
May 9th, 2021 · ব্যাক্তিত্ব
1119
Last updated Nov 8th, 2026
0

2022 ও 2024 সালের দুটি সাফজয়ী নারী দল মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচজন খেলোয়াড় ছিলেন: রূপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী। সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে ছিলেন গারো জনগোষ্ঠীর মারিয়া মান্দা আর ঠাকুরগাঁওয়ের সাঁওতাল পরিবারের দুই বোন সোহাগী কিসকু ও কোয়াতি কিসকো। রূপনা, ঋতুপর্ণা, মনিকা ও মারিয়া দুই শিরোপাজয়ী দলেই ছিলেন।
এই লেখার ভিত্তি তিন ধরনের নথি। প্রথমত, দুই আসরের আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ঘোষিত 23 জনের তালিকা, যা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) ছেপেছিল। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) প্রতিটি ম্যাচের সরকারি ম্যাচ রিপোর্ট, যেখানে কে মাঠে নেমেছেন, কে কখন বদলি হয়েছেন আর কে কত মিনিটে গোল করেছেন লেখা আছে। তৃতীয়ত, খেলোয়াড়দের গ্রাম, পরিবার ও জনগোষ্ঠী নিয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। কোনো খেলোয়াড়ের জনগোষ্ঠী কেবল তখনই লেখা হয়েছে, যখন কোনো উৎস তা স্পষ্ট করে বলেছে; পদবি দেখে অনুমান করা হয়নি।
এটি জুমজার্নালের ফুটবল-গুচ্ছের কেন্দ্রীয় লেখা। তিনজন খেলোয়াড় ও তাঁদের বিদ্যালয়ের পূর্ণ গল্প আলাদা লেখায় আছে। সেগুলো হলো ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনী, গোল ও পুরস্কার, গোলরক্ষক রূপনা চাকমার পথচলা, মনিকা চাকমা ও ফিফার আলোচিত গোল, আর যে বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন জাতীয় দলে গেছেন তার গল্প মগাছড়ির প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা লেখায়। এখানে বিষয় কেবল দুই সাফ আসর: কে দলে ছিলেন, কোন ম্যাচে কী করেছেন, আর উৎস তাঁদের সম্পর্কে কী বলে।
সূচিপত্র
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল ছিল 23 জনের; তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচজন, সঙ্গে মারিয়া মান্দা ও সোহাগী কিসকু। 2024 সালের দলে পাহাড়ের তিনজন (রূপনা, ঋতুপর্ণা, মনিকা) ছিলেন, সঙ্গে মারিয়া মান্দা ও কোয়াতি কিসকো। দুই আসরে মোট আটজন আলাদা খেলোয়াড়।
প্রথম শিরোপার পর হিল ভয়েস একটি প্রতিবেদন ছাপে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এই প্রকাশনা 24 সেপ্টেম্বর 2022 লিখেছিল, সাফজয়ী নারী দল নিয়ে গোটা দেশের মতো পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরাও আনন্দিত, আর দলে পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে সাতজন আদিবাসী নারী ফুটবলার আছেন। একই প্রতিবেদন পাঁচজনের নাম দেয়: আনাই মগিনী, আনুচিং মগিনী, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও রূপনা চাকমা; আর বলে, পাঁচজনই রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসেছেন। সাতজনের বাকি দুজনের নাম প্রতিবেদনটি আলাদা করে বলেনি (দেখুন উৎসভেদে অমিল)।
ঢাকা ট্রিবিউন 7 অক্টোবর 2022 লিখেছিল, 23 জনের দলের পাঁচজন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জনগোষ্ঠী, চাকমা ও মারমা থেকে এসেছেন। কে কোন জনগোষ্ঠীর, প্রতিবেদনটি তা আলাদা করে বলেনি। মারিয়া মান্দাকে গারো জনগোষ্ঠীর বলে লিখেছে ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা ফিদেস (21 সেপ্টেম্বর 2022) ও ইডব্লিউটিএন নিউজ (1 জুন 2026)। কোয়াতি কিসকোকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারের সন্তান’ লিখেছে বাসস (6 নভেম্বর 2024); সোহাগী ও কোয়াতি যে বোন, আর তাঁদের রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রাম যে সাঁওতাল পরিবারের গ্রাম, তা লিখেছে ঢাকা ট্রিবিউন (17 আগস্ট 2024)।
রাষ্ট্রীয় নথিতে এই জনগোষ্ঠীগুলোর অবস্থান কী, অর্থাৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনের তফসিলে কারা আছে, তা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা কীভাবে 27 থেকে 50 হলো। পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও লেখা পাওয়া যাবে জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল কাঠমান্ডু পৌঁছায় 3 সেপ্টেম্বর 2022; সেদিনই বাসস দলের 23 জনের তালিকা ছাপে। 2024 সালের তালিকা ইউএনবি ছেপেছিল 14 অক্টোবর 2024, বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনের দিন। দুটি তালিকাই নিচে হুবহু ইংরেজি বানানে দেওয়া হলো; পাহাড় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খেলোয়াড়দের নাম গাঢ় অক্ষরে।
| আসর | ঘোষিত 23 জন (উৎসের বানানে) | উৎস |
|---|---|---|
| 2022, কাঠমান্ডু (6–19 সেপ্টেম্বর) | Rupna Chakma, Etie Rani, Sathi Biswas, Masura Parvin, Mossammat Akhi Khatun, Shamsunnahar, Sheuli Azim, Nilufa Yesmin Nila, Anai Mogini, Maria Manda (vice-captain), Monika Chakma, Shamsunnahar, Sohagi Kisku, Sapna Rani, Ritu Porna Chakma, Sanjida Akhter, Marzia, Sabina Khatun (captain), Srimoti Krishnarani Sarkar, Mosammat Sirat Jahan Shopna, Tohura Khatun, Anuching Mogini, Sajeda Khatun | বাসস, 3 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 2024, কাঠমান্ডু (17–30 অক্টোবর) | Rupna Chakma, Masura Parvin, Afeida Khandakar, Sheuli Azim, Shamsunnahar Sr, Nilufa Yasmin Nila, Airin Khatun, Kohati Kisku, Monika Chakma, Maria Manda (vice captain), Sapna Rani, Sumaya Matsushima, Sanjida Akhter, Munki Akhter, Ritu Porna Chakma, Shaheda Akter Ripa, Sabina Khatun (captain), Tohura Khatun, Shamsun nahar jr, Krishna Rani Sarkar, Mst Yearzan, Mile Akter, Mst Sagorika | ইউএনবি, 14 অক্টোবর 2024 |
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল খেলেছিল প্রধান কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটনের অধীনে। সাফের প্রতিটি ম্যাচ রিপোর্টে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের তালিকায় সহকারী কোচ হিসেবে আছে তৃষ্ণা চাকমার নাম (TRISHNA CHAKMA)। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর 20 সেপ্টেম্বর 2022 লিখেছে, তিনি খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেরাছড়ার বাসিন্দা। 2024 সালে প্রধান কোচ ছিলেন পিটার বাটলার; অধিনায়ক দুই আসরেই সাবিনা খাতুন।

দুই সাফজয়ী নারী দল মিলিয়ে পাহাড় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আটজন খেলোয়াড় নিচের ছকে। জনগোষ্ঠীর ঘরে কেবল সেটুকু লেখা, যা উৎস বলেছে। গ্রামের নাম একাধিক উৎসে ভিন্ন হলে দুটোই দেওয়া হয়েছে। জার্সি নম্বর সাফের ম্যাচ রিপোর্ট থেকে।
| খেলোয়াড় | বাড়ি (উৎস যা বলে) | জনগোষ্ঠী (উৎস যা বলে) | পজিশন | সাফ আসর ও জার্সি | উল্লেখযোগ্য |
|---|---|---|---|---|---|
| রূপনা চাকমা | ভূঁইয়ো আদাম গ্রাম, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন, নানিয়ারচর, রাঙামাটি | পাঁচজন মিলে ‘চাকমা ও মারমা’ (ঢাকা ট্রিবিউন); আলাদা করে উল্লেখ নেই | গোলরক্ষক | 2022 (1), 2024 (1) | দুই আসরেই সেরা গোলরক্ষক |
| ঋতুপর্ণা চাকমা | মগাছড়ি গ্রাম, ঘাগড়া ইউনিয়ন, কাউখালী, রাঙামাটি | পাঁচজন মিলে ‘চাকমা ও মারমা’ (ঢাকা ট্রিবিউন); আলাদা করে উল্লেখ নেই | উইঙ্গার | 2022 (17), 2024 (17) | 2024 সালের সেরা খেলোয়াড়; দুই আসরে 4 গোল |
| মনিকা চাকমা | লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি; পাড়া: সুমন্ত পাড়া (ডেইলি স্টার বাংলা) / Barmachari (হিল ভয়েস) | পাঁচজন মিলে ‘চাকমা ও মারমা’ (ঢাকা ট্রিবিউন); আলাদা করে উল্লেখ নেই | মিডফিল্ডার | 2022 (6), 2024 (6) | দুই আসরে 2 গোল, একটি 2024 ফাইনালে |
| আনাই মগিনী | সাতভাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি সদর | পাঁচজন মিলে ‘চাকমা ও মারমা’ (ঢাকা ট্রিবিউন); আলাদা করে উল্লেখ নেই | ডিফেন্ডার | 2022 (16) | 2021 সালের অনূর্ধ্ব-19 সাফ ফাইনালে জয়সূচক গোল |
| আনুচিং মগিনী | সাতভাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি সদর | পাঁচজন মিলে ‘চাকমা ও মারমা’ (ঢাকা ট্রিবিউন); আলাদা করে উল্লেখ নেই | ফরোয়ার্ড | 2022 (21) | 2023 সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর |
| মারিয়া মান্দা | কলসিন্দুর, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ; হিল ভয়েসের মতে কলসিন্দুর স্কুলের পেছনের গ্রাম Mandirkona | গারো (ফিদেস, ইডব্লিউটিএন) | মিডফিল্ডার | 2022 (8), 2024 (8) | দুই আসরে সহ-অধিনায়ক; 2026 সালে অধিনায়ক |
| সোহাগী কিসকু | রাঙ্গাটুঙ্গী, ঠাকুরগাঁও | সাঁওতাল পরিবার (ঢাকা ট্রিবিউন) | উৎসে উল্লেখ নেই | 2022 (14) | বোন কোয়াতির সঙ্গে রাঙ্গাটুঙ্গী একাডেমি থেকে |
| কোয়াতি কিসকো (Kohati Kisku) | রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রাম, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও | সাঁওতাল (বাসস; ঢাকা ট্রিবিউন) | ডিফেন্ডার | 2024 (21) | পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেছেন |
পজিশনের উৎস: রূপনা, ঋতুপর্ণা, মনিকা, আনাই ও আনুচিংয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা ট্রিবিউন (7 অক্টোবর 2022), মারিয়ার ক্ষেত্রে দ্য ডেইলি স্টার (20 সেপ্টেম্বর 2022), কোয়াতির ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার 2024 আসরের দলতালিকা। গ্রামের উৎস প্রতিটি খেলোয়াড়ের অংশে দেওয়া আছে।
সাফের সরকারি ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী 2022 সালের সাফজয়ী নারী দল পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিল, 2024 সালেরটি চারটি। রূপনা, মনিকা ও মারিয়া 2022 সালের পাঁচটি ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন; ঋতুপর্ণা পাঁচটিতেই বদলি হয়ে নেমেছেন। 2024 সালে রূপনা, মনিকা ও ঋতুপর্ণা চারটি ম্যাচেই শুরু থেকে ছিলেন।
ছকে ‘শুরু’ মানে প্রথম একাদশে। ‘বদলি 64′’ মানে 64 মিনিটে মাঠে নেমেছেন, আর ‘উঠে যান 46′’ মানে ওই মিনিটে তুলে নেওয়া হয়েছে। ‘বেঞ্চে’ মানে বদলি তালিকায় ছিলেন কিন্তু নামেননি; ‘তালিকায় নেই’ মানে সেই ম্যাচের রিপোর্টে নামই নেই।
| খেলোয়াড় | বনাম মালদ্বীপ 3–0 (7 সেপ্টে.) | বনাম পাকিস্তান 6–0 (10 সেপ্টে.) | বনাম ভারত 3–0 (13 সেপ্টে.) | সেমি: ভুটান 8–0 (16 সেপ্টে.) | ফাইনাল: নেপাল 3–1 (19 সেপ্টে.) |
|---|---|---|---|---|---|
| রূপনা চাকমা | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ |
| মনিকা চাকমা | শুরু | শুরু; গোল 3′ | শুরু | শুরু; উঠে যান 46′ | শুরু |
| মারিয়া মান্দা | শুরু | শুরু | শুরু | শুরু; উঠে যান 68′ | শুরু |
| ঋতুপর্ণা চাকমা | বদলি 84′ | বদলি 46′; গোল 77′ | বদলি 64′ | বদলি 16′; গোল 35′ | বদলি 57′ |
| আনুচিং মগিনী | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে |
| আনাই মগিনী | তালিকায় নেই | তালিকায় নেই | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে |
| সোহাগী কিসকু | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে | বেঞ্চে |
2022 সালের ফাইনালে সাফজয়ী নারী দল তিন গোল করে; গোলদাতা শামসুন্নাহার জুনিয়র (13′) ও কৃষ্ণা রানি সরকার (42′, 77′); নেপালের হয়ে অনিতা বাসনেত (70′)। ম্যাচ রিপোর্টে দর্শকসংখ্যা লেখা 15,730।
| খেলোয়াড় | বনাম পাকিস্তান 1–1 (20 অক্টো.) | বনাম ভারত 3–1 (23 অক্টো.) | সেমি: ভুটান 7–1 (27 অক্টো.) | ফাইনাল: নেপাল 2–1 (30 অক্টো.) |
|---|---|---|---|---|
| রূপনা চাকমা | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ; হলুদ কার্ড 37′ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ |
| ঋতুপর্ণা চাকমা | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু; গোল 7′; উঠে যান 63′ | শুরু, পুরো ম্যাচ; গোল 81′ |
| মনিকা চাকমা | শুরু; উঠে যান 83′ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ | শুরু, পুরো ম্যাচ; গোল 53′ |
| মারিয়া মান্দা | বদলি 83′ | শুরু; উঠে যান 58′ | শুরু; উঠে যান 79′ | শুরু, পুরো ম্যাচ |
| কোয়াতি কিসকো | শুরু, পুরো ম্যাচ | বেঞ্চে | বদলি 75′ | বেঞ্চে |
2024 সালের সাফজয়ী নারী দল ফাইনালে যে দুটি গোল করে, দুটিই পাহাড়ের দুই খেলোয়াড়ের: মনিকা চাকমা (53′) ও ঋতুপর্ণা চাকমা (81′)। নেপালের গোলটি 55 মিনিটে। ম্যাচ রিপোর্টে দর্শকসংখ্যা 15,373। প্রতিটি ম্যাচ রিপোর্টের লিংক তথ্যসূত্রে আছে; সাফের পুরোনো ঠিকানায় এখন ফাইলগুলো খোলে না, তাই ইন্টারনেট আর্কাইভের সংরক্ষিত কপির লিংক দেওয়া হয়েছে।
রূপনা চাকমা ছিলেন দুই সাফজয়ী নারী দল মিলিয়ে সব ম্যাচের প্রথম গোলরক্ষক, আর দুই আসরেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক। ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি 2022 ও 2024 সালের নয়টি ম্যাচের প্রতিটিতে পুরো সময় গোলপোস্টে ছিলেন।
প্রথম আলো 20 সেপ্টেম্বর 2022 লিখেছে, তাঁর বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়োআদাম গ্রামে। মা কালাসোনা চাকমা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, রূপনা গর্ভে থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামী মারা যান, আর চার ভাইবোনের মধ্যে রূপনা সবার ছোট। হিল ভয়েস তাঁর বাড়ির ঠিকানা লিখেছে ‘Ghilachari Bhuiadam Para’।
2022 সালের আসরে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে 23 গোল দিয়ে একটি গোল খেয়েছিল, সেটিও ফাইনালে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা 19 সেপ্টেম্বর 2022 লিখেছে, ফাইনালের আগে বাংলাদেশের গোলপোস্ট অক্ষত ছিল, তাই সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান রূপনা। দুই বছর পর আবার একই পুরস্কার। প্রথম আলোকে 4 নভেম্বর 2024 দেওয়া সাক্ষাৎকারে রূপনা দুটির মধ্যে প্রথমটিকে এগিয়ে রাখেন: ‘গতবার পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল খেয়েছিলাম, নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে। এবার প্রতি ম্যাচেই গোল খেয়েছি।’ ম্যাচ রিপোর্টও তাই বলে: 2024 সালের চার ম্যাচে বাংলাদেশ প্রতিটিতে একটি করে গোল খেয়েছিল।
ভারতের বিপক্ষে 2024 সালের গোলটি নিয়ে সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সহজ একটি বল হাত ফসকে বালা দেবীর হেডের নাগালে চলে যায়। ম্যাচ রিপোর্টে বালা দেবীর গোল 43 মিনিটে, আর 37 মিনিটে রূপনার হলুদ কার্ড। ঢাকা ট্রিবিউনের 2022 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোচ শান্তিমনি চাকমার হাতেই রূপনা ফরোয়ার্ড থেকে গোলরক্ষক হন। তাঁর পুরো জীবনী, ঘর পাওয়ার কালানুক্রম ও ক্লাব-ক্যারিয়ার আছে রূপনা চাকমাকে নিয়ে আলাদা লেখায়।
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল যে পাঁচটি ম্যাচ খেলে, ঋতুপর্ণা চাকমা তার প্রতিটিতে বদলি হয়ে নেমে দুটি গোল করেন। 2024 সালে চার ম্যাচেই শুরু থেকে খেলে আরও দুটি গোল করেন, যার একটি ফাইনালের জয়সূচক গোল, আর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে 31 ডিসেম্বর 2024 দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা নিজেই বলেছেন, তিনি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মগাছড়ি থেকে উঠে এসেছেন। প্রথম আলো (8 মার্চ 2025) লিখেছে, বাবা বরজবাঁশি চাকমা প্রায় দশ বছর আগে ক্যানসারে মারা যান। মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর ফুটবল শুরু। 2016 সালে তিনি বিকেএসপিতে ভর্তি হন, আর 2023 সালে খেলোয়াড় কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে।
2022 সালের পাকিস্তান ম্যাচে তিনি নামেন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, গোল করেন 77 মিনিটে। দ্য ডেইলি স্টার 11 সেপ্টেম্বর 2022 গোলটির বর্ণনা দিয়েছে: প্রায় 25 গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের ভলি, বল পাকিস্তানের জালের ওপরের বাঁ কোণে। গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন ছোট ভাই পার্বণ চাকমাকে, যিনি সে বছর 29 জুন বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে তিনি নামেন 16 মিনিটে, গোল করেন 35 মিনিটে।
2024 সালের ফাইনালের গোলের বর্ণনা দিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (30 অক্টোবর 2024)। 81 মিনিটে শামসুন্নাহার সিনিয়রের থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে তিনি বাঁ প্রান্তে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা তুম্বাপোর হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে বল গোললাইন পেরোয়। একই প্রতিবেদন বলছে, গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে তাঁর একটি করে দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগেছিল। প্রথম আলো লিখেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে 91 মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের সমতাসূচক গোলটি এসেছিল ঋতুপর্ণার ক্রস থেকে।
তাঁর জীবনী, বীরসেন চাকমার সঙ্গে সম্পর্ক আর সরকারি জমি নিয়ে জটিলতার পূর্ণ বিবরণ আছে ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনী লেখায়।
দুই সাফজয়ী নারী দল মোট নয়টি ম্যাচ খেলেছে; মনিকা চাকমা তার প্রতিটিতে প্রথম একাদশে ছিলেন। 2022 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে 3 মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম গোলটি তাঁর; 2024 সালের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে 53 মিনিটে প্রথম গোলটিও তাঁর।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা 20 সেপ্টেম্বর 2022 তাঁর বাবা বিন্দু কুমার চাকমাকে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সুমন্ত পাড়ার বাসিন্দা বলে লিখেছে। হিল ভয়েস লিখেছে, মনিকার বাড়ি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার Barmachari গ্রামে। ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিভাগীয় পর্যায়ের স্কুল টুর্নামেন্টে খেলা দেখে বীরসেন চাকমা মনিকাকে বোনসহ রাঙামাটিতে নিয়ে যান; পরে বোনটি বাড়ি ফিরে যান। হিল ভয়েসের তথ্য অনুযায়ী মনিকা ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন।
2022 সালের ফাইনালের দিন বাবা বিন্দু কুমার চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘প্রথম ১৪ মিনিটে গোলটা আমার মেয়ে পাস করে।’ ম্যাচ রিপোর্টে বাংলাদেশের প্রথম গোল শামসুন্নাহার জুনিয়রের, 13 মিনিটে; রিপোর্টে কোনো খেলোয়াড়ের গোলে সহায়তার হিসাব থাকে না। 2024 সালের শিরোপার পর রাঙামাটির সংবর্ধনায় (23 নভেম্বর 2024) মনিকা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, তাঁদের বিদ্যালয়টি এখনো জাতীয়করণ হয়নি; হলে নতুন নারী ফুটবলার তৈরি হতো।
2019 সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তাঁর যে গোল ফিফার আলোচনায় এসেছিল, তার বিবরণ আছে মনিকা চাকমা ও ফিফার আলোচিত গোল লেখায়।
যমজ বোন আনাই ও আনুচিং মগিনী 2022 সালের সাফজয়ী নারী দল ঘোষণার সময় 23 জনের তালিকায় ছিলেন, কিন্তু ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি। আনুচিং পাঁচটি ম্যাচেই বদলির তালিকায় ছিলেন; আনাইয়ের নাম শেষ তিনটি ম্যাচের তালিকায় আছে, প্রথম দুটিতে নেই। 2024 সালের দলে দুজনের কেউ ছিলেন না।
দ্য ডেইলি স্টার (24 ডিসেম্বর 2021) লিখেছে, তাঁদের পরিবার খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার Shaat Bhaiya Paara-র (সাতভাইয়া পাড়া) বাসিন্দা। বাবার নাম সেখানে Ripru Mog, মায়ের Apruna Mogini; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (24 ডিসেম্বর 2021) মায়ের নাম লিখেছে Aproma। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (20 সেপ্টেম্বর 2022) বাবার নাম লিখেছে রিপ্রু মগ, আর প্রথম আলো (5 এপ্রিল 2026) লিখেছে বাবা রিপ্রু মগিনী ও মা আপ্রমা মগিনী। বাংলা ট্রিবিউন (1 সেপ্টেম্বর 2016) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দুটিই লিখেছে, দুজনের জন্ম 2004 সালে, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে; আনাই বড়। আনাই ডিফেন্ডার, আনুচিং ফরোয়ার্ড।
খাগড়াছড়িতে তখন জেলার মেয়েদের দল ছিল না বলে 2013 সালে দুজন নারায়ণগঞ্জের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলেন (বাংলা ট্রিবিউন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। 2018 সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-16 নারী বাছাইপর্বে গ্রুপচ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 10 লাখ টাকা পান; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে, দুই বোনের 20 লাখ টাকায় পরিবার জমি কেনে। 2021 সালের ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-19 সাফ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে 1–0 জয়ের একমাত্র গোলটি আনাইয়ের।
2022 সালের সাফের পর দুজনের পথ ফুটবল থেকে সরে যায়। ঢাকা ট্রিবিউন 4 ফেব্রুয়ারি 2023 আনুচিংয়ের সাক্ষাৎকার ছেপেছে। বাফুফের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন সিদ্ধান্তটি বাদ পড়ার জন্য নয়, যেভাবে জানানো হয়েছে তার জন্য। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে পাঁচ-ছয় ম্যাচে 10 গোল করেছিলেন। প্রথম আলো 5 এপ্রিল 2026 লিখেছে, আনাই 21 বছর বয়সে ফুটবল ছেড়েছেন। এখন তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে অস্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে মাসে 10 হাজার টাকায় কাজ করছেন; আনুচিং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছেন। আনাই প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘একসময় সবাই খোঁজ নিত। এখন কেউ খোঁজ নেয় না।’
দুই সাফজয়ী নারী দল একই সহ-অধিনায়ক পেয়েছিল: মারিয়া মান্দা। 2022 সালের পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতে শুরু থেকে খেলেছেন; 2024 সালে প্রথম ম্যাচে বদলি হয়ে নামার পর বাকি তিনটিতে প্রথম একাদশে ছিলেন। ফিদেস (21 সেপ্টেম্বর 2022) তাঁকে গারো জনগোষ্ঠীর খ্রিষ্টান মেয়ে বলে পরিচয় দিয়েছে।
প্রথম আলো (2 অক্টোবর 2022) লিখেছে, ময়মনসিংহ থেকে 50 কিলোমিটারের বেশি দূরে ধোবাউড়া উপজেলায় গারো পাহাড়ের পাদদেশের কলসিন্দুর গ্রামের মেয়ে তিনি, আর সাফজয়ী মেয়েদের আটজন কলসিন্দুরের। একই লেখায় 2015 সালের কিশোর আলো থেকে উদ্ধৃতি আছে। মারিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা বীরেন্দ্র মারাত মারা যান। মা এনতা মান্দা ধান রোপণ ও কাটার কাজ করে চার সন্তানকে বড় করেন। হিল ভয়েস লিখেছে, মারিয়ার বাড়ি কলসিন্দুর স্কুলের পেছনের গ্রামে (প্রতিবেদনের বানানে Mandirkona), যেখানে যেতে সেতুহীন একটি খরস্রোতা নদী (Netai) দড়ি টেনে নৌকায় পার হতে হয়।
দ্য ডেইলি স্টার (20 সেপ্টেম্বর 2022) তাঁকে ‘the girl from the Garo foothills’ বলে বর্ণনা করেছে এবং লিখেছে, 2021 সালে অনূর্ধ্ব-19 সাফজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ইডব্লিউটিএন নিউজ (1 জুন 2026) লিখেছে, গারো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্যাথলিক মারিয়া মান্দাকে 2026 সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হয়েছে, আর তিনি ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের একটি প্যারিশের (Bhalukapara Parish) সদস্য।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামের দুই বোনকে পেয়েছিল দুই আসরের দুই সাফজয়ী নারী দল: সোহাগী কিসকু 2022 সালে, কোয়াতি কিসকো 2024 সালে। ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী সোহাগী 2022 সালের পাঁচ ম্যাচেই বদলির তালিকায় ছিলেন, মাঠে নামেননি। কোয়াতি 2024 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেন, সেমিফাইনালে 75 মিনিটে বদলি হয়ে নামেন।
বাসস 6 নভেম্বর 2024 লিখেছে, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারের সন্তান কোয়াতি কিসকোর বাড়ী রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামে’। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ের তিন খেলোয়াড় স্বপ্না, সাগরিকা ও কোয়াতির বেড়ে ওঠা রাণীশংকৈল উপজেলায়; তিনজনই রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামের একটি ফুটবল একাডেমি থেকে এসেছেন। একাডেমির পরিচালক তাইজুল ইসলাম বাসসকে বলেছেন, তাঁর একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত 16 জন মেয়ে বিভিন্ন সময় জাতীয় দলে খেলেছে। কোয়াতির বড় বোন ইপিনা কিসকো বাসসকে বলেছেন, খেলা শুরুর সময় অনেকে উপহাস করত।
ঢাকা ট্রিবিউন 17 আগস্ট 2024 রাঙ্গাটুঙ্গী নিয়ে ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্বে লিখেছে, সোহাগী ও কোয়াতি বোন; তিন বোনের মধ্যে বড়জনকে প্রথম একাডেমিতে আনেন একজন স্থানীয় কোচ, তাঁর পথ ধরে আসেন সোহাগী, তারপর কোয়াতি। মা-বাবা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে দুই মেয়ের আগ্রহ জন্মায়, আর পুরস্কারের টাকায় তাঁরা নতুন ঘর তোলেন ও দুই বিঘা জমি কেনেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামে প্রায় 30টি সাঁওতাল পরিবার আছে, আর কিসকু পরিবার খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে। একই প্রতিবেদন বলছে, দুই বোন প্রথম একাদশে কমই খেলেছেন, বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে ছিলেন।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ঠাকুরগাঁওয়ে সাফজয়ী সোহাগী কিসকু ও স্বপ্না রানীর গণসংবর্ধনার খবরে লিখেছে, জেলা প্রশাসন দুজনকে 50 হাজার টাকা করে দেয়, সঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও পৌরসভার অর্থ।
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল পাহাড় থেকে যে পাঁচজনকে পেয়েছিল, তাঁরা সবাই রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন (ঢাকা ট্রিবিউন, 7 অক্টোবর 2022)। তাঁদের খুঁজে আনা ও এক জায়গায় রাখার কাজ করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়টির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা, আর অনুশীলন করান কোচ শান্তিমনি চাকমা।
ঢাকা ট্রিবিউনের বিবরণ অনুযায়ী বীরসেন চাকমা 2011 সাল থেকে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে নিজ খরচে প্রতিভাবান মেয়েদের নিজের স্কুলে ভর্তি করান। মনিকা, আনাই ও আনুচিংকে আনা হয় খাগড়াছড়ি থেকে; যমজ দুই বোন বাবা-মাকে ছেড়ে থাকতে চাইছিল না বলে তাদের বাবাকেও আনা হয়। ঋতুপর্ণা তাঁর আত্মীয় এবং তাঁরই স্কুলের ছাত্রী। রূপনাকে 2011 সালে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে একটি স্কুল ম্যাচে খুঁজে পান বীরসেন ও শান্তিমনি। নানিয়ারচর থেকে কাউখালীতে আনতে পরিবারকে রাজি করাতে হয়েছিল, আর তাঁর খরচ বহন করতেন পাশের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
প্রথম আলো (27 জুন 2026) লিখেছে, 2011 সালের দিকে বীরসেন চাকমার কথায় শান্তিমনি চাকমা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে 17 জন মেয়েকে জোগাড় করেন; তাদের রাখা হয় ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে। ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, মগাছড়ি স্কুল বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়; প্রথম আলো সেই জাতীয় শিরোপার সাল লিখেছে 2012। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর দলটিকে একসঙ্গে রাখতে সবাইকে বিনা খরচে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।
কাউখালীর আরেক কোচ সুইহলামং মারমা 2011 থেকে 2016 সালের মধ্যে ঋতুপর্ণা, মনিকা, রূপনা ও মগিনী বোনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন বলে লিখেছে দ্য ডেইলি স্টার (11 সেপ্টেম্বর 2025)। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর 2022 সালে ক্যাহ্লাচাই মারমাকে ‘মণিকা, আনাইদের কোচ’ হিসেবে উদ্ধৃত করেছে। বীরসেন চাকমার পুরো গল্প আছে মগাছড়ির প্রধান শিক্ষকের লেখায়।
2022 সালের শিরোপার পর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন মনিকা, আনাই, আনুচিং ও সহকারী কোচ তৃষ্ণা চাকমাকে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক রূপনা ও ঋতুপর্ণার মায়ের হাতে দেড় লাখ টাকা করে চেক তুলে দেন। পাহাড়ের পাঁচজন রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে সংবর্ধনা পান। সাফজয়ী নারী দল নিয়ে জেলায় জেলায় পুরস্কার ও সংবর্ধনার তারিখ আর অঙ্ক নিচের ছকে।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 19 সেপ্টেম্বর 2022 | খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র দাশ বিশ্বাস মনিকা চাকমা, আনুচিং মগিনী, আনাই মগিনী ও সহকারী কোচ তৃষ্ণা চাকমাকে এক লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা |
| 20 সেপ্টেম্বর 2022 | রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রূপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে দুই মায়ের হাতে দেড় লাখ টাকা করে তুলে দেন | প্রথম আলো |
| 28 সেপ্টেম্বর 2022 | চট্টগ্রামের জামাল খান সার্কেলে দৈনিক আজাদীর সংবর্ধনা: মনিকা, আনাই, আনুচিং, ঋতুপর্ণা ও রূপনা | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা |
| 29 সেপ্টেম্বর 2022 (নির্ধারিত) | রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সংবর্ধনা, পাঁচজনকে নিয়ে | ঢাকা ট্রিবিউন, 27 সেপ্টেম্বর 2022 |
| 4 ফেব্রুয়ারি 2023 | ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার পর আনুচিং মগিনীর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাক্ষাৎকার | ঢাকা ট্রিবিউন |
| 16 ফেব্রুয়ারি 2023 | প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত সেমিপাকা ঘরের চাবি রূপনার মা কালাসোনা চাকমার হাতে | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা |
| 23 নভেম্বর 2024 | রাঙামাটিতে ঋতুপর্ণা, রূপনা ও মনিকাকে সংবর্ধনা; জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সেনাবাহিনী থেকে এক লাখ টাকা করে, পৌরসভা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে 50 হাজার টাকা করে; বীরসেন চাকমাকেও সংবর্ধনা | বাংলা ট্রিবিউন |
| 22 মার্চ 2025 | ঘাগড়া বাজারে প্রশাসনের বরাদ্দ করা খাস জমিতে ঘর তুলতে বাধার অভিযোগ ঋতুপর্ণার; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন | দ্য ডেইলি স্টার বাংলা |
| 5 এপ্রিল 2026 | আনাই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে অস্থায়ী কর্মচারী, আনুচিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন | প্রথম আলো |
দুই সাফজয়ী নারী দল গড়ার পর তৃতীয় শিরোপার সুযোগ ছিল 2026 সালে। সেবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ হয় ভারতের গোয়ায়, 25 মে থেকে 6 জুন। 6 জুনের ফাইনালে ভারত বাংলাদেশকে 3–1 গোলে হারায়, ফলে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় শিরোপা হয়নি। ফলে এই লেখা প্রকাশের দিন পর্যন্ত সাফজয়ী নারী দল দুটিই: 2022 ও 2024 সালের। সেই দুই দলের মারিয়া, কোয়াতি, ঋতুপর্ণা ও মনিকা 2026 সালের ফাইনালেও মাঠে নেমেছিলেন।
সাফের ফাইনাল ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি ঋতুপর্ণা চাকমার, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (45+2′)। প্রথম একাদশে ছিলেন মারিয়া মান্দা, কোয়াতি কিসকো ও ঋতুপর্ণা; গোলপোস্টে ছিলেন MILE AKTER, রূপনা চাকমা বদলির তালিকায়। মনিকা চাকমা 60 মিনিটে বদলি হয়ে নামেন, আর যোগ করা সময়ে নামেন রিপোর্টের বানানে UMEHLA MARMA। বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের তালিকায় সহকারী কোচ হিসেবে আছে LINA CHAKMA নামটি। উইকিপিডিয়ার আসরভিত্তিক পাতা লিখেছে, সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা।
2022 সালের সাফজয়ী নারী দল ছিল 23 জনের, তাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচজন: রূপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী। 2024 সালের দলে ছিলেন তিনজন: রূপনা, ঋতুপর্ণা ও মনিকা। পাঁচজনই রাঙামাটির কাউখালীর মগাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গারো জনগোষ্ঠীর মারিয়া মান্দা দুই আসরেই ছিলেন, দুবারই সহ-অধিনায়ক। ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামের সাঁওতাল পরিবারের দুই বোনের মধ্যে সোহাগী কিসকু ছিলেন 2022 সালের দলে, কোয়াতি কিসকো 2024 সালের দলে। মারিয়ার জনগোষ্ঠীর উৎস ফিদেস ও ইডব্লিউটিএন, কিসকু বোনদের ক্ষেত্রে বাসস ও ঢাকা ট্রিবিউন।
দুবার, দুই সাফজয়ী নারী দল মিলিয়ে: 2022 ও 2024 সালে। 2022 সালে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি গোল খায়, সেটিও ফাইনালে। 2024 সালে চার ম্যাচের প্রতিটিতে একটি করে গোল খেলেও তিনি আবার সেরা হন। সাফের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী দুই আসরের নয়টি ম্যাচেই তিনি পুরো সময় খেলেছেন।
দুটি গোলই পাহাড়ের খেলোয়াড়দের। সাফের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী 30 অক্টোবর 2024 কাঠমান্ডুতে নেপালের বিপক্ষে 53 মিনিটে গোল করেন মনিকা চাকমা, 81 মিনিটে জয়সূচক গোল ঋতুপর্ণা চাকমার। নেপালের গোলটি 55 মিনিটে। বাংলাদেশ জেতে 2–1 গোলে।
দুই শিরোপাজয়ী আসর মিলিয়ে চারটি। 2022 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে 77 মিনিটে ও সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে 35 মিনিটে, দুটিই বদলি হয়ে নেমে। 2024 সালে সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে 7 মিনিটে ও ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে 81 মিনিটে। 2026 সালের ফাইনালেও বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি তাঁর।
না। সাফের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী দুই যমজ বোন 2022 সালের ফাইনালে বদলির তালিকায় ছিলেন, কিন্তু মাঠে নামেননি। আসরের কোনো ম্যাচেই তাঁরা খেলেননি। আনুচিং পাঁচ ম্যাচেই বেঞ্চে ছিলেন, আনাইয়ের নাম শেষ তিন ম্যাচের তালিকায়। 2024 সালের দলে দুজনের কেউ ছিলেন না।
ঢাকা ট্রিবিউনকে 4 ফেব্রুয়ারি 2023 দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনুচিং বলেছেন, বাফুফের ক্যাম্প থেকে হঠাৎ বাদ দেওয়ার ধরন তাঁর কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছিল, তাই তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি বাদ পড়ার জন্য নয়, যেভাবে জানানো হয়েছে তার জন্য। প্রথম আলো (2026) লিখেছে আনাইও ফুটবল ছেড়েছেন।
ফিদেস (2022) ও ইডব্লিউটিএন নিউজ (2026) তাঁকে গারো জনগোষ্ঠীর বলে লিখেছে। প্রথম আলো লিখেছে, তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের; হিল ভয়েস লিখেছে কলসিন্দুর স্কুলের পেছনের একটি গ্রামে তাঁর বাড়ি। 2022 ও 2024 সালে সহ-অধিনায়ক, 2026 সালে অধিনায়ক।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী গ্রামের সাঁওতাল পরিবারের দুই বোন, রাঙ্গাটুঙ্গী ইউনাইটেড একাডেমি থেকে জাতীয় দলে যান (ঢাকা ট্রিবিউন, বাসস)। সোহাগী 2022 সালের দলে ছিলেন, কোনো ম্যাচে নামেননি। কোয়াতি 2024 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেন ও সেমিফাইনালে বদলি হয়ে নামেন। বাসস তাঁর নাম লেখে কোয়াতি কিসকো, সাফের তালিকায় Kohati Kisku।
ঢাকা ট্রিবিউন (2022) ও প্রথম আলো (2026) অনুযায়ী মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা 2011 সাল থেকে বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট ঘুরে মেয়েদের নিজের স্কুলে আনেন। কোচ শান্তিমনি চাকমা তাদের অনুশীলন করান। দ্য ডেইলি স্টার (2025) লিখেছে, কোচ সুইহলামং মারমাও 2011–2016 সালে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
না। 6 জুন 2026 গোয়ায় ফাইনালে ভারত বাংলাদেশকে 3–1 গোলে হারায়। সাফের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের গোলটি ঋতুপর্ণা চাকমার। মারিয়া মান্দা, কোয়াতি কিসকো ও ঋতুপর্ণা শুরু থেকে খেলেন, মনিকা চাকমা বদলি হয়ে নামেন, রূপনা চাকমা বেঞ্চে ছিলেন। ফলে সাফজয়ী নারী দল এখন পর্যন্ত দুটি: 2022 ও 2024 সালের।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

May 9th, 2021 · ব্যাক্তিত্ব
1119

May 5th, 2021 · ব্যাক্তিত্ব
2920

May 4th, 2021 · ব্যাক্তিত্ব
2455

Mar 26th, 2021 · পার্বত্য চট্টগ্রাম, ব্যাক্তিত্ব
3950

Jan 15th, 2021 · ব্যাক্তিত্ব
3429

Dec 14th, 2020 · ব্যাক্তিত্ব
1252