Jumjournal Logo

জুমের ফসলে বছরের কত মাস চলে: জুম চাষ, অভাবের মাস ও খাদ্যনিরাপত্তার হিসাব

Last updated Nov 3rd, 2026

0

পাহাড়ের ঢালে কচি সবুজ ধানের জুমক্ষেত, পেছনে বনে ঢাকা বান্দরবানের পাহাড়শ্রেণি, মেঘলা আকাশে একটি রংধনু

জুমের ফসলে একটি পাহাড়ি পরিবারের সারা বছর চলে না, অন্তত বেশির ভাগ পরিবারের নয়। মানুষের জন্য (ManusherJonno) ফাউন্ডেশনের 2013 সালের গবেষণায় একটি গড় দরিদ্র জুমিয়া পরিবারের নিজের জুম থেকে খাবার আসে বছরে প্রায় 7 মাসের, বাকিটা বন, মজুরি, মাছ আর ধার দিয়ে পূরণ হয়; আর জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সবচেয়ে কঠিন সময়। এই লেখায় জুমের ফসল, অভাবের মাস, ফলন আর জুমচক্র ছোট হওয়ার পর কী বদলেছে, সেই হিসাব নামসহ উৎস ধরে রাখা হলো।

জুম চাষ কী, কোন মাসে কোন কাজ, জমির মালিকানা কীভাবে ঠিক হয়, সেসব আছে আমাদের মূল লেখা জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে-তে। জুম বন কমায় কি না, মাটি কতটা যায়, সে বিতর্ক আছে জুম চাষ কি বন ধ্বংস করে লেখায়। এখানে কেবল একটি প্রশ্ন: জুম কতটা খাওয়ায়, কখন খাওয়াতে পারে না, আর সেই হিসাব কারা কবে মেপেছেন।

সূচিপত্র

  1. জুমের ফসলে বছরের কত মাস চলে
  2. একটি জুমক্ষেতে কী কী খাবার ফলে
  3. কোন ফসল কোন মাসে ঘরে ওঠে
  4. অভাবের মাস কখন
  5. অভাবের মাসে কী খাওয়া হয়
  6. জুমের ধানের ফলন কত
  7. এক আড়ি বীজে কত আড়ি ধান
  8. জুমচক্র কত ছোট হয়েছে
  9. ফসলের সংখ্যা কমেছে, হলুদ-আদা বেড়েছে
  10. কতজন এখনো জুমের খাবারের ওপর নির্ভর করেন
  11. ইঁদুর বন্যা, বন্যা আর খারাপ বছর
  12. সাজেক 2011: জুম বন্ধ থাকলে খাদ্যে কী ঘটে
  13. পেট ভরা আর পুষ্টি পাওয়া এক নয়
  14. রাইস ব্যাংক, দাদন আর অভাবের মাস পার করা
  15. আজকের হিসাব: আইপিসি কী বলছে
  16. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

জুমের ফসলে একটি পরিবারের বছরের কত মাস চলে

উৎসভেদে উত্তর 6 মাসের কম থেকে 8 মাস পর্যন্ত, আর ভালো বছরে কোনো কোনো পরিবারের তার বেশি। গড় দরিদ্র পরিবারের বেলায় সবচেয়ে বিস্তারিত হিসাবটি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (MJF) 2013 সালের প্রতিবেদনে: নিজের জুম থেকে 7 মাস, বাকি 5 মাস অন্য উৎস থেকে। সচ্ছল পরিবারের জুমে চলে 12 মাসের বেশি।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন উন্নয়ন-অর্থনীতিবিদ নাজমে সাবিনা, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে মাঠ জরিপ করে। তার পরিশিষ্টে একটি “নির্ভরতার ছক” আছে, যাতে দেখানো হয়েছে কোন আয়ের উৎস বছরের কত মাসের খোরাক জোগায়। সচ্ছল পরিবারের জুম 12 মাসের বেশি চলে, পরের বছরের বীজ মজুত থাকে, ধার দেওয়ার মতো উদ্বৃত্তও থাকে। গড় দরিদ্র পরিবারের ছবিটি আলাদা:

উৎস বছরের কত মাসের খোরাক
নিজের জুম 7 মাস
বনজ সম্পদ, বাঁশসহ (এর মধ্যে বাঁশ থেকে আধা মাস) 2 মাস
অন্যের জুমে মজুরি খাটা 1 মাস
মাছ ধরা আধা থেকে 1 মাস (এলাকাভেদে)
বন থেকে খাবার সংগ্রহ আধা মাস

উৎস: MJF, Report on Gap Analysis of Food and Nutrition Security of Chittagong Hill Tracts, নভেম্বর 2013, পরিশিষ্ট 3।

ছকের এক ঘরে একটি মন্তব্য আছে যা পুরো ব্যবস্থাটি বুঝিয়ে দেয়: অন্যের জুমে খাটার কাজটি প্রায়ই আগে থেকেই বাঁধা থাকে, কারণ অভাবের মৌসুমে ধান ধার নেওয়া হয়েছিল সেই শ্রমের বিনিময়ে। অর্থাৎ এক পরিবারের ঘাটতির মাস অন্য পরিবারের ফসলের শ্রমে শোধ হয়।

অন্য উৎসগুলো কী বলে, এক জায়গায়:

উৎস ও সাল এলাকা জুমে কত মাস চলে
MSF-Holland, 2008 (Barua ও সহলেখকদের 2015 সালের প্রবন্ধে উদ্ধৃত) পার্বত্য চট্টগ্রাম নিজের উৎপাদনে পর্যাপ্ত খাবার থাকে “অর্ধেক বছরের কম”
MJF, 2013 বান্দরবান ও রাঙামাটি গড় দরিদ্র পরিবার 7 মাস; সচ্ছল পরিবার 12 মাসের বেশি
WFP, 2011 সাজেক, বাঘাইছড়ি স্বাভাবিক বছরেও জমির অভাবে অভাবের মৌসুম পার করার মতো ধান হয় না
ইত্তেফাক, জুন 2023 বান্দরবান “বছরের ১২ মাসের অন্তত আট মাসের” খাদ্য
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, অক্টোবর 2023 লিক্রি পাড়া, রেমাক্রি, থানচি একজন ম্রো জুমিয়ার ভালো বছরে পাঁচজনের সংসারে “তিন বছর খোরাকি”

সংখ্যাগুলো পরস্পরবিরোধী মনে হলেও আসলে আলাদা জিনিস মাপছে। MSF ও MJF গুনেছে দরিদ্র পরিবারের গড়, ইত্তেফাকের বাক্যটি প্রতিবেদকের সাধারণ মন্তব্য, আর বিডিনিউজের সংখ্যাটি একজন কৃষকের নিজের হিসাব, যাঁর এক বছরের ফলন ভালো হয়েছে। একই পাহাড়ে এক পরিবারের তিন বছরের ধান আর পাশের পরিবারের তিন মাসের ঘাটতি একসঙ্গে থাকতে পারে; এটাই জুম-অর্থনীতির চেহারা।

একটি জুমক্ষেতে কী কী খাবার ফলে: জুমের ফসলের পূর্ণ তালিকা

জুমের ফসল মানে একটি ক্ষেতে একসঙ্গে ধান, ভুট্টা, কাউন, আলু ও কন্দ, শাকসবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা, ফুল আর তুলা। খাগড়াছড়ির একটি গ্রামের মাঠ গবেষণায় (2008) জুমে প্রায় 30টি ফসল পাওয়া গেছে, আর 2006 সালের জরিপে 22 রকম জুম ধান। ধানই প্রধান, কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তায় বাকি ফসলগুলোর ভূমিকাও বড়।

সংখ্যা দুটি এসেছে এস. এস. চাকমা (S. S. Chakma) ও কে. আন্দোর (K. Ando) 2008 সালের প্রবন্ধ থেকে, যা খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি মুখ গ্রামে করা। তাঁদের ভাষায় জুমিয়া “প্রয়োজনের প্রায় সবকিছুই” উৎপাদন করেন। 22 জাতের জুম ধানের কিছু বিন্নি (আঠালো), বেশির ভাগ আঠালো নয়; বিন্নি সাধারণত পিঠার জন্য।

জুমজার্নালের আর্কাইভে সংরক্ষিত সিংইয়ং ম্রোর লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষে আদিবাসী লোকজ্ঞান (2021) এর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে: ফসলগুলোর ম্রো ভাষার নাম দিয়েছে। তালিকাটি ম্রো জুমের; অন্য জনগোষ্ঠীর জুমে একই নাম বা একই জাত থাকবে, এমন ধরে নেওয়ার উপায় নেই।

খাবারের ধরন ম্রো জুমের ফসল (সিংইয়ং ম্রোর লেখায় যেভাবে আছে)
ধান গ্যালং, সাদা বিন্নী, লাল বিন্নী, কালো বিন্নী, মাইমংসিং, দেংপ্লি, চ্যরে, চারু, রিক, নাইংসা, কোয়ার তুই চা
শাকসবজি ও ফল মারফা, ঢেঁড়স, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, তিতা বেগুন, বরবটি, ঝিঙা, লাউ, করলা, কাকরোল, চিনাল, বেসংরা (কামরাঙা শিম), কোয়ার পাও, ক্রাকমা
মসলা সংসনি, সংনাট, কানলুং, বাকর (ধনেপাতা), ওয়াক্লিসং, তাম (আদা), সোয়াম (হলুদ), লিংক (মরিচ)
আলু ও কন্দ পংম, মপু, রুকে, খকদিয়া, রুলং, পাক্কিরু, মসিং, পুসরু, মডিং, হাবরু চপম, মওয়াই, মখাং, পাংম, মসিংপম, পুনরু
টক জাতের সবজি কানসুর য়ি, সুরয়ামা
মাটির উর্বরতার জন্য সঙ্গী ফসল অড়হর, তিল, তিশি, ভুট্টা, কাউন, কার্পাস তুলা

একই লেখায় ফুলের এগারোটি নামও আছে (সংপ্রেম পাও, খেতপাও, রামা পাও প্রভৃতি)। লেখকের মন্তব্য: সবজি জাতীয় এই ফসলগুলো “জুমিয়াদের খাদ্যাভাব ও পুষ্টির অভাব মেটাতে সহায়তা করে”, বিক্রি করে টাকাও আসে। আলুর তালিকার দৈর্ঘ্য লক্ষ করার মতো: পনেরোর বেশি নাম। পরের অংশগুলোতে দেখা যাবে, ধান ফুরোলে এই আলু-কন্দই প্রথম ভরসা।

স্বচ্ছ বাটিতে রান্না করা কালো বিন্নি চালের ভাত, ওপরে ছড়ানো সাদা তিল
বান্দরবানের রুমায় জুমে ফলানো কালো বিন্নি চালের ভাত। ছবি: এম. এম রাফসান জামান · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

অন্য দুটি উৎসের হিসাব: MJF-এর 2013 সালের প্রতিবেদন বলছে, জুমে বোনা বীজের মোটামুটি 70 শতাংশ স্থানীয় জাতের, আর এই জাতবৈচিত্র্যই জুমিয়াকে ফসল তোলা কয়েক মাসে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যাতে খাওয়া ও শ্রম দুটোই সমান হয়ে আসে। দ্য ডেইলি স্টারের 2023 সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, আগে জুম থেকে কেবল ধান বিক্রি হতো, আর ঘরের জন্য 40 রকম পর্যন্ত সবজি ও ফল ফলানো হতো।

রান্নাঘরে এই ফসল কীভাবে পৌঁছায়, তা দেখতে পারেন আমাদের চাকমা খাবার ও রান্না এবং মারমা খাবার ও রান্না লেখায়।

জুমের কোন ফসল কোন মাসে ঘরে ওঠে, আর তাতে খাবার কীভাবে ছড়িয়ে থাকে

জুমের ফসল একসঙ্গে পাকে না। প্রথমে ওঠে শাকসবজি ও মারফা (মে-জুন), তারপর ভুট্টা ও তরমুজ (জুলাই), ধান সেপ্টেম্বরে, আর তুলা, হলুদ, আদা, কচু সবার শেষে (নভেম্বর-ডিসেম্বর)। এই ধাপে ধাপে তোলাই জুমকে কয়েক মাস ধরে খাবার জোগানোর ব্যবস্থা বানায়।

দুটি উৎসে পাকার ক্রম প্রায় একই। চাকমা ও আন্দোর 2008 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী খাগড়াছড়িতে প্রথম পাকে ভুট্টা, জুলাইয়ের মাঝামাঝি; তারপর তরমুজজাতীয় ফল ও নানা সবজি; ধান ও অন্য দানাশস্য সেপ্টেম্বরে; আর “শেষ ফসল” তুলা ওঠে অক্টোবরে। MJF-এর 2013 সালের পরিশিষ্টে একটি মৌসুমি ক্যালেন্ডার আছে:

সময় জুমে কী ওঠে (MJF 2013, পরিশিষ্ট 2)
মে-জুন শাকসবজি, মারফা
জুন-জুলাই তরমুজ, শসা, লাউজাতীয় সবজি
আগস্ট-সেপ্টেম্বর ধান ও ভুট্টা; মরিচ
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মিষ্টি কুমড়া, চিনাল, বেগুন, ফুল; তিল; কাসাভা
নভেম্বর-ডিসেম্বর তুলা, হলুদ, আদা, কচু

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের 2023 সালের প্রতিবেদন বান্দরবানের হিসাব দিয়েছে বাংলা মাসে: ফাল্গুন-চৈত্রে জঙ্গল কাটা ও পোড়ানো, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে বীজ বোনা, ভাদ্রে ধান পাকা, ভাদ্র-আশ্বিন থেকে কাটা শুরু। ইত্তেফাকের 2023 সালের প্রতিবেদনে কাটার মৌসুম ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক।

এখান থেকেই অভাবের মাসের যুক্তিটি বোঝা যায়। ধান ওঠে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। আগের বছরের ধান যদি 7 মাস চলে, তা ফুরোয় মোটামুটি এপ্রিল-মে-তে, ঠিক যখন নতুন জুমে বীজ পড়ছে আর শ্রমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মাঝের কয়েক মাস টিকিয়ে রাখে আগে পাকা সবজি, মারফা, ভুট্টা আর মাটির নিচের আলু।

পাহাড়ে অভাবের মাস কখন: জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট, নাকি এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর

সব উৎস একমত যে কঠিন সময়টি বর্ষাকাল, নতুন জুমের ধান ওঠার আগে। শুরু আর শেষ নিয়ে উৎসভেদ আছে: MJF 2013 বলছে জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি; WFP 2011 বলছে স্বাভাবিক বছরে জুন থেকে সেপ্টেম্বর, চার মাস; বান্দরবানের জেলা প্রশাসক 2024 সালে বলেছেন জুন থেকে আগস্ট।

উৎস অভাবের মৌসুম
MJF, 2013 জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি; স্থানীয় শব্দ হিসেবে প্রতিবেদনে রোমান হরফে লেখা “bhadraat”
UNDP, 2009 (MJF 2013-এ উদ্ধৃত সূচক) খাদ্যনিরাপত্তার গড় সূচক সবচেয়ে নিচে মে-জুনে (1.8), সবচেয়ে ওপরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে (2.5)
WFP, 2011 (সাজেক) স্বাভাবিক বছরে জুন থেকে সেপ্টেম্বর, বর্ষার সঙ্গে মিলে; বিকল্প আয় না থাকায় মে থেকে সেপ্টেম্বর, পাঁচ মাস
ডেইলি স্টার বাংলা, সেপ্টেম্বর 2024 জেলা প্রশাসকের বক্তব্য: জুন থেকে আগস্ট, নতুন জুমের ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত
প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর 2024 (থানচি) মেনহাতপাড়ার একজন বাসিন্দার কথায়, এবার ঘাটতি শুরু এপ্রিল থেকে

UNDP-র সূচকটি 2009 সালের আর্থসামাজিক ভিত্তি জরিপের, MJF-এর প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে মাসওয়ারি ছক আকারে আছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি 2.4 থেকে সূচক নামতে নামতে মে-জুনে 1.8-এ পৌঁছায়, তারপর জুলাই-আগস্টে 2.1, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে 2.3, নভেম্বর-ডিসেম্বরে 2.5। সূচকের মাপকাঠি কী, প্রতিবেদনে তা ব্যাখ্যা করা নেই, তাই অঙ্কগুলো কেবল ওঠানামার দিক বোঝায়।

বর্ষাকাল কেন একসঙ্গে সব পথ বন্ধ করে দেয়, WFP-র সাজেক প্রতিবেদন তা স্পষ্ট করেছে: স্বাভাবিক বছরে অভাবের মৌসুম বর্ষার সঙ্গে মিলে যায়, যখন “সব জীবিকার পথ থেমে যায়”। MJF-এর প্রতিবেদনেও একই ছবি: বর্ষায় চলাচল কঠিন, বাঁশ কাটা সম্ভব নয়, শুকনো মৌসুমে কাটা বাঁশ জুনের মধ্যে নদীপথে চলে যায়, আর কিছু এলাকায় মে মাসের মাঝামাঝি থেকে তিন মাস মাছ ধরাও নিষিদ্ধ।

অভাবের মাসে জুমিয়া পরিবার কী খায়: বুনো আলু, বাঁশকোড়ল আর আধা-পাকা ধান

ধান ফুরোলে প্রথম ধাপ খাবার কমানো, তারপর বনের আলু ও বাঁশকোড়ল, তারপর ধার। WFP-র 2011 সালের সাজেক জরিপে সবচেয়ে প্রচলিত তিনটি কৌশল ছিল খাবারের পরিমাণ কমানো, কম পছন্দের খাবার যেমন বুনো আলু ও আধা-পাকা ফসল খাওয়া, আর টাকা ধার করা।

WFP-র প্রতিবেদন বুনো আলু নিয়ে একটি বিশদ দিয়েছে: এই আলু কেবল অভাবের মৌসুমেই পাওয়া যায়, মাটি খুঁড়ে তুলতে হয়, আর এটি “আদিবাসী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে কম পছন্দের খাবার”। দূরের গ্রামে বুনো সবজি ও আলু বেশি খাওয়া হয়। বসতবাড়ির বাগানের সবজি, ফল, এমনকি গবাদিপশুও দীর্ঘ অভাবের মৌসুম পার করার মতো যথেষ্ট নয়।

পরের দশকের সংবাদেও একই খাবারগুলো ফিরে আসে:

  • থানচি, 2016: দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে খুমি, ম্রো, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রায় 1,500 পরিবার তীব্র খাদ্যসংকটে, কারণ আগের বছর বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণে যথেষ্ট জুম ফসল হয়নি।
  • থানচি, 2024: প্রথম আলোর প্রতিবেদনে লেইক্রি এলাকার 19টি পাড়ায় 319টি পরিবার, যার প্রায় অর্ধেক খাদ্যসংকটে; জুলাই-আগস্টে কিছু পরিবার বনের আলু ও বাঁশকোড়ল খেয়ে দিন কাটিয়েছে। রেমাক্রি ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য জুমচাষিদের এই মৌসুমি ঘাটতিকে বলেছেন “চিরায়ত সমস্যা”।
  • একই এলাকা, ডেইলি স্টার বাংলা, 2024: এক পট চালের ভাতের সঙ্গে বনের আলু ও বাঁশকোড়ল মিশিয়ে পাতলা খাবার রান্না হচ্ছে; অনেক পরিবার তিন বেলার জায়গায় এক বেলা খাচ্ছে।

জুমজার্নালের আর্কাইভে 7 জুন 2020 তারিখের করোনাকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন আছে, যেখানে রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিচালক পবন কুমার অভাবের মাসের জন্য সাতটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। তালিকাটি থেকে বোঝা যায়, কোন জুম ফসল মজুতের জন্য বেশি কাজের:

  1. জুম আলু, জুম কচু, জুম মিষ্টি কুমড়া, জুম চাল কুমড়া এবং দীর্ঘদিন রাখা যায় এমন ফসল বেশি বোনা।
  2. কলা সেদ্ধ করে খোসা ফেলে রোদে শুকিয়ে রাখা; ভাতের অভাবে শুকনো কলার গুঁড়া বিকল্প হতে পারে।
  3. মৌসুমের বাঁশকোড়ল শুকিয়ে রাখা।
  4. জুমের আশেপাশে শিমুল আলু লাগানো।
  5. ভুট্টা, যব, কাউন বেশি বোনা ও পাকলে সংরক্ষণ করা।
  6. ঢালু জুমে আগাছানাশক না ছিটানো, যাতে ছড়া-ঝিরির ছোট মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া টিকে থাকে, যা পাহাড়ে প্রাণিজ আমিষের পুরোনো উৎস।
  7. ছড়ার পাড়ে জন্মানো তারা, ঢেঁকিশাকের মতো সবজি রক্ষা করা।

একই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাবেক জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা শোভন চাকমা ভাতের বিকল্প হিসেবে জুমের ভুট্টা, শিমুল আলু, কলার গুঁড়া ও মিষ্টি কুমড়ার কথা বলেছেন। প্রতিবেদনটি অতীতের পরিসংখ্যানের বরাতে যেসব এলাকায় তখনো খাদ্যের অভাব দেখা দেয় বলে উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে আছে থানচি, রুমা, লামা, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, জুরাছড়ি, সাজেক, বরকল ও বাঘাইছড়ি।

জুমের ধানের ফলন কত: হেক্টরপ্রতি হিসাব আর তিন জেলার উৎপাদন

খাগড়াছড়ির একটি মাঠ জরিপে জুম ধানের গড় ফলন পাওয়া গেছে হেক্টরে 1,235 কেজি, একই এলাকার সমতল জমির ধানের (4,500 কেজি) চার ভাগের এক ভাগের কিছু বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বান্দরবানের হিসাবে 2022 সালে 8,755 হেক্টর জুম থেকে 12,410 মেট্রিক টন ধান এসেছিল।

প্রথম সংখ্যাটি সি. এস. স্বপন (C. S. Swapan), এ. কাজুও (A. Kazuo) ও এম. আর. রহমানের 2010 সালের প্রবন্ধের (Journal of Agroforestry and Environment)। জরিপ হয়েছিল নভেম্বর 2008 থেকে ফেব্রুয়ারি 2009, দীঘিনালার বাঘাইছড়ি মুখ গ্রামের 50টি জুমিয়া পরিবারে। জুমের অন্য ফসলের ফলনও আছে:

জমি ফসল গড় ফলন (কেজি/হেক্টর)
জুম জুম ধান 1,235
জুম হলুদ 1,108
জুম তিল 200
জুম অন্যান্য সবজি (শসা, পুঁইশাক, বেগুন, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, অড়হর ইত্যাদি) 250
জুম আদা 104
জুম মরিচ 100
সমতল রোপা আমন, রোপা আউশ ও বোরো 4,500
নদীতীর রোপা আউশ 2,500

উৎস: Swapan, Kazuo ও Rahman, J. Agrofor. Environ. 4(1): 7-11, 2010, সারণি 1 (মাঠ জরিপ 2008)।

লেখকেরা পার্থক্যের কারণ বলেছেন ব্যবস্থাপনায়: সমতলের ধান পায় সর্বোচ্চ যত্ন, জুমের ফসল মিশ্রভাবে, জীবনধারণ-মাত্রার যত্নে চাষ হয়। একই প্রবন্ধে হেক্টরপ্রতি মোট লাভের হিসাব জুম ধানে প্রায় 36,310 টাকা, সমতলের ধানে প্রায় 72,040 টাকা। কৃষকেরা সমতলে ধান করতে চাইলেও জমির তীব্র অভাবে পারেন না, তাই কম ফলন জেনেও জুম করতে “বাধ্য”।

আমাদের মূল জুম লেখায় বণিক বার্তার (2020) বরাতে “জাতীয় জাতের” ধানের হেক্টরপ্রতি 2.03 থেকে 2.73 টন ফলনের কথা আছে। সেটি নির্দিষ্ট জাতের হিসাব; এখানকার মাঠ গড়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় কি না, উৎসে স্পষ্ট নয়।

জেলাভিত্তিক উৎপাদনের যে সংখ্যাগুলো সংবাদে এসেছে, সবই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) বরাতে:

বছর এলাকা জুমের জমি উৎপাদন বা লক্ষ্যমাত্রা উৎস
2022 (আগের বছর) বান্দরবান 8,755 হেক্টর 12,410 মেট্রিক টন জুম ধান (উৎপাদন) ইত্তেফাক, 17 জুন 2023
2023 (মৌসুমের শুরুতে) বান্দরবান 6,000 হেক্টর 8,000 মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা) ইত্তেফাক, 17 জুন 2023
2023-24 অর্থবছর বান্দরবান, সাত উপজেলা 7,933 হেক্টর 18,087 টন ধান, 12,058 টন চাল (সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 12 অক্টোবর 2023
2023 তিন পার্বত্য জেলা প্রায় 14,000 হেক্টর উল্লেখ নেই দ্য ডেইলি স্টার, 17 অক্টোবর 2023
2025 রাঙামাটি (বাঘাইছড়িতে 150 হেক্টর) 5,000 হেক্টর উল্লেখ নেই; আবাদ লক্ষ্যমাত্রার সমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 3 সেপ্টেম্বর 2025

একই জেলার একই বছরের দুটি সংখ্যা এক সঙ্গে রাখলে ছবিটি কিছুটা পরিষ্কার হয়: বান্দরবানে 2022 সালে 8,755 হেক্টর থেকে 12,410 টন ধান মানে হেক্টরে গড়ে প্রায় 1.4 টন (এই ভাগফল জুমজার্নালের হিসাব, সংবাদে নেই), যা খাগড়াছড়ির মাঠ জরিপের 1,235 কেজির কাছাকাছি। 2023 সালে ইত্তেফাকের জুনের লক্ষ্যমাত্রা আর বিডিনিউজের অক্টোবরের লক্ষ্যমাত্রায় জমির পরিমাণ 6,000 বনাম 7,933 হেক্টর; প্রথমটি মৌসুমের শুরুর, দ্বিতীয়টি অর্থবছরের।

এক আড়ি বীজে কত আড়ি ধান: জুমিয়ার নিজের মাপে ফলন

জুমিয়ারা ফলন মাপেন হেক্টরে নয়, বীজের তুলনায়: কত আড়ি (প্রায় 10 কেজি) বীজ বুনে কত আড়ি ধান পাওয়া গেল। স্বপন ও সহলেখকদের 2010 সালের জরিপে খাগড়াছড়ির কৃষকেরা বলেছেন, 50-60 বছর আগে 1 আড়ি বীজে 100 আড়ি ধান হতো, এখন একই জমিতে হয় 40-50 আড়ি, অর্থাৎ ফলন অর্ধেকে নেমেছে।

প্রবন্ধে আড়ির মাপ দেওয়া আছে: 1 আড়ি = 10 কেজি। জুমে হেক্টরে বীজ লাগে গড়ে 27 কেজি, সমতলের ধানে 60 কেজি। জুমে বীজ কম লাগে কারণ গর্ত করে কয়েকটি করে বীজ ফেলা হয়, ছিটিয়ে নয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের 2023 সালের প্রতিবেদনে থানচির রেমাক্রি ইউনিয়নের লিক্রি পাড়ার রাইংথোয়াই ম্রো একই ধরনের মাপে কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে “হাঁড়ি” এককের মাপ দেওয়া হয়েছে 1 হাঁড়ি = 10 কেজি চাল। তিনি 12 হাঁড়ির পরিমাণ জুম করেছিলেন, বন্যায় প্রায় 2 হাঁড়ির মতো ধান কম পাবেন বলে ধারণা করছেন, তবু তাঁর হিসাবে “সবকিছু মিলে ৮০০ হাঁড়ির মতো ধান পাওয়া যাবে। এতে পাঁচজনের সংসারে তিন বছর খোরাকি ধান ঘরে উঠবে।”

একই প্রতিবেদনে অন্য ছবিও আছে। রাইংথোয়াই ম্রোর তিল প্রায় পুরোটাই বৃষ্টিতে নষ্ট: 70 হাঁড়ির মতো পাওয়ার কথা, এখন এক হাঁড়িও পাবেন না, অথচ এক হাঁড়ি তিল বিক্রি হয় 1,200 টাকায়। মরিচ, ভুট্টা, মারফা ও মিষ্টি কুমড়া একবার জ্যৈষ্ঠের কড়া রোদে, আরেকবার বর্ষার ভারি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ ধান ভালো হলেও সঙ্গী ফসল, যা থেকে নগদ টাকা ও সবজি আসে, সেই বছর মার খেয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের 2023 সালের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজনের আশা করা ফলন আছে: রাঙামাটির একজন চাকমা জুমিয়া 2 টন ধান, রেমাক্রির একজন ম্রো জুমিয়া 7 টন, আর খাগড়াছড়ির পানছড়ির একজন চাকমা জুমিয়া তখন পর্যন্ত প্রায় 40 মণ ধান কেটেছেন। প্রতিবেদনে কারও জুমের আয়তন দেওয়া নেই, তাই হেক্টরপ্রতি হিসাব করা যায় না।

জুমচক্র কত ছোট হয়েছে, আর তাতে খাবারে কী বদলেছে

এক জমিতে জুমের পর জমিকে বিশ্রাম দেওয়ার সময় 10-20 বছর থেকে নেমে 2-3 বছর, কোথাও 1 বছর হয়েছে। খাগড়াছড়ির এক গ্রামে 2003-04 সালে বিশ্রামকাল ছিল 2-3 বছর, 2008 সালে কেউ কেউ রাখছিলেন মাত্র 1 বছর, কেউ একেবারেই নয়। বিশ্রাম যত ছোট, মাটির উর্বরতা তত কম, ধানও তত কম।

উৎস আগে পরে
চাকমা ও আন্দো, 2008 কাপ্তাই বাঁধের আগে 10-20 বছর বা তারও বেশি গড়ে 2-3 বছর; ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের গড় যথাক্রমে 3.2, 2.6 ও 2.5 বছর
স্বপন ও সহলেখক, 2010 50-60 বছর আগে 10-13 বছরের বেশি 3-4 বছর, কোথাও মাত্র 1 বছর
WFP, 2011 সাধারণত 5-8 বছর পরপর চাষ 2-3 বছর
সিংইয়ং ম্রো, 2021 (আর্কাইভ) একবার চাষের পর 6-7 বছর ফেলে রাখা উল্লেখ নেই
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 2023 (বান্দরবানের জুমিয়াদের বক্তব্য) অন্তত 5 বছরের বিরতি দরকার জমি কমায় অল্প বিরতিতে চাষ, “জুম ধান আগের মত পাওয়া যায় না”
দ্য ডেইলি স্টার, 2023 উল্লেখ নেই সাধারণত প্রায় 1 বছর বিশ্রাম

চাকমা ও আন্দো কারণ হিসেবে লিখেছেন কর্ণফুলী হ্রদে সমতল চাষের জমি ডুবে যাওয়া আর জন্মহার ও সমতল থেকে অভিবাসনের ফলে জনসংখ্যার চাপ। স্বপন ও সহলেখকেরা যোগ করেছেন পাহাড়ি জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়া আর জমি নিয়ে বিরোধ। দুই প্রবন্ধই বলছে, প্রায় সব কৃষক মনে করেন বিশ্রামকাল ক্রমাগত কমছে আর জমির উৎপাদনশীলতাও কমছে।

খাদ্যের দিক থেকে ফলাফল তিনটি। এক, ধানের ফলন কমেছে; আগের অংশের 100 আড়ি থেকে 40-50 আড়ির হিসাবটি এখানেই। দুই, সার এসেছে: স্বপন ও সহলেখকদের জরিপে 50টি পরিবারের 22টি (44 শতাংশ) জুমে রাসায়নিক সার দিচ্ছিলেন, 7টি কীটনাশক; সার ব্যবহার তাঁরা দেখিয়েছেন “বেশি উৎপাদনের” জন্য একটি মোকাবিলা-কৌশল হিসেবে। তিন, জুমের খরচ বেড়েছে, ফলে ঘাটতির বছরে ধার বাড়ে। চক্র ছোট হওয়ার পরিবেশগত দিক, মাটি ক্ষয় আর বনের হিসাব আছে বন ও জুম নিয়ে আমাদের লেখায়।

জুমের ফসলের সংখ্যা কমেছে, হলুদ-আদা বেড়েছে: খাবারের ক্ষেত থেকে নগদ ফসলের ক্ষেত

আগে একটি জুমে 15 থেকে 20টি ফসল একসঙ্গে হতো, যা খাবার ও তন্তুর প্রায় সব প্রয়োজন মেটাত; 2008 সালের প্রবন্ধে এখন সাধারণত 5 থেকে 8টি। একই সময়ে ধানের জায়গা নিয়েছে হলুদ ও আদার মতো নগদ ফসল। এতে টাকা আসে, কিন্তু ঘরের খাবার সরাসরি কমে।

চাকমা ও আন্দো লিখেছেন, কিছু জুমিয়া ধানের চেয়ে আদা-হলুদের মতো নগদ ফসলে বেশি আগ্রহী, আর এটি পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামেই দেখা যাচ্ছে। তাঁদের গ্রামে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা ধান ও সবজির চেয়ে বেশি আদা-হলুদ বোনেন, কারণ তাতে লাভ বেশি, আর তাই জমি কম ফেলে রাখেন (গড়ে 2.5-2.6 বছর)। ভূমিহীনেরা নগদ টাকার অভাবে জমি ফেলে রেখে বড় কৃষকের ধানক্ষেতে দিনমজুরি করেন, তাই তাঁদের বিশ্রামকাল কিছুটা লম্বা (3.2 বছর)। স্বপন ও সহলেখকদের জরিপের 50টি পরিবারের 40টি (80 শতাংশ) জুমে হলুদ লাগিয়েছিলেন।

WFP-র সাজেক প্রতিবেদন (2011) হলুদের ইতিহাসটি এক বাক্যে দিয়েছে: আগে হলুদ ছিল জুমের গৌণ ফসল, 3-5 বছরে একবার অন্য প্রধান ফসলের সঙ্গে বোনা হতো; এখন বেশি পরিমাণে হয় আর জুমিয়ার আয়ের বড় উৎস। প্রতিবেদন অনুযায়ী হলুদ কম জমি নেয়, ইঁদুরে কম খায় আর নগদ টাকা দেয়। কিন্তু সেবার প্রায় সব দলীয় আলোচনায় কৃষকেরা বলেছেন, মাটির মান খারাপ হওয়ায় শেষ হলুদের ফলন সন্তোষজনক হয়নি।

দামের ঝুঁকিও আছে। MJF-এর 2013 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2010 সালে হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নগদ প্রণোদনাও ছিল, তাই পরের বছর কৃষকেরা ধানের বদলে হলুদ লাগান। সরকারের বড় পরিমাণে কেনার ব্যবস্থা ছিল না, দাম পড়ে যায়, আর কৃষকের জীবন “বিপন্ন” হয়। একই প্রতিবেদন থানচির বলিপাড়া ও থানচি এলাকায় খাদ্যশস্যের জায়গায় তামাক চাষের “ব্যাপক বিস্তারের” কথা লিখেছে।

ভালো দামের বছরে হিসাবটি অন্য রকম। দ্য ডেইলি স্টারের 2023 সালের প্রতিবেদনে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের একজন মারমা জুমিয়া আগের বছর প্রায় 10 একর জুম থেকে 19 মণ হলুদ বিক্রি করেছিলেন মণপ্রতি 7,500 টাকায়, আর 6 মণ তিল মণপ্রতি 5,000 টাকায়। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ধানের আবাদ কমেছে কিন্তু অন্য ফসল বেড়েছে। রেমাক্রির আরেকজন ম্রো জুমিয়া দেরির বৃষ্টির কারণে সেবার ধানই বোনেননি, সবজি, ফল ও তুলা করেছেন।

খাদ্যনিরাপত্তার দিক থেকে এই বদলের মানে: যে পরিবার ধান না বুনে হলুদ বোনে, তার খাবার এখন বাজারের চালের দামের ওপর নির্ভর করে। পরের অংশের সাজেকের হিসাবে ঠিক সেটাই দেখা যায়।

কতজন এখনো জুমের খাবারের ওপর নির্ভর করেন: তিন জরিপের তিন উত্তর

উত্তর নির্ভর করে কোথায় ও কাকে গোনা হয়েছে তার ওপর। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার 57,004 পরিবারের 2017 সালের শুমারিতে 29 শতাংশ পরিবার জুম করত, রুমায় 78 আর থানচিতে 73 শতাংশ। আবার তিন জেলার 810 পরিবারের 2009-10 সালের জরিপে চাষি পরিবারগুলোর মাত্র 7.5 শতাংশ জুম করছিল।

জরিপ কাদের গোনা হয়েছে ফল
Helen Keller Intl, SAPLING পরিবার শুমারি, নভেম্বর 2017 বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার 1,577 পাড়ার 57,004 পরিবার (শহর এলাকা বাদ) 29% পরিবার জুমে যুক্ত; রুমা 78%, থানচি 73%, রোয়াংছড়ি 59%; প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে জুম সবার ওপরে, 20%
Barua ও সহলেখক, 2015 (মাঠ জরিপ 2009-10) তিন জেলার ছয় উপজেলার 810 পরিবার 222 পরিবার (27.4%) চাষে যুক্ত; তাদের 7.5% (17 পরিবার) জুম করে
MJF, 2013 (UNDP 2009 সহ অন্য উৎস থেকে) পার্বত্য চট্টগ্রামের আনুমানিক 364,000 একর চাষযোগ্য জমি 27% জুমে, 20% লাঙলের চাষে, 18% বসতভিটায়, 35% বাগান বা পতিত

Barua ও সহলেখকদের সংখ্যাটি এত কম কেন, তার একটি সম্ভাব্য সূত্র তাঁদের নমুনায়: উত্তরদাতাদের মধ্যে সাঁওতাল পরিবারও ছিল, আর ত্রিপুরা উত্তরদাতাদের 81 শতাংশ চাকরিজীবী। দুর্গম উপজেলায় কাজ করা SAPLING-এর শুমারি অন্যদিকে রুমা-থানচির মতো এলাকার চিত্র দেয়। দুটিকে মিলিয়ে কোনো “পার্বত্য চট্টগ্রামের গড়” বানানো যায় না।

আয়ের দিক থেকে MJF-এর হিসাব: গড় পরিবারের আয়ের (অনুদানসহ) 55 শতাংশ আসে ফসল থেকে, যার অর্ধেকের বেশি জুম থেকে; 9 শতাংশের বেশি বাঁশসহ বনজ সম্পদ বিক্রি থেকে; 8 শতাংশ মজুরি থেকে। জুমজার্নালের আর্কাইভের লেখায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একটি জরিপের বরাতে বলা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর 80 শতাংশ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল; জরিপটি কোন সালের, লেখায় নেই। পুরো অঞ্চলের আয়ের উৎস নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও জীবিকা লেখায়।

ইঁদুর বন্যা, বন্যা আর খারাপ বছর: যখন সব জুমের ফসল একসঙ্গে মার খায়

জুমের খাদ্যনিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি একক পরিবারের খারাপ ফলন নয়, পুরো এলাকার একসঙ্গে ফসল হারানো। 2007-08 সালে বাঁশে ফুল আসার পর ইঁদুরের আক্রমণ, 2015 সালের অতিবৃষ্টি ও পোকা, 2023-24 সালের বন্যা আর 2022 ও 2025 সালে সাজেকে আবার ইঁদুর, প্রতিটিতে হাজার পরিবারের খাবার একসঙ্গে টান পড়েছে।

WFP-র 2011 সালের প্রতিবেদন 2007-08 সালের ঘটনাটি এভাবে লিখেছে: সমস্যা শুরু 2006 সালে, চূড়ায় পৌঁছায় নভেম্বর 2007-এ জুমের ফসল কাটার সময়, চলে 2008 পর্যন্ত। মিজোরাম ও সীমান্ত এলাকার বুনো বাঁশবনে ব্যাপক ফুল আসে; বাঁশের বীজ খেয়ে ইঁদুরের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রতিবেদনের ভাষায় এটি প্রতি 48 বছরে ঘটে, আর 1958 সালে একই মাত্রার আক্রমণে “তীব্র দুর্ভিক্ষ” হয়েছিল। জুমক্ষেতের ফসল আর গোলার মজুত দুটোই নষ্ট হয়, তাই পরিবারগুলো পরের বছরের বীজের ধান খেয়ে ফেলতে বাধ্য হয়; এতে পরের ফসলই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

MJF-এর 2013 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী UNDP-র প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা ছিল সাতটি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি আর বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি। অন্য সূত্রে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লক্ষ্মীছড়ি, মাটিরাঙ্গা, মহালছড়ি ও পানছড়িতেও আক্রান্ত গ্রামের কথা আছে। প্রতিবেদনটি জোর দিয়েছে, ইঁদুর কেবল জুমে নয়, সমতলের জমিতেও খেয়েছিল। জুমের এলাকা কমে যাওয়ায় মজুরির কাজও কমে, কিছু পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় দৈনিক মজুরি প্রায় 40 শতাংশ পড়ে যায়।

সাড়া হিসেবে WFP 2008 সালে রাঙামাটি ও বান্দরবানের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাত উপজেলার 25,680 পরিবারকে চার মাস খাদ্যসহায়তা দেয়; প্রথম দফায় প্রতি পরিবারে 50 কেজি চাল। সাজেকে ইঁদুর বন্যার স্থানীয় দলিল ও পরিবারের সংখ্যা আছে আমাদের সাজেকের রুইলুই ও কংলাক পাড়ার ইতিহাস লেখায়।

বীজের ওপর এর প্রভাব কয়েক বছর থেকে যায়। WFP 2011 সালে সাজেকে জুমের বীজের দাম পেয়েছিল কেজিপ্রতি 800 টাকা, যা ইঁদুর-সংকটের আগে ছিল 200 টাকা; চার বছরে 300 শতাংশ বৃদ্ধি। বীজ কিনতে হচ্ছিল পাশের দীঘিনালা উপজেলা বা মিজোরাম থেকে।

পরের বছরগুলোর ঘটনা সংক্ষেপে:

  • 2022, সাজেক: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের 2025 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী 2022 সালে ইঁদুরের উপদ্রবে পাঁচ হাজারের বেশি জুমচাষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
  • 2023, থানচি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে মৌসুমের শুরুতে কম বৃষ্টি আর আগস্টে ভারি বৃষ্টিতে জুমের ক্ষতি; রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমার হিসাবে সরকারিভাবে 200 জন ক্ষতিগ্রস্ত জুমচাষির তালিকা হয়েছিল। নদীতীরের জুম যাঁদের তলিয়ে গেছে, তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, বছরের খোরাকি দূরের কথা, মাস দুয়েকের খাবারের ধানও পাবেন না।
  • 2024, থানচি: ডেইলি স্টার বাংলা অনুযায়ী অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জুমের ধান নষ্ট, মিয়ানমার সীমান্তের কাছের দুর্গম এলাকার (রেমাক্রি ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডসহ) 21টি পাড়ার দুই হাজারের বেশি মানুষ খাদ্যসংকটে।
  • 2025, সাজেক: আগস্টের শুরু থেকে আবার ইঁদুর; শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৌইপুই থাং ত্রিপুরার হিসাবে শিয়ালদাই, বেটলিং ও তুইচুই মৌজায় প্রায় 1,500-1,600 পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁর কথায়, জুম চাষ ছাড়া এই পরিবারগুলোর অন্য উপায় নেই।

সাজেক 2011: জুম বন্ধ থাকলে একটি এলাকার খাবারে কী ঘটে

WFP-র 2011 সালের মূল্যায়ন একটি বিরল তুলনা দেয়: কয়েক বছর প্রায় জুম ছাড়া থাকলে খাবারে কী বদলায়। উত্তর: চালের 70 শতাংশ বাজার থেকে কিনতে হয়, নিজের উৎপাদন নেমে আসে 15 শতাংশে, আর আমিষ খাওয়া সপ্তাহে দু-তিনবার থেকে নেমে আসে সপ্তাহে একবারে।

প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট: ইঁদুর-সংকট, 2009 থেকে জুমে নিষেধাজ্ঞা, বাঁশ মরে যাওয়ায় বাঁশ কাটার কাজ বন্ধ, আর ফেব্রুয়ারি 2010-এর সংঘাতের পর বাঘাইহাট বাজার বন্ধ। WFP-র প্রতিবেদন অনুযায়ী জুমে নিষেধাজ্ঞাটি 2009 সালে ইউপিডিএফ গ্রামপ্রধানদের সমর্থনে কড়াভাবে প্রয়োগ করে, জুমের জমির উর্বরতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে, আর ফেব্রুয়ারি 2011-এ সেই মৌসুমের জন্য তুলে নেয়। এ সময়ে কেবল হলুদ চাষের অনুমতি ছিল। জরিপটি হয়েছিল মার্চের শেষ থেকে 3 এপ্রিল 2011 পর্যন্ত, 19টি দলীয় আলোচনায়; নিরাপত্তার কারণে সত্যিকারের দুর্গম গ্রামে যাওয়া হয়নি, প্রতিবেদন নিজেই সেই সীমাবদ্ধতা লিখেছে।

খাদ্যে বদলগুলো, প্রতিবেদনের সংখ্যায়:

  • চাল কোথা থেকে আসে: যারা WFP-র সহায়তা পায়নি, তাদের চালের গড়ে 70 শতাংশ বাজার থেকে কেনা, 15 শতাংশ নিজের উৎপাদন, বাকিটা ধারে কেনা বা ধার করা।
  • খাবারের বৈচিত্র্য: চার বছর আগে জুম থেকে নানা সবজি ও ফল আসত, মাছ ও শূকরের মাংস খাওয়া হতো সপ্তাহে দু-তিনবার; এখন আমিষ সপ্তাহে একবার। দূরের গ্রামে অল্প মাংস, মাছ বা মাছের পেস্ট মাসে একবার।
  • পাঁচ সদস্যের পরিবারের দৈনিক প্রয়োজন (দলীয় আলোচনায় পাওয়া): চাল 2.5-3 কেজি, তেল 50-100 গ্রাম, ডাল 100-250 গ্রাম, সবজি 2 কেজি, মাছের পেস্ট 50 গ্রাম।
  • খরচ: চাল, তেল ও ডালের একটি মৌলিক মাসিক ঝুড়ির দাম পরিবারপ্রতি 3,420 টাকা; সবজি ধরা হয়নি কারণ তা বাগান বা বন থেকে আসে।
  • মজুরি: পুরুষ কৃষিশ্রমিক দিনে 200-250 টাকা, নারী 80-150 টাকা (মার্চ 2011); কাজ থাকে বছরে মোটে চার মাস।

দামের ছকটি প্রতিবেদন থেকে, ছয় মাস আগের সঙ্গে তুলনায়:

পণ্য ছয় মাস আগে (টাকা) মার্চ-এপ্রিল 2011 (টাকা) বৃদ্ধি
স্থানীয় মোটা চাল (কেজি) 28 35 25%
সয়াবিন তেল (লিটার) 85 125 47%
ডাল (কেজি) 130 160 23%
তাজা মাছ (কেজি) 175 250 43%
শাক (কেজি) 12 20 67%

উৎস: WFP VAM ইউনিট, A Rapid Food Security Assessment in Sajek, মে 2011, সারণি 3।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে শিক্ষণীয় বাক্যটি 2008 আর 2011-এর তুলনা: 2008 সালে খাদ্যের দাম বাড়লেও জুমিয়া পরিবারগুলো টিকে যেতে পেরেছিল, কারণ জুম থেকে যথেষ্ট খাবার ও মজুত ছিল; 2011 সালে তা আর নেই। নিজের জুমের ধান বাজারের দামের ধাক্কা থেকে পরিবারকে আড়াল করে রাখে; জুম না থাকলে সেই আড়ালও থাকে না।

পেট ভরা আর পুষ্টি পাওয়া এক নয়: শিশুপুষ্টির হিসাব কী বলে

জুমের ধানে ভাত জুটলেও আমিষ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের ঘাটতি থেকে যায়। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের 2008 সালের জরিপে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের 42 শতাংশ খর্বকায় আর 34 শতাংশ কম ওজনের ছিল; একই বছর সাজেকে এমএসএফের পরিমাপে 40 শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে।

দুটি সংখ্যাই WFP-র 2011 সালের সাজেক প্রতিবেদনে উদ্ধৃত। HKI-UNDP জরিপটি ইঁদুর-সংকটের সাড়া হিসেবে 30 সেপ্টেম্বর 2008-এ প্রকাশিত; একই জরিপে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মায়েদের 20 শতাংশ মাঝারি মাত্রায় কম ওজনের (BMI 18.5-এর নিচে)। MSF-এর হিসাবটি বাহুর মাপ (MUAC) ও BMI দিয়ে।

MJF-এর 2013 সালের প্রতিবেদন HKI (2010) ও UNDP (2009)-র সূত্রে আরও কিছু সংখ্যা দিয়েছে: 0-59 মাস বয়সী শিশুদের খর্বতা 39 শতাংশ, 6-59 মাস বয়সী শিশুদের রক্তস্বল্পতা 61.9 শতাংশ। প্রতিবেদনের নিজস্ব মাঠ জরিপের তথ্য আরও তীক্ষ্ণ:

  • পরিবারগুলো সকাল, দুপুর, রাত আর নাশতায় মিলিয়ে 300-র বেশি রকম খাবার খায়, কিন্তু খাবারের ঝুড়ির বড় অংশ দানাশস্য।
  • প্রায় 65 শতাংশ পরিবার আগের 24 ঘণ্টায় অন্তত একটি অচাষকৃত (বন বা ছড়া থেকে সংগৃহীত) খাবার খেয়েছে।
  • প্রায় 80 শতাংশ নারী হাঁস-মুরগি পালেন, অথচ আগের দিনে মুরগি বা ডিম খেয়েছেন 5 শতাংশেরও কম মা।
  • গর্ভবতী নারীদের মাত্র 0.3 শতাংশ, স্তন্যদায়ী মায়েদের 2 শতাংশ দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেয়েছেন।

কারণ হিসেবে প্রতিবেদনটি দারিদ্র্যের পাশাপাশি জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা প্রথার কথা বলেছে, এবং এখানে সাধারণীকরণ করেনি: চাকমা সমাজে সন্তান জন্মের পর মায়ের জন্য কয়েকটি পুষ্টিকর খাবার রান্নার রীতি আছে, আর প্রতিবেদন অনুযায়ী ম্রো ও মারমা সমাজে জন্মের পর অন্তত দুই সপ্তাহ মাকে কেবল লবণ, পানি ও ভাত দেওয়া হয়। WFP-র সাজেক প্রতিবেদনেও আছে, অভাবের মৌসুমে বিক্রি করবেন বলে গ্রামবাসীরা সাধারণত নিজের পশুপাখি খান না।

রাইস ব্যাংক, দাদন আর অভাবের মাস পার করার স্থানীয় ব্যবস্থা

অভাবের মাসে ধান ধার নেওয়ার পুরোনো রীতিকেই প্রকল্পগুলো “রাইস ব্যাংক” নামে সংগঠিত করেছে। MJF-এর 2013 সালের হিসাবে তিন জেলায় UNDP-র রাইস ব্যাংক ছিল 1,600টি, আর রাঙামাটি ও বান্দরবানে MJF-এর 56টি। UNDP-র হিসাবে রাইস ব্যাংক আছে এমন গ্রামে খাদ্য-অনিরাপদ মাসের সংখ্যা ভিত্তি অবস্থার প্রায় অর্ধেকে নেমেছিল।

ব্যবস্থাটি এভাবে চলে, MJF-এর বিবরণে: গ্রামবাসী কাঠ-বাঁশ দিয়ে গুদাম বানান; প্রকল্পের টাকায় শুরুতে 10 টন (1,000 আড়ি) চাল কেনা হয়; অভাবের মৌসুমে দরিদ্র জুমিয়াদের চাল ধার দেওয়া হয়, ফসলের সময় ফেরত নেওয়া হয়। যে পরিবার ধার নেয়, তাকে ফসলের সময় দুই আড়ি বেশি ফেরত দিতে হয়; এই বাড়তি চালে ব্যবস্থাপনার খরচ চলে। গ্রামবাসীদের মতামত অনুযায়ী, এতে চড়া সুদের মহাজনের হাত থেকেও রেহাই মেলে, আর ধারের চাল বিক্রি করে চিকিৎসা বা পড়ার খরচও মেটানো যায়।

রাইস ব্যাংকের বিকল্প যা, তা হলো দাদন। WFP-র সাজেক প্রতিবেদনে তার একটি নমুনা আছে: 1,000-2,000 টাকা ধার নিলে এক বছর পর শোধ করতে হয় 3-4 মণ কাঁচা হলুদ বা 1 মণ শুকনো হলুদ দিয়ে। MJF-এর প্রতিবেদন UNDP-র 2009 সালের ভিত্তি জরিপের বরাতে বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার আগের মাসে খাবারের জন্য ধার নিয়েছিল, যা গ্রামীণ বাংলাদেশের হারের দ্বিগুণেরও বেশি।

বীজের দিকটি দুর্বল। MJF 2013 সালে লিখেছে, খাগড়াছড়ির একটি এনজিও ছাড়া প্রথাগত বীজের কোনো বীজ ব্যাংক চালু নেই। ইঁদুর-সংকটের পর বীজের দাম চারগুণ হওয়ার অভিজ্ঞতা মাথায় রাখলে ফাঁকটি গুরুত্বপূর্ণ: খাবারের ধান খেয়ে ফেললে পরের বছরের জুম বোনা যায় না। WFP তাই 2011 সালে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে প্রান্তিক জুমিয়াদের বীজ কেনার নগদ অনুদানের সুপারিশ করেছিল।

সরকারি সহায়তাও অভাবের মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি দরকার হয়, আর দুর্গমতার কারণে সেখানেই সবচেয়ে ধীরে পৌঁছায়। 2024 সালে থানচির লেইক্রি এলাকায় প্রথম আলোর হিসাবে সরকারিভাবে 2 টন ও বেসরকারিভাবে 5 টন চাল পৌঁছেছিল; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে জুমের ধান পাকলে আর সমস্যা থাকবে না। জুমের নতুন ধানই শেষ পর্যন্ত অভাবের মাস শেষ করে।

আজকের হিসাব: আইপিসি বিশ্লেষণে পার্বত্য চট্টগ্রাম কোথায়

খাদ্য অনিরাপত্তা মাপার আন্তর্জাতিক পদ্ধতি আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification)-র 2026 সালের বাংলাদেশ বিশ্লেষণে দেশের সবচেয়ে বেশি তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার এলাকাগুলোর একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম। 2025 সালের বিশ্লেষণে বান্দরবান ছিল সেই জেলাগুলোর তালিকায়, যেখানে প্রায় 25 শতাংশ মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ পর্যায়ে।

2026 সালের বিশ্লেষণ নিয়ে ইউএনবি (24 জুলাই 2026) ও ঢাকা ট্রিবিউনের (29 জুলাই 2026) প্রতিবেদন অনুযায়ী মে-আগস্ট 2026-এ দেশে প্রায় 1 কোটি 53 লাখ মানুষ আইপিসি ধাপ 3 বা তার ওপরে, যার প্রায় 4,83,000 জন জরুরি অবস্থায় (ধাপ 4); সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে সংখ্যাটি 1 কোটি 81 লাখে ওঠার পূর্বাভাস। দুই প্রতিবেদনেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে হাওর ও উপকূলের কিছু জেলার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অনিরাপত্তার এলাকা বলা হয়েছে, আর ডব্লিউএফপি জানিয়েছে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগাম সহায়তা চালু করা হয়েছে।

2025 সালের বিশ্লেষণ, যা এপ্রিল 2025-এ করা ও মে-ডিসেম্বর 2025-এর পূর্বাভাস দেয়, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন (এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কে পুনঃপ্রকাশিত, 30 অক্টোবর 2025) অনুযায়ী সুনামগঞ্জ, বরগুনা, বান্দরবানসহ কয়েকটি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে, যেখানে প্রায় 25 শতাংশ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য অনিরাপত্তায়। সংখ্যাটি জেলাগুলোর দলের, বান্দরবানের আলাদা নয়।

আইপিসির মাপ জেলাভিত্তিক, জুমিয়া আর অ-জুমিয়া পরিবার আলাদা করে না। তবু সময়টি লক্ষ করার মতো: মে থেকে আগস্ট, অর্থাৎ ঠিক সেই মাসগুলো, যেগুলোকে আগের অংশের প্রতিটি উৎস জুমের অভাবের মৌসুম বলেছে। তিন জেলার ভূগোল, জনসংখ্যা ও অন্য বিষয়ের লেখাগুলো একসঙ্গে আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা: জুমের ফসল ও খাদ্যনিরাপত্তা

জুমের ফসলে একটি পরিবারের বছরের কত মাস চলে?

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের 2013 সালের গবেষণায় বান্দরবান ও রাঙামাটির একটি গড় দরিদ্র জুমিয়া পরিবারের নিজের জুম থেকে প্রায় 7 মাসের খোরাক আসে; বাকি সময় চলে বনজ সম্পদ বিক্রি, মজুরি, মাছ ও বনের খাবারে। MSF-Holland-এর 2008 সালের হিসাবে নিজের উৎপাদনে খাবার থাকে অর্ধেক বছরের কম। সচ্ছল পরিবারের জুমে চলে 12 মাসের বেশি।

পাহাড়ে অভাবের মাস কোনগুলো?

বর্ষাকাল, নতুন জুমের ধান ওঠার আগে। MJF 2013 অনুযায়ী সবচেয়ে কঠিন সময় জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি। WFP 2011 সালে সাজেকে স্বাভাবিক বছরে জুন থেকে সেপ্টেম্বর, চার মাস পেয়েছিল, আর বিকল্প আয় না থাকায় মে থেকে সেপ্টেম্বর। 2024 সালে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক বলেছেন জুন থেকে আগস্ট।

একটি জুমক্ষেতে কয়টি ফসল হয়?

খাগড়াছড়ির একটি গ্রামের মাঠ গবেষণায় জুমে প্রায় 30টি ফসল, আর 2006 সালের জরিপে 22 জাতের জুম ধান পাওয়া গিয়েছিল (চাকমা ও আন্দো, 2008)। একই গবেষণা বলছে, আগে একটি জুমে 15-20টি ফসল একসঙ্গে হতো, এখন সাধারণত 5-8টি। দ্য ডেইলি স্টারের 2023 সালের প্রতিবেদনে আগে ঘরের জন্য 40 রকম পর্যন্ত সবজি ও ফল ফলানোর কথা আছে।

জুম ধানের ফলন হেক্টরে কত?

খাগড়াছড়ির 50টি জুমিয়া পরিবারে 2008 সালের জরিপে জুম ধানের গড় ফলন হেক্টরে 1,235 কেজি, একই এলাকার সমতলের ধানে 4,500 কেজি (স্বপন, কাজুও ও রহমান, 2010)। বান্দরবানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে 2022 সালে 8,755 হেক্টর জুম থেকে 12,410 মেট্রিক টন ধান এসেছিল (ইত্তেফাক, 2023)।

জুমচক্র ছোট হওয়ায় ফলন কতটা কমেছে?

খাগড়াছড়ির কৃষকদের হিসাবে 50-60 বছর আগে 1 আড়ি (10 কেজি) বীজে 100 আড়ি ধান হতো, 2008 সালে একই জমিতে 40-50 আড়ি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক (স্বপন ও সহলেখক, 2010)। একই সময়ে জমির বিশ্রামকাল 10-13 বছর থেকে নেমে 3-4 বছর, কোথাও 1 বছরে এসেছে। চাকমা ও আন্দোর (2008) জরিপে গড় বিশ্রামকাল 2.5 থেকে 3.2 বছর।

অভাবের মাসে জুমিয়ারা কী খান?

WFP-র 2011 সালের সাজেক জরিপে প্রচলিত কৌশল ছিল খাবারের পরিমাণ কমানো, বুনো আলু ও আধা-পাকা ফসল খাওয়া আর টাকা ধার করা। 2024 সালে থানচির লেইক্রি ও রেমাক্রি এলাকায় পরিবারগুলো বনের আলু ও বাঁশকোড়ল খেয়েছে, কেউ কেউ ভাতের সঙ্গে আলু-কোড়ল মিশিয়ে পাতলা খাবার রেঁধে চাল বাঁচিয়েছে (প্রথম আলো, ডেইলি স্টার বাংলা)।

ইঁদুর বন্যা কী, আর তাতে কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?

বাঁশে ব্যাপক ফুল আসার পর বাঁশের বীজ খেয়ে ইঁদুরের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়, তারা জুমের ফসল ও গোলার ধান খেয়ে ফেলে। WFP-র হিসাবে 2007-08 সালের আক্রমণ নভেম্বর 2007-এ চূড়ায় পৌঁছায়; 2008 সালে WFP সাত উপজেলার 25,680 পরিবারকে চার মাস খাদ্যসহায়তা দেয়। আগের বড় আক্রমণ 1958 সালে, তখন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কত শতাংশ পরিবার জুম চাষ করে?

এক সংখ্যা নেই। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের SAPLING শুমারিতে (নভেম্বর 2017) বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার 57,004 পরিবারের 29 শতাংশ জুমে যুক্ত, রুমায় 78 ও থানচিতে 73 শতাংশ। তিন জেলার 810 পরিবারের 2009-10 সালের জরিপে চাষি পরিবারগুলোর 7.5 শতাংশ জুম করত (Barua ও সহলেখক, 2015)।

জুমে হলুদ-আদা বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়ে?

নগদ টাকা আসে, কিন্তু ঘরের ধান কমে, ফলে খাবার বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে। MJF 2013 অনুযায়ী 2010 সালের বাম্পার ফলনের পর কৃষকেরা ধানের বদলে হলুদ লাগান, পরে দাম পড়ে যায়। WFP 2011 সালে সাজেকে পেয়েছিল, জুম বন্ধ থাকায় পরিবারগুলোর চালের 70 শতাংশ কিনতে হচ্ছিল, নিজের উৎপাদন মাত্র 15 শতাংশ।

রাইস ব্যাংক কীভাবে কাজ করে?

গ্রামের গুদামে চাল মজুত থাকে, অভাবের মৌসুমে দরিদ্র জুমিয়াকে ধার দেওয়া হয়, ফসলের সময় দুই আড়ি বেশি ফেরত নিয়ে শোধ হয়। MJF-এর 2013 সালের হিসাবে তিন জেলায় UNDP-র 1,600টি ও MJF-এর 56টি রাইস ব্যাংক ছিল। UNDP-র হিসাবে এসব গ্রামে খাদ্য-অনিরাপদ মাস প্রায় অর্ধেক কমেছিল।

জুমিয়া পরিবারের শিশুদের পুষ্টির অবস্থা কেমন?

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের 42 শতাংশ খর্বকায় ও 34 শতাংশ কম ওজনের ছিল হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের 2008 সালের জরিপে; সাজেকে এমএসএফ 2008 সালে 40 শতাংশ শিশুকে তীব্র অপুষ্টিতে পেয়েছিল (WFP 2011-এ উদ্ধৃত)। MJF 2013 সালে 6-59 মাস বয়সী শিশুদের রক্তস্বল্পতা 61.9 শতাংশ উদ্ধৃত করেছে।

আইপিসি বিশ্লেষণে বান্দরবান ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা কী?

আইপিসির 2026 সালের বাংলাদেশ বিশ্লেষণে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের সবচেয়ে বেশি তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার এলাকাগুলোর একটি (ইউএনবি ও ঢাকা ট্রিবিউন, জুলাই 2026)। 2025 সালের বিশ্লেষণে বান্দরবান সেই জেলাগুলোর দলে ছিল, যেখানে প্রায় 25 শতাংশ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য অনিরাপত্তায় (দ্য ডেইলি স্টার, অক্টোবর 2025)।

যা এখনো জানা যায়নি

  • জনগোষ্ঠীভিত্তিক হিসাব। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, খুমি বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর জুমিয়া পরিবারের আলাদা করে কত মাস জুমে চলে, সেই হিসাব কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। এই লেখার মাসের হিসাব সবই এলাকাভিত্তিক বা দরিদ্র-সচ্ছল ভাগে।
  • সাম্প্রতিক মাঠ জরিপ। জুম ধানের হেক্টরপ্রতি ফলনের সর্বশেষ প্রকাশিত মাঠ পরিমাপ 2008 সালের। DAE-র জেলাভিত্তিক বার্ষিক প্রতিবেদন সরাসরি পাওয়া যায়নি; সংখ্যাগুলো সংবাদের বরাতে।
  • UNDP-র মাসওয়ারি সূচকের মাপকাঠি। MJF-এর পরিশিষ্টে উদ্ধৃত সূচকটি কোন মাপে (1 থেকে কত) এবং কীভাবে তৈরি, তা জানা যায়নি। মূল UNDP 2009 ভিত্তি জরিপের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
  • “bhadraat” শব্দের বাংলা রূপ ও উৎস। MJF-এর প্রতিবেদনে শব্দটি কেবল রোমান হরফে আছে; এটি কোন ভাষার, বাংলা বানানে কীভাবে লেখা হয়, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • ম্রো জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য। সিংইয়ং ম্রোর তালিকায় এগারোটি ধানের নাম আছে, কিন্তু কোনটি আগাম, কোনটির ফলন বেশি, কোনটি খাওয়ার আর কোনটি পিঠার, তা লেখা নেই। চাকমা ও আন্দোর 22টি জাতের নামের তালিকাও প্রবন্ধের ছবি-সারণিতে, পাঠযোগ্য রূপে পাওয়া যায়নি।
  • এডিবির “80 শতাংশ নির্ভরশীল” জরিপের সাল জানা যায়নি।
  • আইপিসির জেলাভিত্তিক সংখ্যা। 2026 সালের মূল আইপিসি প্রতিবেদনের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির আলাদা শতাংশ যাচাই করা যায়নি; এখানে কেবল সংবাদে প্রকাশিত অঞ্চলভিত্তিক বক্তব্য রাখা হয়েছে।
  • জুম বাদে অন্য খাবার। বন থেকে সংগৃহীত শাক, কন্দ ও ছড়ার মাছ খাদ্যের কত অংশ জোগায়, তার পরিমাণগত হিসাব MJF-এর 65 শতাংশের তথ্যটির বাইরে পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

জুমজার্নাল আর্কাইভ

  1. সিংইয়ং ম্রো, “পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমচাষে আদিবাসী লোকজ্ঞান”, জুমজার্নাল, 21 সেপ্টেম্বর 2021। ম্রো ভাষায় ফসলের নাম, বিশ্রামকাল, এডিবির জরিপের বরাত।
  2. “করোনাকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্ভাব্য কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে”, জুমজার্নাল, 7 জুন 2020। পবন কুমার ও শোভন চাকমার পরামর্শ, খাদ্যাভাবের এলাকা।

প্রতিবেদন ও গবেষণা

  1. World Food Programme, VAM Unit, A Rapid Food Security Assessment in Sajek, মে 2011 (মাঠ তথ্য মার্চ-এপ্রিল 2011)। অভাবের মৌসুম, ইঁদুর-সংকট, বীজের দাম, চালের উৎস, দাম ও মজুরি, পুষ্টির উদ্ধৃত সংখ্যা।
  2. Nazme Sabina, Report on Gap Analysis of Food and Nutrition Security of Chittagong Hill Tracts, ManusherJonno Foundation, নভেম্বর 2013। নির্ভরতার ছক, মৌসুমি ক্যালেন্ডার, UNDP 2009-এর সূচক, রাইস ব্যাংক, খাদ্যবৈচিত্র্য।
  3. C. S. Swapan, A. Kazuo ও M. R. Rahman, “A comparative study of Jhum land crop productivity and farmers coping strategies in Jhum Chash system at Khagrachari hill district of Bangladesh”, Journal of Agroforestry and Environment 4(1): 7-11, 2010। ফলন, বীজের হার, আড়ির হিসাব, বিশ্রামকাল।
  4. S. S. Chakma ও K. Ando, “Jhum cultivation in Khagrachari hill district of Bangladesh – a subsistence farming practices in ethnic minorities”, Journal of Agroforestry and Environment 2(2): 1-8, 2008। ফসলের সংখ্যা, ধানের জাত, ফসল তোলার ক্রম, বিশ্রামকাল।
  5. Joti Lal Barua ও অন্যান্য, “Cropping Pattern and Socio-Economic Study of Ethnic People in the Hilly Areas of Bangladesh”, The Agriculturists 13(1): 119-126, 2015। 810 পরিবারের জরিপ, MSF-Holland 2008-এর উদ্ধৃতি।
  6. Helen Keller Intl, SAPLING Household Census (HHC) and Wellbeing Analysis, শুমারি নভেম্বর 2017। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলায় জুমে যুক্ত পরিবার।

সংবাদ

  1. উসিথোয়াই মারমা, “জুম ফসলের গন্ধে ম-ম, পাহাড়ে নবান্নের হাওয়া”, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 12 অক্টোবর 2023। বান্দরবানের জুমের আয়তন ও লক্ষ্যমাত্রা, রাইংথোয়াই ম্রোর হিসাব।
  2. আব্দুর রশিদ, “পাহাড়ে জুম চাষে ধুম, ১১ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এর ওপর নির্ভর”, ইত্তেফাক, 17 জুন 2023। 2022 সালের উৎপাদন, 2023 সালের লক্ষ্যমাত্রা।
  3. Laltanlian Pangkhua, “Jhum taking a turn from its traditional past”, The Daily Star, 17 অক্টোবর 2023। তিন জেলায় জুমের আয়তন, নগদ ফসল, কৃষকদের ফলন।
  4. “1500”, The Daily Star, Star Weekend, 3 জুন 2016। থানচির খাদ্যসংকট।
  5. “থানচির দুর্গম এলাকায় খাদ্যাভাব থাকতে পারে আরও দুই সপ্তাহ”, প্রথম আলো, 14 সেপ্টেম্বর 2024।
  6. মংসিং হাই মারমা, “থানচির দুর্গম এলাকায় খাদ্য সংকট কাটেনি এখনো”, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 13 সেপ্টেম্বর 2024।
  7. “সাজেকে জুমের ধান খেয়েছে ইঁদুর: খাদ্য সংকটের শঙ্কা”, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, 3 সেপ্টেম্বর 2025।
  8. “Over 15 million people facing acute food insecurity in Bangladesh”, UNB, 24 জুলাই 2026। আইপিসি 2026।
  9. “IPC: Over 15.3 million Bangladeshis face acute food insecurity”, Dhaka Tribune, 29 জুলাই 2026।
  10. “16 million people face acute food insecurity in Bangladesh: Joint report”, Asia News Network (The Daily Star থেকে), 30 অক্টোবর 2025। আইপিসি 2025।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 2 নভেম্বর 2026

 

প্রসঙ্গ:জুম, জুম ও জুমিয়া, জুম চাষ, জুমচাষ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা