Jumjournal Logo

তঞ্চঙ্গ্যা পোশাকের স্বাতন্ত্র্য: পিনুইন, ফারদ্দরী ও গসার ভাগ

Last updated Oct 6th, 2026

0

পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এক তঞ্চঙ্গ্যা তরুণী — মাথায় সাদা খবং, গায়ে ফুল-হাতা সাদা কোবোই সালুম, কোমরে ঝালরওয়ালা সাদা ফারদ্দরী বাঁধা, নিচে লাল ডোরার পিনুইন; গলায় রূপার মুদ্রার কয়েক ছড়া মালা, কানে বড় দুল, হাতে চুড়ি

জুমজার্নালের আর্কাইভে তঞ্চঙ্গ্যা পোশাক নিয়ে একটি ছক আছে, যেটি প্রথম দেখায় বিভ্রান্তিকর মনে হয়। সাতটি গসার (গোত্র) নামের পাশে সাতটি আলাদা পোশাকের তালিকা — কারওয়া গসার নারীরা পরেন এক রকম, মুঅ গসার আরেক রকম, মেলং গসার আরেক রকম।

কিন্তু ছকটা মন দিয়ে পড়লে দেখা যায়, বদলাচ্ছে কেবল অনুষঙ্গ — মাথার খবং, কোমরের ফারদ্দরী, ব্লাউজ না কোবোই সালুম, সাদা না কালো। আর্কাইভের নিজের বাক্যেই সিদ্ধান্তটা লেখা:

“…মাথার খবং (পাগড়ি), ফারদ্দরী (কোমর বন্ধনী), ব্লাউজ বা কোবােই সালুম ভিন্ন ডিজাইনের হলেও পিনুইন ও খাদি সকল গসার মহিলাদের অবশ্যই একই রকম ডিজাইনের হয়ে থাকে।”

অর্থাৎ পোশাকের ভেতরে দুটি স্তর — একটি গোত্র চেনায়, আরেকটি জাতি চেনায়। এই লেখাটি সেই দ্বিতীয় স্তরটা নিয়ে।

কোমর-তাঁতে কাপড় বোনার প্রক্রিয়াটি আলাদা লেখায় আছে — পিনন হাদি ও বেইন।

পাঁচ পরত: তঞ্চঙ্গ্যা নারীর পোশাকে কী কী থাকে

বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে তঞ্চঙ্গ্যা নারীর পুরো পোশাকটির একটি সমষ্টিগত নাম দেওয়া আছে — পাইত্‌ কাবর্‌। তার ভেতরে যা যা থাকে:

নামকী
পিনুইন (পিনোইন, পিনন)নিম্নাংশের কাপড়, সাত রঙের
খাদিবক্ষবন্ধনী; কোনো কোনো গসায় ‘ফুল খাদি’
কোবোই সালুম (কেবোই)ঊর্ধ্বাঙ্গের জামা — বাংলাপিডিয়ায় “ফুল-হাতা”, কাঁধে ও হাতার প্রান্তে নানা রঙের ফুলের কাজ
ফারদ্দরী (ফারর দুরি, ফাদুরী, ফাদুই)কোমরের বন্ধনী — বাংলাপিডিয়ায় সাদা, ফুলের কাজ করা
খবংমাথার পাগড়ি; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী চুলের অলংকার ও চেইন দিয়ে আটকানো হয়

পাঁচটি অংশ — অথচ চাকমা তালিকায় সাধারণত দুটির কথাই আসে, পিনোন আর খাদি। বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে বলা হয়েছে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তঞ্চঙ্গ্যা নারীরাই সবচেয়ে বেশি পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার ব্যবহার করেন। ছকটা সেই দাবির সঙ্গে মেলে।

পুরুষের পোশাক নিয়ে বিবরণ সংক্ষিপ্ত এবং সব উৎসেই প্রায় একই: ধুতি ও লম্বা হাতার জামা। বাংলা উইকিপিডিয়ায় ‘জামা ও সাদা শার্ট’।

কারা পরেন, সেই হিসাবটাও ছোট। বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে আদমশুমারির ধারাটি দেওয়া আছে — ১৯৯১ সালে ২১,০৫৭; ২০০১-এ ৩১,১৬৪; ২০১১-তে ৪৪,২৫৪; ২০২২-এ ৪৫,৯৭২। বাংলাপিডিয়ার নিবন্ধ অনুযায়ী তঞ্চঙ্গ্যাদের বসবাস রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ছাড়াও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। অর্থাৎ পোশাকটির চর্চা তিন পার্বত্য জেলার বাইরেও ছড়ানো।

বোনার সরঞ্জাম। আর্কাইভে তঞ্চঙ্গ্যাদের বুননের যন্ত্রপাতির একটি আলাদা তালিকা আছে — ব্যং থুরচুমা, বগলা, সাম্মেয়া, ফুলবারেং, তলই। চাকমাদের বেইনের সরঞ্জামকে যেমন বলা হয় সজপদর, এখানেও সেভাবে নাম ধরে ধরে অংশগুলোর তালিকা — যদিও কোনটি কী কাজে লাগে, তা লেখা নেই।

তঞ্চঙ্গ্যা জাতিসত্তার আত্মপরিচয়
তঞ্চঙ্গ্যা জাতিসত্তার আত্মপরিচয়। ছবি: জুমজার্নাল আর্কাইভ

সাত রঙের পিনুইন: নকশাটা কেমন

পিনুইনের বর্ণনায় দুটি বাইরের উৎস প্রায় একই কথা বলে, আর সেটিই এই পোশাকের সবচেয়ে নির্দিষ্ট পরিচয়।

বাংলাপিডিয়ায় দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যার নিবন্ধ অনুযায়ী পিনুইন সাত রঙের বোনা কাপড়: দুই প্রান্তে লম্বালম্বি কালো ডোরা, প্রান্তের কাছাকাছি লাল ডোরা, আর মাঝখানে মিশ্র রঙের ডোরা — সাদা ব্যবহার করা হয় খুব কম।

বাংলা উইকিপিডিয়ার বর্ণনাও একই ধাঁচের: দুই প্রান্তে লম্বালম্বি স্ট্রাইপ, মাঝের অংশে রঙের স্ট্রাইপ, আর সমগ্র পিনুইনজুড়ে বিভিন্ন রঙের সুতার স্ট্রাইপ।

রঙের এই বিন্যাসটির একটি উৎপত্তি-কাহিনি আর্কাইভে লেখা আছে। কাহিনি অনুযায়ী এক যুবক এমন এক বস্ত্র পেয়েছিল যেমন রঙের সুন্দর কাপড় তার জাতির লোকেরা তার আগে কোনোদিন দেখেনি; সেটি দেখে তারা বিশ্বাস করল সে রাজা হবে। পরে সত্যিই সে রাজা হয়, এবং রাজা হওয়ার পর “তার জাতির মহিলাদের মধ্যে সেই বস্ত্র কেটে বণ্টন করে দেয়”। আর্কাইভের ভাষায়, তখন থেকেই দৈনাক — অর্থাৎ আজকের তঞ্চঙ্গ্যা — নারীরা এমন নকশার পিনুইন পরার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

এটি একটি লোককাহিনি, ঐতিহাসিক বিবরণ নয়; আর্কাইভও একে সেভাবেই উপস্থাপন করেছে। তবে কাহিনির গঠনটি লক্ষ করার মতো — একটি কাপড় কেটে ভাগ করে দেওয়া, আর সেখান থেকেই সবার পোশাক এক হয়ে যাওয়া। গসা আলাদা হলেও পিনুইন কেন এক, কাহিনিটি যেন সেটিরই ব্যাখ্যা।

গসা ভেদে যা বদলায়, আর যা বদলায় না

আর্কাইভের ছকটি সাতটি গসার পোশাক আলাদা করে দেখায়:

গসাপোশাক
কারওয়াপিনুইন, খাদি, ফারর দুরি, খবং, সাদা কোবোই সালুম, রৌপ্য অলংকার
মুঅপিনুইন, ফুল খাদি, কালো কোবোই সালুম, ব্লাউজ, অলংকার
ধৈংনাপিনুইন, খাদি, ব্লাউজ, খবং, ফারর দুরি, অলংকার
মংগলাপিনুইন, খাদি, ব্লাউজ, অলংকার
মেলংপিনুইন, খাদি, ব্লাউজ, কালো কোবোই সালুম, খবং, অলংকার
লাংপিনুইন, খাদি, ব্লাউজ, খবং, অলংকার
অঙ্গাপিনুইন, খাদি, ব্লাউজ, খবং, অলংকার

ফারাকগুলো ছোট কিন্তু নিয়মিত — মংগলা গসায় খবং নেই, কারওয়ায় কোবোই সালুম সাদা, মুঅ ও মেলংয়ে কালো, মুঅ গসায় খাদিটি ‘ফুল খাদি’।

গসাগুলো কোথা থেকে এল, তারও একটি বিবরণ আর্কাইভে আছে। শ্রীরতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার ‘তঞ্চঙ্গ্যা জাতি’ গ্রন্থের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আরাকানে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দে দৈনাকরা চাপ্রেই ছেড়ে নাফ নদী পেরিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছান; তৎকালীন শাসনকর্তা জামাল উদ্দিন তাঁদের আলীকদমের তৈনগাঙ নদীর অববাহিকায় ১২টি গ্রামে বসবাসের অনুমতি দেন এবং ১২ জন গ্রামপ্রধান নিয়োগ করেন। ওই বারোটি গ্রামকে বলা হতো বারতালুক, আর সেখান থেকেই ১২টি গছা।

গসার সংখ্যা ও নাম নিয়ে অবশ্য উৎসে মিল নেই। আর্কাইভের পোশাক-ছকে সাতটি নাম; একই আর্কাইভের অন্য একটি লেখায় বারোটির তালিকা (দৈন্যা, মো, কারবয়া, মংলা, স্মেলং, ল্লাং, অঙ্য, তাসসি, রাঙ্যা…); বাংলাপিডিয়ায় আবার এগারোটি নাম, যার মধ্যে লাপুইসা, মুলিমা ও ওয়া গসা অন্য দুই তালিকায় নেই। বানানও প্রতিটি তালিকায় আলাদা — দৈন্যা/ধৈংনা, মো/মুঅ, কারবয়া/কারওয়া, মংলা/মংগলা।

রুপার অলংকার: ৪০ থেকে ৮০ তোলা

অলংকারের তালিকাটি আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়ায় প্রায় হুবহু মিলে যায় — যা এই লেখার সবচেয়ে ভালোভাবে যাচাই হওয়া অংশ।

কোথায়অলংকার
পায়েঠেঙর খাড়ু (মল)
কবজি ও কনুইয়েবেড়েইয়া খাড়ু / কুচি খাড়ু, বাঘোর, কিঞ্চিক, বাঙড়ী
বাহুতেতাজজোড় (বাজুবন্ধ)
কানেরাজজোড়, ঝংগা
গলায়চন্দ্রহার, হাঁসুলি (সিকিছড়া সংযুক্ত), রূপার টাকার ছড়া
খোঁপায়রূপার চুলের কাঁটা, সঙ্গে রূপার চেইন

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি ওজনের। আর্কাইভ অনুযায়ী পায়ের রূপার মল ৪০ থেকে ৬০ তোলা ওজনের হয়ে থাকে — “৮০ তোলা হতেও দেখা যায়”। এক তোলা মোটামুটি ১১.৬ গ্রাম ধরলে ৮০ তোলা দাঁড়ায় প্রায় ৯৩০ গ্রাম, অর্থাৎ দুই পায়ে মিলে প্রায় দুই কেজি রুপা। [যাচাই প্রয়োজন] — তোলার এই হিসাবটি আমাদের যোগ করা, উৎসে গ্রামের হিসাব দেওয়া নেই।

ধাতুর বদলটাও লেখা আছে সরাসরি: “পূর্বে রূপার অলঙ্কারই প্রচলিত ছিল। বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহৃত হওয়ায় পূর্বের রৌপ্য অলঙ্কারের বিলােপ ঘটতে আরম্ভ করেছে।”

জীবনের ধাপে পোশাক: পিনুইন পোই থেকে সামাইন ঘর

তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে পোশাক পরার শুরুটাই একটি অনুষ্ঠান।

শৈশবে। কন্যাসন্তানের পিনুইন ও খাদি পরার বয়স হলে অনেক বাবা-মা আনুষ্ঠানিকতার মানত করেন — প্রতিবেশীদের ভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলোর নাম আছে: পিনুইন পোই, খারি পোই, কানবেড়া পৌই (কানে ছিদ্র করে ‘রাজজুর’ পরানোর জন্য)। পুত্রসন্তানের বেলায় ধুতি পৌই — আনুষ্ঠানিকভাবে ধুতি পরানো।

বিয়েতে। বিয়ের কথা পাকা করার সময়েই কনের জন্য পোশাক ও অলংকার নিয়ে দাবি-দাওয়া ঠিক হয়। বিয়ের দিন বরের পেছনে একজন কিশোরী বা যুবতী মাথায় করে নিয়ে যান ফো কালং — আর্কাইভের ভাষায় “কনের জন্য নতুন পোশাক ও গহনাপত্রাদি ভর্তি একটি শিল্পসম্মত, কারুকার্যখচিত বেতের ঠুরুং”।

তারপরের ধাপটি বিশেষভাবে দেখার মতো। কনেকে ঘরের ভেতরে কাপড়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় (‘বৌ লুগানা’), আর ফো কালং থেকে সব পোশাক ও গহনা বের করে একটি কুলায় সাজিয়ে কনেপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয় — কথা পাকা করার সময় যা ঠিক হয়েছিল, ঠিক সেরকম হয়েছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করা হয়। কনেপক্ষ সন্তুষ্ট হলে তবেই বৌ সাজানোর অনুমতি মেলে।

অর্থাৎ পোশাকটি এখানে একটি চুক্তির শর্ত, এবং তা যাচাইযোগ্য।

মৃত্যুতে। আর্কাইভের বিবরণে মৃতদেহ স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরানো হয় — পুরুষ হলে ধুতি/লুঙ্গি/প্যান্ট ও জামা, নারী হলে পিনুইন, খাদি, ব্লাউজ বা কোবোই সালুম। তারপর বাঁশের ‘সামাইন ঘরে’ শায়িত করে সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। স্তরের সংখ্যাও লিঙ্গভেদে আলাদা — মৃত নারীর জন্য সাত স্তর, পুরুষের জন্য পাঁচ।

জন্ম থেকে চিতা পর্যন্ত — প্রতিটি ধাপেই পোশাকটি নাম ধরে উল্লিখিত।

চাকমা ও মারমার পাশে রাখলে

তিনটি জনগোষ্ঠীর নারীর পোশাক পাশাপাশি বসালে তফাতগুলো পরিষ্কার হয়:

অংশতঞ্চঙ্গ্যাচাকমামারমা
নিম্নাংশপিনুইন (সাত রঙ)পিনোনথবিং / থামি
বক্ষবন্ধনীখাদিখাদিরাংগাইত্‌
কোমরবন্ধনীফারদ্দরী (সাদা)—খাঃগ্রোঃ (রুপার)
মাথাখবংখবংগবং / খবং
ঊর্ধ্বাঙ্গকোবোই সালুম (ফুল-হাতা)—বেঃদাইত আঙ্গি

দুটো ব্যাপার চোখে পড়ে। এক, খাদি ও খবং — দুটি নামই চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যায় অভিন্ন, আর খবং মারমাদের কাছেও প্রায় একই (গবং)। তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমার নৈকট্য নিয়ে যে দীর্ঘ বিতর্ক আছে, পোশাকের শব্দভান্ডার সেই বিতর্কের একটি সাক্ষ্য — যদিও একমাত্র সাক্ষ্য নয়, আর এটি দিয়ে প্রশ্নটির মীমাংসাও হয় না।

দুই, ফারদ্দরী ও কোবোই সালুম — এই দুটিই তঞ্চঙ্গ্যা পোশাকের নিজস্ব সংযোজন, যেগুলোর সরাসরি প্রতিরূপ চাকমা তালিকায় নেই। “স্বাতন্ত্র্য” শব্দটির সবচেয়ে ধরা-ছোঁয়া যায় এমন উত্তর সম্ভবত এই দুটিই।

মারমা পোশাকের অংশগুলো নিয়ে আলাদা লেখা আছে মারমা থামি ও আংগি পোস্টে।

শেষ একটি কথা, যেটি এই তিনটি তালিকার কোনোটিতেই সরাসরি লেখা নেই কিন্তু তুলনা করলে বেরিয়ে আসে। মারমা ও চাকমা — দুই ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কথা উৎসে আছে: বার্মিজ প্রিন্টের থামি, ব্লাউজের প্রচলন, পুরুষের লুঙ্গি-শার্ট। তঞ্চঙ্গ্যা পোশাক নিয়ে আমাদের পড়া উৎসগুলোতে এমন কোনো পরিবর্তনের বিবরণ নেই — কেবল অলংকারের ধাতু বদলের কথাটুকু ছাড়া। তার মানে এই নয় যে বদল হয়নি; মানে হলো, বদলটা কেউ লিখে রাখেননি। পাঁচ অংশের পোশাকটি আজ কতটা প্রতিদিনের আর কতটা উৎসবের, সেটিও তাই একটি খোলা প্রশ্ন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • ‘সাত রঙ’ কোন সাতটি। বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া দুটোতেই সাত রঙের কথা আছে, কালো ও লাল ডোরার উল্লেখও আছে — কিন্তু সাতটি রঙের নাম কোনো উৎসে নেই। [যাচাই প্রয়োজন]
  • গসার সংখ্যা ও নাম। আর্কাইভের পোশাক-ছকে সাত, একই আর্কাইভের অন্য লেখায় বারো, বাংলাপিডিয়ায় এগারো — এবং তিন তালিকায় কয়েকটি নাম মেলে না। বারোটি গসার প্রামাণিক তালিকা আমরা কোথাও পাইনি।
  • বাকি গসাগুলোর পোশাক। ছকে সাতটি গসার পোশাক আছে; বাকিগুলোর কী, লেখা নেই।
  • ফারদ্দরীর গঠন। কত লম্বা, কীভাবে বাঁধা হয়, ফুলের কাজটি বোনা না সেলাই করা — কিছুই নেই।
  • দাম ও প্রাপ্যতা। আজ একটি পূর্ণ তঞ্চঙ্গ্যা পোশাক-সেটের দাম কত, কারা বুনছেন — কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন এই দফায় পাইনি। [যাচাই প্রয়োজন]
  • পোশাকে গসা-পরিচয় আজও মানা হয় কি না। ছকটি কোন সময়ের চর্চা বোঝায়, আর্কাইভে বলা নেই।

তথ্যসূত্র

  1. “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত” — পোশাক ও অলংকার অংশ, গসাভিত্তিক পোশাকের ছক, পিনুইনের উৎপত্তি-কাহিনি, জীবনচক্রের আচার, জুমজার্নাল আর্কাইভ — পড়ুন
  2. “তঞ্চঙ্গ্যা জাতিসত্তার আত্মপরিচয়” — বারতালুক ও ১২ গছার উৎপত্তি (উদ্ধৃত: শ্রীরতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, ‘তঞ্চঙ্গ্যা জাতি’), ফো কালং ও বিবাহের ধাপ, জুমজার্নাল আর্কাইভ — পড়ুন
  3. দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা, “তঞ্চঙ্গ্যা”, বাংলাপিডিয়া — পড়ুন
  4. “তঞ্চঙ্গ্যা”, বাংলা উইকিপিডিয়া — পড়ুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১১ আগস্ট ২০২৬

প্রসঙ্গ:তঞ্চঙ্গ্যা

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা