Last updated Oct 19th, 2026
2

খাগড়াছড়ি গুইমারা সহিংসতা তদন্ত বলতে আসলে একটি নয়, কয়েকটি আলাদা প্রক্রিয়া বোঝায়। 28 সেপ্টেম্বর 2025 গুইমারার রামেসু বাজারে গুলিতে তিনজন মারমা যুবক নিহত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন 30 সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, আর 1 অক্টোবর পুলিশ অজ্ঞাতনামা কয়েকশো মানুষকে আসামি করে তিনটি মামলা করে। 19 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো প্রকাশিত উৎসে ওই কমিটির প্রতিবেদন, কমিটির সদস্যদের নাম বা প্রতিবেদন জমার সময়সীমা পাওয়া যায়নি; টিআইবি, আসক, জনসংহতি সমিতি ও 41 নাগরিক যে বিচার বিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্ত কমিশন চেয়েছিলেন, তা গঠিত হয়েছে বলেও কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
এই লেখা একটি তারিখভিত্তিক হিসাব: কোন তদন্ত কে গঠন করেছে, কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কী প্রকাশ হয়েছে, আর কোন সংখ্যা কোন উৎসের। কে দায়ী, সে বিষয়ে এখানে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। প্রতিটি দাবি যে বলেছে তার নামেই লেখা আছে, আর যেখানে বিবরণ আলাদা, সেখানে সেগুলো পাশাপাশি রাখা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি শিশুকে ঘিরে অভিযোগ, তাই তার পরিচয় বা পরিচয় বোঝা যায় এমন কোনো তথ্য এখানে নেই। নতুন সরকারি তথ্য প্রকাশিত হলে লেখাটি হালনাগাদ হবে।
এই লেখায়
খাগড়াছড়ি গুইমারা সহিংসতা তদন্ত: কয়টি প্রক্রিয়া, কে চালাচ্ছেকমিটির প্রতিবেদন কি প্রকাশ হয়েছে?গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে যা প্রকাশিতসরকারি বিবৃতিগুলো পাশাপাশি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইএসপিআর, পুলিশহতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি: কোন উৎস কত বলছেপ্রশাসনের আশ্বাস, আট দফা ও অবরোধ স্থগিতপাহাড়ে আগের তদন্তগুলোর অভিজ্ঞতা কেন প্রাসঙ্গিকযা এখনো জানা যায়নিতথ্যসূত্রঘটনাক্রমের যে অংশে সরকারি সূত্র, পুলিশ ও প্রধান সংবাদমাধ্যম একমত, তা সংক্ষেপে এই: 23 সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে; প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ কর্মসূচি দেয়; 27 সেপ্টেম্বর ১৪৪ ধারা জারি হয়; 28 সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারে গুলিতে তিনজন নিহত হন।
কে গুলি করেছে, কে আগুন দিয়েছে, আর সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছে, এই প্রশ্নগুলোতে বিবরণ আলাদা। সেগুলো নিচে আলাদা অংশে উৎসের নামসহ আছে। নিচের ছকে কেবল তারিখ, ঘটনা আর যে উৎসে তা পাওয়া যায়।
23 সেপ্টেম্বর, রাতপ্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে এক স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ; রাত 11টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। কিশোরীর বাবা অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর; ইউএনবি, 5 অক্টোবর24 সেপ্টেম্বরসেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে; আদালত ছয় দিনের রিমান্ড দেন। একই দিন জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে প্রতিবাদ শুরু হয়।আইএসপিআর বিবৃতি (প্রথম আলো ইংরেজি, 29 সেপ্টেম্বর); প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর25–26 সেপ্টেম্বরআধা বেলা সড়ক অবরোধ ও নারী নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ।প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর27 সেপ্টেম্বরসকাল–সন্ধ্যা অবরোধ; খাগড়াছড়ি সদরের কয়েকটি স্থানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুর। বেলা দুইটার পর সদর, পৌর এলাকা ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি।প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর28 সেপ্টেম্বরঅবরোধের মধ্যে গুইমারার রামেসু বাজারে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলি; তিনজন পাহাড়ি নিহত। রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইএসপিআরের আলাদা বিবৃতি। টিআইবির বিবৃতিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি।প্রথম আলো; ঢাকা ট্রিবিউন; টিআইবি29 সেপ্টেম্বরময়নাতদন্তের পর পুলিশ নিহত তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করে। রাতে প্রশাসনের সভায় জুম্ম ছাত্র-জনতার ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল আট দফা দাবি দেয়। আসক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন চায়।বিডিনিউজ২৪; ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর; ঢাকা ট্রিবিউন30 সেপ্টেম্বরজেলা প্রশাসক গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান। মেডিকেল বোর্ড সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। 41 নাগরিকের বিবৃতি। রাত 11টা থেকে 5 অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত।বিডিনিউজ২৪; টিবিএস; প্রথম আলো ইংরেজি; ইত্তেফাক; ঢাকা ট্রিবিউন1 অক্টোবরপুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে: গুইমারা থানায় দুটি, খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি; সব আসামি অজ্ঞাতনামা।প্রথম আলো, 2 অক্টোবর; টিবিএস, 2 অক্টোবর3 অক্টোবরপুলিশ সুপার জানান, তিন মামলায় তখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি; ১৪৪ ধারা বহাল।নিউ এজ, 4 অক্টোবর| তারিখ (2025) | যা ঘটেছে বলে নথিভুক্ত | উৎস |
|---|
নিহত তিনজনের পরিচয় চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) বরাতে 29 সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে পুলিশ: রামসু বাজার এলাকার তৈইচিং মারমা (20), আমতলী পাড়ার আথুইপ্রু মারমা (21) এবং চেং গুলি পাড়ার আখ্রাউ মারমা (22) (বিডিনিউজ২৪, 29 সেপ্টেম্বর 2025)। নামের বানান সংবাদমাধ্যমভেদে আলাদা: বাংলা ট্রিবিউন প্রথম নামটি লিখেছে ‘থৈচিং’, ইংরেজি প্রথম আলো লিখেছে Thoiching ও Athrau, ডেইলি স্টার লিখেছে Tayiching ও Akhrau।
গুইমারা খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা; জেলার অবস্থান, উপজেলা ও জনসংখ্যার হিসাব আমাদের খাগড়াছড়ি জেলা পরিচিতি লেখায় আছে।
প্রকাশিত উৎসে এই ঘটনা ঘিরে চারটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া পাওয়া যায়: জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি, হত্যা ও সহিংসতা নিয়ে পুলিশের তিনটি মামলা, ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর বাবার মামলা, আর ওই মামলায় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষা। বিচার বিভাগীয় কমিশন কেবল দাবি হিসেবেই আছে।
পাঠকের সুবিধার জন্য সব প্রক্রিয়া এক ছকে রাখা হলো। ‘সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা’ কলামে যা আছে, তা সংশ্লিষ্ট উৎসের তারিখ পর্যন্ত; এর পরের কোনো তথ্য প্রকাশিত পাওয়া যায়নি।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিখাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন; ঘোষণা 30 সেপ্টেম্বর 2025গুইমারার রামসু বাজারের সংঘর্ষ ও সহিংসতা1 অক্টোবর জেলা প্রশাসক জানান তথ্য সংগ্রহ চলছে (খবর সংযোগ, 2 অক্টোবর); প্রতিবেদন প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নিগুইমারা থানার হত্যা মামলাপুলিশ (এসআই বাদী); 1 অক্টোবর 2025তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা3 অক্টোবর পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার নেই (নিউ এজ); অভিযোগপত্রের খবর পাওয়া যায়নিগুইমারা থানার দ্বিতীয় মামলাপুলিশ; 1 অক্টোবর 2025সরকারি কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগএকইখাগড়াছড়ি সদর থানার মামলাপুলিশ; 1 অক্টোবর 202527 সেপ্টেম্বর ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা ও সরকারি কাজে বাধাএকইধর্ষণের অভিযোগের মামলাকিশোরীর বাবা, সদর থানা; 23–24 সেপ্টেম্বর 2025অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগএকজন গ্রেপ্তার, রিমান্ড শেষে 1 অক্টোবর কারাগারে; অভিযোগপত্রের খবর পাওয়া যায়নিমেডিকেল বোর্ডখাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা হাসপাতালের তিন সদস্যের বোর্ডধর্ষণের অভিযোগে শারীরিক পরীক্ষা30 সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা; সিভিল সার্জনের ভাষায় চূড়ান্ত বিচার আদালতেরবিচার বিভাগীয় / স্বাধীন তদন্ত কমিশনটিআইবি, আসক, এইচআরএফবি, 41 নাগরিক, জনসংহতি সমিতি, জুম্ম ছাত্র-জনতার দাবি27–28 সেপ্টেম্বরের সব হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গুলি; বাহিনীর ভূমিকাগঠিত হয়েছে বলে কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি| প্রক্রিয়া | কে গঠন/দায়ের করেছে, কবে | কী নিয়ে | সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা |
|---|
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 28 সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে জানিয়েছিল, “অতি শিগগির তদন্তপূর্বক” জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2025)। মন্ত্রণালয় নিজে আলাদা কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কি না, তা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনায় কোনো তদন্ত করেছে কি না, সেটিও প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক 2025 সালের অক্টোবরের শুরুতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বলেছিলেন, 7 নভেম্বর 2024 কমিশনের সব সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ার পর তখনো নতুন সদস্য নিয়োগ হয়নি (দ্য ট্রিবিউন/এএনআই, 1 অক্টোবর 2025)। এটি ওই সংগঠনের বক্তব্য; কমিশনের নিজস্ব কোনো ঘোষণা এখানে মেলানো যায়নি।
“panch-sodosso”>জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের কমিটি: যা জানা, যা জানানো হয়নিজেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার 30 সেপ্টেম্বর 2025 দুপুরে গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানান। কমিটির সদস্য কারা, প্রধান কে, কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে, এবং কার কাছে, তার কোনোটিই সেদিনের প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
চ্যানেল আই অনলাইন সরাসরি লিখেছে, কাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, “সেটি সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানাননি জেলা প্রশাসক” (চ্যানেল আই অনলাইন, 30 সেপ্টেম্বর 2025)। একই দিনের বিডিনিউজ২৪, দেশ রূপান্তর ও আমার সংবাদ-এর প্রতিবেদনেও কমিটির গঠন বা সময়সীমার উল্লেখ নেই।
কমিটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেলা প্রশাসকের নিজের কথা ঢাকা ট্রিবিউন উদ্ধৃত করেছে: “The district administration has formed the committee to ensure a fair investigation” (ঢাকা ট্রিবিউন, 30 সেপ্টেম্বর 2025)। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বর্ণনায় কমিটির বিষয় হলো 28 সেপ্টেম্বর রামসু বাজারের সংঘর্ষ (টিবিএস, 30 সেপ্টেম্বর 2025)। খবর সংযোগ লিখেছে, কমিটি গঠিত হয়েছে “খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতার ঘটনায়”। অর্থাৎ 27 সেপ্টেম্বর সদরের ঘটনাগুলোও কমিটির আওতায় কি না, তা প্রতিবেদনভেদে স্পষ্ট নয়; লিখিত কার্যপরিধি প্রকাশিত হয়নি।
এরপর একটি মাত্র অগ্রগতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 1 অক্টোবর সন্ধ্যায় সদরের স্বনির্ভর বাজার পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক জানান, কমিটি “কাজ শুরু করে দিয়েছে। এখন তথ্য সংগ্রহ চলছে। আগামী রোববার থেকে সরেজমিনে কাজ শুরু হবে” (খবর সংযোগ, 2 অক্টোবর 2025)। সেই রোববার ছিল 5 অক্টোবর। সরেজমিন কাজ হয়েছে কি না, কারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে পরের কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
কমিটি ঘোষণার পরপরই ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) তা প্রত্যাখ্যান করে এবং জাতিসংঘকে যুক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে। দলটির 6 অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে কালের কণ্ঠের বরাতে লেখা হয়েছে, জেলা প্রশাসক কমিটির গঠন প্রকাশ করেননি (ইউপিডিএফ, 6 অক্টোবর 2025)।
“protibedon”>কমিটির প্রতিবেদন কি প্রকাশ হয়েছে?না, অন্তত কোনো প্রকাশিত উৎসে নয়। 30 সেপ্টেম্বর 2025 থেকে 19 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম, জেলা প্রশাসনের বিবৃতি বা অধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন জমা, প্রকাশ বা তার কোনো সুপারিশের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই অনুপস্থিতির দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা সম্ভব: প্রতিবেদন জমা হয়ে প্রকাশিত হয়নি, অথবা জমাই হয়নি। কোনটি ঠিক, তা প্রকাশ্য তথ্য থেকে বলা যায় না। এই কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতির কথাও প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
জনসংহতি সমিতির 1 জানুয়ারি 2026 প্রকাশিত বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে, অর্থাৎ ঘটনার তিন মাস পরে, গুইমারার তিন হত্যার প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি (হিল ভয়েস, জানুয়ারি 2026; ডেইলি স্টার)। ওই প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের কমিটির কোনো ফলাফলের উল্লেখ নেই।
তুলনার জন্য, আগের বছরের ঘটনা নিয়ে ইউপিডিএফ তাদের 2025 সালের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সেপ্টেম্বর 2024-এর দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটির সহিংসতা তদন্তে কমিটি হলেও তার প্রতিবেদন তখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি (ইউপিডিএফ, 6 অক্টোবর 2025)। সেই ঘটনায় কোন তথ্যে সব পক্ষ একমত আর কোথায় বিবরণ আলাদা, তার হিসাব আছে আমাদের দীঘিনালা খাগড়াছড়ি সহিংসতা 2024 নিয়ে লেখায়।
“mamla”>পুলিশের তিন মামলা: আসামির সংখ্যা নিয়ে কেন পাঁচ রকম হিসাব1 অক্টোবর 2025 পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে: গুইমারা থানায় হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দুটি, খাগড়াছড়ি সদর থানায় 27 সেপ্টেম্বরের সহিংসতা নিয়ে একটি। সব আসামি অজ্ঞাতনামা। মোট সংখ্যা সংবাদমাধ্যমভেদে “এক হাজারের বেশি” থেকে “১১০০”, আর প্রতিটি মামলার ভাগেও অমিল আছে।
পুলিশ কেন বাদী হলো, তা গুইমারা থানার ওসি টিবিএসকে জানান: নিহতদের পরিবার মামলা করতে আসেনি, তাই একজন এসআই বাদী হয়েছেন (টিবিএস, 2 অক্টোবর 2025)। প্রথম আলোও লিখেছে, “নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কেউ মামলা করতে রাজি হয়নি” (প্রথম আলো, 2 অক্টোবর 2025)। নিহত একজনের বাবা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তিনি মামলা করতে চান না, তবে ছেলের হত্যার বিচার চান এবং বিচারটা সরকার করবে (প্রথম আলো ইংরেজি, 1 অক্টোবর 2025)। এর আগে পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল টিবিএসকে বলেছিলেন, পরিবারগুলোকে মামলা করতে বলা হয়েছে, না চাইলে পুলিশ তাদের পক্ষে মামলা করবে (টিবিএস, 30 সেপ্টেম্বর)।
টিবিএস (2 অক্টোবর), গুইমারা ও সদরের ওসির বরাতেঅজ্ঞাত 100অজ্ঞাত 250–300অজ্ঞাত 700–800“1,000-এর বেশি”প্রথম আলো (2 অক্টোবর), গুইমারার ওসির বরাতেঅজ্ঞাত, সংখ্যা উল্লেখ নেইঅজ্ঞাত 300অজ্ঞাত 800শিরোনামে 1100খবর সংযোগ (2 অক্টোবর), থানা সূত্রেদুই মামলা মিলিয়ে অজ্ঞাত 250–300অজ্ঞাত 600–700শিরোনামে 1100ইউএনবি (5 অক্টোবর)ভাগ উল্লেখ নেইঅজ্ঞাত 1,000ইউপিডিএফ প্রতিবেদন (6 অক্টোবর)দুই মামলায় অজ্ঞাত 250–300উল্লেখ নেই—কালচারাল সারভাইভাল (31 অক্টোবর)“100-এর বেশি অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে” একটি সাধারণ পরোয়ানা—| উৎস (প্রকাশের তারিখ) | গুইমারা: হত্যা মামলা | গুইমারা: হামলা-অগ্নিসংযোগ মামলা | সদর থানার মামলা | মোট |
|---|
অমিলের সম্ভাব্য একটি কারণ হলো, অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা এজাহারে সাধারণত একটি পরিসর হিসেবে লেখা হয় (“250–300”), আর বিভিন্ন প্রতিবেদক কেউ পরিসর, কেউ ঊর্ধ্বসীমা, কেউ দুই মামলা যোগ করে লিখেছেন। তবে মামলার এজাহার নিজে প্রকাশিত হয়নি, তাই কোন সংখ্যা এজাহারের সঙ্গে মেলে, তা যাচাই করা যায়নি।
মামলাগুলো নিয়ে একটি বড় বিরোধও আছে। জনসংহতি সমিতির 2025 সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, তিনজন জুম্ম নিহত হলেও পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো জুম্মদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছে; প্রতিবেদনের আরেক জায়গায় লেখা, এই হত্যাকাণ্ডে কোনো মামলাই হয়নি (হিল ভয়েস, জানুয়ারি 2026)। অন্যদিকে গুইমারা থানার ওসি টিবিএসকে বলেছেন, একটি মামলা হত্যার অভিযোগে, আর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি 29 সেপ্টেম্বরই ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন “A murder case has been filed” (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর 2025)। দুই বক্তব্য পাশাপাশি রইল; অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় কারা পড়বেন, তা এজাহার প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বলা যায় না।
“greptar”>গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে যা প্রকাশিতপ্রকাশিত শেষ সরকারি তথ্য 3 অক্টোবর 2025-এর: খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল নিউ এজকে বলেন, তিন মামলায় তখনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি, কারণ আসামিরা অজ্ঞাতনামা; অপরাধীদের শনাক্ত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তাঁর উদ্ধৃতি: “No arrest could not be made yet as the cases were filed against unidentified accused. We are conducting primary questioning of the residents of the affected areas to identify the perpetrators” (নিউ এজ, 4 অক্টোবর 2025)। এর পরে কোনো গ্রেপ্তার, তদন্ত কর্মকর্তা বদল, মামলা অন্য সংস্থায় (যেমন সিআইডি বা পিবিআই) হস্তান্তর, কিংবা অভিযোগপত্র দাখিলের খবর কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়ে ভিন্ন একটি বিবরণ প্রকাশ করেছে আদিবাসী অধিকারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কালচারাল সারভাইভাল। তাদের 31 অক্টোবর 2025-এর লেখায় বলা হয়েছে, গ্রামবাসীদের ভাষ্যমতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছবি ও ভিডিও প্রমাণ মুছতে মোবাইল ফোন জব্দ করেছে, আর আটকের ভয়ে তরুণেরা বনে বা পাশের জেলায় সরে গেছে (কালচারাল সারভাইভাল, 31 অক্টোবর 2025)। এগুলো গ্রামবাসীদের বরাতে সংগঠনটির দাবি; সরকারি পক্ষের কোনো জবাব ওই লেখায় নেই।
জনসংহতি সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, 2025 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ 117 জন জুম্মকে গ্রেপ্তার করে, তাদের মধ্যে 70 জনকে কারাগারে পাঠানো হয় (হিল ভয়েস, জানুয়ারি 2026)। এর কতজন গুইমারা-খাগড়াছড়ির তিন মামলার সঙ্গে যুক্ত, তা প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা নেই।
“dharshon-mamla”>ধর্ষণের অভিযোগের মামলা ও মেডিকেল বোর্ডযে অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন শুরু, তার মামলা চলছে আদালতের প্রক্রিয়ায়। একজন সন্দেহভাজন 24 সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন, ছয় দিনের রিমান্ড শেষে 1 অক্টোবর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাসপাতালের তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড 30 সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়, যাতে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। অভিযোগপত্রের খবর পাওয়া যায়নি।
এই লেখায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী কারও নাম নেই। ভুক্তভোগী একজন শিশু, আর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি।
মামলা ও গ্রেপ্তারইউএনবির বিবরণে, কিশোরীর বাবা 24 সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন, এরপর পুলিশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় একজনকে গ্রেপ্তার করে (ইউএনবি, 5 অক্টোবর 2025)। বাংলা ট্রিবিউন (29 সেপ্টেম্বর) লিখেছে মামলা হয় 23 সেপ্টেম্বর রাতেই। জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন দাবি করে, কিশোরীর বাবা এজাহারে অভিযুক্তদের “সেটেলার বাঙালি যুবক” লিখতে চাইলেও দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে “অজ্ঞাতনামা তিনজন” লিখতে হয় (জনসংহতি সমিতি, 5 অক্টোবর 2025)। পুলিশের পক্ষ থেকে এ দাবির কোনো জবাব প্রকাশিত হয়নি।
আইএসপিআরের 28 সেপ্টেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ইউপিডিএফ (মূল) শনাক্ত করেছিল এবং বিষয়টি “বিচারিক প্রক্রিয়াধীন” (প্রথম আলো ইংরেজি, 29 সেপ্টেম্বর 2025)। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি (খবর সংযোগ, 2 অক্টোবর)।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনখাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা হাসপাতালের একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড 30 সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় সিভিল সার্জন সাবের আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। মেডিকেল টিমের সূত্র বলছে, পরীক্ষার 10টি সূচকই “স্বাভাবিক” (প্রথম আলো ইংরেজি, 1 অক্টোবর 2025)। বিডিনিউজ২৪ প্রতিবেদনের একটি কপি দেখেছে বলে জানায়; তাদের বিবরণে নমুনা নেওয়া হয় 24 সেপ্টেম্বর, প্রতিবেদন লেখা হয় 28 সেপ্টেম্বর (বিডিনিউজ২৪, 30 সেপ্টেম্বর 2025)।
সিভিল সার্জন প্রথম আলোকে বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু এটি আদালতের বিষয়। আদালতই সত্য নির্ধারণ করবেন।” প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয় (প্রথম আলো ইংরেজি, 1 অক্টোবর)।
প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল তিন রকম। জুম্ম ছাত্র-জনতার মুখপাত্র একে সরকারের “পরিকল্পিত সাজানো প্রতিবেদন” বলেন এবং অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি ছড়ানো হচ্ছে (প্রথম আলো ইংরেজি, 1 অক্টোবর)। প্রথম আলো জানায়, প্রতিবেদন নিয়ে কিশোরীর বাবাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন (2 অক্টোবর)। আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী 5 অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির সভার পর বলেন, মেডিকেল প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের প্রমাণ মেলেনি, এবং এই অভিযোগ ঘিরে পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে প্রমাণিত (ইউএনবি, 5 অক্টোবর)।
টিআইবির 28 সেপ্টেম্বরের বিবৃতি, যা মেডিকেল প্রতিবেদনের আগে দেওয়া, সাধারণভাবে বলেছিল ধর্ষণের শিকারদের মেডিকেল পরীক্ষা থেকে মামলা নথিভুক্তি ও বিচার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ধর্ষকদের রক্ষার চেষ্টা দেখা যায় (টিআইবি, 28 সেপ্টেম্বর 2025)। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে কীভাবে বিবেচিত হবে, ডিএনএ বা অন্য কোনো পরীক্ষা হয়েছে কি না, তার কোনো প্রকাশিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
“sorkari-biborti”>সরকারি বিবৃতিগুলো পাশাপাশি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইএসপিআর, পুলিশ28 সেপ্টেম্বর রাতেই দুটি সরকারি বিবৃতি আসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাকারীদের “দুষ্কৃতকারী” বলে, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম নেয়নি। সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর সংঘর্ষ ও গুলির জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করে। পুলিশের ডিআইজি পরদিন বলেন, কার গুলিতে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা তখনো জানা যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, 28 সেপ্টেম্বরমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গুইমারায় দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত এবং একজন মেজরসহ 13 জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন; “কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না” (ঢাকা ট্রিবিউন, 28 সেপ্টেম্বর 2025; প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর)।
আইএসপিআর, 28 সেপ্টেম্বর রাত“Army Statement on Communal Violence in Khagrachhari and Guimara on 27 and 28 September 2025” শিরোনামের বিবৃতির মূল দাবিগুলো: 28 সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সড়ক অবরোধ করে; সকাল সাড়ে 10টার দিকে স্থানীয় বাঙালিদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়; সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে হামলায় তিন কর্মকর্তাসহ 10 সেনাসদস্য আহত হন; সাড়ে 11টার দিকে রামসু বাজারের পশ্চিমের উঁচু জায়গা থেকে ইউপিডিএফের (মূল) সশস্ত্র সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে চার-পাঁচ দফায় 100–150 রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যাতে কয়েকজন বেসামরিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন; বাইরের ইউপিডিএফ সদস্যরা দোকান ও বাড়িতে আগুন দেয়; বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে (প্রথম আলো ইংরেজি, 29 সেপ্টেম্বর; বিডিনিউজ২৪, 29 সেপ্টেম্বর 2025)।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “Law enforcement agencies have preserved substantial evidence”, অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ করেছে। সেই প্রমাণ কোনো তদন্ত কমিটি বা আদালতের কাছে উপস্থাপিত হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত হয়নি।
পুলিশ ও প্রশাসনচট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ 28 সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গুইমারায় গুলিতে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, “তবে কার গুলিতে কীভাবে মারা গেছে, বিস্তারিত জানা যায়নি” (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2025)। পরদিন তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ঘটনা কেন ঘটল তা “যথাযথ তদন্ত ছাড়া নির্ধারণ করা যাবে না”; পাহাড়ি ও বাঙালি দুই সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ বিবেচনায় আছে (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর)।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা 28 সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় বলেন, পরিস্থিতিতে “তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন” আছে এবং আন্দোলনের নামে সহিংসতা তৈরি করে একটি পক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর)। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 30 সেপ্টেম্বর বলেন, দুর্গাপূজা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ির সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে (বিডিনিউজ২৪, 30 সেপ্টেম্বর)।
“onno-biboron”>অন্য বিবরণ: জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ, আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীসরকারি বিবৃতির বিপরীতে পাহাড়ি রাজনৈতিক সংগঠন, আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমের কাছে কথা বলা প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে এবং অগ্নিসংযোগের জন্য সেটেলার বাঙালিদের দায়ী করেছেন। নিচের প্রতিটি দাবি যে বলেছে তার নামে; কোনো আদালত বা সরকারি তদন্ত এখনো কোনো পক্ষের বিবরণ নিশ্চিত বা নাকচ করেনি।
আইএসপিআরইউপিডিএফের (মূল) সশস্ত্র সদস্যরা উঁচু জায়গা থেকে 100–150 রাউন্ড গুলি ছোড়েবাইরের ইউপিডিএফ সদস্যরা আগুন দেয়আইএসপিআর বিবৃতি, 28 সেপ্টেম্বরস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়“দুষ্কৃতকারীদের হামলা”; গোষ্ঠীর নাম নেইউল্লেখ নেইমন্ত্রণালয়ের বিবৃতি, 28 সেপ্টেম্বরজুম্ম ছাত্র-জনতাসেনাবাহিনী তাদের কর্মীদের ওপর গুলি চালায়সেটেলাররা দোকান ও বাড়ি লুট করে আগুন দেয়ফেসবুক বিবৃতি, বিডিনিউজ২৪ ও ডেইলি স্টারের বরাতেজনসংহতি সমিতিএকাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে, দুপুর একটার দিকে সেনাবাহিনী ও মুখোশধারীরা গুলি চালায়সেটেলার বাঙালিরা আগুন দেয়জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদন, 5 অক্টোবরইউপিডিএফনিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিসেনাবাহিনী ও সেটেলারদের যৌথ হামলাইউপিডিএফের প্রতিবেদন, 6 অক্টোবরদুই প্রত্যক্ষদর্শী (প্রথম আলোকে)কথা-কাটাকাটির পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালানগুলির পর 20–25 জন এসে লুট করে আগুন দেয়, সঙ্গে মুখোশধারীও ছিলপ্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর| কার বিবরণ | গুলি সম্পর্কে দাবি | অগ্নিসংযোগ সম্পর্কে দাবি | উৎস |
|---|
জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদনে আরেকটি দাবি আছে, যা সরকারি বিবৃতির সঙ্গে আংশিক মেলে: 26 সেপ্টেম্বরের সমাবেশে ইউপিডিএফের কিছু লোক ঢুকে উসকানি দেয়, এবং গুইমারার ঘটনাও ইউপিডিএফের উসকানিতে সহিংস রূপ নেয় বলে “বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়” (জনসংহতি সমিতি, 5 অক্টোবর)। জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ পাহাড়ের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক সংগঠন, তাই এই অংশ পড়ার সময় সেটি মনে রাখা দরকার।
জুম্ম ছাত্র-জনতা নিজেদের সম্পর্কে বলেছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দল বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নয়, এবং তাদের ইউপিডিএফ বলে চিহ্নিত করা আইএসপিআরের বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর)। অন্যদিকে আইএসপিআর আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা একজন ছাত্রনেতাকে ইউপিডিএফের ছাত্র সংগঠনের নেতা বলে উল্লেখ করেছে। এই প্রশ্নেও কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।
“hotahoto”>হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি: কোন উৎস কত বলছেনিহতের সংখ্যা, তিনজন, সব উৎসে এক। আহত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আলাদা: আহতের সংখ্যা 10 থেকে 30 পর্যন্ত, পুড়ে যাওয়া দোকান ও বাড়ির হিসাবও উৎসভেদে ভিন্ন। নিচে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎসের নামে, প্রকাশের তারিখসহ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (28 সেপ্টেম্বর)মেজরসহ 13 সেনাসদস্য, ওসিসহ 3 পুলিশ, “আরও অনেকে”উল্লেখ নেইআইএসপিআর (28 সেপ্টেম্বর)তিন কর্মকর্তাসহ 10 সেনাসদস্য; কয়েকজন বেসামরিক গুলিবিদ্ধদোকান ও বাড়িতে আগুন, সংখ্যা নেইডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ (29 সেপ্টেম্বর)মোট 10 জননিরূপণ চলছেসিভিল সার্জন (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর)চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের 11 জন চিকিৎসাধীন—প্রথম আলো (28 ও 30 সেপ্টেম্বর)সেনা মেজরসহ অন্তত 20 জনপ্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি ও 40টির মতো দোকানটিবিএস (30 সেপ্টেম্বর)আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ 16 জনঅন্তত 85টি দোকান ও বাড়ি41 নাগরিকের বিবৃতি (30 সেপ্টেম্বর)30 জন আদিবাসী—জনসংহতি সমিতি (5 অক্টোবর)অন্তত 20 জুম্ম (16 জন শনাক্ত); অবরোধকারীদের ইটে 11 সেনাসদস্যজুম্মদের 54টি দোকান, 26টি বাড়ি, 16টি মোটরসাইকেল; প্রায় 25 কোটি টাকার সম্পদ| উৎস | আহত | ক্ষয়ক্ষতি |
|---|
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কারা ছিলেন, সে বিষয়েও প্রথম আলোর পর্যবেক্ষণ আছে: রামেসু বাজারের দোকানমালিকদের অধিকাংশ পাহাড়ি, কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিক বাঙালি (প্রথম আলো, 29 সেপ্টেম্বর 2025)। জেলা প্রশাসক 1 অক্টোবর বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে, পরে বিশেষ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে (খবর সংযোগ, 2 অক্টোবর)। সেই তালিকা বা বরাদ্দের পরিমাণ প্রকাশিত হয়নি।
“bichar-bibhagiyo”>বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি: কে, কবে, কী চেয়েছিলঘটনার পরের এক সপ্তাহে অন্তত ছয়টি সংগঠন বা জোট প্রকাশ্যে স্বাধীন বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছে: টিআইবি (28 সেপ্টেম্বর), আসক (29 সেপ্টেম্বর), 41 নাগরিক (30 সেপ্টেম্বর), হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, জনসংহতি সমিতি (5 অক্টোবর) ও জুম্ম ছাত্র-জনতা; ইউপিডিএফ চেয়েছে জাতিসংঘকে যুক্ত করা তদন্ত। কারও দাবির জবাবে কমিশন গঠনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
টিআইবি, 28 সেপ্টেম্বরট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ “পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্ত” দাবি করে, যাতে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া ও উসকানিদাতাদের শনাক্ত করা হয়। সংস্থাটি গণমাধ্যমের বরাতে জানায়, আগের এক বছরে খাগড়াছড়িতে সাতজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, কোনোটিতেই বিচার হয়নি; আর প্রশ্ন তোলে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন সময়মতো সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিল না (টিআইবি; ঢাকা ট্রিবিউন, 28 সেপ্টেম্বর 2025)।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, 29 সেপ্টেম্বরআসক দায়ীদের শনাক্ত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন চায় (ঢাকা ট্রিবিউন, 29 সেপ্টেম্বর 2025)। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে আসকের আরেকটি বাক্য উদ্ধৃত আছে, যা এই লেখার মূল প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত: আগের ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মনে হয় (ডেইলি স্টার, এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কে পুনর্মুদ্রিত, 30 সেপ্টেম্বর 2025)।
41 নাগরিক, 30 সেপ্টেম্বরদেশের 41 জন নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে নয় দফা দাবি দেন। এর দ্বিতীয় দফা: “সংঘর্ষে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।” অন্য দফাগুলোর মধ্যে আছে ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সহিংসতায় জড়িত যেকোনো বাহিনীর সদস্যের বিচার, নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ, সামরিকীকরণ নীতির পর্যালোচনা এবং পাহাড়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ। বিবৃতিতে বলা হয়: “কোনো বাহিনীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়” (ইত্তেফাক, 30 সেপ্টেম্বর 2025)।
হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, ব্লাস্ট ও অন্যরা23টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন আছে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় এবং বলে, প্রতিবাদ কখনো মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। ব্লাস্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা চায়; রেপ ল রিফর্ম কোয়ালিশন ধর্ষণের দায়ীদের দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চায় (ডেইলি স্টার/এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক, 30 সেপ্টেম্বর)।
জনসংহতি সমিতি, 5 অক্টোবরপ্রতিবেদনের শেষে তিনটি দাবি: 27–28 সেপ্টেম্বরের হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, সরকারের পক্ষ থেকে নিহত-আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা, এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (জনসংহতি সমিতি, 5 অক্টোবর)। ডেইলি স্টার প্রতিবেদনটির খবর দিয়ে জানায়, সমিতির হিসাবে 1997 সালের চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তত 22টি সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, যার প্রায় কোনোটিরই অপরাধীদের জবাবদিহি হয়নি (ডেইলি স্টার, 6 অক্টোবর 2025)।
জুম্ম ছাত্র-জনতা ও ইউপিডিএফজুম্ম ছাত্র-জনতার আট দফার একটি ছিল 27 ও 28 সেপ্টেম্বর সদর ও গুইমারায় সব হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলির “স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত”; আরেকটি ছিল নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য 5 লাখ থেকে 20 লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর)। ইউপিডিএফ জেলা প্রশাসনের কমিটি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘকে যুক্ত করা তদন্ত চায় (ইউপিডিএফ, 6 অক্টোবর)।
আন্তর্জাতিক ফোরামরাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের 60তম অধিবেশনে গুইমারার ঘটনা উত্থাপন করেন (দ্য ট্রিবিউন/এএনআই, 1 অক্টোবর)। আইডব্লিউজিআইএ, মাইনরিটি রাইটস গ্রুপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ও ফিয়ান ইন্টারন্যাশনালের 6 অক্টোবর 2025-এর যৌথ জরুরি বিবৃতি ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামের নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়; সেই আদেশের নথিভুক্ত ইতিহাস আমাদের অপারেশন উত্তরণ নিয়ে লেখায় আছে।
“asshash”>প্রশাসনের আশ্বাস, আট দফা ও অবরোধ স্থগিত29 সেপ্টেম্বর রাতে জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সভায় জুম্ম ছাত্র-জনতার ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল আট দফা দাবিনামা দেয়। জেলা প্রশাসক 30 সেপ্টেম্বর জানান, আট দফার সাতটি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সেই রাত 11টা থেকে 5 অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত হয়, তবে ১৪৪ ধারা অন্তত 3 অক্টোবর পর্যন্ত বহাল ছিল।
জুম্ম ছাত্র-জনতার ভাষ্যে, সভায় পার্বত্য উপদেষ্টা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন, আর বেসামরিক প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার ছাড়া সব দাবিতে মৌখিকভাবে সম্মতি দেয় (ডেইলি স্টার, 30 সেপ্টেম্বর)। জেলা প্রশাসকের ভাষ্যে, “তাদের যে ৮ দফা রয়েছে তার মধ্যে আমরা ৭টা এড্রেস করেছি” (চ্যানেল আই অনলাইন, 30 সেপ্টেম্বর)। কোন সাতটি দফা, বিশেষ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিটি তার মধ্যে ছিল কি না, তা কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে জানায়নি।
অবরোধ স্থগিতের ঘোষণায় জুম্ম ছাত্র-জনতা প্রশাসনের আশ্বাস ও দুর্গাপূজার প্রতি সম্মানের কথা বলে, তবে সতর্ক করে যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচিতে ফিরবে (ঢাকা ট্রিবিউন, 30 সেপ্টেম্বর 2025)। 3 অক্টোবর পুলিশ সুপার বলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ১৪৪ ধারা শিগগির উঠবে বলে আশা (নিউ এজ, 4 অক্টোবর)। ১৪৪ ধারা ঠিক কবে প্রত্যাহার হয়েছে, তা প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
“ek-bochhor”>এক বছর পর, সেপ্টেম্বর 2026: কী বদলেছে, কী বদলায়নিঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে, 28 সেপ্টেম্বর 2026, রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্মরণসভা হয়, যেখানে বক্তারা অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। এক বছরে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র বা বিচার বিভাগীয় কমিশনের খবর প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। দাবিগুলো 2025 সালের মতোই রয়ে গেছে।
স্মরণসভাটির আয়োজক ছিল দুটি স্থানীয় সংগঠন; সেখানে নিহত তিনজনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে “সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার” আহ্বান জানানো হয় (খবর সংযোগ, 29 সেপ্টেম্বর 2026)। একই সপ্তাহে স্মরণসভার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসআইবি নিউজ (29 সেপ্টেম্বর 2026)।
মাঝের সময়ের দুটি প্রকাশিত হিসাব আছে। প্রথম আলো 2 ডিসেম্বর 2025, চুক্তির বার্ষিকীতে, লিখেছে: 2024 ও 2025 সালের দুই দফা সংঘাতে পার্বত্য জেলাগুলোতে মোট আটজন নিহত হন, যার তিনজন 28 সেপ্টেম্বর 2025 গুইমারায় (প্রথম আলো, 2 ডিসেম্বর 2025)। একই প্রতিবেদনে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, গুইমারায় যেভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্থানীয় মানুষের মুখোমুখি করা হয়েছে, তা আগে দেখেননি। দ্বিতীয়টি জনসংহতি সমিতির জানুয়ারি 2026-এর বার্ষিক প্রতিবেদন, যা আগেই উদ্ধৃত হয়েছে।
সরকার গুইমারার ঘটনা নিয়ে পরে আলাদা কোনো তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, কিংবা জেলা প্রশাসনের কমিটির প্রতিবেদন সংসদে বা জনসমক্ষে এনেছে কি না, তার কোনো খবর প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
“ager-tadanta”>পাহাড়ে আগের তদন্তগুলোর অভিজ্ঞতা কেন প্রাসঙ্গিকপার্বত্য চট্টগ্রামে বড় সহিংস ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন নতুন নয়, আর সেসব প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ার অভিযোগও পুরোনো। আসক, জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ তিনটি ভিন্ন অবস্থান থেকে 2025 সালে একই কথা বলেছে: আগের ঘটনার তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় ঘটনা ফিরে আসে। এই দাবি পরখ করতে আগের তদন্তগুলোর নথি দেখা দরকার।
1992 সালের লোগাং ঘটনার পর বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের তদন্ত কমিশন কী বলেছিল আর অ্যামনেস্টি কী আপত্তি তুলেছিল, তার নথিভিত্তিক বিবরণ আছে আমাদের কল্পনা চাকমা মামলার নথি লেখায়। আর 1997 সালের চুক্তির ধারাগুলো ও তাদের বাস্তবায়নের সরকারি হিসাব টিবিএস, 9 অক্টোবর 2024)। গুইমারার পাঁচ সদস্যের কমিটি কোন আইনের অধীনে গঠিত, তা প্রকাশিত হয়নি; কোনো প্রতিবেদনে একে ওই আইনের অধীনের কমিশন বলা হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন, আইন ও ইতিহাস নিয়ে আমাদের অন্যান্য লেখা একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
“faq”>প্রশ্নোত্তর গুইমারার সহিংসতা তদন্তে কোন কমিটি গঠন করা হয়েছিল?খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন 30 সেপ্টেম্বর 2025 পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় এ কথা জানান। কমিটির সদস্যদের নাম, প্রধান কে এবং প্রতিবেদন জমার সময়সীমা সেদিন বা পরে কোনো প্রকাশিত উৎসে জানানো হয়নি।
গুইমারা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কি প্রকাশ হয়েছে?19 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো প্রকাশিত উৎসে পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন জমা বা প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত শেষ অগ্রগতি 1 অক্টোবর 2025-এর: জেলা প্রশাসক জানান তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং 5 অক্টোবর থেকে সরেজমিন কাজ শুরু হবে। জনসংহতি সমিতির জানুয়ারি 2026-এর প্রতিবেদনেও কমিটির কোনো ফলাফলের উল্লেখ নেই।
রামেসু বাজারে কতজন নিহত হয়েছিলেন, তাঁরা কারা?28 সেপ্টেম্বর 2025 গুইমারার রামেসু বাজারে গুলিতে তিনজন নিহত হন, সংখ্যাটি সব উৎসে এক। পুলিশ 29 সেপ্টেম্বর তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করে: তৈইচিং মারমা (20), আথুইপ্রু মারমা (21) ও আখ্রাউ মারমা (22)। নামের বানান সংবাদমাধ্যমভেদে কিছুটা আলাদা লেখা হয়েছে।
গুইমারার ঘটনায় কয়টি মামলা হয়েছে, আসামি কতজন?1 অক্টোবর 2025 পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে: গুইমারা থানায় হত্যা এবং হামলা-অগ্নিসংযোগের দুটি, সদর থানায় একটি। সব আসামি অজ্ঞাতনামা। টিবিএসের হিসাবে মোট 1,000-এর বেশি, প্রথম আলো ও খবর সংযোগের শিরোনামে 1100, ইউএনবির হিসাবে 1,000। প্রতি মামলার ভাগও উৎসভেদে আলাদা।
নিহতদের পরিবার কেন মামলা করেনি?গুইমারা থানার ওসি টিবিএসকে বলেন, পরিবারগুলো মামলা করতে আসেনি, তাই একজন এসআই বাদী হয়েছেন। প্রথম আলো লিখেছে, পরিবারের কেউ মামলা করতে রাজি হননি। নিহত একজনের বাবা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঝামেলায় জড়াতে চান না, তবে ছেলের হত্যার বিচার চান এবং সরকার তা করবে বলে আশা করেন।
গুইমারার মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন কি?3 অক্টোবর 2025 খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার নিউ এজকে বলেন, আসামিরা অজ্ঞাতনামা হওয়ায় তিন মামলায় তখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং অপরাধী শনাক্তে এলাকাবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর পরে কোনো গ্রেপ্তার বা অভিযোগপত্র দাখিলের খবর কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
গুইমারায় কারা গুলি চালিয়েছিল?বিবরণ আলাদা। আইএসপিআর বলেছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা উঁচু জায়গা থেকে 100–150 রাউন্ড গুলি ছোড়ে। জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ ও জুম্ম ছাত্র-জনতা সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “দুষ্কৃতকারী” বলেছে, আর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বলেছেন কার গুলিতে মৃত্যু, তা জানা যায়নি। কোনো তদন্ত এখনো তা নির্ধারণ করেনি।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কারা চেয়েছিল, তা কি হয়েছে?টিআইবি (28 সেপ্টেম্বর), আসক (29 সেপ্টেম্বর), 41 নাগরিক (30 সেপ্টেম্বর), হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, জনসংহতি সমিতি (5 অক্টোবর) ও জুম্ম ছাত্র-জনতা বিচার বিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্ত চেয়েছে; ইউপিডিএফ জাতিসংঘকে যুক্ত করতে বলেছে। এমন কোনো কমিশন গঠিত হয়েছে বলে কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ির কিশোরীর মেডিকেল প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল?খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা হাসপাতালের তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড 30 সেপ্টেম্বর 2025 সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়; মেডিকেল টিমের সূত্রমতে 10টি সূচকই স্বাভাবিক, অর্থাৎ ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। সিভিল সার্জন বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের। জুম্ম ছাত্র-জনতা প্রতিবেদনটিকে সাজানো বলেছে।
পাঁচ সদস্যের কমিটি আর বিচার বিভাগীয় কমিশনের পার্থক্য কী?জেলা প্রশাসনের কমিটি একটি প্রশাসনিক তদন্ত; এর প্রতিবেদন প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে বলে কোনো সূত্র উল্লেখ করেনি। কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, 1956-এর অধীনে গঠিত কমিশনের দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা থাকে: কর্মকর্তাদের তলব, নথি তলব ও স্থান পরিদর্শন। 2024 সালের এক যৌথ বিবৃতিতে আইডব্লিউজিআইএ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন এই পার্থক্য তুলে ধরেছিল।
রামেসু বাজারে কত দোকান ও বাড়ি পুড়েছিল?হিসাব উৎসভেদে আলাদা। জনসংহতি সমিতি বলছে জুম্মদের 54টি দোকান, 26টি বাড়ি ও 16টি মোটরসাইকেল, প্রায় 25 কোটি টাকার ক্ষতি। প্রথম আলো লিখেছে প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি ও 40টির মতো দোকান; টিবিএস লিখেছে অন্তত 85টি দোকান ও বাড়ি। জেলা প্রশাসনের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশিত হয়নি।
এক বছর পরে গুইমারার ঘটনার অবস্থা কী?28 সেপ্টেম্বর 2026 রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্মরণসভায় বক্তারা হত্যা ও অগ্নিসংযোগের বিচার দাবি করেন। কমিটির প্রতিবেদন, তিন মামলার অভিযোগপত্র বা বিচার বিভাগীয় কমিশন, এর কোনোটির খবর তখন পর্যন্ত প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
“jana-jayni”>যা এখনো জানা যায়নিশিরোনামের ছবি: গুইমারার একটি ছড়া, Mahjuja Islam · CC BY 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স। মানচিত্রের কৃতিত্ব মানচিত্রের নিচে দেওয়া আছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026। নতুন সরকারি প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র বা কমিশন গঠনের তথ্য প্রকাশিত হলে এই লেখা হালনাগাদ করা হবে।
প্রসঙ্গ:খাগড়াছড়ি, মানবাধিকার, মারমা
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।