Last updated Nov 3rd, 2026
0

পাহাড়ের রূপকথা ও লোককাহিনি পড়তে চাইলে কোন আদিবাসী লোককথা বই খুলবেন? জুমজার্নালের ইবুক লাইব্রেরির “লোককাহিনী ও রূপকথা” তাকে এখন 19টি বই রাখা আছে — 1979 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের প্রথম সংকলন থেকে 2012 সালের ম্রো রূপকথা পর্যন্ত। এর মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, চাক, খুমী, খেয়াং, বম, রাখাইন ও গারো লোককথার আলাদা বা যৌথ সংকলন আছে, আর আছে রাধামন-ধনপুদি পালার তিনটি ছাপা রূপ।
এই পাতাটি সেই তাকের একটি পথনির্দেশ: কোন বই কে সম্পাদনা করেছেন, কোথা থেকে কবে বেরিয়েছে, ভেতরে কতগুলো গল্প আর কোন জনগোষ্ঠীর — আর আর্কাইভে আগে প্রকাশিত কোন গল্প কোন বইয়ের সূচিতে পাওয়া যায়। গল্পগুলো এখানে নতুন করে বলা হয়নি। প্রতিটি তথ্য বইয়ের নিজের মুদ্রণ-তথ্য, ভূমিকা ও সূচিপত্র থেকে, কিংবা ইবুক লাইব্রেরির রেকর্ড থেকে নেওয়া।

সূচিপত্র
জুমজার্নাল ইবুক লাইব্রেরিতে “লোককাহিনী ও রূপকথা” নামে একটি আলাদা শ্রেণি আছে, আর তাতে 19টি বইয়ের রেকর্ড। 19টির 14টি সরাসরি রূপকথা, লোককাহিনি বা কিংবদন্তির সংকলন; তিনটি রাধামন-ধনপুদি পালার আলাদা সংস্করণ; আর বাকি দুটি অন্য ধরনের লেখা, যা নিচে আলাদা অংশে বলা আছে।
নিচের ছকে বইগুলো প্রকাশের সাল ধরে সাজানো। “পৃষ্ঠা” মানে লাইব্রেরিতে রাখা পিডিএফের পৃষ্ঠাসংখ্যা, ছাপা বইয়ের শেষ পৃষ্ঠার নম্বর নয়। শিরোনাম বইয়ের প্রচ্ছদ বা আখ্যাপত্রে যেভাবে ছাপা, সেভাবে রাখা হয়েছে।
| সাল | বই | সম্পাদক / লেখক | প্রকাশক | পৃষ্ঠা |
|---|---|---|---|---|
| 1979 | উপজাতীয় রূপকথা লোক কাহিনী এবং কিংবদন্তী (প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ) | অশোক কুমার দেওয়ান; সহকারী সুগত চাকমা | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 80 |
| 1980 | রাধামন ধনপুদি (১ম খণ্ড) | সংগ্রহে জুভাপ্রদ, রাঙামাটি | মুরোল্যা লিটারেচার গ্রুপ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় | 32 |
| 1981 | রাধামন-ধনপুদি (২য় খণ্ড, ফুল পারা) | উপদেষ্টা সুগত চাকমা (ননাধন) | রাঙ্গামাটি ঈস্থেটিকস কাউন্সিল | 50 |
| 1981 | রাখাইন লোক কাহিনী | উ ক্য থিন | মিসেস লালাছেন, টেকপাড়া, কক্সবাজার | 104 |
| 1981 | গারো উপকথা | বিভা সাংমা; সম্পাদনা বিধি পিটার দাংগ | উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, বিরিশিরি | 81 |
| 1997 | উপজাতীয় গল্প সংকলন, খণ্ড তিন | এস. এ. প্রু; সহ-সম্পাদক মং নু চিং | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান | 52 |
| 1998 | উপজাতীয় গল্প সংকলন, খণ্ড চার | মং নু চিং; সহ-সম্পাদক উ চ নু | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান | 65 |
| 2000 | চাকমা রূপকাহিনী (পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ) | বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 153 |
| 2002 | আদিবাসী রূপকথা — এক (পঞ্চম মুদ্রণ 2010) | আ.ন.স. হাবীবুর রহমান ও কুমার প্রীতীশ বল | প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, ঢাকা | 46 |
| 2004 | উপজাতীয় রূপকথা, লোককাহিনী এবং কিংবদন্তী (২য় খণ্ড) | সুগত চাকমা | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 316 |
| 2004 | রাধামন-ধনপুদি | সুগত চাকমা | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 142 |
| 2005 | তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী | বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 85 |
| 2006 | ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা | নিরঞ্জন চাকমা ও রঘুনাথ সরকার | ত্রিপুরা বাণী প্রকাশনী, আগরতলা | 104 |
| 2009 | চাকমা গল্প (1978–2009) | মৃত্তিকা চাকমা; যুগ্মসম্পাদক সন্তোষ চাকমা | পুলক সাহিত্য সমিতি, রাঙামাটি | 161 |
| 2010 | উপজাতীয় রূপকথা লোককাহিনী এবং কিংবদন্তি (১ম খণ্ড) (দ্বিতীয় মুদ্রণ ও বর্ধিত সংস্করণ) | শুভ্র জ্যোতি চাকমা | উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 116 |
| 2011 | আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য | সালেক খোকন | ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা | 159 |
| 2012 | ত্রিপুরা লোককাহিনী | প্রভাংশু ত্রিপুরা | বলাকা প্রকাশন, চট্টগ্রাম | 164 |
| 2012 | ম্রো রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি | সিং ইয়ং ম্রো; সম্পাদনা শুভ্র জ্যোতি চাকমা | ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | 98 |
| — | পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌতিক ও রহস্য গল্প | রেকর্ডে নেই | রেকর্ডে নেই | — |
ছকের শেষ বইটির রেকর্ডে লেখক, প্রকাশক, সাল বা পৃষ্ঠাসংখ্যা — কিছুই দেওয়া নেই; শুধু শিরোনাম আছে। তাই এই পাতায় তার বিষয়ে আর কিছু বলা হয়নি।
প্রকাশকের দিক থেকে দেখলে ছবিটা স্পষ্ট। 19টির 8টি রাঙামাটির একই প্রতিষ্ঠানের — যার নাম 1979 সালে ছিল “উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট”, আর 2012 সালের বইয়ে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট”। বান্দরবানের একই নামের ইনস্টিটিউটের দুটি, বিরিশিরির কালচারাল একাডেমীর একটি। বাকিগুলো ছোট প্রকাশক, ছাত্রদের সাহিত্যগোষ্ঠী, একটি উন্নয়ন সংস্থা, আর সীমান্তের ওপারে আগরতলার একটি প্রকাশনী।
সবচেয়ে বেশি বইয়ে আছে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা লোককথা; ম্রো আর তঞ্চঙ্গ্যার আছে নিজস্ব একটি করে সংকলন; আর চাক, খুমী, খেয়াং ও বম লোককথা পাওয়া যায় মূলত যৌথ সংকলনে। রাখাইন ও গারো লোককথার একটি করে নিজস্ব বই আছে। নিচের ছকে কেবল সেই বইগুলো ধরা হয়েছে যেখানে সূচি, ভূমিকা বা রেকর্ডে জনগোষ্ঠীর নাম স্পষ্ট লেখা।
| জনগোষ্ঠী | নিজস্ব সংকলন | যৌথ সংকলনে যেখানে আছে |
|---|---|---|
| চাকমা | চাকমা রূপকাহিনী (1979/2000); রাধামন-ধনপুদির তিনটি সংস্করণ | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড (1979 ও 2010); ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (2006) |
| ত্রিপুরা | ত্রিপুরা লোককাহিনী (প্রভাংশু ত্রিপুরা, 2012) | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড; ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা; প্রশিকার আদিবাসী রূপকথা; বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| মারমা | — | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড; ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (“মগ” নামে); বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| তঞ্চঙ্গ্যা | তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী (2005) | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড (2010); প্রশিকার আদিবাসী রূপকথা; বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| ম্রো | ম্রো রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (2012) | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড (2010); বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| চাক | — | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড; বান্দরবান খণ্ড তিন |
| খুমী | — | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড; বান্দরবান খণ্ড তিন |
| খেয়াং | — | বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| বম | — | উপজাতীয় রূপকথা ১ম খণ্ড (“বোম কিংবদন্তী”); ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (ভূমিকায় “বংচের” নাম) |
| রাখাইন | রাখাইন লোক কাহিনী (1981) | বান্দরবান খণ্ড তিন ও চার |
| গারো | গারো উপকথা (1981) | প্রশিকার আদিবাসী রূপকথা |
| হালাম, কলই | — | ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা |
| মনিপুরী, খাসিয়া, সাঁওতাল | — | প্রশিকার আদিবাসী রূপকথা |
বান্দরবানের দুটি খণ্ডে জনগোষ্ঠীর নাম গল্পের পাশে নয়, লেখকের নামে আর গল্পের মাথায় ছাপা — যেমন “চাক রূপকথা/লোককাহিনী”, “ম্রো রূপকথা/লোককাহিনী”। তাই ওই দুটি খণ্ডের সারি লেখকের পরিচয় ও গল্পের শিরোনাম-পাতা থেকে নেওয়া। ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথার ভূমিকা যে ছয়টি জনগোষ্ঠীর নাম দেয়, তা হুবহু: “ত্রিপুরী, চাকমা, মগ, হালাম, কলই ও বংচের”।
পাংখোয়া, লুসাই ও খিয়াং-এর নিজস্ব কোনো লোককথার সংকলন এই তাকে নেই। খুমীদের নিয়ে জাকের একটি বিশেষ সংকলন — লাঙ (2004) — লাইব্রেরিতে আছে সাময়িকী শ্রেণিতে; তার রেকর্ড অনুযায়ী তাতে খুমী “কিংবদন্তি ও রূপকথা” নিয়ে আলোচনা আছে।
ইনস্টিটিউটের নিজের বই অনুযায়ী প্রথম লোককথার বই বেরোয় 1979 সালে, প্রতিষ্ঠার পরের বছর — উপজাতীয় রূপকথার প্রথম খণ্ড আর চাকমা রূপকাহিনী। এরপর 1999-এ ত্রিপুরা রূপকথা, 2004-এ দ্বিতীয় খণ্ড, 2005-এ তঞ্চঙ্গ্যা সংকলন, প্রথম খণ্ডের বর্ধিত পুনর্মুদ্রণ, আর 2012-এ ম্রো রূপকথা।
এই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে পূর্ণ বিবরণ আছে ম্রো রূপকথার “প্রসঙ্গ কথা”-য়। সেখানে লেখা, ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরের বছর অর্থাৎ 1979 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল “উপজাতীয় রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (১ম খণ্ড)” এবং “চাকমা রূপকাহিনী”। তারপর তালিকায় এসেছে “ত্রিপুরা রূপকথা (১৯৯৯)”, “তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (২০০৫)” এবং “উপজাতীয় রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (২০০৪, ২য় খণ্ড)”।
প্রতিষ্ঠার সাল নিয়ে উৎসে অমিল আছে। প্রথম খণ্ডের 2010 সালের পুনর্মুদ্রণের ভূমিকা ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের 2023 সালের প্রতিবেদন বলছে 1978; বাংলাপিডিয়ার রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ভুক্তি প্রতিষ্ঠানটির পাশে লিখেছে 1976।
বিডিনিউজের প্রতিবেদনটি জানায়, লেখক আব্দুল সাত্তারকে পরিচালক করে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা, আর এর কাজের তালিকায় প্রথমেই আছে “লোক সাহিত্যের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পুস্তক ও সাময়িকী প্রকাশ”। একই প্রতিবেদনের হিসাবে ইনস্টিটিউট পাহাড়ের জাতিসত্তাগুলোর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে “প্রায় শতাধিক বই” প্রকাশ করেছে, তবে “বই প্রকাশের সংখ্যা সম্প্রতি অনেকটাই কমে এসেছে”।
এই সংখ্যার পাশে রাখলে জুমজার্নালের লাইব্রেরিতে ইনস্টিটিউটের লোককথা-বিষয়ক বই আটটি — তার মধ্যে প্রথম খণ্ডের দুটি সংস্করণ আলাদা করে গোনা। ম্রো বইয়ের তালিকায় নাম থাকা পাঁচটির চারটি এখানে পড়া যায়; বাকি একটি, 1999 সালের “ত্রিপুরা রূপকথা”, লাইব্রেরিতে নেই।
প্রতিষ্ঠানের নাম বদলেরও একটি চিহ্ন এই বইগুলোতে থেকে গেছে। 2005 পর্যন্ত বইয়ে প্রকাশক “উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট”; 2012 সালের ম্রো বইয়ে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট”। অথচ 2010 সালের পুনর্মুদ্রণেও পুরোনো নামটিই ছাপা।
1979 সালের প্রথম সংস্করণে ছিল ছয়টি জনগোষ্ঠীর ছয়টি রচনা; 2010 সালের “দ্বিতীয় মুদ্রণ ও বর্ধিত সংস্করণে” সেই ছয়টির সঙ্গে আরও সাতটি যোগ হয়ে মোট তেরোটি। লাইব্রেরিতে দুটি সংস্করণই আলাদা বই হিসেবে আছে, তাই পাশাপাশি মিলিয়ে দেখা যায়।
1979 সালের সংস্করণের আখ্যাপত্রে সম্পাদনায় অশোক কুমার দেওয়ান, সহকারী সুগত চাকমা। এর ছয়টি রচনা, সূচিপত্রের ক্রমে:
| সূচির শিরোনাম | রচনা | লেখক |
|---|---|---|
| চাকমা পৌরাণিক কাহিনী | লক্ষ্মী পালা | সুগত চাকমা |
| মারমা রূপকাহিনী | মনরি মাঁসুমি | উস্যাংম্রা চৌধুরী |
| চাক রূপকাহিনী | আউক পধুং মাং | মং মং চাক |
| খুমি কিংবদন্তী | ভোগা কাইন | বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা |
| বোম কিংবদন্তী | ভোগা কাইন | এস. এ. প্রু |
| ত্রিপুরা রূপকাহিনী | থাইওয়ান | মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা |
একটি বিষয় সূচিতেই চোখে পড়ে: খুমি ও বোম — দুটি জনগোষ্ঠীর কিংবদন্তির শিরোনাম একই, “ভোগা কাইন”, কিন্তু লেখক আলাদা। দুটি একই কাহিনি কি না, সূচি থেকে বলা যায় না।
2010 সালের সংস্করণটির মুদ্রণ-পাতায় লেখা: প্রথম সংস্করণ সেপ্টেম্বর 1979, দ্বিতীয় মুদ্রণ ও বর্ধিত সংস্করণ 2010; সম্পাদক শুভ্র জ্যোতি চাকমা, রিসার্চ অফিসার; প্রচ্ছদ প্রথম সংস্করণেরটাই, অঙ্কনে পিয়ার মোহাম্মদ; মূল্য 100 টাকা।
এর “পুনঃ মুদ্রণ প্রসঙ্গে দু’টি কথা” অংশে ইনস্টিটিউটের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা জানিয়েছেন, প্রথম সংস্করণের সব কপি “বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে”, আর এবার ইনস্টিটিউটের অন্যান্য সংকলন থেকে “বেশ কয়েকটি লেখা” বেছে যুক্ত করা হয়েছে, সঙ্গে বানানরীতিও বদলানো হয়েছে। প্রথম সংস্করণের সম্পাদক অশোক কুমার দেওয়ান ততদিনে প্রয়াত — সে কথাও সেখানে আছে।
নতুন সাতটি রচনা:
| সূচির শিরোনাম | রচনা | লেখক |
|---|---|---|
| চাকমা রূপকথা | কুম্বলেনী | কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা |
| চাকমা রূপকথা | টুনটুনি আর হুলো বিড়াল | বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান |
| বম রূপকথা | রালনাম ও ভমরীল | জিরকুং সাহ্ |
| তঞ্চঙ্গ্যা লোককাহিনী | ঈনন্দ বিনন্দ | লগ্ন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা |
| একটি রূপকথা | চংরাহয় নু মেনরাহয় নু | (লেখকের নাম নেই) |
| ম্রো লোককাহিনী | কারমাঙ পাহাড়ে তিন শিকারি | সিং ইয়ং ম্রো |
| ত্রিপুরা লোককাহিনী | গোমতীর উপাখ্যান | প্রভাংশু ত্রিপুরা |
তালিকার শেষ রচনাটি — “গোমতীর উপাখ্যান”, প্রভাংশু ত্রিপুরা — 2012 সালে প্রকাশিত প্রভাংশু ত্রিপুরার নিজের বইয়েরও প্রথম গল্প। আর “একটি রূপকথা” শিরোনামের রচনাটিতে কোনো জনগোষ্ঠী বা লেখকের নাম সূচিতে নেই।
রেকর্ডে প্রথম সংস্করণটির শিরোনাম লেখা “উপজাতীয় রূপকথার লোককাহীনি এবং কিংবদন্তী”; প্রচ্ছদে ছাপা “উপজাতীয় রূপকথা লোক কাহিনী এবং কিংবদন্তী”। খুঁজতে গিয়ে দুটো রূপই কাজে লাগতে পারে।
দ্বিতীয় খণ্ডটি লাইব্রেরির এই তাকের সবচেয়ে বড় বই — 316 পৃষ্ঠা, 14টি রচনা। সম্পাদক সুগত চাকমা, প্রকাশ 2004, রাঙামাটি। প্রথম খণ্ডের মতো এখানে সূচিতে জনগোষ্ঠীর নাম নেই, আছে শুধু রচনা আর লেখকের নাম।
| # | রচনা | লেখক |
|---|---|---|
| 1 | পাগলা রাজার কাহিনী | সুগত চাকমা |
| 2 | রাজপুত্র ও মন্ত্রীপুত্র | অনুপমা রোয়াজা |
| 3 | দুলু কুমারী | রীনা দেওয়ান |
| 4 | জোংথে | বিলথন বম |
| 5 | টিয়া কাহিনী | অংথ্যাইছা চাক |
| 6 | বার্গী পজ্ঝন্ | বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান |
| 7 | কলাবতী কন্যা | শোভা ত্রিপুরা |
| 8 | লিকচেঙব্রে | শ্যান থোয়াই |
| 9 | রাজকুমারী ও শ্বেতহস্তী | সুরজিৎ নারায়ণ ত্রিপুরা |
| 10 | লাংগ্যা ও লাঙোনী পালা | বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান |
| 11 | মুলঝি কন্যা | সুগত চাকমা |
| 12 | কেচকুমারী কন্যা | সুগত চাকমা |
| 13 | কলাথুর কন্যা | বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা |
| 14 | ও ভেইধন পেইক | কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা |
প্রথম রচনাটির শিরোনাম-পাতায় মাথার উপরে “চাকমা কিংবদন্তী” লেখা আছে; বাকি রচনাগুলোর জনগোষ্ঠী এই পাতায় সূচি থেকে আলাদা করে ধরা হয়নি, কারণ সূচি তা বলে না।
দুটি রচনার শিরোনামে “পালা” শব্দটি আছে — বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের “লাংগ্যা ও লাঙোনী পালা”, আর প্রথম খণ্ডের সুগত চাকমার “লক্ষ্মী পালা”। চাকমা পালা ও গেংখুলি পরিবেশনা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে: গেংখুলি: চাকমা চারণ কবি ও তাঁদের পরিবেশনা।
তেরো নম্বরের “কলাথুর কন্যা” (বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা) নামটি পরের বছরের তঞ্চঙ্গ্যা সংকলনের প্রথম গল্পেও আছে। একই কাহিনির কয়েকটি ছাপা রূপ পাশাপাশি রেখে তুলনা আছে কলাত্থুর কন্যা: তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথার তিনটি রূপ লেখায়।
চাকমা রূপকাহিনী বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের লেখা। প্রথম সংস্করণ 1979 সালে, তাতে ছিল পাঁচটি রূপকথা; লাইব্রেরিতে রাখা পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (রাঙামাটি, 2000) — তার সূচিতে এগারোটি ভুক্তি। প্রকাশক উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, প্রচ্ছদ ও অলংকরণ দয়াল মোহন চাকমা, মূল্য 110 টাকা।
বইয়ের “মুখবন্ধে” ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুপ্রিয় তালুকদার লিখেছেন, “প্রয়াত বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের” পাঁচটি রূপকথার বইটি 1979 সালে বেরিয়েছিল, সব কপি বিক্রি হয়ে যায়, আর এবার লেখকের “আরও কয়েকটি রূপকথার গল্প” ও কিছু ছবি যোগ করে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হলো।
সূচিপত্রের এগারোটি ভুক্তি: ছুরন্যা ছুরনী · টুনটুনি আর কুণোব্যাঙ · বুড়োবুড়ি আর বাঁদরের দল · রোংঙ্যাবেঙার তামাক খাওয়া · টুনটুনি আর হুমোবেড়াল · শেয়ালের নাকানি · বনবিলাস (প্রথম পর্ব) · বনবিলাস (দ্বিতীয় পর্ব) · ছিপি আঁটা পন্ডিত · ধ’বি আর ক’বি · অমগদ চাকমা। “বনবিলাস” দুই পর্বে, তাই গল্প দশটি।
এই বইয়ের নাম আর্কাইভের তিনটি চাকমা গল্পের শেষ লাইনে উৎস হিসেবে আছে: “বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ান, চাকমা রুপকাহিনী – ২০০০ ইং, রাঙামাত্যা”। সেই হিসাব আর আর্কাইভের চাকমা গল্পগুলোর পূর্ণ তালিকা আছে চাকমা রূপকথা ও লোককথা: আর্কাইভের দশটি গল্পের সূচি-তে।
প্রথম খণ্ডের 2010 সংস্করণে বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের “টুনটুনি আর হুলো বিড়াল” আছে, আর এই বইয়ে “টুনটুনি আর হুমোবেড়াল”। শিরোনাম কাছাকাছি; দুটি একই রচনা কি না, পাঠ মিলিয়ে দেখা হয়নি।
তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার সংগ্রহ, প্রথম প্রকাশ 2005, রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা থেকে। এর সূচিপত্র তিনটি ভাগে সাজানো — রূপকথা, লোককাহিনী, কিংবদন্তী — আর শেষে আলাদা একটি অংশ।
| ভাগ | রচনা |
|---|---|
| রূপকথা | কলাথুর কন্যা · বাঘ ও শূকরের মিতালী · তেন্দেরার পচ্ছন · দুলুকুড়ী |
| লোক কাহিনী | বন মানুষের সঙ্গে বসবাস · লাংগেই ডর |
| কিংবদন্তী | ধন্ধ কামাহ · বগা কাইন |
| আলাদা অংশ | কয়েকটি ভূতে পাওয়ার কাহিনী |
রেকর্ডের সারাংশ অনুযায়ী লেখক ভূমিকায় জানিয়েছেন, কাহিনিগুলো রাঙামাটির আশপাশের তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছ থেকে সংগৃহীত, আগে কখনো গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি, আর বেশ কয়েকটি তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথার সঙ্গে চাকমা রূপকথার মিল আছে। প্রচ্ছদ ও ছবি অলংকরণে দয়াল মোহন চাকমা।
এই সংকলনের প্রথম তিনটি রূপকথা আর্কাইভে আলাদা পোস্ট হিসেবে আছে। এর মধ্যে “বাঘ ও শূকরের মিতালী” নিয়ে আছে একটি তুলনামূলক লেখা — বাঘ ও শূকরের মিতালি: একই গল্প তিন ভাষায়।
কিংবদন্তী ভাগের “বগা কাইন” শিরোনামটি 1979 সালের প্রথম খণ্ডের খুমি ও বোম কিংবদন্তি “ভোগা কাইন”-এর কাছাকাছি। তিনটির সম্পর্ক কোনো পঠিত উৎসে আলোচনা করা হয়নি।
বইটির প্রকাশক নিজেই সেই দাবি করেছেন, তবে সতর্কভাবে: “সম্ভবত ম্রো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এটিই প্রথম বই।” বইটিতে ম্রো জনগোষ্ঠীর 23টি রূপকথা, লোককাহিনি ও কিংবদন্তি আছে, সংগ্রহ করেছেন সিং ইয়ং ম্রো।
মুদ্রণ-পাতা অনুযায়ী প্রকাশকাল 2012 খ্রিস্টাব্দ, সম্পাদনায় শুভ্র জ্যোতি চাকমা (রিসার্চ অফিসার), প্রচ্ছদ দয়াল মোহন চাকমা, মূল্য 120 টাকা। “প্রসঙ্গ কথা”-য় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা ও শুভ্র জ্যোতি চাকমা লিখেছেন, সিং ইয়ং ম্রো জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে কাহিনিগুলো “তার পান্ডুলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন”, আর তিনি “দীর্ঘ সময় ধরে” এ ধরনের লোকসাহিত্য সংরক্ষণের কাজ করছেন।
একই অংশে একটি স্বীকারোক্তিও আছে: ম্রোদের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা না থাকায় “আমরা তাদের সম্পর্কে তেমন অবগত নই”। বইটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কর্মসূচির অধীনে মুদ্রিত হয়েছিল, সেটিও সেখানে লেখা।
সূচির 23টি রচনার বেশিরভাগের নাম ম্রো ভাষায়, বন্ধনীতে বাংলা অর্থ — যেমন “উদমা ম্লা (ইঁদুর সুন্দরী)”, “ক্রংথপ সাংচিয়া (পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনী)”, “চাফির সাংচিয়া (যমজ ভাইয়ের গল্প)”। কয়েকটির বাংলা অর্থ দেওয়া নেই: সুমতুক সাংচিয়া, সাদুকে, সংক্রুক ও সংলেং, ওয়ালাং ওয়া, বকত্রক সাংচিয়া, কেদ্রেক মাংসা।
এর অন্তত চারটি গল্প — তাকুই হন তালিপ, ক্রংথপ সাংচিয়া, রবখার সাংচিয়া ও চাফির সাংচিয়া — আর্কাইভে আলাদা পোস্ট হিসেবে আছে। ম্রো গল্পের নাম ও ভাষা নিয়ে বিস্তারিত আছে ম্রো রূপকথার সাংচিয়া লেখায়।
সংগ্রাহকের নাম বিভিন্ন বইয়ে বিভিন্ন বানানে ছাপা: এই বইয়ে “সিং ইয়ং ম্রো”, বান্দরবানের খণ্ড তিন ও চারে “সিং ইয়ং মুরুং”। প্রথম খণ্ডের 2010 সংস্করণে তাঁর নামে একটি ম্রো লোককাহিনী — “কারমাঙ পাহাড়ে তিন শিকারি” — আছে, যা এই বইয়ের সূচিতে ওই নামে নেই।
বান্দরবানের উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট “উপজাতীয় গল্প সংকলন” নামে খণ্ডে খণ্ডে একটি ধারাবাহিক বের করত। লাইব্রেরিতে আছে খণ্ড তিন (বৈশাখ 1404 / এপ্রিল 1997, 18টি গল্প) ও খণ্ড চার (বৈশাখ 1405 / এপ্রিল 1998, 16টি গল্প)। গল্পগুলো চাক, ম্রো, খুমী, তঞ্চঙ্গ্যা, খেয়াং, বম, ত্রিপুরা, রাখাইন ও মারমা লেখকদের।
দুটি খণ্ডেই সূচির একটি বিশেষ গড়ন আছে: বাঁ দিকে লেখকের নাম, ডান দিকে গল্প। খণ্ড তিনের 18টি ভুক্তি:
| লেখক | গল্প |
|---|---|
| চাই ছা অং চাক | চাকদের ‘য়োছা’ কাহিনী |
| পাই থুই চাক | শরিমনবিকমননাং |
| সিং ইয়ং মুরুং | পাক হন প্রি |
| তুমপিয় ম্রো | পুর ক্লাংওয়া সাংচিয়া |
| লোনাং খুমী | তাআই হই চিংল্যাই |
| প্রেমি খুমী | আমুয়ু হই অমনন |
| রবিন তঞ্চঙ্গ্যা | বোকা বুড়োর গল্প |
| চিং হ্লা উ খেয়াং | উহাম চ খুই |
| অনুপম খিয়াং | প্রেইঙ্যামঃ লা কোঃমঃ |
| চেই থোয়াই প্রু খেয়াং | চোংক্লং পোচোং থুম খুই |
| জির কুং সাহু | উসুরের গল্প |
| সত্যহা পানজি | নির্বোধের কাহিনী |
| শোভা ত্রিপুরা | নাডেং ডেং |
| উ খ্যাই রাখাইন | পইংঞাসি ক্ষঙবো |
| উ শৈ সিং | অজগর সাপের গল্প |
| মং চাই শৈ ম্যা | অনুতপ্ত কৃষক |
| টহ-ওয়ে | লজ্জাবতী গাছের গল্প |
| চাই সুই হ্লা | ন ক নিং |
রেকর্ডের সারাংশ অনুযায়ী খণ্ড তিনের প্রথম গল্প “চাকদের ‘য়োছা’ কাহিনী”-তে বার্মার শাক্কোংদং থেকে চাকদের চলে আসার কাহিনি বলা হয়েছে।
খণ্ড চারের 16টি গল্পের লেখক: লগ্ন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, রবিন তঞ্চঙ্গ্যা, চিং সা উ খেয়াং, ক্য সা মং খেয়াং, শোভা ত্রিপুরা, চামপয় ম্রো, তুমপিয় ম্রো, সিং ইয়ং মুরুং, উ খ্যাই রাখাইন, রূপশ্রী নেওয়ার মণি, মা উ চিং, মং সিং ঞো, টহ্-ওয়ে, পুলু প্রু, চাই সুই হ্লা ও মং ক্য শোয়ে নু। পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মং নু চিং ভূমিকায় লিখেছেন, এখানে “বিভিন্ন উপজাতির ষোলটি রূপকথা বা লোককাহিনী” আছে, আর একই গল্প বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে “ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রসার পেয়েছে” — যার কারণ হিসেবে তিনি এগারোটি জনগোষ্ঠীর একত্র বসবাসের কথা বলেছেন।
দুই খণ্ড মিলিয়ে দেখলে একটি গল্প দুবার ছাপা: চাই সুই হ্লা-র “ন ক নিং” খণ্ড তিন ও খণ্ড চার দুটির সূচিতেই আছে।

দুটি খণ্ডেই একটি পাতা জুড়ে “গল্প আহ্বান” ছাপা, আর তার শর্তগুলো জানায় গল্পগুলো কীভাবে জোগাড় হতো। পরের খণ্ডের জন্য “উপজাতীয় রূপকথা/লোককাহিনী/কিংবদন্তী ভিত্তিক গল্প” চাওয়া হয়েছে; বান্দরবান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের গল্প অগ্রাধিকার পাবে; সাদা কাগজে স্পষ্ট হস্তাক্ষরে বা টাইপ করে পাঠাতে হবে।
আরও তিনটি শর্ত সংকলনের চরিত্র বোঝায়: “মৌলিক ও অপ্রকাশিত গল্পই প্রকাশ করা হবে”, “বিদ্রূপাত্মক/বিরোধমূলক/বিতর্কিত গল্প প্রকাশ করা হবে না”, আর মনোনয়নে ইনস্টিটিউটের প্রকাশনা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অর্থাৎ সংকলনটি মাঠে গিয়ে সংগ্রহ নয় — পাঠকের পাঠানো লেখা থেকে বাছাই।
লাইব্রেরিতে খণ্ড এক ও দুই নেই। আর্কাইভে এই দুই খণ্ডের অনেকগুলো গল্প আলাদা পোস্ট হিসেবে আছে; কোনগুলো, তা নিচের “আর্কাইভের কোন গল্প কোন বইয়ের সূচিতে মেলে” অংশে।
ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে প্রকাশিত একটি সংকলন, সম্পাদনা নিরঞ্জন চাকমা ও রঘুনাথ সরকার। এতে 16টি লোককথা আর শেষে “শব্দার্থ ও টীকা”। ভূমিকা অনুযায়ী গল্পগুলো ত্রিপুরী, চাকমা, মগ, হালাম, কলই ও বংচের আদিবাসীদের।
মুদ্রণ-পাতা: প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি 2006; প্রচ্ছদ স্বপন নন্দী; প্রকাশক সতীনাথ সরকার, ত্রিপুরা বাণী প্রকাশনী, দত্ত সুপার মার্কেট, শকুন্তলা রোড, আগরতলা; ISBN 81-88997-11-0; মুদ্রণ কলকাতায়; মূল্য 75 টাকা। ইংরেজি উপশিরোনাম: “A Collection of tribal folktales of Tripura”।
ভূমিকায় সম্পাদকেরা (আগরতলা, ১লা ফেব্রুয়ারি 2006) দুটি গল্পের কথা আলাদা করে বলেছেন: ত্রিপুরী লোককথা “চাঁদের ছেলে সোনাব্যাঙ” ও কলই লোককথা “দুষ্টু বানর” — এ দুটি “ইতিপূর্বে কোন সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি”। তাঁরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেই সংগ্রাহক ও গবেষকদের, যাঁরা নিজেদের সংগৃহীত লোককথা এই সংকলনে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। বইটি উৎসর্গ করা “আদিবাসী লোককথা কথকদের উদ্দেশ্যে”।
সূচির 16টি গল্প ও তাদের লেখক:
| # | গল্প | লেখক |
|---|---|---|
| 1 | সৃষ্টির আদিকথা ও জুমচাষ প্রচলনের কাহিনী | নিরঞ্জন চাকমা |
| 2 | চাঁদের ছেলে সোনাব্যাং | অরুন্ধতী রায় |
| 3 | লাংগাই রাজা | রবীন্দ্র কিশোর দেববর্মা |
| 4 | সাদা টিয়াপাখির দেশ | ক্রাইরী মগচৌধুরী |
| 5 | চিনার কন্যা | সমর চক্রবর্তী |
| 6 | রোসাঙ রাজা ও এক শিল্পীর কাহিনী | রবীন্দ্র কুমার দত্ত |
| 7 | ম্যাজিক কৌটো | রমেন্দ্র নারায়ণ সেন |
| 8 | দুষ্টু বানর | অরুন্ধতী রায় |
| 9 | চিংড়ির সাজা | সুনীল দেববর্মা |
| 10 | সাদা কাক কালো হল কেন | নিরঞ্জন চাকমা |
| 11 | পাখীদের চিকিৎসক কোকিল | ক্রাইরী মগচৌধুরী |
| 12 | শিয়ালনীর উপস্থিত বুদ্ধি | নিরঞ্জন চাকমা |
| 13 | বাঘ ও শামুকের দৌড় প্রতিযোগীতা | নিরঞ্জন চাকমা |
| 14 | দশ ক্ষুধে মুরগী ছানার প্রতিশোধ | নিরঞ্জন চাকমা |
| 15 | ভাই পাখি | রমেন্দ্র নারায়ণ সেন |
| 16 | মিষ্টি বাঁশির সুর | রমেন্দ্র নারায়ণ সেন |
এই বইটি আর্কাইভের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সূচির 16টি গল্পের 15টির শিরোনাম জুমজার্নাল আর্কাইভের পোস্টে আছে — বাদ শুধু “ভাই পাখি”; আর “চাঁদের ছেলে সোনাব্যাং” আর্কাইভে আছে “সোনাব্যাঙ” বানানে। ওই 15টি পোস্টের প্রতিটির শেষে উৎস হিসেবে এই বইয়ের নামই লেখা — 14টিতে “ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা”, একটিতে “ত্রিপুরা আদিবাসী লোককথা”। বইয়ের প্রচ্ছদ ও আখ্যাপত্রে ছাপা নামটি “ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা”।
আর্কাইভের পোস্টগুলোতে এই গল্পগুলোর জনগোষ্ঠী যেভাবে বসানো, আর সংগ্রাহকদের নামের হিসাব, আছে পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন লেখায়। সেখানে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, এই বই আর “ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী” একই বই কি না। লাইব্রেরির বইটির প্রচ্ছদ অন্তত দেখায়, “ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা” নামে একটি আলাদা ছাপা বই সত্যিই আছে; দ্বিতীয় নামের কোনো বই লাইব্রেরিতে নেই।
একটি সতর্কতা: ইবুক লাইব্রেরির রেকর্ডে বইটির শিরোনাম লেখা “ত্রিপুরা আদিবাসী লোককথা” — “ত্রিপুরার” নয়। লাইব্রেরিতে খুঁজলে দুটো বানানই কাজে লাগতে পারে।
ত্রিপুরা ও মারমা মৌখিক সাহিত্যের ধরন — গীতিকাব্য, লোকগান, পালা, প্রবাদ — নিয়ে আলাদা লেখা আছে ত্রিপুরা ও মারমা মৌখিক সাহিত্য; এখানে সেগুলো আর বলা হলো না।
ত্রিপুরা লোককাহিনী প্রভাংশু ত্রিপুরার লেখা, বলাকা প্রকাশন, চট্টগ্রাম থেকে ফেব্রুয়ারি বইমেলা 2012-তে প্রকাশিত। সূচিতে 27টি কাহিনি — প্রথমটি “গোমতীর উপাখ্যান”, শেষটি “ছাতিম গাছ”। এখানে গল্পগুলো একজন লেখকের নিজের শোনা ও লেখা, কোনো সংকলন-সম্পাদনা নয়।
ভূমিকাটি লেখা খাগড়াপুর, খাগড়াছড়ি থেকে, ফেব্রুয়ারি 2012-তে। লেখক বলেছেন, ত্রিপুরা জনজীবনে প্রচলিত কিছু লোককাহিনি তিনি “প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে যেভাবে জেনেছি ও শুনেছি সেভাবে” উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে উপযুক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অভাবে এসব কাহিনি “সবার অজান্তে হারিয়ে যাচ্ছে”।
একটি লক্ষণীয় দাবিও সেখানে আছে: বর্ণিত কাহিনিগুলোতে স্থান, কাল, পাত্রও উল্লেখিত, “যা কোন কোন ক্ষেত্রে ইতিহাসের তথ্য ও উপাত্তের উপাদান বলে বিবেচিতও হতে পারে”। এটি লেখকের নিজের মত; কাহিনিগুলোকে ইতিহাস হিসেবে পড়ার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো বাইরের মূল্যায়ন পঠিত উৎসে পাওয়া যায়নি।
সূচির 27টি শিরোনাম: গোমতীর উপাখ্যান · কামী মাইখুলুম উপাখ্যান · শ্বেত হস্তীর উপাখ্যান · অপূর্ব বিচার · সুখী রায় ও কুসুপ চান · কওয়াই কেন্দারায় · কলাবতী কন্যা · চোন্তাইয়ের চার আনা কামাই · কুনোব্যাঙের শাস্তি · ট্রং কুমারের কাণ্ড · পাঁজী শেয়ালের শাস্তি · ওয়াক্সা রাজা · জুয়াংফা · তিন মাথার কাহিনী · রাজা মেঘবর্ণের দান · নাউই · কর্মলেখা · দাবেং পণ্ডিতের আক্কেল সেলামী · পুণ্য ফল · মদ ও ভূতের কাহিনী · মুকুট কাহিনী · শক্তি পরীক্ষা · ঘুঘু পাখির বংশ বিস্তার কাহিনী · ভাগ্য পরীক্ষা · বীর জ্যোতিষী · ছাতিম গাছ।
বইটির প্রথম গল্প “গোমতীর উপাখ্যান” 2010 সালে রাঙামাটির উপজাতীয় রূপকথার প্রথম খণ্ডেও “ত্রিপুরা লোককাহিনী” হিসেবে প্রভাংশু ত্রিপুরার নামে ছাপা হয়েছিল। আর এই বইয়ের “কলাবতী কন্যা” নামটি দ্বিতীয় খণ্ডে শোভা ত্রিপুরার রচনারও শিরোনাম।
আর্কাইভের দুটি ত্রিপুরা গল্পে উৎস হিসেবে লেখা “মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, ত্রিপুরা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি, ২০১২ ইং”। লাইব্রেরির 2012 সালের বইটির নাম শুধু “ত্রিপুরা লোককাহিনী”, লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা। দুটি আলাদা বই, নাকি একই বইয়ের ভুল উদ্ধৃতি — তা জানা যায়নি। ত্রিপুরা সংগ্রহের বাকি তথ্য আছে ত্রিপুরা লোককাহিনী ও রূপকথা: আর্কাইভের 39টি গল্প-তে।
রাখাইন লোক কাহিনী উ ক্য থিনের লেখা একটি ছোট বই, প্রকাশিকা মিসেস লালাছেন, টেকপাড়া, কক্সবাজার; মুদ্রণ দি এলিট প্রেস, টেকপাড়া। মুদ্রণ-পাতায় “প্রথম সংস্করণ” আর হাতের লেখার মতো একটি তারিখ, যা “জুন-১৯৮১” পড়া যায়। ইবুক রেকর্ডে শুধু “প্রথম সংস্করণ” লেখা, সাল নেই।
সূচিতে শুরুতে একটি ভূমিকা-অধ্যায় “রাখাইন জাতির উৎপত্তি” (শূন্য নম্বর দিয়ে), তারপর 15টি কাহিনি: “ছেরামে জুখি” বাহুর ফল · গোদা হাতী · আফিম খোরের গল্প · কলাবাগান কুমারী · সোনালী হরিণ · বট বৃক্ষের দেবতা · শেয়াল পণ্ডিত · উড়ন্ত যুবক · রুমং পাগলা যুবক · বোকা নাপেয়াং থৈ · হিং সুটে রাজা · সাপ কুমার · শ্বেত বর্ণের হাতী · বড় কান ওয়ালা · মা কাহিম।
লেখকের ভূমিকা ছোট। তিনি লিখেছেন, এসব কাহিনি “স্মরণাতীত কাল হতেই বংশানুক্রমে মুখে মুখে” চলে আসছে, সাধারণত মা, নানী, দাদীরা ছোটদের ঘুম পাড়াতে বলতেন, আর গল্পগুলো তাঁর নিজের “মা, খালা ও নানীর মুখে শোনা”। তাঁর কথায়, এ ধরনের আরও অনেক গল্প প্রত্যন্ত অঞ্চলে “অসংগৃহীত অবস্থায়” ছড়িয়ে আছে।
লাইব্রেরির কপিটিতে একটি গ্রন্থাগারের সিল আছে, তাতে তারিখ 20/1/82; সিলের প্রতিষ্ঠানের নাম স্ক্যানে স্পষ্ট পড়া যায় না। আর্কাইভে প্রকাশিত চারটি রাখাইন গল্পের শিরোনাম এই বইয়ের সূচির সঙ্গে মেলে না। রাখাইন ও মারমার পার্থক্য নিয়ে আলাদা লেখা আছে: রাখাইন ও মারমা আলাদা জাতি।
গারো উপকথা এই তাকের একমাত্র বই যার সূচিপত্রে প্রতিটি গল্পের পাশে “যার কাছ থেকে পাওয়া গেছে” — অর্থাৎ কথকের নাম — ছাপা। লেখক বিভা সাংমা, সম্পাদনায় বিধি পিটার দাংগ, প্রকাশক উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, বিরিশিরি, ময়মনসিংহ; প্রথম সংস্করণ 1981। সূচিতে 23টি গল্প।

সূচির কথক-কলাম গুনলে 23টি গল্পের 15টি এসেছে একজনের কাছ থেকে — ধরণ সিং সাংমা। বাকিগুলো: দিংবাং মারাক রাকসাম (1), সাংগিন সাংমা (1), থথিম সাংমা নেংমিনজা (2), কণক ম্রং (1), বীণাপানি ম্রং (1), জিংনাং মারাক রাকসাম (1) ও কুকেন রেমা (1)।
বিভা সাংমার ভূমিকা জানায় গল্পগুলো কোথা থেকে এসেছে, আর তা একরকম নয়: “এই পুস্তকের কোন কোন গল্প সরাসরি লোকমুখ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কোনটি মিঃ দেওয়ান সিং রংমুথুর সংগৃহীত ও গারো ভাষায় লিখিত পুস্তক Apasong Agana ও মিঃ ধরণ সিং সাংমার Achik Golporang থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।” অর্থাৎ কিছু গল্প মুখের বয়ান, কিছু গারো ভাষার দুটি ছাপা বইয়ের অনুবাদ।
ভূমিকায় আরও বলা হয়েছে, কাহিনিগুলোর “মূলভাব বজায় রেখে অনুবাদ ও নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে”। কোন গল্পটি মুখ থেকে আর কোনটি বই থেকে — তা সূচিতে আলাদা করে দেখানো নেই।
দেওয়ান সিং রংমুথুর নামে ইংরেজিতে একটি সংকলনের গ্রন্থাগার-রেকর্ড পাওয়া যায় — The folk-tales of the Garos, compiled by Dewan Sing Rongmuthu, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা বিভাগ, 1960 (CiNii Books)। এটি আর ভূমিকায় উল্লিখিত “Apasong Agana” একই বই কি না, তা জানা যায়নি।
প্রকাশকের বিষয়ে: দ্য ডেইলি স্টারের 2004 সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী বিরিশিরির একাডেমিটি 1977 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, আর বিরিশিরি গারো, বানাই, কোচ ও হাজংদের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাগত কাজের কেন্দ্র।
আর্কাইভের গারো সংগ্রহে “কথক” শব্দসহ পাঁচটি গল্প আছে — সূর্য্য গ্রহণ, মিকখল, ক্ষেত পাহারা, নীরে-সিনজে ও মাৎছা-দু-মাৎছা-বেৎ। পাঁচটির শিরোনামই এই বইয়ের সূচির প্রথম পাঁচটির সঙ্গে মেলে, আর কথকের নামও। আর্কাইভে প্রথম কথকের নাম “দিংবান মারাক রাকসাম”, বইয়ের সূচিতে “দিংবাং মারাক রাকসাম”।
আদিবাসী রূপকথা — এক একটি রঙিন ছবির বই, সংকলন ও সম্পাদনা আ.ন.স. হাবীবুর রহমান ও কুমার প্রীতীশ বল, প্রকাশক প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, মিরপুর, ঢাকা। প্রথম প্রকাশ আগস্ট 2002, লাইব্রেরির কপিটি পঞ্চম মুদ্রণ, ডিসেম্বর 2010। ছয়টি জনগোষ্ঠীর প্রতিটির জন্য একটি পরিচিতি, উৎসবের বর্ণনা আর একটি রূপকথা।
সূচির ক্রমে জনগোষ্ঠী ও গল্প: সাঁওতাল — ভাইয়ের জন্য উপহার; ত্রিপুরা — নিয়তির পরিহাস; মনিপুরী — মিথ্যা বলার পরিণাম; তঞ্চঙ্গ্যা — সুন্দরী কলাথোর কন্যা; গারো — মানুষের বন্ধু বেজি; খাসিয়া — কুকুর ভক্ত মনিব।
“প্রসঙ্গ কথা” বলছে, “আদিবাসী রূপকথা” দুই খণ্ডের বই; প্রথম খণ্ডে এই ছয় জাতিসত্তা, আর দ্বিতীয় বইয়ে “আরও কয়েকটি জাতিসত্তার পরিচয়, উৎসব এবং রূপকথা”। লাইব্রেরিতে শুধু প্রথম খণ্ডটি আছে। একই অংশে লেখা, “রূপকথা সংগ্রহকারীদের নাম যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে”।
সংগ্রহে সহযোগিতার জন্য যাঁদের নাম আছে, তার মধ্যে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের (জাক) কর্মকর্তা মৃত্তিকা চাকমা, ঝিমিত ঝিমিত চাকমা, শিশির চাকমা ও মানস মুকুর চাকমা। আর তথ্য নেওয়া হয়েছে সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সুগত চাকমা, সুভাষ জেংচাম, আখতার উদ্দীন মানিক ও এ. কে. শেচানের লেখা গ্রন্থ থেকে।
ছয়টি গল্পের শিরোনামই আর্কাইভে আলাদা পোস্ট হিসেবে আছে, একই জনগোষ্ঠীর নামে। তার পাঁচটিতে বর্ণনাকারীর নাম “কর্তৃক বর্ণিত” শব্দে লেখা — যা প্রসঙ্গ কথার ওই বাক্যের সঙ্গে মেলে।
তিনটি। 1980 সালে ঢাকার একটি ছাত্র-সাহিত্যগোষ্ঠীর প্রথম খণ্ড, 1981 সালে রাঙামাটির একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের দ্বিতীয় খণ্ড “ফুল পারা”, আর 2004 সালে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ। পালাটির কাহিনি, তার ভিন্ন পাঠ ও গেংখুলি পরম্পরা নিয়ে মূল লেখা গেংখুলি ও রাধামন-ধনপুদি: চাকমা মৌখিক সাহিত্যের পাঠ।
1980 সালের খণ্ডটির মুদ্রণ-পাতায় প্রকাশক “MURALLYA LIT. GROUP, 312/B, AL-Beruni Hall, Jahangirnagar University, SAVAR, Dacca”, প্রকাশকাল জুন ’80, ক্রমিক “MLG-4″। সংগ্রহে লেখা “জুভাপ্রদ (জুমিয়া ভাষা প্রচার দপ্তর), রাঙামাটি”, পরিবেশনায় রাঙামাটি প্রকাশনী, মূল্য তিন টাকা।
1981 সালের দ্বিতীয় খণ্ডের আখ্যাপত্রে “রাধামন-ধনপুদি / RADHAMAN-DHANPUDI / (ফুল পারা—FULPARA) / ২য় খণ্ড—Second Part”, প্রকাশক “রাঙ্গামাটি ঈস্থেটিকস কাউন্সিল / RANGAMATI AESTHETICS COUNCIL”। প্রকাশকাল জুলাই 1981; উপদেষ্টা সুগত চাকমা (ননাধন); সহযোগিতায় সুহৃদ চাকমা ও শিশির কান্তি চাকমা; মূল্য পাঁচ টাকা।
ইবুক রেকর্ডে এই খণ্ডের উপশিরোনাম লেখা “ফুল পাত্থা” আর প্রকাশকের নাম “ঐস্থেটিকস”; আখ্যাপত্রে ছাপা “ফুল পারা” ও “ঈস্থেটিকস”।
2004 সালের সংস্করণটির সম্পাদক সুগত চাকমা, তখন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক; সহযোগী সম্পাদক চিরজ্যোতি চাকমা ও সুসময় চাকমা। ইংরেজি পরিচয়ে লেখা: “A Chakma ballad regarding a romantic couple Radhamon and Dhonpudi”। মূল্য 100 টাকা।
2004 সংস্করণের সূচি দেখায় পালাটি কত ভাগে ছাপা: রাধামন-ধনপুদি কাহিনী, ব্যালাডে চাকমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক কিছু উপাদান, তারপর জুমকাবা · বাগী ধরা · ঘিলা পারা · ঘিলা খারা · বিঝু দিন’ কধা · লুই ছাগা · ফুল পারা · রাধামন-ধনপুদি মেলা · সাপ্রেকুল। 1981 সালের দ্বিতীয় খণ্ডের নাম “ফুল পারা” এই সূচিরও একটি অংশের নাম।
“লোককাহিনী ও রূপকথা” তাকের দুটি বই লোককথার সংকলন নয়, আর একটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়। পাঠকের সময় বাঁচাতে এগুলো আলাদা করে বলা দরকার।
চাকমা গল্প (1978 হতে 2009 ইং পর্যন্ত প্রকাশিত) আধুনিক ছোটগল্পের সংকলন। সম্পাদক মৃত্তিকা চাকমা, যুগ্মসম্পাদক সন্তোষ চাকমা, প্রকাশক পুলক সাহিত্য সমিতি, বনরূপা, রাঙামাটি; প্রথম প্রকাশ 30 জুন 2009। “পূর্বভাষ” অনুযায়ী এতে “সাতাশজন গল্পকারের একত্রিশটি গল্প”, যার পাঁচটি অনুবাদ।
সংকলনটি শুরু হয়েছে 1978 সালের 10 আগস্ট ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত “নিজেনী” পত্রিকায় ছাপা সুহৃদ চাকমার “জিংকানি” দিয়ে, আর শেষ হয়েছে 2009 সালের একটি বিঝু সংকলনে প্রকাশিত দ্যানিস চাকমার “আগুস্যা” দিয়ে। পূর্বভাষের দাবি, সংকলনের সব গল্পই জাক-এর সংকলনে প্রকাশিত। বইটি উৎসর্গ করা সুহৃদ চাকমাকে।
পূর্বভাষে গল্পগুলোর বিষয়ও বলা আছে: শান্তিচুক্তির আগ পর্যন্ত গল্পে এসেছে “ভ্রাতৃঘাতী, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, উদ্বাস্তু সমস্যা, অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা”। অর্থাৎ এটি লোককথা নয় — নামধারী লেখকদের নিজস্ব সাহিত্য।
আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য (সালেক খোকন, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি 2011) মিথ ও লোকবিশ্বাস নিয়ে, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়। রেকর্ড অনুযায়ী এটি কড়া, সাঁওতাল, তুরি, ওরাও, মাহালী প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর মিথ, লোকবিশ্বাস, আচার ও জীবনযাপন নিয়ে লেখকের মাঠপর্যায়ের লেখার সংকলন।
তাকের বাইরে, অন্য শ্রেণিতে থাকা দুটি বইয়ে লোককথা-বিষয়ক অংশ আছে বলে রেকর্ড জানায়। লাঙ — খুমী বিষয়ক বিশেষ সংকলন (জুম ঈস্থেটিকস কাউন্সিল, এপ্রিল 2004, সম্পাদক শান্তিময় চাকমা) — তাতে খুমীদের কিংবদন্তি ও রূপকথা নিয়ে আলোচনা। আর আদিবাসী সংস্কৃতি (সম্পাদক মুস্তাফা মজিদ, মাওলা ব্রাদার্স, 2009) — চৌদ্দটি জাতিসত্তার ধর্মাচার, পালা-পার্বণ ও উৎসব নিয়ে প্রবন্ধ-সংকলন।
জুমজার্নালের মূল সাইটে 2017 থেকে 2021 সালের মধ্যে প্রকাশিত রূপকথা ও লোককাহিনির পোস্টগুলোর অন্তত 60টির শিরোনাম লাইব্রেরির কোনো না কোনো বইয়ের সূচির সঙ্গে মেলে। সবচেয়ে বেশি মেলে বান্দরবানের দুটি খণ্ড আর আগরতলার সংকলনের সঙ্গে।
নিচের হিসাব শুধু শিরোনাম মিলিয়ে করা — বইয়ের সূচির শিরোনাম আর আর্কাইভ পোস্টের শিরোনাম পাশাপাশি রেখে। পোস্টগুলোর পাঠ বইয়ের পাঠের সঙ্গে শব্দে শব্দে মিলিয়ে দেখা হয়নি।
| বই | সূচিতে গল্প | আর্কাইভে একই শিরোনামের পোস্ট | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| উপজাতীয় গল্প সংকলন, খণ্ড তিন (1997) | 18 | 17 | শরিমনবিক মননাং, পাক হন প্রি, পইংঞাসি ক্ষঙবো, অনুতপ্ত কৃষক |
| উপজাতীয় গল্প সংকলন, খণ্ড চার (1998) | 16 | 14 | মানিক্যাব সিন্নী হানা, মিয়াঙ ক্যাগ্রি, সর্প মানব, সুহওয়েন্না সামাহ |
| ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা (2006) | 16 | 15 | সৃষ্টির আদিকথা ও জুমচাষ প্রচলনের কাহিনী, লাংগাই রাজা, দুষ্টু বানর |
| আদিবাসী রূপকথা — এক (প্রশিকা) | 6 | 6 | ভাইয়ের জন্য উপহার, কুকুর ভক্ত মনিব |
| গারো উপকথা (1981) | 23 | 5 | সূর্য্য গ্রহণ, মিকখল, নীরে-সিনজে |
| ম্রো রূপকথা (2012) | 23 | 4 | ক্রংথপ সাংচিয়া, চাফির সাংচিয়া |
| তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা (2005) | 9 | 3 | কলাত্থুর কন্যা, তেন্দেরার পচ্ছন |
| চাকমা রূপকাহিনী (2000) | 11 | 2 | অমগদ চাকমা; ধ’বি আর ক’বি (আর্কাইভে “হঅ্’বি আর ধঅ্’বি”) |
| রাখাইন লোক কাহিনী (1981) | 15 | 0 | — |
| ত্রিপুরা লোককাহিনী (প্রভাংশু, 2012) | 27 | 0 | — |
কয়েকটি গল্প দুই বইয়েই আছে, তাই সারিগুলোর যোগফল আর্কাইভ পোস্টের সংখ্যার চেয়ে বেশি। যেমন “ন ক নিং” বান্দরবানের দুই খণ্ডেই, আর “মিন হন কুই” ম্রো রূপকথায় ও খণ্ড চারে। আর্কাইভের কয়েকটি গল্প দুই বা তিনবার আলাদা পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোও একবারই গোনা।
এই মিল একটি পুরোনো ফাঁক অনেকটাই ভরায়। আর্কাইভের অনেক গল্পে উৎস-বইয়ের নাম নেই, কিংবা আছে শুধু শিরোনাম, প্রকাশক বা সাল ছাড়া। শিরোনাম মিলিয়ে এখন অন্তত বলা যায়, গল্পটি কোন ছাপা বইয়ের সূচিতে আছে — আর সেই বইটি লাইব্রেরিতে খুলে পড়া যায়।
আর্কাইভের 125টি গল্পের জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক পূর্ণ সূচি আছে পাহাড়ের রূপকথা ও লোককাহিনীর পূর্ণ সূচি-তে। মারমা গল্পগুলোর আলাদা তালিকা মারমা রূপকথার ভাণ্ডার-এ, আর খেয়াং, চাক, খুমী ও বম গল্পের তালিকা খেয়াং, চাক, খুমী, বম ও হালাম রূপকথা-য়।
লাইব্রেরির বইগুলোর ভূমিকা আর আর্কাইভের গল্পের উৎস-লাইন মিলিয়ে অন্তত দশটি লোককথা-বিষয়ক বইয়ের নাম পাওয়া যায়, যেগুলো জুমজার্নাল ইবুক লাইব্রেরিতে এখনো নেই।
| বই | কোথায় নাম পাওয়া যায় |
|---|---|
| ত্রিপুরা রূপকথা (1999), উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি | ম্রো রূপকথার “প্রসঙ্গ কথা” |
| উপজাতীয় গল্প সংকলন, খণ্ড এক ও দুই, বান্দরবান | খণ্ড তিন ও চারের নম্বর থেকে অনুমেয়; “গল্প আহ্বান”-এ ধারাবাহিকের উল্লেখ |
| আদিবাসী রূপকথা, দ্বিতীয় বই (প্রশিকা) | প্রথম খণ্ডের “প্রসঙ্গ কথা” |
| Apasong Agana — দেওয়ান সিং রংমুথু (গারো ভাষায়) | গারো উপকথার ভূমিকা |
| Achik Golporang — ধরণ সিং সাংমা (গারো ভাষায়) | গারো উপকথার ভূমিকা |
| ত্রিপুরা আদিবাসী লোককাহিনী | আর্কাইভের 13টি ত্রিপুরা গল্পের উৎস-লাইন |
| ত্রিপুরা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি (মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, 2012) | আর্কাইভের 2টি গল্পের উৎস-লাইন |
| লুঙ্সা গ্রামের লোককথা ও অন্যান্য | আর্কাইভের 2টি গল্পের উৎস-লাইন |
| সাওতাল রূপকথা ও সাওতাল লোককথা | আর্কাইভের 2টি সাঁওতাল গল্প |
| আদিবাসী রূপকথা — হামিদুল হোসেন তারেক, রোদেলা প্রকাশনী | আর্কাইভের 1টি গারো গল্প |
আর্কাইভের উৎস-লাইনগুলোর পূর্ণ হিসাব আছে পাহাড়ের লোককথা কে সংগ্রহ করেছিলেন লেখায়। কারও কাছে এই বইগুলোর কোনোটির কপি থাকলে, জুমজার্নাল ইবুক লাইব্রেরিতে যোগ করার জন্য পাঠাতে পারেন।
এই তাকের সবগুলো পিডিএফ ছাপা বইয়ের স্ক্যান বা ছবি — ভেতরের লেখা কম্পিউটারে লেখা টেক্সট নয়, পাতার ছবি। তাই পিডিএফের ভেতরে শব্দ খুঁজে (সার্চ করে) কোনো গল্প পাওয়া যায় না; সূচিপত্র দেখে পাতা উল্টাতে হয়।
দুটি বইয়ের (উপজাতীয় রূপকথার 2010 সংস্করণ ও দ্বিতীয় খণ্ড) পিডিএফে একটি লেখার স্তর আছে, কিন্তু তা ভুল অক্ষরে ভরা — খোঁজার কাজে লাগে না।
পৃষ্ঠার নম্বর নিয়েও একটি সতর্কতা। পিডিএফের পৃষ্ঠা আর ছাপা বইয়ের পৃষ্ঠা এক নয়, কারণ প্রচ্ছদ, আখ্যাপত্র ও ভূমিকার পাতাগুলো পিডিএফে গোনা হয়। যেমন চাকমা রূপকাহিনীর ছাপা 151 পৃষ্ঠা পিডিএফের 144 নম্বর পাতায়। কোনো গল্প উদ্ধৃত করলে ছাপা পৃষ্ঠার নম্বরই দেওয়া ভালো।
আর একটি কথা: বইগুলোর অনেক শব্দের বানান পুরোনো রীতির — “লোককাহিনী”, “কিংবদন্তী”, “উপকথা”। লাইব্রেরিতে খুঁজতে হলে নতুন বানানের (“লোককাহিনি”) পাশাপাশি পুরোনোটি দিয়েও খুঁজে দেখুন। পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জুমজার্নালের লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাতায়।
জুমজার্নাল ইবুক লাইব্রেরির “লোককাহিনী ও রূপকথা” তাকে 19টি বই আছে। তার 14টি রূপকথা, লোককাহিনি বা কিংবদন্তির সংকলন, তিনটি রাধামন-ধনপুদি পালার সংস্করণ (1980, 1981, 2004)। বাকি দুটির একটি আধুনিক চাকমা ছোটগল্পের সংকলন, আর একটির রেকর্ডে শিরোনাম ছাড়া কোনো তথ্য নেই।
লাইব্রেরিতে থাকা বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো রাঙামাটির উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের “উপজাতীয় রূপকথা লোক কাহিনী এবং কিংবদন্তী”, প্রথম খণ্ড, সেপ্টেম্বর 1979। এতে চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, বোম ও ত্রিপুরা — ছয় জনগোষ্ঠীর ছয়টি রচনা। একই বছর ইনস্টিটিউট বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের “চাকমা রূপকাহিনী”-ও প্রকাশ করে।
নিজস্ব সংকলন একটি: বঙ্কিম কৃষ্ণ দেওয়ানের “চাকমা রূপকাহিনী” — 1979 সালে পাঁচটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত, 2000 সালের পরিবর্ধিত সংস্করণে এগারোটি ভুক্তি। এ ছাড়া উপজাতীয় রূপকথার দুটি খণ্ডে ও আগরতলার “ত্রিপুরার আদিবাসী লোককথা”-য় চাকমা গল্প আছে; আর রাধামন-ধনপুদি পালার তিনটি ছাপা রূপ।
আছে — “ম্রো রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তি”, সংগ্রহ সিং ইয়ং ম্রো, সম্পাদনা শুভ্র জ্যোতি চাকমা, প্রকাশ 2012, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি। এতে 23টি কাহিনি। প্রকাশকের “প্রসঙ্গ কথা” অনুযায়ী এটি “সম্ভবত” বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ম্রো লোককথার প্রথম বই।
“তঞ্চঙ্গ্যা রূপকথা লোককাহিনী ও কিংবদন্তী” সংগ্রহ করেছেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা; প্রথম প্রকাশ 2005, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি। সূচি তিন ভাগে — চারটি রূপকথা, দুটি লোককাহিনী, দুটি কিংবদন্তী — আর শেষে “কয়েকটি ভূতে পাওয়ার কাহিনী”। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ দয়াল মোহন চাকমার।
বইটি ভারতের আগরতলার ত্রিপুরা বাণী প্রকাশনী থেকে জানুয়ারি 2006-এ প্রকাশিত (ISBN 81-88997-11-0), সম্পাদনা নিরঞ্জন চাকমা ও রঘুনাথ সরকার। ভূমিকা অনুযায়ী এর 16টি লোককথা ত্রিপুরী, চাকমা, মগ, হালাম, কলই ও বংচের আদিবাসীদের। জুমজার্নাল আর্কাইভের 15টি গল্প এই বইকে উৎস হিসেবে দেখায়।
বান্দরবানের উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডে খণ্ডে প্রকাশিত একটি ধারাবাহিক, যাতে পাঠকের পাঠানো রূপকথা, লোককাহিনি ও কিংবদন্তিভিত্তিক গল্প বাছাই করে ছাপা হতো। লাইব্রেরিতে খণ্ড তিন (এপ্রিল 1997, 18টি গল্প) ও খণ্ড চার (এপ্রিল 1998, 16টি গল্প) আছে; লেখকেরা চাক, ম্রো, খুমী, তঞ্চঙ্গ্যা, খেয়াং, বম, ত্রিপুরা, রাখাইন ও মারমা।
বিভা সাংমার “গারো উপকথা”-র (বিরিশিরি, 1981) সূচিতে প্রতিটি গল্পের কথকের নাম আছে। 23টি গল্পের 15টি ধরণ সিং সাংমার কাছ থেকে। ভূমিকা জানায়, কিছু গল্প সরাসরি লোকমুখ থেকে, আর কিছু গারো ভাষার দুটি বই — দেওয়ান সিং রংমুথুর Apasong Agana ও ধরণ সিং সাংমার Achik Golporang — থেকে অনুবাদ।
আছে — উ ক্য থিনের “রাখাইন লোক কাহিনী”, প্রকাশিকা মিসেস লালাছেন, টেকপাড়া, কক্সবাজার; মুদ্রণ-পাতার তারিখ “জুন-১৯৮১” পড়া যায়। এতে “রাখাইন জাতির উৎপত্তি” নামে একটি ভূমিকা-অধ্যায় আর 15টি কাহিনি। লেখক জানিয়েছেন, গল্পগুলো তাঁর মা, খালা ও নানীর মুখে শোনা।
তিনটি: মুরোল্যা লিটারেচার গ্রুপের প্রথম খণ্ড (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জুন 1980, 32 পৃষ্ঠা), রাঙ্গামাটি ঈস্থেটিকস কাউন্সিলের দ্বিতীয় খণ্ড “ফুল পারা” (জুলাই 1981, 50 পৃষ্ঠা), আর সুগত চাকমা সম্পাদিত উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সংস্করণ (রাঙামাটি, 2004, 142 পৃষ্ঠা)।
না। মৃত্তিকা চাকমা সম্পাদিত “চাকমা গল্প” (পুলক সাহিত্য সমিতি, রাঙামাটি, 30 জুন 2009) আধুনিক ছোটগল্পের সংকলন — 1978 থেকে 2009 সালের মধ্যে প্রকাশিত, সাতাশজন গল্পকারের একত্রিশটি গল্প, যার পাঁচটি অনুবাদ। লাইব্রেরিতে এটি লোককাহিনির তাকে থাকলেও গল্পগুলো নামধারী লেখকদের নিজস্ব রচনা।
কারণ পিডিএফগুলো ছাপা বইয়ের স্ক্যান — প্রতিটি পাতা একটি ছবি, তাতে খোঁজার মতো টেক্সট নেই। দুটি পিডিএফে একটি টেক্সট-স্তর থাকলেও তা ভুল অক্ষরে ভরা। গল্প খুঁজতে হলে বইয়ের সূচিপত্র দেখে পাতায় যেতে হয়; পিডিএফের পাতা-নম্বর ছাপা পৃষ্ঠার চেয়ে কয়েক ঘর বেশি হয়।
প্রাথমিক উৎস — জুমজার্নাল ইবুক লাইব্রেরি (প্রতিটি বইয়ের মুদ্রণ-তথ্য, ভূমিকা ও সূচিপত্র স্ক্যান থেকে পড়া; সঙ্গে লাইব্রেরির রেকর্ড):
জুমজার্নালের সংশ্লিষ্ট লেখা:
বাইরের উৎস:
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:আদিবাসী রূপকথা, আদিবাসী লোককথা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, ম্রো
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।