Last updated Oct 21st, 2026
1

মধুপুর শালবনে গারো (নিজেদের ভাষায় মান্দি), কোচ ও বর্মন পরিবারগুলোর সঙ্গে বন বিভাগের বিরোধ ছয় দশকের পুরোনো, আর তার কেন্দ্রে আছে জমির দলিল না থাকা। 1950-এর দশকে জমিদারি থেকে বন বিভাগের হাতে যাওয়া, জাতীয় উদ্যান ঘোষণা, 2000–2004 সালের ইকোপার্ক প্রকল্প, 3 জানুয়ারি 2004-এ গুলিতে পীরেন স্নালের মৃত্যু, 2016 সালে 9,145 একর সংরক্ষিত বন ঘোষণা এবং হাজার হাজার বন মামলা — মধুপুর গারো উচ্ছেদ ও বন মামলার এই ধারাবাহিকতা নিচে নথি ধরে সাজানো হলো।
সবচেয়ে নতুন অধ্যায়টি 2026 সালের জানুয়ারির: টাঙ্গাইলের বন আদালত 88টি বন মামলা প্রত্যাহার করে 387 জন আসামিকে খালাস দিয়েছে, যাঁদের 231 জন গারো ও কোচ। তবু একই বছরের মার্চে মধুপুরে এক গারো পরিবারের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মামলা কমেছে, জমির প্রশ্নটি যেখানে ছিল সেখানেই আছে।
এই লেখায়
মধুপুর শালবন টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায়, ঢাকা থেকে প্রায় 125 কিলোমিটার উত্তরে, টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে। ফিলিপ গাইনের হিসাবে মধুপুরের শালবনের মোট আয়তন 45,565.18 একর; এর মধ্যে 11,671.21 একর সংরক্ষিত বন, বাকি 33,893.97 একর বন আইনের 4 ও 6 ধারায় “ঘোষিত” বন। জাতীয় উদ্যান এর ভেতরের একটি অংশ।
তিনটি শব্দ আলাদা করে বোঝা দরকার, কারণ বিরোধের প্রতিটি পর্ব আলাদা আইনি পরিচয়ের জমিতে ঘটেছে। মধুপুর গড় বলতে টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলাজুড়ে (মধুপুর, সখীপুর, ঘাটাইল, মির্জাপুর, কালিহাতী) ছড়ানো শালবন অঞ্চল বোঝায়; মধুপুর জাতীয় উদ্যান বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় থাকা সুরক্ষিত এলাকা; আর সংরক্ষিত বন হলো বন আইনের 20 ধারায় চূড়ান্তভাবে ঘোষিত জমি।
উৎসভেদে আয়তনের হিসাব মেলে না, তাই একটি ছকে পাশাপাশি রাখা হলো।
| কী মাপা হচ্ছে | পরিমাণ | উৎস |
|---|---|---|
| মধুপুর গড়ের ঐতিহ্যগত শালবন (টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলা) | 122,876 একর; এর 55,476 একর সংরক্ষিত | IPS, 2021 (বন বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত) |
| মধুপুর উপজেলার শালবন | 45,565.18 একর | ফিলিপ গাইন, ডেইলি স্টার, 2021 |
| মধুপুর বন (বন বিভাগ) | প্রায় 46,000 একর | প্রথম আলো (ইংরেজি), 2017 |
| মধুপুর জাতীয় উদ্যান | 20,837 একর | বাংলাপিডিয়া |
| মধুপুর জাতীয় উদ্যান | 8,436 হেক্টর (20,850 একর) | ইংরেজি উইকিপিডিয়া |
| 2016 সালে চূড়ান্ত সংরক্ষিত বন | 9,145.07 একর (অরণখোলা মৌজা) | গাইন, 2021; ঢাকা টাইমস, 2019; IPS, 2021 |
| রাবার বাগান | প্রায় 7,800 একর / প্রায় 7,000 একর | প্রথম আলো, 2017 / ডেইলি স্টার বাংলা, 2026 |
| বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প | প্রায় 1,000 একর | প্রথম আলো, 2017 |
| সামাজিক বনায়ন হয়েছে এমন জমি | 4,551.86 একর | ফিলিপ গাইন, ডেইলি স্টার বাংলা, 2026 (মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উদ্ধৃত) |
প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদনে বন বিভাগের বরাতে বলা হয়েছে, মধুপুর বনের প্রায় 25,000 একর বেদখলে। IPS-এর 2021 সালের প্রতিবেদনে টাঙ্গাইল বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুরো গড়ের প্রায় 80,000 একর বন গাছ কাটা ও দখলে হারিয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বেদখল জমির হিসাব 12,835.80 একর, ফিলিপ গাইনের 2026 সালের লেখা অনুযায়ী। তিনটি সংখ্যা তিন রকম এলাকার, তাই একটিকে অন্যটির সঙ্গে মেলানো যায় না।
মধুপুর শালবনের পুরোনো বাসিন্দা গারো, কোচ ও বর্মন জনগোষ্ঠী। গারোরা নিজেদের মান্দি বলেন, আর আচিক ভাষায় মধুপুর বনকে বলেন “আবিমা”। SEHD-এর জরিপ অনুযায়ী মধুপুর উপজেলায় গারো 17,327 জন (2018) এবং কোচ ও বর্মন 3,427 জন (2012); উপজেলার মোট জনসংখ্যা 296,729 (2011 শুমারি)।
অধিকাংশ পরিবারের জমিতে কোনো দলিল নেই। SEHD-এর 44টি মূল বনগ্রামের 11,048টি পরিবারের জরিপে দেখা গেছে, বসতভিটার সিএস বা আরওআর দলিল আছে মাত্র 4.19% গারো পরিবারের, আর 13% বাঙালি পরিবারের। ফিলিপ গাইন লিখেছেন, এর মানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিবারের জমিতে কেবল প্রথাগত অধিকার আছে। বন বিভাগ আর বনগ্রামবাসী একই জমির দাবিদার — বিরোধের মূল এখানেই।
জনসংখ্যার ভারসাম্যও বদলেছে। আমাদের গারো সমাজ বিষয়ক লেখা প্রথম আলোর 2019 সালের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, SEHD 2017–2018 সালে 44টি বনগ্রামে 47,726 জন মানুষ পায়, যার 64.61% বাঙালি আর 35.39% গারো। গারো সমাজের ভেতরের কাঠামো — মাহারি, নকনা, আখিং জমি — নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের লেখা মাহারি ও নকমা: গারো সমাজ ভেতর থেকে কীভাবে চলে-তে। সমতলের অন্য জাতিগুলোর সঙ্গে তুলনা পাওয়া যাবে সমতলের আদিবাসী জাতিগুলোর তালিকায়।
কতজন আদিবাসী মধুপুরে থাকেন, তার সংখ্যাও উৎসভেদে আলাদা। আমাদের আর্কাইভের একটি লেখা (ভূমিই জীবন, ভূমিই পরিচয়, ভূমিই অস্তিত্বের প্রতীক) এবং 2022 সালে আদিবাসী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর লিখিত বক্তব্য বলছে, মধুপুর বনাঞ্চলে 25,000-এর বেশি গারো, কোচ ও বর্মন বাস করেন। 2019 সালে ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন এ অঞ্চলের আদিবাসী জনসংখ্যা প্রায় 20,200 বলেছে।
1950 সাল পর্যন্ত মধুপুরের বন ছিল জমিদারের, আর গারোরা জমিদারকে খাজনা দিতেন। ফিলিপ গাইনের 2021 সালের লেখা অনুযায়ী, জমিদারি উচ্ছেদের পর 1950 সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে গারোরা জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি; 1951 সাল থেকে কয়েক বছরের মধ্যে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের বন বন বিভাগের হাতে চলে যায়।
গাইন আরও পেছনের ইতিহাস দিয়েছেন। সতেরো শতকে মুঘল সম্রাট আটিয়া বন (টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়) জায়গির হিসেবে করটিয়ার পন্নী পরিবারকে দেন। ব্রিটিশদের সূর্যাস্ত আইনে নাটোরের মহারাজা আটিয়া ও আট আনি এস্টেট কিনে নেন। ব্রিটিশ সরকার 1928 সালে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের বনের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তার আগে বন ব্যক্তিমালিকানায় ছিল। জমিদারেরা বন নিয়ন্ত্রণ করেন 1950 পর্যন্ত।
IPS-কে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদকও একই কারণ বলেছেন: 1950 সালের আইন পাস হওয়ার পর জমিদারেরা গারোদের ভূমি অধিকার দেননি, তাই তাঁরা পূর্বপুরুষের জমির অধিকার হারান। সমতলের আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরে সেই আইনের 97 ধারা কী বলে, তা আছে আমাদের লেখা প্রজাস্বত্ব আইনের 97 ধারা-য়।
মধুপুর কবে জাতীয় উদ্যান হলো, তা নিয়ে উৎসগুলো তিনটি সাল দেয়। বাংলাপিডিয়া প্রতিষ্ঠাকাল বলছে 1962; ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে পাকিস্তান সরকার 1962 সালে জাতীয় উদ্যান করলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় 1982 সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে; আর IPS-এর 2021 সালের প্রতিবেদন বলছে 1956 সালে পাকিস্তান সরকার একে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে।
প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে 2026 সালের মার্চে প্রকাশিত একটি কলামও বলছে, এলাকাটি পাকিস্তান আমলে জাতীয় উদ্যান হয়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া IUCN-এর 1990 সালের দক্ষিণ এশীয় সুরক্ষিত এলাকার তালিকা উদ্ধৃত করে আরও দুটি তথ্য দিয়েছে: 1968 সালে প্রায় 4,500 গারোকে উদ্যানের ভেতরে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়, আর 1989 সালে উদ্যান এলাকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় 14,000।
উদ্যানটির পরিবেশগত চেহারা বাংলাপিডিয়া এভাবে দিয়েছে: 176 প্রজাতির উদ্ভিদ (73টি গাছ, 22টি গুল্ম, 27টি লতা, 45টি ঔষধি, 8টি ঘাস, 1টি পাম) এবং প্রায় 190 প্রজাতির প্রাণী (21টি স্তন্যপায়ী, 140টি পাখি, 29টি সাপ)। উইকিপিডিয়া লিখেছে, বনের প্রায় 40% এলাকা শাল গাছে ঢাকা। ভূপ্রকৃতি সমতল-চূড়া টিলা (“চালা”) আর মাঝের নিচু জমি (“বাইদ”)। এই বাইদেই গারো ও কোচ পরিবারগুলো ধান চাষ করেন — পরে কৃত্রিম হ্রদের বিরোধ এই বাইদ জমি নিয়েই।

বন আইন, 1927 অনুযায়ী সংরক্ষিত বন ঘোষণা তিন ধাপে হয়। 4 ধারায় সরকার গেজেটে অভিপ্রায় জানায় ও একজন বন বন্দোবস্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে; 6 ধারায় সেই কর্মকর্তা আশপাশের প্রতিটি গ্রামে বাংলায় ঘোষণা দিয়ে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দাবি জমা দিতে বলেন; সব দাবি ও আপিল নিষ্পত্তির পর 20 ধারায় চূড়ান্ত গেজেট হয়।
মধুপুরের বিরোধ বুঝতে আইনের তিনটি বিধান গুরুত্বপূর্ণ। আইনের পাঠ (2000 সাল পর্যন্ত সংশোধিত, UNODC-এর সংকলন) থেকে:
মধুপুরের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বিরোধ ঠিক এই ধাপগুলো নিয়ে। ডেইলি স্টারের 2016 সালের সম্পাদকীয় অনুযায়ী বন বিভাগ বলেছে, তারা 20 ধারার সব নিয়ম মেনেছে, প্রাথমিক গেজেট 1984 সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং তখন কেউ আপত্তি করেনি। স্থানীয়রা বলছেন, 1984 সালে জেলা প্রশাসকের শুনানিতে তাঁদের ডাকা হয়নি। দাবি না জানালে 9 ধারায় অধিকার বিলুপ্ত হয় — তাই শুনানির খবর কে পেয়েছিলেন, সেটিই আসল প্রশ্ন।
মধুপুরের প্রাকৃতিক শালবনের বড় অংশ আশির দশক থেকে বাগানে বদলে গেছে। ফিলিপ গাইনের হিসাবে শালবন ধ্বংসের দুটি প্রধান কারণ 1986 সালে শুরু হওয়া রাবার চাষ এবং 1989 সাল থেকে সামাজিক বনায়ন। বন বিভাগ সূত্রে ডেইলি স্টার বাংলা জানিয়েছে, 1986 সালে গজারি বনের প্রায় 7,000 একর জমিতে “চাঁদপুর রাবার এস্টেট” করা হয়, যা এখনো লাভজনক হয়নি।
সামাজিক বনায়ন এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) সহজ ঋণে দুটি প্রকল্পে: 1989 সালে শুরু হওয়া থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন প্রকল্প (TANDP) এবং ফরেস্ট্রি সেক্টর প্রজেক্ট। গাইন লিখেছেন, প্রাকৃতিক বন পরিষ্কার করে আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাস লাগানো হয়, আর ADB 2007 সালে বাংলাদেশের বন খাত থেকে সরে যায়। এর পরে-পরে কলা, আনারস ও মসলার ব্যবসায়ীরা বনগ্রামে ঢোকেন।
বন বিভাগ এই বিবরণ মানেনি। 2018 সালের ডেইলি স্টার প্রতিবেদনে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী বলেছেন, সামাজিক বনায়ন হয়েছে কেবল সেসব জমিতে যেখানে প্রাকৃতিক বন ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল না। গ্রামবাসীরা পাল্টা বলছেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গাছ কাটা শুরু হয় সামাজিক বনায়নের সঙ্গে সঙ্গেই। প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদনে টাঙ্গাইলের এক বন কর্মকর্তা আকাশিয়া-ইউক্যালিপটাস লাগানোকে বাংলাদেশের বাস্তবতা বলে সমর্থন করেছেন।
এই রূপান্তরের হিসাব পরে মামলার হিসাবেও ধরা পড়ে। টাঙ্গাইল বন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ডেইলি স্টারকে বলেছেন, 1991–1992 সালে যখন বাগানের জন্য প্রাকৃতিক বনের টুকরো নির্বিচারে কাটা হচ্ছিল, তখন আদালতে বন মামলা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। মন্ত্রণালয় 15 মে 2025-এর প্রজ্ঞাপনে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে বলে গাইন লিখেছেন।
2000 সালের শেষে বন বিভাগ “Forest Conservation and Eco-tourism” নামে একটি প্রকল্প নেয়, যার অধীনে মধুপুর বনের প্রায় 3,000 একর জমি দেয়াল দিয়ে ঘেরার কথা ছিল। গারো ও কোচ বাসিন্দারা একে জীবিকার জন্য হুমকি মনে করে প্রতিবাদ করেন; বন বিভাগ 2003 সালের জুলাইয়ে কাজ স্থগিত রাখে, আর 3 জানুয়ারি 2004-এ আবার দেয়াল তোলা শুরু করে।
দেয়ালটি কেন আপত্তির বিষয় ছিল, তা অধিকারের তদন্ত প্রতিবেদনে (ডেইলি স্টার, 9 জানুয়ারি 2004) আদিবাসীদের বক্তব্যে আছে: প্রকল্পটি মধুপুর গড়ের 3,000 একর জায়গা দেয়ালে আলাদা করে ফেলত, অথচ এই বন থেকেই তাঁরা খাবার ও জ্বালানি সংগ্রহ করেন। আমাদের আর্কাইভের লেখা বন, পাহাড়, পরিবেশ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী লিখেছে, প্রকল্প নেওয়ার আগে বা বাস্তবায়নের সময় আদিবাসী বা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
সেই লেখায় মধুপুর ইকোপার্ককে শেরপুরের মধুটিলা, মাধবকুণ্ড-মুরইছড়া, গজনী, খাগড়াছড়ির আলুটিলা ও বান্দরবানের চিম্বুক ইকোপার্কের সঙ্গে এক তালিকায় রাখা হয়েছে — সবগুলোই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়। ডেইলি স্টারের 9 জানুয়ারি 2004-এর সম্পাদকীয় প্রশ্ন তুলেছিল, যেখানে বন আগে থেকেই আছে, সেখানে ইটের দেয়াল দিয়ে “ইকো পার্ক” বানানোর যুক্তি কী — আর জানিয়েছিল, সরকার যুক্তিটি প্রকাশ করেনি।
3 জানুয়ারি 2004 দুপুরে মধুপুরের জালাবাদা এলাকায় দেয়াল নির্মাণের প্রতিবাদে গারোদের মিছিলে পুলিশ ও বনরক্ষীরা গুলি চালায়। গুলিতে গারো যুবক পীরেন স্নাল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতের সংখ্যা ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে 25, ডেইলি স্টার বাংলার 2023 সালের প্রতিবেদন ও আমাদের আর্কাইভের লেখায় প্রায় 30।
কী ঘটেছিল, তার দুটি বয়ান পাওয়া যায় — দুটোই 9 জানুয়ারি 2004-এর ডেইলি স্টারে, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তদন্তের সূত্রে।
ঘটনার পরদিনের প্রথম প্রতিবেদনে (ডেইলি স্টার, 4 জানুয়ারি 2004) অন্তত দুজন গারো যুবক নিহত হওয়ার কথা লেখা হয়েছিল, যার মধ্যে উৎপল নকরেকের নামও ছিল। পরের সব প্রতিবেদন বলছে, নিহত একজন — পীরেন স্নাল। উৎপল নকরেক বেঁচে যান; প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি তখন থেকে হুইলচেয়ারে, আর আমাদের আর্কাইভের লেখায় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র, যিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিরতরে পঙ্গু হন।
ডেইলি স্টারের প্রথম প্রতিবেদনে পীরেনের বয়স লেখা হয়েছিল 20; বাবার নাম নেজেন নকরেক, গ্রাম জয়নাগাছা। ঘটনার পর সরকার দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করে দেয় (ডেইলি স্টার, 2008)। প্রতি বছর 3 জানুয়ারি গারো সংগঠনগুলো মধুপুরে পীরেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়; 2023 সালে 19তম মৃত্যুবার্ষিকীর সভা হয় জয়নাগাছা স্কুল প্রাঙ্গণে।
পীরেন স্নাল হত্যার বিচার হয়নি। ঘটনার পর মোট তিনটি মামলা হয় — মধুপুর থানার ওসির, এক হাবিলদারের, আর পীরেনের বাবার। বাবার মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদন বলেছিল পুলিশ ও বনরক্ষীরা দায়ী নন; নারাজি আবেদনের শুনানি তিন বছরে 17 বার পিছিয়েছে; আর ডেইলি স্টার বাংলার 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালত শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেন।
ডেইলি স্টারের 2004 ও 2008 সালের প্রতিবেদন মিলিয়ে ধাপগুলো এমন:
| তারিখ | কী হলো |
|---|---|
| জানুয়ারি 2004 | মধুপুর থানার ওসি বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন; একই থানার এক হাবিলদার 500–600 জন আদিবাসীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও সম্পদ ভাঙচুরের মামলা করেন |
| 14 জানুয়ারি 2004 | পীরেনের বাবা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সহায়তায় টাঙ্গাইলের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কয়েকজন বন কর্মকর্তা, বনরক্ষী ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন |
| 17 নভেম্বর 2004 | তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদন: পুলিশ ও বনরক্ষীরা পীরেনের মৃত্যুর জন্য দায়ী নন। একই দিন বাবা নারাজি আবেদন করেন |
| 2004–2007 | নারাজি আবেদনের শুনানি তিন বছরে 17 বার পেছায় |
| 7 ও 23 আগস্ট 2007 | জেলা ও দায়রা জজের আদেশে দুটি মামলার (বাবার ও পুলিশের) নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মধুপুর থানায় পাঠানো হয় |
| জানুয়ারি 2008 | থানা বাবার মামলা রেকর্ড না করে আদালতে ফেরত পাঠায়; যুক্তি — একই ঘটনায় পুলিশের মামলা আছে, এক ঘটনায় দুটি মামলা হয় না। চার বছর পরও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পরিবার আসামিদের বাঁচাতে “ইচ্ছাকৃত” কালক্ষেপণের অভিযোগ তোলে |
| পরবর্তী সময় | বাবার করা হত্যা মামলা আদালত খারিজ করেন (ডেইলি স্টার বাংলা, 2023; খারিজের তারিখ উল্লেখ নেই) |
অধিকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় আইনজীবীদের মত উদ্ধৃত হয়েছিল: পুলিশ ও বনরক্ষীরা একসঙ্গে গুলি চালিয়েছে, তাই বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ওসি নিজের বাহিনীর দায় এড়াতে পারেন না। সে সময় আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল ইকোপার্ক বাতিল, নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার ও স্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত। 2023 সালের স্মরণসভায় বক্তারা আবারও পীরেন হত্যার বিচার এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন চেয়েছেন।
2007 সালের জরুরি অবস্থার সময় মধুপুরে দুটি বড় ঘটনা ঘটে। 18 মার্চ 2007 ইকোপার্কবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত গারো নেতা Choles Ritchil (কিছু ইংরেজি উৎসে বানান Cholesh Richil) যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়ে সেদিনই মারা যান। আর ফিলিপ গাইনের লেখা অনুযায়ী একই সময়ে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় বন বিভাগ প্রায় 5,000 একর জমির কলাবাগান কেটে বনভূমি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করে।
ডেইলি স্টারের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের 3 এপ্রিল 2007-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 41 বছর বয়সী এই নেতাকে কালীবাড়ি বাজারে আটক করে কাকরাইদের সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়; তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। সরকারি মুখপাত্রদের কাছ থেকে দুটি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসে — একটিতে হৃদরোগ, অন্যটিতে পালানোর চেষ্টায় মৃত্যু। অপমৃত্যুর মামলা থাকার কথা বলে থানা তাঁর স্ত্রীর এজাহার নেয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) 2008 সালের মার্চে জানায়, গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তখনো প্রকাশিত হয়নি।
উচ্ছেদের দিকটি IPS-এর 2021 সালের প্রতিবেদনেও আছে: জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেছেন, 2007–2008 সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মধুপুর বন থেকে বহু আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। গাইন লিখেছেন, সে সময় কয়েকশ একর জমিতে শালের চারাও লাগানো হয়েছিল, কিন্তু বন বিভাগ শেষ পর্যন্ত জমি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়।
15 ফেব্রুয়ারি 2016 পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বন আইনের 20 ধারায় গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে মধুপুর গড়ের 9,145.07 একর জমিকে চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে। ঢাকা টাইমসের 2019 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই জমির ভেতরে পড়েছে গারো ও কোচদের 13টি গ্রাম, যেখানে 1,083টি পরিবারের 6,077 জনের বসতবাড়ি এবং প্রায় আড়াই হাজার একর চাষের জমি।
ঢাকা টাইমস গ্রামগুলোর নাম দিয়েছে: গায়রা, জলই, টেলকি, সাধুপাড়া, জালাবাদা, কাকড়াগুনি, বেদুরিয়া, জয়নাগাছা, বন্দরিয়া, কেজাই, আমলীতলা, পনামারি ও গাছাবাড়ি। ফিলিপ গাইন লিখেছেন, নতুন সংরক্ষিত বনের 13টি গ্রামের মধ্যে গাছাবাড়ি ও আমলীতলা ছাড়া বাকি সবগুলো সম্পূর্ণ গারো ও কোচ গ্রাম। পীরেন স্নালের গ্রাম জয়নাগাছা আর গুলির ঘটনাস্থল জালাবাদা — দুটিই এই তালিকায়।
প্রজ্ঞাপনের খবর কখন জানা গেল, তা নিয়েও কথা আছে। আমাদের আর্কাইভের লেখা বলছে, জনগণকে না জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয় এবং আদিবাসীরা খবরটি জানেন মে মাসে। ডেইলি স্টারের জুলাই 2016-এর সম্পাদকীয় লিখেছিল, গারো, কোচ, বর্মন ও বাঙালি মিলিয়ে প্রায় 6,000 মানুষ উদ্বেগে আছেন, আর বন বিভাগ আশ্বাস দিয়েছে তাঁদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেই। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই গ্রামগুলোর মানুষ খাজনা দিতে বা জমির কাগজ সংশোধন করতে পারছেন না।
2022 সালের মার্চে আদিবাসী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর লিখিত বক্তব্যে (ডেইলি স্টার বাংলা) বলা হয়, মধুপুরের গারো-কোচ-বর্মন ও সাধারণ মানুষ সংরক্ষিত বন ঘোষণার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আপিলটির নম্বর বা অবস্থা ওই প্রতিবেদনে নেই।
টাঙ্গাইল বন আদালতের 2017 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিসেম্বর 2017-এ বিচারাধীন বন মামলা ছিল 4,954টি, আগের বছর 5,350টি। SEHD-এর জরিপে শুধু মধুপুরের 44টি গ্রামেই 2017 সালে বিচারাধীন মামলা পাওয়া যায় 3,029টি। পুরো জেলার সব বন মামলা চলে একটিই আদালতে, যা সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর 2:30 থেকে 4:00 পর্যন্ত বসে।
ফিলিপ গাইনের 2018 সালের ডেইলি স্টার প্রতিবেদন বন আদালতের 2017 সালের হিসাব বিস্তারিত দিয়েছে:
| টাঙ্গাইল বন আদালত, 2017 | সংখ্যা |
|---|---|
| বছরশেষে বিচারাধীন মামলা | 4,954 (2016-এ 5,350) |
| এর মধ্যে আমলে নেওয়া / বিচার চলছে | 2,236 / 2,718 |
| বছরে নিষ্পত্তি | 626 |
| বছরে নতুন মামলা | 230 |
| পূর্ণ বিচারে নিষ্পত্তি | 288টি মামলা: 48টিতে 175 জন দণ্ডিত, 240টিতে 837 জন খালাস |
| পূর্ণ বিচার ছাড়া নিষ্পত্তি | 338টি মামলা, 968 জন খালাস |
অর্থাৎ 2017 সালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আসামিদের মধ্যে খালাস 1,805 জন, দণ্ডিত 175 জন। দণ্ড ও খালাসের এই অনুপাত গ্রামবাসীদের একটি অভিযোগের সঙ্গে মেলে, যা প্রতিবেদনে বারবার এসেছে: মামলার অভিযোগ অস্পষ্ট বা শোনা কথার ভিত্তিতে, আর কিছু ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম তুলে মামলা দেওয়া হয়। IPS-কে এক গারো বাসিন্দা বলেছেন, সাত-আট বছরের শিশুদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
একেকজন মানুষের ওপর মামলার ভার কতটা, গাইনের প্রতিবেদনে কয়েকটি উদাহরণ আছে (এখানে নাম বাদ রাখা হলো):
মামলার ভার কমানোর একটি চেষ্টাও হয়েছিল। জুলাই 2009-এ শুরু হওয়া একটি প্রকল্পে মামলার আসামিদের “কমিউনিটি ফরেস্ট ওয়ার্কার” (CFW) হিসেবে বন পাহারায় নেওয়া হয়, সর্বশেষ গণনায় 786 জন। টাঙ্গাইলের এক সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, যিনি USAID-এর অর্থে চলা একটি প্রকল্পের পরিচালকও ছিলেন, বলেছেন 2011–2013 সালে নতুন মামলা প্রায় শূন্যে নেমেছিল। প্রকল্পের অর্থ বন্ধ হলে CFW-রা পাহারা থামান, আর তাঁদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরোনো মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়নি।

2021 সালের জানুয়ারিতে সারা দেশে বেদখল বনভূমি উদ্ধারের সরকারি পরিকল্পনার খবরে মধুপুরে আবার উচ্ছেদ-আতঙ্ক ছড়ায়, আর 2022 সালে জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আমতলীর তিন ফসলি বাইদ জমিতে বন বিভাগের কৃত্রিম হ্রদ খননের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিরোধ শুরু হয়। দুটি ক্ষেত্রেই গারো ও কোচ বাসিন্দারা সমাবেশ করে বাধা দেন।
ফিলিপ গাইনের 2021 সালের লেখায় বন বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, সারা দেশে 88,215 জনকে 3,310,907.52 একর সংরক্ষিত বনের 138,613.06 একর অবৈধ দখলে রাখার তালিকায় রাখা হয়েছে। খবরের পর মধুপুর পৌরসভায় 25 জানুয়ারি গারো ও কোচরা বড় সমাবেশ করে ইউএনওর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন; 31 জানুয়ারি জলছত্র স্কুল মাঠে গারো, বাঙালি ও কোচ মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছেদ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেন। ওই কর্মকর্তা বলেছিলেন, সংরক্ষিত বনের জমিতে থাকলেও কোনো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হবে না।
হ্রদের পরিকল্পনাটি ছিল ‘মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ইকোটুরিজম উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের অংশ। ডেইলি স্টারের 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দোখলা রেস্ট হাউসের কাছে 12 বিঘা জমিতে 800 ফুট লম্বা ও 200 ফুট চওড়া হ্রদ, চারপাশে হাঁটার পথ ও বসার জায়গা হওয়ার কথা। জমিটি শোলাকুড়ি ইউনিয়নের পীরগাছা মৌজার আমতলীতে।
ঘটনাক্রম এভাবে এগোয়: 11 নভেম্বর 2021 জলছত্রে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন; 10 মার্চ 2022 ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন; 19 মার্চ মধুপুর উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন কর্মকর্তা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সভা। জেলা প্রশাসক বলেন, চাষিদের মানবিক বিবেচনায় 5 লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 1 এপ্রিল খননকাজ উদ্বোধনের কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়ায় তা হয়নি। এপ্রিল 2022-এ দোখলা মোড়ে কয়েকশ মানুষ আবার সমাবেশ করেন।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মেনে নিয়েছিলেন, ওই জমিতে স্থানীয়রা ফসল ফলান, তবে বলেছেন জমিটি সরকারের। প্রবীণ মান্দি নেতা অজয় এ মৃ বলেছেন, তাঁরা শত শত বছর ধরে এই জমি চাষ করছেন এবং হ্রদ খননকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ মনে করেন। হ্রদটি শেষ পর্যন্ত খনন হয়েছিল কি না, তা পাওয়া সূত্রগুলোতে নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মধুপুরে তিনটি কাজ একসঙ্গে শুরু হয়: 25 ফেব্রুয়ারি 2025 থেকে 18,565 একর বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, 25 মে 2025 থেকে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প, আর 4 ডিসেম্বর 2025-এর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বন মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। 7 জানুয়ারি 2026 টাঙ্গাইল বন আদালত 88টি মামলা প্রত্যাহার করে 387 জনকে খালাস দেয়।
সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের (PID) 25 ফেব্রুয়ারি 2025-এর বিবরণ অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থা মিলে মধুপুর শালবনের 18,565 একর বনভূমির সীমানা নির্ধারণ শুরু করে। 25 মে 2025 মধুপুরের টেলকি এলাকায় শালের চারা রোপণের সময় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বেদখল জায়গা চিহ্নিত করতে সীমানা পিলার দেওয়া হচ্ছে, শালবনে বাণিজ্যিক ইউক্যালিপটাস-আকাশিয়া রোপণ বন্ধ করা হবে। একই দিন রাজাবাড়ী এলাকায় “স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা” প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন হয় (বিডিনিউজ২৪, দেশ রূপান্তর)।
ফিলিপ গাইনের 2026 সালের লেখায় মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা আছে: সামাজিক বনায়নের 4,551.86 একরের মধ্যে 3,400.95 একরে 2022-23 থেকে 2027-28 সালের মধ্যে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বেদখল 12,835.80 একরের 3,210 একরে শাল জাতীয় গাছ রোপণ, আর 2028 নাগাদ মোট 19,941.98 একরে শালবন। গাইন মাঠে গিয়ে দেখেছেন, লাগানো চারার বেশির ভাগ মারা গেছে, নতুন চারার পাশেই আনারস-কলার আবাদ চলছে। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী তাঁকে বলেছেন, আনারস বাগানের অম্লীয় মাটিতে শাল বাঁচবে না, আর “মধুপুরের মূল সমস্যা সামাজিক ও রাজনৈতিক”।
25 মে 2025 পরিবেশ উপদেষ্টা মধুপুরে বনবাসীদের বিরুদ্ধে 129টি মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। 4 ডিসেম্বর 2025 মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় অন্য সংখ্যায়: বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী 503 জন আসামির (315 জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর, 188 জন বাঙালি) মোট 136টি মামলা পর্যালোচনা করে 88টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়; বাকি 48টি এক বছর পর শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার হবে।
একই সভায় আরও দুটি সিদ্ধান্ত হয়। মধুপুর বনের চারটি রেঞ্জের 10টি বিটে বিট কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে, যাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুজন ও স্থানীয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির দুজন থাকবেন। আর বন বিভাগকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গোচারণ, পানি ও ভূমি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন।
7 জানুয়ারি 2026 টাঙ্গাইল বন আদালতের বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট 88টি মামলা প্রত্যাহার করে 387 জনকে খালাস দেন — এঁদের 231 জন গারো ও কোচ, 156 জন স্থানীয় বাঙালি (ডেইলি স্টার বাংলা)। বন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়, এতে প্রথাগত বনবাসীদের মাধ্যমে শালবন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার সহজ হবে।
সংখ্যাগুলো মেলালে একটি জিনিস চোখে পড়ে: 2017 সালেই টাঙ্গাইল বন আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল প্রায় 5,000, আর প্রত্যাহারের তালিকায় এসেছে 136টি। বাকি মামলাগুলোর বর্তমান সংখ্যা ও অবস্থা প্রকাশিত কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।
9 মার্চ 2026 মধুপুর উপজেলার ধারাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধারের নামে এক গারো দম্পতির ঘর গুঁড়িয়ে দেয় এবং চারপাশের গাছ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ ওঠে (ডেইলি স্টার বাংলা)। পরিবারটির দাবি, তাঁরা বন বিভাগের কাছ থেকে জমি কিনে ঘর তুলেছিলেন এবং কোনো লিখিত নোটিশ পাননি।
রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক বলেছেন, দখল হওয়া জমি উদ্ধারে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এটি হয়েছে। মধুপুরের ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, অভিযানে আনসার সদস্যদের “বাড়াবাড়ি” হয়েছে; বাগান কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে, দুই বান্ডিল টিন ও ছয় হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর ইউএনও ও ওসিকে না জানিয়ে এমন অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত একটি কলাম অনুযায়ী পরে যৌথ সভায় পরিবারটিকে ঘর আবার তোলার অনুমতি দেওয়া হয় এবং সীমানা চিহ্নে সমঝোতা হয়।

মধুপুর শালবনের জমি নিয়ে নথিভুক্ত প্রধান ঘটনাগুলো সাল ধরে নিচে দেওয়া হলো। যেসব সালে উৎসগুলো একমত নয়, সেখানে দুটি সালই রাখা হয়েছে। প্রতিটি সারির উৎস উপরের অংশগুলোতে ও তথ্যসূত্রে আছে।
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| সতেরো শতক | মুঘল জায়গির হিসেবে আটিয়া বন করটিয়ার পন্নী পরিবারের হাতে |
| 1928 | ব্রিটিশ সরকার টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের বনের নিয়ন্ত্রণ নেয় |
| 1950–1951 | জমিদারি শেষ; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন; বন বন বিভাগের হাতে যেতে শুরু করে |
| 1956 / 1962 | জাতীয় উদ্যান ঘোষণা (IPS 1956 বলছে; বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া 1962) |
| 1968 | প্রায় 4,500 গারোকে উদ্যানের ভেতরে বসবাসের অনুমতি (উইকিপিডিয়া, IUCN 1990 সূত্রে) |
| 1982 | বন্যপ্রাণী আইনে জাতীয় উদ্যানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (উইকিপিডিয়া) |
| 1984 | সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রাথমিক গেজেট (বন বিভাগের দাবি); স্থানীয়রা শুনানিতে ডাক পাননি বলে জানান |
| 1986 | শালবনের প্রায় 7,000 একরে রাবার বাগান |
| 1989 | ADB-র অর্থে সামাজিক বনায়ন শুরু (TANDP) |
| 1991–1992 | বন আদালতে মামলা নাটকীয়ভাবে বাড়ে |
| 2000 শেষ | 3,000 একর ঘিরে দেয়ালসহ ইকোপার্ক প্রকল্প |
| জুলাই 2003 | প্রতিবাদে দেয়ালের কাজ স্থগিত |
| 3 জানুয়ারি 2004 | জালাবাদায় গুলি; পীরেন স্নাল নিহত, উৎপল নকরেকসহ 25–30 জন আহত; পরে দেয়ালের কাজ বন্ধ |
| 18 মার্চ 2007 | গারো নেতা Choles Ritchil যৌথ বাহিনীর হেফাজতে মারা যান |
| 2007 | ADB বন খাত থেকে সরে যায়; প্রায় 5,000 একর কলাবাগান কাটা |
| জুলাই 2009 | মামলার আসামিদের বনকর্মী (CFW) করার প্রকল্প |
| 15 ফেব্রুয়ারি 2016 | 20 ধারায় 9,145.07 একর সংরক্ষিত বন; ভেতরে 13টি গ্রাম |
| 2017 | টাঙ্গাইল বন আদালতে বিচারাধীন 4,954 মামলা |
| জানুয়ারি 2021 | উচ্ছেদ-আতঙ্কে 25 ও 31 জানুয়ারি সমাবেশ |
| 2021–2022 | আমতলীর বাইদ জমিতে কৃত্রিম হ্রদের পরিকল্পনা ও প্রতিবাদ; 1 এপ্রিল 2022-এর উদ্বোধন হয়নি |
| 25 ফেব্রুয়ারি 2025 | 18,565 একর বনভূমির সীমানা নির্ধারণ শুরু |
| 25 মে 2025 | শাল পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প উদ্বোধন; 129 মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা |
| 4 ডিসেম্বর 2025 | 136টির মধ্যে 88টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত |
| 7 জানুয়ারি 2026 | বন আদালতে 88 মামলা প্রত্যাহার, 387 জন খালাস |
| 9 মার্চ 2026 | কালাপাহাড়ে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের হাতে গারো পরিবারের ঘর ভাঙা |
সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী ভূমি প্রশ্নের অন্য লেখাগুলো পাওয়া যাবে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আদিবাসী বিষয়ক লেখার সংগ্রহে।
বিরোধ মূলত জমির মালিকানা নিয়ে। 1950 সালের আইনের পর বন বন বিভাগের হাতে যায়, কিন্তু যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী গারো ও কোচ পরিবারগুলো জমির দলিল পাননি। SEHD-এর 44 গ্রামের জরিপে মাত্র 4.19% গারো পরিবারের বসতভিটার দলিল আছে। ফলে একই জমিকে বন বিভাগ সরকারি বন আর বাসিন্দারা পূর্বপুরুষের জমি বলে দাবি করেন।
পীরেন স্নাল মধুপুরের জয়নাগাছা গ্রামের গারো যুবক। 3 জানুয়ারি 2004 জালাবাদায় বন বিভাগের ইকোপার্কের দেয়াল নির্মাণের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ ও বনরক্ষীদের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অধিকারের তদন্তে বলা হয় মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ছিল; পুলিশ ও বনরক্ষীদের দাবি, তারা আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে। এরপর দেয়াল নির্মাণ বন্ধ হয়।
না। তাঁর বাবা নেজেন নকরেক 14 জানুয়ারি 2004 ব্লাস্টের সহায়তায় মামলা করেন। 17 নভেম্বর 2004 তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ও বনরক্ষীদের দায়ী নয় বলে প্রতিবেদন দেন; নারাজি আবেদনের শুনানি তিন বছরে 17 বার পেছায়। ডেইলি স্টার বাংলার 2023 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। কেউ দণ্ডিত হননি।
উৎপল নকরেক 3 জানুয়ারি 2004-এর গুলিতে আহত হন। আমাদের আর্কাইভের লেখা অনুযায়ী তিনি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র, পিঠে গুলি লেগে চিরতরে পঙ্গু হন। প্রথম আলোর 2017 সালের প্রতিবেদন বলছে, তিনি তখন থেকে হুইলচেয়ারে। ঘটনার পরদিনের এক প্রতিবেদনে তাঁকে নিহত বলা হয়েছিল; পরের সব প্রতিবেদনে নিহত একজন, পীরেন স্নাল।
2000 সালের শেষে বন বিভাগ “Forest Conservation and Eco-tourism” প্রকল্প নেয়, যাতে মধুপুর বনের প্রায় 3,000 একর ইটের দেয়ালে ঘেরার কথা ছিল। গারো ও কোচরা একে খাবার, জ্বালানি ও চলাচলের ওপর হুমকি মনে করে প্রতিবাদ করেন। 2003 সালের জুলাইয়ে কাজ স্থগিত হয়, 3 জানুয়ারি 2004 আবার শুরু হলে গুলির ঘটনা ঘটে, এরপর নির্মাণ বন্ধ হয়।
15 ফেব্রুয়ারি 2016 বন আইন, 1927-এর 20 ধারায় গেজেট প্রজ্ঞাপনে অরণখোলা মৌজার 9,145.07 একর জমি সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়। ঢাকা টাইমসের হিসাবে এর ভেতরে 13টি গ্রাম, 1,083টি গারো ও কোচ পরিবারের 6,077 জনের বসতবাড়ি এবং প্রায় আড়াই হাজার একর চাষের জমি পড়েছে।
টাঙ্গাইল বন আদালতের 2017 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরশেষে বিচারাধীন মামলা ছিল 4,954টি (2016 সালে 5,350টি)। SEHD শুধু মধুপুরের 44টি বনগ্রামে 2017 সালে 3,029টি বিচারাধীন মামলা পায়। একজন আসামির বিরুদ্ধে 1990 সাল থেকে প্রায় 100টি মামলার উদাহরণও ফিলিপ গাইনের প্রতিবেদনে আছে।
4 ডিসেম্বর 2025 আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় 503 জন আসামির 136টি মামলা পর্যালোচনা করে 88টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়; বাকি 48টি এক বছর পর শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার হবে। 7 জানুয়ারি 2026 টাঙ্গাইল বন আদালত 88টি মামলা প্রত্যাহার করে 387 জনকে খালাস দেয় — 231 জন গারো ও কোচ, 156 জন বাঙালি। মে 2025-এ উপদেষ্টা 129টি মামলার কথা বলেছিলেন।
উৎসগুলো এক সাল দেয় না। বাংলাপিডিয়া বলছে 1962; ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে 1962 সালে পাকিস্তান সরকার জাতীয় উদ্যান করে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা 1982 সালে; IPS-এর 2021 সালের প্রতিবেদন বলছে 1956 সালে ঘোষণা দিয়ে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়। বাংলাপিডিয়ায় আয়তন 20,837 একর, উইকিপিডিয়ায় 8,436 হেক্টর।
বন আইন, 1927-এর 4 ধারায় সরকার গেজেটে অভিপ্রায় জানিয়ে বন বন্দোবস্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে। 6 ধারায় সেই কর্মকর্তা আশপাশের প্রতিটি গ্রামে বাংলায় ঘোষণা দিয়ে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে অধিকারের দাবি জমা দিতে বলেন। দাবি ও আপিল নিষ্পত্তির পর 20 ধারায় চূড়ান্ত গেজেট হয়। দাবি না জানালে 9 ধারায় অধিকার বিলুপ্ত হতে পারে।
গবেষক ফিলিপ গাইনের মতে প্রধান দুই কারণ 1986 সালে শুরু হওয়া রাবার চাষ (প্রায় 7,000 একর) এবং 1989 সাল থেকে ADB-র অর্থে সামাজিক বনায়ন, যাতে শালের জায়গায় আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাস লাগানো হয়। এরপর কলা, আনারস ও মসলার বাণিজ্যিক আবাদ ছড়ায়। বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক বলেছেন, সামাজিক বনায়ন কেবল পুনরুদ্ধার-অযোগ্য জমিতে হয়েছিল।
2021–2022 সালে বন বিভাগ ইকোট্যুরিজম প্রকল্পের অধীনে জাতীয় উদ্যানের আমতলীতে 12 বিঘা তিন ফসলি বাইদ জমিতে 800×200 ফুটের হ্রদ খননের পরিকল্পনা করে। গারো, কোচ ও বর্মন সংগঠনগুলো একে চাষের জমি কেড়ে নেওয়া বলে প্রতিবাদ করে। জেলা প্রশাসক 5 লাখ টাকার আশ্বাস দেন; 1 এপ্রিল 2022-এর উদ্বোধন সমঝোতা না হওয়ায় হয়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 21 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:গারো, বনভূমি, ভূমি অধিকার, ভূমি বিরোধ, মধুপুর
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।