Last updated Nov 3rd, 2026
0

মেডিকেল ভর্তি কোটা সনদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন আসে, তার উত্তর নীতিমালার এক বাক্যে আছে: পার্বত্য জেলার “উপজাতীয়” প্রার্থীকে সার্কেল চিফ এবং জেলা প্রশাসক — দুজনেরই সনদ দিতে হয়; অন্য জেলার “উপজাতীয়” প্রার্থীকে গোত্রপ্রধান এবং জেলা প্রশাসকের সনদ। 2025–26 শিক্ষাবর্ষের নীতিমালায় এই কোটার নাম “পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী”, আসন মোট আসনের শতকরা 1 ভাগ, আর আবেদনের ন্যূনতম শর্ত এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ 8.00।
এই লেখা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমএন্ডডিসি) ভর্তি নীতিমালা আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বছর ধরে পাশাপাশি রাখে — 2013–14 থেকে 2025–26 পর্যন্ত। প্রতিটি শর্তের সঙ্গে কোন বছরের কোন নথির কোন অনুচ্ছেদ, তা লেখা আছে, কারণ নিয়ম প্রায় প্রতি বছর বদলায়। নীতিমালার নিজের শব্দ “উপজাতীয়” ও “পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী” — এই লেখায় সেগুলো উদ্ধৃতি হিসেবে রাখা হয়েছে; জুমজার্নাল নিজের ভাষায় “আদিবাসী” লেখে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতিগত পরিচয়ের সনদ কে দেন, তা আলাদা লেখায় আছে: উপজাতীয় সনদপত্র সার্কেল চিফ দেন: জেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতিগত পরিচয়ের সনদ। সরকারি চাকরির কোটা আর জনগোষ্ঠীভিত্তিক হিসাব আছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা কারা পাচ্ছেন লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখার সূচি পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
সূচিপত্র
2025–26 শিক্ষাবর্ষের নিয়ম একটি নথিতে: বিএমএন্ডডিসির “২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির জাতীয় নীতিমালা”, যা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ 29 অক্টোবর 2025 তারিখে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে (স্মারক ৫৯.০০.০০০০.১৪০.২২.০১৫.২৪.৭১৮)। কোটা, জিপিএ ও সনদ — তিনটিই এতে আছে।
| বিষয় | 2025–26 নীতিমালার বিধান | অনুচ্ছেদ |
|---|---|---|
| কারা এই কোটায় | “পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ সকল উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থী” | ২.৬ |
| ন্যূনতম জিপিএ | এসএসসি + এইচএসসি মিলিয়ে 8.00; কোনো একটিতে 3.50-এর কম হলে অযোগ্য; জীববিজ্ঞানে 3.50 | ২.৬ |
| সাধারণ প্রার্থীর ন্যূনতম জিপিএ (তুলনার জন্য) | মিলিয়ে 8.50; কোনো একটিতে 4.00-এর কম হলে অযোগ্য; জীববিজ্ঞানে 3.50 | ২.২, ২.৩ |
| আসন | “মোট আসনের শতকরা ০১ ভাগ”; রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের “শতকরা ২৫ ভাগ আসন এই সংখ্যার অর্ন্তভুক্ত” | ৮.১.১ |
| যাচাই | নির্বাচিতদের তালিকা কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেবে, তারপর ভর্তি | ৮.১.১ |
| সনদ | পার্বত্য জেলার উপজাতীয়: সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসক; পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয়: সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসক; অন্যান্য জেলার উপজাতীয়: গোত্র প্রধান ও জেলা প্রশাসক | ৮.১.২ |

দুটি কথা আগেই মনে রাখা দরকার। প্রথমত, এটি 2025–26-এর নিয়ম; 2024–25 পর্যন্ত আসন ছিল নির্দিষ্ট সংখ্যায় (20টি, সঙ্গে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে 13টি), শতাংশে নয় — নিচের “আসন কত” অংশে বছর ধরে আছে। দ্বিতীয়ত, ভর্তির বিজ্ঞপ্তি আর নীতিমালার ভাষা সবসময় হুবহু মেলে না; পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থীর সনদের বেলায় 2025–26-এর নীতিমালা লিখেছে “ও”, অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি লিখেছে “বা” — বিস্তারিত আলাদা অংশে।
নীতিমালা লেখে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল; সেটি নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। প্রতি বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ফল ও মাইগ্রেশনের নোটিশ দেয় অধিদপ্তর — 2019–20 পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, 2021–22 থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
নথির শিরোনামগুলো এই ধারা দেখায়। 2019–20 শিক্ষাবর্ষের বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন” (স্মারক স্বাঃ অধিঃ/চিঃশিঃ/ভর্তি/এমবিবিএস/২০১৯-২০২০/২৯০, 19 আগস্ট 2019)। 2021–22-এর বিজ্ঞপ্তি এসেছে “স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, মহাখালী” থেকে (স্মারক ৫৯.১৪.০০০০.১০৩.৩১.০০১.২২.০২০, 23 ফেব্রুয়ারি 2022)। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শুরুতেই লেখা থাকে কোন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন — যেমন 2023–24-এর বিজ্ঞপ্তিতে “বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত … ভর্তি নীতিমালা ২০২৪ অনুযায়ী”, আর অনুচ্ছেদ ২০-এ: “কোটার ক্ষেত্রে … নীতিমালা-২০২৪ এর বিধি বিধান প্রযোজ্য হবে।”
নীতিমালার নাম আর শিক্ষাবর্ষ এক নয়, এটিই প্রথম বিভ্রান্তি। প্রতিটি নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১.২ বলে দেয় সেটি কোন শিক্ষাবর্ষে কার্যকর:
| নীতিমালার নাম | কার্যকর শিক্ষাবর্ষ (অনুচ্ছেদ ১.২) | মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ |
|---|---|---|
| ভর্তি নীতিমালা-২০২২ | 2021–22 থেকে | 23 ফেব্রুয়ারি 2022 |
| ভর্তি নীতিমালা-২০২৩ | 2022–23 থেকে | 12 ফেব্রুয়ারি 2023 |
| ভর্তি নীতিমালা-২০২৪ | 2023–24 থেকে | 18 জানুয়ারি 2024 (বিএমএন্ডডিসির পত্র 28 ডিসেম্বর 2023) |
| ভর্তি নীতিমালা-২০২৫ | 2024–25 | 25 নভেম্বর 2024 (বিএমএন্ডডিসির পত্র 21 নভেম্বর 2024) |
| ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় নীতিমালা | 2025–26 | 29 অক্টোবর 2025 (বিএমএন্ডডিসির পত্র 27 অক্টোবর 2025) |
অর্থাৎ “নীতিমালা-২০২৫” পড়ে কেউ 2025–26-এর নিয়ম ভাবলে ভুল হবে; সেটি 2024–25-এর। মন্ত্রণালয়ের তালিকায় “নীতিমালা-২০২০”-এর একটি সারিও আছে (28 ফেব্রুয়ারি 2021), কিন্তু তার মূল ফাইল সেখান থেকে পাওয়া যায়নি; তাই 2020–21 শিক্ষাবর্ষের কথা এই লেখায় অন্য নথি থেকে নেওয়া।
নীতিমালার সংজ্ঞা এক লাইনের: “পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ সকল উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থী”। এর ভেতরে তিনটি শ্রেণি — পার্বত্য জেলার উপজাতীয়, পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয়, আর অন্য জেলার উপজাতীয়। আবেদনের সফটওয়্যারে এই তিন শ্রেণি সাতটি কোডে ভাগ করা।
সংজ্ঞাটি 2022 থেকে 2025–26 পর্যন্ত প্রতিটি নীতিমালায় প্রায় একই শব্দে আছে (২০২২ ও ২০২৩-এ অনুচ্ছেদ ২.৩, ২০২৪-এ ২.৪, ২০২৫-এ ২.৫, ২০২৫–২৬-এ ২.৬)। 2016–17, 2018–19 ও 2019–20-এর বিজ্ঞপ্তিতেও একই কথা: “সকল উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে”। অর্থাৎ পার্বত্য তিন জেলার বাঙালি প্রার্থীরাও জিপিএ ছাড় ও আলাদা আসনের আওতায় — শর্ত একটিই, তাঁকে “পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয়” হিসেবে সনদ দেখাতে হবে।
কোডগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের 2021–22-এর বিস্তারিত নির্দেশনার “সারণি-৪: উপজাতি প্রার্থীদের জন্য কোড”-এ আছে (2018–19 ও 2019–20-এর নির্দেশনায়ও একই সারণি):
| কোড | কোটার নাম (নথির ইংরেজি) | 2013–14-এর নির্দেশনায় পাশে লেখা সংখ্যা |
|---|---|---|
| 71 | Rangamati Tribal | 03 |
| 72 | Rangamati Non-Tribal | 01 |
| 73 | Khagra Chari Tribal | 03 |
| 74 | Khagra Chari Non-Tribal | 01 |
| 75 | Bandarban Tribal | 03 |
| 76 | Bandarban Non-Tribal | 01 |
| 77 | Tribal other than Hill-Tracts | 13 |
2013–14-এর নির্দেশনার সংখ্যাগুলো এমবিবিএস না এমবিবিএস-বিডিএস মিলিয়ে, নথিতে আলাদা করে বলা নেই। একই নথিতে বিডিএসের জন্য “Tribal 5” আলাদা লেখা আছে।
“উপজাতীয়” কারা, তার তালিকা মেডিকেল নীতিমালায় নেই। নীতিমালা কোনো আইন বা গেজেটের নামও উল্লেখ করে না। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন কোন জাতিকে “উপজাতি” বলে, তা আছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ আইনের উপজাতীয় সংজ্ঞা লেখায়; তবে সেই সংজ্ঞা জেলা পরিষদের জন্য, মেডিকেল ভর্তির নীতিমালা তা উদ্ধৃত করে না।
2016–17 থেকে 2024–25 পর্যন্ত প্রতিটি নথিতে কোটার প্রার্থীর ন্যূনতম জিপিএ এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে 8.00, আর কোনো একটি পরীক্ষায় 3.50-এর কম চলবে না। সাধারণ প্রার্থীর ন্যূনতম ছিল 9.00। 2025–26-এ সাধারণ প্রার্থীর শর্ত নেমে 8.50 হয়েছে; কোটার শর্ত 8.00-ই আছে। জীববিজ্ঞানের শর্ত বছরে বছরে বদলেছে।
| শিক্ষাবর্ষ | নথি ও অনুচ্ছেদ | সাধারণ প্রার্থী (মোট জিপিএ) | কোটার প্রার্থী (মোট জিপিএ) | একক পরীক্ষার ন্যূনতম (কোটা) | জীববিজ্ঞান |
|---|---|---|---|---|---|
| 2013–14 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিস্তারিত নির্দেশনা, 2 সেপ্টেম্বর 2013, অনু. ০৪ | 8.00 | 7.00 | 3.00 | এইচএসসিতে 3.50 (সবার) |
| 2016–17 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা, 29 আগস্ট 2016 | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এইচএসসিতে 3.50 (সবার) |
| 2018–19 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিজ্ঞপ্তি, 16 আগস্ট 2018, অনু. ০২–০৪ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এইচএসসিতে 3.50 (সবার) |
| 2019–20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিস্তারিত নির্দেশনা, 19 আগস্ট 2019, অনু. ০৩ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এইচএসসিতে 3.50 (সবার) |
| 2021–22 | নীতিমালা-২০২২, অনু. ২.৩; বিজ্ঞপ্তি 23 ফেব্রুয়ারি 2022, অনু. ০৪–০৫ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই 3.50 (সবার) |
| 2022–23 | নীতিমালা-২০২৩, অনু. ২.৩–২.৪ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এইচএসসিতে 4.00 (অনু. ২.৪, আলাদা ছাড় লেখা নেই) |
| 2023–24 | নীতিমালা-২০২৪, অনু. ২.৩–২.৪; বিজ্ঞপ্তি 10 জানুয়ারি 2024, অনু. ০৪–০৫ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | এইচএসসিতে 4.0 — বিজ্ঞপ্তির ভাষায় “সকলের জন্যে” |
| 2024–25 | নীতিমালা-২০২৫, অনু. ২.২, ২.৩, ২.৫ | 9.00 | 8.00 | 3.50 | সাধারণ 4.0; কোটার প্রার্থী 3.50 (অনু. ২.৫) |
| 2025–26 | জাতীয় নীতিমালা ২০২৫–২৬, অনু. ২.২, ২.৩, ২.৬ | 8.50 (একক পরীক্ষায় 4.00-এর কম নয়) | 8.00 | 3.50 | সবার 3.50 |
ছকের সবচেয়ে বড় বদল জীববিজ্ঞানে। 2022–23 ও 2023–24 শিক্ষাবর্ষে নীতিমালা জীববিজ্ঞানে 4.00 চেয়েছে, আর কোটার প্রার্থীর জন্য আলাদা ছাড়ের কথা সেখানে নেই; 2023–24-এর বিজ্ঞপ্তি অনুচ্ছেদ ০৫-এ স্পষ্ট লিখেছে, “সকলের জন্যে এইচএসসি/ ‘এ’ লেভেল/সমমান পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে (Biology) ন্যুনতম গ্রেড পয়েন্ট ৪.০ না থাকলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।” 2024–25-এর নীতিমালায় কোটার প্রার্থীর জন্য জীববিজ্ঞানে 3.50 লেখা হয় (অনুচ্ছেদ ২.৫), আর 2025–26-এ সবার জন্যই 3.50।
আরেকটি শর্ত প্রায়ই চোখ এড়ায়: কোন বছরের এসএসসি-এইচএসসি চলবে। 2025–26 নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২.৭-এর উদাহরণ: এই শিক্ষাবর্ষে আবেদনকারীকে 2024 বা 2025 সালে এইচএসসি পাস হতে হবে, আর “২০২২ সালের পূর্বে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না।” এই শর্তে কোটার প্রার্থীর জন্য কোনো ছাড় নেই।
মেধাতালিকা তৈরির সূত্রও কোটার প্রার্থীর জন্য আলাদা নয়। 2025–26-এ এসএসসির জিপিএর 8 গুণ, এইচএসসির 12 গুণ আর ভর্তি পরীক্ষার নম্বর যোগ হয় (অনুচ্ছেদ ৩.১); ভর্তি পরীক্ষায় 40 নম্বর পাস নম্বর (অনুচ্ছেদ ৩.৩)। কোটার প্রার্থীকেও এই 40 পেতে হয়, তারপর নিজের শ্রেণির প্রার্থীদের মধ্যে মেধাক্রমে আসন পান — 2019–20-এর নির্দেশনার ভাষায়, “সংরক্ষিত আসন সমূহেও নিজ নিজ শ্রেনীর দাবীদারদের মধ্য হতে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।”
সনদের নিয়ম 2013–14 থেকে 2025–26 পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিত। পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থী: সার্কেল চিফ ও জেলা প্রশাসকের সনদ — দুটোই। পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থী: সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসকের সনদ — যেকোনো একটি (2025–26-এর নীতিমালায় ব্যতিক্রম, নিচে দেখুন)। অন্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থী: গোত্রপ্রধান ও জেলা প্রশাসকের সনদ।
বছর ধরে নথির হুবহু ভাষা:
| শিক্ষাবর্ষ | নথি | উদ্ধৃতি |
|---|---|---|
| 2013–14 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফল ও ভর্তির নির্দেশনা, 6 অক্টোবর 2013 | “পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ এবং জেলা প্রশাসকের সনদ ও অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত সনদপত্র এবং অন্যান্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্র প্রধান ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক প্রদত্ত সনদপত্র” |
| 2017–18 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফল প্রকাশ, 9 অক্টোবর 2017, তালিকার ৫ নম্বর | একই ভাষা |
| 2019–20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিস্তারিত নির্দেশনা, 19 আগস্ট 2019, অনু. ১৬.৫ | একই ভাষা |
| 2021–22 | নীতিমালা-২০২২ (কোটা-অংশ); স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নির্দেশনা, অনু. ২৮.৫ | একই ভাষা |
| 2022–23 | নীতিমালা-২০২৩, অনু. ৮.৪; ভর্তি-সম্পর্কিত নির্দেশাবলি, 13 মার্চ 2023, (চ) | একই ভাষা, “মূল সনদপত্র” |
| 2023–24 | নীতিমালা-২০২৪, অনু. ৯.২.২ | একই ভাষা |
| 2024–25 | নীতিমালা-২০২৫, অনু. ৯.২.২ | একই ভাষা |
| 2025–26 | জাতীয় নীতিমালা, অনু. ৮.১.২ | “পার্বত্য জেলার উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসকের সনদ, অ-উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসকের সনদ এবং অন্যান্য জেলার উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্র প্রধান ও জেলা প্রশাসকের সনদ দাখিল করিতে হইবে।” |
| 2025–26 | স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, ফল প্রকাশ, 14 ডিসেম্বর 2025 | উপজাতীয়: “সার্কেল চীফ এবং জেলা প্রশাসকের সনদ”; অ-উপজাতীয়: “সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদপত্র” |
সনদ ছাড়া আর যা লাগে, তা-ও নথিতে আছে। 2022–23-এর ভর্তি-সম্পর্কিত নির্দেশাবলি (স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, 13 মার্চ 2023) কলেজে ভর্তির সময় চায়: ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, এসএসসি ও এইচএসসির নম্বরপত্র ও মূল সনদ বা প্রশংসাপত্র, “জেলা কোটার দাবীর ক্ষেত্রে” মেয়র বা চেয়ারম্যানের নাগরিক সনদ, চার কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি, কোটার সনদ, আর অধ্যক্ষ চাইলে জন্ম নিবন্ধনসহ “অন্যান্য প্রমানক”। একই নথি সতর্ক করে, প্রমাণক দিতে না পারলে বা তথ্য অসত্য হলে “যে কোন সময় তার ভর্তি বাতিলপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
2013–14-এর মতো পুরোনো নথিতেও একটি শব্দ লক্ষণীয়: উপজাতীয় প্রার্থীর বেলায় সবসময় “এবং”। শুধু সার্কেল চিফের সনদ, বা শুধু জেলা প্রশাসকের সনদ, কোনো বছরের নথিতেই পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীর জন্য যথেষ্ট বলা হয়নি।
2025–26 শিক্ষাবর্ষে পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থীর সনদ নিয়ে দুটি সরকারি নথি দুই রকম বলে। বিএমএন্ডডিসির নীতিমালা (অনুচ্ছেদ ৮.১.২) চায় “সার্কেল চীফ ও জেলা প্রশাসকের সনদ” — দুটোই। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের 14 ডিসেম্বর 2025-এর ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি চায় “সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদপত্র” — যেকোনো একটি।
2024–25 পর্যন্ত নীতিমালা নিজেও “বা” লিখত (নীতিমালা-২০২৫, অনুচ্ছেদ ৯.২.২: “অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ বা জেলা প্রশাসকের সনদ”)। 2025–26-এর নীতিমালায় শব্দটি “ও” হয়েছে। অধিদপ্তরের পরের নোটিশগুলো পুরোনো ভাষাতেই চলেছে: প্রথম আলো 17 ডিসেম্বর 2025-এ সনদ যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তির যে তালিকা ছেপেছে, তাতে “সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদ”; 26 জানুয়ারি 2026-এ প্রথম মাইগ্রেশনের নোটিশের যে তালিকা ছেপেছে, তাতেও “সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসক প্রদত্ত মূল সনদ”।
এই অমিলের কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। যিনি এই শ্রেণিতে আবেদন করবেন, তাঁর জন্য নিরাপদ পথ নথি থেকেই বেরিয়ে আসে: নীতিমালা যেটি চায়, দুটো সনদই হাতে রাখা।
উপজাতীয় প্রার্থীর বেলায় একটি ছোট শব্দ-পার্থক্যও আছে। মেডিভয়েস ও প্রথম আলো 25–26 জানুয়ারি 2026-এর মাইগ্রেশন নোটিশ থেকে যা ছেপেছে, তাতে লেখা “চিফ এবং জেলা প্রশাসকের সনদ” — “সার্কেল” শব্দটি নেই। নীতিমালা ও 14 ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে আছে “সার্কেল চীফ”।
তিন ধরনের কর্তৃপক্ষের নাম নথিতে আছে — সার্কেল চিফ, জেলা প্রশাসক, গোত্রপ্রধান। কিন্তু কোনো ভর্তি নীতিমালা বা বিজ্ঞপ্তি বলে না সনদের ফরম কেমন, কোথায় আবেদন করতে হয়, কত দিন লাগে, বা “গোত্র প্রধান” বলতে কাকে বোঝায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি সার্কেল — চাকমা, বোমাং ও মং; সার্কেলের সীমা জেলার সীমার সঙ্গে মেলে না। জেলা পরিষদ আইনে সার্কেল চিফের সনদের বিধান, 1998-এর সংশোধন, আর জেলা প্রশাসকের সনদ নিয়ে 2000 সালের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ — সব উপজাতীয় সনদপত্র নিয়ে আমাদের আলাদা লেখায় বিস্তারিত আছে; এখানে আর বলা হচ্ছে না।
মেডিকেল ভর্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি নথির কথা নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের Peace Accords Matrix লিখেছে: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি নথি (নম্বর 31/2008/713) উপজাতীয় বাসিন্দাদের “Circle Chief” ও “Deputy Commissioner” দুজনেরই স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দেখাতে বলেছিল, আর বাঙালিদের জন্য কেবল ডেপুটি কমিশনারের একটি সনদ যথেষ্ট ছিল। মূল নথিটি পাওয়া যায়নি; সেটি মেডিকেল ভর্তি নিয়ে কি না, Peace Accords Matrix তা বলে না।
সরকারি চাকরির কোটার বেলায় চর্চা কিছুটা আলাদা বলে জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (17 মে 2025): পাহাড়ের প্রার্থী সনদ পান সার্কেল চিফের কাছ থেকে, সমতলের প্রার্থী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে। মেডিকেল ভর্তিতে পাহাড়ের উপজাতীয় প্রার্থীর জন্য দুটোই লাগে — এটি নীতিমালার পাঠ।
সমতলের প্রক্রিয়ার একটি বিবরণ দিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (17 মে 2025): জেলা প্রশাসক সনদ দেওয়ার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিবেদন চান, আর ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেন; প্রতিবেদনের ভাষায়, “This process can be time-consuming.” একই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা এক ব্যক্তির অভিযোগ, সুপারিশের প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো সদস্য ও চেয়ারম্যানরা অনৈতিক সুবিধা নেন।
সনদ পেতে দেরির একটি নথিভুক্ত উদাহরণ উত্তরবঙ্গের। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (25 আগস্ট 2022) জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠনের মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় 6–7 মাস ধরে উপজেলা প্রশাসনে প্রত্যয়নপত্রের আবেদন করলে তা না দিয়ে “কালক্ষেপণ করা হচ্ছে”; আগে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের কোচ ও বর্মণরা স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ পেয়ে আসছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান পত্রিকাটিকে বলেন, আইন অনুসারে এই জনগোষ্ঠীর মানুষদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়ায় “গড়িমসির সুযোগ নেই”। প্রতিবেদনটি মেডিকেল ভর্তি নিয়ে নয়, তবে মেডিকেল ভর্তিতেও সমতলের প্রার্থীর সনদ আসে এই জেলা প্রশাসনের হাত দিয়েই।
সনদের প্রক্রিয়া কত দিনের, তা কোনো নথিতে নেই; কিন্তু ভর্তির সময়সীমা নথিতে আছে। 2025–26-এ ভর্তি পরীক্ষা 12 ডিসেম্বর 2025, ফল 14 ডিসেম্বর, আর সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের কোটার কাগজের সফট কপি পাঠানোর শেষ দিন ছিল 17 ডিসেম্বর (প্রথম আলো, 17 ডিসেম্বর 2025)। অনলাইন আবেদনের সময়ই সনদের স্মারক নম্বর ও তারিখ লাগে (নিচের আবেদন অংশ দেখুন) — তাই সনদ আবেদনের আগেই হাতে থাকার কথা।
2013–14 থেকে 2019–20 পর্যন্ত যে বছরগুলোর নথি পাওয়া গেছে, প্রতিটিতে সরকারি মেডিকেল কলেজে “পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী”র আসন 20টি — মোট আসন বাড়লেও এই সংখ্যা বাড়েনি। 2020–21 থেকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে আলাদা 13টি আসন যুক্ত দেখা যায়। 2025–26-এ নির্দিষ্ট সংখ্যার বদলে নিয়ম হয়েছে মোট আসনের শতকরা 1 ভাগ।
| শিক্ষাবর্ষ | সরকারি মেডিকেলে মোট এমবিবিএস আসন | মুক্তিযোদ্ধা কোটা | “পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী”/উপজাতীয় আসন | সূত্র |
|---|---|---|---|---|
| 2013–14 | 2,812 | 55 | 20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফল প্রকাশ, 6 অক্টোবর 2013 |
| 2014–15 | 3,162 | 63 | 20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফল প্রকাশ, 26 অক্টোবর 2014 |
| 2016–17 | সাধারণ 3,128 (মোট নথিতে আলাদা লেখা নেই) | 64 | 20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নির্দেশনা, 29 আগস্ট 2016, সারণি-২ |
| 2017–18 | 3,318 (31টি কলেজ) | 67 | 20 | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফল প্রকাশ, 9 অক্টোবর 2017 |
| 2018–19 | 3,818 | 77 | 20 (9 + 3 + 8) | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নির্দেশনা, 16 আগস্ট 2018, সারণি-২ ও ৩ |
| 2019–20 | 4,068 | 82 | 20 (9 + 3 + 8) | স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নির্দেশনা, 19 আগস্ট 2019, সারণি-৩ |
| 2020–21 | — (37টি কলেজ) | — | উপজাতীয় 30 (পার্বত্য 9, অন্য জেলা 8, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ 13) + পার্বত্য অ-উপজাতীয় 3 | সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বিবৃতি, দ্য ডেইলি স্টার, 21 এপ্রিল 2021 |
| 2021–22 | 4,350 | 87 | 9 + 3 + 8, এবং রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে 13 (“20+13”) | স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নির্দেশনা, 23 ফেব্রুয়ারি 2022, সারণি-২ ও ৩ |
| 2022–23 | — | মোট আসনের 2% | 20 এবং রাঙ্গামাটিতে 13 | নীতিমালা-২০২৩, অনু. ৮.১–৮.২ |
| 2023–24 | 5,380 | মোট আসনের 2% (নীতিমালা) | 20 এবং রাঙ্গামাটিতে 13 | নীতিমালা-২০২৪, অনু. ৯.১–৯.২; মোট আসন: প্রথম আলো, 27 ডিসেম্বর 2023 |
| 2024–25 | 5,380 | 269 (5%) | নীতিমালা: 20 এবং রাঙ্গামাটিতে 13; সংবাদ: 39 | নীতিমালা-২০২৫, অনু. ৯.২.১; বিডিনিউজ২৪, 3 ফেব্রুয়ারি 2025 |
| 2025–26 | 5,100 | নীতিমালার সংরক্ষিত আসনের অনুচ্ছেদে নেই | মোট আসনের শতকরা 1 ভাগ, রাঙ্গামাটির 25% এর অন্তর্ভুক্ত | জাতীয় নীতিমালা, অনু. ৮.১.১; মোট আসন: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ও বিডিনিউজ২৪ |

2021–22-এর সারণি-২-এ কলেজ ধরে “Tribal Seats” কলামও আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বগুড়াসহ বড় কলেজগুলোতে এই কলামে 0; অনেক ছোট ও নতুন কলেজে 1টি করে; রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে “1+13 (HT resv)”। অর্থাৎ কোটার প্রার্থী কোন কলেজ পাবেন, তা মেধাক্রম আর পছন্দক্রমের পাশাপাশি কোন কলেজে কোটার আসন রাখা হয়েছে, তার ওপরও নির্ভর করে। 2018–19 ও 2019–20-এর সারণিতেও বড় কলেজগুলোতে উপজাতীয় আসন 0।
2025–26-এর “শতকরা ০১ ভাগ” কোন মোট আসনের ওপর — শুধু সরকারি এমবিবিএস, নাকি এমবিবিএস-বিডিএস মিলিয়ে, নাকি বেসরকারিও — নীতিমালা তা বলে না; অনুচ্ছেদ ৪.২ শুধু বলে, “সরকারি মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিট এ ভর্তির জন্য উপজাতি ও পার্বত্য অঞ্চলের অ-উপজাতীয়দের জন্য অনুচ্ছেদ ৮ এ বর্ণিত কোটা অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হইবে।” 14 ডিসেম্বর 2025-এর ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি 37টি সরকারি মেডিকেল কলেজে 5,049 জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করার কথা জানায়, আর বলে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিতদের নাম সনদ যাচাইয়ের পর “পরবর্তিতে প্রকাশ করা হবে”। সেই তালিকায় কতজন, তা পাওয়া যায়নি।
2022 থেকে 2025 সালের নীতিমালায় রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের 50টি আসনের 25%, অর্থাৎ 13টি, জেলা ও জনগোষ্ঠী ধরে ভাগ করা আছে — রাঙ্গামাটি 4, খাগড়াছড়ি 4, বান্দরবান 5; প্রতিটি জেলায় একটি আসন বাঙালি প্রার্থীর। পুরো মেডিকেল ভর্তি নীতিমালায় জনগোষ্ঠীর নাম ধরে আসন বণ্টনের একমাত্র জায়গা এটি।
নীতিমালা-২০২৫ (2024–25 শিক্ষাবর্ষ), অনুচ্ছেদ ৯.২.১-এর ভাষা, নথির বানানে:
| জেলা | আসন | নীতিমালার ভাগ |
|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা | 4 | বাঙালি 1; চাকমা ও তনচৈংগা 2; ত্রিপুরা, মারমা, খেয়াং, লুসাই, পাংখোয়া 1 |
| খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা | 4 | বাঙালি 1; চাকমা 1; মারমা 1; ত্রিপুরা 1 |
| বান্দরবান পার্বত্য জেলা | 5 | বাঙালি 1; মারমা 1; চাকমা ও তনচৈংগা 1; ম্রো (মুরং), ত্রিপুরা 1; বোম, লুসাই, পাংখোয়া, খুমী, খিয়াং, চাক 1 |
শেষ বাক্যটি আসন খালি থাকলে কী হবে, তা বলে: “সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে বর্ণিত জেলা হইতে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে উক্ত আসন পূরণ করা হইবে।” অর্থাৎ এই 13টি আসন খালি থাকলে যায় সংশ্লিষ্ট জেলার মেধাতালিকায়, জাতীয় তালিকায় নয়। একই ভাগ নীতিমালা-২০২২ (কোটা-অংশ), নীতিমালা-২০২৩ (অনুচ্ছেদ ৮.২) ও নীতিমালা-২০২৪ (অনুচ্ছেদ ৯.২.১)-এ আছে। নামগুলো নথির বানানে রাখা হলো; জুমজার্নাল সাধারণত লেখে তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াং, বম।
2025–26-এর নীতিমালায় এই জনগোষ্ঠীভিত্তিক তালিকা আর নেই। অনুচ্ছেদ ৮.১.১ শুধু বলে, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের “শতকরা ২৫ ভাগ আসন” মোট 1%-এর অন্তর্ভুক্ত। কোন জনগোষ্ঠী কয়টি পাবে, বা বাঙালি প্রার্থীর আসন থাকছে কি না, 2025–26-এর নীতিমালায় লেখা নেই।
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের মোট আসনের কথাও নথিভেদে আলাদা দেখায়। নীতিমালা লেখে “৫০ (পঞ্চাশ) আসনের মধ্যে ২৫%”; 2021–22-এর অধিদপ্তরের সারণি-২-এ কলেজটির সারি “36, 1, 1+13” — সাধারণ 36, মুক্তিযোদ্ধা 1, উপজাতীয় 1, আর পার্বত্য সংরক্ষিত 13। 2018–19 ও 2019–20-এর সারণিতে একই কলেজের সারি 49, 1, 1, মোট 51।
সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে উপজাতীয়দের জন্য 5টি আসন — 3টি তিন পার্বত্য জেলার, 2টি অন্য জেলার। সংখ্যাটি 2013–14-এর ফল প্রকাশে যেমন, 2024–25-এর নীতিমালাতেও তেমন।
নীতিমালা-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৯.২.১: “সরকারি ডেন্টাল কলেজের জন্য ০৫ টি আসন উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে। এই আসনের মধ্যে পার্বত্য ০৩ টি জেলার জন্য ০৩টি এবং পার্বত্য জেলার বাহিরে অন্যান্য উপজাতীয়দের জন্য ০২টি আসন সংরক্ষিত থাকিবে।” একই বাক্য নীতিমালা-২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪-এ আছে। 2013–14 ও 2014–15-এর ফল প্রকাশে বিডিএসের হিসাব: সাধারণ 517, মুক্তিযোদ্ধা 10, “উপজাতীয় ৫ টি আসনসহ মোট ৫৩২ টি আসন”। লক্ষণীয়, ডেন্টালে বিধানটি “উপজাতীয়দের জন্য” — পার্বত্য অ-উপজাতীয় প্রার্থীর আলাদা আসনের কথা ডেন্টালের বাক্যে নেই।
2025–26-এর নীতিমালায় ডেন্টালের আলাদা সংখ্যা নেই; “শতকরা ০১ ভাগ” বিধানটি এমবিবিএস ও বিডিএস দুটোর নীতিমালায় একসঙ্গে।
কোটার প্রার্থীকে অনলাইন আবেদনের দ্বিতীয় পৃষ্ঠাতেই কোটার বাটনে ক্লিক করতে হয়, সনদের স্মারক বা সনদ নম্বর ও তারিখ লিখতে হয়, আর পরের পৃষ্ঠায় 71–77-এর একটি কোড বাছতে হয়। বাটনে ক্লিক না করলে 8.00 জিপিএর ছাড় কার্যকর হয় না, আর ভুল করে ক্লিক করে টাকা জমা দিলে পরে সংশোধনের সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের 2021–22-এর বিস্তারিত নির্দেশনা (অনুচ্ছেদ ২৩.১১) এভাবে বলে: “প্রার্থীর উপজাতীয় কোটায় সুযোগ থাকলে Tribal applicant or a non-tribal applicant from Hilltract’s অপশনে ক্লিক করতে হবে। এখানে ক্লিক না করলে পরের পৃষ্ঠায় উপজাতি সংশ্লিষ্ট অপশনের সুযোগ থাকবে না এবং উপজাতীয় কোটায় নির্ধারিত GPA ৮.০০ কার্যকরী হবে না।” তারপর: “স্মারক নম্বর/সনদের নম্বর ও তারিখ ছাড়া উপজাতি/পার্বত্য জেলার অ-উপজাতি কোটায় অনলাইনে এন্ট্রি হবে না। কোটায় ভর্তির সুযোগ পেলে ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে না পারলে ভর্তির সুযোগ বাতিল হয়ে যাবে।”
পরের পৃষ্ঠায় (অনুচ্ছেদ ২৩.১৬): “পূর্বের পৃষ্ঠায় Tribal Quota এ ক্লিক করে থাকলে, এখানে Tribal Quota লিস্ট (সারণি-৪) থেকে একটি নির্বাচন করতে হবে।” সারণি-৪-এর সাতটি কোড উপরের ছকে আছে।
সবচেয়ে কঠিন সতর্কতা অনুচ্ছেদ ৩০-এ: ভুল করে কোটা পূরণ করলে টাকা জমার আগেই নতুন করে ফরম পূরণ করতে হবে, “কারণ, প্রার্থীর চাহিত কোটায় আসন বরাদ্দ হলে, পরবর্তীতে উক্ত কোটার প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র দেখাতে না পারলে আসন বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। তখন আর সাধারণ বরাদ্দের কোন সুযোগ থাকবে না।” অর্থাৎ যিনি কোটায় আসন পেয়ে সনদ দেখাতে পারলেন না, তিনি সাধারণ মেধাতালিকায় ফেরত যান না। একই সতর্কতা 2019–20-এর নির্দেশনার অনুচ্ছেদ ১৮-তেও আছে, আর 2018–19-এর বিজ্ঞপ্তির অনুচ্ছেদ ১৭ বলে, সনদের নম্বর ও তারিখ ছাড়া কোটায় অনলাইন এন্ট্রি হবে না। 2016–17 ও 2013–14-এর নির্দেশনায়ও “Tribal /Hilltract’s non tribal Quota” বাটনের একই বিবরণ আছে।
2024–25 থেকে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের সনদ ভর্তির আগে কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই হয় — মহাখালীতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে সাক্ষাৎকার নিয়ে। 2025–26-এ ফল প্রকাশ হয় 14 ডিসেম্বর 2025, আর সাক্ষাৎকার 18 ও 21 ডিসেম্বর।
নীতিমালার ভিত্তি: নীতিমালা-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৯.৩ বলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটার নির্বাচিতদের তালিকা “কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইপূর্বক অনুমোদনক্রমে” ভর্তি হবে; 2025–26-এর নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৮.১.১-এ একই কথা শুধু পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য। এর আগের বছরগুলোতে, যেমন 2022–23-এর নির্দেশাবলিতে, সনদ যাচাই করত কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে “স্থানীয় ভর্তি কমিটি”।
প্রথম আলো (20 জানুয়ারি 2025) জানায়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী 23 ও 26 জানুয়ারি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটার প্রার্থীদের এবং 27, 28 ও 29 জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের সনদসহ মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়; তথ্য মিথ্যা বা ভুল প্রমাণিত হলে প্রাথমিক নির্বাচন বাতিল। শিক্ষাবার্তা ডট কম (30 জানুয়ারি 2025) লিখেছে, পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটার যাচাইয়ে “অনুপস্থিত ছিলেন ১০ জন”। এই সংখ্যার কোনো সরকারি উৎস পাওয়া যায়নি।
14 ডিসেম্বর 2025-এর ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি নীতিমালার পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জানায়, 18 ও 21 ডিসেম্বর পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর সংরক্ষিত আসনের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের সাক্ষাৎকার হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলার সম্মেলনকক্ষে। প্রথম আলো (17 ডিসেম্বর 2025) পরের বিজ্ঞপ্তি থেকে কাগজের তালিকা ছেপেছে; কোটা-সংক্রান্ত দলিলের সফট কপি 17 ডিসেম্বরের মধ্যে ই-মেইলে পাঠাতে বলা হয়, আর সাক্ষাৎকারে আনতে বলা হয়:
পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র আর জন্মসনদ — এই দুটি কাগজ আগের বছরগুলোর ভর্তির তালিকায় ছিল না; 2022–23-এ জন্ম নিবন্ধন ছিল কেবল অধ্যক্ষ চাইলে।
নথিভুক্ত বদল তিনটি স্তরে। 2024–25-এর নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা 2% থেকে 5% হয় এবং নাতি-নাতনি বাদ পড়েন। জানুয়ারি 2025-এর ফলের পর কোটায় নির্বাচিতদের ভর্তি স্থগিত হয় ও উপদেষ্টা পরিষদ বিষয়টি মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে পাঠায়। 2025–26-এর নীতিমালায় পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আসন নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে শতাংশে যায়, আর সংরক্ষিত আসনের অনুচ্ছেদে মুক্তিযোদ্ধা কোটার কোনো উপধারা থাকে না।
নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৯.১.১ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ভিত্তি হিসেবে সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের 23 জুলাই 2024-এর স্মারক (০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৪.২৪-১৪১) উল্লেখ করে: “মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য মোট আসনের ৫% আসন সংরক্ষিত থাকিবে।” আগের নীতিমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৯.১.১-এ ছিল, “মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এবং সন্তানদের সন্তানাদির জন্য মোট আসনের 2% আসন”। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর বিধান (অনুচ্ছেদ ৯.২) দুই নীতিমালায় একই — 20টি আসন, রাঙ্গামাটিতে 13। বাংলা ট্রিবিউন (25 নভেম্বর 2024) ও প্রথম আলো (5 ডিসেম্বর 2024) নীতিমালা প্রকাশের খবরে নাতি-নাতনির কোটা বাতিল আর জিপিএর নম্বর 200 থেকে 100-তে নামার কথা লিখেছে।
এর আগের একটি আদালতি পর্বও আছে। শিক্ষাবার্তা ডট কম (1 ফেব্রুয়ারি 2024) জানায়, নীতিমালা-২০২৪-এর 2% মুক্তিযোদ্ধা কোটার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ 5% আসন সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটা নিয়ে ওই আদেশে কিছু ছিল কি না, প্রতিবেদনে নেই।
এখানে একটি বিষয় নথিতে স্পষ্ট: জানুয়ারি 2025-এর প্রতিবাদের কেন্দ্রে ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা। প্রথম আলো (20 জানুয়ারি 2025) জানায়, অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে দুই কোটার প্রার্থীদেরই যাচাইয়ের কথা ছিল, কিন্তু “কোটায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জনের” — অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা কোটার — ভর্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। 3 ফেব্রুয়ারির স্থগিতাদেশ সব কোটার জন্য ছিল কি না, প্রতিবেদনগুলোর ভাষা এক নয়: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে “candidates selected under different quotas”, আজকের পত্রিকা লিখেছে “কোটায় উত্তীর্ণদের ভর্তি কার্যক্রম”। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী কোটার প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত কবে ভর্তি হলেন, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
29 অক্টোবর 2025-এ প্রকাশিত জাতীয় নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৮.০-র শিরোনাম “সংরক্ষিত আসন ও এ আসনের জন্য প্রযোজ্য সনদপত্র”; তার নিচে দুটি উপধারা — ৮.১ পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী, ৮.২ বেসরকারি কলেজের মেধাবী-অসচ্ছল কোটা। মুক্তিযোদ্ধা কোটার কোনো উপধারা এই অনুচ্ছেদে নেই, আর অনুচ্ছেদ ৪.২-এ সরকারি কলেজে কোটা অনুযায়ী নির্বাচনের কথা আছে কেবল “উপজাতি ও পার্বত্য অঞ্চলের অ-উপজাতীয়দের জন্য”। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আসন হয়েছে “মোট আসনের শতকরা ০১ ভাগ”। একই নীতিমালায় সাধারণ প্রার্থীর জিপিএ শর্ত 9.00 থেকে 8.50 হয় — প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ (1 নভেম্বর 2025) এই বদল জানিয়েছে, আর লিখেছে নীতিমালা 2025–26 থেকে কার্যকর।
সরকারি চাকরির কোটায় 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হার 1% — সেই প্রজ্ঞাপন ও তার আগের ইতিহাস কোটার হিসাব নিয়ে আমাদের লেখায় আছে। মেডিকেল নীতিমালার 1% সেই প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত কি না, 2025–26-এর নীতিমালা কোনো সূত্র উল্লেখ করে না; 2024–25-এর নীতিমালা যেমন মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর লিখেছিল, পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর 1%-এর পাশে তেমন কিছু নেই।
1997-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খণ্ড (ঘ)-এর 10 দফায় সরকার অঙ্গীকার করেছে, “চাকুরী ও উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত” উপজাতীয়দের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখবে। চুক্তিতে কোনো শতাংশ বা আসনসংখ্যা নেই।
দফাটির পাঠ ও বাস্তবায়নের আলোচনা আছে পার্বত্য চুক্তি 1997: কী ছিল, কতটা হলো লেখায়। মেডিকেল ভর্তির কোনো নীতিমালা বা বিজ্ঞপ্তি চুক্তির এই দফা উল্লেখ করে না। আর মেডিকেল কোটা কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য নয় — 2018–19 থেকে 2024–25 পর্যন্ত প্রতিটি পাওয়া নথিতে অন্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য 8টি আলাদা আসন আছে, যা চুক্তির আওতার বাইরের জনগোষ্ঠীর জন্যও।
সংরক্ষিত আসনে কোন জনগোষ্ঠীর কতজন ভর্তি হলেন, তার কোনো সরকারি তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। যা আছে তা নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ আর অনামা গবেষণার উদ্ধৃতি, যেগুলোর কোনোটি সরকারি নথি দিয়ে মেলানো যায় না।
দ্য ডেইলি স্টার (21 এপ্রিল 2021) সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যে বিবৃতি ছেপেছে, তাতে 22 জন নাগরিকের সই। বিবৃতির দাবি: 2020–21-এর ভর্তি বিজ্ঞাপন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন 30টি — পার্বত্য উপজাতীয় 9, অন্য জেলার 8, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে 13 — আর পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রদের জন্য আলাদা 3টি। বিবৃতি অনুযায়ী 4 এপ্রিল 2021-এর ফলে অন্য জেলার 8টি আসনের 5টিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নন এমন ছাত্র নির্বাচিত হয়েছেন; আর পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রদের আসন 3টি হলেও গেজেটভুক্ত 50টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের 6 জন নির্বাচিত হয়েছেন; সংগঠনটি অ-আদিবাসী ছাত্রদের তালিকা বাতিল ও তদন্ত চায়। প্রতিবেদনে সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বিবৃতিটি কোন সনদের ভিত্তিতে ওই ছাত্ররা নির্বাচিত হলেন, তা বলে না।
জনগোষ্ঠী ধরে ভর্তির যে একমাত্র সংখ্যা সংবাদপত্রে ঘুরে বেড়ায় — 2011–2021 সালে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে কোটায় 3,108 জন, যার 1,752 জন চাকমা — তার উৎস ডেইলি অবজারভার ও ইত্তেফাকের ডিসেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন, যেখানে উৎস হিসেবে কেবল “a study” লেখা। সেই হিসাবের সীমাবদ্ধতা ও পাল্টা দাবি আমাদের কোটা-হিসাবের লেখায় বিস্তারিত আছে; এখানে আর বলা হলো না। ওই সংখ্যায় মেডিকেল আর বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করা নেই।
2025–26-এর নীতিমালায় রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের জনগোষ্ঠীভিত্তিক ভাগ উঠে যাওয়ার কারণ বা এ নিয়ে কোনো সংগঠনের প্রতিক্রিয়া কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
দুটি সনদ — সার্কেল চিফের এবং জেলা প্রশাসকের। 2013–14 থেকে 2025–26 পর্যন্ত প্রতিটি নীতিমালা ও বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য জেলার “উপজাতীয়” প্রার্থীর জন্য “এবং” লেখা; কোনো বছরেই একটি সনদ যথেষ্ট বলা হয়নি। 2025–26-এর জাতীয় নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৮.১.২-এ বিধানটি আছে। ভর্তির সময় মূল সনদ দেখাতে হয়।
নীতিমালা চায় “গোত্র প্রধান ও জেলা প্রশাসকের সনদ”। “গোত্র প্রধান” কে, নীতিমালায় সংজ্ঞা নেই। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (17 মে 2025) জানিয়েছে, সমতলের প্রার্থীকে সনদ দেওয়ার আগে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদন চান, আর ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই করেন; প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।
2025–26 শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে 8.00, কোনো একটিতে 3.50-এর কম নয়, আর জীববিজ্ঞানে 3.50 (জাতীয় নীতিমালা, অনুচ্ছেদ ২.৬)। সাধারণ প্রার্থীর জন্য একই বছর 8.50। 2016–17 থেকে 2024–25 পর্যন্ত কোটার শর্ত ছিল 8.00, সাধারণের 9.00; 2013–14-এ কোটার 7.00, সাধারণের 8.00।
হ্যাঁ। নীতিমালার “পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী” সংজ্ঞায় “পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় প্রার্থী” আছেন। 2024–25 পর্যন্ত প্রতিটি পার্বত্য জেলায় একটি করে মোট 3টি আসন, আর রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের 13টির মধ্যে প্রতি জেলায় একটি করে বাঙালি প্রার্থীর আসন ছিল। তাঁদের সনদ সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসকের; 2025–26-এর নীতিমালায় “ও”।
2013–14 থেকে 2019–20 পর্যন্ত পাওয়া নথিগুলোতে সরকারি মেডিকেলে 20টি; 2018–19 ও 2019–20-এর সারণিতে ভাগ: তিন পার্বত্য জেলার উপজাতীয় 9, অ-উপজাতীয় 3, অন্য জেলার উপজাতীয় 8। 2021–22 থেকে 2024–25 পর্যন্ত এর সঙ্গে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে 13টি। 2025–26-এ নিয়ম বদলে মোট আসনের শতকরা 1 ভাগ, যার মধ্যে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের 25% আসন।
নীতিমালা-২০২২ থেকে ২০২৫ অনুযায়ী 13টি আসন: রাঙ্গামাটি 4 (বাঙালি 1, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা 2, ত্রিপুরা-মারমা-খিয়াং-লুসাই-পাংখোয়া 1), খাগড়াছড়ি 4 (বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা 1 করে), বান্দরবান 5 (বাঙালি 1, মারমা 1, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা 1, ম্রো ও ত্রিপুরা 1, বম-লুসাই-পাংখোয়া-খুমী-খিয়াং-চাক 1)। 2025–26-এর নীতিমালায় এই ভাগ নেই।
আছে। সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে 5টি আসন “উপজাতীয়দের জন্য” — তিন পার্বত্য জেলার 3টি, অন্য জেলার 2টি। নীতিমালা-২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত একই বাক্য; 2013–14 ও 2014–15-এর ফল প্রকাশেও “উপজাতীয় ৫ টি আসন”। পার্বত্য অ-উপজাতীয় প্রার্থীর আলাদা ডেন্টাল আসনের কথা নীতিমালায় নেই।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের 2021–22-এর নির্দেশনা (অনুচ্ছেদ ২৩.১১) অনুযায়ী Tribal অপশনে ক্লিক না করলে পরের পৃষ্ঠায় কোটার অপশন থাকে না এবং “উপজাতীয় কোটায় নির্ধারিত GPA ৮.০০ কার্যকরী হবে না”। আবার ভুল করে কোটা বেছে আসন পেলে আর সনদ দেখাতে না পারলে আসন বাতিল হয়, “তখন আর সাধারণ বরাদ্দের কোন সুযোগ থাকবে না” (অনুচ্ছেদ ৩০)।
2024–25 ও 2025–26-এ মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনে, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সামনে। 2024–25-এ তারিখ ছিল 23 ও 26 জানুয়ারি 2025, 2025–26-এ 18 ও 21 ডিসেম্বর 2025। 2025–26-এ সাক্ষাৎকারে জন্মসনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র আর কোটার মূল সনদ চাওয়া হয় (প্রথম আলো, 17 ডিসেম্বর 2025)।
না। নীতিমালা-২০২৫ (2024–25) পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর 20টি ও রাঙ্গামাটির 13টি আসন রেখে দেয়; মুক্তিযোদ্ধা কোটা 2% থেকে 5% হয় এবং নাতি-নাতনি বাদ পড়েন। 2025–26-এর জাতীয় নীতিমালায় পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আসন মোট আসনের শতকরা 1 ভাগ, আর সংরক্ষিত আসনের অনুচ্ছেদে মুক্তিযোদ্ধা কোটার উপধারা নেই।
না। “ভর্তি নীতিমালা-২০২৫”-এর অনুচ্ছেদ ১.২ অনুযায়ী সেটি 2024–25 শিক্ষাবর্ষে কার্যকর। 2025–26-এর নথির নাম “২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির জাতীয় নীতিমালা”, প্রকাশ 29 অক্টোবর 2025। একইভাবে নীতিমালা-২০২৪ ছিল 2023–24-এর, নীতিমালা-২০২৩ ছিল 2022–23-এর।
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের 13টি আসনের বেলায় নীতিমালা-২০২২–২০২৫ বলে, উপযুক্ত প্রার্থী না পেলে আসনটি “বর্ণিত জেলা হইতে” মেধা ও পছন্দক্রমে পূরণ হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটার খালি আসন সাধারণ মেধাতালিকা থেকে পূরণের কথা নীতিমালায় স্পষ্ট লেখা; পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর 20টি আসনের খালি অংশের বেলায় নীতিমালায় আলাদা বাক্য পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোনো দাবি নিজে মিলিয়ে দেখতে চাইলে প্রাথমিক নথি কোথায় পাওয়া যায়, তার নির্দেশিকা আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথ্য যাচাই লেখায়।
নীতিমালা (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল; প্রকাশ: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, mefwd.gov.bd/pages/policies)
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, নির্দেশনা ও ফল (স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, dgme.gov.bd)
পুরোনো বিজ্ঞপ্তি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ইন্টারনেট আর্কাইভে সংরক্ষিত কপি)
সংবাদ ও অন্যান্য
জুমজার্নালের সংশ্লিষ্ট লেখা
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026। মেডিকেল ভর্তির নীতিমালা প্রতি বছর বদলায়; আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।
প্রসঙ্গ:আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী শিক্ষার্থী, উচ্চশিক্ষা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।