Last updated Oct 17th, 2026
0

সাঁওতাল গ্রামের প্রধানকে বলা হয় মাঝি, পুরো উপাধিতে মাঝি হাড়াম। তিনি গ্রামের পাঁচজনের একটি পরিষদের শীর্ষে থাকেন, আর গ্রামের বিরোধ মেটে গ্রামসভায় — সবার কথা শুনে মাঝি সভার সম্মিলিত মত ঘোষণা করেন, শাস্তি সাধারণত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ। এই সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েত মাঝি হাড়াম ব্যবস্থার ওপরে আছে কয়েক গ্রাম মিলে পারগানা, তার ওপরে বড় অঞ্চলের সভা। পদের নাম আর বানান অবশ্য উৎসভেদে বদলায়, আর কে কার সহকারী সে প্রশ্নেও উৎসগুলো একমত নয়।
বাংলাপিডিয়ার সাঁওতাল-ভুক্তি লিখেছে, সাঁওতাল সমাজ “এখনও ঐতিহ্যবাহী পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় পরিচালিত” — কিন্তু সেই পঞ্চায়েতে কারা থাকেন, কী করেন, সে বিবরণ সেখানে নেই। এই লেখা সেই ফাঁকটুকু ভরাতে চায়, উৎস ধরে ধরে। আগে সংক্ষেপে সাঁওতাল কারা, কোথায় থাকেন, কতজন, কোন ভাষা ও ধর্ম — তারপর মূল প্রশ্ন: গ্রাম কে চালায়, বিচার হয় কীভাবে।
এই লেখায় যা আছে
সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী; তাঁদের ভাষা সাঁওতালি, যা বাংলাপিডিয়ার ভাষায় অস্ট্রিক ভাষা-পরিবারের। নিজেদের মধ্যে তাঁরা নিজেদের বলেন “হড়”, অর্থাৎ মানুষ। “সাঁওতাল”, “সান্তাল”, “সান্থাল”, “সাতাড়” — এই নামগুলো বাইরের মানুষের দেওয়া, অঞ্চলভেদে আলাদা।
নামের এই প্রশ্নটি আমাদের আর্কাইভে আলাদা করে লিখেছেন মানিক সরেন — “সাঁওতাল, সান্তাল, সান্থাল, সাঁওতাড়, সান্তাড় নাকি সাতাড়?“। তাঁর হিসাবে বাংলাদেশে দুই বানানই চলে, “সাঁওতাল” আর “সান্তাল”; পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীরাও “সাঁওতাল” বলেন, নেপালে বলা হয় “সাতাড়”। তিনি পরিমল হেমব্রমের “সাঁওতালদের ইতিহাস সন্ধানে” আর ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের লেখা উদ্ধৃত করে দেখিয়েছেন, নামগুলো অন্যদের দেওয়া, তাই কোনোটিকেই “একমাত্র ঠিক” বলা যায় না। এই লেখায় “সাঁওতাল” বানানটি রাখা হয়েছে, কারণ বাংলাপিডিয়া ও শুমারির বাংলা পাঠ এটিই ব্যবহার করে; উদ্ধৃতিতে মূল বানান অপরিবর্তিত।
সাঁওতালদের আদি পিতা-মাতার নাম পিলচু হাড়াম ও পিলচু বুড়হি — মানিক সরেনের লেখায় এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার সাঁওতাল-ভুক্তিতে এই নাম আছে। বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে, এই দম্পতির সাত জোড়া সন্তান থেকে প্রথমে সাতটি গোত্র, পরে আরও পাঁচটি মিলে বারোটি গোত্র: হাঁসদা, সরেন, টুডু, কিসকু, মুর্মু, মাণ্ডি, বাস্কে, বেসরা, হেম্বরম, পাউরিয়া, চঁড়ে ও বেদেয়া। গোত্রের নামের এই তালিকার পাশে উইকিপিডিয়া কোনো উৎস দেয়নি; বাংলাপিডিয়া কেবল “১২টি গোত্রবিভাগ” বলেছে, নাম দেয়নি। একই গোত্রের মধ্যে বিয়ে সাধারণ নিয়মে নিষিদ্ধ, বাংলাপিডিয়া লিখেছে।
“হাড়াম” শব্দটি এখানে মনে রাখার মতো, কারণ গ্রামপ্রধানের পুরো উপাধিতেও এটি আছে — নিচের মাঝি হাড়াম অংশে সে প্রসঙ্গ।
বাংলাদেশের সাঁওতালদের প্রায় সবাই উত্তর-পশ্চিমে — রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। 2022 সালের জনশুমারিতে এই দুই বিভাগে মোট সাঁওতালের 87.4 শতাংশ। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আছেন সিলেট বিভাগে, আর ছোট একটি দল খাগড়াছড়ির পানছড়িতে।
বাংলাপিডিয়া প্রধান বসতি বলেছে রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়। বাংলা উইকিপিডিয়া দিনাজপুর জেলার কয়েকটি উপজেলার নাম দিয়েছে — বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি, চিরিরবন্দর ও কাহারোল — আর রংপুর জেলার পীরগঞ্জ। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কুকরী বন ও গিরিডোবা গ্রামে মাঠের লেখা লিখেছেন সালেক খোকন (নিচে বাংলাদেশ অংশে বিস্তারিত)।
দিনাজপুরে সাঁওতাল বসতির ইতিহাস নিয়ে Roy ও সহ-লেখকেরা (2025) মেহরাব আলীর “দিনাজপুরের আদিবাসী” বইয়ের বরাতে লিখেছেন, 1901 সালের শুমারির সময় জেলায় অনাবাদি জমি ছিল প্রচুর কিন্তু শ্রমিকের অভাব, আর সরকারি সুপারিশে ভারত থেকে সাঁওতাল শ্রমিক আনা হয়। এটি একটি মাধ্যমিক উৎসের বরাত — মূল শুমারির পাঠ মেলানো যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামেও সাঁওতাল আছেন, যদিও সংখ্যায় অল্প। আমাদের আর্কাইভের গুর্খা জাতির আদ্যোপান্ত লেখাটি বলছে, পার্বত্য আইনে স্বীকৃত 11টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাইরে গুর্খা, অহমিয়া ও সাঁওতাল — আরও তিনটি জনগোষ্ঠী সেখানে দীর্ঘকাল ধরে থাকে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় সুসান্না টুডুর 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী পানছড়ি উপজেলার কানুনগোপাড়াসহ তিনটি পাড়ায় 70–80টি সাঁওতাল পরিবার, প্রায় 400 জন মানুষ থাকেন। প্রবীণদের বরাতে প্রতিবেদনটি লিখেছে, ব্রিটিশ আমলে রাস্তা, রেলপথ ও চা-বাগানের কাজে তাঁদের আনা হয়েছিল, আর কাপ্তাই বাঁধে রাঙামাটির ঘরবাড়ি ডুবে গেলে অনেকে পানছড়িতে সরে আসেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয় আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
সমতলের বাকি আদিবাসী জাতিগুলো কোন জেলায় থাকেন, সে তালিকা আমাদের আরেকটি লেখায় — “সমতলের আদিবাসী জাতিগুলো: কে কোথায় থাকেন, কী নিয়ে বেঁচে আছেন”।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি 2022-এর জাতীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে সাঁওতাল 1,29,056 জন — পুরুষ 63,644, নারী 65,412। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি চতুর্থ বৃহত্তম, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরার পরে। শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ছিল 1,29,049।
| বিভাগ | সাঁওতাল | মোট সাঁওতালের % |
|---|---|---|
| রাজশাহী | 56,990 | 44.2 |
| রংপুর | 55,820 | 43.3 |
| সিলেট | 13,274 | 10.3 |
| ঢাকা | 1,300 | 1.0 |
| চট্টগ্রাম | 1,067 | 0.8 |
| খুলনা | 446 | 0.3 |
| বরিশাল | 85 | 0.1 |
| ময়মনসিংহ | 74 | 0.1 |
| সারা দেশ | 1,29,056 | 100 |
জেলা-স্তরের কয়েকটি সংখ্যা BBS-এর জেলা প্রতিবেদনে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাঁওতাল 6,409 জন — জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার 27.5 শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলায় মোট 619 জন: খাগড়াছড়িতে 541 (এর মধ্যে পানছড়িতে 258, লক্ষ্মীছড়িতে 158), বান্দরবানে 43, রাঙামাটিতে 35।
শুমারির বাইরের হিসাবগুলো অনেক আলাদা। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, 1941 সালের জরিপে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় সাঁওতাল ছিলেন প্রায় আট লাখ (ইংরেজি ভুক্তিতে 829,025), আর 1991 সালের আদমশুমারিতে দুই লাখের বেশি। Shamsuddoha ও Jahan (2018) 2011 সালের শুমারির বরাতে সংখ্যা দিয়েছেন 1,43,425, এবং তাঁদের জেলাভিত্তিক ছকে দিনাজপুরে 49,861, রাজশাহীতে 26,469, নওগাঁয় 24,409 — অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশের বেশি এক দিনাজপুরেই। আবার দ্য ডেইলি স্টার 2017 সালে সাঁওতাল জনসংখ্যা লিখেছে “প্রায় 8 লাখ”, আর বাংলা উইকিপিডিয়ার সাঁওতালি ভাষা-ভুক্তি বাংলাদেশে সাঁওতালিভাষী বলেছে 2 লাখ 25 হাজার। শুমারিতে সংখ্যা কেন কম আসে বলে দাবি ওঠে, আর শুমারি জাতিগোষ্ঠী গোনে কীভাবে, সে আলোচনা আমাদের আলাদা লেখায় — “১৬ লাখ না ৩০ লাখ — জনশুমারিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গোনা হয় কীভাবে”।
সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব লিপি অলচিকি, 1925 সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর তৈরি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত; কিন্তু বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে সাঁওতালি এখনো বাংলা হরফে লেখা হয়, আর একাংশ রোমান হরফ চান। কোন হরফে শিশুদের বই হবে, সে বিরোধে সাঁওতালি পাঠ্যবই আটকে ছিল।
অলচিকির বর্ণমালা, সংখ্যা আর প্রতিটি অক্ষরের আকৃতি কোন দৃশ্য থেকে এসেছে, তা আমাদের আর্কাইভের “সাঁওতালি ভাষা শিক্ষা” লেখায় ধাপে ধাপে আছে। সেখানে বলা হয়েছে, “অল” মানে লেখা আর “চিকি” মানে অক্ষর।
বাংলাপিডিয়ার সাঁওতাল-ভুক্তি লিখেছে, সাঁওতালদের “ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই” — ভুক্তিটি অলচিকির উল্লেখ করেনি। বাংলা উইকিপিডিয়া অলচিকিকে সাঁওতালির নিজস্ব লিপি বলে, পাশাপাশি বলে বাংলা, ওড়িয়া, রোমান ও দেবনাগরী হরফেও ভাষাটি লেখা হয়; অলচিকি 2008 সালে ইউনিকোডে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশের হরফ-বিরোধের ছবি দ্য ডেইলি স্টারের দুটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। 7 জানুয়ারি 2017-এর প্রতিবেদন (আনোয়ার আলী) অনুযায়ী সরকারের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা কর্মসূচিতে চাকমা, মারমা, গারো, ত্রিপুরা ও সাদ্রি — পাঁচ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক বই বিতরণ হলেও সাঁওতালি বই ছাপা হয়নি, কারণ নেতারা হরফে একমত হতে পারেননি; প্রায় 50,000 শিশু এতে প্রভাবিত। প্রতিবেদনটি লিখেছে, 2013 সালের এক মন্ত্রী-পর্যায়ের বৈঠকে দুই হরফে বই ছাপার সরকারি প্রস্তাবও সাঁওতাল নেতারা ফিরিয়ে দেন। অধ্যাপক মেসবাহ কামালের মতে ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান সাঁওতালদের বেশির ভাগ রোমান হরফের পক্ষে, অন্যরা বাংলা হরফের; জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বাংলা হরফের পক্ষে, সঙ্গে অলচিকি সংস্করণের প্রস্তাবও দেন। 4 ফেব্রুয়ারি 2018-এ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সমাবেশে রোমান হরফে বইয়ের দাবি ওঠে; বক্তারা বলেন, 1863 সাল থেকে সাঁওতালি রোমান হরফে লেখা হচ্ছে। এরপর সাঁওতালি বই কোন হরফে ছাপা হয়েছে কি না, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাঁওতালদের প্রথাগত ধর্ম প্রকৃতি ও আত্মা-কেন্দ্রিক: বাংলাপিডিয়া লিখেছে, তাঁদের বিশ্বাসে অনৈসর্গিক আত্মা বা বোঙ্গা জাগতিক ভালো-মন্দ ঠিক করে, মূর্তিপূজা নেই। নিজেদের ধর্মকে অনেকে বলেন “সারি ধরম”, কেউ “সারনা”। বড় একটি অংশ খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। জনশুমারিতে সাঁওতালদের ধর্ম আলাদা করে গোনা হয় না।
বাংলাপিডিয়া প্রধান উপাস্য হিসেবে সূর্যের (সিং বোঙ্গা) কথা বলেছে, পাশাপাশি পাহাড়-দেবতা মারাং বুরু, গৃহদেবতা “আবে বোঙ্গা”, আর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে “ঠাকুরজিউ”। Shamsuddoha ও Jahan (2018) লিখেছেন, সর্বোচ্চ সত্তা “ঠাকুর জিউ” বা “মারাং বুরু”, আর সাঁওতালদের ধর্মের নাম “সোনাতন”, যা হিন্দুধর্মের কাছাকাছি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে রাজীব নূরের 17 ডিসেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অবশ্য লিখেছে, সাঁওতালরা নিজেদের “সারি ধরম” অনুসারী বলে পরিচয় দেন, অন্যরা “সারনা” বলেন। নামের এই প্রশ্নে উৎসগুলো একমত নয়।
খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের হার নিয়েও হিসাব আলাদা। বিডিনিউজের ওই প্রতিবেদন বলছে প্রায় 50 শতাংশ সাঁওতাল খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন; দ্য ডেইলি স্টারের 2017-এর প্রতিবেদনে মেসবাহ কামালের গবেষণার বরাতে হারটি প্রায় 55 শতাংশ। একই বিডিনিউজ প্রতিবেদনে সারি-সারনা অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি বলে একটি অনুমান আছে, আর প্রতিবেদনটি লিখেছে, জনশুমারিতে সাঁওতালদের ধর্মের উল্লেখ নেই।
ধর্মের প্রসঙ্গ এখানে জরুরি একটি কারণে: গ্রামের শাসনব্যবস্থা ধর্মীয় জীবন থেকে আলাদা নয়। প্রতিটি গ্রামে একটি মাঝিথান ও একটি জাহেরথান থাকে বলে বাংলা উইকিপিডিয়ার সারি ধরম-ভুক্তি লিখেছে, আর গ্রাম পরিচালনার পদগুলোর একটি পুরোহিতের (নায়কে)। Mainstream সাপ্তাহিকে আইভি ইমোজিন হাঁসদাক (2014) মাঝিথানকে বলেছেন প্রতিষ্ঠাতার থান, জাহেরকে পবিত্র কুঞ্জ। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে রাজশাহীর একটি “মৗঞ্জহি থান”-কে সাঁওতাল উপাসনালয় বলা হয়েছে।
মাঝি হাড়াম সাঁওতাল গ্রামের প্রধান। বাংলাদেশের সাঁওতাল নিয়ে এ. জলিলের 1991 সালের বাংলা একাডেমি-প্রকাশিত বইয়ের বরাতে Shamsuddoha ও Jahan (2018) লিখেছেন, গ্রামের পাঁচ পদাধিকারীর প্রথমজন “manjhi haram”। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এ সেতারা কবির সেতু (2020) একই কথা বাংলায় লিখেছেন: “মাঝি হাড়াম হচ্ছেন গ্রাম প্রধান”, তিনি “গ্রামের সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু”।
দৈনন্দিন কথায় সাধারণত শুধু “মাঝি” বলা হয়; বানানও নানা রকম। বাংলা উইকিপিডিয়ার সারি ধরম-ভুক্তিতে “মাঝিবাবা”, সোহরায়-ভুক্তিতে “মাঞ্জহি”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় সুসান্না টুডুর প্রতিবেদনেও “মাঞ্জহি”, আর বিডিনিউজে “মৗঞ্জহি থান”। পানছড়িতে মাঞ্জহিকে স্থানীয়ভাবে “কারবারি” বলা হয়, একই প্রতিবেদন লিখেছে — পার্বত্য চট্টগ্রামে 1900 সালের শাসনবিধি থেকে গ্রামপ্রধানের পদের নাম কারবারি।
“হাড়াম” শব্দের অভিধানগত অর্থ কোনো উৎসে স্পষ্ট করে পাওয়া যায়নি। তবে শব্দটি যেভাবে ব্যবহৃত হয় তা লক্ষণীয়: আদি পিতার নাম পিলচু হাড়াম, আদি মাতার নাম পিলচু বুড়হি। গ্রামপ্রধান মাঝি হাড়াম, আর সালেক খোকনের দিনাজপুরের মাঠের লেখায় গ্রামপ্রধানের স্ত্রীকে বলা হয়েছে “মাঝিবুড়ি”। অর্থাৎ হাড়াম–বুড়হি একটি জোড়া হিসেবে পুরুষ ও নারী প্রবীণকে বোঝায় বলে মনে হয় [যাচাই প্রয়োজন]।
উৎসভেদে “মাঝি হাড়াম” নামটি তিনটি আলাদা জিনিস বোঝায়, আর এটিই বিভ্রান্তির বড় কারণ:
তিনটির মধ্যে সম্পর্ক কী — আত্মাটি কি প্রয়াত প্রথম মাঝির, যাঁর থানের নাম মাঝিথান — সে বিষয়ে কোনো উৎস স্পষ্ট কিছু বলেনি। হাঁসদাক মাঝিথানকে “প্রতিষ্ঠাতার থান” বলেছেন; ফৌজিয়া শরীফ (2007) Bodding-এর বরাতে লিখেছেন, অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে বনে নতুন গ্রাম পত্তনের সময় দলের নেতার জন্য প্রথম ঘর তোলা হতো, তিনিই হতেন মাঝি, তিনি অন্য পদাধিকারী নিয়োগ করতেন ও জমি ভাগ করে দিতেন।
সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েতে সাধারণত পাঁচজন পদাধিকারী থাকেন: মাঝি (প্রধান), পারানিক, জগমাঝি, গোডেৎ ও নায়কে। কিছু উৎস জগপারানিক ও কুডৗম নায়কে যোগ করে সাতজন বলে। মাঝি ছাড়া অন্যদের কাজ — উপপ্রধানের দায়িত্ব, তরুণদের দেখাশোনা, খবর পৌঁছানো আর পূজা। কে মাঝির অনুপস্থিতিতে কাজ চালান, সে বিষয়ে উৎসগুলো দুই ভাগ।
পাঁচ না সাত: বাংলা উইকিপিডিয়ার সারি ধরম-ভুক্তি গ্রাম পরিচালনাকারী পাঁচজনকে বলেছে “আতু মঁড়ে হড়” — মাঝিবাবা, জগমাঝি, পারানিক, গোডেৎ ও নায়কে। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এও পাঁচজন — মাঝি হাড়াম, পরাণিক, জগমাঝি, গোডেৎ ও নায়েকে। জলিলের তালিকায় (Shamsuddoha ও Jahan-এর বরাতে) পাঁচজন — manjhi haram, jog manjhi, jog paranik, godet, naeke — আর সেখানে পারানিক নেই, জগপারানিক আছেন; সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, নায়কে সাধারণত পদাধিকারী হিসেবে গণ্য নন, বরং পুরোহিতের মতো। অন্যদিকে উইকিপিডিয়ার সোহরায়-ভুক্তি “গ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত জন” বলেছে: নায়কে, জগমাঞ্জহি, মাঞ্জহি, পারানিক, জগপারানিক, গডিৎ ও কুডৗম নায়কে।
| পদ | বাংলা উৎসে পাওয়া বানান | উৎস যা বলে |
|---|---|---|
| মাঝি | মাঝি হাড়াম, মাঝিবাবা, মাঞ্জহি, মৗঞ্জহি | গ্রামপ্রধান; গ্রামসভা ডাকেন ও সভাপতিত্ব করেন; গ্রামের সাধারণ সম্পত্তির দায়িত্ব (হাঁসদাক) |
| পারানিক | পারানিক, পরাণিক, পারমানিক, পরামাণিক | উপপ্রধান (হাঁসদাক, শরীফ, Bompas); মাঝির অনুপস্থিতিতে কাজ চালান, উত্তরসূরি না থাকলে মাঝি হন (Behera) |
| জগমাঝি | জগমাঝি, জগ-মাঝি, জগমাঞ্জহি, যোগ-মাঝি | তরুণ-তরুণীদের নৈতিকতার রক্ষক (হাঁসদাক, শরীফ, Bompas); উৎসবে নাচ পরিচালনা (Behera); উপপ্রধান (ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল-ভুক্তি, Murmu 2023) |
| জগপারানিক | জগপারানিক, জগপারমানিক | পারানিকের সহকারী (হাঁসদাক); জগমাঝির সহকারী (Behera) |
| গোডেৎ | গোডেৎ, গোডেত, গোড়েৎ মাঝি, গডিৎ | মাঝির বার্তাবাহক, সভার খবর দেন (হাঁসদাক, Behera); “গ্রামের কনস্টেবল” (Bompas); সহকারী (শরীফ) |
| নায়কে | নায়কে, নায়েকে | গ্রামের পুরোহিত; বার্ষিক উৎসবে পূজা, মহামারিতে বিশেষ বলি (হাঁসদাক, Behera) |
| কুডৗম নায়কে | কুডৗম নায়কে, কুড়ান নায়কে | নায়কের সহকারী; স্থানীয় আত্মাদের তুষ্ট করেন (Behera) |
এখানে উৎসগুলোর স্পষ্ট বিরোধ। হাঁসদাক (2014) লিখেছেন, “পারানিক উপপ্রধান, আর জগমাঝি নৈতিকতার রক্ষক”; Behera, শরীফ (2007) ও Bompas (1909)-ও পারানিককে মাঝির সহকারী বলেছেন। অন্যদিকে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁওতালি বিভাগের গুরুদাস মুর্মু (2023) লিখেছেন, মাঝির অনুপস্থিতিতে কাজ চালান জগমাঝি (“Jaga Majhi”), আর বাংলা উইকিপিডিয়ার ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল-ভুক্তিও জগ-মাঝিকে “গ্রামের উপ-প্রধান” বলেছে।
বাংলা উইকিপিডিয়ার সাঁওতাল বিবাহ প্রথা-ভুক্তি (তরুণদেব ভট্টাচার্যের “পুরুলিয়া” বইয়ের বরাতে) দেখায় পদগুলো একটি বিয়েতে কীভাবে কাজ ভাগ করে নেয়: পাত্রের বাবা জগমাঝিকে বলেন পাঁচজন করে ছেলেমেয়ে জোগাড় করতে, জগমাঝি সেই কাজ দেন গোড়েৎ মাঝিকে; নায়কে মণ্ডপের জন্য মুরগি বলি দেন; বিয়েতে কোনো মন্ত্র পড়া হয় না, শুধু কনে বিদায়ের সময় মাঝি পাত্রকে প্রথামতো কিছু কথা বলেন। একই উৎসের মাঘ সিম-ভুক্তি বলছে, পুরুলিয়ার মাঘ সিম উৎসবে হাঁড়িয়া তৈরির জন্য গোড়েৎ মাঝি প্রতি ঘর থেকে একটু চাল বা বাজরা তোলেন, আর নায়কে স্নান করে মুরগি পূজা করেন। Bompas-এর 1909 সালের লোককথা সংকলনের একটি গল্পেও কাউকে ডেকে আনতে “jog manjhi” আর “godet”-কে পাঠানো হয়।
আমাদের আর্কাইভের “সাঁওতাল বিদ্রোহ: ভারতবর্ষে স্বাধিকার আদায়ের ইতিহাসে উজ্জ্বল মাইলফলক” লেখায় (রোর বাংলার বরাতে) রাজমহল পাহাড়ের কাছের সাঁওতাল গ্রামের পদগুলোর নাম অন্যভাবে আছে: নির্বাচিত সর্দার মাঝি, তার সঙ্গে “একজন পরামাণিক, একজন গোরাইত, একজন যোগ-মাঝি, একজন দেশ-মাঝি”, আর কয়েকটি গ্রাম নিয়ে পরগণার প্রধান “পরগণাইত”। এই তালিকার “গোরাইত” আর অন্য উৎসের “গোডেৎ” একই পদ কি না, তা কোনো উৎস বলেনি।
গ্রামের বিরোধ মেটে গ্রামসভায়। মাঝি সভা ডাকেন — খবর পৌঁছান গোডেৎ — আর গ্রামের গৃহকর্তারা জড়ো হন। সবার কথা শোনার পর মাঝি সভার সম্মিলিত মত সারসংক্ষেপ করে রায় দেন। লক্ষ্য সাধারণত ক্ষতিপূরণ দিয়ে ভুল শোধরানো, নয়তো জরিমানা — যা প্রায়ই উপস্থিত সবার জন্য খাবার বা পানীয়।
এই বিবরণের সবচেয়ে কাছের উৎস ফৌজিয়া শরীফের (2007) মাঠ-গবেষণা, যা হয়েছিল ভারতের ঝাড়খণ্ড আর বাংলাদেশের রাজশাহীতে — 2002–2004 সালে পাঁচবার মাঠে গিয়ে, সবচেয়ে দীর্ঘ সফরে পাঁচ মাস চারটি গ্রামে থেকে (দুই দেশে দুটি করে), সাঁওতালিতে সাক্ষাৎকার নিয়ে। তাঁর বর্ণনায় গ্রামের আদালত হলো গ্রামের সব পুরুষ গৃহকর্তার সমাবেশ, সভাপতি মাঝি; সিদ্ধান্ত উপস্থিত সবার সম্মিলিত, মাঝি বা পারগানাইত আলোচনা শুনে প্রধান মতৈক্যটি সারসংক্ষেপ করেন।
হাঁসদাক (2014) W. G. Archer-এর “Tribal Law and Justice” (1946) উদ্ধৃত করে একই ছবি দিয়েছেন: বিরোধ দেখা দিলে মাঝি নিজের গ্রামের পদাধিকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন, গ্রামসভা ডাকেন ও সভাপতিত্ব করেন, আর রায় দেন “গ্রামের মনোভাব” (the sense of the village) বুঝে।
শরীফ লিখেছেন, পরিবারের ভেতরের বিরোধে গ্রাম ঢোকে না, যতক্ষণ না পরিবারের কেউ গ্রামকে ডাকেন। ব্যতিক্রম তিনটি — গোষ্ঠীর বাইরে বিয়ে, একই গোত্রে বিয়ে, আর ডাইনিচর্চার অভিযোগ; এগুলো “গ্রামের বিষয়”, কারণ পুরো গ্রাম তাতে প্রভাবিত বলে ধরা হয়। পদাধিকারীরা অনধিকার প্রবেশ, বিয়ে, তালাক, চুরি — এসব বিষয়ে সাঁওতাল আইন প্রয়োগ করেন, আর জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু, অসুখের সামাজিক রীতিও তাঁদের তত্ত্বাবধানে।
বীরভূমের মাঠকর্ম থেকে রোশনি চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, বিরোধ মেটাতে মাঝি কোনো ফি নেন না; পক্ষগুলো কৃতজ্ঞতার চিহ্ন হিসেবে Majhi-Haram-কে হাঁড়িয়া দেন। তিনি আরও লিখেছেন, সেখানে পুলিশ মামলা নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করে বিষয়টি গ্রামের মাঝির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না। বাংলাদেশে এমন চর্চা আছে কি না, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রামের রায়ে কেউ সন্তুষ্ট না হলে বিষয়টি ওপরের স্তরে যায়। কয়েকটি গ্রাম মিলে একজন পারগানা বা পারগানাইতের এলাকা; সেখানে আশপাশের কয়েকজন মাঝি মিলে বিচার করেন। সবার ওপরে বছরে একবার শিকার-উৎসবের সময় বহু গ্রামের মানুষের সভা, যাকে কেউ সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন। স্তরগুলোর নাম ও গঠন নিয়ে উৎসভেদে পার্থক্য আছে।
| উৎস | গ্রাম | মাঝের স্তর | সর্বোচ্চ স্তর |
|---|---|---|---|
| শরীফ 2007 (ঝাড়খণ্ড ও রাজশাহী) | গ্রাম আদালত: সব পুরুষ গৃহকর্তা, সভাপতি মাঝি | more hor: এলাকার পাঁচ মাঝির সভা, সভাপতি Parganait; কয়েক গ্রামের এই এককের নাম “bungalow” | lo bir: বার্ষিক শিকারের সময়, বহু গ্রামের সব পুরুষ গৃহকর্তা |
| হাঁসদাক 2014 (Archer-এর বরাতে) | মাঝির গ্রামসভা | মাঝি জানান Pargana-কে, যিনি “More Manjhi” ডাকেন — পাঁচ গ্রামের উচ্চতর আদালত, যা মাঝির রায় অনুমোদন করে | — |
| Behera (The Tribal Tribune) | মাঝির পঞ্চায়েত | Pargana: 10–12টি গ্রাম, প্রধান Parganait (কয়েকজন মাঝি বাছেন, আজীবন); সহকারী Desh Manjhi, যিনি নথি রাখেন | Lo Bir: বার্ষিক শিকারের সময়, পরিচালক ও বিচারক Dihri |
| গুরুদাস মুর্মু 2023 (ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের বরাতে) | Atu (গ্রাম্য) বিচার: পাঁচজন, প্রধান মাঝি | Pargana (আঞ্চলিক) বিচার: 10–15 গ্রাম; সাহায্য করেন Deshmajhi ও Chakaldar | La-Bir: প্রধান Dehuri; শিকার-উৎসব Sendra-র সময়; এর পর আর আপিল নেই |
| জলিল 1991 (Shamsuddoha ও Jahan-এর বরাতে, বাংলাদেশ) | গ্রামের পাঁচ পদাধিকারী | pargana: কয়েকজন মাঝি হাড়াম নিয়ে, প্রধান parganit; কমিটি সাধারণত চার-পাঁচজনের | Des Manjhi Council: পাঁচ-ছয় বা তার বেশি পারগানা ও তাদের মাঝি হাড়াম |
পার্থক্যগুলো এক বাক্যে: শরীফ ও হাঁসদাক মাঝের স্তরে পাঁচ মাঝি বা পাঁচ গ্রামের কথা বলেন, Behera বলেন 10–12 গ্রাম, গুরুদাস মুর্মু 10–15 গ্রাম; Behera ও মুর্মুর কাছে “দেশ মাঝি” পারগানার সহকারী, জলিলের কাছে “Des Manjhi Council” সবচেয়ে ওপরের পরিষদ। আমাদের আর্কাইভের সাঁওতাল বিদ্রোহ-বিষয়ক লেখায় (রোর বাংলার বরাতে) দেশ-মাঝি আবার গ্রামের পদাধিকারীদের একজন।
“মঁড়ে হড়” কথাটি নিয়েও দুই রকম ব্যবহার আছে। বাংলা উইকিপিডিয়ার সারি ধরম-ভুক্তিতে “আতু মঁড়ে হড়” মানে গ্রামের পাঁচ পদাধিকারী; শরীফের লেখায় “more hor” আশপাশের পাঁচ মাঝির সভা। গুরুদাস মুর্মু চারুলাল মুখার্জির “The Santals” উদ্ধৃত করেছেন: গ্রামে কর্তৃত্ব চালান প্রধান, কিন্তু সবসময় “mare hor” (পঞ্চায়েত)-এর সঙ্গে পরামর্শ করে, যাঁরা মূলত ছিলেন পাঁচজন।
সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ শাস্তি জরিমানা, যার অংশ ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যায়, আর প্রায়ই তা উপস্থিত সবার খাবার-পানীয়ের রূপ নেয়। সবচেয়ে কঠিন শাস্তি সমাজচ্যুতি, যার নাম bitlaha (বিটলাহা) [যাচাই প্রয়োজন — বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে পাওয়া যায়নি]। ডাইনি অপবাদে নারীকে গ্রামছাড়া করার হুমকির কথাও উৎসে আছে।
হাঁসদাক (2014) বিটলাহার ধাপগুলো এভাবে দিয়েছেন: সাধারণত শুরু হয় গ্রামের সামাজিক বর্জন আর জরিমানা দিয়ে, শেষ হয় অপরাধীর বাড়ি অপবিত্র করার মধ্য দিয়ে। জরিমানা তৎক্ষণাৎ দিতে না পারলে ছেলের বাড়িতে বিটলাহা হয়। কোন অপরাধে বিটলাহা — তিনি স্ক্রেফসরুড উদ্ধৃত করেছেন: অন্য জাতির মানুষের সঙ্গে বা নিষিদ্ধ আত্মীয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক। জরিমানার একটি অংশ মেয়েটি বা তার বাবাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়, যার নাম lajao marao। Behera-ও বিটলাহাকে পরিষদের “সবচেয়ে বড় শাস্তি” বলেছেন।
শরীফ (2007) লিখেছেন, ডাইনি অপবাদ পাওয়া নারীকে গ্রামের আইনে বহিষ্কার বা মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হতে পারে। তাঁর দেওয়া সংখ্যাগুলো ভারতের: ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মাসে এক-দুটি এমন মামলা আসত, দেওঘর জেলায় ডাইনি-সংক্রান্ত মামলা ছিল সব ফৌজদারি মামলার 30–40 শতাংশ; পশ্চিমবঙ্গে ভট্টাচার্যের এক সমীক্ষায় 50টি ডাইনি-সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনার মাত্র তিনটি আদালতে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সাঁওতাল গ্রামে এমন ঘটনার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
দুটোই — উৎস আর সময়ভেদে। প্রথাগতভাবে পদগুলো গ্রামের প্রতিষ্ঠাতাদের বংশধরদের হাতে থাকে, কিন্তু অযোগ্য হলে গ্রামবাসী বদলাতে পারেন; বার্ষিক মাঘ উৎসবে পদাধিকারীদের পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের রীতির কথাও আছে। বাংলাদেশের রাজশাহীর যে গ্রামগুলোতে শরীফ ছিলেন, সেখানে ভোটে মাঝি বাছাই বংশানুক্রমের জায়গা নিচ্ছিল।
শরীফ (2007) লিখেছেন, পদগুলো প্রথাগতভাবে বংশানুক্রমিক — গ্রামের আদি প্রতিষ্ঠাতাদের বংশধরদের — তবে কেউ অসুস্থ বা অযোগ্য হলে বার্ষিক মাঘ (Mag) উৎসবে গ্রামবাসী তাঁকে বদলাতে পারেন। তাঁর গবেষণার গ্রামগুলোতে “গণতন্ত্র প্রথাগত ব্যবস্থার জায়গা নিচ্ছিল”: মাঝি ও অন্যরা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রথা-জ্ঞান, পরিপক্বতা ও বিরোধ মেটানোয় ন্যায্যতার জন্য, বংশ না দেখে।
বাংলা উইকিপিডিয়ার মাঘ সিম-ভুক্তি পুরুলিয়ার কথা বলে উল্টো দিকের পরিবর্তন দেখায়: অতীতে মাঘ সিমে পারমানিক, জগমাঝি, জগপারমানিক, গোড়েৎ মাঝি, নায়কে, কুড়ান নায়কে প্রভৃতি পদাধিকারী পদত্যাগ করতেন, নতুন সমাজপ্রধান নির্বাচিত হতেন, জমিও নতুন করে বিলি হতো; এখন পদগুলো বংশানুক্রমিক হয়ে যাওয়ায় প্রথাটি “রীতিরক্ষা মাত্র”। গুরুদাস মুর্মু (2023) লিখেছেন, পাঁচ পদের কোনোটি স্থায়ী নয়, ঠিকমতো না চালালে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সবার সভায় অন্য কাউকে বসানো যায়; আর এই পাঁচজন বিশেষ কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। চট্টোপাধ্যায় (2022) বীরভূমে মাঝির পদকে “বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বংশানুক্রমিক” বলেছেন। Behera লিখেছেন, গ্রাম প্রতিষ্ঠার সময় সব পদাধিকারী নির্বাচিত হন, পরে পদ বংশানুক্রমিক ধরা হয়; একসময় মাঝি খাজনামুক্ত “Manland” জমি পেতেন, এখন খাজনা তোলেন না, সেই জমিও পান না।
আমাদের আর্কাইভের সাঁওতাল বিদ্রোহ-বিষয়ক লেখাটি রাজমহলের সাঁওতাল গ্রামের প্রসঙ্গে মাঝিকে সরাসরি “নির্বাচিত একজন সর্দার” বলেছে।
বাংলাদেশ থেকে লেখা উৎস কম, তবে যা আছে তা দেখায় ব্যবস্থাটি চালু, কিন্তু নাম ও খুঁটিনাটি জায়গাভেদে আলাদা। দিনাজপুরের দুটি গ্রামে প্রধানকে বলা হয়েছে “মহত” বা “পারগানা”, পানছড়িতে “মাঞ্জহি” বা “কারবারি”; দুই জায়গাতেই পাঁচ সদস্যের পরিষদের কথা আছে। রাজশাহীতে শরীফ নির্বাচিত মাঝি দেখেছেন।
জুমজার্নালের ইবুক সংগ্রহে থাকা সালেক খোকনের “আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য” (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, 2011) বইয়ে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কয়েকটি সাঁওতাল গ্রামের মাঠের লেখা আছে। সেখানে গ্রামপ্রধানের নাম “মাঝি” নয় — “মহত” বা “পারগানা”, যাঁকে লেখক “গোত্রপ্রধান” বলেছেন।
দুটি বিষয় এখানে লক্ষণীয়। ভারতের উৎসগুলোতে “পারগানা” কয়েক গ্রামের প্রধান, কিন্তু খোকনের বিবরণে দিনাজপুরে শব্দটি গ্রাম বা গোত্রের প্রধানের সমার্থক। আর ভারতের উৎসে বলি দেন নায়কে, কিন্তু গিরিডোবার সোহরাইয়ে বলি দিচ্ছেন মহত। এটি স্থানীয় রীতি, নাকি লেখকের পদ-চিহ্নিতকরণের ফল, তা উৎস থেকে বোঝা যায় না।
সুসান্না টুডু দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় (13 সেপ্টেম্বর 2026) লিখেছেন, পানছড়ির প্রতিটি সাঁওতাল পাড়ায় সামাজিক বিষয় দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি পরিষদ আছে, নেতৃত্বে “‘মাঞ্জহি’ বা স্থানীয়ভাবে ‘কারবারি’ নামে পরিচিত একজন”। কানুনগোপাড়ার কারবারি আকাশ সান্তাল মুর্মু প্রায় 40টি পরিবার দেখাশোনা করেন। গবেষক মানিক মুর্মুর বরাতে প্রতিবেদনটি লিখেছে, পুরো গ্রামে মাত্র সাত-আটটি পরিবারের নিজস্ব কৃষিজমি আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠান — হেডম্যান, কারবারি — নিয়ে আমাদের আর্কাইভে আছে “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে আদিবাসী নারীর অংশগ্রহণ“; পানছড়ির সাঁওতাল মাঞ্জহি সেই কাঠামোর অংশ কি না, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
শরীফের রাজশাহীর গ্রামগুলোতে মাঝিসহ পদাধিকারীরা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন (ওপরের অংশ দেখুন)। তিনি দুই দেশের পার্থক্যও দেখিয়েছেন: বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় আইনকে সাঁওতাল আইন থেকে “বিচ্ছিন্ন ও আলাদা” মনে করা হতো, অচেনা বলে ভয়ও পাওয়া হতো, আর সেই ভয়েই রাষ্ট্রের আদালতে যাওয়ার পথ কঠিন হতো; ভারতে দুটি আইনকে তুলনামূলক কাছাকাছি মনে করা হতো। দুই দেশেই রাষ্ট্রের আদালতে যাওয়া গ্রামের অনৈক্য হিসেবে দেখা হতো, আর অনেকে কেবল মাঝির সম্মতি পেলে তবেই সেটা ভাবতেন।
সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েত পুরুষপ্রধান: গ্রাম আদালত গঠিত হয় পুরুষ গৃহকর্তাদের নিয়ে, আর নারী মাঝি হওয়ার বিরুদ্ধে কোনো নিয়ম না থাকলেও তা “খুবই বিরল”, শরীফ লিখেছেন। তবু স্বামীর নির্যাতনের মতো বিষয়ে নারীরা পরিষদের কাছে যান, আর সেখানে জরিমানার ভয় কাজে আসে বলে তাঁর মাঠের তথ্য বলছে। উত্তরাধিকারে নারীর অধিকার সামান্য।
শরীফ লিখেছেন, প্রতিটি গ্রামে নারীদের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপে তাঁকে বলা হয়েছিল, গ্রাম পরিষদকে একবার ডাকা হলে অতিরিক্ত নির্যাতন চালিয়ে গেলে কঠিন জরিমানার মুখে পড়ে পুরুষেরা প্রায়ই আচরণ বদলান। পরিষদ স্ত্রীকে কিছু শাসন নীরবে মেনে নেয়, কিন্তু বিশেষ করে মাতাল অবস্থায় নির্বিচার সহিংসতাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। বাংলাপিডিয়াও লিখেছে, সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে শরীফের একটি পর্যবেক্ষণ সরাসরি বাংলাদেশের: এখানকার আদালত সাঁওতাল উত্তরাধিকার আইনকে হিন্দু আইনের সমতুল্য ধরে ভুল ব্যাখ্যা করে সব সাঁওতাল মামলায় তা প্রয়োগ করে। তাঁর মতে, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকারী নারী পুরুষ আত্মীয়দের বাধায় পড়লে গ্রাম পরিষদের চেয়ে রাষ্ট্রের আদালত থেকে বেশি অনুকূল রায় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শরীফ সাঁওতাল সমাজকে পিতৃতান্ত্রিক বলেছেন। কোন জাতিগুলো মাতৃসূত্রীয় আর কোনগুলো নয়, সে তুলনা আমাদের আরেকটি লেখায়: “বাংলাদেশের কোন জাতিগুলো মাতৃসূত্রীয়, কোনগুলো নয়”।
প্রথাগত বিচারের নামে চরম নিপীড়নের একটি ঘটনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের — বাংলাদেশের নয়। 21 জানুয়ারি 2014 বীরভূমের সুবলপুর গ্রামে ভিন্ন সম্প্রদায়ের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের “শাস্তি” হিসেবে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে, একটি “সালিশি সভা” প্রথমে 50,000 রুপি জরিমানা ধার্য করে, তা দিতে না পারায় ধর্ষণের নির্দেশ দেয়; সভাটি আয়োজন করেছিল গ্রামসভা, নেতৃত্বে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত নেতা। রোশনি চট্টোপাধ্যায়ের বিবরণে নির্দেশটি এসেছিল “মাঝি-নেতৃত্বাধীন আদালত” থেকে, আর অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রামের মাঝিও ছিলেন। 19 সেপ্টেম্বর 2014 জেলা আদালত 13 জনকে দোষী সাব্যস্ত করে 20 বছরের কারাদণ্ড দেয়। চট্টোপাধ্যায় একই সঙ্গে লিখেছেন, নারীকে প্রকাশ্যে সহিংস লাঞ্ছনা সাঁওতাল মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়।
শরীফের (2007) বর্ণনায় ভারত ও বাংলাদেশ — দুই দেশেই বিয়ে, তালাক ও উত্তরাধিকারের মতো পারিবারিক বিষয়ে সাঁওতালদের নিজস্ব আইন অগ্রাধিকার পায়, কিন্তু ফৌজদারি আইন ও বেশির ভাগ দেওয়ানি আইন তাঁদের ওপর প্রযোজ্য। ফলে মাঝির বিচার চলে রাষ্ট্রের আইনের পাশাপাশি, তার জায়গায় নয়।
শরীফের ভাষায়, অনেকের কাছে রাষ্ট্রের আইন অচেনা, কেবল অপরাধ ঘটলে তা “নিজেকে চাপিয়ে দেয়”; আবার কারও কাছে, বিশেষ করে জমির মামলায়, তা কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার বাড়তি হাতিয়ার। সমতলে আদিবাসীর জমি হস্তান্তরে রাষ্ট্রীয় আইনের একটি বিশেষ বিধান আছে — রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের 97 ধারা; তার পূর্ণ পাঠ আমাদের আরেকটি লেখায়: “প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা: সমতলে আদিবাসীর জমি হস্তান্তরে যে বিধান”।
প্রথাগত আইনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে Roy ও সহ-লেখকেরা (2025) বাংলাদেশের সাঁওতালদের প্রথাগত আইন বিশ্লেষণ করে প্রথাগত কাঠামো নিয়ে অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক দলিলের অভাবের কথা বলেছেন, এবং একটি “টেকসই কমিউনিটি উন্নয়ন কাঠামো”-র সুপারিশ করেছেন। তাঁরা উদাহরণ দিয়েছেন 2006 সালের দিনাজপুরের ফুলবাড়ির কয়লা প্রকল্পের, যা তাঁদের মতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রথাগত নিয়ম ভঙ্গ করত। পারিবারিক আইনে সাঁওতাল প্রথা বাংলাদেশের আদালতে কীভাবে প্রমাণ বা প্রয়োগ হয়, তার কোনো রায়-ভিত্তিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
গারো সমাজের প্রথাগত শাসন ও বিচার কীভাবে চলে, তা জানতে দেখতে পারেন আমাদের আরেকটি লেখা — “মাহারি ও নকমা: গারো সমাজ ভেতর থেকে কীভাবে চলে”। দুই সমাজের ব্যবস্থা আলাদা; একটির নিয়ম অন্যটিতে খাটে না।
1855 সালের হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে আছে “সাঁওতাল বিদ্রোহ: ভগনাডিহির সিধু-কানু” ও “সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল ও প্রভাব“। লোককথার মধ্যে “রাজকুমারের বুদ্ধি খরিদ“, “ধন্যি বটে মন্ত্রী“, “যখন খরগোশ খেত বাঘকে“, “নাপিতের বুদ্ধি” ও “ভাইয়ের জন্য উপহার“।
মাঝি হাড়াম সাঁওতাল গ্রামের প্রধান, সংক্ষেপে মাঝি। এ. জলিলের 1991 সালের বইয়ের বরাতে Shamsuddoha ও Jahan (2018) তাঁকে গ্রামের পাঁচ পদাধিকারীর প্রথমজন বলেছেন। তিনি গ্রামসভা ডাকেন, সভাপতিত্ব করেন, সবার কথা শুনে সম্মিলিত রায় ঘোষণা করেন। কিছু উৎসে মাঝি হাড়াম নামটি গ্রাম-রক্ষক এক আত্মারও।
সাধারণত পাঁচজন: মাঝি, পারানিক, জগমাঝি, গোডেৎ ও নায়কে — বাংলা উইকিপিডিয়ার সারি ধরম-ভুক্তি এঁদের বলেছে “আতু মঁড়ে হড়”। জলিলের তালিকায় পারানিকের বদলে জগপারানিক, আর নায়কেকে সেখানে পুরোহিত হিসেবে আলাদা ধরা হয়। সোহরায়-ভুক্তি জগপারানিক ও কুডৗম নায়কে যোগ করে সাতজন বলেছে।
জগমাঝি গ্রামের তরুণ-তরুণীদের আচরণ ও নৈতিকতা দেখেন — হাঁসদাক (2014), শরীফ (2007) ও Bompas (1909) একমত। Behera লিখেছেন তিনি উৎসবে নাচ পরিচালনা করেন। গুরুদাস মুর্মু (2023) ও বাংলা উইকিপিডিয়ার একটি ভুক্তি অবশ্য জগমাঝিকে মাঝির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী উপপ্রধান বলেছে।
পারানিক সাঁওতাল গ্রামের উপপ্রধান বলে হাঁসদাক (2014), শরীফ (2007) ও Bompas (1909) লিখেছেন। Behera-র বর্ণনায় মাঝির অনুপস্থিতিতে পারানিক কাজ চালান, আর মাঝি উত্তরসূরি ছাড়া মারা গেলে বা পদ ছাড়লে পারানিক মাঝি হন। বাংলা উৎসে বানান পারানিক, পরাণিক, পারমানিক বা পরামাণিক।
গোডেৎ মাঝির বার্তাবাহক — সভার খবর ঘরে ঘরে পৌঁছান (হাঁসদাক, Behera); Bompas তাঁকে গ্রামের কনস্টেবল বলেছেন। নায়কে গ্রামের পুরোহিত: বার্ষিক উৎসবে পূজা করেন, মহামারিতে বিশেষ বলি দেন। জলিলের বিবরণে নায়কে সাধারণত পদাধিকারী হিসেবে গণ্য নন, পুরোহিত হিসেবে আলাদা।
গ্রামসভায়। শরীফের (2007) ঝাড়খণ্ড ও রাজশাহীর মাঠ-গবেষণা অনুযায়ী গ্রামের সব পুরুষ গৃহকর্তা জড়ো হন, সভাপতি মাঝি। সবার আলোচনা শুনে মাঝি প্রধান মতৈক্যটি সারসংক্ষেপ করে রায় দেন। লক্ষ্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে ভুল শোধরানো, নয়তো জরিমানা — যা প্রায়ই উপস্থিত সবার জন্য খাবার বা পানীয়।
পারগানার স্তরে। শরীফের বিবরণে এলাকার পাঁচ মাঝির সভা, সভাপতি পারগানাইত; হাঁসদাকের বিবরণে পাঁচ গ্রামের “More Manjhi” আদালত মাঝির রায় অনুমোদন করে। তার ওপরে বার্ষিক শিকার-উৎসবের সময় বহু গ্রামের সভা, যাকে গুরুদাস মুর্মু সর্বোচ্চ বিচার বলেছেন, যার পর আর আপিল নেই।
বিটলাহা (bitlaha) সাঁওতাল গ্রামের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি, সমাজচ্যুতি। হাঁসদাক (2014) লিখেছেন, এটি শুরু হয় সামাজিক বর্জন ও জরিমানা দিয়ে, শেষ হয় অপরাধীর বাড়ি অপবিত্র করার মধ্য দিয়ে। স্ক্রেফসরুডের বরাতে কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন অন্য জাতির মানুষের বা নিষিদ্ধ আত্মীয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক।
প্রথাগতভাবে হ্যাঁ — গ্রামের প্রতিষ্ঠাতাদের বংশধরেরা পদ পান, তবে অযোগ্য হলে বার্ষিক মাঘ উৎসবে গ্রামবাসী বদলাতে পারেন, শরীফ (2007) লিখেছেন। রাজশাহীর যে গ্রামগুলোতে তিনি ছিলেন, সেখানে মাঝি ও অন্য পদাধিকারীরা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রথা-জ্ঞান ও ন্যায্যতার জন্য, বংশ না দেখে।
নিয়মে বাধা নেই, কিন্তু তা খুবই বিরল — শরীফ (2007) লিখেছেন। গ্রাম আদালত পুরুষ গৃহকর্তাদের সভা, আর পদাধিকারী ও গ্রামের অভিজাতরা সাধারণত পুরুষ। তবু তাঁর মাঠের তথ্যে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে নারীরা পরিষদে যান, আর কঠিন জরিমানার ভয়ে পুরুষেরা প্রায়ই আচরণ বদলান।
জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 1,29,056 জন — পুরুষ 63,644, নারী 65,412; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম। রাজশাহী বিভাগে 56,990 আর রংপুর বিভাগে 55,820, অর্থাৎ 87 শতাংশের বেশি এই দুই বিভাগে; সিলেট বিভাগে 13,274। দ্য ডেইলি স্টার 2017 সালে সংখ্যাটি প্রায় আট লাখ লিখেছিল।
নিজস্ব লিপি অলচিকি, 1925 সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর তৈরি; ভারতে এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে সাঁওতালি বাংলা হরফে লেখা হয়, আর একাংশ রোমান হরফ চান। এই বিরোধে সাঁওতালি প্রাক-প্রাথমিক বই ছাপা আটকে ছিল বলে দ্য ডেইলি স্টার 2017 ও 2018 সালে জানিয়েছে।
“মাঞ্জহি”, স্থানীয়ভাবে “কারবারি”। দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় সুসান্না টুডুর 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ির পানছড়ির তিনটি পাড়ায় 70–80টি সাঁওতাল পরিবার থাকে, প্রতিটি পাড়ায় পাঁচ সদস্যের পরিষদ আছে। কানুনগোপাড়ার কারবারি আকাশ সান্তাল মুর্মু প্রায় 40টি পরিবার দেখাশোনা করেন।
জুমজার্নালের নিজস্ব সংগ্রহ
সরকারি পরিসংখ্যান
বিশ্বকোষ
গবেষণা
সংবাদমাধ্যম
সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:প্রথাগত আইন, সাঁওতাল, সাঁওতাল সমাজ, সাঁওতালি ভাষা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।