Jumjournal Logo

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূগোল ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: অবস্থান, আয়তন, জেলা, নদী, হ্রদ, চূড়া ও জনসংখ্যা

Last updated Oct 19th, 2026

চিম্বুক পাহাড় থেকে দেখা বান্দরবানের ঢেউখেলানো সবুজ পাহাড়সারি, মাঝের উপত্যকায় চাষের জমি

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূগোল এক কথায় এ রকম: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম আর মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষে থাকা দেশের একমাত্র বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চল এটি। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, এই তিন জেলা নিয়ে এর গঠন। আয়তন উৎসভেদে 13,184 থেকে 13,344 বর্গ কিলোমিটার, অর্থাৎ দেশের মোটামুটি দশ ভাগের এক ভাগ, আর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী তিন জেলায় গণনা করা মানুষ 18,42,811 জন।

এই পাতাটি সংখ্যার পাতা। কোন জেলার আয়তন কত, কোন নদী কোথা থেকে এসেছে, কাপ্তাই হ্রদ কত বড়, কোন চূড়া কত উঁচু, কোন জনগোষ্ঠীর মানুষ কোন জেলায় কতজন, এসব এক জায়গায় সাজানো আছে, প্রতিটি সংখ্যার পাশে তার উৎস। যেখানে দুই উৎস দুই রকম বলছে, সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে। অঞ্চলটির ইতিহাস, চুক্তি, ভূমি বা সংস্কৃতির আলোচনা এখানে নেই; সেগুলোর জন্য জুমজার্নালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ দেখতে পারেন।

এই পাতায় যা আছে

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম কোথায় অবস্থিত
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন কত
  3. কোন কোন জেলা নিয়ে গঠিত
  4. একটি জেলা থেকে তিনটি জেলা
  5. কতটি সার্কেলে বিভক্ত
  6. পাহাড়গুলো কীভাবে সাজানো
  7. পাহাড় কোন যুগে সৃষ্ট
  8. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি
  9. নদী: কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ফেনী
  10. কাপ্তাই হ্রদের আয়তন কত
  11. প্রাকৃতিক হ্রদ: বগা লেক ও রাইনখিয়ং
  12. জলবায়ু ও দুর্যোগ
  13. মাটি ও ভূমির শ্রেণি
  14. বন ও বন্যপ্রাণী
  15. খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ
  16. জনসংখ্যা কত (জনশুমারি 2022)
  17. কে কোথায় থাকে
  18. সড়ক আর নৌপথ
  19. জায়গার নাম কোথা থেকে এল
  20. সচরাচর জিজ্ঞাসা
  21. যা এখনো জানা যায়নি
  22. তথ্যসূত্র

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোথায় অবস্থিত, আর চারপাশে কী আছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে, 21°25′ থেকে 23°45′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 91°54′ থেকে 92°50′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার, উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মিজোরাম আর পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা। বাংলাপিডিয়া একে বলেছে দেশের “একমাত্র ব্যাপক পাহাড়ি অঞ্চল”।

জেলা ধরে দেখলে সীমানার ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়।

  • রাঙামাটি: পূর্বে মিজোরামের পাশাপাশি মিয়ানমারের চিন প্রদেশও আছে (Banglapedia, Rangamati District)। অর্থাৎ এই এক জেলাই দুই দেশের সীমান্ত ছুঁয়ে আছে।
  • খাগড়াছড়ি: উত্তর ও পশ্চিমে ত্রিপুরা; পশ্চিম দিকে ফেনী নদীই সীমানা (খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল)।
  • বান্দরবান: দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা (বান্দরবান জেলা পোর্টাল)।

“পাহাড়ি অঞ্চল কোথায় অবস্থিত” প্রশ্নের উত্তরে বাংলাপিডিয়ার ভূপ্রকৃতি-বিভাগটি কাজে লাগে। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে রাখা হয়েছে উত্তর ও পূর্বের উঁচু পাহাড় বা পর্বতশ্রেণীর মধ্যে, আর বলা হয়েছে এই একই শ্রেণি হবিগঞ্জের দক্ষিণের কিছু অংশ এবং মৌলভীবাজারের দক্ষিণ ও পূর্ব সীমানাও বেষ্টন করে আছে। তবে টানা, চওড়া পাহাড়ি এলাকা বলতে এই তিন জেলাকেই বোঝায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন কত: উৎসভেদে আলাদা সংখ্যা

পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন নিয়ে একটিমাত্র সংখ্যা নেই। Banglapedia-র ইংরেজি সংস্করণ বলছে প্রায় 13,184 বর্গ কিমি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে 13,295 বর্গ কিমি, আর BBS-এর জনশুমারি 2022-এর তিন জেলা রিপোর্টের আয়তন যোগ করলে দাঁড়ায় 13,344.30 বর্গ কিমি। তিনটিই দেশের মোট আয়তনের মোটামুটি এক-দশমাংশ।

উৎসআয়তনবর্গ কিমিতে
Banglapedia (ইংরেজি)প্রায় 13,184 বর্গ কিমি13,184
বাংলাপিডিয়া (বাংলা)“প্রায় ২৩,১৮৪ বর্গ কিমি” (ছাপা আছে এভাবেই)23,184
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়13,295 বর্গ কিমি13,295
BBS জনশুমারি 2022, তিন জেলা রিপোর্ট6,116.11 + 2,749.16 + 4,479.0313,344.30 (যোগফল এই পাতার হিসাব)
আমাদের আর্কাইভের চাষযোগ্য জমি ও জনসংখ্যা বিষয়ক লেখা5,093 বর্গমাইল বা 32,63,339.75 একরপ্রায় 13,191 (বর্গমাইল থেকে রূপান্তর)
ওই একই লেখায় উদ্ধৃত BBS-এর ভূমির হিসাব13,25,486 হেক্টরপ্রায় 13,255
আমাদের আর্কাইভের পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসমোট ভূমি 32,85,000 একরপ্রায় 13,294 (একর থেকে রূপান্তর)

ছকের শেষ কলামের রূপান্তরগুলো এই পাতায় করা হিসাব (1 বর্গমাইল = 2.59 বর্গ কিমি, 1 বর্গ কিমি = 247.1 একর)। রূপান্তরের পর একটি মিল চোখে পড়ে: 5,093 বর্গমাইল Banglapedia-র 13,184-র খুব কাছে, আর 32,85,000 একর মন্ত্রণালয়ের 13,295-র প্রায় সমান। অর্থাৎ আলাদা আলাদা লেখায় যে সংখ্যা ঘুরছে, তার পেছনে অন্তত দুটি পুরনো ধারা আছে।

BBS নিজে তিন জেলার মোট আয়তন এক জায়গায় ছাপেনি; তিন জেলা রিপোর্ট থেকে নিয়ে যোগ করতে হয়। অমিলের একটি দৃশ্যমান কারণ BBS-এর নিজের সারণিতেই আছে: খাগড়াছড়ি জেলা রিপোর্টে জেলার আয়তন 2001 সালের শুমারিতে 2,699.55 বর্গ কিমি, আর 2011 ও 2022-এ 2,749.16 বর্গ কিমি। এক জেলাতেই প্রায় 50 বর্গ কিমির ফারাক।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের কত ভাগের এক ভাগ

Banglapedia লিখেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম “বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় এক দশমাংশ”; মন্ত্রণালয়ের পাতাতেও একই কথা, “বাংলাদেশের এক দশমাংশ”। অর্থাৎ মোটামুটি দশ ভাগের এক ভাগ। তিন জেলার মধ্যে এই ভূমির ভাগ সমান নয়: BBS-এর আয়তন ধরে হিসাব করলে রাঙামাটি একাই প্রায় 46%, বান্দরবান প্রায় 34% আর খাগড়াছড়ি প্রায় 21%।

কোন কোন জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত: তিন জেলার তুলনামূলক ছক

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটিই চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা। তিন জেলায় মোট 26টি উপজেলা ও 7টি পৌরসভা আছে (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়)। “পার্বত্য চট্টগ্রাম” নামে এখন আলাদা কোনো জেলা নেই; এটি তিন জেলার সম্মিলিত অঞ্চলের নাম।

সূচকরাঙামাটিখাগড়াছড়িবান্দরবানতিন জেলা মিলে
আয়তন (বর্গ কিমি)6,116.112,749.164,479.0313,344.30
উপজেলা109726
পৌরসভা2327
ইউনিয়ন503834122
মৌজা15912196376
জনসংখ্যা 20226,47,5867,14,1194,81,10618,42,811
ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)105.88260107প্রায় 138
সাক্ষরতা (7 বছর ও তার বেশি)71.41%71.80%63.74%—
প্রধান সার্কেলচাকমামংবোমাং3টি সার্কেল

আয়তন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, জনসংখ্যা, ঘনত্ব ও সাক্ষরতার সংখ্যা BBS-এর জনশুমারি 2022-এর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা রিপোর্ট থেকে নেওয়া; মৌজার সংখ্যা তিন জেলা পোর্টাল থেকে। শেষ কলামের যোগফল ও মোট ঘনত্ব এই পাতার হিসাব।

ছকটি থেকে তিনটি কথা সহজে পড়া যায়।

  1. সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। এটি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়, আয়তনে বাংলাদেশেরও সবচেয়ে বড় জেলা (রাঙামাটি জেলা পোর্টাল; BBS জেলা রিপোর্ট)।
  2. সবচেয়ে বেশি মানুষ খাগড়াছড়িতে। আয়তনে সবচেয়ে ছোট জেলাটিতেই জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই ঘনত্বও অন্য দুই জেলার প্রায় আড়াই গুণ।
  3. সাক্ষরতায় বান্দরবান পিছিয়ে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি দুটোই 71%-এর ঘরে, বান্দরবান 63.74%।

একটি জেলা থেকে তিনটি জেলা: 1860, 1981, 1983

পার্বত্য চট্টগ্রাম একসময় একটিই জেলা ছিল। 1860 সালে এটিকে চট্টগ্রাম থেকে আলাদা করে জেলা করা হয়, 1981 সালে বান্দরবান আর 1983 সালে খাগড়াছড়ি আলাদা জেলা হয়, এবং 25 ফেব্রুয়ারি 1985 তারিখে তিন পার্বত্য জেলার আলাদা নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। জেলার প্রথম সদর দপ্তর ছিল চন্দ্রঘোনায়।

প্রশাসনিক মানচিত্রের এই বদলগুলো সাল ধরে সাজালে এ রকম দাঁড়ায়। (শাসন, বিদ্রোহ ও চুক্তির ইতিহাস এখানে নেই; তার জন্য আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও পরিচিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস লেখা দুটি দেখুন।)

সালকী ঘটেছিলউৎস
1715–1860মোগল আমল থেকে অঞ্চলটির নাম ছিল “কার্পাস মহল”রাঙামাটি জেলা পোর্টাল, এক নজরে
1860চট্টগ্রাম থেকে আলাদা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন। রাঙামাটি পোর্টাল বলছে 20 জুন 1860; খাগড়াছড়ি পোর্টাল বলছে 26 জুন 1860-এর নোটিফিকেশন নং 3302। Banglapedia বলছে জেলাটি গঠিত হয় “Raid of Frontier Tribes Act 22 of 1860”-এর অধীনেরাঙামাটি পোর্টাল; খাগড়াছড়ি পোর্টাল; Banglapedia
1867জেলার প্রধান কর্মকর্তার পদনাম সুপারিনটেনডেন্ট থেকে ডেপুটি কমিশনার হয়রাঙামাটি পোর্টাল, পটভূমি; বান্দরবান পোর্টাল
নভেম্বর 1868সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনা থেকে রাঙামাটিতে সরানো হয়রাঙামাটি পোর্টাল, পটভূমি
1891লুসাই পাহাড় দখলের পর জেলার মর্যাদা কমিয়ে মহকুমা করা হয়রাঙামাটি পোর্টাল, পটভূমি
10 সেপ্টেম্বর 1979নতুন তিন মহকুমা: খাগড়াছড়ি, লামা ও কাপ্তাইরাঙামাটি পোর্টাল, পটভূমি
1981বান্দরবান জেলা। বান্দরবান পোর্টাল বলছে 18 এপ্রিল 1981; Banglapedia বলছে 1 অক্টোবর 1981বান্দরবান পোর্টাল; Banglapedia
7 নভেম্বর 1983খাগড়াছড়ি জেলাখাগড়াছড়ি পোর্টাল
25 ফেব্রুয়ারি 1985তিন পার্বত্য জেলার আলাদা নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণরাঙামাটি পোর্টাল, পটভূমি

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম হেডকোয়ার্টার কোথায় ছিল

চন্দ্রঘোনায়। রাঙামাটি জেলা পোর্টালের পটভূমি পাতা অনুযায়ী 1860 সালে জেলা হওয়ার পর সদর দপ্তর ছিল কর্ণফুলীর তীরের চন্দ্রঘোনায়, আর নভেম্বর 1868-এ তা রাঙামাটিতে সরিয়ে আনা হয়। সেই থেকে রাঙামাটিই অঞ্চলটির প্রশাসনিক কেন্দ্র।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কতটি সার্কেলে বিভক্ত

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি সার্কেলে বিভক্ত: চাকমা, বোমাং ও মং। রাঙামাটি জেলার বৃহত্তর অংশ ও খাগড়াছড়ির কিছু অংশ চাকমা সার্কেলে, খাগড়াছড়ির বৃহত্তর অংশ মং সার্কেলে, আর বান্দরবানের বৃহত্তর অংশ বোমাং সার্কেলে পড়ে (রাঙামাটি জেলা পোর্টাল)। সার্কেলের সীমানা আর জেলার সীমানা তাই হুবহু এক নয়।

মৌজার হিসাবেই সেটা বোঝা যায়। রাঙামাটির 159টি মৌজার 14টি বোমাং সার্কেলের; খাগড়াছড়ির 121টি মৌজার 88টি মং সার্কেলের আর 33টি চাকমা সার্কেলের; বান্দরবানে মৌজা 96টি (তিন জেলা পোর্টাল)।

সার্কেলে ভাগ হওয়ার তারিখে দুই পোর্টালের বক্তব্য আলাদা: খাগড়াছড়ি পোর্টাল বলছে 1 সেপ্টেম্বর 1881, বান্দরবান পোর্টাল বলছে 1900 সালের রেগুলেশন অনুসারে। আমাদের আর্কাইভের ইতিহাস-লেখাটিতে আবার 1884 সালে “পাঁচটি সার্কেলে” ভাগের কথা আছে। সার্কেল প্রধানের ক্ষমতা, শাসনবিধির 35 বিধি আর তিন রাজপরিবারের কথা বিস্তারে আছে সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু লেখায়।

পাহাড়গুলো কীভাবে সাজানো: উত্তর-দক্ষিণমুখী সারি আর মাঝখানে উপত্যকা

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় এলোমেলো ছড়ানো নয়। পাহাড়ের সারি আর নদী-উপত্যকা পাশাপাশি, লম্বালম্বি, মোটামুটি উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সাজানো। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উত্তরাংশে চারটি আর কর্ণফুলীর দক্ষিণে সাতটি প্রধান পাহাড়শ্রেণি আছে, আর বেশির ভাগ সারির পশ্চিম দিকে খাড়া ঢাল, চূড়া ও ঝরনা।

নিচের ছকে সারিগুলোর নাম ও সর্বোচ্চ বিন্দু বাংলাপিডিয়ার বাংলা সংস্করণের বানানেই রাখা হলো; বন্ধনীতে ইংরেজি সংস্করণের রোমান রূপ।

অবস্থানপাহাড়শ্রেণিউল্লিখিত চূড়া ও উচ্চতা
উত্তরাংশ (গড়ে 300 মিটারের বেশি)ফোরামেইন রেঞ্জ (Phoromain)ফোরামেইন, 463 মি
দোলাজারি রেঞ্জ (Dolajeri)ল্যাংট্রাই, 429 মি
ভুয়াছড়ি (Bhuachhari)চাংপাই, 611 মি
বরকল রেঞ্জ (Barkal)থাংনাং, 735 মি
কর্ণফুলীর দক্ষিণেমুরাঞ্জা রেঞ্জ (Muranja)বাসিটং, 664 মি
ওয়েইলা রেঞ্জ (Wayla)শ্রেণিটির বেশির ভাগ মিয়ানমারে
চিম্বুক রেঞ্জ (Chimbook)টিন্ডু, 898 মি
বাটিমেইন রেঞ্জ (Batimain)বাটিটং, 526 মি
পোলিটাই রেঞ্জ (Politai)কেওক্রাডং, 884 মি; রামিওটং, 921 মি
সাইচল-মৌডক রেঞ্জ (Saichal-Mowdok)বিলাইছড়ি, 669 মি
সাইচল রেঞ্জ (Saichal)ওয়েবুং 808 মি; র‍্যাংলাং 958 মি; মৌডক লাং 905 মি; মৌডক মুয়াল 1,003 মি

এই বানানগুলো বাংলাপিডিয়ার; পাহাড়ের বাসিন্দা জনগোষ্ঠীগুলোর নিজেদের ভাষায় একই পাহাড়ের নাম ও উচ্চারণ আলাদা হতে পারে। যেমন পোলিটাই শ্রেণিকে বান্দরবান পোর্টাল লিখেছে “পলিতাই”, বাংলাপিডিয়ার বগাকাইন নিবন্ধও লিখেছে “পলিতাই পর্বতশ্রেণী”।

জেলা পোর্টালগুলো থেকে আরও দুটি মাপ পাওয়া যায়। বান্দরবান পোর্টাল অনুযায়ী জেলার পাহাড়শ্রেণি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 300 থেকে 1,100 মিটার উঁচু, আর প্রধান গিরিশ্রেণি চারটি: মিরিঞ্জা, ওয়ালটং, তামবাং ও পলিতাই। খাগড়াছড়ি পোর্টাল বলছে জেলার প্রায় 85% উঁচু ভূমি আর প্রায় 15% সমতল। রাঙামাটি জেলার সর্বোচ্চ চূড়া বরকল উপজেলার থাং নাং, 2,409 ফুট বা 734.26 মিটার (রাঙামাটি পোর্টাল); বাংলাপিডিয়ার 735 মিটারের সঙ্গে এটি মেলে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় কোন যুগে সৃষ্ট

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্ম ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ থেকে। অঞ্চলটি উত্থিত হয় মায়োসিন গিরিজনির সময়, আর সেই উত্থান চলে প্লাইস্টোসিন গিরিজনি পর্যন্ত। এর ফলেই আরাকান-ইয়োমা ভাঁজের পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ হিসেবে চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা পর্বতবলয় গড়ে ওঠে, পার্বত্য চট্টগ্রাম যার অংশ।

গল্পটা একটু পেছন থেকে বললে: বাংলাপিডিয়ার বিবরণে ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষে গন্ডোয়ানাল্যান্ড ভাঙার পর ভারতীয় প্লেট উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে সরতে থাকে, ইয়োসিন উপযুগে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে তার প্রথম সংঘর্ষ হয়। পরে সমুদ্রতলের ভূত্বক বর্মী উপ-প্লেটের নিচে ঢুকতে শুরু করলে যে অববাহিকা তৈরি হয়, তাতে জমা পলিই ভাঁজ খেয়ে উঠে এসেছে আজকের পাহাড় হয়ে।

শিলার বয়সের হিসাবও একই কথা বলে। ভূপৃষ্ঠে দেখা যায় এমন সবচেয়ে পুরনো শিলা মায়োসিন যুগের সুরমা গ্রুপের ভুবন স্তরসমষ্টি; এর চেয়ে পুরনো কোনো প্রকটিত শিলা পাওয়া যায়নি। তার উপরে আছে প্লায়ো-প্লাইস্টোসিন যুগের টিপাম বেলেপাথর গ্রুপ।

পাহাড়ের সারিগুলো কেন লম্বালম্বি, তার উত্তরও ভাঁজে। ঊর্ধ্ব-টারশিয়ারি পলির স্তর উত্তর-উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব মুখে পরপর উত্তলভঙ্গ (উঁচু ভাঁজ) আর অবতলভঙ্গে (নিচু ভাঁজ) কুঁচকে আছে; উঁচু ভাঁজগুলো পাহাড়ের সারি, নিচুগুলো উপত্যকা। পশ্চিম থেকে পূর্বে গেলে ভাঁজ ক্রমে বেশি চাপা ও জটিল হয়। বাংলাপিডিয়া এভাবে তিনটি বলয় আলাদা করেছে:

  1. পশ্চিমাঞ্চলীয় বলয়: সরল, বাক্সের মতো ভাঁজ। উদাহরণ মাতামুহুরী ও সেমুতাং উত্তলভঙ্গ।
  2. মধ্য বলয়: বেশি চাপা, অপ্রতিসম ভাঁজ, প্রায়ই চ্যুতিসহ। উদাহরণ সীতাপাহাড় ও বান্দরবান উত্তলভঙ্গ, কাপ্তাই ও আলীকদম অবতলভঙ্গ।
  3. পূর্বাঞ্চলীয় বলয়: খুব চাপা, সরু ভাঁজ, ঠেলাচ্যুতিসহ। উদাহরণ বরকল উত্তলভঙ্গ, কাসালং ও সাঙ্গু উপত্যকার অবতলভঙ্গ।

এই ভাঁজগুলোর কয়েকটি গ্যাস জমে থাকার উপযোগী কাঠামো বলেও বাংলাপিডিয়া উল্লেখ করেছে। বান্দরবান উত্তলভঙ্গে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় 935, 960 ও 965 মিটার উঁচু তিনটি শৃঙ্গ আছে।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় কোন যুগে সৃষ্ট” প্রশ্নের দ্বিতীয় অর্ধেক, অর্থাৎ সিলেটের পাহাড়ের বয়স নিয়ে আলাদা কোনো উৎসের তথ্য এই পাতায় নেই।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি: কেওক্রাডং, তাজিংডং, নাকি সাকা হাফং

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি, তার সরকারিভাবে মীমাংসিত উত্তর এখনো নেই। সরকারি নথি ও পাঠ্যবইয়ে তাজিংডং, তার আগে দীর্ঘদিন কেওক্রাডং, আর অভিযাত্রীদের মাপে থানচির সাকা হাফং (প্রায় 1,052 থেকে 1,064 মিটার)। তিনটিই বান্দরবানে। বিতর্ক মেটাতে জরিপ অধিদপ্তর এপ্রিল 2026-এ নতুন করে মেপেছে।

চূড়াকোন উৎস কত বলছে
কেওক্রাডং (রুমা)দীর্ঘদিনের প্রচলিত দাবি 1,230 মি; চূড়ায় সেনাবাহিনীর ফলকে 3,172 ফুট; GPS-এ 974 মি (Banglapedia, Keokradong)। প্রথম আলো: “পরবর্তী জরিপে” প্রায় 986 মি বা 3,235 ফুট। বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিবন্ধে 884 মি
তাজিংডং (রুমা; সরকারি নাম “বিজয়”)প্রথম আলো: সরকারি নথি ও পুরনো জরিপে প্রায় 1,033 মি বা 3,389 ফুট। Wikipedia: 830 মি
সাকা হাফং (থানচি; অন্য নাম মদক তং বা মোদক টং, ত্লাং ময়)ফেব্রুয়ারি 2006-এ ইংরেজ অভিযাত্রী Ginge Fullen-এর GPS পাঠ 1,064 মি; SRTM উপাত্ত ও রুশ মানচিত্রে 1,052 মি; দুটি ট্রেকিং ক্লাবের মাপ 3,488 ও 3,461 ফুট (Banglapedia)। Wikipedia: 1,063 মি। প্রথম আলো: বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের তথ্যে প্রায় 1,052 মি বা 3,451 ফুট
মৌডক মুয়াল (মিয়ানমার সীমান্তে, সাইচল রেঞ্জ)বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিবন্ধে 1,003 মি; একই নিবন্ধে র‍্যাংলাং 958 মি, মৌডক লাং 905 মি, ওয়েবুং 808 মি

Banglapedia-র কেওক্রাডং নিবন্ধ Fullen-এর 1,064 মিটারের পাঠটিকে “Mowdok Mual” চূড়ার বলে লিখেছে, আর ঠিক পরের বাক্যেই ট্রেকিং ক্লাবগুলোর মাপ দিয়েছে “Saka Haphong” নামে। Wikipedia সাকা হাফংয়ের অন্য নাম হিসেবে মোদক টং দিয়েছে। নামগুলো একই চূড়ার, নাকি পাশাপাশি দুটি চূড়ার, তা উৎসগুলো থেকে পরিষ্কার হয় না।

সরকারি বয়ান এখনো তাজিংডংয়ের পক্ষে। BBS-এর বান্দরবান জেলা রিপোর্ট লিখেছে জেলায় আছে “highest peak, Tahjindong”; বান্দরবান জেলা পোর্টাল লিখেছে “উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং”।

জরিপ অধিদপ্তরের 2022 ও 2026 সালের জরিপ

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক 23 মে 2022 তারিখে সার্ভেয়ার জেনারেলকে চিঠি দিয়ে পাহাড়গুলো সরকারিভাবে মেপে প্রজ্ঞাপন করার তাগিদ দেন। নভেম্বর 2022-এ 35 জনের একটি জরিপ দল থানচিতে কাজ শুরু করে, কিন্তু রুমা ও থানচির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে কাজ শেষ না করে ফিরে যায় (প্রথম আলো, 23 নভেম্বর 2022; প্রথম আলো, 12 এপ্রিল 2026)।

দ্বিতীয় দফায় জরিপ শুরু হয় 4 এপ্রিল 2026। Dhaka Tribune জানায়, 4 থেকে 12 এপ্রিল রুমা ও থানচিতে GNSS প্রযুক্তিতে এই জরিপ চলবে, লক্ষ্য তাজিংডং, কেওক্রাডং না সাকা হাফং সর্বোচ্চ তা ঠিক করা। বুদ্ধজ্যোতি চাকমার প্রতিবেদনে (প্রথম আলো, 12 এপ্রিল 2026) আছে: 27 জনের দল চারটি উপদলে ভাগ হয়ে বান্দরবানের কেওক্রাডং, সাকাহাফং ১-২, জৌত্লাং, যোগিহাফং, আইত্লাং ও তাজিংডং এবং রাঙামাটির দুমলং ও রাইংক্ষ্যং পাহাড় মাপছে। সার্ভেয়ার জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সব কটি উঁচু পাহাড় পার্বত্য চট্টগ্রামে, তার 80 শতাংশ বান্দরবানে ও 20 শতাংশ রাঙামাটিতে; উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে পরের মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ঘোষণা করা হবে।

সেই ঘোষণা, অর্থাৎ চূড়ার নাম ও চূড়ান্ত উচ্চতা, 19 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। ফল প্রকাশিত হলে এই অংশের উত্তর বদলে যাবে।

নাম নিয়ে একটি কথা। ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোর এক কলামে (6 ফেব্রুয়ারি 2023) লিখেছেন, পাহাড়ের অনেক জায়গার আদি নাম বদলে গেছে; তাঁর লেখা অনুযায়ী “ক্যক্রডং” থেকেই “কেওক্রাডং” হয়েছে।

নদী: কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ফেনী আর তাদের উপনদী

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান নদী চারটি: কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও ফেনী। চারটিই শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী চেঙ্গী, কাসালং ও রাইনখিয়ং। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এখানকার জলনিকাশের নকশা জালিকাসদৃশ (trellis) ও বৃক্ষসদৃশ (dendritic), যা লম্বালম্বি পাহাড়সারির সঙ্গে মানানসই।

নদীউৎসদৈর্ঘ্যআর যা জানা যায়
কর্ণফুলীভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়পাহাড়ি পথ 180 কিমি (বাংলাপিডিয়া); মোট প্রায় 170 মাইল (রাঙামাটি পোর্টাল)ডান তীরে কাসালং, চেঙ্গী, হালদা, ধুরং; বাম তীরে শুভলং, কাপ্তাই, রেংখিয়াং, থেগা
সাঙ্গু (শঙ্খ)উত্তর আরাকান পাহাড়, 21°13′ উ, 92°37′ পূ270.31 কিমি; বাংলাদেশের ভেতরে 173 কিমিবান্দরবান পর্যন্ত উত্তরমুখী; 48.27 কিমি নাব্য
মাতামুহুরীচট্টগ্রাম ও আরাকানকে ভাগ করা পর্বতমালা, 21°14′ উ, 92°36′ পূপ্রায় 287 কিমিকক্সবাজার জেলা দিয়ে সাগরে; প্রধান উপজেলা চকরিয়া
ফেনীত্রিপুরার পাহাড়, 23°20′ উ, 91°47′ পূ115.85 কিমিরামগড় পর্যন্ত ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানা; সাগর থেকে রামগড় পর্যন্ত 80.45 কিমি ছোট নৌকার উপযোগী

ছকের তথ্য বাংলাপিডিয়ার কর্ণফুলি, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও ফেনী নদী নিবন্ধ থেকে; সাঙ্গুর নাব্য অংশ, মাতামুহুরীর উপজেলা ও ফেনীর দৈর্ঘ্য বাংলা সংস্করণের সাঙ্গু নদী, মাতামুহুরী নদী ও ফেনী নদী নিবন্ধের।

কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি কোথায়

কর্ণফুলীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড়ে। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল আরও নির্দিষ্ট করে বলছে, বরকল উপজেলার থেগামুখে লুসাই নদী ও থেগা খাল মিলে কর্ণফুলী নাম নিয়েছে, আর নদীটি পার্বত্য চট্টগ্রামকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। পাহাড় ছেড়ে নদীটি বেরোয় চন্দ্রঘোনার কাছে।

পাহাড় যত উঠেছে, নদী তত নিজের পুরনো খাত কেটে ধরে রেখেছে; বাংলাপিডিয়া তাই কর্ণফুলীকে একটি প্রাচীন (antecedent) নদী বলেছে। পথে এটি বরকল, গোবামুরা, চিলারডাক, সীতাপাহাড় ও পটিয়ার পর্বতমালা পেরিয়েছে।

নাম নিয়ে বাংলাপিডিয়া একটি কিংবদন্তি দিয়েছে: আরাকানের এক রাজকুমারীর কানে গোঁজা ফুল নদীতে পড়ে যাওয়ার গল্প, যা থেকে “কর্ণফুলি”, অর্থাৎ কানের ফুল। এটি কিংবদন্তি হিসেবেই পড়ার। একই নিবন্ধ জানায়, মারমাদের কাছে নদীটির নাম কিনসা খিয়ং (Kinsa Khyong)।

সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও ফেনী

সাঙ্গু আর মাতামুহুরীর উৎস প্রায় পাশাপাশি, দুটিই আরাকান সীমান্তের পাহাড়ে। বান্দরবান পোর্টাল জেলার প্রধান নদী হিসেবে তিনটির নাম দিয়েছে: সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী “মাতামুহুরী” নামটি নদীর মগ (মারমা) ভাষার নাম “মামুরি”-র বাংলা রূপ। সাঙ্গুর অববাহিকায় জুন থেকে অক্টোবর প্রবাহ খুব বেড়ে যায়, পাহাড়ি ঢলে নিচের দিকে আকস্মিক বন্যা হয়।

ফেনী নদী পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতর দিয়ে নয়, কিনারা ধরে বয়ে গেছে; রামগড় পর্যন্ত এটিই ত্রিপুরা রাজ্য আর পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমারেখা।

চেঙ্গী, কাসালং ও অন্য উপনদী

চেঙ্গী খাগড়াছড়ি জেলার নদী; খাগড়াছড়ি পোর্টাল জেলার আটটি নদীর তালিকা দিয়েছে: চেঙ্গী, মাইনী, বড় বিলাই, ছোট বিলাই, ধুরং, ফেনী, হালদা ও সরতা। চেঙ্গী দক্ষিণে নেমে কাপ্তাই হ্রদের বাম বাহুতে মেশে। পাঠ্যবইয়ে নদীটির নাম “চিংড়ি খাল” ছাপা নিয়ে ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোর কলামে আপত্তি তুলেছেন; নামটি চেংগী বা চেঙ্গী।

কাসালং কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী, আসে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে, আর রাঙামাটির প্রায় 20 কিমি উত্তরে কর্ণফুলীতে মেশে (Banglapedia, Kasalong River)। মাইনী ও কাসালং মিলে পুষ্ট করে কাপ্তাই হ্রদের ডান বাহুকে।

কাপ্তাই হ্রদ: আয়তন কত, কোথায়, কীভাবে তৈরি

কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট মিঠাপানির জলাধার। কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ায় এটি তৈরি হয়েছে, মূলত জলবিদ্যুতের জন্য। হ্রদটি প্রায় পুরোটাই রাঙামাটি জেলায়, আটটি উপজেলা জুড়ে। এর আয়তন নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়: সংখ্যা 583 থেকে 1,722 বর্গ কিমি পর্যন্ত ছড়ানো।

উৎসকাপ্তাই হ্রদের আয়তন
Banglapedia, Kaptai Lake58,300 হেক্টর (583 বর্গ কিমি)
বাংলাপিডিয়া, কাপ্তাই লেক“মূল লেকের আয়তন প্রায় ১,৭২২ বর্গ কিমি”, আশপাশের আরও প্রায় 777 বর্গ কিমি প্লাবিত; একই নিবন্ধে “তলদেশের আয়তন” 58,300 হেক্টর
বাংলাপিডিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামশুকনো মৌসুমে প্রায় 767, বর্ষায় প্রায় 1,036 বর্গ কিমি
রাঙামাটি পোর্টাল, এক নজরে725 বর্গ কিমি
রাঙামাটি পোর্টাল, নদ ও নদীস্বাভাবিক সময়ে 256 বর্গমাইল, বর্ষায় 400 বর্গমাইল (প্রায় 663 ও 1,036 বর্গ কিমি)
BBS, রাঙামাটি জেলা রিপোর্ট687.707 বর্গ কিমি
আমাদের আর্কাইভের বনজ সম্পদ বিষয়ক লেখা254 বর্গমাইলের কৃত্রিম হ্রদ (প্রায় 658 বর্গ কিমি)

সংখ্যাগুলোর একটা বড় অংশ 650 থেকে 770 বর্গ কিমির মধ্যে পড়ে, আর বর্ষার হিসাব দুই উৎসেই প্রায় 1,036 বর্গ কিমি। হ্রদের পানি বছরে গড়ে 8.14 মিটার ওঠানামা করে (বাংলাপিডিয়া), তাই কোন মৌসুমে মাপা হচ্ছে তার উপরেও আয়তন নির্ভর করে।

হ্রদের আকৃতি, গভীরতা ও উপজেলা

হ্রদের আকৃতি ইংরেজি “H” অক্ষরের মতো। এর দুই বাহু সুবলংয়ের কাছে একটি সরু গিরিখাত দিয়ে যুক্ত, যেটি আসলে কর্ণফুলীর পুরনো পথের অংশ। ডান বাহু (কাসালং) পুষ্ট হয় মাইনী ও কাসালং নদীতে; বাম বাহু (রাঙামাটি-কাপ্তাই) পুষ্ট হয় উত্তরে চেঙ্গী আর দক্ষিণে রাইনখিয়ং নদীতে। যে আট উপজেলায় হ্রদ ছড়িয়ে আছে: রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি।

  • পৃষ্ঠের উচ্চতা: 31.1 মিটার
  • গড় গভীরতা: 9 মিটার; সর্বোচ্চ গভীরতা: 32 মিটার
  • পলি জমে 1990-এর দশকের শুরুতেই আয়তনের প্রায় 25% হারিয়েছে; আনুমানিক আয়ু 90 বছর
  • বার্ষিক মাছ উৎপাদন 7,000 টনের বেশি; হ্রদের ধারে প্রায় 6,075 হেক্টর জমিতে ইজারাভিত্তিক চাষ হয়

এই চারটি তথ্যই Banglapedia-র Kaptai Lake নিবন্ধের।

বাঁধ কবে হয়েছিল, আর কী ডুবেছিল

নির্মাণকাল নিয়েও তিন রকম তথ্য আছে। রাঙামাটি পোর্টালের “নদ ও নদী” পাতা বলছে কাজ শুরু 1954, শেষ 1960; একই পোর্টালের উপজেলা পাতা বলছে বাঁধ নির্মিত 1962 সালে; আমাদের আর্কাইভের ইতিহাস-লেখাটি বলছে 1957–63।

হ্রদের পানির নিচে যা গেছে তার হিসাব আমাদের আর্কাইভে আছে। একটি লেখা অনুযায়ী 22.34 বর্গমাইল সংরক্ষিত বন ও 234 বর্গমাইল অশ্রেণিভুক্ত বন জলমগ্ন হয়। আরেকটি লেখা অনুযায়ী ডুবে যায় “প্রায় 350 বর্গমাইল এলাকা”, 369টি মৌজার 125টি, আর 54 হাজার একর কৃষিজমি। উচ্ছেদ হওয়া মানুষের কাহিনি এই পাতার বিষয় নয়; তার জন্য পড়ুন কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং এবং কাপ্তাই বাঁধ- সকল দুঃখের কারণ।

প্রাকৃতিক হ্রদ: বগা লেক ও রাইনখিয়ং

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক হ্রদ দুটি, রাইনখিয়ং হ্রদ ও বগাকাইন হ্রদ, আর কৃত্রিম হ্রদ একটি, কাপ্তাই (বাংলাপিডিয়া)। বগাকাইন, যা বগা লেক নামেই বেশি পরিচিত, বান্দরবানের রুমায় পাহাড়ের চূড়ায়; রাইনখিয়ং রাঙামাটিতে, রাইনখিয়ং নদীর উৎসের কাছে।

বগা লেক। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী হ্রদটি রুমার পূর্বদিকে, শঙ্খ নদীর তীর থেকে 29 কিমি ভেতরে, নাইতং মৌজায়, পলিতাই পর্বতশ্রেণির একটি পাহাড়ের চূড়ায়। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 457 ও 610 মিটারের মাঝামাঝি উচ্চতার একটি মালভূমিতে, গভীরতা 38 মিটার। হ্রদটি পুরোপুরি আবদ্ধ: আশপাশে পানি আসার উৎস নেই, বেরোনোর পথও নেই। পানি খুব অম্লধর্মী, তাই এতে শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিদ নেই।

উৎপত্তি নিয়ে ভূতত্ত্ববিদদের তিনটি মত বাংলাপিডিয়ায় আছে: মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, উল্কাপাত, অথবা ভূমিধস। হ্রদটি ঘিরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও লোককাহিনিও আছে; বাংলাপিডিয়া লিখেছে, হ্রদে বা তার আশপাশে দেবতার বাস বলে মনে করা হয় এবং জুমের ভালো ফলনের কামনায় সেখানে পূজা দেওয়া হয়। কাহিনিটি যাঁদের, তাঁদের নিজেদের বয়ানে কোনো উৎস পাওয়া যায়নি, তাই এখানে তার বিস্তার নেই।

রাইনখিয়ং হ্রদ। রাঙামাটি পোর্টালের “নদ ও নদী” পাতায় একে “রেংখিয়ং হ্রদ” লেখা হয়েছে: রেংখিয়ং নদীর উৎসস্থলে, দৈর্ঘ্য এক মাইল। এর গভীরতা বা আয়তনের কোনো মাপ পাওয়া যায়নি।

জলবায়ু: বৃষ্টি কত, কোন মাসে কেমন

পার্বত্য চট্টগ্রামের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি। গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত উত্তর ও পূর্ব অংশে প্রায় 2,540 মিলিমিটার, দক্ষিণ ও পশ্চিমে 2,540 থেকে 3,810 মিলিমিটার (বাংলাপিডিয়া)। অর্থাৎ দক্ষিণের বান্দরবান দিকটা উত্তরের খাগড়াছড়ি দিকের চেয়ে বেশি ভেজা।

মৌসুমমাসকেমন
শীত (শুষ্ক-শীতল)নভেম্বর থেকে মার্চশুকনো, ঠান্ডা
প্রাক-বর্ষাএপ্রিল থেকে মেখুব গরম ও রোদেলা
বর্ষাজুন থেকে অক্টোবরগরম, মেঘলা ও আর্দ্র

জেলাভিত্তিক সংখ্যা কেবল বান্দরবানের পাওয়া যায়: জেলা পোর্টাল অনুযায়ী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 34.6°C, সর্বনিম্ন 13°C, আর বার্ষিক বৃষ্টিপাত 3,031 মিমি, যা বাংলাপিডিয়ার দক্ষিণাংশের সীমার ভেতরেই পড়ে।

বাংলাপিডিয়া এই অঞ্চলের নথিভুক্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি তালিকাও দিয়েছে:

  • ভূমিকম্প: 1762, 1869, 1885, 1897, 1930, 1950 ও 1997
  • ঘূর্ণিঝড়: 1876, 1895, 1897, 1960, 1963, 1991 ও 1997
  • বন্যা: 1969 সালে একবার বড় বন্যা

মাটি ও ভূমির শ্রেণি: কতটুকু চাষযোগ্য

পার্বত্য চট্টগ্রামের জমির খুব অল্প অংশই সব ধরনের চাষের উপযোগী। আমাদের আর্কাইভে থাকা ভূমির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী “এ” শ্রেণির, অর্থাৎ সব কাজের উপযোগী জমি মাত্র 3.1%, আর “ডি” শ্রেণির, অর্থাৎ কেবল বন করার উপযোগী জমি 72.9%। পাহাড়ের মাটি দোআঁশ এবং খুব অম্লীয়।

মাটির বিবরণ বাংলাপিডিয়ার: পাহাড়ের মাটি প্রধানত হলদে-বাদামি থেকে লালচে-বাদামি দোআঁশ, নানা গভীরতায় ভাঙা কর্দমশিলা, বেলেপাথর ও বালির স্তরে ভাগ হয়ে আছে, এবং বেশি মাত্রায় অম্লধর্মী। একই নিবন্ধ অনুযায়ী পাহাড়ের ঢালে জুম চাষ হয়, আর দুই পাহাড়ের মাঝের উপত্যকার সমতলে তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজের চাষ।

শ্রেণিবিন্যাসের ছকটি আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা লেখায়; সেখানে মূল উৎস হিসেবে বি এইচ সোহরোয়ারদীর নাম ও “ভিশন-1995, রাঙ্গামাটি” দেওয়া আছে। আর্কাইভের আরেকটি লেখা Forestal জরিপের বরাতে বলছে, কৃষিজমি মাত্র 76,466 একর; এই পাতার রূপান্তরে তা প্রায় 309 বর্গ কিমি, অর্থাৎ মোট আয়তনের আড়াই শতাংশেরও কম।

এত কম সমতল জমির দেশে পাহাড়ের ঢালই চাষের প্রধান জায়গা। সেই চাষপদ্ধতির মাসওয়ারি বিবরণ আছে জুম চাষ: পাহাড়ের কৃষিবিদ্যা, মাসে মাসে লেখায়। জমির মালিকানা, বন্দোবস্ত ও ভূমি কমিশনের প্রসঙ্গ আছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি: ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ভূমি কমিশন লেখায়।

বন ও বন্যপ্রাণী: পাহাড়ি বনের আয়তন কত

পাহাড়ি বনের আয়তন নিয়ে আমাদের আর্কাইভের দুটি লেখায় দুই রকম হিসাব আছে। একটি বলছে শ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন 1,001 বর্গমাইল আর অশ্রেণিভুক্ত বন 3,400 বর্গমাইল। অন্যটি BBS 2007–08 উদ্ধৃত করে বলছে সংরক্ষিত বন 1,548.89 বর্গমাইল আর অশ্রেণিভুক্ত বন (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি) 1,547.09 বর্গমাইল।

উৎসসংরক্ষিত বা শ্রেণিভুক্ত বনঅশ্রেণিভুক্ত বন
পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব1,001 বর্গমাইল (প্রায় 2,593 বর্গ কিমি)3,400 বর্গমাইল (প্রায় 8,806 বর্গ কিমি)
চাষযোগ্য জমি ও জনসংখ্যা বিষয়ক লেখা (BBS 2007–08 উদ্ধৃত)9,92,457.18 একর বা 1,548.89 বর্গমাইল (প্রায় 4,012 বর্গ কিমি)9,91,298 একর বা 1,547.09 বর্গমাইল (প্রায় 4,007 বর্গ কিমি), কেবল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি

বর্গ কিমির রূপান্তর এই পাতার হিসাব। দ্বিতীয় লেখাটিতে দুটি সংরক্ষিত এলাকার কথাও আছে: পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (1986, 162.43 বর্গমাইল) ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান (1999, 13,498 একর)। বন কীভাবে কমেছে, তার পরিবেশগত ফল কী, সে আলোচনা ওই দুই লেখাতেই আছে; এখানে শুধু আয়তনের সংখ্যা।

উদ্ভিদ। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এখানকার পাহাড়, নদীতীর ও খাড়া ঢাল ঘন বাঁশঝাড়, লম্বা গাছ ও লতাগুল্মে ঢাকা। বনের ধরন আধা-চিরহরিৎ থেকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ; উঁচু গাছের মধ্যে ডিপটেরোকার্পেসি, ইউফোরবিয়েসি, লরেসি, লেগুমিনোসি ও রুবিয়েসি গোত্রের গাছ প্রধান। বনে বাঁশ, বেত, ছন আর মূল্যবান কাঠ আছে।

প্রাণী। বাংলাপিডিয়ার তালিকায় আছে বানর, শিয়াল, বনবিড়াল, মেছোবিড়াল, বুনো শূকর, কাছিম, শঙ্খচূড় (king cobra), অজগর, নির্বিষ নানা সাপ, গিরগিটি, ব্যাঙ ও গেছো ব্যাঙ। বাংলা সংস্করণে তালিকার শুরুতে হাতিও আছে, ইংরেজি সংস্করণে নেই। পাখির হিসাবেও দুই সংস্করণ আলাদা: ইংরেজিতে “60টির বেশি গোত্র”, বাংলায় “প্রায় পঞ্চাশ প্রজাতি”।

খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ: গ্যাস, কাগজকল, জলবিদ্যুৎ

পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র খাগড়াছড়ি জেলার সেমুতাং, আবিষ্কার 1969 সালে। এ ছাড়া অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সম্পদ-নির্ভর দুটি বড় স্থাপনা হলো চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলীর তীরের কাগজকল আর কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (বাংলাপিডিয়া)।

সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে তৎকালীন পাকিস্তানের Oil and Gas Development Corporation। অন্য খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে বাংলাপিডিয়া উল্লেখ করেছে বেলেপাথর, গণ্ডশিলা, কংগ্লোমারেট ও লিগনাইট কয়লা। ভূতত্ত্ব অংশে যেসব উত্তলভঙ্গের কথা এসেছে (সেমুতাং, সীতাপাহাড়, মাতামুহুরী, বান্দরবান), সেগুলোকেই গ্যাস জমার উপযোগী কাঠামো বলা হয়েছে।

কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ নিয়ে একটি পুরনো দলিল আমাদের আর্কাইভে আছে। 3 জুলাই 1973 তারিখে জাতীয় সংসদে এম এন লারমা জানতে চান, কর্ণফুলী পানি-বিজলী প্রকল্পে কয়টি জেনারেটর চালু আছে; মন্ত্রীর উত্তর ছিল, দুইটি। একই দিনে পল্লী বিদ্যুতায়নের আলোচনায় তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পাওয়া 300 গ্রামের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো গ্রাম নেই। পুরো প্রশ্নোত্তর: জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: কর্ণফুলীতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুতায়ন (৩ জুলাই, ১৯৭৩)।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা কত (জনশুমারি 2022)

জনশুমারি 2022-এ তিন পার্বত্য জেলায় গণনা করা মানুষ 18,42,811 জন: খাগড়াছড়িতে 7,14,119, রাঙামাটিতে 6,47,586 আর বান্দরবানে 4,81,106। এর মধ্যে BBS যাঁদের “Ethnic Population” শিরোনামে গুনেছে, সেই আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর মানুষ 9,20,248 জন, অর্থাৎ মোটের প্রায় অর্ধেক (49.9%)। দুটি যোগফলই এই পাতার হিসাব; BBS এক জায়গায় ছাপেনি।

সূচকরাঙামাটিখাগড়াছড়িবান্দরবানমোট
মোট জনসংখ্যা6,47,5867,14,1194,81,10618,42,811
“Ethnic Population”3,72,8753,49,3901,97,9839,20,248
জেলার জনসংখ্যায় তার ভাগ57.6%48.9%41.2%49.9%

তিন জেলার সংখ্যা BBS-এর জেলা রিপোর্টের Key Findings সারণি ও Table P17 থেকে; শতাংশ ও মোট এই পাতার হিসাব। জুমজার্নাল নিজের লেখায় “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহার করে; BBS-এর সারণির নাম উদ্ধৃত করার সময় তাদের পরিভাষাই রাখা হয়েছে।

কোন জনগোষ্ঠীর মানুষ কোন জেলায় কতজন

জনগোষ্ঠীরাঙামাটিখাগড়াছড়িবান্দরবানতিন জেলায় মোট
চাকমা2,76,0481,75,1653,7124,54,925
মারমা51,40374,21084,1702,09,783
ত্রিপুরা12,30098,50022,5721,33,372
ম্রো2581851,44851,724
তঞ্চঙ্গ্যা27,9757914,88942,943
বম4411611,85412,311
খিয়াং1,67042,5024,176
খুমি44—3,2873,331
চাক41222,6622,725
পাংখোয়া1,3985551,458
লুসাই1471158216

উৎস: BBS জনশুমারি 2022, তিন জেলা রিপোর্টের Table P17; শেষ কলামের যোগফল এই পাতার হিসাব। খাগড়াছড়ির সারণিতে খুমির সারি নেই। এই এগারোটি জনগোষ্ঠীর যোগফল 9,16,964; তিন জেলার “Ethnic Population”-এর বাকি 3,284 জন সারণির অন্য সারিগুলোতে পড়েন। সংখ্যাগুলো কেবল তিন পার্বত্য জেলার; এসব জনগোষ্ঠীর যাঁরা অন্য জেলায় থাকেন তাঁরা এই হিসাবের বাইরে।

ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা

ধর্মরাঙামাটিখাগড়াছড়িবান্দরবানমোট
মুসলিম2,34,8343,32,6872,53,7568,21,277
বৌদ্ধ3,70,7932,56,6001,42,0577,69,450
হিন্দু33,1121,19,70616,5011,69,319
খ্রিষ্টান8,5474,40747,05460,008
অন্যান্য30071921,73822,757

উৎস: তিন জেলা রিপোর্টের Key Findings; মোট এই পাতার হিসাব। রাঙামাটিতে বৌদ্ধরা সংখ্যায় বেশি, অন্য দুই জেলায় মুসলিমরা। খ্রিষ্টান ও “অন্যান্য” ধর্মের মানুষের বড় অংশই বান্দরবানে।

শুমারি ধরে জনসংখ্যা কীভাবে বেড়েছে

পুরনো শুমারির সঙ্গে মেলালে বৃদ্ধির মাপ বোঝা যায়। 1991 সালের শুমারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যা Banglapedia-র ইংরেজি সংস্করণে 10.42 লক্ষ (পুরুষ 5,62,597, নারী 4,79,776), বাংলা সংস্করণে 10,05,362। মন্ত্রণালয়ের পাতায় এখনো 2011 সালের সংখ্যা: 15,87,000। আর 2022-এ তিন জেলার যোগফল 18,42,811।

এক জেলার ধারাটি BBS-এর রাঙামাটি রিপোর্টে পরপর পাওয়া যায়: 1991-এ 4,01,388; 2001-এ 5,08,182; 2011-এ 5,95,979; 2022-এ 6,47,586। অর্থাৎ 31 বছরে জেলার জনসংখ্যা প্রায় 61% বেড়েছে।

জনসংখ্যার গড়ন কীভাবে বদলেছে, তার একটি পুরনো সারণি বাংলাপিডিয়ায় আছে, উৎস হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নাম দিয়ে। সারণির শিরোনামে বাংলাপিডিয়ার নিজের শব্দ “উপজাতি”; 2001 সালের সংখ্যার পাশে বাংলাপিডিয়া নিজেই প্রশ্নচিহ্ন দিয়েছে।

সালবাঙালি (%)পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলো (%)
19415.095
19519.190.9
196117.782.3
197419.081.0
198127.572.5
199148.4651.54
200151 (?)49 (?)

2022-এর শুমারিতে তিন জেলার “Ethnic Population” মোটের 49.9%, যা এই সারণির শেষ দুই সারির কাছাকাছি। জনসংখ্যার এই বদল চাষের জমির উপর কী চাপ ফেলেছে, সে আলোচনা আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির উপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব লেখায়।

কে কোথায় থাকে: বসতির ভৌগোলিক বিন্যাস

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতির একটা আঞ্চলিক ছাঁদ আছে: চাকমারা অঞ্চলের মধ্যভাগে, মারমারা সাঙ্গু ও কর্ণফুলী নদীর অববাহিকায়, ত্রিপুরারা উত্তরে আর ম্রোরা দক্ষিণে বেশি। 2022 সালের শুমারির জেলাওয়ারি সংখ্যা এই বিবরণের সঙ্গে মেলে।

  • চাকমা: 4,54,925 জনের 2,76,048 জন রাঙামাটিতে আর 1,75,165 জন খাগড়াছড়িতে; বান্দরবানে মাত্র 3,712।
  • মারমা: তিন জেলাতেই ছড়ানো; সবচেয়ে বেশি বান্দরবানে (84,170), তারপর খাগড়াছড়ি (74,210) ও রাঙামাটি (51,403)।
  • ত্রিপুরা: 1,33,372 জনের 98,500 জনই উত্তরের জেলা খাগড়াছড়িতে।
  • ম্রো: 51,724 জনের 51,448 জন দক্ষিণের জেলা বান্দরবানে।
  • তঞ্চঙ্গ্যা: রাঙামাটি (27,975) ও বান্দরবানে (14,889); খাগড়াছড়িতে 79।
  • বম, খুমি, চাক: প্রায় সবাই বান্দরবানে। পাংখোয়া: প্রায় সবাই রাঙামাটিতে।

বাংলাপিডিয়া আরও একটি পার্থক্যের কথা বলেছে: কিছু জনগোষ্ঠী নদী-উপত্যকায় থাকে, কিছু থাকে পাহাড়ের শৈলশিরায়। এবং বেশির ভাগ জায়গায় বিন্যাসটি সরল নয়, একই এলাকায় একাধিক জনগোষ্ঠী পাশাপাশি থাকে। Banglapedia-র ইংরেজি সংস্করণ এর উদাহরণ দিয়েছে সাঙ্গুর তীরের রুমা থেকে: শহরটির চারপাশে প্রায় 15×10 কিমি এলাকায় সাতটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাস।

যোগাযোগ: সড়ক আর নৌপথ

পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম দুটি, সড়ক ও নৌপথ। Banglapedia-র হিসাবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নৌপথ যথাক্রমে 444, 640 ও 166 কিমি, আর পাকা সড়ক 123, 134 ও 296 কিমি। সংখ্যাগুলোর সাল উল্লেখ নেই; জেলা পোর্টালের হালের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি।

জেলানৌপথ (Banglapedia)পাকা সড়ক (Banglapedia)পাকা সড়ক (জেলা পোর্টাল)
রাঙামাটি444 কিমি123 কিমি—
খাগড়াছড়ি640 কিমি134 কিমি296.36 কিমি
বান্দরবান166 কিমি296 কিমি359 কিমি

রাঙামাটিতে নৌপথের গুরুত্ব আলাদা। BBS-এর রাঙামাটি জেলা রিপোর্ট অনুযায়ী জেলার তিনটি উপজেলা, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িতে জেলা শহর থেকে সড়ক নেই; নৌপথই একমাত্র উপায়। তিনটিই কাপ্তাই হ্রদ-ঘেরা উপজেলা। বাংলাপিডিয়া জানায়, কর্ণফুলী দিয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত বড় নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চ চলতে পারে।

বাংলাপিডিয়ার বাংলা সংস্করণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরাতে পাহাড়ের কয়েকটি সড়কের তালিকাও আছে। তখন সমাপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে চিড়িংগা–আলীকদম (40.56 কিমি) ও দিঘীনালা–মারিস্যা (19.50 কিমি); অসমাপ্ত হিসেবে চিম্বুক–থানচি (54 কিমি), বাঘাইছড়ি–মাছালং–সাজেক (31 কিমি), আলীকদম–থানচি (35 কিমি), খাগড়াছড়ি–লংগদু (37 কিমি) ও রাজস্থলী–জুরাছড়ি–বরকল (58 কিমি)। তালিকাটি পুরনো; এসব সড়কের এখনকার অবস্থা এতে নেই।

জায়গার নাম কোথা থেকে এল: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান

তিন জেলার নামের পেছনেই ভূগোল আছে: একটি মাটির রং, একটি নলখাগড়া, একটি বানরের সারি। তবে তিনটি ব্যাখ্যাই জনশ্রুতি বা কিংবদন্তি হিসেবে পাওয়া যায়, প্রমাণিত ইতিহাস হিসেবে নয়।

  • রাঙামাটি: এলাকার ছড়ার মাটির রং ঈষৎ লাল বলে এই নাম, এমন জনশ্রুতি আছে। রাঙামাটি পোর্টাল নিজেই লিখেছে, নামকরণ নিয়ে “সুস্পষ্ট কোন প্রামাণিক তথ্য নেই”।
  • খাগড়াছড়ি: ইলিরা দেওয়ান লিখেছেন, চাকমা ভাষায় “হাগারা” মানে নলখাগড়া, আর জায়গাটির আদি নাম “হাগারাছড়ি” (প্রথম আলো, 6 ফেব্রুয়ারি 2023)।
  • বান্দরবান: বান্দরবান পোর্টালে একটি কিংবদন্তি আছে: মারমা ভাষায় জায়গাটির নাম “ম্যাঅকছি ছড়া”, যেখানে ম্যাঅক মানে বানর আর ছি মানে বাঁধ।

নদী ও চূড়ার নামেও একই ধারা: মাতামুহুরী এসেছে মারমা নাম “মামুরি” থেকে, কর্ণফুলীর মারমা নাম কিনসা খিয়ং, কেওক্রাডংয়ের আদি রূপ “ক্যক্রডং”। পাহাড়ের মানচিত্রের অনেক নামই এখানকার জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষার শব্দ, বাংলায় এসে খানিক বদলে গেছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোথায় অবস্থিত?

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে, 21°25′ থেকে 23°45′ উত্তর অক্ষাংশ এবং 91°54′ থেকে 92°50′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা। বাংলাপিডিয়া একে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাপক পাহাড়ি অঞ্চল বলেছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা নিয়ে অঞ্চলটি গঠিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন কত?

উৎসভেদে পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন আলাদা। Banglapedia-র ইংরেজি সংস্করণ বলছে প্রায় 13,184 বর্গ কিলোমিটার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে 13,295 বর্গ কিলোমিটার। BBS-এর জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্টে রাঙামাটি 6,116.11, খাগড়াছড়ি 2,749.16 ও বান্দরবান 4,479.03 বর্গ কিলোমিটার; যোগ করলে 13,344.30 বর্গ কিলোমিটার। পুরনো লেখায় 5,093 বর্গমাইল সংখ্যাটিও পাওয়া যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন কোন জেলা নিয়ে গঠিত?

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটিই চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা। আয়তনে সবচেয়ে বড় রাঙামাটি (6,116.11 বর্গ কিলোমিটার), যা বাংলাদেশেরও বৃহত্তম জেলা; জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় খাগড়াছড়ি (7,14,119 জন, জনশুমারি 2022)। তিন জেলায় মোট 26টি উপজেলা ও 7টি পৌরসভা আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি একটি জেলা?

এখন নয়। 1860 সালে চট্টগ্রাম থেকে আলাদা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে একটি জেলা গঠন করা হয়েছিল। 1981 সালে বান্দরবান এবং 7 নভেম্বর 1983 তারিখে খাগড়াছড়ি আলাদা জেলা হয়, আর 25 ফেব্রুয়ারি 1985 তারিখে তিন পার্বত্য জেলার আলাদা নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ হয়। এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বলতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সম্মিলিত অঞ্চল বোঝায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা মোটামুটি বাংলাদেশের কত ভাগের এক ভাগ?

মোটামুটি দশ ভাগের এক ভাগ। Banglapedia লিখেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় 13,184 বর্গ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় এক-দশমাংশ; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও 13,295 বর্গ কিলোমিটার আয়তন দিয়ে একে বাংলাদেশের এক-দশমাংশ বলেছে। অথচ জনশুমারি 2022 অনুযায়ী এখানে থাকেন 18,42,811 জন মানুষ, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে প্রায় 138 জন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় কোন যুগে সৃষ্ট?

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফল। অঞ্চলটি উত্থিত হয় মায়োসিন গিরিজনির সময়, এবং উত্থান চলে প্লাইস্টোসিন গিরিজনি পর্যন্ত; তাতেই আরাকান-ইয়োমা ভাঁজের পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ হিসেবে চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা পর্বতবলয় গড়ে ওঠে। ভূপৃষ্ঠে দেখা সবচেয়ে পুরনো শিলা মায়োসিন যুগের সুরমা গ্রুপের ভুবন স্তরসমষ্টি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কতটি সার্কেলে বিভক্ত?

তিনটি সার্কেলে: চাকমা, বোমাং ও মং। রাঙামাটি জেলার বৃহত্তর অংশ ও খাগড়াছড়ির কিছু অংশ চাকমা সার্কেলে, খাগড়াছড়ির বৃহত্তর অংশ মং সার্কেলে এবং বান্দরবানের বৃহত্তর অংশ বোমাং সার্কেলে পড়ে। রাঙামাটির 159টি মৌজার 14টি বোমাং সার্কেলের; খাগড়াছড়ির 121টি মৌজার 88টি মং ও 33টি চাকমা সার্কেলের; বান্দরবানে মৌজা 96টি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম হেডকোয়ার্টার কোথায় ছিল?

চন্দ্রঘোনায়। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী 1860 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠনের পর এর প্রথম সদর দপ্তর ছিল চন্দ্রঘোনা। নভেম্বর 1868-এ সদর দপ্তর রাঙামাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার আগের বছর, 1867 সালে, জেলার প্রধান কর্মকর্তার পদনাম সুপারিনটেনডেন্ট থেকে বদলে ডেপুটি কমিশনার করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি?

সরকারি নথি ও পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া বান্দরবানের তাজিংডং; তার আগে দীর্ঘদিন বলা হতো কেওক্রাডং। অভিযাত্রীদের মাপে সর্বোচ্চ থানচির সাকা হাফং: 2006 সালের একটি GPS পাঠে 1,064 মিটার, SRTM উপাত্তে 1,052 মিটার। বিতর্ক মেটাতে জরিপ অধিদপ্তর 4 এপ্রিল 2026 থেকে GNSS প্রযুক্তিতে চূড়াগুলো মেপেছে; সেই জরিপের ঘোষিত ফল জানা যায়নি।

কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি কোথায়?

কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড়ে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী নদীটি 180 কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে চন্দ্রঘোনার কাছে সমভূমিতে নামে। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে, বরকল উপজেলার থেগামুখে লুসাই নদী ও থেগা খাল মিলে কর্ণফুলী নাম হয়েছে এবং নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় 170 মাইল। মারমাদের কাছে নদীটির নাম কিনসা খিয়ং।

কাপ্তাই হ্রদের আয়তন কত?

উৎসভেদে আলাদা। BBS-এর রাঙামাটি জেলা রিপোর্টে 687.707 বর্গ কিলোমিটার, রাঙামাটি জেলা পোর্টালে 725 বর্গ কিলোমিটার, Banglapedia-র কাপ্তাই নিবন্ধে 58,300 হেক্টর। বাংলাপিডিয়ার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিবন্ধ বলছে শুকনো মৌসুমে প্রায় 767 এবং বর্ষায় প্রায় 1,036 বর্গ কিলোমিটার। হ্রদের গড় গভীরতা 9 মিটার, সর্বোচ্চ 32 মিটার, আর এটি রাঙামাটির আটটি উপজেলা জুড়ে ছড়ানো।

পাহাড়ি বনের আয়তন কত?

জুমজার্নাল আর্কাইভের দুটি লেখায় দুই রকম হিসাব আছে। একটিতে শ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন 1,001 বর্গমাইল ও অশ্রেণিভুক্ত বন 3,400 বর্গমাইল। অন্যটিতে BBS 2007–08 উদ্ধৃত করে সংরক্ষিত বন 9,92,457.18 একর বা 1,548.89 বর্গমাইল এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির অশ্রেণিভুক্ত বন 9,91,298 একর বা 1,547.09 বর্গমাইল। সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে আছে পাবলাখালী অভয়ারণ্য ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজেলা কয়টি?

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় মোট 26টি উপজেলা: রাঙামাটিতে 10টি, খাগড়াছড়িতে 9টি ও বান্দরবানে 7টি। পৌরসভা মোট 7টি: রাঙামাটিতে 2টি, খাগড়াছড়িতে 3টি ও বান্দরবানে 2টি। ইউনিয়ন রাঙামাটিতে 50টি, খাগড়াছড়িতে 38টি ও বান্দরবানে 34টি, মোট 122টি। সংখ্যাগুলো BBS-এর জনশুমারি 2022-এর জেলা রিপোর্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা কত (2022)?

BBS-এর জনশুমারি 2022 অনুযায়ী রাঙামাটিতে 6,47,586, খাগড়াছড়িতে 7,14,119 ও বান্দরবানে 4,81,106 জন; তিন জেলা মিলে 18,42,811 জন। এর মধ্যে BBS-এর “Ethnic Population” শিরোনামে গোনা মানুষ 9,20,248 জন, অর্থাৎ প্রায় 49.9%। সংখ্যায় সবচেয়ে বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী চাকমা (তিন জেলায় 4,54,925 জন), তারপর মারমা (2,09,783) ও ত্রিপুরা (1,33,372)।

যা এখনো জানা যায়নি

  • সর্বোচ্চ চূড়ার সরকারি ফল। জরিপ অধিদপ্তরের এপ্রিল 2026-এর জরিপে কোন চূড়া সর্বোচ্চ এবং তার চূড়ান্ত উচ্চতা কত, তা কোনো প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • সাকা হাফং, মৌডক মুয়াল ও মোদক টং। নামগুলো একই চূড়ার নাকি আলাদা চূড়ার, উৎসগুলো থেকে তা পরিষ্কার নয়। তাজিংডংয়ের উচ্চতাতেও বড় ফারাক: এক উৎসে 830 মিটার, অন্য উৎসে প্রায় 1,033 মিটার।
  • মোট আয়তন ও মোট জনসংখ্যার সরকারি যোগফল। BBS-এর জেলা রিপোর্টগুলোতে তিন জেলার সম্মিলিত আয়তন বা জনসংখ্যা এক জায়গায় ছাপা নেই। বাংলাপিডিয়ার বাংলা সংস্করণের 23,184 বর্গ কিমি সংখ্যাটি অন্য কোনো উৎসের সঙ্গে মেলে না।
  • কাপ্তাই হ্রদের আয়তন। 583 থেকে 1,722 বর্গ কিমি পর্যন্ত সাত রকম সংখ্যা পাওয়া যায়; কোনটি কোন বছরের কোন মৌসুমের মাপ, বেশির ভাগ উৎসে তা বলা নেই। বাঁধের নির্মাণকালও তিন রকম।
  • সিলেটের পাহাড়ের বয়স। “পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় কোন যুগে সৃষ্ট” প্রশ্নের সিলেট অংশের উত্তর এই পাতার উৎসগুলোতে নেই।
  • রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জলবায়ুর সংখ্যা। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের জেলাভিত্তিক সংখ্যা কেবল বান্দরবানের পাওয়া গেছে।
  • সড়ক ও নৌপথের সংখ্যার সাল। Banglapedia-র সংখ্যাগুলো কোন বছরের, উল্লেখ নেই। রাঙামাটির পাকা সড়কের হালের সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
  • পাহাড় ও চূড়ার স্থানীয় নাম। এই পাতায় পাহাড়শ্রেণির বানান বাংলাপিডিয়ার। চাকমা, মারমা, ম্রো, বম, ত্রিপুরা বা অন্য জনগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষায় এসব পাহাড়ের নাম কী, তার কোনো সংকলন পাওয়া যায়নি।
  • 2011 সালের জনসংখ্যা। খাগড়াছড়ির 2011 সালের জনসংখ্যা Banglapedia-য় 5,69,715, BBS-এর 2022 রিপোর্টের 2011 কলামে 6,13,917। রাঙামাটির 2011 সালের সংখ্যা জেলা পোর্টালে 6,20,214, BBS-এ 5,95,979।
  • সার্কেল গঠনের সাল। 1881, 1884 ও 1900, তিনটি সালই আলাদা আলাদা উৎসে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র

সরকারি উৎস

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), Population and Housing Census 2022, District Report: Rangamati, জুন 2024। bbs.gov.bd
  2. BBS, Population and Housing Census 2022, District Report: Khagrachhari। bbs.gov.bd
  3. BBS, Population and Housing Census 2022, District Report: Bandarban। bbs.gov.bd
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পটভূমি। mochta.gov.bd
  5. রাঙামাটি জেলা পোর্টাল: এক নজরে রাঙ্গামাটি; জেলার পটভূমি; নদ ও নদী; উপজেলা।
  6. খাগড়াছড়ি জেলা পোর্টাল: এক নজরে খাগড়াছড়ি; জেলার পটভূমি; ভৌগোলিক পরিচিতি; নদ-নদী।
  7. বান্দরবান জেলা পোর্টাল: এক নজরে বান্দরবান; ভৌগোলিক পরিচিতি; জেলার ঐতিহ্য।

বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)

  1. সিফাতুল কাদের চৌধুরী, “পার্বত্য চট্টগ্রাম”। বাংলা; English
  2. Sanzida Murshed, “Keokradong”। en.banglapedia.org
  3. মেসবাহ-উস-সালেহীন ও সিফাতুল কাদের চৌধুরী, “কর্ণফুলি নদী”। বাংলা; English
  4. সিফাতুল কাদের চৌধুরী, Sangu River; Matamuhuri River; Feni River; Kasalong River
  5. “কাপ্তাই লেক”। বাংলা; English
  6. এস. এম. মাহফুজুর রহমান ও সিফাতুল কাদের চৌধুরী, “বগাকাইন হ্রদ”। বাংলা; English
  7. জেলা নিবন্ধ: Rangamati District; Khagrachhari District; Bandarban District

সংবাদপত্র ও অন্যান্য

  1. বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, “দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আসলে কোনটি”, প্রথম আলো, 12 এপ্রিল 2026। prothomalo.com
  2. “সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং নাকি সাকা হাফং”, প্রথম আলো, 23 নভেম্বর 2022। prothomalo.com
  3. “Survey to determine highest mountain peak begins”, Dhaka Tribune, এপ্রিল 2026। dhakatribune.com
  4. ইলিরা দেওয়ান, প্রথম আলো (মতামত), 6 ফেব্রুয়ারি 2023। prothomalo.com
  5. Wikipedia, Saka Haphong; Tazing Dong

জুমজার্নালের নিজস্ব আর্কাইভ

  1. পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির উপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল : যুগসন্ধিক্ষণ, নানা সমস্যা ও নানা কথা
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস
  5. পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও পরিচিতি
  6. কাপ্তাই বাঁধ ও বড়পরং
  7. সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু
  8. জাতীয় সংসদে এম এন লারমা: কর্ণফুলীতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুতায়ন (৩ জুলাই, ১৯৭৩); লিংক “খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ” অংশে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

প্রসঙ্গ:প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটন

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা