Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও পরিবেশ সংকট: বন কত, কার হাতে, আর কী হারাচ্ছে

Last updated Oct 19th, 2026

পাহাড়চূড়া থেকে দেখা বান্দরবানের বনে ঢাকা পাহাড়সারি, সামনে একটি বড় ডালপালা ছড়ানো গাছ, দূরের ঢালে খোলা সবুজ জমির টুকরো

রাঙামাটির বরকল উপজেলার বেগানাছড়ি গ্রামের পাশের ছড়ায় শুষ্ক মৌসুমেও পানি থাকে। সেখান থেকে 10 কিলোমিটার দূরের শুভলং ঝরনা একই সময়ে শুকনো। প্রথম আলোর মে 2026-এর প্রতিবেদনে এই দুই ছবি পাশাপাশি রাখা হয়েছে, আর ফারাকটির কারণ হিসেবে গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব জুমচাষি কল্পরঞ্জন চাকমা দেখিয়েছেন গ্রামের 300 একরের বনটিকে: গাছের শিকড় পানি ধরে রাখে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন নিয়ে মূল প্রশ্নের সোজা উত্তর এই: কাগজে-কলমে তিন পার্বত্য জেলার প্রায় 10.57 লক্ষ হেক্টর জমি “বনভূমি” (বাংলাপিডিয়ার ছক), যার মোটামুটি এক-তৃতীয়াংশ বন বিভাগের সংরক্ষিত বন আর বাকিটা অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন। কিন্তু সেই জমিতে আসলে কতটা গাছ দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে গবেষণাগুলো একমত নয়; একটি বলছে বন বেড়েছে, আরেকটি বলছে দুই দশকে 10 শতাংশ হারিয়েছে। পাহাড়ধস, ঝিরি শুকিয়ে যাওয়া আর তামাক চুল্লির কাঠ, তিনটি সংকটই এই বনের হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই পাতায় সংখ্যাগুলো উৎসসহ এক জায়গায় সাজানো হয়েছে। যেখানে দুই উৎস দুই রকম বলছে, দুটোই রাখা আছে। বননীতির ইতিহাস, বন আইনের বিশ্লেষণ বা মৌজা বনের ভেতরের নিয়মকানুন আমাদের আর্কাইভের অন্য লেখায় বিস্তারিত আছে; এখানে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি নেই, জায়গামতো লিংক আছে। অঞ্চলটির অন্য সব বিষয়ের জন্য দেখুন জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

এই পাতায় যা আছে

  1. পাহাড়ি বনভূমির পরিমাণ কত
  2. বন কার হাতে: সংরক্ষিত, রক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত
  3. পাহাড়ি বন কোথায়, কোন ধরনের
  4. বন সরকারি হলো কবে
  5. কাপ্তাই বাঁধ ও কাগজকলে কত বন গেছে
  6. বন কি কমছে
  7. বন উজাড়ের জন্য কাকে দায়ী করা হয়, জুম চাষ কি দায়ী
  8. পাহাড়ধস: নথিভুক্ত ঘটনা
  9. ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে কেন
  10. তামাক চাষ: কত চুল্লি, কত কাঠ
  11. গ্রামীণ সাধারণ বন (ভিসিএফ)
  12. প্রশ্নোত্তর
  13. যা এখনো জানা যায়নি
  14. তথ্যসূত্র

পাহাড়ি বনভূমির পরিমাণ কত, আর সংখ্যাটা এত রকম কেন?

সারা বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমির পরিমাণ প্রায় 14 লক্ষ হেক্টর; বাংলাপিডিয়ার ছকে নির্দিষ্ট সংখ্যাটি 13,61,670 হেক্টর। এর মধ্যে শুধু তিন পার্বত্য জেলার অংশ, একই ছকের সারিগুলো যোগ করলে, 10,57,258 হেক্টর বা প্রায় 10,573 বর্গ কিলোমিটার। সংখ্যা এত রকম হওয়ার কারণ, কেউ গোনেন আইনি শ্রেণীর জমি, কেউ গোনেন গাছে ঢাকা জমি।

বাংলাপিডিয়ার “পাহাড়ি বন” ভুক্তি (লেখক মোঃ মাহফুজুর রহমান) বলছে, এই বন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও আছে। মোট প্রায় 14 লক্ষ হেক্টরের মধ্যে প্রায় 6 লক্ষ 70 হাজার হেক্টর বন বিভাগের অধীনে, আর প্রায় 7 লক্ষ 30 হাজার হেক্টর অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, যা ভুক্তিটির ভাষায় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অধীনে।

নিচের ছকে একই প্রশ্নের সাতটি উত্তর পাশাপাশি রাখা হলো। একক আলাদা, গোনার ভিত্তিও আলাদা; তাই সারিগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে সরাসরি মেলে না।

উৎস কোন এলাকা সংরক্ষিত বন রক্ষিত বন অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন
বাংলাপিডিয়া, “বন ও বনবিজ্ঞান” (ছকের সূত্র: বন মহাপরিকল্পনা)দেশের সব পাহাড়ি বন5,94,383 হেক্টর32,303 হেক্টর7,21,344 হেক্টর
একই ছক, পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়টি সারির যোগফলতিন পার্বত্য জেলা3,38,130 হেক্টরছকে নেই7,19,128 হেক্টর
প্রথম আলো, মে 2026পার্বত্য চট্টগ্রাম (5,093 বর্গমাইল)1,244 বর্গমাইল (24%)54 বর্গ কিলোমিটারের বেশি3,800 বর্গ কিলোমিটারের বেশি
মিশুক চাকমা (আমাদের আর্কাইভ)পার্বত্য চট্টগ্রামশ্রেণীভুক্ত 1,001 বর্গমাইল3,400 বর্গমাইল
মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা (আমাদের আর্কাইভ)পার্বত্য চট্টগ্রামমোট আয়তনের প্রায় এক-দশমাংশমোট আয়তনের 1 শতাংশপরিমাণ দেওয়া নেই
জুয়ামলিয়ান আমলাই (আমাদের আর্কাইভ)পার্বত্য চট্টগ্রাম1882-83 সালে মোট ভূমির 24% (7,86,710 একর) রক্ষিত বন ঘোষিত; লেখকের ধারণায় এখন নতুন-পুরাতন মিলে 35 শতাংশের বেশি বন বিভাগের আওতায়

পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট আয়তন বাংলাপিডিয়ায় প্রায় 13,184 বর্গ কিলোমিটার। সে হিসাবে ছকের দ্বিতীয় সারির 10,573 বর্গ কিলোমিটার মোট আয়তনের প্রায় 80 শতাংশ, আর শুধু সংরক্ষিত অংশ (3,381 বর্গ কিলোমিটার) প্রায় 26 শতাংশ। প্রথম আলোর 1,244 বর্গমাইল হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় 3,222 বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ সংরক্ষিত বনের বেলায় বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো আর জুয়ামলিয়ান আমলাইয়ের “24 শতাংশ” কাছাকাছি; মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার “এক-দশমাংশ” আলাদা।

বাংলাপিডিয়ার ছকটির ভিত্তি-বছর ভুক্তিতে লেখা নেই। আর ভুক্তিটি নিজেই সতর্ক করছে: সারণিতে উল্লেখিত ভূমির সবটুকু প্রকৃতপক্ষে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই, অধিকাংশ ভূমিতেই দখল ঘটেছে। জুয়ামলিয়ান আমলাই তাঁর লেখায় একই কথা অন্যভাবে বলেছেন: দেশে কী পরিমাণ বন আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান বন অধিদপ্তরের কাছেই নেই।

বাংলাপিডিয়ার ছকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়টি সারি

ছকটি বন বিভাগের প্রশাসনিক এককে ভাগ করা, জেলা ধরে নয়। “পার্বত্য চট্টগ্রাম (উত্তর)” ও “পার্বত্য চট্টগ্রাম (দক্ষিণ)” নামের দুটি একক এখানেই পাওয়া যায়। সংখ্যা হেক্টরে।

একক (ছকের নামে) সংরক্ষিত অশ্রেণীভুক্ত মোট
পার্বত্য চট্টগ্রাম (উত্তর)1,59,3791,53,0633,12,442
পার্বত্য চট্টগ্রাম (দক্ষিণ)82,1611,72,7212,54,882
বান্দরবান40,19878,5921,18,790
পাল্পউড, বান্দরবান–58,23658,236
লামা–75,14975,149
রাঙ্গামাটি (অশ্রেণীভুক্ত বন)12,80189,6941,02,495
জুম নিয়ন্ত্রণ12,9039,60022,503
পাল্পউড, কাপ্তাই29,279–29,279
খাগড়াছড়ি (অশ্রেণীভুক্ত বন)1,40982,07383,482
যোগফল3,38,1307,19,12810,57,258

সূত্র: Banglapedia, Forest and Forestry। যোগফল এই পাতায় হিসাব করা; মূল ছকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আলাদা যোগফল নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কার হাতে: সংরক্ষিত, রক্ষিত আর অশ্রেণীভুক্ত বনের ফারাক কী?

সংরক্ষিত বন (রিজার্ভ ফরেস্ট) বন বিভাগের হাতে, সেখানে সাধারণের প্রবেশ ও ব্যবহার সীমিত। অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন (ইংরেজিতে Unclassed State Forest, সংক্ষেপে USF) সংরক্ষিত বনের বাইরের পাহাড়ি জমি, যেখানে জুম চাষ হয়। আইনে এটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিষয়, কিন্তু সে হস্তান্তর হয়নি বলে আমাদের আর্কাইভের লেখকেরা জানাচ্ছেন।

মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা “বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী” লেখায় চার ধরনের বনভূমির কথা বলেছেন: সংরক্ষিত বন, রক্ষিত বন (যার অধিকাংশ ইতিমধ্যে সংরক্ষিত ঘোষিত), ব্যক্তিমালিকানাধীন বন (বেশির ভাগ আদিবাসী কৃষকের) এবং অশ্রেণীভুক্ত বন। তাঁদের বিবরণে, রক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বনের মালিকানা এযাবৎ জেলা প্রশাসকের রাজস্ব বিভাগের হাতে; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বন ছাড়া বাকি সব বন জেলা পরিষদের আওতাধীন বিষয়, কিন্তু কার্যাবলী এখনো পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত হয়নি।

জমিটিকে কে কী নামে ডাকে, সেখানেই বিরোধ। একই লেখায় আছে, সরকারি কর্মকর্তাদের মতে এসব বন ও পাহাড় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাসভূমি। অম্লান চাকমা তাঁর লেখায় উল্টো কথা বলেছেন: পার্বত্য চট্টগ্রামে খাস জমি বলে কিছু নেই, এগুলো সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যানের আওতাধীন বন, যেখান থেকে হেডম্যান প্রজাদের জুম চাষ বা বাগানের জন্য জমি দিতে পারেন। ভূমির এই আইনি কাঠামো আলাদা লেখায় আছে: পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।

সংরক্ষিত বনের ভেতরেও মানুষ থাকেন। মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার বর্ণনায়, এসব বনাঞ্চলে আদিবাসীরা বংশপরম্পরায় বাস করলেও ভূমির অধিকার পান না; রিজার্ভ এলাকা বলে স্কুলের নামে জমি বন্দোবস্ত হয় না, ফলে সরকারি স্কুলও হয় না। লেখকেরা আরও জানান, বন বিভাগ রক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বনের 2,18,000 একর নতুন করে সংরক্ষিত ঘোষণা করে, যার 94,067 একর বান্দরবানের 7 উপজেলার 35টি মৌজায়; ঘোষণা বাতিলের দাবিতে আগস্ট 1998-এ জুম্ম নেতারা বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। জুয়ামলিয়ান আমলাই একই 2,18,000 একরকে বলেছেন আদিবাসীদের জুমভূমি দখল। বন আইন ও নীতির পূর্ণ আলোচনা ওই লেখায় এবং Forest (Amendment) Act, 2012 নিয়ে লেখাটিতে আছে।

পাহাড়ি বন কোথায় অবস্থিত, আর কোন ধরনের বন এটি?

পাহাড়ি বন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের আট জেলায়: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। বাংলাপিডিয়ার ভাষায় এটি উষ্ণমণ্ডলীয় চিরসবুজ ও অর্ধ-চিরসবুজ গাছপালার বন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় সংরক্ষিত বন চারটি: কাসালং, রেনখিয়াং, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী।

বাংলাপিডিয়ার “Chittagong Hill Tracts” ভুক্তি অনুযায়ী এখানকার উদ্ভিদে প্রাধান্য Dipterocarpaceae পরিবারের লম্বা গাছের; সঙ্গে Euphorbiaceae, Lauraceae, Leguminosae ও Rubiaceae পরিবার, আর বাঁশ, বেত ও ছন। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত উত্তর ও পূর্বে প্রায় 2,540 মিলিমিটার, দক্ষিণ ও পশ্চিমে 2,540 থেকে 3,810 মিলিমিটার; পাহাড়ের মাটি তীব্র অম্লীয়। মিশুক চাকমা তাঁর লেখায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বনকে চার ভাগে দেখিয়েছেন: নিরক্ষীয় চিরসবুজ, মিশ্র চিরসবুজ, পত্রহরিৎ বন ও বাঁশবন; সংরক্ষিত বনের গাছ হিসেবে নাম করেছেন গর্জন ও তেলসুরের।

প্রাকৃতিক বন কতটা টিকে আছে, সে প্রশ্নে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার বক্তব্য: বিভিন্ন প্রজাতিতে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক বনের অবশিষ্ট আছে কেবল ভারত সীমান্তের কাচালং ও মিয়ানমার সীমান্তের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনে, আর তা-ও উজাড় হচ্ছে। বাংলাপিডিয়ার “পাহাড়ি বন” ভুক্তিও বলছে, প্রাকৃতিক বন গাছ কেটে কৃত্রিম পুনর্জন্মের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাগান-বনে বদলানো হয়েছে; প্রতি বছর প্রায় 12 হাজার হেক্টরে বাগান করা হয়।

চার সংরক্ষিত বন: এক নাম, অনেক বানান

একই বনের নাম উৎসভেদে আলাদা বানানে লেখা হয়, ফলে খুঁজতে গিয়ে বিভ্রান্তি হয়। বাংলা বাংলাপিডিয়া লেখে কাসালং (মাইনি হেড ওয়াটার রিজার্ভসহ), রেনখিয়াং বা রানখিয়াং, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী। আমাদের আর্কাইভের লেখাগুলোয় প্রথমটি কাচালং; দ্বিতীয়টি রেংখং বা রাইক্ষ্যং। প্রথম আলো লিখেছে রাইংখং, আর একই লেখায় কাসালং ও কাচালং দুটোই।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর গঠনের তারিখ ও আয়তন আছে R. H. Sneyd Hutchinson-এর দুটি বইয়ে: An Account of the Chittagong Hill Tracts (1906, পৃ. 29–30) এবং সরকারি Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts (1909, পৃ. 72)। গেজেটিয়ার অনুযায়ী মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন গঠিত হয় 1 ডিসেম্বর 1880, আয়তন 251 বর্গমাইল; সাঙ্গু সংরক্ষিত বন গঠিত হয় 6 মে 1881, আয়তন 145 বর্গমাইল। পরের হিসাবে দুটিরই আয়তন কম: বন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া Creative Conservation Alliance-এর 2016 সালের সমীক্ষায় সাঙ্গু 83,612 একর, মাতামুহুরী 1,00,476 একর। দুই বনের ইতিহাস আর জুমিয়াদের সঙ্গে সীমানা-বিরোধের পূর্ণ বিবরণ আছে আমাদের লেখা সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন: বন বিভাগ আর জুমিয়াদের সীমানা-বিরোধের গোড়া কোথায়-তে।

কাচালংয়ের আয়তন তিন উৎসে তিন রকম। ডেইলি স্টারের 29 জুন 2008-এর প্রতিবেদনে এর আয়তন 4,04,867 একর, প্রতিষ্ঠা 1 জুলাই 1940-এর এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে; 1978 পর্যন্ত দুই দফায় প্রায় 46,476 একর মৌজাভুক্ত করে সংরক্ষণের বাইরে আনা হয়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে 1,48,500 হেক্টর, সাল 1881। জুয়ামলিয়ান আমলাইয়ের লেখায় কাচালং, রাইক্ষ্যং, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী মিলিয়ে 7,86,710 একর, ঘোষণা 1882-83 সালে। ডেইলি স্টারের ওই প্রতিবেদনেই আছে, কাচালংয়ের এক লক্ষ একরের বেশি, অর্থাৎ প্রায় এক-চতুর্থাংশ, দখল হয়ে গেছে; বাঘাইহাট রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুমানে দখলকারী পরিবার প্রায় 4,000।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন “সরকারি” হলো কবে?

1871 সালে। সে বছর পাহাড়ি বনের প্রায় 14,685 বর্গ কিলোমিটার নিয়ে সরকারি বন গঠিত হয় (বাংলাপিডিয়া); প্রথম আলোর ভাষায়, 1860 সালে জেলা সৃষ্টির এগারো বছর পর পুরো পাহাড়ি বনকে সরকারি ভূমি ঘোষণা করা হয়। পাহাড়ে প্রথম সংরক্ষিত বন ঘোষিত হয় 1875 সালে।

বাংলাপিডিয়ার 14,685 বর্গ কিলোমিটার সংখ্যাটি আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট আয়তনের (13,184 বর্গ কিলোমিটার) চেয়ে বড়; সংখ্যাটি কোন সীমানা ধরে, ভুক্তিতে তার ব্যাখ্যা নেই। কালপঞ্জিটি এ রকম:

  1. 1862: মহাবনপরিদর্শক ব্রানডিস তৎকালীন বাংলার কিছু বন পরিদর্শন করেন (বাংলাপিডিয়া)।
  2. 1864: অ্যান্ডারসন বাংলা ও আসামের বন সংরক্ষক নিযুক্ত হন; 1 নভেম্বর 1864-এ বন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
  3. 1865: প্রথম বন আইন; 1878 সালে সংশোধিত।
  4. 1871: পাহাড়ি বন সরকারি বন ঘোষিত। একই বছর মিয়ানমার থেকে আনা বীজ দিয়ে কাপ্তাইয়ে সেগুন চাষের প্রথম উদ্যোগ।
  5. 1875: প্রথম পাহাড়ি সংরক্ষিত বন। বাংলাপিডিয়া বলছে সেটি সীতাপাহাড়; প্রথম আলোর 21 মার্চ 2025-এর কলাম বলছে মাইনি।
  6. 1894: প্রথম আনুষ্ঠানিক বননীতি, যাতে রাজস্বের লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল।
  7. 1927: বন আইন 1927, যা বাংলাপিডিয়ার ভাষায় এখনো দেশের বন-বিষয়ক মূল আইন।
  8. 1979 ও 1994: জাতীয় বননীতি; দ্বিতীয়টি অনুমোদিত হয় 31 মে 1995-এ।

সেগুনের একক বাগান এই ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ। মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে বার্মা থেকে আনা সেগুনের একক বনবাগান গড়ে তোলায় উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ব্রিটিশ আমলের বন আইন ও নীতিতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত বন ব্যবস্থাপনা স্বীকৃতি পায়নি। 1979 ও 1994-এর বননীতি নিয়ে তাঁদের পূর্ণ সমালোচনা মূল লেখায় পড়া যাবে; এখানে তার পুনরাবৃত্তি করা হলো না।

কাপ্তাই বাঁধ আর কাগজকলে কত বন গেছে?

বাংলাপিডিয়ার হিসাবে কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি প্রায় 688.94 বর্গ কিলোমিটার। আমাদের আর্কাইভে মিশুক চাকমার হিসাব আলাদা এককে: 22.34 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন ও 234 বর্গমাইল অশ্রেণীভুক্ত বন জলমগ্ন, আরও 44.75 বর্গমাইল ধ্বংস। ডোবার পরেও ক্ষতি থামেনি; হ্রদের জলপথ কাঠ পাচার সহজ করে দেয়।

বাংলাপিডিয়ার “Karnafuli Hydropower Station” ভুক্তি অনুযায়ী বাঁধের নির্মাণ শেষ হয় 1961 সালের শেষে, স্পিলওয়ে বন্ধ করা হয় 1962 সালে; প্লাবিত এলাকা 777 বর্গ কিলোমিটার, ডুবে যাওয়া আবাদি জমি 21,870 হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার 18,000। “Kaptai Lake” ভুক্তি যোগ করছে: হ্রদ হওয়ায় বনজ সম্পদ অবৈধভাবে আহরণ সহজ হয়, তাতে 126.91 বর্গ কিলোমিটার সংরক্ষিত বন এবং 606.06 বর্গ কিলোমিটার খাস ও পাহাড়চূড়ার বন উজাড় হয়। প্রথম আলোর 2025-এর কলামে চাকমা সার্কেলপ্রধান দেবাশীষ রায়ের বরাতে নষ্ট হওয়া সংরক্ষিত বন 70 বর্গ কিলোমিটার।

মিশুক চাকমা আরও লিখেছেন, বাঁধে উদ্বাস্তু জুম্ম পরিবারগুলো পরে কাচালং, রেংখং ও সুভলং সংরক্ষিত বনে বসতি গড়ে; অর্থাৎ একদিকে জলমগ্নতা, অন্যদিকে নতুন জনপদ, দুই কারণেই বন কমে। বাঁধের পূর্ণ বিবরণ এই পাতার বিষয় নয়; দেখতে পারেন আমাদের আর্কাইভের কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং।

দ্বিতীয় বড় শিল্প-চাপ কাগজকল। প্রথম আলোর ওই কলামে (পার্থ শঙ্কর সাহা, 21 মার্চ 2025) আছে, কর্ণফুলী পেপার মিল চালু হয় 1953 সালে, আর পাল্পউড চাষের জন্য 2 লাখ 60 হাজার একর জমি নেওয়া হয়, যার 17 হাজার একর সংরক্ষিত বন। বাংলাপিডিয়ার ছকেও “পাল্পউড, বান্দরবান” (58,236 হেক্টর) ও “পাল্পউড, কাপ্তাই” (29,279 হেক্টর) নামে দুটি আলাদা সারি আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কি কমছে? চার হিসাব, চার রকম উত্তর

উত্তর নির্ভর করে কে কীভাবে মাপছে তার ওপর। উপগ্রহচিত্রের একটি গবেষণা 1998 থেকে 2018 সালে “বন” শ্রেণী 58 শতাংশ বেড়েছে বলে দেখিয়েছে; আরেক গবেষকের হিসাবে 2002 সালের পর দুই দশকে বনভূমির 10 শতাংশ হারিয়েছে; আর পাহাড়ের প্রায় 90 শতাংশ পরিবার বলেছে, বন তীব্রভাবে কমেছে।

কে মেপেছেন সময়কাল পদ্ধতি ফল
Ahammad ও অন্যান্য, Science of the Total Environment, 20191989–2014উপগ্রহচিত্র ও পরিবার-সাক্ষাৎকার1989–2003 নিট বৃদ্ধি (মধ্যবর্তী অঞ্চল 1.68%, সড়কসংলগ্ন 1.33%, দুর্গম 0.5%); 2003–2014 নিট হ্রাস
Chakma ও অন্যান্য, Land, 20231998–2018Landsat চিত্র, চার শ্রেণী“বন” শ্রেণী 58.03% বেড়েছে, মূলত তৃণভূমি থেকে রূপান্তরে; বন থেকে তৃণভূমি 13.34%
মংহ্লা ম্যান্ট (প্রথম আলোর বরাতে)2002–2022; আরেক লেখায় 2002–2023প্রতিবেদনে বলা নেইবনভূমির 10% বিলীন; রাঙামাটি 10%, খাগড়াছড়ি 7.3%, বান্দরবান 12%
University of Maryland / Global Forest Watch (Mongabay-এর বরাতে)2002–2023উপগ্রহ-উপাত্তশুধু পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে প্রায় 800 হেক্টর (প্রায় 9%) প্রাথমিক বন হারিয়েছে

প্রথম দুটি গবেষণার ফারাক বোঝার চাবি প্রথমটির ভেতরেই আছে। Ahammad ও সহলেখকেরা তিন ধরনের এলাকায় (দুর্গম, মধ্যবর্তী, সড়কসংলগ্ন) উপগ্রহচিত্রের পাশাপাশি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। উপগ্রহ একটি পর্বে নিট বৃদ্ধি দেখালেও প্রায় 90 শতাংশ পরিবার তীব্র বনক্ষয়ের কথা বলেছে; প্রায় 75 শতাংশ জানিয়েছে জ্বালানি কাঠ, ঘর বানানোর সামগ্রী, বুনো খাবার ও মিঠা পানি কমে গেছে, আর বনজ দ্রব্য আনতে আগের চেয়ে দূরে যেতে হয়। লেখকদের সিদ্ধান্ত: উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণে মানুষের অভিজ্ঞতা যোগ না করলে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়াতে পারে।

Chakma ও সহলেখকেরা বন বাড়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন কার্যকর বন ব্যবস্থাপনা, সামাজিক বনায়ন ও জাতীয় বন-কৌশলের বাস্তবায়ন; তাঁদের পূর্বাভাসে 2048 সালে বন দাঁড়াবে 9,129 বর্গ কিলোমিটারে। এই গবেষণার শ্রেণী চারটি: বন, তৃণভূমি, জলাশয় ও খালি জমি। প্রাকৃতিক বন আর লাগানো বাগান আলাদা শ্রেণীতে গোনা হয়নি।

মংহ্লা ম্যান্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এবং প্রগ্রেসিভ রাঙামাটির কর্মসূচি পরিচালক। প্রথম আলোর 2025-এর কলামে তাঁর গবেষণার আরও দুটি সংখ্যা আছে: ধ্বংস হওয়া প্রাকৃতিক বন 6 হাজার 970 হেক্টর, আর বননির্ভর পাহাড়িদের বনে অভিগম্যতা কমেছে 75 শতাংশ। 2026-এর প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জসিমউদ্দিন বলেছেন, তাঁর 2012 সালের গবেষণার পর সরকারি বন আরও কমেছে; প্রতিবেদনের ইংরেজি সংস্করণ অনুযায়ী অন্তত পাঁচটি সরকারি রক্ষিত বন বহুলাংশে ধ্বংস।

Mongabay-এর 24 জুলাই 2024-এর প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান জানিয়েছেন, পাবলাখালী থেকে বাঘ, সাদা-ডানা হাঁস ও শ্লথ ভালুক হারিয়ে যাচ্ছে; মেঘলা চিতা, এশীয় হাতি ও রাজধনেশ কমছে। একই প্রতিবেদনে 2013 সালের একটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভের উদ্ধৃতি আছে, যেখানে অভয়ারণ্যটিকে ব্যাপক বন উজাড়ে প্রায় ন্যাড়া মাঠে পরিণত বলা হয়েছে।

বন উজাড়ের জন্য কাকে দায়ী করা হয়? জুম চাষ কি বন ধ্বংস করে?

এ প্রশ্নে দুই পক্ষ আছে, আর দুই পক্ষই নথিভুক্ত। বন বিভাগের নথি, বাংলাপিডিয়া ও একটি গবেষণা জুম চাষকে বন কমার অন্যতম কারণ বলে; আদিবাসী লেখকেরা বলেন, শত শত বছরের জুমে বন শেষ হয়নি, ক্ষয় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক কাঠ আহরণ, বাগান, বাঁধ ও বসতি স্থাপনের সঙ্গে।

বাংলাপিডিয়ার “বন ও বনবিজ্ঞান” ভুক্তি বলছে, 1985 সালের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে দখল ও জুম চাষ বাড়ছে; Ahammad ও সহলেখকদের গবেষণায় দুর্গম অঞ্চলে বন বদলের প্রধান চালক জুম, তবে সড়কসংলগ্ন অঞ্চলে কাঠ ও জ্বালানি আহরণ। উল্টো দিকে মিশুক চাকমার যুক্তি, জুম হয় অশ্রেণীভুক্ত বনে, প্রধানত বাঁশবনে, আর একবার চাষের পর জমি অন্তত 4-5 বছর পতিত থাকে। একটি জায়গায় দুই পক্ষের তথ্য মেলে: জুমের দুই চক্রের মাঝের বিরতি কমেছে; মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার হিসাবে আগে 10 থেকে 15 বছর, এখন 5 থেকে 10 বছর।

জুমের বাইরে যেসব কারণের নাম আসে: বাণিজ্যিক ও অবৈধ কাঠ আহরণ, আশির দশকের বসতি স্থাপন, বন বিভাগের সেগুন ও রাবার বাগান, ইটভাটা ও তামাক চুল্লি, আর পাহাড় কেটে বানানো সড়ক। বারোটি গবেষণার ফল এক ছকে, জুমের বছরে মাটি-ক্ষয়ের মাঠ-পরীক্ষা, উপগ্রহচিত্রের হিসাব আর জুমচক্র কেন ছোট হলো তার নীতি-ইতিহাস নিয়ে পূর্ণ বিশ্লেষণ আছে আমাদের আলাদা লেখায়: পাহাড়ের বন কমেছে কীসে: জুম চাষ কি বন ধ্বংস করে, আর তামাক ও বাণিজ্যিক বাগান নিয়ে গবেষণা কী বলে। জুম কীভাবে হয়, তার জন্য জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধস: কবে, কোথায়, কতজন?

সবচেয়ে বড় নথিভুক্ত ঘটনা 13 জুন 2017-এর, যাতে রাঙামাটিতেই 118 থেকে 120 জন মারা যান এবং পাঁচ জেলা মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা উৎসভেদে 152 থেকে 162। তার আগে ও পরে ছোট-বড় ধসের একটি ধারাবাহিক তালিকা আছে, আর প্রায় প্রতিটির কারণ হিসেবে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড় কাটা ও গাছ সরানোর কথা এসেছে।

কবে কোথায় কী ঘটেছিল উৎস
1968কাপ্তাই–চন্দ্রঘোনা সড়কগাছপালা সরানোর পর বর্ষায় মাটি দ্রুত ক্ষয়ে ধস; আলগা মাটি গিয়ে পড়ে কাপ্তাই হ্রদেবাংলাপিডিয়া
1970ঘাগড়া–রাঙ্গামাটি সড়কএকই ধরনের ঘটনাবাংলাপিডিয়া
30 মে 1990রাঙ্গামাটি জেলাসংযোগ সড়কের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত; কারণ দুর্বল পলির ওপর বাঁধের ভার ও খাড়া ঢালবাংলাপিডিয়া
জুলাই 1997বান্দরবানপ্রায় 90,000 বর্গমিটার এলাকায় ধসবাংলাপিডিয়া
11 ও 13 আগস্ট 1999বান্দরবানের লামা (আজিজনগর ইউনিয়ন) ও চট্টগ্রাম17 জন নিহত, তাঁদের 10 জন চট্টগ্রামে; অন্তত 50 ঘর নিশ্চিহ্ন, 300 আংশিক ক্ষতিগ্রস্তবাংলাপিডিয়া
13 জুন 2017রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়িমৃত 152 থেকে 162 (নিচে বিস্তারিত); শুধু রাঙামাটি জেলায় অন্তত 20টি আলাদা ধসপ্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া
12 জুন 2018রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার পাঁচটি গ্রাম11 জন নিহত; রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি সড়ক 10-15 জায়গায় ক্ষতিগ্রস্তডেইলি স্টার

2017 সালের পাহাড়ধসে কতজন মারা যান?

তিন উৎসে তিন সংখ্যা। প্রথম আলো (19 জুন 2017) রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের ঘোষণার ভিত্তিতে বলছে পাঁচ জেলায় 162: রাঙামাটি 118 (পাঁচ সেনাসদস্যসহ), চট্টগ্রাম 34, বান্দরবান 6, কক্সবাজার 2 ও খাগড়াছড়ি 2। ডেইলি স্টার (13 জুন 2019) বলছে রাঙামাটিতে 120। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার লেখায় অন্তত 152, তথ্যছকে 170।

বৃষ্টির হিসাব একটিই: 24 ঘণ্টায় 34.3 সেন্টিমিটার, বঙ্গোপসাগরের একটি নিম্নচাপের প্রভাবে (উইকিপিডিয়া)। ডেইলি স্টারের হিসাবে রাঙামাটিতে 1,200 ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়, 9,500 আংশিক; ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় 18,000 পরিবার; অন্য জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে প্রায় 10 দিন। দুই বছর পরও জেলা প্রশাসনের হিসাবে অন্তত 10,000 মানুষ 50টি ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল ও খাদে বাস করছিলেন, সতর্কতা-ফলক বসানোর পরেও।

কারণ নিয়ে উইকিপিডিয়া একটি 2019 সালের গবেষণার (Sifa ও অন্যান্য) উল্লেখ করেছে: খাড়া ঢাল, বন উজাড় ও পাহাড় কাটায় এলাকাটি আগে থেকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তীব্র বৃষ্টি ছিল কেবল শেষ ধাক্কা। একই ভুক্তিতে এক আদিবাসী নেতার বক্তব্য আছে, গাছ কাটায় কিছু ঢাল একেবারে ন্যাড়া হয়ে গিয়েছিল। 2018-এর ঘটনা নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন 2017-কে বলেছে 2007 সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ধস, যে বছর 127 জন মারা গিয়েছিলেন।

বাংলাপিডিয়ার “Landslide” ভুক্তি কারণগুলোকে ভাগ করেছে এভাবে: পাশের ঠেস সরে যাওয়া (নদীভাঙন, মানুষের কাটা ঢাল ও গর্ত), ঢালের ওপর বাড়তি ভার (বৃষ্টির পানি, ভরাট, স্থাপনা), ভূমিকম্প, আর জুমের মতো মানুষের কর্মকাণ্ড। ভুক্তিটির আরেকটি তথ্য: পলি জমে কাপ্তাই হ্রদ 30 বছরে তার আয়তনের প্রায় 25 শতাংশ হারিয়েছে।

পাহাড়ের ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে কেন?

যাঁদের কথা নথিভুক্ত আছে, গ্রামবাসী, কারবারি, প্রকৌশলী ও গবেষক, তাঁরা প্রায় একই তিনটি কারণের নাম করেছেন: ঝিরির উৎসের বন কাটা, ঝিরির তলার পাথর ও বালু তুলে নেওয়া, আর সেগুন-রাবারের বাগান। ওয়াটার এইড 2008 থেকে 2015 সালে 71টি ঝরনা পর্যবেক্ষণ করে; তিনটি বাদে সবগুলোর প্রবাহ কমেছে (প্রথম আলোর 2025-এর কলাম)।

প্রথম আলোর 22 মার্চ 2021-এর প্রতিবেদনে তিন জেলার ছবি:

  • বান্দরবান: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের হিসাবে 41 শতাংশ মানুষ নিয়মিত পানি সরবরাহের বাইরে; রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলীকদমে 70 শতাংশের বেশি। বোমাং সার্কেলের কর্মকর্তাদের হিসাবে সাত উপজেলার 1,437টি গ্রামের প্রায় সবখানে সংকট।
  • রাঙামাটি: 40 শতাংশ মানুষ 1,000 থেকে 2,000 ফুট উঁচু ঢাল ও চূড়ায় থাকেন, যেখানে ঝিরি-ঝরনাই প্রধান উৎস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে প্রায় এক দশক আগে ধান ও অন্য ফসল হতো এমন 1,952 একরে পানির অভাবে সেচ ও চাষ ব্যাহত।
  • খাগড়াছড়ি: অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি নেন; নয় উপজেলাতেই শুষ্ক মৌসুমে সংকট।

কারণ নিয়ে ওই প্রতিবেদনে তিন ধরনের কণ্ঠ আছে। গ্রামবাসীরা দায়ী করেছেন দুই দশকের গাছ কাটা আর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য পাথর-বালু তোলাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা, বান্দরবানের পানি পাশের কোনো এলাকার উপনদীর ওপর নির্ভর করে না; প্রাকৃতিক বনই পাথর ও বালুর স্তরে জলাধার ধরে রাখে। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের এক সদস্য দায়ী করেছেন অপরিকল্পিত সেগুন ও রাবার বাগানকে, আর জানিয়েছেন 300 থেকে 500 ফুট গভীরেও পানির স্তর মেলে না।

বান্দরবানের আলীকদমের একটি ঝিরির ঘটনা আলাদা করে নথিভুক্ত। ডেইলি স্টারের 27 ফেব্রুয়ারি 2019-এর প্রতিবেদন (ইংরেজি বানানে Roambo jhiri) অনুযায়ী ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ায় একটি তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার আট পরিবারের 35 জন আগের বছর এলাকা ছেড়ে যান। পাড়ার কারবারি কারণ হিসেবে বলেছেন, যে পাহাড়ি বন থেকে পানি চুঁইয়ে ঝিরিতে আসে, তা উজাড় হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক যোগ করেছেন ঝিরির পাথর তোলা আর তামাকখেতে সেচের গভীর নলকূপের কথা, যা ভূগর্ভের পানি নামিয়ে দেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সাত মাসে প্রায় ত্রিশজন পাথর-চোরকে তিনি কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আমাদের আর্কাইভের লেখকেরা একই কথা আগে লিখে গেছেন। অম্লান চাকমার লেখায় আছে, আদিবাসীরা সহজাত জ্ঞান থেকে জানেন যে ঝরনার উৎস থেকে দুই ধারের কোনো গাছ কাটা যায় না, কাটলে পানি ক্রমে শুকিয়ে যায়; ছড়ার পাড় যাতে না ভাঙে, সে জন্যও পাড়ের গাছ রাখা হয়। জুয়ামলিয়ান আমলাই লিখেছেন, ঝিরিতে পানি ধরে রাখার মূল উপাদান পাথর, আর রাস্তা বানাতে সেই পাথরই তোলা হচ্ছে। সাজেক নিয়ে আর্কাইভের আরেক লেখায় আছে, সেখানে “সারা বছরই সুপেয় পানির অভাব থাকে।”

পার্বত্য চট্টগ্রামে তামাক চাষ: কত জমি, কত চুল্লি, কত কাঠ?

পরিবেশ অধিদপ্তরের 2018 সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় তামাক পাতা শুকানোর চুল্লি 2,978টি: বান্দরবানে 2,033, খাগড়াছড়িতে 767 ও রাঙামাটিতে 178। 1 কেজি পাতা শুকাতে লাগে 3 কেজি জ্বালানি। বছরে মোট কত কাঠ পোড়ে, সে প্রশ্নে একই সংবাদে দুটি সংখ্যা আছে: 1,34,010 মণ ও 4,46,700 মণ।

তথ্যগুলো ঢাকা ট্রিবিউনের 30 সেপ্টেম্বর 2018-এর সংবাদ থেকে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন পরিচালক, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় 22 মার্চের সরেজমিন পরিদর্শনের পর। সংবাদের শিরোনামে জ্বালানির পরিমাণ বছরে 1,34,010 মণ, ভেতরে 2,978টি চুল্লিতে প্রায় 4,46,700 মণ; ফারাকের ব্যাখ্যা সংবাদে নেই। অন্য তথ্য: প্রতিটি চুল্লিতে বছরে প্রায় 2,000 কেজি পাতা শুকানো হয়, আর মাত্র 40 শতাংশ চুল্লি জ্বালানি-সাশ্রয়ী পদ্ধতির।

জমির হিসাব আছে কেবল বান্দরবানের। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে 3 জুলাই 2026-এ প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষকের লেখায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপাত্ত উদ্ধৃত: বান্দরবানে তামাক ছিল 1995-96 সালে 127 হেক্টরে, 2007-08 সালে 1,437 হেক্টরের বেশি জমিতে; বারো বছরে এগারো গুণ। লেখকের মাঠ-পর্যবেক্ষণে, মৌসুমের চূড়ায় আলীকদম উপজেলার আবাদযোগ্য জমির আনুমানিক 85 থেকে 90 শতাংশে তামাক থাকে, আর আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে হাজার হাজার চুল্লি জ্বলে, প্রতি দফায় টানা 72 ঘণ্টা পর্যন্ত।

ক্ষতি শুধু কাঠে নয়। একই লেখা অনুযায়ী তামাক-অঞ্চলের সার ও কীটনাশক ধুয়ে মাতামুহুরী নদীতে যায়; গবেষণার তিন গ্রামের কৃষকেরাই গত এক দশকে মাছ কমে যাওয়ার কথা বলেছেন, আর বারবার তামাক করা জমির উর্বরতা কমার কথাও। লেখকের পর্যবেক্ষণ, এ দুটির কোনোটিই সরকারি বা কোম্পানির কোনো পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থায় ধরা পড়ে না। ঢাকা ট্রিবিউনের সংবাদে বান্দরবানের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তামাক কোম্পানিগুলো লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে কৃষকদের টানে।

গ্রামীণ সাধারণ বন বা ভিসিএফ কী, আর পার্বত্য চট্টগ্রামে কতটি আছে?

গ্রামীণ সাধারণ বন (Village Common Forest, সংক্ষেপে ভিসিএফ) হলো মৌজা বা পাড়ার মানুষের যৌথভাবে রক্ষা করা প্রাকৃতিক বন, যার মালিক কোনো ব্যক্তি বা বন বিভাগ নয়। ইউএনডিপি বাংলাদেশের জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় এমন বন 379টি। প্রথম আলো বলছে সংখ্যাটি কয়েক শ, তবে সঠিক গণনা নেই।

নামটি নতুন, প্রথাটি পুরোনো। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী চাকমারা এ বনকে বলেন রিজাব বা সার্ভিস, মারমারা রিজা, বমরা কুয়া রিজাব; পাহাড়ের 11টি জাতিসত্তার সবারই গ্রাম বা মৌজাভিত্তিক বনের কোনো না কোনো ব্যবস্থা আছে। চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় ওই প্রতিবেদনে বলেছেন, ভিসিএফের রীতি জাতিভেদে আলাদা। অম্লান চাকমার লেখায় নামগুলো “রিজেব” ও “মৌজা রিজার্ভ ফরেস্ট”; তিনি জানিয়েছেন, “গ্রামীণ সাধারণ বন” বা ভিসিএফ নামটি দেয় রাঙ্গামাটির স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা টংগ্যা, 2003 সালের দিকে।

কোন বন কত বড়

বন কোথায় আয়তন উৎসে যা আছে
পাবলাখালী ভিসিএফ52 নং পাবলাখালী মৌজা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়িপ্রায় 700 একর2017 সালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসিএফ ঘোষণা করে (ইউএনডিপি)
বেগানাছড়িবরকল, রাঙামাটি300 একরপ্রায় 100 পরিবার নির্ভরশীল; 161 প্রজাতির উদ্ভিদ (প্রথম আলো)
ডলুছড়ি মৌজা বনরাঙামাটি সদরপ্রায় 105 একরআগে কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গাছ বিক্রি হয়েছিল; এখন কমিটির অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা যায় না (প্রথম আলো)
উল্টাছড়ি বিহারপাড়া বনকায়াংঘাট ইউনিয়ন, মহালছড়ি, খাগড়াছড়িউৎসে নেইকমিটির সভাপতির ভাষ্যে 1965 সাল থেকে রক্ষিত; বাঁশ কাটা হয় তিন বছর পর পর (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর)

সাধারণ আয়তন নিয়েও উৎসগুলো আলাদা কথা বলে। অম্লান চাকমার লেখায়, 1965 সালের সরকারি আদেশে একটি বনের আয়তন আনুমানিক 100 একর পর্যন্ত ধরা হয়েছিল, তবে কোনো কোনো মৌজায় 300 থেকে 400 একরের বনও আছে; মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন 50 থেকে 300 একর। জেলাওয়ারি গণনা পাওয়া যায় কেবল খাগড়াছড়ির: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের 21 মার্চ 2023-এর প্রতিবেদনে একটি প্রকল্পের আওতায় 58টি পাড়াবন, যার মধ্যে দীঘিনালায় 18, সদরে 11, মহালছড়িতে 9, লক্ষ্মীছড়িতে 8, পানছড়িতে 7, গুইমারায় 3 ও মাটিরাঙায় 2টি।

বন কীভাবে চলে

ইউএনডিপির প্রতিবেদনে পাবলাখালীর নিয়মগুলো এ রকম: বড় আকারে কিছু আহরণ করা যায় না, মানুষ কেবল প্রয়োজনমতো মাছ, কাঁকড়া, বাঁশকোড়ল ও শাকসবজি নিতে পারেন; বাঁশ নিতে মৌজা হেডম্যানের অনুমতি লাগে; স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রতিদিন টহল দেন। প্রথম আলো যোগ করেছে, পানির মূল উৎসের কাছে জুম নিষিদ্ধ, আর ফুল-ফল ধরা বা প্রজননের মৌসুমে দুই-তিন মাস আহরণ বন্ধ থাকে; কোনো কোনো কমিটির অর্ধেকের বেশি সদস্য নারী। সমান অধিকার, বিক্রির টাকার সামাজিক ব্যবহার, দরিদ্র পরিবারের ঘর বা মৃতের সৎকারের জন্য বাঁশ-গাছ নেওয়ার নিয়ম ও কমিটির কাজ অম্লান চাকমা ভেতর থেকে লিখেছেন; তার জন্য পড়ুন গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনাঃ প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম।

জীববৈচিত্র্যের হিসাব এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেদ মিজবাহুজ্জামানের 2020 সালের গবেষণা থেকে, যাতে 20টি ভিসিএফ ছিল। বেগানাছড়িতে পাওয়া গেছে 161 প্রজাতির উদ্ভিদ (এর 48টি বড় গাছ, 55টি খাদ্য-উদ্ভিদ), 126 প্রজাতির প্রাণী ও 53 প্রজাতির পাখি; ভিসিএফভেদে উদ্ভিদ প্রজাতি 80 থেকে 213। 2012 সালের আরেক গবেষণায় বান্দরবানের একটি ভিসিএফে 60 পরিবারের 163 প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যায়। অধ্যাপক জসিমউদ্দিনের মত, ভিসিএফ এখনো সরকারি বনের চেয়ে প্রাণবৈচিত্র্যে এগিয়ে, তবে সবগুলোর অবস্থা ভালো নয়।

আইনি ভিত্তি: দুই উৎসে দুই সাল

অম্লান চাকমা লিখেছেন, 1900 সালের পার্বত্য শাসনবিধির 41(ক) ধারায় মৌজা বন অনুমোদিত, আর জেলা প্রশাসক এম এস রহমান 3 আগস্ট 1965-এ প্রতি মৌজায় হেডম্যানের নেতৃত্বে এক বা একাধিক বন সৃষ্টির আদেশ দেন। প্রথম আলো বলছে, জেলা প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশটি 1967 সালের। আর্কাইভের দুই লেখাতেই আছে, এসব বনের জমির রেকর্ড বা আইনি স্বীকৃতি গ্রামবাসীর হাতে নেই।

এই দুর্বলতার ফল নিয়েও দুই রকম ছবি। মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছিলেন, মৌজা বনের জমি সরকারি উদ্যোগে ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেওয়া শুরু হওয়ায় এসব বন বিলুপ্তির পথে, টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি; কেবল বান্দরবানেই 40,077 একরের 1,605টি প্লট বহিরাগতদের ইজারা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মূলত জুমভূমি ও যৌথ মৌজা বন ছিল। 2026-এ ইউএনডিপির গণনায় বন 379টি। পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেছেন, ভিসিএফ বন বিভাগের হাতে গেলে রক্ষা করা কঠিন হবে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিসেম্বর 2025-এ প্রণীত জাতীয় বননীতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্রামবনসহ অংশীদারিমূলক বনায়নের সফল রূপরেখাগুলোকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার কথা আছে।

প্রশ্নোত্তর

পাহাড়ি বনভূমির পরিমাণ কত লক্ষ হেক্টর?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমি প্রায় 14 লক্ষ হেক্টর; নির্দিষ্ট ছকে 13,61,670 হেক্টর। এর প্রায় 6.7 লক্ষ হেক্টর বন বিভাগের অধীনে আর প্রায় 7.3 লক্ষ হেক্টর অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন। একই ছকের সারি যোগ করলে শুধু তিন পার্বত্য জেলায় পড়ে 10,57,258 হেক্টর: সংরক্ষিত 3,38,130 ও অশ্রেণীভুক্ত 7,19,128 হেক্টর। এগুলো আইনি শ্রেণীর জমি, গাছে ঢাকা জমির মাপ নয়।

পাহাড়ি বন কোথায় অবস্থিত?

বাংলাদেশের পাহাড়ি বন আট জেলায় অবস্থিত: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এটি উষ্ণমণ্ডলীয় চিরসবুজ ও অর্ধ-চিরসবুজ বন। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সংরক্ষিত বন কাসালং (কাচালং), রেনখিয়াং, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী; পাহাড়ের প্রথম সংরক্ষিত বন ঘোষিত হয় 1875 সালে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কত শতাংশ সংরক্ষিত বন?

প্রথম আলোর মে 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের 5,093 বর্গমাইলের মধ্যে 1,244 বর্গমাইল, অর্থাৎ 24 শতাংশ, সংরক্ষিত বন। বাংলাপিডিয়ার ছক থেকে হিসাব করলে 3,38,130 হেক্টর, মোট আয়তনের প্রায় 26 শতাংশ। আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন প্রায় এক-দশমাংশ।

অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন (USF) কী?

অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন বা Unclassed State Forest হলো সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনের বাইরের পাহাড়ি বনভূমি, যেখানে জুম চাষ হয়। বাংলাপিডিয়ার ছকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এর পরিমাণ 7 লক্ষ হেক্টরের বেশি। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বন ছাড়া অন্য বন জেলা পরিষদের বিষয়, তবে আর্কাইভের লেখকদের মতে সে হস্তান্তর কার্যকর হয়নি।

জুম চাষে কি বন ধ্বংস হয়?

এ নিয়ে দুই মত আছে। বাংলাপিডিয়া বলছে 1985 সালের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে দখল ও জুম বাড়ছে, আর Ahammad ও অন্যান্যের 2019 সালের গবেষণায় দুর্গম অঞ্চলে বন বদলের প্রধান চালক জুম। আদিবাসী লেখক মিশুক চাকমার মতে জুম হয় প্রধানত বাঁশবনে, 4-5 বছর পতিত রেখে; তাই একে বনভূমি ধ্বংসের প্রধান কারণ বলা যায় না।

2017 সালের পাহাড়ধসে কতজন মারা যান?

13 জুন 2017-এর পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা উৎসভেদে আলাদা। প্রথম আলো জেলা প্রশাসকের ঘোষণার ভিত্তিতে বলছে পাঁচ জেলায় 162 জন, যার 118 জন রাঙামাটিতে, 34 জন চট্টগ্রামে, 6 জন বান্দরবানে এবং 2 জন করে কক্সবাজার ও খাগড়াছড়িতে। ডেইলি স্টার রাঙামাটিতে 120 জন বলছে; ইংরেজি উইকিপিডিয়া মোট অন্তত 152। সেদিন 24 ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল 34.3 সেন্টিমিটার।

পাহাড়ে পানির সংকট কেন?

প্রথম আলোর 2021 সালের প্রতিবেদনে গ্রামবাসী, প্রকৌশলী ও জনপ্রতিনিধিরা তিনটি কারণ বলেছেন: নির্বিচার বন কাটা, ঝিরি থেকে পাথর ও বালু তোলা এবং অপরিকল্পিত সেগুন-রাবার বাগান। বান্দরবানে 41 শতাংশ মানুষ নিয়মিত পানি সরবরাহের বাইরে; রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলীকদমে 70 শতাংশের বেশি। ওয়াটার এইডের দেখা 71টি ঝরনার তিনটি বাদে সবগুলোর প্রবাহ কমেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তামাক চুল্লি কতটি?

পরিবেশ অধিদপ্তরের 2018 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় তামাক চুল্লি 2,978টি: বান্দরবানে 2,033, খাগড়াছড়িতে 767 এবং রাঙামাটিতে 178টি। 1 কেজি পাতা শুকাতে 3 কেজি জ্বালানি লাগে। বছরে পোড়া কাঠের পরিমাণ নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের একই সংবাদে দুটি সংখ্যা আছে: 1,34,010 মণ ও 4,46,700 মণ।

ভিসিএফ কী, আর কতটি আছে?

ভিসিএফ বা Village Common Forest হলো পাড়া বা মৌজার মানুষের যৌথভাবে রক্ষা করা বন, যা হেডম্যান, কারবারি বা কমিটি পরিচালনা করে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনে তিন পার্বত্য জেলায় এমন বন 379টি; প্রথম আলোর মতে সঠিক গণনা নেই। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার পাবলাখালী ভিসিএফ প্রায় 700 একর, রাঙামাটির বরকলের বেগানাছড়ি 300 একর।

কাপ্তাই বাঁধে কত বন ডুবেছিল?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি প্রায় 688.94 বর্গ কিলোমিটার, প্লাবিত এলাকা 777 বর্গ কিলোমিটার। আমাদের আর্কাইভে মিশুক চাকমার হিসাবে 22.34 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন ও 234 বর্গমাইল অশ্রেণীভুক্ত বন জলমগ্ন হয়। পরে হ্রদের জলপথে পাচার সহজ হওয়ায় আরও 126.91 বর্গ কিলোমিটার সংরক্ষিত বন উজাড় হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বন কবে সরকারি বন হয়?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 1871 সালে পাহাড়ি বনের প্রায় 14,685 বর্গ কিলোমিটার নিয়ে সরকারি বন গঠিত হয়, বন বিভাগ প্রতিষ্ঠার সাত বছর পর। একই বছর মিয়ানমারের বীজ দিয়ে কাপ্তাইয়ে সেগুন চাষ শুরু হয়। 1875 সালে প্রথম পাহাড়ি সংরক্ষিত বন ঘোষিত হয়; বাংলাপিডিয়ার মতে সেটি সীতাপাহাড়, প্রথম আলোর একটি কলামের মতে মাইনি।

যা এখনো জানা যায়নি

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের একক, সরকারি ও হালনাগাদ বন-আয়তন। এই পাতার সব সংখ্যা বিশ্বকোষ, গবেষণা ও সংবাদ থেকে নেওয়া; বাংলাপিডিয়ার ছকের ভিত্তি-বছর জানা যায়নি।
  • রেনখিয়াং সংরক্ষিত বনের আলাদা আয়তন জানা যায়নি। কাচালংয়ের ঘোষণার সাল তিন উৎসে তিন রকম: 1881, 1882-83 ও 1940। সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর গঠনের তারিখ হাচিনসনের গেজেটিয়ারে আছে, কিন্তু যে প্রজ্ঞাপনে বন দুটি ঘোষিত হয়েছিল তার মূল পাঠ পাওয়া যায়নি।
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের এখতিয়ার এবং Chittagong Hill Tracts Forest Transit Rules 1973-এর বিধান নিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি; তাই এ দুটি বিষয় এই পাতায় নেই।
  • তামাকের সাম্প্রতিক জমি। 2007-08 সালের পরের জেলাওয়ারি হেক্টর জানা যায়নি; রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির কোনো হিসাবই পাওয়া যায়নি। চুল্লির জ্বালানির দুই সংখ্যার কোনটি মূল প্রতিবেদনের, তা যাচাই করা যায়নি।
  • দুই গবেষণার পূর্ণ পাঠ। Ahammad (2019) ও Chakma (2023), দুটিরই কেবল সারাংশের তথ্য এখানে আছে। 58.03 শতাংশ বৃদ্ধি কোন ভিত্তির ওপর হিসাব করা, সারাংশ থেকে বোঝা যায় না। মংহ্লা ম্যান্টের গবেষণার সময়কাল এক লেখায় 2002–2022, আরেক লেখায় 2002–2023।
  • পাহাড়ধসের পূর্ণ তালিকা। 2000 থেকে 2016 এবং 2018-এর পরের ঘটনাগুলো এই ছকে নেই; 2007 সালের 127 মৃত্যুর স্থান-বিবরণ পাওয়া যায়নি।
  • ভিসিএফের আইনি ভিত্তি। জেলা প্রশাসনের আদেশ 1965 না 1967 সালের, দুই উৎসে অমিল; শাসনবিধির 41(ক) বিধির মূল পাঠ মেলানো যায়নি। ভিসিএফের স্থানীয় নামগুলো (রিজাব, রিজা, কুয়া রিজাব) একটিমাত্র সংবাদ-প্রতিবেদনের বানানে দেওয়া।
  • পাহাড়ি ঝরনা কীভাবে সৃষ্টি হয়, তার ভূ-জলবিদ্যাগত ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। এখানে কেবল স্থানীয় মানুষ ও কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ আছে: বন, পাথর ও বালুর স্তর পানি ধরে রাখে।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ

  1. অম্লান চাকমা, গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনাঃ প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম; মূল প্রকাশ: জের’ তম্বা ম্যাগাজিন, বিঝু সংখ্যা, 2013।
  2. মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা, বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
  3. মিশুক চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব।
  4. জুয়ামলিয়ান আমলাই, বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম; মূল প্রকাশ: তাক্রুপ্ সংকলন, 2013।
  5. Forest (Amendment) Act, 2012ঃ একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।
  6. জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে।
  7. পাহাড়ের বন কমেছে কীসে: জুম চাষ কি বন ধ্বংস করে, আর তামাক ও বাণিজ্যিক বাগান নিয়ে গবেষণা কী বলে।
  8. সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন: বন বিভাগ আর জুমিয়াদের সীমানা-বিরোধের গোড়া কোথায়।
  9. পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।
  10. কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং।
  11. চিন্তাভাবনাঃ সাজেকের ট্যুরিজম।

বিশ্বকোষ

  1. মোঃ মাহফুজুর রহমান, পাহাড়ি বন, বাংলাপিডিয়া; ইংরেজি সংস্করণ: Hill Forest।
  2. বন ও বনবিজ্ঞান, বাংলাপিডিয়া; ইংরেজি সংস্করণ: Forest and Forestry।
  3. Chittagong Hill Tracts, Banglapedia।
  4. Landslide, Banglapedia।
  5. Kaptai Lake, Banglapedia।
  6. Karnafuli Hydropower Station, Banglapedia।
  7. 2017 Bangladesh landslides এবং Kassalong reserve forest, Wikipedia।

গবেষণা ও নথি

  1. R. H. Sneyd Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts, 1906, পৃ. 29–30, ইন্টারনেট আর্কাইভ।
  2. R. H. Sneyd Hutchinson, Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts, Allahabad: Pioneer Press, 1909, পৃ. 72, ইন্টারনেট আর্কাইভ।
  3. Ahammad, R., Stacey, N., Eddy, I. M. S., Tomscha, S. A. ও Sunderland, T. C. H., Recent trends of forest cover change and ecosystem services in eastern upland region of Bangladesh, Science of the Total Environment 647, 2019, পৃ. 379–389।
  4. Chakma, M., Hayat, U., Meng, J. ও Hassan, M. A., An Assessment of Landscape and Land Use/Cover Change and Its Implications for Sustainable Landscape Management in the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh, Land 12(8), 2023।

সংবাদ ও সংস্থার প্রতিবেদন

  1. পার্থ শঙ্কর সাহা ও মিকেল চাকমা, মানুষের যত্নে টিকে থাকা ‘ভিন্নরকম বন’, হতে পারে বিশ্বের মডেল, প্রথম আলো, 14 মে 2026; ইংরেজি সংস্করণ: Community-managed forests flourish amid hill deforestation in CHT, 16 মে 2026।
  2. পার্থ শঙ্কর সাহা, পাহাড়ে উজাড় হচ্ছে বন, বিপাকে বননির্ভর মানুষেরা, প্রথম আলো, 21 মার্চ 2025।
  3. UNDP Bangladesh, Pablakhali VCF: A forest guarded by its people, 27 জানুয়ারি 2026।
  4. সমির মল্লিক, ৫৮ বন রক্ষা করছে পাহাড়ের পাড়াবাসী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, 21 মার্চ 2023।
  5. Shreya Dasgupta, Bangladesh wildlife sanctuary continues to lose primary forest, Mongabay, 24 জুলাই 2024।
  6. Jasim Majumder, One-fourth of 4 lakh acre Kachalong Reserve Forest grabbed in Rangamati, The Daily Star, 29 জুন 2008।
  7. Rangamati landslide death toll 118, Prothom Alo English (UNB), 19 জুন 2017।
  8. Anvil Chakma, Thousands still live in risk ignoring caution signs, The Daily Star, 13 জুন 2019।
  9. Landslides in hills kill 11, The Daily Star, 13 জুন 2018।
  10. Buddhajoti Chakma, Joyanti Dewan ও Sadhon Bikash Chakma, Water scarcity worsens hill people’s woes, Prothom Alo English, 22 মার্চ 2021।
  11. Sanjoy Kumar Barua, Destruction of forests, stone theft send hill creek to death throe, The Daily Star, 27 ফেব্রুয়ারি 2019।
  12. 134,010 maunds of fuelwood burned in CHT tobacco kilns, Dhaka Tribune, 30 সেপ্টেম্বর 2018।
  13. Nur Nishat Anjum, The hidden cost of Bangladesh’s tobacco frontier, The Business Standard, 3 জুলাই 2026।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা