Last updated Oct 19th, 2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ বলতে তিন জেলার ভ্রমণ বোঝায়: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু ও সাজেক; খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা ও দেবতা পুকুর; বান্দরবানের নীলাচল, চিম্বুক, নীলগিরি ও বগা লেক। এর প্রায় প্রতিটি জায়গাই কারও গ্রাম, জুমভূমি বা তীর্থ, আর অনেক জায়গার একটি আদি নাম আছে, যা সাইনবোর্ডে লেখা নেই। এই পাতায় আছে কোন জায়গা কোন জেলায়, জায়গাটি কাদের, আর যাওয়ার আগে কোন নিয়ম ও নিষেধ জেনে নিতে হবে।
রাঙামাটির পর্যটন ঘাট থেকে নৌকা ছাড়লে পর্যটকের চোখে পড়ে পানি আর পাহাড়। প্রিয় কুমার চাকমা চিজি লিখেছেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকের দল ট্যুরিস্ট বোটে চড়ে কখনও সুবলং, কখনও বরকল, মারিশ্যা, লংগদু মনের আনন্দে ঘুরে ফিরে তাদের আপন আপন ঠিকানায় ফিরে যায়…” ওই একই পানির দিকে তাকিয়ে করুণাময় চাকমা দেখেন অন্য কিছু: “রাঙামাটির যে পর্যটন মোটেলটি আছে তার ঠিক পূর্ব দক্ষিণ বরাবর কাপ্তাই লেকের যে পানি দেখা যায় ঠিক সেইখানে পানির তলে ডুবে আছে আমাদের আসল ঝগড়াবিল আদাম।” (আদাম অর্থ গ্রাম।) দুটি লেখাই আমাদের আর্কাইভে আছে: বড়পরঙঃ মানবিক বিপর্যয়ের একটি বাস্তব চিত্র এবং মৃত্যুর ফাঁদ, কাপ্তাই বাঁধ।
পাতাটি ভ্রমণ-সাইটের মতো ভাড়া, হোটেল বা রুট-পরিকল্পনা দেয় না। এখানে প্রতিটি তথ্যের পাশে উৎস আছে, আর যেখানে দুটি উৎস দুই রকম বলছে সেখানে দুটোই রাখা হয়েছে। পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটের জন্য দেখুন পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্কাইভ; আর পর্যটনের আয়, জমি ও সম্মতির প্রশ্ন নিয়ে আলাদা পাতা আছে: পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন: কার জমি, কার আয়, কার সম্মতি।
সূচিপত্র
পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান তিন জেলায় ছড়ানো। তিন জেলা প্রশাসনের পোর্টালে রাঙামাটির 35টি, খাগড়াছড়ির 30টি ও বান্দরবানের 17টি স্থানের আলাদা পাতা আছে। নিচের ছকে সার্চে সবচেয়ে বেশি খোঁজা স্থানগুলো, সঙ্গে জায়গাটি কার এলাকা বা নামটি কোন ভাষার, যতটুকু উৎসে আছে।
| স্থান | জেলা ও অবস্থান | উৎসে যা আছে | জায়গাটি কার, নামটি কোথাকার |
|---|---|---|---|
| কাপ্তাই হ্রদ | রাঙামাটি; আট উপজেলা জুড়ে | কর্ণফুলীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম হ্রদ | হ্রদের নিচে ডুবে আছে চাকমাদের গ্রাম ও পুরনো রাজবাড়ি |
| ঝুলন্ত সেতু | রাঙামাটি সদর, তবলছড়ি | 335 ফুট; পর্যটন করপোরেশন 1986 সালে বানায় | — |
| রাজবন বিহার | রাঙামাটি শহর | সব ধর্মের মানুষ ঢুকতে পারেন | বৌদ্ধ বিহার; বনভন্তের দেহ সংরক্ষিত |
| শুভলং (সুবলং) ঝরনা | রাঙামাটি, বরকল উপজেলা | শহর থেকে জলপথে 25 কিমি | — |
| সাজেক | রাঙামাটি, বাঘাইছড়ি উপজেলা | খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় 70 কিমি | রুইলুই মৌজার হেডম্যান একজন লুসাই; বাসিন্দাদের মধ্যে লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা, চাকমা |
| আলুটিলা গুহা | খাগড়াছড়ি; শহরের প্রবেশপথে | 266 সিঁড়ি নিচে; প্রায় 280 ফুট লম্বা | স্থানীয় নাম “মাতাই হাকর”, অর্থ দেবগুহা |
| রিছাং ঝরনা | খাগড়াছড়ি | প্রায় 30 মিটার উঁচু | — |
| দেবতা পুকুর | খাগড়াছড়ি, নুনছড়ি মৌজা | 700 ফুট উঁচুতে; 1,386 সিঁড়ি | চৈত্র সংক্রান্তিতে ত্রিপুরা ও অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ আসেন |
| নীলাচল | বান্দরবান সদর, টাইগার পাড়া | শহর থেকে 5 কিমি (পোর্টাল) | — |
| মেঘলা | বান্দরবান; কেরানীহাট সড়কের পাশে | শহর থেকে 4 থেকে 4.5 কিমি | — |
| স্বর্ণমন্দির | বান্দরবান; শহর থেকে 4 কিমি | পাহাড়চূড়ার বৌদ্ধ মন্দির | স্থানীয় নাম “বুদ্ধ ধাতু জাদি” |
| চিম্বুক | বান্দরবান; শহর থেকে 26 কিমি | থানচি সড়কে | ম্রোদের এলাকা; আদি নাম “চ্যংবত হুম” |
| নীলগিরি | বান্দরবান; শহর থেকে প্রায় 47 কিমি | 2,200 ফুট; সেনাবাহিনীর পর্যটন কেন্দ্র | ম্রো অধ্যুষিত কাপ্রু পাড়া এলাকা |
| শৈলপ্রপাত | বান্দরবান–রুমা সড়কে, 8 কিমি | সারা বছর পানি থাকে | বম জনগোষ্ঠীর তৈরি পণ্য বিক্রি হয় |
| বগা লেক | বান্দরবান, রুমা উপজেলা | পাহাড়ের ওপরে প্রাকৃতিক হ্রদ | হ্রদের আশপাশে বম জনগোষ্ঠীর বাস |
| কেওক্রাডং | বান্দরবান, রুমা উপজেলা | বগা লেক থেকে 15 কিমি | আদি নাম “ক্যক্রডং” |
| নাফাখুম | বান্দরবান | পোর্টালের তালিকায় নাম আছে | আদি নাম “ঙাফাখোং” |
ছকের উৎস: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পোর্টালের “পর্যটন স্পট” পাতা; আদি নামগুলো ইলিরা দেওয়ানের প্রথম আলোর কলাম থেকে। প্রতিটি সারির বিস্তারিত নিচের অংশগুলোতে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চল, তিন জেলা নিয়ে: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর আয়তন প্রায় 13,184 বর্গ কিলোমিটার, অর্থাৎ দেশের প্রায় এক-দশমাংশ। প্রধান নদী কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও ফেনী।
কর্ণফুলীর তিন উপনদী চেঙ্গী, কাসালং ও রাইংখ্যং। ভ্রমণের মানচিত্রে এই নামগুলো বারবার আসে: আলুটিলা থেকে চেঙ্গী নদী দেখা যায়, সাজেক কাসালং পাহাড়সারিতে, আর রাইংখ্যং নদী বয়ে গেছে বিলাইছড়ি উপজেলা সদরের ঘাট ছুঁয়ে। বাংলাপিডিয়া দশটির বেশি পাহাড়সারির নাম দিয়েছে; এর মধ্যে চিম্বুক সারির সর্বোচ্চ বিন্দু 898 মিটার, আর মিয়ানমার সীমান্তের মোদক মুয়াল 1,003 মিটার। প্রাকৃতিক হ্রদ দুটি, রাইংখ্যংকাইন ও বগাকাইন; কাপ্তাই হ্রদ কৃত্রিম।
কে কোথায় থাকেন, সে বিষয়ে বাংলাপিডিয়ার মোটা দাগের বিবরণ: মাঝখানে চাকমাদের প্রাধান্য, কর্ণফুলী ও সাঙ্গুর মাঝের অঞ্চলে মারমা, উত্তরে ত্রিপুরা, দক্ষিণে ম্রো। রুমার আশপাশে প্রায় 15 কিলোমিটার বাই 10 কিলোমিটার এলাকার ভেতরে সাতটি জনগোষ্ঠী বাস করে। রাইংখ্যং উজানের জনপদ কেমন, তার একটি দীর্ঘ ভ্রমণ-আখ্যান আমাদের আর্কাইভে আছে: বড়থলি, আরণ্যক জনপদ।
রাঙামাটির প্রধান দর্শনীয় স্থান কাপ্তাই হ্রদ, যা প্রাকৃতিক নয়। কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এটি তৈরি হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী হ্রদটি রাঙামাটির আট উপজেলা জুড়ে, আকৃতি ইংরেজি H অক্ষরের মতো, আর দুই বাহু যুক্ত হয়েছে শুভলংয়ের কাছে একটি সরু গিরিখাতে।
হ্রদের মাপ নিয়ে উৎসগুলো এক কথা বলে না। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে 1960 সালে বাঁধ নির্মাণের ফলে হ্রদের সৃষ্টি, আয়তন 292 বর্গমাইল। বাংলাপিডিয়ার “কাপ্তাই হ্রদ” নিবন্ধ বলছে 58,300 হেক্টর, গড় গভীরতা 9 মিটার, সর্বোচ্চ 32 মিটার; একই বিশ্বকোষের “পার্বত্য চট্টগ্রাম” নিবন্ধ বলছে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় 767 ও বর্ষায় প্রায় 1,036 বর্গ কিলোমিটার। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিদেশি পর্যটকদের তথ্য-পাতা গড় গভীরতা লিখেছে 100 ফুট, সর্বোচ্চ 490 ফুট।
জেলা পোর্টালের তালিকা থেকে হ্রদ ঘিরে থাকা স্থানগুলো:
পর্যটক যে পানির ওপর দিয়ে যান, তার নিচে গ্রাম, জমি আর পুরনো চাকমা রাজবাড়ি। পঞ্চ চাকমা রাজবাড়িটি ডুবে যাওয়ার আগে তিনবার দেখেছিলেন: “গেট দিয়ে ঢুকার পরই দুইটা বড় সিংহমূর্তি ছিল। তারপর সম্ভবত টানা বারান্দা সেখানে অনেক ছবি টাঙানো ছিল।” তাঁর নিজের গ্রাম মাইচছড়ি আদাম ছিল শুভলংয়ে, যে নামটি এখন পর্যটকের কাছে একটি ঝরনার নাম। পুরো স্মৃতিকথা: চোখের পানি বাঁধের পানি যখন একাকার।
করুণাময় চাকমার গ্রাম ঝগড়াবিল ছিল 104 নম্বর ঝগড়াবিল মৌজায়, তখনকার রাঙামাটি শহর থেকে 5 মাইল দক্ষিণে। তিনি লিখেছেন, “আজো রাঙামাটি গেলে যদি পর্যটন মোটেলের সামনে যাই তখন পানির দিকে তাকিয়ে বুক ফেটে যায়।” বাঁধ কত মানুষকে সরিয়েছিল, কত জমি ডুবেছিল, সে হিসাব এ পাতার কাজ নয়; আর্কাইভের ওই দুই স্মৃতিকথায় তার প্রত্যক্ষ বিবরণ আছে।
রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায়, পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরে। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী সেতুটি 335 ফুট দীর্ঘ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এটি 1986 সালে নির্মাণ করে, আর দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারে ভর করে এটি দাঁড়িয়ে আছে।
পোর্টালের নির্দেশনা: তবলছড়ি থেকে সড়কপথে সরাসরি পর্যটন কমপ্লেক্সে যাওয়া যায়, জলপথেও যাওয়া যায়; ঢাকা বা চট্টগ্রামের বাসে এলে তবলছড়িতে নেমে অটোরিকশা নিতে হয়। সহায়তার যোগাযোগ হিসেবে পোর্টাল পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপকের নাম দিয়েছে। তবলছড়ির ঠিক আগেই টেক্সটাইল মার্কেট, যেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বোনা পোশাক ও হাতের কাজ বিক্রি হয়।
রাঙামাটি জেলায় আরও দুটি ঝুলন্ত সেতুর কথা পোর্টালে আছে, যেগুলো পর্যটনের জন্য বানানো নয়। রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু 1987 সালে উদ্বোধন হয়; সেতুটি রাজস্থলী বাজারকে নারামুখ মারমা পাড়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে, আর এটি হওয়ার আগে বর্ষায় দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত। বিলাইছড়ির নীলাদ্রি রিসোর্টেও দুই পাহাড়ের মাঝে একটি ঝুলন্ত সেতু আছে।
রাজবন বিহার রাঙামাটি শহরের ভেতরে, কাপ্তাই হ্রদের তীরে একটি বৌদ্ধ বিহার। জেলা পোর্টাল বলছে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার এখানে প্রবেশাধিকার আছে, আর বৌদ্ধ ধর্মগুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে)-র দেহ ভক্তদের দেখার জন্য সংরক্ষিত আছে। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে এখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসেন।
বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী বিহারের জন্য রাজমাতা আরতি রায় প্রায় 26 একর পাহাড়ি জমি দান করেন এবং নির্মাণ শুরু হয় 1974 সালে। অন্য উৎসে হিসাব আলাদা: The Daily Star-এর Star Insight-এ (জানুয়ারি 2007) শান্তিময় চাকমা লিখেছেন, বিহার প্রতিষ্ঠিত হয় 1975 সালে 10 একর জমিতে, জমি দান করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, আর দুই বছরের নির্মাণের পর 1977 সালে পূর্ণ উদ্বোধন হয়। প্রতিষ্ঠার সাল, জমির পরিমাণ ও দাতার নাম তাই দুই উৎসে দুই রকম। পোর্টাল বিহারের ভেতরের দুটি জিনিসের কথা বলেছে: “স্বর্গীয় সিড়ি”, যেখানে অনুমতি নিয়ে ওঠা যায়, আর ভিক্ষুদের ধ্যানের জায়গা।
চাকমা রাজবাড়ি রাজবন বিহারের পূর্ব পাশে; দুইয়ের মাঝে হ্রদ, নৌকায় পার হতে হয়। প্রবেশমূল্য নেই। পোর্টাল অনুযায়ী বাংলা নববর্ষের শুরুতে এখানে ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠিত হয়। এটি নতুন রাজবাড়ি; পুরনোটি হ্রদের নিচে। সার্কেল চিফ বা রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু, তা নিয়ে আমাদের লেখা: সার্কেল চিফ: তিনটি সার্কেল, আর রাজার ক্ষমতা আসলে কতটুকু।
জেলা পোর্টালের তালিকায় আরও কয়েকটি বিহার ও ভাবনা কেন্দ্র আছে। এগুলো দর্শনীয় স্থান হওয়ার আগে উপাসনার জায়গা:
| বিহার বা কেন্দ্র | কোথায় | পোর্টালে যা লেখা |
|---|---|---|
| চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার | কাপ্তাই, 3 নং চিৎমরম ইউনিয়ন | 1852 সালে প্রতিষ্ঠিত; দুটি পাহাড়ের ওপর; চট্টগ্রাম থেকে 45 কিমি |
| তিনটিলা বনবিহার | লংগদু | বনভন্তে এখানেই প্রথম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান করেছিলেন |
| ডলুছড়ি জেতবন বিহার | লংগদু সদর থেকে 6 কিমি | ঢুকতে অনুমতি লাগে |
| আর্যপুর ধর্মোজ্জল বনবিহার | বাঘাইছড়ি সদর থেকে 3 কিমি | প্রায় 20 একর; ঢুকতে অনুমতি লাগে |
| যমচুক ভাবনা কেন্দ্র | বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় | 1988 সালে স্থাপিত |
| ফুরমোন পাহাড়ের ভাবনা কেন্দ্র | কুতুকছড়ির পথে | একা না যাওয়ার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে যাওয়ার পরামর্শ |
চিৎমরম নামটির আদি রূপ “চিংম্রং”, আর কুতুকছড়ির আদি রূপ “হুদুকছড়ি”, লিখেছেন ইলিরা দেওয়ান (প্রথম আলো, 6 ফেব্রুয়ারি 2023)।
শুভলং ঝরনা রাঙামাটির বরকল উপজেলায়, রাঙামাটি সদর থেকে জলপথে 25 কিলোমিটার। জেলা পোর্টাল একে “সুবলং ঝর্ণা” লিখেছে এবং বলেছে, ভরা বর্ষায় মূল ঝরনার পানি প্রায় 300 ফুট উঁচু থেকে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন সেখানে কিছু স্থাপনা বানিয়েছে। শুভলং ছিল পঞ্চ চাকমার ডুবে যাওয়া গ্রামের এলাকা।
হ্রদের দুটি পরিচিত বিরতি-স্থানের নাম পাহাড়ের ভাষা থেকে নেওয়া, আর পোর্টাল নিজেই তার অর্থ দিয়েছে:
পাহাড়ের রান্না আর এই খাবারগুলোর নাম নিয়ে আমাদের লেখা: পাহাড়ি খাবার: সিদোল, নাপ্পি আর রান্নার সাত পদ্ধতি।
সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে, খাগড়াছড়িতে নয়; তবে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। ইংরেজি ও বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক প্রায় 70 কিলোমিটার, দীঘিনালা থেকে প্রায় 49 কিলোমিটার। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল বলছে, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় শত কিলোমিটার।
পোর্টালের ভাষায় সাজেক “রাঙ্গামাটির ছাদ”, এখান থেকে ভারত দেখা যায়, আর “খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে যাওয়াটাই সহজ”। উচ্চতা নিয়ে তিন উৎসে তিন সংখ্যা: ইংরেজি উইকিপিডিয়া 1,800 ফুট, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিদেশি পর্যটক-পাতা 2,000 ফুট, আর বাংলা উইকিপিডিয়া রুইলুই পাড়া প্রায় 1,720 ফুট ও কংলাক পাড়া প্রায় 1,800 ফুট। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী সাজেক নামটি এসেছে সাজেক নদী থেকে।
সাজেকের দুটি পাড়ার নাম পর্যটকের মুখে মুখে: রুইলুই পাড়া প্রবেশমুখে, কংলাক পাড়া শেষ প্রান্তে কংলাক পাহাড়ের ওপর। বাংলা উইকিপিডিয়া বাসিন্দা হিসেবে লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা ও চাকমাদের নাম দিয়েছে; ইংরেজি উইকিপিডিয়া মারমাদেরও যোগ করেছে। কোন পাড়ায় কোন জনগোষ্ঠী, সে ভাগ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
The Business Standard-এর 25 ফেব্রুয়ারি 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 167 নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান একজন লুসাই (প্রতিবেদনে নাম Lal Thanga Lusai)। হেডম্যান কী করেন, মৌজা বলতে কী বোঝায়, তা নিয়ে: মৌজা হেডম্যান ও কার্বারি আসলে কী কী করেন। লুসাই ও পাংখোয়াদের পরিচিতি আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী লেখায়।
জেলা পোর্টাল জানাচ্ছে, সাজেকে সেনাবাহিনী ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে কটেজ হয়েছে, বেসরকারি কটেজও আছে, জেলা প্রশাসনের একটি রিসোর্ট আছে, আর রুইলুইতে স্থানীয়দের বাসায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। পোর্টালের পরামর্শ: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাওয়া। সাজেকে রিসোর্টের সংখ্যা, পানির সংকট আর 2025 সালের আগুন নিয়ে বিস্তারিত: পর্যটনের পাতায় সাজেক অংশ।
খাগড়াছড়ির প্রধান দর্শনীয় স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও তার গুহা, যা শহরের প্রবেশপথেই। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী গুহাটির স্থানীয় নাম “মাতাই হাকর”, বাংলা অর্থ দেবগুহা; পাহাড়চূড়া থেকে 266টি সিঁড়ি নামলে গুহামুখ, যার ব্যাস প্রায় 18 ফুট, আর গুহার দৈর্ঘ্য প্রায় 280 ফুট। ভেতর দিয়ে একটি ঠান্ডা পানির ধারা বয়ে যায়।
গুহার দৈর্ঘ্য নিয়ে অমিল আছে: পোর্টাল বলছে প্রায় 280 ফুট, বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে প্রায় 350 ফুট। পোর্টাল অনুযায়ী মশাল বা টর্চ ছাড়া ঢোকা যায় না, আর এক মুখ দিয়ে ঢুকে অন্য মুখ দিয়ে বেরোতে 15 থেকে 20 মিনিট লাগে। জেলা প্রশাসন আলুটিলায় ঢোকার টিকিট অনলাইনে বিক্রি করে। কেন্দ্রের ভেতরে প্রশাসন আরও বানিয়েছে “নন্দনকানন” বাগান, “কুঞ্জছায়া” ভিউ পয়েন্ট, দুই পাহাড় জোড়া একটি স্টিলের কেবল সেতু এবং প্রবেশমুখের তোরণ।
“খাগড়াছড়ি” নামটিই একটি বদলে যাওয়া নাম। ইলিরা দেওয়ান লিখেছেন, চাকমা ভাষায় “হাগারা” মানে নলখাগড়া; এলাকাটি একসময় নলখাগড়ায় ভরা ছিল বলে নাম হয় হাগারাছড়ি।
| স্থান | কোথায় | জেলা পোর্টালে যা লেখা |
|---|---|---|
| রিছাং (রিসাং) ঝরনা | খাগড়াছড়ি | প্রায় 30 মিটার উঁচু থেকে পানি পড়ে, তারপর আরও 100 ফুট পাথরের ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামে; যাওয়ার পাকা সিঁড়ি আছে |
| দেবতা পুকুর | নুনছড়ি মৌজা | সমুদ্র সমতল থেকে 700 ফুট উঁচুতে পাহাড়চূড়ায়; 1,386টি সিঁড়ি, প্রায় 25 মিনিটের পথ |
| হাতির মাথা বা “স্বর্গের সিঁড়ি” | খাগড়াছড়ি | স্থানীয়দের চলাচলের জন্য 2015 সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সিঁড়ি বসায়; প্রায় দুইশ ধাপ |
| শান্তিপুর অরণ্য কুটির | পানছড়ি সদর থেকে 5 থেকে 6 কিমি দক্ষিণে | ভিত্তিসহ 50 ফুট উঁচু বুদ্ধমূর্তি; ধ্যান-সাধনার জায়গা |
| মায়াবিনী লেক | পানছড়ি উপজেলা (পর্যটন সার্কিটের তালিকায় ভাইবোনছড়া) | নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা আছে |
| জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক | শহরের জিরোমাইল | 22 একর; ঝুলন্ত সেতু ও লেক |
| রামগড় | রামগড় উপজেলা | 1795 সালের 29 জুন এখানে “রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন” গঠিত হয়, যা পরে বাংলাদেশ রাইফেলস হয়; স্মৃতিসৌধ, লেক ও ঝুলন্ত সেতু আছে |
| ডিসি পার্ক | মানিকছড়ি | 140 একর; তিনটি লেক |
| জেলা প্রশাসকের হাতি “ফুলকলি”র সমাধি | শহরের প্রবেশমুখ | মহকুমা আমলে প্রশাসক হাতির পিঠে দুর্গম এলাকায় যেতেন; শেষ হাতিটি মারা যায় 27 জুলাই 1990 |
দেবতা পুকুর নিয়ে পোর্টাল একটি জনশ্রুতি লিখেছে: স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির কষ্ট দূর করতে জলদেবতা নিজে পুকুরটি খনন করেন, আর এর পানি কখনো শুকায় না। পোর্টালের ভাষায় “পুকুরের পানিকে স্থানীয় পাহাড়িরা দেবতার আর্শীবাদ বলে মনে করেন”, এবং প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী ছাড়াও নানা সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এখানে আসেন। অর্থাৎ এটি কেবল পুকুর নয়, তীর্থ। ত্রিপুরাদের পরিচিতি: ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত।
পোর্টালের পর্যটন সার্কিট পাতায় আরও আছে দীঘিনালা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, তৈদুছড়া ঝরনা, ভগবান টিলা, মাটিরাঙার শতবর্ষী বটগাছ ও মানিকছড়ি রাজবাড়ি; এগুলোর নাম ছাড়া বিবরণ পোর্টালে নেই।
বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছের তিনটি দর্শনীয় স্থান শহর থেকে 4 থেকে 6 কিলোমিটারের মধ্যে। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী নীলাচল শহর থেকে 5 কিলোমিটার দূরে টাইগার পাড়ায়, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স 4 থেকে 4.5 কিলোমিটার দূরে বান্দরবান–কেরানীহাট সড়কের পাশে জেলা পরিষদের বিপরীতে, আর স্বর্ণমন্দির 4 কিলোমিটার দূরে বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কের পাশে পাহাড়চূড়ায়।
শহরের ভেতরে আছে জাদিপাড়ার রাজবিহার ও উজানীপাড়ার বিহার। জেলার দূরের স্থানগুলোর মধ্যে পোর্টালে আছে লামার মিরিঞ্জা (ফাঁসিয়াখালী–লামা–আলীকদম সড়কের 16 কিলোমিটার পয়েন্টে, উচ্চতা 1,500 ফুট), আলীকদমের আলী সুড়ঙ্গ (উপজেলা সদর থেকে 4 কিলোমিটার, বান্দরবান শহর থেকে 118 কিলোমিটার) এবং নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেক (বান্দরবান শহর থেকে 120 কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে 20 কিলোমিটার)। পোর্টালের এই পাতাগুলো 2013 থেকে 2015 সালে হালনাগাদ করা; সেখানে লেখা ভাড়া ও প্রবেশমূল্য তাই এখানে তোলা হয়নি।
বমদের পরিচিতি: বম জাতি: নাম, গোত্র, খ্রিষ্টধর্ম ও নিজস্ব বর্ণমালা।
চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলা শহর থেকে 26 কিলোমিটার দূরে, থানচি সড়কে; নীলগিরি একই সড়কে আরও দক্ষিণ-পূর্বে, শহর থেকে প্রায় 47 কিলোমিটার। দুটিই ম্রোদের এলাকায়। জেলা পোর্টাল নিজেই লিখেছে, শহর থেকে চিম্বুকের পথে পড়ে বম ও ম্রোদের গ্রাম, আর নীলগিরি তৈরি হয়েছে “ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত” কাপ্রু পাড়া এলাকায়।
চিম্বুকের উচ্চতা নিয়ে অমিল: জেলা পোর্টাল বলছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 1,500 ফুট, আমাদের ম্রো জাতি নিয়ে লেখায় প্রায় 2,500 ফুট, আর বাংলাপিডিয়া চিম্বুক পাহাড়সারির সর্বোচ্চ বিন্দু দিয়েছে 898 মিটার। নীলগিরির দূরত্বও দুই রকম: পোর্টালে প্রায় 47 কিলোমিটার, বাংলা উইকিপিডিয়ায় প্রায় 50 কিলোমিটার; উচ্চতা দুই জায়গাতেই 2,200 ফুট।
নীলগিরি কীভাবে পর্যটন কেন্দ্র হলো, পোর্টালে তার বিবরণ আছে: সেনাবাহিনীর 17 ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন চিম্বুক–থানচি সড়ক বানানোর সময় কাপ্রু পাড়া এলাকায় প্রথমে একটি নিরাপত্তা চৌকি বসায়, পরে সেনা কর্মকর্তাদের পরিকল্পনায় সেটি পর্যটন কেন্দ্র হয়। সেখানে থাকতে হলে সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড সদর দপ্তরে আগাম যোগাযোগ করতে হয়।
চিম্বুক নামটির আদি রূপ “চ্যংবত হুম”, লিখেছেন ইলিরা দেওয়ান। নীলগিরির কাছের যে পাহাড়টি এখন Chandra Pahar নামে পরিচিত, ঢাকা ট্রিবিউন (12 ডিসেম্বর 2020) তার আগের নাম লিখেছে Naitong hung; নামটির বাংলা বানান কোনো বাংলা উৎসে মেলানো যায়নি। ওই পাহাড়ে 2020 সালে একটি পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ নিয়ে ম্রোরা প্রতিবাদ করেন। সে ঘটনার নথি ও দুই পক্ষের বক্তব্য: পর্যটনের পাতায় চিম্বুক অংশ।
বগা লেক, কেওক্রাডং ও তাজিংডং তিনটিই বান্দরবানের রুমা উপজেলায়। বগা লেক পাহাড়ের ওপরে একটি প্রাকৃতিক হ্রদ; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এটি রুমার নাইতং মৌজায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 457 থেকে 610 মিটার উঁচুতে, গভীরতা 38 মিটার, আর পানি বেরোনোর কোনো পথ নেই। বান্দরবান জেলা পোর্টালের “জেলার ঐতিহ্য” পাতা অনুযায়ী হ্রদের আশপাশে বম জনগোষ্ঠীর বাস।
জেলা পোর্টাল বগা লেকের আয়তন লিখেছে 15 একর, উচ্চতা প্রায় 1,500 ফুট। পোর্টাল আরও বলেছে, হ্রদটি নিয়ে অনেক কাহিনি প্রচলিত, তবে কোনো কাহিনি কোন জনগোষ্ঠীর তা লেখেনি। রুমা বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বগা লেকগামী পর্যটকদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেন।
দেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি, তা নিয়ে উৎসগুলো একমত নয়। জেলা পোর্টাল তাজিংডংকে (অন্য নাম বিজয়) সর্বোচ্চ বলেছে, উচ্চতা প্রায় 4,500 ফুট, আর কেওক্রাডংকে দ্বিতীয়, প্রায় 4,330 ফুট। বাংলাপিডিয়ার “পার্বত্য চট্টগ্রাম” নিবন্ধে কেওক্রাডং 884 মিটার। ঢাকা ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জরিপ অধিদপ্তর এপ্রিল 2026-এ রুমা ও থানচিতে চূড়াগুলোর উচ্চতা মাপার জরিপ শুরু করে। পোর্টাল অনুযায়ী কেওক্রাডং রুমা উপজেলা সদর থেকে 30 কিলোমিটার ও বগা লেক থেকে 15 কিলোমিটার; তাজিংডং বান্দরবান সদর থেকে প্রায় 70 কিলোমিটার।
নাফাখুম ও রেমাক্রির নাম জেলা পোর্টালের “জেলার ঐতিহ্য” পাতার তালিকায় আছে; তালিকায় দূরত্ব বা বিবরণ নেই। ইলিরা দেওয়ানের লেখা অনুযায়ী নাফাখুমের আদি নাম “ঙাফাখোং”, কেওক্রাডংয়ের “ক্যক্রডং”, থানচির “টাইংছেই”, আর রোয়াংছড়ির “রাখইংওয়া”। রুমা ও থানচির কোন পথ এখন খোলা, তা নিচের অংশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক পরিচিত জায়গার নাম পাহাড়ের ভাষার একটি নামের বদলে যাওয়া রূপ। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিরা দেওয়ান প্রথম আলোয় (6 ফেব্রুয়ারি 2023) এমন নামের একটি তালিকা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য: প্রতিটি আদি নামের পেছনে কোনো কারণ বা ঘটনা আছে, আর নাম বদলের সঙ্গে জায়গার অতীত ইতিহাসও মুছে যায়।
| এখন যে নামে পরিচিত | আদি নাম (ইলিরা দেওয়ানের বানানে) | পর্যটকের মানচিত্রে কোথায় |
|---|---|---|
| খাগড়াছড়ি | হাগারাছড়ি (চাকমা “হাগারা” = নলখাগড়া) | জেলা ও শহর |
| চিম্বুক | চ্যংবত হুম | বান্দরবান, থানচি সড়ক |
| কেওক্রাডং | ক্যক্রডং | বান্দরবান, রুমা |
| নাফাখুম | ঙাফাখোং | বান্দরবান |
| থানচি | টাইংছেই | বান্দরবানের উপজেলা |
| রোয়াংছড়ি | রাখইংওয়া | বান্দরবানের উপজেলা |
| চিৎমরম | চিংম্রং | রাঙামাটি, কাপ্তাই; বৌদ্ধ বিহার |
| নানিয়ারচর | নান্যাচর | রাঙামাটি; বুড়িঘাটের সমাধি এই উপজেলায় |
| বেতবুনিয়া | বেতবন্যা | রাঙামাটি, কাউখালী; ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র |
| কুতুকছড়ি | হুদুকছড়ি | রাঙামাটি; ফুরমোন পাহাড়ের পথ |
ছকের আদি নামগুলোর বানান লেখকের দেওয়া; কোনটি কোন ভাষার, তা তিনি কেবল হাগারাছড়ির ক্ষেত্রে বলেছেন। একই লেখায় আছে, পাঠ্যবইয়ে চেঙ্গী নদীকে “চিংড়ি খাল” লেখা হয়েছে, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে ওই নামে কোনো খাল নেই।
উল্টো উদাহরণও আছে, যেখানে সরকারি পোর্টাল নিজেই পাহাড়ের ভাষার নাম রেখে দিয়েছে: “মাতাই হাকর”, “বুদ্ধ ধাতু জাদি”, “পেদা টিং টিং”, “রাইন্যা টুগুন”। সাজেক, নীলগিরি, নীলাচল, আলুটিলা, রিছাং বা শুভলং নামের আদি রূপ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় কোনো দর্শনীয় স্থানই জনশূন্য জায়গা নয়। সরকারি পোর্টালের বিবরণ ধরে এগোলেই দেখা যায়, ঝরনার পাশে বমদের দোকান, পাহাড়চূড়ায় পাংখোয়াদের পাড়া, পুকুরপাড়ে ত্রিপুরাদের তীর্থ, আর রিসোর্টের জায়গাটি ম্রোদের পাড়ার এলাকা। নিচের ছকে পোর্টাল ও সংবাদে যতটুকু বলা আছে ততটুকুই।
| জনগোষ্ঠী | কোন দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে উৎসে নাম এসেছে | জুমজার্নালের পরিচিতি-লেখা |
|---|---|---|
| চাকমা | রাঙামাটির চাকমা রাজবাড়ি ও রাজপুণ্যাহ; কাপ্তাই হ্রদের নিচের গ্রাম; “পেদা টিং টিং” নাম | চাকমা জাতি |
| মারমা | রাজস্থলীর নারামুখ মারমা পাড়া | মারমা জাতির আদ্যোপান্ত |
| ত্রিপুরা | খাগড়াছড়ির দেবতা পুকুর; সাজেক | ত্রিপুরা জাতির আদ্যোপান্ত |
| তঞ্চঙ্গ্যা | কোনো উৎসে নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে নাম আসেনি | তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আদ্যোপান্ত |
| ম্রো | চিম্বুকের পথের গ্রাম; নীলগিরির কাপ্রু পাড়া | ম্রো জাতি: ক্রামা, বর্ণমালা ও চিম্বুকের পাহাড় |
| বম | শৈলপ্রপাত; কানাপাড়া; বগা লেকের আশপাশ | বম জাতি |
| পাংখোয়া | বিলাইছড়ির পাংখোয়া পাড়া; সাজেক | ক্ষুদ্রতম পাঁচ জনগোষ্ঠী |
| লুসাই | সাজেকের রুইলুই মৌজা |
ছকটি জনগোষ্ঠীর বসতির মানচিত্র নয়; এটি কেবল দেখায়, পর্যটনের বিবরণে কার নাম এসেছে। খুমি, খিয়াং ও চাকদের নাম কোনো দর্শনীয় স্থানের সরকারি বিবরণে পাওয়া যায়নি।
পাহাড়ের একজন লেখক 2020 সালে সাজেক নিয়ে লিখেছিলেন, পর্যটকেরা “স্থানীয়দের পবিত্র জায়গাকে অসম্মান করে, ছবি তুলতে ঘরবাড়িতে ঢুকে যায়”। এটি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, জরিপ নয়; পুরো লেখা: চিন্তাভাবনাঃ সাজেকের ট্যুরিজম। পাহাড়ে ঘোরার ইচ্ছা পাহাড়ের মানুষেরও আছে; চুক্তির আগের অস্থির সময়ে নিজের জন্মভূমি ঘুরে দেখতে না পারার কথা দিয়ে শুরু হয়েছে আমাদের আর্কাইভের গ্রামীণ সাধারণ বন ব্যবস্থাপনা লেখাটি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সব এলাকা সব সময় পর্যটকের জন্য খোলা থাকে না। 2022 সালের অক্টোবর থেকে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে দফায় দফায় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা ছিল, আর 2024 সালের অক্টোবরে তিন জেলাতেই পর্যটকদের না যেতে বলা হয়েছিল। 11 জুলাই 2025-এ বান্দরবানের জেলা প্রশাসক UNB-কে বলেন, খোলা গন্তব্যগুলোতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং সেগুলো পর্যটকের জন্য নিরাপদ।
| তারিখ | কী হয়েছিল | উৎস |
|---|---|---|
| অক্টোবর 2022 | সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF)-এর এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু; UNB লিখেছে 3 অক্টোবর, প্রথম আলো ইংরেজি লিখেছে 10 অক্টোবর | UNB; প্রথম আলো ইংরেজি |
| 17 বা 18 অক্টোবর 2022 | রুমা ও রোয়াংছড়িতে অনির্দিষ্টকালের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা; পরে থানচি ও আলীকদমেও | UNB |
| 20 ফেব্রুয়ারি 2023 | রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহার | UNB |
| 16 মার্চ 2023 | আবার আরোপ | UNB |
| জুলাই 2023 | রুমা ও থানচি খোলে; রোয়াংছড়ি বন্ধ থাকে | প্রথম আলো ইংরেজি |
| 3–4 এপ্রিল 2024 | রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি; 6 এপ্রিল থেকে সেনা অভিযান | UNB |
| 24 সেপ্টেম্বর – 4 অক্টোবর 2024 | 18 সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সহিংসতার পর সাজেকে তিন দফায় ভ্রমণ নিরুৎসাহিত | ঢাকা ট্রিবিউন |
| 8–31 অক্টোবর 2024 | তিন পার্বত্য জেলাতেই পর্যটকদের না যেতে অনুরোধ; বান্দরবানে নতুন নিষেধাজ্ঞা | ঢাকা ট্রিবিউন; UNB |
| 6 নভেম্বর 2024 | বান্দরবানের সাত উপজেলার চারটিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি বন্ধ থাকে | UNB |
| 11 ফেব্রুয়ারি 2025 | রোয়াংছড়ির Devtakhum খোলে | UNB |
| 24–25 ফেব্রুয়ারি 2025 | সাজেকে আগুন; পর্যটকদের সাময়িকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, পরদিন বিকেলে তা তুলে নেওয়া হয় | ইত্তেফাক ইংরেজি |
| 6 জুন 2025 | রুমা ও থানচির নির্দিষ্ট কয়েকটি পথে সীমিত অনুমতি | bdnews24; UNB |
নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে UNB লিখেছে KNF-এর তৎপরতা: চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা ও ডাকাতি, এবং তাদের এলাকায় একটি জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবিরের গোয়েন্দা তথ্য। 2024 সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের নিষেধের পেছনে ছিল 18 সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া পাহাড়ের সহিংসতা। এই ঘটনাগুলো পর্যটকদের লক্ষ্য করে ঘটেছে, এমন কথা উৎসগুলোর কোনোটিতে নেই।
সর্বশেষ যাচাই: 10 অক্টোবর 2026। জুলাই 2025-এর পরের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা প্রত্যাহারের তারিখ এ পাতায় নেই। রওনা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ গণবিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
বান্দরবান জেলা পুরোটা বন্ধ নয়। 6 নভেম্বর 2024-এ রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি ছাড়া বাকি চার উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। bdnews24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 6 জুন 2025 থেকে রুমায় Munlai Para ও বগা লেক পর্যন্ত, আর থানচিতে তিন্দু হয়ে Tamatungi পর্যন্ত যাওয়া যায়; নির্ধারিত পর্যটন এলাকার বাইরে যাওয়া তখনো নিষেধ ছিল।
জেলা প্রশাসকের ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনটি শর্ত ছিল:
বিজ্ঞপ্তিটি জারি হয়েছিল জেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সুপারিশ ও সেনাবাহিনীর 69 ব্রিগেডের নির্দেশনার ভিত্তিতে। কেওক্রাডং, তাজিংডং, নাফাখুম বা রেমাক্রি ওই বিজ্ঞপ্তির পর খুলেছে কি না, কোনো উৎসে তা পাওয়া যায়নি। নিষেধাজ্ঞায় হোটেল-মালিক ও চালকদের ক্ষতির হিসাব: পর্যটনের পাতায়।
লাগে। তিন পার্বত্য জেলাতেই বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণের জন্য আগাম অনুমতি নিতে হয়, আর তিন জেলা প্রশাসনেরই এ জন্য আলাদা অনলাইন ব্যবস্থা আছে: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। রাঙামাটি ও বান্দরবানের ব্যবস্থায় লেখা, অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
| বিষয় | রাঙামাটি | খাগড়াছড়ি | বান্দরবান |
|---|---|---|---|
| কোথায় আবেদন | foreigner.rangamati.gov.bd | foreigner.dc-khagrachhari.gov.bd | fbta.gov.bd |
| কাগজপত্র | পাসপোর্টের স্ক্যান, পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি, স্বাক্ষর; শর্তাবলিতে ভিসা ও থাকার জায়গার বিবরণও চাওয়া হয়েছে | পাতায় তালিকা পাওয়া যায়নি | পাসপোর্ট, ভিসা ও হোটেল রিজার্ভেশনের স্ক্যান |
| সময়সীমা | এক অনুমতিতে টানা সর্বোচ্চ দুই মাস | পৌঁছানোর অন্তত 7 দিন আগে আবেদন | এক অনুমতিতে টানা সর্বোচ্চ দুই মাস |
| কে আবেদন করতে পারেন না | ইসরায়েলের নাগরিক | পাতায় উল্লেখ নেই | ইসরায়েলের নাগরিক |
রাঙামাটির শর্তাবলিতে আছে: বিস্তারিত ভ্রমণসূচি জমা দিয়ে তা কঠোরভাবে মানতে হবে; প্রবেশমুখের চেকপোস্টে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; এবং জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো সভা করতে হলে জেলা প্রশাসকের পূর্বানুমতি লাগবে।
বান্দরবানের শর্ত দশটি। তার মধ্যে আছে: আসা ও যাওয়ার আগে পুলিশ সুপারকে জানানো এবং রাইচা চেকপোস্টে নাম নিবন্ধন; সব সময় নিযুক্ত ট্যুর গাইডের সঙ্গে থাকা; স্থানীয় কারও বাড়িতে রাত না কাটানো; পূর্বানুমতি ছাড়া জাতিগত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় না যাওয়া; স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো সভায় যোগ না দেওয়া বা অনুদান না দেওয়া; স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা; এবং সন্ধ্যার আগে হোটেলে ফেরা। ওই সাইটের নিজস্ব গণনায় এ পর্যন্ত 3,643 জন বিদেশি পর্যটক বান্দরবান ঘুরেছেন, যার মধ্যে ভারতের 821, যুক্তরাষ্ট্রের 546 ও যুক্তরাজ্যের 216 জন।
এই শর্তগুলো বিদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য। “স্থানীয়দের বাড়িতে থাকা যাবে না” শর্তটি বাংলাদেশি পর্যটকের জন্য কোনো উৎসে নেই; সাজেকের রুইলুইতে স্থানীয়দের বাসায় থাকার কথা পোর্টাল নিজেই লিখেছে।
দেশি পর্যটকের জন্য পুরো জেলায় ঢোকার কোনো অনুমতির কথা জেলা পোর্টালগুলোতে নেই; তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গার বিবরণে পোর্টাল অনুমতি বা আগাম যোগাযোগের কথা লিখেছে। নিচের তালিকা তিন জেলা পোর্টালের “পর্যটন স্পট” পাতাগুলো থেকে নেওয়া।
| স্থান | পোর্টালে যা বলা আছে |
|---|---|
| আরণ্যক, রাঙামাটি (সেনা রিজিয়নের লেকপাড়ের স্পট) | অনুমতি সাপেক্ষে ঘুরে দেখা ও রাত্রিযাপন |
| নীলগিরি, বান্দরবান | থাকতে হলে সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড সদর দপ্তরে আগাম যোগাযোগ |
| সাজেক | আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাওয়া উত্তম |
| ফুরমোন পাহাড়, রাঙামাটি | একা যাওয়া ঠিক নয়; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে বা সহযোগিতা নিয়ে যাওয়া উচিত |
| ডলুছড়ি জেতবন বিহার ও আর্যপুর ধর্মোজ্জল বনবিহার | অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ |
| রাজবন বিহারের “স্বর্গীয় সিড়ি” | অনুমতি নিয়ে ওঠা যায় |
| কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী পেপার মিলস | অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ |
| রুমা ও থানচির খোলা পথ | নিবন্ধিত গাইড ও চেকপোস্টে নিবন্ধন (জুন 2025-এর গণবিজ্ঞপ্তি) |
ছবি তোলার আগে অনুমতি, জুমখেত বা শ্মশানে ঢোকা, বিহারে পোশাক, এ ধরনের আচরণবিধি কোনো জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংগঠন বা জেলা প্রশাসনের লিখিত আকারে পাওয়া যায়নি। লিখিত যা আছে তা বিদেশি নাগরিকের শর্তাবলির একটি বাক্য: স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
এই তিন প্রশ্নের প্রতিটির জন্য জুমজার্নালে আলাদা লেখা আছে, তাই এখানে কেবল পথনির্দেশ। উৎসবের সময় যেতে চাইলে মনে রাখতে হবে, চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের উৎসব একটি নয়, কয়েকটি, আর প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আচার আলাদা।
পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি দেখার একটি জায়গা রাঙামাটি শহরের ভেদভেদিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের জাদুঘর; পোর্টাল অনুযায়ী এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান তিন জেলায়। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, শুভলং ঝরনা ও সাজেক। খাগড়াছড়িতে আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা ও দেবতা পুকুর। বান্দরবানে নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, চিম্বুক, নীলগিরি, বগা লেক ও কেওক্রাডং। তিন জেলা প্রশাসনের পোর্টালে যথাক্রমে 35, 30 ও 17টি স্থানের আলাদা পাতা আছে।
নীলগিরি বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় 47 কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বান্দরবান–থানচি সড়কে একটি পাহাড়চূড়ায়; বাংলা উইকিপিডিয়া দূরত্ব লিখেছে প্রায় 50 কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা 2,200 ফুট। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী জায়গাটি ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কাপ্রু পাড়া এলাকায়, আর পর্যটন কেন্দ্রটি সেনাবাহিনীর; থাকতে হলে বান্দরবান ব্রিগেড সদর দপ্তরে আগাম যোগাযোগ করতে হয়।
নীলাচল বান্দরবান সদর উপজেলার টাইগার পাড়া এলাকায় একটি পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র। বান্দরবান জেলা পোর্টাল অনুযায়ী এটি শহর থেকে 5 কিলোমিটার দূরে, উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 2,000 ফুট; বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে প্রায় 6 কিলোমিটার ও প্রায় 1,600 ফুট। জেলা প্রশাসন এটি পরিচালনা করে, আর এখান থেকে পুরো বান্দরবান শহর দেখা যায়।
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবান–কেরানীহাট সড়কের পাশে, বান্দরবান শহর থেকে 4 থেকে 4.5 কিলোমিটার দূরে, জেলা পরিষদের বিপরীতে। জেলা প্রশাসন এটি চালায়। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী এখানে একটি কৃত্রিম হ্রদ, শিশু পার্ক, সাফারি পার্ক, পেডেল বোট, ঝুলন্ত সেতু, চিড়িয়াখানা ও জেলা প্রশাসনের একটি রেস্ট হাউস আছে।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশপথে। এর প্রধান আকর্ষণ একটি প্রাকৃতিক গুহা, স্থানীয় নাম “মাতাই হাকর” বা দেবগুহা। জেলা পোর্টাল অনুযায়ী পাহাড়চূড়া থেকে 266টি সিঁড়ি নেমে গুহামুখ, গুহার দৈর্ঘ্য প্রায় 280 ফুট, পার হতে 15 থেকে 20 মিনিট লাগে, আর মশাল বা টর্চ লাগে। বাংলা উইকিপিডিয়া দৈর্ঘ্য লিখেছে প্রায় 350 ফুট।
সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে, ভারতের মিজোরাম সীমান্তের কাছে। অনেকে একে খাগড়াছড়ির জায়গা ভাবেন, কারণ যাওয়ার সহজ পথ খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা হয়ে। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল লিখেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে সাজেক প্রায় শত কিলোমিটার, আর রাঙামাটি হয়ে গেলে সময় বেশি লাগে।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেক প্রায় 70 কিলোমিটার, আর দীঘিনালা থেকে প্রায় 49 কিলোমিটার; সংখ্যা দুটি বাংলা উইকিপিডিয়ার, যা রাঙামাটি জেলা পোর্টালকে সূত্র দেখিয়েছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া খাগড়াছড়ি থেকে দূরত্ব লিখেছে 70 থেকে 80 কিলোমিটার। পথটি দীঘিনালা হয়ে, আর যাতায়াত মূলত চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত জিপে।
না। কাপ্তাই হ্রদ কৃত্রিম; রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ দেওয়ায় এটি তৈরি হয়। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল সাল লিখেছে 1960 এবং আয়তন 292 বর্গমাইল। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আয়তন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় 767 ও বর্ষায় প্রায় 1,036 বর্গ কিলোমিটার, গড় গভীরতা 9 মিটার। হ্রদের নিচে ডুবে আছে গ্রাম ও পুরনো চাকমা রাজবাড়ি।
রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু 335 ফুট দীর্ঘ। রাঙামাটি জেলা পোর্টাল অনুযায়ী বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন 1986 সালে এটি নির্মাণ করে। সেতুটি রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরে, দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর। সড়কপথ ও জলপথ দুভাবেই সেখানে যাওয়া যায়।
অক্টোবর 2022 থেকে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে সশস্ত্র সংগঠন KNF-এর তৎপরতা ও যৌথ অভিযানের কারণে দফায় দফায় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা ছিল; অক্টোবর 2024-এ তিন জেলাতেই পর্যটকদের না যেতে বলা হয়। 11 জুলাই 2025-এ বান্দরবানের জেলা প্রশাসক বলেন, খোলা গন্তব্যগুলো পর্যটকের জন্য নিরাপদ। পরিস্থিতি বদলায়, তাই যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখা দরকার।
পুরো বান্দরবান বন্ধ নয়। 6 নভেম্বর 2024-এ সাত উপজেলার চারটিতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 6 জুন 2025 থেকে রুমায় বগা লেক ও Munlai Para এবং থানচিতে তিন্দু হয়ে Tamatungi পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি মেলে, তিন শর্তে: অনুমোদিত স্থান, নিবন্ধিত গাইড ও চেকপোস্টে নিবন্ধন। জুলাই 2025-এর পরের অবস্থা এ পাতায় নেই।
লাগে। তিন জেলা প্রশাসনেরই বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ-অনুমতির অনলাইন ব্যবস্থা আছে। রাঙামাটি ও বান্দরবানে এক অনুমতিতে টানা সর্বোচ্চ দুই মাস থাকা যায়; খাগড়াছড়িতে পৌঁছানোর অন্তত 7 দিন আগে আবেদন করতে হয়। বান্দরবানে পাসপোর্ট, ভিসা ও হোটেল রিজার্ভেশনের স্ক্যান লাগে, সব সময় গাইড সঙ্গে রাখতে হয় এবং স্থানীয় কারও বাড়িতে রাত কাটানো যায় না।
চিম্বুক পাহাড় ম্রোদের এলাকা। বান্দরবান জেলা পোর্টাল লিখেছে, শহর থেকে চিম্বুকের পথে বম ও ম্রোদের গ্রাম পড়ে, আর নীলগিরি তৈরি হয়েছে ম্রো অধ্যুষিত কাপ্রু পাড়া এলাকায়। চিম্বুক শহর থেকে 26 কিলোমিটার দূরে, থানচি সড়কে। ইলিরা দেওয়ানের লেখা অনুযায়ী নামটির আদি রূপ “চ্যংবত হুম”।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 10 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটন
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।