Last updated Nov 3rd, 2026
1

চুনিলাল দেওয়ান (1911–1955) মারা যাওয়ার পর পাহাড়ের চিত্রশিল্পের ধারা একজনের হাতে থাকেনি। 1979 সালে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা রাঙামাটিতে চারুকলা একাডেমি খোলেন; 1980-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বেরিয়ে আসেন কনক চাঁপা চাকমা, যিনি 2023 সালে একুশে পদক পান; 1992 সালে গড়ে ওঠে হিল আর্টিস্টস গ্রুপ। তার পরের প্রজন্মে আছেন ত্রিপুরা শিল্পী জয়দেব রোয়াজা, চাকমা চিত্রশিল্পী জয়তু চাকমা ও তুফান চাকমা, মারমা শিল্পী খিং সাই মং, আর 2019 সালে গড়া এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের তরুণেরা।
এই লেখা নামগুলোকে এক জায়গায় আনে: কে কোথায় পড়েছেন, কোন প্রদর্শনী কবে কোথায় হয়েছে, কোন সংগঠন কবে গড়া। কারো ছবি ভালো না মন্দ, সে বিচার এখানে নেই; প্রতিটি তথ্যের পাশে উৎসের নাম আছে। চুনিলাল দেওয়ানের নিজের জীবন আমাদের আর্কাইভে আলাদা করে লেখা আছে: চিত্রশিল্পী চুনিলাল দেওয়ানের সংক্ষিপ্ত জীবনী, চুনিলাল দেওয়ান: আমাদের গর্ব ও প্রেরণা এবং তাঁর সহপাঠী অমরেন্দ্রনাথ রায়ের একটি চিঠি। সেগুলো এখানে আবার বলা হয়নি।
চুনিলাল দেওয়ান কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়া পাহাড়ের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত চিত্রশিল্পী হিসেবে আমাদের আর্কাইভের একাধিক লেখায় চিহ্নিত। তিনি 1955 সালের 8 ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর অধিকাংশ ছবি হারিয়ে গেছে, আর তাঁর পরে কয়েক দশক ধরে পাহাড়ে চিত্রকলার কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না।
তাঁর পড়াশোনার সাল নিয়ে আর্কাইভের দুটি লেখা আলাদা কথা বলে। প্রমোদ বিকাশ কার্বারীর জীবনী একই লেখায় দুটি সাল দেয়: এক জায়গায় 1928 সালে “কলকাতা আর্টস স্কুলে” ভর্তি ও 1934 সালে ডিগ্রি, অন্য জায়গায় 1927 সালে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস, চৌরঙ্গীর প্রথম বর্ষে ভর্তি। বিংশ শতাব্দীর পাহাড়ি সাহিত্যচর্চা নিয়ে আর্কাইভের লেখাটি বলছে 1928 সালে ভর্তি, 1934 সালে ফাইন আর্টসে ডিপ্লোমা।
মৃত্যুর আগে তাঁর বিদেশযাত্রা নিয়েও দুই রকম তথ্য আছে। কার্বারীর লেখা বলছে 1955 সালে সরকারি খরচে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল; প্রতিম দেওয়ানের লেখা বলছে একটি আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। দুটি লেখাই আমাদের আর্কাইভে আছে।

“চুনিলালের পরে কারা” প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটি ফাঁক চোখে পড়ে। আমাদের আর্কাইভে 2016 সালে লেখা সুলভ চাকমার একটি প্রদর্শনী-পর্যালোচনা আছে, যেটি নিজেই লিখেছে যে চুনিলালের শুরু করা পথে “খুব কম পাহাড়ি শিল্পীই” ধারাবাহিকভাবে চলতে পেরেছেন। চুনিলালের মৃত্যু (1955) আর পরের শিল্পীদের প্রথম প্রদর্শনীর মাঝখানের দুই দশকের কোনো পাহাড়ি চিত্রশিল্পীর নাম, প্রদর্শনী বা প্রতিষ্ঠান কোনো উৎসে পাওয়া যায়নি। তাই এই লেখার সময়রেখা শুরু হয় 1979 সাল থেকে।
চুনিলাল দেওয়ান যে শুধু চিত্রশিল্পী ছিলেন না, গানও লিখেছেন, তা আর্কাইভের চাকমা জাতি লেখায় আছে: প্রথম আধুনিক চাকমা গান লিখেছিলেন তিনি, 1946 সালে। সাহিত্যিক দিকটি এই লেখার বিষয় নয়।
রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি 1979 সালে প্রতিষ্ঠা করেন চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, তিনিই এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ। আমাদের আর্কাইভের তঞ্চঙ্গ্যা জাতির আলোকিত ব্যক্তিত্ব লেখায় একাডেমিটিকে তিন পার্বত্য জেলার প্রথম চিত্রকলা প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে একে রাঙামাটি শহরের “একমাত্র আর্ট স্কুল” বলেছে।
আর্কাইভের লেখাটিতে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার জীবনের যে তালিকা আছে, তার কয়েকটি তারিখ:
একাডেমি কতগুলো পুরস্কার পেয়েছে, সে হিসাব দুই উৎসে দুই সময়ের। দ্য ডেইলি স্টারের 30 আগস্ট 2007-এর প্রতিবেদন বলছে চিত্রকলা, নাচ ও গানে একাডেমির মোট পুরস্কার 57টি, তার 17টি স্বর্ণপদক ও 6টি আন্তর্জাতিক। আর্কাইভের লেখাটি (2020 সালে প্রকাশিত) বলছে ছাত্রছাত্রীরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শতাধিক জাতীয়, 3টি আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘের 1টি পুরস্কার পেয়েছে।
একাডেমিটি শুধু চিত্রকলার স্কুল নয়। দ্য ডেইলি স্টারের 2007-এর প্রতিবেদনে একাডেমির শিশুশিল্পীরা চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও বাংলা গানে নেচেছে-গেয়েছে; আর্কাইভের লেখাও বলছে এখানে চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও নৃত্যের প্রশিক্ষণ চলে এবং সরকারি, বেসরকারি বা দাতা সংস্থার আর্থিক অনুদান ছাড়া এটি চলেছে। ওই প্রতিবেদনে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে (প্রতিবেদনের বানানে Tangchangya) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বলা হয়েছে; 2019 সালে দৈনিক ইত্তেফাক তাঁকে “জেলা পরিষদ সাবেক সদস্য ও চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তংচঙ্গ্যা” লিখেছে।
একাডেমির প্রভাব কতদূর গেছে তার একটি সূত্র পাওয়া যায় পরের প্রজন্মের এক শিল্পীর কথায়। দ্য ডেইলি স্টারের 2026 সালের একটি প্রোফাইল লিখেছে, জয়তু চাকমা যখন রাঙামাটিতে বড় হচ্ছিলেন তখন “পুরো জেলায় একটিই আর্ট স্কুল” ছিল। স্কুলটির নাম প্রোফাইলে নেই, আর জয়তু চাকমা সেখানে পড়েছিলেন কি না তাও বলা হয়নি।
কনক চাঁপা চাকমা 1963 সালের 6 মে রাঙামাটির তবলছড়িতে জন্মেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে 1986 সালে স্নাতকোত্তর (এমএফএ) করেন, 1993–94 সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। 2023 সালে চিত্রকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান; দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, সে বছরের তালিকায় তিনিই একমাত্র চিত্রশিল্পী।
আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, চুনিলালের পরে কনক চাঁপা চাকমা পাহাড়ের রংকে “মূলধারার শিল্পযাত্রার সাথে” পরিচয় করিয়ে দেন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়ার সুবাদে সে সুযোগ তৈরি হয়। আলোকচিত্রী Munem Wasif 2025 সালে আর্টরিভিউ পত্রিকায় লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আদিবাসী সমাজ থেকে মূলধারার শিল্পজগতে দৃশ্যমান হয়েছেন এমন শিল্পী খুব কম, কনক চাঁপা চাকমা তাঁদের একজন।
দ্য ডেইলি স্টারের 2015 সালের প্রতিবেদনে কনক চাঁপা চাকমা জানিয়েছেন, তাঁর মা (প্রতিবেদনে নাম Sarat Mala Chakma) পাহাড়ের সবচেয়ে প্রবীণ বেইন বা কোমর তাঁতের কারিগরদের একজন এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত। উইকিপিডিয়া বলছে মা দুবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন; 2011 সালের ডেইলি স্টার প্রোফাইলে কনক বলেছেন, তাঁর মা 1960 ও 70-এর দশকে যুক্তরাজ্য থেকে পুরস্কার পেয়েছেন এবং লন্ডন ও ইতালি থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর স্বামী খালিদ মাহমুদ মিঠু ছিলেন শিল্পী ও চলচ্চিত্রকার।
এই তিন প্রজন্মকে একসঙ্গে দেখানো হয়েছিল 2015 সালের অক্টোবরে, ঢাকার উত্তর বাড্ডার গ্যালারি অ্যাথেনায় “থ্রি জেনারেশনস” প্রদর্শনীতে: মায়ের চরকা, নাটাই ও বেইন, কনকের বুনন-বিষয়ক ছবি, আর মেয়ের (প্রতিবেদনে নাম Shiropa Purna) জলরং, আলোকচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
উইকিপিডিয়া ও ইউএনবি দুটিই বলছে, তাঁর ছবি দেশে-বিদেশে 100টির বেশি প্রদর্শনীতে গেছে, তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
উইকিপিডিয়ার তালিকা ও ইউএনবির প্রতিবেদন মিলিয়ে কয়েকটি: 2002 সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম); 2003 সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির ল্যাটিন আমেরিকান আর্ট মিউজিয়ামের গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড; 2008 সালে বেইজিংয়ে অলিম্পিক ফাইন আর্টস পদক; 2014 সালে শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিকল্পনায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার; 2023 সালে একুশে পদক।
হিল আর্টিস্টস গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীদের সংগঠন, প্রতিষ্ঠা 1992 সালে। আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী তখন পর্যন্ত সংগঠনটি প্রায় 6টি প্রদর্শনী করেছিল। সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন লিখেছে, সংগঠনটি প্রদর্শনী ও তরুণদের আর্ট ক্যাম্প আয়োজন করে এবং 11টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংহতির ওপর জোর দেয়।
সুলভ চাকমার পর্যালোচনা অনুযায়ী 9 থেকে 14 ডিসেম্বর 2016 ঢাকার ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে সংগঠনের ষষ্ঠ প্রদর্শনী “প্রকৃতি ও জীবন” হয়। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। প্রায় 27 জন নবীন ও প্রবীণ শিল্পী অংশ নেন। লেখাটি যাঁদের নাম আলাদা করে আলোচনা করেছে: কনক চাঁপা চাকমা, ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা, নান্টু চাকমা, জয়দেব রোয়াজা, ভানরাম বম, জুলিয়ান ও দিব্যআলো চাকমা। শেষে আরও যাঁদের কাজ প্রদর্শনীতে ছিল বলে নাম দিয়েছে: জুলিয়ান বম, উদয়শংকর চাকমা, মিংকু চাকমা, সাপু ত্রিপুরা, তিতাস চাকমা, নয়ন ত্রিপুরা, খিং সাই মং, জয়তু চাকমা, লুম্বিনী দেওয়ান, এভলি চাকমা, সৌমিক দেওয়ান, নুমংসিং মারমা, তনিমা চাকমা, জেনিমং, মংখ্য সিং ও নয়ন আলো চাকমা।
তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে এখানে একই প্রদর্শনীতে চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ও বম শিল্পীর নাম আছে, আর পরের দশকে যাঁদের নাম সংবাদমাধ্যমে আসে (জয়দেব রোয়াজা, জয়তু চাকমা, খিং সাই মং, লুম্বিনী দেওয়ান) তাঁরা 2016 সালেই এই সংগঠনের প্রদর্শনীতে ছিলেন।
সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী হিল আর্টিস্টস গ্রুপ ঢাকা আর্ট সামিট 2020-এ অংশ নেয়। পেরুর লিমায় শিপিবো-কোনিবো সম্প্রদায়ের সঙ্গে করা ম্যুরাল প্রকল্প SÖI-এর পদ্ধতি নিয়ে Alejandra Ballón Gutiérrez-এর সঙ্গে কর্মশালা থেকে প্রকল্পটি তৈরি হয়। সংগঠনের সদস্যরা জুম চাষকে 11টি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন চর্চা হিসেবে বেছে নেন এবং একটি জুমঘরের ম্যুরাল আঁকেন, যাতে 11টি জনগোষ্ঠীর বস্ত্রের নকশা একসঙ্গে বোনা হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃত্বের দুটি নাম উৎসে পাওয়া যায়: দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন জয়দেব রোয়াজাকে 2019–2020 মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেছে। সংগঠনের নবম প্রদর্শনী, সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতাদের নামের কোনো যাচাইযোগ্য তালিকা পাওয়া যায়নি।
হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রবীণ শিল্পীদের তিনজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়েছেন: ধনমনি চাকমা ড্রয়িং ও পেইন্টিংয়ে, লাভলী চাকমা ভাস্কর্যে, রনেল চাকমা চারুকলায়। ধনমনি চাকমার প্রথম একক প্রদর্শনী 1998 সালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে; রনেল চাকমার ঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী 2003 সালে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে।
আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী ধনমনি চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন। প্রথম একক প্রদর্শনী 1998 সালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে, 2003 সালে আরও দুটি একক প্রদর্শনী, আর 10টির বেশি দলীয় প্রদর্শনী। লেখাটি তাঁকে পাহাড়ের শিল্পীদের সংগঠিত করার উদ্যোগে সক্রিয় বলেছে। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর “রেস্ট” ও “জুম্মবী” শিরোনামের কাজ ছিল, যেগুলোর বিষয় জুম ও জুম্ম নারী।
একই উৎস অনুযায়ী লাভলী চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নিয়ে পড়েছেন। 1992 সালে হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রথম প্রদর্শনী থেকে তিনি সংগঠনের প্রদর্শনীতে আছেন, মোট 15টির বেশি প্রদর্শনীতে কাজ দেখিয়েছেন। “চাকমা অরনামেন্টস” নামে তাঁর একটি প্রকাশনা আছে। 2016 সালে তিনি কাঠের একটি ভাস্কর্য দেখান, শিরোনাম “আনটাইটেলড”। তিনি মূলত ভাস্কর, তাই এই তালিকায় তিনি চিত্রশিল্পী নন, তবে পাহাড়ের দৃশ্যশিল্পের ধারায় তাঁর নাম এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
দ্য ডেইলি স্টার 20 নভেম্বর 2003 লিখেছে, রনেল চাকমা মানিকের (Ronel Chakma Manik) ঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী “ট্রাইবাল লাইভস” চলছে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের গ্যালারিতে, 45টি ছবি নিয়ে। 18 নভেম্বর ফ্রান্স দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উদ্বোধন করেন, উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও কনক চাঁপা চাকমা; প্রদর্শনী চলে 24 নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী এর আগে চট্টগ্রামে তাঁর দুটি একক প্রদর্শনী হয়েছিল, কাজের বেশির ভাগ জলরঙে, কয়েকটি তেলরঙে।
দুই উৎসের হিসাব মিলে যায়: ডেইলি স্টারের 2003-এর হিসাবে চট্টগ্রামের দুটি আর ঢাকার একটি মিলিয়ে একক প্রদর্শনী তিনটি; 2016 সালের আর্কাইভ-পর্যালোচনাও বলছে তিনি তিনটি একক প্রদর্শনী করেছেন এবং 10টির বেশি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। এর পরে নতুন কোনো একক প্রদর্শনীর তথ্য পাওয়া যায়নি। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর “ওয়েটিং” ও “ম্রো ফেস্টিভ্যাল” শিরোনামের কাজ ছিল।
আর্কাইভের পর্যালোচনা অনুযায়ী নান্টু চাকমা 2009 সালে রাঙামাটিতে একটি একক প্রদর্শনী করেন, যার সব কাজ ছিল জলরঙে। 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর চারটি কাজ ছিল, তার একটি “রেইনিং ইন স্প্রিং”। লেখাটি জানায়, তিনি তখন জলরং থেকে অ্যাক্রিলিকে কাজ শুরু করেছিলেন।
জয়দেব রোয়াজা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিল্পী, জন্ম 1973 সালে খাগড়াছড়িতে। 1999 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ করেন। তাঁর কাজ তিন মাধ্যমে: পারফরম্যান্স, পেইন্টিং ও ড্রয়িং। প্রথম একক প্রদর্শনী 2016 সালে টোকিওতে, NIPAGEN-এর আয়োজনে; পরে ঢাকা আর্ট সামিট, যুক্তরাজ্যের দ্য টেটলি, বার্লিনের সাভি কনটেম্পোরারি ও আয়ারল্যান্ডের ইভা ইন্টারন্যাশনালে কাজ দেখিয়েছেন।
আর্টরিভিউতে আলোকচিত্রী Munem Wasif-এর 2025 সালের লেখা অনুযায়ী তাঁর জন্ম খাগড়াছড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রামে, এখন থাকেন চট্টগ্রামে। মুম্বাইয়ের ঝাভেরি কনটেম্পোরারির 2022 সালের প্রদর্শনী-প্রবন্ধ লিখেছে, শৈশবে তাঁর ভাষা ছিল ককবরক, বাংলা পাঠ্যবই বুঝতেন না, কিন্তু বইয়ের শিল্পী Hashem Khan-এর অলংকরণ তাঁকে টানত।
আর্টরিভিউ লিখেছে, তাঁর জন্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত ছিল 2009 সালে জাপানি কবি ও পারফরম্যান্স শিল্পী Seiji Shimoda-র কর্মশালা। শুরুর দিকে তিনি চট্টগ্রামের পরাপাড়া স্পেস ফর আর্টিস্টস ও ঢাকার বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের মতো শিল্পী-সংগঠনে কাজ করেছেন; দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তাঁকে পরাপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যান বলেছে। ফাউন্ডেশনের তালিকা অনুযায়ী 2004 সালে বৃত্তের “মুভমেন্ট উইল বিকাম স্কাল্পচার”, 2005 সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে থির্থা রেসিডেন্সি, 2014 সালে জাপানে 17তম NIPAF এশিয়া, 2016 সালে ভিয়েতনামে NIPAF কর্মশালা ও ফ্রান্সের বেজাঁসোঁতে “ব্যাক টু দ্য ট্রিজ-3”, 2017 সালে যুক্তরাজ্যের দ্য টেটলিতে “পারফরম্যান্স আর্ট ইনটেনসিভ”।
আর্টরিভিউ অনুযায়ী 2008 থেকে চলা এই সিরিজে পাহাড়ি মানুষের অবয়বের ভেতরে সামরিক ট্যাংক, চারপাশে অস্ত্রধারী মানুষ। শিল্পী আর্টরিভিউকে বলেছেন, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি প্রথম সামরিক ট্যাংক দেখেন। ঝাভেরি কনটেম্পোরারির প্রবন্ধ লিখেছে, 1997 সালের পার্বত্য চুক্তির এক বছর পর, 1998 সালে তিনি এ ধরনের ছবি আঁকতে শুরু করেন, কিন্তু সেগুলো বাড়ির কোণে লুকিয়ে আঁকা হতো এবং ছবি তোলার আগেই ভয়ে নষ্ট করে ফেলা হতো; 2009 সালে আবার শুরু করেন। একই প্রবন্ধ জানায়, সিরিজের 36তম ড্রয়িংয়ের নারী হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা, যিনি 1996 সাল থেকে নিখোঁজ।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পাতায় তাঁর নামের ইংরেজি বানান দুভাবে আছে, Roaja ও Roaza; বাংলায় আমাদের আর্কাইভ লিখেছে “জয়দেব রোয়াজা”।
নতুন প্রজন্মের দুজন চাকমা চিত্রশিল্পীর পথ ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম, কলকাতা, জাহাঙ্গীরনগর ও ইউরোপ হয়ে গেছে। জয়তু চাকমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতীতে পড়ে 2021 সালে পূর্ণকালীন শিল্পী হন; তুফান চাকমা জাহাঙ্গীরনগর থেকে 2023 সালে পেইন্টিংয়ে স্নাতক হয়ে ইউরোপে অ্যানিমেশন পড়ছেন, প্রথম একক প্রদর্শনী 2025 সালে ফ্রান্সে।
দ্য ডেইলি স্টারের আগস্ট 2026-এর প্রোফাইল অনুযায়ী জয়তু চাকমা রাঙামাটিতে বড় হয়েছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, দীর্ঘদিন চিটাগাং গ্রামার স্কুলে ছবি আঁকা শিখিয়েছেন, আর 2021 সালে চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন শিল্পী হয়েছেন। একই প্রোফাইল বলছে, 2024 সালে তিনি জেনেভায় ইন্টারন্যাশনাল মাইনরিটি আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড পান এবং ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে একক ও দলীয় প্রদর্শনী করেছেন।
“আনটিল দ্য রংরাং সিংস”-এর সাল নিয়ে দুই উৎসে অমিল আছে: শোকেস ম্যাগাজিন (1 মে 2024) বলছে প্রদর্শনী হয়েছে এপ্রিল-মে 2024-এ; দ্য ডেইলি স্টারের আগস্ট 2026-এর প্রোফাইল একে “গত বছরের” প্রদর্শনী বলেছে, অর্থাৎ 2025।
“স্টোরি অব দ্য হিল” প্রদর্শনীর আলোচনায় জয়তু চাকমা ত্রিভুজাকার ক্যানভাসের একটি সিরিজের কথা বলেন, যার বিষয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধের পর পাহাড়ের মানুষের জীবনের বদল। বাঁধের ইতিহাস আমাদের আর্কাইভের কাপ্তাই বাঁধের পূর্ণাঙ্গ লেখায় আছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের জুন 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তুফান চাকমার জন্ম খাগড়াছড়ির দীঘিনালার উদালবাগানে। 2012 সালে উদালবাগান হাই স্কুল থেকে এসএসসি, তারপর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পেইন্টিং; 2023 সালে স্নাতক। এরপর ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তিতে বেলজিয়ামের লুকা স্কুল অব আর্টস, ফিনল্যান্ডের আল্টো ইউনিভার্সিটি ও পর্তুগালের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিমেশনে দুই বছরের মাস্টার্স।
তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী “লালাবাইজ অব দ্য হিল” বা “পাহাড়ের ঘুমপাড়ানি গান” হয় জুন 2025-এ, প্যারিসের কাছে মোরেট-লোইং-এট-অরভান শহরের রোল্যান্ড ড্যাগনাউড মিলনায়তনে, দুই দিন। জলরং, স্কেচ, তেলরং ও ডিজিটাল পেইন্টিং মিলিয়ে 30টি কাজ ছিল, সঙ্গে অ্যানিমেশন ভিডিও। আয়োজক ছিল ফ্রান্সে বসবাসরত জুম্মদের সংগঠন “লা ভোয়া দো জুম্ম”, প্রধান অতিথি চাকমা সার্কেলের রানী ইয়ান ইয়ান।
পাহাড়ের চিত্রশিল্প শুধু চাকমা শিল্পীদের হাতে নয়। মারমা শিল্পী খিং সাই মং ডিসেম্বর 2025-এ বান্দরবানে প্রথম একক প্রদর্শনী করেছেন; বম শিল্পী ভানরাম বম ও জুলিয়ান বম 2016 সালেই হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতে ছিলেন; ত্রিপুরা, মারমা ও বম আরও কয়েকজন শিল্পীর নাম 2022 ও 2025 সালের দলীয় প্রদর্শনীতে আছে।
দ্য ডেইলি স্টার 18 ডিসেম্বর 2025 লিখেছে, খিং সাই মং মারমা বান্দরবানে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন, দেশে-বিদেশে বহু দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, এবং তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী “রোয়া দ” (Rowa Daw) হচ্ছে বান্দরবানেই, ঢাকা বা বিদেশে নয়। প্রদর্শনীতে জলরং, তেলরং ও চারকোলের 32টি কাজ, বিষয় বান্দরবানের নিসর্গ, প্রতিকৃতি ও জীবিকা; প্রদর্শনী 20 থেকে 22 ডিসেম্বর, সঙ্গে শিশুদের ছবি আঁকার আসর। আমাদের আর্কাইভের 2016 সালের পর্যালোচনায় হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে “খিং সাই মং” নামটি আছে।
আর্কাইভের পর্যালোচনা অনুযায়ী ভানরাম বম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র, বাড়ি বান্দরবানের রুমায়; 2016 সালের প্রদর্শনীতে তাঁর কাজের শিরোনাম “মিসআউট”। একই লেখায় জুলিয়ান নামের এক নবীন শিল্পীর কথা আছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র, যাঁর একটি কাজের শিরোনাম “MN Larma”, বিষয় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা; আর “Winter” শিরোনামের একটি গ্রাফিক্সের কাজ। লেখার শেষের তালিকায় “জুলিয়ান বম” নামটি আছে; দুটি নাম একই ব্যক্তির কি না, লেখাটি স্পষ্ট করেনি।
দ্য হিমালয়ান টাইমসের সেপ্টেম্বর 2022-এর প্রতিবেদনে কাঠমান্ডুর “স্পিরিট অব ফ্রেন্ডশিপ” প্রদর্শনীর শিল্পীদের মধ্যে পাহাড়ি নামগুলো: Jayatu Chakma, Lumbiny Dewan, Aongthowai Marma, Sudhip Chakma, Munna Bawm, Pingcu Tripura, Mong Mong Sho। (নামগুলো উৎসে ইংরেজিতে; বাংলা উৎসে যাঁদের বানান পাওয়া যায়নি, তাঁদের নাম এখানে ইংরেজিতেই রাখা হলো।) প্রদর্শনীর কিউরেটর ছিলেন কনক চাঁপা চাকমা।
বাংলাদেশ পোস্ট 21 আগস্ট 2025 “একোজ অব দ্য হিলস” আর্ট ক্যাম্পের 12 জন শিল্পীর নাম দিয়েছে: Anonnyo Chakma, Aong Tho Waing Marma, Jayatu Chakma, Lata Chakma, Monjuri Dewan, Nu Mong Prue Marma, Parag Chakma, Pragati Chakma, Sonchay Moni Chakma, Sufal Chakma, Sujan Bikash Chakma, Ukyanu Marma।
এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম (ইউএনবির প্রতিবেদনে “বাংলাদেশ এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম”) 2019 সালে 85 জন তরুণ শিল্পী নিয়ে যাত্রা শুরু করে, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কনক চাঁপা চাকমা। আগস্ট 2019-এ রাঙামাটিতে 50 জন শিল্পী নিয়ে আর্ট ক্যাম্প হয়; সেখানে আঁকা কাজ নিয়ে মে-জুন 2022-এ ঢাকায় “উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস” প্রদর্শনী হয়।
ঢাকা কুরিয়ার, ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবির প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রদর্শনীটির তথ্য:
ফোরাম গড়ার কারণ হিসেবে কনক চাঁপা চাকমা ঢাকা কুরিয়ারকে বলেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, সহায়তা ও অনুপ্রেরণার অভাবে অনেক প্রতিভাবান আদিবাসী শিল্পী পিছিয়ে পড়ছেন, এমনকি হারিয়ে যাচ্ছেন। ইউএনবি 2019 সালে লিখেছিল, ফোরামের কাজ গবেষণা, আর্ট ক্যাম্প, প্রদর্শনী ও কর্মশালা।
20 আগস্ট 2025 ঢাকার মিরপুরে কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের পাশে সিএইচটি কালিনারিতে সকাল 10টা থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত একদিনের আর্ট ক্যাম্প “একোজ অব দ্য হিলস” হয়। দ্য ডেইলি স্টার ও বাংলাদেশ পোস্ট অনুযায়ী 12 জন তরুণ শিল্পী অন্তত দুটি করে, মোট 24টি ছবি আঁকেন। উদ্বোধন করেন পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Tushar Kanti Chakma। আয়োজনটি কোন সংগঠনের, তা দুটি প্রতিবেদনের কোনোটিতে বলা হয়নি।
নিচের ছকে এই লেখার উৎসগুলোতে যেসব শিল্পীর শিক্ষা বা প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর তথ্য পাওয়া গেছে, কেবল তাঁরা আছেন। ছকে নাম না থাকা মানে শিল্পী গুরুত্বহীন নন; মানে তাঁর সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য এই লেখার উৎসে নেই।
| শিল্পী | জনগোষ্ঠী | শিক্ষা | উল্লেখযোগ্য তথ্য | উৎস |
|---|---|---|---|---|
| চুনিলাল দেওয়ান (1911–1955) | চাকমা | গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস, কলকাতা | 1946 সালে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রয়িং শিক্ষক | আর্কাইভ |
| রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা | তঞ্চঙ্গ্যা | উৎসে নেই | 1979 সালে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা | আর্কাইভ; ডেইলি স্টার 2007 |
| কনক চাঁপা চাকমা (জ. 1963) | চাকমা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা (এমএফএ 1986); পেন স্টেট 1993–94 | একুশে পদক 2023; এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা | উইকিপিডিয়া; ইউএনবি; ডেইলি স্টার |
| ধনমনি চাকমা | চাকমা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং (মাস্টার্স) | প্রথম একক প্রদর্শনী 1998, রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি | আর্কাইভ |
| লাভলী চাকমা | চাকমা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী, ভাস্কর্য | 1992 সাল থেকে হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতে | আর্কাইভ |
| রনেল চাকমা | চাকমা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা | ঢাকায় প্রথম একক প্রদর্শনী নভেম্বর 2003, 45টি ছবি | আর্কাইভ; ডেইলি স্টার 2003 |
| জয়দেব রোয়াজা (জ. 1973) | ত্রিপুরা | চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পেইন্টিং (এমএফএ 1999) | প্রথম একক প্রদর্শনী 2016, টোকিও | দুর্জয় ফাউন্ডেশন; ঝাভেরি কনটেম্পোরারি |
| জয়তু চাকমা | চাকমা | চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; রবীন্দ্রভারতী | একক প্রদর্শনী “আনটিল দ্য রংরাং সিংস”, ঢাকা | ডেইলি স্টার 2026; শোকেস 2024 |
| তুফান চাকমা | চাকমা | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পেইন্টিং (স্নাতক 2023) | প্রথম একক প্রদর্শনী জুন 2025, ফ্রান্স | ইত্তেফাক 2025 |
| খিং সাই মং মারমা | মারমা | উৎসে নেই | প্রথম একক প্রদর্শনী ডিসেম্বর 2025, বান্দরবান | ডেইলি স্টার 2025 |
| ভানরাম বম | বম | চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা | হিল আর্টিস্টস গ্রুপের 2016 সালের প্রদর্শনী | আর্কাইভ |
ছক থেকে একটি ধরন চোখে পড়ে: প্রবীণ শিল্পীদের বড় অংশ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়, পরের শিল্পীদের কয়েকজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, দুজন কলকাতার রবীন্দ্রভারতীতে, আর একজন জাহাঙ্গীরনগরে। চুনিলাল দেওয়ানও কলকাতাতেই পড়েছিলেন।
এই সময়রেখায় কেবল সেই প্রদর্শনীগুলো আছে, যেগুলোর সাল ও স্থান কোনো পড়া উৎসে আছে। দেখা যায়, 1998 থেকে প্রদর্শনী হয়েছে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায়; 2009 থেকে বেইজিং, টোকিও, মুম্বাই, কাঠমান্ডু ও ফ্রান্সে; আর 2025 সালে একজন শিল্পী প্রথম একক প্রদর্শনীর জন্য বান্দরবানকেই বেছে নিয়েছেন।
| সাল | শিল্পী বা সংগঠন | প্রদর্শনী বা ঘটনা | স্থান |
|---|---|---|---|
| 1979 | রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা | চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা | রাঙামাটি |
| 1992 | হিল আর্টিস্টস গ্রুপ | প্রতিষ্ঠা ও প্রথম প্রদর্শনী | উৎসে নেই |
| 1998 | ধনমনি চাকমা | প্রথম একক প্রদর্শনী | রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি |
| 2003 | রনেল চাকমা | “ট্রাইবাল লাইভস”, 45টি ছবি | রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার, ঢাকা |
| 2009 | কনক চাঁপা চাকমা | 30টি ছবির একক প্রদর্শনী | আর্ট ল্যান্ড গ্যালারি, বেইজিং |
| 2009 | নান্টু চাকমা | জলরঙের একক প্রদর্শনী | রাঙামাটি |
| 2014 | কনক চাঁপা চাকমা | “লাইফ ইজ হিয়ার” | বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ, ঢাকা |
| 2015 | কনক চাঁপা চাকমা ও পরিবার | “থ্রি জেনারেশনস” | গ্যালারি অ্যাথেনা, ঢাকা |
| 2016 | জয়দেব রোয়াজা | প্রথম একক প্রদর্শনী | NIPAGEN, টোকিও |
| 2016 | হিল আর্টিস্টস গ্রুপ | ষষ্ঠ প্রদর্শনী “প্রকৃতি ও জীবন”, প্রায় 27 জন শিল্পী | দৃক গ্যালারি, ঢাকা |
| 2019 | কনক চাঁপা চাকমা | 17তম একক “দ্য ট্রাভেলার্স সং” | এজ গ্যালারি, ঢাকা |
| 2019 | এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম | প্রতিষ্ঠা; 50 জন শিল্পীর আর্ট ক্যাম্প | রাঙামাটি |
| 2020 | হিল আর্টিস্টস গ্রুপ | জুমঘরের ম্যুরাল | ঢাকা আর্ট সামিট |
| 2021 | জয়তু চাকমা | ভার্চুয়াল “স্টোরি অব দ্য হিল”, 36টি কাজ | ইএমকে সেন্টার (অনলাইন) |
| 2022 | এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম | “উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস”, 44 জন শিল্পী | অবিন্তা গ্যালারি, ঢাকা |
| 2022 | জয়দেব রোয়াজা | “ব্লোয়িং আপ বিলিটলমেন্ট” | ঝাভেরি কনটেম্পোরারি, মুম্বাই |
| 2022 | কনক চাঁপা চাকমা (কিউরেটর) | “স্পিরিট অব ফ্রেন্ডশিপ”, 12 জন শিল্পী | সিদ্ধার্থ আর্ট গ্যালারি, কাঠমান্ডু |
| 2024 | জয়তু চাকমা | “আনটিল দ্য রংরাং সিংস” | কলাকেন্দ্র, ঢাকা |
| 2025 | তুফান চাকমা | “লালাবাইজ অব দ্য হিল”, 30টি কাজ | মোরেট-লোইং-এট-অরভান, ফ্রান্স |
| 2025 | 12 জন তরুণ শিল্পী | আর্ট ক্যাম্প “একোজ অব দ্য হিলস” | সিএইচটি কালিনারি, মিরপুর |
| 2025 | খিং সাই মং মারমা | প্রথম একক “রোয়া দ”, 32টি কাজ | বান্দরবান |

উৎসগুলোতে শিল্পীদের নিজেদের কথা ও প্রদর্শনী-বর্ণনা পড়লে চারটি বিষয় বারবার আসে: জুম চাষ, পাহাড়ি নারীর কাজ ও জীবন, কাপ্তাই বাঁধে ডুবে যাওয়া জমি, আর পাহাড়ে সামরিক উপস্থিতি। কে কোন বিষয়ে কাজ করেন, তা নিচে শিল্পীর নিজের কথা বা প্রদর্শনীর বর্ণনা থেকে নেওয়া; এখানে কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
উৎসগুলোতে একটি ভিন্ন সুরও আছে। দ্য ডেইলি স্টারের 2003 সালের পর্যালোচনা লিখেছে, রনেল চাকমার প্রদর্শনীতে পাহাড়ের জীবনের অন্ধকার দিকের কোনো ছবি ছিল না। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন 2014 সালে কনক চাঁপা চাকমার “লাইফ ইজ হিয়ার” সম্পর্কে লিখেছে, এতে পাহাড়ের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। অন্যদিকে 2015 সালে কনক নিজে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, তাঁর ছবিতে রঙের পাশাপাশি বাধা ও যন্ত্রণাও আছে।
পাহাড়ি জীবনকে বিষয় করে প্রদর্শনী করেছেন পাহাড়ের বাইরের শিল্পীরাও, আর এ নিয়ে ঢাকার শিল্প-সাংবাদিকতায় অন্তত 2009 সাল থেকে প্রশ্ন উঠেছে: পাহাড়ের মানুষকে কে আঁকছেন, ভেতর থেকে না বাইরে থেকে।
দ্য ডেইলি স্টারের স্টার উইকেন্ড ম্যাগাজিন জুলাই 2009-এ লিখেছে, 3 থেকে 16 জুলাই আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় Shohag Parvez-এর পাহাড়বিষয়ক প্রদর্শনী চলছে। তিনি 2000 সালে প্রথম বান্দরবানে যান, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হন; প্রদর্শনীর সময় চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। প্রতিবেদক Nader Rahman তাঁকে পাহাড়ি মানুষকে নিয়ে পুরো প্রদর্শনী করা “বাইরের” শিল্পীদের একজন বলেছেন, আর কনক চাঁপা চাকমাকে “ভেতরের” দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী।
এই তুলনার ফ্রেমটি উৎসের নিজের। এই লেখা কোনো দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যটির ওপরে রাখে না; শুধু এটুকু নথিভুক্ত করে যে 2009 সালেই ঢাকার শিল্প-সাংবাদিকতায় এই প্রশ্নটা উঠেছিল।
উৎসে পাওয়া নামগুলো: রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, যিনি 1979 সালে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি গড়েন; কনক চাঁপা চাকমা, একুশে পদক 2023; 1992 সালে গড়া হিল আর্টিস্টস গ্রুপের ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা; ত্রিপুরা শিল্পী জয়দেব রোয়াজা; আর নতুন প্রজন্মের জয়তু চাকমা, তুফান চাকমা ও মারমা শিল্পী খিং সাই মং।
জাতীয় স্বীকৃতির হিসাবে কনক চাঁপা চাকমা। জন্ম 6 মে 1963, রাঙামাটির তবলছড়িতে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে 1986 সালে এমএফএ। 2023 সালে চিত্রকলায় একুশে পদক পান; দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে সে বছরের তালিকায় তিনিই একমাত্র চিত্রশিল্পী। তাঁর ছবি দেশে-বিদেশে 100টির বেশি প্রদর্শনীতে গেছে।
চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা 1979 সালে একক উদ্যোগে রাঙামাটি চারুকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর অধ্যক্ষ ছিলেন। আমাদের আর্কাইভ একে তিন পার্বত্য জেলার প্রথম চিত্রকলা প্রতিষ্ঠান বলেছে; দ্য ডেইলি স্টার 2007 সালে একে রাঙামাটি শহরের একমাত্র আর্ট স্কুল বলেছে। এখানে চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি গান ও নাচও শেখানো হয়।
আমাদের আর্কাইভের সুলভ চাকমার পর্যালোচনা অনুযায়ী 1992 সালে। 2016 সাল পর্যন্ত সংগঠনটি প্রায় 6টি প্রদর্শনী করে; ষষ্ঠটি “প্রকৃতি ও জীবন”, 9–14 ডিসেম্বর 2016, ঢাকার দৃক গ্যালারিতে, প্রায় 27 জন শিল্পী নিয়ে। সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন অনুযায়ী সংগঠনটি ঢাকা আর্ট সামিট 2020-এ জুমঘরের একটি ম্যুরাল করে।
জয়দেব রোয়াজা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিল্পী, জন্ম 1973 সালে খাগড়াছড়িতে, 1999 সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ। পারফরম্যান্স, পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ে কাজ করেন। 2009 সালে সেইজি শিমোদার কর্মশালার পর পারফরম্যান্সে আসেন; প্রথম একক প্রদর্শনী 2016 সালে টোকিওতে। দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তাঁকে 2019–2020-এ হিল আর্টিস্টস গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বলেছে।
উৎসে পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চারটি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা (কনক চাঁপা চাকমা, ধনমনি চাকমা, লাভলী চাকমা, রনেল চাকমা), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (জয়দেব রোয়াজা, জয়তু চাকমা, ভানরাম বম), কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (লাভলী চাকমা, জয়তু চাকমা) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (তুফান চাকমা)। চুনিলাল দেওয়ান পড়েছিলেন কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে।
আদিবাসী শিল্পীদের একটি প্ল্যাটফর্ম, 2019 সালে 85 জন তরুণ শিল্পী নিয়ে শুরু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কনক চাঁপা চাকমা। আগস্ট 2019-এ রাঙামাটিতে 50 জন শিল্পীর আর্ট ক্যাম্প হয়। সেখানকার কাজ নিয়ে মে 2022-এ ঢাকার অবিন্তা গ্যালারিতে “উইভিং আর্ট অব দ্য হিলস” প্রদর্শনী হয়: 44 জন শিল্পীর 65টি কাজ, আটটি জনগোষ্ঠীর শিল্পী।
হ্যাঁ। দ্য ডেইলি স্টার অনুযায়ী মারমা শিল্পী খিং সাই মং মারমার প্রথম একক প্রদর্শনী “রোয়া দ” হয় বান্দরবানে, 20 থেকে 22 ডিসেম্বর 2025, জলরং, তেলরং ও চারকোলের 32টি কাজ নিয়ে। তিনি বান্দরবানে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন। 2016 সালে তিনি হিল আর্টিস্টস গ্রুপের প্রদর্শনীতেও ছিলেন।
শোকেস ম্যাগাজিন ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তাঁর কাজের বিষয় চাকমা জনগোষ্ঠীর পরিচয়, উচ্ছেদ ও কাপ্তাই বাঁধের প্রভাব। 2024 সালে ঢাকার কলাকেন্দ্রে তাঁর একক প্রদর্শনী “আনটিল দ্য রংরাং সিংস”-এর কেন্দ্রীয় প্রতীক ছিল রংরাং বা ধনেশ পাখি। 2021 সালে ইএমকে সেন্টারের ভার্চুয়াল প্রদর্শনীতে তাঁর 36টি কাজ ছিল।
কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে। ভর্তির সাল নিয়ে আর্কাইভে দুই তথ্য আছে: প্রমোদ বিকাশ কার্বারীর জীবনীতে এক জায়গায় 1928, অন্য জায়গায় 1927; পাহাড়ি সাহিত্যচর্চা বিষয়ক লেখায় 1928। শেষ হওয়ার সাল দুটি লেখাতেই 1934। 1946 সালে তিনি রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ড্রয়িং শিক্ষক হন।
ফ্রান্সে। দৈনিক ইত্তেফাক অনুযায়ী জুন 2025-এ প্যারিসের কাছের শহর মোরেট-লোইং-এট-অরভানে দুই দিনের প্রদর্শনী “লালাবাইজ অব দ্য হিল”, 30টি কাজ, আয়োজক ফ্রান্সপ্রবাসী জুম্মদের সংগঠন “লা ভোয়া দো জুম্ম”। তুফান চাকমা দীঘিনালার উদালবাগানের, জাহাঙ্গীরনগর থেকে 2023 সালে পেইন্টিংয়ে স্নাতক।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের অন্য লেখা পাবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হাবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 3 নভেম্বর 2026
প্রসঙ্গ:কনক চাঁপা চাকমা, চাকমা, চিত্রশিল্পী, পাহাড়ি চিত্রশিল্পী, শিল্প
জুমজার্নালে প্রকাশিত লেখাসমূহে তথ্যমূলক ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে অথবা যেকোন লেখার সাথে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনার মতামত এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আপনিও লিখুন অথবা লেখা পাঠান। লেখা পাঠাতে কিংবা যেকোন ধরনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন - jumjournal@gmail.com এই ঠিকানায়।