Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা: সাক্ষরতা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও চ্যালেঞ্জ

Last updated Oct 19th, 2026

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের পাঁচতলা একাডেমিক ভবন, সামনে নাম লেখা তোরণ, সীমানাপ্রাচীর ও গাছপালা

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে? জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার খাগড়াছড়িতে 71.80%, রাঙামাটিতে 71.41% আর বান্দরবানে 63.74%; তিন জেলাই জাতীয় হার 74.80%-এর নিচে। এগারো বছরে হার অনেক বেড়েছে, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে; কিন্তু দুর্গম উপজেলায় অর্ধেকের বেশি নারী এখনো নিরক্ষর, স্কুলে শিক্ষকের পদ খালি, আর শিশুর ঘরের ভাষা ও বইয়ের ভাষা আলাদা।

এই লেখায় তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষার সংখ্যাগুলো এক জায়গায় রাখা হয়েছে: জেলা ও উপজেলা ধরে সাক্ষরতা, কে কত দূর পড়েছে, কোন বয়সে পড়া থেমে যায়, কোথায় কয়টি প্রতিষ্ঠান, পাড়াকেন্দ্র, ঝরে পড়া আর শিক্ষক সংকট। মূল সংখ্যা নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022-এর তিনটি জেলা রিপোর্ট থেকে; সঙ্গে আছে জেলা প্রশাসনের পোর্টাল, বাংলাপিডিয়া, UNICEF-এর প্রতিবেদন, সংবাদপত্র ও জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ। উৎসের সংখ্যা যেখানে মেলে না, সেখানে দুটোই পাশাপাশি আছে। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখতে পারেন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ।

সূচিপত্র

  1. তিন পার্বত্য জেলায় সাক্ষরতার হার কত
  2. কোন উপজেলায় সাক্ষরতা সবচেয়ে বেশি, কোথায় সবচেয়ে কম
  3. নারী-পুরুষ আর গ্রাম-শহরের ফারাক কতটা
  4. কতজন কখনো স্কুলে যায়নি, কতজন এসএসসি পেরিয়েছে
  5. কোন বয়সে এসে পড়াশোনা থেমে যায়
  6. সাক্ষরতা কীভাবে বদলেছে: 2001 থেকে 2022
  7. কোন জেলায় কয়টি স্কুল-কলেজ
  8. পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ: কোনটি কবে, কোথায়
  9. রাঙামাটির মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপত্তি কী ছিল
  10. পাড়াকেন্দ্র কী, কয়টি আছে
  11. পাহাড়ে শিশুরা কেন স্কুল থেকে ঝরে পড়ে
  12. শিক্ষক সংকট কতটা, আর এসএসসির ফলে তার ছাপ
  13. মাতৃভাষায় পাঠ্যবই: সংক্ষেপে
  14. 1960-এর পর পাহাড়ে শিক্ষা-বিস্তার: সংক্ষিপ্ত পটভূমি
  15. প্রশ্নোত্তর
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

তিন পার্বত্য জেলায় সাক্ষরতার হার কত (জনশুমারি 2022)

জনশুমারি 2022-এ 7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার খাগড়াছড়িতে 71.80%, রাঙামাটিতে 71.41% এবং বান্দরবানে 63.74%। জাতীয় হার 74.80%। অর্থাৎ খাগড়াছড়ি জাতীয় হারের চেয়ে 3.00, রাঙামাটি 3.39 আর বান্দরবান 11.06 শতাংশ-বিন্দু পিছিয়ে। তিন জেলাতেই পুরুষের হার নারীর চেয়ে অন্তত 10 শতাংশ-বিন্দু বেশি।

সংখ্যাগুলো BBS-এর জেলা রিপোর্টের সারণি 3.1.15 থেকে নেওয়া (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান)। জাতীয় হার 74.80% তিনটি রিপোর্টেই তুলনার জন্য লেখা আছে।

সাক্ষরতার হার, 7 বছর ও তদূর্ধ্ব (%), জনশুমারি 2022
জেলা মোট পুরুষ নারী গ্রাম শহর
খাগড়াছড়ি71.8077.2066.4167.4377.85
রাঙামাটি71.4177.7964.6468.0175.10
বান্দরবান63.7468.9758.2254.9976.18
জাতীয়74.80————

বয়সের সীমা বদলালে সংখ্যাও বদলায়। 15 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে হার রাঙামাটিতে 67.16%, খাগড়াছড়িতে 66.95% আর বান্দরবানে 58.40%। 5 বছর ও তদূর্ধ্ব ধরলে যথাক্রমে 70.86%, 71.20% ও 62.75%। প্রাপ্তবয়স্কদের হার কম, অর্থাৎ নিরক্ষরতার বড় অংশটি বয়স্ক প্রজন্মের মধ্যে।

জেলা প্রশাসনের পোর্টালে সংখ্যা সব জায়গায় একই নয়। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল জনশুমারির সঙ্গে মিলিয়ে 71.80% (পুরুষ 77.20%, নারী 66.41%) লিখেছে, সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনের হার 83%। বান্দরবান জেলা পোর্টালের “এক নজরে” পাতা শিক্ষার হার দেয় 43.00%, কোন বছরের হিসাব তা সেখানে লেখা নেই; BBS-এর জনশুমারি 2022 দেয় 63.74%।

কোন উপজেলায় সাক্ষরতা সবচেয়ে বেশি, কোথায় সবচেয়ে কম

তিন পার্বত্য জেলার 26টি উপজেলার মধ্যে সাক্ষরতা সবচেয়ে বেশি রাঙামাটি সদরে, 80.51%; সবচেয়ে কম বান্দরবানের রুমায়, 50.26%, তার ঠিক পরে থানচি, 50.68%। রাঙামাটি জেলায় সর্বনিম্ন বিলাইছড়ি (55.88%), খাগড়াছড়িতে লক্ষ্মীছড়ি (62.59%)। একই অঞ্চলের দুই উপজেলার ফারাক 30 শতাংশ-বিন্দু পর্যন্ত।

জেলার গড় দেখে তাই ভেতরের ছবিটা ধরা যায় না। নিচের ছকে BBS-এর সারণি 3.1.15 থেকে প্রতিটি উপজেলার হার দেওয়া হলো, 7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য।

উপজেলাভিত্তিক সাক্ষরতার হার, 7 বছর ও তদূর্ধ্ব (%), জনশুমারি 2022
জেলা উপজেলা মোট পুরুষ নারী
রাঙামাটিরাঙামাটি সদর80.5184.7075.99
রাঙামাটিকাপ্তাই73.2479.5166.73
রাঙামাটিকাউখালী71.1877.5164.79
রাঙামাটিলংগদু70.6374.7166.43
রাঙামাটিবরকল70.1579.4859.77
রাঙামাটিনানিয়ারচর69.1875.8362.34
রাঙামাটিরাজস্থলী68.0275.4860.37
রাঙামাটিবাঘাইছড়ি67.7274.9259.88
রাঙামাটিজুরাছড়ি61.1772.2048.81
রাঙামাটিবিলাইছড়ি55.8866.7443.69
খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সদর77.3682.3972.17
খাগড়াছড়িরামগড়76.0880.1472.09
খাগড়াছড়িমানিকছড়ি72.4476.4168.70
খাগড়াছড়িমাটিরাঙ্গা71.5976.0167.35
খাগড়াছড়িমহালছড়ি71.2076.6365.73
খাগড়াছড়িদীঘিনালা69.9476.6962.93
খাগড়াছড়িপানছড়ি68.0174.7961.28
খাগড়াছড়িগুইমারা66.4172.0960.69
খাগড়াছড়িলক্ষ্মীছড়ি62.5970.8954.03
বান্দরবানবান্দরবান সদর73.8678.6268.59
বান্দরবানলামা65.7369.7161.68
বান্দরবাননাইক্ষ্যংছড়ি64.1166.3661.86
বান্দরবানআলীকদম57.1463.0150.69
বান্দরবানরোয়াংছড়ি55.2765.1445.20
বান্দরবানথানচি50.6860.8039.16
বান্দরবানরুমা50.2659.3040.35

ছকের নিচের দিকের নামগুলো একটি ধরন দেখায়। রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি: ছয়টিই সদর থেকে দূরের উপজেলা, আর ছয়টিতেই নারীর সাক্ষরতা 51%-এর নিচে। উল্টো দিকে তিন জেলা সদর, রামগড় আর কাপ্তাইয়ে হার 73%-এর উপরে।

রাজস্থলী নিয়ে উৎসে অমিল আছে। Dhaka Tribune (22 ডিসেম্বর 2025) লিখেছে উপজেলাটির সাক্ষরতার হার 34%, কোন বছরের বা কোন জরিপের হিসাব তা প্রতিবেদনে নেই; BBS-এর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাজস্থলীতে হার 68.02%।

নারী-পুরুষ আর গ্রাম-শহরের ফারাক কতটা

তিন জেলাতেই নারী পিছিয়ে: পুরুষ ও নারীর সাক্ষরতার ফারাক রাঙামাটিতে 13.15, খাগড়াছড়িতে 10.79 আর বান্দরবানে 10.75 শতাংশ-বিন্দু। গ্রাম-শহরের ফারাক সবচেয়ে বড় বান্দরবানে: শহরে 76.18%, গ্রামে 54.99%, ব্যবধান 21.19 শতাংশ-বিন্দু। বান্দরবানের গ্রামের নারীদের মধ্যে সাক্ষর 49.25%, অর্থাৎ অর্ধেকের কম।

শহরের হিসাবে তিন জেলা প্রায় সমান: রাঙামাটি 75.10%, বান্দরবান 76.18%, খাগড়াছড়ি 77.85%। তিনটিই জাতীয় গড়ের কাছাকাছি বা উপরে। পার্থক্যটা তৈরি হয় গ্রামে: খাগড়াছড়ির গ্রামে 67.43%, রাঙামাটির গ্রামে 68.01%, বান্দরবানের গ্রামে 54.99%। পাহাড়ের শিক্ষার সংকট তাই মূলত গ্রামের, আর তার ভেতরে নারীর।

উপজেলা ধরলে লিঙ্গ-ব্যবধান আরও চওড়া হয়। বিলাইছড়িতে পুরুষ 66.74%, নারী 43.69%; জুরাছড়িতে 72.20% ও 48.81%; থানচিতে 60.80% ও 39.16%; রোয়াংছড়িতে 65.14% ও 45.20%; বরকলে 79.48% ও 59.77%। এই পাঁচ উপজেলায় ফারাক প্রায় 20 শতাংশ-বিন্দু বা তার বেশি। আবার নাইক্ষ্যংছড়িতে ফারাক মাত্র 4.50 (66.36% ও 61.86%), লংগদুতে 8.28।

15 বছর ও তদূর্ধ্ব নারীদের হিসাবে ছবিটা আরও কঠিন: থানচিতে সাক্ষর 31.25%, রুমায় 33.47%, বিলাইছড়িতে 35.85%, রোয়াংছড়িতে 37.30%, জুরাছড়িতে 40.95%। অর্থাৎ এই পাঁচ উপজেলায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের 59% থেকে 69% পড়তে-লিখতে পারেন না।

পুরোনো হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। আমাদের আর্কাইভের লেখা “আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী”-তে লেখা আছে: “পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন নিরক্ষর”। জেলা-স্তরে সেই অনুপাত 2022-এ আর নেই, কিন্তু থানচি বা রুমার প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের বেলায় সংখ্যাটি এখনো প্রায় একই জায়গায়। নারীশিক্ষার সামাজিক কারণগুলোর বিশ্লেষণ ওই লেখাতেই আছে।

কতজন কখনো স্কুলে যায়নি, কতজন এসএসসি পেরিয়েছে

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 7 বছর ও তদূর্ধ্ব নারীদের মধ্যে কখনো স্কুল বা মাদ্রাসায় যাননি বান্দরবানে 34.18%, খাগড়াছড়িতে 28.83% আর রাঙামাটিতে 28.20%। পুরুষদের মধ্যে এই হার যথাক্রমে 24.50%, 18.85% ও 17.03%। এসএসসি বা তার বেশি পাস করেছেন রাঙামাটির পুরুষদের 23.11%, বান্দরবানের নারীদের 12.85%।

7 বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর শিক্ষার স্তর (%), জনশুমারি 2022, সারণি 3.1.17
জেলা কখনো স্কুলে যাননি: পুরুষ কখনো স্কুলে যাননি: নারী এসএসসি/সমমান ও তদূর্ধ্ব: পুরুষ এসএসসি/সমমান ও তদূর্ধ্ব: নারী
রাঙামাটি17.0328.2023.1117.03
খাগড়াছড়ি18.8528.8320.8415.52
বান্দরবান24.5034.1818.5812.85

গ্রামে হিসাবটা ভারী। 15 বছর ও তদূর্ধ্ব গ্রামীণ নারীদের মধ্যে কখনো স্কুলে যাননি বান্দরবানে 49.16%, খাগড়াছড়িতে 39.83%, রাঙামাটিতে 37.95%। অর্থাৎ বান্দরবানের গ্রামে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় অর্ধেক কোনো দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখেননি।

রাঙামাটির সারণি থেকে পুরো সিঁড়িটা দেখা যায়। জেলার 7 বছর ও তদূর্ধ্ব পুরুষদের 19.26% প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন, 34.50% পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত। নারীদের বেলায় সংখ্যা দুটি 16.13% ও 31.40%। সবচেয়ে বড় দলটি তাই পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির মধ্যে থেমে যাওয়া মানুষ। খাগড়াছড়ির নারীদের মধ্যেও পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াদের অংশ 34.20%, বান্দরবানে 27.64%।

উপরের ধাপগুলো সরু। রাঙামাটিতে 5 বছর ও তদূর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে স্নাতক বা তার বেশি ডিগ্রিধারী 12,645 জন (4.17%), নারীদের মধ্যে 6,985 জন (2.44%); গ্রামে এই হার পুরুষে 2.19%, নারীতে 1.07%। 15 বছর ও তদূর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে এসএসসি বা তার বেশি পাস রাঙামাটিতে 28.00%, খাগড়াছড়িতে 25.73%, বান্দরবানে 23.61%; একই বয়সী নারীদের মধ্যে রাঙামাটিতে 20.62%, খাগড়াছড়িতে 18.96%।

কে কোন ধারায় পড়েছেন, রাঙামাটির সারণি 3.1.18 তারও হিসাব দেয়। জেলায় 5 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে সাধারণ ধারায় পড়েছেন বা পড়ছেন 4,13,279 জন, ধর্মীয় ধারায় 15,705 জন, কারিগরি ধারায় 4,183 জন। কারিগরি ধারার মাত্র 29.69% নারী; সাধারণ ধারায় নারী 44.90%।

কোন বয়সে এসে পড়াশোনা থেমে যায়

10 থেকে 14 বছর বয়সে পাহাড়ের বেশির ভাগ শিশু স্কুলে থাকে: রাঙামাটিতে ছেলেদের 84.68% ও মেয়েদের 86.84%, খাগড়াছড়িতে 86.52% ও 89.77%, বান্দরবানে 80.17% ও 80.73%। 15 থেকে 19 বছরে এসে হারটি 50–60%-এ নামে, আর 20 থেকে 24 বছরে মেয়েদের মধ্যে 17–23%-এ। পতনটা ঘটে মাধ্যমিকের শেষে।

বর্তমানে শিক্ষার্থী এমন মানুষের হার, বয়স ও লিঙ্গভেদে (%), জনশুমারি 2022, সারণি 3.1.16
বয়স রাঙামাটি: ছেলে রাঙামাটি: মেয়ে খাগড়াছড়ি: ছেলে খাগড়াছড়ি: মেয়ে বান্দরবান: ছেলে বান্দরবান: মেয়ে
5–9 বছর81.9482.8884.4085.4877.6476.24
10–14 বছর84.6886.8486.5289.7780.1780.73
15–19 বছর60.3960.7559.6657.4651.3549.58
20–24 বছর30.2523.4026.4217.5124.7818.30
25–29 বছর10.437.089.596.4110.395.87
5–29 বছর, মোট54.7753.1755.7852.6552.2348.97

ছকে দুটি জিনিস চোখে পড়ে। প্রথমত, 14 বছর পর্যন্ত তিন জেলাতেই মেয়েরা ছেলেদের সমান বা এগিয়ে; মেয়েরা পিছিয়ে পড়ে 20 বছরের পরে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাপে। দ্বিতীয়ত, বান্দরবানে 5 থেকে 9 বছরের শিশুদের প্রায় চারজনে একজন শুমারির সময় শিক্ষার্থী ছিল না, অর্থাৎ সেখানে সমস্যাটা শুরু হয় স্কুলে ঢোকার আগেই।

রাঙামাটির ভেতরে তারতম্য বড়। 5 থেকে 29 বছর বয়সীদের মধ্যে শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে কম জুরাছড়িতে (ছেলে 43.36%, মেয়ে 44.03%) আর বিলাইছড়িতে (47.79% ও 45.38%)। রাঙামাটি সদরে 20 থেকে 24 বছরের মেয়েদের 40.13% তখনো পড়ছে; লংগদুতে একই বয়সী মেয়েদের মাত্র 10.58%।

পড়াও নেই, কাজও নেই, প্রশিক্ষণও নেই, এমন তরুণদের শুমারিতে NEET বলা হয়। 15 থেকে 24 বছর বয়সীদের মধ্যে NEET রাঙামাটিতে 39,520 জন (31.11%), খাগড়াছড়িতে 49,274 জন (35.31%), বান্দরবানে 29,491 জন (30.44%)। লিঙ্গভেদে ফারাক বিপুল: রাঙামাটিতে তরুণদের 13.42% আর তরুণীদের 49.30%; খাগড়াছড়িতে 14.09% ও 54.84%; বান্দরবানে 10.97% ও 49.49%। তিন জেলাতেই এই বয়সের প্রায় অর্ধেক তরুণী পড়াশোনা, উপার্জনের কাজ বা প্রশিক্ষণ কোনোটিতেই নেই।

সাক্ষরতা কীভাবে বদলেছে: 2001 থেকে 2022

2011 থেকে 2022, এই এগারো বছরে BBS-এর হিসাবে সাক্ষরতা বেড়েছে রাঙামাটিতে 49.73% থেকে 71.41%, খাগড়াছড়িতে 46.11% থেকে 71.80%, বান্দরবানে 35.86% থেকে 63.74%। সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বান্দরবান, 27.88 শতাংশ-বিন্দু, তবু সে-ই সবার পেছনে। পুরোনো হিসাবগুলো নানা উৎসে নানা সংজ্ঞায় আছে, তাই নিচে উৎসসহ পাশাপাশি দেওয়া হলো।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাক্ষরতা ও শিক্ষার হার: বিভিন্ন উৎসের হিসাব
বছর উৎস পার্বত্য চট্টগ্রাম বা জেলা জাতীয়
2001জুমজার্নাল আর্কাইভ, “আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী” (2001-এর পরিসংখ্যান উদ্ধৃত)শিক্ষার হার 37.35%; একই লেখায় পুরুষ 49.6%, নারী 40.8%45.3%
2011BBS জেলা রিপোর্ট 2022-এ উদ্ধৃত 2011-এর শুমারিরাঙামাটি 49.73%, খাগড়াছড়ি 46.11%, বান্দরবান 35.86%—
বছর লেখা নেইবাংলাপিডিয়ার জেলা-ভুক্তিরাঙামাটি 49.7% (পুরুষ 56.4, নারী 42.3); খাগড়াছড়ি 46.1% (51.9, 40.1); বান্দরবান 35.9% (40.3, 30.9)—
2015-র লেখাজুমজার্নাল আর্কাইভ, “আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা” (“সাম্প্রতিক জনগণনা জরিপ”)43.9%51.8% (চট্টগ্রাম বিভাগ 52.7%)
2022BBS জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022রাঙামাটি 71.41%, খাগড়াছড়ি 71.80%, বান্দরবান 63.74%74.80%

ছকটি পড়ার সময় তিনটি সতর্কতা দরকার। 2001-এর সারিতে মোট হার 37.35%, অথচ পুরুষ ও নারীর হার দুটোই তার চেয়ে বেশি; সংখ্যাগুলো আর্কাইভের লেখায় যেমন আছে তেমনই রাখা হয়েছে। বাংলাপিডিয়ার (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) সংখ্যার পাশে বছর লেখা নেই, তবে তিনটিই এক দশমিকে BBS-উদ্ধৃত 2011-এর হারের সঙ্গে মেলে। আর “শিক্ষার হার” ও “সাক্ষরতার হার” সব উৎসে একই সংজ্ঞায় ব্যবহার হয়েছে কি না, তা উৎসগুলো থেকে জানা যায়নি।

জনগোষ্ঠীভেদে সাক্ষরতার সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। আর্কাইভের ওই লেখাটি একটি পুরোনো গবেষণার কথা বলে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি গ্রামে 11–12 বছর বয়সীদের নিয়ে চালানো হয়েছিল: সেখানে শিক্ষার হার চাকমাদের মধ্যে 36.2%, মারমাদের 26.6%, ত্রিপুরাদের 18.5% আর ম্রোদের 2.9%। লেখাটি নিজেই সতর্ক করেছে যে এই গবেষণা সামগ্রিক চিত্র নয়, কেবল কয়েকটি গ্রামের। ফলে সংখ্যাগুলো আজকের অবস্থা বোঝায় না; বোঝায় কেবল এটুকু যে এক জনগোষ্ঠীর গড় দিয়ে আরেক জনগোষ্ঠীকে মাপা চলে না।

কোন জেলায় কয়টি স্কুল-কলেজ

খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালের হিসাবে জেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 1,080টি, এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 594 ও কলেজ 21টি। বান্দরবান জেলা পোর্টালে আছে 435টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, 27টি হাইস্কুল ও 10টি কলেজ। রাঙামাটি জেলা পোর্টালের “এক নজরে” পাতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নেই; অন্য উৎসের সংখ্যা একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না।

তিন জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: উৎসভেদে
জেলা জেলা পোর্টাল বাংলাপিডিয়া উইকিপিডিয়া
খাগড়াছড়িমোট 1,080; সরকারি কলেজ 11, বেসরকারি কলেজ 10; সরকারি মাধ্যমিক 10, বেসরকারি মাধ্যমিক 81, নিম্ন মাধ্যমিক 46; সরকারি প্রাথমিক 594, বেসরকারি প্রাথমিক 202(এই লেখায় সংখ্যা নেওয়া হয়নি)কলেজ 18, হাইস্কুল 71, মাদ্রাসা 13
বান্দরবানকলেজ 10, হাইস্কুল 27, মাদ্রাসা 8; সরকারি প্রাথমিক 435, বেসরকারি প্রাথমিক 122; কারিগরি প্রতিষ্ঠান 2, টেক্সটাইল ভোকেশনাল 1, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় 1, নার্সিং কলেজ 1, পিটিআই 1কলেজ 5, কারিগরি কলেজ 1, মাধ্যমিক 46, প্রাথমিক 302, কমিউনিটি স্কুল 28—
রাঙামাটিসংখ্যা দেওয়া নেইকলেজ 13, পালি কলেজ 3, মাধ্যমিক 177, প্রাথমিক 512, পলিটেকনিক 1—

রাঙামাটির উইকিপিডিয়া ভুক্তিতেও প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা আছে, কিন্তু ওই অনুচ্ছেদে কোনো সূত্র দেওয়া নেই এবং সংখ্যাগুলো বাংলাপিডিয়ার সঙ্গে মেলে না; তাই ছকে সেগুলো নেওয়া হয়নি। খাগড়াছড়ির বেলায় উইকিপিডিয়া লিখেছে 18 কলেজ ও 71 হাইস্কুল, জেলা পোর্টাল লিখেছে 21 কলেজ ও 91 মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পোর্টালটি হালনাগাদ হয়েছে 20 জুলাই 2026।

খাগড়াছড়ির পোর্টাল-তালিকা সবচেয়ে বিস্তারিত। সাধারণ ধারার বাইরে সেখানে আছে সরকারি কারিগরি কলেজ 2 ও বেসরকারি 2টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান সরকারি 4 ও বেসরকারি 5টি; মাদ্রাসার মধ্যে ইবতেদায়ি 15, দাখিল 14, আলিম 3, ফাজিল 2 এবং কওমি 76টি।

উপজেলা-স্তরের একটি উদাহরণ মেলে Dhaka Tribune-এর প্রতিবেদনে: রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় (জনসংখ্যা 27,864) প্রাথমিক বিদ্যালয় 53টি, নিম্ন মাধ্যমিক 4টি, মাধ্যমিক 3টি ও কলেজ 2টি। প্রতিবেদনটির ভাষায়, কাগজে সংখ্যাটি যথেষ্ট দেখালেও শিশুদের পড়া চালিয়ে যাওয়া বাস্তবে কঠিন।

পাহাড়ের পুরোনো স্কুল-কলেজ কোনগুলো

বাংলাপিডিয়ার খাগড়াছড়ি-ভুক্তিতে জেলার কয়েকটি পুরোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার সাল আছে। সে অনুযায়ী খবংপুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 1905 সালের; তবলছড়ি ও রামগড়ের হাইস্কুল 1952 সালের; খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় 1957, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ 1974 এবং রামগড় সরকারি ডিগ্রি কলেজ 1980 সালের।

এই সালগুলো একটি ক্রম দেখায়: তালিকার সবচেয়ে পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে পুরোনো হাইস্কুল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতক, আর সেখান থেকে জেলার সরকারি কলেজ পর্যন্ত আরও দুই দশকের বেশি। রাঙামাটি সরকারি কলেজ ও বান্দরবান সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠার সাল এই লেখার কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ: কোনটি কবে, কোথায়

তিন পার্বত্য জেলায় এখন তিনটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান: রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রথম ব্যাচ নভেম্বর 2015), রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ (প্রতিষ্ঠা 2014, বছরে 51 আসন) এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা 19 ফেব্রুয়ারি 2019)। প্রথম দুটি সরকারি, তৃতীয়টি বেসরকারি ফাউন্ডেশন ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগ। খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালের প্রতিষ্ঠান-তালিকায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠান ধরন প্রতিষ্ঠা ক্লাস শুরু ক্যাম্পাস
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সরকারি2014 (উইকিপিডিয়া) / 2013 (প্রথম আলো)নভেম্বর 2015, 75 জনশুরুতে তবলছড়ির শাহ হাইস্কুলে অস্থায়ী; স্থায়ী জায়গা ঝগড়াবিল, 65 একর
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজসরকারি2014জানুয়ারি 2015-এ উদ্বোধন; পাঠদান 28 মার্চ 2015 থেকে শুরুর সিদ্ধান্তরাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অস্থায়ী
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ফাউন্ডেশন 75% ও জেলা পরিষদ 25%19 ফেব্রুয়ারি 2019—শহরে অস্থায়ী; স্থায়ী ক্যাম্পাস সুয়ালকে 100 একরে পরিকল্পিত

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়টি বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে 3টি অনুষদের অধীনে 5টি বিভাগ। উইকিপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী বিভাগ ও আসন: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং 50, ম্যানেজমেন্ট 50, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স 30, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি 30, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট 30; সব মিলিয়ে বছরে 190 আসন।

প্রতিষ্ঠার সাল নিয়ে দুই উৎস দুই কথা বলে: উইকিপিডিয়া লিখেছে 2014, প্রথম আলো (25 সেপ্টেম্বর 2022) লিখেছে “২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত”। প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনটি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞানের বাইরের বিষয় পড়ানো নিয়ে; সেখানে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাঙামাটির তিন অনুষদের একটি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। উপাচার্যদের মধ্যে প্রথম ছিলেন প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা (2015–2022)।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে কতজন ভর্তি হয়

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ বছরে 51 জন শিক্ষার্থী নেয়, পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্সে। উইকিপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী সরকার 2014 সালে এটি প্রতিষ্ঠা করে, একই সঙ্গে জামালপুর, মানিকগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের মেডিকেল কলেজও হয়। ভর্তি হয় কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়, জাতীয় মেধা ও জেলা কোটার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও “ট্রাইবাল” কোটায়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনো হয়নি। প্রথম আলো (16 জুলাই 2025) জানায়, রাঙামাটি সদর হাসপাতালের পাশে 2009 সালে একটি ছয়তলা ভবন বানানো হয়েছিল হৃদ্‌রোগীদের সিসিইউ চালুর জন্য; ভবনটি চিকিৎসাকাজে ব্যবহার হয়নি, 2015 থেকে সেখানেই মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রকল্প অনুমোদিত, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি; প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে জুন 2028-এ।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি না বেসরকারি

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি সরকারি নয়। উইকিপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী বান্দরবান এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন 75% ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ 25% বিনিয়োগ করে এটি গড়েছে; ভুক্তিটি একে “সেমি-পাবলিক” বলেছে, আর জেলা পোর্টালের তালিকায় এটি আছে “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় 1টি” হিসেবে।

1 সেপ্টেম্বর 2019 সুয়ালক ইউনিয়নে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়; বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। তিনটি স্কুলের অধীনে বিভাগ 6টি: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, ম্যানেজমেন্ট, ইংরেজি এবং গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এডুকেশন। 2024 সালে শিক্ষার্থী ছিল 250-এর বেশি।

পাহাড়ের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে পড়াশোনার প্রস্তাব নিয়ে আমাদের আর্কাইভে আলাদা লেখা আছে: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব।

রাঙামাটির মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপত্তি কী ছিল

রাঙামাটির দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানই শুরু হয়েছিল স্থানীয় আপত্তির মধ্যে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দাবি ছিল, 1997 সালের পার্বত্য চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগে এই কার্যক্রম শুরু করা চলবে না। 10 জানুয়ারি 2015 মেডিকেল কলেজ উদ্বোধনের দিন রাঙামাটিতে সংঘর্ষ হয়, আর ক্লাস প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকে।

এই অংশে নথিভুক্ত ঘটনা আর পক্ষগুলোর অবস্থান আলাদা করে রাখা হলো।

যা নথিভুক্ত। The Daily Star (জানুয়ারি 2015) জানায়, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে রাঙামাটিসহ 11টি সরকারি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেদিন উদ্বোধনের প্রতিবাদে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দিনব্যাপী অবরোধ চলছিল; বনরূপা বাজারে তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও কয়েকটি বাঙালি সংগঠনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়, এবং পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য 144 ধারা জারি করা হয়। আহতের সংখ্যা ওই প্রতিবেদনে অন্তত 10, একই পত্রিকার মার্চ 2015-এর প্রতিবেদনে 30-এর বেশি।

মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্লাস শুরুর কথা ছিল 11 জানুয়ারি। 18 মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, 28 মার্চ থেকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠদান শুরু হবে। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী The Daily Star-এর হিসাবে 51 জন, তাঁদের 30 জন ছাত্রী; উইকিপিডিয়া লিখেছে 53 জন। শিক্ষার্থীরা সেশনজট ও নিরাপত্তা দুটো নিয়েই শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন, আর অধ্যক্ষ জানিয়েছিলেন যে আপাতত রাঙামাটির বাইরে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নির্দেশ আসে রাঙামাটিতেই নেওয়ার।

আপত্তিকারীদের অবস্থান। The Daily Star-এর মার্চের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় আদিবাসীরা কলেজ প্রতিষ্ঠাকে আদিবাসী-অধ্যুষিত জেলায় বাঙালি জনসংখ্যা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন এবং কার্যক্রম শুরুর আগে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চান। উইকিপিডিয়ার দুই ভুক্তি একই আপত্তি লিখেছে এভাবে: শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসবেন, আর তাঁদের বসতি অঞ্চলের চরিত্র বদলে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও আপত্তি ছিল একই।

আপত্তির আরেকটি দিক পাওয়া যায় The Daily Star-এর আরেক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি 2015)। দুটি প্রতিষ্ঠান বান্দরবানে সরিয়ে নেওয়ার কথা উঠলে PCJSS-এর বান্দরবান শাখা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সব কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামের যেকোনো জায়গায় স্থগিত রাখতে হবে। একই সংবাদ সম্মেলনে তারা পাহাড়ের সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে একটি যুক্তিও আছে: বান্দরবানে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করার মতো প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নেই, ফলে লাভ হবে অন্যদের।

সরকারের অবস্থান। সরকার প্রতিষ্ঠান দুটি চালু রেখেছে, আর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই পাঠদান রাঙামাটিতে শুরু হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষে সরকারের যুক্তি কী ছিল, তা এই লেখার কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

শেষ যুক্তিটি এই লেখার আগের অংশগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যায়। রাঙামাটি জেলায় 15 বছর ও তদূর্ধ্ব নারীদের 20.62% আর পুরুষদের 28.00% এসএসসি পেরিয়েছেন; মেডিকেল কলেজের 51টি আসনে কারা পৌঁছাবে, প্রশ্নটি তাই স্কুল-স্তরের অবস্থার সঙ্গে জড়িত। দুটি প্রতিষ্ঠানে পাহাড়ি শিক্ষার্থীর অংশ কত, সে সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

পাড়াকেন্দ্র কী, কয়টি আছে

পাড়াকেন্দ্র হলো দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় 3 থেকে 6 বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও মৌলিক সেবার কেন্দ্র, যা চালান সাধারণত ওই পাড়ারই একজন নারী, “পাড়াকর্মী”। UNICEF-এর আগস্ট 2019-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় 4,000 পাড়াকেন্দ্র আছে 3,500-র বেশি পাড়ায়; লক্ষ্য 5,000।

UNICEF-এর প্রতিবেদনটি জানায়, মডেলটি UNICEF শুরু করে 1990-এর দশকে। সরকার ও UNICEF-এর যৌথ Integrated Community Development Project (ICDP) চলে 1996 থেকে 2017 পর্যন্ত। 2017 সালে নেওয়া Sustainable Social Services প্রকল্পের কেন্দ্রে ছিল আরও 1,000 কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা। খরচের প্রায় 70% এখন সরকার দেয়, বাকিটা UNICEF। পাড়াকেন্দ্রগুলোর 70% আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায়।

শিক্ষার দিক থেকে কেন্দ্রের কাজ একটাই: শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য তৈরি করা। পদ্ধতিটি খেলা ও কাজভিত্তিক; বেশির ভাগ শিশু সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে আড়াই ঘণ্টা আসে। পাড়াকর্মী এলাকার সব শিশুর জন্মনিবন্ধনও নিশ্চিত করেন, কারণ নিবন্ধন ছাড়া স্কুলে ভর্তি আটকে যায়। প্রতিটি কেন্দ্র দেখাশোনা করে সাত সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি, যার একজন পাড়াকর্মী নিজে। এর বাইরে প্রায় 1,000 কেন্দ্র টিকাদান কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়, আর 108টি কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরী ক্লাব চলে।

পাড়াকেন্দ্রের সংখ্যা: 2009 ও 2019
সময় উৎস মোট কেন্দ্র জেলাভিত্তিক ঘোষিত লক্ষ্য
মে 2009The Daily Star2,520রাঙামাটি 962, খাগড়াছড়ি 890, বান্দরবান 6683,500
আগস্ট 2019UNICEF4,000দেওয়া নেই5,000

The Daily Star-এর 21 মে 2009-এর প্রতিবেদন কর্মসূচির আগের চেহারাটা ধরে রেখেছে। তখন কেন্দ্রগুলো চলছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও UNICEF-এর যৌথ উদ্যোগে। বেশির ভাগ কেন্দ্রের ঘর তুলেছিল পাড়ার মানুষই, জমি, শ্রম ও স্থানীয় উপকরণ দিয়ে। পাড়াকর্মীদের 95% ছিলেন নারী, মাসিক সম্মানী 1,500 টাকা। রাঙামাটি শহর থেকে 14 কিলোমিটার দূরের এক কেন্দ্রে প্রতিবেদক দেখেছিলেন 17 জন শিশু, তাদের 12 জন মেয়ে; তারা বাংলা ও চাকমা দুই ভাষাতেই গান গাইছিল।

ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ আছে: পাড়াকেন্দ্র থেকে আসা শিশুদের প্রাথমিকে ভর্তি সহজ হয়, আর কর্মসূচির পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া ধীরে ধীরে কমছে। ভুটানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদলও মডেলটি দেখতে এসেছিল। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, আদিবাসী নারী ও শিশুদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকার ও UNICEF-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল 11 জুলাই 1980। 2026 সালে পাড়াকেন্দ্রের সংখ্যা কত, তা জানা যায়নি।

পাহাড়ে শিশুরা কেন স্কুল থেকে ঝরে পড়ে

উৎসগুলো চারটি কারণ বারবার বলে: ঘরের ভাষা ও বইয়ের ভাষা আলাদা, স্কুল দূরে, জুমের মৌসুমে পরিবার পাড়া ছেড়ে যায়, আর দারিদ্র্য। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের 2012 সালের এক গবেষণায় পাহাড়ে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার পাওয়া গিয়েছিল 59%, যখন জাতীয় গড় ছিল প্রায় 30%। হালনাগাদ সরকারি জেলাভিত্তিক হার পাওয়া যায়নি।

ঝরে পড়ার হার কত

The Daily Star (27 সেপ্টেম্বর 2012) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (MJF) গবেষণাটির ফল ছেপেছিল। গবেষণাটি চালানো হয় খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির 126টি স্কুলের 19,446 শিক্ষার্থীর উপর; তাদের প্রায় 75% আদিবাসী, 25% বাঙালি পরিবারের। ফল: ঝরে পড়ার হার প্রাথমিকে 59%, নিম্ন মাধ্যমিকে 24%, মাধ্যমিকে 17%।

কারণ হিসেবে গবেষণাটি বলেছিল মাতৃভাষায় পাঠদানের সুযোগ না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ পাঠ্যবই, শিক্ষকের ঘাটতি ও স্কুলের প্রতিকূল পরিবেশের কথা। সুপারিশ ছিল চারটি: পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, আবাসিক বা বোর্ডিং স্কুল নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে শিক্ষক নিয়োগ। সংখ্যাগুলো চৌদ্দ বছরের পুরোনো এবং একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপের; এগুলোকে আজকের হার ধরে নেওয়া চলে না।

জনশুমারি 2022 ঝরে পড়ার হার মাপে না, তবে পরোক্ষ একটি ছবি দেয়: রাঙামাটিতে 10 থেকে 14 বছরের ছেলেদের 84.68% শিক্ষার্থী, 15 থেকে 19 বছরে 60.39%; বান্দরবানে একই দুই ধাপে 80.17% থেকে 51.35%।

ভাষা কীভাবে বাধা হয়

আমাদের আর্কাইভের লেখা “আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা : অপেক্ষার শেষ কোথায় ?” বলে, পার্বত্য চট্টগ্রামের যে শিশুদের মাতৃভাষা বাংলা নয়, তাদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ না থাকা বা ভাষাগত সমস্যার কথা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

Dhaka Tribune-এর রাজস্থলী-প্রতিবেদন (22 ডিসেম্বর 2025) বিষয়টি শ্রেণিকক্ষের ভেতর থেকে দেখায়। সেখানে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, বাংলায় লেখা বই থেকে প্রশ্ন করলে শিশুরা উত্তর দিতে পারে না, ধীরে ধীরে আগ্রহ হারায় এবং একসময় আসা বন্ধ করে দেয়। দ্বিতীয় শ্রেণির এক মারমা ছাত্রীর কথা প্রতিবেদনে আছে: মায়ের সঙ্গে সে মারমা ভাষায় কথা বলে, স্কুলের বই বাংলায়, শিক্ষক পড়ে গেলে অনেক শব্দ সে বোঝে না।

প্রতিবেদনটির হিসাবে রাজস্থলীর একটি আদিবাসী শিশুকে একসঙ্গে চারটি ভাষার মুখোমুখি হতে হয়: নিজের মাতৃভাষা, বাজার ও দপ্তরে চলা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা, বইয়ের বাংলা এবং ইংরেজি। যারা প্রাথমিক পেরোয়, তারা মাধ্যমিকে গিয়ে বিজ্ঞান ও গণিতে আটকে যায়, কারণ বিষয়ভিত্তিক পাঠ ভাষার উপর আরও বেশি নির্ভরশীল। এটি রাজস্থলীর একটি প্রতিবেদনের বিবরণ; অন্য উপজেলা বা অন্য জনগোষ্ঠীর বেলায় অবস্থা একই, এমন তথ্য এই উৎসে নেই।

দূরত্ব, জুমের মৌসুম ও দারিদ্র্য

UNICEF-এর 2019 সালের প্রতিবেদন ভূগোলের বাধাগুলো তালিকা করে। মেয়েদের প্রায়ই স্কুলে যেতে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়, যা নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করে। রাঙামাটিতে অনেক পরিবারকে শিশুকে স্কুলে নিতে নৌকায় চড়তে হয়। আর জুমের মৌসুমের শুরুতে বহু পরিবার দূরের জুমে চলে যায়; প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী তখন শিশুরা প্রায়ই শিক্ষার নাগালের বাইরে থাকে। জুম চাষের বছরচক্র নিয়ে আলাদা লেখা আছে: জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে।

দারিদ্র্যের দিকটি আসে সংবাদ-প্রতিবেদনের ব্যক্তিগত বিবরণে। Dhaka Tribune-এর প্রতিবেদনে রাজস্থলীর এক তরুণের কথা আছে, যিনি বাবার মৃত্যুর পর সংসারের জন্য 2018 সালে পড়া ছেড়ে এখন বান্দরবান শহরে গাড়ি চালান। প্রথম আলোর খাগড়াছড়ি-প্রতিবেদনে তিনজন অভিভাবক জানান, স্কুলে শিক্ষক নেই, আর বাইরে কোচিং করানো বা সব বই কিনে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই।

মেয়েদের বেলায় আর্কাইভের লেখা “আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী” একটি নির্দিষ্ট ধরন চিহ্নিত করেছিল: অবৈতনিক শিক্ষার ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তির হার ছেলেদের চেয়ে বেশি, “কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েরা আর এগোতে পারে না।” জনশুমারি 2022-এর বয়সভিত্তিক ছকে ধরনটি এখন এক ধাপ পরে দেখা যায়: 14 বছর পর্যন্ত মেয়েরা এগিয়ে, 20 বছরের পরে পিছিয়ে।

শিক্ষক সংকট কতটা, আর এসএসসির ফলে তার ছাপ

খাগড়াছড়ির 10টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে 220টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের 94টি খালি, আর 7টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। জেলার বেসরকারি স্কুলে প্রায় 1,500 পদের 367টি শূন্য। এসএসসি 2025-এ খাগড়াছড়ির পাসের হার 60.77%, চট্টগ্রাম বোর্ডের গড় 72.07%; রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাস করেছে 35.05%।

খাগড়াছড়ি: পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন ফল

প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন (16 সেপ্টেম্বর 2025) অনুযায়ী এসএসসি 2025-এ খাগড়াছড়ির পাসের হার 60.77%, যা পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন; আগের বছর ছিল 72.25%। জেলার 92টি প্রতিষ্ঠান (10টি সরকারি, 82টি বেসরকারি) পরীক্ষায় অংশ নেয়; এর 33টিতে পাসের হার 50%-এর নিচে, 2024 সালে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল 10টি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার Amtali High School-এর (প্রতিবেদনের ইংরেজি বানানে) 70 জন পরীক্ষার্থীর 55 জন ফেল করে, পাসের হার 21.43%। বিদ্যালয়টিতে গণিত, ইংরেজি বা বিজ্ঞানের কোনো শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা: দুর্গম এলাকা বলে যোগ্য প্রার্থীরা আসতে চান না, আর প্রাথমিক পেরিয়ে যারা ভর্তি হয় তাদের অনেকের ভিত এত দুর্বল যে ঠিকমতো পড়তেও পারে না। দীঘিনালার আরেকটি বিদ্যালয়ে 108 পরীক্ষার্থীর 78 জন ফেল করে।

খাগড়াছড়ির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ (প্রথম আলো, 16 সেপ্টেম্বর 2025)
কোথায় অনুমোদিত পদ শূন্য টীকা
10টি সরকারি বিদ্যালয়, শিক্ষক22094কর্মরত 126 জন
10টি সরকারি বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক107ভারপ্রাপ্তরা চালাচ্ছেন
সরকারি বিদ্যালয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক129পূরণ 3টি
খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়5019—
খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়4118—
রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়2515গণিতের শিক্ষক নেই
দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়1714গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক নেই
বেসরকারি বিদ্যালয়, শিক্ষকপ্রায় 1,500367ইংরেজির অন্তত 38, গণিত ও বিজ্ঞানের প্রায় 70

প্রতিবেদনটিতে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা পাশাপাশি আছে। গবেষক ও লেখক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার পর্যবেক্ষণ: পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসা শিক্ষকেরা বেশি দিন থাকেন না, তাই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের পদ বেশির ভাগ সময় খালি থাকে; আর প্রাথমিকে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যকরভাবে দেওয়া হয় না বলে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকের বই ঠিকমতো ধরতে পারে না। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য: খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি প্রেক্ষাপটে পাসের এই হার বিশেষ খারাপ নয়, শিক্ষক সংকট মেটাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং শূন্য পদে 150 জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রথম আলো যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছে (একজন গবেষক, পাঁচ প্রধান শিক্ষক, চার শিক্ষক, দুই সাবেক শিক্ষক ও পাঁচ অভিভাবক), তাঁদের কথায় আরও কারণ উঠে এসেছে: দুর্গমতার জন্য নিয়মিত ক্লাসে আসতে না পারা, দারিদ্র্য, কিছু শিক্ষকের অবহেলা, পাঠ্যবই, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ ছাত্রাবাসের ঘাটতি এবং পাহাড়ের স্কুলে প্রশাসনিক তদারকির অভাব।

রাজস্থলী: এক বছরে পরীক্ষার্থী ও পাস দুটোই কমেছে

Dhaka Tribune-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা থেকে এসএসসি 2025-এ 525 জন পরীক্ষা দেয়, পাস করে 184 জন, ফেল 341; গড় পাসের হার 35.05%, কেউ জিপিএ-5 পায়নি। 2024 সালে উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে 721 জন পরীক্ষা দিয়েছিল, পাস করেছিল 371 জন। এক বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে 196 জন, পাস করা শিক্ষার্থী 187 জন।

একই প্রতিবেদন রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য উল্লেখ করে বলে, বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শূন্য পদ নিয়ে চলছে, রাজস্থলীর মতো দুর্গম উপজেলায় অবস্থা সবচেয়ে খারাপ; কোনো কোনো স্কুলে এক-দুজন শিক্ষক এক কক্ষে একাধিক শ্রেণি সামলান। প্রতিবেদনে আরও লেখা, কর্মকর্তারা আগে স্বীকার করেছেন যে 170-এর বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই এবং প্রায় 200টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। সংখ্যা দুটি কোন এলাকার, প্রতিবেদনের ওই বাক্যে বলা নেই; আগের বাক্যটি রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য নিয়ে।

নিয়োগও আটকে ছিল: প্রতিবেদন অনুযায়ী নভেম্বর 2025-এর নির্ধারিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কোটা বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবাদের মুখে স্থগিত হয়। রাঙামাটি ও বান্দরবানের মাধ্যমিক স্তরে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

মাতৃভাষায় পাঠ্যবই: সংক্ষেপে

সরকার পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছেপেছে: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), সাদরি ও গারো। প্রাক-প্রাথমিকের বই আসে 2017 সালে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই 2020 সালে। কর্মসূচির মূল বাধা প্রশিক্ষিত শিক্ষক: বই পৌঁছেছে, কিন্তু সেই ভাষায় পড়ানোর মতো শিক্ষক স্কুলে নেই।

এই পাঁচ ভাষার তিনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের; পাহাড়ের বাকি ভাষাগুলো কর্মসূচির বাইরে। Dhaka Tribune-এর রাজস্থলী-প্রতিবেদনও একই জায়গায় পৌঁছায়: জাতীয় শিক্ষানীতি 2010 আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার স্বীকৃতি দিলেও বাস্তবায়ন সীমিত, কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আদিবাসী ভাষার সহায়ক উপকরণ আছে কিন্তু প্রশিক্ষিত শিক্ষক কম, আর মাধ্যমিকে পাঠদান পুরোপুরি বাংলা ও ইংরেজিতে।

কোন ভাষার বই কোন বর্ণমালায় ছাপার সিদ্ধান্ত হলো, 2012 সালের সভাগুলোতে কী ঠিক হয়েছিল, তালিকা ছয় থেকে পাঁচে কীভাবে নামল, আর কর্মসূচি কোথায় আটকে আছে, পুরো বিবরণ আছে আমাদের লেখা পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা-তে।

1960-এর পর পাহাড়ে শিক্ষা-বিস্তার: সংক্ষিপ্ত পটভূমি

আমাদের আর্কাইভের একটি গবেষণা-লেখা অনুযায়ী 1960 সালের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর অধিকাংশ শিক্ষায় অনগ্রসর ছিল, আর প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ছিল নগণ্য। কাপ্তাই বাঁধে বহু মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার পর শিক্ষার প্রতি সচেতনতা বাড়ে। 1964 সালের দিকে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ও অন্য পাহাড়ি নেতারা অনেক অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

লেখাটিতে সে সময়ের একটি ছবি আছে: কলেজে পড়া ছাত্ররা নিজ নিজ গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং অভিভাবকদের উৎসাহ দিতেন ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি করাতে। পুরো ইতিহাস পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তারে : মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রাসঙ্গিকতা (১৯৬০-১৯৮৩)।

প্রশ্নোত্তর

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাক্ষরতার হার কত?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 7 বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার খাগড়াছড়িতে 71.80%, রাঙামাটিতে 71.41% এবং বান্দরবানে 63.74%। জাতীয় হার 74.80%, অর্থাৎ তিন পার্বত্য জেলাই জাতীয় গড়ের নিচে। পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা একক হার BBS-এর জেলা রিপোর্টে দেওয়া নেই; হিসাব জেলা ও উপজেলা ধরে প্রকাশিত।

কোন পার্বত্য জেলায় সাক্ষরতা সবচেয়ে কম?

বান্দরবানে। জনশুমারি 2022-এ জেলার সাক্ষরতার হার 63.74%: পুরুষ 68.97%, নারী 58.22%। গ্রামে হার 54.99%, শহরে 76.18%। জেলার ভেতরে সবচেয়ে কম রুমা (50.26%) ও থানচি (50.68%) উপজেলায়, সবচেয়ে বেশি বান্দরবান সদরে (73.86%)। 2011 সালে জেলার হার ছিল 35.86%, অর্থাৎ এগারো বছরে বেড়েছে প্রায় 28 শতাংশ-বিন্দু।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন উপজেলায় সাক্ষরতা সবচেয়ে বেশি ও সবচেয়ে কম?

তিন পার্বত্য জেলার 26টি উপজেলার মধ্যে জনশুমারি 2022-এ সাক্ষরতা সবচেয়ে বেশি রাঙামাটি সদরে, 80.51%, তারপর খাগড়াছড়ি সদর (77.36%) ও রামগড় (76.08%)। সবচেয়ে কম বান্দরবানের রুমায়, 50.26%, তারপর থানচি (50.68%), রোয়াংছড়ি (55.27%) ও রাঙামাটির বিলাইছড়ি (55.88%)। থানচিতে নারীর সাক্ষরতা 39.16%, বিলাইছড়িতে 43.69%।

পাহাড়ে নারীর সাক্ষরতা পুরুষের চেয়ে কতটা কম?

জনশুমারি 2022-এ নারী ও পুরুষের সাক্ষরতার ফারাক রাঙামাটিতে 13.15 শতাংশ-বিন্দু (77.79% ও 64.64%), খাগড়াছড়িতে 10.79 (77.20% ও 66.41%), বান্দরবানে 10.75 (68.97% ও 58.22%)। দুর্গম উপজেলায় ফারাক আরও বড়: বিলাইছড়িতে পুরুষ 66.74%, নারী 43.69%; থানচিতে 60.80% ও 39.16%। বান্দরবানের গ্রামে নারীর সাক্ষরতা 49.25%।

পাহাড়ে কতজন মানুষ কখনো স্কুলে যায়নি?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী 7 বছর ও তদূর্ধ্ব নারীদের মধ্যে কখনো স্কুল বা মাদ্রাসায় যাননি বান্দরবানে 34.18%, খাগড়াছড়িতে 28.83% ও রাঙামাটিতে 28.20%। পুরুষদের মধ্যে হার যথাক্রমে 24.50%, 18.85% ও 17.03%। বান্দরবানের গ্রামে 15 বছর ও তদূর্ধ্ব নারীদের 49.16% কখনো স্কুলে যাননি, খাগড়াছড়ির গ্রামে 39.83%।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত, কয়টি বিভাগ?

প্রতিষ্ঠার সাল উইকিপিডিয়া অনুযায়ী 2014, প্রথম আলোর 25 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2013। প্রথম ব্যাচের 75 জন শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরু হয় নভেম্বর 2015-এ, তবলছড়ির শাহ হাইস্কুলের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। তিনটি অনুষদের অধীনে বিভাগ 5টি: সিএসই, ম্যানেজমেন্ট, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বছরে কতজন ভর্তি হয়?

বছরে 51 জন, পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্সে। কলেজটি সরকার প্রতিষ্ঠা করে 2014 সালে; জানুয়ারি 2015-এ উদ্বোধনের পর স্থানীয় আপত্তি ও সংঘর্ষের কারণে ক্লাস প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল। প্রথম আলোর 16 জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কলেজ এখনো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের পাশের একটি ছয়তলা ভবনে অস্থায়ীভাবে চলছে; স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হয়নি।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি না বেসরকারি?

পুরোপুরি সরকারি নয়। উইকিপিডিয়ার ভুক্তি অনুযায়ী বান্দরবান এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন 75% ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ 25% বিনিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়েছে; জেলা পোর্টালে এটি “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে তালিকাভুক্ত। প্রতিষ্ঠা 19 ফেব্রুয়ারি 2019। বিভাগ 6টি, স্থায়ী ক্যাম্পাস সুয়ালকে 100 একরে পরিকল্পিত, 2024 সালে শিক্ষার্থী ছিল 250-এর বেশি।

খাগড়াছড়িতে কয়টি স্কুল-কলেজ আছে?

খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টালের হিসাবে (হালনাগাদ 20 জুলাই 2026) জেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 1,080টি। এর মধ্যে সরকারি কলেজ 11 ও বেসরকারি কলেজ 10টি; সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় 10, বেসরকারি মাধ্যমিক 81 ও নিম্ন মাধ্যমিক 46টি; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 594 ও বেসরকারি প্রাথমিক 202টি। জেলায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ তালিকায় নেই।

পাড়াকেন্দ্র কী, কয়টি আছে?

পাড়াকেন্দ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাড়ায় 3 থেকে 6 বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্র, যেখানে টিকা, পুষ্টি ও জন্মনিবন্ধনের কাজও হয়। চালান পাড়ারই একজন নারী পাড়াকর্মী। UNICEF-এর আগস্ট 2019-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন জেলায় কেন্দ্র 4,000টি, 3,500-র বেশি পাড়ায়, লক্ষ্য 5,000। মে 2009-এ সংখ্যাটি ছিল 2,520। 2026-এর সংখ্যা জানা যায়নি।

পাহাড়ে শিশুরা কেন স্কুল থেকে ঝরে পড়ে?

উৎসগুলো চারটি কারণ বলে: বইয়ের ভাষা শিশুর মাতৃভাষা নয়, স্কুল দূরে বা নৌপথে, জুমের মৌসুমে পরিবার পাড়া ছেড়ে যায়, আর দারিদ্র্য। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের 2012 সালের গবেষণায় (126 স্কুল, 19,446 শিক্ষার্থী) পাহাড়ে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ছিল 59%, জাতীয় গড় তখন প্রায় 30%। হালনাগাদ সরকারি জেলাভিত্তিক হার পাওয়া যায়নি।

কোন কোন পাহাড়ি ভাষায় সরকারি পাঠ্যবই আছে?

সরকার পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের বই ছেপেছে: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), সাদরি ও গারো। এর মধ্যে চাকমা, মারমা ও ককবরক পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাষা। প্রাক-প্রাথমিকের বই আসে 2017 সালে, দ্বিতীয় শ্রেণির 2019 ও তৃতীয় শ্রেণির 2020 সালে। পাহাড়ের অন্য ভাষাগুলোতে সরকারি পাঠ্যবই নেই, আর এই পাঁচ ভাষাতেও পড়ানোর প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ঘাটতি আছে।

পাহাড়ের স্কুলে শিক্ষক সংকট কতটা?

প্রথম আলোর 16 সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ির 10টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে 220 অনুমোদিত শিক্ষক পদের 94টি খালি, 7টিতে প্রধান শিক্ষক নেই; দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 17 পদের 3টি পূরণ। বেসরকারি স্কুলে প্রায় 1,500 পদের 367টি শূন্য। এসএসসি 2025-এ জেলার পাসের হার 60.77%, চট্টগ্রাম বোর্ডের গড় 72.07%।

যা এখনো জানা যায়নি

  • হালনাগাদ ঝরে পড়ার হার। জেলাভিত্তিক ভর্তি, ঝরে পড়া ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের সরকারি (BANBEIS বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের) হিসাব পাওয়া যায়নি। ঝরে পড়ার একমাত্র সংখ্যা 2012 সালের একটি বেসরকারি গবেষণার।
  • জনগোষ্ঠীভেদে সাক্ষরতা। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর আলাদা সাক্ষরতার হালনাগাদ সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি; একমাত্র সংখ্যাগুলো কয়েকটি গ্রামের পুরোনো এক গবেষণার।
  • রাজস্থলীর সাক্ষরতা। Dhaka Tribune-এর 34% কোন বছরের বা কোন জরিপের, জানা যায়নি; BBS-এর জনশুমারি 2022 দেয় 68.02%।
  • বান্দরবান জেলা পোর্টালের 43.00%। সংখ্যাটি কোন বছরের, পোর্টালে লেখা নেই; জনশুমারি 2022-এর 63.74%-এর সঙ্গে মেলে না।
  • 2001-এর হিসাব। আর্কাইভের লেখায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট শিক্ষার হার 37.35%, অথচ পুরুষ 49.6% ও নারী 40.8%; তিনটি সংখ্যা একসঙ্গে মেলে না, আর মূল পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি।
  • রাঙামাটির প্রতিষ্ঠান-সংখ্যা। জেলার স্কুল-কলেজের সংখ্যার কোনো সরকারি উৎস পাওয়া যায়নি; উইকিপিডিয়ার সংখ্যা সূত্রহীন, বাংলাপিডিয়ার সংখ্যা তার সঙ্গে মেলে না।
  • রাঙামাটি সরকারি কলেজ ও বান্দরবান সরকারি কলেজ। দুটির প্রতিষ্ঠার সাল ও বিবরণ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা 2013 না 2014, বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি।
  • উচ্চশিক্ষায় পাহাড়ি শিক্ষার্থীর অংশ। মেডিকেল কলেজ ও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থী কতজন, কোটা কত আসনের, সংখ্যা পাওয়া যায়নি। 2015 সালের আপত্তির জবাবে সরকারের পক্ষের যুক্তিও কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • জেলা পরিষদের ভূমিকা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এবং শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনি ভূমিকা কী, তা এই লেখায় আইনের পাঠ ধরে যাচাই করা হয়নি, তাই বিষয়টি বাদ রাখা হয়েছে।
  • শূন্য পদ। রাঙামাটি ও বান্দরবানের জেলাভিত্তিক শূন্য শিক্ষক-পদের সংখ্যা পাওয়া যায়নি। “170-এর বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই” তথ্যটির পরিধি অস্পষ্ট।
  • পাড়াকেন্দ্র। 2026 সালে কেন্দ্রের সংখ্যা, 5,000-এর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না এবং পাড়াকর্মীদের বেতন সরকারি কাঠামোয় এসেছে কি না, জানা যায়নি।
  • যা এই লেখায় নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি, আবাসিক বিদ্যালয় ও মিশনারি স্কুলের ভূমিকা নিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি, তাই অংশগুলো লেখা হয়নি।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), “জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জেলা রিপোর্ট: রাঙ্গামাটি”, জুন 2024 (সারণি 3.1.15–3.1.18, 3.1.24)। bbs.gov.bd
  2. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), “জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জেলা রিপোর্ট: খাগড়াছড়ি”, জুন 2024। bbs.gov.bd
  3. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), “জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022, জেলা রিপোর্ট: বান্দরবান”, জুন 2024। bbs.gov.bd
  4. জেলা প্রশাসন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, “এক নজরে” (হালনাগাদ 20 জুলাই 2026)। khagrachhari.gov.bd
  5. জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, “এক নজরে” (হালনাগাদ 11 মার্চ 2026)। bandarban.gov.bd
  6. জেলা প্রশাসন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, “এক নজরে”। rangamati.gov.bd
  7. “Rangamati District”, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। en.banglapedia.org
  8. “Khagrachhari District”, বাংলাপিডিয়া। en.banglapedia.org
  9. “Bandarban District”, বাংলাপিডিয়া। en.banglapedia.org
  10. UNICEF Bangladesh, Chittagong Hill Tracts প্রতিবেদন, আগস্ট 2019। unicef.org
  11. “Para Kendra” নিয়ে প্রতিবেদন, The Daily Star, 21 মে 2009। thedailystar.net
  12. মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদন, The Daily Star, 27 সেপ্টেম্বর 2012। thedailystar.net
  13. খাগড়াছড়ির এসএসসি ফল ও শিক্ষক সংকট নিয়ে প্রতিবেদন, Prothom Alo English, 16 সেপ্টেম্বর 2025। en.prothomalo.com
  14. “Mother tongue missing: Why indigenous students in Rajasthali are falling behind”, Dhaka Tribune, 22 ডিসেম্বর 2025। dhakatribune.com
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে প্রতিবেদন, প্রথম আলো, 25 সেপ্টেম্বর 2022। prothomalo.com
  16. “রাঙামাটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা নেই”, প্রথম আলো, 16 জুলাই 2025। prothomalo.com
  17. “Section 144 in Rangamati after clash”, The Daily Star, জানুয়ারি 2015। thedailystar.net
  18. “PCJSS threatens tough movement”, The Daily Star, জানুয়ারি 2015। thedailystar.net
  19. “Rangamati Medical College set to commence Saturday despite indigenous resistance”, The Daily Star, মার্চ 2015। thedailystar.net
  20. “Rangamati Science and Technology University”, উইকিপিডিয়া। en.wikipedia.org
  21. “Rangamati Medical College”, উইকিপিডিয়া। en.wikipedia.org
  22. “Bandarban University”, উইকিপিডিয়া। en.wikipedia.org
  23. “Rangamati District” ও “Khagrachhari District”, উইকিপিডিয়া। en.wikipedia.org, en.wikipedia.org
  24. জুমজার্নাল আর্কাইভ, “আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও পাহাড়ি নারী”। jumjournal.com
  25. জুমজার্নাল আর্কাইভ, “আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা : অপেক্ষার শেষ কোথায় ?”। jumjournal.com
  26. জুমজার্নাল আর্কাইভ, “পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তারে : মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রাসঙ্গিকতা (১৯৬০-১৯৮৩)”। jumjournal.com
  27. জুমজার্নাল, “পাহাড়ি ভাষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা: লিপি, কর্মসূচি ও বাস্তবতা”। jumjournal.com

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা