Last updated Oct 9th, 2026
942


আমার নাম প্রতিমা দেওয়ান। কিন্তু সবাই আমাকে গণেশ মা নামে একনামে চিনে। তাই প্রতিমা দেওয়ান নামটা কখন যে হারিয়ে গেছে জানতেও পারলাম না। আমাদের বাবা যখন মারা যান তখন আমি অনেক ছোট।
বাবা না থাকলে কী হবে, মা শক্ত হাতে বাবার ফেলে যাওয়া সংসার সামলাতেন। তাই ভাত পানি কাপড় কোনোকিছু নিয়েই আমাদের চিন্তা করতে হতো না। আমার মায়ের নাম জ্ঞানদা বালা দেওয়ান। আমার বাবা মা উভয়েই দেওয়ান পরিবারের সদস্য ছিলেন। মায়ের বাড়ি বুড়ি ঘাট এলাকায় আর ছিলেন লারমা গোজার দেওয়ান।
এখন ছোট ছেলেমেয়েদের যেরকম কষ্টকর পরিস্থিতি আমাদের সময়ে সেরকম ছিল না। ছোটবেলায় আমাদের কাজ ছিল শুধু খেলা আর খেলা। আমার মা কাজের লোকদের তদারকি করার জন্য প্রায় সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন।
আমাদের প্রায় ১৫ জনের মতো কাজের লোক ছিল শুধু ক্ষেত খামারের জন্য আর তারা সবাই ছিল বাঙালি। এখন আমরা সবাই বাঙালিকে ভয় পাই কিন্তু তখন তাদেরকে ভয় পাওয়ার কোন প্রশ্নই ছিল না। তারা সকলে আমাদের কথায় উঠতো বসতো কারণ আমরা তাদের মনিব ছিলাম।
কয়েকজন সানতাল ছিল কাজের জন্য। বাবা নাকি পাঁচ (৫) পরিবার সানতালকে ধম নালা থেকে এনেছিলেন। একজনের নাম মনে আছে মথুরা সানতাল। যেহেত বাড়ির বাইরে কাজ মা দেখাশুনা করতেন তাই বাড়ির ভেতরের কাজগুলো আমরাই দেখাশুনা করতাম।
বাবা আর কাকা বিরাজ মোহন দেওয়ান দেখতে একরকম ছিলেন। একটা স্মৃতি আজো মনে গেঁথে আছে। সেই স্মৃতি অবশ্য বেদনার। যাবার পর তাকে রঙিন কাগজ দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল যখন আগুন দেওয়া হলো তখন কেবলই আমার মনে হচ্ছিল আহা কত সন্দর রঙিন কাগজগুলো শুধু শুধু পুড়ে যাচ্ছে। এখন এই ঘটনা মনে পড়লে কষ্ট লাগে। বাবার জন্য কষ্ট না পেয়ে কেমন করে আমি শুধু রঙিন কাগজের কথা ভাবলাম!
কাপ্তাই বাঁধের পানি হবার আগেই আমরা খাগড়াছড়ি চলে আসি। এখন পৌরসভা অফিস যেখানে সেখানে খাগড়াছড়ি স্কুলের হেডমাস্টারের বাসা ছিল সেখানেই ছিলাম আমরা। এরপরেই তো বাবু অনন্ত মাস্টাররা এসেছিলেন।
আমরা ছিলাম অনেক ভাইবোন। ৯ ভাইবোন। তার মধ্যে আমরা ছিলাম তিন (৩) বোন পিঠেপিঠি। আমি, দীপিকা আর সাধনা। আমাদের এই তিনবোনের মধ্যে ভালোবাসাটা ছিল তীব্র। কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারতাম না। এমনকি রাতের বেলা প্রয়োজনে বাইরে গেলেও তিনজনেই একসাথে যেতাম। আর সারাক্ষণ গল্প করতাম। এখন তো বোনদের মধ্যে এমন ভালোবাসা দেখি না।
আমাদের বাড়ি ছিল বিরাট মানে বিরাট। জায়গা-জমিও ছিল অনেক। আমার মনে আছে আমাদের কুশ্যাল মানে আখের ক্ষেত ছিল। দুটো গুড় বানানোর মেশিন দিয়ে আশ্বিন মাস থেকে আখ থেকে গুড় বানানো হতো ফাগুন চৈত্র মাস পর্যন্ত।
এমনই আখ হতো আমাদের। আহ! সেসব দিন। আমাদের যদিও অনেক জমিজমা ছিল তবুও আমরা মাজন ছিলাম না। আমি মাজন শব্দটা প্রথম এসে শুনেছি চেঙেই কূলে এসে। আমাদের ওখানে কেউ নিজেকে মাজন বলে পরিচয় দিত না। (হাসি)
আমাদের বাড়িতে পিনন খাদির কম চল ছিল। সবাই শাড়ি পরতাম। মনে আছে জেঠাবাবু কামিনী দেওয়ানের পুত্রবধুকে (বৌটি আবার আমার মামাতো বোন অর্থাৎ মায়ের আপন ভাইয়ের মেয়ে) আনতে গিয়েছিলাম আমরা। মাও গেছে তার ভাইয়ের মেয়েকে ভাসুরের ছেলের জন্য বৌ করে আনতে। আমরা তখন আমার ছোট বোন সাধনা একেবারে দুধের শিশু। বড় বড় নৌকা করে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে আমরা গেলাম বৌ অনতে। নৌকায় কতদিন লেগেছে আমার মনে নেই। তখন তো আমরা খুব বোকা ছিলাম। বৌ যে কে তাও চিনতাম না। এখন তো দুধের বাচ্ছাটাও চিনে বৌ কোনজন হতে পারে।
সাধনা মানে চিক্কবি ছোট কিন্তু হাটতে পারে। তাকে ২ টাকা দামে কেনা ছোট শাড়ি পরানো হয়েছিল। নৌকা থেকে নামার পর বালু চরে কি আর সে শাড়ি পরে হাটতে পারে। এক পা হাটে তো দুই পা পরে যায়। যাই হোক এভাবে আমরা মামার বাড়ি মানে বৌয়ের বাড়ি পৌছে গেলাম।
আমরা শুনেছি বৌ ভেতরের রুমে থাকে। আমার মামাদেরও বিরাট গুদাম বাড়ি, আমাদের বাড়ি থেকেও বড়। আমার তিন মামাই একসাথে থাকতেন তখন। সেখানে একটা রুম-এ বিয়েতে খাওয়ানোর জিনিসপত্র বিশেষ করে কলাপাতা রাখা হয়েছে। তো আমরা ভাবলাম এই অন্ধকার রুমে বেী বসে আছে।
তাই আমি আর আমার বোনরাসহ লুকিয়ে লুকিয়ে সেই অন্ধকার রুমের দরজার ফাক দিয়ে দেখতে যাই আবার নিজেরা নিজেরা লজ্জা পেয়ে চলে আসি। আমরা ভেবেছি ঐ অন্ধকার ঘরেই বৌ বসে আছে। কিন্তু কোথায় বৌ? এদিকে বৌ বসে আছে গুদাম বাড়ির বাইরে আলাদা একটা আলগ ঘরে তার বন্ধুদের নিয়ে। আর আমরা ভেবেছিলাম সেই অন্ধকার রুমে রাখা ‘পাতার বোনা’কে বৌ। (হাসি)
তো বৌকে নিয়ে ফেরার পথে হাবুক্কে নামক কোনো জায়গায় এক মাজনের বাড়িতে আমরা সকলে রাত কাটালাম। সে ব্যক্তি এমন মাজন ছিলেন যে আমাদের ৪ নৌকার বর যাত্রীদের দুবেলা খাওয়াতে উনার কোনো কষ্ট হয়নি।
আমি আগেই বলেছি আমাদের বাড়িতে পিননের প্রচলন ছিল কম। মা সবসময় শাড়ি পরতেন। মাঝে সাঝে বাড়িতে পিনন পরলেও বাড়ির বাইরে পিনন পরতেন না একেবারেই। অবশ্য তখনতো এতো বেশি বাড়ির বাইরে মানে দূরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
আমাদের বাড়িতে বৌ আনা হতো শাড়ি দিয়ে। পিনন দিয়ে বৌ আনতে দেখিনি আমি। বৌয়ের জন্য শাড়ি, মাথায় ঘোমটা দেওয়ার জন্য সাইস কাপর আর সোনা দেয়া হতো গলায় কানে হাতে এমনকি পায়ের নুপুর ছিল সোনার। তখনকার সময়ে রুপার সের/কেজি ছিল ৫ টাকা।
আমার ভাইয়ের বৌ তখন খুব ছোট যখন সে বৌ হয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছে। এতো ছোট যে আমার বাবার মুখের সামনেই দোলনায় দুলতো। হুলু মাকে বৌ করে আনার সময় বাড়ি থেকে প্রতিটি শাড়ি ২২ টাকা করে দুটো শাড়ি কিনে দেওয়া হয় একটা আমার জন্য আরেকটা বৌয়ের জন্য। আমারটা গোলাপি রং আরেকটা বেগুনি কালারের। সেময়ে শাড়ির দাম হাত হিসাব করে বিক্রি করা হতো। ১০ হাত শাড়ির ১০ টাকা দাম। আমাদের সময়ে আমরা আমাদের মতো স্বাধীন ছিলাম।
কৈশোর বয়সে পিনন পরে বুকে খাদি দিতে আমাদের লজ্জা লাগতো। খাদির মতো করে গামছা দিতাম আমরা। অবশ্য সে গামছাটা আমরা নিজেরাই নয় মাঝে মাঝে শোনা যেতো ফুলানা ঝিবো হুত্তমো হইয়ে হিজিনি। তারে বেলে এবারত বিঝু’ত হাল পালনিত হাদি বানি দিবাব’ অর্থাৎ ‘অমুকের মেয়ে কত হয়েছে কে জানে! শোনা যাচ্ছে তাকে এই বিষ্ণুর হাল-পালনির সময়ে খাদি পরাবে।
আমাদের সময়ে খাদি দেওয়া মানে মেয়েটি কৈশোর থেকে নারীতে পা দিয়েছে। সেসময় কিন্তু এই নিয়ে আনন্দ উৎসব হতো। এখন অবশ্য ছোট থেকে বড় সবাই একই ধরণের পিনন খাদি পরছে। আর নারীতে পরিণত হওয়া সময়টাকে আমাদের সময়ের মতো কেউ উৎসব করছে না।
তো বলতেই হয় আমাদের সেসময়টা ছিল উদ্বেগহীন দুঃশ্চিন্তামুক্ত সময়। যেখানে যেভাবে থাকি না কেন কোন ভয় ছিল না- না বাঙালির ভয়, না কোনো ছেলে বা পরুষের হাতে নির্যাতিত হওয়ার ভয়। এখনতো সবাইকে এই ভয় কুড়ে কুড়ে খায়। আমাদের সময়ে গ্রামে কাউকে বৌ দেখতে আসলে আমরা সকলে ছেলেমেয়েসহ গল্প দিতাম এমনকি মাঝে মাঝে একটা বড় রুমে একসাথে পাশাপাশি ঘুমাতাম ভাইবোনের মতো। কাউকে অপমান করার চিন্তা কেউ করতো না।
কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ে হলেও বোনদের প্রতি ভালোবাসা ছিল সবসময়। একসময় সাধনা দীপিকারও বিয়ে হয়ে যায়। আমাদের ভাবতে ভালো লাগতো যে আমরা বোনেরা সকলেই ভালো জায়গায় আছি। কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার পর আমাদের এই ভালো থাকায় আগুন লাগে।
আমাদের সেই বাড়ির ভিটে ডুবে গেলে ভাইরা চলে আসে খাগড়াছড়িতে। দীপিকারাও চলে আসে কিন্তু থাকলো না। তার স্বামী ঠিক করলো ভারতে চলে যাবে। আমার অন্য দুজন ভাইয়ের সাথে মিলে তারা চলে গেল বর-পরং-এ। সেই যে গেল আর কোনো খবর নেই তাদের। নিজ মন কাঁদে। কেমন আছে আদৌ বেঁচে আছে কিনা এটা নিয়ে ভাবতে কষ্ট হয়।
অনেক বছর পর আমার ভাই অবশেষে দেশে আসতে পারলেন তখনই জানলাম তারা সকলেই নেফাতে আছেন। আমার তো ভাইদের চাইতে বোনের জন্য মন কাঁদে। বোন দীপিক দেখার জন্য সবসময় মন উতলা হয়ে থাকে।
অনেক বছর পর দীপিকা দেশে এলো আমাদের দেখতে। তার তিন মেয়ে মীনাক্ষী, পিনাক্ষী আর রাণী। বড় মেয়ের জন্য তো এখানেই নেফায় যাওয়ার আগে। সেখানে বাকি দুই মেয়ের জন্য হয়। দীপিকা, আমার ছোট বোনের জন্য আমার খুব মায়া হয়। বেচারা জীবনে কোথাও ঠিকমতো থিতু হতে পারলো না।
সেই কথা পরে বলছি। তো ১৯৬৪ সালের পর ১৯৮০ সালের কাছাকাছি আমাদের আবার দেখা হলো। শুনলাম বসে বসে তাদের দুঃখের কাহিনি। একমাসের মতো এখানে থেকে আবার চলে গেল নেফা বর্তমান অরুণাচলে। আবার কি দেখা হবে আমাদের! কিন্তু দেখা হয়ে গেল।
তারও কয়েক বছর পরে আমার বোন জানালো যে সে বুদ্ধ গয়া তীর্থের জন্য আসছে। আমি যেন পারলে যায়। তাহলে তীর্থও করা হবে আবার দুই বোনের দেখাও হবে। আমি শুনে এক পায়ে খাড়া। যেতেই হবে। তীর্থ ফির্থ কিছুই না আমি যাবো আমার বোনের সাথে দেখা করতে। এদিকে যাবার সময়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমার মেয়েরা কিছুতেই যেতে দিবে না আর আমি যাবোই।
গাড়িতে উঠলাম। আমার মেয়েরা আমার নাতি রাজনকে ফোন করে বললো কুমিল্লাতে যেন আমাকে আটকায়। এভাবে আমি ঢাকায় পৌছলাম। এইবার মেয়েরা আমার আরেক বোন সাধনার মেয়েদের বললো আমাকে ঢাকায় আটকাতে। আমার তখন অনেক জ্বর। কিন্তু কেউ আমাকে আটকাতে পারলো না।
আমার মন তখন আমার বোনের জন্য উতলা হয়ে আছে। আমি শরীরে জ্বর নিয়েই ভারতে বুদ্ধ গয়ায় পৌছলাম দীপিকাকে দেখবো বলে। জ্বরের কারণে আমার কোনো তীর্থ করা হলো না, কিন্তু বোনের সাথে দেখা হলো। ৩/৪ দিন একসাথে হোটেলে থাকলাম তারপর সে তাদের দলের সাথে তীর্থ করতে চলে গেল।
আমি ফিরে এলাম দেশে। দীপিকা শেষ বার এসেছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু একদিন থেকেই মনের দুঃখে তাকে চলে যেতে হয়। এইতো গত বছর সে মারা যায়।
কাপ্তাই বাঁধের কারণে আমাদের শত বছরের বাড়ি জায়গা সব পানির তলে ডুবে আছে। গ্রীষ্মকালে নাকি মাঝে মাঝে আমাদের ভিটা মাথা তুলে থাকে। আমার তিন তিনটা ভাইবোনকে দেশান্তরী হতে হলো।
শুধু দেশান্তরী না একেবারে নিঃস্ব মানুষের মতো জীবনটা কাটাতে হলো। অথচ আমাদের কি ছিল না! মেঝো ভাই আমিয় কুমার দেওয়ানের সাথে আর আমাদের কারোর দেখা হলো না। সে মারা গেছে অনেক আগে। বড় ভাই শিশির দা একবার এসেছিল। কিন্তু মেঝোভাই একবা বারও আসতে পারেনি।
এমনকি তার স্ত্রী ছেলেমেয়ের সাথেও আমাদের দেখা। এসব কিছু একেবারে স্বপ্নের মতো লাগে। এইতো কয়েক বছর আগের কথা আমি একবার অরুণাচলের চাকমাদের নিয়ে করা একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম।
হঠাৎ একজনকে খুব চেনা মনে হলো। মনে হলো এটা আমাদের আত্নীয় না হয়ে পারে না। পরে জানলাম সে আমার ভাইয়ের ছেলে অরিন্দম। আমাদের মুখোমুখি কখনো দেখা হয়নি। হবেও না আর।
এই সেদিন অরিন্দম মারা গেছে। আমার বোন দীপিকাকে নিয়ে আমার অনেক দুঃখ। প্রথম বার সে যখন এখানে এসেছিল তখন তার ছোট মেয়ে রানী সন্তান প্রসবের সময় মারা যায়। রানীর মেয়েটা এখন পিনাক্ষীর কাছে থাকে। শেষবার দীপি আসলো ২০১৩ সালে। মাত্র ১ দিন আগে সে আমার বাড়িতে এসেছে তার পরদিন আমার ছেলে গণেশ হঠাৎ করে মারা গেল।
দীপিকাকে এই ঘটনা ভীষণ শোকগ্রস্ত করে ফেলে বলে আমি পাজারা রাক্ষুসী হয়েছি। আর একদিনও না থেকে সে মিজোরামে তার বড় মেয়ের কাছে চলে যায়। এইতো শুনলাম গতবছর ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে আমার ছোটবোন দীপিকা মারা গেছে। আমার ছোটবোন আমার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।
তাই তাকে নিয়ে আমার দুঃখের শেষ নেই। কোথাও পুরোদমে স্থিতি হতে পারলো না। কাপ্তাই বাঁধ তাকে একেবারে ঠিকানাহীন করে ছেড়েছে। দেশ ছাড়ার পর নেফাতে ছিল তার ঠিকানা। পরে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। বড় মেয়ে মিজোরামের চাকমা ডিস্ট্রিক কাউন্সিলে স্থায়ী ঠিকানা গড়েছে।
মেঝো মেয়ে আসামে। আজ এখানে কাল ওখানে করতে করতে আমার বোনটার জীবন শেষ হয়ে গেল। হায় কাপ্তাই বাঁধ। পানিযে এতো ভয়ংকর হতে পারে এই বাঁধ না হলে বুঝতেই পারতাম না। আমাদের সোনার পরিবার এই বাঁধের পানিতেই ডুবে শেষ হয়ে গেল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ২০১৬ সালের দিকে। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন ২০১৭
লেখকঃ প্রতিমা দেওয়ান, পজিম নারাঙহিয়া, খাগড়াছড়ি।
তথ্যসুত্রঃ “কাপ্তাই বাঁধ: বরপরং – ডুবুরীদের আত্মকথন” – সমারী চাকমা।
প্রসঙ্গ:কাপ্তাই বাঁধ, দীপিকা দেওয়ান, প্রতিমা দেওয়ান
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।