Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প: কারা করে, কী কী হয়েছে, আর সম্মতির প্রশ্ন

Last updated Oct 19th, 2026

সবুজ ঘাসে ঢাকা টিলার মাথা দিয়ে চলে যাওয়া সরু পাকা সড়ক, পাশে বাঁকের সতর্কচিহ্ন, দূরে উপত্যকায় নিচু মেঘ

7 ফেব্রুয়ারি 2021। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের ম্রো গ্রামগুলো থেকে মানুষ হাঁটতে শুরু করলেন, হাতে প্ল্যাকার্ড, গন্তব্য প্রায় 30 কিলোমিটার দূরে। দাবি একটিই: তাঁদের জুমের পাহাড়ে পাঁচতারা হোটেলের নির্মাণ বন্ধ হোক। দুই দিন পর জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা একই কথা বললেন, সঙ্গে একটি শব্দবন্ধ জুড়ে দিলেন: আগে মানুষের “free, prior and informed consent”, অর্থাৎ স্বাধীন, আগাম ও জেনেবুঝে দেওয়া সম্মতি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প করে মূলত ছয় ধরনের সংস্থা: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, 1976 সালে গড়া উন্নয়ন বোর্ড, আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, এলজিইডি ও সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিটের মতো জাতীয় সংস্থা, আর এডিবি, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উন্নয়ন সহযোগী। নথিভুক্ত বড় প্রকল্পের তালিকা শুরু হয় 1962 সালে শেষ হওয়া কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে, যা প্রায় 1 লাখ মানুষকে উচ্ছেদ করেছিল। আপত্তির জায়গাটি তখন থেকে একই: জমি কার, আর সিদ্ধান্তের আগে কাকে জিজ্ঞেস করা হয়।

এই পাতায় সংস্থা, প্রকল্প, সংখ্যা ও আইনের ধারা উৎসসহ এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সরকারি ও দাতা সংস্থার দাবি আর পাহাড়ের সংগঠন ও লেখকদের সমালোচনা পাশাপাশি আছে, প্রতিটি বক্তার নামসহ। উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের গঠন, আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের হিসাব বা ভূমির আইনি ইতিহাস এখানে বিস্তারিত নেই; সেগুলোর আলাদা লেখা আছে। অঞ্চলটির অন্য সব বিষয়ের জন্য দেখুন জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

এই পাতায় যা আছে

  1. উন্নয়ন প্রকল্প কারা করে: সংস্থা ধরে ছক
  2. কাপ্তাই বাঁধে কত মানুষ উচ্ছেদ হয়
  3. 1976 সালের উন্নয়ন বোর্ড ও আস্থার প্রশ্ন
  4. পাড়াকেন্দ্র: 1980 থেকে চলা কর্মসূচি
  5. এডিবির দুই গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প
  6. ইউএনডিপির CHTDF: 160.5 মিলিয়ন ডলার
  7. 2026 সালের বিদ্যুৎ ঋণ ও ইইউ প্রকল্প
  8. রাবার, তুলা, আখ, কফি-কাজু ও ইজারা
  9. সীমান্ত সড়ক: দৈর্ঘ্য, ব্যয়, আপত্তি
  10. চিম্বুকের হোটেল প্রকল্প
  11. বনায়ন ও সামরিক অধিগ্রহণ
  12. জমি নিতে কার অনুমোদন লাগে
  13. সরকারি দাবি ও সমালোচনা পাশাপাশি
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প কারা করে?

উন্নয়নের কাজ এক হাতে নেই। মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা ও সমন্বয় করে, উন্নয়ন বোর্ড নিজে প্রকল্প বানায় ও বাস্তবায়ন করে, আঞ্চলিক পরিষদের কাজ তত্ত্বাবধান, জেলা পরিষদ হস্তান্তরিত বিষয়ে বাস্তবায়ন করে। এর পাশে সড়কে এলজিইডি ও সেনাবাহিনী, আর অর্থায়নে বিদেশি সংস্থা। নিচের ছকে প্রতিটির আইনি ভিত্তি দেওয়া হলো।

সংস্থা ভিত্তি উন্নয়নে ভূমিকা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন 15 জুলাই 1998; Allocation of Business দফা 6, 12, 13, 14 উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন; আঞ্চলিক পরিষদ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়; এনজিও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ; উন্নয়ন বোর্ডের প্রশাসন। এডিবির দুই প্রকল্পের নির্বাহী সংস্থাও এই মন্ত্রণালয়
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ 21 অক্টোবর 1976; আইন 2014, ধারা 9 প্রকল্প ও স্কিম প্রণয়ন; অনধিক 2 কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন; বাস্তবায়ন ও তদারকি; উন্নয়ন সংস্থার সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়ন
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আঞ্চলিক পরিষদ আইন 1998, ধারা 22 (ক), (গ), (ঘ), (ছ) জেলা পরিষদের অধীন সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়; উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলির সার্বিক তত্ত্বাবধান; এনজিও কার্যাবলির সমন্বয়। এডিবির দুই প্রকল্পে প্রধান বাস্তবায়নকারী
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলা পরিষদ আইন, ধারা 42(1), (2ক), (4) নিজ এখতিয়ারে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন; হস্তান্তরিত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত সব উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিধান
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এডিবির প্রকল্প-নথি এডিবির দুই প্রকল্পের গ্রামীণ সড়ক অংশ
সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিট সরকারি প্রকল্প (একনেক অনুমোদন মার্চ 2018) সীমান্ত সড়ক নির্মাণ
উন্নয়ন সহযোগী ঋণ ও অনুদান চুক্তি এডিবি (ঋণ), ইউএনডিপি ও তার দাতারা (অনুদান), ইউনিসেফ (পাড়াকেন্দ্র), ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ছকের আইনগুলোর মূল পাঠ আমাদের আর্কাইভে আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন। মন্ত্রণালয়ের কার্যতালিকা পাওয়া যায় মন্ত্রণালয়ের নিজের সাইটে।

1997 সালের চুক্তিও উন্নয়ন নিয়ে একটি প্রতিশ্রুতি দেয়। চুক্তির মূল পাঠে (ঘ) খণ্ডের 9 দফায় লেখা: সরকার “অধিক সংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করিবেন”, অবকাঠামোর নতুন প্রকল্প নেবেন, আর “পরিবেশ বিবেচনায় রাখিয়া” পর্যটন উন্নয়নে উৎসাহ দেবেন।

কাগজের এই বিন্যাস মাঠে কতটা চলে, তা নিয়ে আপত্তি পুরোনো। আমাদের আর্কাইভে মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালে লিখেছেন, উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের কর্তৃত্ব “উপেক্ষা করে চলেছে” (পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার)। জেলা পরিষদের আসন ও এখতিয়ারের বিস্তারিত আছে জেলা পরিষদ নিয়ে আমাদের লেখায়।

টাকার অঙ্ক নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য কম। একটি সংবাদমাধ্যমের হিসাবে 2026-27 অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বরাদ্দ 1,457 কোটি টাকার বেশি, যার প্রায় 965 কোটি উন্নয়ন ব্যয় (খবর সংযোগ)। অঙ্কগুলো ওই প্রতিবেদনের; অর্থ বিভাগের বাজেট দলিলের সঙ্গে মেলানো যায়নি।

কাপ্তাই বাঁধে কত মানুষ উচ্ছেদ হয়, কত জমি ডোবে?

প্রায় 1 লাখ মানুষ, 18,000 পরিবার। এই দুই সংখ্যায় বাংলাপিডিয়া, ইংরেজি উইকিপিডিয়া, IWGIA ও আমাদের আর্কাইভের লেখকেরা মোটামুটি একমত। ডোবা জমির হিসাবে ফারাক আছে: বাংলাপিডিয়া বলছে 21,870 হেক্টর চাষযোগ্য জমি, আর্কাইভের লেখায় 54 হাজার একর, যা তখনকার জেলার মোট কৃষিজমির প্রায় 40 শতাংশ।

বাঁধটি পাহাড়ের প্রথম বড় “উন্নয়ন প্রকল্প”, আর পরের সব প্রকল্প নিয়ে অবিশ্বাসের শুরুও এখান থেকে। বাংলাপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী কাপ্তাইয়ে স্থান ঠিক হয় 1952 সালের শুরুতে, পাকিস্তান সরকার অর্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যায়, নির্মাণ শেষ হয় 1961-এর শেষে, স্পিলওয়ে বন্ধ হয় 1962 সালে। শুরুতে উৎপাদনক্ষমতা ছিল 80 মেগাওয়াট, পরে দুই ধাপে 230 মেগাওয়াট।

বিষয় বাংলাপিডিয়া আমাদের আর্কাইভের লেখা ইংরেজি উইকিপিডিয়া / IWGIA
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ 18,000 পরিবার প্রায় 1 লাখ মানুষ, 18 হাজার পরিবার; এর 10 হাজার পরিবার কৃষিজমির মালিক, বাকিরা জুমচাষি উইকিপিডিয়া: 18,000 পরিবার, 100,000 মানুষ, 70% চাকমা। IWGIA: প্রায় 100,000
ডোবা এলাকা চাষযোগ্য জমি 21,870 হেক্টর; ক্ষতিগ্রস্ত বন প্রায় 688.94 বর্গ কিমি 369 মৌজার 125টি; 54 হাজার একর কৃষিজমি; মোট প্রায় 350 বর্গমাইল উইকিপিডিয়া: 655 বর্গ কিমি
ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ 41.5 মিলিয়ন টাকা; “সবাই নগদ ক্ষতিপূরণ পাননি” প্রথম শ্রেণির জমি একরপ্রতি 600 টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি 400, তৃতীয় শ্রেণি 200; জুমের জন্য কিছু নয় উইকিপিডিয়া: ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাননি
দেশত্যাগ – একটি লেখায় 40 হাজারের বেশি ভারতে; আরেকটিতে 60 হাজার ভারত ও বার্মায় উইকিপিডিয়া: 40,000-এর বেশি চাকমা অরুণাচলে

আর্কাইভের সংখ্যাগুলো এসেছে দুই লেখা থেকে। কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং লেখায় নিঝুম তালুকদার শরদিন্দু শেখর চাকমার বিবরণ তুলে ধরেছেন: পুনর্বাসনের জন্য কাসালং সংরক্ষিত বনের একাংশ খুলে প্রায় 10 হাজার একর কৃষিজমি বের করা হয়, সেখানে জায়গা পায় 3,734 পরিবার; 8 হাজার জুমিয়া পরিবারের পুনর্বাসন হয়নি। একই লেখায় আছে, 1970 সালের এক সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের জন্য বরাদ্দ 51 মিলিয়ন ডলারের মধ্যে খরচ হয়েছিল 2.6 মিলিয়ন। বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রবন্ধে মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা লিখেছেন, প্রকল্পে “এক লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়”।

বাংলাপিডিয়ার ভুক্তির একটি বাক্য আলাদা করে পড়ার মতো, কারণ এতে রাষ্ট্রের যুক্তিটি ধরা আছে: ক্ষতিগ্রস্তরা “জমির মালিক ছিলেন না”, যেহেতু Hill Tracts Manual সব জমিকে রাষ্ট্রের সম্পত্তি করেছিল। আর্কাইভের লেখাটি একই ঘটনা উল্টো দিক থেকে বলে: যাঁদের বসতভিটা বা ফলের বাগান বন্দোবস্তকৃত ছিল না, তাঁরা জমির ক্ষতিপূরণ পাননি, পেয়েছেন কেবল ঘর আর ফলবান গাছের দাম। জমির মালিকানার এই প্রশ্নটিই পরের ছয় দশকে প্রতিটি প্রকল্পে ফিরে এসেছে।

বাঁধের পরের হিসাবও আছে। বাংলাপিডিয়ার কাপ্তাই হ্রদ ভুক্তি বলছে, হ্রদের আয়তন 58,300 হেক্টর; 1990-এর দশকের শুরুতেই পলিতে প্রায় 25 শতাংশ ধারণক্ষমতা কমেছে; আর হ্রদ দুর্গম বনে ঢোকা সহজ করায় সংরক্ষিত বনের 126.91 বর্গ কিমি এবং খাস ও পাহাড়চূড়ার বনের 606.06 বর্গ কিমি উজাড় হয়েছে।

সংখ্যার পেছনের মানুষদের কথা এই পাতার কাজ নয়। সেগুলো পড়া যাবে আর্কাইভের স্মৃতিকথায়: কাপ্তাই বাঁধ- সকল দুঃখের কারণ, কাপ্তাই বাঁধ আমার ছোট বোনকে কেড়ে নিয়ে গেছে এবং মৃত্যুর ফাঁদ, কাপ্তাই বাঁধ।

1976 সালের উন্নয়ন বোর্ড: সংঘাতের ভেতরে উন্নয়ন কেন আস্থা পায়নি?

উন্নয়ন বোর্ড গড়া হয় সশস্ত্র সংঘাতের সময়ে, আর 1983 থেকে 1998 পর্যন্ত এর চেয়ারম্যান ছিলেন সেনাবাহিনীর 24 পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। বাংলাপিডিয়ার ভাষ্যে পাহাড়ের মানুষ সরকারের এই উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে “গভীর সংশয়ে” দেখতেন। আস্থার ঘাটতির শিকড় তাই বোর্ডের জন্মের পরিস্থিতিতেই।

প্রথম বোর্ড হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের 14 জানুয়ারি 1976-এর প্রজ্ঞাপনে, অধ্যাদেশ জারি হয় 21 অক্টোবর 1976 (অধ্যাদেশের পাঠ, FAOLEX)। বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চুক্তি ভুক্তি এই পদক্ষেপকে বর্ণনা করে সামরিক ব্যবস্থার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষকে শান্ত করার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে; বোর্ড চলত মূলত বাঙালিদের হাতে; আর পুরোনো ক্ষোভ ছিল কাপ্তাই প্রকল্প, যা তাঁদের সেরা জমির প্রায় 40 শতাংশ নিয়ে নেয়।

বোর্ডের নিজের তালিকা এ বিবরণের সঙ্গে মেলে। চেয়ারম্যানদের তালিকায় 03/12/1983 থেকে 20/09/1998 পর্যন্ত পরপর 8 জন চেয়ারম্যানই 24 পদাতিক ডিভিশনের জিওসি; প্রথম বেসামরিক জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেন 07/10/1998 তারিখে, অর্থাৎ চুক্তির পরে।

জমির প্রশ্নে দুই আইনের ফারাক চোখে পড়ে। 1976 সালের অধ্যাদেশে বোর্ডের দরকারি জমি “public purpose” বলে গণ্য, সরকার বা জেলা প্রশাসক তা অধিগ্রহণ করতে পারেন (ধারা 16), আর জমিতে ঢোকার আগে দখলদারকে 24 ঘণ্টার নোটিশ দিলেই চলে (ধারা 15)। 2014 সালের আইনে যোগ হয়েছে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন (ধারা 15) এবং একটি পরামর্শক কমিটি, যেখানে তিন সার্কেল চিফ বা তাঁদের প্রতিনিধি থাকবেন (ধারা 11)।

তবে কমিটিটি এখনো কাগজে। বোর্ডের সাইটের পরামর্শক কমিটির পাতায় 27 ফেব্রুয়ারি 2025 তারিখে লেখা: “গঠন প্রক্রিয়া চলমান”। বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ এই পাতার বিষয় নয়; এখানে কেবল প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত অংশটুকু রাখা হলো।

পাড়াকেন্দ্র কী, আর কবে থেকে চলছে?

পাড়াকেন্দ্র হলো পাহাড়ি গ্রামের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ছোট কেন্দ্র, উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগ। সরকার ও ইউনিসেফের সমঝোতা স্মারক সই হয় 11 জুলাই 1980। সেই হিসাবে পাহাড়ে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উন্নয়ন কর্মসূচি, চার দশকের বেশি।

দ্য ডেইলি স্টারের 21 মে 2009-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো চলত সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (ICDP) অধীনে। তখন কেন্দ্র ছিল 2,520টি: রাঙ্গামাটিতে 962, খাগড়াছড়িতে 890, বান্দরবানে 668; লক্ষ্য ছিল 3,500। কেন্দ্রে আসত 3 থেকে 6 বছরের শিশু। পাড়াকর্মীদের 95 শতাংশ নারী, মাসিক ভাতা 1,500 টাকা। কেন্দ্রের জমি, শ্রম ও উপকরণ সাধারণত গ্রামবাসীই দিতেন।

কর্মসূচিটির এখনকার নাম “পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প 2য় পর্যায়”, মেয়াদ 1 অক্টোবর 2024 থেকে 30 সেপ্টেম্বর 2029 (উন্নয়ন বোর্ডের সাইট)। এখন কেন্দ্র কয়টি, প্রকল্পের ব্যয় কত, ইউনিসেফের বর্তমান ভূমিকা কী, এ তিনটি তথ্য পাওয়া যায়নি।

এডিবির দুই গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কী হয়েছে, আর এডিবি নিজে কী ঘাটতি মেনেছে?

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চুক্তির পর দুটি ঋণ প্রকল্প করেছে: Chittagong Hill Tracts Rural Development Project (CHTRDP), 2000 থেকে 2010, ঋণ 30 মিলিয়ন ডলার; আর দ্বিতীয়টি (CHTRDP-II), 2011 থেকে 2022, ঋণ 55 মিলিয়ন ডলার। এডিবি দুটিকেই “সফল” বলেছে, তবে নিজের নথিতেই রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঘাটতি স্বীকার করেছে।

প্রথম প্রকল্প (ঋণ 1771), 2000–2010

এডিবির স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগের ডিসেম্বর 2012-এর যাচাই প্রতিবেদন (PVR-222) অনুযায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন পায় 26 অক্টোবর 2000, ঋণ বন্ধ হয় 22 ফেব্রুয়ারি 2010। পরিকল্পিত মোট ব্যয় ছিল 60.30 মিলিয়ন ডলার, খরচ হয়েছে 41.31 মিলিয়ন। ফারাকের বড় কারণ: ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা Danida খাগড়াছড়ির সড়কের জন্য 15 মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও সরে যায়। নির্বাহী সংস্থা ছিল মন্ত্রণালয়, প্রধান বাস্তবায়নকারী আঞ্চলিক পরিষদ, সড়কে এলজিইডি, আর সমাজ উন্নয়ন অংশে তিন জেলা পরিষদ।

প্রকল্পের ঘোষিত উদ্দেশ্য দুটি ছিল: চরম দারিদ্র্য কমানো, আর চুক্তির পক্ষে আস্থার পরিবেশ তৈরি। এডিবির একটি প্রকল্প তথ্যপত্রের হিসাবে এতে 111 ইউনিয়নে 2,040টি ছোট অবকাঠামো উপ-প্রকল্প হয়েছে: পানি সরবরাহ, সেচ সরঞ্জাম, গ্রামের রাস্তা (তথ্যপত্র 42248-023-এর কপি)। যাচাই প্রতিবেদন ইউএনডিপির জরিপ ধরে বলছে, গড় পারিবারিক আয় 1999 সালের 25,000 টাকা থেকে 2008 সালে 66,000 টাকা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে মূল্যায়ন বিভাগ কয়েকটি জায়গায় প্রকল্পের নিজের সমাপ্তি প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত করেছে:

  • প্রাসঙ্গিকতার মান “highly relevant” থেকে নামিয়ে “relevant” করা হয়েছে।
  • টেকসই হওয়ার মান “very likely” থেকে নামিয়ে “likely” করা হয়েছে। কারণ: সমাজ উন্নয়ন অংশের উপ-প্রকল্পগুলো সমানভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, অর্থের অভাব ও কমিউনিটি কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায়।
  • সমাপ্তি প্রতিবেদনের মান “less than satisfactory”। বিপুল তথ্য সংগ্রহ হলেও তা ব্যবহার হয়নি, ফলাফলের জরিপও হয়নি।
  • দাতা সংস্থাগুলোর কাজে পুনরাবৃত্তি এড়ানোর শর্তটি মানা হয়নি; ইউএনডিপি একই সময়ে একই ধরনের প্রকল্প চালালেও সমন্বয়ের প্রসঙ্গ সমাপ্তি প্রতিবেদনে নেই।

জমি নিয়ে প্রতিবেদনের বক্তব্য: প্রকল্পে কোনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি, যা নেওয়া হয়েছে তা স্বেচ্ছাদান, আর সব দান প্রকাশ্য সভায় আলোচিত। অথচ এডিবিরই দ্বিতীয় প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন প্রথম প্রকল্পের শিক্ষা হিসেবে লিখেছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষত যাঁরা জমি, ফসল ও আয় হারিয়েছেন, তাঁদের ওপর প্রভাব এড়াতে “আরও কঠোর সামাজিক সুরক্ষা” দরকার। দুই নথির এই দুই বাক্য পাশাপাশি রাখলে পুরোটা মেলে না।

আমাদের আর্কাইভে প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখার মূল্যায়ন সংযত: এডিবি-অর্থায়িত সড়ক প্রকল্পগুলো বাজারে যাতায়াতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য “কিছুটা সুবিধা নিয়ে এসেছিল” (আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি, কল্পকাহিনী এবং বাস্তবতা)।

দ্বিতীয় প্রকল্প (ঋণ 2763), 2011–2022

এডিবির প্রকল্প পাতা অনুযায়ী অনুমোদন 14 জুলাই 2011, ভৌত কাজ শেষ 30 জুন 2021, ঋণ বন্ধ 20 মার্চ 2022। মোট ব্যয় 69.36 মিলিয়ন ডলার, এর 55 মিলিয়ন এডিবির ঋণ, 14.36 মিলিয়ন সরকারের। পাঁচটি অংশ ছিল: প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, গ্রামীণ সড়ক ও বাজার, কমিউনিটি অবকাঠামো, ক্ষুদ্র কৃষি-ব্যবসা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা।

অংশ এডিবির হিসাবে যা হয়েছে
গ্রামীণ সড়ক (এলজিইডি) 84.36 কিমি ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়ক উন্নীত
কমিউনিটি অবকাঠামো 601 গ্রামে ছোট অবকাঠামো; 111.78 কিমি গ্রামের রাস্তা; 23টি বাজার শেড; 47.08 কিমি সেচনালা; 638টি অগভীর ও 1,271টি গভীর নলকূপ; 942টি পাওয়ার টিলার ও 1,127টি সেচ পাম্প
ক্ষুদ্র কৃষি-ব্যবসা 9 উপজেলার 44 ইউনিয়নে 18,051 কৃষক, যার 36% নারী; 986 হেক্টরে নতুন ফলবাগান
জমি অধিগ্রহণ (কেবল সড়ক অংশে) 129.42 একর, এর 56.21 একর প্রথাগত জমি; ক্ষতিগ্রস্ত 1,480 পরিবার; 17টি পুনর্বাসন পরিকল্পনা

এডিবি প্রকল্পটিকে অনিচ্ছাকৃত পুনর্বাসন ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব, দুই প্রশ্নেই সর্বোচ্চ ঝুঁকির “category A” শ্রেণিতে রেখেছিল। প্রকল্প পাতার দাবি: নকশা তৈরি হয়েছে মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ, তিন জেলা পরিষদ, সার্কেল চিফ, হেডম্যান, কার্বারি ও এনজিওদের সঙ্গে “ব্যাপক পরামর্শ” করে। কমিউনিটি অবকাঠামোর জন্য আরও 127.77 একর জমি এসেছে স্বেচ্ছাদানে; প্রথাগত জমির ক্ষেত্রে মৌজার হেডম্যান বা গ্রামের কার্বারি “অনাপত্তি সনদ” দিয়েছেন।

প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন সার্বিক মান দিয়েছে “successful”, কিন্তু সামাজিক সুরক্ষার মান “partially satisfactory”। কারণ হিসাবটি এই: 17টি পুনর্বাসন পরিকল্পনার 15টি সময়মতো হয়েছে; 1,134 পরিবার (77%), যার 623টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর, পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বান্দরবানের দুটি সড়কে ক্ষতিপূরণের হার নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ব্যাখ্যা চাওয়ায় টাকা দুই বছর আটকে ছিল, অথচ সড়কের ঠিকাদারি কাজ ততদিনে শেষ। প্রতিবেদনের নিজের সুপারিশ: ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে কাজ শুরু করা উচিত নয়। এডিবি আরও লিখেছে, পাহাড়ে প্রথাগত ও নিবন্ধিত, দুই ধরনের জমির দ্বৈত আইনি ব্যবস্থা সুরক্ষা-নীতি বাস্তবায়নকে কঠিন করেছে।

রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও এডিবি নিজেই লিখেছে। পাড়া উন্নয়ন কমিটির সক্ষমতা, গ্রাম পর্যায়ে কারিগর ও রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের অভাবে প্রকল্পের কাজ “কম কার্যকর ও আরও ক্ষয়প্রাপ্ত” হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল; এ জন্য 15 ডিসেম্বর 2017-এ 500,000 ডলারের একটি কারিগরি সহায়তা (TA 9472) অনুমোদন হয়, 300 পাড়া উন্নয়ন কমিটির জন্য (তথ্যপত্র)। সমাপ্তি প্রতিবেদন বলছে, 2026 সাল নাগাদ প্রকল্পের একটি পূর্ণ কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে; সেটি হয়েছে কি না জানা যায়নি।

ইউএনডিপির CHTDF: 160.5 মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচিতে কী হলো?

ইউএনডিপি পাহাড়ে কাজ শুরু করে এপ্রিল 2003-এ, Chittagong Hill Tracts Development Facility (CHTDF) নামে। 2015 সালের চূড়ান্ত পর্যালোচনা অনুযায়ী কর্মসূচির মোট বাজেট 160.5 মিলিয়ন ডলার, যার 60 শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের। পর্যালোচনাটি গ্রামের মানুষের উপকার স্বীকার করেছে, আবার বলেছে ভূমি বিরোধের মতো মূল প্রশ্নে “বিশেষ অগ্রগতি হয়নি”।

তথ্যগুলো এসেছে ইউএনডিপির জন্য লেখা Final Review: Promotion of Development and Confidence Building in the Chittagong Hill Tracts (জুন 2015) থেকে। পর্যালোচক দুজন: Nazme Sabina ও Kirti Nishan Chakma। নথির হিসাব:

  • সময়: পরীক্ষামূলক শুরু এপ্রিল 2003; পূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের অনুমোদন সেপ্টেম্বর 2005; দ্বিতীয় পর্যায় অক্টোবর 2009 থেকে 2013, পরে বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর 2015।
  • দাতা: ইউরোপীয় ইউনিয়ন 60%, ইউএনডিপি 11.9%, USAID 9.6%, কানাডার CIDA 9%, ডেনমার্কের DANIDA 7.8%, নরওয়ে 0.8%, AusAID, Sida ও জাপান 0.3% করে।
  • এলাকা: রাঙ্গামাটির 10, খাগড়াছড়ির 8 ও বান্দরবানের 7 উপজেলা।
  • খরচ: 2003 থেকে মে 2015 পর্যন্ত 10,612 মিলিয়ন টাকা। সবচেয়ে বড় ভাগ কমিউনিটি উন্নয়নে (27.89%), দ্বিতীয় বড় ভাগ ইউএনডিপির নিজের পরিচালন অবকাঠামো ও সক্ষমতায় (23.96%)।

ইউএনডিপির নিজের দাবি তার প্রকল্প পাতায় আছে: 3,507টি পাড়া উন্নয়ন কমিটি ও 1,935টি পাড়া নারী উন্নয়ন দল গড়া হয়েছে, উপকার পেয়েছে 115,107 পরিবার; 1,729টি ধানব্যাংক ও 1,548টি কৃষক মাঠ স্কুল হয়েছে; জেলা পরিষদ পরিচালিত 315টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 20,000-এর বেশি শিশু পড়েছে; 1,000 কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীর নেটওয়ার্ক হয়েছে। 2013 সালের খানা জরিপ ধরে সংস্থাটি বলছে, বছরে খাদ্যঘাটতির মাস 2008 সালের 2.7 থেকে কমে 1.2 হয়েছে। CHTDF-এর পরের ধাপের নাম Strengthening Inclusive Development in CHT (SID-CHT), 26 উপজেলার 121 ইউনিয়নে।

চূড়ান্ত পর্যালোচনার সমালোচনাগুলো তিন জায়গায়:

  1. টেকসই হওয়া। পাড়া উন্নয়ন কমিটিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা “আরও জরুরি উদ্বেগ”। জেলা পরিষদগুলো অদূর ভবিষ্যতে বাইরের সহায়তা ছাড়া এসব কাজ চালাতে পারবে, এমন ধারণাকে পর্যালোচকেরা “অবাস্তব” বলেছেন।
  2. আস্থা গড়া। তৃণমূলে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোয় মনোযোগের ঘাটতি ছিল।
  3. ভূমি। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন তখনো কার্যকর হয়নি; পর্যালোচনার ভাষায়, জমির নিশ্চিত মালিকানা ও প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরের ধাপ খোঁজা কঠিন।

স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেও প্রশ্ন উঠেছিল। 2006 সালে ইউএনডিপির দল বান্দরবান সফরে গেলে জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অগ্রাধিকার ঠিক না করায় আগে উন্নয়নের জন্য আসা বিদেশি অর্থের বেশিরভাগ অপব্যবহার হয়েছে, তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁরা অনুরোধ করেছেন।

2026 সালে নতুন কী এল: বিদ্যুৎ ঋণ ও জুমনির্ভর পরিবারের প্রকল্প

2026 সালে দুটি নতুন উদ্যোগের খবর এসেছে। 1 সেপ্টেম্বর এডিবি পাহাড়ে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে 175 মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। তার আগে 21 মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় 20,000 জুমনির্ভর পরিবারের জন্য একটি প্রকল্প শুরুর ঘোষণা এসেছে, আর সেই অনুষ্ঠানেই মন্ত্রী নিজে উন্নয়নে আস্থার ঘাটতির কথা বলেছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এডিবির প্রকল্পের নাম Sustainable Energy Development and Community Empowerment in the Chittagong Hill Tracts Project। লক্ষ্য 26 উপজেলায় অন্তত 88,000 পরিবারে বিদ্যুৎ, যার 35,000 ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবার; নতুন বিতরণ লাইন 5,032 কিমি। একই প্রতিবেদনে বর্তমান গ্রিড-সংযোগের হার: খাগড়াছড়ি 49%, রাঙ্গামাটি 43%, বান্দরবান 41%, যেখানে জাতীয় হার 99%। যে অঞ্চলের জমি ডুবিয়ে 1962 সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছিল, সেখানে ছয় দশক পরও অর্ধেকের বেশি পরিবার গ্রিডের বাইরে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় অংশীদারেরা (প্রথম আলো, 21 মে 2026)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের উন্নয়নে “আস্থা ও সমন্বয়” দরকার; আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদকে গুরুত্ব দিতে হবে; বিদেশি সংস্থা ও এনজিও সন্দেহের মুখে পড়ে; মাঠ পর্যায়ে তদারকির দুর্বলতায় দারিদ্র্য বিমোচনের অর্থের অপচয় হয়; আর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ জুমচাষিদের উন্নয়নে বাধা। সমালোচনাটি এখানে সরকারের ভেতর থেকেই এসেছে।

রাবার, তুলা, আখ, কফি-কাজু: অর্থকরী ফসলের প্রকল্পে জমি কার হাতে গেল?

পাহাড়ে অর্থকরী ফসলের প্রকল্প দুই রকম। একটি ধারায় উন্নয়ন বোর্ড কৃষকের সঙ্গে আখ, তুলা, কফি ও কাজুবাদামের চাষ করায়। অন্য ধারায় রাবার ও বাগানের জন্য পাহাড়ি জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়েছে, বেশিরভাগ বান্দরবানে। বিরোধ দ্বিতীয় ধারা নিয়ে: কত একর, কাদের হাতে, আর জমিটি আগে কার ছিল।

বান্দরবানের ইজারার তিনটি হিসাব পাওয়া যায়, তিনটিই আলাদা:

উৎস জমি প্লট বা বরাদ্দ
বাংলাপিডিয়া (Rubber Industry) 32,550 একর 1,302 ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতি 25 একর, রাবার চাষের জন্য
আমাদের আর্কাইভ: মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা (মন্ত্রণালয়ের 2005 সালের ইজারা-তালিকার সূত্রে) 40,077 একর 1,605টি প্লট, “বহিরাগতদের নিকট”
IWGIA, The Indigenous World 2023 46,775 একর 1,871টি প্লট, ফলবাগান ও রাবারের জন্য

বাংলাপিডিয়ার ভাষ্যে বরাদ্দপ্রাপ্তদের বাছাই করে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে 18 সদস্যের কমিটি, আর উন্নয়ন বোর্ড নিজে 13,000 একরে রাবার বাগান করেছে। আর্কাইভের লেখকদের বক্তব্য ভিন্ন জায়গায় জোর দেয়: এই পাহাড়গুলো ছিল মূলত জুমভূমি ও যৌথ মৌজা বন; ইজারাদাররা জুমচাষে বাধা দেন; অধিকাংশ জমি অনাবাদী ফেলে রেখে তার বিপরীতে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে (বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী; একই সংখ্যা আছে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী লেখাতেও)। এগুলো লেখকদের অভিযোগ; সরকারি কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ইজারা বাতিলের একটি চেষ্টার কথাও আর্কাইভে আছে। মঙ্গল কুমার চাকমা 2012 সালে লিখেছেন, 2009 সালে মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে বান্দরবানে 593টি প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী পরে “নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে” অধিকাংশ পুনর্বহাল হয় (মূল লেখা)।

বিরোধ এখনো চলছে। IWGIA-র The Indigenous World 2023 লিখেছে, বান্দরবানের লামায় Lama Rubber Industries Limited-এর বিরুদ্ধে 2022 সালে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর 65 পরিবারের 400 একর জমি দখলের অভিযোগ ওঠে; গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে কোম্পানি অন্তত তিনটি মামলা করে। একই সূত্র বলছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্থানীয়দের নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিল এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ তদন্তের পর ইজারা বাতিলের সুপারিশ করেছিল, তবু স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। কোম্পানির বক্তব্য এই সূত্রে নেই।

উন্নয়ন বোর্ডের চলতি কৃষি প্রকল্পগুলোর তথ্য বোর্ডের নিজের সাইট থেকে:

  • সুগারক্রপ (আখ): জুলাই 2021 থেকে জুন 2025; ব্যয় 2580.83 লক্ষ টাকা; উপকারভোগী 5200; ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর একটি তামাকের বিকল্প ফসল (প্রকল্প পাতা)।
  • তুলা: জানুয়ারি 2020 থেকে ডিসেম্বর 2024; ব্যয় 4849.20 লক্ষ টাকা; জুন 2023 পর্যন্ত অগ্রগতি 12.19%; “উন্নত পদ্ধতিতে জুম চাষ” প্রদর্শনী 360টি (প্রকল্প পাতা)।
  • কফি ও কাজুবাদাম: বোর্ডের চলতি প্রকল্পের তালিকায় আছে।

আখ প্রকল্পের নথিতে বোর্ড নিজেই লিখেছে, পাহাড়ে তামাক চাষ বাড়ছে, আর প্রতি একরের তামাক পাতা শুকাতে কমপক্ষে 5 টন জ্বালানি কাঠ লাগে। তুলা প্রকল্পের মেয়াদের সাড়ে তিন বছর পার হওয়ার পরও অগ্রগতি 12.19 শতাংশ কেন, তার ব্যাখ্যা ওই পাতায় নেই। জুম চাষের কৃষিবিদ্যা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।

পাহাড়ের সম্পদনির্ভর শিল্পায়নের প্রথম নজির আরও পুরোনো। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কর্ণফুলী পেপার মিল প্রতিষ্ঠিত হয় 1951 সালে, উৎপাদনে যায় 1953 সালে, বিশ্বব্যাংকের ঋণে; এর কাঁচামাল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কাঠ ও বাঁশ।

সীমান্ত সড়ক কত কিলোমিটার, কে বানাচ্ছে, আপত্তি কোথায়?

তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত ঘেঁষে পরিকল্পিত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য 1,036 কিলোমিটার; অনুমোদিত প্রথম পর্যায় 317 কিলোমিটার। বানাচ্ছে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিট। সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য সীমান্তে নজরদারি, বাণিজ্য ও পর্যটন। IWGIA ও হিল ভয়েসের অভিযোগ: সম্মতি নেওয়া হয়নি, প্রথাগত জমিকে খাস দেখানো হচ্ছে।

সরকারি ভাষ্য। দ্য ডেইলি স্টারের 4 ডিসেম্বর 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 1,036 কিমি সড়কে প্রায় 10 বছর লাগবে; উদ্দেশ্য দুর্গম সীমান্তে নজরদারি ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ঠেকানো, সঙ্গে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত। বাংলা ট্রিবিউনের 30 জানুয়ারি 2023-এর খবরে সেনাপ্রধানের পরিদর্শনের সময় দেওয়া হিসাব: প্রথম পর্যায়ের 317 কিমির মধ্যে 95 কিমি শেষ, 132 কিমি চলমান, বাকি 90 কিমি অর্থপ্রাপ্তি-সাপেক্ষ; ভৌত অগ্রগতি 45%, অর্থ ছাড় 34.16%। কাজ করছে 34 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন 16, 20 ও অ্যাডহক 26 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। ঢাকা ট্রিবিউন একই সময়ে লিখেছে, প্রথম পর্যায় 2024 সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিল।

সমালোচনা। IWGIA-র The Indigenous World 2024 লিখেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু 1 জানুয়ারি 2018, প্রথম পর্যায়ে একনেকের অনুমোদন মার্চ 2018, অনুমোদিত বাজেট 3,860.82 কোটি টাকা। প্রকাশনাটির দাবি:

  • একটি প্রতিবেদনের হিসাবে প্রায় 1,500 পরিবার উচ্ছেদ বা গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়বে; যেসব এলাকায় কাজ হয়েছে সেখানে কয়েকশ পরিবার ইতিমধ্যে বাড়ি, বাগান, পুকুর, স্কুল ও উপাসনালয়ে যাওয়ার পথ হারিয়েছে।
  • একনেকের অনুমোদনপত্রে 101.12 একর জমি অধিগ্রহণ ও এ জন্য 137.15 কোটি টাকার কথা আছে, কিন্তু জমি কীভাবে নেওয়া হবে বা ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে তার স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
  • রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ আদিবাসীদের স্বাধীন, আগাম ও অবহিত সম্মতির নীতি লঙ্ঘন করেছে; প্রথাগত ব্যবস্থায় ব্যবহৃত জমিকে খাস বলা হচ্ছে।

হিল ভয়েসের 6 এপ্রিল 2023-এর প্রতিবেদনে অভিযোগ, রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণকারী সেনাসদস্যরা মৌজার হেডম্যানদের কাছ থেকে এই মর্মে স্বাক্ষর নিচ্ছেন যে সড়কের জমি ও আশপাশের জমি সরকারি খাস। স্থানীয়দের বরাতে হিল ভয়েস লিখেছে, উদ্দেশ্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া। এ অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সড়কের বর্তমান অগ্রগতি, হালনাগাদ ব্যয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কোনো সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। 2023 সালের পরের নির্ভরযোগ্য তথ্য এই পাতায় নেই।

চিম্বুকের হোটেল প্রকল্প নিয়ে জাতিসংঘ কী বলেছিল, আর দুই পক্ষের বক্তব্য কী?

9 ফেব্রুয়ারি 2021-এ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বান্দরবানের চিম্বুক এলাকায় বড় পর্যটন রিসোর্টের নির্মাণ স্থগিত করতে বলেন। তাঁদের ভাষ্যে প্রায় 10,000 মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে ছিলেন। সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপের বক্তব্য ছিল, প্রকল্প জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া 20 একরেই সীমিত, কেউ উচ্ছেদ হবেন না।

নথিভুক্ত তথ্য

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের (OHCHR) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিবৃতিটি দেন আদিবাসী অধিকার বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার Francisco Cali Tzay, ব্যবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ, পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার এবং মানবাধিকার-কর্মী বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার। বিজ্ঞপ্তিতে যা আছে:

  • সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান R&R Holdings Limited সেপ্টেম্বর 2020-এ ম্রো জমিতে নির্মাণ শুরু করে।
  • বিশেষজ্ঞরা “অনিয়মিত ভূমি ইজারা” এবং ম্রোদের চারণভূমি ও পানির উৎসে যেতে সেনাবাহিনীর বাধা নিয়ে উদ্বেগ জানান।
  • জানুয়ারি 2021-এ জমির অধিকার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলা আদিবাসী কর্মীদের ওপর হুমকি বেড়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
  • তাঁদের আহ্বান: ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর “free, prior and informed consent” চাইতে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ, আর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা।
  • ডিসেম্বর 2020-এ তাঁরা সরকার, R&R Holdings ও Marriott International-কে যৌথ চিঠি পাঠান।

খবরটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও আসে (ঢাকা ট্রিবিউন)।

ম্রো জনগোষ্ঠী ও নাগরিকদের বক্তব্য

12 ডিসেম্বর 2020-এর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকেরা প্রকল্প বাতিলের দাবি তোলেন (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শাহদীন মালিক, আনু মুহাম্মদ, দেবাশীষ রায়, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; সঞ্চালনায় সঞ্জীব দ্রং, মূল বক্তব্য গৌতম দেওয়ানের। তাঁদের হিসাবে চিম্বুক ও নাইতং পাহাড়ের প্রায় 1,000 একরে 6টি ম্রো গ্রাম সরাসরি উচ্ছেদের মুখে, আর 116টি এলাকার প্রায় 10,000 বাসিন্দার জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আনু মুহাম্মদ বলেন, এই উন্নয়ন কেবল মুনাফাখোর ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখছে। চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের বক্তব্য, জেলা পরিষদের এই জমি বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ারই ছিল না।

জমির পরিমাণে তিন রকম সংখ্যা ঘুরেছে: নাগরিকদের হিসাবে প্রায় 1,000 একর; UCA News স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে লিখেছে প্রায় 405 হেক্টর; আর প্রকল্পের পক্ষ বলেছে 20 একর। ম্রো নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী নির্মাতারা শুরুতে 20 একরের চেয়ে অনেক বড় এলাকায় খুঁটি পুঁতেছিলেন।

প্রকল্পের পক্ষের বক্তব্য

The Third Pole-এর প্রতিবেদন (Eco-Business-এ পুনঃপ্রকাশিত) পক্ষটির কথা এভাবে তুলে ধরেছে: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান 2 ফেব্রুয়ারি 2014-এ 69 পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়কের সঙ্গে 20 একরের 40 বছর মেয়াদি ইজারা সই করেন। 20 মার্চ 2021-এ একটি সংসদীয় কমিটি এলাকা পরিদর্শনে গেলে একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা মানচিত্র দেখিয়ে বলেন, Army Welfare Trust ও সিকদার গ্রুপ ইজারার 20 একরের বাইরে যাবে না, আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বসতি নেই, তাই কারও উচ্ছেদের প্রশ্ন ওঠে না।

একই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যানের বক্তব্য: ইজারার সময় হেডম্যান ছিলেন তাঁর চাচা, তিনি লিখিত অনুমোদন দেননি, তাঁকে কেবল মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে চাননি, তবে কোনো পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষার কথা তাঁর জানা নেই বলে স্বীকার করেন। নাগরিকদের একটি বিবৃতি অনুযায়ী Marriott International জানিয়েছিল, প্রকল্পে তাদের যুক্ত হওয়া চূড়ান্ত নয়, আর তাদের নাম ও ব্র্যান্ড যেন ব্যবহার না হয় (ঢাকা ট্রিবিউন)। IWGIA-র ভাষ্য অনুযায়ী জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের চিঠির জবাব Marriott দিয়েছিল, বাংলাদেশ সরকার দেয়নি।

পরে কী হলো

IWGIA-র ডিসেম্বর 2021-এর অনুসরণ-প্রতিবেদন ম্রো ছাত্রকর্মীদের বরাতে লিখেছে, পরিকল্পিত পাঁচতারা রিসোর্ট ছোট করে অবকাশ-কটেজে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা তাঁদের চোখে “ছোট একটি জয়”; কিন্তু 20 একর এলাকা বেড়া দিয়ে ঘেরা, ভেতরে কী হচ্ছে গ্রামবাসী জানেন না, আর Marriott-এর ব্যানার সরে গেছে। 2022 সালের পর প্রকল্পের অবস্থা জানা যায়নি।

সাজেক নিয়ে আমাদের আর্কাইভে একটি মতামতধর্মী লেখা আছে, চিন্তাভাবনাঃ সাজেকের ট্যুরিজম। লেখকের পর্যবেক্ষণ: রিসোর্ট-মালিকদের মধ্যে বাইরের ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় নানা পক্ষ সবাই আছেন, অথচ সাজেক এলাকাতেই প্রতি বছর খাদ্যসংকট হয়, সারা বছর সুপেয় পানির অভাব থাকে। চুক্তি পর্যটনের কথা বলেছিল “পরিবেশ বিবেচনায় রাখিয়া”; আর “স্থানীয় পর্যটন” জেলা পরিষদে হস্তান্তরযোগ্য বিষয়গুলোর একটি।

বনায়ন ও সামরিক অধিগ্রহণ: উন্নয়নের নামে কত জমি গেছে বলে অভিযোগ?

আমাদের আর্কাইভের লেখকেরা তিনটি বড় সংখ্যা দিয়েছেন: 2,18,000 একর জমি নতুন করে সংরক্ষিত বন ঘোষণা, কেবল বান্দরবানে 75,686 একর পাহাড়ভূমি সামরিক কাজে অধিগ্রহণ, আর একই জেলায় 40,077 একর ইজারা। সংখ্যাগুলো লেখকদের দেওয়া, দুই দশক পুরোনো, আর কোনো সরকারি উৎসে মেলানো যায়নি। তাই এগুলো এখানে অভিযোগ হিসেবেই থাকছে।

সংরক্ষিত বন ঘোষণা। মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমার প্রবন্ধ অনুযায়ী বন বিভাগ রক্ষিত ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চলের 2,18,000 একর ভূমি রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করে; কেবল বান্দরবানেই 7 উপজেলার 35 মৌজায় 94,067 একর। লেখকদের ভাষ্যে এসব জমির মধ্যে প্রান্তিক কৃষকের রেকর্ডীয় বসতভিটা, বন্দোবস্তের প্রক্রিয়ায় থাকা কৃষিজমি ও যৌথভাবে ব্যবহৃত বন ও চারণভূমি ছিল, এমনকি কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বরাদ্দ জমিও। আগস্ট 1998-এ জুম্ম নেতারা তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ঘোষণা বাতিলের দাবি জানান; স্থগিতের প্রতিশ্রুতি মিললেও তা কার্যকর হয়নি বলে লেখকেরা জানিয়েছেন। একই সংখ্যা জুয়ামলিয়ান আমলাইয়ের বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখাতেও আছে। প্রবন্ধটি আরও জানায়, 1994 সালের বননীতি অনুযায়ী এডিবি ও ইউএনডিপির ব্যবস্থাপনায় 20 বছর মেয়াদি বন মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল।

সামরিক কাজে অধিগ্রহণ। একই প্রবন্ধ জনসংহতি সমিতির 2006 সালের একটি প্রকাশনার সূত্রে বলছে, সরকার কেবল বান্দরবানে 75,686 একর পাহাড়ভূমি অধিগ্রহণ করেছে; জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ, অথচ আইনে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া অধিগ্রহণ চলে না। IWGIA-র সংরক্ষিত পাতায় এ ধরনের দুটি ঘটনার বিবরণ আছে। 8 নভেম্বর 2010-এ রুমা উপজেলা সদরে স্থানীয় জুম্মরা রুমা সেনানিবাস সম্প্রসারণ ও তৎকালীন বিডিআরের নতুন উইং সদর দপ্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ করেন; IWGIA-র ভাষ্যে সেনা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ছিল 9,560 একর, আর এতে প্রায় 15,000 ম্রো উচ্ছেদের মুখে পড়তেন (IWGIA, 2010)। আর 2021 সালে এক ম্রো তরুণ IWGIA-কে বলেন, 2006 সালে সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণের জন্য 11,445 একর নেওয়ায় 10টি ম্রো গ্রাম উঠে যায় (IWGIA, এপ্রিল 2021)। এ দুটিই এক পক্ষের বিবরণ; সেনাবাহিনীর ভাষ্য এসব সূত্রে নেই।

আন্তর্জাতিক সংগঠনের সারকথা। জুলাই 2024-এ Minority Rights Group, IWGIA ও FIAN International এক যৌথ বিবৃতিতে লেখে, বাংলাদেশের আদিবাসীরা দশকের পর দশক পূর্বপুরুষের জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন একফসলি বাগান (যেমন রাবার), সড়ক নির্মাণ, পর্যটন, বাঙালি বসতি স্থাপন কর্মসূচি, জলাধার ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জায়গা করতে গিয়ে (যৌথ বিবৃতি)। বিবৃতির মূল বিষয় ছিল 1900 সালের শাসনবিধি নিয়ে আদালতের পর্যালোচনা; উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকাটি এসেছে প্রেক্ষাপট হিসেবে। IWGIA-র চুক্তির 25 বছর পূর্তির বিবৃতিতেও একই সুর: ভূমি দখল, একফসলি কৃষি, পাহাড় কাটা ও পাথর উত্তোলনে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ দ্রুত কমছে, আর এতে বেসরকারি কোম্পানি, সরকার ও সেনাবাহিনী তিন পক্ষই জড়িত।

ভূমির আইনি ইতিহাস, 1900 সালের শাসনবিধি ও ভূমি কমিশনের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।

প্রকল্পের জন্য জমি নিতে কার অনুমোদন লাগে?

আইনের পাঠে তিন স্তরের কথা আছে: উন্নয়ন বোর্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন, প্রকল্প প্রণয়নে পরামর্শক কমিটির পরামর্শ, আর সার্বিক সমন্বয়ে আঞ্চলিক পরিষদ। এই ধারাগুলো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের কথা বলে; ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর সরাসরি সম্মতির কথা এগুলোতে লেখা নেই।

কোন কাজ কার অনুমোদন, পরামর্শ বা নোটিশ কোন আইন
উন্নয়ন বোর্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন; তারপর সরকার অধিগ্রহণ করতে পারে উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014, ধারা 15(1)
জরিপ বা পরীক্ষার জন্য বোর্ডের লোকের জমিতে প্রবেশ মালিক বা দখলদারকে অন্যূন 24 ঘণ্টা আগে নোটিশ; জমির ক্ষতি হলে বোর্ড ক্ষতিপূরণ দেবে ওই আইন, ধারা 14(2), (3)
বোর্ডের প্রকল্প ও স্কিম প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন পরামর্শক কমিটির পরামর্শ (তিন সার্কেল চিফ বা প্রতিনিধি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রমুখ) ওই আইন, ধারা 11(5)
হস্তান্তরিত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে জেলা পরিষদ আইন, ধারা 42(4)
জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড ও এনজিওর কাজের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় আঞ্চলিক পরিষদ আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ধারা 22
এডিবির প্রকল্পে প্রথাগত জমির স্বেচ্ছাদান মৌজার হেডম্যান বা গ্রামের কার্বারির অনাপত্তি সনদ আইন নয়; এডিবির প্রকল্প-নিয়ম (CHTRDP-II)

ছকের আইনি সারিগুলো আমাদের আর্কাইভের মূল পাঠ থেকে নেওয়া (উন্নয়ন বোর্ড আইন, জেলা পরিষদ আইন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন)। ভূমি বন্দোবস্ত, ইজারা ও অধিগ্রহণে জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদনের বিধানটির ইতিহাস ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আছে ভূমি-বিষয়ক লেখায়।

দুটি জিনিস এখানে আলাদা করে দেখা দরকার। প্রথমত, “স্বাধীন, আগাম ও অবহিত সম্মতি” (FPIC) শব্দবন্ধটি এই পাতার উৎসগুলোতে এসেছে আন্তর্জাতিক দিক থেকে: জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের 2021 সালের বিবৃতিতে এবং IWGIA-র প্রকাশনায়। দ্বিতীয়ত, কাগজের বিধান আর মাঠের চর্চার ফারাক নিয়ে অভিযোগ প্রায় প্রতিটি প্রকল্পে আছে: চিম্বুকে হেডম্যানের লিখিত অনুমোদন না থাকা, সীমান্ত সড়কে হেডম্যানদের স্বাক্ষর আদায়, বান্দরবানে পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া অধিগ্রহণ। পরামর্শক কমিটি গঠিতই হয়নি, এটি বোর্ডের নিজের সাইটের তথ্য।

অন্য দেশে আদিবাসী জমিতে প্রকল্পের আগে কার সম্মতি লাগে, তার তুলনা পাওয়া যাবে আদিবাসী ভূমি অধিকার: ছয় দেশের ব্যবস্থা এক ছকে লেখায়।

সরকার ও দাতারা কী বলছেন, সমালোচকেরা কী বলছেন?

সরকারি অবস্থান হলো, স্বাধীনতার পর থেকে অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয় “অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে” কাজ করছে। সমালোচকদের মূল আপত্তি উন্নয়নের বিরুদ্ধে নয়, পদ্ধতির বিরুদ্ধে: জমি নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস না করা, আর চুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটানো।

বিষয় সরকার বা দাতা সংস্থার দাবি সমালোচনা বা আপত্তি
সার্বিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়: সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে (মন্ত্রণালয়ের পটভূমি-পাতা) IWGIA (2023): চুক্তি-পরবর্তী পর্যটন, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও ব্যবসার উদ্যোগে আদিবাসীরা পূর্বপুরুষের জমি ও জীবিকা হারিয়েছেন
কাপ্তাই বাঁধ বাংলাপিডিয়া: ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ 41.5 মিলিয়ন টাকা; ক্ষতিগ্রস্তরা আইনত জমির মালিক ছিলেন না আর্কাইভের লেখা: ক্ষতিপূরণ “খুবই নাম মাত্র”; জুমের জন্য কিছুই নয়; 8 হাজার জুমিয়া পরিবারের পুনর্বাসন হয়নি
এডিবির প্রকল্প এডিবি: দুই প্রকল্পই “successful”; নকশায় ব্যাপক পরামর্শ; আয় বেড়েছে এডিবির নিজের নথি: রক্ষণাবেক্ষণ দুর্বল; দ্বিতীয় প্রকল্পে 23% পরিবারের ক্ষতিপূরণ সমাপ্তির সময়ও বাকি; সামাজিক সুরক্ষা “partially satisfactory”
ইউএনডিপির CHTDF ইউএনডিপি: 115,107 পরিবার উপকৃত; খাদ্যঘাটতির মাস অর্ধেকের নিচে 2015-র চূড়ান্ত পর্যালোচনা: কমিটিগুলোর টিকে থাকা অনিশ্চিত; ভূমি বিরোধে অগ্রগতি নেই; খরচের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সংস্থার নিজের পরিচালনায়
সীমান্ত সড়ক সেনাবাহিনী ও প্রশাসন: সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পর্যটন, দুর্গম এলাকার যাতায়াত IWGIA ও হিল ভয়েস: প্রায় 1,500 পরিবার ক্ষতির মুখে; সম্মতি নেওয়া হয়নি; প্রথাগত জমিকে খাস দেখানো হচ্ছে
চিম্বুকের হোটেল সেনা কর্মকর্তা ও সিকদার গ্রুপ: ইজারার 20 একরেই সীমিত; কেউ উচ্ছেদ হবেন না জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ: অনিয়মিত ইজারা, 10,000 মানুষ ঝুঁকিতে। দেবাশীষ রায়: জেলা পরিষদের এখতিয়ার ছিল না। আনু মুহাম্মদ: উন্নয়ন কেবল মুনাফাখোরদের স্বার্থ দেখছে
রাবার ও বাগানের ইজারা বাংলাপিডিয়া: কমিটির মাধ্যমে বাছাই করে 1,302 জনকে 25 একর করে বরাদ্দ আর্কাইভের লেখকেরা: জমিগুলো জুমভূমি ও মৌজা বন ছিল; বাতিল হওয়া প্লট পুনর্বহাল হয়েছে
প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান (মে 2026): আস্থা ও সমন্বয় দরকার; তদারকির দুর্বলতায় অর্থের অপচয় হয় মঙ্গল কুমার চাকমা (2012): উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধানের কর্তৃত্ব উপেক্ষা করছে

ছকের শেষ সারিটি লক্ষ করার মতো: 2012 সালে আর্কাইভের একজন লেখক যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছিলেন, 2026 সালে মন্ত্রী নিজেই প্রায় সেই কথা বলেছেন। জনসংহতি সমিতি, আঞ্চলিক পরিষদ বা কাপেং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রতিবেদন থেকে সরাসরি কোনো তথ্য এই পাতায় নেই; তাদের অবস্থান এসেছে IWGIA, হিল ভয়েস ও আর্কাইভের লেখকদের মাধ্যমে।

প্রশ্নোত্তর

কাপ্তাই বাঁধে কত মানুষ উচ্ছেদ হয়?

প্রায় 1 লাখ মানুষ, 18,000 পরিবার। বাংলাপিডিয়া পরিবারের সংখ্যা 18,000 দিয়েছে; জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া দুটোই বলছে প্রায় 1 লাখ মানুষ, যাঁদের বেশিরভাগ চাকমা। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় 3 লাখ, অর্থাৎ প্রতি তিনজনে একজন ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাঁধের নির্মাণ শেষ হয় 1961 সালের শেষে।

কাপ্তাই বাঁধে কত জমি ডুবেছিল?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 21,870 হেক্টর চাষযোগ্য জমি ডুবেছে, আর প্রায় 688.94 বর্গ কিমি বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখায় সংখ্যাটি 54 হাজার একর কৃষিজমি, যা জেলার মোট কৃষিজমির প্রায় 40 শতাংশ; 369টি মৌজার 125টি পানির নিচে যায়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া মোট ডোবা এলাকা বলছে 655 বর্গ কিমি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের কাজ কোন কোন সংস্থা করে?

সরকারি দিকে চারটি প্রধান সংস্থা: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (গঠন 15 জুলাই 1998), পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (অধ্যাদেশ 1976, আইন 2014), আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ। সড়কে কাজ করে এলজিইডি ও সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিট। অর্থায়নে আছে এডিবি, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উন্নয়ন সহযোগী।

উন্নয়ন বোর্ড কত টাকার প্রকল্প নিজে অনুমোদন করতে পারে?

অনধিক 2 কোটি টাকার। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014-এর ধারা 9(1)(খ) অনুযায়ী বোর্ড পার্বত্য জেলাগুলোর উপজেলা সদর, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের জন্য এই সীমার মধ্যে প্রকল্প ও স্কিম অনুমোদন করতে পারে। একই ধারায় বোর্ডের কাজ হিসেবে প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং উন্নয়ন সংস্থার সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা আছে।

পাড়াকেন্দ্র কী?

পাড়াকেন্দ্র পাহাড়ি গ্রামের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র, উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগ। সরকার ও ইউনিসেফের সমঝোতা স্মারক সই হয় 11 জুলাই 1980। দ্য ডেইলি স্টারের 2009 সালের হিসাবে তিন জেলায় কেন্দ্র ছিল 2,520টি, পাড়াকর্মীদের 95 শতাংশ নারী। কর্মসূচির বর্তমান পর্যায়ের মেয়াদ 1 অক্টোবর 2024 থেকে 30 সেপ্টেম্বর 2029।

CHTRDP কী, আর এতে কত টাকা খরচ হয়েছে?

CHTRDP হলো এডিবির ঋণে চলা Chittagong Hill Tracts Rural Development Project। প্রথমটি অনুমোদন পায় 26 অক্টোবর 2000, ঋণ 30 মিলিয়ন ডলার, মোট খরচ 41.31 মিলিয়ন। দ্বিতীয়টি (CHTRDP-II) অনুমোদন পায় 14 জুলাই 2011, ঋণ 55 মিলিয়ন ডলার, মোট ব্যয় 69.36 মিলিয়ন; এতে 601 গ্রামে ছোট অবকাঠামো ও 84.36 কিমি সড়ক উন্নয়ন হয়েছে। ঋণ বন্ধ হয় 20 মার্চ 2022।

ইউএনডিপির CHTDF-এ কারা টাকা দিয়েছে?

2015 সালের চূড়ান্ত পর্যালোচনা অনুযায়ী CHTDF-এর মোট বাজেট 160.5 মিলিয়ন ডলার। এর 60 শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের, 11.9 শতাংশ ইউএনডিপির নিজের, 9.6 শতাংশ USAID-এর, 9 শতাংশ কানাডার CIDA-র, 7.8 শতাংশ ডেনমার্কের DANIDA-র; বাকিটা নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন ও জাপানের। কর্মসূচি শুরু হয় এপ্রিল 2003-এ, আর মে 2015 পর্যন্ত খরচ হয় 10,612 মিলিয়ন টাকা।

সীমান্ত সড়ক কত কিলোমিটার?

তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত বরাবর পরিকল্পিত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য 1,036 কিলোমিটার, দ্য ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী। অনুমোদিত প্রথম পর্যায় 317 কিলোমিটার। বাংলা ট্রিবিউনের হিসাবে জানুয়ারি 2023 পর্যন্ত এর 95 কিমি শেষ ও 132 কিমি চলমান ছিল, ভৌত অগ্রগতি 45 শতাংশ। নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর 34 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

চিম্বুকের হোটেল প্রকল্প নিয়ে জাতিসংঘ কী বলেছিল?

9 ফেব্রুয়ারি 2021-এ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বান্দরবানের চিম্বুক এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ স্থগিত করতে বলেন। তাঁদের ভাষ্যে সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপের R&R Holdings সেপ্টেম্বর 2020-এ ম্রো জমিতে নির্মাণ শুরু করে, আর প্রায় 10,000 মানুষ উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর স্বাধীন, আগাম ও অবহিত সম্মতি এবং পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষার আহ্বান জানান।

পাহাড়ে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে কার অনুমোদন লাগে?

উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন লাগে; উন্নয়ন বোর্ড আইন 2014-এর ধারা 15(1) অনুযায়ী এরপর সরকার জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। জমিতে ঢোকার আগে মালিক বা দখলদারকে অন্তত 24 ঘণ্টার নোটিশ দিতে হয় (ধারা 14)। 1976 সালের মূল অধ্যাদেশে জেলা পরিষদের অনুমোদনের এই শর্ত ছিল না।

পার্বত্য চুক্তিতে উন্নয়ন নিয়ে কী আছে?

1997 সালের চুক্তির (ঘ) খণ্ডের 9 দফায় সরকার তিনটি প্রতিশ্রুতি দেয়: অধিক সংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর নতুন প্রকল্প অগ্রাধিকারে বাস্তবায়ন ও অর্থায়ন, এবং পরিবেশ বিবেচনায় রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহ। চুক্তির আরেক দফায় বলা হয়, উন্নয়ন বোর্ড আঞ্চলিক পরিষদের সাধারণ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবে।

পাহাড়ে বিদ্যুৎ-সংযোগের হার কত?

প্রথম আলোর সেপ্টেম্বর 2026-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত পরিবারের হার খাগড়াছড়িতে 49 শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে 43 শতাংশ ও বান্দরবানে 41 শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার 99 শতাংশ। 1 সেপ্টেম্বর 2026-এ এডিবি 175 মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য 26 উপজেলার অন্তত 88,000 পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছানো।

যা এখনো জানা যায়নি

  • কাপ্তাইয়ের সরকারি মূল নথি: উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণের সংখ্যাগুলো বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া ও স্মৃতিনির্ভর লেখা থেকে নেওয়া। ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাংলাপিডিয়া (“সবাই পাননি”) ও উইকিপিডিয়া (“পাননি”) এক নয়; বরাদ্দের অঙ্কেও বাংলাপিডিয়া (41.5 মিলিয়ন টাকা) ও আর্কাইভের লেখায় উদ্ধৃত সাময়িকী (51 মিলিয়ন ডলার) আলাদা।
  • ইজারার বর্তমান হিসাব: বান্দরবানে ইজারা দেওয়া জমির তিনটি সংখ্যা (32,550, 40,077 ও 46,775 একর) কোন বছরের এবং এখন কত প্লট বহাল, তার কোনো সরকারি তালিকা পাওয়া যায়নি।
  • 2,18,000 ও 75,686 একর: নতুন সংরক্ষিত বন ও সামরিক অধিগ্রহণের এই দুই সংখ্যা লেখকদের দেওয়া; গেজেট বা সরকারি নথিতে মেলানো যায়নি, বর্তমান অবস্থাও জানা যায়নি।
  • চিম্বুকের প্রকল্প: 2022 সালের পর নির্মাণের অবস্থা, সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন এবং সেনাবাহিনী বা সিকদার গ্রুপের কোনো লিখিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের পক্ষের বক্তব্য এসেছে একটিমাত্র সংবাদ প্রতিবেদন থেকে।
  • সীমান্ত সড়ক: 2023 সালের পরের অগ্রগতি, হালনাগাদ ব্যয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সরকারি হিসাব এবং হেডম্যানদের স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগে সেনাবাহিনীর জবাব জানা যায়নি।
  • পাড়াকেন্দ্র: সর্বশেষ সংখ্যা 2009 সালের। বর্তমান কেন্দ্রসংখ্যা, প্রকল্পের ব্যয় ও ইউনিসেফের ভূমিকা জানা যায়নি।
  • ইউএনডিপি, 2015-র পর: SID-CHT পর্যায়ের বাজেট, দাতা ও সার্বিক মূল্যায়ন এই পাতায় নেই। 2003–2015 পর্যায়ের যে নথি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি নিজেকে “পর্যালোচনা” বলে, পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।
  • এডিবির 2026 সালের মূল্যায়ন: সমাপ্তি প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন হয়েছে কি না, আর বান্দরবানের বাকি দুই সড়কে ক্ষতিপূরণ শেষ পর্যন্ত সবাই পেয়েছেন কি না, জানা যায়নি।
  • বাজেট: মন্ত্রণালয়ের 2026-27 বরাদ্দের সংখ্যা একটিমাত্র সংবাদমাধ্যমের; উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের নির্ভরযোগ্য অঙ্ক পাওয়া যায়নি।
  • মৎস্য ও গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প: “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প” ও “Chittagong Hill Tracts Rural Infrastructure Development Project” নামে যে দুটি প্রকল্পের খোঁজ মানুষ করেন, সেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায়নি।
  • পাহাড়ের সংগঠনের নিজস্ব নথি: জনসংহতি সমিতি, আঞ্চলিক পরিষদ ও কাপেং ফাউন্ডেশনের মূল প্রতিবেদন এই পাতায় সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ (আইন ও দলিলের মূল পাঠ)

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014।
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997।
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, 1998।
  4. রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন।

জুমজার্নালের আর্কাইভ (প্রবন্ধ)

  1. মঙ্গল কুমার চাকমা ও হিরণ মিত্র চাকমা, বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
  2. মঙ্গল কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার : অর্জন ও সম্ভাবনা, 4 মার্চ 2012।
  3. নিঝুম তালুকদার, কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং।
  4. আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী।
  5. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা (অনুবাদ: রেশমি চাকমা), আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি, কল্পকাহিনী এবং বাস্তবতা।
  6. জুয়ামলিয়ান আমলাই, বন-বনায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম।
  7. চিন্তাভাবনাঃ সাজেকের ট্যুরিজম।

সরকারি ও আইনি উৎস

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, Allocation of Business ও পটভূমি।
  2. Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976, FAOLEX।
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, 2014, আইন মন্ত্রণালয়।
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড: চলতি প্রকল্পের তালিকা; চেয়ারম্যানদের তালিকা; পরামর্শক কমিটি; সুগারক্রপ প্রকল্প; তুলা প্রকল্প।

দাতা সংস্থার নথি

  1. ADB Independent Evaluation Department, Validation Report PVR-222: Chittagong Hill Tracts Rural Development Project, ডিসেম্বর 2012 (Wayback Machine-এ সংরক্ষিত কপি)।
  2. ADB, 42248-013: Second Chittagong Hill Tracts Rural Development Project, প্রকল্প তথ্যপাতা (সংরক্ষিত কপি)।
  3. ADB, Second Chittagong Hill Tracts Rural Development Project: Completion Report, নভেম্বর 2022 (সংরক্ষিত কপি)।
  4. ADB, Project Data Sheet 42248-023: Sustainable Management of Community Development for Chittagong Hill Tracts (কপি)।
  5. Nazme Sabina ও Kirti Nishan Chakma, Final Review: Promotion of Development and Confidence Building in the Chittagong Hill Tracts, CHTDF/UNDP, জুন 2015।
  6. UNDP Bangladesh, Strengthening Inclusive Development in Chittagong Hill Tracts (সংরক্ষিত কপি, অক্টোবর 2022)।

জাতিসংঘ ও অধিকার সংগঠন

  1. OHCHR, UN experts call for halt to contentious tourism resort in Bangladesh, 9 ফেব্রুয়ারি 2021 (সংরক্ষিত কপি)।
  2. IWGIA, The Indigenous World 2023: Bangladesh ও The Indigenous World 2024: Bangladesh (সংরক্ষিত কপি)।
  3. IWGIA, “If I lose my land, I am no one. I have nothing”, এপ্রিল 2021; What is happening to the land of the Mro people?, ডিসেম্বর 2021 (সংরক্ষিত কপি)।
  4. IWGIA, Protest against acquisition for Ruma Cantonment and BDR Wing HQ in Ruma of CHT, 2010; Chittagong Hill Tracts Peace Accord 25 years later, ডিসেম্বর 2022 (সংরক্ষিত কপি)।
  5. Minority Rights Group, IWGIA ও FIAN International, Bangladesh: Protect Indigenous Peoples’ rights in Chittagong Hill Tracts, জুলাই 2024 (সংরক্ষিত কপি)।
  6. Hill Voice, Headman signature taken forcibly by army constructing border road in Jurachari, 6 এপ্রিল 2023।

বিশ্বকোষ ও সংবাদমাধ্যম

  1. বাংলাপিডিয়া: Karnafuli Hydropower Station; Kaptai Lake; Chittagong Hill Tracts Peace Accord, 1997; Rubber Industry; Karnafuli Paper Mills।
  2. Wikipedia, Kaptai Dam।
  3. পাড়াকেন্দ্র নিয়ে প্রতিবেদন, The Daily Star, 21 মে 2009।
  4. UNDP Reviews Bandarban Projects: Sustainable uplift plans stressed, The Daily Star, 1 ফেব্রুয়ারি 2006।
  5. Mohammad Al-Masum Molla, CHT Border Road: 1,036km to pave way for surveillance, The Daily Star, 4 ডিসেম্বর 2020।
  6. সীমান্ত সড়ক পরিদর্শনে সেনাপ্রধান, বাংলা ট্রিবিউন, 30 জানুয়ারি 2023।
  7. Ali Asif Shawon, First phase of Border Road to end by next year, Dhaka Tribune, 30 জানুয়ারি 2023।
  8. UN experts call for halting Bandarban tourism resort construction, Dhaka Tribune, ফেব্রুয়ারি 2021; Civil society calls for halt to Bandarban hotel construction, Dhaka Tribune, 11 ফেব্রুয়ারি 2021।
  9. Eminent citizens demand cancellation of Marriott hotel project in Bandarban, The Business Standard, 12 ডিসেম্বর 2020।
  10. Mro villagers oppose hotel project in Bangladesh, UCA News, 18 নভেম্বর 2020।
  11. Indigenous people in Bangladesh oppose resort on ancestral land, The Third Pole / Eco-Business, 19 এপ্রিল 2021।
  12. এডিবির বিদ্যুৎ ঋণ নিয়ে প্রতিবেদন, প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর 2026; জুমনির্ভর পরিবারের প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদন, প্রথম আলো, 21 মে 2026।
  13. মন্ত্রণালয়ের 2026-27 বরাদ্দ নিয়ে প্রতিবেদন, খবর সংযোগ, 2026।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা