Jumjournal Logo

ঋতুপর্ণা চাকমা: মগাছড়ি থেকে সাফের সেরা খেলোয়াড় — জীবনী, গোল ও পুরস্কার

Last updated Nov 8th, 2026

0

ঋতুপর্ণা চাকমা মঞ্চে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে বেগম রোকেয়া পদক 2025-এর পদক ও সনদ নিচ্ছেন

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের এক পাহাড়ি গ্রাম থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের বাঁ প্রান্তের খেলোয়াড়, ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় (Most Valuable Player) এবং ২০২৫ সালের বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত প্রথম ফুটবলার। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) নিবন্ধন তালিকায় তাঁর জন্মতারিখ 30 ডিসেম্বর 2003। কাঠমান্ডুতে 2024 সালের সাফ ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জয়সূচক গোল আর 2025 সালে ইয়াঙ্গুনে মিয়ানমারের বিপক্ষে জোড়া গোল তাঁকে দেশের নারী ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম করেছে।

এই লেখা সংবাদপত্র, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও এএফসির প্রকাশিত তথ্য মিলিয়ে তৈরি একটি জীবনী: পরিবার ও গ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ফুটবল, বিকেএসপি, বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল, ক্লাব ক্যারিয়ার, প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে তাঁর গোল, পুরস্কার, আর সূত্রগুলো কোথায় একে অন্যের সঙ্গে মেলে না। পরিবার সম্পর্কে কেবল সেটুকুই আছে, যা তিনি নিজে বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন।

এক নজরে

  • জন্ম: 30 ডিসেম্বর 2003 (এএফসি নিবন্ধন তালিকা); জন্মস্থান কাউখালী, রাঙামাটি (উইকিপিডিয়া)।
  • গ্রাম: মগাছড়ি, ঘাগড়া ইউনিয়ন, কাউখালী উপজেলা, রাঙামাটি (প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪)।
  • জনগোষ্ঠী: চাকমা।
  • উচ্চতা: 147 সেন্টিমিটার; জার্সি নম্বর 17 (এএফসি নারী এশিয়ান কাপ 2026-এর নিবন্ধন তালিকা)।
  • পজিশন: বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার, মিডফিল্ডার; বাঁ পায়ের খেলোয়াড়।
  • শিক্ষা: মগাছড়ি (মঘাছড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিকেএসপি; 2023 সালে খেলোয়াড় কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি।
  • বড় শিরোপা: সাফ অনূর্ধ্ব-19 নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2021, সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2022 ও 2024, নারী ফুটবল লিগ 2025–26 (রাজশাহী স্টারস)।
  • বড় স্বীকৃতি: সাফ 2024-এর সেরা খেলোয়াড়, বেগম রোকেয়া পদক 2025 (নারী জাগরণ–ক্রীড়া)।

সূচিপত্র

  1. ঋতুপর্ণা চাকমা কোথায় জন্মেছেন, কোন গ্রামের মেয়ে
  2. পরিবার: বাবা, মা, বোনেরা ও ছোট ভাই পার্বণ
  3. মগাছড়ির স্কুলে প্রথম ফুটবল, আর যাঁরা হাতে ধরে শিখিয়েছেন
  4. বিকেএসপি, বাফুফে ক্যাম্প আর বয়সভিত্তিক দল
  5. সাফ 2022: বদলি খেলোয়াড় থেকে প্রথম শিরোপা
  6. সাফ 2024: ঋতুপর্ণা চাকমা কীভাবে টুর্নামেন্টের সেরা হলেন
  7. এশিয়ান কাপ বাছাই 2025: ইয়াঙ্গুনে জোড়া গোল
  8. অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ, গোয়ায় সাফ, জাপানে এশিয়ান গেমস (2026)
  9. ঋতুপর্ণা চাকমা কোন কোন ক্লাবে খেলেছেন
  10. আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোল: ঋতুপর্ণা চাকমা কত গোল করেছেন
  11. পুরস্কার: ঋতুপর্ণা চাকমা কী কী সম্মাননা পেয়েছেন
  12. খেলার ধরন: কোচেরা ঋতুপর্ণা চাকমা সম্পর্কে কী বলেছেন
  13. পড়াশোনা, বাড়ি আর স্বপ্নের একাডেমি
  14. উৎসভেদে অমিল: কোন তথ্যে সূত্রগুলো একমত নয়
  15. ঋতুপর্ণা চাকমা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা
  16. যা এখনো জানা যায়নি
  17. তথ্যসূত্র

ঋতুপর্ণা চাকমা কোথায় জন্মেছেন, কোন গ্রামের মেয়ে

ঋতুপর্ণা চাকমা রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ি গ্রামের মেয়ে। তাঁর জন্মতারিখ 30 ডিসেম্বর 2003; এএফসি নারী এশিয়ান কাপ 2026-এর চূড়ান্ত নিবন্ধন তালিকায় এই তারিখই লেখা। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়া জন্মস্থান হিসেবে কাউখালী উপজেলার নাম দিয়েছে। ইউএনবির প্রতিবেদন শুধু রাঙামাটি বলেছে।

গ্রামের ঠিকানাটি তিনি নিজেই দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া 2024 সালের সাক্ষাৎকারে বলেছেন: রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মাগাছড়ি (Magachhari)। প্রথম আলোর মার্চ 2025-এর প্রতিবেদন গ্রাম ও বিদ্যালয় দুটির নামই লিখেছে “মগাছড়ি”; প্রথম আলোর জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন ও বিডিনিউজ২৪ লিখেছে “মঘাছড়ি”। একই গ্রামের নাম সংবাদপত্রভেদে এভাবে কয়েক বানানে ছাপা হয়েছে; এই লেখায় “মগাছড়ি” ব্যবহার করা হলো।

ঢাকা ট্রিবিউনের জুলাই 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বাড়ি মূল সড়ক থেকে পাহাড়ের তিন-চার কিলোমিটার ভেতরে। ছোটবেলায় পাহাড়ি ছড়া বা “ঝিরি” থেকে পানি বয়ে আনতেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। 2025 সালের জুলাইয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, রাঙামাটি–চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক পরিষদের অর্থে নির্মাণ করা হচ্ছে।

জনগোষ্ঠীর দিক থেকে তিনি চাকমা। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে আমাদের আর্কাইভে আলাদা লেখা আছে: চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রামে কবে থেকে আছে, প্রাচীনতম লিখিত প্রমাণ। পুরো অঞ্চলের পরিচিতির জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জুমজার্নালের মূল পাতা।

পরিবার: বাবা, মা, বোনেরা ও ছোট ভাই পার্বণ

ঋতুপর্ণা চাকমার বাবা কৃষিকাজ করতেন এবং 2015 সালে ক্যানসারে মারা যান। পরিবারে চার মেয়ে ও এক ছেলে। একমাত্র ছোট ভাই পার্বণ চাকমা 2022 সালের 29 জুন বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিন বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে; সংসারের হাল এখন ঋতুপর্ণার হাতে, এ কথা তাঁর বোন প্রথম আলোকে বলেছেন।

বাবার নাম সংবাদপত্রভেদে নানা বানানে ছাপা হয়েছে: প্রথম আলো 2022-এ “ব্রজবাসী চাকমা”, প্রথম আলো 2025-এ “বরজবাঁশি চাকমা”, দেশ রূপান্তর “বরজ বাঁশি চাকমা”, দ্য ডেইলি স্টার “Baraj Banshi Chakma”, ইউএনবি “Bolaz Bashi Chakma”। ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা বলেছেন, বাবা ছিলেন দিনমজুর কৃষক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। প্রথম আলোর মার্চ 2025-এর প্রতিবেদন বলছে, জমিজমা বিশেষ ছিল না, ফসলে সংসার চলত না।

দেশ রূপান্তরের নভেম্বর 2024-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2015 সালে ঋতুপর্ণা পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা দিয়ে ফলের অপেক্ষায় ছিলেন। ফল বেরোনোর কয়েক দিন আগে বাবা মারা যান; তখন তাঁর বয়স 11। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, বাবার মৃত্যুর পর তিন বোনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, তিনি আর ভাই পড়া চালিয়ে যান।

বোনদের নাম প্রথম আলোর দুই প্রতিবেদনে দুইভাবে এসেছে। সেপ্টেম্বর 2022-এ: ভারতী চাকমা, পামপি চাকমা ও পুতুলি চাকমা। মার্চ 2025-এ: বাপ্পি, পাম্পি আর পুতুলি। দুই প্রতিবেদনই বলছে তাঁরা ঋতুপর্ণার বড়। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়া উল্টো লিখেছে, ঋতু চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। এই অমিল নিচের উৎসভেদে অমিল অংশেও আছে।

মায়ের নাম কয়েক বানানে

মায়ের নামও কয়েক রকম ছাপা হয়েছে: প্রথম আলো সেপ্টেম্বর 2022-এ “বোজোপতি চাকমা”, মার্চ 2025-এ “বোজপুতি চাকমা”, জুলাই 2025-এ একই প্রতিবেদনে “বাসুবতি” ও “বসুবতি”; দ্য ডেইলি স্টার “Bhujopati Chakma”; ইউএনবি ও উইকিপিডিয়া “Kala Sona Chakma”। চাকমা নামের বাংলা ও ইংরেজি প্রতিবর্ণীকরণে এমন ভিন্নতা সাধারণ; পরিবারের কোনো লিখিত বানান সংবাদে পাওয়া যায়নি।

দ্য ডেইলি স্টারের জুলাই 2025-এর প্রতিবেদনে বড় বোন পাম্পি চাকমা জানান, মা দেড় বছর ধরে অসুস্থ এবং ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। একই দিনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চিকিৎসার জন্য 3 লাখ টাকার চেক দেয়। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মিয়ানমারকে হারানোর পর ঋতুপর্ণা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাঁর জোড়া গোলের খবর শুনে অসুস্থ মা খুব খুশি হয়েছেন।

ভাই পার্বণ চাকমার মৃত্যু আর উৎসর্গ করা গোল

পার্বণ ছিলেন ঋতুপর্ণার চেয়ে দুই বছরের ছোট, রাঙামাটির এক কলেজের ছাত্র (প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, সেপ্টেম্বর 2022)। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছুটি হলে ঋতুপর্ণা 29 জুন 2022 ঢাকা থেকে বাসে বাড়ির পথে রওনা দেন। সেদিনই দুর্ঘটনা ঘটে, বাড়ি পৌঁছে তিনি খবর পান। ভাই-বোনের একসঙ্গে ভোটার হওয়ার কথা ছিল বলে তিনি প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বর 2022-এ কাঠমান্ডুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে তিনি তা ভাইকে উৎসর্গ করেন। ঠিক তিন বছর পর, 29 জুন 2025, ইয়াঙ্গুনে বাহরাইনের বিপক্ষেও গোল পান। সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইয়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর কথা লিখেছিলেন বলে দ্য ডেইলি স্টার জানায়।

মগাছড়ির স্কুলে প্রথম ফুটবল, আর যাঁরা হাতে ধরে শিখিয়েছেন

ঋতুপর্ণা চাকমা ফুটবল শুরু করেন মগাছড়ি (মঘাছড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, শুরু 2012 সালে, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সূত্রে। প্রথম লাথিতেই পায়ের নখ উঠে যায়; তখন জানতেন না মেয়েরাও ফুটবল খেলে।

নখ ওঠার পর অনুশীলনে যাওয়া বন্ধ করেছিলেন। ফেরান বিদ্যালয়ের তখনকার প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা, যিনি সম্পর্কে তাঁর কাকা। প্রথম আলোর মার্চ 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বীরসেনের ছোট ভাইয়ের বাসায় এক বছর থেকে তিনি পড়াশোনা ও অনুশীলন করেন, আর বীরসেন সাধ্যমতো খরচ জোগান। বীরসেন চাকমার ভূমিকা নিয়ে আলাদা লেখা: মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমার গল্প।

ঢাকা ট্রিবিউনকে ঋতুপর্ণা বলেছেন, যেখানে অনুশীলন হতো সেটি বাড়ি থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে, যাতায়াতে 20 টাকা লাগত। বাবার মৃত্যুর পর সেই ভাড়াও মায়ের পক্ষে দেওয়া কঠিন ছিল। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ফুটবল শেখাতেন শান্তিমনি চাকমা। ফুটবলে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে তিনি বীরসেন চাকমা ও শান্তিমনি চাকমার নাম করেছেন।

বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট আর প্রথম কোচ শান্তিমনি চাকমার স্মৃতি

প্রথম আলোর হিসাবে 2011 সালের বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মগাছড়ি বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, আর ঋতুপর্ণার সময়ে দলটি রানার্সআপ হয়। ইউএনবি লিখেছে, 2013 সালে 10 বছর বয়সে তিনি বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে খেলেন। শান্তিমনি চাকমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ঋতু বড় ম্যাচে এমন জায়গা থেকে গোল করেছিল, যেখান থেকে গোলের সম্ভাবনাই ছিল না।

কাউখালী উপজেলা মাঠে আরেকজন কোচও তাঁকে শিখিয়েছেন। দ্য ডেইলি স্টারের সেপ্টেম্বর 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী আনসারের কোচ সুইহ্লামং মারমা 2011 থেকে 2016 সালের মধ্যে ঋতুপর্ণা, মনিকা চাকমা, রূপনা চাকমা এবং আনাই ও আনুচিং মগিনিকে প্রশিক্ষণ দেন। 2018 সালে তিনি সুইহ্লামং ফুটবল একাডেমি গড়েন, যেখানে এখন পঞ্চাশের বেশি মেয়ে অনুশীলন করে।

সুইহ্লামং মারমার কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া দুই সতীর্থের জীবনী আলাদা লেখায়: গোলরক্ষক রূপনা চাকমা: ভূঁইয়ো আদাম থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক, আর মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা ও ফিফার “জাদুকরী” গোল।

বিকেএসপি, বাফুফে ক্যাম্প আর বয়সভিত্তিক দল

প্রথম আলোর হিসাবে ঋতুপর্ণা চাকমা 2016 সালে সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন এবং একই বছর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্যাম্পে সুযোগ পান। ঢাকা ট্রিবিউন ভর্তির বছর লিখেছে 2015। জাতীয় অনূর্ধ্ব-15 দলে তিনি প্রথম খেলেন 2017 সালে; তারপর অনূর্ধ্ব-16, 17, 18 পেরিয়ে 2019 সালে সিনিয়র দলে অভিষেক।

বিকেএসপিতে ভর্তি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ 40–50 হাজার টাকা দরকার ছিল, পরিবারের কাছে তা ছিল না। প্রথম আলো জানায়, এবারও বীরসেন চাকমা এদিক-ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করেন। পরে একসময় তিন-চার মাসের বেতন বাকি পড়লে চট্টগ্রামের এক পোশাক কারখানায় কাজ করা মেজ বোন কানের দুল বন্ধক রেখে টাকা জোগান। ঋতুপর্ণার ভাষায়: “আমি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। স্যার পাশে না থাকলে এত দূর আসতে পারতাম না।”

পজিশন বদলেছে বিকেএসপিতেই। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, শুরুতে মিডফিল্ডে খেলতেন, স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলেছেন, উইংয়ে খেলা শুরু বিকেএসপিতে। ডিসেম্বর 2025-এ বিকেএসপি তাদের 39 বছরের ইতিহাসের 50 জন “কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের” নামফলক উন্মোচন করে; ফুটবলের 13 জনের মধ্যে ঋতুপর্ণা চাকমা ছিলেন (ঢাকা ট্রিবিউন, বিএসএস)।

সাফ অনূর্ধ্ব-19 চ্যাম্পিয়নশিপ 2021

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তাঁর প্রথম বড় শিরোপা ঢাকায় 2021 সালের সাফ অনূর্ধ্ব-19 নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রথম আলোর হিসাবে ওই টুর্নামেন্টে তিনি ভুটানের বিপক্ষে একটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি গোল করেন; গোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উইকিপিডিয়ার তালিকায় অনূর্ধ্ব-19 দলের হয়ে 5 ম্যাচে 3 গোল। সাবেক কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, অনূর্ধ্ব-17 ও অনূর্ধ্ব-19 সময় থেকেই বক্সের কাছে বল পেলে তিনি শট নিতে বলতেন, আর ঋতু গোল করতেন।

সাফ 2022: বদলি খেলোয়াড় থেকে প্রথম শিরোপা

নেপালে 2022 সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল ঋতুপর্ণা চাকমার প্রথম সাফ। দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে বাংলাদেশের পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতেই তিনি বদলি হিসেবে নামেন। বাংলাদেশ সেবার প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। 2019 সালের সাফে তিনি দলে জায়গা পাননি বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

10 সেপ্টেম্বর 2022 কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ তখন 5–0 এগিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে প্রায় 25 গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের ভলিতে তিনি দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন (দ্য ডেইলি স্টার)। উইকিপিডিয়ার গোলতালিকায় এরপর 16 সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে 8–0 জয়ে তাঁর আরেকটি গোল আছে।

ঢাকা ট্রিবিউনকে ঋতুপর্ণা বলেছেন, 2022-এ বদলি হিসেবে খেলার পর তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন পরের আসরে একাদশে থাকবেন। 2024-এ তিনি প্রতিটি ম্যাচে শুরু থেকে খেলেন। সাফজয়ী দুই দলের পাহাড়ি খেলোয়াড়দের পূর্ণ তালিকা আলাদা লেখায়: সাফজয়ী নারী দলে পাহাড়ের মেয়েরা: কে কোন গ্রামের, কোন জনগোষ্ঠীর।

সাফ 2024: ঋতুপর্ণা চাকমা কীভাবে টুর্নামেন্টের সেরা হলেন

2024 সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ঋতুপর্ণা চাকমা চার ম্যাচের চারটিতেই একাদশে ছিলেন, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন, আর পাকিস্তান, ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে সতীর্থদের গোলে সহায়তা দেন। 30 অক্টোবর 2024 কাঠমান্ডুতে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে তাঁর বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বাংলাদেশ 2–1-এ জিতে শিরোপা ধরে রাখে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান তিনি।

ম্যাচফলঋতুপর্ণার ভূমিকাসূত্র
গ্রুপ: পাকিস্তান1–1যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রের সমতাসূচক গোলে ক্রসদ্য ডেইলি স্টার; প্রথম আলো
গ্রুপ: ভারত3–1 জয়গোলে সহায়তাদ্য ডেইলি স্টার
সেমিফাইনাল: ভুটান (27 অক্টোবর)7–1 জয়প্রথম গোল ও একটি সহায়তাপ্রথম আলো; দ্য ডেইলি স্টার
ফাইনাল: নেপাল (30 অক্টোবর)2–1 জয়জয়সূচক গোল (81 মিনিট, ইউএনবিতে 80)প্রথম আলো; ঢাকা ট্রিবিউন; ইউএনবি

পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে তাঁর একটি করে শট পোস্টে লেগে ফেরে (ঢাকা ট্রিবিউন)। ফাইনালের গোলটি বাঁ দিকের কঠিন কোণ থেকে নেওয়া; গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে ঢোকে। গোলটি ইচ্ছাকৃত শট নাকি ফসকে যাওয়া ক্রস, সে প্রশ্ন উঠেছিল। ঢাকায় ফিরে বাফুফে ভবনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মাথা তুলে নেপালের পোস্ট দেখে গোলের জন্যই শট নিয়েছিলেন, আর গোলটি একশবারের বেশি দেখেছেন।

গ্যালারির দর্শকসংখ্যা নিয়ে সূত্র দুটি আলাদা: প্রথম আলো লিখেছে 20 হাজার, ঢাকা ট্রিবিউন 15 হাজারের মতো। গোলের পর ঠোঁটে আঙুল রেখে দর্শকদের চুপ করানোর ভঙ্গিটি নিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, মনে হয়েছিল তিনি সত্যিই দর্শকদের চুপ করাতে পেরেছিলেন।

দ্য ডেইলি স্টার তাঁকে 2024 সালের “স্পোর্টস পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার” ঘোষণা করে। একই পত্রিকাকে দেওয়া বছরশেষের সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা বলেন, ওই বছর খেলোয়াড়দের বেতন অনিয়মিত ছিল, কখনো দুই-তিন মাস দেরিতে আসত, আর সেটিই ছিল সবচেয়ে কষ্টের। প্রথম আলো জানায়, নেপালে তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যে ছবি তুলতে স্থানীয় ভক্তদের লাইন পড়ত।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ 2024 জয়ের পর ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সিঁড়িতে ট্রফি ও পদক হাতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
2 নভেম্বর 2024, ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ছবি: Press Information Department (PID), বাংলাদেশ সরকার · Public domain · Wikimedia Commons

এশিয়ান কাপ বাছাই 2025: ইয়াঙ্গুনে জোড়া গোল

2 জুলাই 2025 ইয়াঙ্গুনের থুউন্না স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মিয়ানমারকে 2–1-এ হারায় বাংলাদেশ, দুটি গোলই ঋতুপর্ণা চাকমার। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পায়। প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউন অনুযায়ী মিয়ানমার তখন ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে 73 ধাপ ওপরে।

প্রথম গোল ফ্রি-কিক থেকে: তাঁর প্রথম শট রক্ষণে লেগে ফিরলে ফিরতি বলে বাঁ পায়ে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান। দ্বিতীয়টিতে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে পেনাল্টি বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে গোল। প্রথম আলো গোল দুটির সময় লিখেছে 18 ও 71 মিনিট, ইউএনবি 19 ও 72 মিনিট। মিয়ানমার শেষ দিকে একটি গোল শোধ করে।

বাছাইয়ের তিন ম্যাচেই তিনি গোল পান: 29 জুন বাহরাইনের বিপক্ষে 7–0 জয়ে একটি, মিয়ানমারের বিপক্ষে দুটি, আর 5 জুলাই তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে 7–0 জয়ে দুটি (17 ও 40 মিনিট, ঢাকা ট্রিবিউন)। বাংলাদেশ পূর্ণ 9 পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ “সি”-র শীর্ষে থাকে। খেলা শেষে মাকে ভিডিও কলে তিনি বলেছিলেন, “মা আমরা জিতে গেছি” (প্রথম আলো)।

জয়ের পর বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ সাংবাদিকদের বলেন, ঋতুপর্ণা “বাংলাদেশের মেসি” (দ্য ডেইলি স্টার)। সেই সময় মগাছড়ি গ্রামে উৎসবের খবর দেয় প্রথম আলো; গ্রামের দুজন বাসিন্দা বলেন, তাঁর কারণে অবহেলিত গ্রামটিকে এখন সবাই চেনে। বীরসেন চাকমা খেলাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন বলে প্রথম আলোকে জানান।

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ, গোয়ায় সাফ, জাপানে এশিয়ান গেমস (2026)

2026 সালে ঋতুপর্ণা চাকমা তিনটি বড় আসরে খেলেন। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ তিন ম্যাচেই হারে, কোনো গোল করতে পারেনি। জুনে ভারতের গোয়ায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন, তবে ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে 3–1-এ হারে। সেপ্টেম্বরে জাপানে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়।

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ, মার্চ 2026

এএফসির নিবন্ধন তালিকায় ঋতুপর্ণা ছিলেন 17 নম্বর জার্সিতে, ক্লাব রাজশাহী স্টারস, পজিশন মিডফিল্ডার। 3 মার্চ সিডনিতে চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি সামনের দুজনের বাঁ দিকে শুরু করেন (দ্য ডেইলি স্টার)। 14 মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে প্রায় 30 গজ দূর থেকে লব করেন; চীনের গোলরক্ষক চেন চেন পিছিয়ে গিয়ে তা ঠেকান (ঢাকা ট্রিবিউন)।

চীনের বিপক্ষে ম্যাচের ফল ঢাকা ট্রিবিউন ও দ্য ডেইলি স্টারের ম্যাচ প্রতিবেদনে 2–0, কিন্তু দ্য ডেইলি স্টারের টুর্নামেন্ট-শেষের বিশ্লেষণে 3–0। এরপর উত্তর কোরিয়ার কাছে 5–0 এবং 9 মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের কাছে 4–0 হার। শেষ ম্যাচে বিরতির আগে তাঁর দূরপাল্লার একটি শট উজবেক গোলরক্ষক দারুণভাবে ঠেকান (দ্য ডেইলি স্টার)।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ 2026, গোয়া

গোয়ায় ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচের আগে কোচ পিটার বাটলার তাঁকে “দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উইঙ্গারদের একজন” বলেন; মালদ্বীপের বিপক্ষে আগের ম্যাচটি তাঁর ভালো যায়নি বলেও স্বীকার করেন (দ্য ডেইলি স্টার)। মারগাওয়ের পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে সরাসরি গোল করেন তিনি, যাকে “অলিম্পিক গোল” বলা হয়। বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তের গোলে 2–1-এ জেতে।

6 জুনের ফাইনালে ভারত 42 মিনিটে এগিয়ে যায়, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঋতুপর্ণা সমতা ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত আরও দুই গোল করে 3–1-এ জেতে, টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভাঙে বাংলাদেশের। ম্যাচশেষে ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী বলেন, ঋতুপর্ণা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, এশিয়াতেও অসাধারণ, এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পথিকৃৎ (দ্য ডেইলি স্টার)।

এশিয়ান গেমস 2026, জাপান

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। ওসাকায় প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে 10–0 হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বাটলার ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনাকে একাদশে ফেরান; ফল 6–0 হার (ঢাকা ট্রিবিউন)। 21 সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে 0–0 ড্র। 38 মিনিটে তাঁর শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে যায়; বাজে ট্যাকলের শিকার হয়েও তিনি পুরো ম্যাচ খেলেন (ইত্তেফাক)। গোল ব্যবধানে বাংলাদেশ গ্রুপে চতুর্থ হয়।

ঋতুপর্ণা চাকমা কোন কোন ক্লাবে খেলেছেন

ঋতুপর্ণা চাকমা দেশে বসুন্ধরা কিংস, নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি ও রাজশাহী স্টারসে খেলেছেন; বিদেশে ভুটানের রয়্যাল থিম্পু কলেজ ও পারো এফসি এবং মিয়ানমারের আয়েইয়াওয়াদি এফসিতে। রাজশাহী স্টারসের হয়ে 2025–26 মৌসুমে তিনি দেশের নারী ফুটবল লিগ জেতেন।

সময়ক্লাব (দেশ)যা জানা যায়সূত্র
2016–2022বিকেএসপি (যুব)ভর্তি 2016 (প্রথম আলো) বা 2015 (ঢাকা ট্রিবিউন)প্রথম আলো; ঢাকা ট্রিবিউন; উইকিপিডিয়া
2020–2023বসুন্ধরা কিংস (বাংলাদেশ)লিগে 25 ম্যাচে 15 গোলউইকিপিডিয়া
2023–24নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি (বাংলাদেশ)লিগে 8 ম্যাচে 7 গোলউইকিপিডিয়া
আগস্ট 2024রয়্যাল থিম্পু কলেজ (ভুটান)এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাথমিক পর্বে ইরানের বাম খাতুনের বিপক্ষে 27 মিনিটে প্রায় 30 গজ দূর থেকে গোল; দল 2–1-এ হারেদ্য ডেইলি স্টার
2025পারো এফসি (ভুটান)15 মে 2025 সামৎসের বিপক্ষে লিগ রেকর্ড 28–0 জয়ে 4 গোলদ্য ডেইলি স্টার
2025–26রাজশাহী স্টারস (বাংলাদেশ)অভিষেক মৌসুমেই 10 ম্যাচের 10টিতে জয়, 90 গোল দিয়ে একটিও না খেয়ে লিগ চ্যাম্পিয়নঢাকা ট্রিবিউন; দ্য ডেইলি স্টার
জুন–2026আয়েইয়াওয়াদি এফসি (মিয়ানমার)তিন মাসের চুক্তি; এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে সিঙ্গাপুরের জুরংয়ের বিপক্ষে 4–0 জয়ে খেলেনবাংলা ট্রিবিউন; ইত্তেফাক; দ্য ডেইলি স্টার

ভুটানে দুই মৌসুম

রয়্যাল থিম্পু কলেজের হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাথমিক পর্বে চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে তাঁর গোলটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতায় অভিষেক ম্যাচেই (দ্য ডেইলি স্টার, আগস্ট 2024)। 2025 সালে তিনি পারো এফসিতে যোগ দেন, সঙ্গী সাবিনা খাতুন, মনিকা চাকমা ও মাতসুশিমা সুমাইয়া। ভুটানের পত্রিকা কুয়েনসেলকে তিনি বলেন, ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করাই এ মৌসুমের লক্ষ্য, আর ভুটানে থাকলে বাড়ির মতো লাগে।

বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ জুলাই 2025-এ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ভুটান লিগ শক্তিশালী নয়, খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য আরও শক্ত লিগ দরকার। নভেম্বর 2024-এ সাফ জয়ের পর উত্তর মেসিডোনিয়ার শীর্ষ লিগের একটি ক্লাব থেকে প্রস্তাব আসে বলে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়। ঋতুপর্ণা তখন বলেছিলেন, ইউরোপের লিগে খেলতে চান। ইউরোপের কোনো ক্লাবে তাঁর খেলার খবর পরে পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী স্টারস ও মিয়ানমার লিগ

ডিসেম্বর 2025-এ নাবিল গ্রুপের অর্থায়নে নতুন ক্লাব রাজশাহী স্টারস জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণাকে দলে নেয় (দ্য ডেইলি স্টার)। ক্লাবের ম্যানেজার জানান, খেলোয়াড়দের চুক্তি সর্বনিম্ন 75 হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে 5 লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি 2026-এ শেষ ম্যাচে আর্মির বিপক্ষে 3–0 জয়ে 86 মিনিটে গোল করে তিনি ম্যাচসেরা হন (ঢাকা ট্রিবিউন)।

মে 2026-এ ঋতুপর্ণা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মিয়ানমার লিগে খেলতে যাবেন, চুক্তি হয়েছে। একই প্রতিবেদনে কিরণ বলেন, জাতীয় দলের কার্যক্রম থাকলে বাফুফের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে অনুমতি না-ও দেওয়া হতে পারে। শেষে বিশ্বকাপ উদ্বোধনের রাতে, 11 জুন 2026, তিনি মিয়ানমার রওনা দেন (ইত্তেফাক)। মিয়ানমার লিগের এই ক্লাবে খেলা প্রথম বাংলাদেশি তিনি কি না, তা কোনো সূত্রে স্পষ্ট নয়।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোল: ঋতুপর্ণা চাকমা কত গোল করেছেন

ঋতুপর্ণা চাকমার মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের কোনো সরকারি তালিকা বাফুফে বা ফিফার ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। ঢাকা ট্রিবিউন ডিসেম্বর 2025-এ লিখেছে, তিনি জাতীয় দলের হয়ে 33 ম্যাচে 13 গোল করেছেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হিসাবে 21 সেপ্টেম্বর 2026 পর্যন্ত 45 ম্যাচে 15 গোল। দুই হিসাবের তারিখ আলাদা।

উইকিপিডিয়ার গোলতালিকা সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে প্রতিটি গোলের ম্যাচ ও ফল পাওয়া যায়। নিচের ছকে তারিখ ও স্কোর উইকিপিডিয়ার; শেষ কলামে যে সংবাদসূত্রে একই গোলের উল্লেখ আছে।

#তারিখপ্রতিপক্ষ ও স্থানফলপ্রতিযোগিতাসংবাদসূত্র
110 সেপ্টেম্বর 2022পাকিস্তান, কাঠমান্ডু6–0সাফ 2022প্রথম আলো; দ্য ডেইলি স্টার
216 সেপ্টেম্বর 2022ভুটান, কাঠমান্ডু8–0সাফ 2022উইকিপিডিয়া
3–44 ডিসেম্বর 2023সিঙ্গাপুর, ঢাকা8–0প্রীতি ম্যাচউইকিপিডিয়া
5–624 ও 27 জুলাই 2024ভুটান, থিম্পু5–1, 4–2প্রীতি ম্যাচউইকিপিডিয়া
727 অক্টোবর 2024ভুটান, কাঠমান্ডু7–1সাফ 2024 সেমিফাইনালপ্রথম আলো
830 অক্টোবর 2024নেপাল, কাঠমান্ডু2–1সাফ 2024 ফাইনালপ্রথম আলো; ঢাকা ট্রিবিউন
929 জুন 2025বাহরাইন, ইয়াঙ্গুন7–0এশিয়ান কাপ বাছাইদ্য ডেইলি স্টার; প্রথম আলো
10–112 জুলাই 2025মিয়ানমার, ইয়াঙ্গুন2–1এশিয়ান কাপ বাছাইপ্রথম আলো; ইউএনবি
12–135 জুলাই 2025তুর্কমেনিস্তান, ইয়াঙ্গুন7–0এশিয়ান কাপ বাছাইঢাকা ট্রিবিউন
143 জুন 2026নেপাল, মারগাও2–1সাফ 2026 সেমিফাইনালদ্য ডেইলি স্টার
156 জুন 2026ভারত, মারগাও1–3সাফ 2026 ফাইনালদ্য ডেইলি স্টার; ঢাকা ট্রিবিউন

এশিয়ান কাপের মূল পর্বে (মার্চ 2026) বাংলাদেশ কোনো গোলই করতে পারেনি (দ্য ডেইলি স্টার), আর এশিয়ান গেমসে (সেপ্টেম্বর 2026) তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল শূন্য (ঢাকা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক)। তাই এই দুই আসরে তাঁর নামের পাশে কোনো গোল নেই।

পুরস্কার: ঋতুপর্ণা চাকমা কী কী সম্মাননা পেয়েছেন

ঋতুপর্ণা চাকমার সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বেগম রোকেয়া পদক 2025, “নারী জাগরণ (ক্রীড়া)” বিভাগে। 9 ডিসেম্বর 2025 ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পদকটি তুলে দেন। দ্য ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউন অনুযায়ী তিনি এই পদক পাওয়া প্রথম ফুটবলার; দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, তিনি পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী।

ঋতুপর্ণা চাকমা মঞ্চে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে বেগম রোকেয়া পদক 2025-এর পদক ও সনদ নিচ্ছেন
9 ডিসেম্বর 2025, ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক গ্রহণ। ছবি: Press Information Department (PID), বাংলাদেশ সরকার · Public domain · Wikimedia Commons

পদক পেয়ে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই পুরস্কার শুধু তাঁর একার নয়, বাংলাদেশের সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণা। একই আলাপে জানান, তিনি ইউনিসেফের হয়ে কাজ করছেন। ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, একই বছর দলগতভাবে একুশে পদক পেয়েছিলেন, এবার ব্যক্তিগতভাবে রোকেয়া পদক পাওয়ায় দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব আরও বেড়েছে।

বছরপুরস্কার বা সম্মাননাসূত্র
2024সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় (MVP)দ্য ডেইলি স্টার; ঢাকা ট্রিবিউন; প্রথম আলো
2024দ্য ডেইলি স্টারের “স্পোর্টস পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার”দ্য ডেইলি স্টার
কুল-বিএসপিএ 2024 (এপ্রিল 2025)বর্ষসেরা ফুটবলার ও পপুলার চয়েস; বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদে রানারআপদ্য ডেইলি স্টার
2025একুশে পদক (সাফজয়ী দলের অংশ হিসেবে)ঢাকা ট্রিবিউন
সিটি গ্রুপ–প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কার 2024 (আগস্ট 2025)বিচারকদের ও পাঠকের ভোটে দুটি বর্ষসেরাপ্রথম আলো
9 ডিসেম্বর 2025বেগম রোকেয়া পদক 2025, নারী জাগরণ (ক্রীড়া)দ্য ডেইলি স্টার; ঢাকা ট্রিবিউন
ডিসেম্বর 2025বিকেএসপির 50 “কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের” নামফলকে নামঢাকা ট্রিবিউন
কুল-বিএসপিএ 2025 (মে 2026)হামজা চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে বর্ষসেরা ফুটবলার; বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদে রানারআপঢাকা ট্রিবিউন

কুল-বিএসপিএ 2024-এর অনুষ্ঠানে তিনি থাকতে পারেননি, তখন ভুটান লিগে খেলছিলেন; ভিডিও বার্তায় ধন্যবাদ জানান। একই আসরে তাঁর প্রথম শিক্ষক বীরসেন চাকমা “গ্রাসরুট স্পোর্টস পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার” পুরস্কার পান, পরিচয় দেওয়া হয় রাঙামাটির ফুটবল সংগঠক হিসেবে (দ্য ডেইলি স্টার)। প্রথম আলোর পুরস্কারের মঞ্চে পুরস্কার তুলে দেন দাবাড়ু রানী হামিদ ও ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ।

খেলার ধরন: কোচেরা ঋতুপর্ণা চাকমা সম্পর্কে কী বলেছেন

ঋতুপর্ণা চাকমা মূলত বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তাঁর শক্তি গতি, ড্রিবলিং, বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস আর বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শট। প্রথম আলো জানায়, তিনি শুধু বাঁ পায়ে গোলই করেন না, বাঁ হাতে লেখেনও। এএফসি তালিকায় তাঁর উচ্চতা 147 সেন্টিমিটার।

2025 সালের বাছাইয়ে পিটার বাটলারের 3-5-2 ছকে তিনি খেলেছেন সচল উইঙ্গার হিসেবে, লিখেছে দ্য ডেইলি স্টার। 2026 সালের সাফের আগে বাটলার তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উইঙ্গারদের একজন বলেন। ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে।

নিজের গোল নিয়ে প্রথম আলোর পুরস্কার অনুষ্ঠানে তাঁর উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত: “এমন গোল আমি অনুশীলনেও করি।” দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যদিও মেসিকেও পছন্দ করেন। প্রথম আলো 2022-এ লিখেছিল, ভাই পার্বণের প্রিয় ছিলেন মেসি, আর এ নিয়ে দুই ভাই-বোনের খুনসুটি চলত।

দুর্বল দিক নিয়েও সংবাদে কথা আছে। 2026 সালের সাফে দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, পুরো টুর্নামেন্টে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না; মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচটিকে বাটলার “অফ ডে” বলেছেন। একই আসরেই অবশ্য সেমিফাইনাল ও ফাইনালে তিনি গোল করেন।

পড়াশোনা, বাড়ি আর স্বপ্নের একাডেমি

প্রথম আলোর হিসাবে ঋতুপর্ণা চাকমা 2023 সালে খেলোয়াড় কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেছেন, খেলা আর পড়া একসঙ্গে চালানো কঠিন, ক্লাসে উপস্থিতি কমে গেছে, তবু স্নাতক শেষ করবেন। অবসরের পর ছোট ভাইয়ের নামে একটি ফুটবল একাডেমি গড়া তাঁর স্বপ্ন।

বাড়ি নিয়ে দুটি প্রতিশ্রুতির খবর আছে। নভেম্বর 2024-এ দ্য ডেইলি স্টার জানায়, 2022 সালের সাফ জয়ের পর সরকারের এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি মগাছড়ি গ্রামে বাড়ি করার জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই জমি তিনি পাননি। আগস্ট 2025-এ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁর বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় (বিডিনিউজ২৪)।

বিডিনিউজ২৪ অনুযায়ী পরিবার প্রকৌশলীর মাধ্যমে বাড়ির নকশা চূড়ান্ত করে বিসিবিতে পাঠিয়েছিল, আর বোর্ড সভায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তা অনুমোদন করেন। প্রতিবেদনটি বলছে, পরিবারটি অনেক দিন ধরে জরাজীর্ণ বাড়িতে থাকে এবং সংসার চলে ঋতুপর্ণার আয়ে। বাড়িটির নির্মাণ শেষ হয়েছে কি না, তা কোনো প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি।

দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া বছরশেষের সাক্ষাৎকারে মেয়েদের ফুটবলের পথে বাধা নিয়ে তিনি বলেন, মেয়েদের অর্জনের পরও দেশে অনেকের নেতিবাচক মনোভাব রয়ে গেছে; প্রতিটি জেলায় পূর্ণ সুবিধার একাডেমি দরকার। ঢাকা ট্রিবিউনের সাক্ষাৎকারের শিরোনামও তাঁর কথা থেকে: খেলা আর পড়াশোনার জন্য অনেকে তাঁর নিন্দা করেছেন।

উৎসভেদে অমিল: কোন তথ্যে সূত্রগুলো একমত নয়

ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনীর প্রায় সব তথ্য সংবাদপত্রের, আর কয়েকটি জায়গায় সূত্রগুলো আলাদা কথা বলে। নিচের ছকে প্রতিটি অমিল সূত্রের নামসহ পাশাপাশি রাখা হলো। কোনটি ঠিক, তা এখানে বিচার করা হয়নি।

বিষয়এক সূত্রঅন্য সূত্র
ভাইবোনের মধ্যে অবস্থানতিন বোন তাঁর বড় (প্রথম আলো 2022, 2025)তিনি সবার বড় (ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়া)
ভাইয়ের মৃত্যুর বছর29 জুন 2022 (প্রথম আলো; দ্য ডেইলি স্টার)2021 (ঢাকা ট্রিবিউনের সাক্ষাৎকার, নভেম্বর 2024)
বিকেএসপিতে ভর্তি2016 (প্রথম আলো)2015 (ঢাকা ট্রিবিউন)
ফুটবল শুরু2012, তৃতীয় শ্রেণি (ঢাকা ট্রিবিউন; উইকিপিডিয়া)2011-র বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের সূত্রে (প্রথম আলো); 2013-তে বঙ্গমাতায় স্কুলের হয়ে (ইউএনবি)
সিনিয়র দলে অভিষেক2019, মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে (ঢাকা ট্রিবিউন)জাতীয় দলে 2021 থেকে (ঢাকা ট্রিবিউন, ডিসেম্বর 2025; উইকিপিডিয়ার তালিকা)
সাফ 2024 ফাইনালের গোলের মিনিট81 (প্রথম আলো; ঢাকা ট্রিবিউন)80 (ইউএনবি)
সাফ 2024 ফাইনালের দর্শক20 হাজার (প্রথম আলো)প্রায় 15 হাজার (ঢাকা ট্রিবিউন)
মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলের মিনিট18 ও 71 (প্রথম আলো)19 ও 72 (ইউএনবি)
এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে ফল0–2 (ঢাকা ট্রিবিউন; দ্য ডেইলি স্টারের ম্যাচ প্রতিবেদন)0–3 (দ্য ডেইলি স্টারের টুর্নামেন্ট-শেষের প্রতিবেদন)
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের গ্রুপগ্রুপ এফ (ঢাকা ট্রিবিউন)গ্রুপ বি (দেশ রূপান্তর)
সাফ 2026 ফাইনালের দিনশনিবার, 6 জুন (ঢাকা ট্রিবিউন; দ্য ডেইলি স্টার)শুক্রবার রাত (দ্য ডেইলি স্টারের আরেক প্রতিবেদন)
বাবার নামব্রজবাসী / বরজবাঁশি / বরজ বাঁশি চাকমা (প্রথম আলো; দেশ রূপান্তর)Baraj Banshi (দ্য ডেইলি স্টার); Bolaz Bashi (ইউএনবি)
মায়ের নামবোজোপতি / বোজপুতি / বসুবতি চাকমা (প্রথম আলো); Bhujopati (দ্য ডেইলি স্টার)Kala Sona Chakma (ইউএনবি; উইকিপিডিয়া)
গ্রামের বানানমগাছড়ি (প্রথম আলো, মার্চ 2025)মঘাছড়ি (প্রথম আলো, জুলাই 2025; বিডিনিউজ২৪); Magachhari, Maghachhari, Moghachori (দ্য ডেইলি স্টার)

ঋতুপর্ণা চাকমা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

ঋতুপর্ণা চাকমার জন্ম কবে, কোথায়?

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ 2026-এর চূড়ান্ত নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ 30 ডিসেম্বর 2003। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়া জন্মস্থান রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা লিখেছে। তাঁর গ্রাম কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ি; এ ঠিকানা তিনি নিজে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া 2024 সালের সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

ঋতুপর্ণা চাকমা কোন জনগোষ্ঠীর?

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর মেয়ে, বাড়ি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলায়। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, কাউখালী উপজেলা মাঠে সুইহ্লামং মারমা 2011–2016 সময়ে তাঁকে এবং জাতীয় দলের মনিকা চাকমা ও রূপনা চাকমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়ায় চাকমা লিপিতেও তাঁর নাম লেখা আছে।

ঋতুপর্ণা চাকমার বাবা-মা কে?

বাবা কৃষিকাজ করতেন এবং 2015 সালে ক্যানসারে মারা যান। তাঁর নাম প্রথম আলো “ব্রজবাসী” ও “বরজবাঁশি চাকমা”, দেশ রূপান্তর “বরজ বাঁশি চাকমা” লিখেছে। মায়ের নাম প্রথম আলোতে “বোজোপতি”, “বোজপুতি” ও “বসুবতি চাকমা”, দ্য ডেইলি স্টারে “Bhujopati”, ইউএনবিতে “Kala Sona Chakma”। পরিবারে চার মেয়ে ও এক ছেলে।

ঋতুপর্ণার ভাই কীভাবে মারা যান?

একমাত্র ছোট ভাই পার্বণ চাকমা 29 জুন 2022 বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান (প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার)। তিনি রাঙামাটির এক কলেজে পড়তেন, ঋতুপর্ণার চেয়ে দুই বছরের ছোট ছিলেন। সেপ্টেম্বর 2022-এ সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল ভাইকে উৎসর্গ করেন ঋতুপর্ণা। ঢাকা ট্রিবিউনের এক সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর বছর 2021 ছাপা হয়েছে।

ঋতুপর্ণা চাকমা কোন স্কুলে পড়েছেন, ফুটবল শেখালেন কে?

তিনি মগাছড়ি (মঘাছড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন, তৃতীয় শ্রেণিতে ফুটবল শুরু। বিদ্যালয়ের তখনকার প্রধান শিক্ষক ও সম্পর্কে কাকা বীরসেন চাকমা তাঁকে দলে আনেন, খরচ জোগান। স্থানীয় কোচ শান্তিমনি চাকমা ও সুইহ্লামং মারমাও প্রশিক্ষণ দেন। পরে বিকেএসপিতে ভর্তি হন (প্রথম আলোতে 2016, ঢাকা ট্রিবিউনে 2015)।

সাফ 2024-এর ফাইনালে ঋতুপর্ণা কখন গোল করেন?

30 অক্টোবর 2024 কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে 1–1 অবস্থায় তিনি বাঁ দিকের কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জয়সূচক গোল করেন। প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউন সময় লিখেছে 81 মিনিট, ইউএনবি 80 মিনিট। বাংলাদেশ 2–1-এ জিতে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়, তিনি পান টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।

মিয়ানমারের বিপক্ষে জোড়া গোলের গুরুত্ব কী ছিল?

2 জুলাই 2025 ইয়াঙ্গুনে র‍্যাঙ্কিংয়ে 73 ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে বাংলাদেশ 2–1-এ হারায়, দুটি গোলই ঋতুপর্ণার। একই দিনে বাহরাইন–তুর্কমেনিস্তান ম্যাচ ড্র হওয়ায় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। বাছাইয়ের বাকি দুই ম্যাচে, বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষেও, তিনি গোল করেন।

ঋতুপর্ণা চাকমা কোন কোন ক্লাবে খেলেছেন?

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী দেশে বসুন্ধরা কিংস (2020–2023) ও নাসরিন (2023–24); সংবাদপত্র অনুযায়ী ভুটানের রয়্যাল থিম্পু কলেজ (2024, এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ) ও পারো এফসি (2025), দেশে রাজশাহী স্টারস (2025–26 লিগ চ্যাম্পিয়ন), আর মিয়ানমারের আয়েইয়াওয়াদি এফসি (2026, তিন মাসের চুক্তি)। আয়েইয়াওয়াদির হয়ে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলেছেন।

ঋতুপর্ণা চাকমা জাতীয় দলের হয়ে কত গোল করেছেন?

বাফুফে বা ফিফার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাতা পাওয়া যায়নি। ঢাকা ট্রিবিউন ডিসেম্বর 2025-এ লিখেছে 33 ম্যাচে 13 গোল। ইংরেজি উইকিপিডিয়া 21 সেপ্টেম্বর 2026 পর্যন্ত 45 ম্যাচে 15 গোল দেখায়, যার শেষ দুটি জুন 2026-এর সাফ সেমিফাইনাল ও ফাইনালে। দুই হিসাব আলাদা তারিখের, তাই সংখ্যাও আলাদা।

ঋতুপর্ণা চাকমা কী কী পুরস্কার পেয়েছেন?

সাফ 2024-এর সেরা খেলোয়াড়; দ্য ডেইলি স্টারের 2024 সালের স্পোর্টস পার্সোনালিটি; কুল-বিএসপিএ 2024-এ বর্ষসেরা ফুটবলার ও পপুলার চয়েস; সাফজয়ী দলের সঙ্গে একুশে পদক 2025; সিটি গ্রুপ–প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে দুটি বর্ষসেরা; 9 ডিসেম্বর 2025 বেগম রোকেয়া পদক; কুল-বিএসপিএ 2025-এ যৌথভাবে বর্ষসেরা ফুটবলার।

বেগম রোকেয়া পদক পাওয়া প্রথম ফুটবলার কে?

দ্য ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউন অনুযায়ী ঋতুপর্ণা চাকমাই প্রথম ফুটবলার, যিনি বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। 2025 সালের পদক তিনি পান “নারী জাগরণ (ক্রীড়া)” বিভাগে, 9 ডিসেম্বর 2025 ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে। আগের বছর পদকটি পেয়েছিলেন দাবাড়ু রানী হামিদ।

ঋতুপর্ণা চাকমা কোথায় পড়াশোনা করেন?

প্রথম আলো অনুযায়ী তিনি 2023 সালে খেলোয়াড় কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, খেলা আর পড়াশোনা একসঙ্গে চালানো কঠিন, ক্লাসে উপস্থিতি কমেছে, তবু যেভাবেই হোক স্নাতক শেষ করবেন। এর আগে 2015 সালে তিনি প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা দেন।

যা এখনো জানা যায়নি

  • সরকারি পরিসংখ্যান: জাতীয় দলের হয়ে মোট ম্যাচ ও গোলের কোনো বাফুফে বা ফিফা তালিকা পাওয়া যায়নি। ঢাকা ট্রিবিউন (33 ম্যাচ, 13 গোল) ও উইকিপিডিয়ার (45 ম্যাচ, 15 গোল) হিসাব যাচাই করার মতো সরকারি উৎস নেই।
  • দেশি ক্লাবের পরিসংখ্যান: বসুন্ধরা কিংস ও নাসরিনে ম্যাচ ও গোলের সংখ্যা শুধু উইকিপিডিয়ায় আছে; কোনো সংবাদসূত্র বা লিগের তালিকায় পাওয়া যায়নি।
  • পারো এফসি ও আয়েইয়াওয়াদির পূর্ণ মৌসুম: ভুটান লিগের পুরো মৌসুমে এবং মিয়ানমার লিগে তাঁর মোট গোল কোনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
  • ভাইবোনের ক্রম ও ভাইয়ের মৃত্যুর বছর: উপরের অমিল মেটানোর মতো কোনো তৃতীয় সূত্র পাওয়া যায়নি।
  • বাড়ি ও জমি: 2022-এর প্রতিশ্রুত জমি শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেছে কি না, আর বিসিবির বাড়ির নির্মাণ শেষ হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
  • উত্তর মেসিডোনিয়ার প্রস্তাব: নভেম্বর 2024-এর প্রস্তাবের পর কী হয়েছিল, কোনো সূত্রে জানা যায়নি।
  • চাকমা ভাষায় নামের বানান: চাকমা লিপিতে তাঁর নামের বানান উইকিপিডিয়ায় আছে, কিন্তু তাঁর বা পরিবারের নিজের লেখা কোনো রূপ পাওয়া যায়নি। চাকমা লিপি নিয়ে দেখুন চাকমা লিপি (অঝাপাত): উৎপত্তি, বর্ণমালা ও ইউনিকোড।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক ও দাপ্তরিক

  1. Asian Football Confederation। AFC Women’s Asian Cup Australia 2026 – Final Registration (squad lists), ফেব্রুয়ারি 2026, বাংলাদেশ অংশ (জন্মতারিখ, উচ্চতা, জার্সি, ক্লাব)।
  2. Press Information Department (PID), বাংলাদেশ সরকার। বেগম রোকেয়া পদক 2025 প্রদান, 9 ডিসেম্বর 2025; সাফজয়ী দলের ফটোসেশন, 2 নভেম্বর 2024 (আলোকচিত্র, Wikimedia Commons)।

বাংলা সংবাদমাধ্যম

  1. প্রথম আলো। ফুটবল খেলে যে কষ্ট ভুলতে চান ঋতুপর্ণা, 12 সেপ্টেম্বর 2022। ইংরেজি সংস্করণ: Ritu Porna wants to heal the wounds of brother’s demise with football।
  2. প্রথম আলো। মেয়েরা যে ফুটবল খেলে, ছোটবেলায় তা–ই জানতেন না ঋতুপর্ণা চাকমা, 8 মার্চ 2025।
  3. প্রথম আলো। ঋতুপর্ণার অসাধারণ দুই গোলে বাংলাদেশের মিয়ানমার-জয়, 2 জুলাই 2025।
  4. প্রথম আলো। খেলা শেষ করেই মাকে ফোন করে কী বলেছিলেন ফুটবলার ঋতুপর্ণা, 3 জুলাই 2025।
  5. প্রথম আলো। বাংলাদেশ এশিয়ান কাপে খেলবে কল্পনাও করেননি ঋতুপর্ণা, 4 জুলাই 2025।
  6. প্রথম আলো। জোড়া পুরস্কারে আলোকিত ফুটবল–রত্ন, আগস্ট 2025।
  7. দেশ রূপান্তর। সাফ কন্যা ঋতুপর্ণা বাবাকে হারিয়েছেন ক্যান্সারে, ভাই বিদ্যুৎস্পর্শে, 1 নভেম্বর 2024।
  8. দেশ রূপান্তর। এশিয়ান গেমস ফুটবলে দুই কোরিয়ার গ্রুপে ঋতুপর্ণারা, 23 জুলাই 2026।
  9. বিডিনিউজ২৪। ফুটবলার ঋতুপর্ণার জন্য বিসিবির উপহার একটি বাড়ি, 9 আগস্ট 2025।
  10. বাংলা ট্রিবিউন। মিয়ানমার লিগে খেলবেন ঋতুপর্ণা, বাফুফের অনুমতি মিলবে তো?, 5 মে 2026।
  11. দৈনিক ইত্তেফাক। বিশ্বকাপ উদ্বোধনের দিন মিয়ানমার গেলেন ঋতুপর্ণা, 12 জুন 2026।
  12. দৈনিক ইত্তেফাক। এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়, 21 সেপ্টেম্বর 2026।
  13. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। রোকেয়া পদক পেয়ে উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা, ডিসেম্বর 2025; আফঈদা-ঋতুকে ঘিরে রাজশাহীর শিরোপা স্বপ্ন, ডিসেম্বর 2025।

ইংরেজি সংবাদমাধ্যম

  1. The Daily Star। Ritu Porna dedicates wonder goal to late brother, 11 সেপ্টেম্বর 2022।
  2. The Daily Star। Ritu Porna strikes but RTC go down, আগস্ট 2024।
  3. The Daily Star। I was aiming for goal: Ritu Porna affirms about wonder strike, নভেম্বর 2024; A triumphant return, অক্টোবর 2024।
  4. The Daily Star। ‘I am my own inspiration’ (সাক্ষাৎকার) ও The Daily Star’s Sports Personality of the Year, ডিসেম্বর 2024।
  5. The Daily Star। Miraz named Kool-BSPA sportsperson of the year, এপ্রিল 2025; Ritu ‘at home’ in her Bhutan adventure so far, এপ্রিল 2025; 28-0: Bangladesh quartet run riot as Paro smash Bhutan league record, মে 2025।
  6. The Daily Star। Ritu’s golazo for late little brother lights up Yangon, জুন 2025; Ritu Porna is Bangladesh’s Messi: Kiron, জুলাই 2025; Ritu Porna’s ailing mother receives aid from BNP and District Council, জুলাই 2025।
  7. The Daily Star। Slow and steady, Suehlamong shaping stars in the hills, সেপ্টেম্বর 2025; Ritu Porna thrilled with Rokeya Padak, 9 ডিসেম্বর 2025; Afeida, Ritu headline Rajshahi Stars’ title ambition, ডিসেম্বর 2025।
  8. The Daily Star। Ritu Porna’s Rajshahi finish perfect to claim WFL crown, ফেব্রুয়ারি 2026; No Rupna in goal as Bangladesh take on champions China, মার্চ 2026; Bangladesh women’s AFC Asian Cup opener was a treat to watch, মার্চ 2026।
  9. The Daily Star। Bangladesh women conclude maiden Asian Cup campaign with Uzbekistan loss ও Bangladesh face Asian reality, মার্চ 2026।
  10. The Daily Star। Butler hails Ritu Porna as ‘one of the best wingers in South Asia’; Bangladesh fight back to secure final spot; Ritu Porna keeps Bangladesh level at halftime in SAFF final; ‘Scoreline did not reflect how the game went’; India coach hails ‘extraordinary’ Ritu Porna, মে–জুন 2026।
  11. The Daily Star। Ritu Porna’s Ayeyawady make winning AFC debut, 2026।
  12. Dhaka Tribune। ‘Many people spoke ill of me because of sports, studies’ (সাক্ষাৎকার), 14 নভেম্বর 2024।
  13. Dhaka Tribune। A big match player from the hills, 4 জুলাই 2025; Bangladesh hammer Turkmenistan 7-0, 5 জুলাই 2025।
  14. Dhaka Tribune। Footballer Ritu Porna receives Begum Rokeya Padak, 10 ডিসেম্বর 2025; Shakib, Ritu Porna included as name plaque of BKSP legends, 11 ডিসেম্বর 2025।
  15. Dhaka Tribune। Rituporna’s Rajshahi Stars clinch Women’s Football League, 13 ফেব্রুয়ারি 2026; Brave Bangladesh show fearless spirit in Asian Cup, 3 মার্চ 2026।
  16. Dhaka Tribune। Hamza steals the show at Kool-BSPA Sports Award 2025, 22 মে 2026; India halt Bangladesh’s title hattrick to reclaim SAFF throne, 6 জুন 2026।
  17. Dhaka Tribune। Bangladesh suffer 10-0 defeat to North Korea in Asian Games opener, 14 সেপ্টেম্বর 2026; Asian Games 2026: Bangladesh lose in football, hockey, 18 সেপ্টেম্বর 2026।
  18. UNB। Ritu Porna Chakma: The Heroine behind Bangladesh’s Historic Performance in the 2026 AFC Women’s Asian Cup qualification, 3 জুলাই 2025।

বিশ্বকোষ

  1. Wikipedia। Ritu Porna Chakma (সংস্করণ 30 অক্টোবর 2026); বাংলা উইকিপিডিয়া, বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা

শ্রীমৎ খুসী কৃষ্ণ ত্রিপুরা বলংরায় সাধু

May 20th, 2020 · ইতিহাস, ব্যাক্তিত্ব

1471

শ্রীমৎ খুসী কৃষ্ণ ত্রিপুরা বলংরায় সাধু