Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি সহাবস্থান: জনসংখ্যার অনুপাত, বসতি স্থাপন কর্মসূচি ও নথিভুক্ত ঘটনা

Last updated Oct 19th, 2026

Map of southern Bangladesh with the three hill districts of the Chittagong Hill Tracts shaded red along the south-eastern border, the Bay of Bengal in blue below

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি এখন সংখ্যায় প্রায় সমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) 2022 সালের জনশুমারিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার মোট 1,842,811 জনের মধ্যে 920,248 জন “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গোনা হয়েছেন, অর্থাৎ 49.94%; বাকি 922,563 জন বা 50.06%। আমাদের আর্কাইভের একটি লেখা অনুযায়ী 1941 সালে এই অনুপাত ছিল পাহাড়ি 97.06%, বাঙালি 2.94%।

এই বদলের বড় অংশ ঘটেছে 1979 থেকে 1985 সালের মধ্যে, সরকারি উদ্যোগে সমতলের পরিবারকে পাহাড়ে বসানোর একটি কর্মসূচিতে। কত পরিবার এসেছিল, সে সংখ্যা উৎসভেদে 80,000 পরিবার থেকে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পর্যন্ত। দুই জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে উত্তেজনার যে কারণগুলো নথিতে পাওয়া যায়, সেগুলো হলো জমি, বসতি স্থাপন, সশস্ত্র সংঘাতের বছরগুলোর হামলা ও পাল্টা হামলা, আর 1997 সালের চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দিকের আপত্তি।

এই পাতায় প্রতিটি সংখ্যা ও প্রতিটি ঘটনার পাশে বলা আছে কোন উৎস কথাটি বলছে। যেখানে দুই উৎস দুই রকম সংখ্যা দেয়, সেখানে দুটোই পাশাপাশি রাখা হয়েছে; কোনটি ঠিক, তা এখানে বিচার করা হয়নি। চুক্তির ধারা ও ভূমি আইনের বিস্তারিত এখানে নেই; সেগুলোর জন্য আলাদা লেখার লিংক দেওয়া আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাকি বিষয়ের সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-পাতায়।

“পাহাড়ি”, “বাঙালি”, “সেটেলার”: কোন শব্দ কে ব্যবহার করে

এই বিষয়ে শব্দ নিজেই বিতর্কের অংশ। জুমজার্নাল সাধারণভাবে “আদিবাসী” ও সমষ্টিগতভাবে “জুম্ম” লেখে; 1997 সালের চুক্তি ও আইন লেখে “উপজাতীয়” ও “অ-উপজাতীয়”; BBS লেখে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”। “সেটেলার” শব্দটি পাহাড়ি পক্ষের লেখায় চলে; বাঙালি সংগঠনগুলো নিজেদের বলে “পার্বত্য বাঙালি”।

এই পাতায় “পাহাড়ি” শব্দটি এসেছে সমষ্টিগত অর্থে, কারণ ব্যবহৃত বেশির ভাগ উৎস সেভাবেই লিখেছে। এর ভেতরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বমসহ আলাদা আলাদা জনগোষ্ঠী আছেন; কোনো ঘটনার বেলায় উৎস জনগোষ্ঠীর নাম বললে তবেই সে নাম এখানে লেখা হয়েছে। 1979–85 সালের কর্মসূচিতে আসা পরিবারগুলোর জন্য এখানে লেখা হয়েছে “বসতি স্থাপনকারী”; উদ্ধৃতির ভেতরে উৎসের নিজের শব্দ (“সেটেলার”, “Bangalee settlers”, “Bangla-speaking”) অপরিবর্তিত আছে।

আমাদের আর্কাইভে এডিসন চাকমা তাঁর “পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতার উৎসমুখ” লেখায় দুটি ভাগ করেছেন: “স্থায়ী বাঙালি”, অর্থাৎ তাঁর ভাষায় “১৯৮০ সালের আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসবাস শুরু করা” মানুষ, আর পরে পুনর্বাসিত “সেটেলার”। গবেষক স্বপন আদনান ও রণজিৎ দস্তিদার (Ranajit Dastidar) তাঁদের 2011 সালের বইয়ে তিনটি ভাগ করেছেন: কর্মসূচিতে আনা “political migrants”, পাশের জেলা থেকে নিজ উদ্যোগে আসা “self-propelled” অভিবাসী, আর আগে থেকে থাকা বাঙালি। সরকারি কোনো নথিতে এই ভাগ ধরে গণনা পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন পাহাড়ি ও বাঙালি কত শতাংশ

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার 1,842,811 জনের মধ্যে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” 920,248 জন (49.94%), বাকি 922,563 জন (50.06%)। জেলা ধরে ছবিটা আলাদা: রাঙামাটিতে পাহাড়ি 57.58%, খাগড়াছড়িতে 48.93%, বান্দরবানে 41.15%। সংখ্যাগুলো BBS-এর তিনটি জেলা-প্রতিবেদন থেকে; যোগফল ও শতাংশ সেগুলো থেকে হিসাব করা।

জেলামোট জনসংখ্যা“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” (BBS Table P17)শতাংশবাকি জনসংখ্যাশতাংশ
রাঙামাটি647,586372,87557.58%274,71142.42%
খাগড়াছড়ি714,119349,39048.93%364,72951.07%
বান্দরবান481,106197,98341.15%283,12358.85%
তিন জেলা1,842,811920,24849.94%922,56350.06%

দুটি কথা মনে রাখা দরকার। প্রথমত, BBS “বাঙালি” নামে আলাদা কোনো সারি ছাপে না; “বাকি জনসংখ্যা” কলামটি মোট থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা বাদ দিয়ে পাওয়া। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল অবশ্য এই বাকি 364,729 জনকে সরাসরি “বাঙালি” (51.07%) বলে লিখেছে। দ্বিতীয়ত, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” সারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের জনগোষ্ঠীর অল্প কিছু মানুষও আছেন; যেমন খাগড়াছড়ির ছকে সাঁওতাল 541 ও গারো 97 জন।

কোন জেলায় কোন জনগোষ্ঠী বড়

BBS-এর Table P17 অনুযায়ী রাঙামাটিতে চাকমা 276,048, মারমা 51,403, তঞ্চঙ্গ্যা 27,975 ও ত্রিপুরা 12,300 জন। খাগড়াছড়িতে চাকমা 175,165, ত্রিপুরা 98,500 ও মারমা 74,210 জন। বান্দরবানে মারমা 84,170, ম্রো 51,448, ত্রিপুরা 22,572, তঞ্চঙ্গ্যা 14,889 ও বম 11,854 জন। অর্থাৎ তিন জেলায় “পাহাড়ি” বলতে একই জনগোষ্ঠী বোঝায় না।

উপজেলা ধরে পার্থক্য আরও বড়। রাঙামাটির জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.29 অনুযায়ী জুরাছড়ি উপজেলার 26,932 জনের মধ্যে 25,681 জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর, আর লংগদু উপজেলার 90,408 জনের মধ্যে 21,248 জন। একই জেলার দুই উপজেলায় অনুপাত প্রায় উল্টো।

জনসংহতি সমিতি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, শুমারি সম্প্রদায়ভিত্তিক পূর্ণ তথ্য দেয় না, তাই অ-আদিবাসী বাসিন্দার সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। এটি সমিতির নিজের বক্তব্য।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ধর্মের মানুষ কত

জনশুমারি 2022-এর তিন জেলা-প্রতিবেদন যোগ করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম 821,277 জন (44.57%), বৌদ্ধ 769,450 (41.75%), হিন্দু 169,319 (9.19%), খ্রিষ্টান 60,008 (3.26%) ও অন্যান্য 22,757 (1.23%)। ধর্ম আর জাতিগত পরিচয় এক জিনিস নয়; খাগড়াছড়ির হিন্দুদের বড় অংশ কোন জনগোষ্ঠীর, তা এই ছক বলে না।

জেলামুসলিমবৌদ্ধহিন্দুখ্রিষ্টানঅন্যান্য
রাঙামাটি234,834 (36.26%)370,793 (57.26%)33,1128,547300
খাগড়াছড়ি332,687 (46.59%)256,600 (35.93%)119,706 (16.76%)4,407719
বান্দরবান253,756 (52.74%)142,057 (29.53%)16,50147,054 (9.78%)21,738
তিন জেলা821,277769,450169,31960,00822,757

সংখ্যাগুলো BBS-এর জেলা-প্রতিবেদন থেকে; শতাংশ ও যোগফল হিসাব করা। ইংরেজি Wikipedia-র খাগড়াছড়ি জেলা-পাতায় BBS-এর 2011 সালের Zila Report-এর বরাতে আগের শুমারিগুলোর ধর্মভিত্তিক শতাংশ দেওয়া আছে: খাগড়াছড়ি এলাকায় মুসলিম 1981 সালে 32.19%, 1991 সালে 47.44%, 2001 সালে 43.52%, 2011 সালে 44.18%; বৌদ্ধ যথাক্রমে 49.98%, 35.51%, 39.28% ও 37.68%। সংখ্যাগুলো Wikipedia-র ছক থেকে; BBS-এর মূল Zila Report-এর সঙ্গে মেলানো যায়নি। এই ধারায় সবচেয়ে বড় বদলটি 1981 থেকে 1991 সালের মধ্যে।

শুমারি ধরে অনুপাত কীভাবে বদলাল

পাওয়া উৎসগুলো মিলিয়ে ধারাটি এ রকম: 1941 সালে বাঙালি 2.94%, 1961 সালে 11.77% (আর্কাইভ, এডিসন চাকমা); 1974 সালে প্রায় 11.6% ও 1991 সালে প্রায় 48.5% (Banglapedia, আমেনা মহসিন); 2022 সালে অ-নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা 50.06% (BBS থেকে হিসাব)। প্রতিটি সারির উৎস আলাদা, তাই ছকটি একটানা সরকারি ধারা নয়।

শুমারির বছরমোট জনসংখ্যাপাহাড়িবাঙালিকোন উৎসে পড়া
187269,607উৎসে নেইউৎসে নেইইংরেজি Wikipedia, Imperial Gazetteer of India (খণ্ড 10)-এর বরাতে; উৎস শুমারিটিকে “very imperfect” বলেছে
1881101,597উৎসে নেইউৎসে নেইওই
1891107,286উৎসে নেইউৎসে নেইওই
1901124,762উৎসে নেইউৎসে নেইওই
1941উৎসে নেই97.06%2.94%আর্কাইভ, এডিসন চাকমার লেখার হিসাব; লেখাটি শুমারি-প্রতিবেদনের নাম দেয়নি, মূল শুমারির সঙ্গে মেলানো যায়নি
1951উৎসে নেই93.71%6.29%ওই লেখার হিসাব
1961উৎসে নেই88.23%11.77%ওই লেখার হিসাব
1974উৎসে নেইউৎসে নেইপ্রায় 11.6%Banglapedia, আমেনা মহসিন
19911,042,373 (Banglapedia); 974,445 (BBS 2022 জেলা-প্রতিবেদনের 1991 কলামের যোগফল)উৎসে নেইপ্রায় 48.5%Banglapedia; BBS
20011,392,364 (আর্কাইভ, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, Population Census 2001, National Series, Vol. I-এর বরাতে); 1,331,966 (BBS 2022 জেলা-প্রতিবেদনের 2001 কলামের যোগফল)উৎসে নেইউৎসে নেইআর্কাইভ; BBS
20111,663,214 (আর্কাইভ, এডিসন চাকমা); 1,598,231 (BBS 2022 জেলা-প্রতিবেদনের 2011 কলামের যোগফল)856,541 (আর্কাইভ)806,673 (আর্কাইভ)আর্কাইভ; BBS
20221,842,811920,248 (49.94%)922,563 (50.06%), মোট থেকে বাদ দিয়েBBS, তিন জেলা-প্রতিবেদন

ছকে তিনটি অমিল চোখে পড়ে। আর্কাইভের লেখায় 1961 সালে বাঙালি 11.77%, আর Banglapedia-য় তেরো বছর পরের 1974 সালে প্রায় 11.6%। 1991, 2001 ও 2011 সালের মোট জনসংখ্যায় BBS-এর 2022 সালের জেলা-প্রতিবেদনের পুরোনো কলামগুলোর যোগফল অন্য উৎসের সংখ্যার চেয়ে প্রতিবারই কম: যথাক্রমে 67,928, 60,398 ও 64,983 জন। এই পার্থক্যের কারণ কোনো উৎসে লেখা নেই।

জেলা ধরে BBS-এর নিজের ধারাটি এ রকম: রাঙামাটি 1991 সালে 401,388, 2001 সালে 508,182, 2011 সালে 595,979, 2022 সালে 647,586; খাগড়াছড়ি 342,488, 525,664, 613,917 ও 714,119; বান্দরবান 230,569, 298,120, 388,335 ও 481,106। তিন দশকে খাগড়াছড়ির জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে, বান্দরবানেরও।

1974, 1981 ও 2001 সালের শুমারিতে পাহাড়ি ও বাঙালির আলাদা সংখ্যা কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। ইংরেজি Wikipedia-র জেলা-পাতাগুলো 1941 সালের ভারতীয় শুমারির বরাতে বর্তমান তিন জেলার এলাকায় “Tribal” শ্রেণির অংশ দেয় 93.21% (রাঙামাটি), 94.50% (বান্দরবান) ও 96.26% (খাগড়াছড়ি); সেখানে “Tribal” ধর্মের একটি শ্রেণি, জাতিগত গণনা নয়। শতাংশগুলো Wikipedia-র ছক থেকে; মূল 1941 শুমারি-প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলানো যায়নি।

1979 সালের আগে বাঙালিরা পাহাড়ে কীভাবে ছিলেন

আমাদের আর্কাইভে এডিসন চাকমার লেখা অনুযায়ী 1947 সালের আগে পাহাড়ে যে বাঙালিরা থাকতেন, তাঁরা ব্যবসা বা চাকরির সূত্রে ছিলেন। তাঁর হিসাবে 1961 সাল পর্যন্ত বাঙালি জনসংখ্যা বেড়ে 11.77% হলেও তখনো “পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা মারামারির মত ঘটনা ঘটে নি”।

কারণ হিসেবে লেখক বলেছেন, সে সময়ের বাঙালিরা “নিয়মতান্ত্রিকভাবেই গিয়েছিল” এবং পাহাড়িদের জমি নিয়ে বসবাস শুরু করেননি। এটি লেখকের নিজের মূল্যায়ন; এর পক্ষে বা বিপক্ষে সে সময়ের কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। জনসংহতি সমিতি তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, পাকিস্তান সরকারই 1960-এর দশকে বাঙালি মুসলিম পরিবার পাহাড়ে আনা শুরু করে; এটি সমিতির দাবি; পাতাটিতে এর সূত্র দেওয়া নেই, আর অন্য কোনো উৎসে এর সমর্থন পাওয়া যায়নি। বহিরাগতদের প্রবেশ ও বসবাসে 1900 সালের রেগুলেশনের বিধিনিষেধের বিবরণ আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।

কাপ্তাই বাঁধ: একটি লেখার শিরোনামে “অবিশ্বাসের সূত্রপাত”

আর্কাইভের একটি লেখার শিরোনামই হলো “বড়পরং – বাঙালিদের প্রতি পাহাড়ীদের অবিশ্বাসের সূত্রপাত”। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের একাল-সেকাল (অংকুর প্রকাশনী, 2002) বইয়ের বরাতে বলা হয়েছে, কাপ্তাই বাঁধে 369টি মৌজার 125টি ডুবে যায়, 54 হাজার একর কৃষিজমি তলিয়ে যায় (জেলার মোট কৃষিজমির প্রায় 40%), ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় 1 লাখ মানুষ বা 18 হাজার পরিবার। এডিসন চাকমার লেখায় একই 54 হাজার একরকে বলা হয়েছে মোট চাষযোগ্য জমির 54.06%, আর বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা 99,977। Banglapedia-য় আমেনা মহসিন লিখেছেন, উচ্ছেদ হওয়া অনেকে ভারতের অরুণাচলে চলে যান। ডুবে যাওয়া গ্রামের স্মৃতিকথা পড়া যাবে কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে আর্কাইভের আরেকটি লেখায়।

বসতি স্থাপন কর্মসূচিতে কত পরিবার এসেছিল

পাহাড়ে বসতি স্থাপন কর্মসূচি শুরু হয় 1979 সালে (Banglapedia, আমেনা মহসিন) এবং চলে 1984–85 পর্যন্ত। কত মানুষ এসেছিলেন, তার কোনো সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। উৎসভেদে সংখ্যাটি 80,000 পরিবার, 340,000–350,000 জন, প্রায় 400,000 জন, 400,000-এর বেশি, অথবা পাঁচ লক্ষাধিক।

উৎসসময়কালপরিবার বা মানুষউৎস নিজে কী বলে
আর্কাইভ, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা1979–80 থেকে 1984–85, তিন দফা30,000 + 25,000 + 25,000 = 80,000 পরিবার“বলে ধারণা করা হয়”; “কোন সরকারি তথ্য পাওয়া যায়না”
স্বপন আদনান, 2004 (আর্কাইভের ওই লেখায় উদ্ধৃত)ওই340,000–350,000 জনবিভিন্ন লেখকের অনুমান বিশ্লেষণ করে করা হিসাব
স্বপন আদনান ও রণজিৎ দস্তিদার, 20111979–85প্রায় 400,000 জন“approximately 400,000 Bengali settlers”
আর্কাইভ, এডিসন চাকমা1979; 19811979 সালে 30 হাজার পরিবার; 1981 সালে এক লক্ষ পরিবার1979 সালে বরাদ্দ 65 কোটি টাকা; 1981 সালে পরিবারপ্রতি 5 একর জমি ও নগদ 3,600 টাকা। সূত্রের নাম নেই
আর্কাইভ, গৌতম কুমার চাকমা (জনসংহতি সমিতির নেতা)1979–85“পাঁচ লক্ষাধিক”পরে “সাড়ে পাঁচ লক্ষ সেটেলারদের মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ” ফিরে যান বলে তাঁর “অনুমান”
জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট1978–84, তিন দফা400,000-এর বেশি: 30,740 পরিবার (প্রায় 140,000 জন), 23,519 পরিবার (প্রায় 100,000 জন), তৃতীয় দফায় প্রায় 50,000 জনপাতায় সূত্র নেই; দ্বিতীয় দফার যোগফল একই পাতায় 23,519 ও 23,526 দুই রকম
The Daily Star, 4 জুন 20051978গুচ্ছগ্রামে রেশন পাওয়া 27,000 পরিবার“brought to the hills as transmigrators in 1978”

কোন সংখ্যাটি ঠিক, তা বলার মতো সরকারি নথি নেই। লক্ষ করার বিষয়, শুরুর বছর নিয়েও উৎসগুলো এক নয়: Banglapedia ও এডিসন চাকমা বলছেন 1979; গৌতম কুমার চাকমা বলছেন সিদ্ধান্ত 1978 সালের শেষে, কাজ শুরু 1979 সালের গোড়ায়; জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট ও The Daily Star-এর 2005 সালের প্রতিবেদন বলছে 1978।

কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল

জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখা অনুযায়ী প্রথম দফার পরিবারগুলোকে পরিবারপ্রতি 2.5 একর কৃষিজমি, আর পরের দুই দফায় 4 একর মিশ্র জমি বা 5 একর পাহাড়ি জমি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এডিসন চাকমা লিখেছেন 5 একর জমি, নগদ 3,600 টাকা ও মাসিক রেশনের কথা। The Daily Observer-এর 2020 সালের একটি প্রতিবেদনে দীঘিনালার সোনামিয়া টিলার পরিবারগুলোর কাগজ ধরে লেখা হয়েছে, 1983 সালে প্রতিটি পরিবার পায় 23 শতক বসতভিটা ও 4.77 একর চাষযোগ্য পাহাড়ি জমি; দুটো যোগ করলে 5 একর।

Amnesty International 2013 সালের একটি বিবৃতিতে লিখেছে, বসতি স্থাপনকারীরা মূলত সমতল জেলার ভূমিহীন পরিবার, যাঁদের জমির প্রস্তাব দিয়ে উৎসাহিত করা হয়েছিল, এবং এটি ছিল “counterinsurgency strategy”-র অংশ। আদনান ও দস্তিদারও কর্মসূচিটিকে রাষ্ট্রের “counter-insurgency strategy”-র অংশ বলেছেন।

জমি কি ছিল

আর্কাইভে উদ্ধৃত 1964–66 সালের Forestal জরিপ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে ধানচাষের উপযোগী জমি 76,466 একর, মোট জমির 3.2%। গৌতম কুমার চাকমা লিখেছেন “মাত্র তিন দশমিক এক শতাংশ জমি সমতল ও লাঙল দিয়ে চাষযোগ্য এবং উক্ত প্রায় সব জমি তখন স্থানীয় পাহাড়ী ও বাঙালী অধিবাসীদের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল”। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার সিদ্ধান্ত, বনায়নযোগ্য ভূমি বাদ দিলে তিন জেলায় ব্যবহারযোগ্য জমি আর অবশিষ্ট নেই। বন্দোবস্তের আইনি দিক, 34 বিধি ও ভূমি কমিশনের কথা ভূমি নিয়ে আলাদা লেখায় আছে; এখানে তা আবার বলা হলো না।

কর্মসূচির সরকারি নথি কোথায়

বসতি স্থাপন কর্মসূচির কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন, সার্কুলারের পাঠ বা সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া যায় তা তিন রকম: একজন তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিজের লেখা বিবরণ, গবেষকদের বইয়ে “গোপন সার্কুলার”-এর উল্লেখ, আর গুচ্ছগ্রামের রেশন নিয়ে সংবাদপত্রে ছাপা সরকারি হিসাব।

চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বিবরণ

জিয়াউদ্দিন চৌধুরী (Ziauddin Choudhury) 1978–81 সালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। The Daily Star-এর Forum সাময়িকীর এপ্রিল 2010 সংখ্যায় তাঁর একটি লেখা ছাপা হয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, 1979 সালের শেষ দিকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ডাকেন; পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকও সেখানে ছিলেন। প্রস্তাব ছিল, সন্দ্বীপ ও কুতুবদিয়ায় নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্ধারিত এলাকায় বসানো হবে; স্বেচ্ছায় যাঁরা যাবেন তাঁরা নগদ টাকা ও ঘর তোলার উপকরণ পাবেন।

তাঁর বিবরণ অনুযায়ী তিনি কমিশনারকে জানান, চট্টগ্রাম জেলা থেকে কেউ স্বেচ্ছায় যেতে চান না; উত্তরে তিনি বুঝতে পারেন কর্মসূচিটি হবে “with or without me”। তিনি লিখেছেন, কমিশনার ছিলেন “under strict instructions from President Ziaur Rahman to make the program a success”, এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরের (Maj. General Manzoor) পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে “a major role” ছিল। প্রায় এক মাস পরে তিনি জানতে পারেন, কমিশনার সন্দ্বীপ ও কুতুবদিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে স্বেচ্ছাসেবীর তালিকা চেয়েছেন; নোয়াখালী ও কুমিল্লাকেও তালিকা দিতে বলা হয়।

তাঁর লেখায় সংখ্যা নেই; আছে “hundreds of families”, যাঁদের 1979 সালের শেষ থেকে 1980 সাল জুড়ে উপকূলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও নদীভাঙনকবলিত চাঁদপুর থেকে ট্রাকে করে পাহাড়ে নেওয়া হয়। প্রথমে তাঁদের রাখা হয় অস্থায়ী শিবিরে, পরে দেওয়া হয় ঘরের উপকরণ, নগদ টাকা ও চাষের জমি, আর বসানো হয় সেনা ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পাহারায় থাকা “cluster villages”-এ।

গবেষকদের বইয়ে “গোপন সার্কুলার” ও বিশেষ বন্দোবস্ত অঞ্চল

স্বপন আদনান ও রণজিৎ দস্তিদারের Alienation of the Lands of Indigenous Peoples in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh (2011) বইয়ে লেখা হয়েছে, সরকারের “secret circulars” জানিয়েছিল পাহাড়ে যাওয়া বাঙালি পরিবারকে জমি দেওয়া হবে; এ কথার সূত্র হিসেবে বইটি দুটি বইয়ের নাম দেয়: রাজকুমারী চন্দ্রা কালিন্দী রায়ের Land Rights of the Indigenous Peoples of the CHT (1996) ও আমেনা মহসিনের The Politics of Nationalism (1997)। সার্কুলারের পাঠ, তারিখ বা স্মারক নম্বর বইটিতে ছাপা নেই।

একই বই অনুযায়ী প্রশাসন একটি “Special Settlement Zone” গঠন করে; 1980–81 সালে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একটি দল (কানুনগো ও আমিনসহ) সেখানে যায়, মহকুমা ও থানা সদরে বিশেষ জরিপ অফিস খোলা হয়, কিন্তু জরিপ আংশিক হয় এবং 1996 সালে অধিদপ্তর সেটিকে অসম্পূর্ণ ঘোষণা করে। বইটি আরও লিখেছে, বসতি স্থাপনকারীদের প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের একটি ট্রানজিট কেন্দ্রে (হাজি ক্যাম্প) রাখা হতো। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমাও আর্কাইভের লেখায় একই কারণ দেখিয়েছেন: “অত্যন্ত গোপনীয়তার মাধ্যমেই সরকারী উদ্যোগে” তাঁদের আনা হয়েছিল বলে সরকারি তথ্য পাওয়া যায় না।

রেশনের হিসাব: সংবাদপত্রে যেটুকু সরকারি সংখ্যা আছে

The Daily Star-এর 25 মার্চ 2010 তারিখের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির 81টি গুচ্ছগ্রামের 26,220টি বাংলাভাষী পরিবার অক্টোবর 1988 থেকে রেশন পাচ্ছে, পরিবারপ্রতি মাসে 85 কেজি চাল। সঙ্গে ভারত থেকে ফেরা শরণার্থী ও সাবেক শান্তিবাহিনী সদস্যদের 14,115টি পরিবার 1998 সাল থেকে রেশন পায়; মোট 40,335 পরিবারের জন্য সরকারের বছরে খরচ 100 কোটি টাকার বেশি।

প্রতিবেদনটি লিখেছে, 1986 সালে সহিংসতার সময় এরশাদ সরকার বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তার জন্য সেনাক্যাম্পের কাছে গুচ্ছগ্রাম গড়ে তোলে এবং রেশন প্রথমে তিন বছরের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। পত্রিকাটির 2005 সালের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি 27,000 পরিবার, আর তখন আরও 28,000 পরিবারকে রেশনের আওতায় আনার একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন ছিল বলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তৎকালীন উপমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। এই দুই প্রতিবেদনে সরকারি কোনো নথির নম্বর বা তারিখ দেওয়া নেই।

বসতি স্থাপনকারীরা নিজেরা কী বলেন

বসতি স্থাপনকারীদের নিজের মুখের কথা ছাপা উৎসে কম। যেটুকু পাওয়া যায় তাতে চারটি বিষয় ঘুরেফিরে আসে: তাঁরা এসেছিলেন ঘর হারিয়ে, বরাদ্দের জমি অনেকে দখলে পাননি, দশকের পর দশক কেটেছে গুচ্ছগ্রামে, আর চুক্তির পরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

কেন এসেছিলেন

এ প্রশ্নে বসতি স্থাপনকারীদের নিজের বয়ান কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; আছে একজন কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ। জিয়াউদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন, “it is only because they were homeless that they volunteered to be bussed to such a harsh environment”। তাঁর আরেকটি বাক্য: “the settlers were not only unwelcome to the insurgents, but also to the local people”। তিনি লিখেছেন, বসানোর কয়েক মাস পরে কাপ্তাইয়ের কাছে একটি বসতিতে হামলা হয়, কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী নিহত হন, ঘর পোড়ে, আর কয়েক শ মানুষ রাঙ্গুনিয়ায় পালিয়ে আসেন; জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি তাঁদের ত্রাণ দেন।

জমি পেয়েছিলেন কি

আদনান ও দস্তিদার লিখেছেন, পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের উত্তরদাতাদের মতে কর্মসূচিতে আসা অনেকে বরাদ্দের জমি খুঁজেই পাননি বা দখল নিতে পারেননি, এবং কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে যান। তাঁদের হিসাবে খাগড়াছড়িতে 33–50% ও বান্দরবানে 40–50%, সব মিলিয়ে 30–50% ফিরে গেছেন; সেই জায়গায় এসেছেন ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো পাশের জেলা থেকে নিজ উদ্যোগে আসা মানুষ। গৌতম কুমার চাকমার অনুমান, সাড়ে পাঁচ লক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ ফিরে যান।

বইটি আরও লিখেছে, বাণিজ্যিক স্বার্থগোষ্ঠী কেবল পাহাড়িদের জমি নয়, “ordinary Bengali settlers”-এর জমিও নিয়েছে; কোথাও জমির দখল না-পাওয়া পরিবারের কবুলিয়ত কিনে, কোথাও কেনার জাল কাগজ দেখিয়ে। এডিসন চাকমাও একই ছবি এঁকেছেন অন্য দিক থেকে: তাঁর লেখায় পুনর্বাসিত পরিবারটি গিয়ে দেখে দলিলে লেখা জায়গায় আগে থেকেই একটি পাহাড়ি পরিবার বাস করছে।

গুচ্ছগ্রামের জীবন

The Daily Observer-এর 29 নভেম্বর 2020 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী দীঘিনালার সোনামিয়া টিলায় 1983 সালে পুনর্বাসিত অন্তত 812টি পরিবার 1986 সাল থেকে বাবুছড়া গুচ্ছগ্রামে আছে; প্রতিবেদনটি সরকারি তথ্যের বরাতে লিখেছে, শান্তিবাহিনীর তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে তাঁরা জমি ছাড়েন; নাম-না-বলা সূত্রের বরাতে লিখেছে, জমিতে এখন পাহাড়িদের ঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা আছে। গুচ্ছগ্রামের নেতা শাহজাহান ফরাজী (Shajahan Farazi) পত্রিকাটিকে বলেন, “It is over-crowded like a refugee camp without any sewage system”; দুই-তিনটি পরিবারকে পালা করে একটি শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়। তাঁর দাবি, পরিবারগুলোর কাছে বরাদ্দের মূল কাগজ, খাজনার রসিদ ও ফেরার পক্ষে আদালতের আদেশ আছে। খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসক পত্রিকাটিকে বলেন, ওই পরিবারগুলোর কাছ থেকে তিনি কোনো আবেদন পাননি; পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

রেশন নিয়ে The Daily Star-এর 2010 সালের প্রতিবেদনে দীঘিনালা থেকে বাঘাইছড়িতে যাওয়া বসতি স্থাপনকারী আবদুল কালাম (Abdul Kalam) বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংখ্যা বেড়েছে, তাই রেশন পাওয়া পরিবারের সংখ্যা সরকারের নতুন করে দেখা উচিত। একই প্রতিবেদনে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “We want safety and security of our lives and we want to get back our land”; সরকার এগুলো নিশ্চিত করলে তাঁদের রেশনের দরকার হবে না।

চুক্তির পরে

The Daily Star-এ ছাপা UNB-র একটি প্রতিবেদনে (খাগড়াছড়ি, 12 জানুয়ারি; পাতায় সাল লেখা নেই) বাঙালি কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ (Bangalee Krishak Sramik Kalyan Parishad) নামের একটি সংগঠন প্রায় 40,000 বাঙালি পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন দাবি করে। তাদের বক্তব্য, 1980-র দশকে গুচ্ছগ্রামে “অস্থায়ীভাবে” পুনর্বাসিত হাজার হাজার বাঙালি চুক্তির পরে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত; দাবির মধ্যে ছিল ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসন, পুরোনো ঋণ মওকুফ ও নতুন দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।

আদনান ও দস্তিদার বাঙালি বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা ক্রমে মনে করছেন তাঁরা এই অঞ্চলেরই মানুষ: অনেকের জন্ম এখানে, অনেকে স্বজনকে এখানেই কবর দিয়েছেন। সম অধিকার আন্দোলনের সদস্যদের বক্তব্য ধরে বইটি লিখেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প সরে গেলে তাঁরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন। আবার 2008–10 সালের মাঠ-সফরে গুচ্ছগ্রামে থাকা বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ লেখকদের বলেছেন, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে যেতে রাজি।

চুক্তির আগে নথিভুক্ত সংঘাতের ঘটনা

1980 থেকে 1996 সালের মধ্যে দুই দিকের মানুষই হামলায় নিহত হয়েছেন: পাহাড়ি গ্রামে হামলার বিবরণ আছে আমাদের আর্কাইভের লেখায়, আর বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের ওপর শান্তিবাহিনীর হামলার কথা আছে Banglapedia, সংবাদপত্র এবং জনসংহতি সমিতির নেতার নিজের লেখায়। নিচের ছকের প্রতিটি সারি একটি উৎসের বক্তব্য; বেশির ভাগ ঘটনার দ্বিতীয় স্বাধীন উৎস পাওয়া যায়নি।

তারিখস্থানউৎস কী বলছেউৎস
1980 (বসানোর কয়েক মাস পরে)কাপ্তাইয়ের কাছে একটি বসতিবিদ্রোহীদের হামলায় কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী নিহত, ঘর পোড়ে, কয়েক শ মানুষ রাঙ্গুনিয়ায় পালান; এরপর নিরাপত্তা বাহিনী আশপাশের গ্রামে তল্লাশি অভিযান চালায়জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, The Daily Star Forum, 2010
25 মার্চ 1980কাউখালী বাজার, কলমপতি (রাঙামাটি)সভায় ডেকে গুলি; 300 জন পাহাড়ি নিহত, হাজারের বেশি ত্রিপুরায় শরণার্থী। 21 এপ্রিল 1980 ঢাকা প্রেস ক্লাবে তিন সাংসদ শাহজাহান সিরাজ, রাশেদ খান মেনন ও উপেন্দ্রলাল চাকমা ঘটনার বর্ণনা দেনআর্কাইভ, এডিসন চাকমা
1981ফেনী উপত্যকা: মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়িসমিতির “ব্যাপক আক্রমণের প্রেক্ষিতে … বাঙালী সেটেলারগণ হাজারে হাজারে স্ব স্ব জেলায় প্রত্যাবর্তন করতে থাকে”আর্কাইভ, গৌতম কুমার চাকমা (জনসংহতি সমিতির নেতা)
31 মে 1984ভূষণছড়া, বরকল (রাঙামাটি)নিচে আলাদা অংশেThe Daily Observer; আর্কাইভ
29 এপ্রিল – মে 1986পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি)শান্তিবাহিনীর বিডিআর ক্যাম্প আক্রমণের পর পানছড়ির গ্রামগুলোতে 100 জন পাহাড়ি নিহত (এডিসন চাকমা); মে 1986-তে তবলছড়ি–তাইন্দং সীমান্তে একদিনে প্রায় 150 জন পাহাড়ি উদ্বাস্তু নিহত (গৌতম কুমার চাকমা)আর্কাইভ, দুই লেখা
8 মে 1989লংগদু (রাঙামাটি)ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে খুন হন; লেখকের ভাষায় “এর দায় চাপানো হয় শান্তিবাহীনির কাঁধে”; এরপরের হামলায় 40 জন পাহাড়ি নিহতআর্কাইভ, এডিসন চাকমা
10 এপ্রিল 1992লোগাং, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি)নিচে আলাদা অংশেসরকারি তদন্ত; রামেন্দু শেখর দেওয়ান
17 নভেম্বর 1993নানিয়ারচর বাজার (রাঙামাটি)পাহাড়িদের মিছিলে হামলা ও গুলি; 29 জন পাহাড়ি নিহত, শতাধিক আহতআর্কাইভ, এডিসন চাকমা
11 সেপ্টেম্বর 1996উৎসে স্থান অস্পষ্টইংরেজি Wikipedia-র ভাষ্যে, শান্তিবাহিনী 28–30 জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে অপহরণ ও হত্যা করে বলে খবর ছিল; মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলানো যায়নিইংরেজি Wikipedia, Refworld-এর বরাতে

এডিসন চাকমার লেখায় এ ছাড়া আরও ঘটনার তালিকা আছে; পুরো তালিকা তাঁর লেখাতেই পড়া যাবে। তাঁর লেখায় প্রায় সব ঘটনায় সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের দায়ী করা হয়েছে; অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য সেখানে নেই।

অন্য দিকের হিসাব: Banglapedia-য় শান্তিবাহিনী ভুক্তিতে রোজিনা কাদের সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের তালিকায় লিখেছেন “killing of the Bangalis settling in the hill areas”, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিরোধী পাহাড়িদের হত্যা, অপহরণ ও চাঁদা আদায়। ইংরেজি Wikipedia, Amnesty International-এর 2000 সালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে, লিখেছে যে সরকারি সূত্র অনুযায়ী 1980 থেকে 1991 সালের মধ্যে শান্তিবাহিনীর হাতে 1,180 জন নিহত ও 582 জন অপহৃত হন; Amnesty-র মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সংখ্যাটি মেলানো যায়নি, তাই এটি Wikipedia-র বরাতে দেওয়া সরকারি হিসাব হিসেবেই রইল। পাহাড়ি নিহতের এমন কোনো সামগ্রিক সরকারি সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

ভূষণছড়ায় 31 মে 1984 তারিখে কী ঘটেছিল

31 মে 1984 তারিখে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়ায় শান্তিবাহিনীর হামলায় বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা নিহত হন। কতজন, সে প্রশ্নে উৎসের সংখ্যা আলাদা: The Daily Observer লিখেছে 400, আমাদের আর্কাইভের লেখা বলছে সরকারি হিসাবে 32 ও বেসরকারি হিসাবে প্রায় 100। আর্কাইভের লেখা এরপর পাহাড়ি গ্রামে পাল্টা হামলার কথাও বলে।

প্রশ্নThe Daily Observer, 1 জুন 2021আর্কাইভ, এডিসন চাকমা
কী ঘটেছিলগ্রামবাসী ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে: শান্তিবাহিনীর 125 জনের একটি সশস্ত্র দল গ্রাম ঘিরে ফেলে; ভোর 4টা থেকে 8টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডভোরবেলা শান্তিবাহিনী গোরস্থান, ভূষণছড়া ও ছোটহরিণার তিনটি বিডিআর ক্যাম্প এবং ক্যাম্পের কাছের বসতি স্থাপনকারীদের গুচ্ছগ্রামে আক্রমণ করে
নিহত বাঙালিনারী-শিশুসহ 400 জন; বরকলের ইউএনও-র (2021) উক্তি “More than four hundred people were killed”“সরকারি হিসেবে ৩২ জন এবং বেসরকারি হিসেবে ১০০ জনের মত সেটেলার বাঙালি নিহত হয়”
এরপর পাহাড়ি গ্রামে হামলাউল্লেখ নেইলেখকের বিবরণে সেনাবাহিনী, বিডিআর ও বসতি স্থাপনকারীদের মিলিত বাহিনী হাটবাড়িয়া, সুগুরী পাড়া, তেরেঙ্গা ঘাট, ভূষণছড়া, গোরস্তান, ভূষণবাঘসহ পাহাড়ি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়; “সরকারি মতে ৫২ জন আর বেসরকারি মতে ৪০০ পাহাড়ি নিহত”; 7,000 পাহাড়ি ভারতে শরণার্থী
সরকারের প্রতিক্রিয়াতখন খবরটি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিল; থানা মামলা নেয়নি, কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি; প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ মেলেনিরাষ্ট্রপতি এরশাদ 5 জুন 1984 এলাকা পরিদর্শন করেন
কার বিরুদ্ধে অভিযোগভুক্তভোগীদের অভিযোগ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যাঁর নাম প্রতিবেদনে আছে (এখানে নাম দেওয়া হলো না); তিনি অভিযোগকে অপপ্রচার বলেছেন এবং বলেছেন 1984 সালে দল ভাগ হওয়ার পর তিনি তখন উত্তরে ছিলেনকোনো ব্যক্তির নাম নেই

ছকে “400” সংখ্যাটি দুই জায়গায় আছে: The Daily Observer-এ সেটি নিহত বাঙালির সংখ্যা, আর্কাইভের লেখায় বেসরকারি হিসাবে নিহত পাহাড়ির সংখ্যা। আর্কাইভের লেখা তার “সরকারি হিসেব”-এর সূত্র দেয়নি। জনসংহতি সমিতির নেতা গৌতম কুমার চাকমা তাঁর লেখায় তারিখ না দিয়ে লিখেছেন, সমিতি 1984 সালের এপ্রিল মাসে বরকল উপজেলায় “সেনাবাহিনী ও মানব ঢাল (Human Shield) হিসাবে ব্যবহৃত বাঙালী সেটেলারদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত আক্রমণ পরিচালনা করে”; মাসটি তাঁর লেখায় এপ্রিল, অন্য দুই উৎসে মে।

The Daily Observer-এর প্রতিবেদনে নুরনাহার বেগম (Nurnahar Begum) নামে একজন বলেছেন, তাঁর পরিবারে 13 জন ছিলেন, বেঁচে আছেন কেবল তাঁর বাবা; তাঁর কথা, “the only demand from the government is fair justice”। ঘটনার 37 বছর পরেও কোনো বিচার হয়নি বলে প্রতিবেদনটি জানায়। পাল্টা হামলায় নিহত পাহাড়িদের ঘটনায় কোনো তদন্ত বা মামলা হয়েছিল কি না, তা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

লোগাংয়ে কতজন নিহত হয়েছিলেন

10 এপ্রিল 1992 তারিখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাংয়ের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সরকারি তদন্তে 12 জন, আর জাতিসংঘে রামেন্দু শেখর দেওয়ানের বক্তব্যে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে প্রায় 1,200 জন। সূত্রপাত নিয়েও দুই বিবরণ আলাদা: সরকারি তদন্তে শান্তিবাহিনীর হামলায় একজন বাঙালির মৃত্যু, তাঁর বক্তব্যে একজন জুম্ম নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা।

  • সরকারি তদন্ত: ইংরেজি Wikipedia অনুযায়ী বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের (Sultan Hossain Khan) কমিশন 12 জন নিহত, 13 জন আহত, 2 জন নিখোঁজ ও 550টি ঘর পোড়ার কথা বলে; সূত্রপাত হিসেবে বলে শান্তিবাহিনীর হামলায় একজন বাঙালির মৃত্যু।
  • রামেন্দু শেখর দেওয়ান, জাতিসংঘে, 1992: প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে প্রায় 1,200 নিহত ও 800 ঘর পোড়া; তাঁর বক্তব্যে সরকার বলেছিল 11 জন; সূত্রপাত হিসেবে তিনি বলেন একজন জুম্ম নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা।
  • Wikipedia-র সারাংশ: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিহত “possibly in the hundreds”; Amnesty International তদন্ত-প্রতিবেদনটিকে স্ববিরোধী ও অমীমাংসিত বলেছিল।

পূর্ণ বিবরণ ও রামেন্দু শেখর দেওয়ানের বক্তব্যের পাঠ আছে আর্কাইভের জাতিসংঘে লোগাং গণহত্যা নিয়ে প্রতিবাদ লেখায়। তদন্ত কমিশনের মূল প্রতিবেদনের পাঠ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

চুক্তির পরে কী কী ঘটনা নথিভুক্ত

1997 সালের চুক্তির পরে সশস্ত্র লড়াই থেমেছে, কিন্তু দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতার ঘটনা থামেনি। জনসংহতি সমিতি 1999 থেকে 2017 সাল পর্যন্ত 17টি ঘটনার তালিকা রাখে; মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদপত্রে লংগদু (2011, 2017), খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি (সেপ্টেম্বর 2024) ও গুইমারার (সেপ্টেম্বর 2025) ঘটনা নথিভুক্ত।

তারিখস্থানউৎস কী বলছেউৎস
4 এপ্রিল 1999 – 2 জুন 2017বাঘাইহাট থেকে লংগদু, 17টি ঘটনা“Massive Communal Attacks” শিরোনামে ঘটনার নাম ও তারিখের তালিকাজনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট (এক পক্ষের তালিকা)
এপ্রিল 2008 ও ফেব্রুয়ারি 2010বাঘাইহাট–গঙ্গারামমুখ (রাঙামাটি)পাহাড়িদের ঘরে অগ্নিসংযোগ; লেখকদের মতে উদ্দেশ্য ছিল জমি থেকে সরানোআদনান ও দস্তিদার, 2011
ফেব্রুয়ারি 2011লংগদু (রাঙামাটি)একজন বসতি স্থাপনকারী তাঁর ভাইয়ের হত্যার জন্য পাহাড়িদের দায়ী করার পর প্রায় 200 জন বসতি স্থাপনকারী অন্তত 23টি পাহাড়ি ঘর পোড়ান; কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নিAmnesty International, 2013
2 জুন 2017লংগদু: তিনটিলা, মানিকজোড়ছড়া, বাইট্টাপাড়াআগের দিন যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ পাওয়া যায়। 214টি ঘর ও 22টি দোকান পোড়ে, 70 বছরের গুণবালা চাকমা নিহত হন। পুলিশ 15 জনের নাম ও 300 অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। লংগদু বাজারের বাঙালি দোকানিরা বলেন হামলা “বহিরাগতদের” কাজ; ভুক্তভোগীদের দাবি হামলা পূর্বপরিকল্পিত; ওসি বলেন মিছিলের আগাম তথ্য ছিল নাআইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুসন্ধান
সেপ্টেম্বর 2024খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, রাঙামাটিমোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মো. মামুন (30) পিটুনিতে নিহত হন। দীঘিনালায় বাঙালিদের মিছিলে বাধা ও সংঘর্ষ; লারমা স্কয়ারে 120টি দোকান পোড়ে, ইউএনও-র হিসাবে 78টি চাকমা-মালিকানাধীন ও 24টি বাঙালি-মালিকানাধীন। Prothom Alo-র হিসাবে খাগড়াছড়িতে ধনঞ্জয় চাকমা (50) ও চাকমা জনগোষ্ঠীর আরও দুজন (বয়স 20 ও 30), রাঙামাটিতে আরও একজন নিহত হন। রাঙামাটিতে আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়সহ 30–40টি ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ হয়। বোয়ালখালী বাজারের একজন বাঙালি বাসিন্দা পত্রিকাকে বলেন, মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ছিলProthom Alo; Dhaka Tribune
28 সেপ্টেম্বর 2025গুইমারা (খাগড়াছড়ি)গুলিতে তিনজন পাহাড়ি যুবক নিহত। পত্রিকার হিসাবে 2024 ও 2025 সালের দুই দফায় মোট আটজন নিহতপ্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2025

সেপ্টেম্বর 2024-এর ঘটনায় মো. মামুনের মৃত্যুর তারিখ Prothom Alo-য় 18 সেপ্টেম্বর, Dhaka Tribune-এ 19 সেপ্টেম্বর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তখন স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ নেয় বলে Dhaka Tribune জানায়; সেই তদন্তের ফল কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। The Daily Star-এর 2010 সালের প্রতিবেদনে প্রত্যাগত শরণার্থীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, “Since our return to the country in 1998 Bangalee settlers have attacked us 11 times”।

কত মানুষ ঘর ছেড়েছেন

গৌতম কুমার চাকমার লেখা অনুযায়ী 1986 সাল থেকে ভারতের ত্রিপুরার পাঁচটি শিবিরে মোট 75,000 পাহাড়ি আশ্রয় নেন, যাঁদের 12,222 পরিবারের 65,433 জন 1994 ও 1997 সালের চুক্তিতে ফেরেন। Amnesty International 2013 সালে লিখেছে, তখনো 90,000-এর বেশি পাহাড়ি পরিবার দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত। বসতি স্থাপনকারী পরিবারও বরাদ্দের জমি ছেড়ে গুচ্ছগ্রামে গেছে।

  • ভারতে শরণার্থী: শিবির পাঁচটি ছিল শিলাছড়ি, করবুক, তাকুমবাড়ি, লেবাছড়া ও সাব্রুমে। প্রথম দফায় (1994–97) ফেরেন 1,797 পরিবারের 8,177 জন, দ্বিতীয় দফায় (1997–98) 10,427 পরিবারের 56,256 জন। সূত্র: আর্কাইভ, গৌতম কুমার চাকমা।
  • অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পাহাড়ি: 90,000-এর বেশি পরিবার (Amnesty International, 2013)। ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের 12তম সভা 22 অক্টোবর 2025 তারিখে হুমকির মুখে স্থগিত হয় (প্রথম আলো)।
  • গুচ্ছগ্রামে বসতি স্থাপনকারী: 81টি গুচ্ছগ্রামে 26,220 পরিবার (The Daily Star, 2010)। গৌতম কুমার চাকমাও লিখেছেন, সমিতির সশস্ত্র কার্যকলাপের কারণে “অধিকাংশ সেটেলার পরিবার সেনা ক্যান্টনমেন্ট বা ক্যাম্পের গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতে বাধ্য হয়”। The Daily Observer-এর 2020 সালের প্রতিবেদনে “22,000” বাস্তুচ্যুত পরিবারের একটি সংখ্যা আছে; সেটি কাদের মোট, প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের দফা, টাস্কফোর্সের কাজ ও অস্ত্র জমার হিসাব আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে, আর বাস্তবায়নের হিসাব লেখায়।

1997 সালের চুক্তি সহাবস্থান নিয়ে কী বলে

1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে না; চুক্তির ইংরেজি পাঠে “Bengali” শব্দটিই নেই। চুক্তি “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” নামে একটি শ্রেণি তৈরি করে, পরিষদগুলোতে তাঁদের জন্য আসন রাখে, আর অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের ক্ষমতা দেয় ভূমি কমিশনকে।

সহাবস্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দফাগুলো, চুক্তির পাঠ ও Banglapedia ধরে:

  1. প্রস্তাবনা: পার্বত্য অঞ্চলের “all the citizens”-এর অধিকার সমুন্নত রাখার কথা।
  2. খ খণ্ড, দফা 3: “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” হলেন যিনি উপজাতীয় নন, পার্বত্য জেলায় যাঁর বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বসবাস করেন।
  3. পরিষদের আসন: আঞ্চলিক পরিষদে চেয়ারম্যান 1, উপজাতীয় সদস্য 12 ও নারী 2, অ-উপজাতীয় সদস্য 6 ও নারী 1; জেলা পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ উপজাতীয়, এক-তৃতীয়াংশ বাঙালি (Banglapedia, আমেনা মহসিন)।
  4. ঘ খণ্ড, দফা 4: ভূমি কমিশন অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া পাহাড় ও জমির মালিকানা বাতিল করতে পারবে।
  5. ঘ খণ্ড, দফা 8: অ-উপজাতীয় ও অ-স্থানীয়দের অব্যবহৃত প্ল্যান্টেশন ইজারা বাতিল।
  6. ঘ খণ্ড, দফা 18: চাকরিতে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ।

প্রতিটি দফার ব্যাখ্যা, কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, এবং “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা”-র সংজ্ঞা আইনে গিয়ে কীভাবে বদলাল, তা আছে পার্বত্য চুক্তি 1997: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে লেখায়। ভূমি কমিশনের কাছে আবেদনের নিয়ম আছে আলাদা একটি নির্দেশিকায়।

সরিয়ে নেওয়ার দাবিটি চুক্তিতে নেই কেন

গৌতম কুমার চাকমার লেখা অনুযায়ী জনসংহতি সমিতির 1987 সালের পাঁচ দফায় “বাঙালী সেটেলারদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেবার দাবী” ছিল, আর 1992–96 সালের বৈঠকগুলোতে “সেটেলার সমস্যা বাদে” বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়। আর্কাইভের আরেকটি লেখায় য়েনেকে এরেন্স ও কীর্তি নিশান চাকমা লিখেছেন, 1996 সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট “পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি সেটেলারদের সমতলে পুনর্বাসনের জন্য” সহযোগিতার একটি সংশোধনী আনে, তহবিল পেলে সরকার পুনর্বাসনে আগ্রহ দেখিয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে আনেনি (পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের সংগ্রাম)। আদনান ও দস্তিদার 2011 সালে প্রস্তাব করেছেন স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে ফিরে যাওয়ার একটি কর্মসূচি, যেখানে জমির বদলে পুঁজি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

চুক্তির বিরোধিতা এসেছে কোন কোন দিক থেকে

আর্কাইভের লেখাগুলো তিনটি দিকের কথা বলে। এরেন্স ও কীর্তি নিশান চাকমার লেখায় বিরোধী পক্ষ ছিল বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ও বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা। গৌতম কুমার চাকমার লেখায় ‘সম অধিকার আন্দোলন’ চুক্তির বিরোধিতা করে এই অভিযোগে যে “আদিবাসী পাহাড়ীদেরকে বেশী অধিকার দেওয়া হয়েছে”। আর তাঁর লেখাতেই আছে, সমিতির ছাত্রফ্রন্টের কিছু নেতা-কর্মী “অধিকারের অপর্যাপ্ততার অভিযোগে” চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।

বাঙালি সংগঠনগুলো কী চায়

সাম্প্রতিক সংবাদে বাঙালি সংগঠনগুলোর দাবি মূলত পাঁচটি বিষয়ে: 1900 সালের রেগুলেশন বাতিল, জমি কেনাবেচায় অন্য জেলার মতো নিয়ম, চাকরিতে পাহাড়িদের কোটার বদলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, প্রত্যাহার করা সেনাক্যাম্প ফিরিয়ে আনা, আর ভূমি কমিশনের বৈঠক বাতিল। নিচে প্রতিটি সংগঠনের বক্তব্য তাদের নিজের ভাষায়।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদের আট দফা (অক্টোবর 2025)

The Daily Star বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী 9 অক্টোবর 2025 বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান আট দফা দাবি তোলেন:

  1. 1900 সালের রেগুলেশন বাতিল করে তিন জেলাকে সংবিধান অনুযায়ী পরিচালনা;
  2. জমি কেনাবেচা, চাকরি ও শিক্ষায় “রাজার সনদ” বাতিল;
  3. অন্য জেলার মতো জমি কেনাবেচার সুযোগ;
  4. বাজার ফান্ডের লিজ 99 বছর করা ও স্থগিত ব্যাংকঋণ চালু;
  5. শিল্প-কারখানা স্থাপন;
  6. প্রত্যাহার করা 246টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন;
  7. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঁদাবাজি, খুন ও গুম বন্ধ;
  8. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও চাকরিতে বৈষম্য দূর করা।

তাঁর বক্তব্য ছিল, পাহাড়ের বাঙালিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বৈষম্যের শিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের বাইরে।

সম অধিকার আন্দোলন

প্রথম আলোর 2 ডিসেম্বর 2025 তারিখের প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, “পাহাড়ে সবচেয়ে বঞ্চিত আজ বাঙালিরাই।” তিনি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চান। জাতীয় কোটা কাঠামো চালু হলে সংখ্যায় ছোট পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো আরও পিছিয়ে পড়বে কি না, এ প্রশ্নে তাঁর উত্তর, “হ্যাঁ, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।”

সংগঠনটির পরিচয় নিয়ে দুই উৎস দুই রকম বলে। গৌতম কুমার চাকমার দাবি, সংগঠনটি “সে সময়কার স্থানীয় সেনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত”; এ দাবির সমর্থনে তিনি কোনো সূত্র দেননি, এবং অন্য কোনো উৎসে এর সমর্থন পাওয়া যায়নি। আদনান ও দস্তিদার সংগঠনটিকে বলেছেন অঞ্চলের বাঙালি বসতি স্থাপনকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন, যা সব রাজনৈতিক দলের বাঙালি কর্মীদের “common platform”। সংগঠনটি কবে, কারা গঠন করেন, সে বিষয়ে সংগঠনের নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিয়োগ ও ভূমি কমিশন নিয়ে 2025 সালের ঘটনা

প্রথম আলোর একই প্রতিবেদন অনুযায়ী নভেম্বর 2025-এ চাকরিতে পাহাড়িদের কোটা বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাঙালি সংগঠনগুলো রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে পাঁচ দিন তালা ঝুলিয়ে রাখে; রাঙামাটির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে তাদের দাবি ছিল 93% মেধা ও 7% কোটা। রাঙামাটির প্রথম নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান এ নিয়ে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে এভাবে বাধা সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে পার্বত্য চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।”

ভূমি কমিশনের 19 অক্টোবর 2025-এর রাঙামাটি বৈঠক বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) হরতাল ডাকে, আর কমিশন 16 অক্টোবর রাতে বৈঠক স্থগিত করে। এর প্রতিবাদে সুলতানা কামালসহ 33 জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতিতে বলেন, 24 বছরে কমিশন তেমন কিছু করতে পারেনি, 26 হাজারের বেশি আবেদন জমা আছে, আর কারা বারবার বাধা দিচ্ছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার (প্রথম আলো)। আদনান ও দস্তিদারের 2011 সালের বই লিখেছে, কমিশনের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ে তখন পর্যন্ত জমা পড়া প্রায় 5,000 আবেদনের বেশির ভাগ বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের, আর পাহাড়িদের আবেদন মাত্র 10–15%, কারণ পাহাড়িরা প্রক্রিয়াটি বর্জন করেছিলেন।

ভূষণছড়ার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি আলাদা: বিচার ও প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ। গুচ্ছগ্রামের পরিবারগুলোর দাবি স্থায়ী পুনর্বাসন বা বরাদ্দের জমিতে ফেরা।

পাহাড়ি পক্ষের লেখকেরা সহাবস্থানকে কীভাবে দেখেন

আমাদের আর্কাইভের লেখাগুলোতে তিন রকম অবস্থান পাওয়া যায়: সংঘাতের বছরগুলোতে গ্রামের মানুষের মুখে সহাবস্থান “কোন মতেই সম্ভব নয়”; চুক্তির পরে সেই একই লেখকের কলমে চুক্তি “পাহাড়ী-বাঙালী সকল অধিবাসীর অধিকার সনদ”; আর আরেকজন লেখকের বর্ণনায় দুই দিকেই বিদ্বেষ জন্মানোর একটি চক্র।

গৌতম কুমার চাকমা 1987–88 সালের আলোচনাকালীন গ্রামের জুম্মদের কথা লিখেছেন: “তাদের সবারই ছিল এক কথা সেটেলারদের সাথে সহ-অবস্থান কোন মতেই সম্ভব নয়।” কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে প্রতিদিন মুখোমুখি হতে হতো গ্রামের মানুষকেই। একই লেখার শেষে তিনি লিখেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী-বাঙালী সকল অধিবাসীর অধিকার সনদ। শান্তি ও সম্প্রীতি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সকল মানুষের বসবাস করবার অধিকারের মাপকাঠি।”

এডিসন চাকমা লিখেছেন, এক পক্ষের ক্ষতি অন্য পক্ষে বিদ্বেষ তৈরি করে: “যেই বাঙালিটির বাড়ি পুড়ে যাবে তার মনেও তখন সৃষ্টি হবে পাহাড়ি বিদ্বেষী মনোভাব। সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির এই চক্রাকার ঘুর্ণন চলছে সেই ১৯৮০ সালের পর থেকে।” তাঁর পর্যবেক্ষণ, 1980 সালের আগে আসা “স্থায়ী বাঙালি”-দের বংশধরদের মধ্যেও ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে সাম্প্রদায়িক মনোভাব ঢুকেছে। এগুলো লেখকের নিজের পর্যবেক্ষণ, কোনো জরিপের ফল নয়।

জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা বিষয়টিকে দেখেছেন জমির হিসাব দিয়ে: তাঁর সিদ্ধান্ত, বনায়নযোগ্য খাড়া ভূমি বাদ দিলে তিন জেলায় ব্যবহারযোগ্য জমি অবশিষ্ট নেই। The Daily Star-এর 2010 সালের প্রতিবেদনে প্রত্যাগত শরণার্থীদের নেতা যা চেয়েছিলেন তাও জমি ও নিরাপত্তা। বাজার, স্কুল বা মিশ্র পাড়ায় দুই জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের সম্পর্ক কেমন, সে বিষয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা কত?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার মোট জনসংখ্যা 1,842,811 জন: খাগড়াছড়ি 714,119, রাঙামাটি 647,586 ও বান্দরবান 481,106। সংখ্যা তিনটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেলা-প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; যোগফলটি সেগুলো থেকে হিসাব করা। 2011 সালে একই তিন জেলার যোগফল ছিল 1,598,231 এবং 1991 সালে 974,445।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি কত শতাংশ?

জনশুমারি 2022-এ তিন জেলার 1,842,811 জনের মধ্যে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গোনা হয়েছেন 920,248 জন, অর্থাৎ 49.94%। বাকি 922,563 জন বা 50.06%। BBS “বাঙালি” নামে আলাদা সারি ছাপে না; দ্বিতীয় সংখ্যাটি মোট থেকে বাদ দিয়ে পাওয়া। জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি লেখা অনুযায়ী 1941 সালে পাহাড়ি ছিলেন 97.06% ও বাঙালি 2.94%।

কোন পার্বত্য জেলায় কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ 57.58% (372,875 জন), সেখানে তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। খাগড়াছড়িতে তাঁরা 48.93% (349,390 জন) এবং বান্দরবানে 41.15% (197,983 জন); এই দুই জেলায় বাকি জনসংখ্যা যথাক্রমে 51.07% ও 58.85%। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী চাকমা, বান্দরবানে মারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম জনসংখ্যা কত শতাংশ?

জনশুমারি 2022-এর তিন জেলা-প্রতিবেদন যোগ করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম 821,277 জন, মোট জনসংখ্যার 44.57%। বৌদ্ধ 769,450 জন (41.75%), হিন্দু 169,319 (9.19%), খ্রিষ্টান 60,008 (3.26%) ও অন্যান্য 22,757 (1.23%)। জেলা ধরে মুসলিম রাঙামাটিতে 36.26%, খাগড়াছড়িতে 46.59% ও বান্দরবানে 52.74%। সংখ্যাগুলো BBS-এর জেলা-প্রতিবেদন থেকে হিসাব করা।

পাহাড়ে বসতি স্থাপন কর্মসূচি কবে শুরু হয়?

Banglapedia-য় আমেনা মহসিন লিখেছেন, সরকার 1979 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি বসতি স্থাপনের কর্মসূচি শুরু করে। চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন চৌধুরীর লেখা অনুযায়ী 1979 সালের শেষ থেকে 1980 সাল জুড়ে পরিবারগুলোকে ট্রাকে করে নেওয়া হয়। জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট ও The Daily Star-এর 2005 সালের একটি প্রতিবেদন শুরুর বছর বলে 1978। কর্মসূচি চলে 1984–85 পর্যন্ত।

কত বাঙালি পরিবারকে পাহাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছিল?

সরকারি কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। জুমজার্নালের আর্কাইভে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লিখেছেন তিন দফায় 80,000 পরিবার বলে ধারণা করা হয়; গবেষক স্বপন আদনানের 2004 সালের হিসাব 340,000–350,000 জন, 2011 সালের বইয়ে প্রায় 400,000 জন; জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইট বলে 400,000-এর বেশি; সমিতির নেতা গৌতম কুমার চাকমা লিখেছেন পাঁচ লক্ষাধিক।

“সেটেলার” ও “স্থায়ী বাঙালি” বলতে কী বোঝায়?

জুমজার্নালের আর্কাইভে এডিসন চাকমার লেখায় “স্থায়ী বাঙালি” হলেন যাঁরা 1980 সালের আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন, আর “সেটেলার” হলেন 1979 সালের পরে সরকারি কর্মসূচিতে পুনর্বাসিত পরিবার। “সেটেলার” শব্দটি পাহাড়ি পক্ষের লেখায় চলে; বাঙালি সংগঠনগুলো নিজেদের বলে পার্বত্য বাঙালি। 1997 সালের চুক্তি কোনোটিই ব্যবহার করে না, লেখে “অ-উপজাতীয়”।

গুচ্ছগ্রাম কী, কত পরিবার সেখানে রেশন পায়?

গুচ্ছগ্রাম হলো সেনাক্যাম্পের কাছে গড়ে তোলা বসতি, যেখানে বসতি স্থাপনকারী বাঙালি পরিবারগুলোকে রাখা হয়। The Daily Star-এর 25 মার্চ 2010 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির 81টি গুচ্ছগ্রামের 26,220টি পরিবার অক্টোবর 1988 থেকে মাসে 85 কেজি করে চাল পাচ্ছে। প্রতিবেদনটি বলে, গুচ্ছগ্রামগুলো গড়া হয় 1986 সালে।

চুক্তিতে “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” কে?

1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ খণ্ডের 3 নম্বর দফা অনুযায়ী “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” হলেন এমন ব্যক্তি যিনি উপজাতীয় নন, পার্বত্য জেলায় যাঁর বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত বসবাস করেন। আঞ্চলিক পরিষদে অ-উপজাতীয়দের জন্য 6টি সাধারণ ও 1টি নারী আসন এবং জেলা পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ আসন রাখা আছে।

1997 সালের চুক্তিতে কি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা আছে?

না। চুক্তির ইংরেজি পাঠে বসতি স্থাপনকারীদের স্থানান্তরের কোনো দফা নেই, “Bengali” শব্দটিও নেই। জুমজার্নালের আর্কাইভে গৌতম কুমার চাকমা লিখেছেন, জনসংহতি সমিতির 1987 সালের পাঁচ দফায় এই দাবি ছিল এবং 1992–96 সালের বৈঠকে “সেটেলার সমস্যা বাদে” অন্য বিষয়ে ঐকমত্য হয়। চুক্তির ঘ খণ্ডের 4 নম্বর দফা ভূমি কমিশনকে অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের ক্ষমতা দেয়।

ভূষণছড়ায় কী ঘটেছিল, কতজন নিহত হন?

31 মে 1984 তারিখে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়ায় শান্তিবাহিনীর হামলায় বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা নিহত হন। The Daily Observer (1 জুন 2021) লিখেছে 400 জন; জুমজার্নালের আর্কাইভে এডিসন চাকমা লিখেছেন সরকারি হিসাবে 32 ও বেসরকারি হিসাবে প্রায় 100 জন। তাঁর লেখা অনুযায়ী এরপর পাহাড়ি গ্রামে পাল্টা হামলায় সরকারি মতে 52 ও বেসরকারি মতে 400 জন পাহাড়ি নিহত হন।

লোগাংয়ে কতজন নিহত হয়েছিলেন?

10 এপ্রিল 1992 তারিখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাংয়ের ঘটনায় সরকারি তদন্ত কমিশন 12 জন নিহত, 13 জন আহত, 2 জন নিখোঁজ ও 550টি ঘর পোড়ার কথা বলে। রামেন্দু শেখর দেওয়ান 1992 সালে জাতিসংঘে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বলেন প্রায় 1,200 জন নিহত ও 800 ঘর পোড়া। ইংরেজি Wikipedia-র সারাংশে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে সংখ্যাটি সম্ভবত কয়েক শ।

লংগদুতে 2017 সালে কী ঘটেছিল?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী 1 জুন 2017 যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ পাওয়া যায়; পরদিন 2 জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তিনটিলা, মানিকজোড়ছড়া ও বাইট্টাপাড়ায় পাহাড়িদের 214টি ঘর ও 22টি দোকান পোড়ানো হয় এবং 70 বছরের গুণবালা চাকমা নিহত হন। পুলিশ 15 জনের নাম ও 300 অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে।

পাহাড়ের বাঙালি সংগঠনগুলো কী দাবি করে?

পার্বত্য নাগরিক পরিষদ 9 অক্টোবর 2025 বান্দরবানে আট দফা দাবি তোলে; তার মধ্যে আছে 1900 সালের রেগুলেশন বাতিল, অন্য জেলার মতো জমি কেনাবেচার সুযোগ, প্রত্যাহার করা 246টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন এবং শিক্ষা-চাকরিতে বৈষম্য দূর করা। সম-অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কামাল ডিসেম্বর 2025-এ প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ে সবচেয়ে বঞ্চিত আজ বাঙালিরাই, এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চান।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বসতি স্থাপন কর্মসূচির সরকারি নথি। কোনো প্রজ্ঞাপন, সার্কুলারের পাঠ, বরাদ্দের আদেশ বা পরিবার-সংখ্যার সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। গবেষকদের বইয়ে “secret circulars”-এর উল্লেখ আছে, পাঠ নেই। কত পরিবার এসেছিল, সব সংখ্যাই অনুমান।
  • বসতি স্থাপনকারীদের নিজের বয়ান। তাঁরা কোন জেলা থেকে কী প্রতিশ্রুতিতে এসেছিলেন, কী পেয়েছিলেন, সে কথা তাঁদের নিজের মুখে কোনো ছাপা উৎসে পাওয়া যায়নি। আছে একজন জেলা প্রশাসকের পর্যবেক্ষণ, গুচ্ছগ্রামের একজন নেতা ও একজন বাসিন্দার উক্তি, আর সংগঠনের দাবিনামা। বাংলা ভাষায় বসতি স্থাপনকারীদের স্মৃতিকথা বা সাক্ষাৎকারের কোনো সংকলন পাওয়া যায়নি।
  • শুমারিতে পাহাড়ি ও বাঙালির আলাদা সংখ্যা। 1974, 1981 ও 2001 সালের জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। 1941, 1951 ও 1961 সালের শতাংশের একমাত্র উৎস আর্কাইভের একটি লেখা, যা শুমারি-প্রতিবেদনের নাম দেয়নি।
  • মোট জনসংখ্যায় অমিল। 1991, 2001 ও 2011 সালের জন্য BBS-এর 2022 সালের জেলা-প্রতিবেদনের কলাম আর অন্য উৎসের সংখ্যায় 60 থেকে 68 হাজারের ফারাক কেন, তা জানা যায়নি।
  • ভূষণছড়া। নিহত বাঙালির সংখ্যা (400 বনাম 32 বা প্রায় 100) এবং পাল্টা হামলায় নিহত পাহাড়ির সংখ্যা (52 বা 400) নিয়ে সমসাময়িক কোনো স্বাধীন নথি পাওয়া যায়নি। Amnesty International-এর সেপ্টেম্বর 1986 সালের প্রতিবেদনে (ASA 13/021/1986) এ ঘটনার উল্লেখ আছে কি না, যাচাই করা যায়নি।
  • লোগাং। সরকারি তদন্ত কমিশনের মূল প্রতিবেদনের পাঠ পাওয়া যায়নি; 12 ও 1,200-এর মাঝের কোনো স্বাধীন গণনাও নয়।
  • একক উৎসের ঘটনা। কলমপতি (1980), পানছড়ি (1986), লংগদু (1989) ও নানিয়ারচরের (1993) নিহতের সংখ্যার দ্বিতীয় স্বাধীন উৎস পাওয়া যায়নি। 1996 সালের কাঠুরিয়া হত্যা ও 1980–91 সালের সরকারি হিসাবের মূল নথিও নয়।
  • সম অধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা। কবে, কারা গঠন করেন, সে বিষয়ে সংগঠনের নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
  • সেপ্টেম্বর 2024 ও সেপ্টেম্বর 2025-এর তদন্ত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা অন্য কোনো তদন্তের ফল জানা যায়নি।
  • প্রতিদিনের সহাবস্থান। বাজার, স্কুল, মিশ্র পাড়া, ভাষা বা আন্তঃসম্প্রদায় বিয়ে নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা পাওয়া যায়নি। তাই এই পাতায় সংখ্যা ও সংঘাতের কথা বেশি, প্রতিদিনের জীবনের কথা কম।
  • গুচ্ছগ্রামের বর্তমান সংখ্যা। 2010 সালের পরে কতটি গুচ্ছগ্রামে কত পরিবার আছে, তার হালনাগাদ হিসাব পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নালের আর্কাইভ (প্রাথমিক উৎস)

  1. এডিসন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতার উৎসমুখ, জুমজার্নাল।
  2. জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির উপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব, জুমজার্নাল।
  3. গৌতম কুমার চাকমা, জনসংহতি সমিতির গৃহযুদ্ধ ও তারপর, জুমজার্নাল।
  4. জাতিসংঘে লোগাং গণহত্যা নিয়ে রামেন্দু শেখর দেওয়ানের প্রতিবাদ, জুমজার্নাল।
  5. য়েনেকে এরেন্স ও কীর্তি নিশান চাকমা (অনুবাদ: সাম্য কেতন চাকমা), পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের সংগ্রাম, জুমজার্নাল।
  6. বড়পরং – বাঙালিদের প্রতি পাহাড়ীদের অবিশ্বাসের সূত্রপাত, জুমজার্নাল।
  7. জুমজার্নাল, পার্বত্য চুক্তি 1997: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে; পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: 1900 সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন।

সরকারি পরিসংখ্যান ও দলিল

  1. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati, Khagrachhari, Bandarban, জুন 2024 (Table P17, Table 3.1.13, Table 3.1.29; 1991–2011 কলাম)।
  2. খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল, এক নজরে খাগড়াছড়ি।
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997-এর ইংরেজি পাঠ, জনসংহতি সমিতির ওয়েবসাইটে।

বিশ্বকোষ, গবেষণা ও মানবাধিকার সংস্থা

  1. আমেনা মহসিন, Chittagong Hill Tracts Peace Accord, 1997, Banglapedia।
  2. Chittagong Hill Tracts, Banglapedia।
  3. রোজিনা কাদের, Shanti Bahini, Banglapedia।
  4. Shapan Adnan ও Ranajit Dastidar, Alienation of the Lands of Indigenous Peoples in the Chittagong Hill Tracts of Bangladesh, Chittagong Hill Tracts Commission ও IWGIA, 2011।
  5. Amnesty International, Bangladesh: Indigenous Peoples engulfed in Chittagong Hill Tracts land conflict, 12 জুন 2013।
  6. আইন ও সালিশ কেন্দ্র, লংগদু তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন, 2017।
  7. পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, সরকারি উদ্যোগে অভিবাসন নিয়ে পাতা ও Massive Communal Attacks।
  8. ইংরেজি Wikipedia: Chittagong Hill Tracts, Chittagong Hill Tracts conflict, Logang massacre, Khagrachhari District।

সংবাদপত্র

  1. Ziauddin Choudhury, The Daily Star Forum, এপ্রিল 2010।
  2. Pinaki Roy, Food ration in hills Tk 100cr a year, The Daily Star, 25 মার্চ 2010।
  3. Ration for 28,000 more Bengali speaking families in CHT on cards, The Daily Star, 4 জুন 2005।
  4. UNB, Rehabilitation of 40000 Bangalee families in CHT demanded, The Daily Star।
  5. Mamunur Rashid, 812 families waiting to return to Sonamia Tila since 1986, The Daily Observer, 29 নভেম্বর 2020।
  6. Bhushanchhara genocide in Rangamati: No trial in 37yrs, The Daily Observer, 1 জুন 2021।
  7. Prothom Alo English, সেপ্টেম্বর 2024; NHRC concerned over Khagrachhari violence, Dhaka Tribune, সেপ্টেম্বর 2024।
  8. ৮ দাবিতে ১৩ অক্টোবর বান্দরবানে হরতালের ডাক, The Daily Star বাংলা, অক্টোবর 2025।
  9. ভূমি কমিশনের বৈঠক স্থগিত ও 33 নাগরিকের বিবৃতি, প্রথম আলো, অক্টোবর 2025।
  10. পার্থ শঙ্কর সাহা, ‘তালাবদ্ধ’ হয়ে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, সৃষ্টি হয়েছে নতুন সংকট, প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2025।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা