Last updated Nov 3rd, 2026
0

রেংমিটচ্য ভাষা অভিধান বলতে একটি বইকেই বোঝায়: ইয়াংঙান ম্রোর সংকলিত “মিটচ্য তখক”, যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচনের দিন ধার্য ছিল 31 জানুয়ারি 2023। দেশেবিদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে প্রায় 3,400 শব্দ, বাংলা অনুবাদসহ; লেখা ম্রো হরফে, কারণ রেংমিটচ্যের নিজের কোনো বর্ণমালা নেই। বইটি বেরোনোর সময় ভাষাটি সাবলীলভাবে বলতে পারতেন ছয়জন; জুলাই 2026-এর প্রতিবেদনে সংখ্যাটি পাঁচ।
বান্দরবানের আলীকদমে তৈন খালের উজানে ক্রাংসি পাড়া। সেখানে 2023 সালের ডিসেম্বর থেকে প্রতি সন্ধ্যায় একটি ঘরে শিশু-কিশোরেরা এমন এক ভাষার শব্দ মুখস্থ করছে, যে ভাষায় তাদের মা-বাবারাও কথা বলেন না। পাঠ্যবই একটিই — এই অভিধান। এই লেখা বইটিকে ঘিরে: এতে কী আছে, কোন হরফে লেখা, যে ভাষার জন্য লেখা সেটি কেমন, আর তার বক্তার সংখ্যা কোন উৎস কোন সালে কত বলেছে। সংকলকের জীবন ও তাঁর অন্য বইয়ের কথা আলাদা লেখায় আছে — ইয়াংঙান ম্রো ও তাঁর বইয়ের তালিকা।
সূচিপত্র
প্রকাশিত রেংমিটচ্য ভাষা অভিধান একটিই পাওয়া যায় — “মিটচ্য তখক”, সংকলক ইয়াংঙান ম্রো, প্রকাশ জানুয়ারি 2023, বান্দরবানের বনতুলি প্রিন্টার্স থেকে, সংকলকের নিজের খরচে। দেশেবিদেশে এর শিরোনামেই একে রেংমিটচ্য ভাষার “প্রথম অভিধান” বলেছে, আর গ্লোবাল ভয়েসেস (21 ফেব্রুয়ারি 2024) বলেছে “একমাত্র প্রকাশিত” রেংমিটচ্য অভিধান।
নামটির মানে নিয়ে দুটি প্রতিবেদন একই কথা বলে। দেশেবিদেশে লিখেছে, “মিটচ্য তখক” বাংলায় “রেংমিটচ্য ভাষা”; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণও (21 ফেব্রুয়ারি 2023) লিখেছে, নাম রাখা হয়েছে “মিটচ্য তখক” অর্থাৎ “রেংমিটচ্য ভাষা”। ইংরেজিতে গ্লোবাল ভয়েসেস নামটি লিখেছে Mitca Takhak। একই প্রতিবেদনে টিবিএস বাংলা একবার বইটিকে “রেংমিটচ্য তখক” নামেও উল্লেখ করেছে।
বইটিকে কী বলা হবে, তা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে তিন রকম শব্দ চলছে। দেশেবিদেশে বলেছে “অভিধান” (ডিকশনারি); প্রথম আলো (1 ফেব্রুয়ারি 2023) বলেছে “শব্দের বই (ওয়ার্ড বুক)” এবং পুরো নাম লিখেছে “মিটচ্য তখক বা রেংমিটচা ভাষা শব্দের বই”; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (জানুয়ারি ও ডিসেম্বর 2024) ও টিবিএস বাংলা বলেছে “শব্দভান্ডার”। প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে বইটির নাম এসেছে কেবল “রেংমিটচ্য” — একটি শব্দ সংকলন। একই বইয়ের কথা, কারণ প্রতিটি প্রতিবেদনে সংকলক, প্রকাশের সাল ও বিষয় এক।
বাংলাদেশের অন্য আদিবাসী ভাষাগুলোর অভিধানের সঙ্গে এর তুলনা — কোন ভাষার অভিধান কবে, কে ছেপেছে — আছে আমাদের আদিবাসী ভাষার অভিধানের ছকে। সেখানে রেংমিটচ্য একটি সারি; এখানে বইটির ভেতরের কথা।
বইটিতে শরীরের অঙ্গ, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, তরকারি, খাবার, খেলাধুলা, দিন ও মাসের নাম, রেংমিটচ্য বাক্য আর গণনা আছে বলে জানিয়েছেন সংকলক নিজে (টিবিএস বাংলা, ফেব্রুয়ারি 2023; বিডিনিউজ, জানুয়ারি 2024)। শব্দসংখ্যা উৎসভেদে প্রায় 3,000 থেকে প্রায় 3,400, আর পৃষ্ঠাসংখ্যা 37 না 28 — তাতেও দুই প্রতিবেদন দুই কথা বলেছে।
প্রকাশের সময় ও পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বইটি সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, তা এক ছকে:
| বিষয় | উৎস যা বলেছে |
|---|---|
| শব্দসংখ্যা | প্রায় 3,400 (দেশেবিদেশে, 31 জানুয়ারি 2023); 3,400 ভুক্তি (গ্লোবাল ভয়েসেস, ফেব্রুয়ারি 2024); প্রায় তিন হাজার (প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি 2023); তিন হাজারের বেশি (টিবিএস বাংলা, ফেব্রুয়ারি 2023; বিডিনিউজ, জানুয়ারি 2024; ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা, জুলাই 2026) |
| পৃষ্ঠা | 37 (টিবিএস বাংলা, ফেব্রুয়ারি 2023); 28 (ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা, জুলাই 2026) |
| অধ্যায় | 35টি (টিবিএস বাংলা, ফেব্রুয়ারি 2023) |
| বিষয়বস্তু | কৃষি, সংস্কৃতি, ধর্ম, খাবার, জিনিসপত্র, ফলমূল, আর সাধারণ কথোপকথন (দেশেবিদেশে); শরীরের অঙ্গ, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, তরকারি, খাদ্য, খেলাধুলা, দিন ও মাসের নাম, বাক্য ও গণনা (টিবিএস বাংলা 2023; বিডিনিউজ 2024); শরীরের অঙ্গ, গাছপালা, পশুপাখি, পোশাক ও খাদ্যের নাম (প্রথম আলো 2023); দৈনন্দিন কথোপকথন (ইত্তেফাক 2026) |
| প্রথম ছাপা | 100 কপি; ফেব্রুয়ারি 2023-এ আরও 100 কপি ছাপার পরিকল্পনা ছিল (টিবিএস বাংলা, ফেব্রুয়ারি 2023) |
| প্রকাশক ও খরচ | বনতুলি প্রিন্টার্স, বান্দরবান; সংকলকের নিজের খরচে (দেশেবিদেশে; টিবিএস বাংলা 2023) |
| শব্দ সংগ্রহের সময় | 10 বছর (দেশেবিদেশে); 2013 থেকে 10 বছর (টিবিএস বাংলা 2023; বিডিনিউজ, ডিসেম্বর 2024) |
| প্রচ্ছদ | তখন জীবিত ছয় রেংমিটচ্যভাষীর ছবি (দেশেবিদেশে; টিবিএস বাংলা 2023) |
বইটি কারা হাতে পেয়েছেন, তার একটি দৃশ্য টিবিএস বাংলার প্রতিবেদনে আছে। আলীকদমের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনসিংপাড়া থেকে রেংমিটচ্যভাষী থোয়াই লক ম্রো জানুয়ারি 2023-এ বান্দরবান শহরে আসেন বই নিতে; সংকলক তাঁকে 20টি বই দেন, আর তিনি পাড়ায় ফিরে সবাইকে দেখান। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বিশেষ খুশি হয়েছিলেন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া এক নাতির কথা ভেবে, যে এখন বাংলার মাধ্যমে রেংমিটচ্য শিখতে পারবে।
বইটির ভেতরের কোনো পৃষ্ঠা অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি। টিবিএস বাংলার প্রতিবেদনে দুটি ছবির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, একটি পাতায় শব্দভান্ডারের সূচি আছে, আর ভুক্তিতে রেংমিটচ্য শব্দের পাশে বাংলা ও ম্রো রাখা হয়েছে।
রেংমিটচ্যের নিজস্ব লিপি নেই — এ কথা সব উৎসে এক। অভিধানে কোন হরফ ব্যবহার হয়েছে, তার বর্ণনা আলাদা: দেশেবিদেশে বলেছে বইটি “ম্রো বর্ণমালায় লেখা”, কারণ রেংমিটচ্যভাষীরা ম্রো বর্ণমালা পড়তে পারেন; গ্লোবাল ভয়েসেস বলেছে ম্রো ও বাংলা দুই বর্ণমালাই ব্যবহার হয়েছে।
অন্য বর্ণনাগুলো এই দুইয়ের মাঝে পড়ে। টিবিএস বাংলা (2023) লিখেছে, আলাদা লিখিত রূপ না থাকায় “ম্রো ও বাংলা শব্দের মাধ্যমে” উচ্চারণ লেখা হয়েছে। বিডিনিউজ (ডিসেম্বর 2024) লিখেছে, রেংমিটচ্য উচ্চারণ ম্রো শব্দের পাশাপাশি বাংলা শব্দের মাধ্যমে লেখা। বিডিনিউজের জানুয়ারি 2024-এর প্রতিবেদনে সংকলকের নিজের কথা: অক্ষর না থাকায় “বাংলা শব্দ দিয়ে” শব্দভান্ডারটি করা হয়েছে; আর একই প্রতিবেদন বইটিকে “বাংলা ও ম্রো ভাষায় লেখা” বলে জানিয়েছে, যা শিক্ষক পড়ান ম্রো ভাষা দিয়ে। ইত্তেফাক (জুলাই 2026) লিখেছে, বইটি “ম্রো ও বাংলা ভাষায়” প্রকাশ করা হয়।

ম্রো লিপি কেন রেংমিটচ্যভাষীদের কাছে পড়ার যোগ্য, তার উত্তর বক্তাদের জীবনেই আছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2021) সংকলকের বরাতে লিখেছে, রেংমিটচ্যভাষীরা সবাই ম্রো বলতে পারেন; ডার্টমাউথ কলেজের ভাষাবিদ ডেভিড এ. পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদনেও (2020) লেখা, বর্তমান সব রেংমিটচ্যভাষী সমানভাবে ম্রোতে সাবলীল। ম্রো লিপির জন্ম, অক্ষর আর স্কুলে তার ব্যবহারের ইতিহাস আছে ম্রো লিপি নিয়ে আমাদের লেখায়।
ভাষাবিজ্ঞানীরা অবশ্য তৃতীয় এক হরফে রেংমিটচ্য লেখেন। পিটারসন তাঁর 2020 সালের গবেষণা-প্রবন্ধে রোমান হরফে একটি “ব্যবহারিক বানানরীতি” নিয়েছেন — ü, ö, å দিয়ে কয়েকটি স্বরধ্বনি, আর সুর বোঝাতে অক্ষরের পরে ছোট সংখ্যা। লিপির প্রশ্নটি সম্প্রদায়ের ভেতরেও মীমাংসিত নয়। পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদন (জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র, হালনাগাদ জুলাই 2020) লিখেছে, তিনি সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে দুটি কর্মশালা করেছিলেন, যেখানে ভাষা ব্যবহার ও সাক্ষরতার জন্য কমিটি গঠিত হয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন বানানরীতি গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সম্প্রদায় তখনো অনিশ্চিত ছিল।
রেংমিটচ্য একটি কুকি-চিন ভাষা — চীনা-তিব্বতি পরিবারের দক্ষিণ-মধ্য তিব্বতি-বর্মি দলের সদস্য। ভাষা-তালিকা গ্লটোলগ একে রেখেছে কুকি-চিন › প্রান্তিক কুকি-চিন › খোমিক শাখায়, কোড reng1255। খুমির সঙ্গে এর আত্মীয়তা ঘনিষ্ঠ; ম্রো, যে ভাষায় রেংমিটচ্যভাষীরা এখন রোজ কথা বলেন, কুকি-চিন দলেরই নয়।
পিটারসনের 2017 সালের শ্রেণিবিন্যাস, যা তিনি 2020 সালের প্রবন্ধে উদ্ধৃত করেছেন, কুকি-চিন ভাষাগুলোকে তিন ভাগে ফেলে: উত্তর-পশ্চিম, কেন্দ্রীয় আর প্রান্তিক। প্রান্তিক দলের দক্ষিণ-পশ্চিম উপদলে আছে খুমি, ম্রো-খিমি, লেমি ও রেংমিটচ্য। একই প্রবন্ধ লিখেছে, ম্রো ভাষা দক্ষিণ-মধ্য তিব্বতি-বর্মি দলের বাইরের ভাষা; এটি মিয়ানমারের হকংসো এবং সম্ভবত আনু ভাষার সঙ্গে আলাদা একটি ছোট পরিবার গড়ে। বাংলাদেশের অন্য কুকি-চিন ভাষাগুলোর — বম, খুমি, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া — শ্রেণিবিন্যাস ও লিপির কথা আছে কুকি-চিন ভাষা নিয়ে আমাদের লেখায়, আর খুমিদের কথা খুমি জনগোষ্ঠীর পাতায়।
ম্রো আর রেংমিটচ্যের দূরত্ব বক্তারা নিজেরাও টের পান। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (ফেব্রুয়ারি 2021) ইয়াংঙান ম্রো বলেছেন, দুই ভাষায় মিল মাত্র 10 শতাংশ, অমিল 90 শতাংশ; রেংমিটচ্যভাষীরা নিজেদের মধ্যে কথা বললে ম্রোরা বোঝেন না। দেশেবিদেশের প্রতিবেদনে পিটারসনের বরাতে লেখা, খুমি ভাষার সঙ্গে রেংমিটচ্যের কিছু মিল আছে, আর ভাষা আলাদা হলেও এই ভাষার মানুষেরা জাতি হিসেবে ম্রো।
পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদন ভাষাটির আরেকটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলে: রেংমিটচ্য দক্ষিণ-মধ্য ভাষাগুলোর মধ্যে অত্যন্ত “রক্ষণশীল” — দলের কাল্পনিক আদি-ভাষার শব্দের শুরুর ও শেষের ব্যঞ্জনধ্বনি এতে এখনো টিকে আছে, যা অন্য ভাষায় হারিয়ে গেছে। সেই প্রতিবেদনের আরেকটি পর্যবেক্ষণ: বক্তারা ম্রো শব্দ সরাসরি রেংমিটচ্য বাক্যে ঢুকিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু ম্রোর ব্যাকরণ রেংমিটচ্যের গঠনে প্রভাব ফেলেছে খুব সামান্য; গঠনে ভাষাটি তার দক্ষিণ-মধ্য আত্মীয়দের মতোই। এন্ডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজেস আর্কাইভের (ELAR) সংগ্রহ-পাতায় অন্যদিকে জোর দেওয়া হয়েছে ম্রো থেকে নেওয়া শব্দের ওপর — সেখানে লেখা, রেংমিটচ্যে ম্রো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শব্দ ধার করা হয়েছে, আর এর বাক্যগঠন সহজেই ম্রো শব্দ গ্রহণ করে।
আন্তর্জাতিক ভাষা-কোডে রেংমিটচ্যের জায়গা নেই। উইকিপিডিয়ার তথ্যছক অনুযায়ী এর ISO 639-3 কোড নেই; গ্লটোলগ লিখেছে, ভাষাটি এথনোলগের ষোড়শ থেকে আটাশতম সংস্করণে অনুপস্থিত। গ্লটোলগ বিপন্নতার মাপকাঠিতে একে “মুমূর্ষু” (moribund) বলেছে; ELAR-এর পাতায় এর অবস্থান EGIDS মাপকাঠিতে 8b (“প্রায় বিলুপ্ত”) এবং ইউনেস্কোর মাপকাঠিতে “চরম বিপন্ন” (Critically Endangered)।
রেংমিটচ্যের ব্যাকরণ নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত কাজ পিটারসনের “The stem alternation in Rengmitca” (হিমালয়ান লিঙ্গুইস্টিকস, খণ্ড 19, সংখ্যা 2, 2020)। প্রবন্ধটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টার, মোটামুটি পঁচিশটি রেকর্ড করা গল্প-বর্ণনার ওপর দাঁড়িয়ে। তার মূল কথা: কয়েকটি ক্রিয়ার দুটি রূপ আছে, আর বাক্যের ধরন অনুযায়ী একটি বা অন্যটি বসে।
প্রবন্ধের উদাহরণে “যাওয়া” ক্রিয়ার দুটি রূপ — আদেশে ke, বিবৃতিতে kek। “যাও!” বলতে একটি, “তারা গেল” বলতে অন্যটি। একইভাবে “খাওয়া” ca ও cak, “পান করা” ne ও nek। পিটারসন লিখেছেন, রেংমিটচ্যে এই রূপভেদ অল্প কয়েকটি ক্রিয়ায় সীমিত, এবং তার গড়ন একটাই: শেষে একটি -k যোগ হওয়া। এমন রূপভেদ কুকি-চিন দলের অনেক ভাষায় সুপরিচিত, কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম উপদলে — খুমি, লেমি, ম্রো-খিমিতে — এর প্রমাণ এতদিন খুব কম ছিল; সেই কারণে রেংমিটচ্যে এর উপস্থিতিকে তিনি উল্লেখযোগ্য বলেছেন।
খুমির সঙ্গে নিয়মিত ধ্বনি-সম্পর্কের একটি উদাহরণও প্রবন্ধে আছে: “কান” রেংমিটচ্যে t’na, খুমিতে k’no — শব্দের শুরুর উপসর্গে রেংমিটচ্যের t খুমির k-র সঙ্গে মেলে। পিটারসন আরও লিখেছেন, রেংমিটচ্যের অনেক শব্দ “দেড়-অক্ষরা” — একটি হালকা ছোট অক্ষরের পরে একটি পূর্ণ অক্ষর; ভাষাটি সুরভিত্তিক, তবে পুরো সংকলনে সুর তখনো যাচাই হয়নি।
এই শব্দগুলো অভিধানের নয়, গবেষণার; “মিটচ্য তখক”-এর ভুক্তিতে একই শব্দ ম্রো বা বাংলা হরফে কীভাবে লেখা হয়েছে, তা অনলাইনে প্রকাশিত কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
রেংমিটচ্য ভাষার বক্তার সংখ্যা উৎস ও সালভেদে আলাদা, তাই একটি “বর্তমান” সংখ্যা দেওয়ার উপায় নেই। সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব জুলাই 2026-এর: ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা গবেষক আফসানা ফেরদৌস আশার বরাতে লিখেছে, সাবলীল বক্তা ছয়জনের একজন মারা যাওয়ায় সংখ্যা এখন পাঁচ। এর আগের প্রতিটি হিসাব নিচের ছকে, যে উৎস যেভাবে বলেছে।
| যে সময়ের হিসাব | সংখ্যা | উৎস ও প্রকাশের তারিখ |
|---|---|---|
| 2013 | 22 জন | ইয়াংঙান ম্রো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (21 ফেব্রুয়ারি 2021); টিবিএস বাংলা (ফেব্রুয়ারি 2023) |
| 2013 | কম-বেশি 32 জন | ইয়াংঙান ম্রো, প্রথম আলো (1 ফেব্রুয়ারি 2023) |
| 2013 | 36 জন | সিংয়ং ম্রো, প্রথম আলো (21 ফেব্রুয়ারি 2022); প্রথম আলো (21 ফেব্রুয়ারি 2024); ELAR সংগ্রহ-পাতা (2024) |
| 2014 | 50 জনের কম | যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের অনুদানের সারাংশ (অনুদান 1360770, জুলাই 2014) |
| 2014 | প্রায় 22 জন | ইয়াংঙান ম্রো, কালের কণ্ঠের বরাতে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (19 ফেব্রুয়ারি 2023) |
| 2015 | 30 জন | ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে পিটারসন, গ্লোবাল ভয়েসেসের বরাতে (21 ফেব্রুয়ারি 2024) |
| 2015 (প্রকল্পের শুরু) | সম্ভবত 10 জন পুরোপুরি দক্ষ | পিটারসনের প্রকল্প-ফল প্রতিবেদন, জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন (হালনাগাদ 20 জুলাই 2020) |
| 2020 | 20 জনের কম দক্ষ বক্তা; তাঁদের মধ্যে সম্ভবত 5 জন পুরোপুরি সাবলীল | পিটারসন, হিমালয়ান লিঙ্গুইস্টিকস 19(2), 2020 |
| 2020 | 10-এর প্রায় অর্ধেক | পিটারসনের প্রকল্প-ফল প্রতিবেদন (জুলাই 2020) |
| 2021 | 6 জন | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (21 ফেব্রুয়ারি 2021); গ্লোবাল ভয়েসেস (2024), ইয়াংঙান ম্রোর 2021 সালের সফরের বরাতে |
| 2022 | 6 জন | প্রথম আলো (21 ফেব্রুয়ারি 2022); ইয়াংঙান ম্রো, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (2023) |
| 2023 | 6 জন | দেশেবিদেশে (31 জানুয়ারি 2023); প্রথম আলো (1 ফেব্রুয়ারি 2023); টিবিএস বাংলা (21 ফেব্রুয়ারি 2023) |
| জানুয়ারি 2024 | 6 জন | বিডিনিউজ (12 জানুয়ারি 2024) |
| ফেব্রুয়ারি 2024 | 7 জন | প্রথম আলো (21 ফেব্রুয়ারি 2024); সিংরা ম্রো, দ্য ডেইলি স্টার (21 ফেব্রুয়ারি 2024); ELAR সংগ্রহ-পাতা (2024) |
| অক্টোবর 2025 | 6 জন | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (14 অক্টোবর 2025) |
| জুলাই 2026 | 5 জন সাবলীল | আফসানা ফেরদৌস আশা, ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা (18 জুলাই 2026) |
ছকের সংখ্যাগুলো সব একই জিনিস মাপে না। কোনো উৎস বলেছে “জানেন”, কোনোটি “কথা বলতে পারেন”, কোনোটি “সাবলীলভাবে বলতে পারেন”, আর পিটারসনের 2020 সালের প্রবন্ধ আলাদা করেছে “দক্ষ” বক্তা (20-এর কম) আর “পুরোপুরি সাবলীল” বক্তা (সম্ভবত 5 জন) — দক্ষদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন, যাঁরা কেবল শুনে বোঝেন ও সামান্য বলতে পারেন। 2024-এর “সাত” সংখ্যার ব্যাখ্যা প্রথম আলো দিয়েছে: দুই বছর ধরে বাবার কাছে ভাষাটি শিখে সিংরা ম্রো (প্রথম আলোর বানানে সিংরাও) নিজে একজন বক্তা হয়েছেন, তাই ছয় থেকে সাত।
বক্তারা কোথায় থাকেন, তা নিয়ে উৎসগুলো মোটামুটি একমত: আলীকদম উপজেলার তৈন খালের ক্রাংসি পাড়া, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনসিং পাড়া, আর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুটি পাড়া। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2021) লিখেছে, ছয়জন দুই উপজেলার চারটি পাড়ায় ছড়িয়ে; প্রথম আলো (2022) লিখেছে চারজন আলীকদমে, দুজন নাইক্ষ্যংছড়িতে; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অক্টোবর 2025-এর প্রতিবেদনেও একই ভাগ। পিটারসনের প্রবন্ধে জায়গাটি “দক্ষিণ পার্বত্য চট্টগ্রামে আলীকদম শহরের কাছে”; ELAR-এর পাতা ক্রাংসি পাড়াকে বলেছে আলীকদমের উত্তর-পূর্বে। ক্রাংসি পাড়ায় যেতে আলীকদম সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তৈন খাল ধরে আধঘণ্টা, তারপর আড়াই ঘণ্টার মতো হাঁটা (টিবিএস বাংলা, 2023)। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য জনগোষ্ঠী ও জায়গার কথা আছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব-পাতায়।

দেশেবিদেশের প্রতিবেদন অভিধানের প্রচ্ছদে থাকা ছয় রেংমিটচ্যভাষীর নাম দিয়েছে: মাংপুন ম্রো, কুনরাও ম্রো, রেংপুন ম্রো, মাংওয়ই ম্রো, আরেক কুনরাও ম্রো ও থোয়াইংলক ম্রো। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজের 2021 সালের তালিকা এবং টিবিএস বাংলার 2023 সালের তালিকাতেও এই ছয়টি নামই আছে, ভিন্ন বানানে।
প্রথম আলোর 21 ফেব্রুয়ারি 2022-এর তালিকা আলাদা। সেখানে ছয়জনের মধ্যে একজন কুনরাও (দুজন নয়), আর একজন সিংরা — অর্থাৎ ক্রাংসি পাড়ার তিনজন হিসেবে কুনরাও, মাংপুন ও সিংরার নাম। 2024 সালে প্রথম আলো সিংরাকে সপ্তম বক্তা হিসেবে গুনেছে, ছয়জনের একজন হিসেবে নয়।
নারী-পুরুষের ভাগেও উৎস মেলে না। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (2021), টিবিএস বাংলা (2023), প্রথম আলো (2023) ও ইত্তেফাক (2026) লিখেছে দুজন নারী — কুনরাও নামের দুজন; প্রথম আলো (2022) লিখেছে একজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ; গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) “2023-এর প্রতিবেদনের” বরাতে লিখেছে পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী।
পিটারসনের 2020 সালের প্রবন্ধের কৃতজ্ঞতা-স্বীকারে রেংমিটচ্যভাষীসহ যাঁদের নাম আছে, তার মধ্যে Mangpün, Thwåjnglök, Kunraw ও Rengpün — প্রচ্ছদের নামগুলোর রোমান বানান — আর Yangngan Mro নামটিও আছে। প্রকল্প-প্রতিবেদনের ছবির ক্যাপশনে Thwåjnglök ও Mangpün-এর রেকর্ডিং (ডিসেম্বর 2015), Rengpün-এর একটি লোককথা বলার ভিডিও (ডিসেম্বর 2017) আর Kunraw-র বলা একটি লোককথার প্রতিলিপির উল্লেখ আছে।
জুলাই 2026-এ ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা জানায়, প্রচ্ছদের ছয়জনের একজন মাংওয়াই ম্রো 5 মে 2026 মারা গেছেন। দুই প্রতিবেদনই তথ্যটি দিয়েছে আফসানা ফেরদৌস আশার বরাতে, যাঁকে ক্রাংসি পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা ফোনে খবরটি জানান। ইত্তেফাক এরপর পাঁচজনের নাম দিয়েছে: মাংপুং ম্রো, দুই কুনরাও ম্রো, থোয়াই লক ম্রো ও রেংপুং ম্রো। টিবিএস বাংলা (2023) ও ইত্তেফাক (2026) লিখেছে, মাংপুং, রেংপুং ও মাংওয়াই তিন ভাই।
রেংমিটচ্যের প্রথম লিখিত চিহ্ন একটি শব্দতালিকা। পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদন লিখেছে, তিনি 2009 সালে যখন বক্তাদের খুঁজে পান, তখন ভাষাটি জানা ছিল কেবল কয়েকটি উল্লেখ আর জার্মান/সুইস নৃবিজ্ঞানী লোরেন্স লোফলারের সংগৃহীত একটি শব্দতালিকা থেকে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী তখন বাংলাদেশ সরকারও ভাষাটির অস্তিত্ব জানত না।
লোফলারের কাজের দুটি সূত্র পাওয়া যায়। পিটারসনের 2020 সালের প্রবন্ধের গ্রন্থপঞ্জিতে আছে লোফলারের “Khami/Khumi Vokabulare” (আনথ্রোপস, খণ্ড 55, 1960), আর প্রবন্ধটি 1960-এর ওই কাজের বরাতে লিখেছে, রেংমিটচ্যভাষীরা কয়েক দশক ধরে ম্রোর দিকে সরে যাচ্ছেন। প্রথম আলো (2022) লিখেছে, ক্লাউস-ডিয়েটার ব্রাউনস ও লোরেন্স জি. লোফলার ম্রোদের নিয়ে লেখা বইয়ে বলেছেন, আরাকান থেকে আসা “খামি” নামে রেংমিটচ্য ভাষার একটি দল মাতামুহুরীর উজানের ম্রোদের সঙ্গে মিশে গেছে; সেই বইয়ের সূত্র ধরেই পিটারসন রেংমিটচ্যভাষীদের খুঁজে পান। দেশেবিদেশের প্রতিবেদনে ইয়াংঙান ম্রোর বরাতে আছে, পিটারসন তাঁকে বলেছিলেন, 1970 সালের দিকে লেখা এক জার্মান ভাষাবিদের বই থেকে তিনি রেংমিটচ্যের কথা জেনেছিলেন।
পিটারসন কোন সালে বক্তাদের খুঁজে পান, তা-ও উৎসভেদে আলাদা: তাঁর প্রকল্প-প্রতিবেদন, বিডিনিউজ (2021 ও 2024) ও টিবিএস বাংলা (2023) বলেছে 2009; প্রথম আলো (2022, 2023, 2024) বলেছে 2013। প্রথম আলো (2022) আরও লিখেছে, পিটারসন 11 জানুয়ারি 2015 বান্দরবান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভাষাটির বিপন্নতার কথা জানান; গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে 2015 সালের সংবাদ সম্মেলনটি ঢাকায়। প্রকল্প-প্রতিবেদনের একটি ছবির ক্যাপশন অনুযায়ী জানুয়ারি 2015-এ আলীকদমে বক্তা ও সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে ভাষাটির ওপর একটি কর্মশালা হয়।
এই কাজের অর্থায়ন এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন থেকে: অনুদান নম্বর 1360770, শিরোনাম “Documentation of Rengmitca (Tibeto-Burman)”, প্রাপক ডার্টমাউথ কলেজ, মেয়াদ জুলাই 2014 থেকে ডিসেম্বর 2019, পরিমাণ 175,635 মার্কিন ডলার। পিটারসনের প্রতিষ্ঠানের নাম কয়েকটি প্রতিবেদনে (দেশেবিদেশে, গ্লোবাল ভয়েসেস, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস) “ডর্টমুন্ড কলেজ”, প্রথম আলোয় “নিউইয়র্কের ডারমুথ কলেজ”; তাঁর নিজের প্রবন্ধ ও অনুদানের নথিতে Dartmouth College।
এই প্রকল্পে ইয়াংঙান ম্রো ছিলেন পিটারসনের গবেষণা-সহকারী (গ্লোবাল ভয়েসেস; বিডিনিউজ 2024)। দেশেবিদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী পিটারসন তাঁকে প্রায়ই তৈন খালের দুর্গম এলাকা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বক্তাদের খুঁজতে পাঠাতেন, আর তিনি রেংমিটচ্যদের শব্দ সংগ্রহ করে ম্রো হরফে লিখে রাখতেন। অভিধানের সূচনা বক্তাদের অনুরোধে — কালের কণ্ঠকে দেওয়া তাঁর কথা দেশেবিদেশে উদ্ধৃত করেছে: “রেংমিটচ্যভাষীদের কাজ করতে গিয়ে তাঁদেরই একজন হয়ে গেলাম। নিজেদের মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁরা একসময় আমাকে বললেন এই ভাষার একটা ডিকশনারির ব্যবস্থা করে দিতে। তখন তাঁদের কথা দিয়েছিলাম। এত দিন পর সেটা আলোর মুখ দেখল।” কাজ শুরুর সাল নিয়ে (2013 না 2014) উৎসগুলোর অমিল আর সংকলকের নিজের পরিচয় ইয়াংঙান ম্রোকে নিয়ে লেখায় আছে।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (19 ফেব্রুয়ারি 2023) কালের কণ্ঠের সাক্ষাৎকারের বরাতে লিখেছে, বক্তাদের অনুরোধে তিনি রেংমিটচ্যের ব্যাকরণগত নিয়ম নিয়ে প্রায় 3,000 শব্দের একটি বই লিখেছেন। বিডিনিউজ (ফেব্রুয়ারি 2026) তাঁর রেংমিটচ্য ভাষার বইয়ের সংখ্যা লিখেছে 2টি। দ্বিতীয় বইটির নাম ও বিষয় কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
1 ডিসেম্বর 2023 থেকে ক্রাংসি পাড়ায় এক রেংমিটচ্য পরিবারের বাড়িতে প্রতি সন্ধ্যায় রেংমিটচ্য শেখানো হচ্ছে (বিডিনিউজ, 12 জানুয়ারি 2024)। শিক্ষক মাংপুং ম্রোর ছেলে সিংরা ম্রো; পাঠ্য মূলত “মিটচ্য তখক”, যা তিনি পড়ান ম্রো ভাষার মাধ্যমে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে তিনটি হিসাব আছে। বিডিনিউজ ইয়াংঙান ম্রোর বরাতে লিখেছে, শুরুতে ছিল 21 জন, পরে 35 জন — শিশু-কিশোর ও মধ্যবয়সী মিলিয়ে, ম্রো ও রেংমিটচ্য দুই পরিবারেরই। একই প্রতিবেদনে সিংরা বলেছেন, আপাতত 32 জনকে শেখানোর উদ্যোগ। গ্লোবাল ভয়েসেসকে সিংরা বলেছেন, শুরুতে এসেছিল 15 জন, পরে আরও যোগ দেয়।
উদ্যোগটি কার, তা নিয়েও দুই বর্ণনা। বিডিনিউজ ইয়াংঙান ম্রোকে বলেছে “রেংমিটচ্য ভাষা শিক্ষার উদ্যোক্তা”। গ্লোবাল ভয়েসেসকে সিংরা ম্রো বলেছেন, তিনি নিজের টাকা ও শ্রমে, ইয়াংঙানের পরামর্শ নিয়ে ক্লাস শুরু করেছেন। প্রথম আলো (2024) লিখেছে, ইয়াংঙান ম্রো সিংরাকে “অনুপ্রেরণা” দিচ্ছেন।
ক্লাসের ধরন কয়েকটি প্রতিবেদনে আছে। পাড়ার সবাই জুমচাষি বলে পাঠ সন্ধ্যার পর, দেড়-দুই ঘণ্টা (বিডিনিউজ); গ্লোবাল ভয়েসেসকে সিংরা বলেছেন, সাধারণত রাত 7টা থেকে 9টা, কখনো 10টা পর্যন্ত। প্রথম আলো (2024) লিখেছে, শিশুদের পশুপাখি, বনজঙ্গল, চলাফেরা, খাওয়াদাওয়ার শব্দ শেখানো হয়, আর সিংরার বাবা মাংপুন পাশে বসে ভুল শুধরে দেন। স্কুল নেই, ক্লাস হয় সিংরার নিজের বাড়িতে (গ্লোবাল ভয়েসেস)।
সিংরার নিজের ভাষাজ্ঞান নিয়ে প্রতিবেদনগুলো সময়ের সঙ্গে বদলেছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ (2021) লিখেছে, তিনি রেংমিটচ্য পরিবারের হলেও কেবল কিছু সহজ শব্দ বোঝেন। বিডিনিউজ (জানুয়ারি 2024) তাঁকে উদ্ধৃত করেছে: “কতকগুলো সহজ শব্দ বলতে পারি।” প্রথম আলো (ফেব্রুয়ারি 2024) লিখেছে, তিনি দুই বছর বাবার কাছে ভাষাটি শিখেছেন এবং এখন সপ্তম বক্তা।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সিংরা গ্লোবাল ভয়েসেসকে বলেছেন শেখানোর উপকরণের অভাব: ইয়াংঙানের অভিধানসহ যা আছে তা শেষ হয়ে গেলে এরপর কী পড়ানো হবে, সেই দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে তাঁর চাওয়া — বই, স্কুলে ক্লাস, আর পারিবারিক অভাবের কারণে শিক্ষকের সম্মানী; তখন পর্যন্ত সরকারের কোনো সহায়তা পাননি।
ক্লাসের পাশাপাশি পাড়ায় একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের খবরও এসেছে। দ্য ডেইলি স্টার (21 ফেব্রুয়ারি 2024) লিখেছে, ক্রাংসি পাড়ায় 28টি পরিবার, তার মধ্যে সাত পরিবারের 35 জন রেংমিটচ্য জানেন, তবে চার প্রবীণ ছাড়া নতুন প্রজন্ম কয়েকটি শব্দের বেশি বলতে পারে না; সে বছর তরুণেরা বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়েছিল। প্রথম আলো একই দিনে লিখেছে, শিশু শিক্ষার্থীরা রঙিন কাগজে সাজানো একটি শহীদ মিনার বানিয়ে রাত 12টা 1 মিনিটে ফুল দিয়েছে।
অভিধানই রেংমিটচ্যের একমাত্র নথি নয়। পিটারসন 2014–2019 মেয়াদের প্রকল্পে কয়েক ঘণ্টার অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং করেছেন, যা জমা হওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের PARADISEC ও যুক্তরাষ্ট্রের CoRSAL আর্কাইভে; আর 2024 থেকে এন্ডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজেস আর্কাইভে (ELAR) আফসানা ফেরদৌস আশার একটি সংগ্রহ অনলাইনে আছে।
পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর রেকর্ডিংয়ে আছে বর্ণনামূলক গল্প, কোনো কাজ করার পদ্ধতির বিবরণ, মৌখিক ইতিহাস; তার একটি অংশ ELAN সফটওয়্যারে সময়-মেলানো প্রতিলিপি, অনুবাদ ও বিশ্লেষণসহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, এই উপকরণ থেকে একটি বই বের করার পরিকল্পনা আছে, যাতে বিশ্লেষিত গল্প, একটি শব্দকোষ আর ব্যাকরণ ও ধ্বনিতত্ত্বের বিস্তারিত রূপরেখা থাকবে। সেই বই বেরিয়েছে কি না, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। টিবিএস বাংলা (2023) লিখেছে, পিটারসন সম্প্রতি চট্টগ্রামে এসে চার দিন ধরে মাংপুং ম্রো ও থোয়াই লক ম্রোর সাহায্যে 14 বছর আগের রেকর্ডিং ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।
ELAR-এর সংগ্রহটির শিরোনাম “The documentation of Rengmitca: The most endangered language in Bangladesh”, সংগ্রহ নম্বর 0816। জমাদাতা আফসানা ফেরদৌস আশা, নাথান ডব্লিউ. হিল ও সিংরা ম্রো; প্রতিষ্ঠান ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন। পাতাটি জানায়, এতে বর্ণনামূলক গল্প, স্বাভাবিক কথোপকথন, মৌলিক বাক্য আর সোয়াডেশ শব্দতালিকার অডিও-ভিডিও আছে; 2025–2028 সালে এন্ডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজেস ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রামের (ELDP) অর্থায়নে আরও উপকরণ যোগ হবে — গান, সাংস্কৃতিক চর্চার বিবরণ, আর ELAN ও FLEx-এ টীকাযুক্ত অনূদিত লেখা। পাতাটি সংগ্রহটিকে ভাষাটির প্রথম বর্ণনামূলক ব্যাকরণের ভিত্তি বলেছে। উইকিপিডিয়া আফসানা ফেরদৌসের পিএইচডি প্রকল্পের শিরোনাম লিখেছে “The Documentation of Rengmitca: A Critically Endangered Language in Bangladesh”, তত্ত্বাবধায়ক নাথান ডব্লিউ. হিল।
ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা (জুলাই 2026) জানায়, আফসানা ফেরদৌস আশা গবেষণার জন্য আগের বছর টানা সাত মাস আলীকদমে ছিলেন, ছড়িয়ে থাকা ছয় বক্তাকে নতুন করে খুঁজে তাঁদের ভাষা নথিভুক্ত করেছেন, আর রেংমিটচ্য নিয়ে 1,500 শব্দের একটি বইয়ের খসড়া তৈরি হয়েছে, যা জীবিত বক্তাদের সঙ্গে বসে একবার সংশোধন বাকি। ইত্তেফাক আরও লিখেছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ভাষাটির তথ্য নথিভুক্ত করে কাঠামো ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নৃভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা (2014–15) বাংলাদেশে 41টি ভাষা পেয়েছে, যার 14টি বিপন্ন, আর সেই তালিকায় রেংমিটচ্য আছে — প্রথম আলো (2022), বিডিনিউজ (2024) ও জুমজার্নালের আর্কাইভে থাকা 2019 সালের একটি লেখা এ কথা বলে। দ্য ডেইলি স্টার (2024) অন্যদিকে লিখেছে, রেংমিটচ্য সরকারের তালিকায় নেই।
প্রথম আলোকে (2022) ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভাষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা) মো. শাফীউল মুজ নবীন বলেছেন, বিপন্ন 14টির মধ্যেও পার্বত্য চট্টগ্রামের রেংমিটচ্য আর সমতলের পাত্র জনগোষ্ঠীর লালেং ভাষা গুরুতর সংকটাপন্ন; লালেং সংরক্ষণে ইনস্টিটিউট উদ্যোগ নিলেও রেংমিটচ্য নিয়ে তখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। লালেং ভাষার অবস্থা নিয়ে আছে লালেং থার নিয়ে আমাদের লেখা। বিডিনিউজ (জানুয়ারি 2024) লিখেছে, সমীক্ষাটি হয়েছিল 2014 সালে, আর পার্বত্য চট্টগ্রামের ছয়টি বিপন্ন ভাষার একটি রেংমিটচ্য।
জুমজার্নালের আর্কাইভে 2019 সালের আদিবাসী দিবস উপলক্ষে লেখা “ভূমিই জীবন, ভূমিই পরিচয়, ভূমিই অস্তিত্বের প্রতীক” নিবন্ধেও ইনস্টিটিউটের বিপন্ন ভাষার তালিকা উদ্ধৃত হয়েছে: খাড়িয়া, কোড়া, সৌরা, মুন্ডারি, কোল, মালতো, খুমি, পাংখোয়া, রেংমিটচা, চাক, খিয়াং, লুসাই ও পাত্র।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন (21 ফেব্রুয়ারি 2024) ইনস্টিটিউটের বরাতে লিখেছে, স্বীকৃত 50টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে 41টির নিজস্ব ভাষা আছে, কিন্তু রেংমিটচ্য সরকারের তালিকায় নেই। দুই দাবি পাশাপাশি থাকছে: প্রথম আলো ও বিডিনিউজ বলছে সমীক্ষার বিপন্ন তালিকায় রেংমিটচ্য আছে; ডেইলি স্টার বলছে সরকারি তালিকায় নেই।
পিটারসনের প্রকল্প-প্রতিবেদন লিখেছে, ভাষাটির খবর প্রকাশের পর থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির আশপাশে রেংমিটচ্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আসে।
রেংমিটচ্য হারানোর কারণ হিসেবে উৎসগুলো কয়েকটি কথা বলে: বক্তারা কয়েক দশক ধরে ম্রোর সঙ্গে মিশে গেছেন, বিয়ে করেছেন, ম্রো ভাষা নিয়েছেন; অনেকে মিয়ানমার ও ভারতে চলে গেছেন; আর যাঁরা আছেন তাঁরা ছড়িয়ে আছেন আলাদা পাড়ায়, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ কম। প্রতিটি কথা কে বলেছেন, নিচে।
বক্তাদের কথা। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজকে (2021) মাংপুং ম্রো বলেছেন, তাঁর দশ-বারো বছর বয়সে এলাকায় পাঁচটি রেংমিটচ্য পাড়া ছিল, প্রতিটিতে 50–60 পরিবার; বাইরের মানুষকে সেখানে রেংমিটচ্যেই কথা বলতে হতো। পরে কেউ বার্মায়, কেউ ভারতে গেছেন, বাকিরা ম্রোদের সঙ্গে মিশে গেছেন। রেংমিটচ্যে কথা বললে ম্রোরা হাসতেন, ছেলেমেয়েরা লজ্জা পেত, তাই একসময় কেউ আর ভাষাটি ব্যবহার করতে চায়নি। থোয়াই লক ম্রো টিবিএস বাংলাকে (2023) বলেছেন, ছোটবেলায় তৈন খালের আশপাশে 10–12টি রেংমিটচ্য পাড়া ছিল; তাঁর বাবা মৃত্যু পর্যন্ত শুধু রেংমিটচ্যে কথা বলতেন, ম্রো বুঝতেন না। প্রথম আলোকে (2022) মাংপুন ও রেংপুন বলেছেন, গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আলীকদমে চার-পাঁচটি পাড়ায় শতাধিক রেংমিটচ্যভাষী পরিবার ছিল।
1980-এর দশক। প্রথম আলো (2022) প্রয়াত রেংমিটচ্যভাষী পায়া ম্রোর 2015 সালের কথা উদ্ধৃত করেছে: ভাষাটি হঠাৎ বিপন্ন হয়নি, শত বছর ধরে হয়েছে; তবে সবচেয়ে সংকট এসেছিল 1980-এর দশকে, যখন পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্ত পরিস্থিতিতে রেংমিটচ্যভাষী ম্রোদের বেশির ভাগ মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে চলে যান, আর বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য ভাষার মানুষের সঙ্গে মিশে নিজেদের ভাষা হারান।
দীর্ঘ ইতিহাস। গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) লিখেছে, সতেরো শতকে রেংমিটচ্যভাষীদের একটি ছোট দল খুমিদের সঙ্গে আরাকান থেকে বান্দরবানে আসে, প্রথমে ম্রো পাড়ার কাছে আলাদা পাড়ায় থাকে; বিশ শতকে মহামারি ও অন্যান্য চাপে সংখ্যা কমলে তারা ম্রোদের সঙ্গে মিশে যায়, বিয়ে করে, ধীরে ধীরে ম্রো ভাষা নেয়। ক্রাংসি পাড়ার পাড়াপ্রধান তিনওয়াই ম্রো বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজকে (2021) বলেছেন, পাড়াটির বয়স 300 বছরের বেশি, একসময় সবাই রেংমিটচ্য ছিলেন।
ছড়িয়ে থাকা। ইয়াংঙান ম্রো গ্লোবাল ভয়েসেসকে বলেছেন, রেংমিটচ্যরা এক জায়গায় থাকেন না — কোনো গ্রামে 25 পরিবারের মধ্যে 7টি রেংমিটচ্য বলে, কোথাও একটিমাত্র পরিবার; আর ছেলেমেয়েরা গ্রামের অন্যদের বিরক্তির ভয়ে রেংমিটচ্য বলতে দ্বিধা করে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে রেংমিটচ্য জনগোষ্ঠীর মোট মানুষ সম্ভবত দুই-তিন হাজারের বেশি নয়। প্রথম আলো (2023) লিখেছে, ছয় বক্তা প্রত্যেকে আলাদা পরিবারে থাকেন, শুধু রেংমিটচ্যভাষী কোনো পরিবার নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার প্রথম আলোকে (2022) বলেছেন, জনসংখ্যা বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রেংমিটচ্যের বিপন্নতার প্রধান কারণ হতে পারে।
সম্প্রদায়ের ভেতরের মত। “ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি” গ্রন্থের লেখক, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য সিংয়ং ম্রো বিডিনিউজকে (2021) বলেছেন, ভাষা ছাড়া রেংমিটচ্যরা সংস্কৃতিতে ম্রোদের মতোই, তাই ম্রোদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে; ভাষা রক্ষার উপায় খুঁজতে কয়েকটি সভাও হয়েছে, কিন্তু তাঁর মতে সমস্যা হলো রেংমিটচ্যভাষীরা নিজেরা ভাষাটি রক্ষায় আগ্রহী নন। বক্তারা অন্য কথাও বলেছেন — কুনরাও ম্রো বিডিনিউজকে বলেছেন, ঘরে রেংমিটচ্যে কথা বলার কেউ নেই, কিছু বলতে চাইলেও উত্তর দেওয়ার মানুষ নেই; “নতুনরা এ ভাষা আর বলতে পারে না … জানি না এ ভাষা কীভাবে বাঁচবে।”
সীমান্তের ওপারে। প্রথম আলোকে (2022) পিটারসন বলেছেন, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যে রেংমিটচ্যভাষী জনগোষ্ঠীর খোঁজ করেছেন, কিন্তু পাননি, আর সেখানে কেউ এই নামের ভাষার কথা জানেন না।
রেংমিটচ্য ভাষার প্রকাশিত অভিধানটির নাম “মিটচ্য তখক” (গ্লোবাল ভয়েসেসের ইংরেজি বানানে Mitca Takhak)। দেশেবিদেশে ও টিবিএস বাংলা লিখেছে, নামটির মানে “রেংমিটচ্য ভাষা”। সংকলক বান্দরবানের লেখক ইয়াংঙান ম্রো; মোড়ক উন্মোচনের দিন ধার্য ছিল 31 জানুয়ারি 2023। প্রথম আলো বইটিকে “শব্দের বই (ওয়ার্ড বুক)” বলেছে।
উৎসভেদে সংখ্যা আলাদা। দেশেবিদেশে (31 জানুয়ারি 2023) লিখেছে প্রায় 3,400 শব্দ, গ্লোবাল ভয়েসেস (2024) লিখেছে 3,400 ভুক্তি। প্রথম আলো (2023) লিখেছে প্রায় তিন হাজার; টিবিএস বাংলা (2023), বিডিনিউজ (2024) ও ইত্তেফাক (2026) লিখেছে তিন হাজারের বেশি। প্রতিটি শব্দের বাংলা অনুবাদ আছে।
রেংমিটচ্যের নিজের লিপি নেই। দেশেবিদেশে লিখেছে অভিধানটি ম্রো বর্ণমালায় লেখা, কারণ রেংমিটচ্যভাষীরা ম্রো হরফ পড়তে পারেন। গ্লোবাল ভয়েসেস লিখেছে ম্রো ও বাংলা দুই বর্ণমালাই ব্যবহার হয়েছে। বিডিনিউজ (ডিসেম্বর 2024) লিখেছে, ম্রো শব্দের পাশে রেংমিটচ্য উচ্চারণ বাংলা হরফে দেওয়া।
সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব জুলাই 2026-এর: ইত্তেফাক ও টিবিএস বাংলা গবেষক আফসানা ফেরদৌস আশার বরাতে লিখেছে, সাবলীল বক্তা পাঁচজন, কারণ ছয়জনের একজন 5 মে 2026 মারা গেছেন। এর আগে 2021–2023 সালের প্রতিবেদনে সংখ্যা ছিল ছয়, ফেব্রুয়ারি 2024-এ প্রথম আলো ও ELAR লিখেছে সাত।
তিনটি সংখ্যা পাওয়া যায়। ইয়াংঙান ম্রো বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজকে (2021) বলেছেন 22 জন, প্রথম আলোকে (2023) বলেছেন কম-বেশি 32 জন। সিংয়ং ম্রো প্রথম আলোকে (2022) বলেছেন 36 জন, আর ELAR-এর সংগ্রহ-পাতাতেও 2013-এর সংখ্যা 36। পিটারসনের 2014 সালের অনুদান-সারাংশে লেখা 50 জনের কম।
না। গ্লটোলগ ও পিটারসনের শ্রেণিবিন্যাসে রেংমিটচ্য কুকি-চিন পরিবারের খোমিক বা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তিক শাখার ভাষা, খুমির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পিটারসনের 2020 সালের প্রবন্ধ অনুযায়ী ম্রো কুকি-চিনের বাইরের ভাষা, হকংসোর সঙ্গে আলাদা পরিবার। ইয়াংঙান ম্রো বলেছেন, দুই ভাষায় মিল মাত্র 10 শতাংশ।
উৎসগুলো দুই রকম কথা বলে। দেশেবিদেশের প্রতিবেদনে পিটারসনের বরাতে লেখা, ভাষা আলাদা হলেও রেংমিটচ্যরা জাতি হিসেবে ম্রো। সিংয়ং ম্রো বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, তিনি রেংমিটচ্যভাষীদের একটি পৃথক জনগোষ্ঠী মনে করেন; প্রথম আলো (2024) ইয়াংঙান ম্রোর বরাতে লিখেছে, তাঁরা পৃথক জনগোষ্ঠীর হলেও সময়ের ব্যবধানে ম্রোদের সঙ্গে মিশেছেন।
বান্দরবান জেলায়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী বক্তারা থাকেন আলীকদম উপজেলার তৈন খালের পাড়ে ক্রাংসি পাড়ায়, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনসিং পাড়ায়, আর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুটি পাড়ায়। প্রথম আলো (2022) ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (2025) লিখেছে, চারজন আলীকদমে ও দুজন নাইক্ষ্যংছড়িতে।
আলীকদমের তৈন মৌজার ক্রাংসি পাড়ায়, এক রেংমিটচ্য পরিবারের বাড়িতে, 1 ডিসেম্বর 2023 থেকে প্রতি সন্ধ্যায়। শিক্ষক সিংরা ম্রো, পাঠ্য মূলত “মিটচ্য তখক”। বিডিনিউজ (জানুয়ারি 2024) লিখেছে শিক্ষার্থী 21 থেকে বেড়ে 35 জন; গ্লোবাল ভয়েসেসকে সিংরা বলেছেন শুরুতে 15 জন এসেছিল।
ডার্টমাউথ কলেজের ভাষাবিদ ডেভিড এ. পিটারসন 2009 থেকে (প্রথম আলোর হিসাবে 2013 থেকে) কাজ করেছেন; যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন 2014–2019 মেয়াদে তাঁর প্রকল্পে 175,635 ডলার দেয়। তাঁর গবেষণা-সহকারী ছিলেন ইয়াংঙান ম্রো। ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে আফসানা ফেরদৌস আশা ভাষাটির নথিভুক্তি নিয়ে পিএইচডি করছেন; তাঁর সংগ্রহ ELAR-এ আছে।
প্রথম আলো (2022) ও বিডিনিউজ (2024) লিখেছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নৃভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় চিহ্নিত 14টি বিপন্ন ভাষার একটি রেংমিটচ্য; ইনস্টিটিউটের এক পরিচালক একে গুরুতর সংকটাপন্ন বলেছেন। দ্য ডেইলি স্টার (2024) লিখেছে, রেংমিটচ্য সরকারের তালিকায় নেই।
রেংমিটচ্যের ISO 639-3 কোড নেই (উইকিপিডিয়ার তথ্যছক)। ভাষা-তালিকা গ্লটোলগে এর কোড reng1255, আর গ্লটোলগ জানায় ভাষাটি এথনোলগের ষোড়শ থেকে আটাশতম সংস্করণে নেই। গ্লটোলগ একে “মুমূর্ষু” বলেছে; ELAR-এর পাতায় EGIDS মাপকাঠিতে 8b ও ইউনেস্কোর মাপকাঠিতে “চরম বিপন্ন”।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী ভাষা, ম্রো
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।