Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ম: কোন জেলায়, কোন জনগোষ্ঠীতে কোন ধর্মের মানুষ কত

Last updated Oct 19th, 2026

রাঙামাটির রাজবন বিহার প্রাঙ্গণ: সোনালি কারুকাজ করা ছাদের ভবন, ডান পাশে চূড়াওয়ালা বিহার ভবন ও পতাকা, মাঝখানে ইট বিছানো পথ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ম একটি নয়, অন্তত পাঁচটি ধারায় ভাগ হয়ে আছে। জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — এই তিন জেলার 1,842,811 জন মানুষের মধ্যে মুসলিম 821,277 (44.57%), বৌদ্ধ 769,450 (41.75%), হিন্দু 169,319 (9.19%), খ্রিষ্টান 60,008 (3.26%) এবং “অন্যান্য” 22,757 জন (1.23%)। জনগোষ্ঠী ধরে দেখলে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকরা বৌদ্ধ, ত্রিপুরারা মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী, বম, পাংখোয়া ও লুসাইরা খ্রিষ্টান, আর ম্রো ও খুমিদের মধ্যে একসঙ্গে কয়েকটি বিশ্বাস চলছে।

তিন জেলার যোগফল ও তার শতাংশ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) ছাপা সংখ্যা নয়; তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের সংখ্যা যোগ করে এই পাতার জন্য হিসাব করা। জেলা ও উপজেলার বাকি সব সংখ্যা সরাসরি প্রতিবেদনের ছক থেকে নেওয়া। জনগোষ্ঠীর ধর্ম নিয়ে শুমারি কোনো সংখ্যা দেয়নি, তাই সে অংশ বর্ণনামূলক উৎস থেকে — আর যেখানে দুই উৎস দুই রকম বলছে, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে। এই পাতা পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভের অংশ।

সূচিপত্র

  1. ২০২২ শুমারিতে কোন ধর্মের মানুষ কত
  2. ২০১১ থেকে ২০২২: অনুপাত কতটা বদলেছে
  3. ২৬ উপজেলায় ধর্মের হিসাব
  4. কোন উপজেলায় কোন ধর্ম সবচেয়ে বেশি
  5. শুমারির “অন্যান্য” ঘরে কারা
  6. কোন জনগোষ্ঠী কোন ধর্মের — এক ছকে
  7. চাকমারা কোন ধর্মাবলম্বী
  8. মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকরা কোন ধর্মের অনুসারী
  9. ত্রিপুরা, গুর্খা ও অহমিয়া: সনাতন ধর্ম
  10. বৌদ্ধধর্ম: লুরি থেকে থেরবাদ
  11. কঠিন চীবর দান ও অন্যান্য বৌদ্ধ উৎসব
  12. ক্রামা ধর্ম কী, কারা মানেন
  13. খ্রিষ্টধর্ম কোন কোন জনগোষ্ঠীতে
  14. প্রকৃতি-পূজা ও পুরনো বিশ্বাস
  15. “আদিবাসী কোন ধর্মের” — এক কথায় উত্তর হয় না কেন
  16. উপাসনালয় কত, আর বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির কোথায়
  17. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  18. যা এখনো জানা যায়নি
  19. তথ্যসূত্র

পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ধর্মের মানুষ কত — ২০২২ শুমারি কী বলছে

জনশুমারি ও গৃহগণনা 2022-এ তিন পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় জনসংখ্যা মুসলিম (821,277) ও বৌদ্ধ (769,450); দুইয়ের ফারাক 51,827 জন। রাঙামাটিই একমাত্র জেলা যেখানে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ (57.26%), বান্দরবানে মুসলিম 52.74%, আর খাগড়াছড়িতে কোনো ধর্মই 50% ছাড়ায়নি।

জেলামোটমুসলিমহিন্দুখ্রিষ্টানবৌদ্ধঅন্যান্য
রাঙামাটি647,586234,834 (36.26%)33,112 (5.11%)8,547 (1.32%)370,793 (57.26%)300 (0.05%)
খাগড়াছড়ি714,119332,687 (46.59%)119,706 (16.76%)4,407 (0.62%)256,600 (35.93%)719 (0.10%)
বান্দরবান481,106253,756 (52.74%)16,501 (3.43%)47,054 (9.78%)142,057 (29.53%)21,738 (4.52%)
তিন জেলা (যোগফল)1,842,811821,277 (44.57%)169,319 (9.19%)60,008 (3.26%)769,450 (41.75%)22,757 (1.23%)

উৎস: BBS, Population and Housing Census 2022-এর তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 “Population by Religion and Upazila, 2022” — রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। শেষ সারিটি এই তিন ছকের যোগফল।

চারটি বিষয় ছক থেকে সরাসরি পড়া যায়

  • খ্রিষ্টানদের বড় অংশ বান্দরবানে। তিন জেলার 60,008 খ্রিষ্টানের 47,054 জন (78.41%) এই এক জেলায়।
  • “অন্যান্য” ঘরটি প্রায় পুরোটাই বান্দরবানের। তিন জেলার 22,757 জনের 21,738 জন (95.52%) বান্দরবানে; রাঙামাটিতে মাত্র 300, খাগড়াছড়িতে 719।
  • হিন্দুদের বড় অংশ খাগড়াছড়িতে। তিন জেলার 169,319 হিন্দুর 119,706 জন (70.70%) খাগড়াছড়িতে।
  • বৌদ্ধদের প্রায় অর্ধেক রাঙামাটিতে। 769,450 বৌদ্ধের 370,793 জন (48.19%) রাঙামাটিতে, 256,600 খাগড়াছড়িতে, 142,057 বান্দরবানে।

গ্রাম ও শহরে ধর্মের অনুপাত আলাদা

তিন জেলাতেই গ্রামে বৌদ্ধদের অনুপাত শহরের চেয়ে বেশি, আর শহরে মুসলিমদের অনুপাত গ্রামের চেয়ে বেশি। বান্দরবানের গ্রামে খ্রিষ্টান 12.37% ও “অন্যান্য” 6.77%, শহরে তা নেমে 5.96% ও 1.20%।

এলাকামোটমুসলিমহিন্দুখ্রিষ্টানবৌদ্ধঅন্যান্য
রাঙামাটি — গ্রাম339,602107,708 (31.72%)12,232 (3.60%)6,320 (1.86%)213,218 (62.78%)124 (0.04%)
রাঙামাটি — শহর307,984127,126 (41.28%)20,880 (6.78%)2,227 (0.72%)157,575 (51.16%)176 (0.06%)
খাগড়াছড়ি — গ্রাম416,013159,940 (38.45%)75,789 (18.22%)3,150 (0.76%)176,915 (42.53%)219 (0.05%)
খাগড়াছড়ি — শহর298,106172,747 (57.95%)43,917 (14.73%)1,257 (0.42%)79,685 (26.73%)500 (0.17%)
বান্দরবান — গ্রাম286,687131,247 (45.78%)3,603 (1.26%)35,467 (12.37%)96,970 (33.82%)19,400 (6.77%)
বান্দরবান — শহর194,419122,509 (63.01%)12,898 (6.63%)11,587 (5.96%)45,087 (23.19%)2,338 (1.20%)

একটি সীমা মনে রাখা দরকার: শুমারি ধর্মের হিসাব দিয়েছে এলাকা ধরে, জনগোষ্ঠী ধরে নয়। মুসলিম ও হিন্দু সংখ্যার মধ্যে বাঙালি জনসংখ্যাও আছে। তুলনার জন্য, একই প্রতিবেদনগুলোর Table P17 অনুযায়ী তিন জেলায় “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গণনা করা মানুষ 920,248 জন (রাঙামাটি 372,875, খাগড়াছড়ি 349,390, বান্দরবান 197,983) — মোট জনসংখ্যার 49.94%; এটিও যোগফল থেকে হিসাব করা।

২০১১ থেকে ২০২২: ধর্মের অনুপাত কতটা বদলেছে

বাংলাপিডিয়ার জেলা-নিবন্ধে দেওয়া 2011 শুমারির সংখ্যার সঙ্গে মেলালে রাঙামাটিতে বৌদ্ধদের অনুপাত 58.23% থেকে 57.26%-এ, আর বান্দরবানে 31.69% থেকে 29.53%-এ নেমেছে; একই সময়ে দুই জেলাতেই মুসলিমদের অনুপাত বেড়েছে — রাঙামাটিতে 35.15% থেকে 36.26%, বান্দরবানে 50.75% থেকে 52.74%। খাগড়াছড়িতে শুমারির 2011 সালের জেলা প্রতিবেদন ধরলে বৌদ্ধদের অনুপাত 37.68% থেকে 35.93%-এ নেমেছে, মুসলিমদের 44.67% থেকে 46.59%-এ উঠেছে।

জেলাশুমারিমোটমুসলিমহিন্দুখ্রিষ্টানবৌদ্ধঅন্যান্য
রাঙামাটি2011595,979209,465 (35.15%)30,244 (5.07%)8,663 (1.45%)347,038 (58.23%)569 (0.10%)
রাঙামাটি2022647,586234,834 (36.26%)33,112 (5.11%)8,547 (1.32%)370,793 (57.26%)300 (0.05%)
খাগড়াছড়ি2011613,917274,258 (44.67%)103,195 (16.81%)4,070 (0.66%)231,309 (37.68%)1,085 (0.18%)
খাগড়াছড়ি2022714,119332,687 (46.59%)119,706 (16.76%)4,407 (0.62%)256,600 (35.93%)719 (0.10%)
বান্দরবান2011388,335197,087 (50.75%)13,137 (3.38%)39,333 (10.13%)123,052 (31.69%)15,726 (4.05%)
বান্দরবান2022481,106253,756 (52.74%)16,501 (3.43%)47,054 (9.78%)142,057 (29.53%)21,738 (4.52%)

রাঙামাটি ও বান্দরবানের 2011-র সারি বাংলাপিডিয়ার রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা-নিবন্ধ থেকে, যেগুলোর সূত্র হিসেবে লেখা আছে “Bangladesh Population Census 2011”; শতাংশ এই পাতায় হিসাব করা। রাঙামাটি ও বান্দরবানের মোট সংখ্যা (595,979 ও 388,335) BBS-এর 2022 প্রতিবেদনে দেওয়া 2011-র জনসংখ্যার সঙ্গে হুবহু মেলে। খাগড়াছড়ির বেলায় মেলে না, তাই খাগড়াছড়ির 2011-র সারিটি নেওয়া হয়েছে সরাসরি শুমারির জেলা প্রতিবেদন থেকে: BBS, Population and Housing Census 2011, Zila Report: Khagrachhari, Table PT14 (পৃ. 22)। সেখানে মোট জনসংখ্যা 613,917, খ্রিষ্টান 4,070 (0.66%)। বাংলাপিডিয়ার খাগড়াছড়ি নিবন্ধে খ্রিষ্টান 3,961 আর পাঁচ ধর্মের যোগফল 569,715, যা শুমারির মোটের চেয়ে প্রায় 44 হাজার কম।

সংখ্যায় দেখলে এগারো বছরে বান্দরবানে খ্রিষ্টান 39,333 থেকে 47,054 এবং “অন্যান্য” 15,726 থেকে 21,738 হয়েছে; রাঙামাটিতে খ্রিষ্টান 8,663 থেকে সামান্য কমে 8,547। 2011-র আগের শুমারিগুলোর জেলাভিত্তিক ধর্মের হিসাব এই পাতায় নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬ উপজেলায় কোন ধর্মের মানুষ কত

26টি উপজেলার 11টিতে বৌদ্ধরা অর্ধেকের বেশি, 7টিতে মুসলিমরা অর্ধেকের বেশি, আর বাকি 8টিতে কোনো ধর্মই 50% ছাড়ায়নি। হিন্দু, খ্রিষ্টান বা “অন্যান্য” কোনো উপজেলাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। নিচের ছকে প্রতিটি উপজেলার সংখ্যা ও শতাংশ BBS-এর জনশুমারি 2022-এর Table 3.1.13 থেকে নেওয়া।

উপজেলাজেলামোটমুসলিমহিন্দুখ্রিষ্টানবৌদ্ধঅন্যান্য
বাঘাইছড়িরাঙামাটি106,28726,291 (24.74%)7,089 (6.67%)604 (0.57%)72,267 (67.99%)36 (0.03%)
বরকলরাঙামাটি49,70811,305 (22.74%)434 (0.87%)272 (0.55%)37,686 (75.81%)11 (0.02%)
বিলাইছড়িরাঙামাটি29,5403,137 (10.62%)367 (1.24%)2,837 (9.60%)23,104 (78.21%)95 (0.32%)
জুরাছড়িরাঙামাটি26,932877 (3.26%)169 (0.63%)139 (0.52%)25,747 (95.60%)0 (0.00%)
কাপ্তাইরাঙামাটি55,41026,245 (47.37%)3,452 (6.23%)564 (1.02%)25,131 (45.35%)18 (0.03%)
কাউখালীরাঙামাটি66,31326,561 (40.05%)2,051 (3.09%)55 (0.08%)37,641 (56.76%)5 (0.01%)
লংগদুরাঙামাটি90,40867,465 (74.62%)1,113 (1.23%)361 (0.40%)21,461 (23.74%)8 (0.01%)
নানিয়ারচররাঙামাটি48,5237,201 (14.84%)906 (1.87%)41 (0.08%)40,362 (83.18%)13 (0.03%)
রাজস্থলীরাঙামাটি27,8646,107 (21.92%)2,445 (8.77%)3,017 (10.83%)16,294 (58.48%)1 (0.00%)
রাঙামাটি সদররাঙামাটি146,60159,645 (40.69%)15,086 (10.29%)657 (0.45%)71,100 (48.50%)113 (0.08%)
দীঘিনালাখাগড়াছড়ি115,44041,217 (35.70%)10,867 (9.41%)380 (0.33%)62,960 (54.54%)16 (0.01%)
গুইমারাখাগড়াছড়ি53,25816,295 (30.60%)11,991 (22.51%)65 (0.12%)24,894 (46.74%)13 (0.02%)
খাগড়াছড়ি সদরখাগড়াছড়ি136,14147,620 (34.98%)33,713 (24.76%)2,380 (1.75%)52,412 (38.50%)16 (0.01%)
লক্ষ্মীছড়িখাগড়াছড়ি27,1485,448 (20.07%)561 (2.07%)36 (0.13%)21,103 (77.73%)0 (0.00%)
মহালছড়িখাগড়াছড়ি49,07715,186 (30.94%)3,402 (6.93%)200 (0.41%)30,267 (61.67%)22 (0.04%)
মানিকছড়িখাগড়াছড়ি77,02752,387 (68.01%)7,817 (10.15%)221 (0.29%)16,557 (21.50%)45 (0.06%)
মাটিরাঙ্গাখাগড়াছড়ি126,60993,618 (73.94%)24,978 (19.73%)536 (0.42%)7,068 (5.58%)409 (0.32%)
পানছড়িখাগড়াছড়ি68,67821,141 (30.78%)14,741 (21.46%)341 (0.50%)32,452 (47.25%)3 (0.00%)
রামগড়খাগড়াছড়ি60,74139,775 (65.48%)11,636 (19.16%)248 (0.41%)8,887 (14.63%)195 (0.32%)
আলীকদমবান্দরবান63,80034,908 (54.71%)1,934 (3.03%)4,153 (6.51%)19,485 (30.54%)3,320 (5.20%)
বান্দরবান সদরবান্দরবান111,09650,847 (45.77%)8,721 (7.85%)6,473 (5.83%)40,536 (36.49%)4,519 (4.07%)
লামাবান্দরবান139,689100,088 (71.65%)4,078 (2.92%)8,715 (6.24%)23,876 (17.09%)2,932 (2.10%)
নাইক্ষ্যংছড়িবান্দরবান76,47760,709 (79.38%)539 (0.70%)373 (0.49%)14,841 (19.41%)15 (0.02%)
রোয়াংছড়িবান্দরবান27,7212,181 (7.87%)210 (0.76%)4,942 (17.83%)18,734 (67.58%)1,654 (5.97%)
রুমাবান্দরবান32,5332,401 (7.38%)556 (1.71%)12,142 (37.32%)11,971 (36.80%)5,463 (16.79%)
থানচিবান্দরবান29,7902,622 (8.80%)463 (1.55%)10,256 (34.43%)12,614 (42.34%)3,835 (12.87%)

বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা (11): বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, কাউখালী, নানিয়ারচর, রাজস্থলী, দীঘিনালা, লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, রোয়াংছড়ি। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা (7): লংগদু, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, আলীকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি। কোনো ধর্ম অর্ধেক ছাড়ায়নি (8): কাপ্তাই, রাঙামাটি সদর, গুইমারা, খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি।

শতাংশগুলো BBS-এর ছাপা শতাংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা; দশমিকের দ্বিতীয় ঘরে কোথাও এক ঘর এদিক-ওদিক হলে তা পূর্ণসংখ্যা থেকে নতুন করে হিসাব করার কারণে।

কোন উপজেলায় কোন ধর্ম সবচেয়ে বেশি, কোথায় সবচেয়ে কম

অনুপাতে বৌদ্ধ সবচেয়ে বেশি রাঙামাটির জুরাছড়িতে (95.60%), মুসলিম সবচেয়ে বেশি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে (79.38%), খ্রিষ্টান ও “অন্যান্য” দুটোই সবচেয়ে বেশি বান্দরবানের রুমায় (37.32% ও 16.79%), আর হিন্দু সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়ি সদরে (24.76%)।

বৌদ্ধ সবচেয়ে বেশি যে উপজেলাগুলোতে

জুরাছড়ি 95.60% (25,747 জন) · নানিয়ারচর 83.18% (40,362 জন) · বিলাইছড়ি 78.21% (23,104 জন) · লক্ষ্মীছড়ি 77.73% (21,103 জন) · বরকল 75.81% (37,686 জন) · বাঘাইছড়ি 67.99% (72,267 জন) · রোয়াংছড়ি 67.58% (18,734 জন) · মহালছড়ি 61.67% (30,267 জন)। জুরাছড়ির 26,932 জনের 25,747 জনই বৌদ্ধ। অনুপাতে সবচেয়ে কম মাটিরাঙ্গায় (5.58%)।

খাগড়াছড়ির প্রতিবেদনে একটি অসংগতি আছে: বর্ণনা-অংশে লেখা জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে বৌদ্ধদের হার সবচেয়ে বেশি দীঘিনালায়, 54.54%; অথচ একই পাতার ছকে লক্ষ্মীছড়িতে 77.73% ও মহালছড়িতে 61.67%। এই পাতায় ছকের সংখ্যাই ধরা হয়েছে।

খ্রিষ্টান সবচেয়ে বেশি যে উপজেলাগুলোতে

রুমা 37.32% (12,142 জন) · থানচি 34.43% (10,256 জন) · রোয়াংছড়ি 17.83% (4,942 জন) · রাজস্থলী 10.83% (3,017 জন) · বিলাইছড়ি 9.60% (2,837 জন) · আলীকদম 6.51% (4,153 জন) · লামা 6.24% (8,715 জন)। রুমা একমাত্র উপজেলা যেখানে খ্রিষ্টানরা (12,142) বৌদ্ধদের (11,971) চেয়ে সংখ্যায় সামান্য বেশি। রাঙামাটি জেলার ভেতরে খ্রিষ্টানদের দুটি কেন্দ্র রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি; খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায়, 2,380 জন (1.75%)।

“অন্যান্য” সবচেয়ে বেশি যে উপজেলাগুলোতে

রুমা 16.79% (5,463 জন) · থানচি 12.87% (3,835 জন) · রোয়াংছড়ি 5.97% (1,654 জন) · আলীকদম 5.20% (3,320 জন) · বান্দরবান সদর 4.07% (4,519 জন) · লামা 2.10% (2,932 জন)। বান্দরবানের বাইরে কোনো উপজেলায় এই ঘর 0.33%-ও ছাড়ায়নি; জুরাছড়ি ও লক্ষ্মীছড়িতে সংখ্যাটি শূন্য।

হিন্দু সবচেয়ে বেশি যে উপজেলাগুলোতে

খাগড়াছড়ি সদর 24.76% (33,713 জন) · গুইমারা 22.51% (11,991 জন) · পানছড়ি 21.46% (14,741 জন) · মাটিরাঙ্গা 19.73% (24,978 জন) · রামগড় 19.16% (11,636 জন) · রাঙামাটি সদর 10.29% (15,086 জন) · মানিকছড়ি 10.15% (7,817 জন)। প্রথম পাঁচটিই খাগড়াছড়ি জেলার।

মুসলিম সবচেয়ে বেশি ও সবচেয়ে কম

সবচেয়ে বেশি: নাইক্ষ্যংছড়ি 79.38% (60,709 জন) · লংগদু 74.62% (67,465 জন) · মাটিরাঙ্গা 73.94% (93,618 জন) · লামা 71.65% (100,088 জন) · মানিকছড়ি 68.01% (52,387 জন) · রামগড় 65.48% (39,775 জন) · আলীকদম 54.71% (34,908 জন)।

সবচেয়ে কম: জুরাছড়ি 3.26% (877 জন) · রুমা 7.38% (2,401 জন) · রোয়াংছড়ি 7.87% (2,181 জন) · থানচি 8.80% (2,622 জন) · বিলাইছড়ি 10.62% (3,137 জন) · নানিয়ারচর 14.84% (7,201 জন)।

শুমারির “অন্যান্য” ঘরে কারা — শুমারি যা বলে না

BBS ধর্মের পাঁচটি ঘর দিয়েছে — Muslim, Hindu, Christian, Buddhist ও Others। “Others”-এর ভেতরে কোন বিশ্বাসের মানুষ কত, তার কোনো ভাঙন প্রতিবেদনে নেই। বান্দরবানে এই ঘরে 21,738 জন (4.52%); ক্রামা বা প্রকৃতি-পূজারিদের আলাদা কোনো গণনা শুমারিতে পাওয়া যায়নি।

যা পাশাপাশি রাখা যায় তা হলো দুটি আলাদা ছক — ধর্মের ছক (Table 3.1.13) আর জনগোষ্ঠীর ছক (Table P17)। বান্দরবানের সাত উপজেলায় সেগুলো এ রকম:

উপজেলাখ্রিষ্টানঅন্যান্যম্রোখুমিবমত্রিপুরাখিয়াং
আলীকদম4,1533,32015,168783,452—
বান্দরবান সদর6,4734,5197,280812,7481,7711,310
লামা8,7152,93210,78144565,75521
নাইক্ষ্যংছড়ি373152,356—52022
রোয়াংছড়ি4,9421,6541,6854361,8822,143652
রুমা12,1425,4637,1578906,4702,913158
থানচি10,2563,8357,0211,8296856,336359
জেলা47,05421,73851,4483,28711,85422,5722,502

প্রথম দুই কলাম ধর্মের ছক থেকে, বাকি পাঁচটি জনগোষ্ঠীর ছক থেকে (BBS, বান্দরবান জেলা-প্রতিবেদন)। দুটি ছক একে অপরের সঙ্গে জোড়া নয়: কোন জনগোষ্ঠীর কতজন কোন ধর্মের ঘরে পড়েছেন, শুমারি তা বলেনি।

ছকটি দুই দিকেই সাবধান করে। রুমা, থানচি ও আলীকদমে “অন্যান্য” ঘরও বড়, ম্রো ও খুমি জনসংখ্যাও বড়। আবার নাইক্ষ্যংছড়িতে ম্রো 2,356 জন, অথচ “অন্যান্য” ঘরে মাত্র 15 জন; লামায় ম্রো 10,781, “অন্যান্য” 2,932। অর্থাৎ ম্রো জনসংখ্যা আর “অন্যান্য” ঘর এক জিনিস নয়।

বর্ণনামূলক উৎস কী বলে: আমাদের আর্কাইভের “ম্রো জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা” লেখা অনুযায়ী ম্রোরা সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী ও প্রকৃতি পূজারী, পরে তাঁদের সমাজে বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্রামা ধর্ম প্রচারিত হয়েছে। খুমি জাতির পরিচিতি বলছে, খুমিরা আজকাল তিন বিশ্বাসে — প্রকৃতি পূজারি, ক্রামা ও খ্রিষ্টান। শুমারির “অন্যান্য” ঘরের মানুষেরা কোন বিশ্বাসের অনুসারী, শুমারি তা আলাদা করে বলেনি; তাই এই ঘরকে সরাসরি ক্রামা বা প্রকৃতি-পূজার হিসাব হিসেবে পড়া যায় না।

ইউনিয়ন ধরে দেখলে: বান্দরবানের যেখানে “অন্যান্য” ও খ্রিষ্টান সবচেয়ে ঘন

একই প্রতিবেদনের Table P05 ধর্মের হিসাব দেয় ইউনিয়ন পর্যন্ত। বান্দরবানের 34টি ইউনিয়নের মধ্যে রুমার Galengya ইউনিয়নে “অন্যান্য” ঘরেই অর্ধেকের বেশি মানুষ (51.05%), আর রুমার Remakriprangsa ইউনিয়নে খ্রিষ্টান 72.98%।

ইউনিয়নউপজেলাপাঁচ ঘরের যোগফলঅন্যান্যখ্রিষ্টানবৌদ্ধমুসলিমহিন্দু
Galengyaরুমা6,6113,375 (51.05%)1,680 (25.41%)1,528 (23.11%)208
Tankabatiবান্দরবান সদর6,6722,923 (43.81%)1,674 (25.09%)884 (13.25%)1,14249
Remakriprangsaরুমা5,3191,248 (23.46%)3,882 (72.98%)117 (2.20%)6012
Tarachhaরোয়াংছড়ি8,4701,653 (19.52%)856 (10.11%)4,629 (54.65%)1,30131
Remakriথানচি8,1481,456 (17.87%)2,940 (36.08%)3,280 (40.26%)45022
Kurukpataআলীকদম11,2161,938 (17.28%)1,531 (13.65%)7,492 (66.80%)24312
Thanchiথানচি9,8351,650 (16.78%)2,636 (26.80%)4,081 (41.49%)1,273195
Tindu (তিন্দু)থানচি5,310610 (11.49%)3,139 (59.11%)1,470 (27.68%)892
Sualakবান্দরবান সদর13,3671,439 (10.77%)1,390 (10.40%)2,976 (22.26%)7,268294
Painduরুমা5,9680 (0.00%)2,050 (34.35%)3,842 (64.38%)742
Rumaরুমা14,635840 (5.74%)4,530 (30.95%)6,484 (44.30%)2,247534

ইউনিয়নের নামগুলো প্রতিবেদনে যেমন ইংরেজি হরফে আছে তেমনই রাখা হয়েছে। “পাঁচ ঘরের যোগফল” ও শতাংশ এই পাতায় হিসাব করা। Table P05-এর জেলা-যোগফল Table 3.1.13 থেকে কয়েকজন কম (যেমন মুসলিম 253,749 বনাম 253,756), তাই দুই ছকের সংখ্যা এক-দুই ঘরে না-ও মিলতে পারে।

ক্রামা অনুসারীর সংখ্যা কত — এ প্রশ্নের উত্তর শুমারিতে নেই। প্রচলিত একমাত্র সংখ্যা, আনুমানিক 21,000, কোনো তথ্যসূত্র ছাড়া ঘুরছে; বিস্তারিত ক্রামা ধর্ম নিয়ে আমাদের লেখায়।

কোন জনগোষ্ঠী কোন ধর্মের — উৎস ধরে এক ছকে

শুমারিতে ধর্ম ও জনগোষ্ঠী মিলিয়ে কোনো ছক পাওয়া যায়নি। তাই নিচের ছকে শতাংশ নেই; আছে দুটি বর্ণনামূলক উৎসের বক্তব্য পাশাপাশি — জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ আর বাংলাপিডিয়া। জনসংখ্যার কলামটি BBS 2022-এর Table P17 থেকে তিন জেলার যোগফল। প্রতিটি সারি কেবল সেই জনগোষ্ঠীর জন্য।

জনগোষ্ঠীতিন জেলায় জনসংখ্যা (2022)আর্কাইভ কী বলেবাংলাপিডিয়া কী বলে
চাকমা454,925মূলত বৌদ্ধ, “হীনযানী”; প্রকৃতি, ভূত-প্রেত ও দেবতায় বিশ্বাসও আছে; একটি অংশ খ্রিষ্টধর্ম নিয়েছে (চাকমা জাতি)“The vast majority of Chakmas are Buddhists”; চর্চায় প্রকৃতিশক্তির পূজার পুরনো উপাদান মিশে আছে (Chakmas, The)
মারমা209,783সাধারণত বৌদ্ধ (থেরবাদী), একই সঙ্গে সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস; অল্প কিছু খ্রিষ্টান (মারমা জাতি)“Buddhists in faith. Animism is also in practice” (Marma, The)
ত্রিপুরা133,372মূলত সনাতন (হিন্দু); বান্দরবানের ত্রিপুরাদের অধিকাংশ খ্রিষ্টান; খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতেও একটি অংশ খ্রিষ্টান (ত্রিপুরা জাতি)“the hinduism by the Tripura” (Chittagong Hill Tracts); জনগোষ্ঠী নিয়ে আলাদা ভুক্তি পাওয়া যায়নি
ম্রো51,724সর্বপ্রাণবাদী ও প্রকৃতি পূজারী; পরে বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্রামা (ম্রো রীতিনীতি ও প্রথা)“animists”, তিন দেবতা; বৌদ্ধ প্রভাব; একাংশ খ্রিষ্টান; অনেকে ক্রামায় দীক্ষিত (Mru, The)
তঞ্চঙ্গ্যা42,943আদিকাল থেকে বৌদ্ধ, থেরবাদী; অন্য ধর্মে যাওয়ার নজির নেই (তঞ্চঙ্গ্যা জাতি)বৌদ্ধ; পাশাপাশি নদী, ভূত ও লক্ষ্মীসহ দেব-দেবীর পূজা (Tanchangya, The)
বম12,311এককালে জড়োপাসক; 1918 সন থেকে পর্যায়ক্রমে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত (বম জাতির আদ্যোপান্ত)“Almost all Bawms have now become Christians” (Bawm, The)
খিয়াং4,176একসময় প্রকৃতি পূজারি, পরে বৌদ্ধ; এখন প্রায় অর্ধেক খ্রিষ্টান (খিয়াং জাতি)আগে প্রকৃতি-পূজারি, পরে বৌদ্ধ, সম্প্রতি অনেকে খ্রিষ্টান (Khyang)
খুমি3,331বৌদ্ধ বলে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি পূজারি; এখন প্রকৃতি পূজা, ক্রামা ও খ্রিষ্টান — তিন ভাগে (খুমী জাতি)“followers of Buddhist faith”, সঙ্গে পাথর, পাহাড়, ঝরনা, নদীর পূজা (Khumee)
চাক2,725বৌদ্ধ, “হীনযান”; জন্মান্তরে বিশ্বাস (চাক জাতি)বৌদ্ধ, তবে লক্ষ্মী বা “Waigya”-র মতো দেব-দেবীর পূজাও (Chak, The)
পাংখোয়া1,458আদিতে শিবের অনুসারী ও প্রকৃতি পূজা; “এখন সকল পাংখোয়া খ্রিস্টধর্ম পালন করে” (পাংখোয়া জাতি)“Pankhos claim to be Buddhists. But … they worship nature” (Pankho, The)
লুসাই216আর্কাইভের পাঁচ ছোট জনগোষ্ঠীর লেখায় ধর্মের ঘরটি ফাঁকা রাখা“At present, 100% of Lushei is belonging to Christian religions” (Lushei, The)
গুর্খা49সনাতন ও বৌদ্ধ (গুর্খা জাতি)ভুক্তি পাওয়া যায়নি
অহমিয়াP17-এ আলাদা সারি নেইসনাতন; বিবাহসূত্রে কেউ বৌদ্ধ, কেউ খ্রিষ্টান (অহমিয়া জাতি)ভুক্তি পাওয়া যায়নি

যেখানে দুই উৎস দুই রকম বলছে

  • পাংখোয়া: বাংলাপিডিয়া বলছে তাঁরা নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন অথচ প্রকৃতির পূজা করেন; আর্কাইভ বলছে এখন সব পাংখোয়াই খ্রিষ্টধর্ম পালন করেন।
  • খুমি: বাংলাপিডিয়া বলছে বৌদ্ধ; আর্কাইভের পরিচিতি-লেখা বলছে প্রকৃতি পূজারি, ক্রামা ও খ্রিষ্টান; আর আর্কাইভের আরেক লেখায় ইংরেজি উইকিপিডিয়ার বরাতে “প্রধানত খ্রিষ্টান”।
  • ম্রো: বাংলাপিডিয়া এক বাক্যে “animists” বলেছে, পরের বাক্যগুলোতেই বৌদ্ধ প্রভাব, খ্রিষ্টান অংশ ও ক্রামার কথা; আর্কাইভ চারটি ধারাই উল্লেখ করেছে।
  • চাকমা ও চাকদের বৌদ্ধধর্মের ধারা: আর্কাইভের জনগোষ্ঠী-পরিচিতিতে “হীনযানী” শব্দটি আছে; আর্কাইভেরই বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস-লেখা ও বাংলাপিডিয়ার “Buddhism” ভুক্তি অঞ্চলটির চর্চাকে থেরবাদ বলেছে।

চাকমারা কোন ধর্মাবলম্বী

চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমাদের আর্কাইভের চাকমা জাতির পরিচিতি লিখেছে তাঁরা “মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী” এবং সুদূর অতীত থেকেই এই ধর্ম পালন করে আসছেন; বাংলাপিডিয়া লিখেছে চাকমাদের বিপুল অধিকাংশই বৌদ্ধ এবং তাঁরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী।

দুই উৎসই একটি দ্বিতীয় স্তরের কথা বলে। বাংলাপিডিয়ার ভাষায় চাকমাদের বৌদ্ধ চর্চার ভেতরে প্রকৃতির শক্তির পূজার মতো পুরনো ধর্মীয় উপাদান মিশে আছে। আর্কাইভ বলছে, তাঁদের মধ্যে এখনো প্রকৃতি, ভূত, প্রেত ও দেবতার মতো অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস আছে, হিন্দু ধর্মের কিছু প্রভাবও লক্ষ করা যায়, এবং কিছু দেব-দেবীর পূজা প্রচলিত ছিল — যদিও এখন তা প্রত্যন্ত গ্রামে কখনো-সখনো হয়।

আর্কাইভে নাম ধরে চৌদ্দটি পূজার তালিকা আছে — ভাতদ্যা, থানমানা, ধর্মকাম, মা লক্ষ্মীমা পূজা, চুঙুলাং ইত্যাদি। এর মধ্যে ভাতদ্যা একটি গোত্র পূজা, যা গত শতকের মাঝামাঝি থেকে বিলুপ্ত; থানমানায় গ্রামের মঙ্গলের জন্য নদীতীরে মোট 14 জন দেবদেবীকে পূজা দেওয়া হতো। প্রতিটির বিবরণ আছে “চাকমা সমাজের যত পূজা পার্বণ” লেখায়; এখানে তা আবার বলা হলো না।

ধর্মান্তর নিয়ে আর্কাইভের বক্তব্য: চাকমারা উল্লেখযোগ্য হারে কখনো ধর্মান্তরিত হননি, তবে একটি অংশের মধ্যে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। কতজন, তার কোনো সংখ্যা সেখানে নেই। চাকমাদের মধ্যে ইসলাম-অনুসারী কোনো অংশের উল্লেখ পড়া কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।

মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকরা কোন ধর্মের অনুসারী

তিনটি জনগোষ্ঠীই বৌদ্ধ — তবে তথ্যগুলো আলাদা আলাদা উৎস থেকে, আলাদা করে পড়া দরকার। মারমারা থেরবাদী বৌদ্ধ এবং একই সঙ্গে সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী; তঞ্চঙ্গ্যারা থেরবাদী বৌদ্ধ; চাকরা বৌদ্ধ ও জন্মান্তরে বিশ্বাসী। তিনটির বেলাতেই বাংলাপিডিয়া বৌদ্ধধর্মের পাশে দেব-দেবী বা প্রকৃতির পূজার কথা লিখেছে।

মারমা

মারমা জাতির পরিচিতি অনুযায়ী মারমারা সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী (থেরবাদী), তবে একই সঙ্গে সর্বপ্রাণবাদেও বিশ্বাস করেন; বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা প্রচলিত, আর বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির পেছনে অশুভ প্রেতাত্মার প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়। তাঁদের প্রকৃতি পূজার মধ্যে পাহাড়, নদী, অরণ্য ও বৃক্ষ আছে (লেখাটি এখানে আহসান 2001-এর বরাত দিয়েছে)। মারমা সমাজে অল্প কিছু খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীও আছেন, “তবে এই সংখ্যা খুবই কম” (রাফি 2001-এর বরাতে)। বাংলাপিডিয়া একই কথা সংক্ষেপে বলেছে, আর যোগ করেছে যে দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে স্বপ্নের প্রভাব খুব বেশি।

তঞ্চঙ্গ্যা

তঞ্চঙ্গ্যা জাতির পরিচিতি বলছে তঞ্চঙ্গ্যারা আদিকাল থেকে বৌদ্ধ, থেরবাদী গোষ্ঠীভুক্ত, এবং তাঁদের মধ্যে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার নজির নেই। বাংলাপিডিয়া তাঁদের বৌদ্ধ বলেছে, সঙ্গে নদী ও অশুভ আত্মার উদ্দেশে পূজার (ভূত পূজা, চুমুলাং পূজা, মিত্তিনি পূজা) এবং লক্ষ্মীসহ দেব-দেবীর পূজার কথা লিখেছে। চাকমা রাজগুরু অগ্রবংশ মহাস্থবির এই জনগোষ্ঠীরই সন্তান — আর্কাইভ অনুযায়ী তাঁর গৃহী নাম ফুলনাথ তঞ্চঙ্গ্যা।

চাক

চাক জাতির পরিচিতি অনুযায়ী চাকরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও জন্মান্তরবাদী: কোনো দম্পতির সন্তান জন্মালে পূর্বপুরুষের কেউ ফিরে এসেছেন বলে মনে করা হয়। শুভ-অশুভ সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিক্ষুকে “ফাং” (আমন্ত্রণ) করে আনা হয়। লেখাটি আরও জানায়, ইদানীং কিছু চাক তরুণ দারিদ্র্যের কারণে খ্রিষ্টধর্ম নিচ্ছেন, যা নিয়ে সমাজের প্রবীণেরা উদ্বিগ্ন। বাংলাপিডিয়া লিখেছে চাকরা বৌদ্ধ হয়েও লক্ষ্মী বা “Waigya”-র মতো দেব-দেবীর পূজা করেন, আর তাঁদের ধর্মীয় নেতা মহাথের Gandarba Wengsar 1959 সালে সমাজে শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ নেন।

ত্রিপুরারা কোন ধর্মের অনুসারী — আর গুর্খা ও অহমিয়ারা

ত্রিপুরারা মূলত সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী, তবে একটি অংশ খ্রিষ্টান। আমাদের আর্কাইভের ত্রিপুরা জাতির পরিচিতি অনুযায়ী বান্দরবান জেলার ত্রিপুরাদের অধিকাংশই এখন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী, আর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতেও একটি অংশ খ্রিষ্টান। একই লেখার আনুমানিক হিসাব: সারা দেশে ত্রিপুরাদের প্রায় 80 শতাংশ সনাতন, 20 শতাংশ খ্রিষ্টান।

এই 80/20 ভাগটি লেখকের অনুমান (“আনুমানিক … হতে পারে”), শুমারির সংখ্যা নয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরারা দুর্গা পূজা, কালী পূজা, সরস্বতী পূজা ও রাসমেলা পালন করেন; খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা বড়দিন। এর বাইরে ত্রিপুরাদের নিজস্ব পূজা আছে — কের, কাথারক, চুমুলাই, সাকচরাই, নাইরাং, খার্চি, গরিয়া। আর্কাইভের বর্ণনায় গরিয়া পূজা বৈসু উৎসবের একটি দিক, পরিবারের মঙ্গল কামনায় করা হয়, এবং মানত না থাকলে আয়োজন হয় না; কের পূজা গ্রামভিত্তিক, বছরে দুবার। বৈসুর দিনগুলোর ক্রম আছে বৈসাবি নিয়ে লেখায়, আর খাগড়াছড়ির নুনছড়ির হ্রদ ঘিরে লোকবিশ্বাস আছে “মাতাই তুয়ারি (মাতাই পুখির)” লেখায়।

খাগড়াছড়িতে হিন্দু ও ত্রিপুরা: দুটি সংখ্যা পাশাপাশি

খাগড়াছড়িতে হিন্দু 119,706 জন (16.76%) — তিন জেলায় সর্বোচ্চ; একই জেলায় ত্রিপুরা 98,500 জন। উপজেলা ধরে দুটি সংখ্যা এ রকম:

উপজেলাহিন্দু (Table 3.1.13)ত্রিপুরা (Table P17)
খাগড়াছড়ি সদর33,71328,576
মাটিরাঙ্গা24,97823,647
পানছড়ি14,74113,295
গুইমারা11,99110,007
রামগড়11,6368,065
দীঘিনালা10,8678,523
মানিকছড়ি7,8174,313
মহালছড়ি3,4021,948
লক্ষ্মীছড়ি561126
জেলা119,70698,500

দুটি সংখ্যা সরাসরি তুলনীয় নয়: হিন্দুদের মধ্যে বাঙালিরাও আছেন, আর ত্রিপুরাদের একটি অংশ খ্রিষ্টান। শুমারি কেবল এটুকু দেখায় যে যেসব উপজেলায় ত্রিপুরা বেশি, সেখানে হিন্দুর সংখ্যাও বেশি।

গুর্খা ও অহমিয়া

গুর্খা জাতির পরিচিতি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের গুর্খারা সনাতন ও বৌদ্ধ — দুই ধর্মেরই অনুসারী। সনাতনী গুর্খারা পূজায় সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণ করেন, বৌদ্ধরা পালি মন্ত্র; সনাতনীরা গৌতম বুদ্ধকে নারায়ণের অবতার হিসেবে মানেন। উৎসবের মধ্যে আছে কালী পূজা, দিওয়ালি (ভাইটিকা), দুর্গা পূজা (দশই), শিব পূজা, আর বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমা। অহমিয়া জাতির পরিচিতি বলছে অহমিয়ারা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী, তবে বিবাহসূত্রে কেউ বৌদ্ধ হয়েছেন, কেউ খ্রিষ্টান। শুমারির হিসাবে তিন জেলায় গুর্খা মাত্র 49 জন; অহমিয়াদের আলাদা সারি Table P17-এ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধধর্ম: লুরি থেকে থেরবাদ সংস্কার

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ বলতে মূলত চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকদের বোঝায়, আর আজকের চর্চা থেরবাদী। আর্কাইভ অনুযায়ী একসময় চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ধর্মীয় কাজ চালাতেন “লুরি” নামের ধর্মগুরুরা; উনিশ শতকে সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবির ও চাকমা রানী কালিন্দীর সময় থেকে বিনয়সম্মত থেরবাদের নবজাগরণ শুরু হয়।

এই ইতিহাসের পূর্ণ বিবরণ শান্তি কুমার চাকমার লেখা “পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ”-এ। এখানে কেবল সময়রেখার খুঁটিগুলো:

  • লুরি ও আঘরতারা। লুরি বা রুরিরা “আঘরতারা” নামের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করতেন; চাকমা-পরিচিতি অনুযায়ী তাতে 28টির মতো সূত্র আছে।
  • সারমেধ মহাস্থবির (1801–1882)। জন্ম হারভাং (চকরিয়া) অঞ্চলের এক রাখাইন পরিবারে; 1821 সালে উপসম্পদা।
  • 1857। রানী কালিন্দী (শাসনকাল 1844–1873) রাজপুণ্যাহ উপলক্ষে তাঁকে “সংঘরাজবিনয়ধর” উপাধি ও সিলমোহর দেন।
  • রাজানগরের ভিক্ষুসীমা। বাংলাদেশের প্রথম বিনয়সম্মত ভিক্ষুসীমা বলে বর্ণিত; একই লেখার এক জায়গায় প্রতিষ্ঠার সাল 1869, আরেক জায়গায় 1857। চাকমা-পরিচিতি বলছে রাজানগরে বৌদ্ধ বিহার নির্মিত হয় 1869/70 সালে।
  • অগ্রবংশ মহাস্থবির (1913–2008)। বার্মা থেকে ফিরে চাকমা রাজগুরু হন; সংঘদান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল-অষ্টশীলের মতো চর্চা চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন বলে লেখাটির দাবি। ফেরার সাল বৌদ্ধধর্মের লেখায় 1958, তঞ্চঙ্গ্যা-পরিচিতিতে 1957 (রাজগুরু পদে বরণ 5 জানুয়ারি 1958)।
  • সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)। অগ্রবংশ মহাস্থবির তাঁর উপসম্পদা-গুরু।

লুরিরা আজ কোথায়? চাকমা-পরিচিতি বলছে তাঁরা “এখন প্রায় লুপ্ত”; লুরিদের নিয়ে দীর্ঘ লেখাটি বলছে বড়ুয়া সমাজে তাঁদের একদম বিলুপ্তি ঘটলেও “চাকমা সমাজের কিছু কিছু এলাকায় এখনো তাঁদের দেখা পাওয়া যায়”। ঐ লেখা অনুযায়ী এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধান দুটি ভিক্ষুসংঘ — বন ভিক্ষু সংঘ ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ; প্রথমটির প্রতিষ্ঠাতা বনভান্তে।

বনভান্তের জন্ম 8 জানুয়ারি 1920, রাঙামাটি শহরের ছয় মাইল দক্ষিণে মগবান মৌজার মোরঘোনা গ্রামে; গৃহী নাম রথীন্দ্র লাল চাকমা; উপসম্পদা 27 জুন 1961; প্রয়াণ 30 জানুয়ারি 2012 — তাঁর জীবনী থেকে। BBS-এর রাঙামাটি জেলা-প্রতিবেদন জেলার পরিচিতিতে রাজবন বিহার ও চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারের নাম উল্লেখ করেছে; রাঙামাটি শহরের সাতটি বিহার ঘুরে দেখার বিবরণ আছে “৭টি বৌদ্ধ বিহার এবং আমার দেখা রাঙ্গামাটি শহর” লেখায়, যেখানে আনন্দ বিহারের প্রতিষ্ঠাসাল 1934 ও মৈত্রী বিহারের 1967 বলা হয়েছে।

বাইরের উৎসের সঙ্গে মিল: বাংলাপিডিয়ার “Buddhism” ভুক্তি বলছে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি বৌদ্ধ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মোগল ও ব্রিটিশদের আসার অনেক আগে থেকেই থেরবাদ চর্চা করছিল, পরে তাঁরা সংঘ সংস্কার করেন এবং 1887 সালে Chittagong Buddhist Association গড়েন।

কঠিন চীবর দান কী, কখন হয় — আর কোন জনগোষ্ঠী কোন নামে পালন করে

কঠিন চীবর দান হলো বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর — ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র — দান করার উৎসব। আর্কাইভের চাক ও তঞ্চঙ্গ্যা পরিচিতি অনুযায়ী এটি হয় আশ্বিনী (প্রবারণা) পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে; মারমা-পরিচিতিও বলছে প্রবারণার এক মাসের মধ্যে।

একই উৎসবের নাম জনগোষ্ঠীভেদে আলাদা, আর উৎসবের তালিকাও এক নয়। নিচের ছকে প্রতিটি সারি কেবল সেই জনগোষ্ঠীর পরিচিতি-লেখা থেকে নেওয়া।

জনগোষ্ঠীপরিচিতি-লেখায় যে উৎসবগুলোর নাম আছেউৎস
চাকমাকঠিন চীবর দান, বৈশাখী পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, ওয়া ধরানা (বর্ষাবাস গ্রহণ), ওয়া ভাঙানা (বর্ষাবাস শেষ), ব্যুহ চক্র, ফানাস বাত্তি উড়ানা (ফানুস), গাড়ি টানা, আহ্‌জার বাত্তি জ্বালানা (হাজার বাতি), মহাসংঘ দানচাকমা জাতি
মারমাকছুংলাব্রে (বৈশাখী পূর্ণিমা), ওয়াছো (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগ্যোওয়াই (আশ্বিনী পূর্ণিমা), কঠিং বোওয়ে (কঠিন চীবর দান)মারমা জাতি
তঞ্চঙ্গ্যাবৈশাখী পূর্ণিমা (প্রধান), আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ভাদ্র বা মধু পূর্ণিমা, আশ্বিনী পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান, মাঘী পূর্ণিমা, ফাল্গুনী পূর্ণিমাতঞ্চঙ্গ্যা জাতি
চাকওয়াছো (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগ্যোই (প্রবারণা পূর্ণিমা), কাথিং পোয়ে (কঠিন চীবর দান), তেংছংমং লাব্রে (অগ্রহায়ণ পূর্ণিমা), কাছুং লাব্রে (বুদ্ধ পূর্ণিমা)চাক জাতি
খিয়াং (বৌদ্ধ অংশ)সাংলান (বৈশাখী পূর্ণিমা), ওয়াছ (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগ্যত (লেখায় “মাঘী পূর্ণিমা”)খিয়াং জাতি
গুর্খা (বৌদ্ধ অংশ)বুদ্ধ পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমাগুর্খা জাতি

মারমা-পরিচিতির বর্ণনায় কঠিং বোওয়ের পরদিন ভিক্ষুরা একটি বুদ্ধমূর্তি নিয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে শোভাযাত্রা করেন, আর গ্রামবাসী পথে ছাউনি বানিয়ে ছোয়াইং (ভিক্ষুদের খাবার) দান করেন। চাক-পরিচিতি অনুযায়ী উৎসবে বাঁশের কঞ্চি ও রঙিন কাগজে একটি কল্পতরু বানানো হয়, চাক ভাষায় যার নাম “প্যাডেছা”। বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুর মতো নববর্ষের উৎসব ধর্মীয় পূর্ণিমাগুলো থেকে আলাদা — সেগুলোর আচার-ক্রম বৈসাবি নিয়ে লেখায়।

ক্রামা ধর্ম কী, কারা মানেন

ক্রামা পার্বত্য চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া একটি ধর্ম, যার প্রবর্তক বান্দরবানের মেনলে ম্রো। New Age-এর বর্ণনা অনুযায়ী 25 আগস্ট 1985 তারিখে চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশের পোড়া পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সামনে তিনি একটি গ্রন্থ ও একটি লিপি উন্মোচন করেন। অনুসারীরা মূলত ম্রো, আর খুমিদের একটি অংশ।

পুরো কাহিনি — গরু যে বইটি খেয়ে ফেলেছিল, 31 অক্ষরের লিপি, আর প্রবর্তনের দেড় বছর পর মেনলের নিখোঁজ হওয়া — আছে “ক্রামা ধর্ম: গরু যে বইটা খেয়েছিল, আর মেনলে ম্রোর নতুন লিপি” লেখায়। ম্রো সমাজের বড় ছবির জন্য “ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়”, আর মেনলেকে নিয়ে হাফিজ রশীদ খানের লেখা “মেনলে ম্রো: পার্বত্য পুরাণের স্বপ্নবীজ”। এই পাতার জন্য জরুরি কয়েকটি তথ্য, যেগুলোতে উৎসভেদে ফারাক আছে:

  • শুরুর সাল: New Age-এ 1985; আর্কাইভের ম্রো রীতিনীতি-লেখায় “১৯৮৫-৮৬ সনে”; হাফিজ রশীদ খানের লেখায় “১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে”।
  • মেনলের জন্মসাল: New Age-এ 1962; Financial Express ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় 1965।
  • বিশ্বাস: Netra News-এর 18 মে 2026-এর প্রতিবেদনে একেশ্বরবাদী — দেবতা থোরাই, গ্রন্থ রিয়ুং খতি। দেবতার নাম তিন উৎসে তিন বানানে: তুরাই, থুরায়, থোরাই। আর্কাইভের ম্রো রীতিনীতি-লেখায় গ্রন্থের নাম “রিয়াংক্ষীতি”।
  • কীসের মিশ্রণ: আর্কাইভের এক লেখায় বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের সমন্বয়; হাফিজ রশীদ খানের বর্ণনায় সর্বপ্রাণবাদ, খ্রিষ্টীয় ভাবনা ও বৈষ্ণবধর্মের মিশ্রণ।
  • খুমিদের মধ্যে: খুমি-পরিচিতি অনুযায়ী রোয়াংছড়ির কিছু খুমি ক্রামা অনুসরণ করেন, কিন্তু রুমা ও থানচির খুমিদের মধ্যে ক্রামা-বিশ্বাসী নেই।

বাংলাপিডিয়া এক বাক্যে লিখেছে, Manley নামের এক ম্রো “Krama” নামে নতুন ধর্ম প্রবর্তনের পর অনেকে তাতে দীক্ষিত হন। অনুসারী কত, তার নির্ভরযোগ্য কোনো হিসাব নেই।

খ্রিষ্টধর্ম কোন কোন জনগোষ্ঠীতে, কবে থেকে

উৎস অনুযায়ী বম, পাংখোয়া ও লুসাইদের প্রায় সবাই খ্রিষ্টান; খিয়াংদের প্রায় অর্ধেক; বান্দরবানের ত্রিপুরাদের অধিকাংশ; আর ম্রো ও খুমিদের একটি করে অংশ। শুমারির হিসাবে তিন জেলার 60,008 খ্রিষ্টানের 47,054 জন বান্দরবানে, আর রুমা ও থানচি — দুই উপজেলাতেই জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি খ্রিষ্টান।

জনগোষ্ঠীআর্কাইভ কী বলেবাংলাপিডিয়া কী বলে
বম“১৯১৮ সন হতে” পর্যায়ক্রমে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত; পাস্টর এইচ ডালার ভূমিকা প্রধান (আর্কাইভ)মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রচার করছেন; প্রায় সব বম এখন খ্রিষ্টান (বাংলাপিডিয়া)
পাংখোয়াআনুমানিক 1943 সালে North East India General Mission মিজোরাম থেকে দুজন পালক পাঠায়; কাজ শুরু বরকল থানার সাইচাল পাড়া ও লুংইনখার গ্রামে; এখন সবাই খ্রিষ্টান, কেবল প্রোটেস্ট্যান্ট ধারায় (আর্কাইভ)নিজেদের বৌদ্ধ বলে দাবি করেন, প্রকৃতির পূজা করেন (বাংলাপিডিয়া)
লুসাই—আগে নিজ নিজ গ্রামে দেব-দেবীর পূজা; এখন “100%” খ্রিষ্টান; বিয়ে গির্জায়, মৃতদেহ কবরে (বাংলাপিডিয়া)
খিয়াংপ্রায় অর্ধেক খ্রিষ্টান; রোয়াংছড়ি, থানচি, রাজস্থলী ও কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার খিয়াংরা মূলত খ্রিষ্টান, বান্দরবান সদরের চেনী মৌজার খিয়াংরা বৌদ্ধ; ব্যাপ্টিস্ট, সেভেনথ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট ও অল্প কিছু রোমান ক্যাথলিক (আর্কাইভ)সম্প্রতি অনেকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন (বাংলাপিডিয়া)
খুমিঅনুমান: খ্রিষ্টান প্রায় 45%, প্রকৃতি পূজারি 45%, ক্রামা প্রায় 10% (আর্কাইভ)বৌদ্ধ; খ্রিষ্টধর্মের উল্লেখ নেই (বাংলাপিডিয়া)
ত্রিপুরাবান্দরবানের ত্রিপুরাদের অধিকাংশ খ্রিষ্টান; দেশজুড়ে আনুমানিক 20% (আর্কাইভ)—
ম্রোখ্রিষ্টধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে (আর্কাইভ, হাফিজ রশীদ খান)একটি অংশ খ্রিষ্টান (বাংলাপিডিয়া)

বমদের বেলায় শুরুর সময় নিয়ে দুই উৎস আলাদা: আর্কাইভ বলছে দীক্ষা শুরু 1918 সন থেকে, বাংলাপিডিয়া বলছে প্রচার চলছে উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে। প্রচার আর দীক্ষা এক জিনিস না-ও হতে পারে; কোন মিশন, কোন বছর — তা “বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা” লেখাতেও অমীমাংসিত রাখা হয়েছে। ঐ লেখা অনুযায়ী 1894 সালে দুজন মিশনারি, Rev. J. H. Lorrain ও Rev. F. W. Savidge, আইজলে রোমান হরফ-ভিত্তিক একটি বর্ণমালা চালু করেন, যা বম ও পাংখোয়ারাও ব্যবহার করেন; বাংলাপিডিয়ার লুসাই-ভুক্তিতে একই কাজের সময় বলা হয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ।

পাংখোয়াদের গির্জা-সংগঠনের ধারাবাহিকতা আর্কাইভে তারিখসহ আছে: প্রথমে North East India General Mission-এর অধীনে; 1974 থেকে 1980 পর্যন্ত বমদের নিয়ে গঠিত ইভ্যানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান চার্চের (ECC) অধীনে; 1980-র শেষ দিকে নিজস্ব ইভ্যানজেলিক্যাল প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ; 21 মে 1981 তারিখে ন্যাশনাল খ্রিষ্টিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের অনুমোদন। খিয়াংদের বেলায় আর্কাইভ ধর্মান্তরের প্রসঙ্গে শিক্ষা, আর্থিক সহায়তা এবং স্কুল ও অনাথ আশ্রম স্থাপনের কথা উল্লেখ করেছে।

রাঙামাটি জেলায় খ্রিষ্টান: দুটি সংখ্যা পাশাপাশি

রাঙামাটির 8,547 খ্রিষ্টানের 3,017 জন রাজস্থলীতে ও 2,837 জন বিলাইছড়িতে। Table P17 অনুযায়ী রাজস্থলীতে খিয়াং 1,420 ও ত্রিপুরা 2,273 জন; বিলাইছড়িতে ত্রিপুরা 1,796, পাংখোয়া 498 ও বম 356 জন। বাঘাইছড়িতে খ্রিষ্টান 604 জন; সেখানে লুসাই 111 ও পাংখোয়া 117 জন। এগুলো পাশাপাশি রাখা দুটি আলাদা ছকের সংখ্যা, একটির ব্যাখ্যা অন্যটি নয়।

সংসদে বাইবেল পাঠের প্রশ্ন, ১৯৭৪

খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নটি জাতীয় সংসদেও উঠেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের এক সদস্যের মুখে। 15 জানুয়ারি 1974 তারিখে এম এন লারমা পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, অধিবেশনের শুরুতে কোরান তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠ হলো, কিন্তু বাইবেল পাঠ কেন হলো না। মনোরঞ্জন ধর প্রস্তাবটি গ্রহণ করে জানান, ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হবে। কার্যবিবরণীর পুরো পাঠ এখানে।

প্রকৃতি-পূজা ও পুরনো বিশ্বাস: কোন জনগোষ্ঠীতে কোন নাম

প্রায় প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বিবরণেই বড় ধর্মের পাশে বা তার আগে নিজস্ব দেবতা, পূজা ও বিশ্বাসের কথা আছে — কিন্তু নামগুলো এক নয়, আর এক জনগোষ্ঠীর দেবতা অন্য জনগোষ্ঠীর নয়। নিচের ছকে প্রতিটি নাম কেবল সেই জনগোষ্ঠীর উৎস থেকে নেওয়া।

জনগোষ্ঠীউৎসে যে দেবতা, পূজা বা বিশ্বাসের নাম আছেউৎস
চাকমাধর্মকাম পূজা — গৃহস্থের মঙ্গলের জন্য অরণ্যে, লুরিদের পৌরোহিত্যে; এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কালেভদ্রে। থানমানা — বাস্তুদেবতা “থান”-এর পূজাআর্কাইভ
মারমাপাহাড়, নদী, অরণ্য ও বৃক্ষের পূজা; প্রাকৃতিক বিপদকে দেব-দেবীর অসন্তোষের ফল মনে করাআর্কাইভ
ত্রিপুরাকের পূজা (গ্রামভিত্তিক, বছরে দুবার); খার্চি পূজায় চৌদ্দ দেবতার অর্চনা; চুমলাই পূজার উপাস্য মুকুন্দ্রায় বা নকসু মাতাইআর্কাইভ
তঞ্চঙ্গ্যাভূত পূজা, চুমুলাং পূজা, মিত্তিনি পূজাবাংলাপিডিয়া
ম্রোতিন দেবতা — তুরাই (স্রষ্টা), সাংতুং (পাহাড়ের দেবতা), ওরেং (নদীর দেবতা); বছরে দুবার পূজা, ম্রো ভাষায় “খাং”; পুরোহিত, ধর্মগ্রন্থ বা মন্দির নেইবাংলাপিডিয়া
বমবিধাতা খুজিং-পাথিয়ান, যাঁর উদ্দেশে পূজা লাগে না; অপদেবতার উদ্দেশে পূজার নাম “বলশান”, পুরোহিত “বলপু”; খুয়া-টেম (পাড়া শুদ্ধি)আর্কাইভ
খিয়াংস্রষ্টার নাম “Nahdaga”; জুমে ধান রোপণের পর “বুগেলে” অনুষ্ঠানবাংলাপিডিয়া; আর্কাইভ
খুমিসর্বশক্তিমান দেবতা “তামিউ”; গৃহ পূজা, ছড়া-পূজা, বৃক্ষ পূজা, পাথর পূজা; জুম ঘিরে নিশা জা, নিচো জা, ল ব, চো প্ল। বাংলাপিডিয়ায় স্রষ্টার নাম “Pathian”আর্কাইভ; বাংলাপিডিয়া
চাকলক্ষ্মী বা “Waigya”-র পূজাবাংলাপিডিয়া
পাংখোয়াস্রষ্টা পাত্যেন; জুমের নিয়ন্তা বনদেবতা খোজিং, শ্রাবণ মাসে তাঁর প্রধান পূজা। আর্কাইভে: আদিতে বটগাছের গোড়ায় শিবের পূজাবাংলাপিডিয়া; আর্কাইভ
লুসাইখ্রিষ্টধর্মের পাশাপাশি তিনটি উৎসব — Chapcharkrita (বসন্ত), Meemtoot (প্রয়াতদের স্মরণে), Palkoot (ফসল তোলা)বাংলাপিডিয়া
গুর্খাপ্রতি বছর সংসারী মা বা গঙ্গা মায়ের পূজা, গ্রামের কল্যাণেআর্কাইভ

ছকে দুটি কাছাকাছি নাম চোখে পড়ে — বমদের “পাথিয়ান”, পাংখোয়াদের “পাত্যেন”, আর বাংলাপিডিয়ার খুমি-ভুক্তির “Pathian”। বাংলাপিডিয়া নিজেই লিখেছে পাংখোয়াদের পাত্যেন লুসাইদের স্রষ্টা “Puthian”-এর সদৃশ। এর বেশি কোনো সম্পর্ক উৎসে বলা নেই, এই পাতাতেও টানা হলো না।

বাংলাপিডিয়ার “Tribal Culture” ভুক্তি একটি ঢালাও বাক্য লিখেছে — গারোদের সাংসারেক ও চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু জনগোষ্ঠীর বৌদ্ধধর্ম ছাড়া বাকিদের “নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম নেই”, তাঁরা প্রাচীন আচার ও বিশ্বাসকেই ধর্ম মনে করেন। উপরের ছক দেখায়, জনগোষ্ঠী ধরে ধরে পড়লে ছবিটি এত সরল নয়।

“আদিবাসী কোন ধর্মের”, “আদিবাসী কি হিন্দু” — এক কথায় উত্তর হয় না কেন

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের কোনো একক ধর্ম নেই, আর পড়া কোনো উৎসে “আদিবাসী ধর্ম” নামে আলাদা কোনো ধর্মের উল্লেখও পাওয়া যায়নি। একই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বৌদ্ধ, সনাতন, খ্রিষ্টান, ক্রামা ও প্রকৃতি-পূজা — পাঁচ ধারাই আছে, এবং ম্রো, খুমি বা খিয়াংদের মতো জনগোষ্ঠীর ভেতরেই একাধিক ধর্ম।

বাংলাপিডিয়ার “Chittagong Hill Tracts” ভুক্তি এক বাক্যে সারসংক্ষেপ করেছে: বৌদ্ধধর্ম অনুসরণ করেন চাকমা ও মারমারা, হিন্দুধর্ম ত্রিপুরারা, খ্রিষ্টধর্ম মিজো ও বমরা, আর অন্য কিছু জনগোষ্ঠী আত্মা, প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখেন। বাক্যটি শুরু হিসেবে কাজের, কিন্তু তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খিয়াং, খুমি বা পাংখোয়াদের কথা তাতে নেই।

“আদিবাসী কি হিন্দু?” — পার্বত্য চট্টগ্রামে মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা; গুর্খাদের একটি অংশ ও অহমিয়ারাও সনাতন ধর্মাবলম্বী। বাকিদের বেলায় উত্তর “না”: চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকরা বৌদ্ধ; বম, পাংখোয়া ও লুসাইরা খ্রিষ্টান। শুমারিতে তিন জেলায় হিন্দু 169,319 জন, কিন্তু তাঁদের কতজন আদিবাসী আর কতজন বাঙালি, সে ভাগ শুমারি দেয়নি।

একইভাবে মুসলিম 821,277 জনের জনগোষ্ঠীগত ভাগও শুমারিতে নেই। তিন জেলার মোট জনসংখ্যা 1,842,811, তার মধ্যে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে গণনা 920,248 জন — দুটি সংখ্যাই পাশাপাশি পড়া যায়, কিন্তু কোন ধর্মের ঘরে কোন জনগোষ্ঠীর কতজন, তা এ থেকে বের করা যায় না। জনগোষ্ঠীগুলোর সংখ্যা, ভাষা ও বসতির পূর্ণ ছবির জন্য দেখুন ছোট পাঁচ জনগোষ্ঠী নিয়ে লেখা ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আলাদা পরিচিতি।

উপাসনালয় কত, আর বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির কোথায় অবস্থিত

বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির বান্দরবান শহর থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় অবস্থিত। জেলা প্রশাসনের পোর্টাল একে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির বলেছে, যেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি আছে; স্থানীয় নাম “বুদ্ধ ধাতু জাদি”। BBS-এর জেলা-প্রতিবেদনে এর নাম “Buddhist Metal Pagoda (Swarna Mandir)”।

পোর্টালের ঐ পাতায় (সর্বশেষ হালনাগাদ 14 সেপ্টেম্বর 2013) আরও বলা আছে, শহরের ভেতরে জাদিপাড়ার রাজবিহার ও উজানীপাড়ার বিহার আছে। মন্দিরটি কবে, কার উদ্যোগে তৈরি — পোর্টালের পাতায় বা BBS-এর প্রতিবেদনে তা নেই।

জেলা পোর্টালে উপাসনালয়ের সংখ্যা

জেলামসজিদবৌদ্ধ মন্দির / ক্যাংহিন্দু মন্দিরগির্জাউৎস
খাগড়াছড়ি634836212266খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল
বান্দরবান71248465669বান্দরবান জেলা পোর্টাল
রাঙামাটিপাওয়া যায়নিপাওয়া যায়নিপাওয়া যায়নিপাওয়া যায়নি—

সংখ্যাগুলো জেলা প্রশাসনের “এক নজরে” ধরনের পাতা থেকে; কোন বছরের হিসাব, পাতায় লেখা নেই। শুমারির জনসংখ্যার পাশে রাখলে একটি বিষয় চোখে পড়ে: বান্দরবানে খ্রিষ্টান 47,054 জন, গির্জা 669টি; খাগড়াছড়িতে খ্রিষ্টান 4,407 জন, গির্জা 266টি। দুই উৎসের গণনা-পদ্ধতি ও সময় আলাদা, তাই এ থেকে গড় বের করা ঠিক হবে না। ক্রামা অনুসারীদের প্রার্থনাস্থলের কোনো সংখ্যা পোর্টালে নেই; আর্কাইভের ম্রো রীতিনীতি-লেখা কেবল বলছে তাঁদের “পৃথক ধর্মীয় মন্দির রয়েছে”, আর খুমি-পরিচিতি বলছে খুমি পাড়ায় প্রকৃতি পূজারিদের কোনো উপাসনালয় নেই, কিন্তু খ্রিষ্ট ও ক্রামা ধর্মাবলম্বীদের গির্জা ও ক্যাং আছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ধর্মের মানুষ বেশি?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার 1,842,811 জনের মধ্যে মুসলিম 821,277 জন (44.57%) ও বৌদ্ধ 769,450 জন (41.75%)। এরপর হিন্দু 169,319 (9.19%), খ্রিষ্টান 60,008 (3.26%) ও অন্যান্য 22,757 (1.23%)। এই যোগফল BBS-এর তিনটি জেলা-প্রতিবেদনের সংখ্যা যোগ করে হিসাব করা। জেলা ধরে রাঙামাটিতে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, বান্দরবানে মুসলিমরা।

রাঙামাটিতে বৌদ্ধ কত শতাংশ?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটি জেলার 647,586 জনের মধ্যে বৌদ্ধ 370,793 জন, অর্থাৎ 57.26%। মুসলিম 234,834 (36.26%), হিন্দু 33,112 (5.11%), খ্রিষ্টান 8,547 (1.32%) ও অন্যান্য 300 জন। জেলার গ্রামাঞ্চলে বৌদ্ধ 62.78%, শহরে 51.16%। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে কেবল রাঙামাটিতেই বৌদ্ধরা অর্ধেকের বেশি।

বান্দরবানে খ্রিষ্টান কতজন?

জনশুমারি 2022 অনুযায়ী বান্দরবান জেলায় খ্রিষ্টান 47,054 জন, জেলার জনসংখ্যার 9.78%। তিন পার্বত্য জেলার মোট 60,008 খ্রিষ্টানের 78.41% এই এক জেলায়। উপজেলা ধরে সবচেয়ে বেশি রুমায় 12,142 জন (37.32%) ও থানচিতে 10,256 জন (34.43%)। জেলার গ্রামাঞ্চলে খ্রিষ্টান 12.37%, শহরে 5.96%।

কোন উপজেলায় বৌদ্ধ সবচেয়ে বেশি?

অনুপাতে সবচেয়ে বেশি রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায়: 26,932 জনের মধ্যে 25,747 জন বৌদ্ধ, অর্থাৎ 95.60%। এরপর নানিয়ারচর 83.18%, বিলাইছড়ি 78.21%, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি 77.73% ও বরকল 75.81%। সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি বৌদ্ধ বাঘাইছড়িতে, 72,267 জন। তথ্য BBS-এর জনশুমারি 2022-এর জেলা-প্রতিবেদনের Table 3.1.13 থেকে।

চাকমারা কোন ধর্মাবলম্বী?

চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী চাকমাদের বিপুল অধিকাংশ বৌদ্ধ এবং তাঁরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে প্রকৃতি, ভূত-প্রেত ও দেবতায় বিশ্বাসও টিকে আছে, আর একটি ছোট অংশ খ্রিষ্টধর্ম নিয়েছে। 2022 শুমারিতে তিন পার্বত্য জেলায় চাকমা জনসংখ্যা 454,925।

মারমারা কোন ধর্মের অনুসারী?

মারমারা থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। জুমজার্নালের আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়া — দুই উৎসই বলছে, বৌদ্ধধর্মের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রাণবাদও প্রচলিত: পাহাড়, নদী, অরণ্য ও বৃক্ষের পূজা এবং বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা। প্রধান ধর্মীয় উৎসব কছুংলাব্রে (বৈশাখী পূর্ণিমা), ওয়াছো, ওয়াগ্যোওয়াই ও কঠিং বোওয়ে (কঠিন চীবর দান)। অল্প কিছু মারমা খ্রিষ্টান।

বাংলাদেশের ত্রিপুরা আদিবাসী গোষ্ঠী কোন ধর্ম বিশ্বাসের অনুসারী?

ত্রিপুরারা মূলত সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী বান্দরবান জেলার ত্রিপুরাদের অধিকাংশ এখন খ্রিষ্টান, আর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতেও একটি অংশ খ্রিষ্টান; লেখাটির অনুমানে দেশজুড়ে প্রায় 80 শতাংশ সনাতন ও 20 শতাংশ খ্রিষ্টান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গা পূজা ও কালী পূজার পাশাপাশি কের, খার্চি ও গরিয়ার মতো নিজস্ব পূজা করেন।

বমরা কোন ধর্মের?

বমরা খ্রিষ্টান। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী প্রায় সব বমই এখন খ্রিষ্টান, আর মিশনারিরা উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে তাঁদের মধ্যে প্রচার করছেন। জুমজার্নালের আর্কাইভ বলছে বমরা 1918 সন থেকে পর্যায়ক্রমে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন; তার আগে তাঁরা খুজিং-পাথিয়ানকে বিধাতা মানতেন এবং অপদেবতার উদ্দেশে “বলশান” পূজা করতেন। 2022 শুমারিতে বান্দরবানে বম 11,854 জন।

ক্রামা ধর্ম কী, কারা মানেন?

ক্রামা বান্দরবানে জন্ম নেওয়া একটি ধর্ম, যার প্রবর্তক মেনলে ম্রো। New Age-এর বর্ণনায় 25 আগস্ট 1985 তারিখে পোড়া পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সামনে তিনি গ্রন্থ ও 31 অক্ষরের লিপি উন্মোচন করেন। অনুসারীরা মূলত ম্রো; রোয়াংছড়ির কিছু খুমিও ক্রামা মানেন। শুমারিতে ক্রামার আলাদা ঘর নেই, তাই অনুসারীর নির্ভরযোগ্য সংখ্যা জানা যায়নি।

শুমারির “অন্যান্য” ধর্মের ঘরে কারা?

BBS জনশুমারি 2022-এ ধর্মের পাঁচটি ঘর দিয়েছে — মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য — এবং “অন্যান্য”-এর ভেতরের ভাঙন দেয়নি। তিন পার্বত্য জেলায় এই ঘরে 22,757 জন, যার 21,738 জন বান্দরবানে; রুমায় 16.79% ও থানচিতে 12.87%। ঐ এলাকায় ম্রো ও খুমিদের বসতি আছে, তবে তাঁরাই এই ঘরের মানুষ কি না, শুমারি বলেনি।

লুরি কারা?

লুরি বা রুরিরা চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সমাজের প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মগুরু, যাঁরা থেরবাদ সংস্কারের আগে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তাঁদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের নাম “আঘরতারা”, যাতে 28টির মতো সূত্র আছে বলে জানা যায়। জুমজার্নালের আর্কাইভ অনুযায়ী তাঁরা এখন প্রায় লুপ্ত, তবে চাকমা সমাজের কিছু কিছু এলাকায় এখনো তাঁদের দেখা পাওয়া যায়।

কঠিন চীবর দান কখন হয়?

কঠিন চীবর দান হয় ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে — আশ্বিনী বা প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে। এ সময় ভিক্ষুসংঘকে চীবর, অর্থাৎ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র, দান করা হয়। মারমারা একে বলেন কঠিং বোওয়ে, চাকরা কাথিং পোয়ে। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাক — চার জনগোষ্ঠীর পরিচিতিতেই উৎসবটির উল্লেখ আছে।

আদিবাসীরা কি হিন্দু?

সবাই নন। পার্বত্য চট্টগ্রামে মূলত সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা; গুর্খাদের একটি অংশ ও অহমিয়ারাও সনাতন ধর্মাবলম্বী। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকরা বৌদ্ধ; বম, পাংখোয়া ও লুসাইরা খ্রিষ্টান; ম্রো ও খুমিদের মধ্যে প্রকৃতি-পূজা, ক্রামা, খ্রিষ্ট ও বৌদ্ধ — একাধিক বিশ্বাস আছে। তাই আদিবাসীদের কোনো একক ধর্ম নেই।

বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির কোথায় অবস্থিত?

বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির বান্দরবান শহর থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় অবস্থিত। স্থানীয় নাম “বুদ্ধ ধাতু জাদি”। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পোর্টাল একে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির বলেছে, যেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। BBS-এর জনশুমারি 2022-এর জেলা-প্রতিবেদনে এর নাম “Buddhist Metal Pagoda (Swarna Mandir)”। প্রতিষ্ঠার সাল জানা যায়নি।

যা এখনো জানা যায়নি

  • জনগোষ্ঠী ধরে ধর্মের কোনো সংখ্যা নেই। শুমারির জেলা-প্রতিবেদনে ধর্ম ও জনগোষ্ঠী মিলিয়ে কোনো ছক পাওয়া যায়নি। “খিয়াংদের প্রায় অর্ধেক খ্রিষ্টান”, “প্রায় সব বম খ্রিষ্টান”, “খুমিদের 45% খ্রিষ্টান”, “ত্রিপুরাদের 80% সনাতন” — সবই লেখকদের বর্ণনা বা অনুমান।
  • “অন্যান্য” ঘরে কারা। বান্দরবানের 21,738 জন কোন কোন বিশ্বাসের, জানা যায়নি।
  • ক্রামা অনুসারীর সংখ্যা। উৎসহীন 21,000 ছাড়া কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • পাংখোয়া ও খুমিদের ধর্ম নিয়ে উৎসের বিরোধ। বাংলাপিডিয়া দুই জনগোষ্ঠীকেই বৌদ্ধ বলেছে; আর্কাইভ বলছে পাংখোয়ারা সবাই খ্রিষ্টান, খুমিরা তিন বিশ্বাসে বিভক্ত। কোনটি কোন সময়ের ছবি, জানা যায়নি।
  • লুসাইদের ধর্ম। একমাত্র স্পষ্ট বিবরণ বাংলাপিডিয়ার; দ্বিতীয় কোনো স্বাধীন উৎস পাওয়া যায়নি।
  • বমদের খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের শুরু। কোন মিশন, কোন বছর — আর্কাইভ (1918) ও বাংলাপিডিয়া (উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রচার) আলাদা কথা বলছে। পাংখোয়া-পরিচিতিতে প্রচার শুরুর সাল আনুমানিক 1943, অথচ বম-পরিচিতিতে বম ও পাংখোয়া দুইয়ের জন্যই 1918-র পরবর্তী সময়।
  • রাজানগরের ভিক্ষুসীমার সাল। একই লেখায় 1857 ও 1869 — দুটোই আছে।
  • ইসলাম। তিন জেলায় মুসলিম 821,277 জন — এই সংখ্যা শুমারিতে আছে; কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম জনসংখ্যার বসতি ও ইতিহাস নিয়ে এই পাতায় ব্যবহারযোগ্য কোনো উৎস নেই, তাই সে অংশ লেখা হয়নি।
  • 2011-র আগের তুলনা। 1991 ও 2001 শুমারির জেলাভিত্তিক ধর্মের হিসাব মেলানো হয়নি; খাগড়াছড়ির 2011-র সংখ্যা নিয়ে বাংলাপিডিয়া ও BBS-এর মোট জনসংখ্যায় অমিল আছে।
  • রাঙামাটির উপাসনালয়ের সংখ্যা এবং তিন জেলায় ক্রামা প্রার্থনাস্থলের সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • বান্দরবান স্বর্ণ মন্দিরের প্রতিষ্ঠার সাল ও প্রতিষ্ঠাতার নাম পাওয়া যায়নি।
  • বাংলা বানান। বান্দরবানের ইউনিয়নগুলোর নাম (Galengya, Tankabati, Remakriprangsa ইত্যাদি) ও বাংলাপিডিয়ার কয়েকটি নাম (Waigya, Nahdaga, Gandarba Wengsar, লুসাইদের তিন উৎসব) বাংলা উৎসে মেলানো যায়নি বলে ইংরেজি হরফে রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক — সরকারি পরিসংখ্যান

  1. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati, 2024 — Table 3.1.13 (ধর্ম × উপজেলা), Table P17 (জনগোষ্ঠী × উপজেলা), জেলা-পরিচিতি। লিংক (Internet Archive কপি)
  2. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Khagrachhari, 2024 — Table 3.1.13, Table P17। লিংক (Internet Archive কপি)
  3. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban, 2024 — Table 3.1.13, Table P05 (ধর্ম × ইউনিয়ন), Table P17, জেলা-পরিচিতি। লিংক (Internet Archive কপি)
  4. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, জেলা পোর্টাল — “জেলার ঐতিহ্য” (হালনাগাদ 14 সেপ্টেম্বর 2013): স্বর্ণ মন্দির। লিংক
  5. বান্দরবান জেলা প্রশাসন, জেলা পোর্টাল — এক নজরে জেলা: উপাসনালয়ের সংখ্যা। লিংক
  6. খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, জেলা পোর্টাল — এক নজরে জেলা: উপাসনালয়ের সংখ্যা। লিংক

প্রাথমিক — জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ

  1. শান্তি কুমার চাকমা, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ”, জুমজার্নাল। লিংক
  2. “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাচীন বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ ‘লুরি’দের ইতিহাস বিচার ও বর্তমান অবস্থা”, জুমজার্নাল। লিংক
  3. “বনভান্তে তথা শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবিরের ঘটনাবহুল জীবন কর্ম”, জুমজার্নাল। লিংক
  4. “৭টি বৌদ্ধ বিহার এবং আমার দেখা রাঙ্গামাটি শহর”, জুমজার্নাল। লিংক
  5. “ক্রামা ধর্ম: গরু যে বইটা খেয়েছিল, আর মেনলে ম্রোর নতুন লিপি”, জুমজার্নাল। লিংক
  6. “ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড়”, জুমজার্নাল। লিংক
  7. হাফিজ রশীদ খান, “মেনলে ম্রো: পার্বত্য পুরাণের স্বপ্নবীজ”, জুমজার্নাল। লিংক
  8. “ম্রো জনগোষ্ঠী: প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা”, জুমজার্নাল। লিংক
  9. “বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা”, জুমজার্নাল। লিংক
  10. “খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখোয়া, লুসাই: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী”, জুমজার্নাল। লিংক
  11. “চাকমা সমাজের যত পূজা পার্বণ”, জুমজার্নাল। লিংক
  12. “মাতাই তুয়ারি (মাতাই পুখির): কিংবদন্তি ও লোকবিশ্বাস”, জুমজার্নাল। লিংক
  13. “বৈসাবি: বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুর আলাদা আচার-ক্রম”, জুমজার্নাল। লিংক
  14. “জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: সংসদে বাইবেল পাঠের দাবি (১৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪)”, জুমজার্নাল। লিংক
  15. “চাকমা জাতি”, জুমজার্নাল। লিংক
  16. “মারমা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  17. “ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  18. “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  19. “বম জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  20. “খিয়াং জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  21. “খুমী জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  22. “চাক জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  23. “পাংখোয়া জাতির আদ্যাপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  24. “গুর্খা জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক
  25. “অহমিয়া জাতির আদ্যোপান্ত”, জুমজার্নাল। লিংক

মাধ্যমিক — বাংলাপিডিয়া (Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh)

  1. “Chittagong Hill Tracts”, Banglapedia। লিংক
  2. Willem Van Schendel, “Chakmas, The”, Banglapedia। লিংক
  3. “Marma, The”, Banglapedia। লিংক
  4. “Tanchangya, The”, Banglapedia। লিংক
  5. Abdul Mabud Khan, “Mru, The”, Banglapedia। লিংক
  6. “Bawm, The”, Banglapedia। লিংক
  7. “Khyang”, Banglapedia। লিংক
  8. Muhammad Abdul Baten, “Khumee”, Banglapedia। লিংক
  9. “Chak, The”, Banglapedia। লিংক
  10. “Pankho, The”, Banglapedia। লিংক
  11. Khandaker Fatema Zahra, “Lushei, The”, Banglapedia। লিংক
  12. Niru Kumar Chakma, “Buddhism”, Banglapedia। লিংক
  13. “Tribal Culture”, Banglapedia। লিংক
  14. Atikur Rahman, “Rangamati District” (2011 শুমারির ধর্ম-সংখ্যা), Banglapedia। লিংক
  15. “Khagrachhari District” (2011 শুমারির ধর্ম-সংখ্যা), Banglapedia। লিংক
  16. Bangladesh Bureau of Statistics, Population and Housing Census 2011, Zila Report: Khagrachhari, Table PT14 “Population by Religion, 1981-2011”, পৃ. 22। লিংক (Internet Archive কপি)
  17. “Bandarban District” (2011 শুমারির ধর্ম-সংখ্যা), Banglapedia। লিংক

New Age, The Financial Express, Netra News ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ার যে তথ্যগুলো ক্রামা ও ছোট জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গে এসেছে, সেগুলো এই পাতায় সরাসরি নয়, আমাদের আর্কাইভের সংশ্লিষ্ট লেখাগুলোর মাধ্যমে নেওয়া; মূল লিংক সেই লেখাগুলোর তথ্যসূত্রে আছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা