Jumjournal Logo

কল্পনা চাকমা মামলার নথি: ১৯৯৬ থেকে খারিজ পর্যন্ত কালানুক্রম

Last updated Oct 19th, 2026

0

চট্টগ্রাম বিভাগের মানচিত্রে গাঢ় লাল রঙে বাঘাইছড়ি উপজেলা আর হালকা লাল রঙে রাঙামাটি জেলার বাকি অংশ, নিচে বাংলাদেশের ছোট মানচিত্র

কল্পনা চাকমা মামলা শুরু হয় 1996 সালের জুনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানায় তাঁর বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমার করা অপহরণের এজাহার দিয়ে, আর নিম্ন আদালতে শেষ হয় 23 এপ্রিল 2024, যখন রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। মাঝের 28 বছরে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন, থানা পুলিশ, সিআইডি ও জেলা পুলিশ সুপারের তিন দফা তদন্ত হয়েছে; কোনোটিই অপহরণকারী শনাক্ত করেনি। খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করেছে, যার নিষ্পত্তির খবর অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

এই লেখা কল্পনা চাকমার জীবনী নয়, অপহরণের রাতের পূর্ণ বিবরণও নয়। তাঁর পরিচয়, অপহরণের রাত আর তাঁকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ আমাদের আর্কাইভের পুরোনো লেখা দুলুহুমারী এবং কল্পনা চাকমা-য় আছে। এখানে আছে শুধু মামলার কাগজের পথ: কোন তারিখে, কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে, কোন নথি বা প্রতিবেদন জমা পড়েছিল, আর তাতে কী লেখা ছিল বলে প্রকাশিত উৎসগুলো জানায়। অভিযুক্তদের নাম এখানে ঠিক ততটুকুই এসেছে, যতটুকু এজাহার, আদালতের নথি বা নামধারী প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে; তাঁদের পক্ষে কোথাও কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়ে থাকলে সেটিও রাখা হয়েছে। কোন তদন্ত ঠিক, কোনটি ভুল, সে রায় এই লেখার কাজ নয়। উৎসে তারিখ বা নামে অমিল থাকলে দুটোই পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে।

সূচিপত্র

  1. কল্পনা চাকমা মামলা এক নজরে: কোন নথি, কোন তারিখ
  2. মামলা কবে, কোন থানায়, কোন ধারায় হয়েছিল
  3. 1996 সালের গ্রীষ্মে সেনাবাহিনী ও অন্যরা কী বলেছিল
  4. অ্যামনেস্টি ও জাতিসংঘের নথিতে মামলাটি
  5. বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কী বলেছিল
  6. 1997 থেকে 2010: মামলা থানা থেকে ডিবিতে, আবার থানায়
  7. প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন, 21 মে 2010
  8. সিআইডির প্রতিবেদন কেন আদালতে টেকেনি
  9. পুলিশ সুপারের পুনঃতদন্ত: 2013 থেকে 2016
  10. 39তম তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন: 2016 না 2018
  11. নারাজি আবেদনের শুনানি কেন আট বছর চলল
  12. 23 এপ্রিল 2024: মামলা খারিজের আদেশ
  13. খারিজের পর রিভিশন: মামলা এখন কোথায়
  14. নথিতে অভিযুক্ত কারা, আর তাঁদের পক্ষে কী বলা হয়েছে
  15. তদন্ত কর্মকর্তা কতজন বদলেছেন
  16. প্রশ্নোত্তর
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

কল্পনা চাকমা মামলা এক নজরে: কোন নথি, কোন তারিখ

মামলাটির নথিপথে মোট সাতটি বড় ধাপ: এজাহার (জুন 1996), বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রতিবেদন (ফেব্রুয়ারি 1997), থানা পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (মে 2010), সিআইডির প্রতিবেদন (সেপ্টেম্বর 2012), পুলিশ সুপারের অগ্রগতি প্রতিবেদন (জুলাই 2014), 39তম তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সেপ্টেম্বর 2016) এবং খারিজের আদেশ (এপ্রিল 2024)। নিচের ছকে প্রতিটির তারিখ, কর্তৃপক্ষ ও উৎস একসঙ্গে রাখা হলো।

তারিখ কর্তৃপক্ষ নথি বা ঘটনা উৎস
12 জুন 1996 বাঘাইছড়ি থানা এজাহার, মামলা নং 2, দণ্ডবিধির 364 ধারা হিল ভয়েস 2025; নিউ এজ 2018
1 জুলাই 1996 অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জরুরি আবেদন ASA 13/07/96 অ্যামনেস্টি
7 বা 9 সেপ্টেম্বর 1996 সরকার (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন হিল ভয়েস; নিউ এজ 2018
27 ফেব্রুয়ারি 1997 তদন্ত কমিশন 40 পৃষ্ঠার প্রতিবেদন, অপ্রকাশিত নিউ এজ 2018; ডেইলি স্টার 2013
17 জানুয়ারি 1997 পুলিশ মামলা জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর হিল ভয়েস
26 ডিসেম্বর 2004 পুলিশ মামলা আবার বাঘাইছড়ি থানায় হিল ভয়েস
21 মে 2010 বাঘাইছড়ি থানা প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিউ এজ 2018; আজকের পত্রিকা
2 সেপ্টেম্বর 2010 রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের আদেশ নিউ এজ 2018, 2020
26 সেপ্টেম্বর 2012 সিআইডি, চট্টগ্রাম সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিউ এজ 2018; ডেইলি স্টার 2018
16 জানুয়ারি 2013 রাঙামাটির আদালত সিআইডি প্রতিবেদন নাকচ, পুলিশ সুপারকে পুনঃতদন্তের আদেশ ডেইলি স্টার 2014; হিল ভয়েস
20 জুলাই 2014 পুলিশ সুপার, রাঙামাটি তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন ডেইলি স্টার 2015; হিল ভয়েস
7 সেপ্টেম্বর 2016 পুলিশ সুপার (39তম তদন্ত কর্মকর্তা) চূড়ান্ত প্রতিবেদন, “সত্য নং 03” নিউ এজ 2018; হিল ভয়েস
অক্টোবর বা নভেম্বর 2016 বাদী নারাজি আবেদন নিউ এজ; বাংলা ট্রিবিউন
23 এপ্রিল 2024 রাঙামাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নারাজি নামঞ্জুর, চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ প্রথম আলো; ডেইলি স্টার; বিডিনিউজ
8 জুলাই 2024 রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন দাখিল হিল ভয়েস

ছকের কয়েকটি তারিখে উৎসগুলো একমত নয়। কমিশন গঠনের দিন, 39তম তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বছর আর নারাজি দাখিলের মাস নিয়ে অমিলগুলো নিচের সংশ্লিষ্ট অংশে উৎসের নামসহ আলাদা করে লেখা হয়েছে।

মামলা কবে, কোন থানায়, কোন ধারায় হয়েছিল

মামলাটি বাঘাইছড়ি থানার মামলা নং 2, তারিখ 12/06/96, দণ্ডবিধির 364 ধারায় (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ); বাদী কল্পনা চাকমার বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা। হিল ভয়েস এই নম্বর ও ধারা দিয়েছে। বাদী তিনজনের নাম দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখা বলছে থানা সেই নামগুলো বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে।

ঘটনার সময় নিয়েই উৎসে দুটি রূপ আছে। প্রথম আলো ও আজকের পত্রিকা লিখেছে 1996 সালের 11 জুন রাতে বা মধ্যরাতে; ডেইলি স্টার লিখেছে 12 জুন ভোরে, আর হিল ভয়েস সময় দিয়েছে 12 জুন রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে। দুটি কথা আসলে একই রাতকে বোঝায়; সেদিন সকালেই সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল। স্থান বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রাম, কাছেই কজইছড়ি সেনাক্যাম্প।

চট্টগ্রাম বিভাগের মানচিত্রে গাঢ় লাল রঙে বাঘাইছড়ি উপজেলা আর হালকা লাল রঙে রাঙামাটি জেলার বাকি অংশ, নিচে বাংলাদেশের ছোট মানচিত্র
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা (গাঢ় লাল)। মামলার থানা এই উপজেলারই। ছবি: C1MM · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

এজাহার কে লিখেছিলেন, আর কখন

মামলার দিনটি নিয়েও তিনটি তথ্য পাওয়া যায়। হিল ভয়েস ও নিউ এজ বলছে এজাহার হয় 12 জুনই; প্রথম আলোর জানুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদন বলছে 13 জুন; ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে “কয়েক দিন পরে”। মামলা নম্বরের পাশে লেখা তারিখ 12/06/96, যা হিল ভয়েস উদ্ধৃত করেছে।

হিল ভয়েসের বিবরণে এজাহারের আগের একটি ধাপও আছে। 12 জুন সকাল পৌনে সাতটায় কালিন্দী কুমার চাকমা স্থানীয় মুরুব্বি সম্রাটসুর চাকমা ও ইউপি চেয়ারম্যান দীপ্তিমান চাকমাকে নিয়ে বাঘাইছড়ির তৎকালীন টিএনও হাসান জাহাঙ্গীরের কাছে যান; টিএনও তাঁর বিবরণ লিখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠান, আর কালিন্দী ঘটনাস্থলে পাওয়া পাঁচটি গুলির খোসা টিএনওর কাছে জমা দেন। একই প্রতিবেদনে অভিযোগ আছে, টিএনও লিখিত জবানবন্দিটি তাঁকে পড়ে শোনাননি। এই অংশটির জন্য হিল ভয়েসই একমাত্র উৎস।

এজাহারে কাদের নাম ছিল

বাদী যে তিনজনের নাম দিয়েছিলেন, উৎসগুলোতে তাঁরা হলেন কজইছড়ি সেনাক্যাম্পের তৎকালীন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান, এবং নুরুল হক ও সালেহ আহমদ। নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখা আরও বলে, বাদী তিনজনের নামের সঙ্গে 7–8 জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন, আর থানা তিনজনের নামই বাদ দিয়ে 10–12 জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা নেয়। নিউ এজে 2026 সালের একটি মতামত-লেখাও একই কথা বলেছে: এজাহারে অপহরণের অভিযোগ আছে, ভাইয়েরা যাঁদের চিনেছিলেন তাঁদের নাম নেই।

সালেহ আহমদের পরিচয় নিয়ে উৎসে অমিল আছে। হিল ভয়েস ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া তাঁকে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টির (ভিডিপি) সদস্য বলেছে; নিউ এজ ও ঢাকা ট্রিবিউন বলেছে পুলিশ কনস্টেবল। ইংরেজি উৎসে লেফটেন্যান্টের নামের বানানও এক নয়: Ferdous Kaisar Khan, Kaiser Khan, Kawsar Khan, Kaysar Khan। বাংলা উৎসগুলো বেশির ভাগ সময় শুধু “লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস” লিখেছে।

দুই ভাইয়ের নামও উৎসভেদে আলাদা দেখায়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও ডেইলি স্টারের 2008 সালের প্রতিবেদন লিখেছে কালীচরণ ও ক্ষুদিরাম; পরের প্রতিবেদনগুলো লিখেছে কালিন্দী কুমার ও লাল বিহারী। হিল ভয়েস দুটোকে মিলিয়ে দিয়েছে: কালিন্দী কুমার চাকমা (কালীচরণ) ও লাল বিহারী চাকমা (ক্ষুদিরাম)। দুজনই সে রাতে অপহরণকারীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন এবং পালিয়ে আসেন।

1996 সালের গ্রীষ্মে সেনাবাহিনী ও অন্যরা কী বলেছিল

প্রকাশিত উৎস অনুযায়ী সেনাবাহিনী অপহরণে কোনো সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিল; হেলিকপ্টার থেকে লিফলেট ছড়িয়ে ঘটনাটিকে “তথাকথিত অপহরণ” ও অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলেছিল; আর কল্পনা চাকমার খোঁজ দিলে 50,000 টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পরে সেনাবাহিনীর একটি মহল থেকে প্রেমঘটিত পলায়ন ও পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার কথাও প্রচারিত হয়েছিল বলে উৎসগুলো জানায়।

ডেইলি স্টারের 2014 সালের প্রতিবেদনে লেখা আছে, সেনাবাহিনী কল্পনার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র “categorically” অস্বীকার করেছিল, আর সেনাবাহিনীর “a certain quarter” থেকে বলা হয়েছিল লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস ও কল্পনা একসঙ্গে পালিয়েছেন, যার কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। একই প্রতিবেদন বলছে, এক মাসের মধ্যে “বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন” নামের একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে কল্পনাকে ভারতের ত্রিপুরায় দেখা গেছে এবং তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন; আগরতলার হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরাম অনুসন্ধান করে সেই দাবি ভিত্তিহীন বলে জানায়।

এই সময়ের আরও দুটি তারিখ ইংরেজি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে আছে: 18 জুলাই 1996 হেলিকপ্টার থেকে 50,000 টাকা পুরস্কারের লিফলেট ছড়ানো, আর 23 জুলাই 1996 সেনাবাহিনীর বিবৃতি যে কল্পনার পাসপোর্ট ছিল এবং তিনি গোপনে বিদেশে চলে গেছেন। মুক্তিপত্রের 2026 সালের প্রতিবেদন পাসপোর্টের বিবৃতিটি “জুলাই 1996, অপহরণের ছয় সপ্তাহ পরে” বলে উল্লেখ করেছে এবং লিখেছে কোনো পাসপোর্টের রেকর্ড হাজির করা হয়নি। দিন দুটির জন্য উইকিপিডিয়াই একমাত্র উৎস [যাচাই প্রয়োজন]।

কল্পনা চাকমার সহযোদ্ধা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোয় 2024 সালের এপ্রিলে লিখেছেন, সরকার তখন “বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন”-এর প্রতিনিধিদের হেলিকপ্টারে বাঘাইছড়ি পাঠিয়েছিল; তাঁরা বাংলা বলতে না পারা কল্পনার মায়ের সঙ্গে কথা বলে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেন। এটি একটি পক্ষের লেখা মতামত, সংবাদ প্রতিবেদন নয়।

একই প্রতিবাদে চারজনের মৃত্যু

অপহরণের প্রতিবাদে 17 জুন 1996 হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ডাকা অর্ধদিবস সড়ক অবরোধের দিন বাঘাইছড়িতে রূপন চাকমা গুলিতে, আর সুকেশ, মনোতোষ ও সমর বিজয় চাকমা ধারালো অস্ত্রে নিহত হন বলে হিল ভয়েস লিখেছে। ডেইলি স্টারের 2008 সালের প্রতিবেদন চারজনের মৃত্যুর জন্য বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের কথা বলেছে; ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোয় তাঁদের “গুম” হওয়ার কথা লিখেছেন। এই চার মৃত্যুর আলাদা কোনো মামলার নথি বা তার অবস্থা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

অ্যামনেস্টি ও জাতিসংঘের নথিতে মামলাটি

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল 1 জুলাই 1996 জরুরি আবেদন ASA 13/07/96 (UA 162/96) প্রকাশ করে এবং 28 আগস্ট 1996 তার হালনাগাদ ASA 13/09/96। দ্বিতীয়টিতে লেখা ছিল, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির আশ্বাস দিলেও অ্যামনেস্টির জানামতে কমিটি তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়নি।

প্রথম আবেদনের সারাংশে (অ্যামনেস্টির জুলাই 1996 সালের জরুরি আবেদন সংকলন) বলা হয়েছে, 23 বছর বয়সী এই আদিবাসী অধিকারকর্মীকে 12 জুন 1996 নিরাপত্তাকর্মীরা জোর করে আটক করে নিয়ে গেছেন বলে খবর, তাঁর ও দুই ভাইয়ের চোখ বেঁধে হাত বাঁধা হয়েছিল, আর ভাইয়েরা গুলির মধ্যেও পালাতে পেরেছিলেন। শিরোনামে মামলাটির শ্রেণি “Fear for safety / unacknowledged detention”, অর্থাৎ আটক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে না। হালনাগাদটি আছে সেপ্টেম্বর 1996-এর সংকলনে।

আমাদের আর্কাইভের লেখা দুলুহুমারী এবং কল্পনা চাকমা-র পাদটীকায় আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক নথির তালিকা আছে: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নথি DOC_EN\RE\311\311501 (23 অক্টোবর 1996), অস্ট্রেলীয় সিনেটের হ্যানসার্ড (2 অক্টোবর 1997, পৃষ্ঠা 7434), এবং জাতিসংঘের নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার Radhika Coomaraswamy-র প্রতিবেদন E/CN.4/1997/47/Add.4 (30 জানুয়ারি 1997)। এই তিনটি নথির মূল পাঠ পড়া যায়নি; এখানে কেবল তাদের অস্তিত্ব ও শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হলো।

পরের ধাপের একটি জাতিসংঘ-নথির কথা নিউ এজ জুন 2024-এ জানিয়েছে: সরকার জাতিসংঘের বলপূর্বক বা অনিচ্ছাকৃত অন্তর্ধান বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপকে (WGEID) জানিয়েছিল কল্পনা চাকমা এখনো নিখোঁজ; 2022 সালে সরকার জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরে জানানো 76টি অন্তর্ধানের ঘটনার হালনাগাদ প্রতিবেদন জমা দেয়; আর 12 আগস্ট 2022 ওয়ার্কিং গ্রুপ তার প্রতিবেদনে সব অমীমাংসিত ঘটনা পরিষ্কার করতে বাংলাদেশকে প্রচেষ্টা “redouble” করার আহ্বান জানায়।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কী বলেছিল

সরকার 1996 সালের সেপ্টেম্বরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশন 94 জনের সাক্ষ্য নিয়ে 40 পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়, যার উদ্ধৃত সিদ্ধান্ত ছিল: কল্পনা চাকমা “স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়” অপহৃত হয়েছেন, কিন্তু সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে অপহরণকারী শনাক্ত করা যায়নি। প্রতিবেদনটি সরকার কখনো প্রকাশ করেনি।

গঠনের তারিখ ও সদস্য

গঠনের দিন নিয়ে দুটি তারিখ আছে। হিল ভয়েস, বাংলা উইকিপিডিয়া এবং ডেইলি স্টারে কবিতা চাকমার 2016 সালের লেখা বলছে 7 সেপ্টেম্বর 1996; নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখা বলছে 9 সেপ্টেম্বর 1996, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিশনটি গঠন করে Commission of Inquiry Act 1957-এর অধীনে। কবিতা চাকমা লিখেছেন কমিশন গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সদস্য তিনজন: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম আব্দুল জলিল, চট্টগ্রামের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন [যাচাই প্রয়োজন], আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক অনুপম সেন [যাচাই প্রয়োজন]। দ্বিতীয় সদস্যের পদ নিয়ে অমিল আছে: নিউ এজ লিখেছে “commissioner of Chittagong division”, কবিতা চাকমা লিখেছেন “Deputy Commissioner of Chittagong”। শেষ দুটি নামের বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে মেলানো যায়নি।

প্রতিবেদন কবে জমা পড়ে

এখানে তিনটি রূপ পাওয়া যায়। নিউ এজ (2018), কবিতা চাকমার লেখা এবং ডেইলি স্টারে ডিসেম্বর 2013-এ প্রকাশিত 33 জন অধিকারকর্মীর বিবৃতির বিবরণ বলছে 27 ফেব্রুয়ারি 1997; হিল ভয়েস লিখেছে 27 ফেব্রুয়ারি 1998; আর আমাদের আর্কাইভের লেখা আদিবাসী নারীর অবস্থানঃ প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বলছে 1997 সালের মার্চে। কবিতা চাকমা লিখেছেন, জমা দেওয়ার খবর জাতীয় দৈনিকে এসেছিল 1997 সালের মার্চে; তাতে দুটি তারিখের ফারাক অনেকটা ব্যাখ্যা হয়।

প্রতিবেদনে কী ছিল, আর কীভাবে জানা গেল

প্রতিবেদনের যে বাক্যটি সব উৎসে উদ্ধৃত, তা হলো কল্পনা চাকমা “willingly or unwillingly” অপহৃত হয়েছেন, কিন্তু সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে অপহরণকারী শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডেইলি স্টারের 2013 সালের বিবরণে প্রতিবেদনের আরেকটি অংশ আছে: কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো কারণ নেই। কবিতা চাকমা লিখেছেন, প্রতিবেদনটি সেনাবাহিনী ও ভিডিপিকে দায়মুক্ত করেছিল।

কমিশন যে 94 জনের সাক্ষ্য নিয়েছিল তাঁদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ভিডিপির সদস্যরা ছিলেন বলে ডেইলি স্টার 2014 ও 2018 সালে লিখেছে। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত অধিকারকর্মীদের বিবৃতি অনুযায়ী, কল্পনার ভাইয়েরা সাক্ষী হিসেবে কমিশনকে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস এবং আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নাম বলেছিলেন, কিন্তু কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে সেই নাম আসেনি।

প্রতিবেদন কখনো সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়নি, এ বিষয়ে সব উৎস একমত। কবে এর বিষয়বস্তু জনসমক্ষে এল, তা নিয়ে অমিল আছে: কবিতা চাকমা (2016) ও মুক্তিপত্র (2026) লিখেছে একটি ইংরেজি দৈনিক 2011 সালে প্রতিবেদনের কপি পেয়ে তা নিয়ে খবর করে; ভারতের দ্য সিটিজেন (2016) লিখেছে প্রতিবেদন “প্রকাশ” পায় 2010 সালে। মুক্তিপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক অনুপম সেন 2010 সালে বলেছিলেন, কমিশনের পূর্ণ তদন্ত-ক্ষমতা ছিল না। ডেইলি স্টারের 2018 সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অপহরণের 22 বছর পরেও হিল উইমেন্স ফেডারেশন প্রতিবেদনটি প্রকাশের দাবি করছিল।

1997 থেকে 2010: মামলা থানা থেকে ডিবিতে, আবার থানায়

হিল ভয়েসের হিসাব অনুযায়ী 17 জানুয়ারি 1997 মামলাটি বাঘাইছড়ি থানা থেকে রাঙামাটির জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর হয়, আর আট বছর পর 26 ডিসেম্বর 2004 আবার বাঘাইছড়ি থানায় ফেরত আসে। এই তেরো বছরে আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা পড়ার কথা কোনো উৎসে নেই; প্রথম প্রতিবেদন আসে 2010 সালে।

এই পর্বের ডিবি বা থানার কোনো অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশিত হয়নি। কতজন কর্মকর্তা এ সময় তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, সেটি জানা যায় 2010 সালের প্রতিবেদন থেকেই, যেটি নিচের অংশে আছে। ডেইলি স্টারের 2008 সালের প্রতিবেদন এই সময়ের অবস্থা বোঝায়: তখন পরিবার ও সংগঠনগুলোর দাবি “কল্পনাকে ফিরিয়ে দাও” থেকে বদলে হয়েছিল “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করো, তিনি মারা গিয়ে থাকলে আমাদের শেষকৃত্য করতে দাও”।

প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন, 21 মে 2010

অপহরণের প্রায় 14 বছর পর, 21 মে 2010, বাঘাইছড়ি থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক রাঙামাটির আদালতে প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। নিউ এজের সময়রেখা অনুযায়ী প্রতিবেদনে লেখা ছিল, এত বছরে 34 জন তদন্ত কর্মকর্তা চেষ্টা করেও কল্পনাকে উদ্ধার করতে বা তাঁর অবস্থান জানতে পারেননি, অপহরণকারীদেরও শনাক্ত করতে পারেননি।

কর্মকর্তার নাম আজকের পত্রিকায় “এসআই ফারুক”, নিউ এজে পূর্ণ নাম “Sub-Inspector M Faruque Ahmed”। ডেইলি স্টার (2018, 2024) লিখেছে প্রতিবেদনটি সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে বা কল্পনার অবস্থান সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত কথা বলেনি। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত অধিকারকর্মীদের বিবৃতি বলছে, প্রতিবেদনে “কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি” বলা হয়েছে এবং কল্পনার ভাইদের সাক্ষ্য উপেক্ষা করা হয়েছে।

প্রথম নারাজি ও সিআইডিকে দায়িত্ব

বাদী কালিন্দী কুমার চাকমা প্রতিবেদনটির ওপর নারাজি দেন। 2 সেপ্টেম্বর 2010 রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নারাজির শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। তারিখটি নিউ এজ (2018 ও 2020) ও হিল ভয়েস একইভাবে দিয়েছে।

প্রথম আলোর 2024 সালের প্রতিবেদনে ক্রমটি একটু ভিন্নভাবে লেখা: “প্রথমে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য রাঙামাটির পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেন।” সেখানে 2010 সালের থানা-প্রতিবেদনের উল্লেখ নেই। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনেও সিআইডি পর্বের উল্লেখ নেই; সেখানে 2010-এর নারাজির পর সরাসরি 2016 সালে পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা আছে।

সিআইডির প্রতিবেদন কেন আদালতে টেকেনি

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শহীদুল্লাহ 26 সেপ্টেম্বর 2012 প্রতিবেদন দেন। তাতে কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়, কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া বা অপহরণকারী শনাক্ত করা যায়নি বলা হয়। বাদীর নারাজির পর আদালত প্রতিবেদনটি “ত্রুটিপূর্ণ” ও “অসম্পূর্ণ” বলে নাকচ করেন, কারণ তদন্তকারীরা তিন প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।

নাকচের কারণ নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখা ও ডেইলি স্টারের 2014 সালের প্রতিবেদন প্রায় একই ভাষায় দিয়েছে। ডেইলি স্টার লিখেছে, প্রতিবেদন দুটি (2010 ও 2012) প্রধান অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান এবং ভিডিপি সদস্য নুরুল হক ও সালেহ আহমদের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, কল্পনা জীবিত না মৃত তা-ও জানাতে পারেনি; এসব কারণ দেখিয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিআইডির প্রতিবেদন নাকচ করেন। হিল ভয়েস লিখেছে প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম জোন সিআইডির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল।

জানুয়ারি 2013: বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন নামঞ্জুর, পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব

বাদী এবার পুলিশি তদন্তের বদলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছিলেন। নিউ এজের সময়রেখা বলছে আদালত সেই প্রার্থনা নামঞ্জুর করে রাঙামাটির পুলিশ সুপারকে পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। আদেশের তারিখ নিউ এজের সময়রেখায় 13 জানুয়ারি 2013; ডেইলি স্টার (2014), নিউ এজ (2020) ও হিল ভয়েসে 16 জানুয়ারি 2013। বাংলা উইকিপিডিয়ার বিবরণে দুটি তারিখই আছে: 13 জানুয়ারি নারাজির শুনানি, আর আদেশের দিন ধার্য হয় 16 জানুয়ারি।

ডেইলি স্টার 2014 সালে লিখেছে, আদালত পুলিশ সুপার আমেনা বেগমকে ফেরদৌস, নুরুল ও সালেহকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোন আদালত আদেশটি দেন, তা নিয়েও উৎসে ভিন্ন নাম আছে: নিউ এজে রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, হিল ভয়েসে “রাঙ্গামাটিস্থ জজ আদালত”। ডিসেম্বর 2013-এ ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদকীয় জানায়, প্রতিবেদন প্রথমে 20 মার্চের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল, পরে সময় বাড়িয়ে মে করা হয়, তবু তখনো কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

পুলিশ সুপারের পুনঃতদন্ত: 2013 থেকে 2016

2013 থেকে 2016 পর্যন্ত মামলাটি রাঙামাটির পুলিশ সুপারদের হাতে ছিল। এই পর্বে একটি ডিএনএ নমুনার আবেদন, একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং আদালতের ধার্য করা বহু তারিখে প্রতিবেদন না দেওয়ার রেকর্ড আছে। অগ্রগতি প্রতিবেদনের মূল যুক্তি ছিল: কল্পনা নিজেই ঘটনার প্রধান সাক্ষী, তাই তাঁকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়।

ডিএনএ নমুনার আবেদন, ডিসেম্বর 2013

নিউ এজের সময়রেখা অনুযায়ী 22 ডিসেম্বর 2013 পুলিশ সুপার আমেনা বেগম কল্পনার ভাইদের ডিএনএ নমুনা নেওয়ার অনুমতি চান আদালতের কাছে। আবেদনে যুক্তি ছিল, অদূর ভবিষ্যতে কল্পনাকে উদ্ধার করা গেলে বয়স বেড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে তাঁকে চেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে।

এগারোটি ধার্য তারিখ ও 20 জুলাই 2014-এর অগ্রগতি প্রতিবেদন

অ্যামনেস্টি জুন 2014-এ লিখেছে, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার 11তম সময়সীমাও পার করেছেন। সময়সীমা পেরোনোর ব্যাখ্যায় পুলিশ সুপার বলেছিলেন, বিচারকের দেওয়া একটি কাজ, অর্থাৎ “কল্পনাকে উদ্ধার করা”, তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। একই লেখায় আছে, পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন তিনি সন্দেহভাজনদের একজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, কিন্তু কী কথা হয়েছে তা প্রকাশ করেননি। কোন সন্দেহভাজন, অ্যামনেস্টি তা লেখেনি।

অবশেষে 20 জুলাই 2014 আমেনা বেগম রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে “তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন” দেন। নিউ এজ (2020) ও ডেইলি স্টার (মে 2015) অনুযায়ী তাতে বলা হয়, কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রধান সাক্ষী, তাই তাঁকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত বা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়। কবিতা চাকমা লিখেছেন, প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপিত হয় 2015 সালের মে মাসের একটি শুনানিতে।

এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি রাঙামাটিতে মানববন্ধন করে। ডেইলি স্টারের 2015 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংগঠন দুটির অভিযোগ ছিল, দুই সাক্ষী কালিন্দী কুমার ও লাল বিহারী চাকমার জবানবন্দি না নিয়ে আমেনা বেগম লেফটেন্যান্ট মো. ফেরদৌস কাইসার খান এবং ভিডিপি সদস্য নুরুল হক ও সালেহ আহমদকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

পুলিশ সুপার বদল

হিল ভয়েস লিখেছে, আমেনা বেগম বদলি হওয়ার পর 26 ডিসেম্বর 2014 ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ তদন্তের দায়িত্ব নেন। পরের পুলিশ সুপার সৈয়দ তারিকুল হাসান মে 2015-এ ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, তিনি জানুয়ারির শেষে যোগ দিয়েছেন, আর মামলাটি তাঁর হাতে এসেছে সে মাসেই, অর্থাৎ মে 2015-এ; আগের পুলিশ সুপার চূড়ান্ত প্রতিবেদন শেষ করতে পারেননি, এখন তাঁকে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আগের তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের নির্দেশনা সব বিবেচনায় নিতে হবে। হিল ভয়েস অবশ্য লিখেছে আদালত 19 অক্টোবর 2016 তাঁকে 39তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেন। একই প্রতিবেদনে ডেইলি স্টার জানায়, প্রতিবেদন জমার তারিখ আবার পিছিয়ে 16 জুন 2015 করা হয়েছিল।

দ্য সিটিজেন জুন 2016-এ লিখেছে, তার আগের মাসে আদালতের 30তম সময়সীমাও কোনো প্রতিবেদন ছাড়াই পেরিয়ে গেছে। ঢাকা ট্রিবিউন 2019 সালে লিখেছে, ততদিনে আদালতে তিনটি প্রতিবেদন জমা পড়েছে: দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন আর একটি বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রতিবেদন।

39তম তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন: 2016 না 2018

পুলিশ সুপার সৈয়দ তারিকুল হাসান, মামলার 39তম তদন্ত কর্মকর্তা, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন; প্রতিবেদনের গায়ে লেখা “বাঘাইছড়ি থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং 03, তারিখ 7/9/2016″। এতে বলা হয়, কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছেন এর প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে অপহরণকারী শনাক্ত হয়নি, আর ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁকে উদ্ধার করা যায়নি। 23 এপ্রিল 2024 আদালত এই প্রতিবেদনটিই গ্রহণ করেন।

প্রতিবেদনের ভাষা

হিল ভয়েস প্রতিবেদনের একটি অংশ হুবহু উদ্ধৃত করেছে: “আমার তদন্তকালে ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। …. বিধায় মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত না করিয়া বাঘাইছড়ি থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং ০৩, তারিখ ৭/৯/২০১৬ দ: বি: বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করিলাম। ভবিষ্যতে কল্পনা চাকমা সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে বা তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হইলে যথানিয়মে মামলাটির তদন্ত পুনরুজ্জীবিত করা হইবে।”

ডেইলি স্টারের 2018 সালের প্রতিবেদনে আরেকটি বাক্য উদ্ধৃত: “The chances of rescuing Kalpana Chakma in near future are slim.” নিউ এজের সময়রেখা প্রতিবেদনের আরেকটি দিক জানায়: কল্পনা লুকিয়ে আছেন বা অন্য কোথাও চলে গেছেন, এমন গুজবকে প্রতিবেদন ভিত্তিহীন বলেছিল; আর সরকারি কৌঁসুলি নতুন প্রমাণ না আসা পর্যন্ত মামলা বন্ধ রাখতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। জুন 2018-এর এক আলোচনায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মূল প্রবন্ধে “দ্রুত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ” বাক্যটিকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলা হয়েছিল বলে ডেইলি স্টার লিখেছে।

বছর নিয়ে অমিল

ডেইলি স্টার, নিউ এজ, বাংলা ট্রিবিউন ও আজকের পত্রিকা লিখেছে প্রতিবেদন জমা পড়ে 7 সেপ্টেম্বর 2016; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও হিল ভয়েস লিখেছে 2016 সালে দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ সুপার “দুই বছর পর 2018 সালে” প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনের গায়ের তারিখ 7/9/2016, যা হিল ভয়েস নিজেই উদ্ধৃত করেছে। পুলিশ সুপারের নামও উৎসভেদে তিনভাবে লেখা: সৈয়দ তারিকুল হাসান (বিডিনিউজ), সাঈদ তারিকুল হাসান (বাংলা ট্রিবিউন, হিল ভয়েস), সৈয়দ তারিকুল ইসলাম (আজকের পত্রিকা)।

নারাজি আবেদনের শুনানি কেন আট বছর চলল

2016 সালের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চান। প্রথম শুনানি ধার্য হয় 8 জুন 2017; তারপর পুলিশ নারাজির জবাব দাখিলে বারবার সময় নেয়, শুনানি একের পর এক পেছায়। আদালত 1996 সালের পত্রিকার খবর ও কমিশনের ভিডিওটেপ হাজির করতে বলেছিলেন, সেগুলোর জন্যও শুনানি আটকে থাকে। পূর্ণ শুনানি হয় আগস্ট 2023-এ, আর আদেশ আসে এপ্রিল 2024-এ।

নারাজি কবে দাখিল হয়েছিল

চারটি রূপ পাওয়া যায়। নিউ এজ (2020, 2024, 2025) লিখেছে 19 অক্টোবর 2016; বাংলা ট্রিবিউন (জানুয়ারি 2018) লিখেছে 28 নভেম্বর; ডেইলি স্টার (2024) লিখেছে নভেম্বর 2016; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম লিখেছে 2018। নিউ এজ 2020 সালে বাদীর আইনজীবী জুয়েল দেওয়ানের বরাতে জানায়, 19 অক্টোবর 2016-এর আবেদনে অধিকতর তদন্ত চাওয়া হয় এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনের ওপর অনাস্থা জানানো হয়। হিল ভয়েস 19 অক্টোবর 2016 তারিখটি অন্য ঘটনার সঙ্গে জুড়েছে: সেদিন আদালত সৈয়দ তারিকুল হাসানকে 39তম তদন্ত কর্মকর্তা করেন।

শুনানির তারিখগুলো

তারিখ আদালত কী হয়েছিল উৎস
8 জুন 2017 রাঙামাটির আদালত প্রথম শুনানি ধার্য; পুলিশকে নারাজির জবাব দিতে নির্দেশ ডেইলি স্টার 2018; হিল ভয়েস
16 জানুয়ারি 2018 সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে শুনানি সপ্তমবার পিছিয়ে 25 এপ্রিল বাংলা ট্রিবিউন
9 জুলাই 2018 রাঙামাটির আদালত শুনানির দিন ধার্য ছিল ডেইলি স্টার 2018
অক্টোবর 2016 থেকে জুন 2018-এর মধ্যে রাঙামাটির আদালত কমিশনের ভিডিওটেপ এবং ভোরের কাগজ ও সংবাদের 23–24 জুন 1996-এর খবর হাজিরের আদেশ নিউ এজ 2018, 2020
30 এপ্রিল 2020 রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পত্রিকার কাটিং দাখিল না হওয়ায় নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত শুনানি স্থগিত নিউ এজ 2020
13 আগস্ট 2023 রাঙামাটির আদালত শুনানি (নিউ এজের সম্পাদকীয় এটিকে পূর্ণ শুনানি বলেছে) প্রথম আলো 2024; নিউ এজ 2024
29 জানুয়ারি 2024 বিচারক ইশরাত জাহান শুনানি; 29 ফেব্রুয়ারি অধিকতর শুনানি ধার্য, প্রয়োজনীয় নথি হাজিরের নির্দেশ প্রথম আলো
23 এপ্রিল 2024 সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নারাজি নামঞ্জুর, মামলা নথিভুক্ত প্রথম আলো; ডেইলি স্টার

নিউ এজ 2020 সালে জুয়েল দেওয়ানের বরাতে জানায়, আগের তিন বছর শুনানি বারবার পিছিয়েছে কারণ রাষ্ট্রপক্ষ কমিশনের ভিডিওটেপ এবং ভোরের কাগজ ও সংবাদের খবর হাজির করতে পারেনি। নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখার শেষ লাইন ছিল: “No hearing has taken place since।” জানুয়ারি 2024-এর শুনানির খবর দিতে গিয়ে প্রথম আলো আদালতটিকে একবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আরেকবার বিচারককে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলেছে; সেদিন বাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জুয়েল দেওয়ান, রাজীব চাকমা ও সুস্মিতা চাকমা।

নিউ এজের জুন 2024-এর সম্পাদকীয় হিসাব করেছে, অক্টোবর 2016-এ নারাজি দাখিলের পর পূর্ণ শুনানির জন্য প্রায় আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। একই সম্পাদকীয় জুলাই 2014-এর পুলিশ প্রতিবেদনের যুক্তি (“ভিকটিম নিজেই সাক্ষী”) এবং সেপ্টেম্বর 2016-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আবেদন (“সাক্ষী বা প্রমাণ যথেষ্ট নয়, মামলা খারিজ করা হোক”) পাশাপাশি রেখেছে।

23 এপ্রিল 2024: মামলা খারিজের আদেশ

23 এপ্রিল 2024, মঙ্গলবার দুপুরে, রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদী কালিন্দী কুমার চাকমার নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং মামলাটি নথিভুক্ত (খারিজ) করেন। প্রতিবেদনের মূল কথা বহাল থাকে: কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছেন, কিন্তু কে বা কারা অপহরণ করেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে কারও দায় না আসায় বিচারপ্রক্রিয়া আর এগোয় না।

বিচারকের নাম

প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, ডেইলি স্টার ও হিল ভয়েস বিচারকের নাম লিখেছে ফাতেমা বেগম মুক্তা, পদ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম লিখেছে “বিচারিক হাকিম ফাতেমা আক্তার মুক্তা”। আদেশের পূর্ণ পাঠ কোথাও প্রকাশিত হয়নি; আদেশের বিবরণ এসেছে আইনজীবীদের বরাতে।

আদালতে কী হয়েছিল

বাদীর আইনজীবী জুয়েল দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, শুনানিতে আদালত বাদীর বক্তব্যও শোনেন, তারপর নারাজি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেন। বিডিনিউজকে আরেক আইনজীবী সুস্মিতা চাকমা বলেন, আদালত কালিন্দী কুমার চাকমার জবানবন্দি নিয়েছিলেন, তাই পুনঃতদন্তের আদেশই তাঁদের প্রত্যাশা ছিল। নিউ এজ লিখেছে, আদেশে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খানসহ সব সন্দেহভাজন অভিযোগ থেকে মুক্ত হন।

পক্ষগুলোর বক্তব্য

  • বাদী কালিন্দী কুমার চাকমা (বিডিনিউজ): “অপহরণের ২৮ বছর পরে এই আদেশ দুঃখজনক। আমি আশা করেছিলাম, ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু এই আদেশে হতাশ। আমি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য আবেদন করব।”
  • আইনজীবী জুয়েল দেওয়ান (প্রথম আলো): “পুলিশ সুপারের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত আসামিদের নাম উল্লেখ না করে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায়মুক্ত করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।” নিউ এজকে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ক্রিমিনাল রিভিশন ও হাইকোর্টে যাওয়া হবে।
  • রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ (বিডিনিউজ): আদালতে সেদিন কী হয়েছে তিনি তখনো শোনেননি, এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
  • হিল উইমেন্স ফেডারেশন, কেন্দ্রীয় সদস্য এন্টি চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতি: আদালতের প্রতিবেদন গ্রহণকে “পক্ষপাতদুষ্ট” এবং “চিহ্নিত অপহরণকারী ও তার দোসরদের দায়মুক্তি দেওয়ার ন্যাক্কারজনক নজির” বলা হয়।
  • সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া [যাচাই প্রয়োজন] (ডেইলি স্টার): পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও আদালতের তা গ্রহণ দুটিকেই “miscarriages of justice” বলেন এবং পরিবারকে হাইকোর্টে যেতে পরামর্শ দেন।
  • চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস কমিশন, সহ-সভাপতি Sultana Kamal, Elsa Stamatopoulou ও Myrna Cunningham Kain-এর স্বাক্ষরে বিবৃতি (ডেইলি স্টার, 28 এপ্রিল 2024): আদেশকে “miscarriage of justice” বলে সরকারকে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান।

বিবৃতিদাতা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উৎসভেদে ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে: প্রথম আলো সংগঠনটিকে ইউপিডিএফের সহযোগী বলেছে, আজকের পত্রিকা জনসংহতি সমিতি সমর্থিত বলেছে। ডেইলি স্টার 2008 সালেই লিখেছিল, কল্পনা চাকমার অপহরণ দিবসে সংগঠনটির দুই ধারা (জেএসএস ও ইউপিডিএফ) আলাদা কর্মসূচি পালন করে। দুই দলের ইতিহাস ও ভাঙন এখানে আলোচ্য নয়।

খারিজের পর 12 জুন 2024 ঢাকার শাহবাগে পাহাড়ি ছাত্র-যুব ও নারী সংগঠনগুলোর সমাবেশে জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে (বিডিনিউজ, প্রথম আলো)। নিউ এজ জানায়, একই সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা শাখার সভাপতি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, প্রধান অভিযুক্ত পরে মেজর পদে পদোন্নতি পান এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেন। এটি সংগঠনটির অভিযোগ; এর পক্ষে কোনো সরকারি নথি প্রকাশিত হয়নি।

খারিজের পর রিভিশন: মামলা এখন কোথায়

খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল রিভিশন আবেদন করেছে; হাইকোর্টে আবেদনের খবর কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। রিভিশনের শুনানি 2024, 2025 ও 2026 সালে একাধিকবার ধার্য হয়েছে। জুন 2026-এ বাদীর আইনজীবী বলেছেন তাঁরা রিভিশন গ্রহণ ও পুনঃতদন্তের দাবি জানাবেন। এর নিষ্পত্তির খবর অক্টোবর 2026 পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

রিভিশন কবে দাখিল হয়

নিউ এজ 12 জুন 2024 জুয়েল দেওয়ানের বরাতে লিখেছিল, “আগামীকাল” অর্থাৎ অপহরণের 28 বছর পূর্তির দিনে রিভিশন দাখিল করা হবে। হিল ভয়েসের জুন 2025-এর প্রতিবেদন বলছে, বাদীপক্ষ 8 জুলাই 2024 রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুনর্বিবেচনা বা রিভিশনের আবেদন করে; আদালত আবেদন গ্রহণ করে 17 নভেম্বর 2024 শুনানির দিন ধার্য করেন, কিন্তু সেদিন শুনানি হয়নি।

2025 ও 2026-এর ধার্য তারিখ

নিউ এজ 12 জুন 2025 জুয়েল দেওয়ানের বরাতে জানায়, খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে “crime revision”-এর শুনানির দিন 18 জুন ধার্য। একই প্রতিবেদনে কালিন্দী কুমার চাকমা বলেন, “In the past 29 years, the police did not interrogate the accused, but filed a report”। নিউ এজে 12 জুন 2026-এর মতামত-লেখা জানায়, খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে “review petition”-এর পরের শুনানি 6 জুলাই। ডেইলি স্টার 13 জুন 2026 রাঙামাটির মানববন্ধনে বাদীপক্ষের আইনজীবী দীপন চাকমার [যাচাই প্রয়োজন] বক্তব্য ছেপেছে: “We, the victims’ lawyers, have filed a revision petition. We will demand that the revision be accepted and that the case be investigated again।”

পরিবার হাইকোর্টে গেছে, এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়; উৎসে সেটি ঘোষণা আকারেই আছে। কালিন্দী কুমার চাকমা, জুয়েল দেওয়ান ও ঊষাতন তালুকদার সবাই উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু যে আবেদনটি বাস্তবে দাখিল হয়েছে বলে নথিভুক্ত, সেটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন।

নথিতে অভিযুক্ত কারা, আর তাঁদের পক্ষে কী বলা হয়েছে

এজাহারে বাদী তিনজনের নাম দিয়েছিলেন: লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান, নুরুল হক ও সালেহ আহমদ। থানা নামগুলো এজাহারে নেয়নি; কমিশন, থানা, সিআইডি বা পুলিশ সুপারের কোনো প্রতিবেদনেও তাঁরা অভিযুক্ত হিসেবে আসেননি; আর 2024 সালের আদেশে সব সন্দেহভাজন অভিযোগমুক্ত হন। তিনজনের কারও নিজের মুখের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

নাম (উৎসে যেভাবে) পরিচয় (উৎসভেদে) তদন্তে কী হয়েছে তাঁর বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য
লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান (Ferdous Kaisar/Kaiser/Kawsar/Kaysar Khan) কজইছড়ি সেনাক্যাম্পের তৎকালীন কমান্ডার; নিউ এজের মতে এখন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন (ডেইলি স্টার 2014, 2018); পরের কোনো পুলিশি তদন্তে আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদের খবর নেই সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে (ডেইলি স্টার 2014); নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
নুরুল হক (Nurul Huq/Haq) ভিডিপি সদস্য; হিল ভয়েসে ভিডিপি প্লাটুন কমান্ডার 2013-এ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন (ডেইলি স্টার 2014) পাওয়া যায়নি
সালেহ আহমদ (Saleh Ahmed) ভিডিপি সদস্য (হিল ভয়েস, উইকিপিডিয়া) অথবা পুলিশ কনস্টেবল (নিউ এজ, ঢাকা ট্রিবিউন, মুক্তিপত্র) 2013-এ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন (ডেইলি স্টার 2014) পাওয়া যায়নি

পরিবারের অভিযোগ, কোনো তদন্ত কর্মকর্তাই এই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি (নিউ এজ 2020, 2024, 2025)। এর বিপরীতে একমাত্র নথিভুক্ত তথ্য অ্যামনেস্টির জুন 2014-এর লেখায়: পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেছিলেন তিনি একজন সন্দেহভাজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি। ঢাকা ট্রিবিউন 2019 সালে লিখেছে তিন অভিযুক্তের তৎকালীন অবস্থান অজানা। লেফটেন্যান্টের পদোন্নতি ও শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার কথা এসেছে দ্য সিটিজেন (2016) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বক্তব্যে (2024), কোনো সরকারি সূত্রে নয়।

কল্পনা চাকমা অপহরণের কয়েক দিন আগে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসের সঙ্গে প্রকাশ্যে তর্ক করেছিলেন এবং 19 মার্চ 1996 গ্রামে সাতটি বাড়ি ও একটি বৌদ্ধ মন্দির পোড়ানোর জন্য তাঁকে দায়ী করেছিলেন বলে কবিতা চাকমা 2016 সালে লিখেছেন। নিউ এজের 2026 সালের মতামত-লেখা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রকাশিত “কল্পনা চাকমার ডায়েরি” (2000) থেকে 1 এপ্রিল 1996-এর একটি চিঠি উদ্ধৃত করেছে, যাতে কল্পনা 19 মার্চ নিউ লাল্যাঘোনায় সাত পরিবারের নয়টি ঘর পোড়ানোর কথা লিখেছেন। এগুলো মামলার নথি নয়, প্রেক্ষাপট; বাড়ির সংখ্যাও দুই বিবরণে আলাদা।

তদন্ত কর্মকর্তা কতজন বদলেছেন

প্রায় সব উৎস বলছে মামলার শেষ তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন 39তম। 2010 সালের থানা-প্রতিবেদন অনুযায়ী তখন পর্যন্ত 34 জন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন (নিউ এজ 2018); কবিতা চাকমা লিখেছেন 2015 সাল পর্যন্ত “প্রায় 35 জন”; নিউ এজ 2024-এ লিখেছে 38 জন কর্মকর্তা কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেননি, তারপর 39তম জন প্রতিবেদন দেন।

ডেইলি স্টারের 2018 সালের হিসাব আরও সংক্ষিপ্ত: একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং অন্তত 39 জন কর্মকর্তার তদন্ত, যাঁরা শুধু অপহরণের “প্রাথমিক প্রমাণ” পেয়েছেন। নিউ এজের জুন 2024-এর সম্পাদকীয় সেনাবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথাও লিখেছে; সেই তদন্তের তারিখ বা ফলাফল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত পটভূমি, যেমন এক বছর পরের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997 বা পাহাড়ি নারীদের আন্দোলনের ইতিহাস, আমাদের আলাদা লেখায় আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন শাহবাগে বলেছিলেন, অপহরণের এক বছর পরের শান্তিচুক্তিতে কল্পনার বিষয়ে কোনো ধারা ছিল না (বিডিনিউজ, জুন 2024)। কল্পনাকে নিয়ে লেখা কবিতার প্রসঙ্গ আছে আর্কাইভের কবিতায় জুম্ম নারী লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

প্রশ্নোত্তর

কল্পনা চাকমা মামলা কবে খারিজ হয়?

23 এপ্রিল 2024 রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা বেগম মুক্তা বাদী কালিন্দী কুমার চাকমার নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং মামলাটি নথিভুক্ত করেন। প্রতিবেদনে বলা ছিল কল্পনা অপহৃত হয়েছেন, কিন্তু অপহরণকারী শনাক্ত হয়নি। বিডিনিউজ বিচারকের নাম ফাতেমা আক্তার মুক্তা লিখেছে।

কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলা কোন থানায়, কোন ধারায় হয়েছিল?

মামলাটি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানায়, মামলা নং 2, তারিখ 12/06/96, দণ্ডবিধির 364 ধারায় (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) দায়ের হয় বলে হিল ভয়েস জানিয়েছে। বাদী কল্পনার বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা। প্রথম আলো মামলার দিন 13 জুন লিখেছে, নিউ এজ ও হিল ভয়েস 12 জুন।

কল্পনা চাকমা মামলায় অভিযুক্ত কারা ছিলেন?

বাদী এজাহারে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান, নুরুল হক ও সালেহ আহমদের নাম দিয়েছিলেন। নিউ এজের 2018 সালের সময়রেখা অনুযায়ী থানা নামগুলো বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়। সালেহ আহমদ কোনো উৎসে ভিডিপি সদস্য, কোনো উৎসে পুলিশ কনস্টেবল। 2024 সালের আদেশে সব সন্দেহভাজন অভিযোগমুক্ত হন।

কল্পনা চাকমা অপহরণের তদন্ত কমিশন কী বলেছিল?

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিশন 1996 সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত হয়, 94 জনের সাক্ষ্য নেয় এবং 27 ফেব্রুয়ারি 1997 (হিল ভয়েসের মতে 1998) প্রতিবেদন দেয়। উদ্ধৃত সিদ্ধান্ত: কল্পনা “স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়” অপহৃত, কিন্তু সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে অপহরণকারী শনাক্ত হয়নি। প্রতিবেদন সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়নি।

কল্পনা চাকমা মামলায় কয়টি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছিল?

তিনটি পুলিশি প্রতিবেদন আদালতে গিয়েছিল: বাঘাইছড়ি থানার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (21 মে 2010), সিআইডির প্রতিবেদন (26 সেপ্টেম্বর 2012) এবং পুলিশ সুপারের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (তারিখ 7/9/2016)। মাঝে 20 জুলাই 2014 একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা পড়ে। প্রতিটির বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দিয়েছিলেন, কারণ কোনোটিতেই অপহরণকারী শনাক্ত হয়নি।

সিআইডির প্রতিবেদন আদালত কেন নাকচ করেছিল?

নিউ এজ ও ডেইলি স্টার অনুযায়ী আদালত 2012 সালের সিআইডি প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ বলেন, কারণ তদন্তকারীরা তিন প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, আর কল্পনা জীবিত না মৃত তা-ও প্রতিবেদন জানাতে পারেনি। 16 জানুয়ারি 2013 আদালত রাঙামাটির পুলিশ সুপারকে পুনঃতদন্ত ও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

পুলিশ কেন বলেছিল কল্পনাকে না পেলে তদন্ত শেষ হবে না?

পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের 20 জুলাই 2014-এর অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, কল্পনা নিজেই অপহরণের প্রধান সাক্ষী, তাই তাঁকে উদ্ধার বা তাঁর অবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়। 2016 সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও বলে, ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁকে উদ্ধার করা যায়নি।

কল্পনা চাকমা মামলার শেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে জমা পড়ে, 2016 না 2018?

ডেইলি স্টার, নিউ এজ, বাংলা ট্রিবিউন ও আজকের পত্রিকা লিখেছে 7 সেপ্টেম্বর 2016; বিডিনিউজ ও হিল ভয়েস লিখেছে 2018। হিল ভয়েস প্রতিবেদনের যে অংশ উদ্ধৃত করেছে, তাতে লেখা “চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং ০৩, তারিখ ৭/৯/২০১৬”। প্রতিবেদন দেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার সৈয়দ তারিকুল হাসান, মামলার 39তম তদন্ত কর্মকর্তা।

নারাজি আবেদন কী, আর এই মামলায় কতবার দেওয়া হয়?

নারাজি হলো পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর আপত্তি, যাতে অধিকতর তদন্ত চাওয়া হয়। কালিন্দী কুমার চাকমা 2010 সালের থানা-প্রতিবেদন, 2012 সালের সিআইডি প্রতিবেদন এবং 2016 সালের পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন, তিনটির বিরুদ্ধেই নারাজি দেন। শেষটির শুনানি প্রায় আট বছর চলে, নামঞ্জুর হয় 23 এপ্রিল 2024।

মামলা খারিজের পর কল্পনা চাকমার পরিবার কোথায় আবেদন করেছে?

হিল ভয়েস অনুযায়ী বাদীপক্ষ 8 জুলাই 2024 রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করে; 17 নভেম্বর 2024-এর শুনানি হয়নি। নিউ এজ 2025 সালে 18 জুনের এবং 2026 সালে 6 জুলাইয়ের শুনানির তারিখ জানায়। হাইকোর্টে আবেদনের খবর এবং রিভিশনের নিষ্পত্তি অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

কল্পনা চাকমা এখন কোথায়, সরকার কী বলেছে?

সরকারি কোনো নথি তাঁর অবস্থান জানায়নি। নিউ এজ লিখেছে, সরকার জাতিসংঘের অন্তর্ধান বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপকে জানিয়েছিল কল্পনা চাকমা এখনো নিখোঁজ, আর 2022 সালে 76টি ঘটনার হালনাগাদ প্রতিবেদন দেয়। 2016 সালের পুলিশ প্রতিবেদন বলেছে, তথ্য পাওয়া গেলে বা তাঁকে উদ্ধার করা গেলে তদন্ত পুনরুজ্জীবিত হবে।

অভিযুক্তরা বা সেনাবাহিনী অভিযোগের জবাবে কী বলেছিল?

ডেইলি স্টার (2014) লিখেছে, সেনাবাহিনী কল্পনার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিল এবং 50,000 টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। নিউ এজের 2026 সালের লেখা অনুযায়ী সেনাবাহিনীর লিফলেটে অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলা হয়। তিন অভিযুক্তের কারও নিজের প্রকাশ্য বক্তব্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

যা এখনো জানা যায়নি

  • রিভিশনের ফল। 6 জুলাই 2026-এর শুনানি হয়েছিল কি না, এবং রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত রিভিশন গ্রহণ বা নামঞ্জুর করেছেন কি না, অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • খারিজের আদেশের পূর্ণ পাঠ। 23 এপ্রিল 2024-এর আদেশে আদালত কোন যুক্তিতে নারাজি নামঞ্জুর করেন, তা কোথাও প্রকাশিত হয়নি; সব বিবরণ আইনজীবীদের বরাতে।
  • কমিশন প্রতিবেদনের পূর্ণ পাঠ। 40 পৃষ্ঠার প্রতিবেদন সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়নি; যে ইংরেজি দৈনিক 2011 সালে এর কপি পেয়েছিল বলে বলা হয়, সেই প্রতিবেদনটিও শনাক্ত করা যায়নি।
  • 2016 না 2018। 39তম তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন আদালতে জমার বছর নিয়ে উৎসে বিরোধ আছে; প্রতিবেদনের গায়ের তারিখ 7/9/2016।
  • নারাজি দাখিলের দিন। 19 অক্টোবর 2016, 28 নভেম্বর 2016 ও 2018, তিনটি রূপই প্রকাশিত।
  • অভিযুক্তদের বক্তব্য। লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কাইসার খান, নুরুল হক বা সালেহ আহমদের নিজের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি; কমিশনের সামনে লেফটেন্যান্ট কী বলেছিলেন, তা-ও প্রকাশিত হয়নি।
  • সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত। নিউ এজের সম্পাদকীয় এর উল্লেখ করেছে, কিন্তু তারিখ ও ফলাফল জানা যায়নি।
  • আন্তর্জাতিক নথির পাঠ। জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের 1997 সালের প্রতিবেদন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের 1996 সালের নথিতে ঠিক কী লেখা, এবং সরকার কোনো জবাব দিয়েছিল কি না, যাচাই করা যায়নি।
  • 17 জুন 1996-এর চার মৃত্যুর মামলা। রূপন, সুকেশ, মনোতোষ ও সমর বিজয় চাকমার মৃত্যুর কোনো মামলার নথি বা অবস্থা পাওয়া যায়নি।
  • কয়েকটি নামের বাংলা বানান। কমিশনের দুই সদস্যের নাম বাংলা উৎসে মেলানো যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. জুমজার্নাল, দুলুহুমারী এবং কল্পনা চাকমা, 2020 (আন্তর্জাতিক নথির তালিকা ও পটভূমি)।
  2. জুমজার্নাল, আদিবাসী নারীর অবস্থানঃ প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম (তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমার মাস)।

মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক নথি

  1. Amnesty International, AI Urgent Actions July 1996 (ASA 13/07/96, UA 162/96, 1 July 1996)।
  2. Amnesty International, AI Urgent Actions September 1996 (ASA 13/09/96, 28 August 1996)।
  3. Amnesty International, Kalpana Chakma: information, disinformation, non-information, June 2014।
  4. Human Rights Watch, Justice Long Overdue for Bangladesh’s Disappeared, 11 June 2019।

সংবাদ ও মতামত (ইংরেজি)

  1. New Age, Police investigation 22 years on (সময়রেখা: Saydia Gulrukh), 12 June 2018।
  2. New Age, No justice yet 24 years after Kalpana Chakma abduction, June 2020।
  3. New Age, Kalpana Chakma abduction case dismissed, 24 April 2024।
  4. New Age, No trace of Kalpana Chakma in 28 years, 12 June 2024।
  5. New Age, Legal bureaucracy denies justice to Kalpana Chakma (সম্পাদকীয়), 13 June 2024।
  6. New Age, High-level probe into Kalpana Chakma abduction demanded, 13 June 2024।
  7. New Age, Justice eludes Kalpana Chakma, 12 June 2025।
  8. New Age, 30 years Kalpana Chakma’s abduction: Impunity challenged in the plains, tolerated in the hills? (মতামত), 12 June 2026।
  9. The Daily Star, The Disappearance of Kalpana Chakma, Star Weekend Magazine, June 2008।
  10. The Daily Star, Reinvestigation of Kalpana Chakma abduction demanded, 9 December 2013।
  11. The Daily Star, Investigation lacks conviction, 7 June 2014।
  12. The Daily Star, Probe report submission date extended again, 27 May 2015।
  13. Kabita Chakma, Kalpana Hudu? Kalpana Kothai? Where is Kalpana?, The Daily Star, 11 June 2016।
  14. The Daily Star, Kalpana Chakma vanished into thin air, 11 June 2018।
  15. The Daily Star, Kalpana Chakma Abduction: After 28 years, court accepts final report, 23 April 2024।
  16. The Daily Star, Kalpana Chakma: ‘A miscarriage of justice’, 28 April 2024।
  17. The Daily Star, Calls grow for fresh probe into Kalpana Chakma’s abduction, 13 June 2026।
  18. Dhaka Tribune, Follow court order on Kalpana Chakma (সম্পাদকীয়), 12 December 2013।
  19. Dhaka Tribune, Justice eludes Kalpana Chakma’s family for 23 years, 10 June 2019।
  20. The Citizen, 20 Years After Her Disappearance, Bangladesh Govt Still Hides Truth, 13 June 2016।
  21. মুক্তিপত্র, 30 years of Kalpana Chakma’s disappearance: Here is what happened with her, 14 June 2026।
  22. Wikipedia, Kalpana Chakma (দেখা হয়েছে অক্টোবর 2026)।

সংবাদ ও মতামত (বাংলা)

  1. বাংলা ট্রিবিউন, কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ এপ্রিল, 18 জানুয়ারি 2018।
  2. প্রথম আলো, নারাজি আবেদনের অধিকতর শুনানি ২৯ ফেব্রুয়ারি, 30 জানুয়ারি 2024।
  3. প্রথম আলো, কল্পনা চাকমা অপহরণ: ২৮ বছর পর মামলা খারিজ, 23 এপ্রিল 2024।
  4. আজকের পত্রিকা, কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলা আদালতে খারিজ, 23 এপ্রিল 2024।
  5. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, কল্পনা চাকমা অপহরণ: ২৮ বছর পর মামলার অবসান, 23 এপ্রিল 2024।
  6. ইলিরা দেওয়ান, কল্পনা চাকমা তাহলে কি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন, প্রথম আলো, 27 এপ্রিল 2024।
  7. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, কল্পনা চাকমার মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব: ঊষাতন, 12 জুন 2024।
  8. প্রথম আলো, কল্পনা চাকমাকে ২৮ বছরেও রাষ্ট্র খুঁজে বের করতে পারল না, 12 জুন 2024।
  9. হিল ভয়েস, কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৯ বছর: চিহ্নিত অপহরণকারীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, 12 জুন 2025।
  10. উইকিপিডিয়া, কল্পনা চাকমা (দেখা হয়েছে অক্টোবর 2026)।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:কল্পনা চাকমা, বাঘাইছড়ি, মানবাধিকার, রাঙ্গামাটি, হিল উইমেন্স ফেডারেশন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা