Jumjournal Logo

রাঙামাটিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চারবার স্থগিত: 70-30 কোটা বিরোধের কালানুক্রম

Last updated Nov 8th, 2026

0

রাঙামাটি জেলার সাজেকে রুইলুই জুনিয়র হাই স্কুলের সবুজ টিনের চালের একতলা ভবন, বাঁশের বেড়া ও সামনে পাকা রাস্তা; এই জেলারই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ 70-30 কোটা বিতর্কে আটকে আছে

2025 সালের 20 নভেম্বর দুপুরে রাঙামাটি শহরে কোনো গাড়ি চলছিল না, কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চও বন্ধ ছিল। পরদিন প্রায় সাত হাজার প্রার্থীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা। দুপুরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, পরীক্ষা আবার স্থগিত। বাংলা ট্রিবিউনের হিসাবে এ নিয়ে একই নিয়োগ পরীক্ষা চারবার স্থগিত হলো—2022 সালে একবার, 2024 সালে একবার, 2025 সালের নভেম্বরে দুবার। শেষ দুবারের কেন্দ্রে ছিল 70-30 কোটা: বাঙালি সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পরিষদ 70 শতাংশ পাহাড়ি ও 30 শতাংশ বাঙালি অনুপাতে নিয়োগ দিচ্ছে; পাহাড়ি পক্ষ ও আঞ্চলিক পরিষদের বক্তব্য, পার্বত্য চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনই এখানে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এই লেখায় আছে প্রতিটি স্থগিতের তারিখসহ কালানুক্রম, 70-30 কোটা কোন দলিলে লেখা আর কোন দলিলে লেখা নেই, জেলা পরিষদ আইন ও পার্বত্য চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারার হুবহু পাঠ, 2024 সালের জাতীয় কোটা প্রজ্ঞাপন, এবং প্রতিটি পক্ষ কবে কী বলেছে—উৎসের নাম ও তারিখসহ। কোন পক্ষ ঠিক, সে রায় এখানে নেই। পরীক্ষা কে নেয় সেই প্রশ্নটি আলাদা লেখায় আছে: পাহাড়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করে কে—জেলা পরিষদ না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এক নজরে

  • কী: রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা।
  • কতবার স্থগিত: চারবার (বাংলা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সিভয়েস, হিল ভয়েস), শেষটি 20 নভেম্বর 2025।
  • বিরোধ: বাঙালি সংগঠনগুলো চায় জাতীয় 93 শতাংশ মেধা ও 7 শতাংশ কোটা; পাহাড়ি পক্ষ চায় চুক্তি ও পরিষদ আইনের অগ্রাধিকার বিধান।
  • আইনে যা আছে: রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 32(2) ধারা—”জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে”। “70” বা “30” সংখ্যা আইনের ধারায় নেই।
  • পদ ও প্রার্থী: উৎসভেদে 462, 530, 589 বা 940 পদ; প্রার্থী 6,648 থেকে “সাত হাজারের অধিক”।
  • সর্বশেষ জানা অবস্থা: 26 নভেম্বর 2025-এর সমঝোতা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ; এরপর পরীক্ষার নতুন তারিখের খবর পাওয়া যায়নি।

সূচিপত্র

  1. 70-30 কোটা বিরোধে পরীক্ষা কতবার স্থগিত হয়েছে
  2. কালানুক্রম: 2022 থেকে 2025
  3. 70-30 কোটা কী, আর কোথায় লেখা
  4. জেলা পরিষদ আইনের 32 ধারায় ঠিক কী লেখা
  5. পার্বত্য চুক্তির কোন ধারায় নিয়োগে অগ্রাধিকার
  6. জাতীয় 93-7 কোটার প্রজ্ঞাপন কী বলে
  7. বাঙালি সংগঠনগুলো কী বলেছে
  8. পাহাড়ি পক্ষ ও আঞ্চলিক পরিষদ কী বলেছে
  9. জেলা পরিষদ ও তার চেয়ারম্যান কী বলেছেন
  10. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
  11. পরীক্ষার্থীরা কী চেয়েছিলেন
  12. হরতাল, শাটডাউন ও তালা
  13. রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা
  14. কত পদ, কত প্রার্থী
  15. উৎসভেদে অমিল
  16. প্রশ্নোত্তর
  17. যা এখনো জানা যায়নি
  18. তথ্যসূত্র

70-30 কোটা বিরোধে রাঙামাটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কতবার স্থগিত হয়েছে

বেশিরভাগ উৎস বলছে চারবার। বাংলা ট্রিবিউন (20 নভেম্বর 2025) তারিখগুলো দিয়েছে: 2022 সালের 19 সেপ্টেম্বর, 2024 সালের 21 মে, 2025 সালের 11 নভেম্বর, আর 20 নভেম্বর 2025—পরীক্ষার ঠিক আগের দিন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সিভয়েস, সময়ের কণ্ঠস্বর ও হিল ভয়েসও শেষ স্থগিতকে “চতুর্থ” বলেছে। প্রথম দুটির সঙ্গে 70-30 কোটা জড়িত ছিল, এমন কথা কোনো উৎসে নেই; শেষ দুটির সঙ্গে ছিল।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের ভাষায়: “এ নিয়ে এই নিয়োগ পরীক্ষা চারবার স্থগিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সালের ২১ মে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর এবং সবশেষ পরীক্ষার একদিন আগে স্থগিত করা হয়েছে।”

তবে আগের দুটি স্থগিতের তারিখ নিয়ে উৎসে মিল নেই। স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা পাহাড়ের খবর (11 নভেম্বর 2025) লিখেছে, আগের দুই দফায় “২০২২ সালের ২৯মে এবং ২০২৪ সালের ২০মে” নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল, আর নভেম্বর 2025-এরটিকে বলেছে “তৃতীয় দফা”। সিএইচটি টুডে-র 19 সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদন বলছে, স্থগিত হয়েছিল 23 সেপ্টেম্বর 2022-এর নির্ধারিত পরীক্ষা। মে 2022-এ আরেকটি স্থগিত হয়ে থাকলে সংখ্যা পাঁচ দাঁড়ায়; কোনো উৎস পাঁচ বলেনি। বিস্তারিত নিচের উৎসভেদে অমিল অংশে।

কারণও প্রতিবার এক ছিল না। 2022 সালেরটির কারণ চিঠিতে “অনিবার্য কারণ” লেখা; সিএইচটি টুডে একটি সূত্রের বরাতে জানায়, নিয়োগ কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি রাখা নিয়ে জেলা পরিষদ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতভেদ ছিল। 2024 সালেরটির কারণ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। 11 নভেম্বর 2025-এর বিজ্ঞপ্তিতেও “অনিবার্য কারণ”, চেয়ারম্যান মুখে বলেছেন জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের কথা। 20 নভেম্বরেরটির কারণ হিসেবে পরিষদ লিখিতভাবে হরতাল ও নিরাপত্তার কথা বলেছে।

কালানুক্রম: 2022 থেকে নভেম্বর 2025 পর্যন্ত প্রতিটি তারিখ

নিচের ছকে প্রতিটি সারির তারিখ ও ঘটনা যে উৎস থেকে নেওয়া, সেটি পাশে দেওয়া আছে। একাধিক উৎস একই ঘটনার ভিন্ন তারিখ দিলে দুটোই রাখা হয়েছে। দিনের নাম উৎস যা বলেছে তাই; কয়েকটি প্রতিবেদনে বার ও তারিখ মেলে না, সেগুলো অমিল অংশে আলাদা করে দেখানো আছে। পাওয়া প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে 70-30 কোটা প্রসঙ্গ প্রথম আসে 10 নভেম্বর 2025-এর আট সংগঠনের স্মারকলিপির খবরে।

তারিখঘটনাউৎস
2022সহকারী শিক্ষকের 462টি শূন্য পদে জেলা পরিষদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।বাংলা ট্রিবিউন, জেলা পরিষদ সূত্রের বরাতে
29 মে 2022নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা স্থগিত।পাহাড়ের খবর (অন্য কোনো উৎসে এই তারিখ নেই)
19 সেপ্টেম্বর 2022তৎকালীন চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে 23 সেপ্টেম্বরের লিখিত পরীক্ষা “অনিবার্য কারণবশত” স্থগিত।সিএইচটি টুডে; বাংলা ট্রিবিউন (19 সেপ্টেম্বর)
20 বা 21 মে 2024দ্বিতীয় দফায় নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা স্থগিত।পাহাড়ের খবর (20 মে); বাংলা ট্রিবিউন (21 মে)
23 জুলাই 2024জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন: সরাসরি নিয়োগে 93 শতাংশ মেধা, 7 শতাংশ কোটা।প্রথম আলো (24 জুলাই 2024)
27 আগস্ট 2025চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের নামে নতুন (তৃতীয় দফার) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।পাহাড়ের খবর; বাংলা ট্রিবিউন
9 নভেম্বর 2025পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা সভা; একই দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (রাঙামাটি) যৌথ বিবৃতিতে 14 নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি।মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; জনকণ্ঠ
10 নভেম্বর 2025আট সংগঠনের স্মারকলিপি ও 24 ঘণ্টার আলটিমেটাম; দাবি জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগ, অভিযোগ পরিষদ 70-30 কোটা মেনে নিয়োগ দিচ্ছে।ঢাকা ট্রিবিউন; সময়ের কণ্ঠস্বর; জনকণ্ঠ
11 নভেম্বর 2025নিয়োগ কমিটির জরুরি বৈঠকের পর বিজ্ঞপ্তিতে 14 নভেম্বরের পরীক্ষা “অনিবার্য কারণবশত” স্থগিত।জনকণ্ঠ; পাহাড়ের খবর; ভয়েস সেভেন নিউজ
12 নভেম্বর 2025পরীক্ষার্থীরা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার দাবিতে পরিষদ ঘেরাও করেন, ফটকে তালা দেন।দৈনিক আজাদী; হিল ভয়েস; সময়ের কণ্ঠস্বর
13 নভেম্বর 2025নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে নতুন তারিখ 21 নভেম্বর।আমার সংবাদ
17 নভেম্বর 2025রাঙামাটি সচেতন নাগরিক ঐক্যের স্মারকলিপি ও 24 ঘণ্টার আলটিমেটাম; দাবি 70-30 কোটা বাতিল করে 7 শতাংশ সার্বজনীন কোটা।পাহাড়বার্তা
19 নভেম্বর 2025কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনে 36 ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা।দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; সময়ের কণ্ঠস্বর
20 নভেম্বর 2025সকাল 6টা থেকে হরতাল; দুপুরে চেয়ারম্যান 21 নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত করেন; বেলা 2টায় হরতাল প্রত্যাহার। একই দিন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি।বাংলা ট্রিবিউন; ইত্তেফাক; ঢাকা ট্রিবিউন; দৈনিক শিক্ষা; মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
21 নভেম্বর 2025জুমার নামাজের পর বনরূপায় ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল।শিক্ষাবার্তা
22 নভেম্বর 2025 (শনিবার)চেয়ারম্যান বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান, নিয়োগ পরিষদ আইনে হবে না প্রজ্ঞাপনে। রাতে আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন ঘোষণা করেন।ভোরের দর্পণ
24 নভেম্বর 2025জেলা পরিষদের মূল ফটক বন্ধ করে “কমপ্লিট শাটডাউন”; একই দিন আঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতি।ভোরের দর্পণ; হিল ভয়েস
26 নভেম্বর 2025 (বুধবার)পরিষদের অ্যানেক্স ভবনে আন্দোলনকারী, পরিষদ ও রাজনৈতিক দলের সমঝোতা বৈঠক; কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।পাহাড়ের খবর
নভেম্বর 2025পরিষদ ভবনে পাঁচ দিন তালা; তার আগে চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত।প্রথম আলো (2 ডিসেম্বর 2025)
16 এপ্রিল 2026জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী 93 শতাংশ মেধাকোটা অনুসরণ করা হচ্ছে।বাংলা ট্রিবিউন

ডিসেম্বর 2025-এর পর এই নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া বা ফলের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে এপ্রিল 2026-এর যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আছে, সেটি একটি স্বাস্থ্য প্রকল্পের মিডওয়াইফ ও এনজিও-পরামর্শক পদের, শিক্ষকের নয়।

70-30 কোটা কী, আর সেটি কোথায় লেখা আছে

“70-30 কোটা” কথাটি দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, জেলা পরিষদের নিয়োগে 70 শতাংশ পদ পাহাড়ি (আইনের ভাষায় “উপজাতীয়”) ও 30 শতাংশ বাঙালি প্রার্থী পান—এমন একটি অনুপাত। বিবাদের এই সংখ্যাটি কোনো আইনের ধারায় পাওয়া যায় না। আইনে আছে কেবল “অগ্রাধিকার”। সংখ্যাটি কোন দলিল থেকে এসেছে, তা নিয়ে উৎসগুলো চার রকম কথা বলেছে।

  1. পরিষদের নিজস্ব চর্চা। আট সংগঠনের স্মারকলিপি (10 নভেম্বর 2025) বলছে, পরিষদ “একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে ৭০ শতাংশ উপজাতি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি অনুসারে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে”, যা “বর্তমান পরিষদের অধীনে বিগত সময়ের নিয়োগে প্রমাণিত”—এটি স্মারকলিপির দাবি।
  2. পরিষদ আইন ও প্রবিধানের রীতি। প্রথম আলো (2 ডিসেম্বর 2025) লিখেছে: “পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী, উপজাতীয় এবং অ-উপজাতীয় (বাঙালি) বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে চাকরিতে নিয়োগ পায়। এত দিন ধরে এই রীতি চলে আসছে।”
  3. প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ হস্তান্তরের পর তৈরি বিধান। হিল ভয়েস (12 নভেম্বর 2025) লিখেছে, চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ হস্তান্তরের পর শিক্ষক নিয়োগের বিধান তৈরি হয়, এবং “উক্ত বিধান মোতাবেক, ৭০ শতাংশ আদিবাসী এবং ৩০ শতাংশ বাঙালি অর্থাৎ আদি স্থায়ী বাঙালির নিয়োগের উল্লেখ করা হয়।” বিধানটির নাম, তারিখ বা নম্বর প্রতিবেদনে নেই।
  4. সরকারের নির্দেশনা। ভয়েস সেভেন নিউজ (12 নভেম্বর 2025) লিখেছে, সরকার 70-30 কোটা জারি করেছিল। ঢাকা ট্রিবিউন একই স্মারকলিপির খবরে লিখেছে উল্টোটা—সরকারি নির্দেশনা 7 শতাংশ, আর 70-30 অনুপাত পরিষদের।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ নিজে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতিতে 70-30 কোটা শব্দবন্ধ বা “70” ও “30” সংখ্যা ব্যবহার করেছে, এমন কিছু পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেছেন, পরিষদ “তার নিজস্ব আইনে চলবে” (পাহাড়বার্তা, 17 নভেম্বর 2025)। 2025 সালের বিজ্ঞপ্তিতে কোটা বা শূন্যপদের সংখ্যা উল্লেখ ছিল না—এ কথা বলেছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো (ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। বিজ্ঞপ্তির মূল পাঠ কোনো উৎসে প্রকাশিত হয়নি।

আইনে আসন-বণ্টন কেমন, সেটি দেখা দরকার, কারণ প্রথম আলোর ব্যাখ্যা সদস্য-অনুপাতের ওপর দাঁড়ানো। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 4(1) ধারায় পরিষদ গঠিত চেয়ারম্যান, “বিশ জন উপজাতীয় সদস্য”, “দশ জন অ-উপজাতীয় সদস্য” ও তিনজন মহিলা সদস্য নিয়ে—যাঁদের “দুইজন উপজাতীয় এবং একজন অ-উপজাতীয়”। চেয়ারম্যান হবেন উপজাতীয়দের মধ্য থেকে (4(4) ধারা)। 20টি উপজাতীয় আসন জনগোষ্ঠীভিত্তিক ভাগ করা: চাকমা 10, মারমা 4, তঞ্চঙ্গ্যা 2, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া ও খেয়াং একটি করে। পরিষদের পূর্ণ গঠন ও সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আছে পার্বত্য জেলা পরিষদ: আইন, সদস্য, কাজ ও তিন পরিষদের ওয়েবসাইট লেখায়।

এখানে একটি তফাত খেয়াল করার মতো। আইনের আসন-বণ্টন জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা (চাকমা 10, মারমা 4 ইত্যাদি), কিন্তু বিতর্কের “70-30” কেবল পাহাড়ি ও বাঙালি—দুই ভাগের কথা বলে। পাহাড়িদের ভেতরে কোন জনগোষ্ঠী কত পদ পায়, সে প্রশ্ন কোনো পক্ষের বক্তব্যে আসেনি; কেবল সমঅধিকার আন্দোলনের এক নেতা খুমি, ম্রো ও রাখাইনদের পিছিয়ে থাকার কথা বলেছেন (প্রথম আলো)।

জেলা পরিষদ আইনের 32 ধারায় ঠিক কী লেখা

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989 (1989 সনের 19 নং আইন)-এর 32(2) ধারা পরিষদকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেয়, আর তার শর্তাংশে উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার রাখে। শতাংশ বা অনুপাতের কোনো উল্লেখ ধারাটিতে নেই। শর্তাংশটি 1998 সালের সংশোধনী আইনে বসানো। 70-30 কোটা নিয়ে বিতর্কে দুই পক্ষই এই ধারার কথা তুলেছে: আঞ্চলিক পরিষদ একে নিয়োগের ভিত্তি বলেছে, কোটাবিরোধীরা এর অগ্রাধিকার নীতি মানা হচ্ছে কি না তার ব্যাখ্যা চেয়েছে।

সরকারের আইন-পোর্টাল bdlaws-এ ধারাটির বর্তমান পাঠ:

“৩২৷ (১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের [অনুমোদনক্রমে] বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে৷

(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্ত প্রদান করিতে পারিবে : [তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে৷]”

পোর্টালের পাদটীকা অনুযায়ী শর্তাংশটি “পূর্ববর্তী শর্তাংশের পরিবর্তে” রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধন) আইন, 1998 (1998 সনের 9 নং আইন)-এর 15 ধারাবলে প্রতিস্থাপিত। একই সংশোধনে 32(3) ও 32(4) যুক্ত হয়: পরিষদের অন্যান্য পদে সরকার “পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে” বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।

দুটি প্রশ্ন এই ধারা থেকে সরাসরি ওঠে, যার উত্তর আইনের পাঠে নেই। প্রথমত, “অগ্রাধিকার” মানে কত শতাংশ—আইন বলে না। দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির পদ কি না, এবং হস্তান্তরিত বিভাগের পদও 32(2)-এর “পরিষদের কর্মচারী” কি না—সে ব্যাখ্যা কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তার বিবৃতিতে এই ধারাকেই শিক্ষক নিয়োগে প্রযোজ্য বলে উদ্ধৃত করেছে।

34 ধারা “চাকুরী প্রবিধান” নিয়ে। এর (খ) দফায় পরিষদ প্রবিধান দিয়ে “পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে”। প্রথম আলো যে “আইন ও প্রবিধান” এর কথা বলেছে, সেই প্রবিধানের পাঠ বা প্রকাশের তারিখ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। যোগ্যতা, আবেদন ও কোটার সাধারণ নিয়ম নিয়ে লেখা আছে পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ: যোগ্যতা, কোটা, আবেদন আর ফল দেখার নিয়ম-এ।

আইনটি “উপজাতীয়” কে, তা-ও ঠিক করে দিয়েছে। 4(5) ধারায় কোনো ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং কোন উপজাতির, তা স্থির করবেন জেলার সার্কেল চিফ। 4(6) ধারায় অ-উপজাতীয় হওয়ার সনদও সার্কেল চিফ দেবেন, হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যানের সনদের ভিত্তিতে। এই ধারাগুলো নির্বাচনী প্রার্থিতার জন্য; চাকরির আবেদনে কোন সনদ লাগে, তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়।

পার্বত্য চুক্তির কোন ধারায় নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া আছে

1997 সালের 2 ডিসেম্বর সই হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুটি জায়গায় নিয়োগে অগ্রাধিকারের কথা আছে। “খ” খণ্ডের 14 নম্বর অনুচ্ছেদ জেলা পরিষদ আইনের 32 ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেয়। “ঘ” খণ্ডের একটি অনুচ্ছেদ পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সরকারি, আধা-সরকারি, পরিষদীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্থায়ী অধিবাসী ও তাঁদের মধ্যে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকারের কথা বলে।

উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের সংরক্ষিত ইংরেজি পাঠে “খ” খণ্ডের 14(b): “Provided that, priority to the tribals is maintained in the matter of the said appointment.” অর্থাৎ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় থাকবে। এই শর্তটিই 1998 সালে আইনের 32(2) ধারায় বসেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ইংরেজি অনুবাদের পাতা: 17 নম্বর অনুচ্ছেদে স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার, যে ধারা 70-30 কোটা বিতর্কে বারবার উদ্ধৃত
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, 1997-এর ইংরেজি অনুবাদের “ঘ” খণ্ড, পৃষ্ঠা 13। দলিল: বাংলাদেশ সরকার (ইউএন পিসমেকারের সৌজন্যে) · Wikimedia Commons

“ঘ” খণ্ডের অনুচ্ছেদটির ইংরেজি অনুবাদ উৎসভেদে আলাদা ক্রমিকে আছে। উইকিমিডিয়া কমন্সে রাখা অনুবাদে এটি 17 নম্বর: “The permanent residents of Chittagong Hill Tracts with priority to the tribals shall be given appointment to all categories of officers and employees of all government, semi-government, councils and autonomous bodies of Chittagong Hill Tracts.” উপসালার পাঠে একই কথা 18 নম্বরে। আঞ্চলিক পরিষদও একে “‘ঘ’ খন্ডের ১৮ ধারা” বলেছে। দুটি অনুবাদেই শর্ত আছে: স্থায়ী অধিবাসীদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থী না পেলে সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে।

আঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতিতে অনুচ্ছেদটির বাংলা রূপ এভাবে উদ্ধৃত: “পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি, আধা-সরকারি, পরিষদীয় ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকল স্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ করা হবে।”

70-30 কোটা বা অন্য কোনো শতাংশ চুক্তিতেও নেই। প্রথম আলো জানায়, চুক্তির মোট 72টি ধারার 35টি জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত। চুক্তির দলিল নিয়ে আমাদের আর্কাইভের অন্যান্য লেখা পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

জাতীয় 93-7 কোটার প্রজ্ঞাপন কী বলে, আর পাহাড়ে তা খাটে কি না

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় 23 জুলাই 2024 তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে 93 শতাংশ মেধা আর 7 শতাংশ কোটা ঠিক করে। 7 শতাংশের ভাগ: মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের 5, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর 1, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের 1। এটি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রযোজ্য কি না, সে প্রশ্নে 2025 সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি মীমাংসা হয়নি। বাঙালি সংগঠনগুলো এই প্রজ্ঞাপনকেই 70-30 কোটা বাতিলের দাবির ভিত্তি হিসেবে দেখিয়েছে।

প্রথম আলো (24 জুলাই 2024) প্রজ্ঞাপনের আওতা লিখেছে: “সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ (যেমন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান) এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সব গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ।” কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্য পদ সাধারণ মেধাতালিকা থেকে পূরণ হবে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রজ্ঞাপনটি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে।

প্রজ্ঞাপনটি এখনো বহাল। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, 16 এপ্রিল 2026 জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, 23 জুলাই 2024-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মেধা 93, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার 5, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 1 এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ 1 শতাংশ। পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সেখানে কিছু বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে নেই।

পাহাড়ে প্রয়োগ নিয়ে সরকারের ভেতরের চিঠিপত্রের কথা জানা যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 20 নভেম্বর 2025-এর বিবৃতি থেকে। মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল “জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার ঘোষিত কোটা পদ্ধতি পার্বত্য জেলাগুলোতে একইভাবে প্রযোজ্য হবে কিনা”। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে বলে। পার্বত্য মন্ত্রণালয় তখন আইন মন্ত্রণালয়ে “কোটার বিষয়টি তিন পার্বত্য জেলায় কীভাবে কার্যকর করা হবে” জানতে চিঠি পাঠায়। আইন মন্ত্রণালয়ের উত্তর প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রজ্ঞাপনের তারিখ নিয়ে একটি গোলমালও আছে। দৈনিক শিক্ষা (20 নভেম্বর 2025) লিখেছে, আন্দোলনকারীরা “গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে” জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের কথা বলেছেন; সংসদে প্রতিমন্ত্রী ও প্রথম আলো তারিখ দিয়েছে 23 জুলাই 2024। দৈনিক শিক্ষা ও শিক্ষাবার্তার উদ্ধৃতিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর 1 শতাংশের উল্লেখ বাদ পড়েছে; প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউনে তা আছে।

বাঙালি সংগঠনগুলো 70-30 কোটা নিয়ে কী বলেছে

রাঙামাটির বাঙালি সংগঠনগুলোর মূল দাবি: পাহাড়েও জাতীয় 93 শতাংশ মেধা ও 7 শতাংশ কোটা চলুক, নয়তো জনসংখ্যার অনুপাতে নিয়োগ হোক। তাদের অভিযোগ, 70-30 কোটা “বৈষম্যমূলক” ও বিজ্ঞপ্তিতে পদ ও কোটার সংখ্যা না থাকা “নিয়মবহির্ভূত”। নভেম্বর 2025-এ তিন ধাপে এই অবস্থান সামনে আসে।

10 নভেম্বর: আট সংগঠনের স্মারকলিপি

সময়ের কণ্ঠস্বর ও ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, পরিষদ সদস্য মিনহাজ মুরশিদ ও হাবিব আজমের মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপির ভাষা: “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত, এক তরফা, তথ্য বিভ্রাট ও বৈষম্যমূলক।” দাবি না মানলে পরীক্ষার দিন অবরোধ এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে মামলার কথাও বলা হয় (পাহাড়ের খবর)।

স্বাক্ষরকারী আট জন নিজ নিজ সংগঠনের জেলা নেতা: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন, রাঙামাটি সচেতন নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ। নাগরিক পরিষদের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান 11 নভেম্বরের স্থগিতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগ ও নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা” নিশ্চিত করা উচিত (জনকণ্ঠ)।

17 নভেম্বর: 7 শতাংশ সার্বজনীন কোটার দাবি

পাহাড়বার্তা জানায়, “রাঙামাটি সচেতন নাগরিক ঐক্য” বিদ্যমান কোটা বাতিল করে “সারাদেশের ন্যায় ৭ শতাংশ সার্বজনীন কোটা” চায়। নেতাদের অভিযোগ, “দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের পরও পার্বত্য জেলার হস্তান্তরিত বিভাগে এখনো ৭০ শতাংশ উপজাতি কোটা বহাল রয়েছে—যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।” তাঁরা নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগও তোলেন; কোনো ব্যক্তির নাম এই অভিযোগে আসেনি, আর অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি প্রকাশিত হয়নি।

19–24 নভেম্বর: কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের ছয় দফা

হরতাল ডাকে “কোটাবিরোধী ঐক্যজোট, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ”। বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে, “তিনটিই পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের সংগঠন।” জোটের নেতা ইমাম হোসেন ইমুর বক্তব্য (বাংলা ট্রিবিউন): পরিষদ “৭০ শতাংশ পাহাড়ি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি এই কোটা মেনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যাচ্ছিল। এটি চরম বৈষম্য।”

দৈনিক শিক্ষা, ঢাকা ট্রিবিউন ও শিক্ষাবার্তায় প্রকাশিত ছয় দফা:

  1. 7 শতাংশ কোটা ও 93 শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ;
  2. প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দিয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন;
  3. জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ;
  4. খাতা মূল্যায়ন জেলা প্রশাসনের অধীনে;
  5. পরীক্ষার আগে উপজেলা কোটা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ;
  6. পরীক্ষার পর সব পরীক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর ও ঠিকানা প্রকাশ।

24 নভেম্বরের শাটডাউনে ভোরের দর্পণ আরও দুটি দাবির কথা লিখেছে: ফলাফলে “বাঙালি ও তফসিলভুক্ত উপজাতীয় জনগোষ্ঠী দুই তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশ”, এবং “উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে উপজাতীয় অগ্রাধিকার নীতি মানা হচ্ছে কি না” তার ব্যাখ্যা। কোন আদালতের কোন নির্দেশ, প্রতিবেদনে নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কামাল প্রথম আলোকে বলেন, “পাহাড়ে সবচেয়ে বঞ্চিত আজ বাঙালিরাই। একই সঙ্গে খুমি, ম্রো, রাখাইনসহ সব জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে। তাই আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক।” জাতীয় কোটা কাঠামোয় সংখ্যায় কম পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়বে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।”

পাহাড়ি পক্ষ ও আঞ্চলিক পরিষদ 70-30 কোটা নিয়ে কী বলেছে

পাহাড়ি পক্ষের মূল বক্তব্য: জাতীয় কোটা প্রজ্ঞাপন পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকরিতে কখনো প্রযোজ্য হয়নি; চুক্তি, জেলা পরিষদ আইনের 32(2) ধারা এবং 2013 সালের একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়েই এতদিন নিয়োগ হয়েছে। এই অবস্থান সবচেয়ে স্পষ্ট এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতিতে। বিবৃতিতে 70-30 কোটা শব্দবন্ধটি নেই; আছে “অগ্রাধিকার”।

আঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতি (24 নভেম্বর 2025)

হিল ভয়েস বিবৃতিটি প্রকাশ করে; দিয়েছেন আঞ্চলিক পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিমল কান্তি চাকমা। মূল যুক্তি তিনটি:

  • কোটা প্রসঙ্গে: “উক্ত সাধারণ কোটা ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিতে কোনকালেই প্রযোজ্য হয়নি এবং প্রযোজ্য হতেও পারে না।”
  • বিশেষ শাসন প্রসঙ্গে: অঞ্চলটি “ব্রিটিশ শাসনামল হতে” বিশেষ আইন ও বিশেষ শাসনব্যবস্থায় চলছে, চুক্তির আলোকে প্রণীত আইনে তা “অদ্যাবধি চলমান”।
  • আইনি ভিত্তি: চুক্তির “ঘ” খণ্ডের 18 ধারা, জেলা পরিষদ আইনের 32(2) ধারা, এবং “চুক্তির উক্ত বিধান মোতাবেক ২৭ জুন ২০১৩ খ্রি: তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন”।

বিবৃতির শেষ অনুরোধ: তিন জেলা পরিষদ যেন হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষকসহ সব নিয়োগ “এ যাবতকালে যেভাবে” অনুসরণ করে এসেছে, সেভাবেই করে—এ জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় “জনস্বার্থে যথাশীঘ্র পরামর্শ” দিক। বিবৃতিতে পদ 530টি ও প্রার্থী “৭,০০০ (সাত হাজার) এর অধিক” বলা হয়েছে। 2013 সালের প্রজ্ঞাপনটির পাঠ বা নম্বর কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

নাগরিক সমাজ ও সাবেক চেয়ারম্যানের বক্তব্য

রাঙামাটির প্রথম নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে এভাবে বাধা সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে পার্বত্য চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।” মানবাধিকারকর্মী নিরূপা দেওয়ানের বক্তব্য: “জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ীই বাঙালিরা চাকরি পাচ্ছেন। এত দিন এ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি। এখন নতুন করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।”

26 নভেম্বরের সমঝোতা বৈঠকে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য প্রদাং বলেন, “সারা দেশের আইন আর পার্বত্য জেলার আইন এক নয়”, জেলা পরিষদের আইন মেনে আগামী নিয়োগ পরীক্ষা নিতে হবে (পাহাড়ের খবর)। একই প্রতিবেদন লিখেছে, বৈঠকে “আন্দোলনকারী উপজাতি পরীক্ষার্থীরা জাতিগত কোটা বজায় রেখে” পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন, আর কোটাবিরোধীরা জনসংখ্যানুপাতের দাবিতে অনড় থাকেন—”কেউ কারও কথা শুনতে নারাজ।”

হিল ভয়েস (20 নভেম্বর) স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে লিখেছে, হরতালের পিকেটারদের মধ্যে কোনো পরীক্ষার্থী ছিলেন না। এই দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে অন্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিষদ ও তার চেয়ারম্যান কী বলেছেন

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বক্তব্য দুই স্তরে এসেছে। লিখিত বিজ্ঞপ্তিগুলোতে স্থগিতের কারণ “অনিবার্য” বা হরতাল ও নিরাপত্তা। মুখে চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার নির্বাচনের তফসিল এবং পরিষদের নিজস্ব আইনের কথা বলেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বলেছেন, সিদ্ধান্ত পরিষদের একার।

  • 11 নভেম্বর, বিজ্ঞপ্তি। স্মারক নং ৩৮.০১,৮৪০০.০০০.৯৯.০০৬.২৫-১৫৪৬ (জনকণ্ঠ): “১৪/১১/২০২৫ খ্রিঃ তারিখের নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত: স্থগিত করা হলো।” বিজ্ঞপ্তিতে সই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কফিল উদ্দিনের।
  • 11 নভেম্বর, চেয়ারম্যান। “এখন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে নিয়োগটির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আমরা হয়তো পর্যাপ্ত সময় পাব না।” (পাহাড়ের খবর)
  • 12 নভেম্বর, শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বৈশালী চাকমা। ভয়েস সেভেন নিউজের ইংরেজি প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরিষদ একাই নিয়েছে, বাইরের চাপে নয়। হিল ভয়েস লিখেছে, তিনি এক ভিডিও বার্তায় নির্বাচনের তফসিলকে কারণ বলেছেন।
  • 17 নভেম্বর, চেয়ারম্যান। “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো প্রজ্ঞাপনে নয়, তার নিজস্ব আইনে চলবে। পরিষদের আইনে যা উল্লেখ আছে, নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় সেটাই অনুসরণ করা হবে।” (পাহাড়বার্তা)
  • 19 নভেম্বর, চেয়ারম্যান। হরতাল ঘোষণার খবরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে: “I have heard that a hartal has been called. They will do their work. We will continue ours.”
  • 20 নভেম্বর, প্রেস বিজ্ঞপ্তি। “নির্ধারিত তারিখকে কেন্দ্র করে ডাকা হরতাল ও সম্ভাব্য পরিবহন ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায়… পরিষদ পরীক্ষাটি পুনরায় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।” পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসুবিধার জন্য পরিষদ “আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ” করে (দৈনিক শিক্ষা)।
  • 22 নভেম্বর। চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগ পরিষদের আইনে হবে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে—তা জানতে চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে (ভোরের দর্পণ)।

17 নভেম্বরের “নিজস্ব আইন”-এর অবস্থান আর 22 নভেম্বরের মন্ত্রণালয়ে চিঠি—দুটি পাশাপাশি রইল; পরিষদ দ্বিতীয় পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করেছে, এমন কিছু পাওয়া যায়নি। পরিষদ 70-30 কোটা মেনে নিয়োগ দিচ্ছে—এই অভিযোগ চেয়ারম্যান সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেছেন, এমন কোনো প্রকাশিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কী ছিল

20 নভেম্বর 2025 মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান খানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মূল কথা: পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদ “এককভাবে” নিয়েছে; মন্ত্রণালয় “Meritocracy কে প্রাধান্য দিয়ে” নির্বাচনের তফসিলের আগে নিয়োগ শেষ করার পক্ষে। বিজ্ঞপ্তিটি সিএইচটি মিডিয়া24 হুবহু ছেপেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে যে ঘটনাক্রম দেওয়া আছে:

  1. 530টি সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে লিখিত পরীক্ষার তারিখ ছিল 14 নভেম্বর 2025।
  2. আবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বচ্ছভাবে প্রক্রিয়া শেষ করতে “প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন”।
  3. 9 নভেম্বর 2025 পর্যালোচনা সভা হয়—উপদেষ্টা, সচিব, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম চাকমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে।
  4. সভায় মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দেয়: মন্ত্রণালয়ের 3/4 জন কর্মকর্তাকে যুক্ত করে 3/4টি বোর্ড গঠন।
  5. বিজ্ঞপ্তির ভাষায়, পরিষদ “এসকল প্রস্তাবকে বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে” 21 নভেম্বর তারিখ ঘোষণা করে।
  6. পরিষদের অনুরোধে মন্ত্রণালয় উপসচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি পাঠায়; তিনি 20 নভেম্বর রাঙামাটি পৌঁছে জানতে পারেন পরীক্ষা স্থগিত।

বিজ্ঞপ্তির আরেকটি বাক্য: স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের খবর মন্ত্রণালয় পেয়েছে “বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া থেকে… কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ সরাসরি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে নয়।” এর জবাবে জেলা পরিষদের কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে 70-30 কোটা শব্দবন্ধ নেই; আছে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার ঘোষিত কোটা পদ্ধতি” পাহাড়ে প্রযোজ্য কি না, সেই প্রশ্ন।

একটি সূক্ষ্ম অমিল আছে। মন্ত্রণালয় বলছে, 21 নভেম্বরের তারিখ পরিষদ একতরফা ঠিক করেছে। হিল ভয়েস (12 নভেম্বর) লিখেছে, পরিষদের প্রতিনিধিরা পরীক্ষার্থীদের বলেছিলেন উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বিদেশে থাকায় “আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না”। জনকণ্ঠ লিখেছে, চেয়ারম্যান বিএনপি নেতাদের বলেছিলেন পার্বত্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্তের মুহূর্তে কে কার সঙ্গে কী আলাপ করেছিলেন, তা কোনো উৎসে নেই।

পরীক্ষার্থীরা কী চেয়েছিলেন

প্রায় সাত হাজার প্রার্থীর একাংশ পরীক্ষা পেছানোর বিরুদ্ধেই রাস্তায় নেমেছিলেন। 12 নভেম্বর 2025 তাঁরা জেলা পরিষদ ঘেরাও করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও 14 নভেম্বরেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের প্রধান উদ্বেগ বয়স: 2022 সাল থেকে অপেক্ষায় থাকা অনেকের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর লিখেছে, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, “২০২২ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো, এর পরে তিন তিনবার এই পরীক্ষার স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে যাদের চাকরির বয়স চলে গেছে তারা এডমিট কার্ড পায়নি”। তাঁদের তিন দাবি: 14 নভেম্বর যথারীতি পরীক্ষা, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের নোটিশ, আর “অবৈধ অনিয়ম পরিহার করে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে” নিয়োগ। 12 নভেম্বরের এই দাবিগুলোতে 70-30 কোটা নিয়ে কোনো অবস্থান নেই।

দৈনিক আজাদী জানায়, চেয়ারম্যান ও শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে অফিসে না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা মূল ফটক ও ভবনের প্রবেশপথে তালা দেন; সকাল সাড়ে 10টা থেকে দুপুর 1টা পর্যন্ত উপস্থিত সদস্যরা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে তিন সদস্য—দেবপ্রসাদ দেওয়ান, মিনহাজ মুরশিদ ও প্রতুল দেওয়ান—পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। হিল ভয়েস লিখেছে, প্রতিনিধিরা বলেছিলেন “বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার আছে তাদের সাথে সমন্বয় হচ্ছে না, বিধায় আটকে আছে।”

পরদিন 13 নভেম্বর নতুন তারিখ আসে 21 নভেম্বর। আমার সংবাদ লিখেছে, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত; 21 নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হওয়ায় কয়েকটি কেন্দ্র বদলানো হয়। বাঘাইছড়ি কেন্দ্রের পরীক্ষা লেকার্স পাবলিক স্কুলের বদলে রাঙামাটি সরকারি কলেজে নেওয়ার কথা ছিল।

পাহাড়ের খবর (11 নভেম্বর) আরেকটি খরচের হিসাব দিয়েছে: প্রতি প্রার্থী 400 টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়েছেন; 6,648 প্রার্থীর কাছ থেকে পরিষদ পেয়েছে 26 লাখ 59 হাজার 200 টাকা। বারবার স্থগিতে কাগজপত্র তৈরি, সত্যায়ন ও যাতায়াতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক প্রার্থী।

হরতাল, শাটডাউন ও তালা: নভেম্বর 2025-এর শেষ দুই সপ্তাহ

20 নভেম্বর সকাল 6টা থেকে 36 ঘণ্টার হরতালে রাঙামাটি শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়, দূরপাল্লার পরিবহন ও কাপ্তাই হ্রদের লঞ্চও বন্ধ থাকে। হরতাল ডাকা হয়েছিল 70-30 কোটা ও “কোটা বৈষম্যের” প্রতিবাদে; পরীক্ষা স্থগিতের পর বেলা 2টায় তা উঠে যায়। 24 নভেম্বর থেকে জেলা পরিষদে “কমপ্লিট শাটডাউন” শুরু হয়; প্রথম আলোর হিসাবে পরিষদ ভবন পাঁচ দিন তালাবদ্ধ ছিল।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ঢাকা ট্রিবিউনের বর্ণনা: বনরূপা, তবলছড়ি ও দোয়েল চত্বরসহ শহরের 8–10টি জায়গায় আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন; টায়ার জ্বালানো হয়; চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, সকালজুড়ে পরিস্থিতি শান্ত ছিল, কোনো ঘটনা ঘটেনি। সিভয়েস লিখেছে, বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের হেঁটে যেতে হয়েছে।

হরতালে সমর্থন দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (রাঙামাটি জেলা শাখা); বাঘাইছড়ি ও লংগদুতেও পিকেটিং হয় (ঢাকা ট্রিবিউন)। হরতাল প্রত্যাহারের সময় জোটের নেতা নুরুল আলম বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হোক—আমরা এটা চাইনি; আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।… আমাদের আন্দোলন থেমে যায়নি” (দৈনিক শিক্ষা)।

শাটডাউনের ঘোষণা আসে 22 নভেম্বর রাতে। ভোরের দর্পণ লিখেছে, আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে “চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।” 24 নভেম্বর সকালে তাঁরা পরিষদের মূল ফটক বন্ধ করে সমাবেশ করেন এবং নভেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ শেষ করার দাবি তোলেন।

প্রথম আলো (2 ডিসেম্বর 2025) লিখেছে: “গত মাসে পাঁচ দিন তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনে।… তার আগে লাঞ্ছিত করা হয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারকে।” লাঞ্ছনার তারিখ, স্থান বা জড়িতদের পরিচয় প্রতিবেদনে নেই, আর অন্য কোনো উৎসে ঘটনাটির বিবরণ পাওয়া যায়নি। গৌতম দেওয়ানের বরাতে প্রথম আলো লিখেছে, 1989 সালে গঠনের পর তিন যুগে কোনো পার্বত্য জেলা পরিষদকে এমন তালাবদ্ধ দেখা যায়নি।

একটা কথা মনে রাখা দরকার: নভেম্বরে পরিষদ ভবনে তালা দুই পক্ষই দিয়েছিল। 12 নভেম্বর দিয়েছিলেন পরীক্ষা চাওয়া পরীক্ষার্থীরা, কয়েক ঘণ্টার জন্য; 24 নভেম্বর থেকে দিয়েছিলেন কোটাবিরোধীরা, কয়েক দিনের জন্য।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী ছিল

রাঙামাটির জেলা বিএনপি নেতারা 11 নভেম্বরের স্থগিতের আগে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের অনুরোধ করেছিলেন—এ খবর দিয়েছে জনকণ্ঠ ও ভয়েস সেভেন নিউজ। 26 নভেম্বরের বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেন, নিয়োগে দলের কোনো ভূমিকা নেই এবং স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা হোক। জামায়াত ও এনসিপি নেতারাও বৈঠকে ছিলেন।

পাহাড়ের খবরের 26 নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈঠকে ছিলেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক জেলা সিনিয়র যুগ্ম জজ দীপেন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী খোন্দকার রেজাউল করিম, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য প্রদাং, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল হক, এনসিপি নেতা বিপিন চাকমা ও পরিষদ সদস্যরা।

দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য: “শিক্ষক নিয়োগ ব্যাপারে বিএনপির কোন ধরনের ভূমিকা নাই। কিন্তু দুঃখজনক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে।” মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “বিগত দিনে যে সব নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে দিকে আর যাব না।” জামায়াতের মঞ্জুরুল হক “শতভাগ মেধা ও স্বচ্ছতা” বজায় রেখে নিয়োগ ও শাটডাউন তুলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীরা ছাড় দিতে রাজি বললেও জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগের দাবি রাখেন। বৈঠক শেষ হয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই।

কোনো দল 70-30 কোটা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে, এমন দলীয় বিবৃতি পাওয়া যায়নি; ওপরের সবই বৈঠকে দেওয়া মৌখিক বক্তব্য, একটি স্থানীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে।

কত পদ, কত প্রার্থী: সংখ্যায় 70-30 কোটা বিরোধ

পদের সংখ্যা নিয়ে চারটি আলাদা সংখ্যা পাওয়া যায়: 462 (2022 সালের বিজ্ঞপ্তি, বাংলা ট্রিবিউন), 530 (মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক পরিষদ), 589 (পাহাড়ের খবর ও আমার সংবাদ) এবং 940 (ভয়েস সেভেন নিউজ)। প্রার্থী 6,648 (পাহাড়ের খবর, আমার সংবাদ) থেকে “সাত হাজারের অধিক” (আঞ্চলিক পরিষদ)। 70-30 কোটা মানলে কত পদ কোন ভাগে যেত, সে হিসাব কোনো পক্ষ প্রকাশ করেনি।

বিষয়সংখ্যাউৎস ও তারিখ
শূন্য পদ462বাংলা ট্রিবিউন, 20 নভেম্বর 2025 (2022 সালের বিজ্ঞপ্তি; জেলা পরিষদ সূত্র)
শূন্য পদ530পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, 20 নভেম্বর 2025; আঞ্চলিক পরিষদ, 24 নভেম্বর 2025
শূন্য পদ589পাহাড়ের খবর, 11 নভেম্বর 2025 (27 আগস্টের বিজ্ঞপ্তি); আমার সংবাদ, 13 নভেম্বর 2025
শূন্য পদ940ভয়েস সেভেন নিউজ, 12 নভেম্বর 2025
আবেদনকারী6,648পাহাড়ের খবর; আমার সংবাদ
আবেদনকারীপ্রায় 7,000বাংলা ট্রিবিউন; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; সিভয়েস
আবেদনকারী7,000-এর অধিকআঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতি
আবেদন ফি (ব্যাংক ড্রাফট)প্রতিজন 400 টাকা; মোট 26,59,200 টাকাপাহাড়ের খবর
উপজেলা10পাহাড়ের খবর; প্রথম আলো
প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রয়োজনীয় সময়40–45 দিনমন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি বিভাগ28টিবাংলা ট্রিবিউন, স্থানীয় সূত্রের বরাতে
পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত দপ্তর25টি স্থানীয় ও 30টি কার্যালয়দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর মাধ্যমে)
রাঙামাটি জেলার সাজেকে রুইলুই জুনিয়র হাই স্কুলের সবুজ টিনের চালের একতলা ভবন, বাঁশের বেড়া ও সামনে পাকা রাস্তা; এই জেলারই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ 70-30 কোটা বিতর্কে আটকে আছে
রুইলুই জুনিয়র হাই স্কুল, সাজেক ইউনিয়ন, রাঙামাটি জেলা (2015)। এটি মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়; ছবিটি জেলার একটি বিদ্যালয়ের দৃশ্য হিসেবে দেওয়া। ছবি: Tanweer Morshed · CC BY-SA 4.0 · Wikimedia Commons (ছাঁটা)

2022 সালের বিজ্ঞপ্তির পর 2025 সালের 27 আগস্ট “দ্বিতীয় দফায় আবার এসব পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি” দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে; পাহাড়ের খবর একে “তৃতীয় দফায় আহবান করা নিয়োগ” বলেছে। পুরোনো আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদন করতে হয়েছিল কি না, তা কোনো উৎসে স্পষ্ট নয়। আমার সংবাদের ভাষায়, “২০২২ সাল থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে”।

70-30 কোটা ও স্থগিতের তারিখ নিয়ে উৎসভেদে অমিল

একই ঘটনার খবরে সংখ্যা, তারিখ ও শব্দে বেশ কিছু অমিল আছে। নিচে প্রতিটি অমিল উৎসের নামসহ এক লাইনে। কোনটি ঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি।

  • স্থগিতের সংখ্যা: বাংলা ট্রিবিউন, টিবিএস, সিভয়েস, সময়ের কণ্ঠস্বর ও হিল ভয়েস বলছে চারবার; পাহাড়ের খবর 11 নভেম্বরেরটিকে “তৃতীয় দফা” বলেছে, যা চার-এর সঙ্গে মেলে; প্রথম আলো 2025 সালের জন্য লিখেছে “দুই দফা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও পরীক্ষা নেওয়া যায়নি”।
  • 2022 সালের স্থগিত: বাংলা ট্রিবিউন ও সিএইচটি টুডে বলছে 19 সেপ্টেম্বর 2022 (পরীক্ষা ছিল 23 সেপ্টেম্বর); পাহাড়ের খবর বলছে 29 মে 2022-এর নির্ধারিত পরীক্ষা।
  • 2024 সালের স্থগিত: বাংলা ট্রিবিউন বলছে 21 মে 2024; পাহাড়ের খবর বলছে 20 মে 2024।
  • পদের সংখ্যা: বাংলা ট্রিবিউন 462, মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক পরিষদ 530, পাহাড়ের খবর ও আমার সংবাদ 589, ভয়েস সেভেন নিউজ 940।
  • আবেদনকারী: পাহাড়ের খবর ও আমার সংবাদ 6,648; বাংলা ট্রিবিউন ও টিবিএস প্রায় 7,000; আঞ্চলিক পরিষদ 7,000-এর অধিক।
  • 70-30 কোটা কার নির্দেশ: ভয়েস সেভেন নিউজ লিখেছে সরকার 70-30 জারি করেছিল; ঢাকা ট্রিবিউন ও সময়ের কণ্ঠস্বর একই স্মারকলিপির খবরে লিখেছে সরকারি নির্দেশ 7 শতাংশ, 70-30 পরিষদের।
  • 70-30 কোটা কোথা থেকে: প্রথম আলো বলছে পরিষদের “আইন ও প্রবিধান” অনুযায়ী সদস্য-অনুপাতে নিয়োগের রীতি; হিল ভয়েস বলছে প্রাথমিক শিক্ষা হস্তান্তরের পর তৈরি “বিধান”; আট সংগঠন বলছে পরিষদের “একতরফা সিদ্ধান্ত”।
  • শব্দ: বাংলা ট্রিবিউনে “৭০ শতাংশ পাহাড়ি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি”; স্মারকলিপিতে “৭০ শতাংশ উপজাতি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি”; হিল ভয়েসে “৭০ শতাংশ আদিবাসী এবং ৩০ শতাংশ বাঙালি অর্থাৎ আদি স্থায়ী বাঙালি”।
  • পরীক্ষার দিন: বাংলা ট্রিবিউনের একই প্রতিবেদনে একবার “শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষা”, আরেকবার “শনিবার… লিখিত পরীক্ষা”; ইত্তেফাক, দৈনিক শিক্ষা ও টিবিএস বলছে শুক্রবার 21 নভেম্বর।
  • সংবাদ সম্মেলনের সময় (20 নভেম্বর): ইত্তেফাক দুপুর 1টা; সিভয়েস দুপুর সাড়ে 12টা।
  • হরতাল প্রত্যাহারের দিন: বাংলা ট্রিবিউন ও সিভয়েস বলছে 20 নভেম্বর বেলা 2টায়, দেশ রূপান্তর বলছে বৃহস্পতিবার (20 নভেম্বর) দুপুরে; দৈনিক শিক্ষার একটি বাক্যে “শুক্রবার (২১ নভেম্বর) হরতাল প্রত্যাহার”।
  • চুক্তির ধারা নম্বর: আঞ্চলিক পরিষদ ও উপসালার ইংরেজি পাঠ “ঘ” খণ্ডের 18; উইকিমিডিয়া কমন্সের ইংরেজি অনুবাদে একই বিধান 17 নম্বরে।
  • বার ও তারিখ: জনকণ্ঠ “মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর)” লিখেছে, হিল ভয়েস “রবিবার (২৪ নভেম্বর)”; 2025 সালের ক্যালেন্ডারে দুটি তারিখই সোমবার।
  • জাতীয় প্রজ্ঞাপনের তারিখ: প্রথম আলো ও সংসদে প্রতিমন্ত্রী 23 জুলাই 2024; দৈনিক শিক্ষার প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের বরাতে “গত বছরের সেপ্টেম্বর”।

প্রশ্নোত্তর

রাঙামাটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কতবার স্থগিত হয়েছে?

বাংলা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সিভয়েস ও হিল ভয়েসের হিসাবে চারবার: 2022 সালের সেপ্টেম্বরে, 2024 সালের মে মাসে, 11 নভেম্বর 2025 এবং 20 নভেম্বর 2025। আগের দুটির তারিখ নিয়ে উৎসভেদে অমিল আছে—পাহাড়ের খবর 29 মে 2022 ও 20 মে 2024-এর কথা লিখেছে। শেষ স্থগিতটি হয় 21 নভেম্বরের নির্ধারিত পরীক্ষার আগের দিন।

70-30 কোটা মানে কী?

70-30 কোটা বলতে বোঝানো হয় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে 70 শতাংশ পদ পাহাড়ি ও 30 শতাংশ বাঙালি প্রার্থী পান—এমন একটি অনুপাত। নভেম্বর 2025-এ বাঙালি সংগঠনগুলো এই অনুপাতকে বৈষম্যমূলক বলে আন্দোলন করে। পাহাড়ি পক্ষের মতে, এটি চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনের অগ্রাধিকার বিধান মেনে বহুদিনের রীতি। সংখ্যাটি কোনো আইনের ধারায় নেই।

70-30 কোটা কোন আইনে লেখা আছে?

কোনো আইনের ধারায় 70-30 কোটা বা “70” ও “30” সংখ্যা পাওয়া যায় না। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, 1989-এর 32(2) ধারার শর্তাংশ বলে, নিয়োগে “জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে”। প্রথম আলো লিখেছে, পরিষদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী সদস্য-অনুপাতে নিয়োগ হয়; হিল ভয়েস লিখেছে প্রাথমিক শিক্ষা হস্তান্তরের পর তৈরি একটি বিধানে অনুপাতটি আছে। ওই বিধানের পাঠ প্রকাশিত হয়নি।

জেলা পরিষদ আইনের 32 ধারায় কী আছে?

32(1) ধারায় পরিষদ সরকারের অনুমোদনে বিভিন্ন শ্রেণির পদ সৃষ্টি করতে পারে। 32(2) ধারায় পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দিতে পারে, শর্ত হলো উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকবে। শর্তাংশটি 1998 সালের 9 নং সংশোধনী আইনের 15 ধারায় বসানো। অন্য পদে সরকার পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দেয়।

পার্বত্য চুক্তি নিয়োগ নিয়ে কী বলে?

1997 সালের চুক্তির “ঘ” খণ্ডে বলা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সরকারি, আধা-সরকারি, পরিষদীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব পদে স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ হবে, উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে। যোগ্য প্রার্থী না পেলে সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারে। আঞ্চলিক পরিষদ একে 18 ধারা বলে; কমন্সের ইংরেজি অনুবাদে এটি 17 নম্বরে। চুক্তিতে কোনো শতাংশ নেই।

জাতীয় 93-7 কোটা কি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রযোজ্য?

এ প্রশ্নের সরকারি মীমাংসা নভেম্বর 2025 পর্যন্ত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল; জনপ্রশাসন আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে বলে, আর পার্বত্য মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। আঞ্চলিক পরিষদ বলেছে জাতীয় কোটা পাহাড়ে “কোনকালেই প্রযোজ্য হয়নি”; বাঙালি সংগঠনগুলো চায় তা প্রযোজ্য হোক।

বাঙালি সংগঠনগুলোর ছয় দফা দাবি কী?

কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের ছয় দফা: 93 শতাংশ মেধা ও 7 শতাংশ কোটায় নিয়োগ; শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দিয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন; জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র রাখা; খাতা মূল্যায়ন জেলা প্রশাসনের অধীনে; পরীক্ষার আগে উপজেলা কোটা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ; এবং পরীক্ষার পর সব পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও ঠিকানা প্রকাশ।

আঞ্চলিক পরিষদ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী বলেছে?

24 নভেম্বর 2025-এর বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ বলে, জাতীয় সাধারণ কোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকরিতে কখনো প্রযোজ্য হয়নি। চুক্তির “ঘ” খণ্ডের 18 ধারা, জেলা পরিষদ আইনের 32(2) ধারা ও 27 জুন 2013-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে এতদিন নিয়োগ হয়েছে। পরিষদ চায়, মন্ত্রণালয় সেভাবেই নিয়োগ শেষ করার পরামর্শ দিক।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কী ছিল?

20 নভেম্বর 2025-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলে, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ও স্থগিতের সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদ “এককভাবে” নিয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের দেওয়া 3/4টি বোর্ডের প্রস্তাব বিবেচনা করেনি। মন্ত্রণালয় “Meritocracy” কে প্রাধান্য দিয়ে স্বচ্ছভাবে, নির্বাচনের তফসিলের আগে নিয়োগ শেষ করার পক্ষে বলে, আর পরিষদকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার কী বলেছেন?

11 নভেম্বর তিনি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার কথা বলেন। 17 নভেম্বর বলেন, পরিষদ “কোনো প্রজ্ঞাপনে নয়, তার নিজস্ব আইনে চলবে”। 20 নভেম্বর হরতাল ও নিরাপত্তার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করে পরিষদের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেন। 22 নভেম্বর জানান, নিয়োগ কোন নিয়মে হবে জানতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

পরীক্ষার্থীরা কেন জেলা পরিষদে তালা দিয়েছিলেন?

11 নভেম্বর 14 নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পরদিন, 12 নভেম্বর, পরীক্ষার্থীরা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে পরিষদ ঘেরাও করেন। চেয়ারম্যান ও শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে না পেয়ে তাঁরা মূল ফটক ও ভবনে তালা দেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, 2022 সাল থেকে তিনবার স্থগিতে অনেকের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে। পরদিন নতুন তারিখ দেওয়া হয় 21 নভেম্বর।

রাঙামাটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কি শেষ পর্যন্ত হয়েছে?

এই নিয়োগ নিয়ে পাওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদন 2 ডিসেম্বর 2025-এর প্রথম আলো; সেখানেও পরীক্ষার নতুন তারিখ নেই। 26 নভেম্বরের সমঝোতা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। এরপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া, ফল প্রকাশ বা নিয়োগের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটের এপ্রিল 2026-এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি শিক্ষক পদের নয়।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 70-30 কোটা কোনো লিখিত বিধান, প্রবিধান বা পরিষদ-সিদ্ধান্তে আছে কি না, থাকলে তার নাম, নম্বর ও তারিখ—কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • আঞ্চলিক পরিষদ যে 27 জুন 2013-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন উদ্ধৃত করেছে, তার পাঠ ও স্মারক নম্বর পাওয়া যায়নি।
  • জাতীয় কোটা তিন পার্বত্য জেলায় কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রকাশ্যে আসেনি।
  • 27 আগস্ট 2025-এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মূল পাঠ, এবং তাতে পদের সংখ্যা ঠিক কত—462, 530, 589 না 940—তা যাচাই করা যায়নি।
  • আগের নিয়োগগুলোতে পাহাড়ি ও বাঙালি প্রার্থী কতজন করে নিয়োগ পেয়েছেন, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি।
  • পাহাড়িদের ভেতরে জনগোষ্ঠীভেদে (চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখোয়া, খেয়াং ইত্যাদি) পদ বণ্টনের কোনো নিয়ম আছে কি না, জানা যায়নি।
  • 2024 সালের মে মাসে পরীক্ষা কেন স্থগিত হয়েছিল, কোনো উৎসে নেই।
  • চেয়ারম্যান লাঞ্ছনার ঘটনার তারিখ ও বিবরণ প্রথম আলোর এক বাক্যের বাইরে পাওয়া যায়নি।
  • পাঁচ দিনের তালাবন্ধ অবস্থা কবে ও কীভাবে শেষ হলো, জানা যায়নি।
  • ভোরের দর্পণে উদ্ধৃত “উচ্চ আদালতের নির্দেশ” কোন মামলার কোন রায়, জানা যায়নি।
  • ডিসেম্বর 2025-এর পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, বা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে কি না—কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র

আইন ও দলিল

  1. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, “রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯”, ধারা 32 (পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ), bdlaws। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-724/section-34740.html
  2. একই আইন, ধারা 4 (পরিষদের গঠন)। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-724/section-34690.html
  3. একই আইন, ধারা 34 (চাকুরী প্রবিধান)। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-724/section-34742.html
  4. Chittagong Hill Tracts Peace Accord, 2 ডিসেম্বর 1997, ইংরেজি পাঠ, খণ্ড খ অনুচ্ছেদ 14 ও খণ্ড ঘ অনুচ্ছেদ 18, Uppsala Conflict Data Program। https://ucdp.uu.se/Downloads/fullpeace/Ban%2019971202.pdf
  5. Government of Bangladesh, “Chittagong Hill Tracts Peace Accord (Translation in English)”, পৃষ্ঠা 13, খণ্ড ঘ অনুচ্ছেদ 17, Wikimedia Commons (UN Peacemaker)। https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Chittagong_Hill_Tracts_Peace_Accord_(Translation_in_English).pdf
  6. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, “রাঙামাটি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত বিষয়ে… বিবৃতি”, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, 20 নভেম্বর 2025, সিএইচটি মিডিয়া24-এ প্রকাশিত। https://www.chtmedia24.com/67990
  7. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, “রাঙ্গামাটিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কে আঞ্চলিক পরিষদের বিবৃতি”, হিল ভয়েস, 24 নভেম্বর 2025। hillvoice.net
  8. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ওয়েবসাইট ও নোটিশ পাতা। https://rhdc.gov.bd/

সংবাদ প্রতিবেদন (তারিখ অনুযায়ী)

  1. সিএইচটি টুডে, “রাঙামাটি জেলা পরিষদের ‘সহকারি শিক্ষক নিয়োগ’ পরীক্ষা স্থগিত”, 19 সেপ্টেম্বর 2022। https://chttoday.com/news/11582
  2. প্রথম আলো, “প্রজ্ঞাপন জারি: কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পেলে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ”, 24 জুলাই 2024। https://www.prothomalo.com/bangladesh/4xdwm1p3zm
  3. ঢাকা ট্রিবিউন, “8 groups give 24-hour ultimatum over Rangamati teacher recruitment”, 10 নভেম্বর 2025। https://www.dhakatribune.com/bangladesh/nation/396065/8-groups-give-24-hour-ultimatum-over-rangamati
  4. সময়ের কণ্ঠস্বর, “রাঙামাটিতে জনসংখ্যানুপাতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে জেলা পরিষদ বরাবর স্মারকলিপি”, 10 নভেম্বর 2025। https://www.somoyerkonthosor.com/index.php/post/2025/11/10/6911dfdbdc384
  5. পাহাড়ের খবর, “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আবারও স্থগিত”, 11 নভেম্বর 2025। https://paharerkhabor.com/news/38221
  6. দৈনিক জনকণ্ঠ, “নানা মহলের আপত্তিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত”, 11 নভেম্বর 2025। https://www.dailyjanakantha.com/bangladesh/news/874693
  7. ভয়েস সেভেন নিউজ, “Rangamati Primary Teacher Recruitment Exam Suspended Amid Controversy”, 12 নভেম্বর 2025। https://voice7news.tv/education/news/25223
  8. হিল ভয়েস, “রাঙ্গামাটিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসুচী”, 12 নভেম্বর 2025। hillvoice.net
  9. সময়ের কণ্ঠস্বর, “রাঙামাটিতে স্থগিত হওয়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি”, 12 নভেম্বর 2025। https://www.somoyerkonthosor.com/index.php/post/2025/11/12/69142fcf829cc
  10. দৈনিক আজাদী, “রাঙামাটিতে পরীক্ষা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ”, 13 নভেম্বর 2025। dainikazadi.net
  11. আমার সংবাদ, “রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের স্থগিতকৃত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২১ নভেম্বর”, 13 নভেম্বর 2025। https://www.amarsangbad.com/country/news/329078
  12. পাহাড়বার্তা, “রাঙামাটিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিলের দাবি”, 17 নভেম্বর 2025। paharbarta.com
  13. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, “36-hour hartal in Rangamati from tomorrow”, 19 নভেম্বর 2025। https://www.tbsnews.net/bangladesh/36-hour-hartal-rangamati-tomorrow-1289956
  14. সময়ের কণ্ঠস্বর, “রাঙামা‌টি‌তে ৩৬ ঘণ্টা হরতালের ডাক”, 19 নভেম্বর 2025। https://www.somoyerkonthosor.com/index.php/post/2025/11/19/691ded5ee01c2
  15. বাংলা ট্রিবিউন, “শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত, রাঙামাটিতে হরতাল প্রত্যাহার”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.banglatribune.com/country/chitagong/923628/
  16. দৈনিক ইত্তেফাক, “রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.ittefaq.com.bd/762645/
  17. দৈনিক শিক্ষাডটকম, “হরতালে রাঙামাটি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ফের স্থগিত”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.dainikshiksha.com/bn/news/teacher-recruitment-exam-postponed-november-21-strike-called-off-350843
  18. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, “Protesters call off Rangamati hartal as primary teacher recruitment test postponed”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.tbsnews.net/bangladesh/protesters-call-rangamati-hartal-primary-teacher-recruitment-test-postponed-1290671
  19. ঢাকা ট্রিবিউন, “Hartal withdrawn in Rangamati after assistant teacher recruitment test postponed”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.dhakatribune.com/bangladesh/nation/396934/hartal-withdrawn-in-rangamati-after-assistant
  20. ঢাকা ট্রিবিউন, “Recruitment test for assistant teachers postponed again in Rangamati”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.dhakatribune.com/bangladesh/nation/396932/recruitment-test-for-assistant-teachers-postponed
  21. সিভয়েস24, “রাঙামাটিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, হরতালও প্রত্যাহার”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.cvoice24.com/hill/news/83508
  22. দেশ রূপান্তর, “শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, রাঙামাটিতে হরতাল প্রত্যাহার”, 20 নভেম্বর 2025। https://www.deshrupantor.com/640064/
  23. সময়ের কণ্ঠস্বর, “রাঙামাটিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় স্থগিত”, 20 নভেম্বর 2025। https://somoyerkonthosor.com/post/2025/11/20/691ed86b5f56a
  24. হিল ভয়েস, “Rangamati HDC postpones tomorrow’s teacher recruitment examination”, 20 নভেম্বর 2025। https://hillvoice.net/rangamati-hdc-postpones-tomorrows-teacher-recruitment-examination/
  25. শিক্ষাবার্তা, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৬ দফা দাবি মেনে নিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল”, 21 নভেম্বর 2025। https://shikshabarta.com/229352/
  26. ভোরের দর্পণ, “রাঙ্গামাটিতে জেলা পরিষদে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট”, 24 নভেম্বর 2025। bhorerdarpan.com
  27. পাহাড়ের খবর, “সিদ্বান্ত ছাড়াই সমাপ্ত হলো জেলা পরিষদের সাথে কোটা বিরোধী ঐক্য জোটের বৈঠক”, 26 নভেম্বর 2025। https://paharerkhabor.com/news/38649
  28. প্রথম আলো, “‘তালাবদ্ধ’ হয়ে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, সৃষ্টি হয়েছে নতুন সংকট”, 2 ডিসেম্বর 2025। https://www.prothomalo.com/bangladesh/v5tdyrt6ht
  29. Prothom Alo English, “28 yrs of CHT Accord: CHT Peace Accord implementation faces fresh complications”, 2 ডিসেম্বর 2025। https://en.prothomalo.com/bangladesh/8fuc6p08lp
  30. বাংলা ট্রিবিউন, “‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মেধাকোটা অনুসরণ'”, 16 এপ্রিল 2026। https://www.banglatribune.com/national/942244/

জুমজার্নালের সম্পর্কিত লেখা

সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:পার্বত্য চুক্তি, পার্বত্য জেলা পরিষদ

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

খাগড়াছড়িতে ঘন সবুজ গাছে ঢাকা পাহাড়ের সারি, সামনে ঘাস ও লতাগুল্ম, ওপরে মেঘলা আকাশ

Oct 19th, 2026 · আইন আর্কাইভ

22

ভূমি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও চলে না, রিভিশনও নয়: ১৬ ধারা যা বলে