Jumjournal Logo

চুনিলাল দেওয়ানের পরে পাহাড়ের চিত্রশিল্প কারা এগিয়ে নিলেন: চাকমা চিত্রশিল্পী ও তাঁদের সহযাত্রীরা

Last updated Nov 3rd, 2026

1

ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবন, সাদা দেয়ালে বাংলায় জাতীয় চিত্রশালা লেখা, নিচে স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো প্রবেশপথ

চুনিলাল দেওয়ান (1911–1955) মারা যাওয়ার পর পাহাড়ের চিত্রশিল্পের ধারা একজনের হাতে থাকেনি। 1979 সালে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা রাঙামাটিতে চারুকলা একাডেমি খোলেন; 1980-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বেরিয়ে আসেন কনক চাঁপা চাকমা, যিনি 2023 সালে একুশে পদক পান; 1992 সালে গড়ে ওঠে হিল আর্টিস্টস গ্রুপ। তার পরের প্রজন্মে আছেন ত্রিপুরা শিল্পী জয়দেব রোয়াজা, চাকমা চিত্রশিল্পী জয়তু চাকমা ও তুফান চাকমা, মারমা শিল্পী খিং সাই মং, আর 2019 সালে গড়া এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের তরুণেরা।

এই লেখা নামগুলোকে এক জায়গায় আনে: কে কোথায় পড়েছেন, কোন প্রদর্শনী কবে কোথায় হয়েছে, কোন সংগঠন কবে গড়া। কারো ছবি ভালো না মন্দ, সে বিচার এখানে নেই; প্রতিটি তথ্যের পাশে উৎসের নাম আছে। চুনিলাল দেওয়ানের নিজের জীবন আমাদের আর্কাইভে আলাদা করে লেখা আছে: চিত্রশিল্পী চুনিলাল দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী, চুনিলাল দেওয়ান: আমাদের গর্ব ও প্রেরণা এবং তাঁর সহপাঠী অমরেন্দ্রনাথ রায়ের একটি চিঠি। সেগুলো এখানে আবার বলা হয়নি।

চুনিলাল দেওয়ান কোথায় থেমে গিয়েছিলেন, আর “পরে কারা” প্রশ্নটা কেন কঠিন

চুনিলাল দেওয়ান কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়া পাহাড়ের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত চিত্রশিল্পী হিসেবে আমাদের আর্কাইভের একাধিক লেখায় চিহ্নিত। তিনি 1955 সালের 8 ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর অধিকাংশ ছবি হারিয়ে গেছে, আর তাঁর পরে কয়েক দশক ধরে পাহাড়ে চিত্রকলার কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না।

তাঁর পড়াশোনার সাল নিয়ে আর্কাইভের দুটি লেখা আলাদা কথা বলে। প্রমোদ বিকাশ কার্বারীর জীবনী একই লেখায় দুটি সাল দেয়: এক জায়গায় 1928 সালে “কলকাতা আর্টস স্কুলে” ভর্তি ও 1934 সালে ডিগ্রি, অন্য জায়গায় 1927 সালে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস, চৌরঙ্গীর প্রথম বর্ষে ভর্তি। বিংশ শতাব্দীর পাহাড়ি সাহিত্যচর্চা নিয়ে আর্কাইভের লেখাটি বলছে 1928 সালে ভর্তি, 1934 সালে ফাইন আর্টসে ডিপ্লোমা।

মৃত্যুর আগে তাঁর বিদেশযাত্রা নিয়েও দুই রকম তথ্য আছে। কার্বারীর লেখা বলছে 1955 সালে সরকারি খরচে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল; প্রতিম দেওয়ানের লেখা বলছে একটি আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। দুটি লেখাই আমাদের আর্কাইভে আছে।

কলকাতার চৌরঙ্গী এলাকায় গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের সাদা ভবনের খিলানযুক্ত প্রবেশপথ, দুই পাশে ফুটপাতের দোকান
কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের প্রবেশপথ। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি 1864 সাল থেকে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্ট নামে চলে, 1951 সালে বর্তমান নাম পায়; চুনিলাল দেওয়ান এখানেই পড়েছিলেন। ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

“চুনিলালের পরে কারা” প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটি ফাঁক চোখে পড়ে। আমাদের আর্কাইভে 2016 সালে লেখা সুলভ চাকমার একটি প্রদর্শনী-পর্যালোচনা আছে, যেটি নিজেই লিখেছে যে চুনিলালের শুরু করা পথে “খুব কম পাহাড়ি শিল্পীই” ধারাবাহিকভাবে চলতে পেরেছেন। চুনিলালের মৃত্যু (1955) আর পরের শিল্পীদের প্রথম প্রদর্শনীর মাঝখানের দুই দশকের কোনো পাহাড়ি চিত্রশিল্পীর নাম, প্রদর্শনী বা প্রতিষ্ঠান কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। তাই এই লেখার সময়রেখা শুরু হয় 1979 সাল থেকে।

চুনিলাল দেওয়ান যে শুধু চিত্রশিল্পী ছিলেন না, গানও লিখেছেন, তা আর্কাইভের চাকমা জাতি লেখায় আছে: প্রথম আধুনিক চাকমা গান লিখেছিলেন তিনি, 1946 সালে। সাহিত্যিক দিকটি এই লেখার বিষয় নয়।

রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি: পাহাড়ে ছবি আঁকা শেখার প্রথম প্রতিষ্ঠান কে, কবে গড়লেন

রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি 1979 সালে প্রতিষ্ঠা করেন চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, তিনিই এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ। আমাদের আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আলোকিত ব্যক্তিত্ব লেখায় একাডেমিটিকে তিন পার্বত্য জেলার প্রথম চিত্রকলা প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে একে রাঙামাটি শহরের “একমাত্র আর্ট স্কুল” বলেছে।

আর্কাইভের লেখাটিতে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার জীবনের যে তালিকা আছে, তার কয়েকটি তারিখ:

  • 1978: বনভন্তে নামে পরিচিত সাধনানন্দ মহাস্থবির তাঁকে “বিশ্বকর্মা” উপাধি দেন।
  • 1979: একক উদ্যোগে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা।
  • 1 জানুয়ারি 1981: বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে চিত্রকলায় অবদানের জন্য সংবর্ধনা।
  • 1986: চারুকলা বিষয়ক বই “চিত্রা” প্রকাশ।
  • 2011: চিত্রকলা বিষয়ক বই “চারুকলা অনুশীলন” প্রকাশ। একই বছর 1 জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একাডেমির ভবনে 5 দিনের “চারুকলা প্রদর্শনী” আয়োজন করে।
  • 2012: জীবনী ও “আত্মচরিতাবলী” প্রকাশ।
  • 2015: বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের হাত থেকে আজীবন সম্মাননা।
  • 2016: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, রাঙামাটির আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর হাত থেকে চিত্রকলায় অবদানের জন্য সম্মাননা।

একাডেমি কতগুলো পুরস্কার পেয়েছে, সে হিসাব দুই উৎসে দুই সময়ের। দ্য ডেইলি স্টারের 30 আগস্ট 2007-এর প্রতিবেদন বলছে চিত্রকলা, নাচ ও গানে একাডেমির মোট পুরস্কার 57টি, তার 17টি স্বর্ণপদক ও 6টি আন্তর্জাতিক। আর্কাইভের লেখাটি (2020 সালে প্রকাশিত) বলছে ছাত্রছাত্রীরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শতাধিক জাতীয়, 3টি আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘের 1টি পুরস্কার পেয়েছে।

একাডেমিটি শুধু চিত্রকলার স্কুল নয়। দ্য ডেইলি স্টারের 2007-এর প্রতিবেদনে একাডেমির শিশুশিল্পীরা চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও বাংলা গানে নেচেছে-গেয়েছে; আর্কাইভের লেখাও বলছে এখানে চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও নৃত্যের প্রশিক্ষণ চলে এবং সরকারি, বেসরকারি বা দাতা সংস্থার আর্থিক অনুদান ছাড়া এটি চলেছে। ওই প্রতিবেদনে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে (প্রতিবেদনের বানানে Tangchangya) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বলা হয়েছে; 2019 সালে দৈনিক ইত্তেফাক তাঁকে “জেলা পরিষদ সাবেক সদস্য ও চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তংচঙ্গ্যা” লিখেছে।

একাডেমির প্রভাব কতদূর গেছে তার একটি সূত্র পাওয়া যায় পরের প্রজন্মের এক শিল্পীর কথায়। দ্য ডেইলি স্টারের 2026 সালের একটি প্রোফাইল লিখেছে, জয়তু চাকমা যখন রাঙামাটিতে বড় হচ্ছিলেন তখন “পুরো জেলায় একটিই আর্ট স্কুল” ছিল। স্কুলটির নাম প্রোফাইলে নেই, আর জয়তু চাকমা সেখানে পড়েছিলেন কি না তাও বলা হয়নি।

কনক চাঁপা চাকমা: পাহাড়ের কোন শিল্পী জাতীয় স্বীকৃতি পর্যন্ত পৌঁছালেন

কনক চাঁপা চাকমা 1963 সালের 6 মে রাঙামাটির তবলছড়িতে জন্মেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে 1986 সালে স্নাতকোত্তর (এমএফএ) করেন, 1993–94 সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। 2023 সালে চিত্রকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান; দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, সে বছরের তালিকায় তিনিই একমাত্র চিত্রশিল্পী।

আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, চুনিলালের পরে কনক চাঁপা চাকমা পাহাড়ের রংকে “মূলধারার শিল্পযাত্রার সাথে” পরিচয় করিয়ে দেন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়ার সুবাদে সে সুযোগ তৈরি হয়। আলোকচিত্রী Munem Wasif 2025 সালে আর্টরিভিউ পত্রিকায় লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আদিবাসী সমাজ থেকে মূলধারার শিল্পজগতে দৃশ্যমান হয়েছেন এমন শিল্পী খুব কম, কনক চাঁপা চাকমা তাঁদের একজন।

পরিবার: তাঁতি মা, শিল্পী স্বামী, শিল্পী সন্তান

দ্য ডেইলি স্টারের 2015 সালের প্রতিবেদনে কনক চাঁপা চাকমা জানিয়েছেন, তাঁর মা (প্রতিবেদনে নাম Sarat Mala Chakma) পাহাড়ের সবচেয়ে প্রবীণ বেইন বা কোমর তাঁতের কারিগরদের একজন এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত। উইকিপিডিয়া বলছে মা দুবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন; 2011 সালের ডেইলি স্টার প্রোফাইলে কনক বলেছেন, তাঁর মা 1960 ও 70-এর দশকে যুক্তরাজ্য থেকে পুরস্কার পেয়েছেন এবং লন্ডন ও ইতালি থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর স্বামী খালিদ মাহমুদ মিঠু ছিলেন শিল্পী ও চলচ্চিত্রকার।

এই তিন প্রজন্মকে একসঙ্গে দেখানো হয়েছিল 2015 সালের অক্টোবরে, ঢাকার উত্তর বাড্ডার গ্যালারি অ্যাথেনায় “থ্রি জেনারেশনস” প্রদর্শনীতে: মায়ের চরকা, নাটাই ও বেইন, কনকের বুনন-বিষয়ক ছবি, আর মেয়ের (প্রতিবেদনে নাম Shiropa Purna) জলরং, আলোকচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

কনক চাঁপা চাকমার উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী

  • 2009, বেইজিং: আর্ট ল্যান্ড গ্যালারিতে 30টি ছবির একক প্রদর্শনী, এক মাস ধরে (দ্য ডেইলি স্টার, স্টার উইকেন্ড ম্যাগাজিন, মার্চ 2009)। একই সময়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমানেও প্রদর্শনী হয়েছিল বলে প্রতিবেদনটি জানায়।
  • 15 নভেম্বর–6 ডিসেম্বর 2014, ঢাকা: বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে একক প্রদর্শনী “লাইফ ইজ হিয়ার”। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন একে চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বলেছে; উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এতে 80টি ছবি ছিল।
  • 30 মার্চ–20 এপ্রিল 2019, ঢাকা: অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে প্রয়াত স্বামী খালিদ মাহমুদ মিঠুর সঙ্গে যৌথ প্রদর্শনী “তুমি রবে নীরবে” (প্রথম আলো)।
  • নভেম্বর 2019, ঢাকা: গুলশানের এজ গ্যালারিতে তাঁর 17তম একক প্রদর্শনী “দ্য ট্রাভেলার্স সং”, 30 নভেম্বর পর্যন্ত। ইউএনবি লিখেছে, এতে তেল, অ্যাক্রিলিক ও কোলাজের 50টি কাজ ছিল, বিষয় ছয়টি জনগোষ্ঠী: চাকমা, মারমা, গারো, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা ও সাঁওতাল; শিল্পী একে তিন বছরের গবেষণার ফল বলেছেন।
  • সেপ্টেম্বর 2022, কাঠমান্ডু: নেপাল-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের 50 বছর উপলক্ষে সিদ্ধার্থ আর্ট গ্যালারিতে 12 জন বাংলাদেশি শিল্পীর প্রদর্শনী “স্পিরিট অব ফ্রেন্ডশিপ”, যার কিউরেটর ছিলেন তিনি (দ্য হিমালয়ান টাইমস)।

উইকিপিডিয়া ও ইউএনবি দুটিই বলছে, তাঁর ছবি দেশে-বিদেশে 100টির বেশি প্রদর্শনীতে গেছে, তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

পুরস্কার

উইকিপিডিয়ার তালিকা ও ইউএনবির প্রতিবেদন মিলিয়ে কয়েকটি: 2002 সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম); 2003 সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির ল্যাটিন আমেরিকান আর্ট মিউজিয়ামের গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড; 2008 সালে বেইজিংয়ে অলিম্পিক ফাইন আর্টস পদক; 2014 সালে শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিকল্পনায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার; 2023 সালে একুশে পদক।

হিল আর্টিস্টস গ্রুপ: 1992 সালে কারা পাহাড়ের শিল্পীদের এক জায়গায় আনলেন

হিল আর্টিস্টস গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীদের সংগঠন, প্রতিষ্ঠা 1992 সালে। আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী তখন পর্যন্ত সংগঠনটি প্রায় 6টি প্রদর্শনী করেছিল। সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন লিখেছে, সংগঠনটি প্রদর্শনী ও তরুণদের আর্ট ক্যাম্প আয়োজন করে এবং 11টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংহতির ওপর জোর দেয়।

2016: দৃক গ্যালারিতে ষষ্ঠ প্রদর্শনী “প্রকৃতি ও জীবন”

সুলভ চাকমার পর্যালোচনা অনুযায়ী 9 থেকে 14 ডিসেম্বর 2016 ঢাকার ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে সংগঠনের ষষ্ঠ প্রদর্শনী “প্রকৃতি ও জীবন” হয়। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। প্রায় 27 জন নবীন ও প্রবীণ শিল্পী অংশ নেন। লেখাটি যাঁদের নাম আলাদা করে আলোচনা করেছে: কনক চাঁপা চাকমা, ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা, নান্টু চাকমা, জয়দেব রোয়াজা, ভানরাম বম, জুলিয়ান ও দিব্যআলো চাকমা। শেষে আরও যাঁদের কাজ প্রদর্শনীতে ছিল বলে নাম দিয়েছে: জুলিয়ান বম, উদয়শংকর চাকমা, মিংকু চাকমা, সাপু ত্রিপুরা, তিতাস চাকমা, নয়ন ত্রিপুরা, খিং সাই মং, জয়তু চাকমা, লুম্বিনী দেওয়ান, এভলি চাকমা, সৌমিক দেওয়ান, নুমংসিং মারমা, তনিমা চাকমা, জেনিমং, মংখ্য সিং ও নয়ন আলো চাকমা।

তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে এখানে একই প্রদর্শনীতে চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ও বম শিল্পীর নাম আছে, আর পরের দশকে যাঁদের নাম সংবাদমাধ্যমে আসে (জয়দেব রোয়াজা, জয়তু চাকমা, খিং সাই মং, লুম্বিনী দেওয়ান) তাঁরা 2016 সালেই এই সংগঠনের প্রদর্শনীতে ছিলেন।

2020: ঢাকা আর্ট সামিটে জুমঘরের ম্যুরাল

সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী হিল আর্টিস্টস গ্রুপ ঢাকা আর্ট সামিট 2020-এ অংশ নেয়। পেরুর লিমায় শিপিবো-কোনিবো সম্প্রদায়ের সঙ্গে করা ম্যুরাল প্রকল্প SÖI-এর পদ্ধতি নিয়ে Alejandra Ballón Gutiérrez-এর সঙ্গে কর্মশালা থেকে প্রকল্পটি তৈরি হয়। সংগঠনের সদস্যরা জুম চাষকে 11টি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন চর্চা হিসেবে বেছে নেন এবং একটি জুমঘরের ম্যুরাল আঁকেন, যাতে 11টি জনগোষ্ঠীর বস্ত্রের নকশা একসঙ্গে বোনা হয়েছে।

সংগঠনের নেতৃত্বের দুটি নাম উৎসে পাওয়া যায়: দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন জয়দেব রোয়াজাকে 2019–2020 মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেছে। সংগঠনের নবম প্রদর্শনী, সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতাদের নামের কোনো যাচাইযোগ্য তালিকা পাওয়া যায়নি।

ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা: হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রবীণ শিল্পীরা কোথায় পড়েছেন, কোথায় দেখিয়েছেন

হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রবীণ শিল্পীদের তিনজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়েছেন: ধনমনি চাকমা ড্রয়িং ও পেইন্টিংয়ে, লাভলী চাকমা ভাস্কর্যে, রনেল চাকমা চারুকলায়। ধনমনি চাকমার প্রথম একক প্রদর্শনী 1998 সালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে; রনেল চাকমার ঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী 2003 সালে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে।

ধনমনি চাকমা

আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী ধনমনি চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন। প্রথম একক প্রদর্শনী 1998 সালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে, 2003 সালে আরও দুটি একক প্রদর্শনী, আর 10টির বেশি দলীয় প্রদর্শনী। লেখাটি তাঁকে পাহাড়ের শিল্পীদের সংগঠিত করার উদ্যোগে সক্রিয় বলেছে। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর “রেস্ট” ও “জুম্মবী” শিরোনামের কাজ ছিল, যেগুলোর বিষয় জুম ও জুম্ম নারী।

লাভলী চাকমা

একই উৎস অনুযায়ী লাভলী চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নিয়ে পড়েছেন। 1992 সালে হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রথম প্রদর্শনী থেকে তিনি সংগঠনের প্রদর্শনীতে আছেন, মোট 15টির বেশি প্রদর্শনীতে কাজ দেখিয়েছেন। “চাকমা অরনামেন্টস” নামে তাঁর একটি প্রকাশনা আছে। 2016 সালে তিনি কাঠের একটি ভাস্কর্য দেখান, শিরোনাম “আনটাইটেলড”। তিনি মূলত ভাস্কর, তাই এই তালিকায় তিনি চিত্রশিল্পী নন, তবে পাহাড়ের দৃশ্যশিল্পের ধারায় তাঁর নাম এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

রনেল চাকমা

দ্য ডেইলি স্টার 20 নভেম্বর 2003 লিখেছে, রনেল চাকমা মানিকের (Ronel Chakma Manik) ঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী “ট্রাইবাল লাইভস” চলছে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের গ্যালারিতে, 45টি ছবি নিয়ে। 18 নভেম্বর ফ্রান্স দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উদ্বোধন করেন, উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও কনক চাঁপা চাকমা; প্রদর্শনী চলে 24 নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী এর আগে চট্টগ্রামে তাঁর দুটি একক প্রদর্শনী হয়েছিল, কাজের বেশির ভাগ জলরঙে, কয়েকটি তেলরঙে।

দুই উৎসের হিসাব মিলে যায়: ডেইলি স্টারের 2003-এর হিসাবে চট্টগ্রামের দুটি আর ঢাকার একটি মিলিয়ে একক প্রদর্শনী তিনটি; 2016 সালের আর্কাইভ-পর্যালোচনাও বলছে তিনি তিনটি একক প্রদর্শনী করেছেন এবং 10টির বেশি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। এর পরে নতুন কোনো একক প্রদর্শনীর তথ্য পাওয়া যায়নি। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর “ওয়েটিং” ও “ম্রো ফেস্টিভ্যাল” শিরোনামের কাজ ছিল।

নান্টু চাকমা

আর্কাইভের পর্যালোচনা অনুযায়ী নান্টু চাকমা 2009 সালে রাঙামাটিতে একটি একক প্রদর্শনী করেন, যার সব কাজ ছিল জলরঙে। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর চারটি কাজ ছিল, তার একটি “রেইনিং ইন স্প্রিং”। লেখাটি জানায়, তিনি তখন জলরং থেকে অ্যাক্রিলিকে কাজ শুরু করেছিলেন।

জয়দেব রোয়াজা: ত্রিপুরা শিল্পী, যিনি ছবি থেকে পারফরম্যান্স আর্টে গেলেন

জয়দেব রোয়াজা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিল্পী, জন্ম 1973 সালে খাগড়াছড়িতে। 1999 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ করেন। তাঁর কাজ তিন মাধ্যমে: পারফরম্যান্স, পেইন্টিং ও ড্রয়িং। প্রথম একক প্রদর্শনী 2016 সালে টোকিওতে, NIPAGEN-এর আয়োজনে; পরে ঢাকা আর্ট সামিট, যুক্তরাজ্যের দ্য টেটলি, বার্লিনের সাভি কনটেম্পোরারি ও আয়ারল্যান্ডের ইভা ইন্টারন্যাশনালে কাজ দেখিয়েছেন।

আর্টরিভিউতে আলোকচিত্রী Munem Wasif-এর 2025 সালের লেখা অনুযায়ী তাঁর জন্ম খাগড়াছড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রামে, এখন থাকেন চট্টগ্রামে। মুম্বাইয়ের ঝাভেরি কনটেম্পোরারির 2022 সালের প্রদর্শনী-প্রবন্ধ লিখেছে, শৈশবে তাঁর ভাষা ছিল ককবরক, বাংলা পাঠ্যবই বুঝতেন না, কিন্তু বইয়ের শিল্পী Hashem Khan-এর অলংকরণ তাঁকে টানত।

পারফরম্যান্স আর্টে আসা

আর্টরিভিউ লিখেছে, তাঁর জন্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত ছিল 2009 সালে জাপানি কবি ও পারফরম্যান্স শিল্পী Seiji Shimoda-র কর্মশালা। শুরুর দিকে তিনি চট্টগ্রামের পরাপাড়া স্পেস ফর আর্টিস্টস ও ঢাকার বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের মতো শিল্পী-সংগঠনে কাজ করেছেন; দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তাঁকে পরাপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যান বলেছে। ফাউন্ডেশনের তালিকা অনুযায়ী 2004 সালে বৃত্তের “মুভমেন্ট উইল বিকাম স্কাল্পচার”, 2005 সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে থির্থা রেসিডেন্সি, 2014 সালে জাপানে 17তম NIPAF এশিয়া, 2016 সালে ভিয়েতনামে NIPAF কর্মশালা ও ফ্রান্সের বেজাঁসোঁতে “ব্যাক টু দ্য ট্রিজ-3”, 2017 সালে যুক্তরাজ্যের দ্য টেটলিতে “পারফরম্যান্স আর্ট ইনটেনসিভ”।

“জেনারেশন উইশ ইল্ডিং ট্রিজ অ্যান্ড অ্যাটমিক ট্রি”

আর্টরিভিউ অনুযায়ী 2008 থেকে চলা এই সিরিজে পাহাড়ি মানুষের অবয়বের ভেতরে সামরিক ট্যাংক, চারপাশে অস্ত্রধারী মানুষ। শিল্পী আর্টরিভিউকে বলেছেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি প্রথম সামরিক ট্যাংক দেখেন। ঝাভেরি কনটেম্পোরারির প্রবন্ধ লিখেছে, 1997 সালের পার্বত্য চুক্তির এক বছর পর, 1998 সালে তিনি এ ধরনের ছবি আঁকতে শুরু করেন, কিন্তু সেগুলো বাড়ির কোণে লুকিয়ে আঁকা হতো এবং ছবি তোলার আগেই ভয়ে নষ্ট করে ফেলা হতো; 2009 সালে আবার শুরু করেন। একই প্রবন্ধ জানায়, সিরিজের 36তম ড্রয়িংয়ের নারী হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা, যিনি 1996 সাল থেকে নিখোঁজ।

প্রদর্শনী ও সংগ্রহ

  • 2016: প্রথম একক প্রদর্শনী, টোকিওর NIPAGEN-এ “পারফরম্যান্স আর্ট টুডে” (আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ও ঝাভেরি কনটেম্পোরারি)।
  • 2018: ঢাকা আর্ট সামিট।
  • 2019: সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন ও দুবাইয়ের আলসারকালের যৌথ প্রদর্শনী “ফ্যাব্রিকেটেড ফ্র্যাকচারস”।
  • 2021: ছবি মেলা শূন্য, ঢাকা; সি আর্ট ফেস্টিভ্যাল, বুসান।
  • 14 জুলাই–20 আগস্ট 2022: মুম্বাইয়ের ঝাভেরি কনটেম্পোরারিতে একক প্রদর্শনী “ব্লোয়িং আপ বিলিটলমেন্ট”। একই বছর সাভি কনটেম্পোরারি, বার্লিন ও কাঠমান্ডু ত্রিবার্ষিকী।
  • 2023: ঢাকা আর্ট সামিটে “সাবমার্জড ড্রিম” স্থাপনাকর্ম। দ্য ন্যাশনাল লিখেছে, কাজটি কাপ্তাই বাঁধ থেকে অনুপ্রাণিত, আর এতে পাহাড়ের মানুষ মিলে ডুবে যাওয়া চাকমা রাজবাড়ি তুলে আনছেন; শিল্পী বলেছেন “চাকমা রাজবাড়িও ডুবে গিয়েছিল”। ডুবে যাওয়া রাজবাড়ির ইতিহাস আছে আমাদের পুরনো রাঙামাটি শহর নিয়ে লেখায়। 31 আগস্ট–29 অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের দ্বিবার্ষিকী ইভা ইন্টারন্যাশনাল, কিউরেটর Sebastian Cichocki-র আমন্ত্রণে (সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন)।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পাতায় তাঁর নামের ইংরেজি বানান দুভাবে আছে, Roaja ও Roaza; বাংলায় আমাদের আর্কাইভ লিখেছে “জয়দেব রোয়াজা”।

জয়তু চাকমা, তুফান চাকমা ও নতুন প্রজন্ম: চাকমা চিত্রশিল্পীরা এখন কোথায় পড়ছেন, কোথায় দেখাচ্ছেন

নতুন প্রজন্মের দুজন চাকমা চিত্রশিল্পীর পথ ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম, কলকাতা, জাহাঙ্গীরনগর ও ইউরোপ হয়ে গেছে। জয়তু চাকমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতীতে পড়ে 2021 সালে পূর্ণকালীন শিল্পী হন; তুফান চাকমা জাহাঙ্গীরনগর থেকে 2023 সালে পেইন্টিংয়ে স্নাতক হয়ে ইউরোপে অ্যানিমেশন পড়ছেন, প্রথম একক প্রদর্শনী 2025 সালে ফ্রান্সে।

জয়তু চাকমা

দ্য ডেইলি স্টারের আগস্ট 2026-এর প্রোফাইল অনুযায়ী জয়তু চাকমা রাঙামাটিতে বড় হয়েছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, দীর্ঘদিন চিটাগাং গ্রামার স্কুলে ছবি আঁকা শিখিয়েছেন, আর 2021 সালে চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন শিল্পী হয়েছেন। একই প্রোফাইল বলছে, 2024 সালে তিনি জেনেভায় ইন্টারন্যাশনাল মাইনরিটি আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড পান এবং ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে একক ও দলীয় প্রদর্শনী করেছেন।

  • 19 জুলাই–9 আগস্ট 2021: ঢাকার ইএমকে সেন্টারের ওয়েবসাইটে ভার্চুয়াল প্রদর্শনী “স্টোরি অব দ্য হিল”, 36টি কাজ, কিউরেটর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক Subrata Das। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে, প্রায় এক হাজার মানুষ ভার্চুয়ালি দেখেছেন; সমাপনী হয় 9 আগস্ট, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে।
  • 26 এপ্রিল–14 মে 2024: ঢাকার কলাকেন্দ্রে একক প্রদর্শনী “আনটিল দ্য রংরাং সিংস”, কিউরেটর Sharmillie Rahman (শোকেস ম্যাগাজিন)। রংরাং মানে ধনেশ পাখি, প্রদর্শনীর কেন্দ্রীয় প্রতীক।

“আনটিল দ্য রংরাং সিংস”-এর সাল নিয়ে দুই উৎসে অমিল আছে: শোকেস ম্যাগাজিন (1 মে 2024) বলছে প্রদর্শনী হয়েছে এপ্রিল-মে 2024-এ; দ্য ডেইলি স্টারের আগস্ট 2026-এর প্রোফাইল একে “গত বছরের” প্রদর্শনী বলেছে, অর্থাৎ 2025।

“স্টোরি অব দ্য হিল” প্রদর্শনীর আলোচনায় জয়তু চাকমা ত্রিভুজাকার ক্যানভাসের একটি সিরিজের কথা বলেন, যার বিষয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধের পর পাহাড়ের মানুষের জীবনের বদল। বাঁধের ইতিহাস আমাদের আর্কাইভের কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায় আছে।

তুফান চাকমা

দৈনিক ইত্তেফাকের জুন 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তুফান চাকমার জন্ম খাগড়াছড়ির দীঘিনালার উদালবাগানে। 2012 সালে উদালবাগান হাই স্কুল থেকে এসএসসি, তারপর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পেইন্টিং; 2023 সালে স্নাতক। এরপর ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তিতে বেলজিয়ামের লুকা স্কুল অব আর্টস, ফিনল্যান্ডের আল্টো ইউনিভার্সিটি ও পর্তুগালের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিমেশনে দুই বছরের মাস্টার্স।

তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী “লালাবাইজ অব দ্য হিল” বা “পাহাড়ের ঘুমপাড়ানি গান” হয় জুন 2025-এ, প্যারিসের কাছে মোরেট-লোইং-এট-অরভান শহরের রোল্যান্ড ড্যাগনাউড মিলনায়তনে, দুই দিন। জলরং, স্কেচ, তেলরং ও ডিজিটাল পেইন্টিং মিলিয়ে 30টি কাজ ছিল, সঙ্গে অ্যানিমেশন ভিডিও। আয়োজক ছিল ফ্রান্সে বসবাসরত জুম্মদের সংগঠন “লা ভোয়া দো জুম্ম”, প্রধান অতিথি চাকমা সার্কেলের রানী ইয়ান ইয়ান।

মারমা, বম ও অন্য জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা: খিং সাই মং, ভানরাম বম ও অন্যরা

পাহাড়ের চিত্রশিল্প শুধু চাকমা শিল্পীদের হাতে নয়। মারমা শিল্পী খিং সাই মং ডিসেম্বর 2025-এ বান্দরবানে প্রথম একক প্রদর্শনী করেছেন; বম শিল্পী ভানরাম বম ও জুলিয়ান বম 2016 সালেই হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতে ছিলেন; ত্রিপুরা, মারমা ও বম আরও কয়েকজন শিল্পীর নাম 2022 ও 2025 সালের দলীয় প্রদর্শনীতে আছে।

খিং সাই মং মারমা

দ্য ডেইলি স্টার 18 ডিসেম্বর 2025 লিখেছে, খিং সাই মং মারমা বান্দরবানে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন, দেশে-বিদেশে বহু দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, এবং তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী “রোয়া দ” (Rowa Daw) হচ্ছে বান্দরবানেই, ঢাকা বা বিদেশে নয়। প্রদর্শনীতে জলরং, তেলরং ও চারকোলের 32টি কাজ, বিষয় বান্দরবানের নিসর্গ, প্রতিকৃতি ও জীবিকা; প্রদর্শনী 20 থেকে 22 ডিসেম্বর, সঙ্গে শিশুদের ছবি আঁকার আসর। আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনায় হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে “খিং সাই মং” নামটি আছে।

ভানরাম বম ও জুলিয়ান বম

আর্কাইভের পর্যালোচনা অনুযায়ী ভানরাম বম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র, বাড়ি বান্দরবানের রুমায়; 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর কাজের শিরোনাম “মিসআউট”। একই লেখায় জুলিয়ান নামের এক নবীন শিল্পীর কথা আছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র, যাঁর একটি কাজের শিরোনাম “MN Larma”, বিষয় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা; আর “Winter” শিরোনামের একটি গ্রাফিক্সের কাজ। লেখার শেষের তালিকায় “জুলিয়ান বম” নামটি আছে; দুটি নাম একই ব্যক্তির কি না, লেখাটি স্পষ্ট করেনি।

দলীয় প্রদর্শনীতে আরও যাঁদের নাম আছে

দ্য হিমালয়ান টাইমসের সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কাঠমান্ডুর “স্পিরিট অব ফ্রেন্ডশিপ” প্রদর্শনীর শিল্পীদের মধ্যে পাহাড়ি নামগুলো: Jayatu Chakma, Lumbiny Dewan, Aongthowai Marma, Sudhip Chakma, Munna Bawm, Pingcu Tripura, Mong Mong Sho। (নামগুলো উৎসে ইংরেজিতে; বাংলা উৎসে যাঁদের বানান পাওয়া যায়নি, তাঁদের নাম এখানে ইংরেজিতেই রাখা হলো।) প্রদর্শনীর কিউরেটর ছিলেন কনক চাঁপা চাকমা।

বাংলাদেশ পোস্ট 21 আগস্ট 2025 “একোজ অব দ্য হিলস” আর্ট ক্যাম্পের 12 জন শিল্পীর নাম দিয়েছে: Anonnyo Chakma, Aong Tho Waing Marma, Jayatu Chakma, Lata Chakma, Monjuri Dewan, Nu Mong Prue Marma, Parag Chakma, Pragati Chakma, Sonchay Moni Chakma, Sufal Chakma, Sujan Bikash Chakma, Ukyanu Marma।

এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম ও আর্ট ক্যাম্প: সংগঠন যেভাবে নতুন শিল্পী তৈরি করছে

এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম (ইউএনবির প্রতিবেদনে “বাংলাদেশ এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম”) 2019 সালে 85 জন তরুণ শিল্পী নিয়ে যাত্রা শুরু করে, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কনক চাঁপা চাকমা। আগস্ট 2019-এ রাঙামাটিতে 50 জন শিল্পী নিয়ে আর্ট ক্যাম্প হয়; সেখানে আঁকা কাজ নিয়ে মে-জুন 2022-এ ঢাকায় “উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস” প্রদর্শনী হয়।

ঢাকা কুরিয়ার, ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবির প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রদর্শনীটির তথ্য:

  • স্থান ও সময়: অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টস, বাড্ডা, ঢাকা; উদ্বোধন 21 মে 2022, চলার কথা 4 জুন পর্যন্ত।
  • কাজ ও শিল্পী: 44 জন শিল্পীর 65টি কাজ, বেশির ভাগ কাগজে জলরং।
  • জনগোষ্ঠী: মারমা, রাখাইন, চাকমা, ত্রিপুরা, গারো, হাজং, কোচ ও মণিপুরী।
  • শিল্পীরা কারা: বেশির ভাগ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চারুকলা কলেজের ছাত্রছাত্রী। ইউএনবি যাঁদের নাম দিয়েছে তাঁদের মধ্যে Mong Mong Sho, লুম্বিনী দেওয়ান, Mong Shonie Rakhine ও জয়তু চাকমা।
  • কেন দুই বছর দেরি: কোভিড-19 মহামারির কারণে 2020 ও 2021 সালে প্রদর্শনী হয়নি।

ফোরাম গড়ার কারণ হিসেবে কনক চাঁপা চাকমা ঢাকা কুরিয়ারকে বলেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, সহায়তা ও অনুপ্রেরণার অভাবে অনেক প্রতিভাবান আদিবাসী শিল্পী পিছিয়ে পড়ছেন, এমনকি হারিয়ে যাচ্ছেন। ইউএনবি 2019 সালে লিখেছিল, ফোরামের কাজ গবেষণা, আর্ট ক্যাম্প, প্রদর্শনী ও কর্মশালা।

একোজ অব দ্য হিলস, 2025

20 আগস্ট 2025 ঢাকার মিরপুরে কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের পাশে সিএইচটি কালিনারিতে সকাল 10টা থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত একদিনের আর্ট ক্যাম্প “একোজ অব দ্য হিলস” হয়। দ্য ডেইলি স্টার ও বাংলাদেশ পোস্ট অনুযায়ী 12 জন তরুণ শিল্পী অন্তত দুটি করে, মোট 24টি ছবি আঁকেন। উদ্বোধন করেন পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Tushar Kanti Chakma। আয়োজনটি কোন সংগঠনের, তা দুটি প্রতিবেদনের কোনোটিতে বলা হয়নি।

চাকমা চিত্রশিল্পী ও অন্য পাহাড়ি শিল্পীদের তালিকা: কে কোথায় পড়েছেন

নিচের ছকে এই লেখার উৎসগুলোতে যেসব শিল্পীর শিক্ষা বা প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর তথ্য পাওয়া গেছে, কেবল তাঁরা আছেন। ছকে নাম না থাকা মানে শিল্পী গুরুত্বহীন নন; মানে তাঁর সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য এই লেখার উৎসে নেই।

শিল্পীজনগোষ্ঠীশিক্ষাউল্লেখযোগ্য তথ্যউৎস
চুনিলাল দেওয়ান (1911–1955)চাকমাগভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস, কলকাতা1946 সালে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রয়িং শিক্ষকআর্কাইভ
রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাতঞ্চঙ্গ্যাউৎসে নেই1979 সালে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠাআর্কাইভ; ডেইলি স্টার 2007
কনক চাঁপা চাকমা (জ. 1963)চাকমাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা (এমএফএ 1986); পেন স্টেট 1993–94একুশে পদক 2023; এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতাউইকিপিডিয়া; ইউএনবি; ডেইলি স্টার
ধনমনি চাকমাচাকমাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং (মাস্টার্স)প্রথম একক প্রদর্শনী 1998, রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিআর্কাইভ
লাভলী চাকমাচাকমাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী, ভাস্কর্য1992 সাল থেকে হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতেআর্কাইভ
রনেল চাকমাচাকমাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলাঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী নভেম্বর 2003, 45টি ছবিআর্কাইভ; ডেইলি স্টার 2003
জয়দেব রোয়াজা (জ. 1973)ত্রিপুরাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পেইন্টিং (এমএফএ 1999)প্রথম একক প্রদর্শনী 2016, টোকিওদুর্জয় ফাউন্ডেশন; ঝাভেরি কনটেম্পোরারি
জয়তু চাকমাচাকমাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; রবীন্দ্রভারতীএকক প্রদর্শনী “আনটিল দ্য রংরাং সিংস”, ঢাকাডেইলি স্টার 2026; শোকেস 2024
তুফান চাকমাচাকমাজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পেইন্টিং (স্নাতক 2023)প্রথম একক প্রদর্শনী জুন 2025, ফ্রান্সইত্তেফাক 2025
খিং সাই মং মারমামারমাউৎসে নেইপ্রথম একক প্রদর্শনী ডিসেম্বর 2025, বান্দরবানডেইলি স্টার 2025
ভানরাম বমবমচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলাহিল আর্টিস্টস গ্রুপের 2016 সালের প্রদর্শনীআর্কাইভ

ছক থেকে একটি ধরন চোখে পড়ে: প্রবীণ শিল্পীদের বড় অংশ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়, পরের শিল্পীদের কয়েকজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, দুজন কলকাতার রবীন্দ্রভারতীতে, আর একজন জাহাঙ্গীরনগরে। চুনিলাল দেওয়ানও কলকাতাতেই পড়েছিলেন।

পাহাড়ি শিল্পীদের প্রদর্শনী কবে কোথায় হয়েছে: একটি সময়রেখা

এই সময়রেখায় কেবল সেই প্রদর্শনীগুলো আছে, যেগুলোর সাল ও স্থান কোনো পড়া উৎসে আছে। দেখা যায়, 1998 থেকে প্রদর্শনী হয়েছে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায়; 2009 থেকে বেইজিং, টোকিও, মুম্বাই, কাঠমান্ডু ও ফ্রান্সে; আর 2025 সালে একজন শিল্পী প্রথম একক প্রদর্শনীর জন্য বান্দরবানকেই বেছে নিয়েছেন।

সালশিল্পী বা সংগঠনপ্রদর্শনী বা ঘটনাস্থান
1979রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাচারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠারাঙামাটি
1992হিল আর্টিস্টস গ্রুপপ্রতিষ্ঠা ও প্রথম প্রদর্শনীউৎসে নেই
1998ধনমনি চাকমাপ্রথম একক প্রদর্শনীরাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি
2003রনেল চাকমা“ট্রাইবাল লাইভস”, 45টি ছবিরাশিয়ান কালচারাল সেন্টার, ঢাকা
2009কনক চাঁপা চাকমা30টি ছবির একক প্রদর্শনীআর্ট ল্যান্ড গ্যালারি, বেইজিং
2009নান্টু চাকমাজলরঙের একক প্রদর্শনীরাঙামাটি
2014কনক চাঁপা চাকমা“লাইফ ইজ হিয়ার”বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ, ঢাকা
2015কনক চাঁপা চাকমা ও পরিবার“থ্রি জেনারেশনস”গ্যালারি অ্যাথেনা, ঢাকা
2016জয়দেব রোয়াজাপ্রথম একক প্রদর্শনীNIPAGEN, টোকিও
2016হিল আর্টিস্টস গ্রুপষষ্ঠ প্রদর্শনী “প্রকৃতি ও জীবন”, প্রায় 27 জন শিল্পীদৃক গ্যালারি, ঢাকা
2019কনক চাঁপা চাকমা17তম একক “দ্য ট্রাভেলার্স সং”এজ গ্যালারি, ঢাকা
2019এথনিক আর্টিস্ট ফোরামপ্রতিষ্ঠা; 50 জন শিল্পীর আর্ট ক্যাম্পরাঙামাটি
2020হিল আর্টিস্টস গ্রুপজুমঘরের ম্যুরালঢাকা আর্ট সামিট
2021জয়তু চাকমাভার্চুয়াল “স্টোরি অব দ্য হিল”, 36টি কাজইএমকে সেন্টার (অনলাইন)
2022এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম“উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস”, 44 জন শিল্পীঅবিন্তা গ্যালারি, ঢাকা
2022জয়দেব রোয়াজা“ব্লোয়িং আপ বিলিটলমেন্ট”ঝাভেরি কনটেম্পোরারি, মুম্বাই
2022কনক চাঁপা চাকমা (কিউরেটর)“স্পিরিট অব ফ্রেন্ডশিপ”, 12 জন শিল্পীসিদ্ধার্থ আর্ট গ্যালারি, কাঠমান্ডু
2024জয়তু চাকমা“আনটিল দ্য রংরাং সিংস”কলাকেন্দ্র, ঢাকা
2025তুফান চাকমা“লালাবাইজ অব দ্য হিল”, 30টি কাজমোরেট-লোইং-এট-অরভান, ফ্রান্স
202512 জন তরুণ শিল্পীআর্ট ক্যাম্প “একোজ অব দ্য হিলস”সিএইচটি কালিনারি, মিরপুর
2025খিং সাই মং মারমাপ্রথম একক “রোয়া দ”, 32টি কাজবান্দরবান
ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবন, সাদা দেয়ালে বাংলায় জাতীয় চিত্রশালা লেখা, নিচে স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো প্রবেশপথ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা, ঢাকা। কনক চাঁপা চাকমা 2002 সালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় পুরস্কার পান। ছবি: Wasiul Bahar · CC BY-SA 4.0 · উইকিমিডিয়া কমন্স

পাহাড়ের শিল্পীদের ছবিতে কোন বিষয় বারবার আসে: জুম, নারী, কাপ্তাই, সেনা উপস্থিতি

উৎসগুলোতে শিল্পীদের নিজেদের কথা ও প্রদর্শনী-বর্ণনা পড়লে চারটি বিষয় বারবার আসে: জুম চাষ, পাহাড়ি নারীর কাজ ও জীবন, কাপ্তাই বাঁধে ডুবে যাওয়া জমি, আর পাহাড়ে সামরিক উপস্থিতি। কে কোন বিষয়ে কাজ করেন, তা নিচে শিল্পীর নিজের কথা বা প্রদর্শনীর বর্ণনা থেকে নেওয়া; এখানে কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।

  • নারী: কনক চাঁপা চাকমা উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতিতে বলেছেন, সমতলে ও পাহাড়ে নারী একইভাবে কোণঠাসা, যদিও পরিবারে তাঁরা প্রায়ই পুরুষের চেয়ে বেশি অবদান রাখেন; তাই তিনি নারীকে কাজের কেন্দ্রে রাখেন। নেপালে প্রদর্শিত তাঁর “ওয়াটার ফ্রম দ্য মুন” ছবির বিষয় পাহাড়ে পানি আনতে মেয়েদের কষ্ট (দ্য হিমালয়ান টাইমস)।
  • জুম: হিল আর্টিস্টস গ্রুপ 2020 সালে জুমঘরকেই 11 জনগোষ্ঠীর অভিন্ন প্রতীক হিসেবে বেছেছে। ধনমনি চাকমার কাজের বিষয় জুম ও জুম্ম নারীর সম্পর্ক (আর্কাইভ)। “একোজ অব দ্য হিলস”-এর ছবিতে জুমের গল্প ছিল (দ্য ডেইলি স্টার)।
  • কাপ্তাই বাঁধ: জয়তু চাকমার ত্রিভুজাকার ক্যানভাসের সিরিজ ও “আনটিল দ্য রংরাং সিংস” কাপ্তাই বাঁধে উচ্ছেদের কথা বলে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; শোকেস)। আর্টরিভিউ জানায়, জয়দেব রোয়াজা 2004 সালে চট্টগ্রাম আর্ট কলেজের অধ্যাপক Dhali Al Mamoon-এর কাপ্তাই বাঁধ-বিষয়ক প্রদর্শনী “ওয়াটার ইজ ইনোসেন্ট!” দেখে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
  • সামরিক উপস্থিতি: জয়দেব রোয়াজার ড্রয়িংয়ে পাহাড়ি মানুষের অবয়বের পাশে সেনাসদস্য, বন্দুক ও গোলাবারুদ (আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা; ঝাভেরি কনটেম্পোরারি)।

উৎসগুলোতে একটি ভিন্ন সুরও আছে। দ্য ডেইলি স্টারের 2003 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, রনেল চাকমার প্রদর্শনীতে পাহাড়ের জীবনের অন্ধকার দিকের কোনো ছবি ছিল না। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন 2014 সালে কনক চাঁপা চাকমার “লাইফ ইজ হিয়ার” সম্পর্কে লিখেছে, এতে পাহাড়ের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। অন্যদিকে 2015 সালে কনক নিজে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, তাঁর ছবিতে রঙের পাশাপাশি বাধা ও যন্ত্রণাও আছে।

বাইরের শিল্পীরা যখন পাহাড় আঁকেন: “ভেতরের” আর “বাইরের” দৃষ্টি নিয়ে 2009 সালের একটি আলোচনা

পাহাড়ি জীবনকে বিষয় করে প্রদর্শনী করেছেন পাহাড়ের বাইরের শিল্পীরাও, আর এ নিয়ে ঢাকার শিল্প-সাংবাদিকতায় অন্তত 2009 সাল থেকে প্রশ্ন উঠেছে: পাহাড়ের মানুষকে কে আঁকছেন, ভেতর থেকে না বাইরে থেকে।

দ্য ডেইলি স্টারের স্টার উইকেন্ড ম্যাগাজিন জুলাই 2009-এ লিখেছে, 3 থেকে 16 জুলাই আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় Shohag Parvez-এর পাহাড়বিষয়ক প্রদর্শনী চলছে। তিনি 2000 সালে প্রথম বান্দরবানে যান, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হন; প্রদর্শনীর সময় চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। প্রতিবেদক Nader Rahman তাঁকে পাহাড়ি মানুষকে নিয়ে পুরো প্রদর্শনী করা “বাইরের” শিল্পীদের একজন বলেছেন, আর কনক চাঁপা চাকমাকে “ভেতরের” দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী।

এই তুলনার ফ্রেমটি উৎসের নিজের। এই লেখা কোনো দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যটির ওপরে রাখে না; শুধু এটুকু নথিভুক্ত করে যে 2009 সালেই ঢাকার শিল্প-সাংবাদিকতায় এই প্রশ্নটা উঠেছিল।

চুনিলাল দেওয়ানের পরের পাহাড়ি চিত্রশিল্প নিয়ে প্রশ্নোত্তর

চুনিলাল দেওয়ানের পরে পাহাড়ের চিত্রশিল্প কারা এগিয়ে নিয়েছেন?

উৎসে পাওয়া নামগুলো: রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, যিনি 1979 সালে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি গড়েন; কনক চাঁপা চাকমা, একুশে পদক 2023; 1992 সালে গড়া হিল আর্টিস্টস গ্রুপের ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা; ত্রিপুরা শিল্পী জয়দেব রোয়াজা; আর নতুন প্রজন্মের জয়তু চাকমা, তুফান চাকমা ও মারমা শিল্পী খিং সাই মং।

সবচেয়ে পরিচিত চাকমা চিত্রশিল্পী কে?

জাতীয় স্বীকৃতির হিসাবে কনক চাঁপা চাকমা। জন্ম 6 মে 1963, রাঙামাটির তবলছড়িতে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে 1986 সালে এমএফএ। 2023 সালে চিত্রকলায় একুশে পদক পান; দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে সে বছরের তালিকায় তিনিই একমাত্র চিত্রশিল্পী। তাঁর ছবি দেশে-বিদেশে 100টির বেশি প্রদর্শনীতে গেছে।

রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি কে, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা 1979 সালে একক উদ্যোগে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর অধ্যক্ষ ছিলেন। আমাদের আর্কাইভ একে তিন পার্বত্য জেলার প্রথম চিত্রকলা প্রতিষ্ঠান বলেছে; দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে একে রাঙামাটি শহরের একমাত্র আর্ট স্কুল বলেছে। এখানে চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি গান ও নাচও শেখানো হয়।

হিল আর্টিস্টস গ্রুপ কবে গঠিত হয়?

আমাদের আর্কাইভের সুলভ চাকমার পর্যালোচনা অনুযায়ী 1992 সালে। 2016 সাল পর্যন্ত সংগঠনটি প্রায় 6টি প্রদর্শনী করে; ষষ্ঠটি “প্রকৃতি ও জীবন”, 9–14 ডিসেম্বর 2016, ঢাকার দৃক গ্যালারিতে, প্রায় 27 জন শিল্পী নিয়ে। সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন অনুযায়ী সংগঠনটি ঢাকা আর্ট সামিট 2020-এ জুমঘরের একটি ম্যুরাল করে।

জয়দেব রোয়াজা কে?

জয়দেব রোয়াজা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিল্পী, জন্ম 1973 সালে খাগড়াছড়িতে, 1999 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ। পারফরম্যান্স, পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ে কাজ করেন। 2009 সালে সেইজি শিমোদার কর্মশালার পর পারফরম্যান্সে আসেন; প্রথম একক প্রদর্শনী 2016 সালে টোকিওতে। দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তাঁকে 2019–2020-এ হিল আর্টিস্টস গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বলেছে।

পাহাড়ের শিল্পীরা কোথায় চারুকলা পড়েছেন?

উৎসে পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চারটি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা (কনক চাঁপা চাকমা, ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (জয়দেব রোয়াজা, জয়তু চাকমা, ভানরাম বম), কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (লাভলী চাকমা, জয়তু চাকমা) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (তুফান চাকমা)। চুনিলাল দেওয়ান পড়েছিলেন কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে।

এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম কী?

আদিবাসী শিল্পীদের একটি প্ল্যাটফর্ম, 2019 সালে 85 জন তরুণ শিল্পী নিয়ে শুরু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কনক চাঁপা চাকমা। আগস্ট 2019-এ রাঙামাটিতে 50 জন শিল্পীর আর্ট ক্যাম্প হয়। সেখানকার কাজ নিয়ে মে 2022-এ ঢাকার অবিন্তা গ্যালারিতে “উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস” প্রদর্শনী হয়: 44 জন শিল্পীর 65টি কাজ, আটটি জনগোষ্ঠীর শিল্পী।

কোনো মারমা চিত্রশিল্পী কি একক প্রদর্শনী করেছেন?

হ্যাঁ। দ্য ডেইলি স্টার অনুযায়ী মারমা শিল্পী খিং সাই মং মারমার প্রথম একক প্রদর্শনী “রোয়া দ” হয় বান্দরবানে, 20 থেকে 22 ডিসেম্বর 2025, জলরং, তেলরং ও চারকোলের 32টি কাজ নিয়ে। তিনি বান্দরবানে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন। 2016 সালে তিনি হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতেও ছিলেন।

জয়তু চাকমার ছবির বিষয় কী?

শোকেস ম্যাগাজিন ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তাঁর কাজের বিষয় চাকমা জনগোষ্ঠীর পরিচয়, উচ্ছেদ ও কাপ্তাই বাঁধের প্রভাব। 2024 সালে ঢাকার কলাকেন্দ্রে তাঁর একক প্রদর্শনী “আনটিল দ্য রংরাং সিংস”-এর কেন্দ্রীয় প্রতীক ছিল রংরাং বা ধনেশ পাখি। 2021 সালে ইএমকে সেন্টারের ভার্চুয়াল প্রদর্শনীতে তাঁর 36টি কাজ ছিল।

চুনিলাল দেওয়ান কোথায়, কত সালে পড়েছিলেন?

কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে। ভর্তির সাল নিয়ে আর্কাইভে দুই তথ্য আছে: প্রমোদ বিকাশ কার্বারীর জীবনীতে এক জায়গায় 1928, অন্য জায়গায় 1927; পাহাড়ি সাহিত্যচর্চা বিষয়ক লেখায় 1928। শেষ হওয়ার সাল দুটি লেখাতেই 1934। 1946 সালে তিনি রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ড্রয়িং শিক্ষক হন।

তুফান চাকমা কোথায় প্রথম একক প্রদর্শনী করেন?

ফ্রান্সে। দৈনিক ইত্তেফাক অনুযায়ী জুন 2025-এ প্যারিসের কাছের শহর মোরেট-লোইং-এট-অরভানে দুই দিনের প্রদর্শনী “লালাবাইজ অব দ্য হিল”, 30টি কাজ, আয়োজক ফ্রান্সপ্রবাসী জুম্মদের সংগঠন “লা ভোয়া দো জুম্ম”। তুফান চাকমা দীঘিনালার উদালবাগানের, জাহাঙ্গীরনগর থেকে 2023 সালে পেইন্টিংয়ে স্নাতক।

যা এখনো জানা যায়নি

  • 1955 থেকে 1979 সালের মধ্যে পাহাড়ে কোনো আদিবাসী চিত্রশিল্পী প্রদর্শনী করেছিলেন কি না, কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার জন্মসাল, চিত্রকলার প্রশিক্ষণ কোথায়, আর তাঁর নিজের কোনো একক প্রদর্শনী হয়েছিল কি না, জানা যায়নি। রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি থেকে পরে কোন কোন শিল্পী পেশাদার হয়েছেন, তার তালিকা নেই।
  • হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান কমিটির নাম, এবং 2016-এর পরের প্রদর্শনীগুলোর তারিখ ও স্থান যাচাই করা যায়নি।
  • ধনমনি চাকমা ও লাভলী চাকমার প্রদর্শনীর তথ্য একটিমাত্র উৎস থেকে (আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা); সংবাদপত্রে তার মিল পাওয়া যায়নি। লাভলী চাকমার “চাকমা অরনামেন্টস” প্রকাশনার সাল ও প্রকাশক জানা যায়নি।
  • জয়তু চাকমার “আনটিল দ্য রংরাং সিংস” 2024 না 2025 সালের, দুই উৎস দুই কথা বলে।
  • খুমি, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া ও চাক জনগোষ্ঠী থেকে কোনো চিত্রশিল্পীর নাম এই লেখার কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি।
  • চুনিলাল দেওয়ানের টিকে থাকা ছবিগুলো এখন কার কাছে, কোথায় সংরক্ষিত, এবং সেগুলোর কোনো তালিকা বা প্রদর্শনী হয়েছে কি না, জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র

আমাদের আর্কাইভ

  1. প্রমোদ বিকাশ কার্বারী, “চিত্রশিল্পী চুনিলাল দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী”, জুমজার্নাল: jumjournal.com
  2. প্রতিম দেওয়ান, “চুনিলাল দেওয়ান: আমাদের গর্ব ও প্রেরণা”, জুমজার্নাল: jumjournal.com
  3. “চাকমা প্রথম চিত্রশিল্পী চুনিলাল দেওয়ান সম্পর্কে ভারতীয় চিত্রশিল্পী অমরেন্দ্রনাথ রায়ের একটি পত্র”, জুমজার্নাল: jumjournal.com
  4. সুলভ চাকমা, “পাহাড়ের নতুন রঙের, নতুন সম্ভাবনা!”, জুমজার্নাল (হিল আর্টিস্টস গ্রুপের 2016 সালের প্রদর্শনী-পর্যালোচনা): jumjournal.com
  5. “তঞ্চঙ্গ্যা জাতির কয়েকজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব”, জুমজার্নাল: jumjournal.com
  6. “বিংশ শতাব্দী পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সাহিত্য চর্চার নবজাগরণ”, জুমজার্নাল: jumjournal.com
  7. “চাকমা জাতি”, জুমজার্নাল: jumjournal.com

সংবাদপত্র, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য

  1. Shantimoy Chakma, “Cultural programme at Rangamati Charukala Academy”, The Daily Star, 30 August 2007: thedailystar.net
  2. “রাঙ্গামাটির প্রবীণ চিত্রশিল্পী বিজয় দত্তের পরলোক গমন”, দৈনিক ইত্তেফাক, 9 ফেব্রুয়ারি 2019: ittefaq.com.bd
  3. “Government College of Art & Craft”, Wikipedia: en.wikipedia.org
  4. “Kanak Chanpa Chakma”, Wikipedia: en.wikipedia.org; “কনক চাঁপা চাকমা”, বাংলা উইকিপিডিয়া: bn.wikipedia.org
  5. “8 cultural personalities to receive Ekushey Padak 2023”, The Daily Star, 12 February 2023: thedailystar.net
  6. Md. Ishtiak Hossain, “Ekushey Padak broadened my sociocultural responsibilities as an artist: Kanak Chanpa Chakma”, Dhaka Courier, 10 March 2023: dhakacourier.com.bd
  7. “Life is Here” (press release), Bengal Foundation, 15 November 2014: bengalfoundation.org
  8. Zahangir Alom, “Three generations’ artistic legacy in focus”, The Daily Star, 15 October 2015: thedailystar.net
  9. “The Traveller’s Song: Kanak Chanpa Chakma’s vision finds expression at Edge Gallery”, UNB, 14 November 2019: unb.com.bd
  10. Fayza Haq, “Kanak’s Canvasses Lapped up in Far Eastern Capitals”, Star Weekend Magazine, The Daily Star, March 2009: thedailystar.net
  11. Fayza Haq, “Joi de vivre of the Hill Tracts”, Star Weekend Magazine, The Daily Star, November 2011: thedailystar.net
  12. মলয় বালা, “শিল্পীযুগলের শিল্পকর্ম”, প্রথম আলো, 19 এপ্রিল 2019: prothomalo.com
  13. “Glimpses of Bangladesh”, The Himalayan Times, 4 September 2022: thehimalayantimes.com
  14. “Hill Artist Group, Dhaka Art Summit 2020”, Samdani Art Foundation: samdani.com.bd
  15. Harun ur Rashid, “Colourful canvases of stilled moments: Ronel Chakma Manik holds his debut solo in Dhaka”, The Daily Star, 20 November 2003: thedailystar.net
  16. Munem Wasif, “Joydeb Roaja: Lasting Images”, ArtReview, 11 April 2025: artreview.com
  17. “Joydeb Roaja: Blowing Up Belittlement” (exhibition essay), Jhaveri Contemporary, 2022: static.frieze.com (PDF)
  18. “Joydeb Roaja”, Durjoy Bangladesh Foundation: durjoybangladeshfoundation.org
  19. “Joydeb Roaja”, Alliance Française de Dhaka: afdhaka.org
  20. “EVA International – Ireland’s Biennial of Contemporary Art”, Samdani Art Foundation: samdani.com.bd
  21. “Dhaka Art Summit 2023: creatives address climate emergency in Bangladesh”, The National, 7 February 2023: thenationalnews.com
  22. Tagabun Taharim Titun, “Jayatu Chakma’s artistic world”, The Daily Star, 3 August 2026: thedailystar.net
  23. “Unspoken Histories”, Showcase, 1 May 2024: showcase.com.bd
  24. “EMK Center’s virtual exhibition ‘Story of The Hill’ highlights the lives of indigenous people”, The Business Standard, 28 July 2021: tbsnews.net; “Story of Hill exhibition ends on Indigenous Day at EMK”, 10 August 2021: tbsnews.net
  25. অনুপম বড়ুয়া টিপু, “শেষ হলো ফ্রান্সে ‘পাহাড়ের ঘুমপাড়ানি গান’ শীর্ষক একক চিত্র প্রদর্শনী”, দৈনিক ইত্তেফাক, 9 জুন 2025: ittefaq.com.bd
  26. “‘Rowa Daw’: Khing Shai Mong’s first solo painting exhibition in Bandarban”, The Daily Star, 18 December 2025: thedailystar.net
  27. “‘Weaving Art of the Hills’: Beauty of Rangamati gets reimagined at group exhibition of ethnic artists”, Dhaka Courier, 27 May 2022: dhakacourier.com.bd
  28. “Portraying the beauty of Rangamati”, Dhaka Tribune, 17 May 2022: dhakatribune.com
  29. “Curtain falls on indeginous artists’ exhibition”, UNB, 2022: unb.com.bd
  30. “Daylong art camp ‘Echoes of the Hills’ showcases young hill artists in Dhaka”, The Daily Star, 20 August 2025: thedailystar.net
  31. “Echoes of the Hills: Young hill artists bring colours to Dhaka”, Bangladesh Post, 21 August 2025: bangladeshpost.net
  32. Nader Rahman, “Off to the Hills”, Star Weekend Magazine, The Daily Star, 10 July 2009: thedailystar.net

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের অন্য লেখা পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026

প্রসঙ্গ:কনক চাঁপা চাকমা, চাকমা, চিত্রশিল্পী, পাহাড়ি চিত্রশিল্পী, শিল্প

জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।

আরও কিছু লেখা