Last updated Oct 19th, 2026
0

বোমাং রাজাদের তালিকা বোমাং রাজপরিবারের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ অনুযায়ী 17 জনের: 1614 সালে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা হওয়া মং চ প্যাই থেকে 2013 সালের 24 এপ্রিল অভিষিক্ত উ চ প্রু পর্যন্ত। প্রথম পাঁচজন ছিলেন আরাকান রাজার অধীনে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা, পরের বারোজন ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের বোমাং চিফ। তবে সতেরোটি সারির অন্তত দশটিতে নাম বা সাল নিয়ে দুটি উৎস আলাদা কথা বলে।
2013 সালের 24 এপ্রিল বান্দরবানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ একটি তরবারি তুলে দেন উ চ প্রুর হাতে। ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি লেখা অনুযায়ী, তার আগে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তরবারিটি কমিশনারের হাতে দেওয়া হয়েছিল। এই হাতবদলের সঙ্গে একটি গণনাও বদলায়: উ চ প্রু হলেন “সপ্তদশ” বোমাং রাজা। কিন্তু এই সতেরো সংখ্যাটি কোন তালিকা থেকে আসে, আর সেই তালিকার প্রতিটি নাম অন্য উৎসে কী বানানে, কোন সালে লেখা — সেটাই এই লেখার বিষয়।
এখানে রাজাদের জীবনী নেই, রাজপুণ্যাহের বিবরণ নেই, সার্কেল চিফের আইনি ক্ষমতার ব্যাখ্যাও নেই — সেগুলো আমাদের অন্য লেখায় আছে, যথাস্থানে লিংক দেওয়া হলো। এখানে আছে একটি তালিকা, প্রতিটি সারির উৎস, আর যেখানে উৎসগুলো মেলে না সেখানে দুই পক্ষের কথা পাশাপাশি।
সূচিপত্র
নিচের ছকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কলাম হুবহু নেওয়া হয়েছে ষোড়শ বোমাং রাজা ক্য সাইন প্রু চৌধুরীর শেষকৃত্য উপলক্ষে ফেব্রুয়ারি 2013-এ প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের তালিকা থেকে, যেটি ইনকিলাব 2024 সালে ছেপেছে। চতুর্থ কলামে অন্য উৎস কী বলে, আর শেষ কলামে সেই উৎসগুলোর নাম।
| ক্রম | নাম (স্মারকগ্রন্থের বানান) | রাজত্বকাল (স্মারকগ্রন্থ) | অন্য উৎস যা বলে | উৎস |
|---|---|---|---|---|
| 1 | মং চ প্যাই বোমাং | 1614–1630 | নাম ‘মং শোয়ে প্রু’, মতান্তরে ‘সান বাইউ’; 1630 পর্যন্ত শাসনকর্তা। আরেক লেখায় ‘বোমাঙ’ উপাধি 1620 সালে | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা; মংসিংঞা মারমা |
| 2 | মং গ্রই বোমাং | 1630–1665 | নাম ‘মংরাই প্রু’, মং শোয়ে প্রুর পুত্র; একই সাল | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা |
| 3 | হেরী প্রু বোমাং | 1665–1687 | নাম ‘হারিও প্রু’; একই সাল। 1666 থেকে কেবল শঙ্খের দক্ষিণাংশের শাসনকর্তা | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু; মংসিংঞা মারমা |
| 4 | হেরী ঞো বোমাংগ্রী | 1687–1727 | ‘বোমাংগ্রী’ উপাধি 1710 সালে (হাচিনসন, জ্ঞানেন্দু); 1719-এর পর (মংসিংঞা মারমা)। একই লেখায় বন্ধনীতে 1687–1717 | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন 1906, 1909; জ্ঞানেন্দু; মংসিংঞা মারমা |
| 5 | কং হ্লা প্রু বোমাংগ্রী | 1727–1811 | মৃত্যু 1819 | স্মারকগ্রন্থ; গেজেটিয়ার 1909; জ্ঞানেন্দু |
| 6 | সাক থাই প্রু বোমাংগ্রী | 1811–1840 | উত্তরাধিকার 1819 (হাচিনসন, জ্ঞানেন্দু); রাজা হন 1822 (মংসিংঞা মারমা) | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন 1906, 1909; জ্ঞানেন্দু; মংসিংঞা মারমা |
| 7 | কং হ্লা ঞো বোমাংগ্রী | 1840–1866 | অক্টোবর 1840-এ বোমাং, পরে পদত্যাগ (হাচিনসন 1906); 1847 সালে কমিশনার রিকেটস নিয়োগ দেন (গেজেটিয়ার 1909, জ্ঞানেন্দু); তাঁর আমলে 1873 সালে বোমাং সার্কেল ঘোষণা (মংসিংঞা মারমা) | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন; জ্ঞানেন্দু; মংসিংঞা মারমা |
| 8 | মং প্রু বোমাংগ্রী | 1866–1875 | শুরুর সাল কোনো উৎসে আলাদা করে নেই; নভেম্বর 1875-এ ছোট ভাই উত্তরাধিকারী | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন 1906 |
| 9 | সাক হ্ন ঞো বোমাংগ্রী | 1875–1901 | মৃত্যু 3 মার্চ 1902 (হাচিনসন 1906); 1902 (গেজেটিয়ার 1909, জ্ঞানেন্দু); জন্ম 1821 (গোল্ডেন বুক) | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন; গোল্ডেন বুক 1900 |
| 10 | চ হ্লা প্রু বোমাংগ্রী | 1901–1916 | শুরু 1902; নবম রাজার ভ্রাতুষ্পুত্র | স্মারকগ্রন্থ; হাচিনসন; জ্ঞানেন্দু |
| 11 | মং সা ঞো বোমাংগ্রী | 1916–1923 | জুন 1916-এ ভারপ্রাপ্ত, ডিসেম্বর 1916-এ নিয়োগ | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু |
| 12 | ক্য জাই প্রু বোমাংগ্রী | 1923–1933 | নাম ‘ক্য জান প্রু চৌধুরী’; সাল দেওয়া নেই | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু |
| 13 | ক্য জ সাইন বোমাংগ্রী | 1933–1959 | মৃত্যু মার্চ 1959 | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু |
| 14 | মং শোয়ে প্রু বোমাংগ্রী | 1959–1996 | সরকারি অনুমোদন 27 আগস্ট 1959; মৃত্যু 16 জুন 1996 | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু; বাংলা উইকিপিডিয়া |
| — | 1996–1998: ক্য সাইন প্রু চৌধুরীকে সরকার 15তম রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, আপিল বিভাগ তা বাতিল করে। তালিকায় এই সময়ের কোনো সারি নেই। | প্রজ্ঞাপন 4 নভেম্বর 1996; হাইকোর্টের রায় 12 জানুয়ারি 1997 | জ্ঞানেন্দু; বাংলা উইকিপিডিয়া | |
| 15 | অংশৈ প্রু চৌধুরী বোমাংগ্রী | 1998 – 8 আগস্ট 2012 | শপথ 19 নভেম্বর 1998, মৃত্যু 8 আগস্ট 2012 (ডেইলি স্টার); একই উইকিপিডিয়া পাতার তথ্যছকে মেয়াদ শেষ 1 আগস্ট 2012 | স্মারকগ্রন্থ; দ্য ডেইলি স্টার 2012; বাংলা উইকিপিডিয়া |
| 16 | ক্যসাইন প্রু চৌধুরী বোমাংগ্রী | 18 সেপ্টেম্বর 2012 – 6 ফেব্রুয়ারি 2013 | রাজপদ লাভের দুই মাস ষোলো দিনের মাথায় মৃত্যু, 80 বছর বয়সে | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু |
| 17 | উ চ প্রু বোমাংগ্রী | 24 এপ্রিল 2013 থেকে | রাষ্ট্রপতির নিয়োগ 10 এপ্রিল 2013; ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদনেও বোমাং রাজা | স্মারকগ্রন্থ; বাংলা উইকিপিডিয়া; পাহাড়বার্তা 2024 |
বাংলা উইকিপিডিয়ার “বোমাং রাজা” নিবন্ধের তালিকা এই স্মারকগ্রন্থের তালিকার সঙ্গে প্রায় হুবহু মেলে; পার্থক্য দুটি সারিতে। চতুর্দশ রাজার নাম সেখানে ‘মং শৈ প্রু চৌধুরী’, আর পঞ্চদশ রাজার শুরুর তারিখ পুরোটা — ‘১৯ নভেম্বর ১৯৯৮’। দুটি তালিকার উৎস সম্ভবত এক, তাই এদের মিলকে দুটি স্বাধীন সাক্ষ্য ধরা যায় না।
বোমাং রাজাদের নাম ও সাল তিন ধরনের উৎসে পাওয়া যায়: রাজপরিবারের নিজের প্রকাশনা (2013 সালের স্মারকগ্রন্থ), মারমা ও পাহাড়ি লেখকদের গবেষণা (জুমজার্নালের আর্কাইভে দুটি), আর ব্রিটিশ আমলের সরকারি বিবরণ, যার একটি নিজেই বলে যে সেটি বোমাংয়ের কাছে রাখা নথি থেকে সংকলিত।
ইনকিলাবে 4 জুন 2024 প্রকাশিত সৈয়দ ইবনে রহমতের লেখা “বোমাং রাজাদের ইতিহাস” পুরো তালিকাটি দিয়ে নিচে সূত্র লিখেছে: “১৬তম বোমাংগ্রী উ ক্যসাইন প্রু চৌধুরীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ”। লেখার তথ্যসূত্র-তালিকায় বইটির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি 2013। স্মারকগ্রন্থটির মূল কপি অনলাইনে পাওয়া যায়নি; তালিকাটি তাই দ্বিতীয় হাতে পড়া।
প্রথমটি জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার বোমাং রাজপদের উত্তরাধিকার প্রথা: একটি সমীক্ষা। লেখাটি ক্য সাইন প্রু চৌধুরীর মৃত্যুর পরপর লেখা, আর এর ভিত্তি হাচিনসনের গেজেটিয়ার, আবদুল হক চৌধুরীর বই, ফ্রান্সিস বুকাননের 1798 সালের দিনলিপি, 1862–1927 সালের রাজস্ব-পত্রাবলি, আর 1996–1998-এর মামলার রায়। দ্বিতীয়টি মংসিংঞা মারমার মারমা জাতির আদ্যোপান্ত, যার বোমাং-অংশের সূত্র আবদুল হক চৌধুরী (1989, 1994), সেলিনা আহসান (1993), ক্যশৈ প্রু (2003) আর রাজপরিবারের সংরক্ষিত তথ্য (U Than Prue 1994)।
আর. এইচ. স্নেইড হাচিনসনের An Account of the Chittagong Hill Tracts (1906) বোমাংদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দিয়ে লিখেছে, এটি “compiled from certain records in the possession of the present Bohmong” — অর্থাৎ তখনকার বোমাংয়ের কাছে রাখা নথি থেকে সংকলিত। তিন বছর পর একই লেখকের Eastern Bengal and Assam District Gazetteers: Chittagong Hill Tracts (1909) একই ইতিহাস আবার ছাপে, কিন্তু কয়েকটি সাল বদলে। এর আগে রোপার লেথব্রিজের The Golden Book of India (1900) নবম বোমাংয়ের নামে একটি ভুক্তি রেখেছে, যার বংশকথা একেবারে অন্যরকম।
এই তিন স্তর পাশাপাশি রাখলে একটা ধরন দেখা যায়: 1840-এর আগের সাল নিয়েই বিরোধ বেশি, আর 1875-এর পরের নাম ও সাল মোটামুটি স্থির। ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জট — সেটা নিচে আলাদা অংশে।
উৎসগুলো ‘বোমাং’ শব্দের অন্তত চারটি ব্যাখ্যা দেয়, যার সবগুলোই নেতৃত্ব বা সেনাপতিত্ব বোঝায়: আরাকানি “boh” (প্রধান) আর “mong” (নেতা), “প্রধান সেনাপতি”, “সেনাপতি বা সেনানায়ক”, আর “ক্যাপ্টেন”। ‘বোমাংগ্রী’ মানে “বোমাংদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ” — এ ব্যাপারে মারমা ও অন্যান্য লেখকেরা একমত।
‘পো-মাং’ রূপটি ঔপনিবেশিক নথিতেও আছে। ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টারের A Statistical Account of Bengal, খণ্ড 6 (1876) জনশুমারির ছকে তাঁর এলাকাকে লেখে “Poang Rájá’s Territory”, পাশে বন্ধনীতে “the Bohmong”। মংসিংঞা মারমা ম্যাকেঞ্জির বই থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে কর্ণফুলীর দক্ষিণের পুরো এলাকা নামে “Phru family”-র প্রধানের অধীন, যাঁকে কখনো “Poang”, কখনো “Bohmong Rajah” বলা হতো।
প্রথম আলোর 2024 সালের প্রতিবেদন বুকাননের দিনলিপি থেকে লেখে, 1798 সালে বুকানন “জুমিয়াপ্রধান পো-মাঙ কং হ্লা প্রু”-র সঙ্গে দেখা করেন, আর “পো-মাঙ বা বোমাং উপাধিধারীরাই বান্দরবানের বোমাং রাজা”।
রাজপরিবারের স্মারকগ্রন্থ ও বাংলা উইকিপিডিয়া প্রথম বোমাং হিসেবে লেখে মং চ প্যাইয়ের নাম — পেগুর পরাজিত রাজার পুত্র, যাঁকে আরাকানের রাজা মিনখা মৌং 1614 সালে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা করে পাঠান। মংসিংঞা মারমা নামটি লেখেন ‘মংচপ্যাইং’, আর আবদুল হক চৌধুরীর সূত্রে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লেখেন ‘মং শোয়ে প্রু (মতান্তরে সান বাইউ)’।
ঘটনার মূল কাঠামোয় মারমা ও বাংলা উৎসগুলো একমত। 1599 সালে আরাকানের রাজা পেগু আক্রমণ করেন; পেগুর রাজা নিহত বা পরাজিত হন; আরাকানি বাহিনী শ্বেতহস্তী, রাজকন্যা ও রাজপুত্রকে বন্দী করে আরাকানের রাজধানী ম্রোহংয়ে নিয়ে যায়। আরাকানের রাজা রাজকন্যাকে বিয়ে করেন; পরে তাঁর ছেলে, নতুন রাজা, সৎমামা অর্থাৎ পেগুর সেই রাজপুত্রকে 1614 সালে চট্টগ্রামে পাঠান পর্তুগিজ দৌরাত্ম্য দমন করতে। জুমজার্নালের মায়ানমারে চম্পকনগরের পথে ভ্রমণলেখাও বান্দরবানের বোমাং রাজাদের পেগুর হংসবতী রাজবংশের রাজা Nadabareng (1581–99)-এর উত্তরসূরি বলে লিখেছে।
খুঁটিনাটিতে পার্থক্য অনেক:
দ্য গোল্ডেন বুক অব ইন্ডিয়া (1900) এক ভিন্ন কাহিনি দেয়। নবম বোমাংয়ের ভুক্তিতে লেখা: 1774 সালের কিছু আগে বার্মার রাজা “Pakhong”-এর পুত্র “Tong Bohmong” নামের এক বর্মি রাজপুত্র বোনসহ আরাকানে আসেন; বোনের বিয়ে হয় আরাকানের শাসক “Kha Mong”-এর সঙ্গে; পরে 1774 সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি গড়েন এবং দক্ষিণাংশের প্রধান নির্বাচিত হন; আর তৎকালীন বোমাং “seventh in descent from Tong Bohmong”। এই হিসাবে বংশের সূচনা 1614 নয়, 1774-এর আশপাশে, আর নবম বোমাং প্রতিষ্ঠাতা থেকে সপ্তম পুরুষ। 1774 সালটি অন্য উৎসে পঞ্চম বোমাং কং হ্লা প্রুর আরাকান থেকে ফেরার বছর (হাচিনসন, মংসিংঞা মারমা)।
স্মারকগ্রন্থ অনুযায়ী দ্বিতীয় বোমাং মং গ্রই (1630–1665), তৃতীয় হেরী প্রু (1665–1687), চতুর্থ হেরী ঞো (1687–1727)। আবদুল হক চৌধুরীর সূত্রে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা তিনজনের সাল একই দেন, নাম লেখেন মংরাই প্রু, হারিও প্রু ও হারিও। প্রথম তিনজন আরাকানি চট্টগ্রামের শাসনকর্তা; চতুর্থজন প্রথম ‘বোমাংগ্রী’ উপাধি পান।
জ্ঞানেন্দুর বিবরণে ধারাটি পিতা থেকে পুত্রে: মং শোয়ে প্রুর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মংরাই প্রু 1630 সালে শাসনকর্তা হন, তাঁর পুত্র হারিও প্রু 1665 সালে। 1666 সালের 27 জানুয়ারি মোগল সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ খাঁ আরাকানি বাহিনীকে হারিয়ে চট্টগ্রামের বড় অংশ দখল করেন। মংসিংঞা মারমা লেখেন, এরপর শঙ্খ নদ হয় মোগল চট্টগ্রামের দক্ষিণ সীমা, আর “তৃতীয়তম বোমাঙ হেরীপ্রু” 1687 পর্যন্ত শঙ্খের দক্ষিণের আরাকানি অংশের শাসনকর্তা থাকেন। তাঁর মৃত্যুর পর ভ্রাতুষ্পুত্র হেরীঞো (জ্ঞানেন্দুর বানানে হারিও) 1687 সালে দায়িত্ব পান।
চতুর্থ বোমাংয়ের উপাধি নিয়ে দুই রকম কাহিনি:
হাচিনসনের “After three successions Hario … became Governor” বাক্যটিও লক্ষ করার মতো: তিন উত্তরাধিকারের পর হারিও — অর্থাৎ তিনি চতুর্থ, স্মারকগ্রন্থের গণনার সঙ্গে মেলে। তবে হাচিনসন তাঁকে “Angunya”-র পুত্র বলেন; অন্য কোনো উৎসে Angunya নামটি নেই।
হেরী ঞোর মৃত্যুর সাল স্মারকগ্রন্থ ও জ্ঞানেন্দু দুজনেই দেন 1727। মংসিংঞা মারমার লেখায় একই অনুচ্ছেদে দুটি সংখ্যা আছে: নামের পাশে বন্ধনীতে “১৬৮৭-১৭১৭”, আর পরের অনুচ্ছেদে “১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে হেরীঞোর মৃত্যু ঘটে”।
স্মারকগ্রন্থ ও মংসিংঞা মারমা পঞ্চম বোমাং কং হ্লা প্রুর রাজত্বকাল দেন 1727–1811। কিন্তু 1909 সালের গেজেটিয়ার লেখে “Bohmong Konglafru died in 1819”, আর জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমাও লেখেন 1819 সালে তাঁর মৃত্যু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র উত্তরাধিকারী হন। তিনি চতুর্থ বোমাংয়ের পৌত্র — পুত্র ছদাপ্রু (হাচিনসনে Sadafru) আগেই মারা গিয়েছিলেন।
এই সতেরো জনের মধ্যে কং হ্লা প্রুর জীবনই সবচেয়ে বেশি উৎসে ধরা আছে, কারণ তাঁর সময়েই বোমাং পরিবার আরাকানি শাসনকর্তা থেকে ব্রিটিশ কোম্পানির রাজস্ব-সংগ্রাহক হয়। ঘটনাগুলো, প্রতিটির সঙ্গে উৎস:
1798 সালে বুকাননের সাক্ষাতের তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্মারকগ্রন্থের রাজত্বকাল (1727–1811) ও 1819 সালের মৃত্যু — দুটির সঙ্গেই মেলে; মানে 1798 তারিখ দিয়ে বিরোধটির মীমাংসা হয় না। স্মারকগ্রন্থের তালিকা মানলে কং হ্লা প্রু 84 বছর রাজত্ব করেছেন।
আরেকটি বিষয়: আবদুল হক চৌধুরী তাঁর নাম লিখেছেন ‘মং হ্রা প্রু’, জ্ঞানেন্দুর লেখায় এক জায়গায় ‘কং স্লা প্রু’, আরেক জায়গায় ‘কংলা প্রু’।
ষষ্ঠ বোমাং সাক থাই প্রু — হাচিনসনের বানানে Sathanfru, জ্ঞানেন্দুর বানানে সাথানপ্রু — কং হ্লা প্রুর জ্যেষ্ঠ পুত্র। স্মারকগ্রন্থে তাঁর রাজত্ব 1811–1840; হাচিনসন ও জ্ঞানেন্দু লেখেন তিনি 1819 সালে বোমাং হন; মংসিংঞা মারমা লেখেন তিনি “সম্ভবত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে” রাজা হন “কিছুটা দেরিতে ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে”। তিনি 1840 সালে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।
বান্দরবান শহরটি তাঁর সময়ের। হাচিনসন (1906) লেখেন, 1822 সালে সাথানফ্রু তাঁর বাসস্থান Maxikhal থেকে সাঙ্গুর একটু উজানে বান্দরবানে সরিয়ে নেন। মংসিংঞা মারমা লেখেন, “বোমাঙগ্রী সাকথাইপ্রু বান্দরবান শহরে তার রাজধানী গড়ে তোলেন”। প্রথম আলোর 2024 সালের প্রতিবেদন রাজপরিবারে সংরক্ষিত তথ্যের বরাতে লেখে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি 1822 সালে বোমাং রাজপরিবারের প্রধানকে চিফ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই প্রতিবেদনে বান্দরবান নামের উৎস: বসতির দক্ষিণের খাল দিয়ে বানরের দল পার হতো, মারমারা এর নাম দেন ‘ম্যয়ক সে’, মানে বানরের বাঁধ, যা পরে বাংলাভাষীদের মুখে বান্দরবান আর খালটি ‘ম্যাক্সি খাল’।
রাজস্বের হিসাবও তাঁর সময় থেকে পাওয়া যায়। 1909 সালের গেজেটিয়ার ও জ্ঞানেন্দু লেখেন, সাথানপ্রুর সঙ্গে বন্দোবস্ত হয় যে তিনি কার্পাস মহালের জন্য বছরে 4,600 টাকা দেবেন। হাচিনসনের 1906 সালের বই আরও দুটি ঘটনা দেয়: আগস্ট 1813-এ আরাকানের এক লুটেরা দলকে সাথানফ্রু 400 জন লোক নিয়ে তাড়ান, আর 1823 সালে “Bunjogi Chief Rang Chooloom”-কে হারান।
স্মারকগ্রন্থ সপ্তম বোমাং কং হ্লা ঞোর রাজত্ব দেয় 1840–1866, অষ্টম মং প্রুর 1866–1875। কিন্তু ব্রিটিশ উৎস ও জ্ঞানেন্দুর গবেষণা বলে, 1840 থেকে 1847 পর্যন্ত পদটি নিয়ে বিরোধ ছিল, 1847 সালে কমিশনার হেনরি রিকেটস কং হ্লা ঞোকে নিয়োগ দেন, আর তিনি অল্পদিনেই মং প্রুকে পদ ছেড়ে দেন। 1866 সালটি অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
উৎসগুলোর বয়ান আলাদা করে:
অষ্টম বোমাং মং প্রু (হাচিনসনে Momfru, জ্ঞানেন্দুতে মমপ্রু, মতান্তরে মং প্র) সম্পর্কে একটি ঘটনায় তিন উৎস একমত: 1871 সালের লুসাই অভিযানে তিনি ব্রিটিশদের কুলি সরবরাহ করেন, আর এর স্বীকৃতিতে তাঁর খাজনা কমানো হয় (হাচিনসন 1906, গেজেটিয়ার 1909, জ্ঞানেন্দু)। নভেম্বর 1875-এ তাঁর ছোট ভাই উত্তরাধিকারী হন (হাচিনসন 1906)।
রাজস্বের অঙ্কেও ছোট অমিল আছে: জ্ঞানেন্দুর লেখায় এক জায়গায় পূর্বের খাজনা 4,600 টাকা, আরেক জায়গায় পরোয়ানার উদ্ধৃতিতে “পূর্বের ৪৫৬৪ টাকার স্থলে”; দুই জায়গাতেই নতুন অঙ্ক 2,918 টাকা।
নবম বোমাং সাক হ্ন ঞো (1875–1901), দশম চ হ্লা প্রু (1901–1916), একাদশ মং সা ঞো (1916–1923), দ্বাদশ ক্য জাই প্রু (1923–1933), ত্রয়োদশ ক্য জ সাইন (1933–1959) — স্মারকগ্রন্থের এই অংশ অন্য উৎসের সঙ্গে প্রায় মেলে। অমিল শুধু নবম রাজার মৃত্যুর বছরে (1901 না 1902) আর দ্বাদশ রাজার নামের বানানে।
হাচিনসন তাঁকে লেখেন Sanaio, অষ্টম বোমাংয়ের “youngest brother”; গোল্ডেন বুক লেখে “Tsaneyo Chaudhri”, জন্ম 1821, বোমাং হন 1875 সালে। প্রথম আলো লেখে ‘সাক হ্না ঞো চৌধুরী’, জ্ঞানেন্দু ‘সানাঞো’ (মতান্তরে থানেহ)। 1889–90-এর লুসাই অভিযানে কুলি সরবরাহের জন্য তিনি বর্মি উপাধি পান — হাচিনসনের বানানে “Kyettbey zangsheweya sal way yunin”, অর্থ “the King who wears the golden thread”, সঙ্গে একটি ভারী সোনার চেইন। গোল্ডেন বুক উপাধিটি দেয় “Kyet thaye zaung shwe Salwe ya Min”, প্রদানের তারিখ 1 জানুয়ারি 1891। প্রথম আলো লেখে তাঁর আমলে 1894 সালে বান্দরবানের রাজগুরু বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠা হয়। বোমাং সার্কেলের রাজপুণ্যাহ নিয়ে আমাদের লেখা দেখায়, ইনকিলাব রাজপুণ্যাহ শুরুর বছর 1875 সালকেও তাঁর নামে লেখে।
মৃত্যুর তারিখ হাচিনসনের 1906 সালের বইয়ে “3rd March 1902”, গেজেটিয়ার 1909 ও জ্ঞানেন্দুর লেখায় 1902; স্মারকগ্রন্থে রাজত্ব শেষ 1901।
হাচিনসন লেখেন নবম বোমাংয়ের মৃত্যুর পর “his nephew Cholafru” (1906 সালের বইয়ের এক জায়গায় Chalafru) বোমাং হন; জ্ঞানেন্দু লেখেন ‘চৌ হ্লা প্রু চৌধুরী’, ভ্রাতুষ্পুত্র। গোল্ডেন বুক 1900 সালে নবম বোমাংয়ের চার পুত্রের নাম দেয় — Maung Sanego, Kong La Phru, Tong La Phru, Keo Jo Phru। চার পুত্র থাকা সত্ত্বেও পদ গেল ভাইপোর কাছে। এটি হাচিনসনের লেখা নিয়মের সঙ্গে মেলে: বোমাং পদ যায় “next eldest male blood relative”-এর কাছে, “does not follow in the direct line”।
জ্ঞানেন্দু লেখেন, ডিসেম্বর 1916-এ পরবর্তী বোমাং হন মংচাঞো (মং চাইঙ্গ্যা)। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে 15 জুন 1916 তারিখে তিনি নিজের স্বীকৃতি চেয়ে কমিশনারকে চিঠি লেখেন; চিঠিতে তিনি 1847-এর আপোষনামাকে “বেআইনী এবং অর্থহীন” বলেন এবং নিজের চাচাতো ভাই ক্য হ্লা প্রুকে উত্তরসূরি মনোনীত করেন। বাংলার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য সচিব জে. এইচ. কার 22 ফেব্রুয়ারি 1917-এর চিঠিতে জবাব দেন: পার্বত্য চট্টগ্রামে চিফদের অভিষেক নিয়ন্ত্রণ করে বাংলা সরকার, তাই বর্তমান রাজার উত্তরসূরি মনোনয়ন সরকার মানতে বাধ্য নয়; আর উত্তরাধিকার চলে যোগ্যতা ও বয়সের মানদণ্ডে।
দ্বাদশ বোমাংয়ের নাম স্মারকগ্রন্থে ক্য জাই প্রু, জ্ঞানেন্দুর লেখায় ক্য জান প্রু চৌধুরী। জ্ঞানেন্দু লেখেন তিনি একাদশ রাজার “মনোনয়ন অনুযায়ী” রাজা হন; কিন্তু একাদশ রাজা যাঁকে মনোনীত করেছিলেন বলে একই লেখা জানায়, তাঁর নাম ক্য হ্লা প্রু। দুটি নাম একই ব্যক্তির কি না, লেখা থেকে স্পষ্ট নয়।
স্মারকগ্রন্থে রাজত্ব 1933–1959; জ্ঞানেন্দু লেখেন মার্চ 1959-এ ত্রয়োদশ রাজা “ক্যজ সান প্রু চৌধুরী” মারা যান। প্রথম আলো রাজগুরু বিহারের এক ভিক্ষুর বরাতে লেখে, “বোমাং রাজা ক্যজ সাইন চৌধুরী” 1938 সালে বিহারটি পুনর্নির্মাণ করেন। বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে সপ্তদশ রাজা উ চ প্রুর পিতামহ তিনিই, আর ষোড়শ রাজা ক্য সাইন প্রু তাঁর পুত্র; জ্ঞানেন্দুর লেখায় 1996-এর মামলায় সরকারপক্ষও ক্য সাইন প্রুকে ত্রয়োদশ রাজার পুত্র বলে।
চতুর্দশ বোমাং মং শোয়ে প্রু (বাংলা উইকিপিডিয়ায় মং শৈ প্রু চৌধুরী) 1959 থেকে 16 জুন 1996 পর্যন্ত রাজা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সরকার ক্য সাইন প্রু চৌধুরীকে 15তম রাজা স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু অং শৈ প্রু চৌধুরীর আপিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই স্বীকৃতি বাতিল করে। তাই তালিকায় 1996 থেকে 1998 পর্যন্ত কোনো রাজা নেই।
জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার লেখায় 1959-এর নিয়োগের ধাপগুলো তারিখসহ আছে: মার্চ 1959-এ ত্রয়োদশ রাজার মৃত্যু; 18 জুলাই 1959 কমিশনারের সুপারিশ; 15 আগস্ট 1959 প্রয়াত রাজার ইচ্ছা অনুযায়ী একটি সিদ্ধান্ত, যা পরে সংশোধিত হয়; আর 27 আগস্ট 1959 পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের অনুমোদন। তিনি লেখেন, মং শোয়ে প্রু তখন চাকরিরত, বয়স আনুমানিক 45। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অং শোয়ে প্রু চৌধুরী, সম্পর্কে মামা-ভাগনে; উচ্চ আদালতে মামলা হয় এবং সরকারের অনুমোদন বৈধ থাকে।
দুজনের বয়সের পার্থক্য নিয়ে উৎসে অমিল আছে। বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে মং শৈ প্রু অং শৈ প্রুর চেয়ে “বয়সে এক দিন কম” ছিলেন; জ্ঞানেন্দুর লেখায় 1996-এর মামলায় অং শোয়ে প্রু উল্টো দাবি করেন যে মং শোয়ে প্রুকে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবেই রাজা করা হয়েছিল। কালের কণ্ঠের 2017 সালের একটি প্রতিবেদন দ্বন্দ্বের শুরু বলে “১৯৬০ সাল থেকেই”।
চতুর্দশ রাজার সঙ্গে ‘মারমা’ নামের সরকারি স্বীকৃতির একটি যোগ আছে, যার সাল দুই লেখায় দুই রকম। মংসিংঞা মারমা লেখেন, 1961 সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার ‘মারমা’ অভিধা স্বীকার করে, তৎকালীন বোমাং রাজা মংশৈপ্রু চৌধুরীর দাবিতে। আর্কাইভের আরেক লেখা “রাখাইন বা মারমা জাতির সংক্ষিপ্ত ইতি কথা” লেখে, বোমাং রাজা মং শৈ প্রু 1951 সালের আদমশুমারির সময় এই আবেদন করেন। (‘মগ’, ‘মারমা’ ও ‘রাখাইন’ নামের পার্থক্য নিয়ে আমাদের লেখা: রাখাইন ও মারমা আলাদা জাতি — আর ‘মগ’ নামটি কোথা থেকে এল।)
জ্ঞানেন্দুর লেখা অনুযায়ী, 4 নভেম্বর 1996-এর প্রজ্ঞাপনে সরকার ক্য সাইন প্রু চৌধুরীকে 15তম বোমাং রাজা স্বীকৃতি দেয়, যা 21 নভেম্বর 1996-এর গেজেটে ছাপা হয়। অং শোয়ে প্রু চৌধুরী রিট মামলা (নং 5101/1996) করেন। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ও বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরীর বেঞ্চ 12 জানুয়ারি 1997 রিট খারিজ করে, বলে পদটি “একটি রাজনৈতিক পদ”। আপিল বিভাগ (সিভিল আপিল নং 8/1997) আপিল মঞ্জুর করে এবং বলে পদটি প্রথাগত, রাজনৈতিক নয়; সরকার “বাহ্যিক বিষয়াদি” বিবেচনা করেছে। জ্ঞানেন্দু রায়টির সূত্র দেন Dhaka Law Reports, Vol. L (1998); বাংলা উইকিপিডিয়া দেয় “[১৯৯৮] ৬ বি.এল.ডি (এ.ডি.) ১০৯”।
আপিল বেঞ্চের নেতৃত্ব নিয়েও দুই কথা: জ্ঞানেন্দু লেখেন প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের পূর্ণ বেঞ্চ, বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে 11 ডিসেম্বর 1997-এর শুনানিতে বেঞ্চ সভাপতি বিচারপতি মোস্তফা কামাল। মামলার যুক্তিতর্ক, দুই পক্ষের হলফনামা ও রায়ের দশটি পর্যবেক্ষণ জ্ঞানেন্দুর লেখায় বিস্তারিত আছে; এখানে পুনরাবৃত্তি নয়।
পঞ্চদশ বোমাং অং শৈ প্রু চৌধুরী 19 নভেম্বর 1998 শপথ নেন এবং 8 আগস্ট 2012 মারা যান। ষোড়শ রাজা ক্য সাইন প্রু চৌধুরী 6 ফেব্রুয়ারি 2013 মারা যান, রাজপদে ছিলেন কয়েক মাস। সপ্তদশ রাজা উ চ প্রু চৌধুরী 24 এপ্রিল 2013 অভিষিক্ত হন, এবং ডিসেম্বর 2024-এর সংবাদেও তিনি বোমাং রাজা।
দ্য ডেইলি স্টারের 24 আগস্ট 2012-এর প্রতিবেদন লেখে, জন্ম 1 আগস্ট 1915, 15তম বোমাং চিফ হিসেবে শপথ 19 নভেম্বর 1998, মৃত্যু 8 আগস্ট রাজবাড়িতে, 98 বছর বয়সে; তিনি 1970 ও 1979 সালে দুবার আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন। জ্ঞানেন্দু লেখেন তিনি রাজপদ পান 81 বছর বয়সে, আর মামলার সময় তিনি নবম রাজার প্রপৌত্র ও একাদশ রাজার ভাতিজা। বাংলা উইকিপিডিয়ার তালিকায় তাঁর মেয়াদ শেষ 8 আগস্ট 2012, কিন্তু একই সাইটে তাঁর নিজের পাতার তথ্যছকে 1 আগস্ট 2012।
1996-এর মামলায় সরকারপক্ষের হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য থাকার কথা তোলা হয়েছিল (জ্ঞানেন্দু)। আপিল বিভাগ শেষ পর্যন্ত তাঁর পক্ষে রায় দেয়।
স্মারকগ্রন্থ ও বাংলা উইকিপিডিয়া তাঁর রাজত্ব দেয় 18 সেপ্টেম্বর 2012 থেকে 6 ফেব্রুয়ারি 2013। জ্ঞানেন্দুর লেখার প্রথম বাক্যই তাঁর মৃত্যু নিয়ে: রাজপদ লাভের “২মাস ১৬ মাস দিনের মাথায়” (লেখার মুদ্রণ যেমন) এবং 80 বছর বয়সে মৃত্যু। 6 ফেব্রুয়ারি 2013 থেকে দুই মাস ষোলো দিন পেছালে নভেম্বর 2012-এর তৃতীয় সপ্তাহ দাঁড়ায় — 18 সেপ্টেম্বর নয়। দুই হিসাবের এই অমিলের ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
এই ক্য সাইন প্রুই 1996 সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনে 15তম রাজা হয়েছিলেন, যা আপিল বিভাগ বাতিল করে। ষোলো বছর পর তিনি ষোড়শ রাজা হন।
বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে, 10 এপ্রিল 2013 রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁকে রাজা নিয়োগ দেন, আর 24 এপ্রিল 2013 বান্দরবানে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ তাঁকে শপথ পড়িয়ে রাজ তরবারি তুলে দেন। ইনকিলাব একই দিন ও একই কমিশনারের নাম দেয়। ইনকিলাব আরও লেখে, তরবারিটি কমিশনারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন “ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য বোমাং রাজা চ হ্লা প্রু জিমি”।
উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তিনি পেশায় কৃষি প্রকৌশলী, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন; জন্মসাল সেখানে দুটি — “১৯৪৪ বা ১৯ নভেম্বর ১৯৪৭”। জুমজার্নালের আর্কাইভের ভ্রমণলেখা “মায়ানমারে চম্পকনগরের পথে” লেখে, “বর্তমান বোহমাং রাজা উ চ প্রু ১৭তম রাজা”। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ফেব্রুয়ারি 2022-এ তাঁকে লেখে “১৭তম রাজা বোমাং গ্রী উ চ প্রু”। আর পাহাড়বার্তার 23 ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদনে তাঁর সহকারীর বরাতে বলা হয়েছে, বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী সেবারও রাজপুণ্যাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পরের কোনো সংবাদে বোমাং পদে পরিবর্তনের খবর পাওয়া যায়নি।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার “Bohmong Circle” নিবন্ধ তাঁর নাম লেখে “U Chaw Prue Chowdhury”, আর একই নিবন্ধের দেহে “Chaw Prue”; তবে দেহের “Chaw Prue” লিংকটি ভুল করে অং শৈ প্রুর পাতায় নিয়ে যায়।
বোমাং পদ পিতা থেকে পুত্রে নয়, রাজপরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষের কাছে যায় — এ কথা হাচিনসন (1906, 1909), বাংলা উইকিপিডিয়া ও ইনকিলাব তিনটিই বলে। কিন্তু নিয়মটি কবে থেকে, আর বয়সের সঙ্গে যোগ্যতা কতটা গোনা হয়, তা নিয়ে উৎস ভিন্ন। চূড়ান্ত নিয়োগ দেয় সরকার।
তালিকার বয়সের হিসাব নিয়মটিকে চোখে দেখায়: পঞ্চদশ রাজা 81 বছর বয়সে, ষোড়শ রাজা 80 বছর বয়সে পদ পান (জ্ঞানেন্দু)। উত্তরাধিকারের মামলাগুলোর পুরো বিবরণ পড়তে পারেন জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার বোমাং উত্তরাধিকার-সমীক্ষায়। আর আজকের সার্কেল চিফ আইনে কী করতে পারেন, কী পারেন না — তা আছে সার্কেল চিফের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের লেখায়।
তুলনার জন্য দেখতে পারেন আর্কাইভের চাকমা রাজবংশের ইতিহাস ও চাকমা রাজাদের নামের তালিকা; চাকমা সার্কেলের উত্তরাধিকারের নিয়ম আলাদা, তাই দুই তালিকার গড়নও আলাদা।
মারমা নাম বাংলা ও ইংরেজি হরফে লিখতে গিয়ে একই রাজার তিন-চারটি বানান দাঁড়িয়েছে। নিচের ছকে প্রতিটি উৎসের বানান হুবহু; ঘর ফাঁকা মানে সেই উৎসে ওই রাজার নাম নেই। মারমা বর্ণমালায় কোনো রাজার নাম কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
| ক্রম | স্মারকগ্রন্থ (2013) | মংসিংঞা মারমা | জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা | হাচিনসন / ইংরেজি উৎস |
|---|---|---|---|---|
| 1 | মং চ প্যাই | মংচপ্যাইং | মং শোয়ে প্রু (মতান্তরে সান বাইউ) | নাম নেই (“brother-in-law”) |
| 2 | মং গ্রই | মংরাই প্রু | ||
| 3 | হেরী প্রু | হেরীপ্রু | হারিও প্রু | |
| 4 | হেরী ঞো | হেরীঞো | হারিও | Hario |
| 5 | কং হ্লা প্রু | কংহ্লাপ্রু | কং হ্লা প্রু, কং স্লা প্রু, কংলা প্রু; আবদুল হকের বানানে মং হ্রা প্রু | Konglafru; বুকাননের বিবরণ থেকে পো-মাঙ (প্রথম আলো), পোমাং (জ্ঞানেন্দু) |
| 6 | সাক থাই প্রু | সাকথাংপ্রু, সাকথাইপ্রু | সাথানপ্রু | Sathanfru |
| 7 | কং হ্লা ঞো | কংহ্লাঞো | কম হ্লাংগ্য, কমলাংগিও, কংহ্লাংগি (মতান্তরে কং হ্লা ঞো) | Konglanya (1906), Kamalaingya (1909) |
| 8 | মং প্রু | মমপ্রু (মতান্তরে মং প্র), মং প্রু চৌধুরী | Momfru | |
| 9 | সাক হ্ন ঞো | সানাঞো (মতান্তরে থানেহ) | Sanaio; গোল্ডেন বুকে Tsaneyo Chaudhri; প্রথম আলোয় সাক হ্না ঞো | |
| 10 | চ হ্লা প্রু | চৌ হ্লা প্রু | Cholafru, Chalafru Chowdhury | |
| 11 | মং সা ঞো | মংচাঞো, মং চাইঙ্গ্যা, মং চাইগ্যা, মং চাংগ্যা | Mong Cha Ngao (1916-এর চিঠি, জ্ঞানেন্দুর সূত্রতালিকায়) | |
| 12 | ক্য জাই প্রু | ক্য জান প্রু | ||
| 13 | ক্য জ সাইন | ক্যজ সান প্রু, ক্য জ সান প্রু | প্রথম আলোয় ক্যজ সাইন | |
| 14 | মং শোয়ে প্রু | মংশৈপ্রু | মং শোয়ে প্রু | Maung Shwe Prue (ইংরেজি উইকিপিডিয়া); বাংলা উইকিপিডিয়ায় মং শৈ প্রু |
| 15 | অংশৈ প্রু | অংশৈপ্রু | অং শোয়ে প্রু | Aungshoi Prue (ডেইলি স্টার); Aung Shwe Prue (ইংরেজি উইকিপিডিয়া) |
| 16 | ক্যসাইন প্রু | ক্য সাইন প্রু | বাংলা উইকিপিডিয়ায় কে এস প্রু; Kya Sain Prue | |
| 17 | উ চ প্রু | U Chaw Prue (ইংরেজি উইকিপিডিয়া); আর্কাইভে বোহমাং রাজা উ চ প্রু |
ছকে একটি ধরন চোখে পড়ে: ‘প্রু’ প্রায় সব নামে আছে। জ্ঞানেন্দু বুকাননের সূত্রে লেখেন, ‘প্রু’ মানে সাদা এবং সেটাই পরিবারের নাম; ম্যাকেঞ্জিও পরিবারটিকে বলেছেন “the Phru family” (মংসিংঞা মারমার উদ্ধৃতি)। হাচিনসন ‘প্রু’-কে লেখেন “fru” — Konglafru, Sathanfru, Momfru, Cholafru।
বোমাং পরিবারের আসন 1614 থেকে 1822 পর্যন্ত বারবার সরেছে: আরাকানি চট্টগ্রাম, তারপর শঙ্খের দক্ষিণ, তারপর রামু-ঈদগড়-লামা, 1756 সালে আরাকান, 1774 সালে ফেরা, 1804 সালে সাঙ্গু তীরে, আর 1822 সালে বান্দরবান। 1822 থেকে আজ পর্যন্ত রাজবাড়ি বান্দরবান শহরে।
| সময় | স্থান | কোন বোমাং | উৎস |
|---|---|---|---|
| 1599 থেকে | আরাকানের রাজধানী ম্রোহং (বন্দী হিসেবে) | প্রথম বোমাং | জ্ঞানেন্দু; মংসিংঞা মারমা |
| 1614–1666 | আরাকান-অধিকৃত চট্টগ্রাম | প্রথম থেকে তৃতীয় | স্মারকগ্রন্থ; জ্ঞানেন্দু |
| 1666–1756 | শঙ্খের দক্ষিণের চট্টগ্রাম; শেষে রামু, ঈদগড়, ইয়াংছা, মাতামুহুরী, লামা | তৃতীয় থেকে পঞ্চম | মংসিংঞা মারমা; জ্ঞানেন্দু |
| 1756 (বা 1766)–1774 | আরাকান | পঞ্চম | মংসিংঞা মারমা; হাচিনসন |
| 1774–1804 | রামু, ঈদগড়, চকরিয়া, মহেশখালী অঞ্চল, মাতামুহুরী, লামা | পঞ্চম | মংসিংঞা মারমা; হাচিনসন; বাংলা উইকিপিডিয়া |
| 1798 | সোয়ালক খালের পূর্ব পারে বাড়ি (বুকাননের সাক্ষাৎ) | পঞ্চম | জ্ঞানেন্দু; প্রথম আলো 2024 |
| 1804–1822 | সাঙ্গু তীরে Maxikhal; বা সাতকানিয়ার বাজালিয়ায় শঙ্খের চর | পঞ্চম ও ষষ্ঠ | হাচিনসন; মংসিংঞা মারমা |
| 1822 থেকে | বান্দরবান | ষষ্ঠ থেকে সপ্তদশ | হাচিনসন; মংসিংঞা মারমা; প্রথম আলো 2024 |
বাজালিয়ার বসতি নিয়ে বাংলা উইকিপিডিয়া একটি স্থানীয় নাম দেয়: এলাকাটি বান্দরবানের মারমাদের কাছে ‘ইংরা হংপ্রা’, অর্থাৎ “প্রাচীন বসতি এলাকা”। প্রথম আলো (2024) লেখে, বান্দরবানে আসার আগে রাজপরিবার বাজালিয়ার “বোমাং হাটে” থাকত, আর তারা নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু, লামা, চকরিয়া ও বাজালিয়া হয়ে বান্দরবানে আসে।
এই তালিকা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আমাদের মূল পাতার ইতিহাস ও প্রশাসন অংশের একটি খণ্ড।
বোমাং রাজপরিবারের 2013 সালের স্মারকগ্রন্থ অনুযায়ী 17 জন, প্রথম মং চ প্যাই (1614–1630) আর সপ্তদশ উ চ প্রু (2013 থেকে)। গোল্ডেন বুক অব ইন্ডিয়া (1900) অবশ্য বংশের সূচনা 1774-এর কাছাকাছি ধরে নবম বোমাংকে প্রতিষ্ঠাতার সপ্তম পুরুষ বলে। 1996–1998-এ সরকারস্বীকৃত একজন রাজাকে তালিকায় গোনা হয়নি, কারণ আপিল বিভাগ সেই স্বীকৃতি বাতিল করেছিল।
স্মারকগ্রন্থ ও বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী মং চ প্যাই — পেগুর পরাজিত রাজার পুত্র, যাঁকে আরাকানের রাজা 1614 সালে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা করেন। মংসিংঞা মারমা নামটি লেখেন ‘মংচপ্যাইং’, আর আবদুল হক চৌধুরীর সূত্রে জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লেখেন ‘মং শোয়ে প্রু (মতান্তরে সান বাইউ)’। হাচিনসন (1906) নাম দেননি, শুধু আরাকান রাজার “brother-in-law”।
উ চ প্রু চৌধুরী, সপ্তদশ বোমাং রাজা। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁকে 10 এপ্রিল 2013 নিয়োগ দেন, আর 24 এপ্রিল 2013 বান্দরবানে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ তাঁর হাতে রাজ তরবারি তুলে দেন। পাহাড়বার্তার 23 ডিসেম্বর 2024-এর প্রতিবেদনেও তিনি বোমাং রাজা।
লুইন (1869) লেখেন আরাকানি “boh” মানে প্রধান, “mong” মানে নেতা; গোল্ডেন বুক (1900) অর্থ দেয় “Head leader”। মংসিংঞা মারমার লেখায় ‘বোমাঙ’ মানে প্রধান সেনাপতি বা মহাসেনাপতি, বাংলা উইকিপিডিয়ায় সেনাপতি বা সেনানায়ক। ‘বোমাংগ্রী’ মানে বোমাংদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। বুকানন (1798) ও হান্টার (1876) রূপটি লেখেন ‘পো-মাঙ’ বা “Poang”।
পদ যায় রাজপরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ যোগ্য পুরুষের কাছে, পুত্রের কাছে নয় — হাচিনসন (1906) লেখেন “next eldest male blood relative”। বাংলার মুখ্য সচিব জে. এইচ. কার 22 ফেব্রুয়ারি 1917-এর চিঠিতে মানদণ্ড বলেন যোগ্যতা ও বয়স, আর নিয়োগের এখতিয়ার সরকারের। 1998 সালে আপিল বিভাগ এই নীতিকেই বহাল রাখে।
হাচিনসন (1906) লেখেন, ষষ্ঠ বোমাং সাথানফ্রু 1822 সালে বাসস্থান সাঙ্গুর তীরে Maxikhal থেকে বান্দরবানে সরিয়ে নেন। প্রথম আলো (2024) রাজপরিবারের তথ্যের বরাতে লেখে, কং হ্লা প্রুর আমলে 1804 সালে পরিবার ওই অঞ্চলে আসে, আর 1822 সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁদের প্রধানকে চিফ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
স্মারকগ্রন্থের তালিকা মানলে পঞ্চম বোমাং কং হ্লা প্রু, 1727 থেকে 1811 — 84 বছর। তবে 1909 সালের গেজেটিয়ার ও জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা তাঁর মৃত্যু 1819 সালে লেখেন, তাতে মেয়াদ আরও লম্বা হয়। তাঁর মধ্যে 1756 থেকে 1774 পর্যন্ত তিনি ছিলেন আরাকানে।
ষোড়শ রাজা ক্য সাইন প্রু চৌধুরী। স্মারকগ্রন্থে তাঁর মেয়াদ 18 সেপ্টেম্বর 2012 থেকে 6 ফেব্রুয়ারি 2013 — পাঁচ মাসের কম। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লেখেন রাজপদ লাভের দুই মাস ষোলো দিনের মাথায় 80 বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু। 1996 সালে তিনি একবার সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, যা আদালত বাতিল করে।
তালিকায় কেউ নেই। 16 জুন 1996 চতুর্দশ রাজার মৃত্যুর পর 4 নভেম্বর 1996 সরকার ক্য সাইন প্রু চৌধুরীকে 15তম রাজা স্বীকৃতি দেয়। হাইকোর্ট 12 জানুয়ারি 1997 অং শোয়ে প্রুর রিট খারিজ করলেও আপিল বিভাগ (সিভিল আপিল 8/1997) আপিল মঞ্জুর করে। অং শৈ প্রু চৌধুরী 19 নভেম্বর 1998 শপথ নেন।
সাক হ্ন ঞো (হাচিনসনে Sanaio, গোল্ডেন বুকে Tsaneyo Chaudhri), নভেম্বর 1875-এ বড় ভাই মং প্রুর উত্তরাধিকারী। ইনকিলাব লেখে, 1875 সালে তিনিই প্রথম রাজপুণ্যাহের আয়োজন করেন। প্রথম আলো লেখে, তাঁর আমলে 1894 সালে বান্দরবানের রাজগুরু বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠা হয়। তাঁর মৃত্যু 1902 সালে (হাচিনসন)।
চতুর্থ বোমাং হেরী ঞো (হাচিনসনে Hario)। হাচিনসন (1906, 1909) ও জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা লেখেন, আরাকানের রাজা 1710 সালে তাঁকে উপাধিটি দেন। মংসিংঞা মারমা লেখেন, 1719 সালে চট্টগ্রাম অবরোধে সাহায্যের জন্য আরাকান রাজ সান্দাউইজিয়া তাঁকে ‘বোমাঙগ্রী’ উপাধি দেন।
উৎসভেদে সাল আলাদা। মংসিংঞা মারমা লেখেন 1873 সালে বোমাং সার্কেল ঘোষণা হয়। ইনকিলাব লেখে 1881 সালে তিন সার্কেলের সীমানা চিহ্নিত হয় এবং 1900 সালের শাসনবিধিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লেখে 1884। পাহাড়বার্তা (2024) রাজপরিবারের বরাতে লেখে 1867।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:বান্দরবান, বোমাং সার্কেল, মারমা, সার্কেল চীফ
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।