Last updated Nov 8th, 2026
0

মনিকা চাকমা গোলটি করেছিলেন 30 এপ্রিল 2019 সন্ধ্যায়, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বক্সের মাথায় বল মাথা দিয়ে নামিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে তিনি জাল খুঁজে নেন; বাংলাদেশ জেতে 3-0 গোলে। দুই দিন পর, 2 মে 2019, ফিফার ওয়েবসাইটের সাপ্তাহিক ‘Fans’ Favourites’ পাতায় গোলটি তালিকার প্রথমে জায়গা পায়, শিরোনাম ছিল “Magical Chakma”।
বাংলা সংবাদমাধ্যমে কথাটি এসেছে ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’ নামে, কোথাও ‘জাদুকরী’ বলে। এই লেখায় ফিফার পাতায় ঠিক কী লেখা ছিল, ম্যাচটি কেমন ছিল, কোন উৎসে কোন মিনিট লেখা, আর সেই কিশোরী মিডফিল্ডার পরের সাত বছরে কোথায় পৌঁছেছেন — সাফের দুই শিরোপা, ভুটানের ক্লাব ফুটবল, এএফসি নারী এশিয়ান কাপ — সব উৎসসহ সাজানো হয়েছে।
সূচিপত্র
মনিকা চাকমা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার, জন্ম 15 সেপ্টেম্বর 2003। বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সুমন্ত পাড়ায়। এএফসির 2026 সালের দল-তালিকায় তাঁর জার্সি নম্বর 6, উচ্চতা 145 সেন্টিমিটার। 2022 ও 2024 সালের সাফজয়ী দুই দলেই তিনি ছিলেন।
নিচের ছকের প্রতিটি তথ্যের উৎস পাশে দেওয়া আছে। যে তথ্যে উৎসগুলো এক কথা বলে না, সেগুলো লেখার শেষের দিকে উৎসভেদে অমিল অংশে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য | উৎস |
|---|---|---|
| জন্ম | 15 সেপ্টেম্বর 2003 | এএফসি দল-তালিকা (ফেব্রুয়ারি 2026) |
| গ্রাম | সুমন্ত পাড়া (কোথাও ‘সুমান্ত পাড়া’), লক্ষ্মীছড়ি, খাগড়াছড়ি | ডেইলি স্টার বাংলা (2022), ইনডিপেনডেন্ট টিভি (2024), দেশ রূপান্তর (2024) |
| পরিবার | পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট; বাবা বিন্দু কুমার চাকমা, পেশায় কৃষক | ঢাকা ট্রিবিউন (2019), একুশে টিভি (2019) |
| পজিশন | মিডফিল্ডার; জাতীয় দলে জার্সি নম্বর 6 | এএফসি দল-তালিকা (2026) |
| প্রথম প্রতিযোগিতা | বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ, মরাচেঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে | একুশে টিভি (2019), ঢাকা ট্রিবিউন (2019) |
| ফিফার স্বীকৃতি | ‘Fans’ Favourites’, 2 মে 2019, শিরোনাম “Magical Chakma” | ফিফার ওয়েবসাইট (inside.fifa.com) |
| বড় শিরোপা | সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2022 ও 2024; বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 গোল্ডকাপ 2019 (যৌথ) | বাসস (2022), ঢাকা ট্রিবিউন (2024), বাফুফে (2019) |
| ক্লাব (2024–2026) | রয়্যাল থিম্পু কলেজ (ভুটান, ধারে), পারো এফসি (ভুটান), ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, রাজশাহী স্টার্স | ডেইলি স্টার, ইউএনবি, এএফসি, এআইএফএফ |
গোলটি এসেছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের প্রথম আসরে। ছয় দেশের টুর্নামেন্ট শুরু হয় 22 এপ্রিল 2019, ঢাকায়: বাংলাদেশ, লাওস, মঙ্গোলিয়া, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশ গ্রুপে আমিরাতকে 2-0 ও কিরগিজস্তানকে 2-1 গোলে হারিয়ে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে ওঠে।
মঙ্গোলিয়া নিজেদের গ্রুপে তাজিকিস্তানকে 3-0 গোলে হারালেও লাওসের কাছে 0-5 গোলে হেরে দ্বিতীয় হয়েছিল। প্রথম সেমিফাইনালে লাওস কিরগিজস্তানকে 7-1 গোলে হারিয়ে ফাইনালে যায়। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হয় মঙ্গলবার, 30 এপ্রিল, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এই হিসাব দেয়।

দলের প্রধান কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। প্রথম আলোর বাংলা প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ শুরু করেছিল 3-4-3 ছকে, কিন্তু আক্রমণের চাপে বেশির ভাগ সময় দলটিকে দেখাচ্ছিল 2-2-6 ছকে খেলা দলের মতো।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মুহূর্তে সাজেদার বাড়ানো বল বক্সের মাথায় হেড করে নিজের সামনে নামান মনিকা, তারপর মাটিতে পড়ার আগেই বাঁ পায়ে ভলি করেন। বল মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে পোস্টের ওপরের কোণে ঢোকে। এর আগে বাংলাদেশ একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছিল।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের বর্ণনা কাছাকাছি, তবে খুঁটিনাটিতে ভিন্ন। প্রথম আলো 30 এপ্রিল লিখেছে, পেনাল্টি আর্কের ওপর থেকে মনিকার “দুর্দান্ত ভলিতে” মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষক বোকা বনে যান, আর গোলটিকে বলেছে “ইউটিউবে বারবার দেখার মতো”। 5 মে প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদন আরও বিস্তারিত: আগে একজনকে গতিতে পেছনে ফেলে আরেক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে হেড, তারপর পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের ভলি।
দ্য ডেইলি স্টার 4 মে লিখেছে, বক্সের কিনারায় একটি আলগা বল ধরে মনিকা শরীর বাঁকিয়ে হেড করেন, দুই ডিফেন্ডার জায়গা বন্ধ করতে এগোনোর আগেই বাঁ পায়ের জোরালো ভলি ওপরের কোণে চলে যায়। ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, মনিকা প্রথমে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল মাথা দিয়ে সরিয়ে নেন, তারপর ভলি করেন। বাসসের বর্ণনায় শটটি প্রায় 30 গজ দূর থেকে।
গোলের মিনিট নিয়েও উৎসগুলো এক নয়। বাসস লিখেছে 45 মিনিট, প্রথম আলো 46 মিনিট, আর দ্য ডেইলি স্টার প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিট। তিনটি বর্ণনাই একই মুহূর্তের দিকে ইঙ্গিত করে — বিরতির বাঁশির ঠিক আগে।
এই ম্যাচের আগে মনিকা টুর্নামেন্টে কোনো গোল পাননি। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছিলেন, এটিই ছিল আসরে তাঁর প্রথম গোল, আর তার আগে তিনি ঠিক ফিনিশিংটা করতে পারছিলেন না।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটিও মনিকার পা থেকে শুরু। তাঁর রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে মার্জিয়া এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান। শেষ গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা তহুরা খাতুন, 85 মিনিটে। চূড়ান্ত ফল বাংলাদেশ 3, মঙ্গোলিয়া 0।
মার্জিয়ার গোলের সময় বাসস লিখেছে 67 মিনিট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার লিখেছে 69 মিনিট। তহুরার গোলের বর্ণনায় তিন উৎস তিন রকম: বাসসের মতে মার্জিয়ার পাস থেকে মাপা শট, ডেইলি স্টারের মতে শটটি এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলায়, আর প্রথম আলোর মতে তহুরা দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে গোল করেন।
প্রথম আলো সেদিন প্রশ্ন রেখেছিল, তিনটি গোলের কোনটিকে এগিয়ে রাখা যায়, আর উত্তর দিয়েছিল মনিকার গোলটির পক্ষে। প্রতিবেদনটি এ-ও লিখেছিল যে মঙ্গোলিয়া পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
| গোল | গোলদাতা | সহায়তা | মিনিট (উৎসভেদে) |
|---|---|---|---|
| 1-0 | মনিকা চাকমা | সাজেদা (প্রথম আলো, ডেইলি স্টার) | 45 (বাসস) · 46 (প্রথম আলো) · 45+1 (ডেইলি স্টার) |
| 2-0 | মার্জিয়া | মনিকা চাকমা (বাসস, প্রথম আলো) | 67 (বাসস) · 69 (প্রথম আলো, ডেইলি স্টার) |
| 3-0 | তহুরা খাতুন (বদলি) | মার্জিয়া (বাসস) | 85 (তিন উৎসেই) |
ফিফা গোলটি রেখেছিল নিজেদের ওয়েবসাইটের সাপ্তাহিক ‘Fans’ Favourites’ পাতায়, সপ্তাহের পাঁচটি মুহূর্তের প্রথমটি হিসেবে। পাতাটির তারিখ বৃহস্পতিবার, 2 মে 2019, সন্ধ্যা 7টা 57 মিনিট। অংশটির শিরোনাম “Magical Chakma”, আর লেখায় গোলটিকে বলা হয় “stunning volley”।
পাতাটি এখনো inside.fifa.com-এ পড়া যায়। মনিকার অংশের নিচে লেখা ছিল, ভিডিওটি পাঠিয়েছেন “Tawsif Akkas (England)”। দুই বাক্যের লেখাটি শুরু হয় প্রশ্ন দিয়ে: সপ্তাহের প্রিয় গোলগুলোর একটি দিয়ে শুরু করার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। তারপর লেখা, বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-19 নারী দলের প্রতিভা মনিকা চাকমা মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে এই ভলি করেছেন, আর @tawsifakkas নিশ্চিত করেছেন যেন ফিফার চোখ এড়িয়ে না যায়। লেখার নিচে ফেসবুকে প্রকাশিত গোলের একটি ভিডিও জুড়ে দেওয়া ছিল।
একই পাতার জার্মান ও ফরাসি সংস্করণে শিরোনাম অনুবাদ হয়েছে আলাদাভাবে। জার্মানে “Traumtor von Chakma” — চাকমার স্বপ্নের গোল। ফরাসিতে “Chakma magique”। বাংলা সংবাদমাধ্যম শিরোনামটিকে মনিকার উপাধি হিসেবে লিখেছে: প্রথম আলো লিখেছে “ফিফা মনিকাকে উপাধি দিয়েছে ‘ম্যাজিকাল চাকমা’”, আর বাংলা উইকিপিডিয়ায় আছে ‘জাদুকরী চাকমা’।
একুশে টিভির প্রতিবেদন এভাবে লিখেছে: ফ্যানস ফেভারিট তালিকায় প্রকাশিত গোলটিকে ফিফা নাম দেয় ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’। ফিফার পাতায় শব্দ দুটি একটি অংশের শিরোনাম হিসেবেই আছে; আলাদা কোনো উপাধির ঘোষণা সেখানে নেই।
ফিফার পাতায় মনিকার গোলের পরে ছিল আরও চারটি অংশ: হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের আশ্বাসবার্তা, 2019 নারী বিশ্বকাপের দল ঘোষণা, নারী ফুটবলের তারকাদের নিয়ে একটি ভিডিও, আর ইংল্যান্ডের ফুটবল লেখক সমিতির বর্ষসেরা পুরস্কার পাওয়া ম্যানচেস্টার সিটির দুই খেলোয়াড়।
‘Fans’ Favourites’ ছিল ফিফার একটি সাপ্তাহিক সংকলন। ফিফার পাতার ভূমিকা অনুযায়ী ভক্তরা #WeLiveFootball হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রিয় ভিডিও বা লেখা পাঠাতেন, আর ফিফা তা থেকে সপ্তাহের সেরা পাঁচটি বেছে প্রকাশ করত। এটি কোনো ভোট, র্যাঙ্কিং বা আনুষ্ঠানিক পুরস্কার ছিল না।
ঢাকা ট্রিবিউন 4 মে 2019 লিখেছিল, তালিকায় কোনো ক্রম না থাকলেও ফিফা মনিকার গোলটি সবার ওপরে রেখেছিল। দ্য ডেইলি স্টারও লিখেছে, ফিফার সাইটে গোলটি অন্য সব মুহূর্তের ওপরে ছিল। একুশে টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী এর আগে বাংলাদেশের কোনো বিষয় এই তালিকায় জায়গা পায়নি।
গোলটি ফিফার কাছে পৌঁছানোর পথও প্রতিবেদনে আছে। ম্যাচের পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা ট্রিবিউন এক ভক্তের ক্যাপশন উদ্ধৃত করেছিল, যিনি লিখেছিলেন মনিকাকে যেন মেসি বা রোনালদো ভেবে ভুল না করা হয়। প্রথম আলো লিখেছে, “এক বাংলাদেশির বদৌলতে” গোলটি ফিফার দরবারে পৌঁছায়। ঢাকা ট্রিবিউন সেই ভক্তের নাম লিখেছে Towsif Akkas, ফিফা ও ডেইলি স্টার লিখেছে Tawsif Akkas।
খবরটি জানার পর মনিকা চাকমা বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ফিফা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বলে এটি তাঁর জন্য বড় স্বীকৃতি। তিনি জানান, পরিবার তখনো ফিফার খবরটি জানে না, ফোন করে মা-বাবাকে জানাবেন। আর রেকর্ডের জন্য নয়, দেশের জন্য গোল করেন — এ কথাও বলেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের 6 মে 2019-এর প্রতিবেদনে তাঁর কথায় গোলের মুহূর্তটিও আছে। তিনি ভাবছিলেন আক্রমণভাগের কাছাকাছি যেতে পারলে গোল হতে পারে; হেড করার পর বল নিয়ন্ত্রণে নেন; শট নেওয়ার সময় ভাবেননি গোল হবে, পরে দেখেন বল জালে। তিনি বলেন, তাঁর পজিশনে গোল করার চেয়ে গোল করানো বেশি জরুরি।
প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দলের অনুশীলনের পর তিনি আলাদা করে কর্নার ও ফ্রি কিক নিয়ে কাজ করেন: “আমি প্রতিদিন গোল করার জন্য আলাদাভাবে অনুশীলন করি।” ডেইলি স্টারকে দেওয়া ব্যাখ্যা আরও নির্দিষ্ট: জাতীয় দলের নিয়মিত অনুশীলনের পর খেলোয়াড়েরা নিজেদের দক্ষতার জন্য বাড়তি 10 মিনিট পান, সেখানে ফ্রি কিক, কর্নার আর দূরপাল্লার শট অনুশীলন হয়।
সেই সাক্ষাৎকারেই মনিকা জানান, তখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর গোল 10টি। মাঝমাঠে তিনি মারিয়া মান্দার সঙ্গে জায়গা বদল করে খেলেন — একজন ওপরে উঠলে অন্যজন পেছনে থাকেন। ফরোয়ার্ড হিসেবে না খেলা নিয়ে তাঁর আক্ষেপ নেই, কোচেরা যেখানে খেলান সেখানেই খুশি — এমনটাই বলেছিলেন তিনি।
কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, গোলটি অসাধারণ এবং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় অর্জন; মনিকা আগেও এমন গোল করেছেন। প্রথম আলো সেই আগের গোলের একটির কথা লিখেছে: মিয়ানমারের বিপক্ষে কর্নার থেকে সরাসরি গোল। ডেইলি স্টারও লিখেছে, মনিকা একবার সরাসরি কর্নার কিক থেকে গোল করেছিলেন।
শুক্রবার, 3 মে 2019, বাংলাদেশ-লাওস ফাইনাল বাতিল হয় ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে। দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। চ্যাম্পিয়নের 25 হাজার আর রানার্সআপের 15 হাজার মার্কিন ডলার মিলিয়ে মোট 40 হাজার ডলার দুই দলের মধ্যে সমান ভাগ হয় — প্রত্যেকে 20 হাজার ডলার, আর দুই দলই ট্রফি পায়।
বাতিলের কারণ বর্ণনায় দুই উৎস দুই রকম। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বিজ্ঞপ্তি বলছে, ঝড়ের কারণে মাঠ খেলার অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং ম্যাচ খেলা সম্ভব ছিল না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আয়োজক কমিটির প্রধান, বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রাজধানীর আবহাওয়া খেলার উপযোগী থাকলেও কমিটি কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি।
এই কারণে মনিকার সেমিফাইনালের গোলটিই ছিল সেই আসরে বাংলাদেশের শেষ গোল। ফাইনাল বাতিলের পরদিন, 4 মে, ঢাকা ট্রিবিউন ও দ্য ডেইলি স্টার ফিফার তালিকায় গোলটির খবর প্রকাশ করে।
মনিকা চাকমা পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলে শুরু করেন, বাবার আপত্তি সত্ত্বেও। প্রথম প্রতিযোগিতা ছিল বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ, লক্ষ্মীছড়ির মরাচেঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে। পরে রাঙামাটির মগাছড়ির স্কুলে খেলতে গেলে বাবার মত বদলায় — এ কথা মনিকা নিজে বলেছেন।

ঢাকা ট্রিবিউনকে 2019 সালের এপ্রিলে মনিকা বলেছিলেন, শুরুতে বাবা তাঁকে খুব একটা সমর্থন করতেন না। একুশে টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর শৈশবের খেলার সঙ্গী ছিলেন চাচাতো ভাইয়েরা, আর পাঁচ বোনের মধ্যে আরেক বোন অনিকা চাকমাও ফুটবল পছন্দ করতেন, তবে বেশি দূর খেলেননি।
দ্য ডেইলি স্টারকে 2019 সালের অক্টোবরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনিকা চাকমা বলেন, মগাছড়িতে এক ম্যাচে বাবা তাঁকে খেলতে দেখেন, খেলার ধরন দেখে মুগ্ধ হন, আর সেদিন থেকে পাশে আছেন। 2024 সালে বাবা বিন্দু কুমার চাকমা নিজেও চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীকে বলেন, মা-বাবা হিসেবে তাঁরা শুরুতে মেয়ের ফুটবল মেনে নিতে পারেননি, এখন তাঁকে নিয়ে গর্বিত। কথাটি দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে।
সুমন্ত পাড়া লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম এলাকা। 2024 সালের নভেম্বরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মনিকার বাড়িতে যাওয়ার সড়ক নেই, কালভার্ট নেই, ইন্টারনেট সুবিধাও নেই; 2022 সালের সাফ জয়ের পর দেওয়া আশ্বাসগুলো পূরণ হয়নি। ইনডিপেনডেন্ট টিভি অনুষ্ঠানটির খবর দেয়। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে তাঁর বাড়িতে যেতে হয়।
লক্ষ্মীছড়ি থেকে জাতীয় দলে আরও দুজন খেলেছেন। ডেইলি স্টার বাংলার 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনীর বাড়ি একই উপজেলার ভাইয়া পাড়ায়। সাফ 2022 জয়ের পর খাগড়াছড়ির তখনকার জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস মনিকা, আনুচিং, আনাই এবং সহকারী কোচ কৃষ্ণা চাকমাকে এক লাখ টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা দেন। পাহাড়ের অন্য খেলোয়াড়দের গ্রাম ও জনগোষ্ঠীর হিসাব আছে আমাদের আলাদা লেখা সাফজয়ী নারী দলে পাহাড়ের মেয়েরা-তে।
মনিকার নিজের ভাষ্যে, 2011 ও 2012 সালে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ খেলেন, তারপর রাঙামাটির মগাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে যান এবং 2013 সালে সেই স্কুলের হয়ে খেলেন। 2012 সালে তাঁর খেলা দেখে স্কুলটির কোচ বীরসেন চাকমা তাঁকে সেখানে ভর্তি হতে বলেছিলেন।
বীরসেন চাকমা (কোনো কোনো প্রতিবেদনে ‘বীর সেন’ বা ‘বিরসেন’) সম্পর্কে মনিকা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, তিনিই তাঁর প্রথম কোচ। বীরসেন তখন মনিকার খেলা নিয়ে বলেছিলেন, তিনি ভালো দৌড়ান, তাঁর খেলার দৃষ্টি ভালো, দলের জন্য পরিশ্রম করেন; পরামর্শ ছিল পা মাটিতে রাখা আর প্রতিটি টুর্নামেন্টকে আলাদা করে নেওয়া। এই স্কুল ও তার প্রধান শিক্ষকের গল্প নিয়ে আছে আমাদের লেখা মগাছড়ির প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমার গল্প।
স্কুলের নাম লেখায়ও ভিন্নতা আছে। ঢাকা ট্রিবিউন ইংরেজিতে লিখেছে Maghachari, ডেইলি স্টার বাংলা লিখেছে ‘ঘগড়া মগাছড়ি গ্রাম’, আর বাংলা উইকিপিডিয়ায় আছে ‘রাঙামাটি মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। একুশে টিভি জানিয়েছে, পরে তিনি রাঙামাটির ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জার্সি গায়ে খেলেন।
আরও দুজন কোচের নাম প্রতিবেদনে আছে। দ্য ডেইলি স্টারের সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটির কাউখালীতে সুইহলামং মারমা 2011 থেকে 2016 সালের মধ্যে ঋতুপর্ণা, মনিকা, রূপনা চাকমা এবং আনাই ও আনুচিং মগিনীকে কোচিং করিয়েছেন। দেশ রূপান্তর 2024 সালে শান্তি মনি চাকমাকে ঋতুপর্ণা ও মনিকার বেড়ে ওঠার সময়ের ফুটবল কোচ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের এপ্রিল 2019-এর প্রোফাইল অনুযায়ী রাঙামাটিতে বাছাইয়ের পর 2014 সালে মনিকা অনূর্ধ্ব-14 জাতীয় দলে ডাক পান; ডেইলি স্টার মে 2019-এ সালটি লিখেছে 2015। এরপরের ধাপগুলো এই প্রোফাইলে বিস্তারিত:
2019-এর গোলের পর মনিকা চাকমা জাতীয় দলের নিয়মিত মিডফিল্ডার হয়ে ওঠেন। 2022 সালে কাঠমান্ডুতে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তাঁর ক্রস থেকে প্রথম গোল আসে; বাংলাদেশ নেপালকে 3-1 গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জেতে। 2024 সালের ফাইনালে একই মাঠে, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম গোলটি তাঁর নিজের।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী 19 সেপ্টেম্বর 2022, দশরথ রঙ্গশালায় বৃষ্টিভেজা মাঠে, আহত সিরাত জাহান স্বপ্নার বদলি হিসেবে নামার চার মিনিট পর শামসুন্নাহার জুনিয়র 14 মিনিটে গোল করেন — মনিকা চাকমার ক্রস থেকে। এরপর কৃষ্ণা রানী সরকারের দুই গোল। মুহূর্তটির কথা মনিকার বাবা বিন্দু কুমার চাকমা ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেছিলেন: প্রথম 14 মিনিটে গোলের পাসটি তাঁর মেয়ের, গোলের পর বাড়িসুদ্ধ সবাই লাফিয়ে ওঠেন।
একই আসরের গ্রুপ পর্বে, 10 সেপ্টেম্বর 2022, পাকিস্তানের বিপক্ষে 6-0 জয়ের প্রথম গোলটিও মনিকার, তৃতীয় মিনিটে সাবিনা খাতুনের ব্যাক পাস থেকে। ইউএনবি লিখেছে, সাবিনার হ্যাটট্রিকের একটি গোলও এসেছিল মনিকার পাস থেকে।
30 অক্টোবর 2024, কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর 52 মিনিটে মনিকা চাকমা বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। চার মিনিট পর নেপালের আমিশা কার্কি সমতা ফেরান। জয়সূচক গোলটি করেন ঋতুপর্ণা চাকমা; বাংলাদেশ জেতে 2-1 গোলে, টানা দ্বিতীয় শিরোপা।
মনিকার গোলের বর্ণনা উৎসভেদে আলাদা। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের থ্রু বল থেকে তিনি গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে বল ঠেলে দেন। ইউএনবি লিখেছে, ভিড়ে ঠাসা গোলমুখ থেকে সুযোগ কাজে লাগান। কাঠমান্ডু পোস্টের বর্ণনায় নেপালের রক্ষণের ভুলের সুযোগে সাবিনা ও তহুরা খাতুন মিলে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে মনিকাকে বল সাজিয়ে দেন।
ঋতুপর্ণার গোলের মিনিট ঢাকা ট্রিবিউনে 80, ইউএনবি ও কাঠমান্ডু পোস্টে 81। ঋতুপর্ণা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন, আর রূপনা চাকমা টানা দ্বিতীয়বার সেরা গোলরক্ষক। দুজনের গল্প আছে আলাদা দুই লেখায়: ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনী, গোল ও পুরস্কার এবং গোলরক্ষক রূপনা চাকমার পথ।
লক্ষ্মীছড়িতে খবরটি পৌঁছায় রাতে। দেশ রূপান্তর লিখেছে, সুমান্ত পাড়ার বাসিন্দারা স্থানীয় দৈনিক আজাদীকে বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন মনিকা গোল করবেন, আর সেটিই হয়েছে। সেই নভেম্বরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রশাসন তাঁকে সংবর্ধনা দেয়; সেখানে মনিকা বলেন, “আমি দেশের জন্য, আপনাদের জন্য খেলছি।”
সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল 2025 সালে ক্রীড়া বিভাগে একুশে পদক পায়। ডেইলি স্টার বাংলা 6 ফেব্রুয়ারি 2025 সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার খবর দেয়, আর 20 ফেব্রুয়ারি ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পদক তুলে দেন।

দেশের বাইরে মনিকা চাকমা ক্লাব ফুটবল খেলেছেন ভুটানে। 2024 সালের আগস্টে রয়্যাল থিম্পু কলেজের হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাথমিক পর্বে খেলেন, 2025 সালে ভুটানের নারী লিগে পারো এফসির হয়ে। দেশে খেলেছেন ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবে, আর 2026 সালে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে আবার এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে।
ইউএনবি জানিয়েছে, সাবিনা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমা 2024 সালের আগস্টে ভুটানের রয়্যাল থিম্পু কলেজ (Royal Thimphu College) এফসির হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেন। 25 আগস্ট 2024 ইরানের Bam Khatoon-এর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলটি 2-1 গোলে হারে। ডেইলি স্টার লিখেছে, 55 মিনিটে মারিয়া মান্দার পাস থেকে মনিকার নিচু শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন।
2025 সালের এপ্রিলে মনিকা, সাবিনা, ঋতুপর্ণা ও মাতসুশিমা সুমাইয়া ভুটানের নারী জাতীয় লিগে পারো এফসিতে যোগ দেন। ইউএনবির হিসাবে সেবার একসঙ্গে রেকর্ড 9 জন বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভুটানের লিগে গিয়েছিলেন। 15 মে 2025 সামৎসের বিপক্ষে পারো জেতে 28-0 গোলে, লিগের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে মনিকা করেন 7 গোল — ডেইলি স্টার ও ইউএনবি দুই উৎসই একই সংখ্যা লিখেছে।
জুলাই 2025-এ এশিয়ান কাপ বাছাই শেষে দেশে ফিরেই ঋতুপর্ণা ও মনিকা আবার ভুটানের বিমানে ওঠেন। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, রাত পৌনে দুইটায় ঢাকায় নেমে হাতিরঝিলের সংবর্ধনা আর বাফুফে ভবন ঘুরে তাঁরা সরাসরি বিমানবন্দরে যান। 22 জুলাই 2025 ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের বিপক্ষে পারোর 3-1 জয়ে মনিকা একটি গোল করেন বলে দেশ রূপান্তর জানায়।
এএফসির 2026 সালের এশিয়ান কাপ দল-তালিকায় মনিকার ক্লাব লেখা ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। 2026 সালের আগস্টে তিনি রাজশাহী স্টার্সের (Rajshahi Stars FC) হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাথমিক পর্বে খেলেন। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী 17 আগস্ট 2026 মালয়েশিয়ার কোটা কিনাবালুতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে দলটি 4-0 গোলে হারে; দ্বিতীয়ার্ধে রাজশাহীর একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা ছিল মনিকার দূরপাল্লার শট, যা গোলরক্ষক ঠেকান।
বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলে 2026 সালে, অস্ট্রেলিয়ায়। জুলাই 2025-এ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে মনিকা চাকমা একটি গোল করেন। 3 মার্চ 2026 সিডনিতে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান কাপ ম্যাচের শুরুর একাদশে তিনি ছিলেন।
5 জুলাই 2025, থুউন্না স্টেডিয়ামে তুর্কমেনিস্তানকে 7-0 গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ গ্রুপে তিন ম্যাচেই জেতে; বাহরাইনকে 7-0 আর মিয়ানমারকে 2-1 গোলে হারিয়ে মূল পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবি দুই উৎসেই মনিকার গোল 16 মিনিটে, দলের চতুর্থ গোল। ইউএনবি লিখেছে, ঋতুপর্ণার দ্বিতীয় গোলটিও এসেছিল মনিকার শর্ট কর্নার থেকে।
সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে 3 মার্চ 2026 গতবারের চ্যাম্পিয়ন চীন বাংলাদেশকে 2-0 গোলে হারায়; দুটি গোলই প্রথমার্ধের শেষ দিকে। বাসসের দেওয়া শুরুর একাদশে মনিকা চাকমার নাম আছে। এএফসির দল-তালিকায় তাঁর নম্বর 6, পজিশন মিডফিল্ডার।
সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে মনিকার চারটি গোলের প্রতিটির ম্যাচ-প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার পরিসংখ্যান-ছকেও এই চারটিই আছে, সেপ্টেম্বর 2026 পর্যন্ত 48 ম্যাচে। ম্যাচ-সংখ্যাটি অন্য কোনো স্বাধীন উৎসে মেলানো যায়নি।
| তারিখ | প্রতিপক্ষ ও ফল | প্রতিযোগিতা, মাঠ | গোলের বর্ণনা ও উৎস |
|---|---|---|---|
| 23 জুন 2022 | মালয়েশিয়া, 6-0 | প্রীতি ম্যাচ, কমলাপুর, ঢাকা | 67 মিনিটে গোলমুখের জটলা থেকে, দলের পঞ্চম গোল (ঢাকা ট্রিবিউন) |
| 10 সেপ্টেম্বর 2022 | পাকিস্তান, 6-0 | সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ, কাঠমান্ডু | 3 মিনিটে, সাবিনার ব্যাক পাস থেকে (ইউএনবি) |
| 30 অক্টোবর 2024 | নেপাল, 2-1 | সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, কাঠমান্ডু | 52 মিনিটে (ঢাকা ট্রিবিউন, ইউএনবি, কাঠমান্ডু পোস্ট) |
| 5 জুলাই 2025 | তুর্কমেনিস্তান, 7-0 | এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাই, ইয়াঙ্গুন | 16 মিনিটে, দলের চতুর্থ গোল (ঢাকা ট্রিবিউন, ইউএনবি) |
2019 সালের মঙ্গোলিয়ার গোলটি এই হিসাবের বাইরে, কারণ সেটি অনূর্ধ্ব-19 দলের হয়ে।
একই নামের আরেক ফুটবলারের তথ্য অনেক জায়গায় এই মনিকা চাকমার নামে জুড়ে গেছে। দৈনিক জনকণ্ঠের 2018 সালের একটি প্রতিবেদন রাঙামাটির এক মনিকা চাকমার কথা লিখেছিল, যিনি তখন 19 বছর বয়সী, বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর ফুটবল ছেড়ে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। আলোচ্য মনিকার জন্ম 2003 সালে।
জনকণ্ঠের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই ফুটবলার 2010 সালে মঘাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট দিয়ে শুরু করেন, 2012 সালে শ্রীলঙ্কায় এএফসির টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-14 দলের হয়ে তিন গোল করেন, আর 2014 সালে অনূর্ধ্ব-16 দলের অধিনায়ক হন। সেই সময় তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ছিলেন।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার মনিকা চাকমা নিবন্ধে 2012 সালের শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের তিন গোল আর জানুয়ারি 2018-এ পুলিশে যোগদানের কথা আছে; দ্বিতীয় দাবিটির পাশে ‘citation needed’ চিহ্ন। বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে, ‘ম্যাজিকেল’ মনিকা চাকমা পুলিশে চাকরি নেননি; রাঙামাটির আরেক নারী ফুটবলার মনিকা চাকমা নিয়েছিলেন। 2019 সালের সাক্ষাৎকারে মনিকা নিজে অনূর্ধ্ব-14 দলে ডাক পাওয়ার সাল বলেছেন 2014।
নিচের অমিলগুলো উৎসের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো; কোনটি ঠিক, সে বিচার এখানে করা হয়নি।
মনিকা চাকমা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার, জন্ম 15 সেপ্টেম্বর 2003, বাড়ি খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সুমন্ত পাড়ায়। 2019 সালে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 গোল্ডকাপে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তাঁর একটি গোল ফিফার ‘Fans’ Favourites’ পাতায় জায়গা পায়। তিনি 2022 ও 2024 সালের সাফজয়ী দলের সদস্য এবং 2026 সালের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলেছেন।
ফিফার ওয়েবসাইটে 2 মে 2019 প্রকাশিত ‘Fans’ Favourites’ পাতায় গোলটির অংশের শিরোনাম ছিল “Magical Chakma”। লেখায় গোলটিকে বলা হয় “stunning volley” এবং সপ্তাহের প্রিয় গোলগুলোর একটি। বাংলা সংবাদমাধ্যম শিরোনামটি ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’ উপাধি হিসেবে লিখেছে; বাংলা উইকিপিডিয়ায় আছে ‘জাদুকরী চাকমা’।
গোলটি হয় 30 এপ্রিল 2019, মঙ্গলবার, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-19 নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। বাংলাদেশ ম্যাচটি 3-0 গোলে জেতে। মনিকা প্রথম গোলটি করেন প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এবং দ্বিতীয় গোলে মার্জিয়াকে পাস দেন।
উৎসভেদে আলাদা। বাসসের প্রতিবেদনে 45 মিনিট, প্রথম আলোর বাংলা প্রতিবেদনে 46 মিনিট, আর দ্য ডেইলি স্টারে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিট। সব বর্ণনাই একমত যে গোলটি বিরতির বাঁশির ঠিক আগে, বাঁ পায়ের ভলিতে, বক্সের কিনারা থেকে হয়েছিল।
না। এটি ছিল ফিফার ওয়েবসাইটের সাপ্তাহিক সংকলন, যেখানে ভক্তরা #WeLiveFootball হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রিয় ভিডিও বা লেখা পাঠাতেন আর ফিফা সপ্তাহের পাঁচটি বেছে প্রকাশ করত। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, তালিকায় কোনো ক্রম ছিল না, তবু মনিকার গোলটি সবার ওপরে রাখা হয়েছিল।
ফিফার পাতায় লেখা আছে ভিডিওটি এসেছে “Tawsif Akkas (England)”-এর কাছ থেকে। ঢাকা ট্রিবিউন নামটি লিখেছে Towsif Akkas। প্রথম আলো লিখেছে, গোলটি “এক বাংলাদেশির বদৌলতে” ফিফার দরবারে পৌঁছায়। ম্যাচের পর গোলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বাংলাদেশ ও লাওস যৌথ চ্যাম্পিয়ন। 3 মে 2019-এর ফাইনাল ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বাতিল হয়। বাফুফে জানায়, মোট 40 হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কারের অর্থ দুই দলের মধ্যে 20 হাজার ডলার করে ভাগ হবে এবং দুই দলই ট্রফি পাবে।
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সুমন্ত পাড়ায় (কোনো প্রতিবেদনে ‘সুমান্ত পাড়া’)। 2024 সালে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনায় বক্তারা বলেন, তাঁর বাড়িতে যাওয়ার সড়ক, কালভার্ট বা ইন্টারনেট সুবিধা নেই। তাঁর প্রথম প্রতিযোগিতা ছিল মরাচেঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ।
ঢাকা ট্রিবিউনের 2019 সালের প্রোফাইলে মনিকা নিজে বলেছেন, রাঙামাটির মগাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোচ বীরসেন চাকমা তাঁর প্রথম কোচ; 2012 সালে তাঁর খেলা দেখে তিনি মনিকাকে ওই স্কুলে ভর্তি হতে বলেন। ডেইলি স্টার 2025 সালে লিখেছে, সুইহলামং মারমা 2011–2016 সালে তাঁকে কোচিং করিয়েছেন।
2022 সালের ফাইনালে 14 মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের প্রথম গোলটি আসে মনিকার ক্রস থেকে; বাংলাদেশ নেপালকে 3-1 গোলে হারায়। একই আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি তৃতীয় মিনিটে গোল করেন। 30 অক্টোবর 2024-এর ফাইনালে 52 মিনিটে তাঁর গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, ম্যাচ শেষ হয় 2-1-এ।
দুটি, দুটিই ভুটানের। আগস্ট 2024-এ রয়্যাল থিম্পু কলেজের হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাথমিক পর্বে, আর 2025 সালে ভুটানের নারী জাতীয় লিগে পারো এফসির হয়ে। 15 মে 2025 সামৎসের বিপক্ষে পারোর 28-0 জয়ে তিনি 7 গোল করেন বলে ডেইলি স্টার ও ইউএনবি জানিয়েছে।
হ্যাঁ। এএফসির চূড়ান্ত দল-তালিকায় তিনি 6 নম্বর জার্সির মিডফিল্ডার, ক্লাব ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। 3 মার্চ 2026 সিডনিতে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান কাপ ম্যাচের শুরুর একাদশে বাসস তাঁর নাম দিয়েছে। বাছাইপর্বে 5 জুলাই 2025 তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে তিনি একটি গোল করেছিলেন।
দৈনিক জনকণ্ঠের 2018 সালের প্রতিবেদনের মনিকা চাকমা ছিলেন রাঙামাটির, তখন 19 বছর বয়সী, পুলিশের কনস্টেবল। আলোচ্য মনিকার জন্ম 2003 সালে, অর্থাৎ তখন তাঁর বয়স 14। বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে, পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন রাঙামাটির আরেক মনিকা চাকমা। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার দাবিটির পাশে ‘citation needed’ চিহ্ন আছে।
মনিকার গোলের গল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের ফুটবলের বড় গল্পের একটি অংশ। পাহাড়ের ইতিহাস, মানুষ ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের অন্য লেখাগুলো একসঙ্গে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:ফুটবল
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।