Last updated Oct 23rd, 2026
0

কোমর তাঁত পিনন বুনন চলে দুটি বাঁশের মাঝখানে টান টান করে বাঁধা সুতায়: এক প্রান্ত খুঁটিতে বাঁধা, অন্য প্রান্ত চামড়ার ফিতা দিয়ে তাঁতির কোমরে। কয়েকটি বাঁশের কাঠি পালা করে উপরের আর নিচের সুতা আলাদা করে, ফাঁক দিয়ে মাকু যায়, আর কাঠের চ্যাপ্টা ‘বিয়োঙ’ দিয়ে প্রতিটি সুতা ঠুকে বসানো হয়। একটি পিনন বুনতে কত দিন লাগে, তার কোনো একক উত্তর নেই — রাঙামাটির রাঙাপানি গ্রামের এক মাঠজরিপে পূর্ণ পিনন সেটের জন্য 3 থেকে 4 সপ্তাহ, আর সেখানকার এক তাঁতির হিসাবে এক জোড়া পিনন-হাদিতে 15 দিন।
এই দুই সংখ্যার মাঝখানেই এই লেখার কাজ। তাঁতের অংশগুলোর নাম জুমজার্নালের আর্কাইভে আগে থেকেই আছে, কিন্তু কোন কাঠি কী করে, তানা কীভাবে সাজানো হয়, আর সময়ের হিসাব কোন উৎস কীভাবে দিয়েছে — এগুলো এক জায়গায় পাওয়া যায় না। পিনন হাদির ইতিহাস, রঙ, আলাম ও সম্প্রদায়ভেদে পোশাকের পার্থক্য নিয়ে আমাদের মূল লেখাটি হলো পিনন হাদি ও বেইন: পাহাড়ি কোমর-তাঁতের পূর্ণ পাঠ; এখানে সেগুলো আবার বলা হবে না। এখানে কেবল যন্ত্রটি আর সময়টি।
সূচিপত্র
বেইন একটি পিঠ-বন্ধনী তাঁত (backstrap loom): টানা সুতার (warp) এক প্রান্ত বাঁধা থাকে বাঁশের একটি দণ্ডে, যা খুঁটি বা গাছে দড়ি দিয়ে আটকানো; অন্য প্রান্ত আরেকটি দণ্ডে, যা চামড়ার ফিতা দিয়ে তাঁতির কোমরে বাঁধা। তাঁতি পেছনে হেললে সুতা টান হয়, সামনে ঝুঁকলে ঢিলে।
বাকিটা কয়েকটি কাঠির খেলা। গবেষক তানজেনা মাহবুব, এস এম মিনহাস ও তাও হুই 2021 সালে চাকমা বয়নপ্রক্রিয়ার যে বিবরণ প্রকাশ করেছেন, সেখানে বুননের চক্রটি এরকম: একটি গোল বাঁশ টানা সুতার একাংশ উপরে তুলে ফাঁক (shed) তৈরি করে; সেই ফাঁকে খাড়া করে বসানো হয় বিয়োঙ; ফাঁক দিয়ে মাকু পার হয়; বিয়োঙের ধার দিয়ে নতুন পোড়েন-সুতা (weft) আগের বোনা অংশের গায়ে ঠুকে বসানো হয়; তারপর আরেকটি বাঁশ দিয়ে সুতার স্তর উল্টে নতুন ফাঁক তৈরি হয় (Mahbub, Minhus ও Tao 2021)। এই চক্র বারবার ঘুরে কাপড় এগোয়।
সময়ের প্রশ্নে উৎসগুলো আলাদা আলাদা হিসাব দেয় — সপ্তাহে, দিনে, ‘প্রায় এক মাস’, আর কঠিন চীবরের ক্ষেত্রে ঘণ্টায়। নিচে প্রতিটি আলাদা করে রাখা হয়েছে, কে বলছেন ও কী মেপে বলছেন সহ।
বেইনের কোনো স্থির কাঠামো নেই। কাপড়ের দুই প্রান্তে দুটি বাঁশের দণ্ড — দূরের প্রান্তে Tambo bash, তাঁতির সামনে Tagalog bash — আর কোমরের পেছনে চামড়ার ফিতা Tachhi sam। দূরের দণ্ড দড়ি দিয়ে বারান্দার বা গাছতলার খুঁটিতে বাঁধা থাকে (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
একই গবেষণাপত্রের বর্ণনায় তাঁতি বসেন পা সোজা সামনে ছড়িয়ে, পায়ের পাতা ঠেকানো থাকে Bainugor নামের একটি কাঠ বা মোটা বাঁশে — এটিই পা-দানি, যার বিপরীতে চাপ দিয়ে তিনি টান ধরে রাখেন। ফিতাটি ঐতিহ্যগতভাবে মহিষের চামড়ার, তবে কেউ কেউ তার বদলে এক টুকরো কাঠের তক্তা বাঁধেন। দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত 2010 সালের এক বই-সমালোচনাতেও বেইনের একটি “আধুনিক সংস্করণে” চামড়ার ফিতার বদলে কাঠ ব্যবহারের ছবির কথা আছে (Farida Shaikh, The Daily Star, 2010)।
কালচারাল সারভাইভালে প্রকাশিত এক লেখায় বলা হয়েছে, বেইন বাঁশ ও কাঠে তৈরি, কোনো যন্ত্র বা বিদ্যুৎ লাগে না, এক প্রান্ত খুঁটি বা গাছে আর অন্য প্রান্ত নারীর কোমরে বাঁধা; তিনি সামনে-পেছনে হেলার সঙ্গে সঙ্গে কাপড় “সুতায় সুতায়” বাড়ে (Prama Dewan, Cultural Survival, 2025)। রাঙামাটি সদরের বালুখালী ইউনিয়নের একটি বৌদ্ধ মন্দির-সংলগ্ন বাজারে দোকানে বসেই কোমর তাঁতে বুনছেন এমন বিক্রেতার কথা এসেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের 2024 সালের এক প্রতিবেদনে — ক্রেতা এলে তিনি বোনা থামিয়ে তাঁদের সামলান (TBS, 2024)।
কাঠামোহীনতার একটি সীমাও আছে। পিঠ-বন্ধনী তাঁতে বোনা কাপড়ের প্রস্থ সাধারণভাবে তাঁতির দুই হাতের নাগালের মধ্যে সীমিত থাকে বলে উইকিপিডিয়ার “Loom” নিবন্ধে উল্লেখ আছে (Wikipedia, Loom)। বেইনে বোনা পিননের প্রস্থ ঠিক কত, বা পিনন এক টুকরোয় বোনা হয় নাকি একাধিক টুকরো জুড়ে — এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মাপ পাওয়া যায়নি।
ফ্রেম-তাঁতের সঙ্গে তুলনাটিও উৎসে আছে। মঞ্জুলিকা চাকমা ও নিয়াজ জামানের Strong Backs, Magic Fingers: Traditions of Backstrap Weaving in Bangladesh (2010) বইয়ের সমালোচনায় ফারিদা শায়খ লিখেছেন, থ্রো-শাটল ও ফ্লাই-শাটল তাঁতের তুলনায় পিঠ-বন্ধনী বুনন “আঁটসাঁট, পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ” (The Daily Star, 2010)। বেইনের কৌশল হস্তচালিত তাঁতে প্রয়োগের ইতিহাস মঞ্জুলিকা চাকমাকে নিয়ে আমাদের আর্কাইভের লেখায় আছে।
মাহবুব ও সহগবেষকদের প্রবন্ধে বেইনের অংশগুলোর নাম ও কাজের একটি ছক আছে, যার উৎস হিসেবে তাঁরা মঞ্জুলিকা চাকমা ও নিয়াজ জামানের 2010 সালের বইটির উল্লেখ করেছেন। প্রবন্ধের মূল লেখায় বলা হয়েছে বেইনের “বারোটি প্রধান অংশ” — বাংলাপিডিয়াও একই সংখ্যা দেয় (Banglapedia, Art and Crafts) — অথচ ছকে নাম আছে 14টি। নিচে সেই 14টি, প্রবন্ধে যেভাবে লেখা সেভাবে।

| প্রবন্ধে নাম | আর্কাইভের তালিকায় কাছাকাছি নাম | কাজ (Mahbub ও অন্যান্য 2021 অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| Tambo bash | তাম্মে বাশ | দূরের প্রান্তের বাঁশের দণ্ড; দড়ি দিয়ে দুটি খুঁটিতে বাঁধা থাকে। |
| Tagalog bash | তাগলক | তাঁতির সামনের দণ্ড, লম্বালম্বি দুই ফালি করা; বোনা কাপড় এতে আটকানো থাকে, আর ফিতা এর সঙ্গে বাঁধা। বুনন শুরুর সময় এই ফালি-করা দণ্ডই প্রথম পোড়েনের কাজ করে। |
| Tachhi sam | তাচ্ছিচাম | চামড়ার ফিতা, দুটি ফাঁস দিয়ে তাগলকে বাঁধা; তাঁতির কোমরের পেছনে থাকে। |
| Biyong | বিয়োঙ | শক্ত কাঠের চ্যাপ্টা লম্বা পাত — আগে ছাও সুপারি গাছের (cha supari, বুনো সুপারি), এখন shill koroi কাঠের। ফাঁকে খাড়া করে বসিয়ে উপরের ও নিচের সুতা আলাদা রাখা হয়, আর প্রতিবার মাকু পার হওয়ার পর এর ধার দিয়ে পোড়েন ঠুকে বসানো হয়। এক মাথা গোল, এক মাথা সূচালো। |
| Phulo biyong | — | প্রায় ¾ ইঞ্চি চওড়া চ্যাপ্টা বাঁশ, বিয়োঙের মতোই গড়ন; নকশার জন্য সুতা গুনতে ব্যবহৃত। |
| Suchok bash | সুচ্ছেক বাঁশ | সাধারণ বুননে ajaju-র পরে রাখা গোল বাঁশ; টানা সুতার উপরের স্তর তুলতে ব্যবহৃত। |
| Bokati | ব-কাদি | সরু গোল বাঁশের কয়েকটি টুকরো; পাড়ের নকশার জন্য সুতা আলাদা করে। |
| Phulo suchok | — | গোল বাঁশ; নকশার জন্য টানা সুতার ভেতর দিয়ে ঢোকানো হয়। |
| Ajaju | — | সাধারণ বুননে সুচ্ছেক বাঁশের আগে রাখা গোল বাঁশ; টানা সুতা উপরে তুলে ফাঁক (shed) তৈরি করে। |
| Siyong | সিয়েং | সরু বাঁশ; তানা দেওয়ার সময় সুতায় পাক দেয়, তাঁতে বসানোর পর টান ধরে রাখে। তাঁতি বুনতে বুনতে এর কাছে পৌঁছে গেলে দুজন নারী মিলে এটি ঢিলে করে আরও উপরে সরিয়ে দেন। |
| Taram | তারাম | চ্যাপ্টা বাঁশের পাত, কাপড়ের সঙ্গে আটকানো থাকে প্রস্থ ঠিক রাখার জন্য। |
| Kuduk kadak | কুদুক কাদাক | জটিল নকশায় সুতা কাছাকাছি টেনে আনতে ব্যবহৃত। |
| Thurchuma | ঠুটচুমো / থুচ্চুমো | বাঁশের মাকু। |
| Bainugor | — | কাঠ বা মোটা বাঁশের দণ্ড, যাতে পা ঠেকিয়ে তাঁতি টান ধরে রাখেন। |
মাঝের কলামের বাংলা নামগুলো জুমজার্নালের আর্কাইভের “চাকমা জাতি” লেখার সরঞ্জাম-তালিকা (সজপদর) থেকে নেওয়া, যেখানে কেবল নাম আছে, কাজের বিবরণ নেই। দুই তালিকা উচ্চারণ মিলিয়ে পাশাপাশি রাখা হয়েছে; কোনো উৎস নিজে দুটিকে এক বলে মিলিয়ে দেয়নি। দ্য ডেইলি স্টারে 2025 সালে প্রকাশিত জিদিত চাকমা ও জিবাক চাকমার লেখায় একই জিনিসগুলোর আরও একটি ইংরেজি বানান আছে — taglak বাঁশ, tatye cham ফিতা, suchyek ও bakadi কাঠি, biyong (The Daily Star, 2025)।
আর্কাইভের তালিকায় এমন কয়েকটি নামও আছে যেগুলোর প্রতিরূপ উপরের ছকে নেই — চরগা, চোরগি, রিবেঙ, রিঝি, মুম, বেইনো ভেরা। এগুলোর কোনটি কী কাজ করে, তা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। উল্টো দিকে ছকের ajaju, phulo biyong, phulo suchok ও bainugor-এর কোনো বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে পাওয়া যায়নি, তাই এগুলো উৎসের রোমান বানানেই রাখা হলো।
তাঁতে সুতা ওঠার আগে তা ধুয়ে, মাড় দিয়ে, শুকিয়ে গুটিয়ে নিতে হয়। মাহবুব ও সহগবেষকদের বিবরণে, বাজার থেকে কেনা সুতার গোছা মাড় দিয়ে রোদে টাঙানো হয়, শুকালে বাঁশের ফ্রেমে (natai বা nadai) পেঁচিয়ে গোল গুটি (thum) বানানো হয়; কারখানার রিলের সুতা হলে আগে lanya দিয়ে গোছা করে নিতে হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
ডেইলি স্টারের 2025 সালের লেখাটিতে একই ধাপের বর্ণনা একটু ভিন্ন শব্দে: সুতা ধুয়ে, মাড় দিয়ে, শুকিয়ে badala নামের এক ধরনের রিল বানানো হয়, তারপর সেই রিলগুলো পিনন বা হাদির জন্য প্রয়োজনীয় বিন্যাসে পরপর সাজানো হয় (The Daily Star, 2025)। আর্কাইভের সরঞ্জাম-তালিকায় ‘নাদেই’ নামটি আছে, যা natai/nadai-এর সঙ্গে উচ্চারণে মেলে।
বোনার সময়ও দুটি উপকরণ লাগে, যা তাঁতের অংশ নয়: মোম, যা সুতার গায়ে ঘষে সুতাকে শক্ত করা হয়, আর পানি, যা সুতি কাপড়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। রাঙাপানির জরিপেও কাঁচামালের তালিকায় মোম, তুলা, সুতা ও বাঁশের নাম আছে (Chakma, Muzib ও Akter 2022)।
টানা সুতা সাজানোর ধাপটিকে বাংলায় বলে ‘তানা দেওয়া’, চাকমা ভাষায় bain bajat — মাটিতে কয়েকটি বাঁশ পুঁতে তাদের ঘিরে দুটি করে সুতা পেঁচানো হয়। পুরো দৈর্ঘ্য তৈরি হলে কাঠামোটি তুলে এনে তাঁতের দুই দণ্ডে বসানো হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
প্রবন্ধটির বিবরণ অনুযায়ী ধাপগুলো এরকম:
আর্কাইভের তালিকার ‘লেভলেভি’ নামটি উচ্চারণে lablebi-র কাছাকাছি। ডেইলি স্টারের 2025 সালের লেখায় এই ধাপের আরেকটি বিবরণ আছে: সুচ্ছেক ও বকাদি বাঁশের কাঠি মাটিতে ঠুকে বসানো হয়, তারপর ‘বেইন কাঠামো’ মাটি থেকে তুলে আনা হয় (The Daily Star, 2025)।
রাঙাপানির তাঁতি বেলপুদি চাকমার বর্ণনায় এই প্রস্তুতির শুরু ‘রদং’ দিয়ে: বাঁশের গায়ে ছিদ্র করে সেখানে ছোট ছোট বাঁশের কঞ্চি বসিয়ে মিলিয়ে নিতে হয়, চরকিতে প্রস্তুত রাখা সুতা সেখানে গাঁথা হয়, তারপর বেইন টানা হয় (বাংলাদেশ প্রতিদিন, 26 এপ্রিল 2021)। আর্কাইভের তালিকাতেও ‘রদং’ নামটি আছে। তানা দিতে কত সময় লাগে, তার আলাদা কোনো হিসাব কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ (নকশাহীন) বুননের একটি চক্রে পাঁচটি কাজ: ফাঁক খোলা, বিয়োঙ বসানো, মাকু চালানো, বিয়োঙ দিয়ে ঠোকা, আর সুতার স্তর উল্টে নতুন ফাঁক। মাহবুব ও সহগবেষকেরা চাকমা তাঁতির কাজ এভাবেই বর্ণনা করেছেন, এবং বলেছেন “এভাবেই প্রক্রিয়া চলতে থাকে” (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
ডেইলি স্টারের 2025 সালের লেখায় একই কাজের সংক্ষিপ্ত রূপ: “প্রতিটি ju-তে সুতা ঢোকানো হয় এবং বিয়োঙ দিয়ে চাপ দেওয়া হয়” — লেখাটি ‘ju’ শব্দের অর্থ আলাদা করে বলেনি (The Daily Star, 2025)।
সাধারণ পরিভাষায় মিলিয়ে দেখলে: উইকিপিডিয়ার “Loom” নিবন্ধ অনুযায়ী পিঠ-বন্ধনী তাঁতে সাধারণত একটি হেডল-দণ্ড (heddle rod: পালাক্রমিক সুতার সঙ্গে সুতার ফাঁস দিয়ে বাঁধা কাঠি, টানলে একটি ফাঁক খোলে), একটি শেড-রড (shed rod: সুতার ভেতর দিয়ে বোনা কাঠি, যা বিপরীত ফাঁক খোলে) আর একটি তলোয়ার-আকৃতির চ্যাপ্টা পাত (sword batten: ফাঁক খোলা রাখে এবং পোড়েন ঠোকে) থাকে; হেডল-দণ্ড ও শেড-রড মিলে সাদামাটা ‘ট্যাবি’ বুনন হয় (Wikipedia, Loom)। চাকমা বিবরণে ফাঁক খোলার কাজ ajaju-র, স্তর উল্টানোর কাজ সুচ্ছেক বাঁশের, আর ফাঁক ধরে রাখা ও ঠোকার কাজ বিয়োঙের — কাজের বর্ণনা মিলিয়ে দেখলে এগুলোই ওই তিন সাধারণ উপাদানের কাজ করে।
বুনন যত এগোয়, তাঁতি তত siyong-এর দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পৌঁছালে, প্রবন্ধটি বলছে, দুজন নারী মিলে siyong ঢিলে করে আরও উপরে সরিয়ে দেন (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। অর্থাৎ একক তাঁতির কাজের মাঝেও কয়েকটি মুহূর্তে আরেকজনের হাত লাগে।
নকশা তোলার জন্য সাধারণ বুননের কাঠিগুলোর বাইরে আরও কয়েকটি কাঠি লাগে: phulo biyong দিয়ে নকশার সুতা গোনা হয়, phulo suchok নকশার জন্য টানা সুতার ভেতর দিয়ে ঢোকানো হয়, ব-কাদি (Bokati) পাড়ের নকশার সুতা আলাদা করে, আর জটিল নকশায় কুদুক কাদাক দিয়ে সুতা কাছাকাছি টেনে আনা হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
প্রবন্ধটি এই কাঠিগুলোর কাজ বলেছে, কিন্তু নকশাদার কাপড় বুনতে সাধারণ কাপড়ের চেয়ে কত বেশি সময় লাগে, তার কোনো মাপা হিসাব কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
কোন নকশা তুলতে হবে তা তাঁতি দেখেন আলাম থেকে — নকশার বোনা নমুনা-কাপড়, যা মা থেকে মেয়ের হাতে যায়। আলামে কতগুলো নকশা থাকে, তা নিয়ে দুই উৎসের সংখ্যা আলাদা: রাঙাপানির জরিপ বলছে প্রতিটি আলামে 96 থেকে 115টি নকশা সংরক্ষিত (Chakma, Muzib ও Akter 2022), আর মাহবুব ও সহগবেষকেরা লিখেছেন চাকমা বস্ত্রে মোট 210টি নকশা (আলাম) “দীর্ঘকাল ধরে” আছে (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। আলামের পূর্ণ আলোচনা মূল লেখার আলাম অংশে।
চাকমা পিননের একটি বৈশিষ্ট্যও এই অংশে প্রাসঙ্গিক। মাহবুব ও সহগবেষকেরা আর্শি দেওয়ান রায়ের বরাতে লিখেছেন, পিননের কিনারে ‘sabugi’ নামের এক জটিল পাড় কেবল চাকমা পিননেই থাকে এবং অন্য জনগোষ্ঠী এই ধরনের পাড় বোনে না। রাইজিংবিডির একটি প্রতিবেদনে পিননের বাম পাশের লম্বালম্বি রঙিন ভারী নকশার নাম বলা হয়েছে ‘চাবুগি’ (রাইজিংবিডি, 2021)।
একটি পিনন বুনতে কত দিন লাগে, তা নিয়ে উৎসগুলো ভিন্ন ভিন্ন এককে হিসাব দেয়। রাঙাপানির 75টি তাঁতি পরিবারের জরিপে একটি পূর্ণ পিনন সেটের জন্য 3 থেকে 4 সপ্তাহ, ডেইলি স্টারের 2025 সালের প্রতিবেদনে সাধারণ সেটে “প্রায় এক মাস”, আর রাঙামাটির দুই তাঁতির নিজের হিসাবে এক জোড়া পিনন-হাদিতে 10 থেকে 15 দিন।
| উৎস | কার কথা / কোথায় | কী বোনা | সময় |
|---|---|---|---|
| Chakma, Muzib ও Akter, IJHSSI, ফেব্রুয়ারি 2022 | রাঙাপানি গ্রাম, রাঙামাটি; 75টি তাঁতি পরিবারের মাঠজরিপ | একটি পূর্ণ পিনন সেট | 3–4 সপ্তাহ “অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ ও নিরলস শ্রম”; এর বাইরে রং করতে 1–1.5 সপ্তাহ |
| Munira Fidai, The Daily Star, 19 জানুয়ারি 2025 | প্রতিবেদকের বর্ণনা | একটি সাধারণ (basic) সেট | “প্রায় এক মাস” |
| বাংলাদেশ প্রতিদিন, 17 মে 2017 | কোমর তাঁতি লক্ষিসোনা চাকমা, রাঙামাটি | এক জোড়া পিনন-হাদি | 10–15 দিন |
| বাংলাদেশ প্রতিদিন, 26 এপ্রিল 2021 | কোমর তাঁতশিল্পী বেলপুদি চাকমা, রাঙাপানি | এক জোড়া পিনন হাদি | 15 দিন |
| ঢাকা পোস্ট, 7 নভেম্বর 2021 | কোমরতাঁত শিল্পী লিমা বম, ফারুকপাড়া, বান্দরবান | একটি থামি | 4–7 দিন |
| ঢাকা পোস্ট, 7 নভেম্বর 2021 | কোমরতাঁত শিল্পী নু মার্মা, বান্দরবান | একটি থামি | 7 দিন |
| ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, 24 নভেম্বর 2023 | রাজবন বিহার, রাঙামাটি; সমষ্টিগত কাজ | কঠিন চীবর | তুলা থেকে সুতা, রং, শুকানো ও বোনা মিলিয়ে 24 ঘণ্টার মধ্যে; বুনন ভোর 6টা থেকে বেলা 11টা |
ছকের প্রথম চারটি সারি চাকমা পিননের, পরের দুটি বান্দরবানের থামির, শেষটি একটি ধর্মীয় আচারের। এগুলোকে একটি গড়ে মিলিয়ে ফেলা যায় না — প্রত্যেকটি আলাদা জিনিস মেপেছে।
রাঙাপানির জরিপের মূল বাক্যটি ইংরেজিতে: “A complete pinon set needs 3 to 4 weeks of undivided attention and unrelenting effort.” তার পরের বাক্যে গবেষকেরা যোগ করেছেন, কাজটি তাঁতিদের দৈনিক কর্মক্ষমতা খেয়ে ফেলে, আর তাঁরা “সারাদিন বসে বোনেন” (IJHSSI 2022)। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে “প্রায় এক মাস” সময়ের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সাধারণ সেটের দাম 4,000 থেকে 8,000 টাকা আর কনের সেট 65,000 টাকা ছাড়াতে পারে বলে উল্লেখ আছে (The Daily Star, 2025)। দাম ও তাঁতির আয়ের পূর্ণ হিসাব পিনন হাদির দাম ও তাঁতির আয় নিয়ে আমাদের লেখায়।
সংখ্যাগুলো আলাদা, কারণ প্রতিটি উৎস আলাদা জিনিস গুনেছে: কেউ ‘পূর্ণ সেট’, কেউ ‘এক জোড়া’, কেউ একক থামি; কেউ রং করার সময় আলাদা রেখেছে, কেউ উল্লেখই করেনি; আর কোনো উৎসই বলেনি দিনে কত ঘণ্টা বোনা হচ্ছে। এই এককগুলো না মিলিয়ে সংখ্যাগুলো তুলনা করা যায় না।
‘সেট’ আর ‘জোড়া’ শব্দ দুটি এক জিনিস কি না, তা উৎসগুলো স্পষ্ট করেনি। মাহবুব ও সহগবেষকদের বর্ণনায় চাকমা নারীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক দুই টুকরো কাপড় — কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পিনন, আর বুকে জড়ানো হাদি (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। বাংলাদেশ প্রতিদিনের দুই প্রতিবেদন ‘এক জোড়া’ শব্দের ব্যাখ্যা দেয়নি, আর রাঙাপানির জরিপের ‘complete pinon set’-এ ঠিক কোন কোন টুকরো ধরা হয়েছে, পেপারে তা বলা নেই।
দ্বিতীয় পার্থক্যটি দিনের দৈর্ঘ্যে। লক্ষিসোনা চাকমার কথায়, নারীরা “বিশেষ করে অবসর সময়টা কাজে লাগায়” এই বস্ত্র তৈরিতে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, 2017); মাহবুব ও সহগবেষকেরাও লিখেছেন বেশিরভাগ নারী অবসরে কাপড় বোনেন; ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বান্দরবানের নারীরা “গৃহস্থালির কাজ আর জুম চাষের ফাঁকে” পিনন ও থামি তৈরি করেন (ঢাকা পোস্ট, 2021)। অন্যদিকে রাঙাপানির জরিপ বলছে “অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ” আর “সারাদিন” বসে বোনার কথা। ফলে ‘15 দিন’ আর ‘3–4 সপ্তাহ’ একই ধরনের দিন গুনছে কি না, তা জানা যায় না।
তৃতীয় পার্থক্য নকশায়। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাধারণ সেট 4,000–8,000 টাকা, আর কনের সেট 65,000 টাকা ছাড়াতে পারে; প্রতিবেদনটি বলেছে দামের পরিসর কারিগরি, কাপড় ও খুঁটিনাটির মান অনুযায়ী (The Daily Star, 2025)। কিন্তু নকশাদার বা কনের সেট বুনতে কত দিন লাগে, তার কোনো আলাদা সংখ্যা কোথাও পাওয়া যায়নি।
তাঁতে বসার আগের সময়টাও কম নয়। রাঙাপানির জরিপ অনুযায়ী রং করার প্রক্রিয়াতেই 1 থেকে দেড় সপ্তাহ লাগে, এবং গবেষকেরা রং করাকে কাপড় তৈরির “প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ” বলেছেন; জরিপের 18.3 শতাংশ তাঁতি নিজে কাঁচামাল তৈরি করতে পারেন না, সবটাই বাজার থেকে কেনেন (IJHSSI 2022)।
জুমের তুলা থেকে শুরু করলে সময় আরও বাড়ে। মাহবুব ও সহগবেষকদের বর্ণনায় তুলা খোসা থেকে ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে মাদুরে বিছিয়ে দুই-তিন দিন রোদে শুকানো হতো, তারপর বীজ ছাড়িয়ে নরম করে, হাতে ছোট বাঁশের টুকরোয় গড়িয়ে, pech নামের দণ্ডে আরও মিহি করে চরকায় সুতা কাটা হতো। নীল রঙের জন্য নীলপাতা মাটির পাত্রে পানিতে দুই দিন ভিজিয়ে রাখা হয়, আর রং পাকা করতে সুতা নদীর পাড়ের নরম কাদায় পুঁতে রাখা হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। কালচারাল সারভাইভালের লেখাতেও রং পাকা করতে সুতা নদীর কাদায় পোঁতার কথা আছে (Cultural Survival, 2025)। তবে প্রবন্ধটিই বলছে, আজকাল বেশিরভাগ সুতা বাজার থেকে কেনা হয়; লক্ষিসোনা চাকমাও বলেছেন এখন সুতা বাজারে পাওয়া যায়, তবে দাম একটু বেশি (বাংলাদেশ প্রতিদিন, 2017)। তুলা যে জুমের ফসল ছিল, তার প্রেক্ষাপট জুম চাষ নিয়ে আমাদের লেখায়।
আর আছে শরীরের হিসাব। রাঙাপানির জরিপে অংশ নেওয়া সবার মধ্যেই কোমরব্যথা ও মাইগ্রেনের মতো নানা নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে, এবং কিছু তাঁতি বয়সের সঙ্গে অতিরিক্ত শ্রমের কারণে নানা রোগে ভোগেন বলে গবেষকেরা লিখেছেন (IJHSSI 2022)। কোমর-তাঁতে টান ধরে রাখে যন্ত্র নয়, তাঁতির শরীর — মূল লেখায় এই দিকটি আরও বিস্তারে আছে।
পিনন বুনতে যেখানে সপ্তাহ লাগে, সেখানে কঠিন চীবর দানের চীবর তৈরি হয় 24 ঘণ্টার মধ্যে — তুলা থেকে চরকায় সুতা কাটা, রং করা, আগুনে শুকানো ও তাঁতে বোনা সবই এই সময়ে। এটি সম্ভব হয় কারণ কাজটি একজনের নয়: রাঙামাটির রাজবন বিহারে 2023 সালে প্রায় 200টি বেইন ও দেড় শতাধিক চরকায় 600-র বেশি দায়ক-দায়িকা এতে অংশ নেন (ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, 2023)।
ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী 48তম আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘বেইন ঘর’ উদ্বোধন ও চরকায় সুতা কাটার মধ্য দিয়ে কাজ শুরু হয়; রাতভর তুলা থেকে সুতা কেটে, রং করে আগুনে শুকিয়ে, শুক্রবার ভোর 6টা থেকে বেলা 11টা পর্যন্ত চলে বুনন; দুপুরে চীবর দান করা হয়। বাসসের প্রতিবেদনও 24 ঘণ্টায় প্রস্তুত চীবর উৎসর্গের কথা বলেছে (বাসস, 24 নভেম্বর 2023)।
সংখ্যাটি বছরভেদে বদলায়। বাংলা ট্রিবিউনের 2018 সালের প্রতিবেদনে 45তম আয়োজনে 130টি বেইনে অন্তত 520 জন নারী কর্মীর অংশগ্রহণের কথা আছে; সুতা লাগানো, সিদ্ধ করা, রং, শুকানো, ‘তুম করা’, ‘নলী করা’ ও ‘বেইন টানা’র কাজে আরও শতাধিক পুরুষ কর্মী যুক্ত ছিলেন (বাংলা ট্রিবিউন, 16 নভেম্বর 2018)। অর্থাৎ ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী চীবরের কাজে বেইন টানাসহ প্রস্তুতির কয়েকটি ধাপে পুরুষ কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন।
মাহবুব ও সহগবেষকেরা লিখেছেন, কঠিন চীবর দানের উপলক্ষে এখনো প্রথাগতভাবে তুলা তুলে সুতা কেটে কাপড় বোনা হয়, এবং এ সবই ঘটে 24 ঘণ্টার মধ্যে, নারীরা দলে দলে কাপড়ের চারপাশে কাজ করেন (Mahbub ও অন্যান্য 2021)। ডেইলি স্টারের 2010 সালের বই-সমালোচনায় এটিকে এমন এক উপলক্ষ বলা হয়েছে “যখন চাকমা তাঁতিরা সারারাত কাজ করেন” (The Daily Star, 2010)।
এই প্রথার আধুনিক রূপের সূচনা নিয়ে মঞ্জুলিকা চাকমাকে নিয়ে আমাদের আর্কাইভের লেখায় (হিলবিডি২৪-এর বরাতে) বলা হয়েছে, কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে তন্তুগুচ্ছকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে “এক রাতের মধ্যে” সেই বস্ত্র বয়নে তিনিই দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, এবং “সেই থেকে প্রতি বছর রাজবন বিহারে” এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের 2019 সালের প্রতিবেদনে এই রীতিকে গৌতম বুদ্ধের সময়ে বিশাখার প্রবর্তিত প্রথার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে (TBS, 8 নভেম্বর 2019)।
একটি চীবর ঠিক কতগুলো বেইনের কাপড় জুড়ে তৈরি হয়, বা প্রতিটি বেইনে কতটা কাপড় ওঠে, তা কোনো প্রতিবেদনে বলা নেই।
কোমর তাঁত কেবল চাকমাদের নয়। বান্দরবানের জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া ইসলামের বরাতে ঢাকা পোস্ট লিখেছে, জেলার মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, বম, খুমী, লুসাই, পাংখোয়া, চাক, খেয়াং ও মুরং — 11টি জনগোষ্ঠীই কোমর তাঁতে কাপড় বোনে; আর জেলা কুটিরশিল্প সংস্থার মতে বান্দরবানে প্রায় 10 হাজার নারী এ কাজে যুক্ত (ঢাকা পোস্ট, 7 নভেম্বর 2021)।
একই প্রতিবেদনে সময়ের দুটি হিসাব আছে, দুটোই থামির: ফারুকপাড়ার কোমরতাঁত শিল্পী লিমা বম বলেছেন একটি থামির কাজ শেষ হতে 4 থেকে 7 দিন লাগে, আর নু মার্মা বলেছেন একটি থামি বুনতে সাত দিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী কাপড় বুনে একজন নারী মাসে সাত থেকে দশ হাজার টাকা আয় করেন বলে জানা গেছে, আর এখনো কাপড় বোনার জন্য বাঁশ ও কাঠের নিজস্ব প্রযুক্তিই ব্যবহার হয়।
এই সংখ্যাগুলো পিননের সংখ্যার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না — থামি আলাদা পোশাক, আর মারমা বা বম তাঁতের গঠন চাকমা বেইনের মতো কি না, তা এই প্রতিবেদন বলেনি। মারমা পোশাকের অংশগুলো নিয়ে মারমা থামি ও আংগি, ম্রো ও বম বস্ত্র নিয়ে ওয়ানক্লাই ও কোমরতাঁত, আর তঞ্চঙ্গ্যা পিনুইন নিয়ে তঞ্চঙ্গ্যা পোশাকের স্বাতন্ত্র্য দেখতে পারেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য লেখা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায় একসঙ্গে আছে।
বেইন একটি পিঠ-বন্ধনী তাঁত। টানা সুতার এক প্রান্ত বাঁশের দণ্ডে বেঁধে খুঁটি বা গাছে আটকানো হয়, অন্য প্রান্তের দণ্ড চামড়ার ফিতায় তাঁতির কোমরে বাঁধা থাকে। তাঁতি পেছনে হেলে টান রাখেন, পা ঠেকান একটি দণ্ডে। গোল বাঁশ ajaju সুতা তুলে ফাঁক খোলে, ফাঁকে মাকু যায়, আর কাঠের চ্যাপ্টা বিয়োঙ দিয়ে প্রতিটি পোড়েন ঠোকা হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
উৎসভেদে হিসাব আলাদা। রাঙাপানি গ্রামের 75টি তাঁতি পরিবারের জরিপে (IJHSSI 2022) একটি পূর্ণ পিনন সেটে 3 থেকে 4 সপ্তাহ, তার বাইরে রং করতে 1 থেকে দেড় সপ্তাহ। দ্য ডেইলি স্টার (2025) সাধারণ সেটে প্রায় এক মাস বলেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে তাঁতি লক্ষিসোনা চাকমা (2017) এক জোড়া পিনন-হাদিতে 10–15 দিন আর বেলপুদি চাকমা (2021) 15 দিন বলেছেন।
রাঙামাটির দুই তাঁতির কথায়, 10 থেকে 15 দিন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের 17 মে 2017-এর প্রতিবেদনে কোমর তাঁতি লক্ষিসোনা চাকমা বলেছেন একজন নারীর এক জোড়া পিনন-হাদি তৈরিতে দশ থেকে পনের দিন লাগে। 26 এপ্রিল 2021-এর প্রতিবেদনে রাঙাপানির বেলপুদি চাকমা বলেছেন 15 দিন, কারণ কাজটি পুরোপুরি হাতে, কোনো মেশিনে নয়।
বাংলাপিডিয়া ও মাহবুব ও সহগবেষকদের 2021 সালের প্রবন্ধ — দুটিই বলে বারোটি প্রধান অংশ, প্রায় সবই বাঁশ ও ছাও সুপারি গাছের কাঠে তৈরি। তবে ওই প্রবন্ধের ছকে 14টি অংশের নাম ও কাজ আছে, আর জুমজার্নালের আর্কাইভের “চাকমা জাতি” লেখায় সজপদর নামে 19টি সরঞ্জামের নাম আছে (তালিকা “ইত্যাদি” দিয়ে শেষ), কাজের বিবরণ ছাড়া।
বিয়োঙ শক্ত কাঠের চ্যাপ্টা লম্বা পাত — আগে ছাও সুপারি (বুনো সুপারি) গাছের কাঠে তৈরি হতো, এখন অন্য শক্ত কাঠে। এটি ফাঁকের ভেতর খাড়া করে বসিয়ে উপরের ও নিচের টানা সুতা আলাদা রাখা হয়, আর প্রতিবার মাকু পার হওয়ার পর এর ধার দিয়ে নতুন সুতা ঠুকে বসানো হয়। এক মাথা গোল, অন্য মাথা সূচালো (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
তাঁতে বসানোর আগে টানা সুতা সাজানোর ধাপকে বাংলায় তানা দেওয়া আর চাকমায় bain bajat বলে। মাটিতে কয়েকটি বাঁশ পুঁতে, দুই প্রান্তের bainokhuda এবং lablebi ও siyong ঘিরে একসঙ্গে দুটি করে সুতা পেঁচানো হয়। তানা তৈরি হলে পুরোটা তুলে এনে তাঁতের দুই দণ্ডে বসানো হয় (Mahbub ও অন্যান্য 2021)।
সাধারণ বুননের কাঠির বাইরে কয়েকটি আলাদা কাঠি লাগে। Mahbub ও সহগবেষকদের (2021) বিবরণে phulo biyong দিয়ে নকশার সুতা গোনা হয়, phulo suchok নকশার জন্য টানা সুতার ভেতর দিয়ে ঢোকানো হয়, ব-কাদি পাড়ের নকশার সুতা আলাদা করে, আর জটিল নকশায় কুদুক কাদাক সুতা কাছে টেনে আনে। কোন নকশা তুলতে হবে, তাঁতি দেখেন আলাম থেকে।
একসঙ্গে বহু বেইন চালিয়ে। রাঙামাটির রাজবন বিহারে 2023 সালে প্রায় 200টি বেইন ও দেড় শতাধিক চরকায় 600-র বেশি দায়ক-দায়িকা অংশ নেন (ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা)। রাতভর তুলা থেকে সুতা কেটে, রং করে আগুনে শুকিয়ে, ভোর 6টা থেকে বেলা 11টা পর্যন্ত বুনন চলে। 2018 সালে ছিল 130টি বেইনে অন্তত 520 জন নারী (বাংলা ট্রিবিউন)।
ঢাকা পোস্টের 7 নভেম্বর 2021-এর প্রতিবেদনে বান্দরবানের দুই তাঁতির হিসাব আছে। ফারুকপাড়ার লিমা বম বলেছেন একটি থামির কাজ শেষ হতে 4 থেকে 7 দিন লাগে, আর নু মার্মা বলেছেন একটি থামি বুনতে সাত দিন। একই প্রতিবেদনে জেলা কুটিরশিল্প সংস্থার বরাতে বান্দরবানে প্রায় 10 হাজার নারী কোমর তাঁতে যুক্ত বলে উল্লেখ আছে।
বেইনের কোনো স্থির কাঠামো নেই: টানা সুতার টান ধরে রাখে তাঁতির শরীর, এক প্রান্ত খুঁটিতে আর অন্য প্রান্ত কোমরের ফিতায়। Strong Backs, Magic Fingers (2010) বইয়ের সমালোচনায় দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, থ্রো-শাটল ও ফ্লাই-শাটল তাঁতের তুলনায় পিঠ-বন্ধনী বুনন আঁটসাঁট, পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। সাধারণভাবে এই তাঁতে কাপড়ের প্রস্থ তাঁতির হাতের নাগালে সীমিত (Wikipedia, Loom)।
রাঙামাটির রাঙাপানি গ্রামের জরিপ (IJHSSI 2022) অনুযায়ী রং করার প্রক্রিয়া শেষ হতে 1 থেকে দেড় সপ্তাহ লাগে, যা বোনার 3–4 সপ্তাহের বাইরে। গবেষকেরা রং করাকে কাপড় তৈরির প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেছেন। Mahbub ও সহগবেষকদের (2021) বিবরণে নীল রঙের জন্য নীলপাতা দুই দিন পানিতে ভেজানো হয়।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 23 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী নারী, চাকমা, রাঙামাটি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।