Jumjournal Logo

“আদিবাসী মানে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী” — সংজ্ঞাটি কোথা থেকে এসেছে

Last updated Oct 17th, 2026

2

Featured image

2025 সালের 27 জানুয়ারি যুগান্তরের ছাপা সংস্করণে একটি উপসম্পাদকীয় বেরোয়, শিরোনাম “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি নাকি আদিবাসী”। লেখার মাঝখানে একটি বাক্য, যার ওপর পুরো যুক্তি দাঁড়িয়ে আছে: “আদিবাসী হচ্ছে, কোনো স্থানে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী, যাদের উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই।” বাক্যটির উৎস হিসেবে লেখা আছে মার্কিন নৃবিজ্ঞানী লুই মর্গানের নাম।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: “আদিবাসী হচ্ছে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী” — এই বাংলা বাক্যের সবচেয়ে পুরোনো যে ব্যবহার পাওয়া যায়, সেটি 10 আগস্ট 2011 তারিখের একটি ব্লগ; সংবাদপত্রে সবচেয়ে পুরোনো পাওয়া ব্যবহার 9 আগস্ট 2018-এর দৈনিক ইনকিলাব। দুই জায়গাতেই উৎস লেখা “Morgan, An Introduction to Anthropology, 1972”। লুইস হেনরি মর্গান মারা যান 1881 সালে, আর তাঁর প্রধান চারটি বইয়ের পাঠে বাক্যটি পাওয়া যায়নি। আইএলও কনভেনশন বা জাতিসংঘের কোনো পাঠেও এর শব্দগুলো নেই।

এই লেখার কাজ একটাই — বাক্যটির পথ ধরে পেছনে হাঁটা: কে কবে কোথায় লিখেছেন, প্রতিবার বাক্যটি কীভাবে বদলেছে, যাঁর নামে চলে তিনি আসলে কী লিখেছিলেন, আর আইএলও ও জাতিসংঘের দলিলের সঙ্গে শব্দ ধরে মেলালে কী দাঁড়ায়। যাঁরা বাক্যটি ব্যবহার করেন, তাঁদের যুক্তিও তাঁদের নিজের ভাষায়, নাম ধরে দেওয়া হলো।

দুটি প্রসঙ্গ এখানে আবার বলা হয়নি, কারণ সেগুলো নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। আন্তর্জাতিক দলিলগুলোর পূর্ণ পাঠ ও ধারাভিত্তিক ব্যাখ্যা আছে “আদিবাসীর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে আসলে কী: আইএলও ১০৭, ১৬৯ ও জাতিসংঘের দলিল যা বলে” লেখায়। আর সংবিধান, আইন ও সরকারি চিঠিতে রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে, তার নথি-কালানুক্রম আছে “রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে: সংবিধান, শুমারি ও সরকারি নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ প্রশ্নের নথি-কালানুক্রম” লেখায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের সব লেখার সূচি পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।

এই লেখায় যা আছে

  1. বাক্যটি কার নামে চলে
  2. বাক্যটি প্রথম কোথায় লেখা হয়েছে: পাওয়া ব্যবহারগুলোর কালানুক্রম
  3. একই বাক্য, ভিন্ন পাঠ
  4. লুইস হেনরি মর্গান কে, আর 1972 সালের বইটি কার
  5. মর্গানের নিজের বইয়ে কী আছে
  6. ইংরেজি উদ্ধৃতি আর বাংলা বাক্য কি একই কথা বলে
  7. “স্মরণাতীতকাল” শব্দটি কোথা থেকে আসে
  8. “আদিমতম” শব্দ আর বাংলা অভিধানের ‘আদিবাসী’
  9. আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে শব্দ ধরে তুলনা
  10. জাতিসংঘের কার্যকরী সংজ্ঞার সঙ্গে তুলনা
  11. যুগান্তরের কলামে আইএলও-র উদ্ধৃতি মূলের সঙ্গে কতটা মেলে
  12. যাঁরা বাক্যটি ব্যবহার করেন, তাঁদের যুক্তি
  13. একই শব্দ, উল্টো সিদ্ধান্ত
  14. প্রশ্নোত্তর
  15. যা এখনো জানা যায়নি
  16. তথ্যসূত্র

“আদিবাসী হচ্ছে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী” — বাক্যটি কার নামে চলে?

প্রতিটি ব্যবহারে বাক্যটি মার্কিন নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গানের নামে চলে — কোথাও “লুইজ মর্গান”, কোথাও “লুই মর্গান”, কোথাও শুধু “প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ মর্গান”। যেসব লেখায় সূত্র দেওয়া আছে, সেখানে বইয়ের নাম “An Introduction to Anthropology”, প্রকাশকাল 1972। বইটির প্রকাশক, পৃষ্ঠা বা সংস্করণের উল্লেখ কোনো ব্যবহারে নেই।

যুগান্তরের 2025 সালের কলামে বাক্যটির আগে লেখা: “এখানে প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ লুই মর্গানের দেওয়া সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।” কলামটি বাক্যের সূত্র দেয়নি। 2011 সালের ব্লগে পরিচয়টি আরও বিস্তারিত: “আমেরিকার প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ লুইজ মর্গান যাকে আমেরিকার নৃবিজ্ঞানের জনক বলা হয়”, আর বাক্যের নিচে একটি উইকিপিডিয়া লিংক — Lewis H. Morgan-এর পাতা। অর্থাৎ যিনি প্রথম এই সূত্র দিয়েছেন বলে পাওয়া যায়, তিনিও এই মানুষটিকেই বুঝিয়েছেন: উনিশ শতকের লুইস হেনরি মর্গান।

বাক্যটির সঙ্গে প্রায় সব সময় একটি ইংরেজি উদ্ধৃতিও থাকে, মর্গানের নিজের কথা হিসেবে: “The Aboriginals are the groups of human race who have been residing in a place from time immemorial … They are the true Sons of the soil.” বাংলা বাক্যটিকে সাধারণত এই ইংরেজির অনুবাদ বলে ধরে নেওয়া হয়। নিচের একটি অংশে দেখা যাবে, দুটি আসলে এক কথা বলে না।

বাক্যটি প্রথম কোথায় লেখা হয়েছে: পাওয়া ব্যবহারগুলোর কালানুক্রম

বাংলা বাক্যটির সবচেয়ে পুরোনো যে তারিখযুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায়, সেটি 10 আগস্ট 2011, “bangladesh1952” নামে লেখা একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে। ছাপা পত্রিকায় প্রথম পাওয়া যায় 9 আগস্ট 2018-এ, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকীয় পাতায় মেহেদী হাসান পলাশের লেখায়। এরপর বাক্যটি 2020, 2022, 2024 ও 2025 সালে অন্তত চারটি ভিন্ন প্রকাশনায় এসেছে।

তারিখগুলো একটি ধরন দেখায়: নিচের নয়টি তারিখের ছয়টিই 8 থেকে 11 আগস্টের মধ্যে — অর্থাৎ 9 আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আশপাশে। 2011 সালের ব্লগটি নিজেই লিখেছে, “আজ ৯ আগষ্ট সেই কথিত আদিবাসী দিবস”। বড় ব্যতিক্রম যুগান্তরের জানুয়ারি 2025-এর কলাম, যেটি লেখা হয়েছিল পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দসংবলিত গ্রাফিতি সরানো নিয়ে বিতর্কের সময়।

তারিখ প্রকাশনা ও লেখা লেখক কী আছে
10 আগস্ট 2011 humanity2011.wordpress.com ব্লগ, “আদিবাসি নয়,ওরা উপজাতি” bangladesh1952 (ছদ্মনাম) বাংলা বাক্য, ইংরেজি উদ্ধৃতি, “(Morgan, An Introduction to Anthropology, 1972)”
10 আগস্ট 2012 সামহোয়্যারইন ব্লগ, “ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো আদিবাসী নয় অভিবাসী” momtajkoli (ব্লগ-নাম) কেবল ইংরেজি উদ্ধৃতি, “লুইজ মর্গান”; বাংলা বাক্য নেই
8 আগস্ট 2015 সামহোয়্যারইন ব্লগ (পার্বত্যনিউজ অ্যাকাউন্ট), “বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের আদিবাসিন্দা” মেহেদী হাসান পলাশ কেবল ইংরেজি উদ্ধৃতি, “Louis Morgan, An Introduction to Anthropology, 1972”
9 আগস্ট 2018 দৈনিক ইনকিলাব, সম্পাদকীয় পাতা, “বাংলাদেশের উপজাতীয়রা আদিবাসী নয় কেন?” মেহেদী হাসান পলাশ বাংলা বাক্য, ইংরেজি উদ্ধৃতি, 1972 সালের সূত্র
নভেম্বর 2018 মাসিক আত-তাহরীক, একই শিরোনাম মেহেদী হাসান পলাশ ইনকিলাবের লেখাটির পুনর্মুদ্রণ
9 আগস্ট 2020 জাগোনিউজ২৪, মতামত, “আদিবাসী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” খায়রুল আলম কেবল বাংলা বাক্য, “প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ মর্গান”, সূত্র নেই
11 আগস্ট 2022 আলোকিত বাংলাদেশ, প্রিন্ট সংস্করণ, সম্পাদকীয় পাতা, একই শিরোনাম মেহেদী হাসান পলাশ বাংলা বাক্য, ইংরেজি উদ্ধৃতি, 1972 সালের সূত্র
21 সেপ্টেম্বর 2024 সময়ের কণ্ঠস্বর, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি নাকি আদিবাসী?” তৌহিদুল ইসলাম বাংলা বাক্য, “লুই মর্গান”, ইংরেজি উদ্ধৃতি সূত্র ছাড়া
27 জানুয়ারি 2025 যুগান্তর, প্রিন্ট সংস্করণ, উপসম্পাদকীয় (“বাইফোকাল লেন্স”), “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি নাকি আদিবাসী” একেএম শামসুদ্দিন কেবল বাংলা বাক্য, “লুই মর্গান”, সূত্র নেই

তৌহিদুল ইসলামের লেখাটি হুবহু একই পাঠে অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজারেও আছে, “বাংলাদেশে আদিবাসী সংকট ও পরিচয়গত সমাধান” শিরোনামে, লেখক-পরিচয় একই — লেকচারার, আইন বিভাগ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। বার্তা বাজারের পাতায় প্রকাশের তারিখ পাওয়া যায়নি।

দুটি সতর্কতা। এক — এই তালিকা অনলাইনে খুঁজে পাওয়া ও খুলে পড়া পাতার; 2011-এর আগের ছাপা পত্রিকা, বই বা সরকারি নথিতে বাক্যটি থাকতে পারে, যা অনলাইনে নেই। দুই — 2011 সালের ব্লগ নিজে কোথা থেকে বাক্যটি পেয়েছে, তা লেখেনি। ব্লগটি সাধারণ মানুষের লেখা, কিন্তু যেভাবে সাজানো — ইংরেজি অভিধান, তারপর মর্গান, তারপর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও টি. এইচ. লুইনের উদ্ধৃতি — তাতে মনে হয় এটি কোনো আগের লেখা থেকে সংকলিত। সেই আগের লেখাটি কী, জানা যায়নি [যাচাই প্রয়োজন]।

একই বাক্য, ভিন্ন পাঠ: চোদ্দ বছরে কী কী বদলেছে

বাক্যের মূল শব্দগুলো 2011 থেকে 2025 পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিত — “স্মরণাতীতকাল”, “বসবাসকারী”, “আদিমতম জনগোষ্ঠী”, “উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন”। বদলেছে তিনটি জিনিস: মর্গানের নামের বানান, ইংরেজি উদ্ধৃতি সঙ্গে থাকা না-থাকা, আর বইয়ের সূত্র। যত পরের লেখা, সূত্র তত কমেছে।

শব্দ ধরে দেখলে পার্থক্যগুলো এরকম:

  • নাম। 2011 ও 2012-র ব্লগে “লুইজ মর্গান”; পলাশের 2015 সালের ব্লগে ইংরেজিতে “Louis Morgan”; ইনকিলাব (2018), আলোকিত বাংলাদেশ (2022) ও জাগোনিউজ২৪-এ (2020) শুধু “মর্গান”; সময়ের কণ্ঠস্বর (2024) ও যুগান্তরে (2025) “লুই মর্গান”। উইকিপিডিয়ায় মানুষটির নাম Lewis Henry Morgan। “Louis” বানানটি তাঁর নামের নয়।
  • “কোনো স্থানে”। 2011-এর ব্লগ, জাগোনিউজ২৪, সময়ের কণ্ঠস্বর ও যুগান্তরে বাক্য শুরু হয় “কোনো স্থানে” দিয়ে; আত-তাহরীকে “কোন স্থানে”। অর্থে পার্থক্য নেই।
  • সূত্র। 2011, 2018 ও 2022-এ “(Morgan, An Introduction to Anthropology, 1972)”; 2020, 2024 ও 2025-এ বাক্যটি এসেছে কোনো বইয়ের নাম ছাড়া।
  • ইংরেজি উদ্ধৃতির শেষ অংশ। 2011 ও 2018-এ “they are the true Sons of the soil”; 2012-তে “They are the Sons of the soil”; পলাশের 2015-এর ব্লগে ও 2024-এ “They are the sons of the soil”। “true” শব্দটি কখনো আছে, কখনো নেই।

একই লেখকের দুই সংস্করণেও একটি সংখ্যা বদলেছে। মেহেদী হাসান পলাশ ইনকিলাবে (2018) লিখেছিলেন, উপজাতীয় জনগোষ্ঠী “মাত্র কয়েকশ’ বছর পূর্বে” ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে; আলোকিত বাংলাদেশে (2022) একই বাক্যে লেখা “মাত্র ৫-৭শ’ বছর পূর্বে”। দুটিরই উৎস দেওয়া নেই।

লুইস হেনরি মর্গান কে, আর 1972 সালের বইটি কি তাঁর?

লুইস হেনরি মর্গান (জন্ম 21 নভেম্বর 1818, মৃত্যু 17 ডিসেম্বর 1881) ছিলেন মার্কিন নৃবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিক, পেশায় রেলপথ-কোম্পানির আইনজীবী। তাঁর মৃত্যুর 91 বছর পরের তারিখ 1972। সেই বছরে তাঁর নামে “An Introduction to Anthropology” নামে কোনো বইয়ের অস্তিত্ব কোনো গ্রন্থতালিকায় পাওয়া যায়নি।

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী মর্গানের পরিচিতি তিনটি কাজের জন্য: হাউডেনোসনি (ইরোকোয়া) জনগোষ্ঠীর ওপর নৃতাত্ত্বিক কাজ League of the Ho-dé-no-sau-nee, or Iroquois (1851), আত্মীয়তা-ব্যবস্থার তুলনামূলক গবেষণা Systems of Consanguinity and Affinity of the Human Family (1871), আর সামাজিক বিবর্তনের তত্ত্ব Ancient Society (1877)। মৃত্যুর বছর বেরোয় Houses and House-Life of the American Aborigines (1881)। ইন্টারনেট আর্কাইভে মর্গানের নামে যত পাঠ আছে, তার কোনোটির নাম “An Introduction to Anthropology” নয়।

মৃত লেখকের বই পরে নতুন নামে সংকলিত হতেই পারে — সে সম্ভাবনা খোলা রাখা দরকার। কিন্তু 1972 সালে মর্গানের নামে এ শিরোনামের কোনো সংকলন, অনুবাদ বা পুনর্মুদ্রণের তথ্য পাওয়া যায়নি [যাচাই প্রয়োজন]।

আরেকটি কথা প্রাসঙ্গিক। মর্গান উনিশ শতকের সেই বিবর্তনবাদী ধারার নৃবিজ্ঞানী, যাঁরা মানবসমাজকে “বন্য দশা” (savagery), “বর্বর দশা” (barbarism) ও “সভ্যতা” — এই তিন ধাপে সাজাতেন। আমাদের আর্কাইভের লেখা সভ্যতার অন্ধকার, ভদ্রলোকীয় অন্ধতা ও আদিবাসী চেতনা এই ধারাটি ব্যাখ্যা করেছে, আর জানিয়েছে Ancient Society বাংলায় “আদিম সমাজ” নামে অনূদিত। নৃবিজ্ঞানী প্রশান্ত ত্রিপুরার লেখা আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক কিছু ভাবনা লিখেছে, টাইলর ও মর্গানের মতো উনিশ শতকের নৃবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতিকে “আদিম থেকে সভ্য” ধাপে বিচার করতেন, বিগত একশো বছরে নৃবিজ্ঞানে এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই পরিত্যক্ত, আর এখন কোনো গোষ্ঠীকে সাংস্কৃতিক মানদণ্ডে “আদিম” বলার রেওয়াজ নৃবিজ্ঞানে নেই। ‘আদিম সমাজ’ ধারণা কীভাবে তৈরি হলো, তার পাঠ হিসেবে লেখাটি অ্যাডাম কুপারের The Invention of Primitive Society (1988) বইয়ের নাম দিয়েছে।

অর্থাৎ বাক্যটির “আদিমতম” শব্দটি মর্গানের যুগের শব্দভান্ডারের সঙ্গে মেলে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখার মতো যে আজকের নৃবিজ্ঞান ঠিক ওই শ্রেণিবিভাগ থেকেই সরে এসেছে।

মর্গানের নিজের বইয়ে কি এই সংজ্ঞা আছে?

মর্গানের চারটি প্রধান বইয়ের ডিজিটাল পাঠে ইংরেজি উদ্ধৃতিটি — “groups of human race who have been residing in a place from time immemorial” — পাওয়া যায়নি; “sons of the soil” কথাটিও একবারও নেই। “time immemorial” কথাটি Ancient Society-তে 11 বার আছে, তবে প্রতিবার অন্য প্রসঙ্গে — গোত্রের নাম, ইরোকোয়া সমাজের ভ্রাতৃসংঘ, রীতির প্রাচীনত্ব বোঝাতে। আদিবাসীর সংজ্ঞা হিসেবে নয়।

যে পাঠগুলো মেলানো হয়েছে:

বই (প্রকাশকাল) পাঠের উৎস “time immemorial” “sons of the soil”
Ancient Society (1877) প্রজেক্ট গুটেনবার্গ, ই-বুক 45950 11 বার, অন্য প্রসঙ্গে নেই
Houses and House-Life of the American Aborigines (1881) প্রজেক্ট গুটেনবার্গ, ই-বুক 8112 2 বার, অন্য প্রসঙ্গে নেই
League of the Ho-dé-no-sau-nee, or Iroquois (1851) ইন্টারনেট আর্কাইভ, স্ক্যান থেকে তৈরি পাঠ নেই নেই
Systems of Consanguinity and Affinity of the Human Family (1871) ইন্টারনেট আর্কাইভ, স্ক্যান থেকে তৈরি পাঠ নেই নেই

Ancient Society-তে কথাটি কীভাবে আসে, তার দুটি নমুনা: ইরোকোয়া ও অন্যান্য গোত্রে এখন যেসব নাম চলে, সেগুলো “ancient names handed down in the gentes from time immemorial”; আর ইরোকোয়াদের ভ্রাতৃসংঘ-ব্যবস্থা “has existed among the Iroquois from time immemorial”। দুই জায়গাতেই কথাটি কোনো রীতি বা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অস্তিত্ব বোঝায়; কোন জনগোষ্ঠী “আদিবাসী”, তা নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে নয়।

মর্গান “aborigines” শব্দটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন — Ancient Society-তে শতাধিকবার, আর শেষ বইটির শিরোনামেই “American Aborigines”। কিন্তু শব্দটির কোনো সংজ্ঞা তিনি এই চার বইয়ে দেননি; যেখানে এসেছে, সেখানে আমেরিকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী বোঝাতেই এসেছে।

সীমাবদ্ধতাটিও স্পষ্ট থাকা দরকার। মর্গানের চিঠিপত্র, প্রবন্ধ ও জার্নাল আলাদা; সেগুলো এখানে মেলানো হয়নি। স্ক্যান থেকে তৈরি পাঠে বানান-ভুল থাকলে কোনো বাক্য খোঁজায় ধরা না-ও পড়তে পারে। তাই “মর্গান কখনো এ কথা লেখেননি” — এমন চূড়ান্ত দাবি করা যায় না; বলা যায়, তাঁর প্রধান চার বইয়ে এ কথা পাওয়া যায়নি, আর উদ্ধৃত বইটি তাঁর জীবদ্দশার নয়।

ইংরেজি বাক্যটি ইন্টারনেটে খুঁজলেও একই ফল: “groups of human race who have been residing in a place from time immemorial” — হুবহু এই কথা বাংলাদেশের ‘আদিবাসী’ বিতর্কের লেখাগুলোর বাইরে কোথাও পাওয়া যায়নি।

ইংরেজি উদ্ধৃতি আর বাংলা বাক্য কি একই কথা বলে?

না। বাংলা বাক্যটিকে ইংরেজি উদ্ধৃতির অনুবাদ হিসেবে পাশাপাশি রাখা হয়, কিন্তু বাংলায় দুটি অংশ আছে যা ইংরেজিতে নেই: “আদিমতম” শব্দটি, আর “যাদের উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই” — এই পুরো শর্তটি। উল্টো দিকে ইংরেজির “sons of the soil” বাংলা বাক্যে নেই।

বাংলা বাক্যের অংশ ইংরেজি উদ্ধৃতিতে আছে কি?
কোনো স্থানে আছে — “in a place”
স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আছে — “residing … from time immemorial”
আদিমতম নেই। ইংরেজিতে আছে “groups of human race”, তুলনামূলক বা চরম মাত্রার কোনো বিশেষণ নেই
জনগোষ্ঠী আছে — “groups”
যাদের উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই নেই
(নেই) “They are the (true) Sons of the soil”

এই অমিলের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ শর্তটি — উৎপত্তি ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস “জানা নেই” — বাক্যের সবচেয়ে কঠোর অংশ। কোনো জনগোষ্ঠীর অভিবাসনের যেকোনো লিখিত বা মৌখিক বিবরণ থাকলেই এই শর্তে সে বাদ পড়ে যায়। আর এই শর্তটি ইংরেজি উদ্ধৃতিতে নেই, অথচ ব্যবহারকারীরা বাংলা বাক্যটিকেই ইংরেজির অনুবাদ বলে উপস্থাপন করেছেন। বাংলা অংশটি কোথা থেকে এসেছে, তার কোনো ইংরেজি বা বাংলা উৎস পাওয়া যায়নি।

পলাশের 2015 সালের ব্লগ-লেখায় একটি তথ্যও এখানে প্রাসঙ্গিক। সেখানে তিনি অভিধান থেকে “Indigenous” শব্দের অর্থ দিয়েছেন: বাংলা একাডেমির অভিধানে “দেশি, দৈশিক, স্বদেশীয়, স্বদেশজাত”, কলকাতার সংসদ অভিধানে “স্বদেশজাত, দেশীয়”, আর চেম্বার্স অভিধানে “native born, originating or produced naturally in a country, not imported”। তাঁর সিদ্ধান্ত: “আভিধানিকভাবে আদিবাসী শব্দের অর্থ দেশি, স্বদেশজাত বা ভূমিপুত্র।” এই অভিধান-অর্থগুলোর কোনোটিতেও “আদিম” বা “ইতিহাস জানা নেই” শর্ত নেই।

“স্মরণাতীতকাল” শব্দটি কোথা থেকে আসে?

“স্মরণাতীতকাল” ইংরেজি “time immemorial”-এর বাংলা — এমন সময়, যা মানুষের স্মৃতি বা লিখিত নথির নাগালের বাইরে। ইংরেজি আইনে শব্দটির একটি নির্দিষ্ট তারিখও আছে: 1275 সালের স্ট্যাটিউট অব ওয়েস্টমিনস্টার ঠিক করেছিল, “আইনি স্মৃতি” শুরু 1189 সাল থেকে, তার আগের সময় “time immemorial”।

উইকিপিডিয়ার “Time immemorial” নিবন্ধ অনুযায়ী শব্দটি আইনে মূলত দুই কাজে লেগেছে। প্রথমত, কোনো প্রথা কতদিন চললে তা কমন ল-র অংশ হয়, তা বোঝাতে। দ্বিতীয়ত, জমির ওপর প্রথাগত অধিকার প্রমাণে; পরে 1832 সালের প্রেসক্রিপশন অ্যাক্ট “স্মরণাতীতকাল” প্রমাণের বোঝা সরিয়ে সর্বোচ্চ 60 বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ বসায়। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে শব্দটি এসেছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পত্তি-অধিকারের মামলায়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইংল্যান্ডের মতো কোনো নির্দিষ্ট সাল বেঁধে দেয়নি।

অর্থাৎ যেখানে “time immemorial” আইনে কাজ করে, সেখানে এটি অধিকার প্রমাণের একটি পথ — জমি বা প্রথার দীর্ঘ ভোগদখল দেখানো। বাংলাদেশের বিতর্কে শব্দটি উল্টো কাজ করছে: কারও অভিবাসনের কোনো তারিখ জানা থাকলেই সে “স্মরণাতীতকাল থেকে” বসবাসকারী নয় — এই যুক্তি দাঁড় করাতে।

আইএলও কনভেনশন 107 বা 169-এর অনুচ্ছেদ 1-এ “time immemorial” কথাটি নেই। দুই কনভেনশনেই সময়ের মাপকাঠি একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক মুহূর্ত — বিজয়, উপনিবেশ স্থাপন, আর 169-এ রাষ্ট্রের বর্তমান সীমানা নির্ধারণ। সে আলোচনা নিচের অংশে।

“আদিমতম” শব্দ আর বাংলা অভিধানের ‘আদিবাসী’

বাক্যের “আদিমতম” শব্দটি বাংলা অভিধানের ‘আদিবাসী’-অর্থের সঙ্গে মেলে, আন্তর্জাতিক দলিলের সঙ্গে নয়। প্রশান্ত ত্রিপুরার 2013 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলা একাডেমির সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (1996), সংসদ বাংলা অভিধান (2000) ও সরল বাঙ্গালা অভিধানে (2009) ‘আদিবাসী’-র অর্থ “আদিম জাতি বা অধিবাসী”; চলন্তিকায় “অধিবাসী আদিম জাতি”।

প্রবন্ধটি আমাদের আর্কাইভে আছে — আরণ্য জনপদের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সনদের ছায়াতলে, যা প্রথম ছাপা হয়েছিল বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সংকলন “সংহতি ২০১৩”-এ। লেখাটি আরও একটি তথ্য দেয়: 1980-এর দশক পর্যন্ত এ বিষয়ে শিক্ষিত পাঠকের প্রধান ভরসা ছিলেন আবদুস সাত্তার, আর তাঁর 1977 সালে মুক্তধারা থেকে প্রকাশিত “আরণ্য সংস্কৃতি”-তে ‘উপজাতীয়’, ‘আদিবাসী’ ও ‘আদিম সমাজ’ পদগুলো প্রায় অভিন্ন অর্থে, পরস্পরের বদলে ব্যবহার হয়েছে। অনলাইন অভিধান english-bangla.com-এও আজ ‘আদিবাসী’-র অর্থ “আদিম অধিবাসী বা জাতি”।

প্রবন্ধটির একটি পর্যবেক্ষণ এই বাক্যের প্রসঙ্গে সরাসরি খাটে। বাংলায় ‘আদিবাসী’ মূলত ‘আদিম’ বা ‘সভ্যতার মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকা’ অর্থে চলত বলে 1993 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের অনেকের কাছে ‘ইনডিজেনাস’-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ‘আদিবাসী’ আপত্তিকর ছিল। অর্থাৎ যে “আদিম” অর্থের জন্য একসময় পাহাড়ের মানুষেরাই শব্দটি নিতে চাননি, 2011-এর পর সেই অর্থই — “আদিমতম” রূপে — শব্দটি তাঁদের জন্য প্রযোজ্য নয় বলার যুক্তি হয়ে উঠেছে।

এখানে একটি পার্থক্য খেয়াল রাখা দরকার। “আদিম” শব্দের দুটি অর্থ বাংলায় চলে — সময়ের হিসাবে “সবচেয়ে প্রথম”, আর সভ্যতার হিসাবে “অনগ্রসর”। বাক্যটি কোন অর্থে “আদিমতম” বলছে, তা ব্যবহারকারীরা ব্যাখ্যা করেননি। প্রথম অর্থে পড়লে এটি “সবার আগে আসা” শর্ত; দ্বিতীয় অর্থে পড়লে এটি আইএলও কনভেনশন 107-এর “less advanced stage” মাপকাঠির কাছাকাছি — যে মাপকাঠি 1989 সালে কনভেনশন 169-এ বাদ পড়েছে।

আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে শব্দ ধরে তুলনা: কোন শব্দ মেলে, কোনটি মেলে না

বাক্যের ছয়টি অংশের মধ্যে কেবল “স্থান” আর “জনগোষ্ঠী” আইএলও কনভেনশনের পাঠে কোনো না কোনোভাবে আছে। “স্মরণাতীতকাল”, “আদিমতম” আর “ইতিহাস জানা নেই” — তিনটির কোনোটি কনভেনশন 107 (1957) বা 169 (1989)-এর অনুচ্ছেদ 1-এ নেই। উল্টো দিকে কনভেনশনের তিনটি মূল শর্ত — বংশধারা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা, আর 169-এ আত্মপরিচয় — বাক্যটিতে নেই।

দুই কনভেনশনের অনুচ্ছেদ 1(1)(খ)-এর মূল পাঠ, আইএলও-র নর্মলেক্স ডেটাবেস থেকে:

কনভেনশন 107, অনুচ্ছেদ 1(1)(b): “members of tribal or semi-tribal populations in independent countries which are regarded as indigenous on account of their descent from the populations which inhabited the country, or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonisation and which, irrespective of their legal status, live more in conformity with the social, economic and cultural institutions of that time than with the institutions of the nation to which they belong.”

কনভেনশন 169, অনুচ্ছেদ 1(1)(b): “peoples in independent countries who are regarded as indigenous on account of their descent from the populations which inhabited the country, or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonisation or the establishment of present state boundaries and who, irrespective of their legal status, retain some or all of their own social, economic, cultural and political institutions.”

কনভেনশন 169, অনুচ্ছেদ 1(2): “Self-identification as indigenous or tribal shall be regarded as a fundamental criterion for determining the groups to which the provisions of this Convention apply.”

এবার বাক্যের প্রতিটি অংশ পাশাপাশি:

বাক্যের অংশ কনভেনশন 107 (1957) কনভেনশন 169 (1989)
কোনো স্থানে “the country, or a geographical region to which the country belongs” একই
স্মরণাতীতকাল থেকে নেই। সময় একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত: “at the time of conquest or colonisation” নেই। মুহূর্ত তিনটি: বিজয়, উপনিবেশ, “or the establishment of present state boundaries”
বসবাসকারী নিজে বসবাস নয়, বংশধারা: “descent from the populations which inhabited” একই — “descent from”
আদিমতম নেই। তবে উপধারা (a)-তে “at a less advanced stage” নেই। উপধারা (a)-তে “less advanced” বাদ, বদলে “distinguish them from other sections”
জনগোষ্ঠী “populations” “peoples”
উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস জানা নেই নেই নেই
(বাক্যে নেই) সে সময়ের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কিছু বা সব টিকিয়ে রাখা; আত্মপরিচয় “মৌলিক মানদণ্ড”

সবচেয়ে বড় ফারাকটি সময়ের ধারণায়। বাক্যটি চায় অজানা, অসীম অতীত — যার শুরু কেউ জানে না। কনভেনশন চায় একটি জানা মুহূর্ত — বিজয়, উপনিবেশ বা সীমানা নির্ধারণ — আর সেই মুহূর্তে যারা ছিল, তাদের বংশধর হওয়া। কনভেনশনের শর্ত পূরণে ইতিহাস জানা থাকাটাই কাজে লাগে; বাক্যের শর্ত পূরণে ইতিহাস জানা থাকাটাই বাধা।

দ্বিতীয় ফারাক “আগে কে এসেছে” প্রশ্নে। কনভেনশনের পাঠে অন্য কোনো গোষ্ঠীর চেয়ে আগে আসার শর্ত নেই; মাপকাঠি হলো ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তে উপস্থিত জনগোষ্ঠীর বংশধারা। এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক দলিলগুলো কোথায় দাঁড়ায় এবং কয়েকটি রাষ্ট্র কী আপত্তি তুলেছে, তার পূর্ণ আলোচনা আছে “আদিবাসীর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে আসলে কী” লেখায়।

বাংলাদেশের জন্য কোন কনভেনশন প্রাসঙ্গিক, সেটিও নথিতে স্পষ্ট। আইএলও-র অনুসমর্থন-তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ কনভেনশন 107 অনুসমর্থন করেছে 22 জুন 1972, আর তা এখনো “In Force”। কনভেনশন 169-এর অনুসমর্থনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইনত বাধ্যতামূলক পাঠটি 1957 সালের — যার সময়-মাপকাঠি “বিজয় বা উপনিবেশ স্থাপনের কাল”, স্মরণাতীতকাল নয়।

জাতিসংঘের কার্যকরী সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য-তালিকার সঙ্গে তুলনা

জাতিসংঘের কোনো সংস্থা আদিবাসীর আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা গ্রহণ করেনি; সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত পাঠটি বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হোসে মার্টিনেজ কোবোর “কার্যকরী সংজ্ঞা”। সেখানে সময়ের শর্ত “historical continuity with pre-invasion and pre-colonial societies” — আক্রমণ ও উপনিবেশের আগের সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিকতা। “স্মরণাতীতকাল”, “আদিমতম” বা “ইতিহাস জানা নেই” কোবোর পাঠেও নেই।

জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের সচিবালয় 2004 সালের পটভূমি-পত্রে (PFII/2004/WS.1/3) লিখেছে, তিরিশ বছরের বিতর্কের পরও “no such definition has ever been adopted by any UN-system body”। একই পত্রে কোবোর সংজ্ঞাটি উদ্ধৃত:

“Indigenous communities, peoples and nations are those which, having a historical continuity with pre-invasion and pre-colonial societies that developed on their territories, consider themselves distinct from other sectors of the societies now prevailing on those territories, or parts of them. They form at present non-dominant sectors of society and are determined to preserve, develop and transmit to future generations their ancestral territories, and their ethnic identity…”

কোবো “ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা” প্রমাণের উপায়ও দিয়েছেন — পূর্বপুরুষের ভূমির দখল, সেই ভূমির আদি বাসিন্দাদের সঙ্গে অভিন্ন বংশধারা, সংস্কৃতি, ভাষা, নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস — এর এক বা একাধিক। লক্ষ করার মতো, “ধারাবাহিকতা” শব্দটিই ধরে নেয় যে ইতিহাস আছে এবং তা দেখানো যায়। বাক্যটির “ইতিহাস জানা নেই” শর্ত ঠিক এর বিপরীত।

স্থায়ী ফোরামের তথ্যপত্র “Who are indigenous peoples?” সাতটি বৈশিষ্ট্যের তালিকা দেয়। প্রথমটি ব্যক্তিপর্যায়ে আত্মপরিচয় ও সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি; দ্বিতীয়টি “Historical continuity with pre-colonial and/or pre-settler societies”; বাকিগুলো ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক, স্বতন্ত্র সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র ভাষা-সংস্কৃতি-বিশ্বাস, সমাজের অ-প্রভাবশালী অংশ হওয়া, আর পূর্বপুরুষের পরিবেশ ও ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার সংকল্প। তথ্যপত্রটি লিখেছে, জাতিসংঘের মতে সবচেয়ে ফলপ্রসূ পথ হলো আদিবাসীদের “identify, rather than define” করা।

একই তথ্যপত্রে একটি বাক্য বাংলাদেশের বিতর্কে প্রাসঙ্গিক: কিছু দেশে “indigenous”-এর বদলে অন্য শব্দ পছন্দ করা হয় — “tribes, first peoples/nations, aboriginals, ethnic groups, adivasi, janajati” — আর “hill people”-এর মতো ভৌগোলিক শব্দও কার্যত একই অর্থে চলে। অর্থাৎ জাতিসংঘের তালিকায় শব্দ নয়, বৈশিষ্ট্যই মুখ্য।

তথ্যপত্রটি আদিবাসীদের সাধারণভাবে বর্ণনা করেছে এভাবে: তারা “according to a common definition” তাদের বংশধর, যারা কোনো দেশ বা অঞ্চলে বাস করত সেই সময়ে, “when people of different cultures or ethnic origins arrived”, আর নতুন আগতরা পরে বিজয়, দখল, বসতি বা অন্য উপায়ে প্রভাবশালী হয়েছে। এখানেও সময়ের মাপকাঠি একটি ঘটনা — অন্য সংস্কৃতির মানুষের আগমন ও আধিপত্য — স্মরণাতীত অতীত নয়।

যুগান্তরের কলামে আইএলও-র উদ্ধৃতি মূলের সঙ্গে কতটা মেলে

যুগান্তরের 27 জানুয়ারি 2025-এর কলাম মর্গানের বাক্যের পরে আইএলও কনভেনশন 169 ও 107-এর অনুচ্ছেদ 1 উদ্ধৃত করেছে। মূল ইংরেজি পাঠের সঙ্গে মেলালে তিন জায়গায় পার্থক্য দেখা যায়: 169-এর উপধারায় 107-এর “কম অগ্রসর” শব্দ বসেছে, 107-এর উপধারা (ক)-তে “tribal or semi-tribal” বাদ পড়েছে, আর উপধারা (খ)-তে “রাজ্য বিজয়” বাদ পড়েছে।

প্রথমটি। কলামের ভাষায় কনভেনশন 169-এর আর্টিকেল 1(ক) বলে: “একটি দেশের মূল জনগোষ্ঠীর অন্যান্য অংশের চেয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কম অগ্রসর এবং যাদের মর্যাদা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রথা বা কৃষ্টি, রীতি-নীতি অথবা বিশেষ আইন বা প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাদের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা উপজাতি বলে।” মূল 169-এর পাঠ: “tribal peoples in independent countries whose social, cultural and economic conditions distinguish them from other sections of the national community”। “কম অগ্রসর” (less advanced) কথাটি 169-এ নেই — সেটি 1957 সালের কনভেনশন 107-এর। 1989-এর পাঠে মাপকাঠি “ভিন্নতা”, অগ্রসরতা নয়। আর মূল শব্দ “tribal peoples”, যার বাংলা কলামে “ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা উপজাতি”।

লক্ষণীয়, একই শিরোনামের পলাশের লেখা (2018, 2022) এই উপধারার ইংরেজি মূল পাঠ ঠিকভাবেই উদ্ধৃত করেছে — “whose social, cultural and economic conditions distinguish them from other sections of the national community” — আর বাংলা করেছে “ভিন্নতর”। অর্থাৎ “কম অগ্রসর” শব্দটি এ ধারার সব লেখার সাধারণ পাঠ নয়।

দ্বিতীয়টি। কলামের ভাষায় কনভেনশন 107-এর আর্টিকেল 1(ক): “কোনো স্বাধীন দেশের মূল জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠী, যারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে অধিক নিম্নমানের।” মূল পাঠ শুরু হয় “members of tribal or semi-tribal populations in independent countries” দিয়ে, আর মাপকাঠি “at a less advanced stage than the stage reached by the other sections of the national community”। “মূল জাতিভুক্ত” বা “নিম্নমানের” — কোনোটির সমার্থক শব্দ মূলে নেই।

তৃতীয়টি। কলামের ভাষায় 107-এর আর্টিকেল 1(খ): “উপনিবেশ স্থাপনকালীন ওই দেশে কিংবা যে ভৌগোলিক ভূখণ্ডে দেশটি অবস্থিত, সেখানে বসবাসকারী আদিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আদিবাসী’ বলে পরিগণিত…”। এই অংশের শব্দচয়ন আইএলও ঢাকা অফিসের 2010 সালের বাংলা পাঠের খুব কাছাকাছি; কিন্তু সেই পাঠে আছে “রাজ্য বিজয় কিংবা উপনিবেশ স্থাপনের কালে”, আর মূল ইংরেজিতে “at the time of conquest or colonisation”। কলামে “রাজ্য বিজয়” (conquest) অংশটি নেই।

শেষ বাদটি কলামের মূল যুক্তির সঙ্গে জড়িত। কলামটি লিখেছে, “জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, আদিবাসী হতে হলে কলোনিয়াল কিংবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কলোনাইজেশন হতে হবে। আমাদের দেশে সে ধরনের কিছুই নেই।” একই কলাম আগে নিজেই লিখেছে, 2007 সালের ঘোষণাপত্রে “আদিবাসীদের কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি”। আর কনভেনশন 107-এর মূল পাঠে উপনিবেশের পাশে “বিজয়” (conquest) শর্তটিও আছে, 169-এ আছে বর্তমান রাষ্ট্রসীমা নির্ধারণের কাল। দুই দাবি ও দুই পাঠ পাশাপাশি রইল; কোনটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাটে, সে বিচার এই লেখার কাজ নয়।

তারিখেও একটি অমিল আছে, এবার পলাশ ও তৌহিদুল ইসলামের লেখায়। দুটি লেখাই লিখেছে কনভেনশন 107 এসেছে আইএলও-র 40তম অধিবেশনে 1957 সালের 5 জুন, আর 169 এসেছে 76তম অধিবেশনে 1989 সালের 7 জুন। আইএলও-র নর্মলেক্স ডেটাবেস অনুযায়ী গ্রহণের তারিখ 26 জুন 1957 ও 27 জুন 1989; অধিবেশনের ক্রমিক সংখ্যা দুই জায়গাতেই এক।

যাঁরা বাক্যটি ব্যবহার করেন, তাঁদের যুক্তি কী

যাঁরা বাক্যটি ব্যবহার করেন, তাঁদের মূল যুক্তি চারটি: শব্দের আক্ষরিক অর্থে আদিবাসী মানে আদি বাসিন্দা; পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীরা কয়েকশো বছর আগে বাইরে থেকে এসেছে বলে সেই অর্থে আদিবাসী নন; আন্তর্জাতিক দলিল বসতি-উপনিবেশের দেশগুলোর জন্য; আর ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য ঝুঁকি। প্রতিটি যুক্তি নিচে বক্তার নাম ও উৎস ধরে দেওয়া হলো।

শব্দের অর্থ: “আদিবাসী মানে আদিবাসিন্দা”

মেহেদী হাসান পলাশ (ইনকিলাব, 2018; আলোকিত বাংলাদেশ, 2022) — আলোকিত বাংলাদেশে তাঁর পরিচয় সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পার্বত্যনিউজের সম্পাদক — লিখেছেন, “আভিধানিক ও নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী আদিবাসী মানে আদিবাসিন্দা”, আর তার পরেই মর্গানের বাক্য। জাগোনিউজ২৪-এ খায়রুল আলম (2020) আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখেছেন: আক্ষরিক ও আভিধানিক অর্থে কোনো দেশের আদিম অধিবাসী বা অতিপ্রাচীনকাল থেকে বসবাসরত জনগোষ্ঠীই আদিবাসী, আর “সেই অর্থে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে বসবাসরত বাঙালিরাই আদিবাসী”। 2011 সালের ব্লগটি Cambridge Advanced Learner’s Dictionary-র “aboriginal” শব্দের অর্থ উদ্ধৃত করেছে — “a person or living thing that has existed in a country or continent since the earliest time known to people”; তৌহিদুল ইসলাম (2024) Oxford Advanced Learner’s Dictionary-র “the people regarded as the original inhabitants of an area”।

এখানে একটি তুলনা প্রাসঙ্গিক। Oxford Learner’s Dictionaries-এর বর্তমান অনলাইন সংস্করণে “indigenous”-এর অর্থ “coming from a particular place and having lived there for a long time before other people came there”। এখানে “দীর্ঘকাল” আছে, অন্যদের আগে থাকা আছে — “আদিম” বা “ইতিহাস জানা নেই” নেই।

অভিবাসনের সময়: “মাত্র কয়েকশ’ বছর”

বাক্যটির পরেই পলাশ লিখেছেন, “সকল ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী” উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর কেউই বাংলাদেশে স্মরণাতীতকাল থেকে বাস করছে না, তারা ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে এসেছে, আর বাংলাদেশে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া মানব বসতির প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব 1600–500 সালের। শামসুদ্দিন (যুগান্তর, 2025) লিখেছেন, পাহাড়ে সবচেয়ে পুরোনো কুকি জনগোষ্ঠী — ম্রো, খ্যাং, পাংখো, বম — 200 থেকে 500 বছর আগে মিজোরাম থেকে এসেছে, আর চাকমা ও মারমাসহ কয়েকটি সম্প্রদায় 150 থেকে 300 বছর আগে আরাকান থেকে। তৌহিদুল ইসলাম (2024) প্রায় একই সংখ্যা দিয়েছেন, সূত্র হিসেবে টি. এইচ. লুইনের 1869 সালের বই উল্লেখ করে; 2011 সালের ব্লগও লুইনের একই বই এবং সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের War and Peace in the Chittagong Hill Tracts (1999) উদ্ধৃত করেছে।

এই প্রশ্নে বিপরীত দাবিও নথিতে আছে। আমাদের আর্কাইভের লেখা জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক 2011 সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির বক্তব্য — পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীরা 16শ শতাব্দীর আগে সেখানে ছিল না — খণ্ডন করে লিখেছে, তাঁরা “স্মরণাতীতকাল থেকে” পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছে; সূত্র চন্দ্রা কে. রায়ের [যাচাই প্রয়োজন: বাংলা বানান] IWGIA-প্রকাশিত বই Land Rights of the Indigenous Peoples of the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh (2000)। কোন জনগোষ্ঠী কবে এসেছে, সে প্রশ্নের প্রমাণ ও তার সীমা নিয়ে আলাদা লেখা দরকার; এখানে শুধু এটুকু: দুই পক্ষই একই “স্মরণাতীতকাল” শব্দ ব্যবহার করছে, দুই উল্টো সিদ্ধান্তে।

আন্তর্জাতিক দলিল কাদের জন্য

শামসুদ্দিনের যুক্তি: 2007 সালে জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড, আর বাংলাদেশসহ 11টি দেশ বিরত ছিল; ঘোষণাপত্রে যে উচ্ছেদ, ভূমি-দখল ও সামরিক অভিযানের কথা, তা ঘটেছে ওই চার দেশেই। তাই, তাঁর ভাষায়, “জাতিসংঘের ঘোষণায় আদিবাসী বলতে যাদের বোঝানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কোনো মিল নেই।” মর্গানের সংজ্ঞাও, তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে “সম্পূর্ণ মিলে যায়”। খায়রুল আলমও লিখেছেন, আন্তর্জাতিক দলিলগুলো আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার “রেড ইন্ডিয়ান ও অ্যাবরিজিনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে”। পলাশ আরও যোগ করেছেন, এই জনগোষ্ঠীরা তাঁদের “আদিনিবাস” ভারত ও মিয়ানমারেও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত নন।

একটি তথ্য এখানে লক্ষ করার মতো। ঠিক এক সপ্তাহ আগে, 20 জানুয়ারি 2025, দৈনিক ইনকিলাবে ব্রি. জে. (অব.) রোকন উদ্দিনের লেখা “পাহাড়ি উপজাতিরা আদিবাসী নয়”-ও একই উপসংহারে পৌঁছেছে, কিন্তু মর্গানের বাক্য ব্যবহার করেনি। সেখানে আদিবাসীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে: “একটি অঞ্চলের মূল বাসিন্দা, যারা উপনিবেশ স্থাপন রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে সেই অঞ্চলে যুগ যুগান্তরে ঐতিহাসিকভাবে বসবাস করতেন।” এই সংজ্ঞা আইএলও 169-এর সময়-মাপকাঠির — উপনিবেশ ও রাষ্ট্রসীমা — অনেক কাছাকাছি। অর্থাৎ একই অবস্থানের লেখকদের মধ্যেও সংজ্ঞা এক নয়।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

পলাশ ও শামসুদ্দিন দুজনেই জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ 36 উদ্ধৃত করেছেন — আন্তর্জাতিক সীমানায় বিভক্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সীমানার ওপারের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার অধিকার। শামসুদ্দিনের মতে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংবিধানে যুক্ত হলে ঘোষণাপত্র মেনে নিতে হবে, যা “বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হবে”; পলাশ লিখেছেন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বতন্ত্র জাতীয়তার মধ্যে “লুকানো রয়েছে স্বাধীনতার বীজ”। এ যুক্তির পাল্টা যুক্তি — আদিবাসী পরিচয় ও নাগরিকত্ব পরস্পরবিরোধী নয় — এবং রাষ্ট্রের অবস্থানের কালানুক্রম আছে “রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে” লেখায়; জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের ধারাগুলো ধরে ব্যাখ্যা আছে জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র (UNDRIP): কী বলে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে লেখায়।

এই চার যুক্তির কোনোটিই মর্গানের বাক্যের ওপর নির্ভরশীল নয় — প্রতিটি আলাদাভাবে, নিজস্ব প্রমাণ দিয়ে আলোচনা করা যায়। বাক্যটি এদের পাশে একটি সংজ্ঞা হিসেবে আসে, যার শেষ শর্ত অনুযায়ী যে জনগোষ্ঠীর বসতির ইতিহাস জানা আছে, সে বাদ পড়ে।

একই শব্দ, উল্টো সিদ্ধান্ত: আদিবাসী অধিকারের পক্ষের লেখাতেও “স্মরণাতীতকাল”

“স্মরণাতীতকাল” শব্দটি কেবল এক পক্ষের নয়। আমাদের আর্কাইভের লেখাতেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও প্রথা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। পার্থক্যটা শব্দে নয়, সিদ্ধান্তে: এক পক্ষ শব্দটি দিয়ে আদিবাসী পরিচয় অস্বীকার করে, অন্য পক্ষ দাবি করে।

কয়েকটি নমুনা। বম জাতির আদ্যোপান্ত লেখায় আছে: “স্মরণাতীতকাল থেকে বম আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব এ প্রথাগত সামাজিক আইন দিয়ে জীবন ধারা পরিচালনা করে আসছে।” একই লেখা জানায়, বমদের প্রথাগত আইনের সংকলন সর্বশেষ 1995 সালে সংশোধিত আকারে মুদ্রিত হয়। অর্থাৎ এখানে “স্মরণাতীতকাল” মানে একটি প্রথার দীর্ঘ, তারিখহীন শুরু — আর সেই প্রথার লিখিত রূপ ও সংশোধনের তারিখও জানা। ইংরেজি আইনে “time immemorial” যে কাজে লাগে, এ ব্যবহার তার কাছাকাছি।

আগের অংশে উল্লেখ করা “জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক” লেখাটি শব্দটি ব্যবহার করেছে বসতির প্রাচীনত্ব বোঝাতে। আর মর্গানের বাক্যের ব্যবহারকারী পলাশ নিজেও বাক্যের পরের লাইনেই লিখেছেন, উপজাতীয়দের “অনুপ্রবেশও স্মরণাতীত কাল পূর্বে ঘটে নাই” — অর্থাৎ তাঁর হিসাবে কয়েকশো বছর স্মরণাতীতকালের মধ্যে পড়ে না।

“বাঙালিরাই আদিবাসী” দাবি নিয়ে প্রশান্ত ত্রিপুরার 2013 সালের প্রবন্ধে একটি মন্তব্য আছে, যা এ বাক্যের “আদিমতম” শব্দের সঙ্গে সরাসরি মেলে। তিনি লিখেছেন, ‘উপজাতীয়রা’ নয়, বাঙালিরাই প্রকৃত আদিবাসী — এ কথা সাম্প্রতিককালে জোরেশোরে বলা হচ্ছে; তবে “এ ধরনের দাবীর অর্থ নিশ্চয় এই নয় যে, বাঙালিরা ‘আদিম’ অর্থে নিজেদেরকে ‘আদিবাসী’ বলতে শুরু করেছে”। মর্গানের বাক্য যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁদের অন্তত একজনের সিদ্ধান্তও ঠিক এটাই — বাঙালিরাই আদিবাসী (খায়রুল আলম, 2020)। বাক্যটির নিজের শর্তে তখন বাঙালিদেরও “আদিমতম” এবং “উৎপত্তির ইতিহাস জানা নেই” এমন জনগোষ্ঠী হতে হয়। এ প্রশ্নের উত্তর ব্যবহারকারীদের কোনো লেখায় পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক দলিলের সঙ্গে বাংলা শব্দের এই টানাপোড়েন নতুন নয়। রাষ্ট্রের ব্যাখ্যায় শব্দটির অর্থ ‘আদি নিবাসী’, আর আদিবাসী সংগঠনগুলোর ব্যাখ্যায় এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি রাজনৈতিক শ্রেণি — দুই অবস্থানের পূর্ণ বিবরণ আছে “রাষ্ট্র কোন শব্দ ব্যবহার করে” লেখায়। আর আদিবাসীত্বের ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক বিতর্কের একটি অনুবাদ আছে আমাদের আর্কাইভে: আদিবাসীত্বের রাজনীতি এবং ভূমি ও পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য জুম্মদের সংগ্রাম।

প্রশ্নোত্তর

“আদিবাসী হচ্ছে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী” — সংজ্ঞাটি কার?

বাক্যটি মার্কিন নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গানের নামে চলে, সূত্র হিসেবে “An Introduction to Anthropology, 1972”। মর্গান মারা যান 17 ডিসেম্বর 1881। তাঁর প্রধান চার বই — League of the Iroquois (1851), Systems of Consanguinity (1871), Ancient Society (1877) ও Houses and House-Life (1881) — এর ডিজিটাল পাঠে বাক্যটি বা “sons of the soil” কথাটি পাওয়া যায়নি।

বাক্যটি প্রথম কবে কোথায় ছাপা হয়?

সবচেয়ে পুরোনো তারিখযুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় 10 আগস্ট 2011, “আদিবাসি নয়,ওরা উপজাতি” শিরোনামের একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে। সংবাদপত্রে সবচেয়ে পুরোনো পাওয়া ব্যবহার 9 আগস্ট 2018-এর দৈনিক ইনকিলাব, মেহেদী হাসান পলাশের লেখায়। এরপর জাগোনিউজ২৪ (2020), আলোকিত বাংলাদেশ (2022), সময়ের কণ্ঠস্বর (2024) ও যুগান্তরে (2025) এসেছে।

যুগান্তরের কোন লেখায় বাক্যটি আছে?

যুগান্তরের প্রিন্ট সংস্করণে 27 জানুয়ারি 2025 প্রকাশিত উপসম্পাদকীয় “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি নাকি আদিবাসী”, “বাইফোকাল লেন্স” কলামে। লেখক একেএম শামসুদ্দিন, পরিচয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। লেখাটি নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দসংবলিত গ্রাফিতি সরানো নিয়ে বিতর্কের সময় লেখা; বাক্যটির কোনো বইসূত্র সেখানে নেই।

“An Introduction to Anthropology, 1972” বইটি কি মর্গানের লেখা?

মর্গানের মৃত্যু 1881 সালে, অর্থাৎ 1972 সালের 91 বছর আগে। ইন্টারনেট আর্কাইভে মর্গানের নামে থাকা পাঠগুলোর কোনোটির এই নাম নয়, আর বাক্যটির কোনো ব্যবহারে প্রকাশক বা পৃষ্ঠার উল্লেখ নেই। মর্গানের নামে 1972 সালে এ শিরোনামের কোনো সংকলন প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইংরেজি উদ্ধৃতি আর বাংলা বাক্য কি একই?

না। ইংরেজি উদ্ধৃতি “The Aboriginals are the groups of human race who have been residing in a place from time immemorial … They are the true Sons of the soil”-এ “আদিমতম” শব্দটি নেই, আর “উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই” শর্তটিও নেই। বাংলা বাক্যের এই দুই অংশের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

আইএলও কনভেনশনে কি “স্মরণাতীতকাল” শর্ত আছে?

না। কনভেনশন 107 (1957)-এর অনুচ্ছেদ 1(1)(b)-তে সময়ের মাপকাঠি “at the time of conquest or colonisation”, আর কনভেনশন 169 (1989)-এ তার সঙ্গে যুক্ত “the establishment of present state boundaries”। দুটিতেই শর্ত হলো সেই নির্দিষ্ট সময়ের বাসিন্দাদের বংশধর হওয়া। “আদিমতম” বা “ইতিহাস জানা নেই” — কোনোটিই কোনো কনভেনশনে নেই।

বাংলাদেশ কোন আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে?

আইএলও-র নর্মলেক্স তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ কনভেনশন 107 অনুসমর্থন করেছে 22 জুন 1972, আর তা এখনো কার্যকর (In Force)। কনভেনশন 169-এর অনুসমর্থনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক পাঠ 1957 সালের, যেখানে সময়ের মাপকাঠি বিজয় বা উপনিবেশ স্থাপনের কাল।

জাতিসংঘ কি আদিবাসীর কোনো সংজ্ঞা দিয়েছে?

আনুষ্ঠানিকভাবে না। স্থায়ী ফোরামের সচিবালয়ের 2004 সালের পটভূমি-পত্র (PFII/2004/WS.1/3) লিখেছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার কোনো সংস্থা কখনো এমন সংজ্ঞা গ্রহণ করেনি। সবচেয়ে উদ্ধৃত কার্যকরী সংজ্ঞাটি হোসে মার্টিনেজ কোবোর, যার সময়-শর্ত “historical continuity with pre-invasion and pre-colonial societies”। স্থায়ী ফোরামের তথ্যপত্র সাতটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলে, প্রথমটি আত্মপরিচয়।

“স্মরণাতীতকাল” মানে আইনে কী?

“স্মরণাতীতকাল” ইংরেজি “time immemorial”-এর বাংলা — স্মৃতি বা নথির নাগালের বাইরের সময়। ইংরেজি আইনে 1275 সালের স্ট্যাটিউট অব ওয়েস্টমিনস্টার “আইনি স্মৃতি”র শুরু ধরেছিল 1189 সাল। শব্দটি প্রথা ও জমির ওপর দীর্ঘ ভোগদখলের অধিকার প্রমাণে ব্যবহৃত হয়েছে; কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আদিবাসীদের সম্পত্তি-অধিকারের মামলাতেও।

বাংলা অভিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের অর্থ কী?

প্রশান্ত ত্রিপুরার 2013 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলা একাডেমির সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (1996), সংসদ বাংলা অভিধান (2000) ও সরল বাঙ্গালা অভিধানে (2009) অর্থ “আদিম জাতি বা অধিবাসী”, চলন্তিকায় “অধিবাসী আদিম জাতি”। এই ‘আদিম’ অর্থের কারণেই 1993 সালে পাহাড়িদের অনেকে ‘ইনডিজেনাস’-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ‘আদিবাসী’ আপত্তিকর মনে করতেন।

যাঁরা বাক্যটি ব্যবহার করেন, তাঁদের মূল যুক্তি কী?

মেহেদী হাসান পলাশ (2018, 2022), খায়রুল আলম (2020), তৌহিদুল ইসলাম (2024) ও একেএম শামসুদ্দিনের (2025) লেখায় যুক্তি চারটি: আক্ষরিক অর্থে আদিবাসী মানে আদি বাসিন্দা; পাহাড়ের জনগোষ্ঠীরা 150 থেকে কয়েকশো বছর আগে মিয়ানমার, আরাকান বা মিজোরাম থেকে এসেছে; আন্তর্জাতিক দলিল বসতি-উপনিবেশের দেশগুলোর জন্য; আর ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য ঝুঁকি।

আদিবাসী অধিকারের পক্ষের লেখাতেও কি “স্মরণাতীতকাল” শব্দ আছে?

হ্যাঁ, উল্টো সিদ্ধান্তে। জুমজার্নালের আর্কাইভে “বম জাতির আদ্যোপান্ত” লিখেছে বমরা “স্মরণাতীতকাল থেকে” নিজস্ব প্রথাগত আইনে চলছেন, আর “জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক” লিখেছে পাহাড়ি জাতিসত্তাগুলো “স্মরণাতীতকাল থেকে” পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছে, সূত্র চন্দ্রা কে. রায়ের 2000 সালের IWGIA বই।

যা এখনো জানা যায়নি

  • বাংলা বাক্যের আসল উৎস। 10 আগস্ট 2011-এর ব্লগের আগে বাক্যটির কোনো ব্যবহার পাওয়া যায়নি, আর ব্লগটি নিজের উৎস জানায়নি। 2011-এর আগের ছাপা পত্রিকা, বই, পাঠ্যবই বা সরকারি নথিতে বাক্যটি ছিল কি না, জানা যায়নি।
  • ইংরেজি উদ্ধৃতির উৎস। “The Aboriginals are the groups of human race…” বাক্যটি বাংলাদেশের বিতর্কের লেখাগুলোর বাইরে কোথাও পাওয়া যায়নি। এটি কোনো পাঠ্যবই, নোটবই বা অনুবাদ থেকে এসেছে কি না, জানা যায়নি।
  • “An Introduction to Anthropology, 1972”। এ নামে মর্গানের কোনো সংকলন বা অন্য কোনো লেখকের বই, যেখানে মর্গানকে এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়নি।
  • মর্গানের ছোট লেখা। চার প্রধান বইয়ের বাইরে মর্গানের প্রবন্ধ, চিঠিপত্র ও জার্নাল মেলানো হয়নি। স্ক্যান-ভিত্তিক দুটি পাঠে বানান-ভুলের কারণে কোনো বাক্য খোঁজায় বাদ পড়ে থাকতে পারে।
  • “ইতিহাস জানা নেই” অংশটি। বাংলা বাক্যের এই শর্ত ইংরেজি উদ্ধৃতিতে নেই। কে, কবে এটি যোগ করেছেন, জানা যায়নি।
  • বার্তা বাজারের তারিখ। তৌহিদুল ইসলামের লেখাটি বার্তা বাজারে কবে প্রকাশিত, পাতায় তারিখ পাওয়া যায়নি; সময়ের কণ্ঠস্বরের তারিখ 21 সেপ্টেম্বর 2024।
  • অভিবাসনের সময় নিয়ে সংখ্যাগুলো। “কয়েকশ’ বছর”, “৫-৭শ’ বছর”, “২০০ থেকে ৫০০ বছর”, “দেড়শ’ থেকে ৩শ’ বছর” — ব্যবহারকারীদের দেওয়া এই সংখ্যাগুলো এবং বিপরীত দাবিগুলো মূল ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে এই লেখায় মেলানো হয়নি; সে কাজ আলাদা লেখার।

তথ্যসূত্র

বাক্যটির ব্যবহার (কালানুক্রমে)

  1. bangladesh1952, “আদিবাসি নয়,ওরা উপজাতি”, humanity2011.wordpress.com, 10 আগস্ট 2011। লিংক
  2. momtajkoli, “ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো আদিবাসী নয় অভিবাসী”, সামহোয়্যারইন ব্লগ, 10 আগস্ট 2012। লিংক
  3. মেহেদী হাসান পলাশ, “বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের আদিবাসিন্দা”, সামহোয়্যারইন ব্লগ (পার্বত্যনিউজ), 8 আগস্ট 2015। লিংক
  4. মেহেদী হাসান পলাশ, “বাংলাদেশের উপজাতীয়রা আদিবাসী নয় কেন?”, দৈনিক ইনকিলাব, 9 আগস্ট 2018। ইন্টারনেট আর্কাইভের অনুলিপি
  5. মেহেদী হাসান পলাশ, “বাংলাদেশের উপজাতীয়রা আদিবাসী নয় কেন?”, মাসিক আত-তাহরীক, নভেম্বর 2018। লিংক
  6. খায়রুল আলম, “আদিবাসী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”, জাগোনিউজ২৪, 9 আগস্ট 2020। লিংক
  7. মেহেদী হাসান পলাশ, “বাংলাদেশের উপজাতীয়রা আদিবাসী নয় কেন?”, আলোকিত বাংলাদেশ, প্রিন্ট সংস্করণ, 11 আগস্ট 2022। লিংক
  8. তৌহিদুল ইসলাম, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি নাকি আদিবাসী?”, সময়ের কণ্ঠস্বর, 21 সেপ্টেম্বর 2024। লিংক
  9. তৌহিদুল ইসলাম, “বাংলাদেশে আদিবাসী সংকট ও পরিচয়গত সমাধান”, বার্তা বাজার, তারিখ অজ্ঞাত। লিংক
  10. ব্রি. জে. (অব.) রোকন উদ্দিন, “পাহাড়ি উপজাতিরা আদিবাসী নয়”, দৈনিক ইনকিলাব, 20 জানুয়ারি 2025। ইন্টারনেট আর্কাইভের অনুলিপি
  11. একেএম শামসুদ্দিন, “ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি নাকি আদিবাসী”, যুগান্তর, প্রিন্ট সংস্করণ, 27 জানুয়ারি 2025। লিংক

মর্গান ও “time immemorial”

  1. Wikipedia, “Lewis H. Morgan”। লিংক
  2. Lewis H. Morgan, Ancient Society (1877), Project Gutenberg ই-বুক 45950। লিংক
  3. Lewis H. Morgan, Houses and House-Life of the American Aborigines (1881), Project Gutenberg ই-বুক 8112। লিংক
  4. Lewis H. Morgan, League of the Ho-dé-no-sau-nee, or Iroquois (1851), Internet Archive। লিংক
  5. Lewis H. Morgan, Systems of Consanguinity and Affinity of the Human Family (1871), Internet Archive। লিংক
  6. Wikipedia, “Time immemorial”। লিংক
  7. Oxford Learner’s Dictionaries, “indigenous”। লিংক
  8. english-bangla.com, “আদিবাসী” (বাংলা থেকে বাংলা অভিধান)। লিংক

আইএলও ও জাতিসংঘের দলিল

  1. ILO, Indigenous and Tribal Populations Convention, 1957 (No. 107), NORMLEX। লিংক
  2. ILO, Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 (No. 169), NORMLEX। লিংক
  3. ILO, কনভেনশন 107-এর অনুসমর্থন-তালিকা, NORMLEX। লিংক
  4. ILO, কনভেনশন 169-এর অনুসমর্থন-তালিকা, NORMLEX। লিংক
  5. Secretariat of the Permanent Forum on Indigenous Issues, “The Concept of Indigenous Peoples”, PFII/2004/WS.1/3, 2004। লিংক
  6. UN Permanent Forum on Indigenous Issues, Factsheet “Who are indigenous peoples?”। লিংক

জুমজার্নালের আর্কাইভ

  1. প্রশান্ত ত্রিপুরা, “আরণ্য জনপদের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সনদের ছায়াতলে” (প্রথম প্রকাশ: সংহতি ২০১৩, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম)। লিংক
  2. প্রশান্ত ত্রিপুরা, “আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক কিছু ভাবনা”। লিংক
  3. “সভ্যতার অন্ধকার, ভদ্রলোকীয় অন্ধতা ও আদিবাসী চেতনা”। লিংক
  4. “জুম্ম জনগণের আদিবাসী পরিচয়ের দাবি কেন যৌক্তিক”। লিংক
  5. “বম জাতির আদ্যোপান্ত”। লিংক
  6. “জাতিসংঘ আদিবাসী ঘোষণাপত্র (UNDRIP): কী বলে, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে”। লিংক
  7. “আদিবাসীত্বের রাজনীতি এবং ভূমি ও পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য জুম্মদের সংগ্রাম”। লিংক

সর্বশেষ হালনাগাদ: 17 অক্টোবর 2026

 

প্রসঙ্গ:আইএলও কনভেনশন, আদিবাসী, আদিবাসী অধিকার, আদিবাসী জনগোষ্ঠী

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা