Last updated Oct 19th, 2026
0

চাকমা বিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শুরু হয় 1776 সালে — বাংলাপিডিয়া, ঐতিহাসিক রতনলাল চক্রবর্তী ও ঔপনিবেশিক জেলা গেজেটিয়ার এই সালে একমত। শেষের সাল নিয়েই গোলমাল: কারও হিসাবে 1785, কারও 1786, বেশিরভাগের 1787, আর কয়েকটি উৎসে 1789। তাই “কত বছর চলে” প্রশ্নের উত্তর উৎসভেদে 9 থেকে 14 বছর, আর কয়েকজন লেখক লড়াইটিকে 1772 থেকে 1798 পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।
এই লেখায় প্রতিটি সালের পাশে তার উৎস দেওয়া আছে: 1777 সালের কোম্পানির চিঠি, লুইন (1869), হান্টার (1876), হাচিনসন (1906), পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা গেজেটিয়ার (1909), বাংলাপিডিয়া, ঐতিহাসিক রতনলাল চক্রবর্তী ও সুনীতিভূষণ কানুনগোর গবেষণা, আর আমাদের আর্কাইভের দশটির বেশি লেখা। কোন সাল “ঠিক”, সেই রায় এখানে নেই — আছে কে কোন সাল দিয়েছেন, আর কোন ঘটনাকে শুরু বা শেষ ধরে।
চাকমাদের উৎপত্তি ও প্রাচীনতম লিখিত প্রমাণ নিয়ে আলাদা লেখা আছে — চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রামে কবে থেকে আছে: প্রাচীনতম লিখিত ও মানচিত্র-প্রমাণ। রাজবংশের পুরো তালিকা আছে চাকমা রাজবংশের ইতিহাস ও রাজাদের নামের তালিকা-য়। সেগুলো এখানে আবার বলা হয়নি।
সূচিপত্র
শুরুর সাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎস 1776 দেয়; কয়েকটি দেয় 1777, যে বছর কোম্পানি প্রথম সৈন্য পাঠায় এবং প্রথম লিখিত চিঠিটি পাঠানো হয়। শেষের সাল চার রকম: 1785, 1786, 1787 ও 1789। নিচের ছকে প্রতিটি উৎস নিজে যা লিখেছে, তাই আছে — কোনো সাল মিলিয়ে নেওয়া হয়নি।
| উৎস | শুরু | শেষ | উৎস নিজে কী বলে |
|---|---|---|---|
| T. H. Lewin, The Hill Tracts of Chittagong (1869) | 1776 | 1787 | শের দৌলত খাঁ 1776-এ বিদ্রোহ করেন; জানবক্স 1787-এ বশ্যতা স্বীকার করেন; 1789-এ তুলার বদলে টাকায় কর |
| R. H. S. Hutchinson, An Account of the Chittagong Hill Tracts (1906) | — | 1787 | “দ্বিতীয় শের দৌলত” বিদ্রোহ করেন, 1787-এ বশ্যতা; 1789-এ কর টাকায় বদলায় |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গেজেটিয়ার (1909) | 1776 | 1787 | 1776-এ রাজস্ব বন্ধ; 1777–1780 রনু খাঁকে ধরার চেষ্টা ব্যর্থ; 1787-এ জানবক্স গভর্নর জেনারেলের ক্ষমা পান |
| বাংলাপিডিয়া, “Chakmas, The” (Willem van Schendel) | 1776 | 1789 | 1776-এ রানু খানের নেতৃত্বে বিদ্রোহ; 1777–1781 তিনটি অভিযান ব্যর্থ; ফেব্রুয়ারি 1789-এ জুয়ান বক্স কলকাতায় চুক্তি করেন |
| Ratan Lal Chakraborty (1977; The Daily Star-এ সংক্ষেপিত) | 1776 | প্রায় 1786 | “started in 1776 AD and continued roughly to 1786 AD”; 1787-এ জানবক্স কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করেন |
| ইংরেজি উইকিপিডিয়া, “Anglo-Chakma War” (কানুনগো 1998 অবলম্বনে) | 1777 | 1787 | যুদ্ধের তারিখ 1777–1787; 1787-এ কলকাতায় শান্তিচুক্তি |
| বাংলা উইকিপিডিয়া, “চাকমা বিদ্রোহ” | 1776 | 1787 | “১৭৭৬ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে চারবার” বিদ্রোহ |
| চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ, মিজোরাম (CADC) | 1777 | 1787 | 1777-এ বাড়তি কর দাবি থেকে শুরু; 1787-এ কলকাতায় সমঝোতা |
| সুপ্রকাশ রায় (আমাদের আর্কাইভে) | 1776 | 1789 | চারটি বিদ্রোহ: 1776–77, 1782, 1784, 1787; “১৭৭৬ হইতে ১৭৮৯ … এই চৌদ্দ বৎসর” |
| সালেক খোকন, bdnews24 (2025) | 1776 | 1789 | প্রায় চৌদ্দ বছরের লড়াই; জুন 1789-এ ইজারা প্রথা বাতিল |
| সত্তা একাডেমি (চাকরির প্রস্তুতি) | 1776 | 1789 | শিরোনামে “চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯)” |
| আনন্দ বিকাশ চাকমা (আমাদের আর্কাইভে) | 1776 | 1785 | “১৭৭৬ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত চলা এ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম” |
| তারা চরণ চাকমা (আমাদের আর্কাইভে; একই অংশ সংকলনে হিমেল রহমানের নামে) | 1777 | 1787 | “১৭৭৭ থেকে ১৭৮৭ সালে সংঘটিত চাকমা বিদ্রোহ” |
| “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস” (আমাদের আর্কাইভে) | আনুমানিক 1778 | 1787 | “আনুমানিক ১৭৭৮ সাল থেকে ১৭৮৭ পর্যন্ত চলে” |
| কানুনগো-নির্ভর সংকলন (আমাদের আর্কাইভে) | 1772 | 1797/1798 | প্রতিরোধ সংগ্রাম “১৭৭২ থেকে ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত”; 1798-এ জব্বর খানের আত্মসমর্পণ |
| কজমিলিক্ক্য চাঙমা, কানুনগোর বাংলা বই উদ্ধৃত করে (আমাদের আর্কাইভে) | 1769 | 1799 | “১৭৬৯ … থেকে ১৭৯৯ … প্রায় ৩০ বছর” বৈরিতা ও সংঘাতের যুগ |
ছকের শেষ পাঁচটি সারির লেখা আমাদের আর্কাইভেই আছে: সুপ্রকাশ রায়ের পুরো বিবরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা-বিদ্রোহ (১৭৭৬-৮৭) লেখায়, আনন্দ বিকাশ চাকমার লেখা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ-এ, তারা চরণ চাকমার লেখা চাকমা জাতির অতীত কথা ও স্মৃতি-তে, আর কানুনগো-নির্ভর একাধিক প্রবন্ধ একসঙ্গে আছে ইতিহাসের আলোকে চাকমা জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম সংকলনে। একটি মজার ব্যাপার: সুপ্রকাশ রায়ের লেখার শিরোনাম “১৭৭৬-৮৭”, অথচ লেখার ভেতরে তিনি নিজেই 1789 পর্যন্ত হিসাব করেছেন।
চাকমা বিদ্রোহের প্রথম লিখিত প্রমাণ চট্টগ্রামের কোম্পানি-প্রধানের একটি চিঠি, তারিখ 10 এপ্রিল 1777, প্রাপক গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস। লুইন (1869), হান্টার (1876), হাচিনসন (1906) ও জেলা গেজেটিয়ার (1909) — চারটি ঔপনিবেশিক বইয়েই এটিকে “the earliest record” বলা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী গোলযোগ চলছিল “for some months past”, অর্থাৎ 1776-এর শেষ থেকেই।
চিঠিতে এক পাহাড়ি নেতার কথা আছে, যিনি কোম্পানির তুলার খামারে সামান্য রাজস্ব দিতেন, এবং যিনি “either through ill usage from the revenue farmer, or from a disposition to revolt” — অর্থাৎ ইজারাদারের দুর্ব্যবহারে অথবা বিদ্রোহী স্বভাবে — কোম্পানির ভূস্বামীদের ওপর জোর করে কর আদায় করছিলেন। লেখক তাঁকে ধরার আশা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পাহাড়ের ভেতর থেকে “large bodies of Kookie men” ডেকে আনেন, যাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না (Lewin 1869, p. 21)।
লক্ষ করার মতো দুটি বিষয় আছে। প্রথমত, চিঠিতে “চাকমা” শব্দটি নেই — লুইন নিজেই লিখেছেন, নামের মুসলিম-ধাঁচের গড়ন দেখে তিনি গোলযোগটিকে চাকমাদের বলে ধরে নিতে “the more disposed”। এই প্রসঙ্গ বিস্তারিত আছে চাকমাদের প্রাচীনতম লিখিত প্রমাণ নিয়ে আমাদের লেখায়। দ্বিতীয়ত, নেতার নাম এক বই থেকে আরেক বইয়ে বদলে গেছে — সেটি পরের অংশে।
বাংলাপিডিয়া একই ধরনের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেছে, যেখানে 50 জন সিপাহি পাঠানোর কথা, তারা দুই-তিনটি টিলা ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার পরও নেতা আরও বড় দল জড়ো করেন, এবং ক্যাপ্টেন এলারকার (Ellerker) মোট সিপাহির সংখ্যা 115-তে তোলেন। রতনলাল চক্রবর্তী লিখেছেন, কালেক্টর ল (Law) এপ্রিল 1777-এ প্রথম সিপাহি দলটি পাঠান।
সব উৎস একটি কারণে একমত: কার্পাস বা তুলা-কর। মোগল আমলে চাকমা প্রধান সমতলে ব্যবসার অধিকারের বিনিময়ে সামান্য তুলা দিতেন। কোম্পানি এই “কার্পাস মহল” বাইরের ইজারাদারদের হাতে তুলে দেয়, যারা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি তুলা আদায় করত। দ্বিতীয় কারণ রাঙ্গুনিয়ার জমি — যা কোম্পানি চাকমা রাজার হাত থেকে সরিয়ে নিচ্ছিল।
লুইন লিখেছেন, পাহাড় থেকে নামানো তুলার ওপর কর বসত, আর সেই কর “was farmed out to some second party” — দ্বিতীয় কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হতো (Lewin 1869, p. 22)। রতনলাল চক্রবর্তীর হিসাবে 1772 সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের কার্পাস মহল কোম্পানির রাজস্বের একটি খাত হয়ে ওঠে; ইজারাদাররা পাহাড়ি প্রধানদের সঙ্গে বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ তুলার চুক্তি করত। তাঁর হিসাবে রনু খাঁ ছিলেন কোম্পানির এমনই এক ইজারাদারের চুক্তিদার, আর সেই ইজারাদার কোম্পানিকে বছরে 501 মণ তুলা দিতে রাজি হয়েছিল — পরে রনু খাঁ এই ইজারাদারদের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করেন।
সুপ্রকাশ রায় শোষণটিকে দুই স্তরে দেখিয়েছেন। প্রথম ইজারাদার রাজস্বের নামে প্রায় সব তুলা নিয়ে নিত; দ্বিতীয় এক ব্যক্তি অবশিষ্ট তুলা নামমাত্র দামে কিনত। তাঁর হিসাবে পাহাড়িরা সমান ওজনে বিনিময়ে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই দুই টাকার এক মণ লবণের বদলে আট টাকার এক মণ তুলা চলে যেত (সুপ্রকাশ রায়, আমাদের আর্কাইভে)। bdnews24-এ সালেক খোকনও একই অনুপাত লিখেছেন।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 1733 সালে চাকমা প্রধান শেরমুস্ত খাঁ চাকলা রাঙ্গুনিয়ার জমিদারি সনদ পান, আর জমিদার হিসেবেই চাকমা প্রধান সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আসেন। 1770 ও 1780-এর দশকে কোম্পানি তুলার বদলে নগদে কর চায়, রাঙ্গুনিয়ার খাজনা বাড়ায়, আর রাজা বাড়তি খাজনা দিতে অস্বীকার করলে রাঙ্গুনিয়া কলকাতার এক বেনিয়ার কাছে ইজারা দেওয়া হয়। রাজার নিষ্কর জমিও ফেরত নেওয়া হয়।
ইংরেজি উইকিপিডিয়া, কানুনগোর Chakma Resistance to British Domination (1998) অবলম্বনে, আরও খুঁটিনাটি দেয়: 1772 সালে চট্টগ্রামের কালেক্টর বেন্টলি (Bentley) রনু খাঁর সঙ্গে বছরে 501 মণ তুলার চুক্তি করেন, তারপর তাঁকে না জানিয়েই রাঙ্গুনিয়ায় পাঁচসালা বন্দোবস্ত চাপান এবং কার্পাস মহলকে বছরে 11,741 টাকার নগদ-করের এস্টেটে বদলে দেন। রাঙ্গুনিয়াকে নয়টি চাকলার একটিতে ঢুকিয়ে একজন চাকলাদার বসানো হয়। একই উৎস অনুযায়ী 1782 সালের এক হিসাবে রাঙ্গুনিয়ায় 43 জন ভূস্বামী ছিলেন, যাঁদের কেউই চাকমা নন।
চাকরির প্রস্তুতির সাইট সত্তা একাডেমি কারণটিকে এক বাক্যে লিখেছে: রাজাকে মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা-অর্থনীতি চালু করা। আমাদের আর্কাইভের সংকলনে হিমেল রহমানের প্রবন্ধেও আছে, 1772–1773 সালে ইংরেজরা চাকমাদের মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করে, আর 1777 সালে রাজস্বের হার আরও বাড়িয়ে “উদাদার” (চুক্তিবদ্ধ ইজারাদার) নিয়োগ করে (আর্কাইভের সংকলন)।
মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদের সরকারি সাইট আরও সরল ব্যাখ্যা দেয়: 1777 সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা চাকমা রাজ্যের প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেনি; সে বছর তারা বেশি কর চায়, রাজা অস্বীকার করেন, আর তখন থেকেই অভিযান।
প্রায় সব উৎসে তিনটি নাম আছে: চাকমা রাজা শের দৌলত খাঁ, তাঁর পুত্র ও উত্তরসূরি জানবক্স খাঁ, আর দেওয়ান বা সেনাপতি রনু খাঁ। কিন্তু রনু খাঁর নামের বানান, তাঁর সঙ্গে রাজার সম্পর্ক, এমনকি বিদ্রোহের শুরুতে রাজা কে ছিলেন — এই তিন প্রশ্নেই উৎসগুলো আলাদা কথা বলে।
| উৎস | নামের রূপ |
|---|---|
| লুইন 1869 (1777-এর চিঠি উদ্ধৃত করে) | Ramoo Cawn; রাজাদের তালিকায় “Ranoo, or Ramoo Khan” |
| হান্টার 1876 | Rámu Khán |
| হাচিনসন 1906 | Ramu Khan, “the leader of a band of Kukis” |
| জেলা গেজেটিয়ার 1909 | Ronu Khan |
| বাংলাপিডিয়ার উদ্ধৃত কোম্পানি-প্রতিবেদন | “the Man Ran”, “Runoo Cawn” |
| বাংলাপিডিয়া (ইংরেজি / বাংলা) | Ranu Khan / রানু খান |
| সুপ্রকাশ রায় | রনু খাঁ (চিঠির অনুবাদে “রামু খাঁ”) |
| তারা চরণ চাকমা; “চাকমা জাতি” প্রবন্ধ | রুনু খান |
| বাংলা উইকিপিডিয়া | লেখায় “রামু খাঁ”, নেতাদের তালিকায় “রুনু খাঁ” |
লুইন নিজেই দুটি রূপ পাশাপাশি রেখেছেন (“Ranoo, or Ramoo Khan”), তাই রামু আর রনু একই মানুষ — অন্তত লুইনের মতে। ঔপনিবেশিক চিঠির ইংরেজি বানান থেকে বাংলায় আসার পথে রনু, রুনু, রানু, রামু — সবগুলোই ছাপা হয়েছে। চাকমা লেখকদের মধ্যে “রনু খাঁ” ও “রুনু খান” দুটোই চলে।
লুইন তাঁকে রাজা শের দৌলতের “relative, and a chief man of the tribe” বলেছেন। বাংলাপিডিয়ায় তিনি রাজার দেওয়ান ও “supreme military leader”। রতনলাল চক্রবর্তী লিখেছেন, তিনি “most probably” শের দৌলতের আত্মীয়, প্রধান দেওয়ান ও সেনাপতি, আর 1782-এর পর জানবক্সের প্রধান নায়েব। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় (কানুনগো অবলম্বনে) তিনি রাজার নায়েব ও রাঙ্গুনিয়ার দেওয়ান। হাচিনসন তাঁকে শুধু “কুকিদের একটি দলের নেতা” বলেছেন — চাকমা পরিচয় উল্লেখ না করে।
লুইনের তালিকা, জেলা গেজেটিয়ার, রতনলাল চক্রবর্তী ও সুপ্রকাশ রায় — সবাই জানবক্সকে শের দৌলতের পুত্র ও 1782-এর উত্তরসূরি বলেছেন। বাংলা উইকিপিডিয়া লিখেছে “রামু খাঁর পুত্র জানবকস খাঁ”। এটি একমাত্র উৎস যেখানে এমন কথা আছে, আর সেই অনুচ্ছেদের উৎস কালের কণ্ঠের 2014 সালের একটি লেখা, যার আর্কাইভ-কপিতে লেখাটির মূল অংশ পাওয়া যায় না।
এখানে উৎসগুলো সবচেয়ে বেশি আলাদা। বাংলাপিডিয়া বলছে, বাড়তি খাজনা দিতে অস্বীকার করেছিলেন “Raja Juan Buksh” (জুয়ান বক্স), আর তারপর 1776-এ রানু খানের নেতৃত্বে বিদ্রোহ। তারা চরণ চাকমার লেখাতেও 1777-এ রাজা “জোয়ান বখশ”। অন্যদিকে লুইন, জেলা গেজেটিয়ার ও রতনলাল চক্রবর্তী 1776-এ রাজা হিসেবে শের দৌলতকে দেখান, আর জানবক্স রাজা হন 1782-এ। ইংরেজি উইকিপিডিয়া লিখেছে, জানবক্স 1776 থেকেই যুবরাজ হিসেবে প্রতিরোধে ছিলেন — এভাবে দুই বয়ান কিছুটা কাছাকাছি আসে।
হাচিনসনের 1906 সালের তালিকা আবার আলাদা: সেখানে “Sher Dowlat Pagla” 1776-এ নিজের লোকজনের হাতে নিহত হন, আর বিদ্রোহ করেন “Sher Dowlat II”, যিনি 1787-এ বশ্যতা স্বীকার করেন। জানবক্সের নাম সেই তালিকায় নেই; তাঁর পরে আসেন “Tabbag Khan”। আমাদের আর্কাইভের চাকমা রাজবংশের তালিকা অনুযায়ী শের দৌলত খাঁ রাজা হন 1776-এ, আর তনয় দেওয়ানের “চাংমাটারা” অনুযায়ী 1776-এ রাজা শুকদেব রায়ের মৃত্যুর পর শের দৌলত খাঁ সিংহাসনে বসেন।
রতনলাল চক্রবর্তী কোম্পানির নথি থেকে জানবক্স ও রনু খাঁর সঙ্গী হিসেবে Doolub, Choree, Kannoo ও Toothang Shuckdas-এর নাম দেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় (কানুনগো অবলম্বনে) আছে দেওয়ান কোনো খান, বুলোব, চুরি ও তুথাং; কোনো খান ছিলেন রাঙামাটির কাছে মানিকছড়িতে রাজার প্রধান দেওয়ান। আনন্দ বিকাশ চাকমার লেখায় একই নামগুলো এসেছে “কনু খাঁ, জ্বলুপ, চোরি, বুটঠ্যাং” রূপে। কজমিলিক্ক্য চাঙমার লেখায় আছে “কোন্নো খান”, “বুলোব, ছুরি, এবং তুথং” (ঐতিহাসিক তিনটি দলিল এবং জুম্ম জনগণের লড়াই সংগ্রাম)। এঁদের বাংলা বানান কোনো একটি রূপে স্থির নয়।
লড়াকুদের বলা হতো “পালোয়ান” (palwan)। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এঁদের বেশিরভাগ কুকিদের মধ্য থেকে নেওয়া; ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে তাঁদের অস্ত্র ছিল তীর-ধনুক, বর্শা ও তলোয়ার। রতনলাল চক্রবর্তী আরও লিখেছেন, 7 জানুয়ারি 1785-এর এক চিঠিতে কালেক্টর জেমস আরউইন (James Irwin) জানান, জানবক্সের অধীনে “Mun ghawzee” নামে এক বাঙালি কাজ করতেন, যিনি প্রায় ষাটজন বাঙালিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এই মুন গাজীর পরিচয় তাঁর মতেও “a question for further research”।
নিচের ছকে প্রতিটি বছরের ঘটনা আর যে উৎস সেটি বলেছে, তা পাশাপাশি দেওয়া হলো। একই বছরের জন্য দুই উৎস দুই রকম কথা বললে দুটোই আছে।
| সাল | ঘটনা | উৎস |
|---|---|---|
| 1772 | কার্পাস মহল কোম্পানির রাজস্ব-খাত; বেন্টলি রনু খাঁর সঙ্গে 501 মণ তুলার চুক্তি করেন, তারপর রাঙ্গুনিয়ায় নগদ-কর চাপান | রতনলাল চক্রবর্তী; ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো) |
| 1776 | শের দৌলত রাজস্ব বন্ধ করেন; রনু খাঁ রাঙ্গুনিয়ায় দোকান লুট শুরু করেন | জেলা গেজেটিয়ার 1909; লুইন 1869 |
| 1776 (মধ্যভাগ) | প্রথম বিদ্রোহ; রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ইজারাদারের তুলার গোলা লুট | সুপ্রকাশ রায় |
| 10 এপ্রিল 1777 | চট্টগ্রাম-প্রধানের চিঠি হেস্টিংসকে; প্রথম লিখিত নথি | লুইন; হান্টার; হাচিনসন; গেজেটিয়ার |
| এপ্রিল 1777 | কালেক্টর ল প্রথম সিপাহি দল পাঠান; পরে 50, তারপর মোট 115 জন | রতনলাল চক্রবর্তী; বাংলাপিডিয়া |
| নভেম্বর 1777 | কুকিদের হাত থেকে বাসিন্দাদের রক্ষায় 22তম ব্যাটালিয়ন থেকে সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ | লুইন; গেজেটিয়ার |
| 1777 | প্রথম ইংরেজ অভিযান (Mr. Lene) | CADC |
| 26 জুন 1778 | “Wazibul Ariz” — জানবক্স ও রনু খাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র | ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো) |
| 1777–1781 | ইউরোপীয় অফিসারদের অধীনে তিনটি পূর্ণাঙ্গ অভিযান, সবই ব্যর্থ | বাংলাপিডিয়া |
| 1777–1780 | রনু খাঁকে ধরার চেষ্টা, সফল হয়নি | জেলা গেজেটিয়ার 1909 |
| 1780 | দ্বিতীয় অভিযান (Mr. Turman) / বড় মাত্রার অভিযান ব্যর্থ | CADC; তারা চরণ চাকমা |
| 1781 | রনু খাঁ ফেনী নদী পার হচ্ছেন বলে খবর; ত্রিপুরার রাজার সাহায্য চাওয়া হয়; কালেক্টর সামনার (Sumner) সর্বাত্মক অভিযান চালান | রতনলাল চক্রবর্তী; ইংরেজি উইকিপিডিয়া |
| 1782 | শের দৌলতের মৃত্যু, জানবক্স রাজা; সুপ্রকাশ রায়ের হিসাবে “দ্বিতীয় বিদ্রোহ” | লুইন; গেজেটিয়ার; রতনলাল চক্রবর্তী; সুপ্রকাশ রায় |
| 1783–1785 | ইজারাদাররা পাহাড়ে ঢুকতে পারেনি; কোম্পানি তাদের রাজস্ব মওকুফ করে | রতনলাল চক্রবর্তী; সুপ্রকাশ রায় |
| 1784 | জানবক্স সীমান্তে “greatly disturbed the peace”; কালেক্টরের অবরোধ-পরিকল্পনা, কলকাতার সংযমের পরামর্শ | হান্টার 1876; চট্টগ্রাম গেজেটিয়ার 1908 |
| জুন ও ডিসেম্বর 1784 | মেজর এলারকারের দল পাঠানো হয়, রাজা গভীর পাহাড়ে সরে যান | রতনলাল চক্রবর্তী |
| 16 জানুয়ারি 1785 | ক্যাপ্টেন রিচার্ড অ্যান্ডারসনের (Richard Anderson) প্রায় এক সপ্তাহের অভিযান; রনু খাঁর ছেলের বাড়ি ধ্বংস, কিন্তু কাউকে ধরা যায়নি | রতনলাল চক্রবর্তী |
| 1785 | ব্রিটিশ বাহিনী রাজধানী দখল করে; রাজা আত্মগোপনে | ইংরেজি উইকিপিডিয়া; আর্কাইভের সংকলন |
| 1786 | জানবক্স ও হেস্টিংসের শান্তিচুক্তি | আর্কাইভের সংকলন (কানুনগো-নির্ভর অংশ) |
| 1787 | জানবক্সের বশ্যতা বা কলকাতায় সমঝোতা; সুপ্রকাশ রায়ের হিসাবে “দ্বিতীয় শের দৌলত”-এর নতুন বিদ্রোহ | লুইন; গেজেটিয়ার; রতনলাল চক্রবর্তী; CADC; সুপ্রকাশ রায় |
| ফেব্রুয়ারি 1789 | জুয়ান বক্স কলকাতায় গিয়ে চুক্তি করেন | বাংলাপিডিয়া |
| জুন 1789 | ইজারা প্রথা তুলে চাকমা প্রধানের সঙ্গে সরাসরি বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত | সুপ্রকাশ রায়; bdnews24 |
| 1791 | তুলা-কর বাতিল, নগদ কর ধার্য | জেলা গেজেটিয়ার 1909; CADC; “চাকমা জাতি” প্রবন্ধ |
এই ছকের অনেক সাল একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় — 1777, 1780 ও 1781-এর অভিযান মিলিয়েই বাংলাপিডিয়ার “1777–1781 তিনটি অভিযান”। তবে যুদ্ধের সালের একটি তালিকা পুরোপুরি আলাদা: নিঝুম তালুকদারের ব্লগ থেকে নেওয়া বৃটিশ শাসনে চাকমা জনগোষ্ঠী লেখায় কোম্পানির চারটি যুদ্ধ 1770, 1780, 1782 ও 1785 সালে, আর 1785-এ শান্তি আলোচনা। একই লেখকের রাজবংশের তালিকায় শের দৌলতের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় 1777 ও 1781-এ। আর চাকমা জাতি প্রবন্ধে প্রথম অভিযান 1777-এ, তারপর 1783, 1784 ও 1785-এ যুদ্ধ — এবং সেখানে লড়াইটির আরেক নাম “তুলা যুদ্ধ” বা “তুলা বিদ্রোহ”।
শেষের সাল চারটি, আর প্রতিটির পেছনে আলাদা ঘটনা। 1785 — রাজধানী দখল ও শান্তি আলোচনা। 1786 — কানুনগো-নির্ভর একটি সংকলনে হেস্টিংসের সঙ্গে চুক্তি। 1787 — জানবক্সের বশ্যতা বা কলকাতার সমঝোতা, যা সবচেয়ে বেশি উৎস দেয়। 1789 — বাংলাপিডিয়ার কলকাতা-চুক্তি এবং সুপ্রকাশ রায়ের “দ্বিতীয় শের দৌলত”-এর বশ্যতা।
লুইন (1869) জানবক্স সম্পর্কে লিখেছেন, তিনি বিদ্রোহ করেছিলেন “but in 1787 he made submission”। জেলা গেজেটিয়ার (1909) বলছে, 1787-এ তিনি গভর্নর জেনারেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে পান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি রাখার চুক্তি করেন। রতনলাল চক্রবর্তী, ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো), CADC, বাংলা উইকিপিডিয়া, তারা চরণ চাকমা ও “চাকমা জাতি” প্রবন্ধ — সবাই 1787-এ শেষ ধরেছেন।
বাংলাপিডিয়ার “Chakmas, The” নিবন্ধ লিখেছে: “Juan Baksh went to Kolkata in February 1789″। সুপ্রকাশ রায়ের 1789 আসে অন্য পথে। তিনি হাচিনসনের বিবরণ উদ্ধৃত করে লেখেন, 1787-এ জানবক্সের বশ্যতার পরই “আর একজন শের দৌলত খাঁর নেতৃত্বে” আরেকটি বিদ্রোহ হয়, আর এই দ্বিতীয় শের দৌলত 1789-এ বশ্যতা স্বীকার করেন। হাচিনসনের 1906 সালের মূল ইংরেজি পাঠে আছে: “Sher Dowlat II. Revolted against the Government, but in 1787 he made his submission, and in 1789 the Government altered his tribute…” — অর্থাৎ সেখানে বশ্যতা 1787-এ, আর 1789 কর-পরিবর্তনের সাল। পাঠক দুটো পাশাপাশি রেখে দেখতে পারেন।
নিঝুম তালুকদারের ব্লগ-ভিত্তিক লেখায় দুই পক্ষ 1785 সালে শান্তি আলোচনা চালায়; আনন্দ বিকাশ চাকমা লড়াইটিকে 1776–1785 ধরেছেন; আর আজাদ বুলবুলের লেখায় জানবক্স 1785-এ কলকাতায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আমাদের আর্কাইভের কানুনগো-নির্ভর সংকলনে আছে, 1785-এ ব্রিটিশ বাহিনী চাকমা রাজধানী দখল করে আর 1786-এ জানবক্সের সঙ্গে হেস্টিংসের শান্তিচুক্তি হয় — “কিন্তু যুদ্ধ থামেনি”। রতনলাল চক্রবর্তীর “roughly to 1786” এই দুই সালের মাঝামাঝি।
প্রায় সব উৎস একমত যে লড়াই শেষ হয় জানবক্সের কলকাতা যাত্রা ও গভর্নর জেনারেলের সঙ্গে সমঝোতায়। কিন্তু সাল তিনটি (1786, 1787, 1789) এবং গভর্নর জেনারেলের নাম দুটি — ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিস। চুক্তির শর্তও উৎসভেদে আলাদা।
ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো) লিখেছে, 1787-এ “at the call of Warren Hastings” জানবক্স কলকাতায় যান। আর্কাইভের সংকলনেও 1786-এর চুক্তি হেস্টিংসের সঙ্গে, আর অন্য এক অংশে “ওয়ারেন হেস্টিংসের আমন্ত্রনে জান বক্স খান কলিকাতায় যান ১৭৮৭ সালে”। আজাদ বুলবুলের লেখা অনুযায়ী জানবক্স 1785-এ কলকাতায় গিয়ে হেস্টিংসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন (চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা আদিবাসীর জাতিতত্ত্ব বিচার ও অভিবাসন)। অন্যদিকে CADC লিখেছে, 1787-এ রাজা কলকাতায় “the Governor General, Lord Cornwallis”-এর সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
মিলিয়ে দেখার জন্য একটি তথ্য: ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হেস্টিংস ও কর্নওয়ালিস নিবন্ধ অনুযায়ী হেস্টিংস 8 ফেব্রুয়ারি 1785-এ পদত্যাগপত্র দেন, আর কর্নওয়ালিস গভর্নর জেনারেল হন 12 সেপ্টেম্বর 1786-এ।
ইংরেজি উইকিপিডিয়ার (কানুনগো) তালিকা: কোম্পানি জানবক্সকে চাকমাদের রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়; রাজস্ব আদায় রাজার অধিকার; সমতল থেকে অভিবাসন সীমিত; রাজার দায়িত্ব নিজের এলাকায় শান্তি রাখা; আর পথ রক্ষার জন্য ব্রিটিশ সৈন্য চাকমা এলাকায় থাকবে। বাংলাপিডিয়ার সংস্করণে কোম্পানি তাঁকে পার্বত্য অঞ্চলের “bonafide chief” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যেখানে তিনি স্বায়ত্তশাসিতভাবে শাসন করবেন; রাঙ্গুনিয়ার জমিদারি ফেরত পাবেন, কিন্তু কোম্পানির জমিদার হিসেবে দেশের সাধারণ আইন মানবেন। জেলা গেজেটিয়ারে শুধু সীমান্তে শান্তি রাখার চুক্তি। তারা চরণ চাকমার লেখায় ইংরেজরা নির্দিষ্ট হারে রাজস্বের বিনিময়ে চাকমাদের “অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা” স্বীকার করে নেয়।
নিঝুম তালুকদারের ব্লগ-ভিত্তিক লেখা যোগ করে, চুক্তির পর জানবক্স রাজধানী রাজানগরে সরিয়ে নেন, যা বর্তমান রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাটে। আজাদ বুলবুলের লেখাতেও চুক্তির শর্ত হিসেবে পদুয়া-কোদালা ছেড়ে রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরে জমিদারি প্রতিষ্ঠার কথা আছে। বাংলাপিডিয়ার রাঙ্গামাটি জেলা নিবন্ধ রাজা জানবক্স খাঁর প্রাসাদ, দিঘি ও মসজিদকে প্রত্নঐতিহ্যের তালিকায় রেখেছে।
এই প্রশ্নের একক উত্তর নেই — উৎস যে শুরু ও শেষের সাল নেয়, সেটাই বছরের সংখ্যা ঠিক করে। সবচেয়ে প্রচলিত হিসাব 1776 থেকে 1787, অর্থাৎ প্রায় 11 বছর। সুপ্রকাশ রায় নিজে লিখেছেন “চৌদ্দ বৎসর” (1776–1789)। কানুনগো-নির্ভর বাংলা লেখাগুলোতে এই সময় 25 থেকে প্রায় 30 বছর।
| সময়সীমা | মোটামুটি দৈর্ঘ্য | কারা দেন |
|---|---|---|
| 1776–1785 | প্রায় 9 বছর | আনন্দ বিকাশ চাকমা |
| 1778–1787 | প্রায় 9 বছর (“আনুমানিক”) | “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস” (আর্কাইভ) |
| 1776–1786 | প্রায় 10 বছর | রতনলাল চক্রবর্তী |
| 1777–1787 | প্রায় 10 বছর | ইংরেজি উইকিপিডিয়া; CADC; তারা চরণ চাকমা |
| 1776–1787 | প্রায় 11 বছর | লুইন; জেলা গেজেটিয়ার; বাংলা উইকিপিডিয়া |
| 1776–1789 | “চৌদ্দ বৎসর” (প্রথম ও শেষ বছর ধরে) | সুপ্রকাশ রায়; bdnews24; সত্তা একাডেমি |
| 1776–1789 | প্রায় 13 বছর | বাংলাপিডিয়া (শুরু 1776, কলকাতা-চুক্তি 1789) |
| 1772–1797/98 | প্রায় 25 বছর | কানুনগো-নির্ভর সংকলন (আর্কাইভ) |
| 1769–1799 | “প্রায় ৩০ বছর” | কজমিলিক্ক্য চাঙমা, কানুনগোর বাংলা বই উদ্ধৃত করে |
“চৌদ্দ বছর” হিসাবটি 1776 ও 1789 দুটো বছরকেই গুনে আসে। একই সময়কে বিয়োগ করে গুনলে 13 বছর হয়।
সামরিক অভিযানে চাকমাদের হারানো যায়নি — এ বিষয়ে প্রায় সব উৎস একমত। ইংরেজরা তখন সমতলের হাট-বাজারে পাহাড়িদের যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই অবরোধ শেষ পর্যন্ত কাজ করেছিল কি না, সেখানে উৎসগুলো দুই ভাগ।
লুইন লিখেছেন, রামু খাঁর বিরুদ্ধে সব সরবরাহ বন্ধ করা আর বাজারে ঢুকতে না দেওয়া হয়, “and these measures appear to have been successful, as we hear no more of this person” (Lewin 1869, p. 21)। সুপ্রকাশ রায়ের বিবরণে প্রথম বিদ্রোহ থামে বাজারের পথে সৈন্য বসানোয়, আর ক্যাপ্টেন লুইনের উদ্ধৃতিতে জানবক্সের সময়ও “পূর্বের মত অর্থনৈতিক অবরোধের দ্বারা আবার তাহাদের বশ্যতা স্বীকার করিতে বাধ্য করে”। রতনলাল চক্রবর্তীর উপসংহার: “the economic blockade … ultimately obliged him to cease resistance”।
বাংলাপিডিয়া লিখেছে, শুকনো মাছ, লবণ, মাটির ও লোহার জিনিস, মুদিপণ্য ও মসলার সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু “The blockade could not be much successful” — চাকমারা অন্য বাণিজ্যপথে বিকল্প সরবরাহ চালু করে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে লড়াই থামে অন্য কৌশলে: গুপ্তচরের মাধ্যমে রাজার মনে ধারণা তৈরি করা হয় যে রনু খাঁ শক্তিশালী হয়ে রাজাকেই সরাতে পারেন, আর রাজা রনু খাঁকে না জানিয়ে সরকারের সঙ্গে গোপন আলোচনা শুরু করেন।
আর্কাইভের সংকলনে হিমেল রহমানের লেখা আরও দূরে যায়: ইংরেজরা 1781-এ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিন্তু রুনু খান পাল্টা অবরোধ দিয়ে ইংরেজদের লবণ ব্যবসা আটকে দেন। “চাকমা জাতি” প্রবন্ধ আবার কারণ দেখায় ভেতরের ভাঙন: 1787-এ “চাকমা সামন্ত শ্রেণীর একটি অংশ ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিলে” রাজা দুর্বল হয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হন।
বাংলাপিডিয়া একে বলেছে “Hit-and-run”। সুপ্রকাশ রায়ের বর্ণনায় ইংরেজ বাহিনী ঢুকলেই চাকমারা পরিবার ও অস্থাবর সম্পদ নিয়ে গভীর পাহাড়ে সরে যেতেন, বাহিনী ফেরার পথে আক্রমণ করতেন, গাছ কেটে পথ আটকাতেন, পানীয় জল নষ্ট করতেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো) লিখেছে, চাকমারা কাঠের গুঁড়ি ফেলে কর্ণফুলী নদীও আটকে দিয়েছিলেন। রতনলাল চক্রবর্তী জানান, অ্যান্ডারসন ফিরে যাওয়ার পরও কর্ণফুলীর পাড়ে পাহারা রাখার প্রয়োজন মনে করেছিলেন, কারণ আগে চাকমারা নদীপথে অবরোধ দিয়েছিলেন; শেষে কোম্পানিকে বারোটি চৌকি বসাতে হয়।
লড়াইয়ের পর কর কত দাঁড়াল, তা নিয়েও সংখ্যা আলাদা। তুলার পরিমাণ 501 মণ (বেশিরভাগ উৎস) বা 500 মণ (লুইন, হাচিনসন, নিঝুম তালুকদারের ব্লগ-ভিত্তিক লেখা)। নগদে রূপান্তরের সাল 1789 বা 1791, আর টাকার অঙ্ক 1,775, 1,815 বা 2,224।
| উৎস | তুলা | নগদে কবে | টাকা |
|---|---|---|---|
| লুইন 1869 | 1782-এ কমিয়ে 500 মণ | 1789 | উল্লেখ নেই |
| হাচিনসন 1906 | 500 মণ | 1789 | 2,224 |
| জেলা গেজেটিয়ার 1909 | — | 1791 (“Jum Bangu” বন্দোবস্ত, জানবক্সের নামে) | 1,775 |
| CADC | 501 মণ (1787-এর চুক্তি) | 1791 | 1,815 |
| সুপ্রকাশ রায় | 501 মণ | রামু খাঁর মৃত্যুর পর; পরে 1789 | প্রথমে 1,815; 1789-এ মূল লেখায় “২২২৪৷৷৪ পাই” |
| রতনলাল চক্রবর্তী; ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো) | 501 মণ (1772-এর চুক্তি) | — | — |
| তনয় দেওয়ান, “চাংমাটারা” | 501 মণ, হেস্টিংসের সঙ্গে চুক্তি | 1790 (কার্পাস মহল “করদ রাজ্য”) | — |
| নিঝুম তালুকদারের ব্লগ-ভিত্তিক লেখা | বছরে 500 মণ | — | — |
| “চাকমা জাতি” প্রবন্ধ | — | 1791 থেকে টাকায় | — |
সুপ্রকাশ রায়ের অঙ্কটি পুরোনো টাকা-আনা-পাইয়ের চিহ্নে লেখা, হাচিনসনের 2,224 টাকার সঙ্গে মেলে। জেলা গেজেটিয়ারে 2,224-4-4 টাকা অঙ্কটি আবার আছে, তবে 1857 সালে রানি কালিন্দীর সঙ্গে নবায়িত বন্দোবস্তের প্রসঙ্গে। সুপ্রকাশ রায় আরও লিখেছেন, ইজারা তুলে দেওয়ার সময় কথা দেওয়া হয়েছিল কর নিয়মিত দিলে আর বাড়ানো হবে না, “কিন্তু শাসকগণ এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নাই”; আর আদায় করা তুলা নিলামে না উঠে চালান যেত ঢাকার কোম্পানি-ফ্যাক্টরিতে। চট্টগ্রাম গেজেটিয়ারও (1908) লিখেছে, পাহাড়ি তুলা সংগ্রহ করে ঢাকার ফ্যাক্টরিতে পাঠানো ছিল কোম্পানির কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
রনু খাঁর শেষ জীবন নিয়ে তিনটি আলাদা বিবরণ আছে। লুইন ও সুপ্রকাশ রায় বলেন, প্রথম বিদ্রোহের পর তাঁর আর উল্লেখ নেই। বাংলাপিডিয়া বলে, রাজা তাঁকে ছেড়ে কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করলে তিনি জঙ্গলে চলে যান, আর তাঁর খবর মেলেনি। আর্কাইভের সংকলনের একটি প্রবন্ধ বলে, তিনি 1795–96 পর্যন্ত লড়ে বিষপানে মারা যান।
লুইনের ভাষায় অবরোধের পর “we hear no more of this person”। সুপ্রকাশ রায়ও লেখেন, “প্রথম বিদ্রোহের পর হইতে রামু খাঁর আর কোন উল্লেখ দেখা যায় না”; অথচ একই লেখায় পরে “রামু খাঁর মৃত্যুর পর” করের অঙ্ক বদলের কথা আছে। রতনলাল চক্রবর্তী ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় অবশ্য 1782-এর পরও জানবক্সের সঙ্গে রনু খাঁ সক্রিয়, আর 1785-এর অভিযানেও তাঁকে ধরার নির্দেশ ছিল।
বাংলাপিডিয়ার বাক্যটি: “Ranu Khan, so long the supreme military leader of the resistance movement, but now forsaken by the Raja, went into wilderness and was never heard of again”। আর্কাইভের সংকলনের একটি প্রবন্ধে আছে, দেওয়ান রনু খান কখনো ব্রিটিশের কাছে নতি স্বীকার করেননি, 1795–96 সালের যুদ্ধে হেরে জঙ্গলে পালান, আর ধরা না পড়ার জন্য বিষপান করেন; একই অংশে তাঁর যুদ্ধকাল “১৭৭২-৯৬ সাল”। এই শেষ বিবরণের মূল নথি কোনটি, তা সংকলনে বলা নেই।
অমিলের বড় অংশ আসে উৎসগুলো আলাদা ঘটনাকে “শুরু” ও “শেষ” ধরায়। কেউ শুরু ধরেন রাজস্ব বন্ধের বছর (1776), কেউ প্রথম ইংরেজ অভিযান বা প্রথম চিঠির বছর (1777), কেউ রাঙ্গুনিয়ায় নগদ-কর চাপানোর বছর (1772)। শেষের বেলায়ও কেউ ধরেন রাজার বশ্যতা, কেউ কলকাতার চুক্তি, কেউ কর-ব্যবস্থার বদল।
1776 সালটি আসে রাজস্ব বন্ধ ও রনু খাঁর প্রথম হামলা থেকে (জেলা গেজেটিয়ার; রতনলাল চক্রবর্তী)। 1777 আসে সংরক্ষিত প্রথম চিঠি ও প্রথম সিপাহি দল থেকে (ইংরেজি উইকিপিডিয়া; CADC)। আর্কাইভের সংকলনের এক লেখক দুটোকেই রেখেছেন: “ব্রিটিশের সঙ্গে চাকমাদের বিবাদ (কেজ্যা) ১৭৭৬ খ্রি. থেকে আরম্ভ হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ভাগ থেকে”। কানুনগো-নির্ভর লেখাগুলোর 1772 আসে বেন্টলির রাঙ্গুনিয়া-বন্দোবস্ত থেকে।
1787 হলো জানবক্সের বশ্যতা বা সমঝোতার বছর। 1789 হলো ইজারা প্রথা তোলার সিদ্ধান্ত ও তুলা-কর বদলের বছর (লুইন, হাচিনসন, সুপ্রকাশ রায়) এবং বাংলাপিডিয়ার কলকাতা-চুক্তির বছর। সুপ্রকাশ রায় যুক্তিটা নিজেই লিখেছেন: “যতদিন পর্যন্ত এই অঞ্চলে রাজস্ব আদায়ের জন্য ইজারা প্রথা বলবৎ ছিল, ততদিন, অর্থাৎ ১৭৭৬ হইতে ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত চাকমা-বিদ্রোহ চলিয়াছিল”। কানুনগো-নির্ভর লেখাগুলো আরও এগিয়ে 1793–94-এর পরাজয় ও 1798-এ রাজা জব্বর খানের আত্মসমর্পণ পর্যন্ত যায়।
বাংলা উইকিপিডিয়া ও সুপ্রকাশ রায় লড়াইটিকে চারটি আলাদা বিদ্রোহে ভাগ করেন: 1776–77, 1782, 1784 ও 1787। চতুর্থটির নেতা “দ্বিতীয় শের দৌলত খাঁ”। এই নামটি হাচিনসনের রাজাদের তালিকা থেকে আসে, যেখানে জানবক্সের নাম নেই এবং “Sher Dowlat II” নিজেই 1787-এ বশ্যতা স্বীকারকারী। জেলা গেজেটিয়ারের তালিকায় আবার “Sher Daulat Khan II”-এর সাল 1758, আর তাঁর পরে জানবক্স 1782-এ। লুইন, রতনলাল চক্রবর্তী, বাংলাপিডিয়া ও কানুনগো-অবলম্বিত উইকিপিডিয়া একে একটি টানা লড়াই হিসেবে দেখান, চার ভাগে নয়।
লুইন নিজেই লিখেছেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের নথি চট্টগ্রামের সরকারি দপ্তরে “but scanty and intermittent” — ছেঁড়া-ছেঁড়া; কেবল কর বাকি পড়লে বা হামলা হলে তাদের উল্লেখ আসে। তাঁর ইতিহাস-অংশে 1777-এর পর পরের সরকারি চিঠিটি 6 মে 1784-এর, আর তারপর তিনি লেখেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা “do not crop up again until the 21st April 1829″। এত বড় ফাঁকের ভেতরে যার যেমন সূত্র, তিনি তেমন সাল বসিয়েছেন — সেখান থেকেই এত রকম হিসাব।
প্রস্তুতি-সাইটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় “চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯)”। সত্তা একাডেমি এই শিরোনামেই প্রশ্ন সাজিয়েছে, আর তার ব্যাখ্যায় নেতা “চাকমা রাজা জোয়ান বখস”। বাংলা উইকিপিডিয়ায় আছে 1776–1787, ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় 1777–1787।
সত্তা একাডেমিতে 17তম বিসিএস প্রিলিমিনারির একটি প্রশ্ন উদ্ধৃত আছে: ব্রিটিশ বণিকদের বিরুদ্ধে একজন চাকমা জুমিয়া নেতা বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম কী — বিকল্পগুলোর একটি “জান বখশ খাঁ”। লক্ষ করার বিষয়, প্রশ্নটি নেতৃত্ব রাজার নামে দিয়েছে, যেমনটা বাংলাপিডিয়াও দেয়; অথচ লুইন, সুপ্রকাশ রায় ও bdnews24-এর বিবরণে প্রথম বিদ্রোহের মুখ রনু (রামু) খাঁ। পরীক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পথ হলো প্রশ্নে দেওয়া বিকল্পগুলো দেখা — তিনটি নামই নির্ভরযোগ্য উৎসে আছে।
এই অঞ্চলের পরবর্তী শাসন-ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়ে আরও লেখা পাওয়া যাবে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পাতায়।
চাকমা বিদ্রোহ শুরু হয় 1776 সালে — বাংলাপিডিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গেজেটিয়ার (1909) ও ঐতিহাসিক রতনলাল চক্রবর্তী এই সাল দেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়া ও মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ শুরু ধরে 1777, যে বছর কোম্পানি প্রথম সিপাহি দল পাঠায় এবং 10 এপ্রিল 1777-এর প্রথম লিখিত চিঠিটি পাঠানো হয়।
মূল কারণ তুলা-কর বা কার্পাস মহল। কোম্পানি কর আদায়ের দায়িত্ব ইজারাদারদের দেয়, যারা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কয়েক গুণ তুলা আদায় করত। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী তুলার বদলে নগদে কর চাওয়া, রাঙ্গুনিয়ার খাজনা বাড়ানো, রাজা অস্বীকার করলে রাঙ্গুনিয়া কলকাতার এক বেনিয়াকে ইজারা দেওয়া এবং রাজার নিষ্কর জমি ফেরত নেওয়া — এসব মিলে 1776-এ বিদ্রোহ হয়।
উৎসভেদে 9 থেকে 14 বছর। সবচেয়ে প্রচলিত হিসাব 1776–1787, প্রায় 11 বছর (লুইন, জেলা গেজেটিয়ার, বাংলা উইকিপিডিয়া)। সুপ্রকাশ রায় লিখেছেন “১৭৭৬ হইতে ১৭৮৯ … এই চৌদ্দ বৎসর”। রতনলাল চক্রবর্তীর হিসাবে 1776 থেকে প্রায় 1786। কানুনগো-নির্ভর কিছু বাংলা লেখা 1772–1797 বা 1769–1799, অর্থাৎ 25 থেকে প্রায় 30 বছর ধরে।
তিনজন: চাকমা রাজা শের দৌলত খাঁ (1782-এ মৃত্যু), তাঁর পুত্র ও উত্তরসূরি রাজা জানবক্স খাঁ, এবং রাজার দেওয়ান ও সেনাপতি রনু খাঁ। বাংলাপিডিয়া রনু খাঁকে “supreme military leader” বলেছে। রতনলাল চক্রবর্তী সঙ্গী হিসেবে Doolub, Choree, Kannoo ও Toothang-এর নামও দিয়েছেন। লড়াকুদের বলা হতো পালোয়ান।
টি. এইচ. লুইন (1869) রাজাদের তালিকায় দুটো নাম পাশাপাশি লিখেছেন — “Ranoo, or Ramoo Khan” — অর্থাৎ তাঁর মতে একজনই। 1777-এর চিঠিতে বানান “Ramoo Cawn”; হান্টার (1876) ও হাচিনসন (1906) লিখেছেন রামু খান, জেলা গেজেটিয়ার (1909) রনু খান, বাংলাপিডিয়া রানু খান। বাংলা লেখায় রনু, রুনু, রানু ও রামু — চারটিই ছাপা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উৎস 1787 দেয়: লুইন লিখেছেন জানবক্স “in 1787 he made submission”, জেলা গেজেটিয়ার বলছে 1787-এ তিনি গভর্নর জেনারেলের ক্ষমা পান। বাংলাপিডিয়া কলকাতার চুক্তি ফেব্রুয়ারি 1789-এ রেখেছে। সুপ্রকাশ রায় 1789 ধরেছেন ইজারা প্রথা ওঠা পর্যন্ত। আনন্দ বিকাশ চাকমা 1785, আর্কাইভের এক সংকলন 1786-এর চুক্তির কথা বলে।
কারণ বিরোধের কেন্দ্রে ছিল কার্পাস বা তুলা-কর। বাংলা উইকিপিডিয়া একে “চাকমা বিদ্রোহ বা কার্পাস বিদ্রোহ” বলেছে, সত্তা একাডেমি লিখেছে “চাকমা / কার্পাস বিদ্রোহ”, আর আমাদের আর্কাইভের “চাকমা জাতি” প্রবন্ধে নাম আছে “তুলা যুদ্ধ” বা “তুলা বিদ্রোহ”। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় এর নাম “Anglo-Chakma War”।
সামরিক অভিযানে পারেনি — বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী 1777–1781 সালের তিনটি অভিযানই ব্যর্থ। এরপর সমতলের বাজারে পাহাড়িদের যাওয়া বন্ধ করে অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া হয়। লুইন ও রতনলাল চক্রবর্তী বলেন অবরোধেই বশ্যতা আসে; বাংলাপিডিয়া বলে অবরোধ “could not be much successful”, আর লড়াই থামে রাজা ও রনু খাঁর মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে।
বেশিরভাগ উৎসে বছরে 501 মণ তুলা (সুপ্রকাশ রায়, রতনলাল চক্রবর্তী, CADC, তনয় দেওয়ান)। লুইন (1869) ও হাচিনসন (1906) লিখেছেন 500 মণ। পরে তুলার বদলে নগদ কর ধার্য হয়: জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী 1791-এ বছরে 1,775 টাকা, CADC অনুযায়ী 1791-এ 1,815 টাকা, হাচিনসন অনুযায়ী 1789-এ 2,224 টাকা।
ইংরেজি উইকিপিডিয়া (কানুনগো অবলম্বনে) ও আর্কাইভের কয়েকটি লেখা বলে ওয়ারেন হেস্টিংস; মিজোরামের চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ বলে লর্ড কর্নওয়ালিস, 1787 সালে কলকাতায়। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার জীবনী-নিবন্ধ অনুযায়ী হেস্টিংস 8 ফেব্রুয়ারি 1785-এ পদত্যাগপত্র দেন এবং কর্নওয়ালিস 12 সেপ্টেম্বর 1786-এ দায়িত্ব নেন।
রাঙ্গুনিয়া, বর্তমান চট্টগ্রাম জেলায়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এটি ছিল চাকমা রাজার আগের জমিদারি, আর বিদ্রোহীরা পুরো রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের সমতল ফের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী 1776-এ রনু খাঁ রাঙ্গুনিয়ায় দোকান লুট শুরু করেন। চুক্তির পর রাজধানী যায় রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরে।
তিনটি বিবরণ আছে। লুইন (1869) লিখেছেন, অবরোধের পর “we hear no more of this person”। বাংলাপিডিয়া বলছে, রাজা তাঁকে ছেড়ে চুক্তি করলে তিনি জঙ্গলে চলে যান এবং আর খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের আর্কাইভের একটি সংকলিত প্রবন্ধ বলছে, তিনি 1795–96 সালের যুদ্ধে হেরে বিষপান করেন।
চট্টগ্রামের কোম্পানি-প্রধানের 10 এপ্রিল 1777 তারিখের চিঠি, গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে লেখা। লুইন, হান্টার, হাচিনসন ও জেলা গেজেটিয়ার — চারটি বইয়েই এটিকে পাহাড়িদের সঙ্গে কোম্পানির সম্পর্কের “earliest record” বলা হয়েছে। চিঠিতে “চাকমা” শব্দটি নেই; লুইন নামের ধরন দেখে এটিকে চাকমাদের বিদ্রোহ ধরে নেন।
কানুনগোর মূল বই। সুনীতিভূষণ কানুনগোর Chakma Resistance to British Domination (1998) বাংলাদেশে এই বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত গবেষণা বলে উদ্ধৃত হয়, কিন্তু বইটির কোনো অনলাইন পাঠ পাওয়া যায়নি। এই লেখায় কানুনগোর কথা এসেছে দুই পথে — ইংরেজি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ আর আমাদের আর্কাইভের সংকলন — এবং দুটির সালে অমিল আছে (উইকিপিডিয়ায় চুক্তি 1787, সংকলনে 1786)। মূল বইয়ে কোনটি আছে, তা যাচাই করা যায়নি।
বাংলাপিডিয়ার 1789। ফেব্রুয়ারি 1789-এ কলকাতা-চুক্তির কথা বাংলাপিডিয়ার “Chakmas, The” নিবন্ধ ছাড়া অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। নিবন্ধের গ্রন্থপঞ্জিতে বুকাননের 1798 সালের দিনলিপি (van Schendel সম্পাদিত) ও এশিয়াটিক সোসাইটির History of Bangladesh আছে, কিন্তু সালটি কোন নথি থেকে, তা বলা নেই।
চুক্তির মূল পাঠ। জানবক্সের সঙ্গে কোম্পানির চুক্তির কোনো মূল দলিল বা তার হুবহু পাঠ কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি; শর্তগুলো এসেছে পরবর্তী লেখকদের সারসংক্ষেপ থেকে, আর সেগুলো একে অপরের সঙ্গে পুরো মেলে না।
“দ্বিতীয় শের দৌলত” কে। হাচিনসনের তালিকার “Sher Dowlat II” আর জানবক্স কি একই মানুষ, নাকি 1787-এর পর আলাদা কেউ বিদ্রোহ করেছিলেন — কোনো উৎস এর স্পষ্ট উত্তর দেয় না।
রনু খাঁর শেষ জীবন। 1795–96 সালের পরাজয় ও বিষপানের বিবরণটি কোন নথি থেকে, সংকলনে তা বলা নেই; অন্য কোনো উৎসে এই তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের সংখ্যা। দুই পক্ষের হতাহতের কোনো হিসাব কোনো উৎসে নেই। সুপ্রকাশ রায় নিজেই লিখেছেন, কত সৈন্য মারা গেছে “তাহার হিসাব নাই”। রতনলাল চক্রবর্তী শুধু 1785-এর একটি অভিযানে কোম্পানির একজন বেলদার নিহত এবং একজন লস্কর ও চারজন মাঝি আহত হওয়ার কথা লিখেছেন।
চাকমা মৌখিক ইতিহাস। লুইন লিখেছেন “Tradition in the hills tells us of such a rising”, আর সুপ্রকাশ রায় লিখেছেন চাকমারা এখনো এই বিদ্রোহ ও রনু খাঁর কাহিনি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। কিন্তু চাকমা গেংখুলি গীত বা লোককথায় এই লড়াইয়ের কোনো লিপিবদ্ধ পাঠ পাওয়া যায়নি।
রতনলাল চক্রবর্তীর পূর্ণ প্রবন্ধ। The Daily Star-এ প্রকাশিত লেখাটি Bangladesh Historical Studies-এর (Vol. II, 1977) প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত রূপ; পূর্ণ প্রবন্ধ ও তার পাদটীকায় উদ্ধৃত কোম্পানি-নথির তালিকা পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026
প্রসঙ্গ:চাকমা, চাকমা বিদ্রোহ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ব্রিটিশ শাসন
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।