Last updated Nov 3rd, 2026
0

পাহাড়ের বনজ খাবার বলতে বোঝায় যা চাষ করা হয় না, বন, পতিত জুম আর ছড়ার পাড় থেকে তুলে আনা হয়: বুনো শাক, বাঁশ কোড়ল, কন্দ, বুনো ফল, মাশরুম, পোকা, ছড়ার মাছ-কাঁকড়া আর শিকারের মাংস। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের হিসাবে জুমের প্রায় পঞ্চাশটি ফসলের বাইরে পাহাড়ের মানুষ আরও 50 থেকে 60টি বুনো উদ্ভিদ খাবার হিসেবে সংগ্রহ করেন, আর শুধু বুনো ফলই আছে প্রায় 70 প্রজাতির। কোন জনগোষ্ঠী কোন গাছকে কী নামে ডাকে, কোন মাসে কী মেলে, পুষ্টিতে এগুলোর হিসাব কী, আর কেন এগুলো কমছে, এই লেখায় সেসব একসঙ্গে রাখা হলো।
রান্নার পদ্ধতি আর পদের বিবরণ আছে আমাদের আগের লেখাগুলোতে: সামগ্রিক পরিচয় পাহাড়ি খাবার: সিদোল, নাপ্পি আর রান্নার সাত পদ্ধতি-তে, চাকমা রান্নার বাচ্ছুরি, ফুজি ও সাবারাং চাকমা খাবার ও রান্না-য়, মারমা ভাচ্চুরিমালাহ মারমা খাবার ও রান্না-য়, আর গাঁজনের কৌশল নাপ্পি ও সিদোল কীভাবে তৈরি হয়-তে। অভাবের মাসে বুনো আলু আর বাঁশ কোড়ল খেয়ে টিকে থাকার হিসাব আছে জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা লেখায়। এখানে কেবল সংগ্রহের দিকটি: কী, কোথা থেকে, কারা, কখন।
সূচিপত্র
পাহাড়ের বনজ খাবারের সবচেয়ে বড় ভাগ রান্নার ভেষজ ও শাক; তারপর কন্দ, মূল, তেলবীজ আর বুনো ফল। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের M. Khairul Alam ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের A.K.M. Golam Sarwar-এর 2024 সালের পর্যালোচনা বলছে, জুমে প্রায় পঞ্চাশটি ফসল ফলে, আর তার বাইরে পতিত জুম থেকে 50 থেকে 60টি বুনো উদ্ভিদ সংগ্রহ করা হয়।
একই পর্যালোচনা অনুযায়ী বন থেকে যা তোলা হয় তার মধ্যে আছে সবজি, তেলবীজ, রাইজোম, কন্দ, স্ফীতমূল, মসলা ও রান্নার ভেষজ, আর এর মধ্যে ভেষজই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। বুনো ফলের গাছ আছে প্রায় 70 প্রজাতির, যাদের ফল খাওয়া যায়।
প্রজাতির সংখ্যা গবেষণাভেদে আলাদা, কারণ প্রতিটি গবেষণা আলাদা এলাকা, আলাদা জনগোষ্ঠী আর আলাদা খাদ্যশ্রেণি ধরে কাজ করেছে। নিচের ছকে পাশাপাশি রাখা হলো, কোন গবেষণা কোথায় কী গুনেছে।
| গবেষণা | এলাকা ও জনগোষ্ঠী | কী গোনা হয়েছে | সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| Alam ও Sarwar, 2024 (পর্যালোচনা) | পার্বত্য চট্টগ্রাম | পতিত জুম থেকে সংগৃহীত বুনো খাদ্য-উদ্ভিদ | 50–60 |
| Akter ও সহলেখক, 2020 (পর্যালোচনায় উদ্ধৃত) | খাগড়াছড়ি | সারা বছর খাওয়ার উপযোগী বুনো উদ্ভিদ | 71 |
| Paul ও সহলেখক, 2020 | পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী | বুনো ফল | 49 প্রজাতি, 25 গোত্র |
| Alam, Rahman ও Hossain, 2024 | রোয়াংছড়ি, বান্দরবান; চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা | বুনো ফল | 35 প্রজাতি, 23 গোত্র |
| Khatun, 2016 (পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, উদ্ধৃত) | খাগড়াছড়ির আদিবাসী জনগোষ্ঠী | বুনো ফল | 100 |
| Taher, Naher ও Mojumder, 2025 | দীঘিনালা ও মহালছড়ি; চাকমা | অচাষকৃত সবজি | 31 প্রজাতি, 18 গোত্র |
| Khatun ও সহলেখক, 2013 | সারা বাংলাদেশ, তিন পার্বত্য জেলাসহ | শাক হিসেবে খাওয়া উদ্ভিদ | 186টির মধ্যে 140টি বুনো |
| Dev ও সহলেখক, 2020 | চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা (এবং সমতলের গারো) | খাওয়া হয় এমন পোকা | 36 প্রজাতি |
| Chowdhury ও সহলেখক, 2007 | ম্রো | বন থেকে শিকার ও সংগ্রহ করা প্রাণী | 34 প্রজাতি |
সংখ্যাগুলো যোগ করা যায় না: একই গাছ একাধিক তালিকায় আছে, আর একটি তালিকা কেবল ফল গোনে, আরেকটি কেবল শাক। তবে সব কটি গবেষণা একটি বিষয়ে একমত, পাহাড়ের খাবারের একটি বড় অংশ চাষের বাইরে থেকে আসে। চাকমা গ্রামে টাকার হিসাবেও তা ধরা পড়েছে। Danesh Miah ও সহলেখকেরা 2012 সালে তিনটি চাকমা গ্রামের 60টি পরিবারের হিসাব নিয়ে দেখিয়েছেন, পরিবারপ্রতি বছরে গড়ে 18,951 টাকার বনজ পণ্য পরিবার নিজেই ভোগ করে, যা মোট আয়ের 21 শতাংশ; এর বাইরে বনজ পণ্য বিক্রি থেকে আসে আরও 11,256 টাকা, বা 11 শতাংশ। জুমের পরেই বন সেখানে আয়ের দ্বিতীয় বড় উৎস।
বনজ খাবারের তিনটি প্রধান উৎস: ফসল তোলার পর ফেলে রাখা পতিত জুম, গ্রামের পাশে সংরক্ষিত সামাজিক বন, আর ছড়া-ঝিরির পাড়। প্রতিটি উৎসের নাম জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা, আর গ্রামের বন থেকে কী কতটা তোলা যাবে তার নিয়মও পাড়া নিজেই ঠিক করে।
জুমজার্নালের আর্কাইভে সিংইয়ং ম্রোর লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষে আদিবাসী লোকজ্ঞান” (2021) পতিত জুমের নাম দিয়েছে চার ভাষায়: ম্রো ভাষায় ‘প্রামচ্যা’, চাকমা ভাষায় ‘রান্যা’, মারমা ভাষায় ‘ইয়া পুংছোঃ’ আর তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘র্যান্যা জুম’। লেখাটি বলছে, এই পতিত জুমে অনেক শাক-সবজি ও ফসল জন্মে, ধীরে ধীরে ঝোপঝাড় আর গাছপালা গজায়, আর খাবারের খোঁজে পশুপাখি সেখানে ভিড় করে। জুম চাষের পুরো চক্রটি আছে জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে লেখায়।
জুমিয়া গ্রামগুলো প্রথাগতভাবে পাড়ার পাশে একখণ্ড বন রেখে দেয়, যেখানে কখনো জুম করা হয় না। Mohammed Jashimuddin ও Makoto Inoue-র 2012 সালের গবেষণা (Open Journal of Forestry) এই গ্রামীণ সামাজিক বনকে (village common forest) বলেছে জ্বালানি, ভেষজ, মূল, বাঁশ কোড়ল, বুনো ফল, লতা ও রান্নার পাতার উৎস। Saha-র (2010) বরাতে গবেষণাটি প্রতিটি জনগোষ্ঠীর দেওয়া নামও লিখেছে; নামগুলো মূল প্রবন্ধে যেমন রোমান হরফে আছে, তেমনই রাখা হলো:
| জনগোষ্ঠী | গ্রামের বনের নাম (প্রবন্ধের বানানে) |
|---|---|
| চাকমা | Jar |
| ত্রিপুরা | Kalittra |
| মারমা | Bam বা Thoikhuong |
| তঞ্চঙ্গ্যা | Reserve |
| খিয়াং | Bam |
| ম্রো | Kua Bam |
| বম | Kua Reserve |
| পাংখোয়া | Kua Service |
| লুসাই | Service |
| খুমি | Jhumio Pui |
| চাক | Thingdhing Aka Ara |
একই প্রবন্ধ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন বনের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে তা 700 থেকে 800টির মতো হতে পারে; আকারে বেশির ভাগ 20 থেকে 120 হেক্টর। গবেষকেরা বান্দরবানের চারটি বন সরেজমিনে দেখেছেন: রুমার Korang para (ম্রো, 27 পরিবার, 40 হেক্টর), লামার কাপ্রু পাড়া (ম্রো, 38 পরিবার, 80 হেক্টর), রোয়াংছড়ির Sadar para (মারমা, 330 পরিবার, 100 হেক্টর, প্রতিষ্ঠা 1920) আর Tulachari para (মারমা, 35 পরিবার, 8 হেক্টর)। চারটি বনে 60 গোত্রের 163 প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে।
খুমিদের বেলায় একই রীতির বর্ণনা আছে আমাদের আর্কাইভে, লেলুং খুমীর খুমী জাতির আদ্যোপান্ত লেখায়: খুমিরা গ্রামের আশপাশে আর পানির উৎস ঝিরির চারপাশে বন সংরক্ষণ করে রাখেন, আর জুমে আগুন দেওয়ার আগে চারপাশ পরিষ্কার করেন যাতে আগুন বনে না ছড়ায়।
ছড়ার পাড় শাক আর আমিষ দুটোরই উৎস। জুমজার্নালের আর্কাইভে 2020 সালের করোনাকালীন খাদ্য সংকট নিয়ে একটি প্রতিবেদনে রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিচালক পবন কুমার বলেছিলেন, ছড়া-ঝিরি-খালের পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে তারা ও ঢেঁকিশাকের মতো সবজি জন্মায়, আর ছড়ার ছোট মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়া “আদিকাল থেকে পাহাড়ে প্রাণীজ আমিষের উৎস”। সেই প্রতিবেদনের পুরো পরামর্শ-তালিকা আছে জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা লেখায়।
বুনো শাকের স্থানীয় নামের সবচেয়ে বড় প্রকাশিত সংকলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানী Maksuda Khatun ও সহলেখকদের 2013 সালের গবেষণা (Bangladesh Journal of Plant Taxonomy)। 2000 থেকে 2012 সালের 34টি মাঠ-সফরে তাঁরা সারা দেশে 186টি শাক-উদ্ভিদ শনাক্ত করেন, যার 140টি বুনো, আর প্রতিটির পাশে লেখেন কোন জনগোষ্ঠী তাকে কী নামে ডাকে।
নমুনা সংগ্রহের এলাকার মধ্যে ছিল বান্দরবান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি, আর রাঙামাটির কাপ্তাই ও সদর। নিচের ছকে কেবল সেই শাকগুলো রাখা হলো যেগুলোর পাশে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জনগোষ্ঠীর নাম আছে আর যেগুলো প্রধানত তিন পার্বত্য জেলার কোনোটিতে খাওয়া হয় বলে প্রবন্ধ লিখেছে। স্থানীয় নাম প্রবন্ধে রোমান হরফে ছাপা; বাংলা হরফে লিখতে গেলে উচ্চারণ অনুমান করতে হতো, তাই নামগুলো রোমান হরফেই রাখা হলো।
| বৈজ্ঞানিক নাম | বাংলা নাম (প্রবন্ধে) | স্থানীয় নাম ও জনগোষ্ঠী | প্রধানত যেখানে খাওয়া হয় |
|---|---|---|---|
| Melocanna baccifera | মুলি বাঁশ | Wa-thui, Muiya (চাকমা, মারমা, খাসিয়া; আলাদা করা নেই) | পার্বত্য চট্টগ্রাম |
| Ajuga macrosperma | — | Sabarang (চাকমা, মারমা) | খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি |
| Trachyspermum ammi | জোয়ান | Fuchi Shak (চাকমা, মারমা) | খাগড়াছড়ি |
| Eryngium foetidum | — | Mysapagur (চাকমা) | রাঙামাটি |
| Zehneria japonica | — | Herana Shak (চাকমা, খাসিয়া) | রাঙামাটি |
| Cardiospermum halicacabum | লতাফুটকি | Kataboksa Shak (চাকমা) | রাঙামাটি |
| Clausena excavata | পান কর্পূর | Pankauri (চাকমা) | রাঙামাটি |
| Oxalis corniculata | আমরুল শাক | Amila Pata (চাকমা, খাসিয়া) | রাঙামাটি |
| Sphenoclea zeylanica | ঝিল মরিচ | Vui Shak (চাকমা) | খাগড়াছড়ি |
| Emilia sonchifolia | — | Miam Shak (চাকমা) | খাগড়াছড়ি |
| Ageratum conyzoides | — | Ozone Shak (চাকমা), Mukri (ত্রিপুরা) | খাগড়াছড়ি |
| Sambucus javanica | — | Maytraba (চাকমা) | বান্দরবান, রাঙামাটি |
| Synedrella nodiflora | — | Hamfui (মারমা, চাকমা) | খাগড়াছড়ি |
| Spilanthes calva | — | Marhatitiga (মারমা) | রাঙামাটি |
| Hydrocotyle sibthorpioides | — | Sakumubakla (মারমা) | রাঙামাটি |
| Senna tora | চাকুন্দা | Sa Lai Pa (মারমা) | রাঙামাটি |
| Senna obtusifolia | চাকুন্দা | Dang Geya (মারমা) | বান্দরবান |
| Erythrina stricta | মান্দার | Kosano (মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা) | বান্দরবান |
| Caesalpinia digyna | — | Kamuno (মারমা), Loho (তঞ্চঙ্গ্যা) | বান্দরবান |
| Spermacoce latifolia | — | Ghuiojhil Shak (তঞ্চঙ্গ্যা) | বান্দরবান |
| Calamus tenuis | বেত | Khring (মারমা) | খাগড়াছড়ি |
| Angiopteris evecta | ঢেকিয়া শাক | Siblu (মারমা) | বান্দরবান, কক্সবাজার |
| Sterculia villosa | উদাল | Lambuk (ত্রিপুরা) | বান্দরবান, মৌলভীবাজার |
| Oroxylum indicum | কানাইডিঙ্গি | Fona-gulogach (চাকমা) | পটুয়াখালী, রাঙামাটি |
ছকটি কয়েকটি জিনিস দেখায়। প্রথমত, তালিকার সব গাছ বুনো নয়। প্রবন্ধ অনুযায়ী জোয়ান (Fuchi Shak) দেশে কেবল খাগড়াছড়ির গোলাবাড়িতে শাক হিসেবে চাষ হয়, আর মুলি বাঁশকেও প্রবন্ধটি অন্য কাজে চাষ করা গাছের তালিকায় রেখেছে। গবেষকেরা আরও লিখেছেন, দেশে প্রথমবার শাক হিসেবে নথিভুক্ত 61টি উদ্ভিদের বেশির ভাগ খান পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়ি এলাকার মানুষ। দ্বিতীয়ত, একটি গাছ একাধিক জনগোষ্ঠী খায়, কিন্তু নাম প্রায়ই আলাদা: বেতের ডগা মারমা ভাষায় Khring, আর উদাল গাছের নাম কেবল ত্রিপুরা ভাষায় দেওয়া। তৃতীয়ত, বম, ম্রো, খুমি, পাংখোয়া, লুসাই বা চাকদের একটি নামও এই তালিকায় নেই; সেই জনগোষ্ঠীগুলোর শাকের এমন কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ির চাকমাদের নিয়ে আলাদা একটি তালিকা করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Shahida Taher, Najmun Naher ও Mritunjoy Mojumder (2025)। দীঘিনালা ও মহালছড়ির 150 জন উত্তরদাতার (65 জন পুরুষ, 85 জন নারী) কাছ থেকে তাঁরা 31টি অচাষকৃত সবজির নাম পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রজাতি কচু, কলা, আলু (Dioscorea) আর আদা-গোত্রের; খাওয়া হয় সবচেয়ে বেশি পাতা। প্রবন্ধের সারাংশে প্রজাতির সংখ্যা 31, আলোচনা অংশে 32। গবেষকেরা লিখেছেন, সারা বছর পাওয়ার জন্য বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার সময়ের জন্য এগুলো শুকিয়ে রাখা হয়।
এই তালিকায় একটি পরিচিত নামও আছে। চাকমা লেখায় বিজুর আগে বন থেকে আনা “তারা” সবজির কথা বারবার আসে; Taher ও সহলেখকদের তালিকায় Tara নামে আছে Alpinia nigra, আদা-গোত্রের একটি গাছ, যার রাইজোম রেঁধে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। একই তালিকায় Honagulo নামে আছে Oroxylum indicum, যার ফুল ও ফল সবজি হিসেবে রাঁধা হয়; Khatun ও সহলেখকদের তালিকায় একই গাছের চাকমা নাম Fona-gulogach।
পাহাড়ের কয়েকটি পরিচিত ভেষজের বৈজ্ঞানিক পরিচয় নিয়ে প্রকাশিত উৎসগুলো একমত নয়। সাবারাংকে চারটি উৎস চার রকম শনাক্ত করেছে; ফুজি আর ওজন শাকের বেলাতেও দুই উৎসে দুই রকম গাছ। নামগুলো একই, গাছ আলাদা হতে পারে, তাই বাজার বা বইয়ের নাম দেখে গাছ চেনার আগে সতর্ক থাকা দরকার।
| স্থানীয় নাম | উৎস | যে গাছ বলে শনাক্ত |
|---|---|---|
| সাবারাং | Khatun ও সহলেখক, 2013 | Ajuga macrosperma (চাকমা ও মারমা নাম) |
| বাংলাদেশের খাদ্য উপাদান তালিকা, 2013 | Bugleweed (ইংরেজি নাম; বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া নেই) | |
| Taher ও সহলেখক, 2025 | Ocimum americanum var. pilosum | |
| পুলক খীসা, জুমজার্নাল আর্কাইভ | Lemon Basil | |
| ফুজি | Khatun ও সহলেখক, 2013 | Trachyspermum ammi (Fuchi Shak, চাকমা ও মারমা) |
| Chiangmi Talukder Lena, দ্য ডেইলি স্টার | wild parsley | |
| ওজন শাক | Khatun ও সহলেখক, 2013 | Ageratum conyzoides (Ozone Shak, চাকমা) |
| Taher ও সহলেখক, 2025 | Spilanthes calva (Ozonshak) |
সাবারাং আর ফুজি চাকমা রান্নায় কীভাবে ব্যবহার হয়, তা আছে চাকমা খাবার ও রান্না লেখায়। এখানে কেবল এটুকু: সাবারাং কোন গাছ, তা নিয়ে প্রকাশিত উৎসে অন্তত চারটি উত্তর আছে, আর সেগুলো মেলানো যায়নি।
বুনো ফলের সবচেয়ে বিস্তারিত সাম্প্রতিক নথি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থেকে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের M. S. Alam ও সহলেখকেরা জুলাই 2019 থেকে জুন 2021 পর্যন্ত চারটি পাড়ায় কাজ করে 35টি বুনো ফল নথিভুক্ত করেছেন, প্রতিটির চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা বা তঞ্চঙ্গ্যা নামসহ।
পাড়া চারটি প্রবন্ধে Dalujhiri para, Mandui para, Rowangchhari bazar para ও Bijoy para নামে লেখা; বাছা হয়েছিল কারণ সেখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা চার জনগোষ্ঠীরই মানুষ থাকেন। তথ্য দিয়েছেন বন থেকে ফল কুড়িয়ে খাওয়া 20 জন প্রবীণ আর ফল কুড়িয়ে হাটে বিক্রি করা 5 জন। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা তিন মৌসুমেই মাঠে যাওয়া হয়েছে। 35টির মধ্যে 70 শতাংশ গাছ, 18 শতাংশ গুল্ম, 7 শতাংশ বিরুৎ আর 5 শতাংশ লতা।
নিচের ছকে 35টির মধ্যে সেই ফলগুলো রাখা হলো যেগুলোর একাধিক জনগোষ্ঠীর নাম আছে, বা যেগুলো কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে রাঁধা হয়। প্রবন্ধে স্থানীয় নাম রোমান হরফে; বন্ধনীর সংক্ষেপ: চা = চাকমা, মা = মারমা, ত্রি = ত্রিপুরা, ত = তঞ্চঙ্গ্যা।
| বৈজ্ঞানিক নাম | প্রচলিত নাম | জনগোষ্ঠীর নাম | পাওয়া যায় | কীভাবে খাওয়া হয় |
|---|---|---|---|---|
| Dillenia indica | চালতা | Ulugach (চা), Kraaming (মা), Thaiplaw (ত্রি) | জুলাই–অক্টোবর | পরিণত ফল তরকারিতে, টক স্বাদের জন্য |
| Dillenia pentagyna | Hargeza | Ulu (চা), Jange bring (মা), Thaiplaw (ত্রি) | মে–জুন | পাকা ফল কাঁচা; কচি ফলের আচার বা রান্না |
| Bouea oppositifolia | Uriam | Uriaam (চা), Jaraboo aam (মা), Moyaam (ত্রি) | মে–জুন | পাকা ফল কাঁচা; কচি ফল সবজি হিসেবে |
| Phyllanthus emblica | আমলকী | Hadamola (চা), Soi sha (মা), Omloki (ত্রি), Kalamabagula (ত) | সেপ্টেম্বর–নভেম্বর | কাঁচা, শুকিয়ে, আচারে |
| Flacourtia jangomas | পানিয়ালা | Painnya gula (চা), Tamagry (মা), Painna mola (ত্রি) | জুলাই–আগস্ট | পাকা ফল কাঁচা |
| Flacourtia indica | বৈঁচি | Benchi (চা), Binja (মা), Katai (ত্রি) | জুন–আগস্ট | পাকা ফল কাঁচা |
| Protium serratum | Gutguttya | Gutguittiya (চা), Shu dui shi (মা), Thai cherem (ত্রি) | জুলাই–আগস্ট | কাঁচা |
| Musa ornata | বনকলা | Bizi kola (চা), Ramanigi bela (মা), Li phang (ত্রি) | সারা বছর | পাকা ফল কাঁচা; কচি ফল রান্না |
| Solanum torvum | তিত বেগুন | Bigal biji (চা), Kajo ba (মা), Titar berul (ত) | সারা বছর | ভেজে সবজি হিসেবে |
| Diospyros malabarica | দেশি গাব | Keth gula (চা), kock (ত্রি), Gaab gaith (ত) | জুন–জুলাই | পাকা ফল কাঁচা |
| Ficus racemosa | যজ্ঞডুমুর | Noroputitida (চা), Sanak (মা) | মে–আগস্ট | পাকা ফল কাঁচা; কচি ফল তরকারিতে |
| Garcinia cowa | Kau | Kaogula (চা), Tahgala (মা) | জুন–আগস্ট | পাকা ফল কাঁচা |
| Artocarpus chama | চাপালিশ | Bon kanthal (মা), Bathagola (চা) | জুন–আগস্ট | কচি ফল রান্না করে |
| Cordia dichotoma | Kalauza | Chaine (মা), Bohalli (চা) | এপ্রিল–মে | পাকা ফল কাঁচা; কচি ফল সবজি হিসেবে |
| Sterculia foetida | জংলা বাদাম | Yaa-hea (চা), Letpan-show (মা) | জুলাই–আগস্ট | পরিণত বীজ ভেজে |
| Tamarindus indica | তেঁতুল | Tedoy (চা), Gayosi si (মা) | ফেব্রুয়ারি–মার্চ | কাঁচা-পাকা দুই অবস্থায়, আচারে |
| Randia spinosa | Monkata | Mainphal (চা) | ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি | পরিণত বীজ ভেজে |
ফলগুলো বেশির ভাগই কাঁচা ও টাটকা খাওয়া হয়, তবে চালতা, চাপালিশ, যজ্ঞডুমুর, Kalauza (Cordia dichotoma) আর বনকলার কচি ফল তরকারিতে যায়, আর জংলা বাদাম ও Randia spinosa-র বীজ ভেজে খাওয়া হয়। গবেষকেরা লিখেছেন, চালতা, দেশি গাব, যজ্ঞডুমুর, পানিয়ালা, Haematocarpus validus আর Syzygium fruticosum স্থানীয়দের মধ্যে সাধারণভাবে বেশি খাওয়া হয়।
একই ফলের নাম দুই প্রবন্ধে আলাদা রূপে আসে। Gutguttya (Protium serratum) ফলের ত্রিপুরা নাম রোয়াংছড়ির তালিকায় Thai cherem; খাগড়াছড়ির গর্ভবতী নারীদের খাদ্য-নিষেধ নিয়ে 2025 সালের একটি গবেষণায় একই ফলের (সেখানে Brusera serrata নামে লেখা) ত্রিপুরা নাম Thaiche rum, আর চাকমা নাম Gumutti। রোয়াংছড়ির তালিকায় চাকমা নাম Gutguittiya।
বুনো আলু বলতে প্রধানত Dioscorea গণের নানা প্রজাতির কন্দ বোঝায়, যা মাটি খুঁড়ে তুলতে হয়। খাগড়াছড়ির চাকমাদের তালিকায় দুটি আছে: Shora-alu (Dioscorea belophylla) আর Ban-alu (Dioscorea bulbifera); তালিকা অনুযায়ী এদের সেদ্ধ কন্দ ও গুটি তরকারিতে খাওয়া হয়।
Taher ও সহলেখকদের (2025) ভাষায়, Dioscorea-র মতো কন্দ ও রাইজোম পরিবারের শক্তির চাহিদার বড় অংশ জোগায়, আর পাতা ও কচি ডগা অণুপুষ্টি জোগায়। তাঁদের অচাষকৃত সবজির তালিকায় শিমুল আলুও (Manihot esculenta) আছে, মূল হিসেবে। Khatun ও সহলেখকেরা (2013) অবশ্য শিমুল আলুকে চাষের গাছের তালিকায় রেখেছেন, যার পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া হয় (মারমা নাম Kepalli Nolpai); আর জুমজার্নালের আর্কাইভের 2020 সালের প্রতিবেদনে জুমের আশপাশে শিমুল আলু লাগানোর পরামর্শ আছে।
জুমে লাগানো আলু আর বনের আলুর পার্থক্যটি মনে রাখা দরকার। সিংইয়ং ম্রোর আর্কাইভ লেখায় ম্রো ভাষায় আলু জাতীয় ফসলের যে লম্বা তালিকা আছে (পংম, মপু, রুকে, খকদিয়া প্রভৃতি), সেগুলো জুমের ফসল হিসেবে লেখা; লেখক বলেছেন এই আলু দুর্দিনে ভাতের বিকল্প হিসেবে দৈনন্দিন চাহিদা মেটায়। কোনটি বুনো আর কোনটি চাষের, সেই ভাগ লেখাটিতে নেই।
অভাবের বছরে বুনো আলুর ভূমিকা সংবাদেও উঠে এসেছে। এএফপি-র 10 ফেব্রুয়ারি 2008 সালের প্রতিবেদনে (Dawn-এ প্রকাশিত) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, ইঁদুরের আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার পর “মানুষ এখন বেঁচে থাকতে বুনো আলু খাচ্ছে”; তাঁর হিসাবে কেবল রাঙামাটিতেই 3,500 পরিবার পর্যন্ত অনাহারের মুখে ছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরিপ, থানচির 2016 ও 2024 সালের সংকট আর অভাবের মাসের পুরো হিসাব আছে জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা লেখায়।
বুনো আলু নিয়ে সব জনগোষ্ঠীর মনোভাব এক নয়। খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালার ত্রিপুরা নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থায় Chinese yam (ত্রিপুরা নাম Tha naro, Dioscorea oppositifolia) আর বুনো আলু খাওয়া নিষেধ, কারণ বিশ্বাস করা হয় এতে শিশুর গায়ের রং কালো আর ত্বকে দাগ হয়। নিষেধগুলোর পুরো তালিকা নিচে আলাদা অংশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বিস্তৃত বাঁশ মুলি (Melocanna baccifera), আর এর কোড়লই পাহাড়ের অন্যতম প্রধান বনজ খাবার। বাংলাদেশে মে থেকে সেপ্টেম্বর, বর্ষায়, মাটি ফুঁড়ে কোড়ল ওঠে আর তখনই তোলা হয়; কেটে রোদে শুকিয়ে বাকি বছরের জন্য রাখাও হয়।
এই তথ্যগুলো M.K. Alam-এর লেখা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদসম্পদ নিয়ে নেদারল্যান্ডসের Naturalis জীববৈচিত্র্য কেন্দ্রের PROSEA বাঁশ-সংকলনে। সেখানে লেখা আছে, কচি কোড়ল খাওয়া যায় আর বর্ষাকালে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলোর একটি। মুলি বাঁশের মাংসল বড় ফলও খাওয়া যায়, আর দুর্ভিক্ষের সময়ের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Khatun ও সহলেখকদের (2013) তালিকায় মুলি বাঁশের নাম Wa-thui ও Muiya, চাকমা, মারমা ও খাসিয়া তিন জনগোষ্ঠীর নাম একসঙ্গে লেখা; কোন নামটি কোন ভাষার, আলাদা করা নেই। “প্রধানত কোথায় খাওয়া হয়” ঘরে প্রবন্ধটি কোনো জেলার নাম না দিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম লিখেছে, তালিকার আর কোনো শাকের বেলায় যা করা হয়নি। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় কোড়লের নাম (বাচ্ছুরি, মেহ্যাং বা মহ্ই, মেওয়া), খাওয়ার উপযোগী বাঁশের জাত আর রান্নার আগের সেদ্ধ করার ধাপ আছে চাকমা খাবার ও রান্না লেখায়।
যে পাড়াগুলো নিজেদের সামাজিক বন রাখে, সেখানে বাঁশ তোলার নিয়ম লিখিত বা মৌখিকভাবে ঠিক করা থাকে। Jashimuddin ও Inoue-র (2012) সংকলিত নিয়মগুলোর মধ্যে আছে: কাঁচা বাঁশ তোলা নিষেধ, বাঁশ কাটা হয় সাধারণত দুই-তিন বছরে একবার, অনুমতি ছাড়া বাঁশ কাটলে প্রতিটি বাঁশের জন্য 50 টাকা জরিমানা, আর কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া বাণিজ্যিক বিক্রি নিষেধ। প্রতি বছর সদস্যদের নতুন গাছ লাগানোর নিয়মও আছে।
কাঁচা বাঁশ তোলার নিষেধ আর কোড়ল খাওয়ার রীতি কীভাবে মেলানো হয়, যেমন কোড়লের কতটা তোলা যাবে বা কোন ঝাড় থেকে, সে বিষয়ে প্রবন্ধে আলাদা কিছু লেখা নেই।
মুলি বাঁশ একসঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুল দেয়, বীজ ফেলে মরে যায়, আর সেই বীজ খেয়ে ইঁদুর বাড়ে। চক্রটি কত বছরের, তা নিয়ে দুই উৎসে দুই হিসাব: PROSEA বলছে 30 থেকে 45 বছর, আর Steve Belmain ও সহলেখকেরা (2010, IRRI) লিখেছেন 50 বছর। Belmain ও সহলেখকদের হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই দফার ইঁদুরের প্রকোপ প্রথম ধরা পড়ে 2008 সালের ফসল-চক্রে, ফুলের ঢেউ প্রতি বছর দক্ষিণে সরেছে, আর 2010 সালেও কোথাও কোথাও বীজ পড়ছিল। ইঁদুর-সংকটে জুমের ফসল ও খাদ্যসহায়তার হিসাব আছে জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা লেখায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বুনো মাশরুম খাওয়ার কথা একাধিক উৎসে আছে, কিন্তু কোন জনগোষ্ঠী কোন প্রজাতির মাশরুম খায়, তার কোনো প্রকাশিত তালিকা পাওয়া যায়নি। যা আছে তা কেবল চাকমা রান্না নিয়ে, আর সেখানেও প্রজাতির নাম নেই।
Chiangmi Talukder Lena দ্য ডেইলি স্টারে (2021) লিখেছেন, বাঁশ কোড়ল, আদা ফুল, হলুদ ফুল আর বুনো মাশরুম কেবল মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর পাওয়া যায়। Taher ও সহলেখকেরা (2025) খাগড়াছড়ির চাকমাদের বেলায় লিখেছেন, বাঁশ কোড়ল ও শুকনো মাশরুমের ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। শুকিয়ে রাখার রীতিটি তাই মাশরুমের বেলাতেও আছে।
কোন মাশরুম খাওয়া যায় আর কোনটি নয়, পাহাড়ের মানুষ তা কীভাবে চেনেন, তার কোনো প্রকাশিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের খাদ্য উপাদান তালিকায়ও (2013) কোনো বুনো মাশরুমের পুষ্টিমান নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত পাঁচটি জনগোষ্ঠী পোকা খায়: চাকমা 32, ম্রো 29, ত্রিপুরা 26, মারমা 22 আর তঞ্চঙ্গ্যারা 21 প্রজাতি। এই হিসাব সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের S. Dev ও সহলেখকদের 2020 সালের গবেষণার (Journal of Insects as Food and Feed)। প্রবন্ধটি লিখেছে, এর আগে বাংলাদেশে পোকা খাওয়া নিয়ে কোনো প্রকাশিত তথ্য ছিল না।
গবেষকেরা দেশের নয়টি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাথমিক মৌখিক জরিপ চালিয়ে দেখেন ছয়টি পোকা খায়, আর সেই ছয়টির প্রতিটির একটি গ্রাম থেকে 25 জন করে মোট 150 জনের সাক্ষাৎকার নেন। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা উত্তরদাতারা রাঙামাটির, মারমা ও ম্রো বান্দরবানের, ত্রিপুরারা খাগড়াছড়ির; ষষ্ঠ জনগোষ্ঠী শেরপুরের গারো। পোকা শনাক্ত করা হয়েছে 65 প্রজাতির পোকার ছবি দেখিয়ে। প্রবন্ধ অনুযায়ী ছোট জনগোষ্ঠীগুলো পোকা খায় কি না, তার তথ্য নেই; জনসংখ্যা কম ও যোগাযোগ কঠিন হওয়ায় তাদের জরিপে রাখা হয়নি।
| জনগোষ্ঠী | জেলা (জরিপের গ্রাম) | খাওয়া পোকার প্রজাতি | যা আলাদা করে লেখা হয়েছে |
|---|---|---|---|
| চাকমা | রাঙামাটি | 32 | 24% জাল দিয়ে ধরেন, অন্য কোনো জনগোষ্ঠী জালের কথা বলেনি; 24% সরাসরি সংগ্রাহকের কাছ থেকে কেনেন; 20% তুলনামূলক ঘন ঘন খান |
| ম্রো | বান্দরবান | 29 | 16% তুলনামূলক ঘন ঘন খান |
| ত্রিপুরা | খাগড়াছড়ি | 26 | 48% পোকা ভাতের সঙ্গে পূর্ণ খাবার হিসেবে খান; 20% তুলনামূলক ঘন ঘন |
| মারমা | বান্দরবান | 22 | 72% ঝিঁঝিঁপোকা ও বড় জলজ ছারপোকা স্থানীয় বাজার থেকে কেনেন; বান্দরবানে মারমা নারীরা এগুলো বিক্রি করেন; 28% শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খান |
| তঞ্চঙ্গ্যা | রাঙামাটি | 21 | ছয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র যারা পোকা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেননি |
সব উত্তরদাতা মিলিয়ে সবচেয়ে প্রিয় তিনটি পোকা মাঠের ঝিঁঝিঁপোকা (Brachytrupes sp., 84 শতাংশ খান), ঘাসফড়িং (Oxya sp., 83 শতাংশ) আর বড় জলজ ছারপোকা (Lethocerus indicus, 79 শতাংশ)। প্রজাতির সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি গুবরে পোকা, 14টি। গবেষকেরা লিখেছেন, পাহাড়ের পাঁচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঝিঁঝিঁপোকা, ঘাসফড়িং আর দুই প্রজাতির জলজ ছারপোকাই সবচেয়ে প্রিয়, অথচ সমতলের গারোরা জলজ ছারপোকা দুটির কোনোটি খান না।
পোকা সবসময় ভেজে বা পুড়িয়ে খাওয়া হয়, দরকার হলে ডানা ফেলে দিয়ে। 72 শতাংশ উত্তরদাতা হাত দিয়ে ধরেন, 21 শতাংশ কোদাল দিয়ে খুঁড়ে। 42 শতাংশ কেবল জলখাবার হিসেবে খান, 43 শতাংশ জলখাবার ও ভাতের সঙ্গে দুইভাবেই। নয়টি প্রজাতির পোকা কাশি, জ্বর, পেটের অসুখসহ কয়েকটি রোগে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়; 21 শতাংশ উত্তরদাতা এমন ব্যবহারের কথা বলেছেন।
পোকার বর্গের সংখ্যা নিয়ে প্রবন্ধের দুই সংস্করণে অমিল আছে: প্রকাশিত সারাংশে 7টি বর্গ, আর গবেষণা-ভান্ডারে রাখা পাণ্ডুলিপিতে 8টি। প্রজাতি (36) ও গোত্রের (19) সংখ্যা দুটিতেই এক।
বনের আমিষের সবচেয়ে বিস্তারিত হিসাব ম্রোদের নিয়ে। Mohammad Shaheed Hossain Chowdhury ও সহলেখকেরা (2007) দেখিয়েছেন, ম্রোরা বন থেকে 34 প্রজাতির প্রাণী শিকার ও সংগ্রহ করেন, পোকার শূককীট থেকে হাতি পর্যন্ত। ম্রোদের প্রধান পেশা জুম, শিকার দ্বিতীয়, তবে দরিদ্র পরিবারের জন্য শিকারের গুরুত্ব বেশি।
ধনী ও মাঝারি কৃষক পরিবারগুলোর পছন্দের তালিকায় প্রথম বুনো শূকর, আর সব শ্রেণির কৃষকের তালিকায় দ্বিতীয় গুইসাপ। গবেষকেরা লিখেছেন, ম্রোরা কিছু গৃহপালিত প্রাণী রাখেন বিশেষ অনুষ্ঠানে উৎসর্গের জন্য, আর শিকারের মাংস খাবারে একটি অত্যন্ত প্রিয় সংযোজন। একই গবেষকদের আরেকটি কাজ (Miah ও Chowdhury, 2004) বলছে, ম্রোরা খাবার, ফল, জ্বালানি ও কাঠের জন্য পাশের বনের ওপর “চরমভাবে” নির্ভরশীল।
অন্য জনগোষ্ঠীর বেলায় তথ্য আসে আমাদের আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-পরিচিতি থেকে:
বনের আমিষ নিয়ে কিছু নিষেধও আছে। সিংইয়ং ম্রোর লেখা অনুযায়ী জুমে ফসলের চারা না গজানো পর্যন্ত কোনো পাখির ছানা ধরা নিষেধ। লেখাটি পরের বাক্যেই বলছে, হরিণের মাংস, লাল কাঁকড়া ও শামুক রান্না করে খাওয়া নিষেধ; এই নিষেধ কোন সময়ের জন্য, তা স্পষ্ট করে লেখা নেই। লেখক এই লোকবিশ্বাসগুলোকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেখেছেন। লেখাটি নিষেধগুলো সাধারণভাবে “আদিবাসীদের” বলে লিখেছে; কোন জনগোষ্ঠীর রীতি, আলাদা করে বলা নেই।
বনের খাবারের মৌসুম মোটা দাগে দুই ভাগে: এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ফল, কোড়ল, ফুল আর মাশরুমের সময়; নভেম্বর থেকে এপ্রিল ডাঙার পোকার সময়। শীতে বুনো ফল সবচেয়ে কম, তাই বর্ষার উদ্বৃত্ত শুকিয়ে রাখা হয়।
| খাবার | মৌসুম | উৎস |
|---|---|---|
| বুনো ফল (রোয়াংছড়ি, 35 প্রজাতি) | গ্রীষ্মে (এপ্রিল–জুন) 19টি, বর্ষায় (জুলাই–আগস্ট) 9টি, শীতে (নভেম্বর–মার্চ) 4টি, সারা বছর 3টি | Alam ও সহলেখক, 2024 |
| মুলি বাঁশের কোড়ল | মে–সেপ্টেম্বর | PROSEA (M.K. Alam) |
| বাঁশ কোড়ল, আদা ফুল, হলুদ ফুল, বুনো মাশরুম | মধ্য এপ্রিল–মধ্য সেপ্টেম্বর | Lena, দ্য ডেইলি স্টার, 2021 |
| বাঁশ কোড়ল (চাকমা, খাগড়াছড়ি) | বর্ষা ও বর্ষার পর বিশেষভাবে কদর | Taher ও সহলেখক, 2025 |
| বেশির ভাগ খাওয়ার পোকা, যেমন মাঠের ঝিঁঝিঁপোকা | নভেম্বর–এপ্রিল (শুকনো, ঠান্ডা মাস) | Dev ও সহলেখক, 2020 |
| জলজ পোকা, যেমন বড় জলজ ছারপোকা | জুলাই–সেপ্টেম্বর (বর্ষা) | Dev ও সহলেখক, 2020 |
| ঘাসফড়িং (Oxya) | সারা বছর | Dev ও সহলেখক, 2020 |
| আমলকী | সেপ্টেম্বর–নভেম্বর | Alam ও সহলেখক, 2024 |
| Randia spinosa-র বীজ | ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি | Alam ও সহলেখক, 2024 |
রোয়াংছড়ির গবেষকেরা এই মৌসুমি বণ্টন থেকে একটি সিদ্ধান্ত টেনেছেন: গ্রীষ্ম ও বর্ষায় মানুষ যথেষ্ট ফল খান, কিন্তু অন্য মৌসুমে স্থানীয় ফলের তীব্র অভাব থাকে। চাকমা রাঁধুনিরা শীতের শুরু থেকেই নানা উপকরণ রোদে শুকিয়ে রাখেন, কাটা সবজি বেতের ডালায় বিছিয়ে বা ঝুলিয়ে বেতের তাকে রাখা হয়, Lena এমনটি লিখেছেন।
লক্ষ করার মতো একটি মিল: বুনো ফল আর কোড়লের ভরা মৌসুম জুন থেকে সেপ্টেম্বর, ঠিক যে মাসগুলোতে আগের বছরের জুমের ধান ফুরিয়ে আসে। অভাবের মাস কোনগুলো, তা নিয়ে উৎসভেদ আছে জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা লেখায়।
বাংলাদেশের সরকারি খাদ্য উপাদান তালিকায় (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও FAO, 2013) পাহাড়ের কয়েকটি বনজ খাবারের পুষ্টিমান আছে: বুনো আলু, ঢেঁকিশাক, সাবারাং আর কচুশাক। বাঁশ কোড়ল, বুনো মাশরুম বা কোনো খাওয়ার পোকা তালিকায় নেই।
নিচের ছকে প্রতি 100 গ্রাম খাওয়ার উপযোগী অংশের কাঁচা অবস্থার মান দেওয়া হলো। তুলনার জন্য সাদা মিষ্টি আলুও রাখা হলো। তালিকায় যেসব মান বর্গবন্ধনী [ ]-র মধ্যে দেওয়া, সেগুলো এখানে বাদ রাখা হয়েছে।
| খাবার (তালিকার নাম) | শক্তি (কিলোক্যালরি) | আমিষ (গ্রাম) | আঁশ (গ্রাম) | ক্যালসিয়াম (মি.গ্রা.) | লোহা (মি.গ্রা.) | ভিটামিন সি (মি.গ্রা.) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বন আলু, বিভিন্ন প্রজাতি (Yam, tuber) | 97 | 1.5 | 4.1 | 17 | 0.8 | 12.8 |
| মিষ্টি আলু, সাদা (তুলনার জন্য) | 98 | 0.6 | 3.0 | 25 | 1.5 | 20.3 |
| ঢেঁকি শাক (Fern, leaves) | 68 | 1.3 | — | — | — | — |
| সাবারাং (Bugleweed) | 43 | 2.6 | — | 49 | 2.8 | 13.1 |
| কালো কচু শাক | 62 | 5.6 | 3.7 | 392 | 2.1 | 63 |
| সবুজ কচু শাক | 51 | 4.0 | 3.7 | 235 | 4.9 | 48.1 |
| শিমুল আলু শাক (Cassava, leaves) | 62 | 4.7 | 4.8 | 201 | 4.9 | 27.3 |
ছকটি থেকে দুটি কথা বলা যায়। বুনো আলু শক্তিতে মিষ্টি আলুর প্রায় সমান, আমিষ ও আঁশে কিছুটা বেশি, ভিটামিন সি-তে কম; অর্থাৎ ভাতের বিকল্প হিসেবে এটি পেট ভরায়, কিন্তু পুষ্টির ঘাটতি একা পূরণ করে না। অন্যদিকে কচুশাক আর শিমুল আলুর পাতায় ক্যালসিয়াম, লোহা ও ভিটামিন সি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আছে। কালো কচুশাকে ভিটামিন এ (রেটিনল সমতুল্য) প্রতি 100 গ্রামে 699 মাইক্রোগ্রাম।
সতর্কতার জায়গাও আছে। তালিকার ঢেঁকি শাক কোন প্রজাতির ফার্ন, তালিকায় তা লেখা নেই; Khatun ও সহলেখকেরা অন্তত চারটি আলাদা ফার্নকে ঢেকিয়া বা ঢেঁকি শাক নামে পেয়েছেন। তালিকা সাবারাংয়ের ইংরেজি নাম লিখেছে Bugleweed; ওপরের অংশে দেখানো অন্য উৎসের শনাক্ত করা গাছ হলে মান আলাদা হতে পারে। Taher ও সহলেখকদের (2025) পদ্ধতিতে কোনো পুষ্টি-বিশ্লেষণের কথা নেই; তাঁদের ছকের “খাদ্যমান” ঘরের পাশে অন্য বইয়ের বরাত দেওয়া।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগৃহীত নমুনার নিজস্ব পুষ্টি-বিশ্লেষণ, যেমন রোয়াংছড়ির বুনো ফলগুলোর, প্রকাশিত হয়নি। রোয়াংছড়ির গবেষকেরা নিজেরাই এমন রাসায়নিক বিশ্লেষণের সুপারিশ করেছেন।
খাগড়াছড়ির ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা খাবারের তালিকায় বেশ কয়েকটি বনজ খাবার আছে: বুনো আলু, ঢেঁকিশাক, Ghut Ghutte নামের একটি বুনো টক ফল, শিকারের মাংস, সাপ-ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক আর ঝিঁঝিঁপোকা। কোন নিষেধ কোন জনগোষ্ঠীর, তা আলাদা।
তথ্যগুলো Labanya Tripura ও সহলেখকদের 2025 সালের গবেষণার (SAGE Open Medicine)। খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালায় ছয়টি দলগত আলোচনায় 36 জন নারী আর 75 জন গর্ভবতী নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁরা মোট 64টি নিষিদ্ধ খাবার পেয়েছেন; সাক্ষাৎকারের সময় গর্ভবতীদের 46.6 শতাংশ কোনো না কোনো নিষেধ মানছিলেন। সব সাক্ষাৎকার হয়েছে উত্তরদাতার নিজের ভাষায়।
| বনজ খাবার | যে জনগোষ্ঠীর নিষেধ | প্রচলিত কারণ |
|---|---|---|
| Chinese yam (Tha naro, Dioscorea oppositifolia) ও বুনো আলু | ত্রিপুরা | শিশুর ত্বক কালো ও দাগযুক্ত হয় |
| ঢেঁকি শাক (fiddlehead fern) | ত্রিপুরা, মারমা | বুকের দুধ কমে |
| Ghut Ghutte ফল (ত্রিপুরা নাম Thaiche rum, চাকমা নাম Gumutti) | ত্রিপুরা | শিশুর জ্বর বা ফোড়া হয়, রক্ত কমে |
| জোড়া ফল (জোড়া কলা, জোড়া Ghut Ghutte) | চাকমা, ত্রিপুরা | জোড়া লাগা শিশু হওয়ার বিশ্বাস |
| শিকার করা প্রাণীর মাংস | ত্রিপুরা | বন্দুক বা ধারালো অস্ত্রে মারা হয় বলে শিশুর ক্ষতি |
| বুনো কোকিলের মাংস | ত্রিপুরা | শিশু পাখিটির মতো গড়িয়ে হাঁটবে |
| সাপ ও ব্যাঙের মাংস | চাকমা | শিশু সাপের মতো জিভ নাড়বে |
| কাঁকড়া | মারমা | মা ও শিশুর কাশি |
| শামুক ও কালো ঝিনুক | মারমা | মা ও শিশুর পেটব্যথা |
| বাদামি মাঠ-ঝিঁঝিঁপোকা | মারমা | মায়ের রক্ত কমে |
| বাঁশের নালা দিয়ে আনা ছড়ার পানি | ত্রিপুরা | শিশুর খিঁচুনি ও জ্বর |
ছকটি জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য স্পষ্ট করে: বনের আলু ও শিকারের মাংসের নিষেধ কেবল ত্রিপুরাদের, কাঁকড়া-শামুক-ঝিঁঝিঁপোকার নিষেধ কেবল মারমাদের, সাপ-ব্যাঙের নিষেধ কেবল চাকমাদের। গবেষণায় বাঁশ কোড়ল বা মাশরুমের কোনো নিষেধ আসেনি। তবে তালিকাটি তিন জনগোষ্ঠীর, দুটি উপজেলার; অন্য এলাকার বা অন্য জনগোষ্ঠীর নিষেধ এখান থেকে অনুমান করা যায় না।
যে কয়টি গবেষণা বনজ খাবার নিয়ে কাজ করেছে, তাদের প্রায় সবাই লিখেছে খাবারগুলো কমছে। কারণ হিসেবে এসেছে বন উজাড় ও কৃষিজমির বিস্তার, ক্ষেতে কীটনাশক ও সার, অতিরিক্ত আহরণ, বাজারের চাপ, আর বনে ঢোকা ও বন থেকে তোলার অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা।
রোয়াংছড়ির গবেষকেরা (Alam ও সহলেখক, 2024) লিখেছেন, বুনো ফলের গাছ কমছে প্রধানত মানুষ ও গবাদিপশুর সংখ্যার চাপে: অতিরিক্ত আহরণ, তীব্র বন-অবক্ষয় আর তার সঙ্গে কৃষিজমির বিস্তার। আর্থসামাজিক অবস্থা বদলানোয় কিছু জ্ঞান হারিয়ে গেছে, এখন কেবল প্রবীণেরাই এই “বুনো ভান্ডারের” কথা মনে রাখেন।
Dev ও সহলেখকদের (2020) জরিপে 79 শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন পোকা খাওয়া কমছে, 19 শতাংশ বলেছেন অপরিবর্তিত। কারণ হিসেবে এসেছে পোকা না পাওয়া, জীবনযাত্রার মান বাড়া, পরিবেশের পরিবর্তন আর ক্ষেতে নির্বিচারে কীটনাশক ও সার। তবু বেশির ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, পাওয়া গেলে তাঁরা খেতে আগ্রহী।
Jashimuddin ও Inoue (2012) গ্রামের সামাজিক বনের ক্ষয়ের কারণ হিসেবে লিখেছেন জনসংখ্যার চাপ, বাজার-সুবিধা বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত আহরণ, ব্যক্তিগত লোভ, জমির মালিকানার অনিশ্চয়তা, বসতি স্থাপন নিয়ে ভুল সরকারি নীতি আর প্রথাগত ব্যবস্থার ভাঙন। তাঁদের মতে, সংরক্ষিত বন ও অশ্রেণিভুক্ত সরকারি বনে বন উজাড়ের কারণে যেসব বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণী আর পাওয়া যায় না, তার কিছু এখনো এই গ্রামীণ বনে টিকে আছে। সুপারিশ হিসেবে তাঁরা আদিবাসীদের প্রথাগত সম্পদ-অধিকারের স্বীকৃতি, জমির মালিকানার নিরাপত্তা আর 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চেতনা মেনে চলার কথা বলেছেন।
পাংখোয়াদের অভিজ্ঞতা একই দিকে ইঙ্গিত করে। আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী জুমচাষের জমি সংকুচিত হওয়া আর জুমের বিরতিকাল কমায় এখন জুম থেকে বড়জোর তিন-চার মাসের খোরাকি মেলে, আর সরকারি বাধানিষেধে বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও বিক্রি অনিশ্চিত। পাংখোয়াদের সম্পর্কে আরও আছে পাংখোয়া জনগোষ্ঠী লেখায়।
বন কেন কমেছে, জুম না বাণিজ্যিক বাগান না তামাক, সে বিতর্কের গবেষণাগুলো একসঙ্গে আছে পাহাড়ের বন কমেছে কীসে লেখায়। সংরক্ষিত বনের সীমানা আর জুমিয়াদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধের একটি উদাহরণ আছে সাঙ্গু মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন লেখায়।
বনজ খাবারের একটি অংশ এখন বাজারে বিক্রি হয়, পাহাড়ের সাপ্তাহিক হাট থেকে ঢাকা পর্যন্ত। Alam ও Sarwar-এর পর্যালোচনা (Haque ও সহলেখক, 2021-এর বরাতে) বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা বনজ পণ্যের প্রায় 40 শতাংশ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন।
রোয়াংছড়ির গবেষণা আলাদা করে পাঁচজন বিক্রেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছে যারা বন থেকে ফল কুড়িয়ে পাশের হাটে বেচেন, আর লিখেছে দরিদ্র মানুষ এই ফল বিক্রি করে জীবিকা চালান। চাকমা গ্রামের হিসাবেও (Miah ও সহলেখক, 2012) বনজ পণ্যের ভোগের মূল্য বিক্রির আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
শহরে বনের শাক পৌঁছানোর একটি উদাহরণ ঢাকার প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্রের “পাহাড়ি হাট”; কেন্দ্রটি পরে মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার 5 মে 2026 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী হাটটি ‘পাহাড়ি হাট’ নাম পাওয়ার আগে চলত “অচাষকৃত বুনো ফসলের হাট” নামে, আর এর কিছু পণ্য আসে “একদম বুনো আদিম জঙ্গল থেকে”। হাট বসে কেবল রোববার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী পণ্য আসে প্রধানত খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও সদর থেকে, জুমচাষিদের কাছ থেকে; বান্দরবান থেকে আসে সামান্য। শাকের মধ্যে আছে ঢেঁকিশাক, কাত্তোল ডিঙ্গি শাক, কচুশাক আর টকপাতা; কন্দের মধ্যে খ্যায়াং আলু আর পাহাড়ি মিষ্টি আলু। স্থানীয় বাজারে যে পণ্যের দাম 20 টাকা, হাটে তা 40-50 টাকা। ক্রেতাদের বেশির ভাগ আদিবাসী, তবে বাঙালিদের মধ্যেও বুনো শাকের চাহিদা বাড়ছে।
বিজুর আগে রাঙামাটির হাটে পাজনের জন্য বনের সবজি বিক্রির চিত্র আছে পাজন কী? বিজুর খাবারে কত পদের সবজি লেখায়, আর রাঙামাটির বনরূপা বাজারে বাঁশ কোড়লের দাম আছে চাকমা খাবার ও রান্না লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অন্য সব লেখা পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব পাতায়।
পাহাড়ের বনজ খাবার হলো যা চাষ না করে বন, পতিত জুম ও ছড়া থেকে সংগ্রহ করা হয়: বুনো শাক ও রান্নার ভেষজ, বাঁশ কোড়ল, বুনো আলু ও অন্যান্য কন্দ, বুনো ফল, মাশরুম, পোকা, ছড়ার মাছ-কাঁকড়া-শামুক আর শিকারের মাংস। Alam ও Sarwar-এর 2024 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী জুমের বাইরে 50 থেকে 60টি বুনো উদ্ভিদ খাবার হিসেবে সংগ্রহ করা হয়, যার বেশির ভাগ রান্নার ভেষজ।
উৎসভেদে সংখ্যা আলাদা। Alam ও Sarwar-এর পর্যালোচনা বলছে প্রায় 70 প্রজাতির ফল খাওয়া যায়; Paul ও সহলেখকেরা (2020) পার্বত্য চট্টগ্রামে 25 গোত্রের 49 প্রজাতি নথিভুক্ত করেছেন; বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে 2019-2021 সালের গবেষণায় 23 গোত্রের 35টি বুনো ফল পাওয়া গেছে; আর খাগড়াছড়িতে একটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভ 100 প্রজাতির কথা বলেছে।
গ্রীষ্মে। রোয়াংছড়ির 35টি বুনো ফলের মধ্যে 19টি পাওয়া যায় এপ্রিল থেকে জুনে, 9টি জুলাই-আগস্টে, মাত্র 4টি নভেম্বর থেকে মার্চে, আর 3টি সারা বছর। গবেষকেরা (Alam ও সহলেখক, 2024) লিখেছেন, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় মানুষ যথেষ্ট ফল খান, কিন্তু অন্য মৌসুমে স্থানীয় ফলের তীব্র অভাব থাকে।
প্রধান উৎস মুলি বাঁশ (Melocanna baccifera), পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বিস্তৃত বাঁশ। PROSEA-র বাঁশ-সংকলন অনুযায়ী বাংলাদেশে মে থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষায় কোড়ল ওঠে, তখনই তোলা হয়, আর কেটে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণও করা হয়। বর্ষাকালে এটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার।
Dev ও সহলেখকদের 2020 সালের জরিপ অনুযায়ী চাকমা (32 প্রজাতি), ম্রো (29), ত্রিপুরা (26), মারমা (22) ও তঞ্চঙ্গ্যারা (21) পোকা খায়; সমতলের গারোরা খায় 14 প্রজাতি। সবচেয়ে প্রিয় মাঠের ঝিঁঝিঁপোকা, ঘাসফড়িং আর বড় জলজ ছারপোকা। ছোট জনগোষ্ঠীগুলোকে জরিপে রাখা যায়নি, তাই তাদের তথ্য নেই।
মাঠের ঝিঁঝিঁপোকা (Brachytrupes sp.), যা 84 শতাংশ উত্তরদাতা খান; তারপর ঘাসফড়িং (Oxya sp., 83 শতাংশ) আর বড় জলজ ছারপোকা (Lethocerus indicus, 79 শতাংশ)। বান্দরবানে মারমা নারীরা ঝিঁঝিঁপোকা ও জলজ ছারপোকা হাটে বিক্রি করেন, আর 72 শতাংশ মারমা উত্তরদাতা এগুলো বাজার থেকে কেনেন। পোকা ভেজে বা পুড়িয়ে খাওয়া হয়।
বুনো আলু মানে প্রধানত Dioscorea গণের কন্দ। খাগড়াছড়ির চাকমাদের তালিকায় (Taher ও সহলেখক, 2025) আছে Shora-alu (Dioscorea belophylla) ও Ban-alu (Dioscorea bulbifera), যাদের সেদ্ধ কন্দ তরকারিতে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের খাদ্য উপাদান তালিকা অনুযায়ী 100 গ্রাম বন আলুতে 97 কিলোক্যালরি, 1.5 গ্রাম আমিষ ও 4.1 গ্রাম আঁশ থাকে।
শক্তিতে প্রায় সমান: বাংলাদেশের খাদ্য উপাদান তালিকায় (2013) প্রতি 100 গ্রাম কাঁচা বন আলুতে 97 আর সাদা মিষ্টি আলুতে 98 কিলোক্যালরি। বন আলুতে আমিষ (1.5 বনাম 0.6 গ্রাম) ও আঁশ (4.1 বনাম 3.0 গ্রাম) বেশি, কিন্তু ভিটামিন সি (12.8 বনাম 20.3 মিলিগ্রাম), ক্যালসিয়াম ও লোহা কম। তাই এটি পেট ভরায়, একা পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে না।
প্রকাশিত উৎসগুলো একমত নয়। Khatun ও সহলেখকেরা (2013) চাকমা ও মারমা নাম Sabarang দিয়েছেন Ajuga macrosperma-কে; বাংলাদেশের খাদ্য উপাদান তালিকা একে Bugleweed লিখেছে; Taher ও সহলেখকেরা (2025) লিখেছেন Ocimum americanum var. pilosum; আর পুলক খীসা জুমজার্নালের আর্কাইভে একে Lemon Basil বলেছেন। চারটি উত্তর মেলানো যায়নি।
Jashimuddin ও Inoue-র 2012 সালের প্রবন্ধে (Saha, 2010-এর বরাতে) চাকমা নাম Jar, মারমা নাম Bam বা Thoikhuong, ত্রিপুরা নাম Kalittra, তঞ্চঙ্গ্যা নাম Reserve, ম্রো নাম Kua Bam, খুমি নাম Jhumio Pui। এই বনে জুম করা হয় না; এখান থেকে জ্বালানি, ভেষজ, মূল, বাঁশ কোড়ল ও বুনো ফল আসে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন বন 700 থেকে 800টি হতে পারে।
খাগড়াছড়ির 2025 সালের এক গবেষণায় (Labanya Tripura ও সহলেখক) ত্রিপুরা নারীরা বুনো আলু, শিকারের মাংস ও Ghut Ghutte নামের বুনো টক ফল এড়ান; মারমারা কাঁকড়া, শামুক ও ঝিঁঝিঁপোকা; চাকমারা সাপ ও ব্যাঙের মাংস; আর ত্রিপুরা ও মারমা দুই জনগোষ্ঠীই ঢেঁকিশাক, বুকের দুধ কমার বিশ্বাসে। গবেষণায় মোট 64টি নিষিদ্ধ খাবার পাওয়া গেছে।
গবেষণাগুলো কয়েকটি কারণ দেখিয়েছে: রোয়াংছড়িতে মানুষ ও গবাদিপশুর চাপ, অতিরিক্ত আহরণ, বন-অবক্ষয় ও কৃষিজমির বিস্তার (Alam ও সহলেখক, 2024); পোকার বেলায় ক্ষেতে কীটনাশক ও সার, যেখানে 79 শতাংশ উত্তরদাতা খাওয়া কমার কথা বলেছেন (Dev ও সহলেখক, 2020); আর গ্রামের বনের বেলায় জমির মালিকানার অনিশ্চয়তা ও বাজারের চাপ (Jashimuddin ও Inoue, 2012)।
Miah ও সহলেখকদের 2012 সালের গবেষণায় তিনটি চাকমা গ্রামের 60টি পরিবারের হিসাবে বনজ পণ্য বিক্রি থেকে পরিবারপ্রতি বছরে গড়ে 11,256 টাকা আসে, যা মোট আয়ের 11 শতাংশ; আর পরিবার নিজে যে বনজ পণ্য ভোগ করে, তার মূল্য 18,951 টাকা বা 21 শতাংশ। জুমের পরেই বন সেখানে আয়ের দ্বিতীয় বড় উৎস।
জুমজার্নাল আর্কাইভ
গবেষণা প্রবন্ধ ও তথ্যভান্ডার
সংবাদ ও প্রতিবেদন
সর্বশেষ হালনাগাদ: 2 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:চাকমা, জুম, ত্রিপুরা, মারমা, ম্রো
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।