Last updated Nov 3rd, 2026
1

1964 থেকে 1969 সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে আসা 2,748টি চাকমা ও হাজং পরিবারকে ভারত সরকার তখনকার নেফায়, আজকের অরুণাচল প্রদেশে, বসিয়েছিল। ছয় দশক পরেও অরুণাচল প্রদেশের চাকমা হাজং নাগরিকত্ব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়নি: সুপ্রিম কোর্ট 1996 ও 2015 সালে দুবার রায় দিয়েছে, কেন্দ্র 1972 থেকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছে, আর রাজ্য সরকার ও ছাত্রসংগঠন আপসু (AAPSU) চায় তাঁরা রাজ্যে স্থায়ী না হোন। 2026 সালের ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রশ্নটি আবার রাস্তায় নেমেছে।
ভারতের তিন রাজ্যের চাকমাদের তুলনামূলক ছবি, বড়পরংয়ের যাত্রা আর মিজোরাম-ত্রিপুরার অবস্থা আমাদের ভারতের চাকমাদের নিয়ে লেখায় আছে। কাপ্তাই বাঁধ কবে, কত জমি ডুবিয়ে তৈরি হয়েছিল, তা আছে কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায়, আর যে শহরটি ডুবেছিল তার বিবরণ পুরনো রাঙামাটি শহরের লেখায়। এই লেখার কাজ আলাদা আর সংকীর্ণ: কেবল অরুণাচল। দুই রায়ের মূল পাঠ অনুচ্ছেদ ও পৃষ্ঠা ধরে, 2011 শুমারির ভাষাভিত্তিক সারণি, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্টের আদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ, আর প্রতিটি পক্ষ কোন তারিখে কী বলেছে — উৎসসহ, রায় না দিয়ে।
সূচিপত্র
প্রশ্নটি দুই স্তরের। প্রথম স্তর আইনি: 1964–69 সালে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব চাইতে পারেন (নাগরিকত্ব আইন 1955-এর ধারা 5(1)(a)), আর তাঁদের ভারতে জন্মানো সন্তানেরা জন্মসূত্রে দাবি করতে পারেন। দ্বিতীয় স্তর রাজনৈতিক: নাগরিক হলেও তাঁরা অরুণাচলে থাকবেন কি না, জমি ও স্থায়ী বাসিন্দার সনদ পাবেন কি না।
সুপ্রিম কোর্টের 1996 সালের রায়ে কেন্দ্রের অবস্থান লেখা আছে এভাবে: 1972 সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতির পর কেন্দ্র সব সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে জানিয়েছিল, চাকমাদের ধারা 5(1)(a) অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া হবে; আর 1987 সালের সংশোধনীর আগে ভারতে জন্মানো সন্তানদের নাগরিকত্বের “legitimate claims” আছে (রায়, JUDIS পৃষ্ঠা 3/8)। একই রায়ে অরুণাচল সরকারের অবস্থান: চাকমারা “foreigners”, রাজ্যের “special status” আছে, আর বাইরের মানুষকে বসতি করতে দেওয়ার সুযোগ রাজ্যের সাংবিধানিক অবস্থানে নেই (পৃষ্ঠা 3–4/8)।
এই দুই অবস্থানের মাঝখানে আটকে আছে প্রক্রিয়া। নিবন্ধনের আবেদন জমা হয় জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে, তিনি রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠান — নাগরিকত্ব নিয়ম 1956-এর বিধি 7, 8 ও 9। 1996 সালের রায়ের মূল আপত্তিই ছিল এখানে: ডেপুটি কমিশনার আবেদন আটকে রাখছিলেন, ফলে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না।
কেন্দ্রীয় সরকার ও নেফা প্রশাসনের আলোচনার ভিত্তিতে 1964 থেকে 1969 সালের মধ্যে চাকমা ও হাজং উদ্বাস্তুদের নেফার তিনটি এলাকায় — লোহিত, সুবনসিরি ও তিরাপ — বসানো হয়। অরুণাচল সরকারের নথির বরাতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF) লিখেছে, এই পর্বে 2,748টি পরিবারের প্রায় 14,888 জনকে পাঠানো হয়েছিল এবং 10,799 একর জমিতে বসানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের 1996 সালের রায়ে কেন্দ্রের বক্তব্য এভাবে লেখা: 1964 সালে কেন্দ্র ও নেফা প্রশাসনের “extensive discussions”-এর পর চাকমাদের পুনর্বাসনের জন্য বর্তমান অরুণাচলের ভূখণ্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় (JUDIS পৃষ্ঠা 3/8)। রায়ের শুরুর অংশে আছে, উদ্বাস্তুরা প্রথমে আসাম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন; আসাম সরকার সবাইকে পুনর্বাসন করতে অক্ষমতা জানালে নেফা প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে “about 4,012 Chakmas” নেফায় বসানো হয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরামর্শ করে জমি দেওয়া হয়, আর পরিবারপ্রতি 4,200 টাকা পুনর্বাসন-সহায়তা অনুমোদিত হয় (পৃষ্ঠা 1/8)।
দুটি চিঠি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। স্ক্রল (30 জুলাই 2017) আসামের তখনকার রাজ্যপাল বিষ্ণু সহায়ের 1964 সালের একটি চিঠি উদ্ধৃত করেছে, যেখানে তিনি মিজো জেলায় মিজো ও চাকমাদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কার কথা লিখে বলেন, এই চাকমারা নেফার তিরাপ বিভাগে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত, যেখানে “vacant land” সহজেই পাওয়া যায়। দ্য কুইন্ট (20 সেপ্টেম্বর 2017) ও ইউরেশিয়া রিভিউয়ের একটি মতামত-লেখা (8 সেপ্টেম্বর 2026) আসামের রাজ্যপালের উপদেষ্টা P. N. Luthra-র 1965 সালের একটি চিঠির কথা বলেছে, যেখানে সীমান্তের খালি এলাকায় পুনর্বাসন সীমান্তকে শক্তিশালী করবে বলে লেখা হয়েছিল।
পটভূমি হিসেবে কয়েকটি উৎস 1962 সালের চীন-ভারত যুদ্ধের কথা আনে। প্রথম আলোয় আলতাফ পারভেজ (1 মে 2024) লিখেছেন, যুদ্ধের পর নয়াদিল্লি নেফায় “নতুন বসতি”-র ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। চাকমা সংগঠন চাকমা রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (CRDO) প্রশ্নোত্তর-পাতা পুনর্বাসনের পাঁচটি কারণ দিয়েছে, তার একটি সীমান্ত এলাকা খালি না রাখা। ইউরেশিয়া রিভিউয়ের লেখক Purna Lal Chakma লিখেছেন, সরকারি নথিতে তাঁদের “living fence” বলা হয়নি, তবে পুনর্বাসন কৌশলগত এলাকায় স্থায়ী বেসামরিক বসতি তৈরি করেছিল।
আমাদের আর্কাইভের দুটি স্মৃতিকথায় যাত্রাপথের বিবরণ আছে। “১২ বছর বয়সে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম” লেখার কথক বলেছেন, দেমাগ্রী থেকে হেঁটে আইজল, সেখান থেকে বদরপুর, তারপর ট্রেনে মিয়াওয়ের দিকে লেডো ক্যাম্পে পৌঁছাতে এক বছরের বেশি লেগেছিল; সাল তাঁর মনে নেই, “সবাই বলে ১৯৬৪ সাল হবে হয়তো”। “পার্বত্য চট্টগ্রাম টু নেফা, ভারত: বড়পরং যাত্রা”-র কথকের স্মৃতিতে দেমাগ্রী শিবিরে মানুষকে 22টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। এই লেখা পৌঁছানোর পরের অংশ নিয়ে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়েও একই দুটি শিবিরের নাম আছে। খুদিরাম চাকমা মামলার তথ্য উদ্ধৃত করে 1996 সালের রায় বলছে, আবেদনকারী ও আরও 56টি পরিবার 1964 সালে এসে প্রথমে লেডোর সরকারি উদ্বাস্তু শিবিরে, পরে মিয়াওয়ের শিবিরে ছিলেন; 1966 সালে রাজ্য সরকার “Chakma Resettlement Scheme” তৈরি করে তাঁদের দুটি গ্রামে জমি দেয় (JUDIS পৃষ্ঠা 5/8)। CRDO-র বিবরণে কাছাড় ও লেডোর শিবিরের কথা আছে, প্রতিটি শিবিরে বাঁশ ও ছনের 50–60টি ঘর।
আজকের প্রশাসনিক মানচিত্রে বসতিগুলো চাংলাং, নামসাই ও পাপুম পারে জেলায়। CRDO-র হিসাবে দুই জনগোষ্ঠী এই তিন জেলার 45টি গ্রামে থাকেন। ORF-এর লেখায় চাংলাংয়ের দিয়ুন ও বরদুমসা, লোহিতের চৌখাম আর পাপুম পারের কোকিলা এলাকার নাম আছে। দ্য ওয়্যার (17 ডিসেম্বর 2015) লিখেছে, চাকমারা নামসাই, চাংলাং ও পাপুম পারে — তিন জেলায় ছড়িয়ে আছেন, আর হাজংরা কেবল চাংলাংয়ে। রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষকের 2022 সালের মাঠসমীক্ষা হয়েছিল চাংলাংয়ের বরদুমসা, দিয়ুন, খারসাং ও মিয়াও — চারটি সার্কেলের বিজয়পুর-১, বিজয়পুর-৩, গৌতমপুর, ডুমপাথার, মিলনপুর, রত্নপুর, আনন্দপুর ও দেবপুরী গ্রামে।

ORF-এর হিসাবে পরিবারের আকার অনুযায়ী 5 থেকে 10 একর জমি দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে 3 থেকে 5 একর চাষযোগ্য, কেন্দ্রীয় পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে; পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় পরিবারপ্রতি নগদ অনুদানও অনুমোদন করেছিল। CRDO লিখেছে প্রতিটি পরিবার 5 একর জমি ও এককালীন প্রায় 4,200 টাকা পেয়েছিল, আর জমিগুলো ছিল ঘন জঙ্গল। প্রথম আলোর লেখায় আছে, প্রতি পরিবারকে পাঁচ একর জঙ্গল-জমি দেওয়া হয় এবং 1978 সাল থেকে সেগুলো পাঁচ বছর মেয়াদে লিজ আকারে নবায়ন হতো।
অরুণাচলের হাজংরা চাকমাদের সঙ্গে একই পর্বে এসেছিলেন, কিন্তু অন্য এলাকা থেকে। CRDO, ইন্ডিয়া টুডে এনই (1 আগস্ট 2022) ও ইউরেশিয়া রিভিউ — তিনটি উৎসই লিখেছে, হাজংরা এসেছিলেন তখনকার ময়মনসিংহ জেলা থেকে, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে। 2011 সালের শুমারির মাতৃভাষা সারণি C-16 অনুযায়ী অরুণাচলে “Haijong/Hajong” মাতৃভাষী 2,711 জন।
ময়মনসিংহের সীমান্ত-অঞ্চলে হাজংদের ভূমি-ইতিহাস ও টংক আন্দোলন নিয়ে আমাদের আর্কাইভে আলাদা লেখা আছে: টংক প্রথা ও হাজংরা। অরুণাচলের হাজংদের ধর্ম নিয়ে উৎসগুলোর ভাষা আলাদা: বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম লিখেছে “Hindu”, আর হিন্দুস্তান টাইমসে Angshuman Choudhury (24 এপ্রিল 2024) লিখেছেন হাজংরা হিন্দু ও “animist” রীতির মিশ্রণ মানেন।
কতজন হাজং এসেছিলেন, তার আলাদা সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের ওই লেখায় আছে, বাঁধে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে প্রায় 40,000 চাকমা ও 2,000 হাজং লুসাই পাহাড় দিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন। কোথায় থাকেন, সে প্রশ্নেও দুই রকম লেখা আছে: দ্য ওয়্যার (2015) বলছে হাজংরা কেবল চাংলাংয়ে; প্রথম আলো (2024) লিখেছে তাঁরা তিরাপ জেলায়, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে।
| রাজ্য | চাকমা মাতৃভাষী | হাজং মাতৃভাষী |
|---|---|---|
| অরুণাচল প্রদেশ | 47,073 | 2,711 |
| মিজোরাম | 92,850 | 1 |
| ত্রিপুরা | 84,269 | 8 |
| আসাম | 3,166 | 27,521 |
| মেঘালয় | 159 | 41,414 |
| সারা ভারত | 228,281 | 71,792 |
উৎস: Census of India 2011, Table C-16 “Population by Mother Tongue”, রাজ্যস্তরের সারি (মাতৃভাষা কোড 002011 চাকমা, 002015 Haijong/Hajong)। অরুণাচলে চাকমা বা হাজং কোনো তফসিলি উপজাতি তালিকায় নেই, তাই জনসংখ্যা অনুমানে মাতৃভাষার সারণিই ব্যবহৃত হয়। অরুণাচলের 47,073 চাকমা মাতৃভাষীর মধ্যে 46,908 জন গ্রামে থাকেন।
কতজন এসেছিলেন আর এখন কতজন আছেন — দুটি সংখ্যাই বিতর্কের অংশ। শুরুর সংখ্যা উৎসভেদে প্রায় 4,000 থেকে প্রায় 15,000; বর্তমানের সংখ্যা 2011 শুমারির প্রায় 47,000–50,000 থেকে রাজ্য সরকারের 2015–16 সমীক্ষার 65,875, আর আপসুর দাবিতে এক লাখের বেশি। নিচের ছকে প্রতিটি সংখ্যা তার উৎস ও সালসহ।
| কী মাপা হয়েছে | সংখ্যা | উৎস ও সাল |
|---|---|---|
| নেফায় বসানো চাকমা | প্রায় 4,012 জন | সুপ্রিম কোর্ট, NHRC বনাম অরুণাচল, 9 জানুয়ারি 1996 (JUDIS পৃ. 1) |
| 1964–69-এ পাঠানো পরিবার ও মানুষ | 2,748 পরিবার, প্রায় 14,888 জন | অরুণাচল সরকারের নথি, ORF-এ উদ্ধৃত (2017); শ্বেতপত্রের বরাতে প্রথম আলো (2024) ও দ্য ওয়্যার (2015) |
| 1964–69-এ আসা উদ্বাস্তু | প্রায় 5,000 | কর্মকর্তাদের বরাতে PTI, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 13 সেপ্টেম্বর 2017 |
| 1979 সালে | 3,919 পরিবার, 21,494 জন | ORF, 29 মে 2017 |
| 1990-এর দশকে আনুমানিক | প্রায় 65,000 | সুপ্রিম কোর্ট 1996 (পৃ. 1); ORF 1991 শুমারির বরাতে |
| 1995 সালের শ্বেতপত্রে | 60,000-এর বেশি | Jarpum Gamlin-এর বরাতে দ্য ওয়্যার, 2015 |
| 2011 শুমারি, মাতৃভাষা | চাকমা 47,073; হাজং 2,711 | Census of India 2011, C-16 |
| 2011 শুমারি, দুই জনগোষ্ঠী একত্রে | 49,784 | CRDO প্রশ্নোত্তর-পাতা |
| 2011 শুমারি, দুই জনগোষ্ঠী একত্রে | 47,471 | দ্য ওয়্যার, 17 ডিসেম্বর 2015 |
| বিশেষ সমীক্ষা 2015–16 | 65,875 | মুখ্যমন্ত্রীর বরাতে প্রথম আলো (2024); দ্য ফেডারেল (2022); ইউরেশিয়া রিভিউ (2026) |
| আপসুর দাবি | “এক লাখের বেশি” | আপসুর সাধারণ সম্পাদক Biru Nasi, দ্য ওয়্যার, 2015 |
| কর্মকর্তাদের হিসাব | প্রায় 1,00,000 | PTI, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 2017 |
| 1964–69-এ আসাদের মধ্যে বেঁচে আছেন | প্রায় 7,000 | দ্য ওয়্যার, 2015 |
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়েও দুই পক্ষ আলাদা হিসাব দেয়। দ্য ওয়্যারে (2015) সুহাস চাকমা বলেছেন, 47 বছরে চাকমা-হাজং জনসংখ্যা বেড়েছে 218%, আর একই সময়ে রাজ্যের অ-উপজাতি জনসংখ্যা 1961-এর 36,614 থেকে 2011-এ 3,84,435 হয়েছে। CRDO-র প্রশ্নোত্তর-পাতা বলছে 1964–2011-এ বৃদ্ধি 234%, আর 1961–2011-এ রাজ্যের মোট জনসংখ্যা 3.37 লাখ থেকে 13.84 লাখ, অর্থাৎ 311%। অন্য দিকে একই লেখায় Jarpum Gamlin 1995 সালের শ্বেতপত্রের বরাতে বলেছেন, সংখ্যা মূলের তুলনায় 300%-এর বেশি বেড়েছে, আর আপসু বলছে পরেও আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ থেকে মানুষ এসেছেন।
চাকমা সংগঠনগুলো বলে, পুনর্বাসনের পর প্রায় দেড় দশক তাঁরা স্থানীয়দের মতোই রেশন কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স, বন্দুকের লাইসেন্স, ভোটাধিকার ও প্রতিরক্ষা-বাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন; অরুণাচল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও পরে রাজ্য হওয়ার পর এগুলো একে একে বন্ধ হয়। সময়সীমা উৎসভেদে 1979, 1980 বা 1991।
CRDO-র তালিকায় আছে: বিনামূল্যে পাঠ্যবই ও পোশাক, মিয়াওয়ের “ST hotels”-এ থাকা-খাওয়া, ভর্তুকি দামে রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, বন্দুকের লাইসেন্স, গ্রামপ্রধানদের (গাঁওবুড়া) লাল কোট ও টুপি, ভোটাধিকার, সশস্ত্র সীমা বল ও আসাম রাইফেলসে চাকরি, জন্মসনদ, কৃষিঋণ ও ভর্তুকি। CRDO লিখেছে এই “at par rights” ছিল 1964 থেকে 1979 পর্যন্ত। স্ক্রলে (30 আগস্ট 2021) প্রকাশিত লেখায় আছে, 1980 পর্যন্ত চাকমা-হাজংরা সরকারি চাকরি, রেশন কার্ড ও ট্রেড লাইসেন্স পেতেন, সে বছর থেকে অধিকারগুলো তুলে নেওয়া হয়। দ্য কুইন্টের (2017) সময়রেখায় 1991 সালে রাজ্যের এক আদেশে চাকমা, হাজং ও তিব্বতিদের খাদ্য-ভর্তুকি বন্ধের কথা আছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের Panjang Aboh ও Nani Bath-এর গবেষণা-প্রতিবেদন (Refugee Watch 63, ডিসেম্বর 2023) লিখেছে: 1972 সাল পর্যন্ত নেফা ছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, আসামের রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির এজেন্ট হিসেবে প্রশাসন চালাতেন; তাই বসতি স্থাপনে প্রশাসনিক বা আইনি বাধা কম ছিল, আর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। বিরোধিতা শুরু হয় 1972-এর পরে, বিশেষ করে 1990-এর দশকের শুরুতে। অরুণাচল টাইমসের সম্পাদক Tongam Rina-র কলাম (15 সেপ্টেম্বর 2021) একই কথা লিখেছে: বসতি শুরু হয়েছিল যখন অরুণাচল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেফা ছিল।
নাগরিকত্বের প্রশ্ন প্রথম সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছায় একটি জমি-উচ্ছেদের মামলা দিয়ে। 15 ফেব্রুয়ারি 1984 সালের এক আদেশে রাজ্য 57টি চাকমা পরিবারকে নির্ধারিত এলাকায় সরে যেতে বলে; গৌহাটি হাইকোর্ট 30 এপ্রিল 1992 তাঁদের আবেদন খারিজ করে, সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রাখে — State of Arunachal Pradesh v. Khudiram Chakma, 1994 Supp. (1) SCC 615।
1996 সালের রায় মামলাটির তথ্য সংক্ষেপে দিয়েছে (JUDIS পৃষ্ঠা 5–6/8): আবেদনকারী নির্ধারিত দুই গ্রামের বাইরে ব্যক্তিগত চুক্তিতে জমি নিয়েছিলেন; তখনকার রেগুলেশন অনুযায়ী ওই জেলার স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া কেউ জমি কিনতে পারতেন না — রায় এটিকে বলেছে Bengal Eastern Frontier Regulation 1873-এর ধারা 7-এর সরাসরি লঙ্ঘন। আবেদনকারীরা নাগরিকত্ব দাবি করেছিলেন ধারা 6A-র ভিত্তিতে, যা আসাম চুক্তির বিশেষ বিধান — 1966 সালের 1 জানুয়ারির আগে আসামে আসা ও সেখানে বসবাসরতদের জন্য। হাইকোর্ট বলে, তাঁরা 1964 সালে অল্প সময় আসামে ছিলেন, তারপর অরুণাচলে চলে যান, তাই ধারা 6A খাটে না।
Aboh ও Bath-এর প্রতিবেদন মামলাটির উৎস বলেছে দিয়ুন সার্কেল অফিসারের উচ্ছেদ-আদেশ, আর গৌহাটি হাইকোর্টের মামলার নাম “Khudiram Chakma vs. Union Territory of Arunachal Pradesh”। 1995 সালে রাজ্য সরকার এই রায়কেই যুক্তি হিসেবে আনে: নাগরিকত্বের প্রশ্নের “conclusive” নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, চাকমারা বিদেশি। পরের বছর সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে — নিচে দেখুন।
1994 সালের আগস্টে আপসু চাকমাসহ সব “বিদেশি”-কে রাজ্য ছাড়ার নোটিশ দেয়। পরের পনেরো মাসে অর্থনৈতিক অবরোধ, নতুন সময়সীমা আর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) হস্তক্ষেপের পর অক্টোবর 1995-এ কমিশন নিজেই সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে (W.P.(C) No. 720 of 1995)। ঘটনাক্রম রায়ের পাঠ থেকে:
| তারিখ | ঘটনা (সুপ্রিম কোর্টের 1996 সালের রায়ে যেভাবে লেখা) |
|---|---|
| 26 আগস্ট 1994 | “The Telegraph”-এর খবর: আপসু সব কথিত বিদেশিকে 30 সেপ্টেম্বর 1995-এর মধ্যে রাজ্য ছাড়তে “quit notices” দিয়েছে, না মানলে বলপ্রয়োগের হুমকি |
| 9 সেপ্টেম্বর 1994 | পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (PUCL), দিল্লি বিষয়টি NHRC-র নজরে আনে |
| 20 সেপ্টেম্বর 1994 | রাজ্যের চিঠিতে কেন্দ্রের কাছে সহায়তা চাওয়া; রাজ্যের ভাষ্যে এর ভিত্তিতেই CRPF আসে |
| 30 সেপ্টেম্বর 1994 | অরুণাচলের মুখ্য সচিব ফ্যাক্সে জানান পরিস্থিতি “totally under control” |
| 15 অক্টোবর 1994 | কমিটি ফর সিটিজেনশিপ রাইটস অব দ্য চাকমাস (CCRC) NHRC-তে নিপীড়নের অভিযোগ জানায় |
| 28 অক্টোবর 1994 | NHRC অভিযোগকে আনুষ্ঠানিক মামলা হিসেবে নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রকে নোটিশ দেয় |
| 22 নভেম্বর 1994 | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় NHRC-কে লিখিতভাবে চাকমাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার “intention” পুনর্ব্যক্ত করে; কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত বাহিনী মোতায়েনের কথা জানায় |
| 7 ডিসেম্বর 1994 | NHRC সুরক্ষার পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দেয়; সেপ্টেম্বর 1995 পর্যন্ত সাড়া মেলেনি |
| 20 সেপ্টেম্বর 1995 | আপসুর নতুন আলটিমেটাম: চাকমাদের বের করার সময়সীমা 31 ডিসেম্বর 1995 |
| 25 সেপ্টেম্বর 1995 | রাজ্যের অন্তর্বর্তী জবাব; তাতে লেখা “the Central Government is the sole authority to grant citizenship” |
| 12 ও 28 অক্টোবর 1995 | CCRC জীবনের হুমকির জরুরি আবেদন পাঠায় |
| 29 অক্টোবর 1995 | NHRC “prima facie” সিদ্ধান্ত লেখে যে রাজ্যের কর্মকর্তারা আপসুর সঙ্গে সমন্বয় করে চাকমাদের বের করতে চাইছেন; সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত |
| 2 নভেম্বর 1995 | সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ: আইনবহির্ভূত বলপ্রয়োগে চাকমাদের উচ্ছেদ করা যাবে না |
| 9 জানুয়ারি 1996 | চূড়ান্ত রায় |
রায়ের বাইরের উৎস আরও কিছু যোগ করে। ORF-এ Anasua Basu Ray Chaudhury (29 মে 2017) লিখেছেন, তখনকার মুখ্যমন্ত্রী Gegong Apang-এর নেতৃত্বে রাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা প্রস্তাব নিয়েছিলেন, 31 ডিসেম্বর 1995-এর মধ্যে চাকমা-হাজংদের সরানো না হলে তাঁরা জাতীয় দলগুলো থেকে গণপদত্যাগ করবেন; প্রস্তাবে স্থানীয়দের সঙ্গে চাকমা-হাজংদের সামাজিক মেলামেশাও নিষেধ করা হয়েছিল। একই লেখা অনুযায়ী তখনকার প্রধানমন্ত্রী P. V. Narasimha Rao স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী S. B. Chavan-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছিলেন। Aboh ও Bath লিখেছেন আপসুর প্রথম “Quit Arunachal” নোটিশ আগস্ট 1994-এ, সময়সীমা 30 সেপ্টেম্বর 1994।
অবরোধে মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষের ভাষ্য রায়েই আছে। রাজ্য অস্বীকার করেছিল যে আপসুর অবরোধে কেউ মারা গেছেন; রাজ্যের মতে মৃত্যু হয়েছিল ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে। আদালত লিখেছে, NHRC-র স্বাধীন অনুসন্ধান অন্য কথা বলে, আর ওষুধের অভাবে চাকমাদের মৃত্যু “an established fact” (JUDIS পৃষ্ঠা 5/8)।
National Human Rights Commission v. State of Arunachal Pradesh & Anr. (রায় 9 জানুয়ারি 1996; 1996 AIR 1234; (1996) 1 SCC 742) লিখেছেন প্রধান বিচারপতি A. M. Ahmadi, বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি S. C. Sen। রায় দুটি জিনিস নির্দেশ করে: সংবিধানের অনুচ্ছেদ 21 অনুযায়ী রাজ্যকে প্রত্যেক চাকমার জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, আর নাগরিকত্বের আবেদন ডেপুটি কমিশনার আটকে রাখতে পারবেন না — কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
রায়ে আবেদনের বিষয় লেখা হয়েছে “about 65,000 Chakma/Hajong tribals”-এর অধিকার (পৃষ্ঠা 1/8)। আদালত তিনটি বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
রাজ্যের দাবি ছিল হুমকি নেই, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালত তা মানেনি। যুক্তি হিসেবে রায় কেন্দ্রের হলফনামার উল্লেখ করেছে: আপসুর হুমকি এত গুরুতর ছিল যে দুটি বাড়তি CRPF ব্যাটালিয়ন দিতে হয়েছিল; আর রাজ্য “at no time” আপসুর কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেনি। সিদ্ধান্ত: “a clear and present danger to the lives and personal liberty of the Chakmas” (পৃষ্ঠা 5/8)।
রাজ্যের যুক্তি “misconceived” বলে আদালত ব্যাখ্যা করেছে: খুদিরাম মামলায় প্রশ্ন ছিল আসাম চুক্তির ধারা 6A, যা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিশেষ বিধান; এখানে চাকমারা চাইছেন ধারা 5(1)(a)-র অধীনে নিবন্ধন, যা “of general application”। দুটি প্রশ্নের বিবেচ্য বিষয় “entirely different” (পৃষ্ঠা 6/8)।
নিয়মগুলো পড়ে আদালত বলেছে, বিধি 8 ও 9 একসঙ্গে পড়লে কালেক্টরের কাজ কেবল আবেদন গ্রহণ ও কেন্দ্রে পাঠানো; নিবন্ধন করা বা প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার কেবল বিধি 8-এর কর্তৃপক্ষের। রায় লিখেছে, “it is an admitted fact” যে বিরূপ প্রতিবেদনে ডেপুটি কমিশনার আবেদন “at the threshold” প্রত্যাখ্যান করছিলেন; এতে তিনি “is failing in his duty” (পৃষ্ঠা 7/8)।
রায়ের ভাষায় রাষ্ট্রের দায় “every human-being, be he a citizen or otherwise” রক্ষা করা, আর রাজ্য সরকারকে কাজ করতে হবে “without being inhibited by local politics” (পৃষ্ঠা 7–8/8)।
রায়ের নির্দেশে চাকমাদের নাগরিক ঘোষণা করা হয়নি; নির্দেশ ছিল সুরক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রে পাঠানোর। চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (CDFI) NHRC-তে তাদের 2021 সালের অভিযোগে লিখেছে, সুপ্রিম কোর্ট রায়টি দিয়েছিল “by declaring the Chakmas and Hajongs as citizens” (অরুণাচল টাইমস, 26 জানুয়ারি 2022)। ইউরেশিয়া রিভিউয়ের লেখায় Purna Lal Chakma লিখেছেন, আদালত প্রত্যেক চাকমা বা হাজংকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক ঘোষণা করেনি। পাঠক রায়ের পূর্ণ পাঠ তথ্যসূত্রের লিংকে নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন।
দুই রায়ের মাঝের উনিশ বছরে চারটি ধারায় কাজ এগোয়: রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, আদালত ও নির্বাচন কমিশনের আদেশে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, আর নাগরিকত্বের আবেদন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ঘোরাফেরা। 2015 সালের রায় নিজেই এই পর্বের বেশিরভাগ ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে।
2015 সালের রায়ের অনুচ্ছেদ 5 অনুযায়ী, 1996 সালের রায় সংশোধনের জন্য অরুণাচল সরকারের আবেদন খারিজ হয়; অরুণাচলের উপজাতিদের একটি সংগঠনের রিট আবেদন (W.P.(C) No. 593 of 1997) খারিজ হয়; আরেকটি রিট (No. 13 of 1998) খারিজ হয় 9 ডিসেম্বর 2002।
রাজ্যসভার পিটিশন কমিটির 105তম প্রতিবেদন (প্রকাশ 14 আগস্ট 1997) সুপারিশ করেছিল — 2015 সালের রায়ের অনুচ্ছেদ 8-এ উদ্ধৃত অনুচ্ছেদ 42 অনুযায়ী:
পিটিশনকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী এই সুপারিশ কার্যকর হয়নি (2015 রায়, অনুচ্ছেদ 8)।
নির্বাচনী তালিকায় কতজন উঠেছিলেন: 2015 সালের রায়ে রাজ্যের হলফনামা অনুযায়ী 1,497 জন চাকমা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত (অনুচ্ছেদ 7)। ORF লিখেছে 2010 পর্যন্ত নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন 1,530 জন। দ্য ওয়্যার (2015) লিখেছে মাত্র 1,497 জন নাগরিক হয়েছেন। দ্য ফেডারেল (26 নভেম্বর 2022) রাজ্য সরকারের 2020 সালের হিসাব উদ্ধৃত করেছে: 65,875 জনের মধ্যে ভোটাধিকার 5,097 জনের। হিন্দুস্তান টাইমসের লেখায় (2024) একই বছরের রাজ্য-তথ্য উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, চাকমাদের মাত্র 7.73% ভোটাধিকার পেয়েছেন।
রাজ্যের 2 জানুয়ারি 2013 তারিখের অতিরিক্ত হলফনামা অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর-পূর্ব বিভাগ 10 আগস্ট 2010 যুগ্ম সচিবের (উত্তর-পূর্ব) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে (আদেশ নং 13/2/2010-NE-II) — চাকমা-হাজং বসতির বিষয় এবং যোগ্যদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করতে। কমিটির বৈঠক হয় 9 জানুয়ারি 2012 (2015 রায়, অনুচ্ছেদ 11–12)। ORF লিখেছে কমিটি আপসু, CCRCAP, কেন্দ্র ও রাজ্যকে নিয়ে চতুর্পক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
Committee for C.R. of C.A.P. & Ors. v. State of Arunachal Pradesh & Ors. (W.P.(C) No. 510 of 2007; রায় 17 সেপ্টেম্বর 2015; বিচারপতি Anil R. Dave ও Adarsh Kumar Goel) কেন্দ্র ও রাজ্যকে “eligible” চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব চূড়ান্ত করতে, তাঁদের প্রতি বৈষম্য না করতে, এবং কাজটি “preferably within three months” শেষ করতে নির্দেশ দেয় (অনুচ্ছেদ 20)।
রায়ের প্রথম অনুচ্ছেদেই আবেদনের বিষয় লেখা: 1964–1969 সালে আসা ও অরুণাচলে বসানো “Chakma and Hajong Tribals”-কে নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ। 1996 সালের রায় যেখানে মূলত “Chakmas” লিখেছিল, এখানে হাজংদের নাম আলাদাভাবে আছে। রায়ের তিনটি বাক্য সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত হয়:
রাজ্যের পক্ষে হলফনামায় যুক্তি ছিল (অনুচ্ছেদ 7): 1964–69 সালে বসতির সময় রাজ্যে নির্বাচিত সংস্থা ছিল না; Government of India Act 1870, Bengal Eastern Frontier Regulation 1873, Scheduled District Act 1874, Assam Frontier Tract Regulation 1880, Assam Frontier Forest Regulation 1891, Chin Hills Regulations 1896 ও Assam Frontier (Administration of Justice) Regulation 1945 বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একই হলফনামায় রাজ্য লিখেছে, আদিবাসীদের “popular sentiment” আলাদা হলেও রাজ্য আদালতের আদেশ মানছে।
দ্য ওয়্যার (17 ডিসেম্বর 2015) লিখেছে, তখনকার মুখ্যমন্ত্রী Nabam Tuki-র ডাকা সর্বদলীয় সভা কেন্দ্রের সমর্থন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়; রাজ্য 24 অক্টোবর 2015 রিভিউ আবেদন করে, সুপ্রিম কোর্ট 19 নভেম্বর তা খারিজ করে; আপসুর 16 অক্টোবরের রিভিউ আবেদনও একই পরিণতি পায়। 16 অক্টোবর 2015 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে চতুর্পক্ষীয় বৈঠক ডাকে, যাতে আপসু, চাকমা ও হাজং প্রতিনিধি এবং খামতি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ছিলেন। একই প্রতিবেদনে আছে, স্থানীয় চাকমা নেতারা নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার 5,000 টাকা ফি মওকুফের অনুরোধ করেছিলেন।
13 সেপ্টেম্বর 2017 কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Rajnath Singh-এর ডাকা বৈঠকে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু ও মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ছিলেন, কেন্দ্র চাকমা-হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় — তবে প্রস্তাবিত কাঠামোয় অরুণাচলের তফসিলি উপজাতিদের মতো জমির মালিকানার অধিকার থাকবে না।
PTI-র প্রতিবেদনে (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, 13 সেপ্টেম্বর 2017) রিজিজুর বক্তব্য: “The Supreme Court order has to be honoured”, আর তফসিলি উপজাতির মর্যাদা ও আদিবাসীদের অধিকার “won’t be diluted”; একটি “middle ground” খোঁজা হবে। একই প্রতিবেদনে এক কর্মকর্তার বরাতে লেখা, তাঁদের ইনার লাইন পারমিট দেওয়া হতে পারে, আর এ বিষয়ে শিগগির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন হতে পারে। রিজিজু তখনকার কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করেন স্থানীয়দের আস্থায় না নিয়ে বসতি দেওয়ার জন্য।
দ্য কুইন্ট (20 সেপ্টেম্বর 2017) লিখেছে, এক সপ্তাহ পর 19 সেপ্টেম্বর রিজিজু 2015 সালের আদেশকে “unimplementable” বলেন, এবং Bengal Eastern Frontier Regulation 1873 ও জনসংখ্যাগত উদ্বেগের কথা তুলে আদেশ সংশোধনের জন্য আদালতে যাওয়ার কথা বলেন। একই প্রতিবেদনে মুখ্যমন্ত্রী খান্ডুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠির অংশ আছে: রাজ্যের মানুষ চান “ethnic composition and the special rights enjoyed by the tribes” যেকোনো মূল্যে রক্ষা হোক। কুইন্ট আপসুর ডাকা 12 ঘণ্টার বন্ধ ও যানবাহনে আগুনের কথাও লিখেছে।
এর কয়েক মাস আগে, ORF-এর লেখা অনুযায়ী (29 মে 2017), 16 মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকের পর কেন্দ্র শর্তসাপেক্ষ নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি আপসুকে সমর্থন জানিয়ে রিজিজুর পদত্যাগ দাবি করেছিল। স্ক্রল (30 জুলাই 2017) লিখেছে, সংসদে ত্রিপুরার সাংসদ Jitendra Choudhury নাগরিকত্বের পক্ষে বলার পর অরুণাচলের সাংসদ Ninong Ering বলেন, উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব চাইতে পারেন না।
নাগরিকত্বের “আংশিক” রূপের প্রস্তাবে চাকমা পক্ষের সাড়াও লিপিবদ্ধ। স্ক্রলে 21 সেপ্টেম্বর 2017 প্রকাশিত এক খোলা চিঠির শিরোনামই ছিল “limited citizenship” “too little, too late”।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন 2019 (আইন নং 47, গেজেট 12 ডিসেম্বর 2019) যে নতুন ধারা 6B যোগ করেছে, তার উপধারা (4) বলছে, ধারাটি ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার উপজাতি এলাকায় এবং Bengal Eastern Frontier Regulation 1873-এর অধীনে বিজ্ঞাপিত “The Inner Line” এলাকায় প্রযোজ্য নয়। অরুণাচল ইনার লাইনের আওতায়, তাই এই বিশেষ পথ সেখানে খাটে না।
আইনটির প্রভাব নিয়ে কয়েকটি আলাদা দাবি নথিভুক্ত। স্ক্রলের লেখা (30 আগস্ট 2021) অনুযায়ী রিজিজু দাবি করেছিলেন, CAA পাস হওয়ায় 1996 ও 2015 সালের রায় বাতিল হয়ে গেছে। প্রথম আলোয় আলতাফ পারভেজ (2024) লিখেছেন, 2024 সালের নির্বাচনী প্রচারে রিজিজু বলেছিলেন অরুণাচল সংশোধিত আইনের বাইরে বলে এ রাজ্যের চাকমা-হাজংদের আসামে পুনর্বাসন করা হবে; পরে তিনি ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দুজনেই বিষয়টি অস্বীকার করেন। হিন্দুস্তান টাইমস (24 এপ্রিল 2024) লিখেছে, 22 এপ্রিল ইটানগরের সংবাদ সম্মেলনে রিজিজুর ইঙ্গিতের পরদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ডেকান হেরাল্ড (25 সেপ্টেম্বর 2026) লিখেছে, স্থানীয় সংগঠন ও রাজ্য সরকার বলছে চাকমাদের CAA-র অধীনে নাগরিকত্ব দেওয়া যেতে পারে, তবে তাঁদের রাজ্যে বসতি দেওয়া যাবে না।
অন্য দিকে চাকমা ছাত্রসংগঠনের নেতা দ্য ফেডারেলকে (2022) বলেছেন, CAA-র কথা বলা দলের সরকার অরুণাচলে জন্মানো চাকমা-হাজংদের বসবাসের সনদও দিচ্ছে না।
15 আগস্ট 2021 স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু বলেন, “all illegal immigrant Chakmas will be moved and settled in some other places with honour, as per the constitution” (অরুণাচল টাইমস, 15 সেপ্টেম্বর 2021)। এরপর চাংলাং জেলায় কেবল চাকমাদের জনগণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে NHRC 2022 সালে কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে প্রতিবেদন চায়।
ভাষণে খান্ডু বলেন, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। অরুণাচল টাইমসের ওই কলাম লিখেছে, রাজ্যের সংগঠনগুলো ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু প্রায় 60,000 মানুষকে কীভাবে সরানো হবে সে প্রশ্ন কেউ তোলেনি; কলামটি আরও লিখেছে, পুরনো প্রজন্ম নিজের ইচ্ছায় আসেননি, ভারত রাষ্ট্র তাঁদের বসিয়েছিল — “violating the Bengal Eastern Frontier Regulation, 1873” — আর আইন অনুযায়ী তরুণেরা ভারতীয় নাগরিকত্বের অধিকারী। একই কলামে আদিবাসীদের সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার আশঙ্কাকে “not unfounded” বলা হয়েছে।
দ্য সেন্টিনেল (24 আগস্ট 2021) লিখেছে, পাঁচটি চাকমা-হাজং সংগঠন — CCRCHAP, চাকমা রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, অরুণাচল প্রদেশ চাকমা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, চাকমা উইমেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও চাকমা ইয়ুথ ফেডারেশন অব অরুণাচল — যৌথ বিবৃতিতে রাজ্যের বাইরে স্থানান্তরের যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ছাত্রসংগঠনের সভাপতি বলেন, অরুণাচলের চাকমাদের 90%-এর বেশি এ রাজ্যে জন্মেছেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিক।
মোরাং এক্সপ্রেসে প্রকাশিত IANS-এর খবর (18 অক্টোবর 2021) অনুযায়ী, চাংলাংয়ের কর্মকর্তারা গ্রামপ্রধানদের চিঠি দিয়ে “original and migrated settlers”-সহ গ্রামের জনসংখ্যার স্ব-ঘোষিত হিসাব চেয়েছিলেন, “to prepare a consolidated data of all Chakma people”। CDFI এটিকে “racial profiling” বলে এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ 14 ও বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদের লঙ্ঘন দাবি করে। NHRC-তে CDFI-র অভিযোগ অনুযায়ী, 26 নভেম্বর 2021 চাংলাংয়ের ডেপুটি কমিশনার “Census of Chakmas and Hajongs 2021” পরিচালনার বিজ্ঞপ্তি দেন, প্রতিবেদন 31 ডিসেম্বর 2021-এর মধ্যে; শুমারি শুরুর কথা ছিল 11 ডিসেম্বর।
24 এপ্রিল 2023 ইটানগরে জাতীয় পঞ্চায়েতি রাজ দিবসের অনুষ্ঠানে খান্ডু বলেন, আসামের সঙ্গে সীমান্ত-বিরোধ মেটানোর পর চাকমা-হাজং উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন তাঁর পরের বড় সমস্যা; তিনি কেন্দ্র ও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁদের রাজ্যের বাইরে সরিয়ে পুনর্বাসনের জন্য। একই বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁদের এলাকায় গেলে ঘরবাড়ি ও জীবিকার অবস্থা দেখে তিনি দুঃখ পান (ডেকান হেরাল্ড, 25 এপ্রিল 2023)। জবাবে CDFI-র প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা বলেন, নেফা/অরুণাচলে জন্মানোরা জন্মসূত্রে নাগরিক, আর সংবিধানে কোনো রাজ্যকে কাউকে অনিবাসী ঘোষণা করে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
2022 সালের জুলাইয়ে আপসুর দাবির পর অরুণাচল সরকার চাংলাং জেলায় দেওয়া সব Residential Proof Certificate (RPC) স্থগিত করে, আর 14 নভেম্বর 2022 জেলা প্রশাসন সেগুলো বাতিল করে তার জায়গায় “Temporary Settlement Certificate” দেওয়ার আদেশ দেয়। চাকমা সংগঠনগুলোর মতে এতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির পথ বন্ধ হয়।
| তারিখ | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 11 জুলাই 2022 | আপসুর একটি দল দিয়ুনের এক্সট্রা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের দপ্তরে নথি দেখে — চাকমা ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, বেসরকারি সংগঠনের এটি করার এখতিয়ার নেই | দ্য ফেডারেল |
| 18 জুলাই 2022 | আপসু সভাপতি Dozi Tana Tara নথি দেখিয়ে বলেন দিয়ুনে 500-এর বেশি চাকমা-হাজংকে RPC দেওয়া হয়েছে; 15 দিনের আলটিমেটাম, 2 আগস্ট থেকে বন্ধের হুমকি | অরুণাচল টাইমস |
| 18 জুলাই 2022 | চাংলাংয়ের ডেপুটি কমিশনার বলেন, উদ্বাস্তুদের RPC দেওয়া হয় না; 20 বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার জন্য, পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত, residential certificate দেওয়া হয়, যা কেন্দ্রীয় চাকরি, সেনাবাহিনী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনে লাগে | অরুণাচল টাইমস |
| 30 জুলাই 2022 | খাদ্য ও সরবরাহ সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের যাচাই-কমিটি, তাতে আপসুর দুজন সদস্য | ইন্ডিয়া টুডে এনই; দ্য ফেডারেল |
| 31 জুলাই 2022 | চাংলাংয়ে দেওয়া সব RPC “with immediate effect” স্থগিত; নতুন RPC দেওয়াও বন্ধ; আপসু বন্ধ স্থগিত করে | ইন্ডিয়া টুডে এনই; দ্য ফেডারেল |
| 14 নভেম্বর 2022 | ডেপুটি কমিশনারের আদেশ: জেলায় দেওয়া সব RPC “stand cancelled”; প্রকৃত বাসিন্দাদের Temporary Settlement Certificate দেওয়া হবে | দ্য ফেডারেল |
CCRCHAP সভাপতি দ্য ফেডারেলকে বলেছেন, এই অস্থায়ী সনদে আধার কার্ড পাওয়াও কঠিন হবে। আপসু পুরো পর্বে অবস্থান রেখেছে যে উদ্বাস্তুদের RPC দেওয়াই অবৈধ।
2006 সালের পর প্রথমবার অরুণাচলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision, SIR) হয় 2026 সালে। চার বিধানসভা আসনে 1,292 জন চাকমা ভোটারের বিরুদ্ধে “Not Indian Citizen” আপত্তি পড়ে; 4 সেপ্টেম্বর বরদুমসায় শুনানির সময় সংঘর্ষ হয়; 22 সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় রাজ্যে ভোটার 1,91,480 জন কমে।

CDFI-র হিসাবে (NEWire, 24 আগস্ট 2026) আপত্তিগুলো: দোইমুখে 774, বরদুমসা-দিয়ুনে 413, চৌখামে 56, মিয়াওয়ে 49 — মোট 1,292। CDFI অভিযোগ করেছে, 14 জুলাই আপসু এই কাজের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল; একজন ব্যক্তি অচেনা 30 জন পর্যন্ত ভোটারের বিরুদ্ধে একই ধাঁচের আপত্তি দিয়েছেন; আর মৈত্রীপুরে 41 জনের বিরুদ্ধে আপত্তি 20 আগস্টের সময়সীমার দুই দিন পর, 22 আগস্ট গৃহীত হয়েছে। দ্য ওয়্যার (22 সেপ্টেম্বর 2026) লিখেছে, চাকমা সম্প্রদায়ের অভিযোগ অনুযায়ী আপত্তিগুলো দিয়েছেন প্রতিবেশী সিংফো ও খামতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা; আর 2026 সালের তালিকায় চাংলাং জেলায় নিবন্ধিত চাকমা-হাজং ভোটার 7,788 জন।
দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরদুমসার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের পেছনের পঞ্চায়েত হলে 3 সেপ্টেম্বরের শুনানি স্থগিত হয়। চাকমা প্রতিনিধিদের ভাষ্য: আপসু এবং স্থানীয় সিংফো ও খামতি দলের সদস্যরা নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাকে গালাগাল ও ভয় দেখান; 4 সেপ্টেম্বর সকাল প্রায় 10টা 10 মিনিটে বিজয়পুর-১, ২ ও ৩ থেকে আসা আবেদনকারীদের দিকে প্রায় 100 জনের একটি দল আসে, পাথর ছোড়া হয়, “Go Back Chakma Refugees” স্লোগান হয়, কয়েকজনের হাতে পিস্তল দেখা যায় ও গুলির শব্দ হয়, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। আপসুর ভাষ্য (তাদের ফেসবুক পাতার বরাতে দ্য ওয়্যার): চাকমা ও হাজং উদ্বাস্তুরাই সশস্ত্র ছিলেন এবং আপসুর কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন; তাদের একজন সদস্য ছুরিতে আহত হয়েছেন।
আগের দিন, 3 সেপ্টেম্বর, আপসু সভাপতি Meje Taku বিবৃতিতে বলেন, সংশোধন-প্রক্রিয়ায় যুক্ত তাঁদের সদস্যদের কোনো ক্ষতি হলে আপসু “will not tolerate it”; আর যে কর্মকর্তা, বিধায়ক বা মন্ত্রী “such elements”-কে আড়াল করবেন, তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে (দ্য সেন্টিনেল, 4 সেপ্টেম্বর 2026)।
চাকমা ও হাজংদের শীর্ষ সংগঠন জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির (JAC) চেয়ারম্যান মহেন্দ্র চাকমা ডেকান হেরাল্ডকে বলেছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে দোইমুখ, বরদুমসা-দিয়ুন, মিয়াও ও চৌখামে চাকমা-হাজং ভোটারদের 57% বাদ পড়েছেন, যেখানে রাজ্যে সার্বিক বাদ 3–4%; সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনে পুনর্বিবেচনা চেয়েছে, তবে বলেছে তারা ঢালাও অন্তর্ভুক্তি চাইছে না, চাইছে প্রমাণভিত্তিক যাচাই। একই প্রতিবেদনে মিয়াও আসনের রত্নপুরের এক ভোটারের ভাষ্য: যাঁদের বাবার নাম 2006 সালের তালিকায় ছিল না, তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, আর 85,000-এর বেশি গণনা-ফরম “unmapped” ঘোষিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনগোষ্ঠীভিত্তিক বাদ-পড়ার হিসাব পাওয়া যায়নি।
চারটি পক্ষ: আপসু ও স্থানীয় উপজাতি সংগঠন, অরুণাচল রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, আর চাকমা-হাজং সংগঠন। আপসু ও রাজ্য সরকার চায় চাকমা-হাজংরা রাজ্যে স্থায়ী না হোন; কেন্দ্র আদালতে নাগরিকত্বের পক্ষে বলেছে, তবে জমি ও উপজাতি-মর্যাদা বাদ রেখে; চাকমা-হাজং সংগঠনগুলো পূর্ণ নাগরিকত্ব ও রাজ্যেই থাকার অধিকার চায়।
| পক্ষ | ঘোষিত অবস্থান (তারিখসহ) | উৎস |
|---|---|---|
| আপসু (All Arunachal Pradesh Students’ Union) | 1994: সব “বিদেশি”-র প্রতি কুইট নোটিশ। 2015: “We are not opposed to the SC granting them citizenship” — আপত্তি বসতিতে; অন্য অ-উপজাতি নাগরিকের মতো তাঁদেরও ইনার লাইন পারমিট নিতে হবে; চাকমা-হাজং অরুণাচলের 26টি প্রধান উপজাতির মধ্যে নেই। 2022: উদ্বাস্তুদের RPC দেওয়া অবৈধ। 2026: অংশীজন হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে “illegal and doubtful names” বাদ নিশ্চিত করা। | সুপ্রিম কোর্ট 1996; দ্য ওয়্যার 2015; অরুণাচল টাইমস 2022; অরুণাচল অবজারভার 2026 |
| অরুণাচল রাজ্য সরকার | 1995: চাকমারা বিদেশি; রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা; প্রায় 100 কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, কেন্দ্র দায় ভাগ করেনি; বসতি “ethnic balance” নষ্ট করবে। 2015: আদালতের আদেশ মানছে, যদিও আদিবাসীদের মনোভাব আলাদা। 2017: উপজাতিদের জাতিগত গঠন ও বিশেষ অধিকার “at all cost” রক্ষা। 2021 ও 2023: চাকমা-হাজংদের রাজ্যের বাইরে পুনর্বাসন। | সুপ্রিম কোর্ট 1996, 2015; দ্য কুইন্ট 2017; অরুণাচল টাইমস 2021; ডেকান হেরাল্ড 2023 |
| কেন্দ্রীয় সরকার | 1972: ধারা 5(1)(a)-এ নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত রাজ্যগুলোকে জানানো। 1995–96: তিন দশক পর উচ্ছেদ “impracticable and inhuman”; আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। 2012: আবেদন নির্ধারিত ফরমে না থাকায় রাজ্যে ফেরত। 2017: নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, তবে জমি বা উপজাতি-মর্যাদা নয়; পরে আদেশটি “unimplementable” (রিজিজু)। | সুপ্রিম কোর্ট 1996, 2015; বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড/PTI 2017; দ্য কুইন্ট 2017 |
| চাকমা-হাজং সংগঠন (CCRCAP/CCRCHAP, CRDO, APCSU, CDFI, CHEF, JAC) | ভারত সরকার নিজে বসিয়েছে, তাই অবৈধ অভিবাসী নন; 90%-এর বেশি এখানে জন্মেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিক; রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর প্রত্যাখ্যান; আদিবাসীদের অধিকারের বিরুদ্ধে নয়, মৌলিক অধিকার চান। নাগরিকত্বের পর উপজাতি-মর্যাদা ও স্থায়ী বাসিন্দার সনদের দাবি কয়েকজন নেতার বক্তব্যে আছে। | CRDO; দ্য সেন্টিনেল 2021; ডেকান হেরাল্ড 2023, 2026; Aboh ও Bath 2023 |
Aboh ও Bath-এর 2022 সালের মাঠসমীক্ষায় চাংলাংয়ের আটটি চাকমা গ্রাম ও আটটি আদিবাসী গ্রামের 95 জন করে, মোট 190 জন উত্তরদাতা ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি ফল:
প্রতিবেদনে চাংলাং জেলা ছাত্র ইউনিয়নের (ACDSU) সাধারণ সম্পাদকের উদ্ধৃতি আছে: আগে রাজ্য থেকে সরানো হোক, তারপর সরকার নাগরিকত্ব দেবে কি না ঠিক করুক। আর CCRCHAP-এর এক সদস্যের উদ্ধৃতি: বসতির সময় নেফা কেন্দ্রের অধীনে ছিল, ভারত সরকারই একমাত্র উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছিল, তাই রেগুলেশন লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে না।
একই বিষয়ে উৎসগুলো আলাদা সংখ্যা বা তারিখ দিয়েছে। প্রতিটি পাশাপাশি রাখা হলো।
1964 থেকে 1969 সালের মধ্যে। চাকমারা এসেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে, কাপ্তাই বাঁধে জমি ডুবে যাওয়া ও নিপীড়নের কারণে; হাজংরা ময়মনসিংহ থেকে, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে। প্রথমে মিজোরাম-আসাম-ত্রিপুরার শিবিরে, পরে কেন্দ্র ও নেফা প্রশাসনের আলোচনার ভিত্তিতে নেফার লোহিত, সুবনসিরি ও তিরাপে বসানো হয়, যা আজ অরুণাচল প্রদেশ।
2011 শুমারির মাতৃভাষা সারণি C-16 অনুযায়ী চাকমা মাতৃভাষী 47,073 জন ও হাজং মাতৃভাষী 2,711 জন। রাজ্যের 2015–16 সালের বিশেষ সমীক্ষায় দুই জনগোষ্ঠী মিলে 65,875 জন। চাকমা সংগঠনগুলো প্রায় 65,000 বলে; আপসু 2015 সালে দাবি করেছিল সংখ্যা এক লাখের বেশি। 1964–69 সালে এসেছিলেন প্রায় 14,888 জন, রাজ্যের নথি অনুযায়ী।
NHRC বনাম অরুণাচল প্রদেশ মামলায় 9 জানুয়ারি 1996 প্রধান বিচারপতি A. M. Ahmadi-র বেঞ্চ ছয়টি নির্দেশ দেয়: প্রত্যেক চাকমার জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা, আপসুর মতো গোষ্ঠীর উচ্ছেদ-চেষ্টা প্রতিহত করা, আইন ছাড়া উচ্ছেদ না করা, ধারা 5-এর নিবন্ধন-আবেদন ডেপুটি কমিশনারের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো, আবেদন বিবেচনাধীন থাকলে উচ্ছেদ না করা, এবং NHRC-কে 10,000 টাকা খরচ।
17 সেপ্টেম্বর 2015 বিচারপতি Anil R. Dave ও Adarsh Kumar Goel কেন্দ্র ও অরুণাচল সরকারকে যোগ্য চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দেন, সম্ভব হলে তিন মাসের মধ্যে। রায় বলে, আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা যাবে না, আর অরুণাচলে বসতি থাকায় তাঁদের ইনার লাইন পারমিট লাগবে না। মামলাটি W.P.(C) No. 510 of 2007।
উৎসগুলো কয়েকটি কারণ লিপিবদ্ধ করে। কেন্দ্র 2012 সালে 4,637টি আবেদন রাজ্যে ফেরত পাঠায়, কারণ সেগুলো নির্ধারিত ফরমে ও রাজ্যের সুপারিশসহ ছিল না। রাজ্য সরকার ও আপসু চাকমা-হাজংদের রাজ্যে স্থায়ী বসতির বিরোধী। 2017 সালে কেন্দ্র জমি-অধিকার বাদ দিয়ে নাগরিকত্বের প্রস্তাব আনে, পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আদেশটিকে “unimplementable” বলেন।
আপসুর ঘোষিত যুক্তি: অরুণাচল Bengal Eastern Frontier Regulation 1873-এর ইনার লাইনের আওতায় সুরক্ষিত, তাই বাইরের মানুষ বসানো আইনবিরোধী ছিল; জমি সীমিত; জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে আদিবাসীরা সংখ্যালঘু হতে পারেন। 2015 সালে আপসুর সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তাঁরা নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে নন, বিরোধিতা বসতিতে; অন্য অ-উপজাতি নাগরিকের মতো তাঁদেরও ইনার লাইন পারমিট নিতে হবে।
CCRCHAP, CRDO, চাকমা ছাত্রসংগঠন ও CDFI চায় সুপ্রিম কোর্টের দুই রায় অনুযায়ী আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি, অরুণাচলে জন্মানোদের জন্মসূত্রে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি, আর রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর না করা। তাদের যুক্তি, ভারত সরকারই 1964–69 সালে তাঁদের বসিয়েছিল। 2021 সালে পাঁচটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে বলেছিল, 90%-এর বেশি চাকমা অরুণাচলে জন্মেছেন।
আইনের নতুন ধারা 6B-র উপধারা (4) বলছে, ধারাটি Bengal Eastern Frontier Regulation 1873-এর অধীনে বিজ্ঞাপিত “Inner Line” এলাকায় এবং আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত উপজাতি এলাকায় প্রযোজ্য নয়। অরুণাচল ইনার লাইনের আওতায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছিলেন এই আইন 1996 ও 2015 সালের রায় বাতিল করেছে।
18 জুলাই 2022 আপসু অভিযোগ করে দিয়ুনে 500-এর বেশি চাকমা-হাজংকে বসবাসের সনদ দেওয়া হয়েছে। 31 জুলাই রাজ্য সরকার চাংলাং জেলার সব RPC স্থগিত করে ও নতুন দেওয়া বন্ধ করে। 14 নভেম্বর 2022 ডেপুটি কমিশনারের আদেশে জেলায় দেওয়া সব RPC বাতিল হয়, তার বদলে “Temporary Settlement Certificate” দেওয়ার কথা বলা হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে চার আসনে 1,292 জন চাকমা ভোটারের বিরুদ্ধে নাগরিক নন বলে আপত্তি পড়ে। 4 সেপ্টেম্বর 2026 বরদুমসায় শুনানির সময় সংঘর্ষ হয়। চাকমা পক্ষ বলছে আপসু ও স্থানীয় দলের সদস্যরা পাথর ছোড়েন ও অস্ত্র দেখান; আপসু বলছে চাকমা-হাজংরাই সশস্ত্র ছিলেন এবং তাদের এক সদস্য আহত হন। শুনানি হয় 10 সেপ্টেম্বর।
না। মিজোরাম, ত্রিপুরা ও আসামে চাকমারা তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃত, অরুণাচলে নন। রাজ্যসভার পিটিশন কমিটি 1997 সালে নাগরিকত্বের সঙ্গে উপজাতি-মর্যাদাও বিবেচনার সুপারিশ করেছিল। 2017 সালে কেন্দ্রের প্রস্তাবে উপজাতি-মর্যাদা ও জমির মালিকানা বাদ রাখা হয়। আপসু এই মর্যাদারও বিরোধী।
হাজংরা তখনকার ময়মনসিংহ জেলা থেকে 1964–69 পর্বে ভারতে আসা একটি জনগোষ্ঠী, যাঁদের চাকমাদের সঙ্গে নেফায় বসানো হয়। 2011 শুমারির C-16 সারণিতে অরুণাচলে হাজং মাতৃভাষী 2,711 জন; সারা ভারতে 71,792, যার বেশিরভাগ মেঘালয় ও আসামে। দ্য ওয়্যারের 2015 সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অরুণাচলে তাঁরা কেবল চাংলাং জেলায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য লেখার সূচি: পার্বত্য চট্টগ্রাম হাব। বাংলাদেশের ভেতরে কাপ্তাই ও পরের উদ্বাস্তুদের তালিকা নিয়ে বিরোধ জানতে পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু টাস্কফোর্স।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:অরুণাচল, কাপ্তাই বাঁধ, চাকমা, ভারত, শরণার্থী
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।