম জেলায় পড়ে যাওয়া পাহাড়ি এলাকাগুলোতে জুম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই লেখা Sopher (1964)-এর বরাতে বলছে, নিষেধাজ্ঞাটি কার্যত একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল বলে মনে হয়। “জুম চাষ নিষিদ্ধ করা হয় কত সালে” — উৎসে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো উত্তর তাই 1870, তবে সেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার বাইরের পাহাড়ের জন্য।
ICIMOD-এর গবেষক Golam Rasul-এর IIED Gatekeeper 119 (2005) উদ্দীপনার দিকটি বিস্তারিত দেয়: 1867 থেকে 1900 সালের মধ্যে লাঙলচাষের জন্য উত্তরাধিকারযোগ্য ইজারা দেওয়া হয়, সঙ্গে ছোট ঋণ, যা পাঁচ বছরে পাঁচ শতাংশ সুদে শোধ করতে হতো। আর “শাস্তিমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে জুমের ওপর পরিবারপ্রতি চার টাকার সমহারের কর বসে। Rasul লিখেছেন, এসব সত্ত্বেও উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত লাঙলচাষ ধীরে ছড়িয়েছে; গতি পেয়েছে 1880-এর দশকে, যখন বিশাল এলাকা সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে জুম সীমিত করা হয়।
সংরক্ষিত এলাকার পরিমাণ নিয়ে দুই উৎসে অমিল আছে। Rasul বলছেন অঞ্চলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, 1,345 বর্গমাইল; রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়ের IWGIA প্রতিবেদন বলছে 1882–83 সালের মধ্যে 1,244 বর্গমাইল, মোট আয়তনের 24 শতাংশ।
এই কর-ব্যবস্থার পরের ইতিহাস, অর্থাৎ চার টাকা থেকে আজকের হার আর তিন ভাগের হিসাব, এখানে পুনরাবৃত্তি করা হলো না; তা আছে জুম কর নিয়ে আমাদের লেখায়।
বন আইন 1927 জুমকে অধিকার হিসেবে স্বীকার করে না। আইনের 10 ধারা বলছে, জুম চাষ সব ক্ষেত্রে একটি “privilege”, যা সরকার নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা বিলুপ্ত করতে পারে। আর কোনো এলাকা সংরক্ষিত বন হলে 26 ধারা সেখানে আগুন লাগানো ও চাষের জন্য জমি পরিষ্কার দণ্ডনীয় অপরাধ করে।
বন আইনের পূর্ণ পাঠ পাওয়া যায় bdlaws.minlaw.gov.bd-তে। জুম নিয়ে সবচেয়ে সরাসরি কথাটি 10 ধারার 5 উপধারায়:
“The practice of shifting cultivation shall in all cases be deemed a privilege subject to control, restriction and abolition by the Government.”
একই ধারার আগের উপধারাগুলো পদ্ধতি বলে দেয়। কোনো এলাকা সংরক্ষিত বন করার প্রস্তাবের সময় কেউ জুমের দাবি তুললে বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (Forest Settlement-officer) দাবির বিবরণ লিখে সরকারের কাছে পাঠাবেন, সঙ্গে নিজের মত — জুম পুরো বা আংশিক চলতে দেওয়া হবে কি না। সরকার অনুমতি দিলে দুটি পথ: প্রস্তাবিত বনের সীমা থেকে যথেষ্ট জমি বাদ দেওয়া, অথবা বনের ভেতরে আলাদা অংশ চিহ্নিত করে সেখানে শর্তসাপেক্ষে জুম করতে দেওয়া।
প্রস্তাবের মুহূর্ত থেকেই জমিতে নতুন জুম কাটা থেমে যায়। 5 ধারা বলছে, 4 ধারার বিজ্ঞপ্তি জারির পর ওই জমিতে “no fresh clearings for cultivation or for any other purpose” করা যাবে না, সরকারের বিধি ছাড়া। অর্থাৎ বন চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত হওয়ার আগেই, কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে, পরের বছরের জুম আইনত আটকে যায়।
চূড়ান্ত সংরক্ষিত বনে শাস্তি দুই স্তরের। 26 ধারার 1 উপধারায় আগুন জ্বালানো, পশু চরানো ইত্যাদির জন্য ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। আর 1A উপধারায়, যা 1990 সালের সংশোধনীতে বসানো, সংরক্ষিত বনে “clears or breaks up any land for cultivation or any other purpose” করলে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। জুমের প্রতিটি ধাপ — জঙ্গল কাটা, পোড়ানো, বোনা — এই উপধারার কোনো না কোনো দফায় পড়ে।
IWGIA প্রতিবেদন এই আইনি কাঠামোর ফল নিয়ে কড়া মূল্যায়ন দিয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রধান প্রভাব আদিবাসীদের অর্থনৈতিক কাজকে কার্যত অপরাধে পরিণত করা, আর বন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগই আদিবাসীদের বিরুদ্ধে কথিত “অপরাধের” বেশির ভাগ। প্রতিবেদনের আরেকটি পর্যবেক্ষণ: সংরক্ষিত বনে ঢোকা অনেক জমি ছিল জুমভূমি, যার জন্য জুমিয়ারা 42 বিধি অনুযায়ী বছরে বছরে জুম কর দিতেন, অথচ কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।
সংরক্ষিত বন কেন বানানো হয়েছিল, তার দাপ্তরিক যুক্তিও একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত। Webb ও Roberts-এর 1976 সালের বন-খাত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, 1875 থেকে 1882 সালের মধ্যে বনগুলো সংরক্ষিত করা হয় প্রধান নদীগুলোর জলধারণ এলাকা রক্ষার উদ্দেশ্যে। একটি নির্দিষ্ট সংরক্ষিত বনের ভেতরের দ্বন্দ্ব, অর্থাৎ সাঙ্গু ও মাতামুহুরী, আলাদা করে লেখা আছে সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন নিয়ে আমাদের লেখায়।
ব্রিটিশ প্রশাসনের ভেতরেই জুম নিয়ে দুটি মত ছিল। নীতি জুমকে নিরুৎসাহিত করেছে, কিন্তু অন্তত দুটি দাপ্তরিক লেখা বলেছে, পাহাড়ের বেশির ভাগ মানুষকে জুমের ওপরই বাঁচতে হবে। একটি জেলা সুপারিনটেনডেন্ট হাচিনসনের 1906 সালের বিবরণ, অন্যটি 1918 সালের Ascoli প্রতিবেদন।
দুটি লেখার উদ্ধৃতিই পাওয়া যায় IWGIA প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি একে বলেছে প্রশাসনিক নীতির “inconsistencies” বা অসঙ্গতি। প্রথমটি R.H. Sneyd Hutchinson বা হাচিনসনের, যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। তাঁর An Account of the Chittagong Hill Tracts (1906, পৃ. 51) থেকে উদ্ধৃত অংশের বাংলা অনুবাদ:
জুম পদ্ধতি ছেড়ে দিলে পাহাড়ের সারিগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাবে। পাথরের অভাব, মাটির হালকা গড়ন আর ঢালের খাড়াই — এই কারণে ধাপচাষ অসম্ভব; ভেতরের পাহাড়গুলো তখন পড়ে থাকবে, অথচ এখন সেগুলো জেলার মানুষের খাদ্য ও বিনিময়ের মূল্যবান পণ্য জোগায়, আর সরকারেরও উল্লেখযোগ্য রাজস্বের উৎস।
IWGIA প্রতিবেদন বলছে, হাচিনসন এই কথাগুলো লিখেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন সরকার অঞ্চলের এক-চতুর্থাংশ সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে সেখানে চাষ নিষিদ্ধ করেছে, আর লাঙলচাষের উপযোগী জমিও কম।
দ্বিতীয়টি F.D. Ascoli-র Report on the Administration of the Chittagong Hill Tracts (1918), যা সরকারের নির্দেশে করা সমীক্ষা। IWGIA-র উদ্ধৃতি অনুযায়ী (চাকমা রাজার আর্কাইভ, পৃ. 14) এর বক্তব্যের অনুবাদ: জুম দিয়ে পাহাড়ের ঢাল চাষ বিলুপ্ত করতেই হবে — এই ভ্রান্ত ধারণা দূর না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক বিকাশ বোঝা সম্ভব নয়; লাঙলচাষের জন্য আর কত জমি আছে তা হিসাব করা যায় না, তবে নিশ্চিত যে তা দিয়ে জুমিয়া জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগকে খাওয়ানো যাবে না; মেনে নিতে হবে যে জুম চলবে।
প্রতিবেদনের মূল্যায়ন: এসব সত্ত্বেও জুম নিরুৎসাহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত বদলায়নি। নদীতীরের চাকমা ও মারমারা ধীরে ধীরে লাঙল ধরেন, কিন্তু লাঙলের জমি সীমিত থাকায় পাহাড়ের চূড়ায় থাকা পাংখোয়া ও খুমিসহ অনেকে জুমিয়াই থেকে যান — প্রতিবেদন এই দুই জনগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছে।
সংরক্ষিত বনের বাইরে জুম চাষ নিয়ন্ত্রণের আইনি ভিত্তি পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির 41 বিধি। বিধিটি জেলা প্রশাসককে জুম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষমতা দেয়, যেকোনো এলাকা জুমের জন্য বন্ধ ঘোষণার ক্ষমতাও দেয়। 2014 সালের সংশোধনে এই ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের বদলে জেলা পরিষদে গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রকাশিত শাসনবিধির ইংরেজি সংকলনে 41 বিধির পাঠ:
“The Deputy Commissioner is empowered to control and regulate jhuming in the Chittagong Hill Tracts and to issue and enforce such orders as he considers necessary for the same. He may for sufficient reasons declare any area to be closed to jhuming or restrict the migration of jhuming.”
সংকলনের পাদটীকা অনুযায়ী বিধিটি বসানো হয় 15 জুলাই 1939-এর প্রজ্ঞাপন নং 7848 E.A. দিয়ে, যা 20 জুলাই 1939-এর কলিকাতা গেজেটে ছাপা হয়। IWGIA প্রতিবেদনও একই প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ করেছে।
একই প্রজ্ঞাপনে বসানো 41A বিধি নিয়ন্ত্রণের আরেকটি স্তর তৈরি করেছে — মৌজার স্তরে, হেডম্যানের হাতে। বিধিটি বলছে, হেডম্যান তাঁর মৌজার সম্পদ সংরক্ষণের জন্য দায়ী, আর এর জন্য তিনি চারটি কাজ করতে পারেন:
রাষ্ট্রের দুটি স্তর তাই দুই রকম দৃষ্টিতে জুমকে দেখে। 41 বিধিতে জেলা প্রশাসক জুম বন্ধ করতে পারেন; 41A বিধিতে হেডম্যান জুমিয়াদের ভবিষ্যৎ জমি রক্ষা করতে পারেন। দ্বিতীয়টি আসলে প্রথাগত ব্যবস্থাকে আইনি ভাষা দেওয়া — শক্তিপদ ত্রিপুরার ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রবন্ধেও হেডম্যানের এই ক্ষমতাগুলো প্রথাগত দায়িত্বের তালিকায় আছে।
2014 সালে 41 বিধির ক্ষমতাধারী বদলায়। প্রথম আলোর 24 ডিসেম্বর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় 25 এপ্রিল প্রজ্ঞাপন দিয়ে 41 ও 42 বিধিতে “জেলা প্রশাসক”-এর জায়গায় “জেলা পরিষদ” বসায়, আর 4 ডিসেম্বর জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকদের পরিপত্র পাঠায়। প্রতিবেদনের ভাষায়, এর আগে “জুমভূমি ও খাজনা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসকেরা তত্ত্বাবধান করতেন।”
একটি অসঙ্গতি লক্ষ করার মতো: PCJSS-এর 2020 সালের সংকলনে 41 বিধির পাঠে এখনো “Deputy Commissioner” আছে। প্রজ্ঞাপনের পূর্ণ পাঠ কোনো প্রকাশ্য উৎসে পাওয়া যায়নি।
1988 সালে পার্বত্য জেলাগুলোর ডেপুটি কমিশনাররা জুম চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, IWGIA প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রামের জিওসি-র পরামর্শে। প্রতিবেদনের যুক্তি, 41 বিধি “control and regulate” করার ক্ষমতা দেয়, সম্পূর্ণ নিষেধের নয়। দাপ্তরিক কারণ ছিল ভূমিক্ষয়; আদিবাসীদের ধারণা ছিল ভিন্ন।
“জুম চাষ কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে” — এই প্রশ্নের দাপ্তরিক উত্তরটি IWGIA প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেছে বন সংরক্ষক M.A. Sattar-এর একটি প্রবন্ধ থেকে: “Jumias Settlement Schemes of Local Forest Department”, যা 23–25 জানুয়ারি 1995 রাঙামাটিতে ICIMOD, বিশেষ বিষয়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও BIDS-এর যৌথ কর্মশালায় পড়া হয়। সেই সূত্রে দাপ্তরিক কারণ: জুম ভূমিক্ষয় ঘটায়, তাতে বন উজাড় হয়, আর জুম পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর — প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের আগের যুগের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।
প্রতিবেদন আদিবাসীদের দৃঢ় ধারণাটিও পাশাপাশি লিখেছে: আদেশের মূল কারণ ছিল শান্তিবাহিনীর তুলনামূলক প্রভাবাধীন প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের স্বাধীনভাবে টিকে থাকা কঠিন করা। এটি অভিযোগ হিসেবেই নথিভুক্ত; আদেশের পাঠ বা কোনো দাপ্তরিক নথি এই উদ্দেশ্যের কথা বলে, এমন কিছু প্রতিবেদনে নেই।
আমাদের আর্কাইভের প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুনের লেখা একই প্রসঙ্গে দুটি কথা যোগ করে। একটি: সামরিক কর্তৃপক্ষ একসময় অনেক জায়গায় জুম বন্ধ করা বা “জুমিয়া পুনর্বাসন”-এর উদ্যোগ নিয়েছিল (Roy 1996 ও Loeffler-এর বরাতে)। অন্যটি কম আলোচিত: শান্তিবাহিনীও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন জায়গায় জুম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল বলে জানা যায় (Mohsin 1997-এর বরাতে)। লেখকদের মত, জুম বন্ধের উদ্যোগ পাহাড়িদের ভেতর থেকেও আসা অপ্রত্যাশিত নয়, কারণ রাষ্ট্রের প্রান্তিকীকরণ সব শ্রেণির পাহাড়ির জন্য একই ফল আনেনি।
1988-এর নিষেধাজ্ঞা কতদিন বলবৎ ছিল, কবে প্রত্যাহার হয়, বা আদৌ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হয়েছে কি না — কোনো উৎসে তা পাওয়া যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি নিয়ে আমাদের লেখাতেও নিষেধাজ্ঞাটির উল্লেখ আছে, একই উৎস ধরে।
কাপ্তাই বাঁধের পর রাষ্ট্র জুমের প্রথম বড় বিকল্প হিসেবে উদ্যান-চাষ নিয়ে আসে। 1964–66 সালের Forestal জরিপ জুম ছেড়ে বাজারমুখী উদ্যানের সুপারিশ করে, পরিবারপ্রতি অন্তত 10, পারলে 20 একর। সরকার সংখ্যাটি নামিয়ে আনে 5 একরে। প্রকল্প আংশিক সফল হয়; অনেকে জুমে ফেরেন।
পটভূমিটা কাপ্তাই। IWGIA প্রতিবেদন অনুযায়ী 1960 সালে বাঁধের ফলে প্রায় 1,00,000 মানুষ জীবিকার মূল ভিত্তি হারান, যার মধ্যে 10,000 পরিবার লাঙলচাষি আর 8,000 পরিবার জুমিয়া। আমাদের আর্কাইভের মিশুক চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব বলছে, বাঁধে 18 হাজার জুম্ম পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে কাচালং, রেংখং ও সুভলং সংরক্ষিত বনে বসতি গড়ে। ICIMOD-এর প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ALARD (1995)-এর বরাতে হিসাব: উদ্বাস্তুদের 52 শতাংশ জলাধারের কাছে থেকে যান, 29 শতাংশ কাচালং সংরক্ষিত বনে যান। বাঁধের পূর্ণ ইতিহাস আছে কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে আমাদের লেখায়।
অর্থাৎ সংরক্ষিত বনে জুম নিষিদ্ধ হলেও রাষ্ট্রের নিজের প্রকল্পেই উদ্বাস্তুরা সংরক্ষিত বনের দিকে গেছেন। Rasul লিখেছেন, জমির দলিল থাকা উদ্বাস্তুদের কাউকে কাউকে সংরক্ষিত বনেই পুনর্বাসন করা হয়েছিল; দলিলহীন বেশির ভাগ পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ পাননি, উঁচু ঢালে উঠে আবার জুম শুরু করেন।
এরপর উদ্যান প্রকল্প। এর শুরুর সাল নিয়ে দুটি হিসাব আছে: প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন লিখেছেন 1967 সালে চালু হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের কথা, আর IWGIA প্রতিবেদন বলছে প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় 1969 সালে। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী প্রকল্পে হ্রদ-উপদ্রুত 59টি মৌজায় 10,825 একর পাহাড়ি জমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়া হয়। Rasul-এর হিসাবে প্রায় 3,000 উদ্বাস্তু পরিবারকে মিশ্র উদ্যানের জন্য উত্তরাধিকারযোগ্য অধিকারসহ প্রায় দুই হেক্টর করে ঢালু জমি দেওয়া হয়।
পরিবারপ্রতি জমির মাপ নিয়ে IWGIA প্রতিবেদন Lorenz Löffler-এর একটি পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করেছে। Forestal-এর বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, জুম থেকে বাজারমুখী উদ্যানে যাওয়া একটি পরিবারকে অন্তত 10, পারলে 20 একর দিতে হবে; সরকারি “বিশেষজ্ঞরা” তা নামিয়ে আনেন 5 একরে। Löffler-এর ভাষায়, এই আপাত ছোট পরিবর্তনগুলোই “fatal” প্রমাণিত হয়।
পাঁচ একরের সংখ্যাটি পরে আইনেও ঢোকে। 16 সেপ্টেম্বর 1971-এর প্রজ্ঞাপনে 34 বিধি সংশোধন করে জেলা প্রশাসকের বন্দোবস্তের সীমা একটি পরিবারের জন্য 25 থেকে 5 একরে নামানো হয়। IWGIA প্রতিবেদন 1974 সালের আদমশুমারি ধরে হিসাব করেছে: উদ্যানের উপযোগী 3,70,000 একর জমি 1,01,639 পরিবারে ভাগ করলে পরিবারপ্রতি দাঁড়ায় 3.64 একর, অর্থাৎ সরকারের নিজের 5 একরের মাপেরও কম।
ফলাফল সম্পর্কে দুই উৎস কাছাকাছি কথা বলে। Rasul লিখেছেন, কেউ কলা, পেঁপে, আনারস ফলিয়ে সফল হন, অন্যরা জ্ঞান, বাজার ও ঋণের অভাবে ব্যর্থ হন। IWGIA প্রতিবেদন বলছে, 1973 সালে প্রকল্পটি উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডে যায়, যা প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে পারেনি; অনেক কৃষক আবার জুমে ফেরেন, আর বেশির ভাগ বাগান পরিত্যক্ত হয়। এরপর সরকার Forestal-এর দ্বিতীয় সুপারিশ, অর্থাৎ বনায়নের দিকে মনোযোগ দেয়।
34 বিধির এই সংশোধনী আর রাবার বাগান ও শিল্পের জন্য বড় ইজারার ধারাগুলো বিস্তারিত আছে 34 নম্বর বিধি নিয়ে আমাদের লেখায়।
রক্ষিত বন হলো সংরক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বনের মাঝামাঝি একটি শ্রেণি। IWGIA প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে মৌজাবাসী নির্দিষ্ট এলাকায় জুম করতে পারেন, কিন্তু কোথাও কোথাও জুমিয়ারা বন বিভাগের মজুরিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে নিজেদের জুমেই সেগুন ও গর্জন লাগান। গাছ বড় হলে জমি ছাড়তে হয়।
রক্ষিত বন কবে চালু হয়, সে নিয়ে IWGIA প্রতিবেদনের দুই জায়গায় দুই কথা: এক জায়গায় “mid-60s”, আরেক জায়গায় 1960। প্রতিবেদনের বর্ণনায়, ব্রিটিশরা যাকে অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন বলত — যা আসলে আদিবাসীদের সামষ্টিক জমি — তার নির্দিষ্ট অংশ রক্ষিত বন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধান রক্ষিত বনগুলো রাঙামাটি জেলায়, যার একটি বেতবুনিয়া মৌজায়। Rasul লিখেছেন, রক্ষিত বন ঘোষণার পর সেখানে জুম ও বনজ দ্রব্য সংগ্রহ নিষিদ্ধ হয়, যা কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়ায় — অর্থাৎ নিষেধের মাত্রা নিয়ে দুই উৎসের বর্ণনায় পার্থক্য আছে।
বন আইনের 30 ধারা এই নমনীয়তার আইনি উৎস। ধারাটি সরকারকে রক্ষিত বনের কোনো অংশ সর্বোচ্চ ত্রিশ বছর বন্ধ রাখতে, আর রক্ষিত বনে চাষ, ঘরবাড়ি বা পশু চরানোর জন্য জমি “breaking up, clearing or use” নিষেধ করতে বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষমতা দেয়। সংরক্ষিত বনে নিষেধটি আইনেই বাঁধা; রক্ষিত বনে তা বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে।
টংগিয়া (Taungya) পদ্ধতিকে IWGIA প্রতিবেদন বলেছে “জুমের একটি পরিবর্তিত রূপ”: জুম পোড়ানোর পর খাদ্যফসলের সঙ্গে কাঠের চারা লাগানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী বন বিভাগ এই পদ্ধতি রক্ষিত বনে রাজস্ব বাড়াতে ব্যবহার করেছে। জুমিয়াদের “forest villager” হিসেবে নিয়োগ করা হয়, হেডম্যান থাকেন যোগাযোগকারী; জুমিয়ারা কেবল দাঁড়ানো ফসল তোলেন, গাছ থাকে বন বিভাগের। প্রতিবেদনের মূল্যায়ন: সীমিত সময়ের জন্য দুই পক্ষের লাভ, কিন্তু একই সঙ্গে শোষণের সুযোগ। কর্তৃপক্ষ কোথাও কোথাও বাগানগুলো জুমিয়াদের হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা হয়নি; উল্টো কিছু বাগান সংরক্ষিত বনে ঢুকেছে।
বন অধিদপ্তরের 2020 সালের অ্যাটলাস টংগিয়ার সংজ্ঞা দিয়েছে রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে: কৃষক জমি পরিষ্কার, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ পুরো বা আংশিক করেন, বিনিময়ে সংরক্ষিত বনে বার্ষিক ফসল ফলানোর “privilege” পান। অ্যাটলাস এর উদ্দেশ্য হিসেবে লিখেছে ভূমিহীন কৃষকের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও আয় বাড়ানো। “Privilege” শব্দটি বন আইনের 10 ধারার ভাষার সঙ্গে মেলে — দুই জায়গাতেই জুম বা জুমধর্মী চাষ অধিকার নয়, রাষ্ট্রের দেওয়া সুবিধা।
বন অধিদপ্তরের অধীনে “জুম নিয়ন্ত্রণ” নামে একটি বিভাগ এখনো সক্রিয়। এর ঘোষিত কাজ জুম নিয়ন্ত্রণ, ভূমিক্ষয় রোধ, বনায়ন আর জুমিয়া পরিবারের পুনর্বাসন। পুনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা নিয়ে উৎসভেদে বড় পার্থক্য: এক হিসাবে 2,000 পরিবার, আরেক হিসাবে 460, যার 435টি পরে এলাকা ছেড়ে যায়।
বিভাগটির শুরু নিয়ে ডেইলি স্টারের 9 মে 2008-এর প্রতিবেদন (Jasim Majumder, খাগড়াছড়ি) বলছে, অবিরাম জুম ঠেকাতে সরকার 1983–84 সালে “CHT Jhum Control Department” গঠন করে। এক প্রকল্পে বিভাগটি 2,000 পরিবারকে 5 একর করে জমি দিয়ে পুনর্বাসন করে; সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন বলছে, ওই পরিবারগুলো আর পরিবেশ-ক্ষতিকর কাজে জড়ায়নি। প্রকল্পটি 2000 সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রতিবেদনের হিসাবে তখনও বছরে অন্তত 3,00,000 একর পাহাড়ি জমিতে জুম হতো, আর দুই লক্ষাধিক জুমিয়া পরিবার বিকল্প জীবিকা পায়নি।
1990-এর দশকে কর্মসূচিটি বড় অঙ্কের প্রকল্পে রূপ নেয়। বাসসের বরাতে ডেইলি স্টারের 26 জানুয়ারি 1998-এর খবর অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা Tapan Kumar Dey জানান, “বনায়ন ও জুমিয়া পুনর্বাসন প্রকল্প”-এর তৃতীয় পর্বের ব্যয় 280 কোটি টাকা, মেয়াদ 1995–2000। সংঘাতের কারণে বন কর্মকর্তারা বনে ঢুকতে না পারায় প্রকল্প অচল হয়ে ছিল। খবর অনুযায়ী নতুন পরিকল্পনায় 900 একর ন্যাড়া পাহাড়ে গাছ লাগানোর কথা, আদিবাসী বনগ্রামবাসী, হেডম্যান ও কার্বারিদের নিয়ে — পাহাড়ে প্রথম অংশীদারত্বমূলক বনায়ন। লাভের ভাগ: অংশগ্রহণকারী 30 শতাংশ, বিভাগ 70 শতাংশ।
পুনর্বাসনের নকশা কেমন, তা বন অধিদপ্তর নিজে লিখেছে 2020 সালের অ্যাটলাসের 2.2.12 অংশে, “Jhumia Rehabilitation” শিরোনামে। অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনে প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে 5 একর জমি দেওয়া হয়, তাতে কৃষি-বন-উদ্যান মিশ্র ব্যবস্থা। তিনটি বিকল্প নকশা:
| নকশা | 5 একরের ভাগ (অ্যাটলাস অনুযায়ী) |
|---|---|
| প্রথম | বসতবাড়ি ও কৃষিফসল 0.50; বাঁশ ও বেত 0.50; আনারস 0.25; কলা 1.00; লেবু 0.20; কাঁঠাল 1.00; পেয়ারা 0.25; বিবিধ ফসল 1.30 একর |
| দ্বিতীয় | বসতবাড়ি ও সবজি 0.50; ফলবাগান 1.00; সেগুন 2.00; গামার 1.50 একর |
| তৃতীয় | ঘর ও রান্নাঘরের বাগান 2.5; কৃষি-উদ্যান-বন মিশ্র বাগান 2.5 একর |
লক্ষ করার মতো বিষয়, তিনটি নকশার একটিতেও জুমের জায়গা নেই; দ্বিতীয়টিতে 5 একরের সাড়ে তিন একরই সেগুন ও গামার। একই অ্যাটলাস বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির অশ্রেণীভুক্ত বনের একাংশের কথা বলছে, যা বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে, মূলত বাগান সহায়তা আর স্থায়ী চাষ দিয়ে জুম নিয়ন্ত্রণ ও কমানোর জন্য — বান্দরবানে 15,645.65 হেক্টর, খাগড়াছড়িতে 1,701.52 হেক্টর।
ফলাফলের সবচেয়ে সাম্প্রতিক হিসাব এসেছে প্রথম আলোর 7 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদনে (Partha Shankar Saha ও Joyanti Dewan)। রাঙামাটি বন বিভাগের ওয়েবসাইটের বরাতে প্রতিবেদন বলছে, রাজস্ব বাজেট ও বিভিন্ন প্রকল্পে মোট 40,147.50 একর বাগানের আওতায় এসেছে; বিভিন্ন পর্যায়ে 460টি জুমিয়া পরিবার পুনর্বাসিত হয়, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার কারণে 435টি পরিবার পরে পুনর্বাসন এলাকা ছেড়ে যায়।
দুই হিসাব পাশাপাশি রাখলে: ডেইলি স্টার 2008 বলছে এক প্রকল্পে 2,000 পরিবার পুনর্বাসিত ও তারা আর জুমে ফেরেনি; রাঙামাটি বন বিভাগের ওয়েবসাইট বলছে 460 পরিবার, যার 435টি চলে গেছে। দুটি সংখ্যা একই কর্মসূচির, নাকি আলাদা প্রকল্প বা আলাদা বন বিভাগের, তা কোনো উৎসে স্পষ্ট নয়।
বিভাগটি যে এখনো মাঠে আছে, তার একটি ছোট প্রমাণ এসেছে অন্য প্রসঙ্গে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার 30 আগস্ট 2026-এর একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারের খবরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন “ঝুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগ রাঙ্গামাটির উল্টাছড়ি রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার”।
আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখা এই কর্মসূচিগুলোকে দেখেছে জুমিয়াদের দিক থেকে। সিংইয়ং ম্রোর পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষে আদিবাসী লোকজ্ঞান চারটি কর্মসূচির নাম করেছে — সংরক্ষিত বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, যৌথ খামার, রাবার বাগান আর জুমিয়া পুনর্বাসন — এবং লিখেছে, এগুলো জুমিয়াদের জীবিকায় “আত্মনির্ভশীলতার পরিবর্তে পরনির্ভশীলতাই বাড়িয়েছে।” সুযশ চাকমার চাকমা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে জুমচাষ লেখায় একই সমালোচনা এক বাক্যে: জুমচাষিকে খলচরিত্র আর জুমকে “পরিবেশবিধ্বংসী” তকমা দিয়ে, জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগ খুলে, জুমভূমিকে “সংরক্ষিত” করে।
স্বাধীনতার পরও সংরক্ষিত বন বাড়ানোর প্রক্রিয়া থামেনি, আর প্রতিটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জুমের জমি কমিয়েছে। 1982, 1992, 1996–98 ও 2008 সালের বিজ্ঞপ্তি বা দাপ্তরিক চিঠির কথা বিভিন্ন উৎসে আছে। তবে পরিমাণ নিয়ে উৎসগুলোতে অমিল বড়, বিশেষ করে 1992 সালের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে।
1992 সালের বিজ্ঞপ্তির পরিমাণ নিয়ে অন্তত চারটি হিসাব আছে। IWGIA প্রতিবেদনের মূল লেখা বলছে, 1992 সালে সরকার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের 1,77,849.57 একর জমি থেকে সংরক্ষিত বন বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে; একই প্রতিবেদনের পাদটীকা বলছে, 21 মে 1992-এর গেজেটে রাঙামাটির কয়েকটি মৌজায় রক্ষিত বন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। Rasul, Mohsin (1997)-এর বরাতে, লিখেছেন প্রায় 50,000 হেক্টর নতুন সংরক্ষিত বন আর 4,000 হেক্টর রাবার বাগানের ইজারা। আমাদের আর্কাইভের লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার চিত্র বলছে 2 লক্ষ 18 হাজার একর জুমভূমি।
চতুর্থ হিসাবটি সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট, তবে উৎসটি একটি মতামতধর্মী প্রকাশনা। CHT News-এর 2 আগস্ট 2013-এর ভাষ্য বলছে, রাঙামাটির জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এলাকায় 15টি মৌজার 36,182.54 একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বন আইনের 4 ধারায় বিজ্ঞপ্তি জারি হয় 4 জানুয়ারি 1992 তারিখে। এর অন্তত 1,642.99 একর ব্যক্তিমালিকানাধীন, আর 6,329 একর 1 মার্চ 1999 তারিখে সংরক্ষিত বন ঘোষিত হয়। 1992 সালের বিজ্ঞপ্তির তারিখ এখানে 4 জানুয়ারি, IWGIA-তে 21 মে — দুটি আলাদা বিজ্ঞপ্তি কি না, তা স্পষ্ট নয়।
একই ভাষ্যে আরও কয়েকটি সংখ্যা আছে। 4 জানুয়ারি 1982 তারিখে রাঙামাটির অশ্রেণীভুক্ত বনের সাতটি মৌজার প্রায় 16,000 একরে 4 ধারার বিজ্ঞপ্তি; 18 জুন 1996 ও 20 সেপ্টেম্বর 1998-এর চিঠিতে পাল্পউড বিভাগের 23,748.92 একর 20 ধারায় সংরক্ষিত; আর 2008 সালের একটি সরকারি চিঠি অনুযায়ী 9,04,456.44 একর 20 ধারায় সংরক্ষিত ঘোষিত এবং 70,575 একর 6 ধারার প্রক্রিয়ায়। ভাষ্যটির আশঙ্কা, বনভূমির প্রায় 52 শতাংশ যে অশ্রেণীভুক্ত বন — যেখানে জুম বৈধ — তা আরও সংকুচিত হবে।
এই সংখ্যাগুলো বন আইনের ধাপের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে বোঝা সহজ: 4 ধারার বিজ্ঞপ্তি প্রস্তাব, 6 ধারায় দাবি আহ্বান, 20 ধারায় চূড়ান্ত ঘোষণা। আগের অংশে যেমন দেখা গেছে, 4 ধারার বিজ্ঞপ্তির দিন থেকেই নতুন জুম কাটা আটকে যায়। কোনো এলাকার বিজ্ঞপ্তি বছরের পর বছর 4 বা 6 ধারার পর্যায়ে ঝুলে থাকলেও জুমিয়ার জন্য ফল একই।
1992-এর বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ ও তার পরের অবস্থার কথা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি নিয়ে আমাদের মূল লেখায়, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কার হাতে কতটা, তার ছক আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও পরিবেশ সংকট লেখায়।
বাংলাদেশের দুটি জাতীয় বননীতির কোনোটিই জুমকে আলাদা কৃষিব্যবস্থা হিসেবে স্বীকার করেনি। 1979-এর নীতি বলেছে সরকারি বন বন ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার হবে না। 1994-এর নীতি পার্বত্য তিন জেলার অশ্রেণীভুক্ত বনে ব্যাপক বনায়নের কথা বলেছে, আর বনে বসবাসকারী ও চাষ করা আদিবাসীদের জন্য আলাদা জমি চিহ্নিত করার।
দুটি নীতির ধারাভিত্তিক সারসংক্ষেপ পাওয়া যায় জুনায়েদ কবির চৌধুরীর National Forest Policy Review: Bangladesh-এ, যা FAO প্রকাশ করেছে। নিচের কথাগুলো ওই সারসংক্ষেপের; নীতির মূল বাংলা পাঠ এই লেখার জন্য পাওয়া যায়নি, তাই হুবহু শব্দ মূল দলিলে ভিন্ন হতে পারে।
1979 সালের প্রথম জাতীয় বননীতির দশটি মূল বিষয়ের দ্বিতীয়টি: সরকারি বন বন-বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তৃতীয়টি: বড় আকারের বাগান করে কাঠের সম্পদ বাড়ানো। FAO পর্যালোচনার মন্তব্য, নীতিটি “somewhat vague” ছিল এবং পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। IWGIA প্রতিবেদন 1979-এর নীতির একই কথাটি উদ্ধৃত করেছে — সরকারি বন “shall not be used for any purpose other than forestry” — আর পাশে লিখেছে, তবু পার্বত্য চট্টগ্রামের বন রেলওয়েসহ রাষ্ট্রীয় শিল্পের কাঁচামাল জুগিয়েছে।
1994-এর বননীতির 28টি বিষয়ের মধ্যে চারটি সরাসরি জুমের জমিকে ছোঁয়:
অর্থাৎ 1994-এর নীতিতে জুমের জমি দুই দিক থেকে চাপে: যে অশ্রেণীভুক্ত বনে জুম বৈধ, সেখানেই ব্যাপক বনায়নের লক্ষ্য; আর বনে চাষ করা আদিবাসীদের জন্য জমি আলাদা হবে বন নিষ্পত্তির মাধ্যমে, যা আসলে বন আইনের সেই একই প্রক্রিয়া যেখানে জুম একটি “privilege”। FAO পর্যালোচনার সার্বিক মূল্যায়ন: 1994-এর নীতি ভূমি-ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী লেখাটি দুটি নীতিকে দেখেছে আদিবাসী অবস্থান থেকে: ঔপনিবেশিক বননীতির সঙ্গে 1979-এর নীতির “তেমন কোন মৌলিক পার্থক্য নেই”, আর 1994-এর নীতি ও বন মহাপরিকল্পনা ঘোষিত হলেও বন ব্যবস্থাপনায় বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর অংশীদারত্বের “কোন মৌলিক অগ্রগতি হয়নি।” লেখাটি জানায়, 1994-এর নীতি সরকারিভাবে ঘোষিত হয় 31 মে 1995।
1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি “জুম চাষ”-কে পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলির তালিকায় তুলেছে। এর সতেরো বছর পর, 2014 সালে, শাসনবিধির 41 ও 42 বিধি সংশোধন করে জুমভূমি ও জুম খাজনার ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জেলা পরিষদে দেওয়া হয়। তবে সংরক্ষিত বন এই হস্তান্তরের বাইরে।
আমাদের আর্কাইভে সংরক্ষিত চুক্তির পূর্ণ পাঠ অনুযায়ী খ খণ্ডের 34 দফা বলছে, পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্য ও দায়িত্বের মধ্যে বারোটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে; প্রথমটি “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা”, শেষটি “ঠ) জুম চাষ।” এর ঠিক আগের 33 দফার গ উপদফায় আছে, প্রথম তফসিলে পরিষদের কার্যাবলির 6(খ) উপধারা থেকে “সংরক্ষিত বা” শব্দগুলো বিলুপ্ত করা হবে। 6(খ)-এর পূর্ণ পাঠ এই লেখার জন্য পাওয়া যায়নি; চুক্তিটি তাই কোন বন-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে “সংরক্ষিত” শব্দ বাদ দিতে চেয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জেলা পরিষদ আইনে বনের ব্যাপারে একটি বড় ব্যতিক্রমও আছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64 ধারা, যা 1998 সালের সংশোধনীতে প্রতিস্থাপিত, বলছে পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া জেলার কোনো জমি ইজারা, বন্দোবস্ত, কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু শর্তাংশে আইনের ভাষায় “রক্ষিত (Reserved)” বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ড করা জমিকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে (bdlaws-এর পাঠ)। সংরক্ষিত বনের জমি তাই জেলা পরিষদের অনুমোদনের আওতায় আসে না, আর সেখানে জুমের প্রশ্নে বন আইনই শেষ কথা।
2014-এর পরিবর্তনের মাধ্যমে জুমভূমির ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদে যাওয়ার কথা প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনের শিরোনামেই: “জুমভূমি ও জুমচাষ ব্যবস্থাপনা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর”। জুম খাজনার সরকারি অংশ কীভাবে তখন থেকে জেলা পরিষদের তহবিলে যায়, তা আছে জুম কর নিয়ে আমাদের লেখায়।
হস্তান্তরের পরও বাস্তবে দুটি কাঠামো পাশাপাশি চলছে: জেলা পরিষদের হাতে 41 বিধির জুম নিয়ন্ত্রণ, আর বন অধিদপ্তরের হাতে জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও সংরক্ষিত বন। দুটির মধ্যে সমন্বয়ের কোনো লিখিত নিয়ম কোনো প্রকাশ্য উৎসে পাওয়া যায়নি।
জমির বিরোধ মেটানোর জন্য যে ভূমি কমিশন গঠিত, তার আইনও এখানে প্রাসঙ্গিক, কারণ কমিশনকে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হয় প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী। সেই শব্দবন্ধের অর্থ নিয়ে লেখা আছে ভূমি কমিশন আইনের 6 ধারা নিয়ে, আর কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন আপিল চলে না তা 16 ধারা নিয়ে আমাদের লেখায়। শাসনবিধি নিজে যে এখনো বলবৎ আইন, তার আদালতি ইতিহাস আছে রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা নিয়ে।
2000 সালের বন (সংশোধন) আইন (2000 সালের 10 নং আইন) দুটি দিক থেকে জুমকে ছুঁয়েছে। সংরক্ষিত বনে দণ্ডনীয় কাজের তালিকায় যোগ হয়েছে “অন্য কোনোভাবে চাষ বা চাষের চেষ্টা”, আর একই আইনে সামাজিক বনায়নের নতুন 28A ধারা বসেছে, যেখানে লিখিত চুক্তিতে বনজ দ্রব্য বা জমি ব্যবহারের অধিকার দেওয়া যায়।
bdlaws-এর পাঠের পাদটীকা অনুযায়ী 26(1A)(e) দফার “or cultivates or attempts to cultivate any land in any other manner” শব্দগুলো যোগ হয় 2000 সালের সংশোধনীর 4 ধারায়। এর আগে দফাটি কেবল চাষের জন্য জমি “clears or breaks up” করার কথা বলত। নতুন শব্দে জঙ্গল না কেটে চাষ করাও, যেমন আগের জুম বা বাগানের জমিতে আবার বোনা, দণ্ডনীয় হলো।
একই সংশোধনীর 6 ধারায় বসেছে 28A ও 28B — সামাজিক বনায়ন। 28A বলছে, সরকারি জমিতে, বা মালিকের স্বেচ্ছায় লিখিত চুক্তিতে দেওয়া জমিতে, সরকার সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি করতে পারে; লিখিত চুক্তিতে অংশগ্রহণকারীকে বনজ দ্রব্য বা জমি ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। 1998 সালের খবরে যে 30:70 লাভ-ভাগের কথা এসেছে, সেই অংশীদারত্বমূলক বনায়নের আইনি ভিত্তি এই ধারা।
বন আইনের পুরনো 28 ধারাও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি গ্রামীণ বনের একমাত্র আইনি পথ: সরকার কোনো সংরক্ষিত বনের ওপর তার অধিকার কোনো গ্রাম-সম্প্রদায়কে দিতে পারে, আর যেকোনো সময় তা বাতিলও করতে পারে। আমাদের আর্কাইভে মিশুক চাকমার গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনা লেখায় সুপারিশ আছে, এই 28 ধারার আওতায় গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনার নতুন বিধান যোগ করার। লেখাটি জানায়, মৌজা-সংরক্ষিত এসব বনে জুম চাষ, শিকার ও পশু চরানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে — অর্থাৎ এখানে নিষেধটি প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের, রাষ্ট্রের নয়।
জুম নিয়ে রাষ্ট্রীয় দলিল আর জুমিয়াদের পক্ষের লেখা অন্তত চারটি প্রশ্নে ভিন্ন কথা বলে: জুম পরিবেশের ক্ষতি করে কি না, সংরক্ষিত বন কেন, পুনর্বাসন সফল কি না, আর জুম কৃষি কি না। নিচের ছকে প্রতিটি প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্য উৎসসহ পাশাপাশি রাখা হলো, বিচার ছাড়া।
| প্রশ্ন | রাষ্ট্রীয় দলিল বা কর্মকর্তা | জুমিয়া ও আদিবাসী পক্ষের লেখা |
|---|---|---|
| জুম কি পরিবেশের ক্ষতি করে? | ভূমিক্ষয় ও বন উজাড়ের কারণ; প্রযুক্তি-পূর্ব যুগের ব্যবস্থা (বন সংরক্ষক M.A. Sattar, 1995, IWGIA-র উদ্ধৃতি)। জুমে বন পোড়ানো ক্ষতিকর (রাঙামাটির অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য), প্রথম আলো 2026) | আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলের সঙ্গে “অত্যন্ত সফল” মানব-অভিযোজন (Pratap ও Watson, ICIMOD 1994, IWGIA-র উদ্ধৃতি)। নীতিনির্ধারকেরা আসল কারণ অস্বীকার করে “ভুক্তভোগীকে দোষ” দেন (Biplob Chakma ও সহলেখক, ICIMOD) |
| সংরক্ষিত বন কেন? | প্রধান নদীগুলোর জলধারণ এলাকা রক্ষা (Webb ও Roberts 1976, IWGIA-র উদ্ধৃতি) | রাজস্ব, কাঠ আহরণ ও সেগুন চাষ (প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুন); জুমভূমি হারানো (আর্কাইভ, “ভূমি সমস্যার চিত্র”) |
| পুনর্বাসন কি সফল? | 2,000 পরিবার পুনর্বাসিত, তারা আর পরিবেশ-ক্ষতিকর কাজে জড়ায়নি (সূত্রের বরাতে ডেইলি স্টার 2008) | 460 পরিবারের 435টি এলাকা ছেড়েছে (রাঙামাটি বন বিভাগের ওয়েবসাইট, প্রথম আলো 2026); পরনির্ভরশীলতা বেড়েছে (সিংইয়ং ম্রো, আর্কাইভ) |
| জুম কি কৃষি? | বন আইনে “privilege”; বননীতিতে আলাদা উল্লেখ নেই (FAO-র সারসংক্ষেপ অনুযায়ী) | কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি চাই (সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়, 2026) |
ছকের শেষ সারিটি লক্ষ করার মতো: স্বীকৃতির দাবি তুলেছেন রাষ্ট্রেরই দুই প্রতিনিধি — একজন সংসদ সদস্য, একজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। “রাষ্ট্র বনাম জুমিয়া” ভাগটি তাই সব সময় পরিষ্কার নয়; রাষ্ট্রের এক অংশ জুম নিয়ন্ত্রণ করে, আরেক অংশ তার স্বীকৃতি চায়।
জুম আসলেই বন কমায় কি না, সে প্রশ্নে উপগ্রহচিত্র আর মাঠ-গবেষণার বারোটি গবেষণা এক ছকে মিলিয়ে দেখা আছে পাহাড়ের বন কমেছে কীসে লেখায়।
2026 সালে জুম নিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে দুটি সুর শোনা যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার কাছে জুম নিয়ন্ত্রণ এখনো অগ্রাধিকার; অন্যদিকে রাঙামাটির সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চাকমা সার্কেল চিফ জুমকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
প্রথম আলোর গোলটেবিলের প্রতিবেদন (6 আগস্ট 2026, রাঙামাটি, আয়োজক জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও প্রথম আলো) কয়েকটি স্পষ্ট বক্তব্য ধরে রেখেছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, “জুমকে নিষিদ্ধ বা বন্ধ করার কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়”; তিনি জুমচাষিদের তালিকা করে বিশেষ পরিচয়পত্র ও সহায়তার ব্যবস্থার কথা বলেন, যা জেলা পরিষদ বিবেচনা করবে। চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের কথায়, “প্রণোদনা পাওয়ার জন্য জুমকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।”
একই অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জুয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, “বন বিভাগসহ বিভিন্ন মহল প্রায়ই জুমিয়াদের বন ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী করে।” জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান জুম নিয়ে একটি বিশেষায়িত গবেষণাকেন্দ্রের প্রস্তাব দেন।
অন্য পক্ষের কথাও একই সপ্তাহের প্রথম আলোয় এসেছে। ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন বলছে, জুম বন ধ্বংস করে — এই দাবি সরকারি নথি, উন্নয়ন প্রকল্প ও গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার কাছে জুম নিয়ন্ত্রণ এখনো অগ্রাধিকার। রাঙামাটির অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) জুমে বন পোড়ানোকে ক্ষতিকর বলেন। একই প্রতিবেদনে চাকমা সার্কেল চিফের আরেকটি বাক্য: আদিবাসীরা জমিতে লাঙল চালাতে চান না।
দুই দশক আগের গবেষণাও প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। Rasul 2005 সালে লিখেছিলেন, সরকার তখনও সংরক্ষিত বন বাড়াচ্ছে আর জুমের জমি অভয়ারণ্য, রাবার বাগানের ইজারা ও সেনাক্যাম্প সম্প্রসারণে সরাচ্ছে; এই অনিশ্চয়তা জুমিয়াকে স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় ঠেলে দেয়। তাঁর প্রথম নীতি-সুপারিশ ছিল জমির ব্যবহারকারীদের মেয়াদি অধিকার দেওয়া, কারণ জুমিয়ারা রাষ্ট্রীয় জমিতে জুম করলেও তাতে তাঁদের স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অধিকার নেই। তাঁর হিসাবে গড়ে জুম একটি পরিবারকে ছয় মাসের বেশি খাওয়াতে পারে না।
ICIMOD-এর প্রকাশিত “Blaming the Victim? The State of Forest Governance in the Chittagong Hill Tracts” প্রবন্ধে Biplob Chakma, Bihita Bidhan Khisa ও Senti Chakma-র প্রস্তাবও একই দিকে: বন বিভাগের সংস্কার, জেলা প্রশাসক ও প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতা হস্তান্তর, আর জুমিয়া ও বনবাসীদের জন্য বাজার-সংযোগসহ কৃষি-বনভিত্তিক জীবিকা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ের লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
না, সারা দেশে জুম চাষ নিষিদ্ধ নয়। সংরক্ষিত বনে বন আইন 1927-এর 26 ধারা চাষের জন্য জমি পরিষ্কার ও আগুন জ্বালানো দণ্ডনীয় করেছে, তাই সেখানে জুম নিষিদ্ধ। রক্ষিত বনে 30 ধারায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাষ বন্ধ করা যায়। সংরক্ষিত বনের বাইরের মৌজার জমিতে জুম বৈধ, তবে শাসনবিধির 41 বিধিতে নিয়ন্ত্রিত এবং 42 বিধিতে জুম কর দিতে হয়।
উৎসে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো নিষেধাজ্ঞা 1870 সালের, তবে তা ছিল চট্টগ্রাম জেলায় পড়া পাহাড়ি এলাকার জন্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার জন্য নয়; প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অবন্তী হারুনের লেখা অনুযায়ী তা কার্যত আনুষ্ঠানিকতা ছিল। 1875–1882 সালে সংরক্ষিত বনে জুম নিষিদ্ধ হয়। IWGIA প্রতিবেদন অনুযায়ী 1988 সালে পার্বত্য জেলাগুলোর ডেপুটি কমিশনাররা জুমের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেন।
দাপ্তরিক কারণ ছিল ভূমিক্ষয় ও বন উজাড়। বন সংরক্ষক M.A. Sattar-এর 1995 সালের প্রবন্ধ, যা IWGIA প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেছে, জুমকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও প্রযুক্তি-পূর্ব যুগের ব্যবস্থা বলেছে। ব্রিটিশ আমলে কারণ ছিল জুমিয়াদের “যাযাবর” ধরে লাঙলচাষে স্থায়ী করা। 1988-এর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদিবাসীদের ধারণা, আসল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিবাহিনী-প্রভাবিত এলাকায় মানুষের টিকে থাকা কঠিন করা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির 41 বিধি জেলা প্রশাসককে জুম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষমতা দেয়, প্রয়োজনীয় আদেশ জারি ও কার্যকর করার ক্ষমতাও। যথেষ্ট কারণে তিনি যেকোনো এলাকা জুমের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে বা জুমিয়াদের স্থানান্তর সীমিত করতে পারেন। বিধিটি 15 জুলাই 1939-এর প্রজ্ঞাপনে বসানো। 2014 সালের সংশোধনে জেলা প্রশাসকের জায়গায় জেলা পরিষদ এসেছে।
সংরক্ষিত বনের বাইরে 2014 সাল থেকে জেলা পরিষদের হাতে। প্রথম আলোর 24 ডিসেম্বর 2014-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় 25 এপ্রিল প্রজ্ঞাপন দিয়ে 41 ও 42 বিধিতে “জেলা প্রশাসক”-এর জায়গায় “জেলা পরিষদ” বসায়। মৌজার স্তরে 41A বিধিতে হেডম্যান নবাগতদের জুম আটকাতে পারেন। সংরক্ষিত বন বন অধিদপ্তরের হাতে, যার অধীনে জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগও আছে।
ডেইলি স্টারের 9 মে 2008-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অবিরাম জুম ঠেকাতে সরকার 1983–84 সালে “CHT Jhum Control Department” গঠন করে। এক প্রকল্পে বিভাগটি 2,000 পরিবারকে 5 একর করে জমি দিয়ে পুনর্বাসন করে, আর প্রকল্পটি 2000 সালে বন্ধ হয়। প্রথম আলোর আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিভাগটি এখনো বন অধিদপ্তরের অধীনে সক্রিয়।
বন অধিদপ্তরের 2020 সালের Forest Conservation and Management Atlas অনুযায়ী অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনে প্রতিটি নির্বাচিত পরিবার 5 একর জমি পায়। তিনটি নকশা আছে: ফল ও বাঁশভিত্তিক মিশ্র বাগান; 2 একর সেগুন ও দেড় একর গামারসহ বনবাগান; অথবা আড়াই একর বসতবাড়ি ও রান্নাঘরের বাগান আর আড়াই একর কৃষি-উদ্যান-বন মিশ্র বাগান। কোনো নকশায় জুমের জায়গা নেই।
উৎসভেদে সংখ্যা আলাদা। ডেইলি স্টারের 2008 সালের প্রতিবেদন বলছে, জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক প্রকল্পে 2,000 পরিবার পুনর্বাসিত হয়। প্রথম আলোর 7 আগস্ট 2026-এর প্রতিবেদন রাঙামাটি বন বিভাগের ওয়েবসাইটের বরাতে বলছে, বিভিন্ন পর্যায়ে 460টি জুমিয়া পরিবার পুনর্বাসিত হয়, যার 435টি পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার কারণে পরে এলাকা ছেড়ে যায়।
বন আইন 1927-এর 10(5) ধারা জুমকে বলেছে “privilege”, যা সরকার নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা বিলুপ্ত করতে পারে — অধিকার নয়। সংরক্ষিত বন প্রস্তাবের সময় জুমের দাবি উঠলে বন নিষ্পত্তি কর্মকর্তা সরকারের কাছে মতামত পাঠান; সরকার অনুমতি দিলে জমি বাদ দেওয়া বা বনের ভেতরে আলাদা অংশে জুম করতে দেওয়া হয়। আইনটি 1942 সালের বেঙ্গল রেগুলেশন V দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য।
1997 সালের চুক্তির খ খণ্ডের 34 দফা পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলিতে বারোটি বিষয় যোগ করতে বলেছে, যার শেষটি “জুম চাষ”। প্রথমটি “ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা”। 33(গ) দফা পরিষদের কার্যাবলির 6(খ) উপধারা থেকে “সংরক্ষিত বা” শব্দ বাদ দিতে বলেছে। 2014 সালে জুমভূমি ও জুম খাজনার ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদে হস্তান্তর হয়।
FAO-প্রকাশিত পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ অনুযায়ী 1994-এর বননীতির 20 নম্বর দফা বলে, স্পষ্ট ভূমি-মালিকানা না থাকায় কিছু এলাকায় আদিবাসীরা বনভূমিতে বাস ও চাষ করেন; বন নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বনভূমি আলাদা রাখা হবে, বাকিটা স্থায়ী বন ব্যবস্থাপনায় আসবে। 7 নম্বর দফা পার্বত্য তিন জেলার অশ্রেণীভুক্ত বনে ব্যাপক বনায়নের কথা বলে।
উৎসগুলোতে চারটি ধাপ পাওয়া যায়: ব্রিটিশ আমলে লাঙলচাষের ইজারা ও ঋণ (1867–1900); কাপ্তাইয়ের পর উদ্যান প্রকল্প, পরিবারপ্রতি প্রায় 5 একর বা দুই হেক্টর (1967 বা 1969 থেকে); রক্ষিত বনে টংগিয়া পদ্ধতিতে জুমিয়াদের দিয়ে গাছ লাগানো; আর 1983–84 থেকে জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের 5 একরের জুমিয়া পুনর্বাসন। IWGIA প্রতিবেদন অনুযায়ী উদ্যান প্রকল্পের পর অনেক কৃষক জুমে ফিরে যান।
জুমজার্নাল আর্কাইভ (প্রাথমিক উৎস)
আইন ও সরকারি দলিল
গবেষণা ও প্রতিবেদন
সংবাদ ও ভাষ্য
সর্বশেষ হালনাগাদ: 2 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:জুম, জুম চাষ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা, পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, বনভূমি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।