Jumjournal Logo

পাহাড়ি পুরুষের পোশাক: ধুতি, পাগড়ি ও যা নিয়ে কেউ লেখে না

Last updated Nov 3rd, 2026

1

জাদুঘরের কাচের প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা বম পুরুষ ও নারীর দুটি মূর্তি, পেছনে ঝোলানো ডোরাকাটা বোনা কাপড়

পার্বত্য চট্টগ্রামের তাঁত নিয়ে যত লেখা আছে, প্রায় সবই পিনন, থামি, রিনাই আর ওয়ানক্লাইয়ের। অথচ একই কোমর তাঁতে, একই নকশার খাতা আলাম দেখে, ধুতি আর পাগড়িও বোনা হতো। পাহাড়ি পুরুষের পোশাক বলতে উৎসগুলো মোটামুটি চারটি জিনিস বোঝায়: কোমরে জড়ানো এক টুকরো কাপড় (ধুতি, নেংটি বা দং), গায়ে হাতে বোনা জামা, কাঁধে গামছা বা চাদর, আর মাথায় সাদা পাগড়ি। কিন্তু প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নাম, মাপ আর রীতি আলাদা, আর সেগুলো লেখা আছে ছড়ানো-ছিটানো কয়েকটি বাক্যে।

এই লেখা সেই বাক্যগুলো এক জায়গায় জড়ো করেছে: জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-পরিচিতি, বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি ভুক্তি, 1869 থেকে 1909 সালের ঔপনিবেশিক বিবরণ, 1883–84 সালের কলকাতা প্রদর্শনীর তালিকা, আর আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন। প্রতিটি জনগোষ্ঠী আলাদা করে, প্রতিটি দাবির পাশে তার উৎস ও সাল। ঔপনিবেশিক লেখকদের বর্ণনা তাঁদের নিজেদের সময়ের, আজকের রীতি হিসেবে পড়া যাবে না।

এই লেখায় যা আছে

  1. পাহাড়ি পুরুষের পোশাক নিয়ে লেখা এত কম কেন
  2. এক ছকে: কোন জনগোষ্ঠীর পুরুষ কী পরতেন, কোন উৎস বলছে
  3. একই তাঁত, একই আলাম: ধুতি আর পাগড়ি কারা বুনতেন
  4. ঔপনিবেশিক বিবরণ: লেউইন 1869, হান্টার 1876, হাচিনসন 1906
  5. চাকমা পুরুষের পোশাক: লেংটি, সিলুম, ধুতি আর খবং
  6. মারমা পুরুষের পোশাক: ধোয়াঃ, আঙ্গি আর গবং
  7. ত্রিপুরা পুরুষের পোশাক: গামছা, কুবাই আর সাদা পাগড়ি
  8. তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষের পোশাক: ধুতি পৌই আর বিয়ের পাগড়ি
  9. ম্রো পুরুষের পোশাক: দং আর চল্লিশ হাতের পাগড়ি
  10. খুমি ও খিয়াং পুরুষের পোশাক: নেংটি পরানোর ভোজ
  11. চাক পুরুষের পোশাক: নয় হাতি ধুতি আর আপং
  12. বম, পাংখোয়া ও লুসাই পুরুষের পোশাক
  13. পাগড়ির নাম: খবং, গবং, আপং, বিয়ার
  14. ধুতি থেকে লুঙ্গি-শার্ট: বদলটা কবে, কীভাবে
  15. আজকের উৎসবে পুরুষেরা কী পরেন
  16. প্রশ্নোত্তর
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

পাহাড়ি পুরুষের পোশাক নিয়ে লেখা এত কম কেন

বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তি লিখেছে, “পুরুষদের পোশাক-পরিচ্ছদে নকশার বৈচিত্র্য কিছুটা কম।” The Daily Star (2025) লিখেছে, চাকমা সমাজে পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহারই আগে কমেছিল।

বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তির (লেখক পারভীন আহমেদ ও জিনাত মাহরুখ বানু) আদিবাসী অংশে পার্বত্য চট্টগ্রামের আটটি জনগোষ্ঠীর বর্ণনা আছে; সেখানে প্রায় প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বেলায় নারীর পোশাকের বিবরণ পুরুষের পোশাকের চেয়ে দীর্ঘ। লুসাইদের বেলায় পুরুষদের জন্য আলাদা কোনো বাক্যই নেই; একটি বাক্যে নারী-পুরুষ দুজনের জামার কথা একসঙ্গে বলা।

ভুক্তিটি ম্রো আর মুরংকে দুটি আলাদা শিরোনামে রেখেছে; ইংরেজি “Dress” ভুক্তিতেও “Mru” ও “Murong” আলাদা। নাম নিয়ে এই জট আমাদের আর্কাইভের লেখা “মুরুং, মুরং, ম্র নাকি ম্রো — কোনটা সঠিক?”-এ আলোচিত। এই লেখায় দুটি বর্ণনাই ম্রো অংশে রাখা হয়েছে, উৎসের নাম সহ।

ইংরেজি ভুক্তির ভাষা আরও স্পষ্ট। চাকমা নারীর পিননের মাপ (4.5 × 2.5 হাত), চাবুকি কোন দিকে থাকে, খাদির দুই ধরন — সব আছে; তার পরে এক লাইন: “The costume of Chakma men is rather plain.” তঞ্চঙ্গ্যা অংশেও একই: নারীর পাঁচ রকম পোশাকের বিবরণের পরে পুরুষদের জন্য লেখা, তাঁরা নকশাহীন সাধারণ পোশাক পরেন।

জুমজার্নালের নিজের প্রকাশিত লেখাতেও ছবিটা একই। নারীর পোশাক নিয়ে আলাদা আলাদা পূর্ণ লেখা আছে: ত্রিপুরা নারীর রিনাই, রিসা ও কুবাই, মারমা থামি ও আঙ্গি কোন তাঁতে বোনা হয়, কোমর তাঁতে একটি পিনন বুনতে কত দিন লাগে, আর জুমের তুলা ও গাছের রঙে পিনন তৈরির পুরনো পদ্ধতি। পুরুষের পোশাকের কথা সেগুলোতে আসে পাশের এক-দুই লাইনে। এই লেখাটি সেই পাশের লাইনগুলোকেই কেন্দ্রে এনেছে।

এক ছকে: কোন জনগোষ্ঠীর পুরুষ কী পরতেন, কোন উৎস বলছে

নিচের ছকে এগারোটি জনগোষ্ঠীর পুরুষের পোশাকের নাম ও বিবরণ উৎস ধরে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। “আর্কাইভ” মানে জুমজার্নালের প্রকাশিত জনগোষ্ঠী-পরিচিতি। একই ঘরে দুটি বর্ণনা থাকলে উৎস দুটি আলাদা কথা বলছে; কোনটি ঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি।

জনগোষ্ঠী কোমরের কাপড় গায়ের জামা / চাদর মাথা আজকের অবস্থা (উৎস যা বলে)
চাকমাশৈশবে চার আঙুল চওড়া লেংটি (আর্কাইভ); ধুতি (হাচিনসন 1906; বাংলাপিডিয়া বাংলা); “long loincloth” (বাংলাপিডিয়া ইংরেজি)সিলুম (আর্কাইভ; লেউইন 1869-এর শব্দতালিকায় “Sillum, a jacket”); জুন্নাছিলুম (বাংলাপিডিয়া বাংলা)সাদা পাগড়ি (হাচিনসন 1906); খবং (বাংলাপিডিয়া বাংলা)লুঙ্গি, গামছা, পাঞ্জাবি; সিলুম “একেবারে উঠে গেছে” (আর্কাইভ)
মারমাধোয়াঃ, হাঁটু বা গোড়ালি পর্যন্ত (আর্কাইভ); “dhoyak” (লেউইন 1869); রেশমি চেকের লুঙ্গি (হাচিনসন 1906); মোটা কাপড়ের লুঙ্গি (বাংলাপিডিয়া বাংলা)ব্যারিষ্টা আঙ্গি (আর্কাইভ); “ranjee” (লেউইন); আঙ্গি, ওয়েস্টকোটের মতো (বাংলাপিডিয়া ইংরেজি)গবং (আর্কাইভ); খবং (বাংলাপিডিয়া বাংলা); “goungboung” (লেউইন)লুঙ্গি ও শার্ট (আর্কাইভ)
ত্রিপুরাঝালর-ঝোলানো সরু কাপড় (লেউইন 1869; হাচিনসন 1909); ধুতি (বাংলাপিডিয়া বাংলা); গোড়ালি পর্যন্ত কাপড় (বাংলাপিডিয়া ইংরেজি)ঘরে বোনা গামছা ও কুবাই (আর্কাইভ); শীতে জামা (লেউইন)মোটা পাগড়ি (লেউইন); সাদা কাপড় (বাংলাপিডিয়া)বাজারের আধুনিক পোশাক (আর্কাইভ)
তঞ্চঙ্গ্যাধুতি (বাংলাপিডিয়া বাংলা ও ইংরেজি জনগোষ্ঠী-ভুক্তি; আর্কাইভ)লম্বা হাতার জামা; নকশাহীন জুন্নাছিলুম ও গামছা (বাংলাপিডিয়া)খবং (বাংলাপিডিয়া বাংলা); বিয়েতে বরের পাগড়ি (আর্কাইভ)মৃতদেহকে ধুতি, লুঙ্গি বা প্যান্ট পরানো হয় (আর্কাইভ)
ম্রোদং, নেংটির মতো (বাংলাপিডিয়া); নীল কোমরের কাপড়, পেছনে দুই-তিন ফুট ঝোলে (হাচিনসন 1906)বাজারে জামা (বাংলাপিডিয়া বাংলা)সাদা কাপড় (বাংলাপিডিয়া); নাচে পালক ও পুঁতির পাগড়িবাজারে লুঙ্গি (বাংলাপিডিয়া বাংলা)
খুমিনেংটি, কিছু অংশ ঝুলিয়ে রাখা (বাংলাপিডিয়া বাংলা); নেংটি ও লুঙ্গি (আর্কাইভ)তথ্য পাওয়া যায়নিতথ্য পাওয়া যায়নিঅধিকাংশ আর নেংটি পরেন না (আর্কাইভ)
খিয়াংনেংটি; হাটে ধুতি (আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া বাংলা)হাতে সেলাই করা জামা; হাটে কোমর তাঁতের সাদা জামাপাগড়ি (আর্কাইভ)তথ্য পাওয়া যায়নি
চাকপাংহ্রে কামুহ, নয় হাতি ধুতি (আর্কাইভ); কোতুংপাংরে (বাংলাপিডিয়া বাংলা)জামা (বাংলাপিডিয়া “পোশাক”)আপং (বাংলাপিডিয়া জনগোষ্ঠী-ভুক্তি); খবং (বাংলাপিডিয়া “পোশাক”)ধুতির বদলে লুঙ্গি (আর্কাইভ)
বমলিখিত বর্ণনা পাওয়া যায়নিলিখিত বর্ণনা পাওয়া যায়নিশিং নৃত্যে পাগড়ি (আর্কাইভ)তথ্য পাওয়া যায়নি
পাংখোয়ারেনতে রেং; পোয়ান পুই (আর্কাইভ)কর ড, জুমের তুলার ফুলহাতা জামা; ঙৌ লেপ পোয়ান (আর্কাইভ)বিয়ার, কাজের সময়ের পাগড়ি (আর্কাইভ)জিন্স, টি-শার্ট; কিছু বয়স্ক পোয়ান পুই পরেন (আর্কাইভ)
লুসাইপুয়ানবি, লুঙ্গি (বাংলাপিডিয়া বাংলা)করচুর, শার্ট; হ্নখাল চাদর (বাংলাপিডিয়া বাংলা); একমাত্র লম্বা চাদর (লেউইন 1869)তথ্য পাওয়া যায়নিতথ্য পাওয়া যায়নি

ছকটি থেকে একটা জিনিস চোখে পড়ে: প্রায় সব ঘরেই পুরনো বর্ণনা অতীতকালে লেখা, আর “আজকের অবস্থা” কলামে প্রায় সবখানে লুঙ্গি, শার্ট বা বাজারের পোশাক। জনগোষ্ঠী অনুযায়ী বিস্তারিত নিচের অংশগুলোতে।

একই তাঁত, একই আলাম: ধুতি আর পাগড়ি কারা বুনতেন

উৎসগুলো অনুযায়ী পুরুষের ধুতি আর পাগড়িও নারীরাই বুনতেন, পিননের পাশাপাশি, একই নকশার উৎস থেকে। বাংলা উইকিপিডিয়ার “আলাম” নিবন্ধ লিখেছে, আলাম থেকে নকশা তুলে “পিনন, ধুতি, খাদি, পাগড়ি ইত্যাদি পোশাক বোনা হয়”; নিবন্ধটি ইফ্‌ফাত আরার “জানার আছে অনেক কিছু” (1999, পৃ. 133) বইকে উৎস হিসেবে দেখিয়েছে।

আলাম কী, তাতে কতগুলো নকশা থাকে, নকশাগুলোর নাম কী — সে আলোচনা আছে চাকমা আলাম নকশা লেখায়। এখানে শুধু একটি কথা দরকার: ওই লেখার উৎসগুলো আলামের নকশা মূলত পিননের চাবুগি ও খাদিতে ওঠার কথা বলে; ধুতি ও পাগড়ির কথা আছে কেবল উইকিপিডিয়ার তালিকায়। পুরুষের কাপড়ে আলামের কোন নকশা উঠত, কোনো উৎসে তার নাম পাওয়া যায়নি।

1883–84 সালের কলকাতা প্রদর্শনী: ধুতির দাম পিননের চেয়ে বেশি

সবচেয়ে পুরনো লিখিত প্রমাণটি একটি সরকারি প্রদর্শনীর তালিকা। কলকাতা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী (1883–84)-র অফিশিয়াল রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডে, বাংলার বস্ত্র অংশে, একটি “cloth (dhuti)”-র পাশে লেখা আছে যে এটি এবং পরের নয়টি জিনিস “made by Jhumia women in the Chittagong Hill Tracts”, আর চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় কমিটি সেগুলো কিনে পাঠিয়েছিল।

তালিকার দামগুলো তুলনার মতো:

তালিকার জিনিস (রিপোর্টের ইংরেজি বর্ণনা) কে পরে দাম
Cloth (dhuti)পুরুষ3 টাকা
Turban, “used as a head-dress”রিপোর্টে লেখা নেই2 টাকা
Petticoat, “worn round the waist by women”নারী1 টাকা 12 আনা
বুকে জড়ানোর কাপড়, “worn round the breast by women”নারী8 আনা

অর্থাৎ ওই তালিকায় একটি ধুতির দাম একটি নারীর নিচের কাপড়ের প্রায় দ্বিগুণ, আর পাগড়ির দামও তার চেয়ে বেশি। কেন, রিপোর্ট বলেনি; কাপড়ের মাপ বা নকশার বিবরণও নেই। জিনিসগুলোর স্থানীয় নাম রিপোর্টে বন্ধনীতে ছাপা আছে, কিন্তু অনলাইন স্ক্যানের লেখা থেকে সেগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে পড়া যায় না, তাই এখানে দেওয়া হলো না। রিপোর্টের প্রথম খণ্ড সাধারণভাবে লিখেছে, প্রদর্শিত সুতি কাপড়ের মধ্যে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো কয়েকটি ছিল টিপেরা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বোনা, মজবুত আর উজ্জ্বল রঙের দক্ষ মিশ্রণে বোনা।

পুরুষেরা কোথায় ছিলেন বয়নের কাজে

তাঁতে বসতেন নারীরা, কিন্তু কাপড়ের আগের ধাপগুলোতে পুরুষদেরও ভাগ ছিল বলে একটি আজকের উৎস লিখেছে। The Daily Star-এ জিদিত চাকমা ও জিবক চাকমার 2025 সালের লেখা “Reviving Bain” জানায়, জুমে তুলা চাষ থেকে কাপড় তৈরি পর্যন্ত নানা ধাপে নারী ও পুরুষ দুজনেরই ভূমিকা ছিল, আর প্রাকৃতিক উপাদানে সুতা রং করার জ্ঞানে পুরুষেরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। একই লেখা বলছে, বেইনে বোনা কাপড়ের তালিকায় নারীর পিনন-হাদি আর হাবাংয়ের পাশে পুরুষের জন্য ছিল “jummo sulum” ও “tenye hani”। তুলা থেকে রং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আছে পিনন কীভাবে তৈরি হয় লেখায়।

হাচিনসনের 1906 সালের বইয়ে একটি জুমিয়া দম্পতির বছরের আয়-ব্যয়ের নমুনা হিসাব আছে, কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নাম ছাড়াই। সেখানে লেখা, স্ত্রী তাঁর নিজের সব কাপড় নিজে বোনেন, আর ব্যয়ের তালিকায় আলাদা একটি লাইন: পুরুষের কাপড়, “4 dhotis and 2 coats”, 5 টাকা। হিসাবটি থেকে ধুতি ও কোট কেনা না বোনা, তা স্পষ্ট নয়; বইটি তা আলাদা করে বলেনি।

ঔপনিবেশিক বিবরণ: লেউইন 1869, হান্টার 1876, হাচিনসন 1906

পুরুষের পোশাকের সবচেয়ে পুরনো বিস্তারিত বর্ণনা তিনটি ব্রিটিশ প্রশাসনিক বইয়ে: টমাস হার্বার্ট লেউইনের The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein (1869), ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টারের A Statistical Account of Bengal-এর ষষ্ঠ খণ্ড (1876), আর আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসনের An Account of the Chittagong Hill Tracts (1906) ও তাঁর লেখা জেলা গেজেটিয়ার (1909)। এগুলো 150 বছর আগের বাইরের দর্শকের চোখে দেখা, এবং প্রায়ই অবজ্ঞাসূচক মন্তব্যে ভরা।

এগুলো পড়ার সময় তিনটি কথা মনে রাখা দরকার। এক, প্রতিটি বর্ণনা তার লেখার বছরের; আজকের পোশাকরীতি হিসেবে এগুলো উদ্ধৃত করা যায় না। দুই, লেখকেরা জনগোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের বানানো দলে ভাগ করেছিলেন। লেউইন নদীতীরের মারমা ও চাকমাদের এক দলে (“Khyoungtha”) আর পাহাড়চূড়ার ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি প্রভৃতিকে আরেক দলে (“Toungtha”) রেখেছিলেন; হাচিনসন বম, পাংখোয়া, লুসাই প্রভৃতিকে “Kuki” নামে একসঙ্গে বর্ণনা করেছেন। তাই “Kuki পুরুষ” বিষয়ে তাঁর বর্ণনা কোন জনগোষ্ঠীর, তা আলাদা করা যায় না। তিন, হান্টারের 1876 সালের খণ্ডের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অংশে অনেক বর্ণনার পাশে পাদটীকায় লেউইনের বইয়ের পৃষ্ঠা উৎস হিসেবে দেওয়া আছে, আর বাক্যগুলো লেউইনের সঙ্গে প্রায় হুবহু মেলে।

উৎস ও সাল যাদের কথা (উৎসের নামে) পুরুষের পোশাক নিয়ে যা লেখা
লেউইন 1869, পৃ. 45Khyoungtha (মারমা প্রমুখ)কোমরে “dhoyak”, ঘরে কাটা নরম সুতির, নিতম্ব থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত; সম্ভ্রান্তদের প্রায় মাটি ছোঁয়া, রেশম বা মিহি মসলিনের; সঙ্গে “ranjee”, হাতাওয়ালা খাটো জ্যাকেট, গলায় ফিতে বা বোতাম; সব পুরুষের মাথায় “goungboung”; সাধারণত জুতা নেই
লেউইন 1869, পৃ. 66 ও 74Chukma (চাকমা)পোশাক Khyoungtha-দের মতো, শুধু নারীর নিচের কাপড়ে পার্থক্য; শব্দতালিকায় “Sillum, a jacket”
লেউইন 1869, পৃ. 82Tipperah (ত্রিপুরা)মোটা পাগড়ি; ঘরে বোনা সরু কাপড় একবার কোমর ঘুরে দুই পায়ের মাঝ দিয়ে যায়, ঝালরওয়ালা প্রান্ত সামনে-পেছনে ঝোলে; শীতে মোটা সেলাইয়ের জ্যাকেট; অর্ধচন্দ্রাকৃতি রুপার কানের দুল
লেউইন 1869, পৃ. 94Mru (ম্রো)নিজেদের জুমের তুলা থেকে নিজেরা কাপড় বোনেন; পুরুষের কোমরে ও দুই পায়ের মাঝে একটি কাপড়ের ফালি
লেউইন 1869, পৃ. 103Lhoosai (লুসাই)একটিই পোশাক: ঘরে বোনা লম্বা সুতির চাদর; ভালোগুলো নীল রঙের, লাল ও হলুদ ডোরা বোনা; কানে উজ্জ্বল পালকের গুচ্ছ
হান্টার 1876, খণ্ড 6Kumi (খুমি)খুব সামান্য কাপড়, এমনভাবে পরা যে একটি লম্বা প্রান্ত পেছনে ঝোলে; চুল কপালের ওপর গিঁট দেওয়া
হাচিনসন 1906; গেজেটিয়ার 1909Chakma (চাকমা)পোশাকে বাঙালির মতো: সাদা পাগড়ি, কোট আর ধুতি; উচ্চবিত্তরা ইউরোপীয় জুতা ও সাদা মোজা
হাচিনসন 1906; গেজেটিয়ার 1909Magh (মারমা)নিজস্ব ঢঙে বাঁধা সাদা পাগড়ি; লম্বা ঢিলা হাতার সাদা বা কালো খাটো জ্যাকেট; কোমর থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নরম সুতির কাপড়, সচ্ছলদের রেশমি, সুন্দর চেকের, নাম “lungi”
হাচিনসন 1906; গেজেটিয়ার 1909Tippera (ত্রিপুরা)লেউইনের বর্ণনার মতোই: ঘরে বোনা পাগড়ি, ঝালরওয়ালা সরু কাপড়, শীতে জ্যাকেট
হাচিনসন 1906; গেজেটিয়ার 1909Mro (ম্রো)নীল কোমরের কাপড়, অদ্ভুতভাবে বাঁধা, পেছনে দুই-তিন ফুট লম্বা একটি ফালি ঝুলে থাকে
হাচিনসন 1906; গেজেটিয়ার 1909Kuki (একাধিক জনগোষ্ঠী একত্রে)সাদা পাগড়ি, দলভেদে বাঁধার ঢং আলাদা; ঘরে বোনা আঁটসাঁট কোট, গলায় আটকানো; সাদা চাদর গায়ে বা কোমরে জড়ানো; সর্দারদের চাদর রঙিন, নীল জমিনে সবুজ-হলুদ-লাল ডোরা

লেউইনের “goungboung” আর মারমা আর্কাইভের “গবং” পাশাপাশি রাখলে মিল চোখে পড়ে, যেমন লেউইনের “dhoyak” আর আর্কাইভের “ধোয়াঃ”। দুই সময়ের দুই উৎস একই জিনিসের কাছাকাছি নাম দিয়েছে, এটুকুই বলা যায়; উচ্চারণের ইতিহাস কোনো উৎসে আলোচিত হয়নি।

এই বইগুলোর আরও একটি সীমা আছে। লেউইন “Toungtha” দল সম্পর্কে সাধারণভাবে লিখেছিলেন, পুরুষেরা প্রায় কিছুই পরেন না (পৃ. 76)। কিন্তু একই বইয়ের পরের পাতায় ত্রিপুরা পুরুষের পাগড়ি, ঝালরওয়ালা কাপড় আর শীতের জামার বর্ণনা আছে। দলভিত্তিক সাধারণ মন্তব্য আর জনগোষ্ঠীভিত্তিক বর্ণনা একই বইয়ে মেলে না, তাই এখানে কেবল জনগোষ্ঠীভিত্তিক বাক্যগুলো নেওয়া হয়েছে।

চাকমা পুরুষের পোশাক: লেংটি, সিলুম, ধুতি আর খবং

চাকমা পুরুষের পুরনো পোশাক নিয়ে উৎসগুলো চারটি নাম দেয়: শৈশবের লেংটি, জুমের তুলার জামা সিলুম, ধুতি, আর মাথার খবং। আজকের দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে আর্কাইভ লিখেছে লুঙ্গি, গামছা আর পাঞ্জাবি; সিলুমের ব্যবহার “একেবারে উঠে গেছে”। উৎসবে সিলুম-ধুতি ফিরে আসার খবর আছে আজকের পত্রিকায়।

আমাদের আর্কাইভের লেখা “চাংমাটারা — চাকমা জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” (তনয় দেওয়ান) এ বিষয়ে সবচেয়ে নির্দিষ্ট। সেখানে লেখা, আগেকার দিনে ছোট অবস্থায় চাকমারা “চার আঙুলের মাপে বুনা একটি লেংটি” পরত; জুমের তুলা থেকে তৈরি সুতায় বোনা হতো শার্ট, চাকমা ভাষায় যার নাম সিলুম; আর বর্তমানে পুরুষেরা সাধারণত লুঙ্গি, গামছা ও পাঞ্জাবি পরেন।

“সিলুম” শব্দটি দেড়শো বছর আগেও লিখিত ছিল। লেউইনের 1869 সালের বইয়ের চাকমা শব্দতালিকায় আছে: “Sillum, a jacket”, আর তার পরের শব্দটি “Khadee, woman’s breast-cloth” (পৃ. 66)। বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তি এর নাম দিয়েছে “জুন্নাছিলুম”, আর The Daily Star (2025) লিখেছে “jummo sulum”। তিন উৎসে তিন বানান।

কোমরের কাপড় নিয়ে উৎসগুলোর মধ্যে মিল নেই। বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তি বলছে চাকমা পুরুষেরা জামা (জুন্নাছিলুম), খবং ও “ধুতি জাতীয় কাপড়” পরেন; একই ভুক্তির ইংরেজি সংস্করণে লেখা “a long loincloth”। হাচিনসন 1906 সালে লিখেছিলেন, পোশাকে চাকমা পুরুষ বাঙালির মতো, সাদা পাগড়ি, কোট আর ধুতি পরেন। বাংলাপিডিয়ার আরেকটি ভুক্তি (“Tribal Culture”) চাকমাদের প্রধান পোশাক বলেছে লুঙ্গি ও শার্ট, যা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নির্দেশিকার ছকে পুরুষের ঘরে রাখা আছে।

খবং: নারীর না পুরুষের?

চাকমা সমাজে খবং দুজনেরই, তবে উৎসভেদে ছবি আলাদা। আর্কাইভের “চাকমা জাতি” লেখায় খবং আছে নারীর পোশাকের তালিকায় (পিনোন, খাদি, কাগই, খবং)। বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তি খবংকে পুরুষের পোশাকেও রেখেছে, আর বলেছে অনেক চাকমা নারীও মাথায় খবং পরেন। হাচিনসনের 1906 সালের বই ও 1909 সালের গেজেটিয়ারে চাকমা নারীর মাথায় ঘরে বোনা সাদা পাগড়ির কথাও আছে।

খবং যে পুরুষের মর্যাদার চিহ্ন, তার একটি গল্প আছে “চাংমাটারা”-য়। রাজা নির্বাচনের রীতি ছিল, ভোরে যিনি রাজপোশাকে সেজে প্রথম সিংহাসনে বসবেন তিনিই রাজা। একজন আগে বসেছিলেন, কিন্তু সভাসদেরা দেখেন তিনি মাথার খবং হিসেবে তাঁর স্ত্রীর খাদি ব্যবহার করেছেন। তাঁকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়, আর ধাবানার রাজপোশাক ঠিক মনে হওয়ায় তিনি রাজা হন। লেখাটি এটিকে ঐতিহ্যগত বিবরণ হিসেবে দিয়েছে; ঘটনার সমসাময়িক কোনো দলিলের উল্লেখ নেই।

একই লেখায় শিশুর একটি আরোগ্য-অনুষ্ঠানের (এদা দাগা) বর্ণনায় পোশাকের লিঙ্গভাগ দেখা যায়: অনুষ্ঠানের নৈবেদ্য সাজানো আদারাহ ঢাকতে হয়, শিশু ছেলে হলে একটি গামছা দিয়ে, মেয়ে হলে একটি খবং বা খাদি দিয়ে।

মারমা পুরুষের পোশাক: ধোয়াঃ, আঙ্গি আর গবং

মারমা পুরুষের পুরনো পোশাক তিন অংশের: কোমরে ধোয়াঃ নামের তাঁতে বোনা ধুতি, জামার ওপরে ব্যারিষ্টা আঙ্গি নামের জ্যাকেট, আর মাথায় গবং বা পাগড়ি। আর্কাইভ অনুযায়ী আজকের পুরুষেরা লুঙ্গি ও শার্ট পরেন। 1869 ও 1906 সালের ঔপনিবেশিক বিবরণে একই তিন অংশ আছে, প্রায় একই নামে।

আর্কাইভের “মারমা জাতির আদ্যোপান্ত” লিখেছে, “পূর্বে মারমা পুরুষরা ‘ধোয়াঃ’ (ধুতি) নামে একপ্রকার তাঁতে বোনা কাপড় পরিধান করতো।” কাপড়টি হাঁটু পর্যন্ত ঢাকে, কখনো কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত। লেউইন 1869 সালে প্রায় একই কথা লিখেছিলেন: সাধারণের “dhoyak” হাঁটুর নিচ পর্যন্ত, সম্ভ্রান্তদের প্রায় মাটি ছোঁয়া, রেশম বা মিহি মসলিনের। দৈর্ঘ্যের এই দুই রকম তাই দুই উৎসেই আছে; লেউইন পার্থক্যটা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে জুড়েছেন, আর্কাইভ কোনো কারণ বলেনি।

বিশ শতকের শুরুর সাদাকালো আলোকচিত্র: মাথায় সাদা পাগড়ি ও গায়ে চেক কাপড় পরা একদল মারমা কিশোর ও বালক একটি বাঁশের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ও বসে আছে
হাচিনসনের 1906 সালের বইয়ে মারমা স্কুলছাত্রদের দল: প্রায় সবার মাথায় সাদা পাগড়ি, অনেকের গায়ে চেকের কাপড়। ছবি: R. H. Sneyd Hutchinson, 1906 · পাবলিক ডোমেইন · উইকিমিডিয়া কমন্স

জ্যাকেটের নাম আর্কাইভে “ব্যারিষ্টা আঙ্গি”, সাধারণত জামার ওপর দিয়ে পরা; লেউইনের বইয়ে “ranjee”, হাতাওয়ালা খাটো জ্যাকেট, গলায় ফিতে বা বোতামে আটকানো। হাচিনসন 1906 সালে লিখেছেন লম্বা ঢিলা হাতার সাদা বা কালো খাটো জ্যাকেট। বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি “Marma” ভুক্তি বলছে নারী-পুরুষ দুজনেই থামি ও আঙ্গি পরেন, তবে পুরুষের আঙ্গি ব্লাউজের চেয়ে বেশি ওয়েস্টকোটের মতো।

কোমরের কাপড় নিয়ে 1906 সালের বিবরণে একটি নতুন শব্দ এসেছে। হাচিনসন লিখেছেন, মারমা পুরুষের কাপড় কোমর থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত, সচ্ছলদের রেশমি, সুন্দর চেকের, আর এর নাম “lungi”। ওপরের ছবির ছাত্রদের গায়ের চেকের কাপড় এই বর্ণনার সঙ্গে মেলে। আজ বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তি লিখেছে, মারমা পুরুষেরা মোটা কাপড়ের লুঙ্গি আর কয়েকটি পকেটওয়ালা কলারবিহীন জামা পরেন; ইংরেজি সংস্করণ যোগ করেছে, বয়স্ক পুরুষেরা সাদা পাগড়ি পরেন।

মাথার কাপড়ের নাম চার উৎসে চার রকম: আর্কাইভে “গবং”, বাংলাপিডিয়ার বাংলা “মারমা” ভুক্তিতে “খবং”, লেউইনে “goungboung”, আর ইংরেজি “Dress” ভুক্তিতে “khobong”। লেউইন লিখেছিলেন, সব পুরুষ পাগড়ি পরেন, তবে তা হিন্দুস্তানের মানুষদের থেকে আলাদা ঢঙে বাঁধা; তিনি আরও লিখেছেন, পুরুষেরা পাগড়িতে বা কানের লতির বড় ছিদ্রে ফুল বা সুগন্ধি পাতা গুঁজে রাখেন। তাঁর “Khyoungtha” অংশে গ্রামের মন্দিরে প্রণামের আগে পাগড়ি খুলে রাখার বর্ণনা আছে, আর শবযাত্রায় প্রধান ভিক্ষু মৃত ব্যক্তির পাগড়ির এক প্রান্ত ধরে ধর্মপাঠ করেন বলে লেখা।

মারমা পোশাকের অংশগুলোর নাম নিয়ে আলাদা লেখা আছে: মারমা থামি ও আংগি: পোশাকের অংশগুলো নাম ধরে। সেখানে একটি অমিলও লেখা আছে: বাংলাপিডিয়ায় দেয়াহ্‌ ও বারিস্টা আঙ্গি পুরুষের পোশাক, আর বাংলা উইকিপিডিয়ার পুরনো পাঠে সেগুলো নারীর পোশাক হিসেবে লেখা ছিল।

ত্রিপুরা পুরুষের পোশাক: গামছা, কুবাই আর সাদা পাগড়ি

ত্রিপুরা পুরুষের পুরনো পোশাক নিয়ে আর্কাইভ বলছে, অতীতে নারীদের মতো পুরুষেরাও ঘরে তৈরি গামছা ও কুবাই (শার্ট) পরতেন, আর এখন বাজার থেকে কেনা আধুনিক পোশাক পরেন। বাংলাপিডিয়া যোগ করেছে ধুতি ও মাথায় সাদা কাপড়ের পাগড়ি। ঔপনিবেশিক বইগুলোতে ঝালরওয়ালা সরু কোমরের কাপড় আর মোটা পাগড়ির বর্ণনা।

আর্কাইভের “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত”-এ পুরুষের কথা এক বাক্যে: “অতীতে ত্রিপুরা রমণীদের ন্যায় ত্রিপুরা পুরুষেরাও ঘরের তৈরি গামছা ও কুবাই (শার্ট) ব্যবহার করতো।” ঠিক তার পরেই নারীর রিনাইয়ের ছয়টি আর রিসার তিনটি প্রকারের নাম। লক্ষণীয়, “কুবাই” শব্দটি নারীর পোশাকের তালিকাতেও আছে, কোমরের ওপরের অংশ ঢাকার জন্য; পুরুষের কুবাই আর নারীর কুবাই একই ধরনের কাপড় কি না, লেখাটি বলেনি। নারীর পোশাকের তিন অংশ নিয়ে পূর্ণ লেখা রিনাই, রিসা ও কুবাই।

বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তি লিখেছে, ত্রিপুরা পুরুষেরা ধুতি ছাড়াও নিজস্ব তাঁতে তৈরি গামছা পরেন এবং মাথায় পাগড়ির মতো সাদা কাপড় বাঁধেন। ইংরেজি সংস্করণে একটু আলাদা: পুরুষেরা কোমরের কাপড়, পাতলা গামছা আর সাদা পাগড়ি পরেন; মূলত তাঁরা পাগড়ি আর গোড়ালি পর্যন্ত শরীর ঢাকা একখণ্ড কাপড় পরতেন; শীতে জ্যাকেটের মতো পোশাক।

লেউইনের 1869 সালের বর্ণনা (পৃ. 82) আরও নির্দিষ্ট, তবে পুরনো: পুরুষেরা মোটা পাগড়ি পরেন, আর ঘরে বোনা একটি সরু কাপড় একবার কোমর ঘুরে দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে যায়, যার ঝালরওয়ালা প্রান্ত সামনে ও পেছনে ঝোলে; শীতে মোটা সেলাইয়ের জ্যাকেট; কানে অর্ধচন্দ্রাকৃতি রুপার দুল, বাইরের কিনারে ছোট ছোট রুপার ঝুমকা। হাচিনসনের 1909 সালের গেজেটিয়ারে বর্ণনাটি প্রায় একই শব্দে আছে। হান্টারের 1876 সালের খণ্ডে পার্বত্য ত্রিপুরা (Hill Tipperah) অংশে যোগ করা আছে, কৃষিকাজের সময় পুরুষেরা কোমরে শুধু একটি কাপড় জড়িয়ে কাজ করেন।

তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষের পোশাক: ধুতি পৌই আর বিয়ের পাগড়ি

তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধুতি ও লম্বা হাতার জামা, বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি জনগোষ্ঠী-ভুক্তি দুটিই একথা বলে। তবে পুরুষের পোশাক সবচেয়ে বেশি দেখা যায় জীবনচক্রের অনুষ্ঠানে: ছেলের প্রথম ধুতি পরার “ধুতি পৌই”, বিয়ের দিন বরের পাগড়ি, আর মৃত্যুর পরে পরানো নতুন কাপড়।

আর্কাইভের “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত” লিখেছে, পুত্রসন্তানের ধুতি পরার বয়স হলে বাবা-মা “ধুতি পৌই” — আনুষ্ঠানিকভাবে ধুতি পরানোর — মানত করেন, আর অনুষ্ঠানে প্রতিবেশীদের সাধ্যমতো খাওয়ানো হয়। মেয়েদের বেলায় একই ধরনের অনুষ্ঠানের নাম পিনুইন পোই, খারি পোই ও কানবেড়া পৌই। ছেলের জীবনে প্রথম ধুতি তাই একটি সামাজিক ঘটনা, শুধু পোশাক নয়।

বিয়ের বর্ণনায় পাগড়ি দুবার আসে। বিয়ের দিন বরকে সাজিয়ে কনের বাড়িতে নেওয়ার সময় বরের পেছনে তাঁর ছোট বোন বা সেই সম্পর্কের পাড়ার কোনো কিশোরী বরের পাগড়ির এক প্রান্ত হাতে ধরে হাঁটেন, মাথায় থাকে “ফো কালং” — কনের নতুন পোশাক ও গয়নায় ভরা কারুকাজ করা বেতের ঝুড়ি। পরে চুমুলাং পূজার শেষে বয়োজ্যেষ্ঠরা “পৈদাং” থেকে তুলা ও চাল নিয়ে বর-কনের মাথার “খবঙে” (পাগড়িতে) গুঁজে আশীর্বাদ করেন।

মৃত্যুর বর্ণনায় আর্কাইভ লিখেছে, মৃতদেহ স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়: পুরুষ হলে ধুতি, লুঙ্গি বা প্যান্ট আর জামা; নারী হলে পিনুইন, খাদি, ব্লাউজ বা কোবোই সালুম। তালিকায় “ধুতি/লুঙ্গি/প্যান্ট” একসঙ্গে থাকা নিজেই বদলের একটি চিহ্ন।

উৎসগুলোর মধ্যে একটি অমিল আছে। বাংলাপিডিয়ার বাংলা “পোশাক” ভুক্তি লিখেছে, তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষেরা কারুকাজবিহীন জুন্নাছিলুম, গামছা ও খবং পরেন; ধুতির কথা সেখানে নেই। একই প্রকাশনার “তঞ্চঙ্গ্যা” ভুক্তি বলছে ধুতি ও লম্বা হাতার জামা। নারীর পোশাকের গসা-ভিত্তিক ভাগ নিয়ে আলাদা লেখা তঞ্চঙ্গ্যা পোশাকের স্বাতন্ত্র্য।

ম্রো পুরুষের পোশাক: দং আর চল্লিশ হাতের পাগড়ি

ম্রো পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দং, নেংটির মতো একটি নকশাহীন কাপড়, আর মাথায় সাদা কাপড়; বাজারে যাওয়ার সময় লুঙ্গি ও জামা — বাংলাপিডিয়া এভাবে লিখেছে। ম্রো সমাজে পাগড়ির কাপড় বিয়ের লেনদেনের অংশ: কনেপক্ষ বরের বাবাকে 40 হাত লম্বা সাদা কাপড় দেন পাগড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য।

বাংলাপিডিয়ার বাংলা “ম্রো” ভুক্তি লিখেছে, “ম্রো পুরুষরা নেঙটি পরে”; বাজারে যাওয়ার সময় তাঁরা লুঙ্গি ও জামা পরেন; চুল লম্বা রেখে কপালের ওপর পেঁচিয়ে রাখেন। নাচের সময় পুরুষেরা লাল কাপড় আর মাথায় পালক ও পুঁতিতে সাজানো পাগড়ি পরেন। “পোশাক” ভুক্তি কাপড়টির নাম দিয়েছে “দং”, আর বলেছে এতে কোনো নকশা থাকে না। ইংরেজি “Dress” ভুক্তি আলাদা শিরোনামে “Murong” পুরুষদের “nengti” আর কারও কারও লুঙ্গির কথাও বলেছে।

দেড়শো বছর আগের বিবরণ দুটি মিলিয়ে পড়লে কাপড়টির আকার বোঝা যায়। লেউইন 1869 সালে লিখেছিলেন, ম্রোরা নিজেদের জুমের তুলা থেকে কাপড় বোনেন, আর পুরুষের পোশাক কোমরে ও দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে নেওয়া একটি কাপড়ের ফালি। হাচিনসন 1906 সালে রং আর বাঁধার ঢং যোগ করেছেন: নীল কোমরের কাপড়, অদ্ভুতভাবে বাঁধা, পেছনে দুই-তিন ফুট লম্বা একটি ফালি ঝুলে থাকে।

পাগড়ির কাপড়ের লেনদেনের বিবরণ আছে আর্কাইভের “প্রথাগত আইনে আদিবাসী ম্রো নারীর অবস্থান” লেখায়। বরের বাবা কনের বাবাকে পণ হিসেবে 100টি রুপার মুদ্রা, দা, নিড়ানি, তীর, তলোয়ার প্রভৃতি দেন; “অনুরূপভাবে সম্মান জানিয়ে” কনেপক্ষ থেকে বরের বাবাকে দেওয়া হয় 40 হাত দীর্ঘ একটি সাদা কাপড়, পাগড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য। বিয়ের পর বর শ্বশুরবাড়িতে গেলে অতিথিরা তাঁকে সম্মান জানিয়ে দেন এক সের শুঁটকি আর পাঁচ হাত লম্বা এক টুকরো সাদা পাগড়ির কাপড়।

ম্রো নারীর ওয়ানক্লাই আর বম কাপড় নিয়ে যতটুকু নথিভুক্ত, তা আছে ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত লেখায়।

খুমি ও খিয়াং পুরুষের পোশাক: নেংটি পরানোর ভোজ

খুমি ও খিয়াং দুই জনগোষ্ঠীর পুরুষেরই ঐতিহ্যবাহী পোশাক নেংটি, তবে দুজনের বাকি পোশাক আলাদা। খিয়াং সমাজে ছেলের প্রথম নেংটি পরা উপলক্ষে “উ-খ পেই” নামে ভোজ হয়। খুমি পুরুষদের অধিকাংশ এখন আর নেংটি পরেন না বলে আর্কাইভ লিখেছে।

খিয়াং

আর্কাইভের “খিয়াং” লেখায় পুরুষের পোশাকের দুটি স্তর: ঘরে নেংটি আর নিজেদের হাতে সেলাই করা এক ধরনের জামা; হাটবাজারে যাওয়ার সময় কোমর তাঁতে বোনা সাদা জামা আর ধুতি, মাথায় পাগড়ি। বাংলাপিডিয়ার বাংলা “খিয়াং” ভুক্তি প্রথম অংশটি একই কথায় লিখেছে।

একই আর্কাইভ লেখা “উ-খ পেই” উৎসবের বর্ণনা দিয়েছে। খিয়াং পরিবারে ছেলের বয়স 10 থেকে 13 বছর হলে তাকে নেংটি পরিয়ে এই ভোজের আয়োজন করা হয়। গ্রামের কোনো বয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত লোকদের সামনে নেংটি পরিয়ে দেন; শূকর কেটে ভোজ হয়, অতিথিরা সাধ্যমতো উপহার দেন। তঞ্চঙ্গ্যাদের ধুতি পৌইয়ের সঙ্গে মিলটা চোখে পড়ে — দুই জনগোষ্ঠীতেই ছেলের প্রথম কোমরের কাপড় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠান — তবে দুটি আলাদা ভাষা ও সমাজের আলাদা রীতি, উৎসগুলো এদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলেনি। খিয়াংদের বিষয়ে আরও আছে খিয়াং জনগোষ্ঠী লেখায়।

খুমি

আর্কাইভের “খুমী জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী খুমি পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নেংটি ও লুঙ্গি, তবে অধিকাংশ খুমি পুরুষ এখন আর নেংটি পরেন না। পুরুষেরাও আগে লম্বা চুল রাখতেন এবং কানে এক ধরনের দুল পরতেন; আজকাল আর তা করেন না। বাংলাপিডিয়ার বাংলা “খুমি” ভুক্তি যোগ করেছে, পুরুষেরা নেংটির কিছু অংশ ঝুলিয়ে রাখেন। হান্টারের 1876 সালের খণ্ডেও একই বর্ণনা: সামান্য একটি কাপড়, এমনভাবে পরা যে একটি লম্বা প্রান্ত পেছনে ঝোলে। লক্ষণীয়, আর্কাইভ খুমি নারীদের মাথায় সাদা পাগড়ির কথা বলেছে, পুরুষদের পাগড়ির কথা বলেনি। আরও পড়ুন খুমি জনগোষ্ঠী লেখায়।

চাক পুরুষের পোশাক: নয় হাতি ধুতি আর আপং

চাক পুরুষের পুরনো পোশাক ধুতি, যার নাম আর্কাইভে “পাংহ্রে কামুহ”, মাপে নয় হাত; বাংলাপিডিয়ায় “কোতুংপাংরে”। মাথার পাগড়ির নাম বাংলাপিডিয়ার “চাক” ভুক্তিতে “আপং”। আর্কাইভ লিখেছে, আজ পুরুষেরা ধুতির বদলে লুঙ্গি পরেন।

আর্কাইভের “চাক জাতির আদ্যোপান্ত” লিখেছে, চাকদের নিজস্ব পোশাক থাকলেও তাঁরা ঐতিহ্য হারাতে বসেছেন: “আগেকার দিনে পুরুষরা পাংহ্রে কামুহ বা নয় হাতি ধুতির পরিবর্তে বর্তমানে লুঙ্গি ব্যবহার করছে।” পরের বাক্যগুলোতে কালো পাগড়ি “রাংকাইন পহ”, বক্ষবন্ধনী “রাইকাইন পে”, গলার চেইন “ক্রীক” আর আংটি “নাচক”-এর কথা আছে; বাক্যগুলো নারীর কানের দুল “নাতং ফ্র”-এর ঠিক পরে, আর কালো পাগড়ি নারীর না পুরুষের, লেখাটি আলাদা করে বলেনি।

বাংলাপিডিয়ার দুটি ভুক্তিতে দুটি আলাদা ছবি। ইংরেজি “Chak” ভুক্তি লিখেছে, চাক পুরুষেরা “Kotung Pangre (dhuti) and Apong (turban)” পরতে ভালোবাসেন; বাংলা ভুক্তিতেও একই নাম, কোতুংপাংরে ও আপং। কিন্তু “পোশাক” ভুক্তি লিখেছে, চাক পুরুষের পোশাক লুঙ্গি ও জামা, আর মাথায় খবং। একটি উৎস ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দিচ্ছে, আরেকটি দৈনন্দিন পোশাকের; দুটিই এখানে রাখা হলো।

বম, পাংখোয়া ও লুসাই পুরুষের পোশাক

এই তিন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষের পোশাকের পূর্ণ নামতালিকা আছে কেবল পাংখোয়াদের, আর্কাইভে। লুসাই পুরুষের পোশাকের নাম দিয়েছে বাংলাপিডিয়া। বম পুরুষের পোশাকের কোনো লিখিত বর্ণনা পাওয়া যায়নি; শুধু নাচের পোশাকে পাগড়ির উল্লেখ আর চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের একটি প্রদর্শনী আছে।

পাংখোয়া

আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”-এ “পাংখোয়া পুরুষদের পোশাক (মি পা নি পোয়ান)” শিরোনামে একটি ছক আছে, পাংখোয়া নাম ও বাংলা অর্থ পাশাপাশি:

পাংখোয়া নাম আর্কাইভের বাংলা ব্যাখ্যা
রেন তে রেংনেংটি, এক পাট কাপড়; ছকে মাপ “দীর্ঘ 7–8, প্রস্থ 6” (একক লেখা নেই); গদ্যে 3–4 ফুট লম্বা, আধা ফুট চওড়া
পোয়ান পুইকোমর তাঁতের কাপড়, নানা রঙ ও জুমের তুলা দিয়ে নিজেদের তৈরি
কর ড (জৌ কর ড)ফুলহাতা জামা, জুমের তুলা দিয়ে তৈরি
ঙৌ লেপ পোয়ানশুধু সাদা কাপড়, বিশেষ বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য
বিয়ারপাগড়ি, কাজ করার সময়ের জন্য

একই লেখা জানিয়েছে, বিশেষ দিনে পরা হয় “চং নাক পোয়ান” নামের কারুকাজ করা জমকালো পোশাক। আজকের অবস্থা নিয়ে লেখাটি স্পষ্ট: ঙৌ লেপ পোয়ান এখন আর ব্যবহার হয় না; কিছু কিছু জায়গায় বয়স্ক পাংখোয়াদের পোয়ান পুই পরতে দেখা যায়; বাকিরা জিন্স, টি-শার্ট ও আধুনিক পোশাক পরেন। পাংখোয়াদের বিষয়ে আরও আছে পাংখোয়া জনগোষ্ঠী লেখায়।

লুসাই

বাংলাপিডিয়ার বাংলা “লুসাই” ভুক্তি অনুযায়ী তুলার সুতায় তৈরি “হ্নখাল” নামের চাদর প্রথমে লুসাই পুরুষেরা, পরে নারীরাও ব্যবহার শুরু করেন; সময়ের সঙ্গে নারীরা কোমর তাঁতে নিজেদের পুয়ানফেল ও করচুং বোনেন, আর পুরুষেরা “করচুর” (শার্ট) ও “পুয়ানবি” (লুঙ্গি)। “পোশাক” ভুক্তি শুধু লিখেছে, নারী-পুরুষ দুজনেই জামার মতো জুন্নাছিলুম পরেন। লেউইনের 1869 সালের বিবরণে (পৃ. 103) লুসাই পুরুষের একমাত্র পোশাক ঘরে বোনা লম্বা সুতির চাদর, ভালোগুলো নীল রঙের, লাল ও হলুদ ডোরা বোনা। দুই উৎসেই চাদরটি পুরুষের পোশাকের কেন্দ্রে, যদিও নাম আছে কেবল বাংলাপিডিয়ায়। আরও পড়ুন লুসাই জনগোষ্ঠী লেখায়।

বম

বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি “বম” ভুক্তিতে পোশাক নিয়ে একটি বাক্যও নেই, আর “পোশাক” ভুক্তির তালিকায় বম নেই। আর্কাইভে পুরুষের পোশাকের উল্লেখ একটি নাচের প্রসঙ্গে: বিখ্যাত মৃত ব্যক্তির স্মরণে ব্যয়বহুল ভোজ-উৎসবে নর্তকেরা “মাথায় পাগড়িসহ উত্তম পোশাক পরিধান করে” নাচেন (ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত লেখায় উদ্ধৃত)।

লিখিত বর্ণনার বাইরে একটি দৃশ্যমান নমুনা আছে। চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে বান্দরবানের বম নারী-পুরুষের দুটি মূর্তি প্রদর্শিত, যার আলোকচিত্র এই লেখার শীর্ষে। পুরুষ মূর্তির লেবেলে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা “পুরুষ: বম”, “Man: Bawm”। ছবিতে দেখা যায় মাথায় সাদা পাগড়ি, গায়ে লম্বা হাতার সাদা জামা, কাঁধ থেকে আড়াআড়ি একটি নকশা-করা সরু কাপড়, আর কোমরে কালচে ডোরাকাটা কাপড়। পোশাকগুলোর বম নাম লেবেলে নেই, আর এটি আজকের দৈনন্দিন পোশাক কি না, জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে বলা যায় না।

পাগড়ির নাম: খবং, গবং, আপং, বিয়ার

প্রায় সব জনগোষ্ঠীর পুরনো পুরুষ-পোশাকে মাথার কাপড় আছে, আর বেশিরভাগ উৎসে তা সাদা। নামগুলো জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা: চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যায় খবং, মারমায় গবং বা খবং, চাকে আপং, পাংখোয়ায় বিয়ার। কিছু জনগোষ্ঠীতে একই নাম নারীর মাথার কাপড়েরও।

জনগোষ্ঠী পুরুষের মাথার কাপড়ের নাম উৎস নারীর বেলায়ও কি?
চাকমাখবংবাংলাপিডিয়া বাংলা; “চাংমাটারা”হ্যাঁ, আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়া
তঞ্চঙ্গ্যাখবংবাংলাপিডিয়া বাংলা; আর্কাইভের বিয়ের বর্ণনাহ্যাঁ, গসাভেদে নকশা আলাদা
মারমাগবং / খবং / goungboungআর্কাইভ / বাংলাপিডিয়া / লেউইন 1869লেউইন: নারীরা সাধারণত পাগড়ি পরেন না, উৎসবে রঙিন রুমাল
চাকআপং; “পোশাক” ভুক্তিতে খবংবাংলাপিডিয়ানারীর মাথার কাপড় বাংকেউবাং (বাংলাপিডিয়া)
পাংখোয়াবিয়ারআর্কাইভউল্লেখ নেই
ত্রিপুরানাম পাওয়া যায়নি; “সাদা কাপড়”, “মোটা পাগড়ি”বাংলাপিডিয়া; লেউইন 1869বয়স্ক নারীরা সাদা কাপড় বাঁধেন; রিসাও পাগড়ির মতো পরা হয়
ম্রোনাম পাওয়া যায়নি; সাদা কাপড়বাংলাপিডিয়া; আর্কাইভ (বিয়ের 40 হাত)উল্লেখ নেই
খিয়াংনাম পাওয়া যায়নি; “পাগড়ি”আর্কাইভউল্লেখ নেই

চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা আর মারমা — তিন ভাষায় মাথার কাপড়ের নাম কাছাকাছি, এ মিল আমাদের আগের লেখাগুলোতেও লক্ষ করা হয়েছে। শব্দটির উৎস নিয়ে পড়া কোনো উৎসে আলোচনা নেই, তাই এখানে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হলো না।

ধুতি থেকে লুঙ্গি-শার্ট: বদলটা কবে, কীভাবে

উৎসগুলো একমত যে পুরুষেরাই নারীদের আগে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছেড়েছেন। The Daily Star-এর 2025 সালের লেখাটি চাকমা সমাজের জন্য কারণও দিয়েছে: বাঙালি ব্যবসায়ীদের সস্তা কাপড়, আর আধুনিক শিক্ষা, যা পুরুষেরা আগে পেয়েছিলেন। অন্য জনগোষ্ঠীর বেলায় উৎসগুলো বদলের খবর দেয়, কারণ নয়।

জিদিত চাকমা ও জিবক চাকমা লিখেছেন, যোগাযোগ ভালো হওয়ার সঙ্গে বাঙালি ব্যবসায়ীরা বাজারের কাপড় নিয়ে আসেন, যা প্রথমে সচ্ছল পরিবারের বিশেষাধিকার ছিল, পরে সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের ভাষায়, “The decline in the use and utility of men’s traditional clothing came first.” একই সময়ে আধুনিক শিক্ষা চাকমা সমাজে আসে, আর পুরুষেরা আগে তার সুযোগ পান; শিক্ষিতরা দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে পূর্বপুরুষের পোশাক আর পরেননি। লেখাটি আরও বলছে, বয়নের নানা ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় জুমের তুলা উৎপাদন কমে, আর প্রাকৃতিক রঙের জ্ঞানও হারাতে থাকে। নারীরা এর ব্যতিক্রম ছিলেন — বাজারের সুতা দিয়ে হলেও তাঁরা বেইন চালু রেখেছিলেন।

পুরনো উৎসেও বদলের চিহ্ন আছে। হাচিনসন 1906 সালেই চাকমা পুরুষকে পোশাকে বাঙালির মতো বলে বর্ণনা করেছেন, আর উচ্চবিত্তদের ইউরোপীয় জুতা-মোজার কথা লিখেছেন। মারমা পুরুষের কোমরের কাপড়ের জন্য তিনি “lungi” শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেখানে লেউইন 1869 সালে লিখেছিলেন “dhoyak”। হাচিনসনের “Kuki” অংশেও লেখা, দখলদারির পরে নতুনত্বের প্রতি ঝোঁক দেখা দিয়েছে, আর সর্দারদের কাউকে পুরনো শার্ট-প্যান্ট পরে পাহাড়ে চলতে দেখা যায়।

আজকের অবস্থা নিয়ে আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-পরিচিতিগুলোর বাক্য প্রায় একই সুরের:

  • চাকমা: পুরুষেরা সাধারণত লুঙ্গি, গামছা ও পাঞ্জাবি পরেন; সিলুমের ব্যবহার উঠে গেছে (“চাংমাটারা”)।
  • মারমা: বর্তমান সময়ের পুরুষেরা লুঙ্গি ও শার্ট পরেন।
  • ত্রিপুরা: পুরুষেরা বাজার থেকে আধুনিক পোশাক পরেন।
  • চাক: পাংহ্রে কামুহের বদলে লুঙ্গি।
  • খুমি: অধিকাংশ পুরুষ আর নেংটি পরেন না, লম্বা চুল ও কানের দুলও ছেড়েছেন।
  • পাংখোয়া: জিন্স, টি-শার্ট; কিছু জায়গায় বয়স্কদের পোয়ান পুই।

চাকমা নারীর বিয়ের পোশাকও একসময় বদলেছিল: একই Daily Star লেখা জানায়, 1960-এর দশকের শেষ থেকে একুশ শতকের শুরু পর্যন্ত শিক্ষিত পরিবারের অধিকাংশ চাকমা নারী বিয়েতে শাড়ি বেছে নিতেন। তবু দৈনন্দিন পিনন-হাদি গ্রামে টিকে ছিল; পুরুষের সিলুম-ধুতির বেলায় এমন টিকে থাকার কোনো বিবরণ উৎসে নেই।

আজকের উৎসবে পুরুষেরা কী পরেন

দৈনন্দিন জীবনে না থাকলেও উৎসবের দিনে ঐতিহ্যবাহী পুরুষ-পোশাক ফিরে আসে, অন্তত চাকমাদের বেলায় তার লিখিত বিবরণ আছে। বিজুর মূল দিনে নারীরা পিনন-হাদি আর পুরুষেরা সিলুম-ধুতি পরে গ্রামে ঘোরেন বলে The Daily Star (2024) লিখেছে। আর বেইনে বোনা আলামের নকশা এখন আধুনিক পুরুষ-পোশাকেও উঠছে।

The Daily Star-এ লালতানলিয়ান পাংখুয়ার 12 এপ্রিল 2024-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল বিজুর দিন নদীতে স্নানের পরে সবাই নতুন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন — “the women wear Pinon-Haadi and the men Silum-Dhudi” — আর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে বেড়াতে যান। মারমা, ত্রিপুরা বা অন্য জনগোষ্ঠীর উৎসবে পুরুষেরা কী পরেন, তার এমন নির্দিষ্ট বর্ণনা পড়া উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি; প্রতিবেদনগুলো সাধারণভাবে “ঐতিহ্যবাহী পোশাক” লেখে।

“Reviving Bain” লেখাটি (2025) নতুন একটি প্রবণতার কথা বলেছে। পাহাড়ি উদ্যোক্তারা আলামের ফুলেল নকশা পিনন-হাদির বাইরে নানা পোশাকে, এমনকি পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকেও নিয়ে গেছেন, আর আজকের পুরুষ-পোশাকেও বেইনে বোনা আলামের নকশা দেখা যায়। লেখাটি একটি পুরনো সংস্কারের কথা মনে করিয়েছে: শুকাতে দেওয়া নারীর পিনন-হাদির নিচ দিয়ে পুরুষের হাঁটা অশুভ ধরা হতো। আজ পুরুষেরাই পিনন-হাদির একই নকশার কাপড় গর্বের সঙ্গে পরছেন, লেখকদের ভাষায় এটি একটি বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন।

এই নকশাগুলো কারা বোনেন, কত সময় লাগে, দাম কেমন — সে হিসাব আছে কোমর তাঁত পিনন বুনন আর পিনন হাদি ও বেইন লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য বিষয়ের সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-এ।

প্রশ্নোত্তর

পাহাড়ি পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কী?

উৎসগুলো অনুযায়ী মোটামুটি চার অংশ: কোমরে ধুতি, নেংটি বা দং; গায়ে হাতে বোনা জামা, যেমন চাকমা সিলুম, মারমা আঙ্গি, পাংখোয়া কর ড; কাঁধে গামছা বা চাদর; আর মাথায় সাদা পাগড়ি। নাম ও মাপ জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা — চাকে নয় হাতি ধুতি পাংহ্রে কামুহ, ম্রোতে নকশাহীন দং, লুসাইতে হ্নখাল চাদর।

চাকমা পুরুষেরা ঐতিহ্যগতভাবে কী পরতেন?

তনয় দেওয়ানের “চাংমাটারা” অনুযায়ী শৈশবে চার আঙুল চওড়া লেংটি, আর জুমের তুলার সুতায় বোনা শার্ট সিলুম। বাংলাপিডিয়ার বাংলা ভুক্তি জুন্নাছিলুম, খবং ও ধুতি জাতীয় কাপড়ের কথা বলে। হাচিনসন 1906 সালে সাদা পাগড়ি, কোট ও ধুতি লিখেছিলেন। আজ দৈনন্দিন পোশাক লুঙ্গি, গামছা ও পাঞ্জাবি।

সিলুম কী?

সিলুম চাকমা পুরুষের জামা, জুমের তুলা থেকে তৈরি সুতায় বোনা, জুমজার্নালের আর্কাইভের “চাংমাটারা” লেখা অনুযায়ী। লেউইনের 1869 সালের চাকমা শব্দতালিকায় আছে “Sillum, a jacket”। বাংলাপিডিয়া একে “জুন্নাছিলুম” আর The Daily Star (2025) “jummo sulum” লিখেছে। আর্কাইভ বলছে দৈনন্দিন ব্যবহার উঠে গেছে, তবে বিজুতে সিলুম-ধুতি পরা হয়।

মারমা পুরুষের পোশাকের নাম কী?

“মারমা জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী কোমরে ধোয়াঃ (ধুতি), হাঁটু বা গোড়ালি পর্যন্ত; জামার ওপরে ব্যারিষ্টা আঙ্গি নামের জ্যাকেট; মাথায় গবং বা পাগড়ি। লেউইন 1869 সালে একই তিন অংশকে “dhoyak”, “ranjee” ও “goungboung” লিখেছিলেন। আজকের পুরুষেরা লুঙ্গি ও শার্ট পরেন বলে আর্কাইভ লিখেছে।

ত্রিপুরা পুরুষেরা আগে কী পরতেন?

“ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী অতীতে পুরুষেরা ঘরে তৈরি গামছা ও কুবাই (শার্ট) পরতেন; এখন বাজারের আধুনিক পোশাক। বাংলাপিডিয়া ধুতি ও মাথায় সাদা কাপড়ের কথা যোগ করেছে। লেউইন (1869) লিখেছিলেন মোটা পাগড়ি, ঝালরওয়ালা সরু কোমরের কাপড় আর শীতে জ্যাকেট।

ম্রো পুরুষের কাপড়ের নাম কী?

বাংলাপিডিয়ার “পোশাক” ভুক্তি অনুযায়ী ম্রো পুরুষেরা নেংটির মতো “দং” পরেন, যাতে কোনো নকশা থাকে না, আর মাথায় সাদা কাপড় জড়ান। বাজারে গেলে লুঙ্গি ও জামা পরেন। হাচিনসন (1906) লিখেছিলেন নীল কোমরের কাপড়, পেছনে দুই-তিন ফুট ঝুলে থাকা ফালিসহ। নাচে পুরুষেরা লাল কাপড় ও পালক-পুঁতির পাগড়ি পরেন।

পাহাড়ে ধুতি আর পাগড়ি কারা বুনতেন?

নারীরা। কলকাতা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর (1883–84) রিপোর্টে একটি ধুতি ও একটি পাগড়ি তালিকাভুক্ত, “made by Jhumia women in the Chittagong Hill Tracts”। বাংলা উইকিপিডিয়ার “আলাম” নিবন্ধ বলছে আলাম থেকে নকশা তুলে পিনন, ধুতি, খাদি ও পাগড়ি বোনা হয়। The Daily Star (2025) লিখেছে তুলা চাষ ও রং করায় পুরুষদেরও ভূমিকা ছিল।

ধুতি পৌই কী?

তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে ছেলের ধুতি পরার বয়স হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ধুতি পরানোর অনুষ্ঠান, জুমজার্নালের আর্কাইভের “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত” অনুযায়ী। বাবা-মা এর মানত করেন, আর প্রতিবেশীদের সাধ্যমতো খাওয়ানো হয়। মেয়েদের বেলায় একই ধরনের অনুষ্ঠানের নাম পিনুইন পোই, খারি পোই ও কানবেড়া পৌই।

উ-খ পেই কোন জনগোষ্ঠীর অনুষ্ঠান?

খিয়াং জনগোষ্ঠীর। আর্কাইভের “খিয়াং” লেখা অনুযায়ী ছেলের বয়স 10 থেকে 13 বছর হলে গ্রামের কোনো বয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত লোকদের সামনে তাকে নেংটি পরিয়ে দেন। শূকর কেটে ভোজ হয়, আর অতিথিরা সাধ্যমতো উপহার দেন। এটিকে লেখাটি “নেংটি পরানোর ভোজ” বলেছে।

পাংখোয়া পুরুষের পোশাকের নাম কী কী?

আর্কাইভের “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”-এর ছক অনুযায়ী রেন তে রেং (নেংটি), পোয়ান পুই (জুমের তুলায় কোমর তাঁতে বোনা কাপড়), কর ড (ফুলহাতা জামা), ঙৌ লেপ পোয়ান (অনুষ্ঠানের সাদা কাপড়) আর বিয়ার (কাজের সময়ের পাগড়ি)। লেখাটি জানায়, এখন কেবল কিছু বয়স্ক মানুষ পোয়ান পুই পরেন।

পুরুষের পোশাক নিয়ে লেখা এত কম কেন?

বাংলাপিডিয়া লিখেছে পুরুষের পোশাকে নকশার বৈচিত্র্য কম। The Daily Star (2025) লিখেছে, চাকমা সমাজে পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহারই আগে কমেছিল, ফলে আজ দেখার মতো নমুনাও কম।

ঔপনিবেশিক বইয়ের বর্ণনা কি আজকের পোশাক?

না। লেউইনের বই 1869 সালের, হান্টারের খণ্ড 1876 সালের, হাচিনসনের বই 1906 ও গেজেটিয়ার 1909 সালের। এগুলো তাঁদের সময়ের বাইরের পর্যবেক্ষণ, অনেক জায়গায় কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে এক দলে ফেলে লেখা। হান্টারের অনেক বর্ণনা লেউইনের বই থেকে নেওয়া বলে তিনি নিজেই পাদটীকায় জানিয়েছেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • পুরুষের কাপড়ে আলামের কোন নকশা উঠত। ধুতি ও পাগড়ি আলাম থেকে বোনা হতো, এ কথা একটি সূত্রে আছে; কিন্তু কোন নকশা, কোন রং, পাড় কেমন — কোনো উৎসে লেখা নেই।
  • বম পুরুষের পোশাকের নাম। বাংলাপিডিয়া, আর্কাইভ বা পত্রিকার কোনো উৎসে বম পুরুষের পোশাকের নাম ও বিবরণ পাওয়া যায়নি; শুধু নাচে পাগড়ির উল্লেখ আর জাদুঘরের প্রদর্শনী।
  • ত্রিপুরা, ম্রো ও খিয়াং পাগড়ির নিজস্ব নাম। উৎসগুলো শুধু “পাগড়ি” বা “সাদা কাপড়” লেখে।
  • খুমি ও লুসাই পুরুষের মাথার কাপড়। কোনো উৎসে উল্লেখ নেই।
  • মাপ। চাকের নয় হাতি ধুতি, ম্রোর 40 হাত ও 5 হাতের পাগড়ির কাপড়, পাংখোয়ার রেন তে রেং আর চাকমা শৈশবের চার আঙুলের লেংটি ছাড়া কোনো পুরুষ-পোশাকের মাপ পাওয়া যায়নি; নারীর পিনন, রিনাই, খাদি, রিসার মাপ যেখানে বাংলাপিডিয়াতেই আছে।
  • 1883–84 সালের প্রদর্শনীর ধুতি ও পাগড়ি কোন জনগোষ্ঠীর বোনা। রিপোর্ট শুধু “Jhumia women” লিখেছে; স্থানীয় নামগুলো স্ক্যানে নির্ভরযোগ্যভাবে পড়া যায় না।
  • মারমা, ত্রিপুরা ও অন্যদের উৎসবে পুরুষের পোশাক। চাকমাদের বিজুর মতো নির্দিষ্ট বিবরণ অন্য জনগোষ্ঠীর বেলায় পাওয়া যায়নি।
  • উৎসগুলোর অমিল, যা এখানে দুই পক্ষ রেখে দেওয়া হয়েছে: চাকমা পুরুষের কোমরের কাপড় ধুতি (বাংলাপিডিয়া বাংলা; হাচিনসন) না “long loincloth” (বাংলাপিডিয়া ইংরেজি); তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষ ধুতি পরেন (জনগোষ্ঠী-ভুক্তি) না জুন্নাছিলুম-গামছা-খবং (“পোশাক” ভুক্তি); চাক পুরুষের পোশাক কোতুংপাংরে-আপং না লুঙ্গি-জামা-খবং; চাকমা পুরুষের জামার নাম সিলুম, জুন্নাছিলুম না jummo sulum।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ (প্রাথমিক উৎস)

  1. তনয় দেওয়ান, “চাংমাটারা — চাকমা জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”, জুমজার্নাল। (লেংটি, সিলুম, আজকের পোশাক, খবং-খাদির রাজা নির্বাচনের বিবরণ, এদা দাগা)
  2. “চাকমা জাতি”, জুমজার্নাল। (নারীর পোশাকের তালিকায় খবং)
  3. “মারমা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। (ধোয়াঃ, ব্যারিষ্টা আঙ্গি, গবং)
  4. “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। (গামছা ও কুবাই)
  5. “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। (ধুতি পৌই, বিয়ের পাগড়ি, মৃতদেহের পোশাক)
  6. “প্রথাগত আইনে আদিবাসী ম্রো নারীর অবস্থান”, জুমজার্নাল। (40 হাত ও 5 হাতের পাগড়ির কাপড়)
  7. “খিয়াং”, জুমজার্নাল। (নেংটি, হাটের ধুতি-জামা-পাগড়ি, উ-খ পেই)
  8. “খুমী জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। (নেংটি ও লুঙ্গি)
  9. “চাক জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। (পাংহ্রে কামুহ, রাংকাইন পহ)
  10. “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”, জুমজার্নাল। (পুরুষের পোশাকের ছক)

অন্যান্য উৎস

  1. পারভীন আহমেদ ও জিনাত মাহরুখ বানু, “পোশাক”, বাংলাপিডিয়া (বাংলা)। ইংরেজি সংস্করণ: “Dress”।
  2. বাংলাপিডিয়া (বাংলা), জনগোষ্ঠী-ভুক্তি: মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, খুমি, খিয়াং, চাক, লুসাই, বম।
  3. Banglapedia (English): “Marma, The”, “Tanchangya, The”, “Chak, The”, “Bawm, The”।
  4. “আলাম”, বাংলা উইকিপিডিয়া (ইফ্‌ফাত আরা, “জানার আছে অনেক কিছু”, দেশ প্রকাশন, 1999, পৃ. 133-কে উদ্ধৃত করে)।
  5. T. H. Lewin, The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein, 1869। পৃ. 45 (Khyoungtha), 66 (চাকমা শব্দতালিকা), 74 (চাকমা), 76, 82 (ত্রিপুরা), 94 (ম্রো), 103 (লুসাই)।
  6. W. W. Hunter, A Statistical Account of Bengal, Vol. VI, 1876। (খুমি; পার্বত্য ত্রিপুরা)
  7. R. H. Sneyd Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts, 1906। (চাকমা, মারমা, ম্রো, “Kuki”; জুমিয়া পরিবারের বাজেট)
  8. R. H. Sneyd Hutchinson, Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts, 1909। (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, “Kuki”)
  9. Official Report of the Calcutta International Exhibition, 1883–84, Vol. II। (Jhumia women-এর বোনা ধুতি, পাগড়ি ও দাম); Vol. I (পাহাড়ি সুতি কাপড়ের মূল্যায়ন)।
  10. Jidit Chakma ও Jibak Chakma, “Reviving Bain: Chakma Fashion Reimagined”, The Daily Star, 22 জুন 2025।
  11. Laltanlian Pangkhua, “One festival, myriad celebrations”, The Daily Star, 12 এপ্রিল 2024।
  12. Moheen Reeyad, “Bawm Man & Woman from Bandarban at Ethnological Museum”, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY-SA 4.0, 2012। (শীর্ষ ছবি)

জুমজার্নালের সংশ্লিষ্ট লেখা

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প, চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা, ম্রো

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা