Last updated Oct 19th, 2026

জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস, ইংরেজিতে PCJSS) গড়ে ওঠে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে, দলের নিজের হিসাবে 15 ফেব্রুয়ারি 1972 তারিখে; এই দলই 2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চুক্তিতে সই করে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গঠিত হয় 26 ডিসেম্বর 1998 তারিখে ঢাকায়, ওই চুক্তি নিয়ে আপত্তি থেকে; তাদের দাবি “পূর্ণস্বায়ত্তশাসন”। পরে দুই দল থেকেই একটি করে অংশ আলাদা হয়েছে: জেএসএস (এম এন লারমা) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)।
এই পাতা পড়ার আগে একটি কথা জেনে রাখা ভালো। আমাদের আর্কাইভে এই বিষয়ে যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের বেশির ভাগ জনসংহতি সমিতির নেতা বা সমর্থক; ইউপিডিএফের পক্ষের কোনো লেখা আর্কাইভে নেই। তাই এখানে প্রতিটি দলকে আগে তার নিজের ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে (নিজের ওয়েবসাইট, গঠনতন্ত্র, ঘোষণা ও বিবৃতি থেকে), তারপর অন্যরা কী বলে তা এসেছে বক্তার নামসহ। ভাঙন, হত্যা ও অভিযোগের বেলায় কেবল সেটুকুই আছে যা কোনো নাম-দেওয়া উৎস লিখেছে, আর অপর পক্ষের জবাব যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে সেটিও। কোন দল ঠিক, সে রায় এই পাতা দেয় না। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।
পাহাড়ে এখন চারটি আঞ্চলিক দলের নাম শোনা যায়: জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ, জেএসএস (এম এন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। প্রথম দুটি মূল দল; পরের দুটি যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয়টি থেকে বেরিয়ে আসা অংশ। নিচের ছকের প্রতিটি ঘরের তথ্য পরের অংশগুলোতে উৎসসহ আছে।
| সংগঠন | প্রতিষ্ঠা | প্রথম নেতৃত্ব | ঘোষিত লক্ষ্য | 1997-এর চুক্তি নিয়ে অবস্থান | কোথা থেকে |
|---|---|---|---|---|---|
| পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস / PCJSS) | 15 ফেব্রুয়ারি 1972 (দলের নিজের সাইট); 15 ফেব্রুয়ারি 1973 (Banglapedia-র একটি ভুক্তি) | মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা | জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার; এখন চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন | স্বাক্ষরকারী | পূর্বসূরি ছাত্র ও কল্যাণ সংগঠনের ধারাবাহিকতায় |
| ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) | 26 ডিসেম্বর 1998, ঢাকা (দলের গঠনতন্ত্র) | প্রসিত বিকাশ খীসা (আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী) | শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন | চুক্তি মৌলিক দাবি পূরণ করেনি বলে গুরুতর আপত্তি | পাহাড়ি গণপরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (দলের ভাষ্য); আর্কাইভের লেখায় প্রথম দুটির “একাংশ” |
| জেএসএস (এম এন লারমা) | 2006, 2007 বা এপ্রিল 2010 — উৎসভেদে | Rupayan Dewan, Sudhasindhu Khisa, Tatindra Lal Chakma (“পেলে”) | দলীয় সংস্কার; আর্কাইভের এক লেখায় চুক্তি বাস্তবায়ন, বাংলা Wikipedia-য় পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন | নিজস্ব দলিল পাওয়া যায়নি | জনসংহতি সমিতি থেকে |
| ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) | 15 নভেম্বর 2017, খাগড়াছড়ি | তপন জ্যোতি চাকমা | নিজস্ব দলিল পাওয়া যায়নি | এক ভাষ্যে চুক্তির পক্ষে | ইউপিডিএফ থেকে |
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)। প্রতিষ্ঠার দিন নিয়ে দ্বিমত নেই, 15 ফেব্রুয়ারি; সাল নিয়ে আছে। দলের নিজের ওয়েবসাইট ও আমাদের আর্কাইভের কয়েকটি লেখা বলছে 1972; Banglapedia-র একটি ভুক্তি ও জুমজার্নালের নিজের একটি ধারাবাহিক বলছে 1973।
| সাল | কে বলছে |
|---|---|
| 15 ফেব্রুয়ারি 1972 | জনসংহতি সমিতির নিজের সাইট (“formed on 15 February 1972”); আমাদের আর্কাইভে গৌতম কুমার চাকমার জনসংহতি সমিতির গৃহযুদ্ধ ও তারপর; আমাদের লেখা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা: জীবন, সংগ্রাম ও অসমাপ্ত প্রশ্ন; Banglapedia-র Shanti Bahini ভুক্তি; English Wikipedia-র তথ্যছক; ইউপিডিএফের সাইটের সময়রেখাও সমিতির গঠন 1972-এর ঘরে রেখেছে |
| 15 ফেব্রুয়ারি 1973 | Banglapedia-র Parbatya Chattagram Jana-Samhati Samiti ভুক্তি; English Wikipedia-র নিবন্ধের মূল পাঠ; জুমজার্নালের এম এন লারমা সাইটের ধারাবাহিক “জীবন গাঁথায় এম এন লারমা”-র ষষ্ঠ পর্ব |
অর্থাৎ Banglapedia নিজের দুই ভুক্তিতে দুই সাল দেয়, আর জুমজার্নালের নিজের দুই লেখাতেও দুই সাল আছে। ষষ্ঠ পর্বটি বলে, লারমা 1972 সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগঠন গড়তে শুরু করেন এবং “১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩–এ আনুষ্ঠানিকভাবে PCJSS জন্ম নিল”। তারিখ-বিতর্কটি আগেই নথিভুক্ত হয়েছে লারমার জীবনী-লেখাটিতে; এখানে দুই মতই রাখা হলো।
দলের সাইট অনুযায়ী প্রথম জাতীয় সম্মেলন হয় 24 জুন 1972 তারিখে রাঙামাটি শহরের ইন্দ্রপুরী সিনেমা হলে। সেখানে 60 সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি হয়; সভাপতি Birendra Kishore Roaza, সাধারণ সম্পাদক এম এন লারমা। প্রথম সভাপতির নামের মাঝের অংশে অমিল আছে: সাইটে “Kishore”, আর্কাইভে গৌতম কুমার চাকমার লেখায় “বীরেন্দ্র লাল রোয়াজা”। গৌতম কুমার চাকমা লিখেছেন, তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন এবং প্রবীণদের শরিক করতেই তাঁকে সভাপতি করা হয়। জীবনী-লেখাটির সংকলন অনুযায়ী লারমা সভাপতির দায়িত্ব নেন 1973 সালে।
সমিতি শূন্য থেকে আসেনি। দলের সাইট পূর্বসূরি হিসেবে পাঁচটি সংগঠনের নাম করে: CHT Youth Association (1915), CHT Peoples’ Association (1920), Hill Students’ Association (1956), CHT Teachers’ Association এবং CHT Tribal Welfare Association (1966)। Banglapedia এদের বাংলা নাম ও সংগঠকদের কথা দেয়: 1915-র চাকমা যুবক সমিতি, 1920-এ কামিনী মোহন দেওয়ানের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি, 1956-র পাহাড়ি ছাত্র সমিতি, ডিসেম্বর 1966-এ অনন্ত বিহারী খীসা ও জে বি লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় কল্যাণ সমিতি। সাইটটি আরও বলে, 1970-এর নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গড়া হয়েছিল, আর সেই প্রক্রিয়ার ধারাতেই পূর্ণাঙ্গ দল। 1915 থেকে এই সংগঠনগুলোর দীর্ঘ ইতিহাস পড়া যাবে তনয় দেওয়ানের চাকমা জাতির রাজনৈতিক সগ্রামের ইতিহাস লেখায়।
দলের সাইটে জনসংহতি সমিতি নিজেকে বলে পার্বত্য চট্টগ্রামের এগারোটি বহুভাষী আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠীর “only political organization”। মূলনীতি পাঁচটি: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার। চুক্তিকে দলটি বলে জুম্ম জনগণ ও স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দাদের “Charter of the Rights”।
সাইটে দলের পাঁচটি লক্ষ্য লেখা আছে এভাবে:
মূলনীতির তালিকা সব উৎসে হুবহু এক নয়।
| উৎস | মূলনীতি হিসেবে যা লেখা |
|---|---|
| জনসংহতি সমিতির সাইট | জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার |
| Banglapedia | মানবতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা; সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা |
| “জীবন গাঁথায় এম এন লারমা”, ষষ্ঠ পর্ব | মানবতাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, পাহাড়ি অধিকার রক্ষা |
কাঠামোর দিক থেকে, সাইটের “Organisation” পাতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় সম্মেলন (কংগ্রেস), যা তিন বছর অন্তর বসে এবং কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করে; শাখা আছে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও গ্রাম স্তরে। পাতাটিতে এখনো যে তালিকা দেখানো আছে সেটি দশম কেন্দ্রীয় কমিটির (2015–2018): সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক Pranati Bikash Chakma। তালিকায় কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে গৌতম কুমার চাকমার নামও আছে, যাঁর লেখা এই পাতার একটি প্রধান আর্কাইভ-উৎস। ধারাবাহিকটির ভাষায় সমিতি শুরুর দিকে গ্রামে গ্রামে গ্রামপঞ্চায়েত, যুবসমিতি ও মহিলা সমিতি গড়ে “একধরনের সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা” হয়ে উঠেছিল।
সমিতির প্রথম দাবিনামা চার দফার। “জীবন গাঁথায়” ধারাবাহিকের পঞ্চম পর্ব অনুযায়ী দফাগুলো: আলাদা পরিষদসহ স্বায়ত্তশাসন; 1900 সালের রেগুলেশন বহাল রাখা; চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা প্রথাগত রাজপ্রথার সাংবিধানিক স্বীকৃতি; এবং এসবের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। পর্বটি বলে লারমা দফাগুলো তুলে ধরেন 1972-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে; Banglapedia-র তারিখ 24 এপ্রিল 1972, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কাছে। চতুর্থ দফার পাঠ নিয়েও উৎসে ভেদ আছে, যার বিশ্লেষণ লারমার জীবনী-লেখাটিতে করা হয়েছে।
পনেরো বছর পর আসে পাঁচ দফা। গৌতম কুমার চাকমার বিবরণে এতে ছিল প্রাদেশিক আইন পরিষদসহ স্বায়ত্তশাসন, ভূমির অধিকার, বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি; Banglapedia পেশের তারিখ দেয় 17 ডিসেম্বর 1987।
শান্তিবাহিনী ছিল জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা। Banglapedia ও আমাদের আর্কাইভের লেখা ঐতিহাসিক তিনটি দলিল এবং জুম্ম জনগণের লড়াই সংগ্রাম দুটোই গঠনের তারিখ দেয় 7 জানুয়ারি 1973। Banglapedia অনুযায়ী সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয় 1976-এর গোড়ায়, আর 1999 সালে সমিতির ষষ্ঠ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়ে বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়।
শুরুটা ঠিক কোথায়, তার একটি বিবরণ আর্কাইভে আছে। এডিসন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতার উৎসমুখ লেখায় বলেছেন, 1976-এর মাঝামাঝি বিলাইছড়ি আর্মড পুলিশ ক্যাম্প ও বেতছড়িতে পুলিশের নৌকায় হামলা দিয়ে সূচনা। Banglapedia কাঠামোর কথা দেয়: উত্তর ও দক্ষিণ দুই সামরিক জোন, প্রতি জোনে তিনটি সেক্টর, সদর দপ্তর দীঘিনালার গভীর বনে।
সমিতি নিজে এই পর্বকে বর্ণনা করে এভাবে: দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়েছিল সাংবিধানিক পথে; শাসকশ্রেণি দাবি প্রত্যাখ্যান করে রুমা, আলীকদম ও দীঘিনালায় তিনটি সেনানিবাস বসায়; প্রচলিত আইনি আন্দোলনের সব পথ বন্ধ হলে আন্দোলন সশস্ত্র রূপ নেয়, তবে সংলাপের দরজা খোলা রাখা হয়। “জীবন গাঁথায়” ধারাবাহিকের ষষ্ঠ পর্বের ভাষ্য, লারমা ব্যক্তিগতভাবে সশস্ত্র পথে অনিচ্ছুক ছিলেন, জনগণের চাপ ও সময়ের বাস্তবতায় মেনে নেন; এই ভাষ্য অন্য কোনো উৎসে মেলানো যায়নি। ইউপিডিএফের সময়রেখা 1975-এর ঘরে লেখে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর সমিতি আত্মগোপনে যায়, আর 1976-এ গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে।
জনসংহতি সমিতি প্রথম ভাঙে আশির দশকের শুরুতে। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন এম এন লারমা, অন্য পক্ষে প্রীতি কুমার চাকমা; আর্কাইভে তনয় দেওয়ানের লেখা অনুযায়ী মানুষের মুখে প্রথম পক্ষের নাম হয় “লাম্বা” (দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামে বিশ্বাসী), দ্বিতীয়টির “বাদি” (দ্রুত নিষ্পত্তি)। 10 নভেম্বর 1983 তারিখে এম এন লারমা নিহত হন, এ নিয়ে সব উৎস একমত। 29 এপ্রিল 1985 তারিখে প্রীতি গ্রুপ সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দেয়।
কেন ভাঙল, তার বর্ণনা উৎসভেদে আলাদা। নিচের ছকে পাঁচটি বিবরণ পাশাপাশি রাখা হলো; এগুলোর কোনোটিই প্রীতি গ্রুপের নিজের লেখা নয়।
| উৎস | ভাঙনের কারণ হিসেবে যা বলা হয়েছে |
|---|---|
| Banglapedia | শুরু থেকেই দুই ধারা: লারমার নেতৃত্বে বামপন্থী “লারমা গ্রুপ”, প্রীতি কুমার চাকমার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী “প্রীতি গ্রুপ”; 24 অক্টোবর 1982-তে আদর্শিক বিরোধে শান্তিবাহিনী দুই ভাগ হয় |
| গৌতম কুমার চাকমা (আর্কাইভ; সমিতির নেতা) | ডিসেম্বর 1981-র কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়; কারণ কিছু নেতার “ক্ষুদ্র স্বার্থপরতা”, যুদ্ধের কৌশল নিয়ে বিভ্রান্তি এবং বিদেশি শক্তির প্ররোচনা; গৃহযুদ্ধ শুরু 14 জুন 1983 |
| The Daily Star, Star Weekend Magazine (16 এপ্রিল 2010) | দীর্ঘমেয়াদি বনাম স্বল্পমেয়াদি অগ্রাধিকার নিয়ে আদর্শিক বিতর্ক; প্রীতি অংশ “badi” সূত্রের পক্ষে ছিল |
| ইউপিডিএফের সাইটের সময়রেখা | ভবতোষ দেওয়ান ও প্রীতি কুমার চাকমার নেতৃত্বে “Badi (short)” অংশ লারমার নেতৃত্বাধীন “Lamba (Long)” অংশের দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধের ধারণার বিরোধিতা করে |
| “জীবন গাঁথায় এম এন লারমা”, অষ্টম পর্ব | লারমা-বিরোধী অংশ মনে করত তাঁর নেতৃত্ব যথেষ্ট শক্তিশালী নয়, তিনি “বেশি সমঝোতামুখী” |
শেষ সারিটি অন্যগুলোর সঙ্গে সহজে মেলে না: একটি বিবরণে লারমার পক্ষ দীর্ঘ লড়াইয়ের পক্ষে, আরেকটিতে তিনি সমঝোতামুখী। দুই বর্ণনাই রাখা হলো।
10 নভেম্বর 1983-র ঘটনা সম্পর্কে অষ্টম পর্ব লেখে, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার খেদারাছড়া গ্রামে একটি সশস্ত্র দল লারমার ওপর হামলা চালায়; তাঁর বয়স তখন 43। কারা হামলা করে, সে প্রশ্নে তিনটি পক্ষের ভাষা এরকম। জনসংহতি সমিতির সাইট বলে, আশির দশকে দলকে মোকাবিলা করতে হয় “four plotters – Giri-Prakash-Deben-Palash”-এর চাপানো গৃহযুদ্ধ। আর্কাইভের প্রত্যক্ষ বিবরণ রক্তাক্ত ১০ নভেম্বর চারটি ছদ্মনামের পেছনের নাম দেয়: গিরি (ভবতোষ দেওয়ান), প্রকাশ (প্রীতি কুমার চাকমা), দেবেন (দেবজ্যোতি চাকমা) ও পলাশ (ত্রিভঙ্গিল দেওয়ান)। ইউপিডিএফের সময়রেখা লেখে, “Badi” অংশ প্রতিপক্ষের সদর দপ্তরে হামলা করে লারমা ও তাঁর আট সহযোগীকে হত্যা করে। প্রীতি গ্রুপের নিজের বয়ান কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি, আর কোনো আদালতের রায় বা তদন্ত প্রতিবেদনও নয়; তাই এই পাতা কাউকে নাম ধরে হত্যাকারী বলে না।
আত্মসমর্পণের বিবরণে দুই উৎস পরস্পরের পরিপূরক। গৌতম কুমার চাকমা লেখেন, 29 এপ্রিল 1985 তারিখে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে প্রীতি গ্রুপ তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল নুরুদ্দিন খানের কাছে অস্ত্র জমা দেয়। Banglapedia সংখ্যা দেয়: প্রীতি গ্রুপের 236 সদস্য আত্মসমর্পণ করেন, প্রীতি কুমার চাকমা নিজে করেননি। Banglapedia অনুযায়ী 1985 সালেই সন্তু লারমা সভাপতি নির্বাচিত হন। গৌতম কুমার চাকমার ভাষায়, গৃহযুদ্ধের পর সমিতি এম এন লারমার দেওয়া “ক্ষমা করা ও ভুলে যাওয়া” নীতি ধরে নতুন করে সংগঠিত হয়। এই পর্বের পূর্ণ বিবরণ তাঁর লেখাটিতেই আছে; এখানে কেবল সারাংশ।
জনসংহতি সমিতি ও সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় 21 অক্টোবর 1985 তারিখে, এরশাদ সরকারের সঙ্গে; সমিতির সাইট, Banglapedia ও আর্কাইভ তিনটিই এই তারিখ দেয়। তিন সরকারের আমলে বারো বছরের আলোচনার শেষে 2 ডিসেম্বর 1997 তারিখে চুক্তি সই হয়। আর্কাইভের হিসাবে চুক্তির আগে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল কমপক্ষে 26টি।
| সময় | কী ঘটে | উৎস |
|---|---|---|
| 21 অক্টোবর 1985 | এরশাদ সরকারের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক; এই সরকারের সঙ্গে মোট 6 বার | সমিতির সাইট; গৌতম কুমার চাকমা |
| 17 ডিসেম্বর 1987 | সমিতির পাঁচ দফা দাবি পেশ | Banglapedia |
| ফেব্রুয়ারি 1989 | সমিতিকে বাদ রেখে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন পাস; আলোচনা ভেঙে যায়। তারিখ 15 ফেব্রুয়ারি (গৌতম কুমার চাকমা) বা 20–26 ফেব্রুয়ারি (Banglapedia) | গৌতম কুমার চাকমা; Banglapedia |
| 1992 | সমিতির একতরফা যুদ্ধবিরতি। ইউপিডিএফের দুই দলিলে তারিখ দুই রকম: সময়রেখায় 1 আগস্ট, চুক্তি-বিষয়ক দলিলে 10 আগস্ট। সময়রেখা অনুযায়ী সংলাপ শুরু 5 নভেম্বর | গৌতম কুমার চাকমা; ইউপিডিএফের সাইট |
| 1992–1995 | খালেদা জিয়া সরকারের আমলে অলি আহমদ কমিটির সঙ্গে 6 বার, রাশেদ খান মেনন উপকমিটির সঙ্গে 7 বার; সমিতির সেপ্টেম্বর 2026-এর বিবৃতিও এই সরকারের সঙ্গে মোট 13 বার বৈঠকের কথা বলে | গৌতম কুমার চাকমা; সমিতির বিবৃতি |
| 1996 | নির্বাচনে সমিতি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়; আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কমিটির সঙ্গে 7 বার বৈঠক | গৌতম কুমার চাকমা |
| 2 ডিসেম্বর 1997 | পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই | সব উৎস |
চুক্তি কেন তখন হলো, তার একটি বাড়তি ব্যাখ্যা আর্কাইভে আছে। এরেন্স ও কীর্তি নিশান চাকমার পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের সংগ্রাম লেখার ভাষ্যে ভারতে সরকার বদল ও ভারতের চাপ ছিল একটি কারণ। চুক্তির ধারা, অস্ত্র জমার সংখ্যা ও বাস্তবায়নের হিসাব এই পাতার বিষয় নয়; সেগুলো আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭: ধারা ধরে ধরে এবং পার্বত্য চুক্তি ১৯৯৭: কী ছিল, কতটা হলো, কোথায় আটকে আছে লেখা দুটিতে।
চুক্তির পর জনসংহতি সমিতি প্রকাশ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ শুরু করে (Banglapedia)। দলের সাইট অনুযায়ী 1998 থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বে দলের মূল কাজ চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আন্দোলন, গণতান্ত্রিক রীতি ও কাঠামোর ভেতরে থেকে। বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ হিসেবে দল বলে সরকারের “constant non-cooperative stance”।
আর্কাইভে সুলভ চাকমা তাঁর সমকালীন ভাবনায় পাহাড়ের রাজনীতির প্রাসঙ্গিক পাঠ লেখায় একই কথা নিজের ভাষায় বলেছেন: সমিতির আপাত রাজনৈতিক অঙ্গীকার চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করা, পরে তার ভেতর দিয়ে ধাপে ধাপে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার। সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান; BenarNews (28 অক্টোবর 2022) লিখেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পরিষদকে তার নির্বাহী ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো দেয়নি। পরিষদের গঠন ও ক্ষমতার বিবরণ আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ লেখায়।
সাইটে সমিতির সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছয়টি নাম আছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি ও গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী। সাইটের পাতা অনুযায়ী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠিত 20 মে 1989 এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন 8 মার্চ 1988 তারিখে; দুটিকেই সাইট সমিতির “wing organization” বলে।
ইউপিডিএফ বা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল। দলের নিজের সাইট অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয় 26 ডিসেম্বর 1998 তারিখে, ঢাকায় দুই দিনের একটি প্রস্তুতি সম্মেলনের শেষে। দল নিজেকে বর্ণনা করে 2 ডিসেম্বর 1997-এর চুক্তির বিরুদ্ধে “strong and serious reservations”-এর প্রকাশ হিসেবে।
দলের পরিচিতি-পাতা বলে: চুক্তি জুম্ম জনগণের মৌলিক দাবি পূরণ করতে পারেনি; ইউপিডিএফ গঠিত হয়েছে “FULL AUTONOMY” প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আদিবাসী জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়ার অঙ্গীকার নিয়ে; দলের সব কাজের ভিত্তি জাতিসমূহের সমতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আদর্শ। যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া আছে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজার।
কারা গড়লেন? দলের প্রাথমিক ঘোষণা (ইশতেহার) শেষ হয়েছে এই তথ্য দিয়ে যে এটি গৃহীত হয় 25–26 ডিসেম্বর 1998-এর প্রস্তুতি সম্মেলনে, যা যৌথভাবে আয়োজন করে পাহাড়ি গণপরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। ঘোষণা এই তিন সংগঠনকে বলে 1989-এর ছাত্র-গণজাগরণ থেকে উঠে আসা গণতান্ত্রিক শক্তি। দলের সময়রেখা আগের ধাপগুলোও লেখে: চুক্তি সইয়ের পর তিন সংগঠন তা প্রত্যাখ্যান করে; 10 ফেব্রুয়ারি 1998 তারিখে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে সমিতির সদস্যদের অস্ত্র জমার অনুষ্ঠানে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মীরা কালো পতাকা ও ব্যানার দেখান। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিনাম দলের এই পাতাগুলোর কোনোটিতে নেই।
নাম পাওয়া যায় আমাদের আর্কাইভে। “ঐতিহাসিক তিনটি দলিল…” লেখাটি বলে, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের একাংশ ও পাহাড়ি গণপরিষদের একাংশ মিলে 1998 সালে ইউপিডিএফ গঠন করে, “মূলত প্রসীতবিকাশ খীসার নেতৃত্বেই”; তিনি 1992 সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের এবং 1995 সালে পাহাড়ি গণপরিষদের সভাপতি ছিলেন; পাহাড়ি গণপরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয় 1990 সালে, আহ্বায়ক বিজয়কেতন চাকমা। লক্ষ করার মতো পার্থক্য: দল বলে তিন সংগঠন মিলে দল গড়েছে, আর্কাইভের লেখা বলে দুটি সংগঠনের “একাংশ”। The Daily Star-এর সাময়িকী (2010) লিখেছে, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতারা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে ইউপিডিএফ গড়েন।
দলের প্রথম জাতীয় কংগ্রেস হয় ঢাকায় 26–28 নভেম্বর 2006 তারিখে; গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি ও দাবিনামা সেখানেই অনুমোদিত। The Daily Star-এর সাময়িকীতে সে সময় ছাপা এবং দলের সাইটে রাখা এক সাক্ষাৎকারে Rabi Shankar Chakma বলেন, কংগ্রেসে প্রায় 1,200 প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশ নেন; জানুয়ারি 2018-র এক প্রতিবেদনে The Daily Star তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছে। সেপ্টেম্বর 2026-এর সংবাদে দলের সভাপতি হিসেবে প্রসিত খীসার নাম আছে।
দলের সাইটে সহযোগী সংগঠন চারটি: পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ (প্রতিষ্ঠা 3 মে 2013), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (5 এপ্রিল 2002-এ পাহাড়ি যুব ফোরাম নামে শুরু, 13 মে 2005-এ নাম বদল), পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (20 মে 1989) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (8 মার্চ 1988)। শেষ দুটি নাম, একই প্রতিষ্ঠার তারিখসহ, জনসংহতি সমিতির সাইটের তালিকাতেও আছে; অর্থাৎ দুই দলই এই দুই নামের সংগঠনকে নিজের বলে দেখায়।
ইউপিডিএফের গঠনতন্ত্র 21 ধারার। দ্বিতীয় ধারায় লক্ষ্য লেখা: শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের মধ্য দিয়ে শোষণ-নিপীড়নমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। গঠনতন্ত্রটি প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে (26–28 নভেম্বর 2006) সংশোধনসহ অনুমোদিত।
| ধারা | বিষয় | কী বলা আছে |
|---|---|---|
| 1 | নাম | 26 ডিসেম্বর 1998-এ গঠিত দলের নাম ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, সংক্ষেপে ইউপিডিএফ |
| 3 | পতাকা | তিন সমান ভাগ: ওপরে ও নিচে লাল, মাঝে নীল, মাঝখানে সাদা তারা। লাল প্রতিরোধের, নীল পাহাড়ের প্রধান নদীগুলোর মিলিত স্রোত ও জনগণের ঐক্যের, সাদা তারা আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক |
| 4 | মনোগ্রাম | তীর-ধনুক; দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবেও এটিই ব্যবহৃত হবে |
| 5 | সদস্যপদ | পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, বয়স 16 বা বেশি, অন্য কোনো দলের সদস্য নন; দুজন সদস্যের সুপারিশ লাগে; প্রথম এক বছর প্রার্থী-সদস্য |
| 6 | সদস্যের আচরণ | নারীর প্রতি সম্মান; জনগণের ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসে সম্মান, ধর্ম নিয়ে তর্কে না জড়ানো |
| 11 | শৃঙ্খলা | শাস্তির ছয় ধাপ: সতর্কীকরণ থেকে বহিষ্কার; অভিযুক্তের শুনানির অধিকার; গুরুতর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি সরাসরি বহিষ্কার করতে পারে |
| 12 | জনপ্রতিনিধি | কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মতিতে সংসদসহ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থায় নির্বাচিত সদস্য ভাতা দলের তহবিলে জমা দেবেন; দল বললে পদত্যাগ করবেন |
| 14–16 | কাঠামো | সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় কংগ্রেস, তিন বছর অন্তর; কংগ্রেস কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করে; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বেছে নেন |
| 17 | স্থানীয় কমিটি | জেলা কমিটি 17, থানা 11, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড 7, পৌর কমিটি 9 সদস্যের; মেয়াদ তিন বছর |
| 18 | তহবিল | সদস্য-চাঁদা, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভাতা, প্রকাশনা বিক্রি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়, শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান ও গণচাঁদা |
| 19 | গণসংগঠন | ছাত্র, যুব, নারী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, আইনজীবীদের মধ্যে গণসংগঠন থাকবে; নাম ধরে আছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম |
দলটি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে বলে নিজের সময়রেখায় লেখে: 1 অক্টোবর 2001-এর সংসদ নির্বাচনে প্রসিত বিকাশ খীসা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি আসনে প্রার্থী হন; ডিসেম্বর 2008-এ খাগড়াছড়িতে প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য Ujjal Smriti Chakma; জানুয়ারি 2014-র নির্বাচনেও দল অংশ নেয়। সাইটে 2001, 2008, 2014 ও 2018 সালের নির্বাচনী ইশতেহারের তালিকা আছে। নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধনের অবস্থা জানা যায়নি।
ইউপিডিএফের দাবিনামা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের সংজ্ঞা দেয় প্রথম দফাতেই: পররাষ্ট্র, মুদ্রা, প্রতিরক্ষা ও ভারী শিল্প ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব বিষয় এমন একটি আঞ্চলিক সংস্থার হাতে দেওয়া, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে। দাবিনামাটি 2006-এর প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে গৃহীত।
মূল দাবি ছয়টি:
এর পরে আছে ষোলোটি শিরোনামে সম্পূরক দাবি: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভূমি, কৃষি, শিক্ষা-ভাষা-সংস্কৃতি, নারী অধিকার, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি। কয়েকটি উদাহরণ: প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা; সরকারি নথি ও গণমাধ্যমে “উপজাতি” শব্দের ব্যবহার বন্ধ করা; পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা শিক্ষা বোর্ড; কল্পনা চাকমা অপহরণের জন্য দায়ী বলে দল যাঁদের মনে করে তাঁদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি; জুম্ম তরুণদের নিয়ে একটি বিশেষ পার্বত্য রেজিমেন্ট গঠন; লোগাং, লংগদু, নান্যাচরসহ দলিলে নাম-ধরা সব গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ।
দলের কর্মসূচি দলিলে কয়েকটি অবস্থান আলাদা করে চোখে পড়ে। দল একদিকে “extreme Bengali nationalistic chauvinism”-এর, অন্যদিকে জুম্ম জাতিসত্তাগুলোর “narrow nationalism”-এরও বিরোধিতার কথা বলে। পুরোনো বাঙালি বাসিন্দাদের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা আছে আলাদা দফায়। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ছাড়া অন্য ছোট জাতিসত্তাগুলোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দফা আছে। জুমচাষ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাহাড়ে আধুনিক চাষ চালু করা ও জুমচাষিদের বিকল্প জীবিকায় পুনর্বাসনের কথাও আছে। দলিলের শেষ অনুচ্ছেদ বলে, এসব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ক্ষমতা লাগবে, আর পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন নির্ভর করে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির বিজয়ের ওপর।
দলের পাঁচ সাংগঠনিক নীতি-র চতুর্থটি বসতি স্থাপনকারীদের প্রসঙ্গে দুই দিকই ধরে: রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে আনা বসতি স্থাপনকারীদের আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা, আবার সমতলে সম্মানজনক পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ে থাকাকালে তাঁদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার অধিকারে সমর্থন। পথ নিয়ে 2006-এর সাক্ষাৎকারে Rabi Shankar Chakma বলেন, “We have no fascination for firearms or armed struggle”, এবং গঠনতন্ত্রের দ্বিতীয় ধারার উল্লেখ করেন। Dhaka Tribune (6 মে 2018) লিখেছে, ইউপিডিএফ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চায় এবং বলে তারা গণতান্ত্রিকভাবে এগোয়।
ইউপিডিএফের নিজের একটি দলিল, Why UPDF has serious reservations on the Chittagong Hill Tracts Peace Accord of 1997, আপত্তিগুলো বিষয় ধরে সাজিয়েছে। মূল বক্তব্য: চুক্তি সেই দাবিগুলোই পূরণ করেনি যা জনসংহতি সমিতি নিজে তুলেছিল, অর্থাৎ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার, সেনা প্রত্যাহার ও বসতি স্থাপনকারী প্রত্যাহার; আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহির কোনো উল্লেখ চুক্তিতে নেই।
| বিষয় | ইউপিডিএফের আপত্তি (দলের দলিলের ভাষ্য) |
|---|---|
| আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ | পরিষদগুলো সাধারণ আইনে গঠিত, সাংবিধানিক রক্ষাকবচ নেই; সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই যেকোনো সরকার আইন বাতিল করতে পারে। নির্বাহী কাজ জেলা পরিষদের হাতে, আঞ্চলিক পরিষদের হাতে কেবল “তত্ত্বাবধান”। 1989 থেকে জেলা পরিষদে নির্বাচন হয়নি |
| সাধারণ প্রশাসন | সাধারণ প্রশাসন সরকার-নিযুক্ত জেলা প্রশাসকের হাতেই থাকে; পরিষদের কার্যকর ক্ষমতা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ-বদলি পর্যন্ত |
| সরকারের নিয়ন্ত্রণ | চুক্তির “খ” খণ্ডের 21 ধারা অনুযায়ী সরকার পরিষদের কাছে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাইতে, পরামর্শ ও নির্দেশ দিতে পারে |
| পার্বত্য মন্ত্রণালয় | প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের আগের বিশেষ কার্যাদি বিভাগেরই নতুন নাম; পরিষদের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে না |
| সাংবিধানিক স্বীকৃতি | চুক্তিতে নেই; পাহাড়ের তিন সংসদীয় আসন জুম্মদের জন্য সংরক্ষিত নয়; চুক্তিতে “উপজাতি” শব্দ মেনে নেওয়া হয়েছে |
| ভূমি | প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি নেই; ভূমি কমিশনের কার্যপদ্ধতি স্পষ্ট নয়; পুরোনো বাঙালি বাসিন্দা ও নতুন বসতি স্থাপনকারীদের একই শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে |
| বসতি স্থাপনকারী | প্রত্যাহার নিয়ে চুক্তি নীরব; সমিতির নেতারা সরকারের সঙ্গে একটি “মৌখিক সমঝোতা”-র কথা বলেন, লিখিত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েই যেখানে সংশয় সেখানে মৌখিক সমঝোতার মূল্য কী, দলিল সে প্রশ্ন তোলে |
| সেনা প্রত্যাহার | অস্থায়ী ক্যাম্প সরানো “পরিস্থিতির উন্নতি”-র শর্তাধীন, আর উন্নতি হয়েছে কি না তা ঠিক করবে সরকার নিজে; সময়সীমা নেই |
| বাস্তবায়নের ব্যবস্থা | বাধ্যবাধকতার কাঠামো আছে কেবল সমিতির দিকে, সরকারের দিকে নেই |
| শরণার্থী, শহিদ পরিবার, মামলা | প্রত্যাগত শরণার্থীদের পুনর্বাসন না হলে সমিতি কী করতে পারবে তা নেই; শহিদ পরিবারের কথা নেই; মামলা প্রত্যাহার কেবল সমিতি ও শান্তিবাহিনীর সদস্যদের জন্য, পাহাড়ি গণপরিষদ, ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মীদের জন্য নয় |
| প্রক্রিয়া | সই করার আগে সমিতি পাহাড়ের প্রকাশ্য সংগঠন, বুদ্ধিজীবী বা সমাজনেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি |
দলিলের উপসংহার: চুক্তির পরিষদ আর 1989 সালে এরশাদের চালু করা পরিষদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নেই, তাই পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন চলবে। এগুলো একটি দলের অবস্থান; চুক্তির ধারাগুলোর পাঠ ও বাস্তবায়নের হিসাব মিলিয়ে দেখতে চাইলে ওপরে দেওয়া চুক্তি-বিষয়ক লেখা দুটি দেখতে পারেন।
একই সঙ্গে দলের আরেকটি কথা লক্ষ করার মতো। 2006-এর সাক্ষাৎকারে Rabi Shankar Chakma বলেন, গুরুতর আপত্তি সত্ত্বেও ইউপিডিএফ সরকারকে চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে সমিতির নেতৃত্বকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিল; তাঁর ভাষায়, দল চুক্তির সমালোচনা করেছে, কিন্তু বাস্তবায়নের পথে দাঁড়ায়নি।
দুই দলের নিজস্ব দলিলেই অপর দল সম্পর্কে কড়া ভাষা আছে। জনসংহতি সমিতির সাইট ইউপিডিএফকে বলে “the anti-Accord element”, যার “armed-terrorism” সমিতিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ইউপিডিএফের ইশতেহার বলে, চুক্তি ও অস্ত্র সমর্পণ সমিতির “political bankruptcy” দেখিয়েছে। নিচের উদ্ধৃতিগুলো দলগুলোর নিজের কথা, এই পাতার নয়।
| কে বলছে | কার সম্পর্কে | কী বলছে |
|---|---|---|
| জনসংহতি সমিতির সাইট | ইউপিডিএফ | চুক্তি সইয়ের পর থেকে সমিতিকে “armed-terrorism of UPDF, the anti-Accord element” মোকাবিলা করতে হচ্ছে |
| ইউপিডিএফের ইশতেহার (1998) | জনসংহতি সমিতি | সমিতি প্রায় দুই দশক প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং শুরুতে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছিল; কিন্তু চুক্তি ও “surrender” তার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব দেখিয়েছে; ইতিহাসে মুসলিম লীগের মতো বিলীন হওয়াই তার নিয়তি |
| ইউপিডিএফের “appeal to the JSS” | জনসংহতি সমিতি | জুম্মদের ভবিষ্যৎ সমিতির ধ্বংসে নয়, ঐক্যে; কিন্তু সমিতি ইউপিডিএফকে নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ভেবে তার কর্মীদের “exterminate” করতে চেয়েছে |
| গৌতম কুমার চাকমা (আর্কাইভ) | চুক্তি-বিরোধীরা | “সমিতির ছাত্রফ্রন্টের কিছু নেতা ও কর্মী অধিকারের অপর্যাপ্ততার অভিযোগে” চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন |
| সুলভ চাকমা (আর্কাইভ) | ইউপিডিএফ | “পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসন” খুবই “চমকপ্রদ” একটি স্লোগান, কিন্তু তা পূরণে দলীয় প্রস্তুতি হতাশ করে |
| এরেন্স ও কীর্তি নিশান চাকমা (আর্কাইভ) | ইউপিডিএফ | আগে সমিতিকে সমর্থন করত এমন একটি অংশ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এই বলে যে তাতে জুম্মদের প্রধান দাবিগুলো প্রতিফলিত হয়নি, এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম চালানোর ঘোষণা দেয় |
ইউপিডিএফ সমিতির পুরোনো নীতিরও সমালোচনা করে: দলের চুক্তি-বিষয়ক দলিল বলে, সমিতি শুরু থেকে রাজা, দেওয়ান, তালুকদারদের মতো সামন্ত নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছে, অথচ পরে তাদের কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছে। সমিতির নিজের পাঁচ লক্ষ্যের চতুর্থটিতে সামন্ত নেতৃত্বের অবসানের কথা এখনো আছে।
জেএসএস (এম এন লারমা) জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে আসা একটি অংশ, যাদের লোকমুখে “সংস্কারপন্থী” বলা হয়। The Daily Star-এর সাময়িকী (16 এপ্রিল 2010) এই অংশের নেতা হিসেবে তিনটি নাম দেয়: Rupayan Dewan, Sudhasindhu Khisa ও Tatindra Lal Chakma (“মেজর” পেলে)। আলাদা হওয়ার বছর উৎসভেদে 2006, 2007 বা 2010।
| বছর | কে বলছে, কী বলছে |
|---|---|
| 2006 | ইউপিডিএফের সময়রেখা: সমিতি দুই অংশে ভাগ হয়, একটির নেতৃত্বে সন্তু লারমা, অন্যটির Rupayon Dewan |
| 2007–2008 | জনসংহতি সমিতির সাইট: জরুরি অবস্থার সময় “Sudhasindhu-Rupayan-Tatindra”-র নেতৃত্বে একটি ছোট অংশ দল থেকে সরে যায়। আর্কাইভ, বাংলা ও English Wikipedia, BenarNews এবং Dhaka Tribune (18 মে 2018) সাল দেয় 2007 |
| এপ্রিল 2010 | The Daily Star-এর সাময়িকী: দল “split into two for the second time”; ভিন্নমতাবলম্বীরা খাগড়াছড়ির একটি প্রত্যন্ত গ্রামে (প্রতিবেদনে “Boradom”) আলাদা কাউন্সিল করে রাঙামাটিতে হওয়া নবম কাউন্সিলকে অবৈধ ঘোষণা করেন |
কেন আলাদা হলেন, তার দুই পক্ষের কথা The Daily Star-এর ওই প্রতিবেদনেই আছে। পেলের অভিযোগ ছিল: সন্তু লারমার নেতৃত্ব মানুষের প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি, তিনি স্বৈরাচারী আচরণ করেন, এবং বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির ঘটনার ভুক্তভোগীদের দেখতে যাননি। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন সমিতির সূত্র অভিযোগগুলোকে বলে “unfounded and baseless”। সমিতির সাইট এই অংশটিকে বর্ণনা করে সমিতির বিরুদ্ধে সরকারগুলোর ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। আর্কাইভের “ঐতিহাসিক তিনটি দলিল…” লেখাটিও একে শাসকশ্রেণির “ষড়যন্ত্র” বলে। এই অংশের নিজের কোনো দলিল বা ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি।
তাদের লক্ষ্য নিয়ে দুই উৎসে দুই কথা। আর্কাইভে সুলভ চাকমা লেখেন, “জেএসএস (এম এন লারমা) নামধারী সংস্কারপন্থী”-রা 2007 সালের জরুরি অবস্থার সময় দলীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে দলচ্যুত হন, আর তাঁদের কার্যক্রমও চুক্তি বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা ঘিরে। বাংলা Wikipedia লেখে, মূল সমিতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাইলেও এই অংশ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। BenarNews-এর ভাষ্যে ইউপিডিএফ এই অংশটিকে সক্রিয় সমর্থন দিয়েছে, আর অংশটি এম এন লারমার নামের মর্যাদা কাজে লাগাতে চায়।
একটি তথ্য পাঠকের জানা থাকা ভালো: আমাদের আর্কাইভের “রক্তাক্ত ১০ নভেম্বর” লেখাটির লেখকের নাম তাতিন্দ্রলাল চাকমা পেলে, যা The Daily Star-এর দেওয়া তৃতীয় নামটির সঙ্গে মেলে; লেখাটির তথ্যসূত্রে আছে 2016 সালে প্রকাশিত একটি স্মারক গ্রন্থ। পরে এই অংশের যাঁদের নাম সংবাদে এসেছে তাঁদের মধ্যে আছেন সহসভাপতি ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা (The Daily Star) এবং উবামং মারমা, যাঁকে বাংলা Wikipedia দলের সাধারণ সম্পাদক বলে।
ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) আলাদা হয় 15 নভেম্বর 2017 তারিখে, খাগড়াছড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়ে; নেতৃত্বে ছিলেন তপন জ্যোতি চাকমা (The Daily Star, 5 মে 2018)। Dhaka Tribune (18 মে 2018) লিখেছে, তিনি ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলটি গড়েন এবং এর কেন্দ্রীয় কমিটি 11 সদস্যের।
ভাঙনের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বয়ান আলাদা:
নেতার নামেও একটি অমিল আছে: জানুয়ারি 2018-র The Daily Star প্রতিবেদনে আহ্বায়কের নাম “Tapan Kanti Chakma”, মে 2018-র প্রতিবেদনগুলোতে “Tapan Jyoti Chakma”। আমাদের আর্কাইভের “ঐতিহাসিক তিনটি দলিল…” লেখায় ঘটনাটির উল্লেখ এক বাক্যে: “অতি সম্প্রতি ইউপিডিএফও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।”
চুক্তির পর থেকে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকেরা একে অপরের হামলায় নিহত হচ্ছেন বলে প্রতিটি দলই অভিযোগ করে; নিচে প্রতিটি অভিযোগের পাশে অপর পক্ষের জবাব রাখা হয়েছে, যেখানে উৎসে তা আছে। মে 2018-তে The Daily Star-কে জনসংহতি সমিতি বলে তাদের 300-র বেশি, ইউপিডিএফ বলে তাদের প্রায় 280 জন নিহত হয়েছেন। স্বাধীন কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফের ভাষ্য: চুক্তির সমালোচনার জবাবে সমিতিই প্রথম সহিংসতা শুরু করে। 2006-এর সাক্ষাৎকারে Rabi Shankar Chakma বলেন, 4 এপ্রিল 1998 তারিখে, অস্ত্র সমর্পণের পরপরই, চুক্তির সমালোচনা করায় দলের দুজনকে হত্যা করা হয় (দলের সাইটের ছবির পরিচিতিতে তাঁদের নাম Pradip Lal Chakma ও Kusum Priya Chakma, স্থান লতিবান); তিনি আরও বলেন, সমিতি তার কংগ্রেসে ইউপিডিএফকে নির্মূল করার প্রস্তাব নিয়েছে। দলের সময়রেখা লেখে, 2001-এর নির্বাচনের আগে সমিতির হাতে ইউপিডিএফের পাঁচ সদস্য-সমর্থক নিহত হন।
জনসংহতি সমিতির ভাষ্য: দলের সাইট ঘটনাগুলোকে বলে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের “armed-terrorism”, যা সমিতিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। The Daily Star-কে (মে 2018) সমিতির সজীব চাকমা বলেন, চুক্তির পর থেকে সমিতির 300-র বেশি নেতা-সমর্থক নিহত হয়েছেন। ইউপিডিএফের ওপরের নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর (4 এপ্রিল 1998, কংগ্রেসের প্রস্তাব) জবাবে সমিতির কোনো বক্তব্য পড়া উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফের “appeal to the JSS” দলিল অনুযায়ী 23 সেপ্টেম্বর 2000 তারিখে দুই দলের আলোচনায় ইউপিডিএফ তিন দফা প্রস্তাব দেয়: হামলা বন্ধ, ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলন, এবং একটি “Jumma National United Front” গঠন। দলিলটি বলে, সহিংসতা বন্ধ হলে চুক্তি বাস্তবায়নে সমিতির চাপ-প্রয়াসকে ইউপিডিএফ সমর্থন করবে, এবং প্রস্তাবের জবাব তখনো আসেনি; সময়রেখা লেখে সমিতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সময়রেখা অনুযায়ী 2006-এ দুই দল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় শান্তি বজায় রাখতে একমত হয়, পরে সমিতি তা ভাঙে; এটি ইউপিডিএফের ভাষ্য। Dhaka Tribune (18 মে 2018) লিখেছে, দুই দলের মধ্যে 2007, 2011 ও 2015-তে তিনটি সমঝোতা হয়, কোনোটিই টেকেনি। BenarNews (2022) লিখেছে, পরে দুই দল একটি ভঙ্গুর অনাক্রমণ সমঝোতায় পৌঁছায়।
| তারিখ | ঘটনা | অভিযোগ ও জবাব | উৎস |
|---|---|---|---|
| জানুয়ারি 2018-র শুরু | খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমা গুলিতে নিহত হন | ইউপিডিএফ নতুন গঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-কে দায়ী করে; ওই অংশের জবাব জানা যায়নি | The Daily Star |
| 3 মে 2018 | নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস (এম এন লারমা)-র সহসভাপতি শক্তিমান চাকমা গুলিতে নিহত হন | তাঁর সহকর্মীরা ইউপিডিএফকে দায়ী করেন; ইউপিডিএফ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে | The Daily Star (5 মে 2018) |
| 4 মে 2018 | শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে বেতছড়িতে একটি মাইক্রোবাসে হামলা; তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহত, সাতজন আহত | পুলিশের ভাষায় হামলাকারীরা “unidentified” | The Daily Star (5 মে 2018) |
মোট সংখ্যার হিসাব তিন রকম, এবং তিনটিই আলাদা জিনিস গোনে:
| সংখ্যা | কার হিসাব | কী গোনা হয়েছে |
|---|---|---|
| 300-র বেশি | জনসংহতি সমিতি (সজীব চাকমা), The Daily Star, মে 2018 | চুক্তির পর নিহত সমিতির নেতা-সমর্থক |
| প্রায় 280 | ইউপিডিএফ (মাইকেল চাকমা), The Daily Star, মে 2018; তিনি এও বলেন যে তাঁরা ঐক্য চান | নিহত ইউপিডিএফ সদস্য |
| 500-র বেশি | নাম-না-দেওয়া নিরাপত্তা সংস্থা ও অধিকার সংগঠনের বরাতে Dhaka Tribune, 6 মে 2018 | প্রায় 20 বছরে দলগুলোর সংঘাতে মোট নিহত |
| 23 ও 18 | Kapaeeng Foundation, Dhaka Tribune-এ উদ্ধৃত | যথাক্রমে 2016 ও 2017 সালে নিহত |
কারণ নিয়েও দুই রকম ব্যাখ্যা আছে। Dhaka Tribune-এ উদ্ধৃত একজন পুলিশ সুপার ও একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে বিরোধের মূলে এলাকার আধিপত্য ও চাঁদাবাজি, আদর্শ নয়। দলগুলোর নিজের দলিলে এটি চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষের রাজনৈতিক বিরোধ। আর্কাইভে তনয় দেওয়ান লেখেন, চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে পুরো অঞ্চল ভাগ হয়ে মতানৈক্য “সশস্ত্র সংঘর্ষ রূপ পরিগ্রহ করে”।
দলের বাইরে থাকা মানুষের কথা আছে ধীমান ওয়াংঝার পার্বত্য চট্টগ্রাম: একটি চৌ-খণ্ডিত রক্তাক্ত জনপদ লেখায়: “বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে চারটি আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘাতে বহু জুম্ম ভ্রাতা-পিতা-সন্তানের জীবন অকালে ঝরে পড়ছে”; তিনি এও লেখেন, তিন-চারটি দলকে চাঁদা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। গৌতম কুমার চাকমা তাঁর লেখা শেষ করেছেন এই আহ্বানে: “আর নয় গৃহযুদ্ধ”।
মে 2018-র পরের দুটি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এভাবে এসেছে। The Daily Star-এর 28 মে 2018-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তিনজন গুলিতে নিহত হন, দুজন ইউপিডিএফের সদস্য ও একজন দলটির যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের; রাঙামাটি ইউপিডিএফের একজন সংগঠক এর জন্য জেএসএস (এম এন লারমা)-কে দায়ী করেন, আর ওই দলের একজন মুখপাত্র দায় অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে ঘটে থাকতে পারে। bdnews24.com-এর 7 জুলাই 2020-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেদিন সকালে বান্দরবানের বাঘমারায় জেএসএস (এম এন লারমা)-র ছয়জন নিহত হন; দলটির বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা এর জন্য মূল জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেন। মূল জনসংহতি সমিতির তাৎক্ষণিক বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে নেই।
দুই দলের বর্তমান অবস্থান পাশাপাশি দেখার একটি সুযোগ দেয় সেপ্টেম্বর 2026-এর একটি ঘটনা। 10 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। দুই দলই উদ্যোগটির সমালোচনা করে বিবৃতি দেয়, এবং দুই বিবৃতিতেই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভরতার আপত্তি আছে। পার্থক্য দাবিতে।
| জনসংহতি সমিতি | ইউপিডিএফ | |
|---|---|---|
| কোথায়, কবে | দলের তথ্য ও প্রচার বিভাগের বিবৃতি, সেপ্টেম্বর 2026 | সভাপতি প্রসিত খীসার বিবৃতি, 12 সেপ্টেম্বর 2026 (Dhaka Mail ও অন্য সংবাদমাধ্যমে; দলের সাইটের UPDF in Media পাতায় সংকলিত) |
| মূল আপত্তি | কমিটিগুলো চুক্তিকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে গঠিত; সমস্যাটিকে রাজনৈতিক না দেখে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদের চোখে দেখা হচ্ছে; কাঠামোয় সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা | একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক সমস্যাকে সাধারণ আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার চেয়ে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে জোর |
| কাদের বাদ পড়ার কথা বলে | আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন জেলা পরিষদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাখা হয়নি, কেবল পরামর্শের ভূমিকায়; চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে সমিতি উপেক্ষিত; তিন সার্কেল প্রধান বাদ | প্রথাগত নেতা, অর্থাৎ রাজা, হেডম্যান ও কারবারিরা বাদ; বদলে সরকার-মনোনীত জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও আমলাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা |
| দাবি | তিন কমিটি বাতিল; চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি, টাস্কফোর্স, ভূমি কমিশন পুনর্গঠন; চুক্তি বাস্তবায়নের সময়বদ্ধ রোডম্যাপ | “অপারেশন উত্তরণ” ও “১১ দফা নির্দেশনা” প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো; সেনা ও সেটলার প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ |
সমিতির বিবৃতিতে সরকার, নির্বাচন ও মন্ত্রিত্ব নিয়ে যেসব তথ্য আছে সেগুলো এখানে নেওয়া হয়নি; সেগুলো দলটির বিবৃতিতেই পড়া যাবে।
ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। দলের নিজের সাইট অনুযায়ী এটি 26 ডিসেম্বর 1998 তারিখে ঢাকায় একটি প্রস্তুতি সম্মেলনের শেষে গঠিত হয়, 2 ডিসেম্বর 1997-এর পার্বত্য চুক্তি নিয়ে গুরুতর আপত্তি থেকে। গঠনতন্ত্রের দ্বিতীয় ধারায় লক্ষ্য লেখা: শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জন।
পূর্ণরূপ United People’s Democratic Front, বাংলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। দলের ইশতেহার অনুযায়ী 25–26 ডিসেম্বর 1998-এর প্রস্তুতি সম্মেলনের যৌথ আয়োজক ছিল পাহাড়ি গণপরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। জুমজার্নালের আর্কাইভের একটি লেখা বলে, দলটি গঠিত হয় মূলত প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে, প্রথম দুটি সংগঠনের একাংশ নিয়ে।
প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)। দলের সাইট অনুযায়ী 24 জুন 1972 তারিখে রাঙামাটির ইন্দ্রপুরী সিনেমা হলে প্রথম জাতীয় সম্মেলনে 60 সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি হয়, যেখানে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও Birendra Kishore Roaza সভাপতি। জুমজার্নালের সংকলন অনুযায়ী লারমা 1973 সালে সভাপতি হন।
দুই সালই ছাপা আছে। জনসংহতি সমিতির নিজের সাইট, জুমজার্নালের আর্কাইভে গৌতম কুমার চাকমার লেখা এবং Banglapedia-র Shanti Bahini ভুক্তি বলে 15 ফেব্রুয়ারি 1972। Banglapedia-র Parbatya Chattagram Jana-Samhati Samiti ভুক্তি, English Wikipedia-র মূল পাঠ এবং “জীবন গাঁথায় এম এন লারমা” ধারাবাহিকের ষষ্ঠ পর্ব বলে 15 ফেব্রুয়ারি 1973।
মূল পার্থক্য 1997-এর পার্বত্য চুক্তি নিয়ে। জনসংহতি সমিতি চুক্তির স্বাক্ষরকারী এবং তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। ইউপিডিএফ মনে করে চুক্তি জুম্ম জনগণের মৌলিক দাবি পূরণ করেনি; তারা চায় পূর্ণস্বায়ত্তশাসন, অর্থাৎ পররাষ্ট্র, মুদ্রা, প্রতিরক্ষা ও ভারী শিল্প ছাড়া সব বিষয় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একটি আঞ্চলিক সংস্থার হাতে। সমিতি গঠিত 1972 সালে (দলের হিসাবে), ইউপিডিএফ 1998 সালে।
দলের নিজের দলিল অনুযায়ী আপত্তির মূল জায়গাগুলো হলো: আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ নেই; জাতিসত্তাগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই; প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি নেই; বসতি স্থাপনকারী প্রত্যাহার নিয়ে চুক্তি নীরব; সেনা ক্যাম্প সরানোর সময়সীমা নেই; মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহির কথা নেই। দলটি তবু বলে, তারা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে দাঁড়ায়নি।
ইউপিডিএফের দাবিনামার প্রথম দফা অনুযায়ী পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মানে পররাষ্ট্র, মুদ্রা, প্রতিরক্ষা ও ভারী শিল্প ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব বিষয় একটি আঞ্চলিক সংস্থার হাতে দেওয়া, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে। দাবিনামাটি 26–28 নভেম্বর 2006 তারিখে ঢাকায় দলের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে গৃহীত হয়।
শান্তিবাহিনী জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা। Banglapedia ও জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী এটি গঠিত হয় 7 জানুয়ারি 1973 তারিখে; Banglapedia অনুযায়ী সশস্ত্র তৎপরতা শুরু হয় 1976-এর গোড়ায়। 2 ডিসেম্বর 1997-এর চুক্তির পর সদস্যরা অস্ত্র জমা দেন, আর Banglapedia অনুযায়ী 1999 সালে সমিতির ষষ্ঠ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়ে বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়।
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা; 1970 সালে প্রাদেশিক পরিষদে এবং 1973 সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। সমিতির ভেতরের বিভাজনের সময় 10 নভেম্বর 1983 তারিখে তিনি নিহত হন; জুমজার্নালের ধারাবাহিক অনুযায়ী স্থান খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার খেদারাছড়া। তাঁর পূর্ণ জীবনী জুমজার্নালের আলাদা লেখায় আছে।
সন্তু লারমার পুরো নাম জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা; তিনি এম এন লারমার ছোট ভাই। Banglapedia অনুযায়ী 1985 সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বেই সমিতি 2 ডিসেম্বর 1997-এর চুক্তিতে পৌঁছায়। দলের সাইটে তিনি সভাপতি; তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদেরও প্রধান।
জেএসএস (এম এন লারমা) জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে আসা একটি অংশ। জনসংহতি সমিতির সাইট বলে তারা 2007–2008 সালের জরুরি অবস্থার সময় সরে যায়; The Daily Star-এর সাময়িকী এপ্রিল 2010-এ আলাদা কাউন্সিল ও প্রকাশ্য বিভাজনের খবর দেয়; ইউপিডিএফের সময়রেখা ভাঙনটি রাখে 2006 সালে। নেতা হিসেবে The Daily Star তিনটি নাম দেয়: Rupayan Dewan, Sudhasindhu Khisa ও Tatindra Lal Chakma।
The Daily Star (5 মে 2018) অনুযায়ী ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) 15 নভেম্বর 2017 তারিখে খাগড়াছড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউপিডিএফ থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেয়; নেতৃত্বে ছিলেন তপন জ্যোতি চাকমা। ইউপিডিএফের পক্ষ বলে তাঁরা শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত। 4 মে 2018 তারিখে রাঙামাটির বেতছড়িতে এক হামলায় তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহত হন।
এই পাতার উৎসগুলোতে চারটি আঞ্চলিক দলের নাম আসে: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (1972), ইউপিডিএফ (1998), জেএসএস (এম এন লারমা) (2006 থেকে 2010-এর মধ্যে) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) (2017)। জুমজার্নালের আর্কাইভে ধীমান ওয়াংঝাও “চারটি আঞ্চলিক দলের” সংঘাতের কথা লেখেন। BenarNews (2022) আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উল্লেখ করে, যেগুলো এই পাতার বিষয় নয়।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:ইতিহাস ও রাজনীতি
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।