Last updated Oct 19th, 2026
3

কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আইনের কথা একটিই বাক্যে: তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(3) ধারা বলছে, এই জমি “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।” বাক্যটি 1997 সালের পার্বত্য চুক্তি থেকে 1998 সালে আইনে এসেছে। কিন্তু ‘মূল মালিক’ কারা, কে বন্দোবস্ত দেবেন, কোন পদ্ধতিতে — কোনো প্রকাশিত বিধিতে তা লেখা নেই, আর সরকারের নিজের নথিতেই ধারাটি ‘চলমান’।
শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি নামলে পাড় জুড়ে যে কাদা-বালুর জমি জেগে ওঠে, সেখানেই ধান, তরমুজ আর শীতের সবজি হয়। 1960-এর দশকে যাঁদের ধানি জমি এই হ্রদে ডুবেছিল, তাঁদের অনেকের কাছে এটুকুই পুরোনো জমির অবশিষ্ট। বাঁধের ইতিহাস, ডুবে যাওয়া জমির হিসাব আর উচ্ছেদের কথা আছে আমাদের আলাদা লেখা কাপ্তাই বাঁধ: কবে, কারা বানাল, কত জমি ডুবল-এ। এই লেখার প্রশ্ন সংকীর্ণ: ডুবে যাওয়া জমির যে অংশ বছরে কয়েক মাস ভেসে ওঠে, আইন তার ব্যাপারে কী বলে, আর সেই আইন কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে — নামসহ প্রতিবেদন ধরে।
এই লেখায় যা আছে
জলেভাসা জমি (ইংরেজিতে fringe land) হলো কাপ্তাই হ্রদের সেই অংশ, যা বর্ষায় পানির নিচে থাকে আর শুকনো মৌসুমে পানি নেমে গেলে জেগে ওঠে। কাপেং ফাউন্ডেশনের 2011 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন একে বলেছে “those categories of lands which reappear when the Kaptai lake water recedes” — হ্রদের পানি সরে গেলে যে জমি আবার দেখা দেয়।
লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে 2003 সালে জমা দেওয়া Shafiqur Rahman Khan-এর স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ আরও খুঁটিনাটি দেয়: পাহাড়ে চাষের জমির মধ্যে সবচেয়ে দামি সমতল ধানি জমি (ploughland), তার পরেই জলেভাসা জমি। শুকনো মৌসুমে কর্ণফুলী জলাধারের অগভীর তলা থেকে এগুলো ওঠে, আর পানির স্তর ঠিক সময়ে না উঠলে-নামলে এখানে এক ফসল ভেজা-ধান চাষের জন্য জমিগুলো “ideally suited”।
এই জমি কোথায় পড়ে? পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) জন্য জুলাই 2022-এ যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে, তাতে লেখা: কাপ্তাই হ্রদের তীরে, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে জলেভাসা জমি পাওয়া যায়, যা বর্ষায় ডুবে থাকে আর পানি সরলে তবেই চাষ করা যায়। একই নথি জানায়, শুকনো মৌসুমের এই জমিতে সেচের উচ্চফলনশীল বা হাইব্রিড ধান, তরমুজ আর শীতের সবজি হয়।
শব্দটি নিয়ে একটি বিভ্রান্তি আগেই সরিয়ে রাখা দরকার। কিছু লেখায় বাঁধে ডুবে যাওয়া পুরো 54,000 একর জমিকেই ‘fringe land’ বলা হয়েছে — যেমন জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের ই-জার্নালে ডিসেম্বর 2024-এ প্রকাশিত Mostakim Bin Motaher ও Md. Farhan Intisher Khaled-এর প্রবন্ধে বাঁধ “flooded 40% (54,000 acres) of fringe land for plough agriculture”। আইন ও উপরের অন্য উৎসগুলোতে জলেভাসা জমি অনেক ছোট একটি অংশ: স্থায়ীভাবে ডোবা জমি নয়, বছরে কয়েক মাসের জন্য জেগে ওঠা পাড়। ডুবে যাওয়া জমির মোট পরিমাণ নিয়েও উৎসে অমিল আছে: জনসংহতি সমিতির কাপ্তাই বাঁধ পাতা বলছে সেরা আবাদি জমির 54%, আর ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও অনেক লেখা বলছে মোট আবাদি জমির 40%।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 64 ধারার শিরোনাম “ভূমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান”। তার 3 উপধারায় পুরো বিধানটি এক বাক্যের। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ আইনের 64(3) ধারাতেও হুবহু একই বাক্য। আইনটি ধারাটিকে কোনো শর্ত, সময়সীমা বা পদ্ধতির সঙ্গে জোড়েনি।
“(৩) কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি (Fringe land) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে৷”
— খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989, ধারা 64(3); রাঙ্গামাটির আইনে একই বাক্য
সরকারি আইন-ওয়েবসাইট bdlaws-এ রাঙ্গামাটির আইনের 64 ধারা খুললে বন্ধনীর ভেতরের ইংরেজি শব্দ দুটি দেখা যায় “(ঋত্রহমব ষধহফ)” হিসেবে — বিজয় ফন্ট থেকে ইউনিকোডে রূপান্তরের সময় ‘Fringe land’ ভেঙে বাংলা অক্ষর হয়ে গেছে। একই ধারার শর্তাংশে ‘রক্ষিত (Reserved)’ শব্দও ভেঙে “রতিগত (জবংবত্াবফ)” হয়েছে। আমাদের আর্কাইভে রাখা রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের পূর্ণ পাঠেও একই ভাঙা রূপ আছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের আইনের পাঠে শব্দ দুটি ঠিকঠাক “(Fringe land)”। অর্থে কোনো পার্থক্য নেই; কিন্তু কেউ রাঙ্গামাটির সরকারি পাঠ থেকে উদ্ধৃত করলে এই ভাঙা অক্ষর চোখে পড়বে।
64 ধারার বাকি অংশ পাশে রেখে পড়লে বিধানটির জায়গা বোঝা যায়। 64(1)(ক) বলছে, জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যেকোনো জায়গা-জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে শর্তাংশে পাঁচ ধরনের জমিকে এর বাইরে রাখা হয়েছে: রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা, আর সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমি। 64(1)(খ) পরিষদের আওতাধীন জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সম্মতি ছাড়া সরকারের অধিগ্রহণ নিষেধ করে। 64(2) হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাজ পরিষদের তত্ত্বাবধানে দেয়। তারপর আসে 64(3)।
অর্থাৎ একই ধারায় দুটি বিধান পাশাপাশি: একটি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাকে পরিষদের অনুমোদনের শর্ত থেকে বাদ দেয়, অন্যটি কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমিকে আলাদা করে মূল মালিকদের অগ্রাধিকারের আওতায় আনে। জলেভাসা জমি ‘কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা’-র অংশ কি না — আইনে সংজ্ঞা নেই, আর এ নিয়ে কোনো আদালতের ব্যাখ্যা বা সরকারি প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদের সার্বিক ভূমি-ক্ষমতার আলোচনা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।
জলেভাসা জমির বিধান তিন ধাপে আইনে এসেছে: 1989 সালের মূল আইনে ছিল না; 2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চুক্তিতে প্রথম লেখা হলো; আর 1998 সালের তিনটি সংশোধনী আইন 64 ধারা পুরো বদলে দিয়ে বাক্যটিকে আইনে বসাল। প্রতিটি ধাপ নথিতে পাওয়া যায়, তবে 1989-এর মূল ধারার পূর্ণ পাঠ এই লেখার উৎসগুলোতে নেই।
1989: রাঙ্গামাটি (1989 সনের 19 নং), খাগড়াছড়ি (20 নং) ও বান্দরবান (21 নং) পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন একই দিনে, 6 মার্চ 1989 তারিখে প্রণীত। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রক ইনস্টিটিউটের Peace Accords Matrix মূল 64 ধারার যে অংশ উদ্ধৃত করেছে, তাতে জেলার জমি পরিষদের অনুমোদন ছাড়া বন্দোবস্ত দেওয়া যেত না এবং বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ছিল। উদ্ধৃত অংশে জলেভাসা জমির কোনো উল্লেখ নেই।
1997: চুক্তির খ খণ্ড জেলা পরিষদ আইনের ধারা ধরে ধরে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর 26 নম্বর দফা বলে 64 ধারা নতুন করে লেখা হবে, আর সেই নতুন ধারার চারটি অংশের শেষটি:
“ঘ) কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।”
— পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 2 ডিসেম্বর 1997, খ খণ্ড, দফা 26(ঘ)
একই চুক্তির ঘ খণ্ডের 4 নম্বর দফায় ভূমি কমিশনের কথা: অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া জমির মালিকানা বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের থাকবে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না, আর শেষ বাক্য “ফ্রিঞ্জল্যান্ড (জলেভাসা জমি) এর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে।” অর্থাৎ চুক্তি জলেভাসা জমিকে দুই জায়গায় ধরেছে — জেলা পরিষদের বন্দোবস্ত-ক্ষমতায়, আর ভূমি কমিশনের বিরোধ-নিষ্পত্তিতে। চুক্তির পূর্ণ পাঠ আর প্রতিটি দফার বাস্তবায়নের হিসাব আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে লেখায়।
1998: bdlaws-এর পাদটীকা অনুযায়ী রাঙ্গামাটির আইনের 64 ধারা “রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৮ (১৯৯৮ সনের ৯ নং আইন) এর ২৯ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত”। খাগড়াছড়ির 64 ধারা প্রতিস্থাপিত হয় 1998 সনের 10 নং আইনের 29 ধারায়, বান্দরবানেরটি 1998 সনের 11 নং আইনের 28 ধারায়। ‘প্রতিস্থাপিত’ মানে পুরোনো ধারা বাদ দিয়ে নতুন ধারা বসানো — তাই 64(3)-এর জন্মতারিখ 1998, 1989 নয়। চুক্তির খ-2 দফায় পরিষদের নাম থেকে ‘স্থানীয় সরকার’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথা ছিল; আইনগুলোর বর্তমান শিরোনামে শব্দ দুটি নেই।
চুক্তির খসড়া আর আইনের পাঠে একটি ছোট পার্থক্য আছে: চুক্তিতে ‘জলেভাসা জমি’ এক শব্দে, আইনে ‘জলে ভাসা জমি’ দুই শব্দে আর বন্ধনীতে ইংরেজি ‘Fringe land’। আর চুক্তির ‘দেওয়া হইবে’ আইনেও ‘দেওয়া হইবে’ — বাধ্যতামূলক ভাষা, ‘দেওয়া যাইবে’ নয়।
জলেভাসা জমি নিয়ে বাংলাদেশের আইন ও চুক্তিতে চারটি জায়গায় কথা আছে। নিচের ছকে প্রতিটির তারিখ, ধারা আর মূল কথা পাশাপাশি রাখা হলো, যাতে কোন দলিল কী বলে আর কী বলে না তা এক নজরে দেখা যায়।
| দলিল | তারিখ | ধারা | জলেভাসা জমি নিয়ে কী বলে |
|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি | 2 ডিসেম্বর 1997 | খ-26(ঘ) | অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল মালিকদের বন্দোবস্ত দেওয়া হবে |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি | 2 ডিসেম্বর 1997 | ঘ-4 | অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলে ভূমি কমিশনের ক্ষমতা জলেভাসা জমিতেও প্রযোজ্য |
| তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন (1998 সনের 9, 10, 11 নং আইনে সংশোধিত) | 1998 | 64(3) | অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল মালিকদের বন্দোবস্ত দেওয়া হবে — চুক্তির বাক্যই |
| ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (2001 সনের 53 নং আইন) | 17 জুলাই 2001 | 2(ঝ) | ‘ভূমি’ বলতে পার্বত্য জেলাধীন পাহাড় এবং জলে ভাসাসহ সমুদয় জমি |
| ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন (2016 সনের 45 নং আইন) | 2016 | 6(1)(গ) প্রতিস্থাপিত | প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতির বাইরে দেওয়া জলেভাসা ভূমিসহ বন্দোবস্ত বাতিল; কাপ্তাই প্রকল্প এলাকার ব্যতিক্রম থেকে বসতবাড়িসহ জলেভাসা ভূমি বাদ |
ছকে একটি জিনিস লক্ষ করার মতো: চারটি দলিলের কোনোটিই বলে না বন্দোবস্ত কে দেবেন — জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, নাকি হেডম্যান — কত বছরের জন্য, কোন খাজনায়। 64(3) একটি অঙ্গীকার; প্রয়োগের পদ্ধতি তার সঙ্গে লেখা হয়নি।
বাংলা পাঠে শব্দটি সব জায়গায় ‘বন্দোবস্ত’, কিন্তু চুক্তির প্রচলিত ইংরেজি অনুবাদগুলোর একটি একে ‘lease’ বলেছে। পার্বত্য ভূমি-ব্যবস্থায় স্থায়ী বন্দোবস্ত আর এক বছরের ইজারা দুটি আলাদা জিনিস, তাই এই পার্থক্য কেবল অনুবাদের প্রশ্ন নয়।
| ইংরেজি পাঠ | খ-26(ঘ)-এর বাক্য |
|---|---|
| জাতিসংঘ Peacemaker সাইটের চুক্তির পাঠ | “Fringe land in Kaptai Lake shall be given settlement on priority basis to original owners.” |
| জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটের চুক্তির পাঠ | “The reclaimed fringe lands of Kaptai Lake shall be leased out on priority basis to the original owners.” |
| জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটের জেলা পরিষদ আইনের ইংরেজি পাঠ | “(3) Fringe land in Kaptai lake shall be settled with the original owners on the priority basis.” |
কাপেং ফাউন্ডেশনের 2009-2010 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন চুক্তি উদ্ধৃত করতে গিয়ে ‘leased out’ পাঠটিই ব্যবহার করেছে। আইনের বাংলা পাঠই আইনগতভাবে প্রামাণ্য, আর সেখানে শব্দ ‘বন্দোবস্ত’। তবে বাস্তবে জলেভাসা জমি যেভাবে চাষে যায় — নিচের ‘বাস্তবে’ অংশে যেমন দেখা যাবে — তা এক বছরের ইজারার কাছাকাছি।
64(3)-এর কেন্দ্রীয় শব্দ ‘মূল মালিক’, অথচ কোনো আইনে এর সংজ্ঞা নেই। তিন জেলা পরিষদ আইনের 2 ধারায় ‘অ-উপজাতীয়’, ‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’ ইত্যাদির সংজ্ঞা আছে, ‘মূল মালিক’-এর নেই। ভূমি কমিশন আইনের 2 ধারা ‘ভূমি’, ‘প্রচলিত আইন’, ‘পুনর্বাসিত শরণার্থী’ সংজ্ঞায়িত করে, ‘মূল মালিক’ নয়।
শব্দটির অন্তত তিনটি সম্ভাব্য পাঠ আছে, আর প্রতিটিতে আলাদা মানুষ অগ্রাধিকার পান: (১) 1960-এর দশকে বাঁধে যাঁদের রেকর্ডভুক্ত জমি ডুবেছিল, (২) তাঁদের উত্তরাধিকারী, (৩) হ্রদ হওয়ার পর থেকে যে পরিবার নির্দিষ্ট একটি জলেভাসা খণ্ড চাষ করে আসছে। কোন পাঠ প্রযোজ্য, তা ঠিক করার মতো কোনো বিধিমালা, পরিপত্র বা আদালতের রায় প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
রেকর্ডের দিকটিও জটিল। আমাদের আর্কাইভে প্রিয় কুমার চাকমা চিজির লেখা বড়পরঙঃ মানবিক বিপর্যয়ের একটি বাস্তব চিত্র জানায়, বাঁধের খবর আসার পর গ্রামবাসী কী করবেন, কোথায় যাবেন — সে পরামর্শ দিনরাত চাইতেন তাঁর নানা, প্রয়াত হেডম্যান পূর্ণ মোহন চাকমার কাছে। আর গৌতম কুমার চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা (কেদাকতুক বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু সংকলন, 2012) অনুযায়ী 1940 নাগাদ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সব চাষযোগ্য সমতল জমি পাহাড়ি ও পুরোনো বাঙালি বাসিন্দাদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছিল। ডুবে যাওয়া জমির সেই পুরোনো রেকর্ড আজ জলেভাসা খণ্ডের সঙ্গে মেলানো হয়েছে কি না, কোনো প্রকাশিত নথিতে তা নেই।
চুক্তির ঘ-4 দফা ভূমি কমিশনের ক্ষমতা জলেভাসা জমিতেও প্রযোজ্য বলেছিল, কিন্তু 2001 সালের আইনে সে কথা কার্যত ঢোকেনি। পনেরো বছর দরকষাকষির পর 2016 সালের সংশোধনী জলেভাসা জমিকে নাম ধরে কমিশনের আওতায় আনে। এই অংশে সেই ধাপগুলো তারিখসহ। 2016 সালের সংশোধনীর প্রতিটি ধারার বিশ্লেষণ আছে আমাদের আলাদা লেখা ভূমি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৬: ২০০১ সালের আইনের কোন ধারা কীভাবে বদলেছিল-এ।
2001-এর আইন: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001 (2001 সনের 53 নং আইন, 17 জুলাই 2001) ‘ভূমি’-র সংজ্ঞায় শুরু থেকেই জলেভাসা জমি রেখেছে: 2(ঝ) ধারা — “‘ভূমি’ বলিতে পার্বত্য জেলাধীন পাহাড় এবং জলে ভাসাসহ সমুদয় জমি বুঝাইবে”। কিন্তু মঙ্গল কুমার চাকমার 2012 সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী মূল 6(1)(গ) ধারায় কেবল “পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন বহির্ভূতভাবে কোন বন্দোবস্ত প্রদান করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ”-এর কথা ছিল, আর তার শর্তাংশ রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকাকে পুরোপুরি বাদ দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “২০০১ সালে প্রণীত ভূমি কমিশন আইনে ফ্রীঞ্জল্যান্ড (জলেভাসা জমি) সংক্রান্ত বিরোধগুলো বাদ দেয়া হয়েছে।” তাঁর মতে চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত ছিল না।
2001–2003, আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশ: কাপেং ফাউন্ডেশনের 2009-2010 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ 2001 সালে আইনের চুক্তি-বিরোধী ধারাগুলো সংশোধনের জন্য 19 দফা সুপারিশ দেয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বৈঠকে 18টিতে ঐকমত্য হয়; প্রতিবেদনের ভাষায় একমাত্র যে সুপারিশে সরকার রাজি হয়নি, সেটি ছিল “settlement of land dispute relating to fringe-land of the Kaptai Lake”। আঞ্চলিক পরিষদ এপ্রিল 2002-এ এ বিষয়ে আবার সুপারিশ দেয়, আর 23 এপ্রিল 2003-এর বৈঠকে সেটিতেও ঐকমত্য হয়; আইন মন্ত্রণালয় খসড়া যাচাইও করে — “But then there was no further progress.”
2012–2013: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন-নথি অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ আইনের 23টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছিল; বৈঠকগুলোর পর 13টি ধারা সংশোধনের চূড়ান্ত বিল 25/06/2012 তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, আর 27/05/2013 তারিখে মন্ত্রিসভা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, 2013-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করে। সেটি তখন আইন হয়নি।
2016: মঙ্গল কুমার চাকমার 13 আগস্ট 2016-এর লেখা অনুযায়ী 9 আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, 2016-এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়; একই লেখা জানায় পাঁচটি বাঙালি সংগঠন সংশোধিত আইন বাতিলের দাবিতে 10–11 আগস্ট হরতাল ডাকে, তাদের দাবি ছিল নতুন আইনে বাঙালিরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবেন। বাংলা ট্রিবিউনের 3 অক্টোবর 2016-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন মন্ত্রিসভা অধ্যাদেশটিকে আইন আকারে পাসের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। bdlaws-এ সংশোধনীটি 2016 সনের 45 নং আইন।
সংশোধিত 6(1)(গ) ধারা এখন এভাবে পড়ে:
“(গ) পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে জলেভাসা ভূমিসহ (Fringe Land) কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং বন্দোবস্তজনিত বা বেদখলজনিত কারণে কোনো বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল:
তবে শর্ত থাকে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভূমি এবং বসতবাড়ীসহ জলেভাসা ভূমি, টিলা ও পাহাড় ব্যতীত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকার ক্ষেত্রে এই উপ-ধারা প্রযোজ্য হইবে না।”
— পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, 2001, ধারা 6(1)(গ), 2016 সনের 45 নং আইনের 5(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত
শর্তাংশের শেষ দিকটা গুরুত্বপূর্ণ: কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা কমিশনের এই ক্ষমতার বাইরে, কিন্তু “বসতবাড়ীসহ জলেভাসা ভূমি” সেই ব্যতিক্রমেরও ব্যতিক্রম — অর্থাৎ সেখানে কমিশনের ক্ষমতা চলে। মঙ্গল কুমার চাকমার উদ্ধৃত 2001-এর পাঠে এই ব্যতিক্রমের ব্যতিক্রম ছিল না। কাপেং ফাউন্ডেশনের 2015 সালের প্রতিবেদনের একটি ছকে সংশোধনের আগে এক বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত সুপারিশ হিসেবে প্রায় এই ভাষাই আছে — “Any land including fringe land” আর শর্তাংশে “except fringe land, hillocks and hills”। কমিশনে আবেদনের পদ্ধতি ও এই শর্তাংশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করবেন কীভাবে লেখায়।
প্রকাশিত গবেষণা ও নথি একই ছবি দেয়: জলেভাসা জমিতে স্থায়ী বন্দোবস্ত সাধারণত হয় না; চাষিরা মৌজার হেডম্যানের কাছ থেকে এক বছরের ইজারা নিয়ে চাষ করেন। 64(3)-এর ‘বন্দোবস্ত’ আর মাঠের ‘এক বছরের ইজারা’ — এই দুইয়ের মধ্যেই ধারাটির প্রয়োগের প্রশ্ন।
Khan-এর 2003 সালের অভিসন্দর্ভ সরাসরি লিখেছে: “No formal settlement is required for the fringelands and usually the cultivators obtain an informal one-year lease form the headman, who is the revenue official at the mouza level.” অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত লাগে না, চাষিরা সাধারণত মৌজার রাজস্ব কর্মকর্তা হেডম্যানের কাছ থেকে এক বছরের অনানুষ্ঠানিক ইজারা নেন। একই লেখায় তুলনাটি: সমতল ধানি জমি আর ব্যক্তিগত বন সাধারণত ভালোভাবে নথিভুক্ত, ফলের বাগানে নিবন্ধিত ইজারা প্রচলিত — জলেভাসা জমি এই নথিভুক্তির বাইরে।
এডিবির জন্য তৈরি 2022 সালের নথির শব্দকোষে এই ব্যবস্থার একটি নাম আছে: “Eksona Bandobasti — The system of leasing a particular plot of land to a certain individual, household or community organization for one year by the respective Headman of the Mouza.” অর্থাৎ একসনা বন্দোবস্তি — মৌজার হেডম্যান একটি নির্দিষ্ট খণ্ড কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সংগঠনকে এক বছরের জন্য ইজারা দেন। নথিটি একসনা বন্দোবস্তিকে কেবল জলেভাসা জমির সঙ্গে যুক্ত করেনি; সাধারণ সংজ্ঞা হিসেবে দিয়েছে। একই শব্দকোষে হেডম্যানকে বলা হয়েছে সার্কেল চিফের সুপারিশে জেলা প্রশাসকের নিয়োগ দেওয়া মৌজা-প্রধান। পাহাড়ে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের সাধারণ নিয়ম, যেখানে হেডম্যানের সুপারিশ ও জেলা প্রশাসকের ভূমিকা ধারা ধরে আছে, পাওয়া যাবে শাসনবিধির ৩৪ নম্বর বিধি নিয়ে লেখায়।
বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই লেক নিবন্ধ (সিফাতুল কাদের চৌধুরী ও নূরউদ্দিন মাহমুদ) পরিমাণের একটি হিসাব দেয়: স্থানীয় অধিবাসীরা “ইজারা ব্যবস্থায় প্রায় ৬,০৭৫ হেক্টর এলাকায় নিয়ন্ত্রিত কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।” ইংরেজি সংস্করণে একই কথা “on leasehold basis through agreements with the local government”। হিসাবটি কোন বছরের, তা নিবন্ধে বলা নেই।
এই তিন উৎস একসঙ্গে পড়লে দেখা যায়, বাস্তবের ব্যবস্থাটি ইজারা — বছর বছর নবায়নযোগ্য, হেডম্যানের মাধ্যমে। এটি 64(3)-এর ‘মূল মালিকদের বন্দোবস্ত’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, কোনো উৎস তা বিচার করেনি। মূল মালিক পরিবারগুলোই এই ইজারা পাচ্ছেন কি না, তার কোনো মৌজাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশিত নেই।
এডিবির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৈরি 2022 সালের নথিতে একটি পরামর্শক-জরিপের ছক আছে। জরিপের 614টি রাঙ্গামাটি পরিবারের মধ্যে 399টি, অর্থাৎ 64.98 শতাংশ, জলেভাসা জমি ব্যবহার করে — জেলাটিতে জলেভাসা জমিই ছিল সবচেয়ে বেশি পরিবারের ব্যবহৃত জমির ধরন।
| জমির ধরন | খাগড়াছড়ি (931 পরিবার) | বান্দরবান (366 পরিবার) | রাঙ্গামাটি (614 পরিবার) | মোট (1,911 পরিবার) |
|---|---|---|---|---|
| জুম জমি | 56 (6.02%) | 30 (8.20%) | 337 (54.89%) | 423 (22.14%) |
| সমতল চাষের জমি | 590 (63.37%) | 250 (68.31%) | 148 (24.10%) | 988 (51.70%) |
| জলেভাসা জমি | 131 (14.07%) | 0 (0.00%) | 399 (64.98%) | 530 (27.73%) |
| বাগান / ফল / কাঠ | 457 (49.09%) | 190 (51.91%) | 67 (10.91%) | 714 (37.36%) |
উৎস: Ministry of Chittagong Hill Tracts Affairs for ADB, Small Ethnic Communities Plan, প্রকল্প 54047-001, জুলাই 2022 (খসড়া), ছক “Type of land by cultivation”, তথ্য “TRTA consultant assessment”। একটি পরিবার একাধিক ধরনের জমি ব্যবহার করতে পারে, তাই শতাংশ যোগ করলে 100 ছাড়িয়ে যায়।
জরিপটি একটি নির্দিষ্ট প্রকল্প এলাকার পরিবার থেকে নেওয়া, পুরো জেলার নমুনা নয়। তবু এটি দেখায়, রাঙ্গামাটির অনেক পরিবারের কাছে জলেভাসা জমি প্রান্তিক কোনো জমি নয়। খাগড়াছড়ির ক্ষেত্রেও সংখ্যাটি শূন্য নয় — যা এডিবির নথির “রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে” কথার সঙ্গে মেলে। বান্দরবানের নমুনায় একটি পরিবারও জলেভাসা জমি ব্যবহার করে না। জরিপে পরিবারগুলোর জাতিগত পরিচয় অনুযায়ী আলাদা হিসাব নেই।
ঢাকা ট্রিবিউনের 28 ফেব্রুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদন (Bijoy Dhar) শুকনো মৌসুমে হ্রদের তলায় বোরো চাষের কথা বলেছে। কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা Md Imran Ahmed-এর বরাতে, সেখানে প্রতি বছর হ্রদের তলার প্রায় 40 থেকে 45 হেক্টর জমিতে বোরো হয়। প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলাজুড়ে বোরো লক্ষ্যমাত্রা 8,205 হেক্টর বলা হয়েছে, তবে তার কতটা হ্রদের তলায় তা আলাদা করে বলা নেই। ইজারা বা অনুমতির কোনো কথা প্রতিবেদনে নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিজের বাস্তবায়ন-নথিতে চুক্তির খ-26 দফা ‘বাস্তবায়ন চলমান’ নয়টি দফার একটি, আর জলেভাসা জমির (ঘ) উপদফার পাশে লেখা ‘চলমান’। একই নথিতে আছে, 2001 সালের একটি স্মারক অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া পাহাড়ে ভূমি বন্দোবস্ত স্থগিত।
নথিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ‘শান্তি চুক্তি ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ পাতায় রাখা একটি পিডিএফ (পিডিএফ ফাইলের তৈরির তারিখ অক্টোবর 2014)। এর শুরুতে হিসাব: চুক্তির 72টি ধারার 48টি সম্পূর্ণ, 15টি আংশিক বাস্তবায়িত, আর 9টির বাস্তবায়ন চলমান — খ খণ্ডের 26, 29, 35; গ খণ্ডের 11, 13; ঘ খণ্ডের 2, 3, 7, 9। খ-26 দফার পাশে মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য (বিজয়-ফন্টের মূল থেকে পড়া):
“১৯৯৮ সালে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত পাচবিম(প-১)-পাঃ জেলা/বিবিধ/৮৫/২০০০-২৮০, তারিখঃ ২৩/১০/০১ খ্রিঃ মোতাবেক ভূমি বন্দোবস্ত স্থগিত রয়েছে।”
— পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি’, দফা খ-26; উপদফা (খ), (গ) ও (ঘ)-র পাশে: “চলমান”
দুটি কথা এখান থেকে স্পষ্ট। এক, সরকারের হিসাবেও আইন সংশোধনকে বাস্তবায়নের সমান ধরা হয়নি — জলেভাসা জমির উপদফা ‘চলমান’। দুই, 23 অক্টোবর 2001-এর একটি মন্ত্রণালয়-স্মারকে পাহাড়ে ভূমি বন্দোবস্ত সাধারণভাবে স্থগিত। স্মারকের পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি, তাই এটি জলেভাসা জমির এক বছরের ইজারাকেও ধরে কি না, বা ‘বিশেষ ক্ষেত্র’ কী — জানা যায়নি। তবে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলে 64(3)-এর ‘বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে’ কাগজে বাধ্যতামূলক হলেও প্রশাসনিকভাবে আটকে থাকে।
বাইরের মূল্যায়নও একই দিকে। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix 1998 সালের হালনাগাদে 64(3)-এর বাক্য উদ্ধৃত করে বিধানটির বাস্তবায়নকে ‘Minimum Implementation’ বলেছে। চুক্তির সার্বিক বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার, জনসংহতি সমিতি ও স্বাধীন হিসাবের তুলনা আছে পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে লেখায়।
আরেকটি তথ্য ধারাটির প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদন (পার্থ শঙ্কর সাহা) লিখেছে: “চুক্তিতে থাকলেও আজ পর্যন্ত ভূমির বিষয়টি জেলা পরিষদে ন্যস্ত করা হয়নি।” 64(2) জেলা পরিষদকে হেডম্যান থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত সবার কাজ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা দিলেও ভূমি প্রশাসন হস্তান্তর না হওয়ায় জলেভাসা জমির বন্দোবস্ত কার হাতে — জেলা প্রশাসনের, না পরিষদের — সেটিও আইনের পাঠের চেয়ে প্রশাসনিক বাস্তবতা দিয়ে নির্ধারিত হয়।
প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদন ও গবেষণা এমন একটি চিত্র দেয়, যা 64(3)-এর উল্টো: জলেভাসা জমি মূল মালিকদের অগ্রাধিকারে যাওয়ার বদলে বাইরে থেকে আসা বসতিস্থাপনকারীদের ইজারা বা দলিল দেওয়া হয়েছে, আর তা নিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে। নিচের প্রতিটি দাবি যে উৎসের, তার নামসহ।
কাপেং ফাউন্ডেশন, 2009-2010: প্রতিবেদনটি (সম্পাদক Dalem Chandra Barman) চুক্তির খ-26(ঘ) উদ্ধৃত করে ‘Current status’-এ লিখেছে: “This provision has been included in the HDC Acts but the authorities concerned have not been observing it. On the contrary, hundreds of acres of land have been given in lease to the settlers.” এর পাদটীকা ‘Ibid.’ আগের পাদটীকার দিকে নির্দেশ করে: Bushra Hasina Chowdhury, ‘Building Lasting Peace: Issues of the Implementation of the Chittagong Hill Tracts Accord’, University of Illinois at Urbana-Champaign-এর ACDIS প্রোগ্রাম, আগস্ট 2002। অর্থাৎ ‘শত শত একর সেটেলারদের ইজারা’ কথাটির উৎস 2002 সালের একটি গবেষণাপত্র; কোন মৌজায়, কত একর, তা প্রতিবেদনে নেই।
Shafiqur Rahman Khan, 2003: অভিসন্দর্ভে লেখা হয়েছে, পুনর্বাসন কর্মসূচিতে আনা বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের বড় অংশকে জমির দলিল দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল “paddy lands (usually fringe lands)”। সূত্র হিসেবে Anti-Slavery Society-র একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত। একই জায়গায় লেখক যুক্তি দিয়েছেন, যেহেতু সরকার নিজেই এসব দলিল দিয়েছে, তাই ন্যায্যতার খাতিরে এই মানুষদের অধিকারও উপেক্ষা করা যায় না। অর্থাৎ জলেভাসা জমিতে দুই পক্ষের দাবি — মূল মালিক আর দলিলধারী বসতিস্থাপনকারী — দুটোই নথিতে আছে।
কাপেং ফাউন্ডেশন, 2011: 2011 সালের প্রতিবেদন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার দুটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী 11 ফেব্রুয়ারি 2011 বাঙালি বসতিস্থাপনকারীরা জুম্মদের শত শত একর চাষযোগ্য জলেভাসা জমি দখলের উদ্দেশ্যে লাল পতাকা পুঁতে দেন। 3 মার্চ 2011 Maischari মৌজার Gobindabil এলাকায় জুম্ম চাষিরা যখন বীজ বুনছিলেন, তখন শত শত বসতিস্থাপনকারী জলেভাসা জমি দখলের চেষ্টা করেন; প্রতিবেদনের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে নানিয়ারচর সেনা জোনের একটি দল ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশ পাঠান এবং দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকেন। প্রতিবেদনে আরও আছে, জমির মালিকের সঙ্গে মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে যাওয়া নানিয়ারচর বাজারের এক স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দা ছিলেন জমিটির “temporary leasee” — অস্থায়ী ইজারাদার। এগুলো কাপেং-এর বর্ণনা ও অভিযোগ; ঘটনাগুলোর কোনো সরকারি তদন্ত-প্রতিবেদন প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
একই প্রতিবেদনে রাঙ্গামাটি শহরের Jalajan Ghat-এর কাছে Dubachar নামের একটি “fringe hillock”-এ 17টি বাঙালি পরিবারের ঘর তোলার কথাও আছে — জলেভাসা টিলাও যে বিরোধের জায়গা, এটি তার উদাহরণ।
আমাদের আর্কাইভ: গৌতম কুমার চাকমার লেখায় (2012) রাঙ্গামাটি নিয়ে বলা হয়েছে, জেলার সমতল চাষযোগ্য বেশির ভাগ জমি কাপ্তাই হ্রদে ডুবে যায়, “সেখানেও হ্রদের পানি কমে গেলে যে সব জমি চাষ করা যায় সে সব জলেভাসা জমি (Fringe Land) জবর দখল অব্যাহত রয়েছে।” তাঁর হিসাবে জেলার সমতল চাষযোগ্য জমির প্রায় 40 শতাংশ স্থানীয় পাহাড়িদের হাতছাড়া হয়েছে। হিসাবটির উৎস লেখায় উল্লেখ নেই।
সরকার বা বসতিস্থাপনকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জলেভাসা জমির ইজারা নিয়ে আলাদা কোনো প্রকাশিত বিবৃতি বা পাল্টা হিসাব পাওয়া যায়নি; 2016 সালের হরতালে তাদের আপত্তি ছিল ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী নিয়ে সাধারণভাবে, জলেভাসা জমি নিয়ে আলাদা করে নয় — অন্তত মঙ্গল কুমার চাকমার বর্ণনায় সে রকম কিছু নেই।
জলেভাসা জমি কতটা, কবে জাগবে — তা ঠিক করে হ্রদের পানির স্তর, আর সেই স্তর নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। তাই 64(3)-এর বন্দোবস্ত কাগজে পেলেও জমিটি বছরে কতদিন চাষযোগ্য থাকবে, তা জেলা পরিষদ বা হেডম্যানের হাতে নেই।
Khan-এর গবেষণা অনুযায়ী জলেভাসা চাষিদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, জলস্তরের ওঠানামা “too haphazard and unpredictable”। পানি খুব দ্রুত উঠলে ধান কাটার অনেক আগেই ডুবে যায়; খুব ধীরে নামলে জমি চাষের জন্য বেশি শুকনো থেকে যায়। তাঁর প্রস্তাব ছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজন আর চাষিদের প্রয়োজন সমন্বয় করা, এবং প্রতি মাসের প্রত্যাশিত জলস্তর চাষিদের আগে থেকে জানানো।
Mohammad Nur Nobi-র 2021 সালের কাপ্তাই বাঁধের ব্যয়-লাভ বিশ্লেষণ (arXiv-এ প্রকাশিত ওয়ার্কিং পেপার) Parveen ও Faisal-এর 2002 সালের গবেষণার বরাতে একটি পরিকল্পনার কথা লিখেছে: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দুটি নতুন 50 মেগাওয়াট ইউনিট বসিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতা 330 মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, যাতে জলস্তর বাড়বে এবং “may take away about 7500 ha of the fringe land, which the tribal people use for rice cultivation during the April–August period in each year.” পরিকল্পনাটি কার্যকর হয়েছিল কি না, এবং সত্যিই কত হেক্টর জলেভাসা জমি হারিয়েছে, সে তথ্য এই উৎসে নেই।
হ্রদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জনসংহতি সমিতির কাপ্তাই বাঁধ পাতা জানায়, হ্রদ ব্যবস্থাপনার জন্য 18 সদস্যের কর্ণফুলী লেক ব্যবস্থাপনা কমিটি চলছিল, যার সভাপতি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং জনপ্রতিনিধি মাত্র 4 জন; আঞ্চলিক পরিষদ আরও জনপ্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দিলে মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেনি। পাতাটি আরও বলে, হ্রদের এলাকার জুম্মরা জলেভাসা জমি চাষ করে আসছেন। পাতায় কমিটির তারিখ উল্লেখ নেই।
আইন অনুযায়ী জলেভাসা জমির অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের জায়গা ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। কিন্তু কমিশন এখনো একটিও বিরোধ নিষ্পত্তি করেনি, কারণ তার কাজের বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি — 2019 ও 2023 সালের দুটি প্রধান সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এ কথা বলেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের 4 আগস্ট 2019-এর প্রতিবেদন (Jamil Mahmud) কমিশনের সামনে থাকা প্রধান বিরোধগুলোর তালিকায় রেখেছে “the illegally settled and occupied land; and fringe land of Kaptai Lake”। প্রতিবেদন অনুযায়ী 1999 সালে কমিশন গঠনের পর থেকে প্রায় 22,000 অভিযোগ জমা পড়েছে, আর বিধিমালা না থাকায় কমিশন কর্মী নিয়োগ বা বিচারকাজ শুরু করতে পারেনি। প্রতিবেদনে কাপেং ফাউন্ডেশনের বক্তব্য, বিধিমালা ছাড়া কমিশন অভিযোগ শুনতে পারে না।
চার বছর পর প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদন একই অবস্থা জানায়: “এ পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। তবে কোনো আবেদনের সুরাহা হয়নি।” আর “ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিধিমালা হলেও আজও তা চূড়ান্ত হয়নি।” ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে, খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছিল। 22 হাজার আবেদনের কতগুলো জলেভাসা জমি নিয়ে, তার আলাদা হিসাব কোনো প্রতিবেদনে নেই।
অর্থাৎ জলেভাসা জমির জন্য দুটি আইনি পথ তৈরি হয়েছে — জেলা পরিষদ আইনের 64(3) অনুযায়ী মূল মালিকদের অগ্রাধিকারে বন্দোবস্ত, আর কমিশন আইনের 6(1)(গ) অনুযায়ী অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল ও দখল পুনর্বহাল। প্রথমটির পদ্ধতি লেখা হয়নি এবং 2001 থেকে ভূমি বন্দোবস্তে স্থগিতাদেশ; দ্বিতীয়টির বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। কাপ্তাই বাঁধে উচ্ছেদ হয়ে যাঁরা ভারতে গিয়েছিলেন, তাঁদের প্রসঙ্গ আছে ভারতের চাকমা: কাপ্তাই বাঁধের উদ্বাস্তুরা কোথায় গেলেন লেখায়; আর পাহাড়ের ভেতরে উদ্বাস্তুদের তালিকা নিয়ে বিরোধ আছে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স লেখায়।
কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে ‘দখল’-এর খবর মানেই জলেভাসা জমি নয়। রাঙ্গামাটি শহরে হ্রদের পাড় ভরাট করে স্থাপনা তোলার অভিযোগ আলাদা একটি বিষয়, যেখানে প্রশ্নটি জলাধার সংরক্ষণ আইনের; 64(3)-এর প্রশ্নটি ডুবে যাওয়া কৃষিজমির মূল মালিকদের অগ্রাধিকারের।
প্রথম আলোর 17 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন (প্রণব বল ও সাধন বিকাশ চাকমা) শহরে হ্রদ ও পাড় দখল করে প্রায় সাত হাজার স্থাপনার কথা বলেছে, পৌরসভার নগর-পরিকল্পনাবিদের বরাতে; সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের মেস, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় আর ক্লাব-ভবনের উল্লেখ আছে, আর আইন হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পৌরসভা আইন। প্রতিবেদনে জলেভাসা জমি বা 64(3)-এর কোনো উল্লেখ নেই। দুই বিষয় মিশিয়ে ফেললে চাষের জলেভাসা জমির প্রশ্নটি — কে চাষ করবেন, কার অগ্রাধিকার — হারিয়ে যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য বিষয়ের জন্য দেখুন জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের 64(3) ধারায় একই বাক্য আছে: কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমি (Fringe land) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদের বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। ধারাটি 1998 সালের সংশোধনী আইনে যুক্ত হয়, 1997 সালের পার্বত্য চুক্তির খ খণ্ডের 26(ঘ) দফা অনুসারে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি নেমে গেলে হ্রদের অগভীর তলা থেকে যে জমি জেগে ওঠে, তাকেই জলেভাসা জমি বা fringe land বলা হয়। কাপেং ফাউন্ডেশনের 2011 সালের প্রতিবেদন ও Shafiqur Rahman Khan-এর 2003 সালের গবেষণা এই সংজ্ঞাই দেয়। Khan-এর বর্ণনায় শুকনো মৌসুমে এখানে এক ফসল ধান হয়।
1998 সালে। 2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চুক্তির পর তিনটি সংশোধনী আইন (1998 সনের 9, 10 ও 11 নং আইন) তিন জেলার আইনের 64 ধারা পুরো প্রতিস্থাপন করে, আর তার 3 উপধারায় জলেভাসা জমির বাক্যটি বসে। 1989 সালের মূল 64 ধারার যে অংশ Peace Accords Matrix উদ্ধৃত করেছে, তাতে জলেভাসা জমির কথা নেই।
না। তিন জেলা পরিষদ আইনের সংজ্ঞা-ধারায় ‘মূল মালিক’ শব্দের কোনো সংজ্ঞা নেই, আর ভূমি কমিশন আইন 2001-এর 2 ধারাতেও নেই। কাপ্তাই বাঁধে ডুবে যাওয়া জমির মালিক, তাঁদের উত্তরাধিকারী, নাকি হ্রদ হওয়ার পর জমিটি চাষ করে আসা পরিবার — কে ‘মূল মালিক’, তা কোনো প্রকাশিত বিধি বা আদেশে পাওয়া যায়নি।
Shafiqur Rahman Khan-এর 2003 সালের গবেষণা অনুযায়ী জলেভাসা জমির জন্য আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত লাগে না; চাষিরা সাধারণত মৌজার হেডম্যানের কাছ থেকে এক বছরের অনানুষ্ঠানিক ইজারা নেন। এডিবির 2022 সালের নথিতে হেডম্যানের দেওয়া এমন এক বছরের ইজারাকে ‘একসনা বন্দোবস্তি’ বলা হয়েছে।
বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই লেক নিবন্ধ অনুযায়ী ইজারা ব্যবস্থায় প্রায় 6,075 হেক্টর জমিতে নিয়ন্ত্রিত কৃষিকাজ হয়। Mohammad Nur Nobi-র 2021 সালের গবেষণাপত্র Parveen ও Faisal-এর 2002 সালের কাজের বরাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক পরিকল্পনার কথা লিখেছে, যাতে জলস্তর বাড়লে প্রায় 7,500 হেক্টর জলেভাসা জমি হারানোর আশঙ্কা ছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা বাস্তবায়ন-অগ্রগতির নথিতে চুক্তির খ-26 দফা ‘9টি বাস্তবায়ন চলমান’ দফার একটি, আর তার (ঘ) উপদফা — জলেভাসা জমি — পাশে লেখা ‘চলমান’। একই নথি জানায়, 23/10/2001 তারিখের মন্ত্রণালয়ের এক স্মারক অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ভূমি বন্দোবস্ত স্থগিত।
কাপেং ফাউন্ডেশনের 2009-2010 সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন বলেছে, বিধানটি জেলা পরিষদ আইনে ঢুকেছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা মানছে না, উল্টো শত শত একর জমি সেটেলারদের ইজারা দেওয়া হয়েছে — সূত্র হিসেবে Bushra Hasina Chowdhury-র 2002 সালের গবেষণাপত্র উদ্ধৃত। কাপেং-এর 2011 সালের প্রতিবেদনে নানিয়ারচরে জলেভাসা জমি দখলচেষ্টার দুটি অভিযোগ আছে।
পারে। 2016 সালের সংশোধনীর পর ভূমি কমিশন আইনের 6(1)(গ) ধারা প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতির বাইরে দেওয়া জলেভাসা ভূমিসহ যেকোনো বন্দোবস্ত বাতিলের ক্ষমতা দেয়। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাকে শর্তাংশে বাদ রাখা হলেও বসতবাড়িসহ জলেভাসা ভূমি সেই ব্যতিক্রমের বাইরে, অর্থাৎ কমিশনের আওতায়।
কোনো প্রকাশিত হিসাবে এমন নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2023-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনে 22 হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে, কিন্তু কোনো আবেদনের সুরাহা হয়নি, আর বিধিমালা তখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্য ডেইলি স্টার 2019 সালে জলেভাসা জমিকে কমিশনের প্রধান বিরোধের একটি ধরন বলেছিল।
Shafiqur Rahman Khan-এর 2003 সালের গবেষণা অনুযায়ী জলেভাসা চাষিদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল জলস্তরের অনিশ্চিত ওঠানামা: পানি দ্রুত উঠলে ধান কাটার আগেই ডুবে যায়, ধীরে নামলে জমি চাষের জন্য খুব শুকনো থাকে। জলস্তর নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
দুই রকম আছে। জাতিসংঘের Peacemaker সাইটের ইংরেজি পাঠে লেখা ‘shall be given settlement on priority basis to original owners’; জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটের পাঠে ‘shall be leased out on priority basis to the original owners’। চুক্তির বাংলা পাঠ ও জেলা পরিষদ আইনে শব্দটি ‘বন্দোবস্ত’।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:কাপ্তাই বাঁধ, কাপ্তাই লেক, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ভূমি অধিকার, ভূমি কমিশন আইন
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।