Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রাম গুজব: সেপ্টেম্বর 2024-এ ছড়ানো ভুয়া ছবি ও ভিডিও আসলে কোথাকার

Last updated Oct 19th, 2026

2

বাংলাদেশের মানচিত্র, দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লাল রঙে চিহ্নিত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা

2024 সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সংঘাত চলার সময় ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউবে যে ছবি-ভিডিওগুলো “পাহাড়ের এখনকার দৃশ্য” বলে ছড়িয়েছিল, তার বড় অংশ ছিল অন্য দেশের বা অন্য সময়ের: ফিলিপাইনের রাস্তা, আসামের পুলিশের প্রশিক্ষণ, থাইল্যান্ডের 2014 সালের অভিযান, মিয়ানমারের আগুন, ত্রিপুরার সমাবেশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম গুজব ভুয়া ছবি ভিডিও নিয়ে এই লেখায় প্রতিটি দৃশ্যের জন্য তিনটি কথা আলাদা করে রাখা হয়েছে: কী দাবি করা হয়েছিল, আসলে কোথাকার, আর কোন নামধারী যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান সেটি প্রতিষ্ঠা করেছে — লিংকসহ।

এখানে কোনো সহিংস বা রক্তাক্ত ছবি পুনঃপ্রকাশ করা হয়নি; প্রয়োজনে কেবল বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আর যাচাইকারীরা যা লিখেছেন তার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত টানা হয়নি — কে কেন ছড়িয়েছে, সে প্রশ্নে যাচাইকারীদের নিজের ভাষাটুকুই উদ্ধৃত।

এই লেখায়

  1. সেপ্টেম্বর 2024-এ পাহাড়ে কী ঘটেছিল
  2. কোন যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, কীভাবে
  3. এক নজরে পুরো তালিকা
  4. অস্ত্র হাতে রাস্তা পার হওয়া যুবকদের ভিডিও
  5. কালো পোশাকে অস্ত্রধারী দলের ভিডিও
  6. পোড়া বুদ্ধমূর্তির ছবি
  7. জঙ্গলে বসে থাকা মানুষের ছবি
  8. লাঠি হাতে নারী ও সেনাসদস্যদের ভিডিও
  9. বিজিবি সদস্যকে মারধরের ছবি
  10. অস্ত্রসহ ভিক্ষুবেশী মানুষের ছবি
  11. রংপুর, মিয়ানমার, “মার্কিন সেনা” আর ঢাকার মশাল মিছিল
  12. “পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে যুক্ত করার” ভিডিও
  13. জীবিত মানুষের মৃত্যুর গুজব
  14. চার থেকে একশ: মৃত্যুসংখ্যার অপতথ্য
  15. পরে আবার ফিরে আসা ছবি-ভিডিও
  16. যাচাইকারীদের মধ্যে কোথায় অমিল
  17. প্রশ্নোত্তর
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

সেপ্টেম্বর 2024-এ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে কী ঘটেছিল, যাকে ঘিরে গুজব ছড়ায়

18 সেপ্টেম্বর 2024 খাগড়াছড়ি সদরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মো. মামুন নামে এক বাঙালি যুবকের মৃত্যুর পর পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, পরদিন দীঘিনালায় দোকানপাটে আগুন দেওয়া হয়, রাতে খাগড়াছড়ি শহরে গোলাগুলি হয় এবং 20 সেপ্টেম্বর সংঘাত রাঙামাটিতে ছড়ায়। এই কয়েক দিনেই ছবি-ভিডিওর গুজব সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।

প্রথম আলোর 20 সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই জেলায় চারজন নিহত হন: খাগড়াছড়িতে জুনান চাকমা (20), ধনঞ্জয় চাকমা (50) ও রুবেল চাকমা (30), আর রাঙামাটিতে কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী অনিক কুমার চাকমা। আহত হন প্রায় 80 জন। একই প্রতিবেদনে দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাতে লেখা হয়, 102টি দোকান পুড়েছে — 78টি পাহাড়িদের, 24টি বাঙালিদের। দুই জেলাতেই 144 ধারা জারি হয়।

মামুনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের লেখায়ও দুই রকম বিবরণ আছে: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও প্রথম আলো লিখেছে 18 সেপ্টেম্বর গণপিটুনিতে মৃত্যু, আর ফ্যাক্টওয়াচের 21 সেপ্টেম্বরের লেখা বলছে 19 সেপ্টেম্বর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে মৃত্যু (ফ্যাক্টওয়াচের পরের লেখাগুলোয় অবশ্য 18 সেপ্টেম্বর মারধরে মৃত্যুর কথাই আছে)।

বাংলাদেশের মানচিত্র, দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লাল রঙে চিহ্নিত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান — পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা। সেপ্টেম্বর 2024-এর সংঘাত হয়েছিল প্রথম দুটিতে। ছবি: Nafsadh · CC0 · Wikimedia Commons

দুই জেলার অবস্থান, উপজেলা ও জনসংখ্যা জানতে আমাদের খাগড়াছড়ি জেলা পরিচিতি ও রাঙামাটি জেলা পরিচিতি দেখতে পারেন। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপট আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে। এই লেখার বিষয় সংঘাতের ঘটনাক্রম নয় — কেবল সেই সময় ছড়ানো ছবি-ভিডিওর উৎস। ঘটনাক্রম, আর কোন তথ্যে সব পক্ষ একমত ও কোথায় বিবরণ আলাদা, তা আছে আমাদের দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সহিংসতা 2024 নিয়ে লেখায়।

কোন যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এই ছবি-ভিডিওগুলো যাচাই করেছে, আর কীভাবে

সেপ্টেম্বর 2024-এর পাহাড়ি সংঘাত-সংক্রান্ত ছবি-ভিডিও যাচাই করেছে মূলত বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান — রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্টওয়াচ। একটি ভিডিও পরে ভারতের অল্ট নিউজ (Alt News) এবং নিউজচেকারও (Newschecker) যাচাই করে। এএফপির (AFP) কোনো যাচাই এই বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

রিউমর স্ক্যানার 21 সেপ্টেম্বর একটি “ফ্যাক্ট-ফাইল” প্রকাশ করে জানায়, পাহাড়ের সংকট নিয়ে তারা ততক্ষণে 11টি গুজব শনাক্ত করেছে; প্রথম আলো সেদিনই এ নিয়ে খবর করে। দুই দিন পর, 23 সেপ্টেম্বর, প্রতিষ্ঠানটি আরও 5টি অপতথ্যের বিবরণ দেয়। এরপর আলাদা আলাদা প্রতিবেদন আসে 28 সেপ্টেম্বর, 1 অক্টোবর ও 8 অক্টোবর।

ডিসমিসল্যাব 20 সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে একের পর এক যাচাই প্রকাশ করে — বাংলা ও ইংরেজি দুই সাইটেই। 29 সেপ্টেম্বর তাদের গবেষণা প্রতিবেদন “From four to a hundred” মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে অপতথ্য কীভাবে ছড়িয়েছে তার সময়রেখা দেয়। ফ্যাক্টওয়াচ 20 থেকে 26 সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছয়টি যাচাই প্রকাশ করে।

পদ্ধতি তিন প্রতিষ্ঠানেরই প্রায় এক: ভিডিওর কয়েকটি স্থিরচিত্র (কি-ফ্রেম) নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যানার, নম্বরপ্লেট, দোকানের নাম মিলিয়ে দেখা, মূল আপলোডকারীর প্রোফাইল ও তারিখ খোঁজা, আর কোথাও কোথাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। কোন যাচাইয়ে কোন পদ্ধতি কাজে লেগেছে, প্রতিটি অংশে তা আলাদা করে লেখা আছে — যাতে পাঠক নিজেও একই পথে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

রায়ের ভাষাও প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। ফ্যাক্টওয়াচ বেশিরভাগ পোস্টকে “বিভ্রান্তিকর” বলেছে, রিউমর স্ক্যানার কিছু দাবিকে “মিথ্যা”, ডিসমিসল্যাব কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি “ভুয়া”। নিচের ছকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজের রায় না বসিয়ে কেবল আসল উৎসটি লেখা হয়েছে, কারণ উৎস নিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোথাও দ্বিমত নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম গুজব, ভুয়া ছবি ও ভিডিও: এক নজরে পুরো তালিকা

নিচের ছকে সেপ্টেম্বর 2024-এর সংঘাতকে ঘিরে ছড়ানো 16টি ছবি, ভিডিও ও দাবি আছে — প্রতিটির দাবি, আসল উৎস এবং কোন প্রতিষ্ঠান তা প্রতিষ্ঠা করেছে। একই দৃশ্য একাধিক প্রতিষ্ঠান যাচাই করলে সবার নাম দেওয়া হয়েছে।

# যা দাবি করা হয়েছিল আসলে কোথাকার, কবেকার কে যাচাই করেছে
1অস্ত্রসহ রাস্তা পার হচ্ছে পাহাড়িরা (দুটি ভিডিও)ফিলিপাইন; “Sattar Jakkal” পেজে 14 সেপ্টেম্বর 2024 আপলোডডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্টওয়াচ, রিউমর স্ক্যানার
2আধুনিক অস্ত্র হাতে পাহাড়িদের দল (দুটি ভিডিও)ভারতের আসাম; পুলিশ সদস্য সামবোর রংপির প্রোফাইলে 17 জুলাই ও 3 সেপ্টেম্বর 2024ডিসমিসল্যাব, রিউমর স্ক্যানার, ফ্যাক্টওয়াচ
3খাগড়াছড়ি/দীঘিনালা/রাঙামাটিতে পোড়া বুদ্ধমূর্তিচট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বৌদ্ধ বিহারে জানুয়ারি 2024-এর অগ্নিকাণ্ডরিউমর স্ক্যানার, ফ্যাক্টওয়াচ
4ঘর পুড়ে যাওয়ায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা পাহাড়িরাঅন্তত মে 2024 থেকে অনলাইনে; এক্সে 19 মে-র পোস্টরিউমর স্ক্যানার
5লাঠি হাতে নারীরা সেনাসদস্যদের মারছেনরাঙামাটির রাঙ্গাপানি, সেপ্টেম্বর 2018ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্টওয়াচ, রিউমর স্ক্যানার
6নারীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গাড়িবহর আটকাচ্ছেনভারতের মণিপুর; এক্সে 30 এপ্রিল 2024-এর পোস্টরিউমর স্ক্যানার
7“পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে মার খাচ্ছে বিজিবি”খাগড়াছড়ির পানছড়ি, সেপ্টেম্বর 2023ডিসমিসল্যাব, রিউমর স্ক্যানার
8পাহাড়িদের উপাসনালয়ে অস্ত্রথাইল্যান্ডের চোনবুরি প্রদেশ, আগস্ট 2014রিউমর স্ক্যানার, ফ্যাক্টওয়াচ
9সেনাসদস্যদের পাশে অস্ত্র হাতে পাঞ্জাবি পরা লোক — পাহাড়ের দৃশ্যরংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, 16 আগস্ট 2024রিউমর স্ক্যানার
10রাঙামাটিতে মার্কিন সেনারা ঢুকছেবাংলাদেশের নয়, সাম্প্রতিকও নয়; এক্সে 30 মে-র পোস্টরিউমর স্ক্যানার
11রাঙামাটির এখনকার অবস্থা (আগুনের ছবি)মিয়ানমার; কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি ও জান্তার সংঘর্ষরিউমর স্ক্যানার
126 সেনাসদস্যকে ধরে নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকাঢাকায় 20 সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আট দফা দাবির মশাল মিছিলরিউমর স্ক্যানার
13পাহাড়িরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে যুক্ত করতে চায়ভারতের ত্রিপুরার পেঁচারথল (ঊনকোটি জেলা), 23 সেপ্টেম্বর 2024ডিসমিসল্যাব, রিউমর স্ক্যানার; 2025-এ ফ্যাক্টওয়াচ, নিউজচেকার, অল্ট নিউজ
14জেনার চাকমা, লেলিন চাকমা ও শীল রক্ষীত ভান্তে নিহততিনজনই জীবিত (যাচাইয়ের সময়)রিউমর স্ক্যানার
1532, 67, 79, এমনকি 100-র বেশি নিহতনিশ্চিত মৃত্যু চারজন (ডিসমিসল্যাবের হিসাবে)ডিসমিসল্যাব
16লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় পাহাড়িরা জড়িতঘটনা কক্সবাজারের চকরিয়ায়; সেনাবাহিনীর আটক তালিকায় কোনো পাহাড়ি নেইফ্যাক্টওয়াচ

রিউমর স্ক্যানার প্রথম দফায় “11টি গুজব” বলেছিল, কিন্তু 11টির নম্বর-দেওয়া আলাদা তালিকা দেয়নি; প্রতিবেদনে কয়েকটি দৃশ্য জোড়ায় জোড়ায় এসেছে, যেমন ফিলিপাইনের দুটি ও আসামের দুটি ভিডিও।

অস্ত্র হাতে রাস্তা পার হওয়া যুবকদের ভিডিও দুটি কোথাকার?

দুটি ভিডিওই ফিলিপাইনের। “Sattar Jakkal” নামের একটি ফেসবুক পেজ — যার ঠিকানা ফিলিপাইন — 14 সেপ্টেম্বর 2024, অর্থাৎ খাগড়াছড়ির ঘটনার চার দিন আগে, ভিডিও দুটি প্রকাশ করে। ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্টওয়াচ ও রিউমর স্ক্যানার আলাদাভাবে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

দাবি: ফেসবুকে ভিডিও দুটি ছড়ানো হয় “পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক দৃশ্য” বলে — একটিতে দুজন সশস্ত্র যুবক রাস্তা পার হচ্ছেন, অন্যটিতে একজন।

কীভাবে বোঝা গেল: ডিসমিসল্যাব 20 সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যাচাইটি প্রকাশ করে। তারা দেখায়, 7 সেকেন্ডের প্রথম ভিডিওর 6 সেকেন্ডে একটি মাইক্রোবাস যায়, যার নম্বরপ্লেটে তিনটি অক্ষর ও চারটি সংখ্যা — ফিলিপাইনের নম্বরপ্লেটের ধরন। বাংলাদেশের নম্বরপ্লেটে থাকে শহরের নাম, শ্রেণির বর্ণ ও নম্বর। দুটি ভিডিওতেই “Tap Fresh Bread Bakery” নামের একই ব্যানার ঝুলছে, অর্থাৎ দুটি একই জায়গায় তোলা। Sattar Jakkal পেজের আরেকটি রিলে একই রাস্তার পটভূমিতে একটি ছোট গ্যাস স্টেশন দেখা যায়, যেখানে ফিলিপাইনের মোবাইল ওয়ালেট জিক্যাশের (GCash) ব্যানার।

ফ্যাক্টওয়াচ একই রাতে আরও দুটি খুঁটিনাটি যোগ করে — মাইক্রোবাসের নম্বর ‘NDV 7797’ এবং গ্যাস স্টেশনের নাম ‘এবি মিনি গ্যাস স্টেশন’। রিউমর স্ক্যানারের 21 সেপ্টেম্বরের ফ্যাক্ট-ফাইলেও নম্বরপ্লেট, গ্যাস স্টেশন আর জিক্যাশের ব্যানার — এই তিনটি সূত্রেই ভিডিও দুটি ফিলিপাইনের বলে নিশ্চিত করা হয়।

তিন প্রতিষ্ঠানের কেউই ভিডিওতে কী ঘটছিল — কোনো সত্য ঘটনা না সাজানো দৃশ্য — সে বিষয়ে কিছু লেখেনি। তাদের সিদ্ধান্ত কেবল এটুকু: ভিডিও দুটি পার্বত্য চট্টগ্রামে ধারণ করা নয় এবং সংঘাত শুরুর আগেই অনলাইনে ছিল।

কালো পোশাকে আধুনিক অস্ত্রধারী দলের ভিডিও কি পার্বত্য চট্টগ্রামের?

না। দুটি ভিডিওই ভারতের আসাম রাজ্যের, আর ভিডিওর মানুষগুলো আসাম পুলিশের সদস্য। মূল ভিডিও দুটি সামবোর রংপি (Sambor Rongpi) নামে একজনের ফেসবুক প্রোফাইলে 17 জুলাই ও 3 সেপ্টেম্বর 2024 প্রকাশিত হয়েছিল। ডিসমিসল্যাব, রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ তিনটিই এটি প্রতিষ্ঠা করেছে।

দাবি: ডিসমিসল্যাবের 21 সেপ্টেম্বরের যাচাই অনুযায়ী, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী 20 সেপ্টেম্বর পরপর দুটি রিল শেয়ার করে লেখেন, “শান্ত পাহাড়কে এরাই সবসময় অশান্ত করে তোলে” এবং “পাহাড়ীদের কাছে যে ধরনের অস্ত্র আছে তা সেনাবাহিনীর কাছেও নাই।” ইউটিউবে “Bangladesh O’ Clock” চ্যানেল ভিডিওটি দেয় এই শিরোনামে যে পাহাড়িরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র করার পাঁয়তারা করছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া এ এইচ এম ফারুক একটি ভিডিও শেয়ার করেন; ডিসমিসল্যাবের হিসাবে সেই পোস্টে 40 হাজারের বেশি ভিউ, 400-র বেশি প্রতিক্রিয়া ও প্রায় 500 শেয়ার ছিল।

কীভাবে বোঝা গেল: কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভিডিও দুটি সামবোর রংপির প্রোফাইলে পাওয়া যায়, যেখানে অবস্থান হিসেবে আসামের কার্বি আংলং জেলা লেখা এবং প্রায় 21 হাজার অনুসারী। একই প্রোফাইলে “জঙ্গল প্রশিক্ষণ” লেখা আরও ভিডিও এবং ইউনিফর্মে সামরিক প্রশিক্ষণের দৃশ্য আছে। ফ্যাক্টওয়াচ 25 সেপ্টেম্বরের যাচাইয়ে জানায়, ওই প্রোফাইলে 1 এপ্রিলের একটি ছবিতে খাকি ইউনিফর্মের নেমপ্লেটে “Sambor Rongpi” লেখা, এবং ইউনিফর্মটি আসাম পুলিশের ইউনিফর্মের সঙ্গে মেলে। দুই প্রতিষ্ঠানই আসাম ট্রিবিউনের 14 আগস্ট 2022-এর প্রতিবেদনের সূত্রে জানায়, সামবোর রংপি (সিটি) সে বছর আসাম পুলিশের যে 12 জন সদস্য পুলিশ পদক পান তাঁদের একজন।

রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্ট-ফাইলেও একই উপসংহার — ভিডিওর অগ্রভাগের মানুষটি সামবোর রংপি, আসামের পুলিশ সদস্য, এবং 3 সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ভিডিওটিও 20 সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে ফেসবুকে প্রচার হয়েছে।

পোড়া বুদ্ধমূর্তির ছবিটি কি দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি বা রাঙামাটির?

না। ছবিটি জানুয়ারি 2024-এ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একটি বৌদ্ধ বিহারে আগুন দেওয়ার ঘটনার, যা সেপ্টেম্বরের সংঘাতের প্রায় আট-নয় মাস আগের। একই ছবি একজন খাগড়াছড়ির, আরেকজন রাঙামাটির, আরেকজন দীঘিনালার বলে প্রচার করেছেন। রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ আলাদাভাবে এটি যাচাই করেছে।

দাবি: রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন এক্সে ছবিটি খাগড়াছড়ির বলে প্রচার করেন, আর ফেসবুকে সেটি রাঙামাটির দৃশ্য বলে ছড়ানো হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন ফেসবুক পোস্টটির উৎস হিসেবে “সনাতন মহাকাব্য” নামের একটি পেজের নাম দেয়। ফ্যাক্টওয়াচ যে পোস্টগুলো দেখিয়েছে, সেখানে দাবি ছিল দীঘিনালার একটি বৌদ্ধ মন্দিরে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের।

কীভাবে বোঝা গেল: রিউমর স্ক্যানার দেখায়, ছবিটি অন্তত জানুয়ারি 2024 থেকে ইন্টারনেটে আছে এবং 10 জানুয়ারির একাধিক পোস্টে সেটিকে রাঙ্গুনিয়ার শরণংকর ভিক্ষুর জ্ঞানশরণ মহারণ্য বৌদ্ধ বিহারে আগুনের ঘটনার ছবি বলা হয়েছিল। ফ্যাক্টওয়াচ 21 সেপ্টেম্বরের যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে “Hindu Post” ও “Hindu Voice” নামের দুটি ওয়েবসাইটে 10 ও 12 জানুয়ারি 2024-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই ধরনের ছবি পায়, যেখানে রাঙ্গুনিয়ার বৌদ্ধ মন্দিরে আগুনের কথা বলা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার ঘটনার তারিখ নিয়ে দুই যাচাইকারীর লেখায় এক দিনের ফারাক আছে: রিউমর স্ক্যানার লিখেছে 6 জানুয়ারি, ফ্যাক্টওয়াচ লিখেছে 7 জানুয়ারি রাতে।

জঙ্গলে জড়ো হয়ে বসে থাকা পাহাড়িদের ছবিটি কবেকার?

ছবিটি সেপ্টেম্বরের নয় — অন্তত মে 2024 থেকে ইন্টারনেটে আছে। রিউমর স্ক্যানার এক্সে 19 মে-র একটি পোস্টে ছবিটি পায়, আর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার 20 মে-র একটি প্রতিবেদনেও একই ছবি ব্যবহার হয়েছিল। তখনকার প্রেক্ষাপট ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মিজোরামে শরণার্থী যাওয়া।

দাবি: দীঘিনালার হ্যাশট্যাগ দিয়ে কয়েকটি ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, অনেকের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে, সেজন্য ছবির মানুষগুলো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

কীভাবে বোঝা গেল: রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্ট-ফাইল অনুযায়ী, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার 20 মে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বেশ কিছু শরণার্থী ভারতের মিজোরামের লংৎলাই জেলায় আশ্রয় নিয়েছেন। রিউমর স্ক্যানার ছবির মানুষগুলো কারা বা ছবিটি ঠিক কোথায় তোলা, তা লেখেনি — কেবল এটুকু প্রতিষ্ঠা করেছে যে ছবিটি সেপ্টেম্বরের সংঘাতের অন্তত চার মাস আগে থেকে অনলাইনে ছিল।

লাঠি হাতে নারীদের সেনাসদস্যদের মুখোমুখি হওয়ার ভিডিও কবেকার?

ভিডিওটি 2018 সালের সেপ্টেম্বরে রাঙামাটির রাঙ্গাপানি এলাকার ঘটনার — প্রায় ছয় বছর আগের। 2024-এর সংঘাতের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্টওয়াচ ও রিউমর স্ক্যানার তিনটিই ভিডিওটিকে পুরোনো বলে শনাক্ত করেছে।

দাবি ও বিস্তার: ডিসমিসল্যাব জানায়, “SI Media Dhaka” নামের একটি ফেসবুক পেজ 21 সেপ্টেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করে, এবং তাতে 30 হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, 43 হাজারের বেশি শেয়ার ও সাড়ে চার হাজারের বেশি মন্তব্য পড়ে — অনেক মন্তব্যকারী ধরে নেন এটি চলমান সংঘাতের দৃশ্য। ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, “ইউনিভার্সিটি আপডেট ডেইলি” নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও 21 সেপ্টেম্বর ভিডিওটি শেয়ার হয়, সেখান থেকে প্রায় 28 হাজার বার।

কীভাবে বোঝা গেল: ডিসমিসল্যাব কি-ফ্রেম ধরে খুঁজে 2018 সালে সিএইচটি নিউজের একটি ফেসবুক পোস্ট পায়, আর 2020 সালে “পাহাড়ের খবর” পেজেও ভিডিওটি 2018-এর রাঙামাটির ঘটনা বলে শেয়ার হয়েছিল। ফ্যাক্টওয়াচ লেখে, ভিডিওটি প্রথম শেয়ার হয় 26 সেপ্টেম্বর 2018; পাহাড়ের খবরের 14 এপ্রিল 2020-এর পোস্ট অনুযায়ী জায়গাটি রাঙামাটির সুখীনীলগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকা। রিউমর স্ক্যানার 23 সেপ্টেম্বর জানায়, ভিডিওটি অন্তত পাঁচ বছর ধরে অনলাইনে আছে।

2018-এর মূল ঘটনাটি কী ছিল, তার বর্ণনা দুই যাচাইকারীর উৎসে আলাদা: ডিসমিসল্যাব সিএইচটি নিউজের পোস্টের বরাতে লেখে, সেনাসদস্যরা স্থানীয় এক দোকানিকে আটক করতে গেলে নারীরা প্রতিবাদ করেন; ফ্যাক্টওয়াচ বাংলানিউজ২৪-এর বরাতে লেখে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই “চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী”কে আটক করলে নারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন, পরে 11 জনকে আটক ও 120 জনকে আসামি করে মামলা হয়। ফ্যাক্টওয়াচের শিরোনামে ভিডিওটিকে “সাত বছর আগের” বলা হলেও লেখার ভেতরে তারিখ 2018।

মণিপুরের গাড়িবহর আটকানোর ভিডিও

একই সময়ে আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন নারীকে একটি সেনা গাড়িবহর আটকাতে দেখা যায়, দাবি ছিল এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গাড়িবহর। রিউমর স্ক্যানার 1 অক্টোবর জানায়, ভিডিওটি রেডিটে প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এক্সে @being_chikim অ্যাকাউন্টে 30 এপ্রিল 2024-এর পোস্ট অনুযায়ী এটি ভারতের মণিপুরে মেইতেই জনগোষ্ঠীর কিছু নারীর ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িবহর অবরোধের দৃশ্য।

“পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে মার খাচ্ছে বিজিবি” — ছবিটি কোন ঘটনার?

ছবিটি 2023 সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার — এক বছর আগের। ডিসমিসল্যাব ও রিউমর স্ক্যানার দুটিই এটি প্রতিষ্ঠা করেছে। ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামেরই, কিন্তু 2024-এর সংঘাতের নয়।

দাবি: ডিসমিসল্যাব জানায়, এক্সে zamanmostafabd নামের একটি অ্যাকাউন্ট 22 সেপ্টেম্বর ছবিটি পোস্ট করে লেখে, বিজিবি সদস্যরা “পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের” হাতে মার খাচ্ছেন, এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলে। একটি ফেসবুক গ্রুপেও ছবিটি সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে পোস্ট হয়; ডিসমিসল্যাবের হিসাবে প্রায় 1,500 প্রতিক্রিয়া, 100-র বেশি শেয়ার ও 350-র বেশি মন্তব্য — কিছু মন্তব্যে পাহাড়িদের প্রতি ক্ষোভ।

কীভাবে বোঝা গেল: রিভার্স ইমেজ সার্চে ছবিটি 2023 সালের দৈনিক আমাদের সময়ের একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। ডিসমিসল্যাবের বিবরণ অনুযায়ী, পানছড়িতে তথ্য পেয়ে বিজিবি মোটরসাইকেলে থাকা দুজনকে থামালে স্থানীয়রা হামলা করে সাড়ে 12 লাখ টাকা ও আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেয়, এতে পাঁচ বিজিবি সদস্য আহত হন। একই দিনের একটি ফেসবুক ভিডিও দিয়েও ঘটনাটি মেলানো হয়। রিউমর স্ক্যানার তারিখটি দেয় 24 সেপ্টেম্বর 2023 এবং আটক দুজনকে “হুন্ডি ব্যবসায়ী (দাবি অনুযায়ী)” বলে উল্লেখ করে; এ ঘটনায় পরে মামলাও হয়।

অস্ত্রশস্ত্রসহ ভিক্ষুবেশী মানুষের ছবিটি কি পাহাড়ের কোনো বিহারের?

না। ছবিটি থাইল্যান্ডের, 2014 সালের আগস্টের — দেশটির চোনবুরি প্রদেশের শ্রী রাচা জেলার একটি প্যাগোডায় সেনা অভিযানে পাওয়া অস্ত্রের। রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ দুটিই এটি প্রতিষ্ঠা করেছে।

দাবি: সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি দিয়ে বলা হয়, এটি পাহাড়িদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে অস্ত্র থাকার ছবি।

কীভাবে বোঝা গেল: ফ্যাক্টওয়াচ 24 সেপ্টেম্বর জানায়, রিভার্স ইমেজ সার্চে “Democracy for Burma” নামের একটি ওয়েবসাইটে 25 আগস্ট 2014-এর একটি নিবন্ধে একই ছবি পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, সেদিন থাইল্যান্ডের চোনবুরি প্রদেশের শ্রী রাচা জেলার ওয়াট হুয়ে প্রাপ (วัดห้วยปราบ) প্যাগোডায় সৈন্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র পায়। নিবন্ধে একই ঘটনার ভিন্ন কোণ থেকে তোলা আরও তিনটি ছবি ছিল; থাই সংবাদমাধ্যম সানুক নিউজের প্রতিবেদনেও তার একটি ব্যবহার হয়। রিউমর স্ক্যানারও 23 সেপ্টেম্বর জানায়, ছবিটি 2014 সালে থাইল্যান্ডের একটি উপাসনালয়ে অভিযানের, যেখানে মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অস্ত্রও পাওয়া যায়।

রিউমর স্ক্যানার জায়গাটির নাম লিখেছে “চনবুড়ি প্রদেশের শি রাচা জেলা”, ফ্যাক্টওয়াচ “চোনবুরি প্রদেশের শ্রী রাচা জেলা” — একই জায়গার দুই বাংলা বানান।

রংপুর কারাগার, মিয়ানমারের আগুন, “মার্কিন সেনা” আর ঢাকার মশাল মিছিল: আর কোন দৃশ্য অন্য জায়গার ছিল?

আরও চারটি দৃশ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে ছড়ানো হয়েছিল, যার একটিও পাহাড়ের নয়: রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের আগস্টের ছবি, মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের আগুনের ছবি, অজানা উৎসের “মার্কিন সেনা”র ভিডিও এবং ঢাকার একটি মশাল মিছিলের ভিডিও। চারটিই রিউমর স্ক্যানার যাচাই করেছে।

সেনাসদস্যদের পাশে অস্ত্র হাতে পাঞ্জাবি পরা লোক

20 সেপ্টেম্বর বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করে বলা হয়, এটি পার্বত্য এলাকার সাম্প্রতিক দৃশ্য। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ছবিটি 16 আগস্ট 2024-এর, যখন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা হলে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে যায়। কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ছবির লোকটির নাম মো. মিজানুর রহমান, তিনি রংপুর কারাগারের কারারক্ষী। রিউমর স্ক্যানারের একই লেখায় অবশ্য এ-ও আছে যে অস্ত্র হাতে পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি; সে সময়ের ভিডিও ফুটেজে সাধারণ পোশাকে একাধিক ব্যক্তির হাতে অস্ত্র দেখা যায়।

“রাঙামাটির এখনকার অবস্থা” — আগুনের ছবি

ফেসবুকের একাধিক অ্যাকাউন্টে আগুনের একটি ছবি রাঙামাটির বর্তমান অবস্থা বলে পোস্ট হয়। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ছবিটি মিয়ানমারের — আগের সপ্তাহে দেশটির একটি গ্রামে কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) ও সামরিক জান্তার সৈন্যদের সংঘর্ষের সময় লাগা আগুনের। প্রতিবেদনের সূত্র-তালিকায় রেডিও ফ্রি এশিয়ার কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত এলাকা নিয়ে সেপ্টেম্বর 2024-এর একটি প্রতিবেদন আছে।

“রাঙামাটিতে ঢুকে পড়ছে মার্কিন সেনারা”

রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভিডিওটি এক্সে 30 মে, বায়োতে ফ্রান্স লেখা একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি; তবে এটি বাংলাদেশের বা সাম্প্রতিক সময়ের নয় — এটুকু নিশ্চিত বলে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে।

“ছয় সেনাসদস্যকে ধরে নিয়েছে পাহাড়িরা, উত্তাল ঢাকা”

একটি মশাল মিছিলের ভিডিও দিয়ে দাবি করা হয়, পাহাড়িরা ছয় সেনাসদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে এবং তার প্রতিবাদে ঢাকা উত্তাল। রিউমর স্ক্যানার 23 সেপ্টেম্বর জানায়, ভিডিওটি 20 সেপ্টেম্বর ঢাকায় দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচারসহ আট দফা দাবিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মশাল মিছিলের। পাহাড়িরা ছয় সেনাসদস্যকে ধরে নিয়েছে — এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে। একই লেখায় উল্লেখ আছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছিল।

“পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে যুক্ত করার” দাবির ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা?

ভিডিওটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি জেলার পেঁচারথলে 23 সেপ্টেম্বর 2024-এ হওয়া একটি সমাবেশের — বাংলাদেশের কোনো জায়গার নয়। এটি এই তালিকার একমাত্র ভিডিও যা দুই বছরে পাঁচটি আলাদা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান যাচাই করেছে: 2024-এ ডিসমিসল্যাব ও রিউমর স্ক্যানার, 2025-এ ফ্যাক্টওয়াচ, নিউজচেকার ও অল্ট নিউজ।

দাবি: ভিডিওতে এক বক্তা মাইকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ করতে হবে এবং সেনাবাহিনী সরাতে হবে। ফেসবুকে এটি ছড়ানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের দাবি হিসেবে। ডিসমিসল্যাব জানায়, কোনো কোনো পোস্টে ভিডিওর মানুষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়, কোনোটিতে তাঁদের ভারতে চলে যেতে বলা হয়; আবার ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিচালিত কয়েকটি প্রোফাইল দাবি করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও হিন্দুরা ভারতে যুক্ত হতে চান। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভিডিও ছাড়া কেবল লেখা আকারেও দাবিটি ছড়িয়েছিল।

কীভাবে বোঝা গেল: রিভার্স ইমেজ সার্চে মূল ভিডিওটি “Voice of CHT” নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়, 23 সেপ্টেম্বর 2024-এ পোস্ট করা, একই দিনের একটি লাইভ ভিডিওসহ। পোস্টের ক্যাপশনে সমাবেশের জায়গা ত্রিপুরা লেখা, এবং বলা হয়েছে, পাহাড়ের চারটি দল ঐক্যবদ্ধ না হলে ত্রিপুরাবাসী সহায়তা দেবে না। ভিডিওর ব্যানারেই জায়গার নাম আছে। রিউমর স্ক্যানার (28 সেপ্টেম্বর 2024) ও ডিসমিসল্যাব (26 সেপ্টেম্বর 2024) দুজনেই এই সূত্রে সিদ্ধান্ত দেয়।

এক বছর পর, সেপ্টেম্বর 2025-এ খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনার সময় ভিডিওটি আবার ছড়ায়। ফ্যাক্টওয়াচ 29 সেপ্টেম্বর 2025 জানায়, ভিডিওতে দুটি ব্যানার আছে — বাংলায় লেখা গাঢ় বেগুনি ব্যানারে “ঊনকোটি, ত্রিপুরা, ভারত” আর ইংরেজিতে লেখা লাল ব্যানারে পেঁচারথল। ফ্যাক্টওয়াচ আরও জানায়, বক্তা ভারতে যুক্ত হওয়ার কথা বলার আগে চাকমা ভাষায় কথা বলছিলেন; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিনেশ বসু চাকমার সহায়তায় তারা জানায়, ওই অংশে বক্তা ত্রিপুরার চাকমাদের একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। নিউজচেকার 3 অক্টোবর 2025 একটি টিকটক পোস্টের সূত্রে একই উপসংহার দেয়।

ভারতের অল্ট নিউজ 7 অক্টোবর 2025 জানায়, এক্সে Hindu Voice (@HinduVoice_in) ও Times Algebra (@TimesAlgebraIND) 29 সেপ্টেম্বর 2025-এ ভিডিওটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে পোস্ট করে, আর Jitendra Pratap Singh (@jpsin1) একই ভিডিও শেয়ার করেছিলেন 26 সেপ্টেম্বর 2024-এ — অর্থাৎ প্রথম দফার সময়েই। অল্ট নিউজ আগরতলার একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে সমাবেশটি পেঁচারথলে, বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে হয়েছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো কারা, তাদের ঘোষিত লক্ষ্য কী — সেটি জানতে আমাদের জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ নিয়ে লেখা দেখতে পারেন।

কোন জীবিত মানুষের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল?

সেপ্টেম্বর 2024-এ অন্তত তিনজন জীবিত মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়ায়: জেনার চাকমা, লেলিন চাকমা এবং খাগড়াছড়ির পানছড়ির বৌদ্ধ ভিক্ষু শীল রক্ষীত ভান্তে। তিনটিই রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে মিথ্যা বলে প্রতিষ্ঠা করেছে।

জেনার চাকমা: নামের বিভ্রান্তি

রিউমর স্ক্যানার জানায়, ব্যারিস্টার ও সলিসিটর নিঝুম মজুমদার, আওয়ামী যুব মহিলা লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ইয়াসমিন সুলতানা পোলেনসহ একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জেনার চাকমা নামে একজনের ফেসবুকের পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে দাবি করা হয় তিনি সংঘাতে নিহত হয়েছেন। জেনার চাকমা রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা: খাগড়াছড়িতে নিহত জুনান চাকমার (20) নামকে “জেনার” ভেবে নিয়েই বিভ্রান্তি।

লেলিন চাকমা: আহত, নিহত নন

19 সেপ্টেম্বর বিকেলে দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে সংঘর্ষের পর দাবি ছড়ায়, লেলিন চাকমা নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মারা গেছেন। রিউমর স্ক্যানার 23 সেপ্টেম্বর জানায়, 21 সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক ব্যবহারকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লেলিন চাকমার ছবিসহ পোস্টে লেখেন, সিটি স্ক্যানে মাথায় তেমন রক্ত জমাট নেই, 72 ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে; 23 সেপ্টেম্বর আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর চিকিৎসাধীন অবস্থার ভিডিও আসে। কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। রিউমর স্ক্যানারের সিদ্ধান্ত: লেলিন চাকমা আহত হলেও নিহত হননি।

শীল রক্ষীত ভান্তে

26 সেপ্টেম্বর ইন্টারনেটে দাবি ছড়ায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ শীল রক্ষীত ভান্তে মারা গেছেন। রিউমর স্ক্যানার 8 অক্টোবর জানায়, এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, আর ‘Sila Rakkhita’ ফেসবুক পেজ থেকে 26 সেপ্টেম্বরেই দাবিটিকে ভুয়া বলে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল।

চার থেকে একশ: মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে কোন পোস্ট ও ভিডিও কী দাবি করেছিল?

ডিসমিসল্যাবের 29 সেপ্টেম্বর 2024-এর গবেষণা অনুযায়ী 19–20 সেপ্টেম্বরের সংঘাতে নিশ্চিত মৃত্যু চারজনের, অথচ অনলাইনে সংখ্যা ছড়ায় 32, 33, 35, 36, 40, 67, 79 এবং “100-র বেশি”। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ডিসমিসল্যাব দেখিয়েছে, এসব অপতথ্যের বেশিরভাগ ভারতের দিক থেকে ছড়িয়েছে; আর প্রতিবেদন নিজে বলছে, সংখ্যাগুলো রাজনৈতিক প্রচারে দুই দিক থেকে ব্যবহার হয়েছে।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডিসমিসল্যাবের গবেষক Tamara Yesmin Toma ও Tohidul Islam Raso। প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির অন্তত আটজন স্থানীয় সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংগঠনের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন; সবাই চারজনের মৃত্যুর কথাই বলেছেন। প্রথম আলো, সমকাল, ডয়চে ভেলে, ডেইলি স্টার, নিউ এজ এবং কাপেং ফাউন্ডেশনের তথ্যও মেলানো হয়।

সময় ধরে দাবিগুলো

  1. 18 সেপ্টেম্বর: “Jummo” নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়; প্রোফাইল ছবিতে ত্রিপুরাভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল The Jummo Times-এর লোগো।
  2. 20 সেপ্টেম্বর রাত 12টা 54 মিনিট: ওই পেজে 32 জন নিহতের দাবি — ডিসমিসল্যাবের দেখা প্রথম ভুয়া মৃত্যুসংখ্যা। মধ্যরাতের মধ্যে অন্তত আটটি প্রোফাইল বা পেজে এটি পুনরাবৃত্ত হয়।
  3. এক ঘণ্টার মধ্যে: সংখ্যা 35। এসব পোস্টে গোলাগুলির ভিডিও ও আহতদের ছবি ছিল, কিন্তু মৃতদেহের কোনো প্রমাণ ছিল না। সবচেয়ে পুরোনোটি “RC’s World” পেজের, যার পরিচালনা ফ্রান্স থেকে বলে পেজের স্বচ্ছতা-তথ্যে দেখা যায়।
  4. রাত 3টার মধ্যে: সংখ্যা 36; ডিসমিসল্যাব এর প্রথম উৎস হিসেবে নিজেকে আওয়ামী লীগ কর্মী পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ জাকারিয়া ইসলামকে চিহ্নিত করে।
  5. সকাল 8টা 45: The Jummo Times একটি ভিডিও দেয়, যাতে আগুনে ক্ষতির দৃশ্য, আর দাবি 33 জন চাকমা নিহত। ডিসমিসল্যাব জানায়, ভিডিওতে গুলির ঘটনার জায়গা দীঘিনালা বলা হয়েছিল, অথচ ঘটনাটি খাগড়াছড়ি শহরের।
  6. সকাল 10টা 15: Human Rights Congress for Bangladeshi Minorities (HRCBM) 79 জন নিহত ও “গণহত্যামূলক অভিযান”-এর দাবি তোলে।
  7. 20 সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকেল: ভারতে থাকেন বলে প্রোফাইলে লেখা অতুল চাকমা প্রথম 67-এর দাবি দেন। বিকেল 3টায় 67 জন নিহতের একটি দীর্ঘ পোস্ট ছড়ায়, যেখানে সূত্র হিসেবে ঢাকা ট্রিবিউনসহ কয়েকটি নাম দেওয়া হয় — ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে ওই সূত্রগুলো এমন কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। “Hill Blood” পেজ খাগড়াছড়িতে 67 আর দীঘিনালায় 12, মোট 79 দাবি করে।
  8. 20 সেপ্টেম্বর: ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার রুপম দ্য এক্সপ্লোরার (Rupam The Explorer) 100-র বেশি নিহতের দাবিতে ইউটিউব ভিডিও দেন। ত্রিপুরার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা (বিজেপি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিতে 40 জন নিহতের কথা লেখেন। ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলনে 67 বলে।
  9. 21–22 সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরায় বিক্ষোভে “79-এর বেশি” নিহতের কথা বলা হয়। Change.org-এ ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের একটি আবেদন খোলা হয়, যা পরে সরিয়ে ফেলা হয়; ডিসমিসল্যাব জানায়, সজীব ওয়াজেদ জয় আবেদনটি শেয়ার করেছিলেন।

রুপম দ্য এক্সপ্লোরারের ভিডিওর বিস্তার নিয়ে দুই সূত্রের সংখ্যা আলাদা: ডিসমিসল্যাব লিখেছে প্রায় 30 হাজার ভিউ ও 350-র বেশি মন্তব্য, প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ লিখেছে 300-র বেশি মন্তব্য ও 30 হাজার শেয়ার।

ডিসমিসল্যাব নিজে কী সিদ্ধান্ত টেনেছে

প্রতিবেদনের ভাষায়, মিথ্যা মৃত্যুসংখ্যাগুলো দুই দিক থেকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার হয়েছে — একদিকে বিজেপির সমর্থক ও নেতারা (ভারতের আদিবাসী নেতাসহ), অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা, যাঁরা ড. ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এসব সংখ্যা ব্যবহার করেছেন; এক্সে #StepDownYunus হ্যাশট্যাগে সংখ্যাগুলো ছড়ায়। কিছু দাবিতে ঘটনাটিকে গণহত্যা বা জাতিগত নিধন বলে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। ডিসমিসল্যাব আরও লিখেছে, স্থানীয় কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা বাড়ানো সংখ্যাগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছেন।

নিহতের সংখ্যা ও নাম নিয়ে সূত্রভেদ

ডিসমিসল্যাব ও প্রথম আলোর বাংলা প্রতিবেদন চারজন নিহতের কথা বলে; প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের 2 অক্টোবরের প্রতিবেদন লিখেছে পাঁচজন, এবং সেখানে আইএসপিআরের বরাতে লেখা হয়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের হামলার পর সেনাবাহিনী আত্মরক্ষায় গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। খাগড়াছড়িতে নিহত দুজনের নাম সূত্রভেদে আলাদা: প্রথম আলো ও রিউমর স্ক্যানার লিখেছে রুবেল চাকমা ও ধনঞ্জয় চাকমা, ডিসমিসল্যাবের বাংলা প্রতিবেদন লিখেছে রুবেল ত্রিপুরা ও ধন রঞ্জন চাকমা। ডিসমিসল্যাবের তালিকায় নিহতরা: সদর উপজেলার জামতুলি পাড়ার জুনান চাকমা, একই উপজেলার পল্টন জয় পাড়ার রুবেল ত্রিপুরা, দিঘীনালা উপজেলার উদালবাগানের ধন রঞ্জন চাকমা, এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের নোয়াদাম গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী অনিক কুমার চাকমা।

লেফটেন্যান্ট তানজিমের মৃত্যু নিয়ে পাহাড়িদের জড়ানো দাবি

ছবি-ভিডিও নয়, তবু একই সপ্তাহের একটি দাবি এখানে প্রাসঙ্গিক। 24 সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজারা ইউনিয়নে ডাকাতি প্রতিরোধে গিয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন নিহত হন। ফ্যাক্টওয়াচ 26 সেপ্টেম্বর জানায়, “Zakir’s BCS specials” পেজসহ একাধিক অ্যাকাউন্ট এই মৃত্যুকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়িদের সঙ্গে জুড়ে পোস্ট দেয় (পেজটি সমালোচনার মুখে পোস্ট মুছে ফেলে)। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাই: সেনাবাহিনী 25 সেপ্টেম্বর যে ছয়জনকে আটকের কথা নাম ও ছবিসহ জানায়, তাঁদের কেউ পাহাড়ি নন, আর ঘটনাস্থল পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অনেক দূরে।

সেপ্টেম্বর 2024-এর কোন ছবি-ভিডিও পরে অন্য ঘটনার বলে আবার ছড়িয়েছে?

উল্টো দিকের ঘটনাও ঘটেছে: সেপ্টেম্বর 2024-এর খাগড়াছড়ির আসল ছবি-ভিডিও পরে অন্য ঘটনার বলে ছড়ানো হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার ও ডিসমিসল্যাব এমন দুটি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে — একটি নভেম্বর 2024-এ চট্টগ্রামে, আরেকটি ডিসেম্বর 2025-এ ঢাকায়।

নভেম্বর 2024: চট্টগ্রামের হাজারী গলি

5 নভেম্বর 2024 চট্টগ্রামের হাজারী গলিতে সংঘর্ষের পর একটি ছবি দিয়ে দাবি ছড়ায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলায় এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিহত হয়েছেন। ছবিটি একজন নিহত তরুণের; এখানে সেটি পুনঃপ্রকাশ করা হয়নি। রিউমর স্ক্যানার 6 নভেম্বর জানায়, রিভার্স ইমেজ সার্চে ছবিটি “Hill COVER” নামের একটি ফেসবুক পেজের 20 সেপ্টেম্বরের পোস্টে পাওয়া যায়, যেখানে দাবি ছিল খাগড়াছড়ির জামতলির জুনান চাকমা সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। রিউমর স্ক্যানার লিখেছে, ছবিটি যে জুনান চাকমারই, তা গণমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তবে এটি নিশ্চিত যে ছবিটি চট্টগ্রামের সংঘর্ষের কারও নয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও কয়েকটি গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, হাজারী গলির ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

ডিসেম্বর 2025: “রাজধানীতে সেনাবাহিনী-সন্ত্রাসী গোলাগুলি”

ডিসমিসল্যাব 14 ডিসেম্বর 2025 জানায়, সিএইচটি নিউজের লোগোসহ 55 সেকেন্ডের একটি ভিডিও ঢাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তুমুল গোলাগুলির দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, মূল ভিডিওটি সিএইচটি নিউজ 20 সেপ্টেম্বর 2024-এ পোস্ট করেছিল; ডিসমিসল্যাবের উদ্ধৃত ক্যাপশন অনুযায়ী জায়গাটি খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙহিয়া রেডস্কোয়ার এলাকা, ঘটনা 19 সেপ্টেম্বর 2024 রাতের, যখন দীঘিনালায় পাহাড়িদের ওপর হামলার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনাবাহিনী গুলি চালায়।

যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোথায় কোথায় অমিল আছে?

কোনো ছবি বা ভিডিওর আসল উৎস নিয়ে যাচাইকারীদের মধ্যে দ্বিমত নেই। অমিল কেবল খুঁটিনাটিতে — তারিখ, বানান, সংখ্যা ও মূল ঘটনার বিবরণে। প্রতিটি অমিল এক লাইনে, দুই পক্ষের নামসহ:

  • মামুনের মৃত্যু: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও প্রথম আলো বলছে 18 সেপ্টেম্বর গণপিটুনিতে; ফ্যাক্টওয়াচের 21 সেপ্টেম্বরের লেখা বলছে 19 সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কায়।
  • রাঙ্গুনিয়ার বিহারে আগুন: রিউমর স্ক্যানার বলছে 6 জানুয়ারি 2024, ফ্যাক্টওয়াচ বলছে 7 জানুয়ারি রাতে।
  • রাঙ্গাপানির 2018-এর ঘটনা: ডিসমিসল্যাবের উৎস বলছে এক দোকানিকে আটকের চেষ্টা, ফ্যাক্টওয়াচের উৎস বলছে দুই “চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী”কে আটক।
  • নিহতের সংখ্যা: ডিসমিসল্যাব ও প্রথম আলো (বাংলা) বলছে চার, প্রথম আলো (ইংরেজি) বলছে পাঁচ, আইএসপিআর বলছে সেনাবাহিনীর গুলিতে তিন।
  • দুজন নিহতের নাম: প্রথম আলো ও রিউমর স্ক্যানার লিখেছে রুবেল চাকমা ও ধনঞ্জয় চাকমা, ডিসমিসল্যাব লিখেছে রুবেল ত্রিপুরা ও ধন রঞ্জন চাকমা।
  • রুপম দ্য এক্সপ্লোরারের ভিডিও: ডিসমিসল্যাব বলছে প্রায় 30 হাজার ভিউ, প্রথম আলো (ইংরেজি) বলছে 30 হাজার শেয়ার।
  • থাইল্যান্ডের জায়গার বানান: রিউমর স্ক্যানার “চনবুড়ি… শি রাচা”, ফ্যাক্টওয়াচ “চোনবুরি… শ্রী রাচা”।

প্রশ্নোত্তর

সেপ্টেম্বর 2024-এ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কতগুলো গুজব শনাক্ত হয়েছিল?

রিউমর স্ক্যানার 21 সেপ্টেম্বর 2024 জানায়, পাহাড়ের সংকট নিয়ে তারা 11টি গুজব শনাক্ত করেছে, এবং 23 সেপ্টেম্বর আরও 5টির বিবরণ দেয়। ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্টওয়াচ আলাদাভাবে আরও কয়েকটি যাচাই করে। সব মিলিয়ে এই লেখায় 16টি আলাদা ছবি, ভিডিও বা দাবির উৎস সংকলিত হয়েছে, যার কয়েকটি একাধিক প্রতিষ্ঠান যাচাই করেছে।

অস্ত্র হাতে রাস্তা পার হওয়া পাহাড়িদের ভিডিওটি কি সত্যি?

ভিডিও দুটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়, ফিলিপাইনের। “Sattar Jakkal” নামের ফিলিপাইনভিত্তিক ফেসবুক পেজে 14 সেপ্টেম্বর 2024 এগুলো প্রকাশিত হয়। ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্টওয়াচ ও রিউমর স্ক্যানার মাইক্রোবাসের নম্বরপ্লেট (NDV 7797), “Tap Fresh Bread Bakery” ব্যানার আর জিক্যাশের ব্যানার দেখে ফিলিপাইন নিশ্চিত করে। ভিডিও দুটি সংঘাত শুরুর আগেই অনলাইনে ছিল।

কালো পোশাকে অস্ত্রধারী দলের ভিডিওর লোকগুলো কারা?

ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, তাঁরা ভারতের আসাম পুলিশের সদস্য। ভিডিও দুটি সামবোর রংপি নামের আসাম পুলিশ সদস্যের ফেসবুক প্রোফাইলে 17 জুলাই ও 3 সেপ্টেম্বর 2024 প্রকাশিত হয়; প্রোফাইলে অবস্থান কার্বি আংলং। আসাম ট্রিবিউনের 2022-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি পুলিশ পদকপ্রাপ্ত। প্রোফাইলে জঙ্গলে প্রশিক্ষণের আরও ভিডিও আছে।

পোড়া বুদ্ধমূর্তির ছবিটি কোথাকার?

রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, ছবিটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একটি বৌদ্ধ বিহারে জানুয়ারি 2024-এর অগ্নিকাণ্ডের। সেপ্টেম্বরে তসলিমা নাসরিন এক্সে এটি খাগড়াছড়ির বলে পোস্ট করেন, ফেসবুকে কেউ রাঙামাটির, কেউ দীঘিনালার বলে ছড়ান। ঘটনার তারিখ রিউমর স্ক্যানার লিখেছে 6 জানুয়ারি, ফ্যাক্টওয়াচ 7 জানুয়ারি রাত।

সেনাসদস্যদের লাঠিপেটা করা নারীদের ভিডিও কবেকার?

ভিডিওটি 2018 সালের সেপ্টেম্বরে রাঙামাটির রাঙ্গাপানি এলাকার ঘটনার। ডিসমিসল্যাব 2018-এর সিএইচটি নিউজের পোস্ট এবং ফ্যাক্টওয়াচ বাংলানিউজ২৪-এর প্রতিবেদন দিয়ে এটি নিশ্চিত করে। 21 সেপ্টেম্বর 2024 “SI Media Dhaka” পেজের পোস্টে ভিডিওটি 43 হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছিল বলে ডিসমিসল্যাব জানায়। ডিসমিসল্যাবের ভাষায়, ভিডিওটি চলমান সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কহীন।

“পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে যুক্ত করার” ভিডিওটি কি বাংলাদেশের?

না। ভিডিওটি ভারতের ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার পেঁচারথলে 23 সেপ্টেম্বর 2024-এর সমাবেশের, মূলটি “Voice of CHT” ফেসবুক পেজে প্রকাশিত। ব্যানারেই জায়গার নাম লেখা। ডিসমিসল্যাব ও রিউমর স্ক্যানার 2024-এ, আর ফ্যাক্টওয়াচ, নিউজচেকার ও অল্ট নিউজ 2025-এ ভিডিওটি আবার ছড়ালে একই সিদ্ধান্ত দেয়।

সেপ্টেম্বর 2024-এর সংঘাতে আসলে কতজন নিহত হয়েছিলেন?

ডিসমিসল্যাব ও প্রথম আলোর বাংলা প্রতিবেদন অনুযায়ী চারজন: খাগড়াছড়িতে জুনান চাকমা এবং আরও দুজন (যাঁদের নামের বানান সূত্রভেদে আলাদা: ধনঞ্জয়/ধন রঞ্জন চাকমা, রুবেল চাকমা/ত্রিপুরা), আর রাঙামাটিতে অনিক কুমার চাকমা। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ পাঁচজন লিখেছে। অনলাইনে ছড়ানো 32, 67, 79 বা 100-র বেশি নিহতের দাবি ডিসমিসল্যাব ভিত্তিহীন বলে দেখিয়েছে।

100 জন নিহতের দাবি কে ছড়িয়েছিল?

ডিসমিসল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী 100-র বেশি নিহতের দাবি করে ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার রুপম দ্য এক্সপ্লোরার (Rupam The Explorer) 20 সেপ্টেম্বর 2024-এ একটি ভিডিও দেন। তার আগে “Jummo” পেজ 32, অতুল চাকমা 67 এবং HRCBM 79 জনের দাবি তোলে। ত্রিপুরার মন্ত্রী সান্তনা চাকমা মোদিকে চিঠিতে 40 জনের কথা লেখেন।

জেনার চাকমা কি সংঘাতে নিহত হয়েছিলেন?

না। রিউমর স্ক্যানারকে জেনার চাকমা নিজে জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং ঢাকায় থাকছেন। নিঝুম মজুমদার ও ইয়াসমিন সুলতানা পোলেনসহ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট তাঁর পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে মৃত্যুর দাবি ছড়িয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের ব্যাখ্যা, খাগড়াছড়িতে নিহত জুনান চাকমার নামকে জেনার ভেবে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বিজিবি সদস্যকে মারধরের ছবিটি কোন ঘটনার?

ডিসমিসল্যাব ও রিউমর স্ক্যানার জানায়, ছবিটি সেপ্টেম্বর 2023-এ খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনার। বিজিবি দুজনকে সাড়ে 12 লাখ টাকাসহ আটক করলে স্থানীয়রা হামলা করে তাঁদের ছিনিয়ে নেয়, পাঁচ বিজিবি সদস্য আহত হন। 22 সেপ্টেম্বর 2024 এক্সে ছবিটি সাম্প্রতিক বলে পোস্ট হয়েছিল।

কোনো ভিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামের কি না, নিজে কীভাবে যাচাই করা যায়?

যাচাইকারীরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন: ভিডিওর কয়েকটি স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নম্বরপ্লেট, ব্যানার, দোকান বা গ্যাস স্টেশনের নাম মিলিয়ে দেখা, আর মূল আপলোডকারীর প্রোফাইলের অবস্থান ও আপলোডের তারিখ খোঁজা। ফিলিপাইন, আসাম ও ত্রিপুরার ভিডিও এভাবেই ধরা পড়েছিল।

এএফপি কি সেপ্টেম্বর 2024-এর পাহাড়ের গুজব যাচাই করেছিল?

এএফপি ফ্যাক্ট চেকের বাংলা বা ইংরেজি সংস্করণে সেপ্টেম্বর 2024-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম-সংক্রান্ত কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। এই সময়ের যাচাই করেছে মূলত রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্টওয়াচ; ত্রিপুরার সমাবেশের ভিডিওটি 2025-এ নিউজচেকার ও অল্ট নিউজও যাচাই করে। তাই এই সংকলনে এএফপির কোনো যাচাই অন্তর্ভুক্ত নেই।

যা এখনো জানা যায়নি

  • রিউমর স্ক্যানার “11টি গুজব” বললেও প্রতিষ্ঠানটি সেগুলোর আলাদা নম্বর-দেওয়া তালিকা দেয়নি; কোন দৃশ্য আলাদা গোনা হয়েছে তা প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
  • “রাঙামাটিতে মার্কিন সেনা” ভিডিওটি আসলে কোথাকার, তা জানা যায়নি — রিউমর স্ক্যানার কেবল এটুকু প্রতিষ্ঠা করেছে যে এটি বাংলাদেশের বা সাম্প্রতিক নয়।
  • জঙ্গলে বসে থাকা মানুষের ছবিটি ঠিক কোথায়, কবে তোলা এবং ছবির মানুষগুলো কারা — যাচাইয়ে কেবল জানা যায় ছবিটি অন্তত মে 2024 থেকে অনলাইনে।
  • রংপুর কারাগারের ছবির পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তির নাম জেল সুপার জানালেও রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে তাঁর পরিচয় “নিশ্চিত হওয়া যায়নি” বলেও লেখা আছে।
  • ফিলিপাইনের ভিডিও দুটিতে কোনো সত্য ঘটনা ছিল নাকি সাজানো দৃশ্য — কোনো যাচাইকারী এ বিষয়ে কিছু বলেনি।
  • Jummo পেজ, RC’s World বা Hill Blood-এর মতো পেজের পেছনে কারা, তা ডিসমিসল্যাবও পেজের স্বচ্ছতা-তথ্যে দেখানো দেশের বাইরে জানায়নি।
  • সংঘাতের আসল ছবি-ভিডিওর (যেমন খাগড়াছড়ি শহরের গোলাগুলির ভিডিও) পূর্ণাঙ্গ যাচাই-তালিকা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করেনি; এই লেখা কেবল ভুয়া বা ভুল-প্রসঙ্গে ছড়ানো দৃশ্যগুলো সংকলন করে।
  • 2024-এর এই দৃশ্যগুলোর কোনোটি নিয়ে কোনো সরকারি সংস্থা বা ফেসবুক-এক্স কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, সে তথ্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ের সংঘাত ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থার দীর্ঘ প্রেক্ষাপট জানতে আমাদের লেখা অপারেশন উত্তরণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি 1997: ধারা ধরে ধরে দেখতে পারেন।

তথ্যসূত্র

যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন

  1. রিউমর স্ক্যানার, “পাহাড়ে সংকট: থেমে নেই অপতথ্যের প্রবাহও”, 21 সেপ্টেম্বর 2024।
  2. রিউমর স্ক্যানার, “পাহাড়ে সংকট: ক্রমাগত ছড়াচ্ছে অপতথ্য”, 23 সেপ্টেম্বর 2024।
  3. রিউমর স্ক্যানার, “চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্তির দাবির ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের”, 28 সেপ্টেম্বর 2024।
  4. রিউমর স্ক্যানার, “গাড়িবহর আটকানোর ভিডিওটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর”, 1 অক্টোবর 2024।
  5. রিউমর স্ক্যানার, “বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা শীল রক্ষীত ভান্তের মৃত্যুর গুজব”, 8 অক্টোবর 2024।
  6. রিউমর স্ক্যানার, “চট্টগ্রামে হাজারী গলিতে সংঘর্ষে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি নিহত হননি”, 6 নভেম্বর 2024।
  7. ডিসমিসল্যাব, “অস্ত্রসহ রাস্তা পার হওয়া যুবকদের ভিডিওগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়”, 20 সেপ্টেম্বর 2024 (ইংরেজি)।
  8. ডিসমিসল্যাব, “আসামের এক পুলিশ কর্মকর্তার একাধিক ভিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে প্রচার”, 21 সেপ্টেম্বর 2024 (ইংরেজি)।
  9. ডিসমিসল্যাব, “পাহাড়ে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলার দাবিতে পুরোনো ছবি-ভিডিও”, 23 সেপ্টেম্বর 2024 (ইংরেজি, Fatema Tabasum)।
  10. ডিসমিসল্যাব, ত্রিপুরার বিক্ষোভের ভিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে প্রচার, 26 সেপ্টেম্বর 2024 (ইংরেজি)।
  11. ডিসমিসল্যাব (Tamara Yesmin Toma ও Tohidul Islam Raso), “From four to a hundred: The politics of disinformation in the Hill Tracts conflict”, 29 সেপ্টেম্বর 2024 (বাংলা)।
  12. ডিসমিসল্যাব (Noshin Tabassum), “খাগড়াছড়িতে গত বছরের গোলাগুলির ভিডিও ছড়াচ্ছে ঢাকার সাম্প্রতিক ঘটনা দাবিতে”, 14 ডিসেম্বর 2025।
  13. ফ্যাক্টওয়াচ, “ফিলিপাইনের ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান দাঙ্গার বলে দাবি”, 20 সেপ্টেম্বর 2024।
  14. ফ্যাক্টওয়াচ, “পোড়া বুদ্ধ মূর্তির এই ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ে তোলা হয়নি”, 21 সেপ্টেম্বর 2024।
  15. ফ্যাক্টওয়াচ, “বৌদ্ধ ভিক্ষুর সামনে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র: ছবিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়”, 24 সেপ্টেম্বর 2024।
  16. ফ্যাক্টওয়াচ, “আসাম রাজ্য পুলিশের ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বলে দাবি”, 25 সেপ্টেম্বর 2024।
  17. ফ্যাক্টওয়াচ, “সেনাসদস্যদের লাঠিপেটা করছেন আদিবাসী নারীরা – এই ভিডিওটি সাত বছর আগের”, 25 সেপ্টেম্বর 2024।
  18. ফ্যাক্টওয়াচ, “সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় পাহাড়িদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার”, 26 সেপ্টেম্বর 2024।
  19. ফ্যাক্টওয়াচ, “চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ত্রিপুরার”, 29 সেপ্টেম্বর 2025।
  20. নিউজচেকার বাংলাদেশ (Sayeed Joy), ত্রিপুরার ভিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে প্রচার, 3 অক্টোবর 2025।
  21. Alt News (Ankita Mahalanobish), “Viral video of rally seeking Chittagong Hill Tracts’ inclusion in India is from Tripura, not Bangladesh”, 7 অক্টোবর 2025।

সংবাদমাধ্যম

  1. প্রথম আলো, “খাগড়াছড়ি থেকে সংঘাত রাঙামাটিতেও, নিহত ৪”, 20 সেপ্টেম্বর 2024।
  2. প্রথম আলো, “পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে ১১ গুজব শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার”, 21 সেপ্টেম্বর 2024।
  3. Prothom Alo English (Sadia Mahjabin Imam), “Disinformation spread during CHT violence: 100 claimed to have been killed”, 2 অক্টোবর 2024।
  4. The Business Standard, “How ‘100 dead in CHT clashes’ disinfo spread through social media: dismislab”, 30 সেপ্টেম্বর 2024।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা